ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফাতে ইরানের সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। আরও দেখুন ফটো গ্যালারি অনলাইন চাকরির প্ল্যাটফর্ম স্বাস্থ্য বীমা ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলায় একটি আবাসিক ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া দেশটির জরুরি চিকিৎসা সেবার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। ইসরায়েলের হাইফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ভবন ধ্বংস ফ্রান্সের কাছ থেকে দুঃসংবাদ পেল ইসরায়েল ঘটনার পর এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে ফ্রান্স জানিয়েছে, ইসরায়েলকে তারা কোনো আক্রমণাত্মক অস্ত্র সরবরাহ করছে না। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কোনো অস্ত্র দেওয়া হচ্ছে না। রোববার প্রেসটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্যাথরিন ভোত্রাঁ এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে বলেন, “না, ফ্রান্স ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ করছে না। ” তবে তিনি উল্লেখ করেন, ফ্রান্স কিছু উপাদান বিক্রির অনুমতি দিয়েছে, যা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়। যেমন, আয়রন ডোমে ব্যবহারের জন্য প্রজেক্টাইল। সে সঙ্গে কিছু সরঞ্জাম রয়েছে যার একটি অংশ ফরাসি সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনেও ব্যবহৃত হয়। এর কয়েকদিন আগেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসনে অংশ নেবে না ফ্রান্স।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইতালির উপকূলে থাকা দু’টি বণিক জাহাজ একটি নৌকা থেকে ৩২ জন অভিবাসপ্রত্যাশীকে জীবিত উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি দুই অভিবাসনপ্রত্যাশীর মরদেহও উদ্ধার করেছে তারা। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহন করা নৌকাটি লিবিয়া থেকে ছেড়ে এসেছিল। জীবিত উদ্ধার হওয়াদের বরাতে উদ্ধারকারী দাতব্য সংস্থাগুলো জানিয়েছে, অন্তত ৮০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী সাগরে নিখোঁজ হয়েছে। ইউরোপমুখী অভিবাসনের বিপজ্জনক রুট আবারও প্রাণ কেড়ে নিল অসংখ্য মানুষের। উত্তর আফ্রিকার উপকূল থেকে ছেড়ে আসা একটি ছোট নৌকার ট্র্যাজেডি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়—এটি একটি বৃহত্তর মানবিক সংকটের নির্মম প্রতিচ্ছবি। ঘটনাটির পুনর্গঠন শনিবার, লিবিয়ার উপকূলীয় এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করে একটি ছোট, অপ্রস্তুত নৌকা। গন্তব্য—ইউরোপ। নৌকাটিতে ছিলেন শতাধিক মানুষ, যাদের অধিকাংশই যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তা থেকে পালিয়ে নতুন জীবনের আশায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। জীবিত উদ্ধার হওয়াদের বয়ানে জানা যায়, নৌকাটি লিবিয়ার তাজোরা বন্দর থেকে ছেড়ে আসে। যাত্রার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বৈরি আবহাওয়া শুরু হয়—উঁচু ঢেউ, তীব্র বাতাস, আর এক অনিশ্চিত সমুদ্র। এই পরিস্থিতিতে নৌকাটি উল্টে যায়, তখনও সেটি লিবিয়ার জলসীমার মধ্যেই ছিল। উদ্ধার অভিযান: বিলম্ব, বিভ্রান্তি ও সীমিত সক্ষমতা জার্মান দাতব্য সংস্থা সী-ওয়াচ-এর একটি নজরদারি বিমান প্রথম বিপদগ্রস্ত নৌকাটির সন্ধান পায়। তাদের বিবরণ অনুযায়ী, উল্টে যাওয়া কাঠের নৌকার সঙ্গে আঁকড়ে ধরে ছিলেন প্রায় ১৫ জন। চারপাশে ভাসছিল আরও মানুষ—কেউ জীবিত, কেউ মৃত। পরবর্তীতে ভূমধ্যসাগরীয় মানুষ বাঁচানো এবং-সী-ওয়াচ এর সহায়তায় উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। ইতালীয় ও লিবীয় বাণিজ্যিক জাহাজও এতে অংশ নেয়। উদ্ধার হওয়া ৩২ জনকে ইতালির কোস্ট গার্ডের একটি টহল নৌকায় স্থানান্তর করা হয় এবং পরে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় ল্যাম্পেদুসা দ্বীপ-এ—যা ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান দরজা হয়ে উঠেছে। নিখোঁজদের রহস্য উদ্ধার পাওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্যমতে, অন্তত ৮০ জন এখনও নিখোঁজ। আন্তর্জাতিক সংস্থা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এবং ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। প্রশ্ন উঠছে—উদ্ধার অভিযান কি যথাসময়ে শুরু হয়েছিল? পর্যাপ্ত নজরদারি ও সমন্বয় থাকলে কি আরও প্রাণ বাঁচানো যেত? কারা ছিলেন এই যাত্রীরা? ইতালীয় কোস্ট গার্ডের মুখপাত্রের তথ্য অনুযায়ী, জীবিতদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং মিসর-এর নাগরিকরা। তাদের মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে। এই তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ—কারণ এটি দেখায়, এই বিপজ্জনক রুট শুধু আফ্রিকানদের নয়, দক্ষিণ এশিয়ার মানুষদের কাছেও একটি মরিয়া বিকল্প হয়ে উঠেছে। বিপজ্জনক রুট, অপ্রস্তুত নৌকা ইউএনএইচসিআর -এর মুখপাত্র ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের হালকা নৌকা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয়। তবুও মানবপাচারকারী চক্রগুলো নিয়মিত এমন নৌকা ব্যবহার করছে—অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে, কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই। বৃহত্তর প্রেক্ষাপট: একটি চলমান মানবিক সংকট ভূমধ্যসাগর দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী অভিবাসন রুট। লিবিয়া থেকে ইতালি—এই পথটি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, যেখানে মানবপাচারকারী নেটওয়ার্ক, দুর্বল আইন প্রয়োগ, এবং সীমিত উদ্ধার সক্ষমতা মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক ভয়াবহ বাস্তবতা। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হলো— নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন পথের অভাব আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের ঘাটতি এবং মানবপাচার চক্রের দৌরাত্ম্য এই ডুবন্ত নৌকাটি কেবল একটি সংখ্যা নয়—এটি শতাধিক জীবনের গল্প, যাদের অনেকেই হয়তো আর কখনও খুঁজে পাওয়া যাবে না। ভূমধ্যসাগরের ঢেউ শুধু দেহ ভাসায় না, ভাসিয়ে নিয়ে যায় স্বপ্ন, পরিবার, আর ভবিষ্যৎ। প্রশ্ন এখন একটাই—এই মৃত্যু মিছিল থামাতে বিশ্ব কতটা প্রস্তুত?
