Brand logo light

বাংলাদেশ

এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ত্রুটি প্রমাণিত হলে পূর্ণ নম্বর: আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের ব্যাখ্যা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশের দুটি প্রশ্ন নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ওঠা বিতর্কের পর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। সোমবার রাতে প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে কমিটি জানায়, পরীক্ষার ৬ ও ৭ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্ন সম্পর্কে উত্থাপিত অভিযোগ সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পর্যালোচনায় প্রশ্নে ত্রুটি বা অসঙ্গতি প্রমাণিত হলে পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে প্রয়োজনে ওই দুটি প্রশ্নের জন্য পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমানের পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র পরীক্ষার সৃজনশীল অংশের দুটি প্রশ্ন নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড অবগত এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নসমূহ পর্যালোচনার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি স্পষ্ট করেছে, প্রচলিত পরীক্ষা মূল্যায়ন নীতিমালা অনুযায়ী কোনো প্রশ্নে ত্রুটি বা অসঙ্গতি প্রমাণিত হলে পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষণ করা হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, পর্যালোচনার ফলাফলে যদি সংশ্লিষ্ট প্রশ্নে ত্রুটি পাওয়া যায়, তবে মূল্যায়ন নীতিমালা অনুসরণ করে ওই প্রশ্নগুলোর জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। গণবিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কমিটি বলেছে, পর্যালোচনার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। এই ঘোষণা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া অনিশ্চয়তা কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও যাচাই প্রক্রিয়ার মান নিয়ে নতুন করে আলোচনারও জন্ম দিয়েছে ঘটনাটি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১৪, ২০২৬ 0
ঐক্য ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা নিয়ে বরিশালে তারেক রহমান

বরিশাল অফিস :    বরিশালের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি এলাকায় সাগরদী খালের পাড়ে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীর প্রতি জাতীয় ঐক্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জলাশয় রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। কর্মসূচির উদ্বোধনের আগে তিনি বলেন, “কদিন আগে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে এ দেশ থেকে স্বৈরাচার হটিয়েছি। এবার আসুন সবাই মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করি।” জাতীয় ঐক্যের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্ম-বর্ণ ও দলমত নির্বিশেষে মানুষ একসঙ্গে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছিল। একইভাবে সাম্প্রতিক সময়েও সকল শ্রেণি-পেশা ও মতের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   “আমরা সকলে মিলে যদি কাঁধে কাঁধ রেখে দেশের জন্য, মানুষের জন্য ভালো কাজ করি, তাহলে সকলে মিলে উপকৃত হবো।” বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী একটি নারিকেল গাছের চারা রোপণ করেন। পরে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত দায়িত্বের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ রক্ষা কেবল সরকারের বা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়; এটি সকল নাগরিকের যৌথ দায়িত্ব। তিনি সবাইকে নিজ নিজ বাসা-বাড়ি, অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং আশপাশের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান।   “আমরা প্রত্যেকে চেষ্টা করব আমাদের আশেপাশের এলাকা যাতে নষ্ট না হয়, পরিবেশটা যাতে সুন্দর থাকে, ভালো থাকে।” তিনি বলেন, দেশের পরিবেশ পরিষ্কার ও সুস্থ রাখতে ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং সামাজিক অংশগ্রহণ জরুরি। সাগরদী খাল রক্ষায় স্থানীয়দের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব সাগরদী খালের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালটির রক্ষণাবেক্ষণ শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়; খালের আশপাশের বাসিন্দাদেরও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। তিনি খালের পানিতে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, টিস্যু পেপারসহ বিভিন্ন বর্জ্য ফেলার প্রবণতার সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের আচরণ খালের পরিবেশ ও পানির গুণগত মান নষ্ট করে।   “খালের মধ্যে আমরা এগুলো ফেলবো না—এই সচেতনতা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।” সিটি করপোরেশনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, খালের পাশে ময়লা ফেলার বিন থাকলেও জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি খালের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত পাইপ ও সুয়ারেজ সংযোগগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ড্রেনেজ ও সুয়ারেজ ব্যবস্থার বিষয়ে পরামর্শ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাসা-বাড়ির ব্যবহৃত পানি বা সুয়ারেজ লাইন সরাসরি খালের সঙ্গে যুক্ত থাকলে পানি দূষিত হয় এবং পরিবেশের ক্ষতি হয়। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনকে প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার অনুরোধ জানান তিনি।   “আমাদের নিজেদের পরিবেশ আমাদের নিজেদেরকে রক্ষা করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, যেমন নিজের ঘর পরিষ্কার না রাখলে তা নোংরা হয়ে যায়, তেমনি পাড়া-মহল্লা ও দেশকে পরিষ্কার না রাখলে তার ভোগান্তিও জনগণকেই পোহাতে হবে। কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার এবং সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। তারা খালের দুই পাড়ে গাছ রোপণ করেন। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ ও জোহরের নামাজ আদায় করেন।   

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১৪, ২০২৬ 0
সোমবার বরিশালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শনকালে কথা বলেন।
বরিশালে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বরিশাল অফিস :    বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাঁর এই মন্তব্য সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সরকারের অবস্থানকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে আনে। মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ  সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অনুষ্ঠিত এ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী মহড়াস্থল ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। জঙ্গলের ভেতরে অবস্থানরত সদস্যদের কাছে গিয়ে তিনি তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করেন। সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে তাঁদের প্রতি বিশেষ মর্যাদা তৈরি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আস্থা ও মর্যাদা ধরে রাখতে পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখা প্রয়োজন। সেনা পরিবারের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি এক সেনা পরিবারে বড় হয়েছেন এবং সেনাসদস্যদের কাছে এলে তাঁর শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে যায়। ব্যক্তিগত এই অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি সেনাবাহিনীর প্রতি নিজের আবেগ ও শ্রদ্ধার কথাও তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আরও সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে। সেনাবাহিনীর সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং সুনাম বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ও প্রযুক্তি পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী বিস্তীর্ণ জঙ্গল এলাকায় সেনাসদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা তাঁকে মহড়ার বিভিন্ন দিক এবং কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন। মহড়ায় ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রমও প্রধানমন্ত্রী প্রত্যক্ষ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁকে শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে এর সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেন। সেনাসদস্যদের সঙ্গে সময় একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের সঙ্গে মাটিতে বসে কিছু সময় কাটান। তিনি তাঁদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন। মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা খাবারও তিনি গ্রহণ করেন। সেনাসদস্যদের পরিবেশিত খাবারের মধ্যে ছিল সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ এবং ডিমের তরকারি। উপস্থিতি ও তাৎপর্য এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এই পরিদর্শনকে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাদের ভূমিকার প্রতি সরকারের গুরুত্ব প্রদানের একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১৪, ২০২৬ 0
তারেক রহমানের তিন বার্তা: বিএনপিতে ঐক্য, স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান

