Brand logo light
অনুসন্ধানী সংবাদ

বিআইডব্লিউটিএ’র অধিকাংশ কর্মকর্তা গড়েছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
বিআইডব্লিউটিএ
বিআইডব্লিউটিএ

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিএক্সউটিএ) অধিকাংশ কর্মকর্তাই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুর্নীতির একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে অঢেল অবৈধ সম্পদ করেছেন। তারা বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, নৌ-বন্দর ইজারা, নদীর ড্রেজিং, নদী থেকে বালু উত্তোলন, জাহাজ চলাচলের অনুমোদনসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তারা এখন নতুন সরকারের মন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে, বিভিন্ন দপ্তরে থাকা কর্তাব্যক্তিদের পিএস, এপিএসদের সাথে ঘনিষ্ঠতা করে পুনরায় দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়াচ্ছেন। পতিত সরকারের আমলে এটি বড় একটি রেওয়াজে পরিণত হয়েছিল।

এদিকে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বিআইডব্লিউটিএ’র উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না পাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো চলছে ধীরগতিতে। অন্যদিকে, আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের নানামুখী তৎপরতা ও ষড়যন্ত্রের কারণে প্রকল্পগুলোর কাজ থমকে গেছে। তবে আওয়ামী ট্যাগিংয়ের অধিকাংশ কর্মকর্তা রূপ পাল্টিয়ে সরকারি দলে যোগ দিয়েছেন। আবার অনেককেই বদলি বা বরখাস্ত করা হয়েছে।

খোদ বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফার বিরুদ্ধেও আওয়ামীপন্থী ট্যাগের অভিযোগ উঠেছে। এজন্য ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। জানা গেছে, নদীর চলাচল ও অবকাঠামো রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১২টি প্রকল্পের কাজ চলছে ধীরগতিতে। প্রধান প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে নদীর খাল রক্ষার জন্য বৃহৎ খনন কাজ। এর মধ্যে জামালপুরের ব্রহ্মপুত্র ও ঝিনাই নদী, কুড়িগ্রামের ধরলা নদী, দিনাজপুরের তোলাই ও পুনর্ভবা নদী, টাঙ্গাইলের বাঁশী নদী, গাইবান্ধার ঘাঘট নদী, গাজীপুরের নাগদা নদী এবং কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার বিভিন্ন নদী উক্ত খনন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।


অন্য প্রধান প্রকল্পগুলো হলো, ঢাকার চারপাশে একটি বৃত্তাকার পথ নির্মাণ, নদীর সীমানা নির্ধারণের জন্য ীমারেখা পিলার স্থাপন এবং ৩৫টি নতুন খননযন্ত্র কেনার উদ্যোগ। যেটিতে বেশ কয়েক বছর ধরে বরাদ্দ থাকছে না। নতুন সরকার চাচ্ছে ধীরগতিতে চলা কাজগুলো দ্রুত শেষ করতে।

এদিকে, বিআইডব্লিউটিএর ঘুষ, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের সাথে সম্পৃক্ত দুই ডজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও তাদের স্ত্রীদের বিরুদ্ধে দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট অনুসন্ধান করছে বছরের পর বছর ধরে। সূত্র জানিয়েছে, ওই কর্মকর্তাদের মধ্যে সাত কর্মকর্তারা তাদের অবৈধ সম্পদ বৈধ করতে জাহাজ ক্রয়ে বিনিয়োগ করেছেন, স্ত্রীদের এসব জাহাজের মালিক বানিয়েছেন এবং কোটি কোটি টাকার সম্পদ কিনে দিয়েছেন। আরো ১৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান টিম মাঠে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। এরা সবাই পতিত সরকারের আমলে বিআইডব্লিউটিএকে লোকসানের মুখে ঠেলে দিয়ে নিজেরা আলিশান বাড়ি ও পাহাড় সমপরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন।

দুদকের তথ্যমতে, ২০২১ সালে বিআইডব্লিউটিএ’র একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চারটি পৃথক অভিযোগ জমা পড়ে দুদকে। একই বছরের অক্টোবর মাসে বিআইডব্লিউটিএ’র ২ ডজন কর্মকর্তা ও তাদের স্ত্রী-সন্তানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি তদন্ত করতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে দুদকে চিঠি পাঠানো হয়। এরপরই দুদক তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অনুসন্ধানে মাঠে নামে।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ৭ জন কর্মকর্তাসহ মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮০ লাখ বিনিয়োগ করে ‘ডজন রোজ লিমিটেড’ নামে একটি জাহাজ কোম্পানি গঠন এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কর্মকর্তাদের স্ত্রীদের নামে শেয়ার ক্রয়ের তথ্য পাওয়া যায়। একইসঙ্গে তাদের স্ত্রীদের নামে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ফ্ল্যাট, প্লট ও ব্যাংক ব্যালেন্স করার তথ্য রয়েছে।
দুদক যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের আমলনামা নিম্নে তুলে ধরা হলো।


বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী শামীম আক্তারের আমলনামা
বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম ১৯৮৯ সালে বিআইডব্লিউটিএ’তে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি চাকরিতে যোগদানের পর স্ত্রীকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দেখান। শফিকুল ইসলাম ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পরিচালক (সচিব) হিসেবে অবসরে যান।
অবসরে যাওয়ার আগে তিনি ২০১৮ সালের ১১ এপ্রিল স্ত্রী শামীমা আক্তারের নামে ‘রোজ ডজন’ কোম্পানিতে ১৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনেন। রাজধানীর রাজাবাজারে মাসুম ভ্যালী ভবনের দ্বিতীয় তলায় শফিকুলের ১১৫০ বর্গফুট ও কার পার্কিংসহ একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। কুড়িগ্রামের তরকপুরে ২২ শতাংশ জমিতে পুকুর খনন ও টিনসেড বাড়ি নির্মাণ করেন। তার ধানমন্ডিতে ৮৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট আছে। এসব সম্পদের মূল্য দেখান ২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
এছাড়া তার ৮০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, লিজেন্ড-১০ শিপিং লাইন্সে ৪০ লাখ টাকার শেয়ার, এমভি শুভেচ্ছা-১ এ ১৯ লাখ ২৫ হাজার টাকার শেয়ার, জেমস্টোনে ১০ লাখ টাকার শেয়ার, একটি জিপ গাড়ি ও ১৫ ভরি সোনাসহ আবসাবপত্র ও ইলেক্ট্রনিক্স মালামাল রয়েছে।

শফিকুলের স্ত্রী শামীমা আক্তারের বগুড়া সদরের ছয়পুকুরিয়ায় আড়াই শতাংশ জমি ও ৬টি দোকান, ঢাকার পশ্চিম জাফরাবাদে ১২৩০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, মোহাম্মদপুরে ১২৩০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া ‘রোজ ডজন’ কোম্পানিতে তার ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা শেয়ার, জেম স্টোন শিপিং লাইন্সে ৪০ লাখ টাকা, রিলায়াবল অয়েল কোম্পানিতে ৪৮ লাখ টাকা বিনিয়োগ, একটি প্রাইভেট কার ও ২০ ভরি স্বর্ণসহ আসবাবপত্র ও ইলেক্ট্রনিক্স মালামাল রয়েছে। শামীমা আক্তার কর দিয়ে ১ কোটি ১৬ লাখ ১৮ হাজার কালো টাকা সাদা করেছেন।
আয়কর নথির অনুযায়ী শফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর ৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা মূল্যের সম্পদ রয়েছে। বাস্তবে তাদের সম্পদের মূল্য আরও অনেক বেশি। এসব সম্পদের মধ্যে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে।


পরিচালক রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সাবিহা পারভীনের আমলনামা
রফিকুল ইসলাম ১৯৯২ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। তার স্ত্রী সাবিহা পারভীন একজন গৃহিণী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। রফিকুল ইসলামের স্ত্রীর নামে ২০২০ সালে লিজেন্ড-১০ কোম্পানির মর্নিং ভয়েজ নামীয় নৌযানে ২০ লাখ টাকার শেয়ার কিনেন। রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানা এলাকায় পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ১২ জমি শতাংশ রয়েছে। একই থানার ছোট বনগ্রামে ৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ জমি রয়েছে।
এছাড়া, রাজধানীর আদাবরে পার্কিংসহ ১৫৬৩ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, বাড্ডায় ২০ জনের সমিতি গঠন করে ১০ কাঠা জমি ক্রয়, রাজধানীর একটি আবাসিক প্রকল্পে ২ কাঠার প্লট ক্রয়, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ভাইয়ের কাছ থেকে ৪০ শতাংশ, মায়ের কাছ থেকে সাড়ে ২৫ শতাংশ জমি পেয়েছেন বলে আয়কর নথিতে উল্লেখ করেন।


তিনি এজমালি সম্পত্তি থেকে ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ পেয়েছেন বলে জানান। তার স্ত্রীর নামে সাভারের কাউন্দিয়ায় সাড়ে ৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। তাদের দুজনের ৬৫ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। আয়কর নথিতে তাদের ৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে। বাস্তবে এসব সম্পদের মূল্য আরও অনেক বেশি। তাদের দখলে থাকা সম্পদের মধ্যে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ থাকার তথ্য রয়েছে।


যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলী ও তার স্ত্রীর আমলনামা
গুলজার আলী ১৯৯৪ সালে চাকরিতে যোগদান করেন। তিনি স্ত্রী সালমা হককে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে স্ত্রীর নামে লিজেন্ড শিপিং লাইন্সে ২০ লাখ এবং ২০১৮ সালের এপ্রিলে রোজ ডজন শিপিং কোম্পানিতে ১৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনেন। গুলজার আলীর ৪ শতাংশ জমিতে টিনশেড বাড়ি, একটি আবাসন প্রকল্পে শেয়ারে ১০ কাঠা জমি ক্রয় ও সেখানে বাড়ি নির্মাণে সাড়ে ১৭ লাখ টাকা ব্যয়, ব্যাংকে ৭৫ লাখ জমা, ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র. ৫ ভরি স্বর্ণসহ কয়েক লাখ টাকার আসবাবপত্র ও ইলেক্ট্রনিক্স মালামাল রয়েছে। গুলজার তার স্ত্রী সালমা হকের পৈত্রিক জমিতে ৩০ লাখ ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ে বাড়ি নির্মাণ, কেরানীগঞ্জের আটিবাজার এলাকায় তিন কাঠা জমি ক্রয় করেন।
আয়কর নথি অনুযায়ী গুলজার আলী ও তার স্ত্রীর ২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা মূল্যের রয়েছে। বাস্তবে তাদের সম্পদের মূল্য আরও কয়েকগুণ বেশি। এসব সম্পদের মধ্যে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে। এছাড়া তাদের বেনামে আরও সম্পদ রয়েছে।


উপ-পরিচালক শহীদুল্লাহ ও তার স্ত্রী ফাতেমা পারভীনের আমলনামা
শহীদুল্লাহ ২০০৫ সালে চাকরিতে যোগদান করেন। তার স্ত্রীও একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে স্ত্রীর নামে ১৫ লাখ টাকা দিয়ে রোজ ডজন শিপিং কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করেন। এসব শেয়ার ২০২০ সালে বিক্রি করে দেন। তিনি ২০০০ সালের ইস্টার্ন হাউজিংয়ে ৯৩ লাখ টাকায় ২ কাঠা জমি ক্রয় করেন। এছাড়া জোয়ার সাহারা প্রকল্পে ৫ কাঠা জমির ৮ ভাগের ১ অংশের মালিক তিনি। তার ২৮ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৪৮ লাখ টাকা ব্যাংকে গচ্ছিত, আড়াই লাখ টাকার প্রাইজবন্ডসহ কয়েক লাখ টাকার আসবাবপত্র ও ইলেক্ট্রনিকস মালামাল রয়েছে।
এছাড়া স্ত্রীর নামে সাভারের কাউন্দিয়ায় সাড়ে ৭ শতাংশ জমি, ঢাকার ধানমন্ডিতে ১৬০২বর্গফুটের ফ্ল্যাট ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ৩ কাঠা জমি ক্রয় করেছেন। তাদের দুজনের ৬৮ ভরি স্বর্ণ রয়েছে।


আয়কর নথিতে তাদের সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা। বাস্তবে তাদের যে পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তার প্রকৃত মূল্য কয়েকগুণ বেশি। এসব সম্পদের মধ্যে ১ কোটি ১২ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে। এর বাইরে তাদের বেনামি সম্পদও রয়েছে।


উপ-পরিচালক আবু সালেহ কাইয়ুম ও তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তারের আমলনামা
আবু সালেহ কাইয়ুম ২০০৫ সালে চাকরিতে যোগদান করেন। তার স্ত্রী ২০০৯ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। তিনি ২০১৭ সালের ১২ জানুয়ারি ২০ লাখ টাকা দিয়ে স্ত্রীর নামে লিজেন্ড শিপিং লাইন্সের শেয়ার ক্রয় করেন। ২০২২ সালে সেই শেয়ার বিক্রিও করে দেন।
আবু সালেহ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বেতন-ভাতা পেয়েছেন ১ কোটি ১৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে পারিবারিক ব্যয় হয়েছে ৫০ লাখ ১ হাজার টাকা। তার প্রায় ১৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। তিনি বিয়ের সময় ১০ ভরি ও তার স্ত্রী ৪৫ ভরি স্বর্ণ উপাহার পেয়েছেন।
আয়কর নথি অনুযায়ী এই দম্পতির সম্পদের মূল্য ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এসব সম্পদের মধ্যে ২০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তাদের সম্পদের মূল্য এবং অবৈধ সম্পদের পরিমাণ আরও অনেক বেশি।


