Brand logo light
বাংলাদেশ

পুলিশের এএসআই নিয়োগে জালিয়াতি: ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাসহ চারজন গ্রেফতার, মিলল জাল প্রবেশপত্র ও অর্থ লেনদেনের প্রমাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ২, ২০২৬ 0

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ পুলিশের ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্রের সক্রিয়তার অভিযোগে রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এক কর্মকর্তাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে ১৭ লাখ টাকার চুক্তি, জাল প্রবেশপত্র তৈরি, প্রক্সি পরীক্ষার্থী ব্যবহার এবং আর্থিক লেনদেনের ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ উদ্ধার হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) রংপুর জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।

কারা গ্রেফতার হয়েছেন

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—

  • রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. বাদশা মাসউদ আলম
  • কথিত প্রতারক চক্রের সদস্য নুরুল ইসলাম
  • পরীক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম
  • আশরাফুলের হয়ে প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা তাজমিলুর রহমান

যেভাবে ধরা পড়ে জালিয়াতির চেষ্টা

পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকেলে রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজে এএসআই নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল নজরদারিতে ছিল।

পরীক্ষাকেন্দ্রের মূল ফটকে ফেস ডিটেকশন পয়েন্টে আশরাফুল ইসলামের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে আটক করে যাচাই করা হয়। পরে কেন্দ্রের একাডেমিক ভবনে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি স্বীকার করেন, তার কাছে থাকা প্রবেশপত্রটি জাল।

এই স্বীকারোক্তির পরই তার হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা তাজমিলুর রহমানকে আটক করা হয়।

১৭ লাখ টাকার চুক্তির অভিযোগ

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল ইসলাম পুলিশকে জানান, তার বাবার সঙ্গে রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. বাদশা মাসউদ আলম এবং নুরুল ইসলামের মাধ্যমে ১৭ লাখ টাকার বিনিময়ে পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার চুক্তি হয়েছিল।

চুক্তির অংশ হিসেবে দিনাজপুর শাখা থেকে ঢাকা ব্যাংকের একটি হিসাবে আড়াই লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, টাকা জমা দেওয়ার পর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আশরাফুলের কাছে একটি জাল প্রবেশপত্র পাঠানো হয়।

তদন্তে আরও জানা যায়, সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ার বাধ্যতামূলক শারীরিক পরীক্ষায় তিনি কখনও অংশ নেননি। এরপরও জাল প্রবেশপত্র ব্যবহার করে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন।

ডিজিটাল আলামতে মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

আশরাফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকা থেকে মো. বাদশা মাসউদ আলমকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে প্রতারণা, অর্থ লেনদেন এবং জাল প্রবেশপত্র তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এছাড়া জব্দ করা হয়েছে—

  • জাল প্রবেশপত্র
  • অর্থ লেনদেনের স্ক্রিনশট
  • একাধিক মোবাইল ফোন
  • অন্যান্য ডিজিটাল আলামত

কীভাবে কাজ করত চক্রটি

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে বাদশা মাসউদ আলম স্বীকার করেন যে নুরুল ইসলামসহ আরও দুই থেকে তিনজন এই চক্রের সঙ্গে জড়িত।

তদন্তকারীদের মতে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পুলিশের ক্যাডেট এএসআই পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, তারা—

  • জাল প্রবেশপত্র তৈরি করত,
  • প্রক্সি পরীক্ষার্থীর ব্যবস্থা করত,
  • বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করত,
  • এমনকি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফোন দিয়ে প্রভাব খাটানোরও চেষ্টা করত।

ঢাকায় অভিযান

বাদশা মাসউদ আলমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহানগর কোতোয়ালি থানার সহযোগিতায় ঢাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের আরেক সদস্য নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে চারজনকেই কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয়।

পুলিশের বক্তব্য

রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন,

"পুলিশের যেকোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম, জালিয়াতি বা দালাল চক্রের কোনো স্থান নেই। চাকরি দেওয়ার নামে যারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"

অন্যদিকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের জানান, গ্রেফতার হওয়া চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক অন্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