বরিশাল অফিস :    বরিশালে এক দিনের ধারাবাহিক কর্মসূচিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলীয় ঐক্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি, উন্নয়ন-নীতির পুনর্মূল্যায়ন এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। সোমবার বিকেলে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত বিভাগীয় সাংগঠনিক সভায় তিনি বলেন, দলের ভেতরে মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে তা যেন কোনোভাবেই ঐক্য নষ্ট না করে।   “ঐক্য থাকলে ফ্যাসিস্ট বা কোনো গুপ্তচর দলে ঢুকে সুবিধা নিতে পারবে না। ঐক্যে ফাটল ধরলেই তারা সুযোগ নেবে,” — তারেক রহমান। ১৭ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে ঐক্যের আহ্বান দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, গুম, খুন ও নির্যাতনের মধ্যেও তারা ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে ধরে রেখেছেন।   “তখন সবাই সবার পাশে থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে দল চালিয়েছেন। এখন নির্যাতনের সেই ভয় নেই, তাহলে এখন কেন ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারবেন না?” তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএনপির জন্য অভ্যন্তরীণ সংহতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি বলে তিনি মনে করেন। স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ‘হাইব্রিড’ সতর্কতা আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে তিনি তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করার নির্দেশ দেন। তারেক রহমান বলেন, বর্ষার পর আলোচনা করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হবে।   “তৃণমূলকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে হবে। তবে দল গোছানোর ক্ষেত্রে ‘হাইব্রিড’ ও ‘গুপ্ত’—এই দুটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে,” এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, বিএনপি সংগঠনের ভেতরে অনুপ্রবেশ বা সুযোগসন্ধানী নেতৃত্বের সম্ভাবনা নিয়ে নেতৃত্বের উদ্বেগ রয়েছে। ধর্মীয় উৎসব ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন প্রধান ধর্মীয় উৎসবের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন।   “যেকোনো মূল্যে এই ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে হবে। কেউ যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে ফায়দা লুটতে না পারে,” তিনি দেশের সকল ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যের কথাও উল্লেখ করেন এবং ধর্মীয় ভেদাভেদ না করে মানবিকতার ভিত্তিতে দেশ পুনর্গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উন্নয়ন নিয়ে সমালোচনা ও পাল্টা রূপরেখা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তারেক রহমান দাবি করেন, উন্নয়নের নামে ব্যাপক অর্থ পাচার হয়েছে।   “গত ১৭ বছরে উন্নয়নের নামে আসলে লুটেরাদের পকেটের উন্নয়ন হয়েছে। মেগা প্রজেক্টের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে,” তিনি ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের শ্বেতপত্রের তথ্য উল্লেখ করে বলেন, প্রতি বছর গড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা পাচারের কথা সেখানে উঠে এসেছে। পাশাপাশি পদ্মা সেতু ও ভারতের ভূপেন হাজারিকা সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের তুলনাও টানেন। তার মতে, উন্নয়ন শুধু রাস্তাঘাট নির্মাণ নয়; স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষি খাতের সার্বিক উন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়ন। এ প্রসঙ্গে তিনি উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি এবং শিশুদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও বলেন।   ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও সামাজিক সুরক্ষা গৌরনদীর বাটাজোরে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তারেক রহমান বলেন, সারাদেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ধীরে ধীরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।   “আমাদের উদ্দেশ্যই হলো, আমাদের মায়েরা যাতে ভালো থাকতে পারেন, দেশের মানুষ যাতে একটু হলেও ভালো থাকতে পারেন,” তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন সম্ভব হবে বলে সরকার বিশ্বাস করে।   পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার নাগরিক আহ্বান সকালে গৌরনদীর সরিকল-বাটজোর খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তারেক রহমান দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে নাগরিক দায়িত্বের ওপর জোর দেন।   “আমরা যদি নিজের ঘর এবং দেশকে নিজেরা পরিষ্কার না রাখি, তাহলে এই দেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে না। বাইরে থেকে কেউ এসে আমাদের দেশকে পরিষ্কার করে দিয়ে যাবে না,” খালে ভাসমান প্লাস্টিকের বোতল দেখিয়ে তিনি বলেন, দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়; প্রতিটি নাগরিকের আচরণ ও অভ্যাসের সঙ্গে এটি সরাসরি সম্পর্কিত। রাজনৈতিক বার্তার সমন্বিত চিত্র বরিশালের এই কর্মসূচিগুলোতে তারেক রহমানের বক্তব্যে কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে: দলীয় ঐক্য: বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংহতি বজায় রাখাকে তিনি রাজনৈতিক টিকে থাকার প্রধান শর্ত হিসেবে দেখিয়েছেন। নির্বাচনী প্রস্তুতি: স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন। সামাজিক সম্প্রীতি: ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে এবং সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছেন। অর্থনৈতিক সমালোচনা: পূর্ববর্তী সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ পুনরুল্লেখ করেছেন। নাগরিক দায়িত্ব: পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষাকে জাতীয় উন্নয়নের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। সবশেষে তারেক রহমান দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, “করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ”—এই লক্ষ্য নিয়েই বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এগিয়ে নিতে চায় বিএনপি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১৪, ২০২৬ 0
নকল করতে না দেওয়ায় চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে হামলা: ১০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় চলমান এইচএসসি পরীক্ষা ও সমমানের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল করতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় প্রায় ১০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাতে চরফ্যাশন থানায় ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. মহিউদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে শনিবার দুপুরে চরফ্যাশন উপজেলা শহরের ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রশ্ন কমন না পড়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে জড়ায়। পরে পরিস্থিতি সহিংসতায় রূপ নেয় বলে মামলার এজাহার, পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে। কেন্দ্রে কী ঘটেছিল? বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের আওতায় পরিচালিত ওই কেন্দ্রে চরফ্যাশন সরকারি কলেজের ৮৮৪ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। শনিবার ছিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা। সকালে নিয়মিতভাবে এমসিকিউ প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। এমসিকিউ পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কেন্দ্রের ৩০৪ নম্বর কক্ষে কিছু পরীক্ষার্থী দাবি করেন যে প্রশ্ন তাদের “কমন” পড়েনি। কলেজ সূত্র জানায়, ওই সময় কিছু শিক্ষার্থী নকলের চেষ্টা করলে দায়িত্বরত শিক্ষকরা নকল প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নেন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর কিছু পরীক্ষার্থী নকল করার সুযোগ দাবি করে এবং কক্ষে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করে। পরীক্ষা শেষে সহিংসতা মামলার এজাহার অনুযায়ী, পরীক্ষা শেষে দুপুর ১টা ৫ মিনিটের দিকে একদল শিক্ষার্থী কলেজের পকেট গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। তারা পরীক্ষার খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইটপাটকেলের আঘাতে পরীক্ষাকক্ষে দায়িত্ব পালনকারী ৭ জন শিক্ষক এবং কলেজের গভর্নিং কমিটির সভাপতিসহ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এরপর কেন্দ্র এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। মামলার অগ্রগতি চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদ আল-ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বাদী হয়ে শতাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছেন। তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ঘটনার তাৎপর্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নকলবিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণকে কেন্দ্র করে সহিংসতার এই অভিযোগ শিক্ষা ব্যবস্থার শৃঙ্খলা, পরীক্ষা পরিচালনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তের মাধ্যমে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।  

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১৩, ২০২৬ 0
এক গাছেই ১০ জাতের আম
বরিশালের রহমতপুরে এক গাছে ১০ জাতের আম: কলম প্রযুক্তিতে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঘটনাটি বাস্তব। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টারে একটি আমগাছে ফলছে ১০টি ভিন্ন জাতের আম। কলম সংযোজন প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশি ও বিদেশি জাতের আমকে একই গাছে যুক্ত করার এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষক ও উদ্যানপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি শুধু প্রদর্শনমূলক উদ্যোগ নয়; বরং বহুজাতের আম উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাইয়ের একটি চলমান গবেষণা। একই গাছে ১৫ থেকে ২০ জাতের আম উৎপাদনের লক্ষ্যে আরও কলম সংযোজন কার্যক্রম চলছে। কোন কোন জাতের আম রয়েছে? রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে একটি গাছে কলম সংযোজনের মাধ্যমে যে ১০টি জাতের আম উৎপাদন করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে— জাপানি আম মিয়াজাকি, ন্যামডকমাই, রেড আইভরি, টকমাই, থ্রি টেস্ট, দেশি আম্রপালি, বারিভোগ এবং বারি-১১সহ মোট ১০ জাতের আম। এই বহুজাতের চারা সেন্টার থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গাছের পরিচর্যা, সেচ, ছাঁটাই ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে ক্রেতাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। কীভাবে সম্ভব হচ্ছে এক গাছে বহু জাতের আম? উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টারে একটি গাছে কলম সংযোজনকৃত ১০ জাতের আমের চারা পাওয়া যায়। এছাড়াও এটিকে ২০ জাত পর্যন্ত বাড়াতে কলমের কার্যক্রম চলছে।” কৃষিবিজ্ঞানীদের মতে, কলম সংযোজনের মাধ্যমে একই মূলগাছের ওপর বিভিন্ন জাতের আমের শাখা যুক্ত করা যায়। প্রতিটি শাখা তার নিজস্ব জাতের বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে ফল দেয়। তবে এ ধরনের গাছকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং শাখা-প্রশাখার ভারসাম্য রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার পরিধি কতটা? রোববার, ১২ জুলাই রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টারে বহুজাতের আমের ফলন দেখতে সরেজমিনে গিয়ে কেন্দ্রটির উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. অলিউল রহমানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, “আমাদের গবেষণায় এ সেন্টারে ৭৪ জাতের আমের চারা রয়েছে।” এ তথ্য থেকে বোঝা যায়, সেন্টারটি শুধু বহুজাতের একটি প্রদর্শনী গাছ তৈরিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিভিন্ন জাতের আম সংরক্ষণ, সম্প্রসারণ এবং নতুন সম্ভাবনা যাচাইয়ে কাজ করছে। পুষ্টিগুণ ও কৃষি সম্ভাবনা হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ ফেরদৌস আরা মিতা বলেন, “আমরা বছরজুড়ে আমাদের দেশীয় আম খাচ্ছি। এতে প্রচুর ভিটামিন এ আছে, আর কাঁচা আমে মিলছে ভিটামিন সি।” কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সীমিত জায়গায় বিভিন্ন জাতের আম উৎপাদনের এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক চাষেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে যেসব কৃষকের জমির পরিমাণ কম, তাদের জন্য বহুজাতের একটি গাছ বাড়তি অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। কৃষি খাতে নতুন দিগন্ত? রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টারের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের ফলচাষে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এক গাছে ১৫ থেকে ২০ জাতের আম সফলভাবে উৎপাদন সম্ভব হলে তা দীর্ঘমেয়াদে কতটা টেকসই ও লাভজনক হবে, সেটিই এখন গবেষণার মূল প্রশ্ন। তবুও একটি গাছে ১০ জাতের আমের ফলন ইতোমধ্যে কৃষি গবেষণা ও উদ্যানতত্ত্বের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১৩, ২০২৬ 0