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইরান সরকার হরমুজ প্রণালিতে জরুরি পণ্যবাহী জাহাজের জন্য চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, বন্দর অভিমুখে আসা জাহাজগুলো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এই প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে ইরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছিল। হরমুজ প্রণালিটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথে সরবরাহ হয়। তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুমতির মানে এই নয় যে প্রণালিটি সকল জাহাজের জন্য উন্মুক্ত। জাহাজগুলোকে অবশ্যই ইরানি কর্তৃপক্ষের কঠোর নিয়মাবলী অনুসরণ করতে হবে। বিশেষভাবে খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী আমদানি সচল রাখার উদ্দেশ্যেই তেহরান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ নিয়ে চলমান উদ্বেগের মধ্যে, ইরানের এই নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র গোপনে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের এক উপ-প্রতিনিধিকে বহিষ্কার করেছে বলে জানা গেছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ দেখিয়ে গত ডিসেম্বরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওজের বরাতে তুর্কি গণমাধ্যম ইয়েনি শাফাক শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বহিষ্কৃত ওই কূটনীতিক সাদাত আগাজানি, যিনি জাতিসংঘে ইরানের ডেপুটি প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাকে ডিসেম্বরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। ইয়েনি শাফাক জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ‘সেকশন ১৩’ নামে একটি বিশেষ অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া ব্যবহার করে তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। সাধারণত কূটনীতিকদের ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করে বহিষ্কার করা হলেও, এই পদ্ধতিতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয় না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগাজানির সন্তানদেরও ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর আগে একই ধরনের প্রক্রিয়ায় আরও অন্তত দুইজন ইরানি কূটনীতিককে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে নিউইয়র্কে অবস্থানরত ইরানি কূটনীতিকদের চলাচল ম্যানহাটনের কেন্দ্র থেকে ২৫ মাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে অন্তত একজন এই নিয়ম লঙ্ঘন করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘে কর্মরত কিছু ইরানি কর্মকর্তার বিষয়ে একটি ‘নোট ভার্বাল’ জারি করা হয়েছিল। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপটি ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের অনেক আগেই নেওয়া হয়েছিল এবং এর সঙ্গে ওই ঘটনাগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই।
ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে চীন থেকে ইরানে রাসায়নিক বহনকারী একাধিক জাহাজ পৌঁছানোর খবর নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু বাণিজ্যিক লেনদেন নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত ভূরাজনৈতিক পদক্ষেপ হতে পারে। ব্রিটিশ গণমাধ্যমের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে অন্তত চারটি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ দেশটির বিভিন্ন বন্দরে নোঙর করেছে। আরও একটি জাহাজ উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। এসব জাহাজ চীনের ঝুহাইয়ের গাওলান বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এসব জাহাজে বহন করা হয়েছে সোডিয়াম পারক্লোরেট—যা কঠিন জ্বালানিভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাদের মতে, এই পরিমাণ কাঁচামাল দিয়ে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা সম্ভব। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের মধ্যেই ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই ধরনের আমদানি সেই প্রচেষ্টারই ইঙ্গিত বহন করে। অন্যদিকে, মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এখনও অক্ষত রয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হলেও দেশটি পুরোপুরি উৎপাদনক্ষমতা হারায়নি এবং বিকল্প বা বিচ্ছিন্ন ব্যবস্থায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এসব জাহাজ রাষ্ট্রায়ত্ত শিপিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। নজরদারি এড়াতে তারা স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এআইএস) বন্ধ রাখা, ভুয়া গন্তব্য দেখানো এবং জাহাজের নাম পরিবর্তনের মতো কৌশল ব্যবহার করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সরবরাহের সময়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, চলমান সংঘাতে ইরান ব্যাপক হারে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করায় তাদের মজুদ দ্রুত কমে আসছে। একই সঙ্গে অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। নতুন কাঁচামাল সরবরাহ দেশটির আক্রমণাত্মক সক্ষমতা আরও কিছুদিন ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েকটি জাহাজের সক্ষমতা বিবেচনায় ইরান প্রায় ৭৮৫টি অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির মতো কাঁচামাল সংগ্রহ করেছে। এতে দেশটি অন্তত আরও এক মাস প্রতিদিন ১০ থেকে ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। চীনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও বেইজিং সরাসরি সামরিক সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্যিক পণ্যের আড়ালে কৌশলগতভাবে এই ধরনের সরবরাহ অব্যাহত রাখা হচ্ছে। তবে এই কৌশল ঝুঁকিমুক্ত নয়। উপসাগরীয় অঞ্চলে চীনের বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিনিয়োগ রয়েছে, যা চলমান সংঘাতের কারণে হুমকির মুখে পড়তে পারে। ফলে বেইজিংকে এখন সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রেখে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশল পরিচালনা করতে হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক : ইরানের আকাশে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা মার্কিন বাহিনীর জন্য এক বিরল এবং বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ২০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম যুদ্ধের ময়দানে কোনও মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলো। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দাবি করছেন যে ইরানের সামরিক শক্তি ‘পুরোপুরি বিধ্বস্ত’ হয়ে গেছে, তখন এই ঘটনা তেহরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতাকেই প্রমাণ করছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, শুক্রবার একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এতে থাকা দুজন ক্রু সদস্যের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্যজনের খোঁজে এখনও তল্লাশি চলছে। এ ছাড়া ইরানের রাষ্ট্রীয় মাধ্যম দাবি করেছে, তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীর আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এ-১০ অ্যাটাক এয়ারক্রাফটও বিধ্বস্ত হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ফোর্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিউস্টন কান্টওয়েল জানান, এর আগে সর্বশেষ ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট ২ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল। তিনি বলেন, গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্র মূলত এমন সব বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে যাদের শক্তিশালী বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা ছিল না। ফলে এত দীর্ঘ সময় কোনও বিমান না হারানোটা ছিল অলৌকিক ঘটনার মতো। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা এখানে প্রতিদিন যুদ্ধের ময়দানে উড়ছি এবং তারা প্রতিদিন আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ সপ্তাহে ইরান যুদ্ধে আমেরিকান বাহিনী ১৩ হাজারের বেশি মিশন পরিচালনা করেছে এবং ১২ হাজার ৩০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ার ক্ষমতা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। তবে রণক্ষেত্রের বাস্তব চিত্র বলছে, ইরান এখনও একটি শক্তিশালী ও সংকল্পবদ্ধ প্রতিপক্ষ। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি বরং এটি এখনও সক্রিয়। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্র্যাসিস-এর পরিচালক বেহনাম বেন তালেবলু বলেন, একটি নিষ্ক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মানেই ধ্বংস হওয়া ব্যবস্থা নয়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মার্কিন বিমানগুলো নিচু দিয়ে ওড়ার কারণে সেগুলো ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া সহজ হয়েছে। মার্ক ক্যানসিয়ান নামে একজন অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্নেল জানান, বিমানটি ভূপাতিত করতে সম্ভবত কাঁধে রেখে ছোড়া কোনও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলো শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন এবং এটিই প্রমাণ করে যে ইরান দুর্বল হলেও এখনও প্রাণঘাতী। মার্ক ক্যানসিয়ান আরও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন বিমানের ক্ষতির হার ছিল ৩ শতাংশ, যা এই যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রায় ৩৫০টি বিমানের সমান। সেই তুলনায় এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হলেও এর একটি রাজনৈতিক দিক রয়েছে। তার মতে, আমেরিকার সাধারণ মানুষ ‘রক্তপাতহীন’ যুদ্ধে অভ্যস্ত। দেশের একটি বড় অংশ এই যুদ্ধ সমর্থন করে না, তাই তাদের কাছে যেকোনও একটি ছোট ক্ষতিও অগ্রহণযোগ্য। পাইলটদের প্রশিক্ষণে শেখানো হয় বিমান থেকে প্যারাসুট নিয়ে লাফিয়ে পড়ার পর কীভাবে নিজেদের অবস্থান উদ্ধারকারীদের জানানো যায়। তবে শত্রু পক্ষ সব সময় সেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার বা ভুল অবস্থান দেখানোর চেষ্টা করে। শুক্রবারের এই উদ্ধার অভিযানে মূলত হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছে, যা অন্য বিমানের তুলনায় ধীরগতির হওয়ায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। ১৯৮০ সালে তেহরান থেকে মার্কিন জিম্মি উদ্ধারের ব্যর্থ অভিযানেও হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে আটজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেন।
ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা ও কৌশল নিয়ে। বিশ্লেষকদের একাংশ এই যুদ্ধকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘স্বেচ্ছায় চাপিয়ে দেওয়া সংঘাত’ হিসেবে দেখছেন, যার আইনি ভিত্তি নিয়ে রয়েছে গুরুতর প্রশ্ন। সমালোচকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের ওপর আসন্ন হামলার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে এই সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে কতটা বৈধ—তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বিবিসির আন্তর্জাতিক সম্পাদক জেরেমি বোয়েন তার বিশ্লেষণে ট্রাম্পের অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য—বিশেষ করে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি—আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধনীতির দৃষ্টিতে অত্যন্ত উদ্বেগজনক, এমনকি তা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে। আন্তর্জাতিক যুদ্ধনীতি অনুযায়ী, যেকোনো সামরিক অভিযানে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং হুমকির মাত্রা অনুযায়ী শক্তি প্রয়োগ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ট্রাম্পের বক্তব্য ও পদক্ষেপে এই নীতিগুলোর প্রতিফলন খুব কমই দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিশ্লেষকরা। তেহরান ও কারাজ সংযোগকারী একটি সেতুতে মার্কিন হামলার ঘটনাটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সামগ্রিকভাবে ট্রাম্পের নীতিতে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ও নিয়ম-নীতির প্রতি অনীহা স্পষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে। অনেকের মতে, তার কৌশল ‘জোর যার মুল্লুক তার’—এই দর্শনের প্রতিফলন। সম্প্রতি দেওয়া ট্রাম্পের ১৯ মিনিটের ভাষণেও তার অবস্থানের দ্রুত পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বোয়েনের ভাষায়, এটি ‘কৌশলগত অনিশ্চয়তা’র একটি উদাহরণ—যেখানে একদিকে তিনি পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন, অন্যদিকে কার্যকর কোনো সমঝোতার দিকেও এগোতে পারছেন না। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, যদি যুক্তরাষ্ট্র স্থলবাহিনী মোতায়েন করে, তবে তা উল্টো ইরানের জন্য কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে। কারণ, ইরান দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে প্রতিপক্ষকে জড়িয়ে ফেলতে আগ্রহী—যেখানে সময়ই হয়ে ওঠে তাদের প্রধান শক্তি। রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতায় দেখা গেছে, তুলনামূলক দুর্বল দেশও ‘অসম যুদ্ধে’ শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে দীর্ঘ সময় ধরে চাপে রাখতে সক্ষম। এ ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী ইরানের হাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকস্মিক ইরানে বিমান হামলা শুরু করে এবং তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অনেক শীর্ষ নেতাকে হত্যা করে। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত আগ্রাসনবাদী বাহিনী এক হাজার ৪০০ জনের মতো ইরানিকে হত্যা করেছে। ওই উসকানিমূলক হামলার জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে ইরান। একইসঙ্গে তারা বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এই হরমুজ প্রণালী ইরানের কব্জায় যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে বেকায়দায় পড়েছে। তাদের ওপর আরব ও ইউরোপীয় অঞ্চলের মিত্রদের চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র বলপ্রয়োগের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী উদ্ধার করতে ইউরোপীয়দের যুদ্ধে ডাকলেও সাড়া পাচ্ছে না। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানির মতো দেশগুলোর নেতারা বলছেন, এই যুদ্ধ তাদের নয়। এমনকি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কম কথা বলারও পরামর্শ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে শুক্রবার ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আরও কিছুটা সময় পেলে আমরা খুব সহজেই হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করতে পারি। (সেখানকার) তেল দখল করে আমরা প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারি। এটি কি বিশ্বের জন্য একটি তেলের খনি হবে না?’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের কারাজ শহরে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল আলোচিত সেতু ধ্বংস হয়েছে। এতে কমপক্ষে আটজন নিহত ও ৯৫ জন আহত হয়েছে। হামলার পরপরই কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশ ও জর্ডানের আটটি প্রধান সেতুর একটি হিট লিস্ট প্রকাশ করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দেশটির সর্বোচ্চ বি১ সেতুতে দুই দফায় এই হামলা চালানো হয়। ১৩৬ মিটার উঁচু নির্মাণাধীন এ সেতুটি তেহরানকে পশ্চিমের শহর কারাজের সঙ্গে সংযুক্ত করছে। হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও পোস্ট করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সবচেয়ে বড় সেতুটি ধ্বংস হয়ে গেছে। বেশি দেরি হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে রাজি হওয়া উচিত তেহরানের। প্রকাশিত হিট লিস্টে উল্লেখিত সেতুগুলো হলো-কুয়েতের শেখ জাবের আল-আহমাদ আল-সাবাহ সমুদ্র সেতু, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেখ জায়েদ সেতু, আল মাকতা সেতু ও শেখ খলিফা সেতু, সৌদি আরব-বাহরাইন সংযোগকারী কিং ফাহদ কজওয়ে সেতু, জর্ডানের কিং হুসেন ব্রিজ, দামিয়া ব্রিজ ও আবদুন ব্রিজ। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, নির্মাণাধীন বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারবে না। বরং এটি শত্রুর নৈতিক পতন ও চরম পরাজয়ের বার্তা বহন করে।
ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে সৌদি আরব ও লেবাননকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক ঘটনাবলীতে। সৌদি আরবের আকাশসীমায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও একাধিক ড্রোন হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুপুরের দিকে আকাশে চারটি অজ্ঞাত উড়োজাহাজ, কয়েকটি ড্রোন এবং একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়। একজন মুখপাত্র জানান, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে সবগুলো লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি পূর্বাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল বলে জানানো হয়। এ ঘটনায় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে একই সময়ে লেবাননে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় জল, স্থল ও আকাশপথে সমন্বিত হামলায় ৪০ জনের বেশি হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এক বিবৃতিতে বলা হয়, লেবাননের বিভিন্ন স্থানে হিজবুল্লাহর সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে স্থলবাহিনী অভিযান চালিয়ে হিজবুল্লাহর কয়েকটি সেল ধ্বংস করেছে। এছাড়া নৌবাহিনীও একটি অস্ত্র গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ইরান দাবি করেছে যে তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি জানিয়েছে, বুধবার (১ এপ্রিল) চালানো এই অভিযানে ১০০টিরও বেশি ভারী ক্ষেপণাস্ত্র, আক্রমণকারী ড্রোন এবং অন্তত ২০০টি রকেট ব্যবহার করা হয়েছে। আল-জাজিরা-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলা ইরান এবং তাদের মিত্র “প্রতিরোধ ফ্রন্ট” যৌথভাবে পরিচালনা করেছে। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল-এর বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা, পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। তাদের দাবি, বাহরাইন-এ অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটি এবং কুয়েত-এর আল-আদিরি ঘাঁটিতে থাকা একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ইউনিট লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে একটি হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে বলেও তারা দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, এই হামলা “পূর্ণ তীব্রতা ও শক্তি” নিয়ে অব্যাহত থাকবে। তবে এই হামলার বিষয়ে এখনও যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করা একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। হামলার ফলে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং এর কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দুবাই কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার সংঘটিত এই হামলার পরপরই নৌ-অগ্নিনির্বাপক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর মঙ্গলবার ভোরে আগুন সম্পূর্ণভাবে নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়। জাহাজে থাকা ২৪ জন ক্রু সদস্য সবাই নিরাপদ রয়েছেন এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা জানিয়েছে, ‘আল-সালমি’ নামের জাহাজটি কুয়েত ও সৌদি আরব থেকে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে চীনের চিংদাও বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। জাহাজটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) জানিয়েছে, হামলার কারণে সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দেন যে, হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেল স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার সঙ্গে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। হামলার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। তবে পরবর্তীতে এক প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী—এমন ইঙ্গিত পাওয়ায় বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয়। ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে কেপিসি। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দুবাই কর্তৃপক্ষ।
ইত্তেহাদ অনলাইন নিউজ ডেস্ক :ইরানের মাশহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ একটি বেসামরিক বিমানে হামলার ঘটনা ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে পশ্চিম এশিয়ায়। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির বেসরকারি বিমান সংস্থা মাহান এয়ার-এর একটি বিমান নয়াদিল্লিতে মানবিক ত্রাণ সংগ্রহে যাওয়ার আগে হামলার শিকার হয়। তেহরান এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীকে দায়ী করে বলেছে, এটি একটি পরিকল্পিত মানবিক মিশন ব্যাহত করার প্রচেষ্টা। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর সরকার জানিয়েছে, বিমানটি ভারতের দিল্লি থেকে প্রায় ১১ টন মানবিক সহায়তা—যার মধ্যে ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও খাদ্য ছিল—আনার কথা ছিল। এই ঘটনার পর পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর ইরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে হামলায় একাধিক যাত্রী ও পণ্যবাহী বিমান ধ্বংস হয়। সে সময় ইসরায়েল দাবি করেছিল, ওই উড়োজাহাজগুলো ইরানের অভিজাত সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর এবং তাদের বিশেষ ইউনিট কুদস ফোর্স গোপনে ব্যবহার করত। তবে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রে সেগুলো সাধারণ বেসামরিক বিমান বলেই দাবি করা হয়। সাম্প্রতিক ঘটনায় ইসরায়েল আরও অভিযোগ করেছে, ইরান বাণিজ্যিক ফ্লাইট—বিশেষ করে মাহান এয়ারের মতো সংস্থা—ব্যবহার করে রাশিয়ার কাছে অস্ত্র সরবরাহ করছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত। এদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই গত ১৮ মার্চ ভারত প্রথমবারের মতো ইরানে মানবিক সহায়তা পাঠায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-এর সরকার এটিকে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে।
ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামির সতর্ক করেছেন যে, একাধিক ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধের চাপ ও চরম জনবল সংকটের কারণে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ভেঙে পড়ার পথে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, গাজা, লেবানন, সিরিয়া এবং পশ্চিম তীরসহ একাধিক সক্রিয় ফ্রন্টে সেনাবাহিনী কাজ করছে, যেখানে দিন দিন সেনাসদস্যের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসরায়েলের নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে জামির বলেন, “সামরিক বাহিনী গভীর অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, যার প্রধান কারণ চরম জনবলসংকট।” তিনি আরও বলেন, রিজার্ভ বাহিনী এই চাপ সহ্য করতে পারবে না। জামির হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, কট্টর অর্থোডক্স বা ‘হারেদি’ ইহুদিদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ, রিজার্ভ আইন সংশোধন এবং বাধ্যতামূলক চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধিসহ কাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারের ব্যর্থতা সেনার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি বৈঠকে বলেন, “আমি ১০টি লাল পতাকা দেখাচ্ছি।” পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিরিক্ত ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে, যা আগে থেকেই চাপে থাকা সেনাদের ওপর আরও ধকল তৈরি করছে। জামির সতর্ক করে বলেন, এই চাপ অব্যাহত থাকলে সেনাবাহিনী এমনকি স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও তাদের মিশনগুলো সম্পন্ন করতে পারবে না। তিনি এটিকে ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের ধস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক ফ্রন্টে চাপ বেড়ে যাওয়ায় ইসরায়েলের সামরিক প্রস্তুতি ও রিজার্ভ নীতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।
