ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর অধীন কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) মো. সরোয়ার হোসেনকে ঘিরে সম্প্রতি দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহলে ঘুরে বেড়ানো অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, সরকারি চাকরির বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন। ফলে অভিযোগ এবং প্রমাণিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখে বিষয়টি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন প্রশাসনিক ও আইন বিশেষজ্ঞরা। চাকরিজীবনের শুরু থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব অভিযোগপত্র অনুযায়ী, মো. সরোয়ার হোসেন ২০১৮ সালে নন-ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি মোংলা কাস্টমস, ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেট এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি এমন অবস্থানে ছিলেন, যেখানে ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ ছিল। তাদের ভাষ্যমতে, এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে তিনি একটি প্রভাববলয় তৈরি করেছিলেন, যা পরবর্তীতে আর্থিক সুবিধা আদায়ের ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়। অভিযোগের কেন্দ্রে সম্পদের প্রশ্ন সরোয়ার হোসেনকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হলো তার সম্পদের পরিমাণ এবং সম্পদের উৎস। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি রাজধানীর একটি অভিজাত এলাকায় প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন। তবে অভিযোগপত্রে ফ্ল্যাটটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান, নিবন্ধন নথি, মালিকানা দলিল কিংবা ক্রয়ের অর্থের উৎস সংক্রান্ত কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে অভিযোগের বাস্তবতা যাচাইয়ের জন্য ভূমি রেকর্ড, রেজিস্ট্রেশন তথ্য এবং আয়কর নথি বিশ্লেষণ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বরগুনায় বিলাসবহুল বাড়ির অভিযোগ অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নিজ জেলা বরগুনায় তার একটি বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে, যার মূল্য কয়েক কোটি টাকা হতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের দাবি থাকলেও অভিযোগের সঙ্গে কোনো প্রকৌশল মূল্যায়ন প্রতিবেদন, জমির রেকর্ড বা সরকারি নথি সংযুক্ত করা হয়নি। ফলে বাড়িটির প্রকৃত মূল্য, মালিকানা এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে স্বাধীন তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। স্ত্রীর নামে সম্পদ ও বিলাসবহুল গাড়ির অভিযোগ অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, সরোয়ার হোসেনের স্ত্রীর নামেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি ও স্থাবর সম্পদ রয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, শ্বশুরবাড়ি এলাকায় কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারের ব্যবহারের জন্য একটি উচ্চমূল্যের বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গাড়িটির নিবন্ধন তথ্য, মালিকানা, ক্রয়মূল্য বা সম্পদের উৎস সম্পর্কে কোনো নথিপত্র প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এসব দাবিও এখনো অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে। ঘুষ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ সম্পদের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্ত কিংবা প্রশাসনিক পদক্ষেপের ভয় দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। বদলি ও পদায়নে প্রভাবের অভিযোগ অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, তিনি প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে পছন্দের পদায়ন নিশ্চিত করতেন এবং কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতেন। অভিযোগকারীদের মতে, বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায়ও তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। একজন কর্মকর্তার সম্পদ কতটা অস্বাভাবিক? সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে সম্পদ অর্জন নিজেই কোনো অপরাধ নয়। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশ্নটি সম্পদের পরিমাণ নয়; বরং সেই সম্পদের উৎস বৈধ কি না। যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তার সম্পদ তার বৈধ আয়, কর নথি, ব্যাংক হিসাব এবং ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহলে সেটি আইনি সমস্যা নয়। অন্যদিকে বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলে তা দুর্নীতি বা অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের বিষয় হতে পারে। এই কারণে অভিযোগকারীরা বিষয়টি তদন্তের দাবি তুলেছেন। তদন্ত হলে কী কী যাচাই করা হতে পারে? দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা অন্য কোনো তদন্ত সংস্থা অভিযোগগুলো অনুসন্ধান করলে সাধারণত কয়েকটি বিষয় যাচাই করা হয়— আয়কর রিটার্ন ও সম্পদ বিবরণী ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেন ভূমি ও ফ্ল্যাটের মালিকানা রেকর্ড গাড়ির নিবন্ধন তথ্য পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদ ঘোষিত আয় ও সম্পদের সামঞ্জস্য সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমেই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিরপেক্ষ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব। অভিযুক্তের বক্তব্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? ন্যায়সঙ্গত তদন্তের অন্যতম শর্ত হলো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, মো. সরোয়ার হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন সরোয়ার হোসেনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো মূলত সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদ যাচাই, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্ন সামনে এনেছে। তবে সাংবাদিকতা ও আইনের মৌলিক নীতি অনুযায়ী, কোনো অভিযোগকে তদন্ত বা আদালতের রায়ের আগে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না। সেই কারণে অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা—তার নির্ধারণ কেবলমাত্র নিরপেক্ষ তদন্ত, নথিপত্র যাচাই এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্ভব। অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সুনাম পুনরুদ্ধার—দুই ক্ষেত্রেই স্বচ্ছ তদন্তই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে অননুমোদিত উচ্চক্ষমতার বাজাজ সিএনজি অটোরিকশা আমদানি, আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি এবং অবৈধ রেজিস্ট্রেশন বাণিজ্যের অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন ব্যবসায়ী হাজী আব্দুর রশিদ বুলু। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দেওয়া অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে বাজাজ ব্র্যান্ডের অনুমোদিত সিএনজি থ্রি-হুইলারের ইঞ্জিন ক্ষমতা ১৯৮.৮৮ সিসি। অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে রানার অটোমোবাইলস পিএলসি এবং উত্তরা মোটরস বৈধভাবে এসব যানবাহন সংযোজন ও বাজারজাত করে আসছে। রানার গ্রুপের ময়মনসিংহের ভালুকিয়ায় অবস্থিত কারখানায় ভারত থেকে যন্ত্রাংশ এনে স্থানীয়ভাবে সিএনজি সংযোজন করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, ‘হালিমা রশিদ ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে ২৩৬.২ সিসির উচ্চক্ষমতার বাজাজ সিএনজি অটোরিকশা আমদানি করছে, যা বাংলাদেশের অনুমোদিত মডেলের বাইরে। একই সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত মূল্য ও ইঞ্জিন ক্ষমতা কম দেখিয়ে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। দুদক ও এনবিআরে লিখিত অভিযোগ গত ২১ মে মো. আল আমীন নামের এক ব্যক্তি দুদকের চেয়ারম্যান ও এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে বলা হয়, মগবাজারভিত্তিক ‘দ্বীন ইসলাম মোটরস’-এর স্বত্বাধিকারী হাজী আব্দুর রশিদ বুলু এবং তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘হালিমা রশিদ ট্রেডিং’ আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে গত দুই বছরে প্রায় ৭ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৯ মার্চ আমদানি করা একটি চালানে প্রতি ইউনিট সিএনজির মূল্য মাত্র ১,৫০০ মার্কিন ডলার দেখানো হয়। অভিযোগকারীর দাবি, প্রকৃত মূল্য গোপন করার মাধ্যমে ওই চালানেই প্রায় ৭৪ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকি এবং অর্থ পাচার সংঘটিত হয়েছে। ১৭ চালানে ৭২৫ ইউনিট আমদানির তথ্য কাস্টমস ও এনবিআর সূত্রের দাবি, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত মোট ১৭টি চালানে ৭২৫ ইউনিট সিএনজি অটোরিকশা আমদানি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব আমদানির ফলে সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭ কোটি টাকা। বছরভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী— ২০২৪ সালে ২২ ইউনিট আমদানিতে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি প্রায় ২১ লাখ টাকা। ২০২৫ সালে ২৩৪ ইউনিট আমদানিতে সম্ভাব্য ক্ষতি প্রায় ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ৪৫১ ইউনিট আমদানিতে সম্ভাব্য ক্ষতি প্রায় ৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আমদানিকৃত পণ্যের ঘোষিত মূল্য এবং বাজারদরের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে, যা আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের সন্দেহকে আরও জোরালো করেছে। বৈধ আমদানির সঙ্গে পার্থক্য কোথায়? খাতসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ১০০টি বৈধ বাজাজ সিএনজি উৎপাদনের জন্য রানারকে প্রায় ছয় কনটেইনার যন্ত্রাংশ আমদানি করতে হয়। এসব যন্ত্রাংশের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। বর্তমানে দেশে বৈধভাবে সংযোজিত একটি বাজাজ সিএনজির বিক্রয়মূল্য, কর ও ভ্যাটসহ প্রায় ৫ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, ২৩৬ সিসির যেসব সিএনজি আমদানি করা হচ্ছে সেগুলো মূলত ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য প্রস্তুতকৃত মডেল এবং বাংলাদেশে অনুমোদিত নয়। রানার অটোমোবাইলস যা বলছে রানার অটোমোবাইলসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) সনদ দত্ত বলেন, “২৩৬ সিসির ইঞ্জিন মূলত ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য। বাংলাদেশে এই মডেল অনুমোদিত নয়। অননুমোদিত উৎস থেকে এসব গাড়ি আমদানির ফলে বাজারে বাজাজ ব্র্যান্ডের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।” কোম্পানিটির দাবি, অনুমোদনহীন উৎস থেকে পণ্য আমদানির কারণে বাজারে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং ব্র্যান্ডের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতির মুখে পড়ছে। অবৈধ রেজিস্ট্রেশন বাণিজ্যের অভিযোগ হাজী আব্দুর রশিদ বুলুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ রেজিস্ট্রেশন বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে বিপুলসংখ্যক সিএনজি অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন করানো হয়েছে। প্রতিটি রেজিস্ট্রেশনের বিপরীতে ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত অবৈধ অর্থ লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন এখনও প্রকাশিত হয়নি। বিআরটিএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে বিআরটিএর ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১, মিরপুর কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ এবং অযোগ্য আবেদনকারীদের লাইসেন্স প্রদানের মাধ্যমে একটি দুর্নীতির চক্র গড়ে উঠেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নামে-বেনামে সম্পদ অর্জনের অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ‘হালিমা রশিদ ট্রেডিং’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজী আব্দুর রশিদ বুলুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি প্রতিবেদককে ফোন করে বলেন, “আমি ইনভেস্টর না, আমদানিও করি না। ইনভেস্টর হচ্ছে আমার ছেলে দ্বীন ইসলাম। সেই বিষয়টি সম্পর্কে সে জানতে পারবে।” তবে অভিযোগে উত্থাপিত শুল্ক ফাঁকি, আন্ডার-ইনভয়েসিং ও অবৈধ রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত প্রশ্নের বিস্তারিত জবাব তিনি দেননি। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই অভিযোগ? বাংলাদেশে মোটরযান বিক্রি ও সড়কে পরিচালনার ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। মোটরযান আইন অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো যানবাহন বিক্রি বা সড়কে পরিচালনা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অননুমোদিত যানবাহন আমদানি, শুল্ক ফাঁকি এবং অবৈধ রেজিস্ট্রেশন শুধু সরকারের রাজস্ব ক্ষতিই করে না; একই সঙ্গে বাজারে বৈধ ব্যবসাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সড়ক নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করে। তদন্তের দাবি সচেতন মহল বলছে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে এনবিআর, বিআরটিএ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত তদন্ত প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে শুল্ক ফাঁকি, অবৈধ আমদানি এবং রেজিস্ট্রেশন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়েছে।
বরিশাল অফিস : বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন থেকে ভেদুরিয়া লঞ্চঘাট পর্যন্ত সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, যথাযথ তদারকির অভাব এবং প্রকৌশলগত ত্রুটির কারণে প্রায় ৩ কোটি টাকার এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিদর্শন প্রতিবেদনে সড়কটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ—প্রোটেকশন ওয়ার্ক বা প্যালাসাইডিংয়ের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ কী? চন্দ্রমোহন মাছ বাজার এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের প্যালাসাইডিং ও সুরক্ষা কাঠামো নির্মাণে একাধিক অনিয়ম হয়েছে। তাদের দাবি, ঘানিব্যাগ তৈরিতে নির্ধারিত অনুপাতে বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি। ফলে বস্তাগুলো শক্ত হওয়ার পরিবর্তে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, কিছু স্থানে বস্তার ভেতরে সহজেই লাঠি প্রবেশ করানো সম্ভব হচ্ছে, যা নির্মাণমান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। এছাড়া খালের ভেতর থেকে ভারী যন্ত্র দিয়ে কাদামাটি উত্তোলন করে সড়কের পাশে ফেলার কারণে প্যালাসাইডিংয়ের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ইতোমধ্যে প্রায় ১৪০ মিটার এলাকায় প্যালাসাইডিং খালের দিকে হেলে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে পানির চাপ বৃদ্ধি পেলে পুরো কাঠামো ধসে পড়তে পারে এবং সড়কটি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তদারকি নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত তদারকির অভাব রয়েছে। একইসঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশের অভিযোগও তুলেছেন তারা। অভিযোগের তীর গেছে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীর দিকেও। এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিদর্শন প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছে? গত ১ জুন প্রকল্প পরিচালকের কাছে জমা দেওয়া এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে বরিশালের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরীফ মো. জামাল প্রকল্পটির নকশা ও প্রোটেকশন ওয়ার্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্প এর আওতায় সড়কটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। খরস্রোতা খালের পাড়ঘেঁষে নির্মাণাধীন হওয়ায় সড়কের একপাশে আরসিসি প্যালাসাইডিং নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সুরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ১:৪:৮ অনুপাতে প্রস্তুত বালিভর্তি বস্তা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালের পানির উচ্চতার পরিবর্তনের কারণে এখানে সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় চাপের মাত্রা পরিবর্তনশীল। বর্ষা মৌসুমে এই চাপ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বিদ্যমান প্যালাসাইডিং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে কি না, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। ‘স্থায়ী নাও হতে পারে’ প্যালাসাইডিং পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সড়কের মূল অংশের সাবগ্রেড, সাববেইজ, বেইজ ও কার্পেটিংয়ের কাজ তখনও শুরু হয়নি। একইসঙ্গে কান্ট্রি-সাইডের মাটির কাজও অসম্পূর্ণ ছিল। পরিদর্শন শেষে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মন্তব্য করেন: “সম্ভবত সড়কটির প্যালাসাইডিং স্থায়ী হবে না, অথচ এই অংশটিই সড়কের স্থায়িত্বের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও মত দেন যে, প্রোটেকশন ওয়ার্কের বিষয়ে ডিজাইন ইউনিটের কারিগরি পরামর্শ অনুযায়ী প্রাক্কলন প্রস্তুত করা প্রয়োজন ছিল। ব্যয়ের বড় অংশ সুরক্ষা কাঠামোয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের প্রায় পুরো ব্যয়ের বড় অংশই প্রোটেকশন ওয়ার্কে ব্যয় হচ্ছে। তাই সড়কের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সুরক্ষা কাঠামোর কার্যকারিতা এবং নকশাগত সক্ষমতা পুনর্মূল্যায়ন জরুরি। এছাড়া কান্ট্রি-সাইডের কয়েকটি অংশে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং একটি ছোট ড্রেনেজ কালভার্ট নির্মাণেরও সুপারিশ করা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ হিসেবে প্রোটেকশন ওয়ার্কের স্থায়িত্ব যাচাইয়ের জন্য এলজিইডির ডিজাইন ইউনিট এবং প্রকল্প পরিচালকের সরেজমিন পরিদর্শনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সামনে কী ঝুঁকি? স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেও প্রকল্প থেকে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। বরং অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সরকারি অর্থের অপচয় এবং জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, উপজেলা প্রকৌশলী এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের আয়-ব্যয়ের সীমাবদ্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জনপরিসরে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে রাজস্ব, শুল্ক, কাস্টমস এবং ভ্যাট প্রশাসনের মতো সংবেদনশীল খাতগুলোতে কর্মরত কর্মকর্তাদের সম্পদ বৃদ্ধির ঘটনা প্রায়ই জনমনে প্রশ্নের জন্ম দেয়। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা সহিদুল ইসলামের সম্পদ নিয়ে এমনই এক বিস্তৃত অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য, যার বাজারমূল্য কয়েকশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে পাওয়া নথি, জমির খতিয়ান, ফ্ল্যাট মালিকানার তথ্য, ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী ফাহমিদা রাব্বি এবং কয়েকজন নিকট আত্মীয়ের নামে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সম্পদের অস্তিত্ব রয়েছে। বসুন্ধরায় বহুতল ভবন: সম্পদের কেন্দ্রবিন্দু রাজধানীর অভিজাত আবাসিক এলাকা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জি ব্লকে অবস্থিত একটি ১০তলা ভবন অনুসন্ধানের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ‘শেল কবিতা’ নামের এই ভবনটি সহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। প্রতি তলায় দুটি করে প্রায় আড়াই হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট নিয়ে গড়ে ওঠা ভবনটিতে মোট ২০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। স্থানীয় রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও সম্পত্তি মূল্যায়ন সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিটি ফ্ল্যাটের সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। সেই হিসাবে কেবল ভবনের ফ্ল্যাটগুলোর মূল্যই প্রায় ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছায়। তবে জমির বর্তমান বাজারমূল্য, নির্মাণ ব্যয় এবং এলাকার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনায় পুরো ভবনের মূল্য আরও বেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। রাজধানীজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ফ্ল্যাট সাম্রাজ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বসুন্ধরার বাইরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী এবং আত্মীয়স্বজনদের নামে আরও অন্তত ৩৩টি ফ্ল্যাট রয়েছে। বাংলামোটরের স্বজন টাওয়ারে সহিদুল ইসলামের নিজ নামে দুটি ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া গেছে। একইভাবে ইস্কাটন গার্ডেন রোডের গার্ডেনিয়া টাওয়ারে তার স্ত্রীর নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মূল্য প্রায় চার কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিরপুরের রূপনগর আরামবাগ আবাসিক এলাকায় ফাহমিদা রাব্বির নামে থাকা একটি ছয়তলা ভবনে ১০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। স্থানীয় সম্পত্তি বাজারের হিসাবে ভবনটির মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিংয়ে সম্পদের বিস্তার মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিং দ্বিতীয় প্রকল্পে আরও একটি ছয়তলা ভবনের তথ্য পাওয়া গেছে, যা প্রথমে সহিদুল ইসলামের স্ত্রীর নামে ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। পরে ভবনটি চার শ্যালকের নামে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মালিকানা কাগজপত্রে কাজী মুক্তাদীর ইবনু মিনান, কাজী মুতামিদ ইবনে মিনান, কাজী মুত্তাকী ইবনে মিনান এবং কাজী মুস্তাকীম ইবনে মিনানের নাম রয়েছে। উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, সহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী এবং এই চার আত্মীয়ের নামে থাকা ৫৩টি ফ্ল্যাট ও দুটি দোকানের সম্মিলিত বাজারমূল্য অন্তত ১৬২ কোটি টাকা হতে পারে। জমি ও শিল্পকারখানার বিনিয়োগ শুধু আবাসিক সম্পত্তিই নয়, শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের জমিতেও বড় ধরনের বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। মিরপুরের আগুন্দা এলাকায় প্রায় ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত স্থাপনায় প্লাস্টিক কারখানা ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। অন্যদিকে গড়ানচটবাড়ি মৌজায় ৩৩ শতাংশ জমির মূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা বলে স্থানীয় সম্পত্তি সংশ্লিষ্টরা ধারণা দিয়েছেন। নিউমার্কেট ও আজিজ সুপার মার্কেটে দোকান রাজধানীর দুই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রেও সহিদুল ইসলামের সম্পদের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের একটি দোকান এবং নিউমার্কেটের আরেকটি দোকানের মালিকানা তার নামে রয়েছে বলে নথিতে দেখা যায়। দুটি দোকানের সম্মিলিত বাজারমূল্য চার কোটি টাকারও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাভারে বাংলোবাড়ি সাভারের মধুমতি মডেল টাউনে ‘সেঁজুতি’ নামের একটি বাংলোবাড়ি স্থানীয়ভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ৩৫ কাঠা জমির ওপর নির্মিত এই বাড়িটি সহিদুল ইসলামের নামে রয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ আছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িটি অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে এবং সেখানে প্রবেশাধিকার সীমিত। বর্তমান বাজারদরে কেবল জমির মূল্যই প্রায় ১০ কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে। মধুমতিতে আরও বিস্তৃত জমি মালিকানা অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, মধুমতি মডেল টাউন এলাকায় সহিদুল ইসলামের মালিকানায় একাধিক প্লট রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহৃত জমি, পশু খামার হিসেবে ব্যবহৃত বড় প্লট এবং ভারী যন্ত্রপাতি সংরক্ষণের জন্য ভাড়া দেওয়া জমি। সব মিলিয়ে প্রায় ৩২০ কাঠা জমির বাজারমূল্য ৯০ কোটি টাকার কাছাকাছি বলে বিভিন্ন সূত্রের মূল্যায়নে উঠে এসেছে। পূর্বাচলে জমির পর জমি পূর্বাচল ও আশপাশের এলাকায় সহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর নামে অন্তত ছয়টি প্লটের তথ্য পাওয়া গেছে। ডুমনি, পিতলগঞ্জ, দিঘলিয়া, বাড়িয়াছনি, মুশুরীগ্রাম এবং কামতা মৌজায় অবস্থিত এসব জমির সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৬২ কোটির বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া গাজীপুরের কালীগঞ্জেও তার নামে জমির মালিকানার নথি পাওয়া গেছে। শেয়ারবাজারে বিপুল বিনিয়োগ স্থাবর সম্পদের পাশাপাশি অস্থাবর সম্পদের দিক থেকেও সহিদুল পরিবারের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। তথ্য অনুযায়ী, তার স্ত্রী ফাহমিদা রাব্বির নামে একটি বিও অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮০ কোটি টাকার শেয়ার বিনিয়োগ রয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংক হিসাবেও উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ জমা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সন্তানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহিদুল ইসলামের ছেলে হাসিন ফারহানের নামেও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। বসুন্ধরার একটি বাণিজ্যিক ভবনে অফিস নিয়ে তিনি আর্কিটেকচার, ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও মার্কেটিং খাতে একাধিক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে। অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে কয়েক কোটি টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগ পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল। সরকারি চাকরি বনাম সম্পদের হিসাব একাধিক অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত রাজস্ব কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একজন কাস্টমস বা এনবিআর কর্মকর্তার পুরো চাকরিজীবনের বৈধ আয়—বেতন, ভাতা, পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং অন্যান্য সুবিধাসহ—মোটামুটি কয়েক কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যয় বাদ দিলে সঞ্চয়ের পরিমাণ খুব বেশি হলে তিন কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে। এই হিসাবের সঙ্গে অনুসন্ধানে উঠে আসা কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদের অঙ্কের ব্যাপক পার্থক্য প্রশ্ন তৈরি করেছে। সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন সহিদুল ইসলাম কর্মজীবনে এনবিআরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে শুল্ক ও আবগারি বিভাগের সদস্য, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ অন্তর্ভুক্ত। নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তার নামে থাকা অধিকাংশ সম্পদ ২০১০ সালের পর অর্জিত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই সম্পদগুলোর উৎস কী এবং সেগুলো আয়কর নথিতে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে কি না—সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা অভিযোগ ও সম্পদের উৎস সম্পর্কে বক্তব্য জানার জন্য সহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে হয়েছে।সহিদুল ইসলাম ফোনকল কিংবা বার্তার জবাব দেননি। তার স্ত্রীও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। জবাবদিহির দাবি সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা বলছেন, সম্পদের উৎস সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি হলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান পরিচালনা করা। তাদের মতে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আর অভিযোগ অসত্য হলে সেটিও স্পষ্টভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরা উচিত। কারণ জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তদন্তের নতুন পর্যায়? সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে এবং ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা, সম্পদের উৎস যাচাই ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি চলছে। এখন নজর থাকবে—উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো কী ধরনের তদন্ত চালায়, সম্পদের উৎস সম্পর্কে কী ব্যাখ্যা পাওয়া যায় এবং শেষ পর্যন্ত আইনগত প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়। কারণ কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদের এই প্রশ্ন কেবল একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব নয়; এটি রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি, সুশাসন এবং দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থার কার্যকারিতারও একটি বড় পরীক্ষা। দুর্নীতি প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন ১৩তম ব্যাচের কর্মকর্তার এই পরিমাণ সম্পত্তি অর্জনের ঘটনা প্রমাণ করে যে কাস্টমস বিভাগের ভেতরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কতটা অভাব রয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে এবং অবৈধ সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বাজেয়াপ্ত করা না হলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতির এই মরণব্যাধি থামানো অসম্ভব হয়ে পড়বে ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে এম খুরশীদ আলমের নিয়োগ ব্যাংকিং খাতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জোবায়দুর রহমান-এর পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের পরপরই ব্যাংকটির একাংশ গ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট মহলে অসন্তোষ দেখা দেয়। ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের উদ্যোগে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীর মতিঝিলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, অতীতে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকের নেতৃত্বে বসানো হয়েছে। যে অভিযোগগুলো ঘুরে ফিরে আসছে ব্যাংকিং খাতের একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ২০১৪ সালের মার্চ থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অফিসের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্রয় ও সংস্কার কাজের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন এবং বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষায় অভিযোগ ওঠে যে, বিভিন্ন উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্পকে ছোট ছোট অংশে বিভক্ত করে দরপত্র প্রক্রিয়া এড়িয়ে ব্যয় দেখানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট তদন্তে অন্তত ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ার দাবি করা হয়। তদন্তে আরও উঠে আসে, প্রায় ১ কোটি ২৯ লাখ টাকার বিভিন্ন কাজের মধ্যে নির্মাণ ও আসবাবপত্র ক্রয়ে বড় ধরনের আর্থিক অসঙ্গতি ছিল। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। তদন্তের পরও পদোন্নতি বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ দুটি পৃথক তদন্তে অনিয়মের তথ্য উঠে আসার পর খুরশীদ আলমকে একসময় বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। তবে পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তিনি পদোন্নতি পেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে আসীন হন। সমালোচকদের অভিযোগ, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতাকেন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণেই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ডেপুটি গভর্নর হিসেবে বিতর্ক ২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে খুরশীদ আলমকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সময় দেশের ব্যাংকিং খাত নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর ঋণসংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছিল। সমালোচকদের অভিযোগ, দায়িত্ব পালনকালে তিনি এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হন। বিশেষ করে S Alam Group-কে ঘিরে আলোচিত ঋণ কেলেঙ্কারি ও ব্যাংকিং অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়েছে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে শুরু হওয়া আন্দোলনের মুখে কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগে বাধ্য হন। আন্দোলনকারী কর্মকর্তাদের একাংশ তাদের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী শাসনের সহযোগী এবং দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তুলেছিলেন। খুরশীদ আলমও সেই পদত্যাগকারী কর্মকর্তাদের অন্যতম ছিলেন। বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে তার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ব্যাংকটির কিছু গ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট মহল আশঙ্কা প্রকাশ করছে যে, অতীতের অভিযোগগুলো ব্যাংকের ভাবমূর্তি ও গ্রাহক আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিক্রিয়া মেলেনি প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম খুরশীদ আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান-এর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশ্ন রয়ে গেছে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত দীর্ঘদিন ধরে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও আস্থার সংকটে ভুগছে। এমন বাস্তবতায় অতীতে অনিয়মের অভিযোগে আলোচিত কোনো কর্মকর্তাকে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের নেতৃত্বে বসানো কতটা যৌক্তিক—সে প্রশ্ন এখন ব্যাংকপাড়া ছাড়িয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, অভিযোগগুলো যদি ভিত্তিহীন হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলোর স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে জনমনে তৈরি হওয়া সংশয় দূর করাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলে মনে করছেন ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকরা। খুরশীদ আলম ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান। তিন বছরের জন্য তাকে এ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় সরকার। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর পর তিনিসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন চার কর্মকর্তা পদত্যাগে বাধ্য হন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গণপূর্ত অধিদপ্তরে নজিরবিহীন প্রশাসনিক অনিয়ম, অবৈধ পদোন্নতি এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক অপব্যবহারের মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ১১ জন প্রকৌশলী নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করেই প্রায় সোয়া তিন কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে, আদালতের স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকা অবস্থাতেই এসব কর্মকর্তা বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন, যা সরকারি চাকরিবিধি ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিধি ভেঙে পদোন্নতির অভিযোগ সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী নবম গ্রেডে যোগদানকারী কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় পদোন্নতির সুযোগ পেলেও ষষ্ঠ গ্রেডে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ সীমিত। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট ১১ কর্মকর্তা নিয়ম বহির্ভূতভাবে নির্বাহী প্রকৌশলী (পঞ্চম গ্রেড) পদে উন্নীত হন। বিধি অনুযায়ী তাদের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাদের উচ্চপদে বসানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় সাবেক পূর্ত সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকার, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূঁইয়া এবং রফিকুল ইসলামের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ সেলিম এবং শেখ হেলালের রাজনৈতিক প্রভাবও ব্যবহৃত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ অভিযুক্তদের কয়েকজন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনিক সূত্রগুলো দাবি করছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কার্যক্রমে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রি ও জাহাঙ্গীর আলমের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। আদালতের নির্দেশ নিয়েও প্রশ্ন অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রিটকারী ১৭ কর্মকর্তার পদ সংরক্ষণ করা হয়নি। বরং অবৈধভাবে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের বিসিএস কর্মকর্তাদের ওপরে জ্যেষ্ঠতা দেওয়া হয়। সরকার পরিবর্তনের পর বঞ্চিত কর্মকর্তারা গ্রেডেশন তালিকা সংশোধনের দাবি জানালেও বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো. শামীম আখতারের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রশাসনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এ ধরনের পদোন্নতি বিধিসম্মত নয়। শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া এমন অনিয়ম সম্ভব নয়।” ‘চাকরি না করেই’ সরকারি অর্থ উত্তোলন দুর্নীতিবিরোধী বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের স্থগিতাদেশ বহাল থাকা অবস্থায় চাকরিতে নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করেও সরকারি অর্থ উত্তোলন অত্যন্ত গুরুতর অনিয়ম। একজন দুর্নীতিবিরোধী বিশেষজ্ঞ বলেন, “আদালতের নির্দেশ অমান্য করে অর্থ উত্তোলন প্রশাসনিক ও ফৌজদারি—দুই দিক থেকেই তদন্তযোগ্য বিষয়। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।” জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে নতুন অভিযোগ অভিযুক্ত প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরেও উঠেছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিপুল অর্থের বিনিময়ে তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধা নিয়েছেন। কর্মস্থল রাজশাহীতে হলেও অধিকাংশ সময় তিনি ঢাকায় অবস্থান করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও অভিযোগ উঠেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমানের আত্মীয় পরিচয় ব্যবহারকারী এক প্রভাবশালী ব্যক্তির মাধ্যমে বড় অঙ্কের আর্থিক চুক্তির বিনিময়ে ঢাকায় সুবিধাজনক পোস্টিং নিশ্চিত করেন তিনি। বর্তমানে তিনি গণপূর্ত ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগ, ঢাকায় সংযুক্ত হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। দ্বৈত বেতন উত্তোলনের অভিযোগ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে একই সময়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) থেকে দ্বৈত বেতন উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে। এই অভিযোগ প্রশাসনিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে—কীভাবে একই ব্যক্তি একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানে একযোগে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন এবং সেই প্রক্রিয়ায় কারা সহযোগিতা করেছেন। তদন্তের দাবি ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা, অবৈধ পদোন্নতি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের স্বাধীন তদন্ত ছাড়া এই অভিযোগের প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র, মাঠপর্যায়ের খামারি এবং দপ্তরসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রভাবশালী নেতা তোফায়েল আহমেদের ঘনিষ্ঠ মহলের প্রভাব ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভোলার প্রাণিসম্পদ বিভাগে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে তোলেন। এই বলয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন ও নির্মাণ খাতের বরাদ্দ নিয়ন্ত্রণ, ভুয়া বিল দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইফতারুল হাসান স্বপনের ঘনিষ্ঠতার সূত্রে রফিকুল ইসলাম খান জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পদে নিয়োগ পান। পরে ওই চেয়ারম্যানের ঠিকাদারি লাইসেন্স ব্যবহার করে দপ্তরের বিভিন্ন ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের বরাদ্দ উত্তোলন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, কয়েকটি প্রকল্পে বাস্তব কাজ সম্পন্ন না হলেও বিল উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উত্তোলিত অর্থ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভাগাভাগিও হয়েছে। এর আগেও উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে সরকারি বরাদ্দের অর্থে গাড়ির গ্যারেজ নির্মাণের কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো গ্যারেজ নির্মাণ হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রেও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ভোলায় যোগদানের পর থেকেই প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী, অফিস সরঞ্জাম ক্রয় এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির নামে অনিয়ম বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, জেলার একাধিক যোগ্য কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি পদের দায়িত্ব নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন রফিকুল ইসলাম খান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, এসব পদের আর্থিক বরাদ্দও কার্যত তার একক নিয়ন্ত্রণে ছিল। এছাড়া ভোলার সাতটি উপজেলায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণে উপস্থিত না থেকেও কাগজে-কলমে স্বাক্ষর দেখিয়ে নিয়মিত ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খান কয়েকটি উপজেলার কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বরাদ্দের টাকা তুলে নিজের কাছে রাখা হয়েছে। পরে কাজ সম্পন্ন করা হবে।” তবে সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুযায়ী কাজ সম্পন্নের আগে সরকারি অর্থ ব্যক্তিগত হেফাজতে রাখার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রফিকুল ইসলাম খান আরও দাবি করেন, বরাদ্দের পরিমাণ কম হওয়ায় অনেক ঠিকাদার কাজ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। যদিও সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন, কাজ সম্পন্ন না হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে বিল উত্তোলন করা হলো। এদিকে এসব অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোলার প্রান্তিক খামারিরা। কয়েকজন খামারি অভিযোগ করে বলেন, মাঠপর্যায়ে তারা সরকারি কোনো সহায়তা পাচ্ছেন না, অথচ প্রকল্পের নামে বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠছে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন, ভোলার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ভয়াবহ অনিয়ম, ভুয়া স্কিম এবং কাগুজে কাজ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে বাস্তব কাজের তুলনায় কাগজে-কলমে ব্যয়ের পরিমাণ দেখানো হয়েছে কয়েকগুণ বেশি। অনেক ক্ষেত্রে কোনো কাজই না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এলজিইডি বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান, দাপ্তরিক নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তার প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া, ভান্ডারিয়া, নাজিরপুর ও সদর উপজেলায় একাধিক প্রকল্পে সংঘবদ্ধভাবে আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। ‘ভূতুড়ে স্কিম’ দেখিয়ে টাকা উত্তোলন তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, IBRP, CAFDARID, PDRIDP এবং BDIRWSP প্রকল্পের আওতায় শত শত ভুয়া ও কল্পিত স্কিম দেখিয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি যাচাই ছাড়াই বিল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ ছাড় করা হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ১২৮টি ভুয়া বা অস্তিত্বহীন স্কিম দেখিয়ে প্রায় ২৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে ভ্যাট ও আয়কর বাদ দিয়ে প্রায় ২০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্প—CAFDARID-এর আওতায় আরও ৬৯টি ভুয়া স্কিম দেখিয়ে প্রায় ২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকার বিল উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব প্রকল্পের বড় অংশের কাজ বাস্তবে সম্পন্ন হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে কোনো কাজের অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি, অথচ কাগজে প্রকল্প শতভাগ বাস্তবায়িত দেখানো হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে যে সিন্ডিকেট দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই অর্থ লোপাটের সঙ্গে এলজিইডির একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ মদদে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সাত্তার হাওলাদার, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম এবং হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা সরকারি অর্থ আত্মসাতে অংশ নেন। তদন্ত সূত্র জানায়, কর্মকর্তাদের আত্মীয়-স্বজন কিংবা বেনামি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ ভাগিয়ে দেওয়া হতো। নিয়ম অনুযায়ী কাজের পরিমাপ বই (Measurement Book বা এমবি) প্রস্তুত ছাড়াই বিল অনুমোদনের অভিযোগও পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ বাস্তবে সম্পন্ন হয়েছে কি না তা যাচাই না করেই কোটি কোটি টাকার বিল ছাড়ের অনুমোদন দেন শেখ নুরুল ইসলাম। অনুসন্ধানে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ তার কাছেও পৌঁছাত। দুদকের পৃথক অনুসন্ধান এদিকে, এলজিইডির জলবায়ু প্রকল্পে দায়িত্ব পালনকালেও শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক স্বাক্ষরিত ২৪ এপ্রিল ২০২৫ তারিখের এক অফিস আদেশে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর কাছে শেখ নুরুল ইসলামের সামগ্রিক তথ্য চাওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, জলবায়ু প্রকল্পে জনবল নিয়োগে অনিয়ম, কেনাকাটায় স্বচ্ছতার অভাব এবং আর্থিক লেনদেনে অসঙ্গতির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক পৃথক অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ বিতর্ক এলজিইডির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিগত সরকারের দীর্ঘ সময়জুড়ে শেখ নুরুল ইসলাম প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন। বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সক্রিয় নেতৃত্বে থাকার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে অবস্থান বজায় রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এলজিইডির ভেতরের কয়েকজন প্রকৌশলী অভিযোগ করেন, কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে আর্থিক অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ছিল। তবে প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে সেসব অভিযোগ দৃশ্যমান তদন্তে রূপ পায়নি। মামলা, কিন্তু পদে বহাল দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পিরোজপুর ইতোমধ্যে শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলামসহ ২১ জন কর্মকর্তাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ১০৯ ও ২০১ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে গুরুতর এসব অভিযোগ ও মামলার পরও শেখ নুরুল ইসলাম এখনও স্বপদে বহাল থাকায় এলজিইডির অভ্যন্তরে এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উন্নয়নের নামে সাধারণ মানুষের করের টাকা লুটপাটের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রতি জনগণের আস্থা আরও দুর্বল হবে। এখন নজর দুদকের তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে—এই অভিযোগগুলো শেষ পর্যন্ত কতদূর গড়ায় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদৌ দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না। আস্থার সংকটে উন্নয়ন ব্যবস্থা বিশ্লেষকরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে এ ধরনের অনিয়ম শুধু সরকারি অর্থের অপচয় নয়, বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও জনআস্থার জন্যও বড় হুমকি। কারণ, যেসব প্রকল্প গ্রামীণ সড়ক, অবকাঠামো ও দুর্যোগ পুনর্বাসনের জন্য নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর অর্থ আত্মসাৎ হলে ভুক্তভোগী হয় সাধারণ মানুষই। এখন নজর আইনি প্রক্রিয়ার দিকে—দুদকের অনুসন্ধান ও মামলার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদৌ কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা মো. আহম্মদুল্লাহকে চলতি মাসের ১৩ তারিখে বদলি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ঢাকা লিয়াজোঁ অফিসে কর্মরত। তবে তার বদলিকে ঘিরে নতুন করে সামনে এসেছে বিপিসিজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং দুর্নীতির বিস্তৃত অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, মাত্র সাত বছরের চাকরি জীবনে মো. আহম্মদুল্লাহ এবং তার পরিবারের সদস্যরা শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিপিসি বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করেনি। কেবল বদলির আদেশ দিয়েই বিষয়টি থামিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। বিতর্কিত নিয়োগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও ক্ষমতার উত্থান ২০১৯ সালে বিপিসিতে উপ-ব্যবস্থাপক পদে যোগ দেন মো. আহম্মদুল্লাহ। তবে তার নিয়োগ নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিপিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমানের ব্যক্তিগত আশীর্বাদেই তিনি চাকরি পান। আহম্মদুল্লাহ একসময় সামছুর রহমানের মেয়ের গৃহশিক্ষক ছিলেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক যোগাযোগও তাকে এগিয়ে দেয়। ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলার দিবাকরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও তিনি চাকরিতে যোগ দেন ঢাকা জেলার কোটা ব্যবহার করে। অভিযোগ রয়েছে, এ জন্য তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় পরিচয়পত্রও ব্যবহার করেন। একটি প্রত্যয়নপত্রে তাকে ঝালকাঠির নথুল্লাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেখানে তার পরিবারের সদস্যদেরও আওয়ামী লীগের আদর্শে বিশ্বাসী বলা হয়। অভিযোগকারীরা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয় এবং ক্ষমতাসীন মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়েই বিপিসিতে দ্রুত প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন আহম্মদুল্লাহ। নিয়ম ভেঙে পিএস পদে বহাল বিপিসির চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব পদটি সহকারী ব্যবস্থাপক (৯ম গ্রেড) সমমানের হলেও, উপ-ব্যবস্থাপক (৬ষ্ঠ গ্রেড) পদে থেকেও দীর্ঘদিন ওই দায়িত্ব পালন করেছেন আহম্মদুল্লাহ। এমনকি বদলির আগের দিন পর্যন্তও তিনি একই পদে বহাল ছিলেন। ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর তাকে চেয়ারম্যানের পিএস পদ থেকে সরিয়ে চট্টগ্রাম কার্যালয়ের হিসাব বিভাগে বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, মাত্র একদিনের ব্যবধানে সেই আদেশ বাতিল করিয়ে তিনি পুনরায় আগের পদে ফিরে আসেন। বিপিসির নীতিমালা অনুযায়ী তিন বছর পরপর বদলির বাধ্যবাধকতা থাকলেও তিনি সাত বছরের বেশি সময় একই পদে দায়িত্ব পালন করেন। সম্পদের পাহাড় ও কেরানীগঞ্জের ‘রহস্যময়’ প্লট মো. আহম্মদুল্লাহর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ অবৈধ সম্পদ অর্জন। তার স্ত্রী নুসরাত জেবিন সিনথীর নামে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্পে সাড়ে তিন কাঠার একটি প্লট কেনার তথ্য মিলেছে। ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর সম্পাদিত একটি সাফ কবলা দলিল অনুযায়ী, প্লটটি বিক্রি করেন চট্টগ্রামভিত্তিক বাশার গ্রুপ অব কোম্পানির মালিক আবুল বশর আবু। দলিলে জমির মূল্য দেখানো হয় ৩০ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই প্লটে ইতোমধ্যে আটতলা ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ভবনে ঝুলানো সাইনবোর্ডে এখনো লেখা রয়েছে—“বাশার গ্রুপ অব কোম্পানি, আলহাজ আবুল বশর (আবু)”। এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি নথিতে মালিকানা নুসরাত জেবিন সিনথীর হলেও বাস্তবে ভবনটির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে? স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ওই এলাকায় প্রতি কাঠা জমির বাজারমূল্য ৪২ থেকে ৪৭ লাখ টাকা। সে হিসেবে শুধু জমির বর্তমান মূল্যই দেড় কোটি টাকার বেশি। টেন্ডার, বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ বিপিসির বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আহম্মদুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে বিপিসির টেন্ডার, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যানের নাম ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন কোম্পানি ও ডিপো থেকে অর্থ আদায় করতেন। বিপিসির ঢাকা রেস্ট হাউসে ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীকে বিটুমিন, ক্রুড অয়েল ও ডিজেল আমদানির অনুমোদন পাইয়ে দিতে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া বিপিসির অধীন কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, বদলির ভয় দেখিয়ে ডিপো ইনচার্জদের কাছ থেকেও অর্থ আদায় করা হতো। ব্যাংক হিসাব ও এফডিআর ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, বিপিসির এফডিআর ও এসএনডি হিসাব পরিচালনায়ও প্রভাব খাটিয়েছেন আহম্মদুল্লাহ। তার পছন্দের ব্যাংকগুলোতে বিপিসির বিপুল অঙ্কের অর্থ জমা রাখা হতো বলে অভিযোগ। এমনকি এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতেও বিপিসির হাজার হাজার কোটি টাকা জমা রাখার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এসব হিসাবের মধ্যে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা এখনো উদ্ধার করা যায়নি। ব্যাংকিং সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে আত্মীয়-স্বজনদের চাকরি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ‘নিজস্ব বলয়’ গঠনের অভিযোগ বিপিসির বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে, আহম্মদুল্লাহ নিজের জেলা বরিশালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করতেন। চেয়ারম্যান, পরিচালক ও রেস্ট হাউস সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তার ঘনিষ্ঠদের বসানোর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের বিপিসির বিভিন্ন ডিপো ও অফিসে চাকরি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত উপ-ব্যবস্থাপক (ডিএলও) মো. আশিক শাহরিয়ারকেও নিয়োগ ও পদোন্নতিতে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আশিক শাহরিয়ারকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ডিপো ও পার্টির কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হতো। দুদকের অনুসন্ধান ও সম্পদ বিবরণী অভিযোগ রয়েছে, মো. আহম্মদুল্লাহর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। যদিও সেই অনুসন্ধানের অগ্রগতি প্রকাশ্যে আসেনি। তবে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি দুদকে সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে মো. আহম্মদুল্লাহর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে বিপিসির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব, ভয়ভীতি এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাননি। এখন প্রশ্ন উঠেছে—শুধু বদলি করেই কি শেষ হবে অভিযোগের পর্ব, নাকি রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নামবে?
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সহ-সভাপতি এবং বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন-এর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার ব্যাংক হিসাব, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, যানবাহনসহ বিভিন্ন আর্থিক সম্পদও অবিলম্বে অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার বরগুনা জেলা জজ আদালতের সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাইফুর রহমান এ আদেশ দেন। আদালত সূত্র জানিয়েছে, সাবেক সংসদ সদস্য রিমনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমিদখল, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান অবস্থায় অভিযুক্ত ব্যক্তি তার ও পরিবারের নামে থাকা সম্পদ গোপনে হস্তান্তর বা সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকে আদালতের কাছে আবেদন করে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা ২০০৭-এর বিধি ১৮ অনুযায়ী তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোকের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তদন্তের স্বার্থে রিমনের সম্পদ সাময়িকভাবে জব্দের আবেদন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আবেদনে উল্লেখ থাকা পরিবারের সদস্যদের নামীয় সম্পদও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের আদেশে আরও বলা হয়েছে, তফসিলভুক্ত অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, যানবাহন এবং অন্যান্য আর্থিক সম্পদ দ্রুত অবরুদ্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আয়কর কর্তৃপক্ষকে রিমনের আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জব্দ করে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন বলেন, তদন্তের প্রয়োজনে আদালত সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত শেষে সম্পদের বৈধতা প্রমাণিত না হলে আদালত সেগুলো বাজেয়াপ্ত করতে পারেন। তবে বৈধ প্রমাণিত হলে সম্পদ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
হাসনাইন তালুকদার দিবস,ঝালকাঠি: ঝালকাঠির কেওড়া ইউনিয়নের “সারেংগল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি” ঘিরে উঠেছে অর্থ আত্মসাত, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ। সমিতির সভাপতি শেখ মজিবরের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে তদন্ত দাবি করেছেন সদস্যরা। অভিযোগের পক্ষে ৮০ জনের বেশি সদস্য স্বাক্ষর করে ঝালকাঠি জেলা সমবায় কর্মকর্তার কাছে ৪৯ ধারায় তদন্তের আবেদন জমা দিয়েছেন। স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগপত্রে জানা যায়, সমিতির সভাপতি শেখ মজিবর এলাকায় “জ্বীনের বাদশা” নামেও পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, সমিতির কার্যালয় ব্যবহার করে প্রতি শুক্রবার সেখানে তাবিজ-কবজ ও ঝাড়ফুঁকের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। চলতি বছরের শুরুতে সমিতির সদস্য নম্বর ৪৯২-এর সদস্য মো. ইলিয়াস হোসেন সদস্যদের পক্ষে জেলা সমবায় কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। ওই আবেদনে সমিতির আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম তদন্তের দাবি জানানো হয়। এরপর গত ১০ মে সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন মৃধা স্বাক্ষরিত আরও একটি আবেদন জেলা সমবায় কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা পড়ে। সেখানে সদস্যদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, সমিতির কার্যালয় ও নথিপত্র উদ্ধার এবং নিয়ম অনুযায়ী নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়। অচল সমিতি, কার্যালয়ে তাবিজ বাণিজ্যের অভিযোগ সরেজমিনে সারেংগল গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির কার্যালয়টি সভাপতির বাড়ির ভেতরে অবস্থিত। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সমিতির কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে আছে। অভিযোগ রয়েছে, সমিতির অফিসে নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের পরিবর্তে প্রতি শুক্রবার ঝাড়ফুঁক, জ্বীন চালান ও তাবিজ বিক্রির কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগের বিষয়ে শেখ মজিবর বলেন, “এই অভিযোগকে আমি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি না, বিষয়টি আমার কাছে কিছুই না।” সদস্যদের অভিযোগ: হিসাব নেই, নির্বাচন নেই সারেংগল বাজার এলাকায় সমিতির সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই সমিতির আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সদস্য আবু সুফিয়ান মিন্টু, খাদেমুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন বাবুল, শাহীন মৃধা ও ইলিয়াস হোসেনসহ একাধিক সদস্য অভিযোগ করেন, সভাপতি শেখ মজিবর কোনো ধরনের স্বচ্ছ হিসাব উপস্থাপন ছাড়াই সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিধি অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন না করে কাগজে-কলমে নিজের স্ত্রী মোসা. নাছিমা বেগমকে সভাপতি দেখিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। অভিযোগকারী সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সমিতির নামে লিজ নেওয়া রাস্তার পাশের কিছু আমড়া গাছের ফল বিক্রিকে কেন্দ্র করে বিরোধ তৈরি হয়। পরে বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়ায় এবং স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এরপর নিজের অবস্থান শক্ত করতে শেখ মজিবর সমিতির সদস্য সচিব হিসেবে শাহীন মৃধা এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে হাসান মাহামুদ রিন্টুকে দায়িত্ব দিলেও তাদের কাছে কোনো নথিপত্র বা কার্যকর দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সদস্যদের দাবি, নানা গড়িমসির মাধ্যমে কমিটির মেয়াদ শেষ করা হলেও কোনো আর্থিক হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তের আশ্বাস জেলা সমবায় কর্মকর্তার এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগপত্র হাতে পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, সমিতির কার্যক্রম সচল করতে নতুন অ্যাডহক কমিটি অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে।