উপ-পরিচালক আবু বকর ও তার স্ত্রী ইসরাত জাহানের আমলনামা
আবু বকর সিদ্দিক ১৯৯৫ সালে নির্বাহী সহকারী হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ২০২০ সালের ডিসেম্বর অবসরে যান। আয়কর নথিতে তাদের ৫ কোটি ২০ লাখ টাকার সম্পদ থাকার তথ্য রয়েছে। বাস্তবে তাদের সম্পদের মূল্য ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা। এসব মধ্যে বিপুল পরিমাণ অবৈধ উপায়ে অর্জন করা হয়েছে।


তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জরিনা বেগম ও তার স্বামী মুকবুল আহমেদের আমলনামা
বিআইডব্লিউটিএ’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জরিনা বেগমের স্বামী মুকবুল আহমেদ। এই দম্পতি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এর মধ্যে জরিনা খানম ও তার স্বামী মুকবুল আহমেদ আশুলিয়া মডেল টাউনে ৩ কাঠা জমি রয়েছে। যার মূল্য দেখানো হয় ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। বাউনিয়া মৌজায় ৪১ দশমিক ২৫ অযুতাংশ জমি, যারা মূল্য দেখানো হয় ৭ লাখ ৫০ হাজার এবং হাজারীবাগ মনেশ্বর রোডে ১২০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের মূল্য ২ লাখ ৬১ হাজার। এছাড়া, তাদের স্বর্ণালঙ্কার, আসবাবপত্র, ইলেক্ট্রনিক্স মালামালসহ মোট সম্পদের মূল্য ২ কোটি ৮২ লাখ ১৮ হাজার ৮৯৯ টাকা দেখানো হয়। এই সম্পদ অর্জনের বিপরীতে আয় দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৯০ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩৬ টাকা। অর্থাৎ তাদের অর্জিত সম্পদ থেকে আয়ের পরিমাণ ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩৭ টাকা বেশি।


অভিযোগ রয়েছে, জরিনা খানম ও তার স্বামীর সম্পদের যে মূল্য দেখানো হয়েছে তার প্রকৃত মূল্য অনেক বেশি।
দুদক সূত্রমতে, বিআইডব্লিউটিএ’র যাদের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা বা অভিযোগ রয়েছে তাদের প্রত্যেকের বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান। এরা পতিত সরকারের আমলে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এদের বেশিরভাগই সম্পদ করেছেন স্ত্রী এবং বেনামে। পতিত সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত থাকলেও তারা অনেকে এখন মুখোশ পাল্টিয়ে বিএনপিপন্থী সেজে গেছেন।
সূত্রমতে, একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী নিজের অপকর্ম এবং দুর্নীতি থেকে বাচঁতে মিডিয়ায় পজেটিভ নিউজ করানোর জন্য মোটা দাগের টাকা খরচ করে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।


এদিকে, সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে দুদকও দুর্নীতি রোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে নড়েচড়ে বসেছে। এর ফলে অনেক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিদায়ঘন্টাও বেজে উঠেছে। কারণ দুদককে স্বাধীন করে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শক্তিশালী কমিশন গঠনে দুর্নীতিবাজদের ঘুম হারাম হয়ে যাবে। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ আসছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রমতে, বিআইডব্লিউটিএ’র অধিকাংশ কর্মকর্তা অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে নতুন সরকার কি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে তা নিয়ে সর্বত্রই প্রশ্ন উঠেছে। তবে অনেকেই দলীয় পরিচয় বহন করে পদ-পদবী সহ বিভিন্ন সুবিধা নিতে মরিয়া।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