বন্যায় পাহাড়ধস ও পানি
চট্টগ্রামে বন্যায় ৬ লাখের বেশি মানুষ এখনও পানিবন্দি, ক্ষতিগ্রস্ত ১৪ হাজারের বেশি ঘর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  চট্টগ্রামে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি পুরোপুরি কাটেনি। প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১৬টি উপজেলার ১৭৬টি ইউনিয়নে এখনও ৬ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি। বন্যায় এ পর্যন্ত ১৪ হাজার ২৮১টি বসতঘর, ২১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ১৪৫টি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভাগীয় প্রশাসনের তথ্য বলছে, চট্টগ্রাম বিভাগে এই বন্যায় ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৬১৪ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যা, পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে; এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন। পানি কমলেও দুর্ভোগ কাটেনি শনিবার দিনভর বন্যার পানি কিছুটা কমলেও রাত থেকে নতুন করে বৃষ্টিপাতের কারণে রোববার আবারও পানি বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানির নিচে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই দুই উপজেলাতেই প্রায় ৫ লাখ মানুষ এখনও পানিবন্দি। বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন,   “বাঁশখালীর প্রায় সব এলাকা এখনও পানির নিচে। নৌকা ছাড়া অধিকাংশ স্থানে যাতায়াত করা যাচ্ছে না। শনিবার পানি কিছুটা কমলেও রাত থেকে বৃষ্টিতে আবার পানি বেড়েছে। কাঁচা ঘর ধসে পড়েছে, অসংখ্য বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” ত্রাণ সহায়তায় ঘাটতির অভিযোগ বন্যাদুর্গত মানুষ অভিযোগ করেছেন, পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৫৫৭ টন চাল এবং ৩০ লাখ ৪০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় এখনও ৫৬৫ টন চাল, ৮৮ লাখ টাকা নগদ সহায়তা এবং ৪ হাজার ৩৫০ বান্ডিল ঢেউটিনের চাহিদা রয়েছে। অর্থাৎ সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে, যা দুর্গত মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়াচ্ছে। সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর সংকট সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া, বাজালিয়া, এওচিয়া, ছদাহা, সোনাকানিয়া, ঢেমশা, খাগরিয়া, চরতী ও আমিলাইষ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানিতে তলিয়ে রয়েছে। অনেক সড়ক ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং তীব্র স্রোতের কারণে অনেক এলাকায় নৌকা ছাড়া যাতায়াত সম্ভব হচ্ছে না। সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন,   “সাতকানিয়ায় পানি নামতে শুরু করেছে এবং পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। তবে ডলু নদীসংলগ্ন নিচু এলাকা এখনও পানিতে তলিয়ে রয়েছে। ফলে অনেক পরিবার এখনো বাড়ি ফিরতে পারেনি।”   ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ক্ষতির ধরন সংখ্যা পানিবন্দি মানুষ ৬ লাখের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘর ১৪,২৮১টি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২১২টি ক্ষতিগ্রস্ত সেতু ১৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্র ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষ ২২,৬০০ জন   বিভাগজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা জেলা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ চট্টগ্রাম ৬,৬২,০০০ কক্সবাজার ১,৫৮,০২৭ খাগড়াছড়ি ৩৪,৪১৭ বান্দরবান ৮,৩৫০ রাঙামাটি ৩,৮২০ মোট ৮,৬৬,৬১৪   জেলাভিত্তিক মৃত্যুর হিসাব জেলা মৃত্যু কক্সবাজার ২৮ জন চট্টগ্রাম ১৩ জন বান্দরবান ৬ জন রাঙামাটি ৩ জন মোট ৫০ জন   সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, সন্দ্বীপ, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, বাঁশখালী, কর্ণফুলী, মীরসরাই, সীতাকুণ্ড, ফটিকছড়ি, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, সাতকানিয়া ও পটিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ৫৮০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২১ হাজার ৯০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। ত্রাণ কার্যক্রম ও প্রশাসনের বক্তব্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।    সামনে পুনর্বাসনের চ্যালেঞ্জ বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো বসতঘর পুনর্নির্মাণ, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, খাদ্য সহায়তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধার। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানচিত্রায়ন এবং দ্রুত ত্রাণ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।   এই প্রতিবেদনটি প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ভাষা ও কাঠামোকে পাঠকবান্ধব, পেশাদার ও বিবিসি বাংলা স্টাইলের অনুসন্ধানধর্মী উপস্থাপনা অনুসরণ করে সাজানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১৩, ২০২৬ 0
বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া কবরস্থান, ভেলায় লাশ নিয়ে পাহাড়ে দাফন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলাের বন্যাকবলিত একটি গ্রামে পারিবারিক কবরস্থান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় এক ব্যক্তির মরদেহ ভেলায় করে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার পর দূরের পাহাড়ে দাফন করতে হয়েছে। মৃত ব্যক্তি মোহাম্মদ ফোরকান (৬০), সাতকানিয়া উপজেলার জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১১ জুলাই) বিকেলে তার মৃত্যু হয়। তবে বাড়ি, উঠান, চলাচলের পথ এবং পারিবারিক কবরস্থান বন্যার পানিতে প্লাবিত থাকায় স্বাভাবিকভাবে দাফনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ভেলায় করে মরদেহ প্রায় ৫০০ মিটার দূরে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। পরে অটোরিকশায় করে আরও প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে দস্তিদারহাট এলাকায় নেওয়া হয়, যেখানে গোসল ও দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। রাত ১০টার দিকে ফকির মুড়া ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে তাকে পাহাড়ের সরকারি খাস জায়গায় দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তার বড় ছেলে হাফেজ রাশেদুল ইসলাম। পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের ইচ্ছা পূরণ হলো না মৃতের ছেলে রাসেল উদ্দিন বলেন, বাড়ির পাশেই তাদের পারিবারিক কবরস্থান রয়েছে, যেখানে তার দাদা-দাদিসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের কবর রয়েছে।   “বাবা সবসময় ওই কবরস্থানেই দাফনের ইচ্ছা প্রকাশ করতেন। কিন্তু বন্যার কারণে সেই ইচ্ছা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। কবরস্থানে কোমরসমান পানি থাকায় বাবাকে দূরের পাহাড়ে দাফন করতে হয়েছে,” বলেন রাসেল উদ্দিন। বন্যা পরিস্থিতি ও মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয়রা জানান, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। শুক্রবার সকালে মোহাম্মদ ফোরকান বন্যার পানিতে মাছ ধরছিলেন। এ সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে মাছ ধরার সময় ফোরকান স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং পরে বাড়িতে মারা যান।   “প্রশাসনকে জানানো হলে দাফনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হতো। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের স্বেচ্ছাসেবক দল প্রস্তুত ছিল,” বলেন তিনি। স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মহসিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা এখনো পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।   “বসতবাড়ি, কবরস্থান ও সড়ক প্লাবিত থাকায় লাশ ভেলায় করে নিরাপদ স্থানে নিতে হয়েছে। পরে সরকারি খাস জায়গায় দাফন সম্পন্ন করা হয়,” বলেন তিনি। বন্যার মানবিক প্রভাব টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সাতকানিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাকবলিত রয়েছে। যদিও গত দুই দিনে পানি কিছুটা কমেছে, তবুও পৌরসভাসহ উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের অনেক এলাকা এখনো প্লাবিত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, এ পরিস্থিতিতে প্রায় চার লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। বাসস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা, খাদ্যসংগ্রহ এবং দাফন-কাফনের মতো মৌলিক মানবিক প্রয়োজনও বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে। মোহাম্মদ ফোরকানের দাফনের ঘটনাটি বন্যার সময় গ্রামীণ এলাকার মানুষের বাস্তব দুর্ভোগের একটি প্রতীকী উদাহরণ হিসেবে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচিত হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১৩, ২০২৬ 0
পানিবন্দি মানুষ
কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায় বেঁড়িবাধ ভেঙে জলাবদ্ধতা: স্লুইসগেট বন্ধ রাখার অভিযোগে তদন্তের দাবি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় টানা এক সপ্তাহের ভারি বৃষ্টিতে বেঁড়িবাধ ভেঙে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গত দুদিন বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমলেও রোববার সকাল থেকে আবারও ভারি বৃষ্টি শুরু হলে পানির উচ্চতা বাড়তে থাকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই উপজেলার বহু ঘরবাড়ি এখনও পানির নিচে রয়েছে। অনেক পরিবার ঘরছাড়া হয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে, আবার কেউ কেউ নৌকাকে একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। স্লুইসগেট ও কালভার্ট নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দারা শুধু অতিবৃষ্টিকেই দায়ী করছেন না। তাঁদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইসগেট ও কালভার্টগুলোতে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে কিছু অসাধু চক্র মাছ শিকারের ব্যবস্থা করেছে। এতে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে না পেরে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ আহমেদ বলেন,   “অনেকেই মাছ ধরার জন্য ইচ্ছা করে স্লুইসগেটগুলো বন্ধ করে রাখে। তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।” এই অভিযোগের স্বাধীন যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ক্ষোভ বাড়ছে। কুতুবদিয়ার যেসব এলাকা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সরেজমিনে দেখা গেছে, কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালী ইউনিয়নের মতির বাপের পাড়া, চিন্নি খাইয়ে পাড়া, শাহজীর পাড়া, গাইনে কাটা, নয়াঘোনা ও ধুপি পাড়া পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়নের কিল্লার পাড়া ও বাতিঘর এলাকা, উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের আজিম উদ্দিন সিকদার পাড়া, চাটি পাড়া, জইজ্যার পাড়া, ছাদের ঘোনা, জুম্মা পাড়া ও বাকখালী এলাকায়ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বড়ঘোপ ইউনিয়নের আজম কলোনিতে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। পাশাপাশি আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের পূর্ব তাবালেরচর, আনিছর ডেইল ও জেলে পাড়া; বড়ঘোপ ইউনিয়নের বদাইয়ার পাড়া, মনোহরখালী, মিয়ার ঘোনা, কালাইয়া পাড়া ও দক্ষিণ অমজাখালী; এবং কৈয়ারবিল ইউনিয়নের মলমচর, কিল্লার পাড়া ও নজর আলী মাতবর এলাকায়ও মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পেকুয়ায় নৌকাই প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম পেকুয়া উপজেলার টইটং, বারবাকিয়া, শিলখালী, পেকুয়া সদর, উজানটিয়া, রাজাখালী ও মগনামা ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম এখনও পানির নিচে রয়েছে। অনেক এলাকায় রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় নৌকাই মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে। উজানটিয়া ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শনে এলেও তাঁদের সমস্যার কথা যথাযথভাবে শোনা হয়নি। তাঁরা বলেন,   “রাতে ঘুমাতে পারছি না, ছেলে-মেয়েরা না খেয়ে আছে। আমরা পর্যাপ্ত সাহায্য পাচ্ছি না।” ত্রাণ সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই উপজেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার সরবরাহ করা হয়নি। ফলে অনেক পরিবার খাবার সংকটে দিন কাটাচ্ছে। কৃষক হারুন বলেন,   “বৃষ্টির প্রথম রাতেই আমার ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়। ঘরের হাঁড়ি-পাতিলসহ অনেক জিনিসপত্র ভেসে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে অন্যের ঘরে আশ্রয় নিয়ে আছি।” তিনি আরও বলেন,   “আমার মাছের ঘেরটাই ছিল বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়। সেটাও ভেসে গেছে। এখন আমি পুরোপুরি নিঃস্ব।” প্রশাসনের বক্তব্য কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান বলেন,   “স্লুইসগেট ও কালভার্টগুলো নজরদারি করতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনও বিষয়টি তদারকি করছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য শুকনো খাবার বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম বলেন,   “আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রশাসনের টিম কাজ করছে। সাতটি ইউনিয়নের জন্য ১০ মেট্রিক টন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরও সহায়তা চাওয়া হবে। শুকনো খাবার বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।” তদন্তের দাবি কেন জোরালো হচ্ছে স্থানীয়দের অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে এটি শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা নয়; বরং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনার ইঙ্গিতও বহন করতে পারে। স্লুইসগেট ও কালভার্টের কার্যকারিতা, এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় অঞ্চলে জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় স্লুইসগেট, কালভার্ট ও বেঁড়িবাধের কার্যকর ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব অবকাঠামো সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে অতিবৃষ্টির সময় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১৩, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রী  তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বরিশাল সফর: দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন প্রত্যাশা তুঙ্গে

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো সোমবার (১৩ জুলাই) বরিশাল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান— বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা।  বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও সাংগঠনিক সভাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয়দের আশা, এই সফরে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন দাবিগুলোর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক বার্তা বা ঘোষণা আসতে পারে। সফরের মূল কর্মসূচি সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোরে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক এলাকায় আরেকটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। বর্ষাকালীন পরিস্থিতির কারণে এই সফরে দলীয় কোনো জনসভা রাখা হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রত্যাশা বরিশাল ও দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের দাবি জানিয়ে আসছেন। প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ঢাকা-বরিশাল এবং ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা বরিশালে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) স্থাপন ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ কুয়াকাটায় সমুদ্রভাঙন প্রতিরোধ ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন বরিশালে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা স্থানীয় ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি ও পেশাজীবীদের মতে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসতে পারে।   রাজনৈতিক গুরুত্ব ও প্রস্তুতি প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। গত কয়েকদিন ধরে বরিশাল নগরীতে আনন্দ মিছিল, শোভাযাত্রা ও প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের নেতৃত্বে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। মহানগর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলও পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে। বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান মোহাম্মদ শহীদউল্লাহ বলেন, “আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে। তাঁর এই সফর দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।” কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি ও বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম তসলিম বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বরিশালে কোনো জনসভা করবেন না। তিনি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন। তাই তাঁকে স্বাগত জানাতে সড়কের দুই পাশে ব্যাপক মানুষের সমাগম হবে।” প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে। নগরজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি সার্কিট হাউস ও জেলা শিল্পকলা একাডেমিকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সফরস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার  জানান, প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে সড়কপথে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হবেন। তিনি গৌরনদীর বাটাজোর এবং বরিশাল নগরীর ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি-সংলগ্ন এলাকায় পৃথক দুটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। পরে সার্কিট হাউসে বিরতির পর বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। উন্নয়ন ঘোষণার অপেক্ষায় দক্ষিণাঞ্চল বরিশাল বিভাগে ৬টি জেলা ও ৪২টি উপজেলা রয়েছে, যেখানে জাতীয় সংসদের ২১টি আসন রয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে এই অঞ্চলের অধিকাংশ আসনে বিএনপি জয়ী হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সরকারের কাছে এ অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশাও তুলনামূলক বেশি। বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এবায়েদুল হক চান বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তিনি বলেন, “সরু সড়ক ও যানজটের কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে এবং শিল্পায়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি।” ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর বলেন, “ভোলা এখনো সড়ক যোগাযোগে দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। গ্যাসসমৃদ্ধ জেলা হওয়া সত্ত্বেও যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে শিল্পায়ন হচ্ছে না। ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের বিষয়ে ইতিবাচক ঘোষণা আসবে বলে আমরা আশা করছি।” প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম বরিশাল সফর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি বরিশালের বেলস পার্ক মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন। আরও আগে ২০০৬ সালের ১৪ মে তিনি একবার বরিশাল সফর করেছিলেন। এই সফরকে ঘিরে বরিশালবাসীর প্রধান প্রত্যাশা হলো—দীর্ঘদিনের অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ও কার্যকর উদ্যোগ।  

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১৩, ২০২৬ 0
রাজাপুরে সরকারি সেতু নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ
রাজাপুরে সরকারি সেতু নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের ডহসংকর এলাকায় একটি সরকারি সেতু নির্মাণকাজকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, প্রকল্পের নির্ধারিত শর্ত লঙ্ঘন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে না জানিয়েই কাজ শুরুর অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দারা শুক্রবার নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটির নির্মাণকাজে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৬০ ফুট পাইলিংয়ের পরিবর্তে মাত্র ১৫ ফুট পাইল ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ব্ল্যাক স্টোনের বদলে হোয়াইট স্টোন, সিলেটি বালুর পরিবর্তে স্থানীয় বালু এবং ২০ মিলিমিটার রডের বদলে ১৬ মিলিমিটার রড ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। স্থানীয় যুবদল নেতা মো. সাইফুল ইসলাম, মো. মামুন হাওলাদার, আহম্মেদ মিঠু, মো. লাভলু হাওলাদার ও মো. কাঞ্চন হাওলাদার জানান, নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই নানা অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। তাদের অভিযোগ, চলমান বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও পানির নিচে ঢালাই কাজ করা হয়েছে। অথচ কাজ চলাকালে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের প্রতিনিধির উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ঘটনাস্থলে কোনো প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে শুক্রবার স্থানীয় বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। তাদের অভিযোগ, পরে ঠিকাদার ঘটনাস্থলে এসে একইভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন এবং প্রতিবাদকারী স্থানীয়দের হুমকি-ধমকি দেন। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সরকারি অর্থের অপচয় করা হচ্ছে। তারা দ্রুত ঘটনাটির তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার মো. রফিকুল ইসলাম মৃধা তা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সেতু নির্মাণকাজের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং কাজের লে-আউটের সময় উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মো. আবুল বাসার উপস্থিত ছিলেন। তার দাবি, ভারী বর্ষণ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তারা কাজ বন্ধ রেখেছিলেন। আগামী রোববার সেতুর পাইল বসানোর কাজ শুরু হবে বলেও তিনি জানান। তবে কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মো. আবুল বাসার বলেন, সেতু নির্মাণকাজের মেয়াদ গত ১৫ জুন শেষ হয়েছে। ঠিকাদার মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন না করে এবং দপ্তরকে অবহিত না করেই কাজ শুরু করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত সেতুটির কাজ শুরু করিনি। ঠিকাদার কেন আমাদের না জানিয়ে কাজ শুরু করেছেন, তা জানতে তাকে নোটিশ দিয়ে কৈফিয়ত চাওয়া হবে।” উপজেলা প্রকৌশলীর এই বক্তব্যের পর স্থানীয়দের মধ্যে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই কীভাবে একটি সরকারি প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হলো? বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১৩, ২০২৬ 0
বন্যাকবলিত চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর ত্রাণ ও সড়ক উদ্ধার তৎপরতা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  টানা ভারী বর্ষণে বন্যাকবলিত চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিয়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি সড়ক দ্রুত সচল করতে সেনাবাহিনী উদ্ধার ও পুনঃসংযোগের কাজ শুরু করেছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপজেলার বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়েছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর ৭ স্বতন্ত্র এডি ব্রিগেডের উদ্যোগে বাঁশখালী উপজেলার বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে বলে আইএসপিআর জানিয়েছে। অন্যদিকে, একটানা ভারী বর্ষণে বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার বান্দরবান-আলীকদম-লাইক্রি সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে বকলাইপাড়া আর্মি ক্যাম্প-প্রাতা পাড়া সড়ক, বকলাইপাড়া আর্মি ক্যাম্পের প্রবেশপথ এবং ২৩ কিলোমিটার এলাকায় সড়ক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সচল করতে ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আজ দিনব্যাপী ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে সড়কে জমে থাকা মাটি ও উপড়ে পড়া গাছ অপসারণে অংশ নেন। বকলাইপাড়া আর্মি ক্যাম্প-প্রাতা পাড়া সড়কে দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করতে ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পাশাপাশি ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (ইসিবি)ও নিরলসভাবে কাজ করছে। এ ছাড়া ২৩ কিলোমিটার এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ অংশে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করতে সেনাসদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে বকলাইপাড়া আর্মি ক্যাম্পের প্রবেশপথে সৃষ্ট ভূমিধস দ্রুত অপসারণ এবং স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সড়ক যোগাযোগ দ্রুত স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনীর সব ধরনের সহায়তা ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১২, ২০২৬ 0
ড্যাবের দুই পক্ষের বিরোধে অচল বরিশালের স্বাস্থ্য বিভাগ, পরিচালককে দপ্তর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরে এক চিকিৎসক কর্মকর্তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন উত্তেজনা। বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে বরিশালের স্বাস্থ্য প্রশাসনে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। সম্প্রতি বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ডা. মনিরুজ্জামানকে একদল চিকিৎসক ও সহযোগী দপ্তর থেকে বের করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংগঠনটির একাংশ নিয়োগ বাতিলের দাবি তুললেও অন্য অংশ বলছে, ব্যক্তিগত বিরোধ বা প্রতিহিংসার কারণে কোনো সরকারি কর্মকর্তার নিয়োগ প্রশ্নবিদ্ধ করা হলে তারা আন্দোলনে যাবে। ঘটনার পর থেকে পরিচালকের কার্যালয়ে তৈরি হয়েছে কার্যত অচলাবস্থা। এমনকি পরিচালকের কক্ষ ও প্রধান ফটকে তালা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। নিয়োগের পর থেকেই বিরোধের সূত্রপাত সরকার গত ৫ জুলাই শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক উপপরিচালক ডা. মনিরুজ্জামানকে বরিশালের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে নিয়োগ দেয়। পরদিন ৬ জুলাই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।তবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তার নিয়োগকে ঘিরে আপত্তি তোলে ড্যাবের একটি অংশ। শেবাচিম শাখা ড্যাবের সভাপতি এবং সম্প্রতি অবসরে যাওয়া চিকিৎসক ডা. নজরুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী বুধবার পরিচালকের কার্যালয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, তারা পরিচালকের কক্ষে প্রবেশ করে ডা. মনিরুজ্জামানকে চেয়ার থেকে উঠে যেতে বাধ্য করেন এবং তাকে দপ্তর ছাড়তে বলেন। পরে তার কক্ষে তালা দেওয়া হয়। ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন ড্যাবের শেবাচিম শাখার সাবেক সভাপতি ডা. আজিজ রহিম এবং সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় সদস্য সচিব ও জেলা ড্যাবের সাবেক সহসভাপতি ডা. মিজানুর রহমান। তারা বিষয়টি থামানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। দ্বিতীয় দফায় তালাবদ্ধ কার্যালয় বৃহস্পতিবার সকালে আবারও পরিচালকের কার্যালয়ে যান ডা. সেলিমের অনুসারীরা। আগের দিনের লাগানো তালা খোলা দেখতে পেয়ে তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এরপর পরিচালকের দপ্তরের প্রধান ফটকে নতুন করে তালা দেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভেতরে আটকা থাকেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুরোধে তালা খুলে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর স্বাস্থ্য বিভাগের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কেন বিরোধ? দুই পক্ষের ভিন্ন দাবি ডা. নজরুল ইসলাম সেলিমের দাবি, ডা. মনিরুজ্জামান অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক থাকাকালে তিনি “জুলাই আন্দোলনবিরোধী শান্তি মিছিলে” অংশ নিয়েছিলেন এবং আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তাকে দেখা গেছে। সেলিম বলেন, “আগস্ট বিপ্লবে তিনি জনগণের পক্ষে ছিলেন না। তাই এই নিয়োগ আমরা মেনে নিচ্ছি না।” অন্যদিকে বরিশাল জেলা ড্যাবের সভাপতি ডা. কবিরুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ড্যাবের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। তার ভাষ্য, সংগঠনের মতামত উপেক্ষা করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাল্টা অবস্থানে ড্যাবের অন্য অংশ তবে ড্যাবের আরেক অংশ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। শেবাচিম শাখা ড্যাবের সাবেক সভাপতি ডা. আজিজ রহিম বলেন, ডা. মনিরুজ্জামান ড্যাবের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আজীবন সদস্য। তিনি জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির আগে কেন্দ্র থেকে গঠিত ড্যাবের নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতেও মনিরুজ্জামান ছিলেন। আজিজ রহিম বলেন, “নির্বাচনি প্রচারণায় সেলিম ও মনিরুজ্জামান একসঙ্গে কাজ করেছেন। হঠাৎ এই বিভক্তির কারণ বুঝতে পারছি না। ব্যক্তিগত জেলাসি থেকেই বিষয়টি তৈরি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।” মবের অভিযোগের নিন্দা সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, কোনো কর্মকর্তাকে দপ্তরে গিয়ে জোর করে চেয়ার থেকে উঠিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, “মব সৃষ্টি করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার ঘটনা দুঃখজনক।” তিনি আরও দাবি করেন, ডা. মনিরুজ্জামান শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং পরে সহসভাপতি ছিলেন। ডা. মনিরুজ্জামানের বক্তব্য নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কেবল সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করেছেন। তার ভাষায়, “সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সরকারের নির্দেশ মানতে হয়, এটাই নিয়ম।” শান্তি সমাবেশে অংশ নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তৎকালীন পরিচালক তাকে সেখানে যেতে বাধ্য করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না।  প্রশাসনিক পদে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব? বরিশালের এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে সরকারি প্রশাসনিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়, অতীত ভূমিকা এবং পেশাজীবী সংগঠনের প্রভাবের প্রশ্ন। একদিকে একটি পক্ষ বলছে, বিতর্কিত অতীত থাকা কাউকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে রাখা উচিত নয়। অন্যদিকে অপর পক্ষের অভিযোগ, ব্যক্তিগত বিরোধ ও সংগঠনগত দ্বন্দ্বকে রাজনৈতিক অভিযোগের আড়ালে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে ডা. মনিরুজ্জামানের নিয়োগ বহাল থাকলেও পরিচালকের দপ্তরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১১, ২০২৬ 0