ঢাকা কলেজের কর্মচারী মনিরের বিরুদ্ধে কোটি টাকার সম্পদ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা কলেজের একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে মনিরুজ্জামান মনিরের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র, অভিযোগকারী এবং এলাকাবাসীর দাবি—দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব-প্রতিপত্তি ব্যবহার করে তিনি নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি এবং মনিরুজ্জামান মনিরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। পরিচয়ের আড়ালে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে ঢাকা কলেজে কর্মরত থাকলেও বিভিন্ন সময়ে মনির নিজেকে সাংবাদিক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তা কিংবা শিক্ষা অফিসের উচ্চপদস্থ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পরিচয় ব্যবহার করে তিনি প্রশাসনিক সুবিধা নেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করতেন। শিক্ষা বিভাগের ভেতরেও তাকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। রাজধানীতে একাধিক ফ্ল্যাট ও সম্পদের অভিযোগ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর কালশী এলাকায় একটি বহুতল ভবনে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে মনিরের। এছাড়া মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১,৭৮০ বর্গফুট আয়তনের একটি অভিজাত ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর সরকারি বেতনের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য পাওয়া যায় না। এছাড়া ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তার নামে-বেনামে আরও সম্পদ থাকার অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস ও বৈধতা যাচাইয়ে সরকারি তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ব্যাংকে কোটি টাকার আমানতের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন ব্যাংকে মনিরের প্রথম স্ত্রী রিমান নামে কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র, এফডিআর এবং ব্যাংক আমানত রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং অস্বচ্ছ লেনদেনের মাধ্যমে এসব অর্থের উৎস তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কিংবা মনিরের পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চুয়াডাঙ্গায় ‘সম্পদের সাম্রাজ্য’ নিজ জেলা চুয়াডাঙ্গাতেও মনিরের বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। শহরের মুসলিমপাড়ায় প্রায় ১৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত একটি বাগানবাড়ি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। এছাড়া শহরের লিনার মোড় এলাকায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার সম্পত্তির মালিকানা থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, চুয়াডাঙ্গা শহরে দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে একটি চারতলা ভবনও নির্মাণ করেছেন তিনি। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—সরকারি চাকরিজীবীর সীমিত আয়ে এত বিপুল সম্পদ অর্জন কীভাবে সম্ভব? ভয়ভীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ মনিরের বিরুদ্ধে শুধু সম্পদ অর্জনের অভিযোগই নয়, রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষা বিভাগের ভেতরে তিনি একটি প্রভাবশালী চক্রের সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ব্যক্তিগত বিরোধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মারধরের মতো ঘটনাতেও তার নাম এসেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, এক ভ্যানচালকের স্ত্রীকে জোরপূর্বক নিজের কাছে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানালে ওই ভ্যানচালককে মারধরের অভিযোগও ওঠে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের রায় বা আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। এছাড়াও নারী কেলেঙ্কারি, অনৈতিক সম্পর্ক এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরছে। তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর মনিরুজ্জামান মনিরের সম্পদের উৎস, ব্যাংক হিসাব, জমি, ফ্ল্যাটের মালিকানা এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল। তাদের মতে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “একজন সাধারণ কর্মচারীর পক্ষে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া অস্বাভাবিক। তাই তার সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা জরুরি।” তবে প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত মনিরুজ্জামান মনিরের ব্যক্তিগত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বরিশাল এলজিইডিতে ‘কমিশন সিন্ডিকেট’ অভিযোগ বিল আটকে ঘুস দাবি, বদলি আদেশ অমান্য ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগে বিতর্কে নির্বাহী প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : চলমান ও সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন রাস্তা ও ব্রিজের বিল ঘুস না পেলে আটকে রাখা,ঠিকাদারদের জরিমানা মওকুফের নামে ১০ থেকে ২০ লাখ টকা ঘুস দাবী,ঘুস আদায়কারী অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হকের বদলী আদেশ আটকে রাখা,এলজিইডির বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশ না মানা,ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ দেয়ার সাথে শতকরা ১ ভাগ কমিশন আদায় করা,রিভাইজ স্কিম অনুমোদনে চাহিদা অনুযায়ী কমিশন নেয়া ও বিল প্রদানের ক্ষেত্রে শতকরা ২ থেকে ৩ ভাগ কমিশন আদায়সহ অসংখ্য অভিযোগ। দুর্নীতি ও ঘুসসহ বিভিন্ন অভিযোগে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে এলজিইডি। ঢাকা থেকে ঐ তদন্তকারী কর্মকর্তা বরিশালে এসে তদন্ত শুরু করলে তাকে ঘুস দিয়ে তার পক্ষে রিপোর্ট প্রদানের জন্য ব্যাপক তদবির করেন।তার দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুসকান্ডসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য নেতিবাচক রিপোর্ট প্রদান করেছেন।যার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ তিনি হলেন,বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান। তবে সকল অভিযোগ অস্বিকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন, আমি আমার কার্যালয়কে পরিস্কার করতেছি।তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশ প্রসঙ্গে বলেন,আমি ঢাকায় কথা বলে কাজ করছি। অভিযোগের কেন্দ্রে ‘কমিশন বাণিজ্য’ : রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার বরিশাল এলজিইডিতে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর মোহাম্মদ আল ইমরান যোগদান করেন।যোগদানের পরেই বিতর্ক যেন তার পিছু না ছাড়ে। যোগদানের পরেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের বিপরীতে প্রদেয় পিসি - কমিশন বাণিজ্যের কারনে প্রথমেই সমালোচিত হোন। নিজের দাপট দেখাতে তিনি লক্ষ্মীপুর -৩ আসনের এমপি ও পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির আত্মীয় পরিচয় দেয়া শুরু করেন।খোজ নিয়ে জানা গেছে মোহাম্মদ আল ইমরান পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির কোন আত্মীয় নন এমন কি কোন সম্পর্কও নেই।তিনি মোহাম্মদ আল ইমরানকে চিনেনও না। তবে মোহাম্মদ আল ইমরান কার্য্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের একজন অনুসারী।তার বাড়ি কিশোরগঞ্জে। ‘ঘুষ সংগ্রাহক’ হিসেবে এনামুল হক ! বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান যোগদান করেই অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হককে অনৈতিক পথে ঘুস গ্রহন ও ঘুস সংগ্রহ এবং সমস্যা সমাধানের জন্য নিয়োগ করেন।বিল ও কার্যদেশের ব্যাপারেও এনামুল হকের সাথে আগেভাগেই ঠিকাদারদের যোগাযোগ করতে হয়।এনামুলের গ্রীন সিগনাল ছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান কোন ফাইলে স্বাক্ষর করেন না। চলতি বছরের মার্চ মাসে সকল ঠিকাদার ক্ষুব্ধ হন এনামুলকে দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর ঘুস আদায়ের বিরুদ্ধে।এমনকি ঠিকাদাররা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করার উদ্যোগ গ্রহন করেন।পরে ঠিকাদারদের সাথে সমঝোতা করেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান। এনামুলকে বদলী,তিনদিন পর জানলেন নির্বাহী প্রকৌশলী: বদলি আদেশ নিয়েও বিতর্ক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হকের বিরুদ্ধে নির্বাহী প্রকৌশলীর অনৈতিক সুবিধা আদায়কারী প্রমানিত হওয়ার পরেই গত ১৪ মে এলজিইডির বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরীফ মোঃ জামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এনামুল হককে পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলা এলজিইডিতে এবং অপর এক অফিস আদেশে বরিশাল সদর উপজেলা এলজিইডি থেকে বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে রেহেনা আখতারকে বদলী করা হয়।আদেশগুলোতে উল্লেখ করা হয়,১৯ মে তারিখ হতে ষ্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হবে। নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস ও বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অফিস একই দেয়ালে ঘেরা।