ওমান উপকূলের কাছে একটি মার্কিন সামরিক সহায়তাকারী জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। আইআরজিসির খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওমান-এর সালালাহ বন্দরের কাছাকাছি আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানরত একটি মার্কিন সামরিক সহায়তাকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। মার্কিন পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ ওমানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে এবং এ হামলা কোনোভাবেই ওমানের বিরুদ্ধে নয়। বরং এটি নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তু কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর ও আশপাশের জলসীমায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ঘটনার পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো, এবং কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত প্রযুক্তির আরও উন্নত সংস্করণ সংবলিত ড্রোন ইরানে পাঠাচ্ছে—এমন দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের একাধিক কর্মকর্তা। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এই তথ্য জানিয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, ইরান গত এক মাসের বেশি সময় ধরে ইসরায়েল, উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। যদিও তেহরানের নিজস্ব শাহেদ ড্রোন রয়েছে, তবে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এসব ড্রোনকে আরও উন্নত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নেভিগেশন ব্যবস্থা, জ্যামার প্রতিরোধী প্রযুক্তি এবং লক্ষ্যভেদ ক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি আনা হয়েছে বলে দাবি ইউরোপীয় গোয়েন্দা সূত্রগুলোর। একজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতি মাসেই রাশিয়া থেকে ইরানে ড্রোন সরবরাহ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সক্রিয় আলোচনা হয়েছে। চালান কত বড়, স্পষ্ট নয় মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, এটি এককালীন চালান নাকি ধারাবাহিক সরবরাহের অংশ—তা এখনও পরিষ্কার নয়। ড্রোনের সংখ্যা বা এর সামরিক প্রভাব সম্পর্কেও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা মনে করেন, সীমিত সংখ্যক ড্রোন যুদ্ধের গতিপথে বড় পরিবর্তন আনবে না। বরং এটি দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের প্রতীকী পদক্ষেপও হতে পারে। পরিবহনের পথ নিয়ে জল্পনা ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের দাবি, রাশিয়ার একটি ড্রোন চালান ইতোমধ্যে পথে রয়েছে। যদিও কীভাবে তা পরিবহন করা হচ্ছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সম্প্রতি আজারবাইজান হয়ে ট্রাকে করে রাশিয়ার মানবিক সহায়তার কনভয় ইরানে প্রবেশ করেছে। এতে ড্রোন থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব ট্রাকে খাদ্য ও ওষুধ ছিল। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন কী কী? বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া শাহেদ ড্রোনে উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এনেছে। এর মধ্যে রয়েছে— কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) উন্নত ক্যামেরা জ্যামার প্রতিরোধী ব্যবস্থা জেট ইঞ্জিন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সংযোগ (স্টারলিংক প্রযুক্তি) এই পরিবর্তনের ফলে ড্রোনগুলো আরও দ্রুত, নির্ভুল এবং প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অন্য দেশ ইরানকে কী সরবরাহ করছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে বড় প্রভাব ফেলছে না। তার দাবি, মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং ১৪০টিরও বেশি ইরানি নৌযান ধ্বংস করেছে। এতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন চ্যালেঞ্জ বিশেষজ্ঞদের মতে, জেট ইঞ্জিনচালিত দ্রুতগতির ড্রোনগুলো মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেমের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ ধরনের ড্রোন প্রতিহত করতে উন্নত ও ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে, যার মজুদ সীমিত। রাশিয়া-ইরান সম্পর্কের পটভূমি ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ডলারের ড্রোন চুক্তি হয়। পরবর্তীতে রাশিয়ার ভেতরেই ড্রোন উৎপাদন শুরু হয়। তবে দুই দেশের সম্পর্ক সবসময় মসৃণ ছিল না। ২০২৫ সালে ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে রাশিয়ার নিষ্ক্রিয়তায় তেহরান অসন্তুষ্ট হয়েছিল। এদিকে, ড্রোন সরবরাহের বিষয়ে রুশ ক্রেমলিনের মুখপাত্র এই দাবিকে “ভুয়া খবর” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় আবারও বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গ্রিসের উপকূলে একটি রাবারের নৌকায় ছয় দিন সমুদ্রে ভেসে থাকার পর অন্তত ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কোস্টগার্ড। শনিবার (২৮ মার্চ) জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। গ্রিক কোস্টগার্ড জানায়, ইউরোপীয় সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থা ফ্রনটেক্সের একটি জাহাজ শুক্রবার গভীর রাতে Crete দ্বীপের কাছে অভিযান চালিয়ে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে একজন নারী ও একজন নাবালক রয়েছে। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ জানায়, বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিক এবং একজন চাদের নাগরিক রয়েছেন। আহত দুইজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটি ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার বন্দর শহর তোবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। এই রুটটি ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ পথ হিসেবে পরিচিত। যাত্রাপথে নৌকাটি দিক হারিয়ে ফেলে এবং যাত্রীরা খাবার ও পানীয় ছাড়াই টানা ছয় দিন সমুদ্রে ভেসে থাকেন। এতে চরম ক্লান্তি, পানিশূন্যতা ও অনাহারে একে একে ২২ জনের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের বরাতে কোস্টগার্ড জানায়, মৃতদের মরদেহ একজন পাচারকারীর নির্দেশে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গ্রিক কর্তৃপক্ষ দুইজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিককে গ্রেফতার করেছে। তাদের বয়স ১৯ ও ২২ বছর। তাদের মানবপাচারকারী সন্দেহে আটক করা হয়েছে এবং অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ ও অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগে তদন্ত চলছে। কোস্টগার্ডের এক মুখপাত্র জানান, যাত্রাপথে নৌকাটি প্রতিকূল আবহাওয়ার মুখোমুখি হয়েছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। এদিকে, আন্তর্জাতিক সংস্থা আইওএম-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ৫৫৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর আগে, গত ডিসেম্বরে ক্রিটের দক্ষিণ-পশ্চিমে ডুবে যাওয়া একটি নৌকা থেকে ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তখন মাত্র দুইজনকে জীবিত পাওয়া যায় এবং আরও ১৫ জন নিখোঁজ থাকেন, যাদের মৃত বলে ধারণা করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ, দারিদ্র্য এবং উন্নত জীবনের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রা অব্যাহত থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা বাড়ছে।
ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি প্রথমবারের মতো সরাসরি ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। শনিবার (২৮ মার্চ) আল জাজিরা-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ-এর অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি বলেছেন, গত আড়াই বছরে হুতিদের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তার মতে, “হুতিরা চাইলে বাব আল-মান্দাব প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিতে পারে। এতে লোহিত সাগর-এ প্রবেশের পথ ব্যাহত হবে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়বে সুয়েজ খাল-এর ওপর।” বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে বিশ্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট—হরমুজ প্রণালি এবং সুয়েজ খাল—একযোগে ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এই দুই পথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এর প্রভাব হতে পারে বৈশ্বিক এবং সুদূরপ্রসারী। আকাশ প্রতিরক্ষায় বাড়তি চাপ মোহাম্মদ এলমাসরি আরও বলেন, হুতিদের ধারাবাহিক হামলা ইসরায়েলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। “ইসরায়েল সামরিকভাবে শক্তিশালী হলেও তারা পুরোপুরি অপ্রতিরোধ্য নয়,”—বলেন তিনি। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে হিজবুল্লাহ-এর রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং ইরান-এর আক্রমণ ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এখন ইয়েমেন থেকেও হামলা অব্যাহত থাকলে সেই চাপ আরও বাড়বে। রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ তবে এই পরিস্থিতির একটি রাজনৈতিক দিকও রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এলমাসরি বলেন, “এক অর্থে ইসরায়েল এই পরিস্থিতিকে স্বাগতও জানাতে পারে।” তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যেন দ্রুত এই সংঘাত থেকে সরে না আসে—এটি ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থের অংশ হতে পারে। কারণ, তাদের সামরিক ও রাজনৈতিক লক্ষ্য এখনও পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। বৈশ্বিক উদ্বেগ বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত হয়, তবে তা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেলের ব্যক্তিগত ইমেইল ইনবক্স হ্যাক করার দাবি করেছে ইরান-ভিত্তিক একটি হ্যাকার গোষ্ঠী। তারা অনলাইনে প্যাটেলের কিছু ব্যক্তিগত ছবি ও জীবনবৃত্তান্ত প্রকাশ করেছে বলেও জানিয়েছে। রয়টার্স ও জেরুজালেম পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, ‘হানদালা হ্যাক টিম’ নামের একটি গোষ্ঠী এই সাইবার হামলার পেছনে জড়িত বলে দাবি করছে। গোষ্ঠীটি বলেছে, প্যাটেল এখন সেই তালিকায় যুক্ত হলেন, যেখানে আগে হ্যাকিংয়ের শিকার ব্যক্তিদের নাম রয়েছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই হয়নি রয়টার্স জানিয়েছে, হ্যাকারদের প্রকাশ করা ইমেইল ও তথ্যের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রকাশিত ডেটার মধ্যে ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক যোগাযোগের মিশ্রণ রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া মার্কিন বিচার বিভাগের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে প্যাটেলের ইমেইল অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ ঘটেছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। অন্যদিকে, এফবিআই এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে, অভিযোগের বিষয়ে হ্যাকার গোষ্ঠীর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ এই ঘটনার পর উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত ইমেইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা এবং শক্তিশালী সাইবার সুরক্ষা ব্যবস্থা জরুরি।