বরিশাল অফিস : বরিশালের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি এলাকায় সাগরদী খালের পাড়ে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীর প্রতি জাতীয় ঐক্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জলাশয় রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। কর্মসূচির উদ্বোধনের আগে তিনি বলেন, “কদিন আগে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে এ দেশ থেকে স্বৈরাচার হটিয়েছি। এবার আসুন সবাই মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করি।” জাতীয় ঐক্যের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্ম-বর্ণ ও দলমত নির্বিশেষে মানুষ একসঙ্গে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছিল। একইভাবে সাম্প্রতিক সময়েও সকল শ্রেণি-পেশা ও মতের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। “আমরা সকলে মিলে যদি কাঁধে কাঁধ রেখে দেশের জন্য, মানুষের জন্য ভালো কাজ করি, তাহলে সকলে মিলে উপকৃত হবো।” বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী একটি নারিকেল গাছের চারা রোপণ করেন। পরে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত দায়িত্বের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ রক্ষা কেবল সরকারের বা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়; এটি সকল নাগরিকের যৌথ দায়িত্ব। তিনি সবাইকে নিজ নিজ বাসা-বাড়ি, অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং আশপাশের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান। “আমরা প্রত্যেকে চেষ্টা করব আমাদের আশেপাশের এলাকা যাতে নষ্ট না হয়, পরিবেশটা যাতে সুন্দর থাকে, ভালো থাকে।” তিনি বলেন, দেশের পরিবেশ পরিষ্কার ও সুস্থ রাখতে ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং সামাজিক অংশগ্রহণ জরুরি। সাগরদী খাল রক্ষায় স্থানীয়দের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব সাগরদী খালের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালটির রক্ষণাবেক্ষণ শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়; খালের আশপাশের বাসিন্দাদেরও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। তিনি খালের পানিতে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, টিস্যু পেপারসহ বিভিন্ন বর্জ্য ফেলার প্রবণতার সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের আচরণ খালের পরিবেশ ও পানির গুণগত মান নষ্ট করে। “খালের মধ্যে আমরা এগুলো ফেলবো না—এই সচেতনতা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।” সিটি করপোরেশনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, খালের পাশে ময়লা ফেলার বিন থাকলেও জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি খালের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত পাইপ ও সুয়ারেজ সংযোগগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ড্রেনেজ ও সুয়ারেজ ব্যবস্থার বিষয়ে পরামর্শ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাসা-বাড়ির ব্যবহৃত পানি বা সুয়ারেজ লাইন সরাসরি খালের সঙ্গে যুক্ত থাকলে পানি দূষিত হয় এবং পরিবেশের ক্ষতি হয়। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনকে প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার অনুরোধ জানান তিনি। “আমাদের নিজেদের পরিবেশ আমাদের নিজেদেরকে রক্ষা করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, যেমন নিজের ঘর পরিষ্কার না রাখলে তা নোংরা হয়ে যায়, তেমনি পাড়া-মহল্লা ও দেশকে পরিষ্কার না রাখলে তার ভোগান্তিও জনগণকেই পোহাতে হবে। কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার এবং সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। তারা খালের দুই পাড়ে গাছ রোপণ করেন। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ ও জোহরের নামাজ আদায় করেন।
বরিশাল অফিস : বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাঁর এই মন্তব্য সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সরকারের অবস্থানকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে আনে। মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অনুষ্ঠিত এ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী মহড়াস্থল ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। জঙ্গলের ভেতরে অবস্থানরত সদস্যদের কাছে গিয়ে তিনি তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করেন। সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে তাঁদের প্রতি বিশেষ মর্যাদা তৈরি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আস্থা ও মর্যাদা ধরে রাখতে পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখা প্রয়োজন। সেনা পরিবারের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি এক সেনা পরিবারে বড় হয়েছেন এবং সেনাসদস্যদের কাছে এলে তাঁর শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে যায়। ব্যক্তিগত এই অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি সেনাবাহিনীর প্রতি নিজের আবেগ ও শ্রদ্ধার কথাও তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আরও সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে। সেনাবাহিনীর সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং সুনাম বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ও প্রযুক্তি পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী বিস্তীর্ণ জঙ্গল এলাকায় সেনাসদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা তাঁকে মহড়ার বিভিন্ন দিক এবং কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন। মহড়ায় ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রমও প্রধানমন্ত্রী প্রত্যক্ষ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁকে শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে এর সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেন। সেনাসদস্যদের সঙ্গে সময় একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের সঙ্গে মাটিতে বসে কিছু সময় কাটান। তিনি তাঁদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন। মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা খাবারও তিনি গ্রহণ করেন। সেনাসদস্যদের পরিবেশিত খাবারের মধ্যে ছিল সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ এবং ডিমের তরকারি। উপস্থিতি ও তাৎপর্য এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এই পরিদর্শনকে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাদের ভূমিকার প্রতি সরকারের গুরুত্ব প্রদানের একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
বরিশাল অফিস : বরিশালে এক দিনের ধারাবাহিক কর্মসূচিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলীয় ঐক্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি, উন্নয়ন-নীতির পুনর্মূল্যায়ন এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। সোমবার বিকেলে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত বিভাগীয় সাংগঠনিক সভায় তিনি বলেন, দলের ভেতরে মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে তা যেন কোনোভাবেই ঐক্য নষ্ট না করে। “ঐক্য থাকলে ফ্যাসিস্ট বা কোনো গুপ্তচর দলে ঢুকে সুবিধা নিতে পারবে না। ঐক্যে ফাটল ধরলেই তারা সুযোগ নেবে,” — তারেক রহমান। ১৭ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে ঐক্যের আহ্বান দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, গুম, খুন ও নির্যাতনের মধ্যেও তারা ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে ধরে রেখেছেন। “তখন সবাই সবার পাশে থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে দল চালিয়েছেন। এখন নির্যাতনের সেই ভয় নেই, তাহলে এখন কেন ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারবেন না?” তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএনপির জন্য অভ্যন্তরীণ সংহতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি বলে তিনি মনে করেন। স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ‘হাইব্রিড’ সতর্কতা আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে তিনি তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করার নির্দেশ দেন। তারেক রহমান বলেন, বর্ষার পর আলোচনা করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হবে। “তৃণমূলকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে হবে। তবে দল গোছানোর ক্ষেত্রে ‘হাইব্রিড’ ও ‘গুপ্ত’—এই দুটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে,” এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, বিএনপি সংগঠনের ভেতরে অনুপ্রবেশ বা সুযোগসন্ধানী নেতৃত্বের সম্ভাবনা নিয়ে নেতৃত্বের উদ্বেগ রয়েছে। ধর্মীয় উৎসব ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন প্রধান ধর্মীয় উৎসবের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন। “যেকোনো মূল্যে এই ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে হবে। কেউ যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে ফায়দা লুটতে না পারে,” তিনি দেশের সকল ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যের কথাও উল্লেখ করেন এবং ধর্মীয় ভেদাভেদ না করে মানবিকতার ভিত্তিতে দেশ পুনর্গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উন্নয়ন নিয়ে সমালোচনা ও পাল্টা রূপরেখা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তারেক রহমান দাবি করেন, উন্নয়নের নামে ব্যাপক অর্থ পাচার হয়েছে। “গত ১৭ বছরে উন্নয়নের নামে আসলে লুটেরাদের পকেটের উন্নয়ন হয়েছে। মেগা প্রজেক্টের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে,” তিনি ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের শ্বেতপত্রের তথ্য উল্লেখ করে বলেন, প্রতি বছর গড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা পাচারের কথা সেখানে উঠে এসেছে। পাশাপাশি পদ্মা সেতু ও ভারতের ভূপেন হাজারিকা সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের তুলনাও টানেন। তার মতে, উন্নয়ন শুধু রাস্তাঘাট নির্মাণ নয়; স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষি খাতের সার্বিক উন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়ন। এ প্রসঙ্গে তিনি উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি এবং শিশুদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও বলেন। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও সামাজিক সুরক্ষা গৌরনদীর বাটাজোরে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তারেক রহমান বলেন, সারাদেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ধীরে ধীরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। “আমাদের উদ্দেশ্যই হলো, আমাদের মায়েরা যাতে ভালো থাকতে পারেন, দেশের মানুষ যাতে একটু হলেও ভালো থাকতে পারেন,” তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন সম্ভব হবে বলে সরকার বিশ্বাস করে। পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার নাগরিক আহ্বান সকালে গৌরনদীর সরিকল-বাটজোর খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তারেক রহমান দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে নাগরিক দায়িত্বের ওপর জোর দেন। “আমরা যদি নিজের ঘর এবং দেশকে নিজেরা পরিষ্কার না রাখি, তাহলে এই দেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে না। বাইরে থেকে কেউ এসে আমাদের দেশকে পরিষ্কার করে দিয়ে যাবে না,” খালে ভাসমান প্লাস্টিকের বোতল দেখিয়ে তিনি বলেন, দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়; প্রতিটি নাগরিকের আচরণ ও অভ্যাসের সঙ্গে এটি সরাসরি সম্পর্কিত। রাজনৈতিক বার্তার সমন্বিত চিত্র বরিশালের এই কর্মসূচিগুলোতে তারেক রহমানের বক্তব্যে কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে: দলীয় ঐক্য: বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংহতি বজায় রাখাকে তিনি রাজনৈতিক টিকে থাকার প্রধান শর্ত হিসেবে দেখিয়েছেন। নির্বাচনী প্রস্তুতি: স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন। সামাজিক সম্প্রীতি: ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে এবং সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছেন। অর্থনৈতিক সমালোচনা: পূর্ববর্তী সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ পুনরুল্লেখ করেছেন। নাগরিক দায়িত্ব: পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষাকে জাতীয় উন্নয়নের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। সবশেষে তারেক রহমান দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, “করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ”—এই লক্ষ্য নিয়েই বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এগিয়ে নিতে চায় বিএনপি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় চলমান এইচএসসি পরীক্ষা ও সমমানের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল করতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় প্রায় ১০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাতে চরফ্যাশন থানায় ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. মহিউদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে শনিবার দুপুরে চরফ্যাশন উপজেলা শহরের ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রশ্ন কমন না পড়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে জড়ায়। পরে পরিস্থিতি সহিংসতায় রূপ নেয় বলে মামলার এজাহার, পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে। কেন্দ্রে কী ঘটেছিল? বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের আওতায় পরিচালিত ওই কেন্দ্রে চরফ্যাশন সরকারি কলেজের ৮৮৪ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। শনিবার ছিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা। সকালে নিয়মিতভাবে এমসিকিউ প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। এমসিকিউ পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কেন্দ্রের ৩০৪ নম্বর কক্ষে কিছু পরীক্ষার্থী দাবি করেন যে প্রশ্ন তাদের “কমন” পড়েনি। কলেজ সূত্র জানায়, ওই সময় কিছু শিক্ষার্থী নকলের চেষ্টা করলে দায়িত্বরত শিক্ষকরা নকল প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নেন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর কিছু পরীক্ষার্থী নকল করার সুযোগ দাবি করে এবং কক্ষে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করে। পরীক্ষা শেষে সহিংসতা মামলার এজাহার অনুযায়ী, পরীক্ষা শেষে দুপুর ১টা ৫ মিনিটের দিকে একদল শিক্ষার্থী কলেজের পকেট গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। তারা পরীক্ষার খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইটপাটকেলের আঘাতে পরীক্ষাকক্ষে দায়িত্ব পালনকারী ৭ জন শিক্ষক এবং কলেজের গভর্নিং কমিটির সভাপতিসহ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এরপর কেন্দ্র এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। মামলার অগ্রগতি চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদ আল-ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বাদী হয়ে শতাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছেন। তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ঘটনার তাৎপর্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নকলবিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণকে কেন্দ্র করে সহিংসতার এই অভিযোগ শিক্ষা ব্যবস্থার শৃঙ্খলা, পরীক্ষা পরিচালনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তের মাধ্যমে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঘটনাটি বাস্তব। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টারে একটি আমগাছে ফলছে ১০টি ভিন্ন জাতের আম। কলম সংযোজন প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশি ও বিদেশি জাতের আমকে একই গাছে যুক্ত করার এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষক ও উদ্যানপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি শুধু প্রদর্শনমূলক উদ্যোগ নয়; বরং বহুজাতের আম উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাইয়ের একটি চলমান গবেষণা। একই গাছে ১৫ থেকে ২০ জাতের আম উৎপাদনের লক্ষ্যে আরও কলম সংযোজন কার্যক্রম চলছে। কোন কোন জাতের আম রয়েছে? রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে একটি গাছে কলম সংযোজনের মাধ্যমে যে ১০টি জাতের আম উৎপাদন করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে— জাপানি আম মিয়াজাকি, ন্যামডকমাই, রেড আইভরি, টকমাই, থ্রি টেস্ট, দেশি আম্রপালি, বারিভোগ এবং বারি-১১সহ মোট ১০ জাতের আম। এই বহুজাতের চারা সেন্টার থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গাছের পরিচর্যা, সেচ, ছাঁটাই ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে ক্রেতাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। কীভাবে সম্ভব হচ্ছে এক গাছে বহু জাতের আম? উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টারে একটি গাছে কলম সংযোজনকৃত ১০ জাতের আমের চারা পাওয়া যায়। এছাড়াও এটিকে ২০ জাত পর্যন্ত বাড়াতে কলমের কার্যক্রম চলছে।” কৃষিবিজ্ঞানীদের মতে, কলম সংযোজনের মাধ্যমে একই মূলগাছের ওপর বিভিন্ন জাতের আমের শাখা যুক্ত করা যায়। প্রতিটি শাখা তার নিজস্ব জাতের বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে ফল দেয়। তবে এ ধরনের গাছকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং শাখা-প্রশাখার ভারসাম্য রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার পরিধি কতটা? রোববার, ১২ জুলাই রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টারে বহুজাতের আমের ফলন দেখতে সরেজমিনে গিয়ে কেন্দ্রটির উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. অলিউল রহমানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, “আমাদের গবেষণায় এ সেন্টারে ৭৪ জাতের আমের চারা রয়েছে।” এ তথ্য থেকে বোঝা যায়, সেন্টারটি শুধু বহুজাতের একটি প্রদর্শনী গাছ তৈরিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিভিন্ন জাতের আম সংরক্ষণ, সম্প্রসারণ এবং নতুন সম্ভাবনা যাচাইয়ে কাজ করছে। পুষ্টিগুণ ও কৃষি সম্ভাবনা হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ ফেরদৌস আরা মিতা বলেন, “আমরা বছরজুড়ে আমাদের দেশীয় আম খাচ্ছি। এতে প্রচুর ভিটামিন এ আছে, আর কাঁচা আমে মিলছে ভিটামিন সি।” কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সীমিত জায়গায় বিভিন্ন জাতের আম উৎপাদনের এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক চাষেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে যেসব কৃষকের জমির পরিমাণ কম, তাদের জন্য বহুজাতের একটি গাছ বাড়তি অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। কৃষি খাতে নতুন দিগন্ত? রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টারের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের ফলচাষে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এক গাছে ১৫ থেকে ২০ জাতের আম সফলভাবে উৎপাদন সম্ভব হলে তা দীর্ঘমেয়াদে কতটা টেকসই ও লাভজনক হবে, সেটিই এখন গবেষণার মূল প্রশ্ন। তবুও একটি গাছে ১০ জাতের আমের ফলন ইতোমধ্যে কৃষি গবেষণা ও উদ্যানতত্ত্বের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো সোমবার (১৩ জুলাই) বরিশাল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান— বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও সাংগঠনিক সভাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয়দের আশা, এই সফরে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন দাবিগুলোর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক বার্তা বা ঘোষণা আসতে পারে। সফরের মূল