আগৈলঝাড়ায় থানা হামলার নেপথ্যে মৃত্যুর গুজব: গ্রেফতার আতঙ্কে এলাকা পুরুষশূন্য, পুলিশের অভিযান অব্যাহত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :   বরিশালের আগৈলঝাড়ায় এক গ্রেফতার আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের আহত হওয়ার ঘটনায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় অনেক পরিবার এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে বলে জানা গেছে। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় পুলিশের হেফাজতে থাকা এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা এখন রূপ নিয়েছে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে। থানায় হামলা, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান জানান, হামলার পর থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাতভর অভিযান চালিয়ে হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি। বরিশালের পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, থানায় হামলার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে হামলায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। গ্রেফতার আসামিকে ঘিরে উত্তেজনার শুরু পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুন বুধবার সন্ধ্যায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চুরি ও মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে একটি চুরির মামলায় গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, থানার হাজতে থাকা অবস্থায় রিয়াজ নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করেন। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। রাতের দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার বিকালে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। যদিও পরে পুলিশ জানায়, তিনি মারা যাননি এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। গুজব ছড়িয়ে হামলা, আহত পুলিশ সদস্য রিয়াজের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় গিয়ে হামলা চালায়। পুলিশের অভিযোগ, এ সময় থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করা হয় এবং থানায় ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে পুলিশের ছয় সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্য কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসানকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মামলায় ৪৩ জনের নাম, গ্রেফতার ১৮ থানায় হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী ওমর ফারুক জানান, বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন— সিদ্দিক ফকির শারমিন আক্তার গিয়াস ফকির সবুজ ফকির মান্নান ফকির রিফাত ফকির নাইম ফকির হাবিবুর রহমান রাজু হাওলাদার তাহমিনা বেগম মনোয়ারা বেগম আসমা আক্তার মমতাজ বেগম ঝুমুর বেগম নাজমা আক্তার তানজিলা আক্তারসহ আরও কয়েকজন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের শুক্রবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের অস্বীকার এ ঘটনায় রিয়াজ ফকিরের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশি নির্যাতনের কারণে তিনি আহত হয়েছেন। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, রিয়াজ নিজের মাথায় আঘাত করে আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থানা হামলার পর আগৈলঝাড়া এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রেফতার আতঙ্কে অনেক নারী-পুরুষ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। ঘটনার তদন্তে এখন মূল প্রশ্ন—রিয়াজ ফকিরের আহত হওয়ার প্রকৃত কারণ কী এবং মৃত্যুর গুজব এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে কীভাবে। পুলিশ বলছে, তদন্ত ও তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে পুরো ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১১, ২০২৬ 0
মনপুরায় পানির নিচে জীবন: ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি, ত্রাণহীন দুর্ভোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :        টানা ছয় দিনের ভারী বর্ষণে ভোলার উপকূলীয় উপজেলা মনপুরার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। খাল-বিল, বসতঘর ও রাস্তাঘাট একাকার হয়ে তৈরি হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় নিম্নাঞ্চলে পানি আটকে রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দিনমজুর, জেলে, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ নিম্নআয়ের মানুষ। কয়েক দিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় অনেক পরিবারের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বহু ঘরে রান্নার চুলা জ্বলছে না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অনেকে চিড়া-মুড়ি খেয়ে কোনোভাবে দিন পার করছেন। তবে অধিকাংশ পরিবারে দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। তারা দ্রুত শুকনো খাবার, চাল-ডাল এবং নিরাপদ পানির সহায়তা চেয়েছেন। পানি নামছে না, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট ও স্যানিটেশন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ঘরের ভেতর, উঠান এবং চলাচলের পথ পানিতে ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেও মনপুরায় থেমে থেমে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় সূর্যের দেখা মেলেনি। এতে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। পাঁচ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে ভয়াবহ পরিস্থিতি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার সাকুচিয়া ইউনিয়নের খাড়ির খাল এলাকা, মাস্টারহাট, লতাখালী ও বাতানখালী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে। এছাড়া বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের ঢালচর, কাজীরচর ও কলাতলী চরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল তিন থেকে চার ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমান গ্রাম, হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট ও চরযতিনের নিম্নাঞ্চল, সোনারচর গ্রামের পূর্ব ও পশ্চিম অংশ এবং মনপুরা ইউনিয়নের কাউয়ারটেক ও আন্দিড়পার এলাকাতেও একই পরিস্থিতি দেখা গেছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। পাশাপাশি বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চললেও পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন। হাজিরহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা আনোয়ার, আল-আমিন ও আক্তার হোসেন; দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ডা. কামাল হোসেন ও শ্রীকৃষ্ণ; উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের রিপন ও হাসান; এবং মনপুরা ইউনিয়নের মমিন তালুকদার, জিসান চন্দ্র দাস ও শুভ্র জানান, কয়েকটি স্লুইসগেট দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় রয়েছে। তাদের অভিযোগ, খাল দখল ও অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নদীতে নামতে পারছে না। ফলে পানি আটকে গিয়ে লোকালয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। তারা দ্রুত স্লুইসগেট সংস্কার, খাল পুনঃখনন এবং স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন। ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ, ক্ষোভ বাড়ছে দুর্গত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে পানিবন্দি থাকলেও এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক ব্যক্তি বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত খোঁজ নেওয়া হয়নি। তারা জানান, কোনো ত্রাণ সহায়তাও এখনও পৌঁছায়নি। দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। প্রশাসনের বক্তব্য পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা বলেন, সারা দেশের মতো মনপুরাতেও টানা বর্ষণের কারণে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা সমাধানে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। কেন বারবার ডুবে যায় মনপুরা? মনপুরার বর্তমান জলাবদ্ধতা শুধু কয়েক দিনের বৃষ্টির ফল নয়—স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অকেজো স্লুইসগেট, খালের সংকোচন এবং অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে উপকূলীয় এই জনপদ বারবার পানির সংকটে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অতিবৃষ্টি এবং জোয়ারের পানির চাপ মোকাবিলায় শুধু বাঁধ নির্মাণ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত খাল রক্ষণাবেক্ষণ এবং কার্যকর নিষ্কাশন অবকাঠামো। মনপুরার বাসিন্দাদের এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—অস্থায়ী সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান কবে আসবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১১, ২০২৬ 0
‘জ্বীনের বাদশা’ পরিচয়ে নারীদের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণের অভিযোগ, গাজীপুরে ভুয়া কবিরাজ বিপুল গ্রেফতার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুরে ‘জ্বীনের বাদশা’ পরিচয়ে চিকিৎসার নামে নারীদের প্রতারণা ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বিপুল (২৩) নামে এক ভুয়া কবিরাজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার ব্যক্তি গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা হলেও গাজীপুরের কাশিমপুর চক্রবর্তী এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে কথিত কবিরাজি চিকিৎসার আড়ালে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। কাশিমপুর থানা পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) গভীর রাতে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগকারী একাধিক নারীর বক্তব্য গ্রহণ করে অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যায়। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় আদালতে পাঠানো হয়। চিকিৎসার নামে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ অভিযোগকারী এক নারী পুলিশকে জানান, বিপুল বিভিন্ন ব্যক্তিগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতেন। পরে ‘চিকিৎসা’ দেওয়ার কথা বলে তাকে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই নারী অভিযোগ করেন, সেখানে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে তাবিজ পরিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাকে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়। বাধা দিলে অভিযুক্ত নিজেকে ‘জ্বীনের বাদশা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ক্ষতি করার ভয় দেখান বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য তাকে শপথ করানো হয়। পরে কয়েক দিন তাকে একটি ফ্ল্যাটে আটকে রাখা হয় এবং তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র অন্য একটি কক্ষে সরিয়ে নেওয়া হয়। ধর্ষণের ভিডিও ধারণ ও ভয় দেখানোর অভিযোগ আরেক ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, পারিবারিক সমস্যার সমাধান করে দেওয়ার কথা বলে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। বিপুল তাকে বোঝান যে, তার ওপর ‘খারাপ প্রভাব’ রয়েছে এবং বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন। ওই নারী জানান, চিকিৎসার নামে তাকে নির্যাতন করা হয় এবং ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য শপথ করানো হয়। একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন এবং ভয় দেখিয়ে নীরব রাখার চেষ্টা করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার নাক, গলা ও কানের গহনা খুলে নেওয়া হয়। মোবাইল ফোনে মিলেছে একাধিক ভিডিও: পুলিশ কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা খালিদ হোসেন বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং অভিযোগকারী নারীদের বক্তব্য নেয়। তিনি জানান, অভিযুক্তের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে একাধিক নারীর সঙ্গে একই ধরনের ঘটনার ভিডিও পাওয়া গেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশের দাবি, চিকিৎসার কথা বলে নারীদের ডেকে এনে যৌন নির্যাতন এবং পরে ভিডিও ধারণ করে ভয় দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত চলছে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত বিপুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং অভিযোগের পরিধি কতটা বিস্তৃত—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, কথিত তান্ত্রিক, কবিরাজ বা অলৌকিক চিকিৎসার নামে প্রতারণার ঘটনায় মানুষকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১১, ২০২৬ 0