নিজস্ব প্রতিবেদক

অনুসন্ধানী সংবাদ

View more
কেন্দ্রীয় ঔষধাগার - ডাঃ তৌহিদ আহমেদ
কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের উপ-পরিচালক ডাঃ তৌহিদ আহমেদের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা :  দেশের স্বাস্থ্যখাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাগার (সিএমএসডি) গত কয়েক বছরে ক্রয়, সংরক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নীতি-নিয়ম উপেক্ষা এবং স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে আলোচনা ও অনুসন্ধানের কেন্দ্রে রয়েছে।  সিএমএসডির উপ-পরিচালক ডাঃ তৌহিদ আহমেদ (দাপ্তরিক কোড: ১০৯৬৩০)-এর দায়িত্বকালে, বিভিন্ন সূত্র অনুসারে প্রতিষ্ঠানটির ক্রয় কার্যক্রম, সরকারি অর্থ ব্যবহার ও প্রশাসনিক তদারকিতে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সিএমএসডি দেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর জন্য চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়, সংরক্ষণ ও বিতরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে সরকারি বাজেটের মাধ্যমে এবং ক্রয় কার্যক্রমে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে। ডাঃ তৌহিদ আহমেদ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ৩০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তার প্রশাসনিক পথচলা এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সংগঠনগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে অনুসন্ধানকারীরা গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ করছেন।  ডাঃ তৌহিদ আহমেদ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ৩০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রজীবনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একটি সচিব কমিটির সঙ্গেও দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রভাববলয় ব্যবহার করেই তিনি সিএমএসডিতে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে থেকে প্রশাসনিকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন এবং জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে সহকারী পরিচালক (এডি) পদ থেকে সরাসরি উপ-পরিচালক পদে বিধি বহির্ভূতভাবে পদায়ন লাভ করেন। ‎‎ সিএমএসডিতে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, একাধিক ক্ষেত্রে মামলা দায়ের না করেই সংশ্লিষ্ট খাতের অর্থ উত্তোলন করে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন না করেই ভাউচার বিল প্রদর্শনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। এতে করে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে সুবিধা ভোগ করেছেন বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। ‎‎বিশেষ করে করোনা মহামারির সময়কার ক্রয় কার্যক্রম নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে। সূত্রমতে, এন-৯৫ মাস্ক, রেমডেসিভির ইনজেকশনসহ বিভিন্ন কোভিড-সম্পর্কিত চিকিৎসা সামগ্রী দরপত্রে সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণ না করে অতিরিক্ত পরিমাণে ও উচ্চমূল্যে ক্রয় করা হয়। অধিকাংশ ক্রয়ই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়েছে, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পরিপন্থী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, বর্তমানে এসব সামগ্রীর বড় অংশ ওয়েস্টেজ হিসেবে অল্প মূল্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে, আর কিছু মালামাল পুড়িয়ে বা ধ্বংস করা হয়েছে, ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ‎এছাড়া, বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আনুমানিক ১২ লাখ পিপিই, যার বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা, যথাযথ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অভাবে পচে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে বলে জানা যায়। এসব সামগ্রীর তদারকি তার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ‎ দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও রয়েছে গুরুতর অবহেলার চিত্র। ডাঃ তৌহিদ আহমেদ একজন টেবিল টেনিস খেলোয়াড় হওয়ায় প্রায়ই অফিস সময়ে কাজ বন্ধ রেখে খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকেন। অফিস চলাকালীন সময়ে টেবিল টেনিস ও ব্যাডমিন্টন খেলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা সহকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ‎বিদেশ সফরের ক্ষেত্রেও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। প্রযুক্তিগত কর্মকর্তা না হওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রতিবছর সরকারি অর্থে জাপান, জার্মানি সহ বিভিন্ন দেশে সফর করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বিভিন্ন কমিটির সদস্য হিসেবে থেকে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ টাকা আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ক্রয় কার্যক্রমে প্রশ্ন সূত্রের দাবি, ডাঃ তৌহিদ আহমেদ-এর প্রশাসনকালে সিএমএসডিতে একাধিক সরঞ্জাম, বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় এন-৯৫ মাস্ক, রেমডেসিভির ইনজেকশন ও পিপিই সামগ্রী অতিরিক্ত পরিমাণে ও উচ্চমূল্যে ক্রয় করা হয়েছে। একাধিক ক্রয়ই  ডিপিএম পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়েছে, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দিক থেকে প্রশ্নবিদ্ধ। বিভিন্ন ক্রয়কৃত সামগ্রী অল্প মূল্যে বিক্রি বা ধ্বংস করা হয়েছে বলে কিছু সূত্র দাবি করছে, যা সরকারি অর্থের ক্ষতির কারণ হতে পারে। সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ সূত্র অনুযায়ী, প্রায় ১২ লাখ পিপিই দীর্ঘ সময় ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল এবং বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। যথাযথ তদারকি বা ব্যবস্থাপনার অভাবের কারণে অনেক সামগ্রী নষ্ট হয়েছে। সিএমএসডির ক্রয় ও সংরক্ষণ কমিটিতে ডাঃ তৌহিদ আহমেদ-এর উপস্থিতি থাকায়, অনেকে বলছেন এটি স্বার্থের সংঘাত তৈরি করেছে। প্রশাসনিক ও অফিসিয়াল কার্যক্রম ডাঃ তৌহিদ আহমেদ-এর অফিসিয়াল কার্যক্রম সম্পর্কেও বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। তিনি সাপ্তাহিকভাবে সিলেট থেকে ঢাকায় বিমানে যাতায়াত করেছেন। বিদেশ সফরের সময় (জাপান, জার্মানি) সরকারি অর্থে অংশগ্রহণ করেছেন, যদিও প্রযুক্তিগত দায়িত্ব নন। অফিস সময়ের মাঝে খেলাধুলায় অংশগ্রহণ এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও উঠেছে। সরকারি সম্পদের ব্যবহার, যেমন গাড়ি, জ্বালানি ও উন্নয়ন প্রকল্পের যানবাহন ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, এবং তদারকিতে স্বচ্ছতার অভাবও সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ছাত্রদের এক আন্দোলনে তাঁকে প্রকাশ্যে দুর্নীতিবাজ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ বিচারাধীন। বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন চিকিৎসক যদি জনসেবা নিশ্চিত না করে ব্যক্তিগত স্বার্থে লিপ্ত হন, তা শুধু নৈতিক বিচ্যুতি নয়, গোটা স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ।   সিএমএসডিতে ক্রয়, সংরক্ষণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার নানা পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব সম্পর্কিত প্রশ্ন অনুসন্ধান ও  উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
গাজী হাফিজুর রহমান (লিকু)