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলমান এই অচলাবস্থার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজে সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ—উভয় ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বর্তমানে প্রণালির উভয় পাশে প্রায় দুই হাজার জাহাজ আটকে রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ইরানের অবরোধ, হুমকি এবং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং তেলবাহী জাহাজগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তায় পারাপারের পরিকল্পনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে এখনো কৌশলগতভাবে এগিয়ে রয়েছে ইরান। এর পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে—ভৌগোলিক অবস্থান, অপ্রচলিত সামরিক কৌশল এবং অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ। ভৌগোলিক সুবিধা পারস্য উপসাগরের এই প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ মাত্র ২৪ মাইল প্রশস্ত। ফলে জাহাজ চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট সংকীর্ণ পথ ব্যবহার করতে হয়। এই ‘চোকপয়েন্ট’ পরিস্থিতি ইরানকে সহজে নজরদারি ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে বাড়তি সুবিধা দেয়। ইরানের দীর্ঘ উপকূলরেখা ও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতিও প্রতিরক্ষা এবং আক্রমণ—উভয় ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। অপ্রচলিত যুদ্ধকৌশল বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অন্যতম বড় শক্তি তার অপ্রচলিত সামরিক কৌশল। ড্রোন, দ্রুতগামী ছোট নৌযান, বিস্ফোরকবোঝাই মানববিহীন নৌযান এবং সমুদ্র মাইন ব্যবহার করে তারা বড় নৌবাহিনীর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এছাড়া সাধারণ জাহাজ থেকেও মাইন পেতে রাখার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে, যা শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা ইরানের জন্য অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু জাহাজকে নিরাপদে পারাপারের জন্য অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বৈশ্বিক উদ্বেগ হরমুজ প্রণালির এই অচলাবস্থা দ্রুত সমাধানের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বিশ্ব অর্থনীতি আরও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার ভলকার তুর্ক দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে বোমা হামলার ঘটনায় ‘যত দ্রুত সম্ভব’ তদন্ত শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ওই হামলায় ১১০ জন শিশুসহ ১৬৮ জন নিহত হন। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সামরিক তদন্তকারীরা মনে করছেন, মার্কিন বাহিনী সম্ভবত অনিচ্ছাকৃতভাবে স্কুলটিতে আঘাত হেনে থাকতে পারে। তবে তারা এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি। জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে সংঘাতকালীন শিশুদের সুরক্ষা বিষয়ক আলোচনায় তুর্ক বলেন, যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের ওপরই দ্রুত, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জবাবদিহিতার নিশ্চিতের দায়িত্ব বর্তায়। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই পৃথকভাবে জানিয়েছে, যে তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে। যদিও, ওই স্কুলে যুক্তরাষ্ট্রই প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল বলে খোদ দেশটির সামরিক বাহিনীর চলমান তদন্তে উঠে এসেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। যারা এ হামলা চালিয়েছে, তাদের ওপরই দ্রুত, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দায়িত্ব বর্তায়। যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তুর্ক বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আমি চাই যত দ্রুত সম্ভব এ তদন্ত শেষ হোক এবং এর ফলাফল প্রকাশ করা হোক। যে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে, তার বিচার হতে হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানে ৩ হাজার ১০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি এ সংঘাত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবোলফজল শেখারচি এ তথ্য জানিয়েছেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে এ দাবি তুলে ধরা হয়। শেখারচির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম এশিয়াজুড়ে ১৭টি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছিল, যেগুলো ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইতোমধ্যে ধ্বংস করেছে। তিনি দাবি করেন, এসব ঘাঁটি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে মার্কিন বাহিনী। তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ জুন শুরু হওয়া ১২ দিনের ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের পর ইরান তার প্রতিরক্ষামূলক নীতিতে পরিবর্তন এনে আরও আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করেছে। ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, গত ৪৭ বছরে ইরান কোনো দেশকে আক্রমণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তবে দেশের ওপর কোনো হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে এবং শত্রুকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করা হবে। তিনি বলেন, শত্রুর হুমকি সম্পূর্ণরূপে দূর না হওয়া পর্যন্ত ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশল অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে শেখারচি বলেন, গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখে ও নিরাপত্তার নামে আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার করছে ওয়াশিংটন। গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি আর আগের মতো থাকবে না। যুদ্ধ শেষ হলেও ইরানের নির্ধারিত শর্ত মেনে চলতে হবে। এছাড়া, আঞ্চলিক মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে আশ্রয় না দেয়। কোনো দেশ যদি তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগ দেয়, তাহলে তাকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। শেখারচি আরও উল্লেখ করেন, ইরান ধারাবাহিকভাবে তাদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অটল রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।