সাতকানিয়ায় ভয়াবহ বন্যা: পানির নিচে সড়ক-বাড়িঘর, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বন্যার পানিতে নিম্নাঞ্চলের অসংখ্য বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অন্যত্র সরে গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এবারের পানির উচ্চতা ও স্রোত অনেক বেশি। পানির নিচে সড়ক, থেমে গেছে চলাচল শুক্রবার বিকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রধান সড়কগুলোতে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে আছে। প্রয়োজনীয় কাজে বের হওয়া মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সাতকানিয়া-কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বাজালিয়া এলাকায় দেখা যায়, বন্যার পানিতে ডুবে থাকা সড়কের ওপর স্থানীয়রা জাল হাতে মাছ ধরছেন। কেউ খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহের জন্য পানি মাড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করতে বন্যার পানিতে নেমেছেন। সড়কের দুই পাশে এখন শুধু পানি আর পানি। অধিকাংশ যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বন্যার মধ্যেও জীবিকার সংগ্রাম স্থানীয় বাসিন্দা মো. নুরুল ইসলাম বলেন, “জীবনে অনেক বন্যা দেখেছি, কিন্তু এবার পানির স্রোত ও পরিমাণ অনেক বেশি। ঘরে পানি ঢুকে গেছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছি।” আরেক বাসিন্দা আবদুল কাদের জানান, দুই দিন ধরে কাজকর্ম বন্ধ রয়েছে। বাজারে যাতায়াত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “পানিতে মাছ উঠেছে দেখে অনেকে জাল নিয়ে নেমেছে। যা পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়েই সংসার চালানোর চেষ্টা করছি।” ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা বন্যার কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ব্যবসায়ী মো. সেলিম বলেন, “দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে। সড়কে পানি থাকায় ক্রেতা আসছে না। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যও স্থবির হয়ে পড়েছে।” স্থানীয়দের মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় জরুরি পণ্য সরবরাহেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ: বিচ্ছিন্ন এলাকায় পৌঁছানো কঠিন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমদুল হাসান বলেন, পুরো উপজেলা বর্তমানে বন্যাকবলিত অবস্থায় রয়েছে। তিনি জানান, অনেক এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে সব এলাকার সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজ চলমান রয়েছে। দ্রুত সহায়তার দাবি বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত ত্রাণ সহায়তা বাড়ানো, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি ও দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে চট্টগ্রামের পাহাড়সংলগ্ন এলাকাগুলোতে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। সাতকানিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি সেই ঝুঁকিরই আরেকটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১১, ২০২৬ 0
মোহাম্মদ ফিরোজ শাহ্
সাতক্ষীরায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ: যুব জামায়াত নেতা মোহাম্মদ ফিরোজ শাহকে সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের স্থানীয় এক নেতাকে দলীয় পদ ও সাংগঠনিক সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা সদরের ১২নং বল্লী ইউনিয়ন শাখার আমির মো. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সাংগঠনিক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। অব্যাহতি পাওয়া মোহাম্মদ ফিরোজ শাহ ১২নং বল্লী ইউনিয়ন জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পার্কের ঘটনার অভিযোগ ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে সাতক্ষীরা শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ফিরোজ শাহকে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, ওই সময় ঘটনাস্থলে তার স্ত্রী উপস্থিত হয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় পার্ক এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং উপস্থিত লোকজনের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। পরে ঘটনাস্থলের কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।   সংগঠনের বক্তব্য: তদন্তের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জামায়াতের স্থানীয় শাখার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জেলা সংগঠনের নির্দেশনা অনুযায়ী দলীয় শৃঙ্খলা, আদর্শ ও সাংগঠনিক নীতিমালা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ফিরোজ শাহের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী তাকে ১২নং বল্লী ইউনিয়ন যুব ও ক্রীড়া বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি পদসহ সংগঠনের সব সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সংগঠন আরও জানিয়েছে, সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। পাশাপাশি চলমান তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১১, ২০২৬ 0
খুলনা শহরবাসী পানিবন্দি
৮২৩ কোটি টাকার ড্রেনেজ প্রকল্পের পরও কেন বারবার ডুবছে খুলনা? জলাবদ্ধতার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধান

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :        মাত্র আট দিনের ব্যবধানে আবারও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে খুলনা মহানগরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিম্নাঞ্চল। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও তারও বেশি পানি জমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, পথচারী এবং রিকশা-ইজিবাইকচালকেরা। একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি শুধু নাগরিক দুর্ভোগই বাড়াচ্ছে না, বরং ৮২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। বৃষ্টির পরিসংখ্যান কী বলছে? খুলনা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৭৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আরও ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এর আগে ১ জুলাই মাত্র ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে প্রশ্ন উঠছে—শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে খাল খনন, ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কারের পরও কেন মাঝারি বৃষ্টিতেই নগরজীবন অচল হয়ে পড়ছে? নাগরিকদের অভিযোগ: পানি নামতে এখন লাগে এক সপ্তাহ নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কবীর বটতলা এলাকার বাসিন্দা আলমগীর শেখ জানান, এখন প্রায় প্রতিটি বৃষ্টিতেই তাদের বাড়ির নিচতলা পানিতে ডুবে যায়। তার ভাষ্য, আগে একদিনের মধ্যে পানি নেমে গেলেও এখন একবার পানি জমলে সাত থেকে আট দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় এক বছর আগে এলাকার সড়ক ও পাশের ড্রেন প্রায় তিন ফুট উঁচু করে নির্মাণ করা হলেও বাড়িঘর থেকে ড্রেনে পানি যাওয়ার কোনো কার্যকর সংযোগ রাখা হয়নি। ফলে পানি বের হওয়ার পথই বন্ধ হয়ে গেছে। সংকুচিত খাল কি সংকটের মূল কারণ? বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুলের মতে, সমস্যার বড় একটি কারণ পরিকল্পনাহীন ড্রেনেজ উন্নয়ন। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে তালতলা খালসহ অন্তত ১৩টি প্রাকৃতিক খালের প্রস্থ ৬০ থেকে ১০০ ফুট থেকে কমিয়ে মাত্র ১২ থেকে ১৩ ফুটের কংক্রিটের ড্রেনে রূপান্তর করা হয়েছে। তার মতে, এতে শুধু পানি ধারণক্ষমতাই কমেনি, বরং স্বাভাবিক পানি প্রবাহও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। শুধু ড্রেন নয়, আরও কয়েকটি কারণ খুলনার নাগরিক নেতা অ্যাডভোকেট শামীমা সুলতানা শিলুর মতে, খাল সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি নদী ও খাল ভরাট, জলাধার দখল এবং জোয়ারের সময় রূপসা নদীর পানি শহরে প্রবেশ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। অর্থাৎ, জলাবদ্ধতার কারণ কেবল বৃষ্টিপাত নয়; নগর পরিকল্পনা, জলাধার ব্যবস্থাপনা এবং নদী-ড্রেন সংযোগের সমস্যাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সিটি করপোরেশন কী বলছে? খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান কনজারভেন্সি কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, ঢাকনাযুক্ত ড্রেন পরিষ্কারের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি সিটি করপোরেশনের নেই। তার মতে, ভারী স্ল্যাব খুলে শ্রমিকদের হাতে ড্রেন পরিষ্কার করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ। টানা বৃষ্টির কারণে সেই কাজও ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, নগরীর পানি স্বাভাবিকভাবে রূপসা নদীতে নামতে পারছে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ, অকার্যকর পাম্প হাউস, স্লুইস গেটের সীমিত সক্ষমতা এবং অনেক এলাকায় ড্রেনের তলদেশ উঁচু হয়ে যাওয়ায় সড়কের তুলনায় বাড়িঘর নিচু হয়ে পড়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি বসতবাড়িতে ঢুকে যাচ্ছে। তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত তিন মাস ধরে পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, ড্রেন পরিষ্কার এবং অকার্যকর অবকাঠামো সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যে প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি খুলনার নাগরিকদের মূল প্রশ্ন একটাই—শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও যদি মাঝারি বৃষ্টিতেই শহর বারবার পানির নিচে চলে যায়, তবে প্রকল্পের প্রকৃত সুফল কোথায়? বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ ও নাগরিকদের অভিজ্ঞতা বলছে, শুধু ড্রেন নির্মাণ নয়; প্রাকৃতিক খাল সংরক্ষণ, নদীর সঙ্গে কার্যকর সংযোগ, জলাধার রক্ষা এবং সমন্বিত নগর পরিকল্পনা ছাড়া জলাবদ্ধতার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। বর্তমান পরিস্থিতি তাই কেবল একটি মৌসুমি দুর্ভোগের গল্প নয়; এটি নগর পরিকল্পনা, অবকাঠামোর কার্যকারিতা এবং সরকারি বিনিয়োগের ফলাফল নিয়ে নতুন করে জবাবদিহির প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১১, ২০২৬ 0
চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যা: ৭.৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ত্রাণ না পৌঁছানোয় সাতকানিয়া-বাঁশখালীতে গভীর মানবিক সংকট

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানির নিচে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায়। প্রশাসনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, জেলার সাতটি উপজেলায় অন্তত ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কিন্তু দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার সহায়তা এখনও বহু মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখন সবচেয়ে বড় সংকট শুধু বন্যার পানি নয়; বরং খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও আশ্রয়ের বহুমাত্রিক সংকট। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সরকারি ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হলেও বাস্তবে অনেক মানুষ এখনও সহায়তার বাইরে রয়েছেন। সবচেয়ে সংকটে সাতকানিয়া ও বাঁশখালী জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সাতকানিয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের সবকটিই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শুধু এই উপজেলাতেই চার লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি। অন্যদিকে বাঁশখালীর পশ্চিমাঞ্চলের কাথারিয়া, বড়ইতলী, গণ্ডামারা, ডোমরা, কদমরসূল, খানখানাবাদ, বাহারছড়া, চাম্বল, ছনুয়া, শেখেরখীল, সরল, রায়ছাটা ও পুঁইছড়িসহ উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা প্রায় সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে। অনেক একতলা বাড়ি পুরোপুরি ডুবে গেছে। কাঁচা ঘর ভেঙে পড়েছে, আর পাকা ও আধাপাকা ঘরের নিচতলায় কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে গেলেও অনেকে এখনও বাড়ির ছাদ কিংবা উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। "রান্না করারও সুযোগ নেই" বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আনোয়ার সাঈফী বলেন, "বন্যার পানির কারণে ঘরে রান্না করা যাচ্ছে না। সরকারি সহায়তাও তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। খাবারের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।" স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম এলাকায় নৌযান সংকট এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বহু পরিবার এখনও ত্রাণের অপেক্ষায়। বিদ্যুৎহীন জনপদ, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর অধিকাংশ এলাকায় কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। ফলে— মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন অনেকেই। রাতে পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে থাকছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট আরও প্রকট হয়েছে। রান্না করার সুযোগ না থাকায় শুকনো খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি বন্যাকে শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং একটি মানবিক সংকটে পরিণত করেছে। প্রশাসনের দাবি বনাম বাস্তবতা জেলা প্রশাসন বলছে, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা শুক্রবার সাতকানিয়ার ঢেমশা ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকা পরিদর্শন করে ৮০০ পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ বিতরণ করেন। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল— ১ কেজি মুড়ি ১ কেজি চিড়া ১ কেজি চিনি দুটি বিস্কুট ২ লিটার বিশুদ্ধ পানি চারটি মোমবাতি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট প্রয়োজনীয় জরুরি ওষুধ তবে প্রশাসনও স্বীকার করেছে, সব এলাকায় এখনও ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। জেলা প্রশাসক বলেন, "অনেক এলাকায় সাধারণ নৌকাও পৌঁছাতে পারছে না। তাই দুর্গম এলাকায় স্পিডবোট ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে।" সেনাবাহিনীর স্পিডবোট নামছে উদ্ধার অভিযানে দুর্গম এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করতে জেলা প্রশাসনের অনুরোধে শনিবার থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার অভিযানে নামছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন এলাকায় কতটি স্পিডবোট প্রয়োজন এবং কোথায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অভিযান চালাতে হবে—সে বিষয়ে সেনাবাহিনীকে লিখিত তালিকা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সাতকানিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে সেনাবাহিনী স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সন্দ্বীপে সহায়তা করছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। পাশাপাশি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকেরাও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষয়ক্ষতির চিত্র জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী— ১৬টি উপজেলা ও মহানগরের ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত। পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০। পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৫ জন। ত্রাণের হিসাব এ পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে— ৭০০ মেট্রিক টন চাল ৬০ লাখ টাকা এর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে— ৩০০ মেট্রিক টন চাল ৪৩ লাখ টাকা ২২ হাজার ২৫০টি শুকনো খাবারের প্যাকেট ৯ হাজার ৮০০টি রান্না করা খাবারের প্যাকেট বর্তমানে প্রশাসনের মজুদে রয়েছে— আরও ৪০০ মেট্রিক টন চাল ১৭ লাখ টাকা সাতকানিয়ার জন্য আলাদাভাবে ২৫ মেট্রিক টন চাল ও ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে হাজারো মানুষ জেলায় মোট ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ২৩ হাজার ৮৫০ জন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবারেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের মতে, গত কয়েক দিনের তুলনায় বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত আরও কমলে পাহাড়ি ঢলের পানিও নেমে যেতে পারে। তবে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে সাংগু নদীর পানি, যা শনিবার বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে স্লুইসগেট সচল রাখা এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে।  শুধু বন্যা নয়, পরীক্ষায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাও চট্টগ্রামের এবারের বন্যা কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতাই নয়, দুর্গম এলাকায় দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা, উদ্ধার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী মানবিক সহায়তা ব্যবস্থার কার্যকারিতাকেও নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। যেখানে প্রশাসনের হিসাবে লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, সেখানে স্থানীয়দের অভিযোগ—ত্রাণ এখনও অনেকের কাছে পৌঁছেনি। ফলে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার সংকট যত দীর্ঘ হবে, মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিও তত বাড়বে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১১, ২০২৬ 0
নেত্রকোনায় ধর্ষণের ১৩ বছর পর আদালতের রায়: ডিএনএ পরীক্ষায় কন্যাশিশুর পিতৃত্ব নিশ্চিত, আসামির যাবজ্জীবন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া একটি কন্যাশিশুর পিতৃত্ব অবশেষে আদালতের রায়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। ঘটনার প্রায় ১৩ বছর পর ডিএনএ পরীক্ষার ফল, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং তদন্তে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন, ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া ওই শিশুটি অভিযুক্তের সন্তান হিসেবে আইনি স্বীকৃতি পাবে এবং তার পিতার সম্পত্তিতে আইন অনুযায়ী অংশীদার হওয়ার অধিকারও থাকবে। কী ঘটেছিল? আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ১ মার্চ নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার স্বল্পদশাল গ্রামের বাসিন্দা মো. আলমের ছেলে মো. হেলাল একই এলাকার এক বিধবাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ঘটনার নয় দিন পর, ১০ মার্চ, ভুক্তভোগীর বোন বারহাট্টা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে ভুক্তভোগীর গর্ভে জন্ম নেওয়া কন্যাশিশু এবং অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে অভিযুক্তের পিতৃত্ব নিশ্চিত হলে আদালত সেটিকে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ বুধবার দুপুরে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক একেএম এমদাদুল হক রায় ঘোষণা করেন। আদালত পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র, আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্য, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং মামলার অন্যান্য উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত মো. হেলালকে দোষী সাব্যস্ত করেন। রায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে অতিরিক্ত কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর মৃত্যু, সন্তানের আইনি পরিচয় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নূরুল কবীর রুবেল জানান, ধর্ষণের শিকার নারী সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রায় এক বছর পর স্বাভাবিকভাবে মারা যান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই রায়ের মাধ্যমে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া শিশুটি তার পিতৃত্বের আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে। পাশাপাশি আদালত উল্লেখ করেছেন, শিশুটি তার বাবার সম্পত্তিতে আইনগত অংশ পাওয়ার অধিকারী হবে। মামলার আইনজীবীরা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন নূরুল কবীর রুবেল। বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী মানবেন্দ্র বিশ্বাস উজ্জ্বল। কেন এই রায় গুরুত্বপূর্ণ? এই মামলার অন্যতম তাৎপর্য হলো, ফৌজদারি বিচারে ডিএনএ পরীক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে আদালত শুধু ধর্ষণের অভিযোগই প্রমাণ করেননি, একই সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া শিশুর পিতৃত্বও আইনগতভাবে নিশ্চিত করেছেন। এ ধরনের রায় ভবিষ্যতে যৌন সহিংসতার মামলায় বৈজ্ঞানিক প্রমাণের গুরুত্ব এবং ভুক্তভোগীর সন্তানের আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৯, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0