শেখ হাসিনার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর সম্পদ রয়েছে বরিশালেও

সাদেকুর রহমান

বন বিভাগে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: সিন্ডিকেট ও অনিয়ম

ঢাকা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী জুনায়েদ আবু ইয়াসির

ঢাকা ওয়াসা : নির্বাহী প্রকৌশলী জুনায়েদ আবু ইয়াসিরের দুর্নীতি, সিন্ডিকেট ও ক্ষমতার অপব্যবহার

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)
বিআরটিএর উপ-পরিচালক বদলির আদেশ বাতিল, ঘুষ-বাণিজ্য ও সিন্ডিকেট

ঢাকা: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক বার আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে। নতুন সরকারের আগমন ও অফিসিয়াল বদলির আদেশ বাতিলের দ্রুত ঘটনাচক্রে সন্দেহ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারি সূত্র জানায়, বিআরটিএর উপ-পরিচালক (প্রশাসন) তানভীর আহমেদ সিদ্দিক ৭ মার্চ স্বাক্ষরিত আদেশে মো. রফিকুল ইসলামকে চট্টগ্রাম ঢাকা মেট্রো-৪ সার্কেল থেকে রাজশাহীর বিভাগীয় অফিসে বদলি করেছিলেন। তবে কেবল একদিন পরেই, বিআরটিএর আরেক উপ-পরিচালক হেমায়েত উদ্দিন স্বাক্ষরিত নতুন আদেশে বদলি বাতিল করা হয়। কর্মচারীদের প্রশ্ন, কীভাবে একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় অন্য একজন কর্মকর্তার আদেশ এত দ্রুত উল্টো যায়। ঘুষ ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানান, রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বদলি বাণিজ্য, রেজিস্ট্রেশন জালিয়াতি এবং ঘুষ আদায়ে জড়িত। তার কথিত চাচার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকায় তার “শাহাবাস্তি বিজনেস সেন্টার” নামের অফিসটি সিন্ডিকেটের হেডকোয়ার্টার হিসেবে পরিচিত। সূত্র জানায়, এই অফিস থেকে সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীরা ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা সরকারি সেবার স্বাভাবিক স্রোত ব্যাহত করছে। রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকায় রয়েছে: সিএনজি অটো-রিকশা রেজিস্ট্রেশনের নামে বড় অংকের ঘুষ আদায়। মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের জালিয়াতি। সিন্ডিকেট গঠন ও দালাল চক্রের মাধ্যমে নিয়মিত অবৈধ আয়। আত্মীয়-স্বজনের নামে বিপুল সম্পত্তি অর্জন।   ঘটনার সময়রেখা:   তারিখ ঘটনা স্বাক্ষরকারী উপ-পরিচালক ৭ মার্চ ২০২৬ রফিকুল ইসলামকে চট্টগ্রাম ঢাকা মেট্রো-৪ থেকে রাজশাহী বদলি তানভীর আহমেদ সিদ্দিক ৯ মার্চ ২০২৬ বদলি আদেশ বাতিল হেমায়েত উদ্দিন   সময়ের রেখা ও প্রমাণ ২০১৫: চট্টগ্রাম মেট্রো-১ এ সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে উত্তরা মোটরসের ডিলারের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ। ২০১৬: ঢাকা জেলা সার্কেলে সহকারী পরিচালক হিসেবে সিএনজি রেজিস্ট্রেশনের নামে বড় ধরনের অনিয়ম শুরু। ২০১৯ পর্যন্ত: প্রায় ৫ হাজার সিএনজি রেজিস্ট্রেশন, যেখানে অধিকাংশ মালিক ভুয়া ঠিকানার মাধ্যমে নিবন্ধন। ২০২৪: ঢাকা মেট্রো-১ থেকে বরিশাল বিভাগীয় অফিসে বদলি, এরপর বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে সিন্ডিকেট পরিচালনা।   প্রশাসনিক ব্যর্থতা  কেন একটি উপ-পরিচালকের আদেশ অন্য একজন উপ-পরিচালকের স্বাক্ষরে বাতিল হতে পারলো? রফিকুল ইসলামকে শুধু বদলি করা যথেষ্ট নয়, তার সিন্ডিকেট ও সম্পদের উত্থানও তদন্তের আওতায় আনা জরুরি। কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ ও জনসেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি।   রেজিস্ট্রেশন জালিয়াতি বিভাগ প্রক্রিয়া প্রায় ঘুষের পরিমাণ মন্তব্য সিএনজি রেজিস্ট্রেশন ঢাকার নামে ভুয়া ঠিকানা ১ লাখ টাকা প্রতি রেজিস্ট্রেশন প্রায় ৫ হাজার রেজিস্ট্রেশন ২০১৬–২০১৯ মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন আর.এম মোটরস & ইন্টারন্যাশনাল শোরুম অজানা, কোটি টাকা প্রায় আত্মীয়-স্বজনের নামে সম্পত্তি অর্জন ফিটনেস সার্টিফিকেট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আলাদা হিসাব নেই সরকারি নিয়মের চরম লঙ্ঘন   নিরাপত্তা ও আইনি প্রয়োজনীয়তা তদন্ত কমিটি গঠন, সিন্ডিকেটের উচ্ছেদ, এবং অবৈধ সম্পত্তির অনুসন্ধান জরুরি। শুধুমাত্র বদলি আদেশের মাধ্যমে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। প্রশাসনিক প্রভাব ও প্রশ্ন কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু বদলি করে দুর্নীতি বন্ধ হবে না। প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও তদন্ত ছাড়া সরকারি সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ এবং সাধারণ মানুষের প্রতি ক্ষোভ বাড়বে। বিআরটিএর উচ্চপর্যায় থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের সিন্ডিকেট ও ঘুষ-বাণিজ্য চক্র সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়ম ও শৃঙ্খলার জন্য বড় হুমকি।   তদন্ত প্রয়োজনীয়তা সিন্ডিকেটের অবৈধ সম্পত্তি ও অর্থের উৎসের তদন্ত। ঘুষ-বাণিজ্য ও রেজিস্ট্রেশন জালিয়াতির সম্পূর্ণ রিপোর্ট। কঠোর প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
নদী দখল - অপসোনিনের কবলে সুগন্ধা ও কীর্তনখোলার মোহনা -ইত্তেহাদ