তদন্তে যেসব প্রশ্ন সামনে এসেছে

ঘটনাটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—

  • জাল প্রবেশপত্র তৈরির প্রযুক্তিগত উৎস কোথায়?
  • নিয়োগ পরীক্ষার আগেই কীভাবে প্রার্থীর কাছে ভুয়া প্রবেশপত্র পৌঁছায়?
  • ১৭ লাখ টাকার চুক্তিতে আর কারা জড়িত?
  • সরকারি কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা চক্র কতদিন ধরে সক্রিয়?
  • উদ্ধার হওয়া মোবাইল ও ডিজিটাল তথ্য থেকে আরও কতজনের সম্পৃক্ততা বেরিয়ে আসতে পারে?

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
ভোলায় মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে ২০ বছর সরকারি বেতন উত্তোলনের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসায় মৃত এক শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে প্রায় দুই দশক ধরে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর স্থানীয় এক জামায়াত নেতার দিকে, যিনি বর্তমানে একটি সরকারি অনুদানভুক্ত কলেজে কর্মরত। অভিযুক্ত মো. মহিউদ্দিন তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী এবং উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি। অভিযোগ অনুযায়ী, একই নামের সুযোগ নিয়ে তিনি মৃত শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের সরকারি ইনডেক্স নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে দীর্ঘ ২০ বছর সরকারি অর্থ উত্তোলন করেছেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার সুপার ইতোমধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। অভিযোগে যা বলা হয়েছে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তজুমদ্দিন উপজেলার মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৯৯৪ সালের ১৩ মার্চ জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান মো. মহিউদ্দিন। তার নামে নির্ধারিত সরকারি ইনডেক্স নম্বর এবং ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদান করা হতো। পরবর্তীতে ওই শিক্ষক মারা গেলে পদটি শূন্য হয়ে যায়। এরপর ২০০৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর একই নামের আরেক ব্যক্তি মো. মহিউদ্দিনকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় দেশে শিক্ষক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু থাকলেও প্রয়োজনীয় নিয়ম অনুসরণ না করে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নতুন করে ইনডেক্স গ্রহণের পরিবর্তে মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর এবং ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করেই সরকারি বেতন উত্তোলন শুরু হয়। ২০ বছর ধরে সরকারি অর্থ উত্তোলনের দাবি মাদ্রাসা সুপারের অভিযোগ, ২০০৬ সাল থেকে শুরু হওয়া এই অনিয়ম ২০২৬ সাল পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। তার দাবি, ২০২৬ সালের জুন মাসের এমপিও কপিতেও মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব নম্বর বহাল রয়েছে। এর মাধ্যমে এখনও সরকারি অর্থ উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি কেবল প্রশাসনিক অনিয়ম নয়; বরং সরকারি অর্থ আত্মসাতের একটি দীর্ঘমেয়াদি জালিয়াতির ঘটনাও হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। মাদ্রাসা সুপারের বক্তব্য মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. নুরুজ্জামান বলেন, "আমি এখানে যোগদানের পর বিষয়টি আমার নজরে আসে। এরপর মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানাই।" তিনি আরও বলেন, "আমার ধারণা, গত ২০ বছরে সরকারের লাখ লাখ টাকা অনৈতিকভাবে উত্তোলন করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে এবং সরকার প্রয়োজনীয় অর্থও উদ্ধার করতে পারবে।" অভিযুক্ত যা বলছেন অভিযোগ অস্বীকার করে মো. মহিউদ্দিন বলেন, "হিসাব নম্বর এক হলেও ওই অ্যাকাউন্ট থেকে বেতন তোলা হয়নি।" তবে কোন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তিনি বেতন উত্তোলন করেছেন—এ প্রশ্নের জবাব না দিয়েই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। প্রশাসনের অবস্থান তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, "অভিযোগটি তদন্ত করে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধারসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" তদন্তে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্তকারীদের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে— মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর কীভাবে সক্রিয় অবস্থায় ছিল? একই ব্যাংক হিসাব নম্বর ব্যবহার করে কত বছর সরকারি অর্থ ছাড় হয়েছে? এমপিও ডাটাবেজে তথ্য পরিবর্তন বা যাচাইয়ের দায়িত্বে কারা ছিলেন? শিক্ষক নিবন্ধন চালুর পরও কীভাবে নতুন ইনডেক্স ছাড়া এমপিও অনুমোদন দেওয়া হয়? সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও প্রশাসনের কোনো পর্যায়ে অবহেলা বা যোগসাজশ ছিল কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর মিললেই অভিযোগের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ২, ২০২৬ 0