কর্মসূচি সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোরে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক এলাকায় আরেকটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। বর্ষাকালীন পরিস্থিতির কারণে এই সফরে দলীয় কোনো জনসভা রাখা হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রত্যাশা বরিশাল ও দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের দাবি জানিয়ে আসছেন। প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ঢাকা-বরিশাল এবং ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা বরিশালে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) স্থাপন ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ কুয়াকাটায় সমুদ্রভাঙন প্রতিরোধ ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন বরিশালে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা স্থানীয় ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি ও পেশাজীবীদের মতে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসতে পারে। রাজনৈতিক গুরুত্ব ও প্রস্তুতি প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। গত কয়েকদিন ধরে বরিশাল নগরীতে আনন্দ মিছিল, শোভাযাত্রা ও প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের নেতৃত্বে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। মহানগর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলও পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে। বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান মোহাম্মদ শহীদউল্লাহ বলেন, “আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে। তাঁর এই সফর দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।” কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি ও বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম তসলিম বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বরিশালে কোনো জনসভা করবেন না। তিনি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন। তাই তাঁকে স্বাগত জানাতে সড়কের দুই পাশে ব্যাপক মানুষের সমাগম হবে।” প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে। নগরজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি সার্কিট হাউস ও জেলা শিল্পকলা একাডেমিকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সফরস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার জানান, প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে সড়কপথে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হবেন। তিনি গৌরনদীর বাটাজোর এবং বরিশাল নগরীর ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি-সংলগ্ন এলাকায় পৃথক দুটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। পরে সার্কিট হাউসে বিরতির পর বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। উন্নয়ন ঘোষণার অপেক্ষায় দক্ষিণাঞ্চল বরিশাল বিভাগে ৬টি জেলা ও ৪২টি উপজেলা রয়েছে, যেখানে জাতীয় সংসদের ২১টি আসন রয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে এই অঞ্চলের অধিকাংশ আসনে বিএনপি জয়ী হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সরকারের কাছে এ অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশাও তুলনামূলক বেশি। বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এবায়েদুল হক চান বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তিনি বলেন, “সরু সড়ক ও যানজটের কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে এবং শিল্পায়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি।” ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর বলেন, “ভোলা এখনো সড়ক যোগাযোগে দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। গ্যাসসমৃদ্ধ জেলা হওয়া সত্ত্বেও যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে শিল্পায়ন হচ্ছে না। ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের বিষয়ে ইতিবাচক ঘোষণা আসবে বলে আমরা আশা করছি।” প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম বরিশাল সফর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি বরিশালের বেলস পার্ক মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন। আরও আগে ২০০৬ সালের ১৪ মে তিনি একবার বরিশাল সফর করেছিলেন। এই সফরকে ঘিরে বরিশালবাসীর প্রধান প্রত্যাশা হলো—দীর্ঘদিনের অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ও কার্যকর উদ্যোগ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের ডহসংকর এলাকায় একটি সরকারি সেতু নির্মাণকাজকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, প্রকল্পের নির্ধারিত শর্ত লঙ্ঘন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে না জানিয়েই কাজ শুরুর অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দারা শুক্রবার নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটির নির্মাণকাজে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৬০ ফুট পাইলিংয়ের পরিবর্তে মাত্র ১৫ ফুট পাইল ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ব্ল্যাক স্টোনের বদলে হোয়াইট স্টোন, সিলেটি বালুর পরিবর্তে স্থানীয় বালু এবং ২০ মিলিমিটার রডের বদলে ১৬ মিলিমিটার রড ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। স্থানীয় যুবদল নেতা মো. সাইফুল ইসলাম, মো. মামুন হাওলাদার, আহম্মেদ মিঠু, মো. লাভলু হাওলাদার ও মো. কাঞ্চন হাওলাদার জানান, নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই নানা অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। তাদের অভিযোগ, চলমান বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও পানির নিচে ঢালাই কাজ করা হয়েছে। অথচ কাজ চলাকালে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের প্রতিনিধির উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ঘটনাস্থলে কোনো প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে শুক্রবার স্থানীয় বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। তাদের অভিযোগ, পরে ঠিকাদার ঘটনাস্থলে এসে একইভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন এবং প্রতিবাদকারী স্থানীয়দের হুমকি-ধমকি দেন। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সরকারি অর্থের অপচয় করা হচ্ছে। তারা দ্রুত ঘটনাটির তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার মো. রফিকুল ইসলাম মৃধা তা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সেতু নির্মাণকাজের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং কাজের লে-আউটের সময় উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মো. আবুল বাসার উপস্থিত ছিলেন। তার দাবি, ভারী বর্ষণ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তারা কাজ বন্ধ রেখেছিলেন। আগামী রোববার সেতুর পাইল বসানোর কাজ শুরু হবে বলেও তিনি জানান। তবে কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মো. আবুল বাসার বলেন, সেতু নির্মাণকাজের মেয়াদ গত ১৫ জুন শেষ হয়েছে। ঠিকাদার মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন না করে এবং দপ্তরকে অবহিত না করেই কাজ শুরু করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত সেতুটির কাজ শুরু করিনি। ঠিকাদার কেন আমাদের না জানিয়ে কাজ শুরু করেছেন, তা জানতে তাকে নোটিশ দিয়ে কৈফিয়ত চাওয়া হবে।” উপজেলা প্রকৌশলীর এই বক্তব্যের পর স্থানীয়দের মধ্যে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই কীভাবে একটি সরকারি প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হলো? বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরে এক চিকিৎসক কর্মকর্তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন উত্তেজনা। বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে বরিশালের স্বাস্থ্য প্রশাসনে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। সম্প্রতি বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ডা. মনিরুজ্জামানকে একদল চিকিৎসক ও সহযোগী দপ্তর থেকে বের করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংগঠনটির একাংশ নিয়োগ বাতিলের দাবি তুললেও অন্য অংশ বলছে, ব্যক্তিগত বিরোধ বা প্রতিহিংসার কারণে কোনো সরকারি কর্মকর্তার নিয়োগ প্রশ্নবিদ্ধ করা হলে তারা আন্দোলনে যাবে। ঘটনার পর থেকে পরিচালকের কার্যালয়ে তৈরি হয়েছে কার্যত অচলাবস্থা। এমনকি পরিচালকের কক্ষ ও প্রধান ফটকে তালা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। নিয়োগের পর থেকেই বিরোধের সূত্রপাত সরকার গত ৫ জুলাই শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক উপপরিচালক ডা. মনিরুজ্জামানকে বরিশালের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে নিয়োগ দেয়। পরদিন ৬ জুলাই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।তবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তার নিয়োগকে ঘিরে আপত্তি তোলে ড্যাবের একটি অংশ। শেবাচিম শাখা ড্যাবের সভাপতি এবং সম্প্রতি অবসরে যাওয়া চিকিৎসক ডা. নজরুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী বুধবার পরিচালকের কার্যালয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, তারা পরিচালকের কক্ষে প্রবেশ করে ডা. মনিরুজ্জামানকে চেয়ার থেকে উঠে যেতে বাধ্য করেন এবং তাকে দপ্তর ছাড়তে বলেন। পরে তার কক্ষে তালা দেওয়া হয়। ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন ড্যাবের শেবাচিম শাখার সাবেক সভাপতি ডা. আজিজ রহিম এবং সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় সদস্য সচিব ও জেলা ড্যাবের সাবেক সহসভাপতি ডা. মিজানুর রহমান। তারা বিষয়টি থামানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। দ্বিতীয় দফায় তালাবদ্ধ কার্যালয় বৃহস্পতিবার সকালে আবারও পরিচালকের কার্যালয়ে যান ডা. সেলিমের অনুসারীরা। আগের দিনের লাগানো তালা খোলা দেখতে পেয়ে তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এরপর পরিচালকের দপ্তরের প্রধান ফটকে নতুন করে তালা দেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভেতরে আটকা থাকেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুরোধে তালা খুলে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর স্বাস্থ্য বিভাগের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কেন বিরোধ? দুই পক্ষের ভিন্ন দাবি ডা. নজরুল ইসলাম সেলিমের দাবি, ডা. মনিরুজ্জামান অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক থাকাকালে তিনি “জুলাই আন্দোলনবিরোধী শান্তি মিছিলে” অংশ নিয়েছিলেন এবং আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তাকে দেখা গেছে। সেলিম বলেন, “আগস্ট বিপ্লবে তিনি জনগণের পক্ষে ছিলেন না। তাই এই নিয়োগ আমরা মেনে নিচ্ছি না।” অন্যদিকে বরিশাল জেলা ড্যাবের সভাপতি ডা. কবিরুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ড্যাবের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। তার ভাষ্য, সংগঠনের মতামত উপেক্ষা করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাল্টা অবস্থানে ড্যাবের অন্য অংশ তবে ড্যাবের আরেক অংশ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। শেবাচিম শাখা ড্যাবের সাবেক সভাপতি ডা. আজিজ রহিম বলেন, ডা. মনিরুজ্জামান ড্যাবের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আজীবন সদস্য। তিনি জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির আগে কেন্দ্র থেকে গঠিত ড্যাবের নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতেও মনিরুজ্জামান ছিলেন। আজিজ রহিম বলেন, “নির্বাচনি প্রচারণায় সেলিম ও মনিরুজ্জামান একসঙ্গে কাজ করেছেন। হঠাৎ এই বিভক্তির কারণ বুঝতে পারছি না। ব্যক্তিগত জেলাসি থেকেই বিষয়টি তৈরি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।” মবের অভিযোগের নিন্দা সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, কোনো কর্মকর্তাকে দপ্তরে গিয়ে জোর করে চেয়ার থেকে উঠিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, “মব সৃষ্টি করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার ঘটনা দুঃখজনক।” তিনি আরও দাবি করেন, ডা. মনিরুজ্জামান শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং পরে সহসভাপতি ছিলেন। ডা. মনিরুজ্জামানের বক্তব্য নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কেবল সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করেছেন। তার ভাষায়, “সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সরকারের নির্দেশ মানতে হয়, এটাই নিয়ম।” শান্তি সমাবেশে অংশ নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তৎকালীন পরিচালক তাকে সেখানে যেতে বাধ্য করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না। প্রশাসনিক পদে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব? বরিশালের এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে সরকারি প্রশাসনিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়, অতীত ভূমিকা এবং পেশাজীবী সংগঠনের প্রভাবের প্রশ্ন। একদিকে একটি পক্ষ বলছে, বিতর্কিত অতীত থাকা কাউকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে রাখা উচিত নয়। অন্যদিকে অপর পক্ষের অভিযোগ, ব্যক্তিগত বিরোধ ও সংগঠনগত দ্বন্দ্বকে রাজনৈতিক অভিযোগের আড়ালে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে ডা. মনিরুজ্জামানের নিয়োগ বহাল থাকলেও পরিচালকের দপ্তরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশালের আগৈলঝাড়ায় এক গ্রেফতার আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের আহত হওয়ার ঘটনায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় অনেক পরিবার এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে বলে জানা গেছে। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় পুলিশের হেফাজতে থাকা এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা এখন রূপ নিয়েছে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে। থানায় হামলা, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, হামলার পর থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাতভর অভিযান চালিয়ে হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি। বরিশালের পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, থানায় হামলার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে হামলায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। গ্রেফতার আসামিকে ঘিরে উত্তেজনার শুরু পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুন বুধবার সন্ধ্যায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চুরি ও মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে একটি চুরির মামলায় গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, থানার হাজতে থাকা অবস্থায় রিয়াজ নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করেন। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। রাতের দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার বিকালে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। যদিও পরে পুলিশ জানায়, তিনি মারা যাননি এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। গুজব ছড়িয়ে হামলা, আহত পুলিশ সদস্য রিয়াজের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় গিয়ে হামলা চালায়। পুলিশের অভিযোগ, এ সময় থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করা হয় এবং থানায় ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে পুলিশের ছয় সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্য কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসানকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মামলায় ৪৩ জনের নাম, গ্রেফতার ১৮ থানায় হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী ওমর ফারুক জানান, বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন— সিদ্দিক ফকির শারমিন আক্তার গিয়াস ফকির সবুজ ফকির মান্নান ফকির রিফাত ফকির নাইম ফকির হাবিবুর রহমান রাজু হাওলাদার তাহমিনা বেগম মনোয়ারা বেগম আসমা আক্তার মমতাজ বেগম ঝুমুর বেগম নাজমা আক্তার তানজিলা আক্তারসহ আরও কয়েকজন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের শুক্রবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের অস্বীকার এ ঘটনায় রিয়াজ ফকিরের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশি নির্যাতনের কারণে তিনি আহত হয়েছেন। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, রিয়াজ নিজের মাথায় আঘাত করে আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থানা হামলার পর আগৈলঝাড়া এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রেফতার আতঙ্কে অনেক নারী-পুরুষ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। ঘটনার তদন্তে এখন মূল প্রশ্ন—রিয়াজ ফকিরের আহত হওয়ার প্রকৃত কারণ কী এবং মৃত্যুর গুজব এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে কীভাবে। পুলিশ বলছে, তদন্ত ও তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে পুরো ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : টানা ছয় দিনের ভারী বর্ষণে ভোলার উপকূলীয় উপজেলা মনপুরার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। খাল-বিল, বসতঘর ও রাস্তাঘাট একাকার হয়ে তৈরি হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় নিম্নাঞ্চলে পানি আটকে রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দিনমজুর, জেলে, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ নিম্নআয়ের মানুষ। কয়েক দিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় অনেক পরিবারের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বহু ঘরে রান্নার চুলা জ্বলছে না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অনেকে চিড়া-মুড়ি খেয়ে কোনোভাবে দিন পার করছেন। তবে অধিকাংশ পরিবারে দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। তারা দ্রুত শুকনো খাবার, চাল-ডাল এবং নিরাপদ পানির সহায়তা চেয়েছেন। পানি নামছে না, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট ও স্যানিটেশন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ঘরের ভেতর, উঠান এবং চলাচলের পথ পানিতে ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেও মনপুরায় থেমে থেমে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় সূর্যের দেখা মেলেনি। এতে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। পাঁচ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে ভয়াবহ পরিস্থিতি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার সাকুচিয়া ইউনিয়নের খাড়ির খাল এলাকা, মাস্টারহাট, লতাখালী ও বাতানখালী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে। এছাড়া বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের ঢালচর, কাজীরচর ও কলাতলী চরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল তিন থেকে চার ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমান গ্রাম, হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট ও চরযতিনের নিম্নাঞ্চল, সোনারচর গ্রামের পূর্ব ও পশ্চিম অংশ এবং মনপুরা ইউনিয়নের কাউয়ারটেক ও আন্দিড়পার এলাকাতেও একই পরিস্থিতি দেখা গেছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। পাশাপাশি বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চললেও পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন। হাজিরহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা আনোয়ার, আল-আমিন ও আক্তার হোসেন; দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ডা. কামাল হোসেন ও শ্রীকৃষ্ণ; উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের রিপন ও হাসান; এবং মনপুরা ইউনিয়নের মমিন তালুকদার, জিসান চন্দ্র দাস ও শুভ্র জানান, কয়েকটি স্লুইসগেট দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় রয়েছে। তাদের অভিযোগ, খাল দখল ও অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নদীতে নামতে পারছে না। ফলে পানি আটকে গিয়ে লোকালয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। তারা দ্রুত স্লুইসগেট সংস্কার, খাল পুনঃখনন এবং স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন। ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ, ক্ষোভ বাড়ছে দুর্গত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে পানিবন্দি থাকলেও এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক ব্যক্তি বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত খোঁজ নেওয়া হয়নি। তারা জানান, কোনো ত্রাণ সহায়তাও এখনও পৌঁছায়নি। দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। প্রশাসনের বক্তব্য পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা বলেন, সারা দেশের মতো মনপুরাতেও টানা বর্ষণের কারণে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা সমাধানে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। কেন বারবার ডুবে যায় মনপুরা? মনপুরার বর্তমান জলাবদ্ধতা শুধু কয়েক দিনের বৃষ্টির ফল নয়—স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অকেজো স্লুইসগেট, খালের সংকোচন এবং অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে উপকূলীয় এই জনপদ বারবার পানির সংকটে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অতিবৃষ্টি এবং জোয়ারের পানির চাপ মোকাবিলায় শুধু বাঁধ নির্মাণ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত খাল রক্ষণাবেক্ষণ এবং কার্যকর নিষ্কাশন অবকাঠামো। মনপুরার বাসিন্দাদের এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—অস্থায়ী সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান কবে আসবে?
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরগুনার তালতলী উপজেলার ফকিরহাট সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে দুটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছেন দুই জেলে। তাদের উদ্ধারে অভিযান চালাতে প্রস্তুত রয়েছে কোস্টগার্ড, তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অভিযান শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ৮টার দিকে উপকূল থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বুধবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত সাগর উত্তাল থাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড। কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা? জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে তালতলী উপজেলার ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে ১৮ জন জেলেকে নিয়ে দুটি ট্রলার ইলিশ শিকারের উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে যায়। ট্রলার দুটির মালিক ছিলেন তপন জোমাদ্দার ও আলমগীর খলিফা। রাতে হঠাৎ আবহাওয়ার অবনতি হলে সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠে। প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে প্রথমে আলমগীর খলিফার ট্রলারটি ডুবে যায়। তখন ওই ট্রলারের জেলেরা প্রাণ বাঁচাতে তপন জোমাদ্দারের ট্রলারে আশ্রয় নেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে দ্বিতীয় ট্রলারটিও ডুবে যায়। এতে ১৮ জন জেলেই সাগরে ভেসে পড়েন। কয়েক ঘণ্টা পানিতে ভেসে থাকার পর রাত ৩টার দিকে অপর একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলেরা ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে তাদের পটুয়াখালীর মহিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। উদ্ধার হওয়া জেলেরা উদ্ধার হওয়া জেলেরা তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তারা হলেন: খলিল মাস্টার হৃদয় জোমাদ্দার দুলাল ইমরান ফারুক আল-আমিন মনির আশরাফুল জামাল ইমরান শামীম নাসির সাগর আছিফ নাসির নুরুজ্জামান নিখোঁজ দুই জেলে এ ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন একই ইউনিয়নের কালাম পাইকার ও শহীদ নামে দুই জেলে। তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। উদ্ধার অভিযানে বিলম্ব কেন? কোস্টগার্ড স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার আশরাফুল আলম বলেন, “বৈরী আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল থাকায় এখনও উদ্ধার অভিযান শুরু করা যায়নি। আবহাওয়া অনুকূলে এলে অভিযান পরিচালনা করা হবে।” তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশকে জানানো হয়েছে। তবে উত্তাল সাগরের কারণে উদ্ধার কার্যক্রমে কিছুটা বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া জেলেদের চিকিৎসার বিষয়েও খোঁজখবর রাখছে প্রশাসন।” সমুদ্রে নিরাপত্তা প্রস্তুতি কতটা ছিল? এই দুর্ঘটনা আবারও গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা কার্যকর ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তনের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই গভীর সমুদ্রে যাওয়া ট্রলারগুলোর জন্য আগাম সতর্কবার্তা, লাইফ জ্যাকেট ও জরুরি উদ্ধার সরঞ্জাম নিশ্চিত করা জরুরি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভুয়া বিলের কাগজ দেখিয়ে সাড়ে ১৮ লাখ টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) তিন কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন— কনস্টেবল মারুফ হাসান, জয়দেব কুমার মজুমদার এবং সজীব মিয়া। তারা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের হিসাব শাখায় কর্মরত ছিলেন। বিএমপির হিসাব শাখা সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের এক কর্মকর্তার কম্পিউটার আইডি ব্যবহার করে ১৮ লাখ ৬০ হাজার ৯৮৪ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি হিসাবের অমিল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সন্দেহের সূত্রপাত হয়। এরপর গোপনে অনুসন্ধান শুরু করলে তদন্তে ওই তিন কনস্টেবলের নাম উঠে আসে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, তারা ওই কর্মকর্তার কম্পিউটার আইডি ব্যবহার করে এ ধরনের জালিয়াতিমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন বলে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হলে গত ৭ জুলাই তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (সদর দফতর) আব্দুল হান্নান বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তারা এক পুলিশ কর্মকর্তার কম্পিউটার আইডি ব্যবহার করে ওই টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ কারণে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এই ঘটনাটি পুলিশের হিসাব ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ তদারকি এবং আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে কোনো কর্মকর্তার ব্যক্তিগত কম্পিউটার আইডি কীভাবে অন্যদের দ্বারা ব্যবহৃত হলো এবং দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়ম কীভাবে শনাক্ত হয়নি, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তবে তদন্ত এখনো চলমান থাকায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালত বা চূড়ান্ত তদন্তে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তা অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।
বরিশাল অফিস : একের পর এক ভিন্নধর্মী দক্ষতায় বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম তুলে ধরছেন বরিশালের তরুণী নুসরাত জাহান নিপা। এবার কাগজ দিয়ে সবচেয়ে কম সময়ে স্নো-ফ্লেক (তুষারকণা) তৈরি করে তৃতীয়বারের মতো গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে তিনবার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লেখানোর বিরল কৃতিত্ব অর্জন করলেন নিপা। বরিশাল নগরীর কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা নুসরাত জাহান নিপা সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতা করছেন। পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন ও আত্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে চলেছেন। সবশেষ রেকর্ডটি তিনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গড়েন। যদিও সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতি ও সনদ হাতে পেয়েছেন। এই বিভাগে এর আগে চীনের প্রতিযোগীর দখলে থাকা ২৩ দশমিক ১৬ সেকেন্ডের রেকর্ড ভেঙে নিপা মাত্র ২১ দশমিক ৮৪ সেকেন্ডে কাগজের স্নো-ফ্লেক তৈরি করে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন। নিপা জানান, কাগজ নির্দিষ্ট কৌশলে ভাঁজ ও কেটে তুষারকণার আকৃতি তৈরি করার এই চ্যালেঞ্জিং কাজটি সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিয়েছেন। তার ভাষায়, কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে কঠিন লক্ষ্যও অর্জন করা সম্ভব। তিনি বলেন, খেলাধুলা ও বিভিন্ন দক্ষতাভিত্তিক প্রতিযোগিতার প্রতি ছোটবেলা থেকেই তার আগ্রহ ছিল। তবে বরিশালে মেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় ঘরে বসেই অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। দেশের পাশাপাশি নিজের শহর বরিশালকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করানোর লক্ষ্য থেকেই এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বলে জানান তিনি। নিপার বিশ্বরেকর্ড যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালে। করোনা মহামারির সময় তিনি এক হাতে মাত্র এক মিনিটে ৭১টি কয়েন দিয়ে টাওয়ার তৈরি করে ইতালির সিলভিও সাব্বার গড়া আগের রেকর্ড ভেঙে প্রথমবার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লেখান। এরপর ২০২৪ সালে চপস্টিক ব্যবহার করে এক মিনিটে ২৭টি ভাতের দানা মুখে তুলে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বরেকর্ড গড়েন। আর এবার কাগজের স্নো-ফ্লেক তৈরিতে নতুন রেকর্ড গড়ে তিনি তৃতীয়বারের মতো এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করলেন। নিপার এই অর্জন ব্যক্তিগত সাফল্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও ধারাবাহিক প্রস্তুতি, আত্মবিশ্বাস এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করা সম্ভব—নিপার সাফল্য সেই বার্তাই নতুন করে সামনে আনছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ভোলার উপকূলীয় উপজেলা মনপুরার পাঁচটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। হাঁটু থেকে কোথাও কোথাও কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে গ্রামীণ সড়ক, ফসলি জমি ও বসতঘরের আশপাশের এলাকা। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, জেলে, কৃষকসহ নিম্নআয়ের মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু অতিবৃষ্টি নয়—পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকা, দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে থাকা স্লুইসগেট এবং চলমান বেড়িবাঁধ প্রকল্পের কারণে প্রতিবছরের মতো এবারও জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার নিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে উপকূলজুড়ে অব্যাহত ভারী বৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত তিন দিন ধরে থেমে থেমে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হওয়ায় নিম্নাঞ্চলগুলো দ্রুত পানিতে তলিয়ে যায়। বিচ্ছিন্ন চরে সবচেয়ে বেশি সংকট খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের ঢালচর, কাজীরচর ও কলাতলী চরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে তিন থেকে চার ফুট পর্যন্ত পানি জমে রয়েছে। ফলে বহু পরিবার কার্যত ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। মনপুরার মূল ভূখণ্ডের পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে। স্থানীয় বাজারগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছেন দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল শ্রমজীবী মানুষ। কাজ বন্ধ থাকায় অনেক পরিবারের চুলায় রান্না পর্যন্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। পাঁচ ইউনিয়নে বিস্তৃত জলাবদ্ধতা স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর ও আশপাশের গ্রাম, হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট, চরযতিনের নিম্নাঞ্চল, সোনারচরের পূর্ব ও পশ্চিম অংশ, মনপুরা ইউনিয়নের আন্দিরপাড় ও কাউয়ারটেক এবং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের চরগোয়ালিয়া এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের অভিযোগ কোথায়? হাজিরহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা সফিজল, হেলাল ও ইউসুফ এবং দক্ষিণ সাকুচিয়ার রাকিব, উত্তর সাকুচিয়ার সজিব ও হাসান, মনপুরা ইউনিয়নের নাহিদ ও মোস্তফার দাবি, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই মনপুরার চারপাশে বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, বৃষ্টি হলেই পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। এর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অধিকাংশ স্লুইসগেট অকেজো থাকায় খাল দিয়ে পানি নামতে পারছে না। ফলে প্রতিবছর একই ধরনের জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। কী বলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড? এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা বলেন, টানা বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্লুইসগেট মেরামত এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মনপুরার বর্তমান পরিস্থিতি শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফল নয়—স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী পানি ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের দুর্বলতা, অকার্যকর স্লুইসগেট এবং অবকাঠামোগত পরিকল্পনার ঘাটতিও জলাবদ্ধতাকে তীব্র করেছে। ফলে সাময়িক পানি অপসারণের পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানে নিষ্কাশনব্যবস্থা, স্লুইসগেটের কার্যকারিতা এবং বেড়িবাঁধ প্রকল্পের বাস্তব প্রভাব নিয়ে সমন্বিত মূল্যায়নের দাবি জোরালো হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীনকে পদায়নের আদেশ বাতিলের দাবিতে স্বাস্থ্য ভবন ঘেরাও, বিক্ষোভ এবং পরিচালকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন জুলাই আন্দোলনের পক্ষের চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও স্বাস্থ্য বিভাগের একাংশের কর্মচারীরা।বিক্ষোভকারীরা ঘোষণা দেন, বিতর্কিত বলে দাবি করা এই পদায়নের আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। পদায়ন ঘিরে কী অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীন শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের উপপরিচালক থাকাকালে তৎকালীন পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগসাজশে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। তাদের আরও দাবি, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনার পর ২ আগস্ট স্বাচিপের ব্যানারে আয়োজিত তথাকথিত ‘শান্তি সমাবেশ’-এর অন্যতম আয়োজক ছিলেন তিনি। পাশাপাশি স্বাচিপের ব্যানারে অনুষ্ঠিত একাধিক কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারীদের দাবি বিক্ষোভকারীদের ভাষ্য, জুলাই আন্দোলনের সময়কার ভূমিকার কারণে শেবাচিম হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলামের পাশাপাশি ডা. এস এম মনিরুজ্জামানকেও দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। তাদের দাবি, সেই ব্যক্তিকেই পুনরায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের সিদ্ধান্তে জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংগঠন, বিএনপি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভে যা ঘটেছে ৭ আগস্ট ২০২৬ বরিশাল স্বাস্থ্য ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন জুলাই আন্দোলনের কর্মী ও ছাত্রনেতা প্রিন্স। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডা. ফয়সাল আহমেদ, ডা. ঈস্তিয়াক রিফাত, ডা. রাকিবুল ইসলাম মনি এবং জুলাইযোদ্ধা ও কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা স্বাস্থ্য ভবনে প্রবেশ করে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কক্ষ অবরুদ্ধ করেন এবং কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন।পরে তারা ঘোষণা দেন, পদায়নের আদেশ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীন কিংবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরগুনার তালতলীর শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে নেমে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছেন। নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্ট উত্তাল ঢেউ ও প্রবল স্রোতের মধ্যে তিনি ভেসে গেলে স্থানীয় জেলেরা চারজনকে উদ্ধার করতে পারলেও তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর থেকে ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। নিখোঁজ কিশোরের নাম আসাদুল্লাহ (১৬)। তিনি বরগুনার আমতলী উপজেলার মানিকঝুড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. মুসা হাওলাদারের ছেলে। মঙ্গলবার (দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে) এ ঘটনা ঘটে। কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আসাদুল্লাহ তার বন্ধু আতাউল্লাহ (১৭) ও জাকারিয়া (১৫)-কে নিয়ে সোমবার তালতলী উপজেলার ঠংপাড়া গ্রামে ভগ্নিপতি শাওনের বাড়িতে বেড়াতে যান। মঙ্গলবার দুপুরে শাওন (২৫) ও সাগর (২৩)-কে সঙ্গে নিয়ে পাঁচজন শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে যান। সৈকত ঘোরা শেষে তারা সমুদ্রে গোসল করতে নামেন। সে সময় নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর ছিল উত্তাল। প্রবল স্রোতের টানে পাঁচজনই গভীর পানির দিকে ভেসে যান। স্থানীয় জেলেরা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে আতাউল্লাহ, জাকারিয়া, শাওন ও সাগরকে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসেন। তবে আসাদুল্লাহ নিখোঁজ হয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় শেষ মুহূর্ত স্থানীয় এক জেলে জানান, স্রোতে ভেসে যাওয়ার পর আসাদুল্লাহ দীর্ঘ সময় সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য গেড়ে রাখা একটি খুঁটি ধরে ছিলেন। পরে একপর্যায়ে তিনি খুঁটি ছেড়ে পানিতে তলিয়ে যান এবং এরপর আর তাকে দেখা যায়নি। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা থানা পুলিশ, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করেন। পরে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনুসন্ধান শুরু করে। উদ্ধার অভিযান কেন কঠিন হয়ে উঠছে নিদ্রা সখিনা নৌ-পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেছেন। তালতলী ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার লিডার মো. আহসান হাবিব জানান, উদ্ধারকাজ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। তবে উত্তাল সাগর ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অভিযান পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলামও জানিয়েছেন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু নিম্নচাপজনিত প্রতিকূল আবহাওয়া এবং বিরামহীন বৃষ্টির কারণে অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। যা জানা গেছে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুর্ঘটনা ঘটে। পাঁচজন একসঙ্গে সমুদ্রে গোসল করতে নামেন। স্থানীয় জেলেরা চারজনকে জীবিত উদ্ধার করেন। আসাদুল্লাহ এখনও নিখোঁজ। ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশের যৌথ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিম্নচাপ, উত্তাল ঢেউ ও প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও মেলেনি এই ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে, যেগুলোর উত্তর ভবিষ্যৎ তদন্তে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন— নিম্নচাপের সময় সৈকতে পর্যটকদের সমুদ্রে নামা ঠেকাতে পর্যাপ্ত সতর্কতা বা নজরদারি ছিল কি? সৈকতে বিপজ্জনক স্রোত (Rip Current) সম্পর্কে কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বা লাল পতাকা প্রদর্শন করা হয়েছিল কি? উদ্ধার সরঞ্জাম, লাইফগার্ড কিংবা জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা ঘটনাস্থলে কতটা কার্যকর ছিল? বৈরী আবহাওয়ার সময় পর্যটকদের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি? এসব প্রশ্নের উত্তর মিললে শুধু এই ঘটনার বাস্তব চিত্রই নয়, ভবিষ্যতে উপকূলীয় পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতাও মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : একটি বিকট শব্দ, তারপর মাত্র এক থেকে দুই মিনিটের আগুন। সময় খুব কম হলেও এর প্রভাব পড়েছে পুরো বরগুনা সদর উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায়। গ্রিড সাবস্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৬৭ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। সোমবার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার ২ নম্বর গৌরীচন্না ইউনিয়নের খেজুরতলা এলাকায় অবস্থিত গ্রিড সাবস্টেশনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। যদিও আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে সাবস্টেশনের একাধিক ফিডার, বৈদ্যুতিক তার এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে পুরো পল্লী বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। একটি সাবস্টেশন, পুরো উপজেলার বিদ্যুৎ স্থানীয় সূত্র এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, এই গ্রিড সাবস্টেশন থেকেই বরগুনা সদর উপজেলার সম্পূর্ণ পল্লী বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। ফলে একটি ফিডারে বিস্ফোরণ এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাই ১০টি ইউনিয়নের হাজারো পরিবার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সেবাখাতকে বিদ্যুৎবিহীন করে ফেলে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কী ঘটেছিল? পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বরগুনা জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, ঘটনার সময় তারা অফিসেই ছিলেন। বিকট শব্দ শোনার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ১১ কেভি এসিআর (ACR) বিস্ফোরণের কারণে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পাশাপাশি কয়েকটি বৈদ্যুতিক তার এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশও আগুনে পুড়ে যায়, যা দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মেরামত চলছে, তবে বদলাতে হবে প্রধান যন্ত্রাংশ বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর মেরামত শুরু হয়েছে এবং প্রতিটি যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করা হচ্ছে। ডিজিএম মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, পুড়ে যাওয়া প্রধান যন্ত্রাংশটি পটুয়াখালী থেকে এনে প্রতিস্থাপন করতে হবে। এজন্য রাতের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে পরদিন সকালের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। কারিগরি ত্রুটি, নাকি আরও গভীর সমস্যা? প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎ বিভাগের ধারণা, অভ্যন্তরীণ কারিগরি ত্রুটির কারণেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, এটি এখনো প্রাথমিক মূল্যায়ন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিড সাবস্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় একটি যন্ত্রাংশের বিকল হওয়া যদি পুরো বিতরণ ব্যবস্থাকে অচল করে দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঝুঁকি এড়াতে অবকাঠামোর নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা (ব্যাকআপ) কতটা কার্যকর—সেই প্রশ্নও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তবে এই ঘটনার ক্ষেত্রে এমন কোনো নির্দিষ্ট ঘাটতির প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। এখন কী? বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তদন্ত শেষ হলে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যাবে। এদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন বরগুনা সদর উপজেলার প্রায় ৬৭ হাজার গ্রাহক।
বরিশাল অফিস : বরিশালের অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডকে ঘিরে আলোচিত ঘটনাটি এখন কেবল একটি ফৌজদারি মামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও, ব্যবসায়িক অংশীদারদের পারস্পরিক অভিযোগ, আদালতে মামলা এবং বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ক্ষতির দাবি—সব মিলিয়ে ঘটনাটি নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। একদিকে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদার অভিযোগ করছেন, তাকে মারধর করে জোরপূর্বক চেক ও সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর পরিবারের দাবি, এটি কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা নয়; বরং বছরের পর বছর আটকে থাকা বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টার বহিঃপ্রকাশ। লিটুর স্ত্রীর দাবি: রাজনৈতিক নয়, ব্যবসায়িক বিরোধ রোববার সন্ধ্যায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিটুর স্ত্রী মৌসুমি আক্তার লুবনা বলেন, তার স্বামী কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তার দাবি, ঘটনাটিকে রাজনৈতিক বা চাঁদাবাজির রূপ দিয়ে প্রকৃত বিরোধকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, লিটু দীর্ঘদিন অগ্রণী হাউজিংয়ের পরিচালক ছিলেন এবং প্রতিষ্ঠানটিতে ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। এর মধ্যে মাত্র ১২ লাখ টাকা ফেরত পেলেও বাকি প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং লভ্যাংশের হিসাব দীর্ঘদিনেও পাননি।তার ভাষ্য, বহুবার অর্থ ফেরতের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষোভ থেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আরও বিনিয়োগকারীর অভিযোগ একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গ্রেপ্তার আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী এবং অগ্রণী হাউজিংয়ের পরিচালক মাহাবুবুর রহমান। তিনি দাবি করেন, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলেও এক যুগ পেরিয়ে গেলেও মূলধন কিংবা লভ্যাংশের কোনো অর্থ ফেরত পাননি। মাহাবুবুর রহমানের অভিযোগ, শুধু তিনি নন, আরও অনেক বিনিয়োগকারী একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এমনকি প্রতিষ্ঠানের এমডির বড় ভাইও প্রতারণার অভিযোগ এনে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনের নিরপেক্ষ তদন্ত, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের অনুসন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পাওনা অর্থ উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান। যে ভিডিও দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয় ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ জুন সন্ধ্যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি অগ্রণী হাউজিংয়ের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। ভিডিওতে মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে আব্দুল আজিজের সঙ্গে শারীরিকভাবে সংঘর্ষে জড়াতে দেখা যায়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তাকে মারধর করা হয় এবং জোর করে দুটি চেক, একটি সাদা চেক ও কয়েকটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শারীরিক নির্যাতনের অংশ হিসেবে তার অণ্ডকোষ চেপে ধরা হয়েছিল। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পুলিশ ও মামলার অগ্রগতি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আদালতে মামলা করেন আব্দুল আজিজ হাওলাদার। আদালতের নির্দেশে মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হয়। এরপর রোববার দুপুরে নগরীর সদর রোড এলাকা থেকে মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এমডির অভিযোগ কী? আব্দুল আজিজ হাওলাদারের দাবি, মোস্তাফিজুর রহমান লিটু একসময় প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ছিলেন। পরে বিনিয়োগের বিপরীতে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে উভয় পক্ষের আর্থিক হিসাব চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা হয় এবং এ-সংক্রান্ত লিখিত অঙ্গীকারনামাও দেওয়া হয়েছিল। তার অভিযোগ, এরপরও লিটু দীর্ঘদিন ধরে এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন। তিনি বলেন, ২৭ জুন সন্ধ্যায় লিটুসহ কয়েকজন তার কার্যালয়ে প্রবেশ করে মারধর করেন এবং প্রায় ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক ও দুটি সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেন। পরে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বিষয়টি জানালে ওই চেক থেকে কোনো অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। লিটুর অবস্থান কী ছিল? গ্রেপ্তারের আগে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।তার দাবি ছিল, ঘটনার সময় উপস্থিত সবাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন এবং তারা প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ব্যাখ্যা চাইতেই সেখানে গিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানের এমডি পরিচালকদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং সেই পাওনা অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যেই তারা চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি ঘটনাটি এখন তদন্তাধীন। তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়— লিটুর দাবি অনুযায়ী, বিনিয়োগের অর্থ ও লভ্যাংশ সত্যিই বকেয়া ছিল কি না। এমডির দাবি অনুযায়ী, জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি হয়েছিল কি না। ভাইরাল ভিডিওতে যা দেখা গেছে, তার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট কী। অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বাস্তবতা কতটা। জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে আর্থিক বিরোধের সম্পর্ক কী। তদন্তেই নির্ভর করছে পরবর্তী দিক এ মুহূর্তে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলছে। একদিকে রয়েছে জোরপূর্বক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ, অন্যদিকে রয়েছে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগের অর্থ ও লভ্যাংশ আত্মসাতের দাবি। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষের দাবিকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ ২৪৮ জনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মামলার আসামি তালিকায় অন্তত চারজন মৃত ব্যক্তির নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—যা নিয়ে আইনগত ও প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার বরিশাল মহানগর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আলোচিত নেতা মারজুক আব্দুল্লাহ। মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত বরিশাল মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনারকে তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদারের তথ্য অনুযায়ী, অস্ত্র, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং হত্যার হুমকিসহ একাধিক ধারায় মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের মূল বক্তব্য মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল ও এর অঙ্গসংগঠনের সক্রিয় কর্মী। তারা জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ, ঝটিকা মিছিল, বিস্ফোরণ, ভাঙচুর এবং হত্যাচেষ্টার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ৬ জুলাই বিকেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রামদা, চাপাতি, রড, হকিস্টিক, পাইপগান ও হাতবোমার বিস্ফোরণের মাধ্যমে মহাসড়কে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়। পরবর্তীতে টায়ারে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ এবং প্রতিরোধকারীদের ওপর হামলার অভিযোগও আনা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম নিয়ে বিতর্ক মামলার তালিকায় থাকা নামগুলো যাচাই করে দেখা যায়, অন্তত চারজন ব্যক্তি—যারা বিভিন্ন বছর আগে মারা গেছেন—তাদেরও আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের দাবি অনুযায়ী— ২১২ নম্বর আসামি খন্দকার রেজাউর (মৃত: ২০২২) ১৯৮ নম্বর আসামি আবুল ফারুক (মৃত: ২০২৩) ২২৫ নম্বর আসামি হাফিজুর রশিদ (মৃত: ২০২১) ১৯৫ নম্বর আসামি আলী হাওলাদার (মৃত: ২০২১) এছাড়া তালিকায় একাধিক ব্যক্তির নাম পুনরাবৃত্তি হয়েছে এবং কয়েকটি ক্ষেত্রে নাম ও পরিচয়ে অসঙ্গতিও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নামের পুনরাবৃত্তি ও অসঙ্গতি মামলার নথি অনুযায়ী একাধিক ব্যক্তিকে দুইবার করে আসামি করা হয়েছে। যেমন— তারেক শাহ (৩৮ ও ৮২) ইমরান মোল্লা (৪১ ও ৫৪) কামাল হোসেন লিটন মোল্লা (১১৫ ও ১৭৭) এছাড়া কিছু সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম ভুলভাবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও দাবি উঠেছে। এ ছাড়া সাত জনের নাম একাধিকবার রয়েছে আসামির তালিকায়। এমনকি বরিশাল সদর উপজেলার দুইবারের চেয়ারম্যানের নাম ঠিকমত দেওয়া হয়নি। রয়েছে বিএনপন্থি সাবেক কাউন্সিলরদেরও নাম। বরিশাল সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান পরিচয়ে সাইদুর রহমান রিন্টুকে ৯১ নম্বর আসামি করা হয়। ১৭৫ নম্বর আসামি হিসেবে বরিশাল সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান বললেও; নাম লিখেছেন সাজ্জাদুর রহমান। এ ছাড়া তারেক শাহকে ৩৮ ও ৮২ নম্বর, ইমরান মোল্লাকে ৪১ ও ৫৪, কামাল হোসেন লিটন মোল্লাকে ১১৫ ও ১৭৭, রফিকুল ইসলাম খোকনকে ১৫১ ও ১৮৬ এবং শেখর চন্দ্র দাসকে ৭০ ও ২০৩ নম্বর আসামির তালিকায় রাখা হয়েছে। বিএনপন্থি সাবেক কাউন্সিলরদের নাম আসামির তালিকায় অপরদিকে বিএনপিপন্থি বরিশাল নগরীর সাবেক কাউন্সিলর মো. ইউনুস মিঞাকে ১৪৯, জিয়াউল হক মাসুমকে ১৫৮, হুমায়ন কবিরকে ১৬৩, সংরক্ষিত কাউন্সিলর রাশিদা পারভীনকে ১৬৫, মজিদা বোরহানকে ১৭১ এবং সেলিনা আক্তারকে ১৭৪ নম্বর আসামি করা হয়। রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বাদীর বক্তব্য মামলার বাদী মারজুক আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, সাক্ষীদের দেওয়া তথ্যের ভুলের কারণে অন্তত একজন মৃত ব্যক্তির নাম তালিকায় এসেছে। তবে বাকি তিনজন সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—তদন্ত ও যাচাই ছাড়াই এত বড় একটি তালিকা কীভাবে প্রস্তুত হলো। তদন্তের নির্দেশ আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য বরিশাল মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনারকে দায়িত্ব দিয়েছে। তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং আসামি তালিকার যথার্থতা যাচাই করা হবে বলে জানা গেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশালের মুলাদী উপজেলায় পুলিশের হেফাজতে থাকা এক আসামিকে হ্যান্ডকাফসহ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে মুলাদী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা প্রদান এবং গ্রেফতার করা আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে বুধবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রামারপোল বাজার এলাকায়। পুলিশ জানায়, সুনির্দিষ্ট মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় রাশেদুল ইসলাম সেতু ভুঁইয়া (৪০)-কে গ্রেফতার করা হয়। তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে মোটরসাইকেলে থানায় নেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রামারপোল বাজার এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের পথরোধ করেন। এ সময় কামরুজ্জামান বাবু ও সুমন ভুঁইয়ার নেতৃত্বে ১৮ থেকে ২০ জনের একটি দল গ্রেফতারি কার্যক্রমে বাধা দেয় এবং আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ওই আসামিকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে জানায় পুলিশ। ঘটনার পর একই রাতেই মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা এবং পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তারা আসামি ও হ্যান্ডকাফ উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও সফল হয়নি। পরে রাত ১টার দিকে আসামির স্বজনরা পুলিশের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে হ্যান্ডকাফ ফেরত দেয় বলে পুলিশ জানায়। তবে রাশেদুল ইসলাম সেতুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, “হ্যান্ডকাফসহ আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা পলাতক। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।” পুলিশ জানায়, রাশেদুল ইসলাম সেতু ভুঁইয়া স্থানীয়ভাবে নাজিরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। তিনি গত ২৩ জুন রাতে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান আয়োজনের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার ৫ নম্বর আসামি। ঘটনাটি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। পুলিশ বলছে, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পাখিমারা আউটলেট শাখার এক ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক গ্রাহকের প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফ বর্তমানে পলাতক বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে ব্যাংকের আউটলেট শাখার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা। তারা দ্রুত অর্থ ফেরত, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। কীভাবে সামনে এলো অভিযোগ ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ করলেও সংশ্লিষ্ট ক্যাশিয়ার অনেক ক্ষেত্রে সেই টাকা ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমে জমা হিসেবে দেখাতেন না। গ্রাহকরা জানান, টাকা জমা দেওয়ার পর মোবাইলে স্বয়ংক্রিয় এসএমএস না এলে তারা বিষয়টি জানতে চাইতেন। তখন অভিযুক্ত ক্যাশিয়ার "সার্ভারের সমস্যা"র কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করতেন। পরে হিসাব মিলিয়ে দেখা যায়, একাধিক জমা ব্যাংকের রেকর্ডেই নেই। এভাবে ধাপে ধাপে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসে বলে দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। শুধু গ্রাহক নয়, এজেন্টের অ্যাকাউন্ট থেকেও অর্থ উধাও অভিযোগ অনুযায়ী, শুধু গ্রাহকদের আমানতই নয়, ব্যাংকের এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান আইয়ুব আলীর মাদার অ্যাকাউন্ট থেকেও প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আর্থিক অনিয়মের পরিধি আরও বড় হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। "আমি সর্বস্বান্ত" ভুক্তভোগী লামিয়া বলেন, "আমি সর্বস্বান্ত হয়ে গেলাম। আমার সব টাকা নিয়ে পালিয়েছে।" তার মতো আরও অনেক গ্রাহক দাবি করেছেন, তাদের জীবনভর সঞ্চিত অর্থ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কী বলছে ব্যাংকের এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান আইয়ুব আলী বলেন, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তার ভাষায়, "ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।" তবে কতজন গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, মোট অর্থের পরিমাণ কত এবং অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তদন্তের অপেক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— অভিযোগের প্রকৃত আর্থিক পরিমাণ কত? কতজন গ্রাহকের অর্থ জমা হয়নি? অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ব্যবস্থার ফাঁক কোথায় ছিল? দীর্ঘ সময় ধরে অনলাইন সিস্টেমে জমা না দেখানো হলেও তা কেন শনাক্ত হয়নি? অভিযুক্ত একাই এই অনিয়ম করেছেন, নাকি এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানে। বর্তমানে ভুক্তভোগীরা দ্রুত অর্থ ফেরত এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।