ভয়াবহ নদী দখল : অপসোনিনের কবলে সুগন্ধা ও কীর্তনখোলা

বিটিভি চট্টগ্রামের জিএম ইমাম হোসাইন'র অনিয়ম-দুর্নীতি

বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জিএম ইমাম হোসাইন'র অনিয়ম-দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার পাহাড়: প্রতিমন্ত্রীর ক্ষোভে প্রশাসনে তোলপাড়

গোমা সেতু

গোমা সেতু নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতি: ৫৭ কোটি থেকে ৯২ কোটিতে ব্যয় বৃদ্ধি, ৯ বছরে প্রকল্প শেষ

বরিশাল বিভাগে হাসপাতাল টেন্ডার সিন্ডিকেট
বরিশাল বিভাগে হাসপাতাল টেন্ডার সিন্ডিকেট: কৃষ্ণ পরিবারের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

স্বাস্থ্যখাতে  শত কোটি টাকার দুর্নীতি! বরিশাল বিভাগে হাসপাতাল টেন্ডার সিন্ডিকেট মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল  : বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে টেন্ডার সিন্ডিকেট, নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং অতিরিক্ত দামে বিল উত্তোলনের অভিযোগে আলোচনায় এসেছে পিপলাই পরিবার। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দেড় দশক ধরে তারা হাসপাতালগুলোতে সরঞ্জাম সরবরাহের নামে সরকারি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে সরকারি হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং কোটি কোটি টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে পিপলাই পরিবারের বিরুদ্ধে। দুদক ইতোমধ্যে মামলা করেছে। তদন্তে বেরিয়ে আসছে নতুন নতুন তথ্য। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তে আরও অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য উঠে আসছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। ১৫ বছরের টেন্ডার সিন্ডিকেট দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে সত্য কৃষ্ণ পিপলাই ও তার ছেলে সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মালামাল সরবরাহের টেন্ডারে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। অভিযোগ অনুযায়ী তারা:—     নিজেদের নিয়ন্ত্রণে একাধিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দরপত্রে অংশগ্রহণ     প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের ভান তৈরি     নিম্নমানের মালামাল সরবরাহ     অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে কম দামে কিনে বেশি দামে সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ এই পদ্ধতিতে সরকারি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। দুদকের মামলা গত বছরের ২৬ নভেম্বর ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে মামলা করে দুদক। মামলার বাদী দুদকের উপসহকারী পরিচালক পার্থ চন্দ্র পাল। মামলায় আসামি করা হয়েছে—     ডা. শামীম আহমেদ (তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক, ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল)     শিপ্রা রানী পিপলাই     সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই     সত্য কৃষ্ণ পিপলাই দুদকের অভিযোগ, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে যোগসাজশ করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। একই পরিবারের তিন প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার গজ, ব্যান্ডেজ, তুলা, ওষুধ, কেমিক্যাল, আসবাবপত্র ও কিচেন সামগ্রী ক্রয়ের জন্য ছয়টি গ্রুপে দরপত্র আহ্বান করা হয়। তদন্তে দেখা যায়— চারটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিলেও তিনটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা একই পরিবারের। সেগুলো হলো—     আহসান ব্রাদার্স — মালিক সত্য কৃষ্ণ পিপলাই     পিপলাই এন্টারপ্রাইজ — মালিক সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই     বাপ্পী ইন্টারন্যাশনাল — মালিক শিপ্রা রানী পিপলাই তিন প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাও একই—বরিশাল সদরের উত্তর কাটপট্টি। দুদকের মতে, কাছাকাছি দর দিয়ে দরপত্র সাজানো হয়েছিল, যা সরকারি ক্রয় বিধিমালা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। বরগুনা হাসপাতালে ৪ কোটি টাকার টেন্ডার বিতর্ক বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রায় ৪ কোটি টাকার মালামাল ক্রয়ের