অনুসন্ধানী সাংবাদিক সাঈদুর রহমান রিমনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভা

গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই: মূল্যবৃদ্ধির গুঞ্জনে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিল পেট্রোবাংলা

পুলিশের এএসআই নিয়োগে জালিয়াতি: ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাসহ চারজন গ্রেফতার, মিলল জাল প্রবেশপত্র ও অর্থ লেনদেনের প্রমাণ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৪ হাজার ৩৮৪ সহকারী শিক্ষকের যোগদান ২৯ অক্টোবর, জানাল মন্ত্রণালয়

ঢাকা: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের যোগদানের তারিখ আগামী ২৯ অক্টোবর নির্ধারণ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। শনিবার (১ আগস্ট) শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত এক জরুরি ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা, যোগদানের সময়সূচি এবং পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। সভা শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষকের যোগদানের বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তিনি জানান, তদন্ত ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতার কারণে যোগদান বিলম্বিত হয়েছে। তবে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আগামী ২৯ অক্টোবর তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, নতুন সহকারী শিক্ষকরা যোগদানের পর তাদের নির্ধারিত কর্মস্থলে পদায়ন করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে তারা শ্রেণিকক্ষে দায়িত্ব পালনের আগে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। প্রাথমিক শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকট নিরসনে এই নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে নতুন শিক্ষকরা যোগ দিলে দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ২, ২০২৬ 0

এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ত্রুটি প্রমাণিত হলে পূর্ণ নম্বর: আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের ব্যাখ্যা

ঐক্য ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা নিয়ে বরিশালে তারেক রহমান

সোমবার বরিশালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শনকালে কথা বলেন।

বরিশালে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

তারেক রহমানের তিন বার্তা: বিএনপিতে ঐক্য, স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান

বরিশাল অফিস :    বরিশালে এক দিনের ধারাবাহিক কর্মসূচিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলীয় ঐক্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি, উন্নয়ন-নীতির পুনর্মূল্যায়ন এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। সোমবার বিকেলে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত বিভাগীয় সাংগঠনিক সভায় তিনি বলেন, দলের ভেতরে মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে তা যেন কোনোভাবেই ঐক্য নষ্ট না করে।   “ঐক্য থাকলে ফ্যাসিস্ট বা কোনো গুপ্তচর দলে ঢুকে সুবিধা নিতে পারবে না। ঐক্যে ফাটল ধরলেই তারা সুযোগ নেবে,” — তারেক রহমান। ১৭ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে ঐক্যের আহ্বান দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, গুম, খুন ও নির্যাতনের মধ্যেও তারা ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে ধরে রেখেছেন।   “তখন সবাই সবার পাশে থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে দল চালিয়েছেন। এখন নির্যাতনের সেই ভয় নেই, তাহলে এখন কেন ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারবেন না?” তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএনপির জন্য অভ্যন্তরীণ সংহতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি বলে তিনি মনে করেন। স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ‘হাইব্রিড’ সতর্কতা আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে তিনি তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করার নির্দেশ দেন। তারেক রহমান বলেন, বর্ষার পর আলোচনা করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হবে।   “তৃণমূলকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে হবে। তবে দল গোছানোর ক্ষেত্রে ‘হাইব্রিড’ ও ‘গুপ্ত’—এই দুটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে,” এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, বিএনপি সংগঠনের ভেতরে অনুপ্রবেশ বা সুযোগসন্ধানী নেতৃত্বের সম্ভাবনা নিয়ে নেতৃত্বের উদ্বেগ রয়েছে। ধর্মীয় উৎসব ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন প্রধান ধর্মীয় উৎসবের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন।   “যেকোনো মূল্যে এই ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে হবে। কেউ যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে ফায়দা লুটতে না পারে,” তিনি দেশের সকল ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যের কথাও উল্লেখ করেন এবং ধর্মীয় ভেদাভেদ না করে মানবিকতার ভিত্তিতে দেশ পুনর্গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উন্নয়ন নিয়ে সমালোচনা ও পাল্টা রূপরেখা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তারেক রহমান দাবি করেন, উন্নয়নের নামে ব্যাপক অর্থ পাচার হয়েছে।   “গত ১৭ বছরে উন্নয়নের নামে আসলে লুটেরাদের পকেটের উন্নয়ন হয়েছে। মেগা প্রজেক্টের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে,” তিনি ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের শ্বেতপত্রের তথ্য উল্লেখ করে বলেন, প্রতি বছর গড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা পাচারের কথা সেখানে উঠে এসেছে। পাশাপাশি পদ্মা সেতু ও ভারতের ভূপেন হাজারিকা সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের তুলনাও টানেন। তার মতে, উন্নয়ন শুধু রাস্তাঘাট নির্মাণ নয়; স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষি খাতের সার্বিক উন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়ন। এ প্রসঙ্গে তিনি উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি এবং শিশুদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও বলেন।   ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও সামাজিক সুরক্ষা গৌরনদীর বাটাজোরে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তারেক রহমান বলেন, সারাদেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ধীরে ধীরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।   “আমাদের উদ্দেশ্যই হলো, আমাদের মায়েরা যাতে ভালো থাকতে পারেন, দেশের মানুষ যাতে একটু হলেও ভালো থাকতে পারেন,” তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন সম্ভব হবে বলে সরকার বিশ্বাস করে।   পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার নাগরিক আহ্বান সকালে গৌরনদীর সরিকল-বাটজোর খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তারেক রহমান দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে নাগরিক দায়িত্বের ওপর জোর দেন।   “আমরা যদি নিজের ঘর এবং দেশকে নিজেরা পরিষ্কার না রাখি, তাহলে এই দেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে না। বাইরে থেকে কেউ এসে আমাদের দেশকে পরিষ্কার করে দিয়ে যাবে না,” খালে ভাসমান প্লাস্টিকের বোতল দেখিয়ে তিনি বলেন, দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়; প্রতিটি নাগরিকের আচরণ ও অভ্যাসের সঙ্গে এটি সরাসরি সম্পর্কিত। রাজনৈতিক বার্তার সমন্বিত চিত্র বরিশালের এই কর্মসূচিগুলোতে তারেক রহমানের বক্তব্যে কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে: দলীয় ঐক্য: বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংহতি বজায় রাখাকে তিনি রাজনৈতিক টিকে থাকার প্রধান শর্ত হিসেবে দেখিয়েছেন। নির্বাচনী প্রস্তুতি: স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন। সামাজিক সম্প্রীতি: ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে এবং সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছেন। অর্থনৈতিক সমালোচনা: পূর্ববর্তী সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ পুনরুল্লেখ করেছেন। নাগরিক দায়িত্ব: পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষাকে জাতীয় উন্নয়নের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। সবশেষে তারেক রহমান দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, “করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ”—এই লক্ষ্য নিয়েই বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এগিয়ে নিতে চায় বিএনপি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১৪, ২০২৬ 0

নকল করতে না দেওয়ায় চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে হামলা: ১০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা

এক গাছেই ১০ জাতের আম

বরিশালের রহমতপুরে এক গাছে ১০ জাতের আম: কলম প্রযুক্তিতে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

বন্যায় পাহাড়ধস ও পানি

চট্টগ্রামে বন্যায় ৬ লাখের বেশি মানুষ এখনও পানিবন্দি, ক্ষতিগ্রস্ত ১৪ হাজারের বেশি ঘর

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0