দরপত্রেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে—     ছয়টি প্যাকেজে ২৪টি ফরম বিক্রি হয়     জমা পড়ে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র     দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক একই পরিবারের বাবা ও ছেলে অন্য ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, দরপত্রে অপ্রয়োজনীয় ও কঠিন শর্ত যোগ করে অন্যদের অংশগ্রহণ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন ঠিকাদার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগও করেন। শেবাচিম হাসপাতালে ১১ কোটি টাকার সরঞ্জাম কেলেঙ্কারি বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহের ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— ২০২০ সালে টেন্ডার আহ্বানের পর চারটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। তবে তদন্তে দেখা যায়, ওই চারটির মধ্যেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পিপলাই পরিবারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী—     অনিয়মের মাধ্যমে ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহ বাবদ ৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা     এমএসআর সামগ্রী সরবরাহের নামে ৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা মোট প্রায় ১১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করা হয়। তদন্তে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে যে দরপত্রে অযোগ্য ঘোষিত অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে যন্ত্রপাতি এনে বেশি দামে হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়েছিল। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র হলে সাশ্রয় হতো কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে সরঞ্জাম কেনা হলে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় সম্ভব ছিল। দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান তদন্তে আরও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নতুন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   সত্য কৃষ্ণ পিপলাই বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য খাতে মালামাল সরবরাহকারী একটি বিতর্কিত ঠিকাদারী পরিবারের প্রধান। তিনি মেসার্স পিপলাই এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স আহসান ব্রাদার্সের মালিক হিসেবে পরিচিত এবং স্ত্রী ও সন্তানদের নামে একাধিক লাইসেন্স ব্যবহার করে বছরের পর বছর ধরে হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত । সত্য কৃষ্ণ পিপলাই সম্পর্কে মূল তথ্য:     পেশা ও পরিচয়: তিনি বরিশালের একজন প্রভাবশালী ঠিকাদার, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হাসপাতালে ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করেন ।     দুর্নীতির অভিযোগ: তার বিরুদ্ধে স্ত্রী শিপ্রা রানী পিপলাই ও ছেলে সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাইয়ের সাথে যোগসাজশে টেন্ডার বাণিজ্য, অবৈধভাবে কার্যাদেশ পাওয়া এবং সরঞ্জাম সরবরাহ না করেই টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে ।     আইনি পদক্ষেপ: ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাকে ও তার পরিবারকে আসামি করে মামলা করেছে ।     ভূমিকা: মেসার্স পিপলাই এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স আহসান ব্রাদার্সের মাধ্যমে তিনি মূলত বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য খাতে ঠিকাদারী নিয়ন্ত্রণ করেন ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
রাজাপুর এলজিইডি প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার

রাজাপুরে এলজিইডি প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের অনিয়ম: তদন্তে বেরিয়ে আসছে দুর্নীতির চিত্র

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব ও উপব্যবস্থাপক  আহম্মদুল্লাহ

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন: সিন্ডিকেট, নিয়োগ জালিয়াতি ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ আহম্মদুল্লাহর বিরুদ্ধে

জেবা আমিনা আহমেদ

বিএনপি নেত্রী জেবা আমিনার বিরুদ্ধে বাড়ি দখলের অভিযোগ

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0