দুরত্ব একশত হাতেরও কম।তবুও ১৪ মে তারিখের আদেশ নির্বাহী প্রকৌশলী পেলেন ১৭ মে। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অফিস আদেশ পেয়েও এনামুল হককে ছাড়তে নারাজ নির্বাহী প্রকৌশলী। এ ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন,আমি ঢাকায় কথা বলেছি।আমার অফিসের ব্যাপার বাইরে কেন।তবে তিনি বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য'র সুরে বলেন,আমার অফিসের ব্যাপারে আমি সিদ্ধান্ত নিব।আমি ঢাকায় কথা বলেছি।ঢাকা যে সিদ্ধান্ত দিবে তা পালন করবো। কারন হিসেবে জানা গেছে,মোহাম্মদ আল ইমরান এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি সাবেক বিতর্কিত প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিমের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশ পালনে ইচ্ছুক নন। তিনি বলেন রেহেনা আখতার এখানে আসতে চান না। রেহেনা আখতার জানালেন কে বলেছে আমি যেতে চাইনা। আমিতো নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারকে বলিনি যে আমি নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে যোগদান করবোনা। এ ব্যাপারে এলজিইডির বরিশাল সদর উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ মাইনুল মাহমুদ বলেন, রেহেনা আখতারকে আলাদা ছাড়পত্র দেয়ার কিছু নাই।তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশই যথেষ্ট। জরিমানার অর্থ মওকুফের নামে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা এ দিকে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের থেকে জরিমানার অর্থ মওকুফের নামে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। প্রতি বিল থেকে শতকরা ২ থেকে ৩ পারসেন্ট ঘুসের ব্যাপারে ঠিকাদররা ক্ষুব্ধ। কমিশন আদায়ের অভিজ্ঞ নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে সারাদেশে খাল-পুকুর প্রকল্পের উপ- প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের রাষ্ট্রপতির জেলা কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা।এ কারণে প্রধান কার্যালয়ের উক্ত প্রকল্পে তার প্রভাব ছিল অপ্রতিরোধ্য।তৎকালীন সময়ে প্রকল্পের স্কিম গ্রহণ,অনুমোদন এবং রিভাইজ ও অর্থছারের কমিশন বাণিজ্যে ছিল সিদ্ধহস্ত ।পরবর্তীতে সাবেক অভিযুক্ত প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিম দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপদেষ্টাকে ম্যানেজ করে বরিশাল জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর পথটি ভাগিয়ে নেন। অভিযোগ জানা গেছে, জেলা পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকলেও স্থানীয় ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়ে যথেষ্ট অভিজ্ঞ। রিভাইজ স্কিম অনুমোদনে ২ থেকে ৩ পারসেন্ট কমিশন এছাড়া রিভাইজ স্কিম অনুমোদনে চাহিদা অনুযায়ী কমিশন নেয়া ও বিল প্রদানের ক্ষেত্রেও ২ থেকে ৩ পারসেন্ট কমিশনের দাবি পূরণের বিষয়টি ঠিকাদারদের কাছে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। নির্বাহী প্রকৌশলীর এই অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বিব্রত ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নির্বাহী প্রকৌশলীদের ফিল্ড পর্যায়ে কাজ পরিদর্শনের রীতি থাকলেও তিনি দপ্তরে বসেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। ঠিকাদারদের কাছ থেকে অধীনস্থ প্রকৌশলীর মাধ্যমে কমিশন আদায় চাপ প্রয়োগ করার কারণে নির্বাহী প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা চরম ক্ষুব্ধ। নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, বিগত সময় কোন নির্বাহী প্রকৌশলী এভাবে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করতেন না। এছাড়া কমিশনের টাকা এককভাবে নেওয়ার অভিযোগ ও রয়েছে। বিভিন্ন বাহানায় অর্থ প্রাপ্তির কৌশল নাম প্রকাশে অনচ্ছুক এক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, একটি রিভাইজ স্কিম অনুমোদনের জন্য প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণের ক্ষেত্রে মোটা অংকের অর্থ দাবি করেছেন।যা বিগত সময়ের কোন নির্বাহী প্রকৌশলী এ অর্থ দাবি করেনি।অন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেন, হঠাৎ করে নির্বাহী প্রকৌশলী তার সাইট পরিদর্শনের কথা বলে সরে জমিনে পরিদর্শন পূর্বক ত্রুটির বিচ্যুতির কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন বাহানায় অর্থ প্রাপ্তির কৌশল অবলম্বন করেন। এক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো তার অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করার স্থির করেন। নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরানের অনৈতিক পথে অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি তদারকি করেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হক। নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানকে বদলী ও শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী অভিজ্ঞজনদের মতে, জনস্বার্থে সরকারের আর্থিক সদ্ব্যবহার ও কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে অর্থলোভী ও কমিশন বাণিজ্যের হোতা বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানকে বদলী ও শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।নচেৎ এলজিইডি বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়সহ বিভগের সকল জেলা ও উপজেলা এলজিইডি অফিসে চেইন্ড অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়বে। তাকে বদলী করা না হলে বরিশাল জেলায় জনদুর্ভোগ ও জনরোষ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের নকশায় না থাকা কিংবা ভিডিও জরিপে শনাক্ত না হওয়া তথাকথিত স্থাপনার বিপরীতে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ শেষ হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৫১ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও ৩৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৬ কিলোমিটার অংশে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা, আপত্তি নিষ্পত্তিতে অনিয়ম এবং ক্ষতিপূরণ বাণিজ্যের কারণে প্রকল্পটি এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ছয় বছরে অগ্রগতি মাত্র ১৫ শতাংশ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগ সহজ করতে ২০০১ সালে চালু হয় চাঁদপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক সড়ক। সড়কটি সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে এটি প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেয় সরকার। শরীয়তপুর শহরের মনোহর বাজার থেকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার ইব্রাহিমপুর পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণে ৮৬০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা জমি অধিগ্রহণে ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে দুই দফা সময় বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু এখনো অধিকাংশ এলাকায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। সওজ সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রায় ৪৭ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ বাকি রয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি আটকে আছে মাত্র ১৫ শতাংশে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের বরাদ্দ শেষ হয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত ৪১৫ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব প্রস্তুত করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। সওজের শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন বলেন, “প্রকল্পের ডিপিপিতে জমি অধিগ্রহণ ব্যয় কম ধরা হয়েছিল। ফলে জমি অধিগ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই বরাদ্দ শেষ হয়ে যায়।” ‘ভূতুড়ে’ স্থাপনার বিপরীতে ক্ষতিপূরণের অভিযোগ ভূমি অধিগ্রহণকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তথাকথিত ‘ভূতুড়ে বিল’ নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার ভিডিও জরিপের আগে ও পরে স্থানীয় একটি চক্র ফাঁকা জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে। পরে সেসব স্থাপনাকে বৈধ দেখিয়ে ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ভিডিও জরিপে না থাকা কিংবা প্রকল্প নকশার বাইরে থাকা স্থাপনাগুলোর বিপরীতেও বিল প্রস্তুত করা হয়েছে। এমনকি ছোট গাছকে বড় গাছ হিসেবে দেখিয়ে অস্বাভাবিক অঙ্কের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের অভিযোগও রয়েছে। ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পর অনেক স্থাপনা আবার সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওতে একতলা, বিলে দুইতলা ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরতারবুনিয়া মৌজায় শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির জমিতে ভিডিও জরিপে একতলা ভবন দেখা গেলেও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের সময় সেখানে দ্বিতীয় তলায় আধাপাকা টিনশেড ঘর দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে অতিরিক্ত প্রায় ২০ লাখ টাকার বিল তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় সূত্রের। যদিও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি শফিকুল ইসলাম। গাছের আকার বাড়িয়ে লাখ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ পাপরাইল এলাকার জয়নাল খাঁর জমিতে গাছের সংখ্যা ও আকার বাড়িয়ে দেখিয়ে প্রায় ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে জয়নাল খাঁ দাবি করেছেন, তাঁর ক্ষেত্রে সবকিছু নিয়ম মেনেই হয়েছে। আইন যা বলছে ২০১৭ সালের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন অনুযায়ী, অসৎ উদ্দেশ্যে নির্মিত স্থাপনা ক্ষতিপূরণের তালিকাভুক্ত করার সুযোগ নেই। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সেই আইন উপেক্ষা করেই বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনার বিপরীতে ক্ষতিপূরণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সদর উপজেলার চরকাশাভোগ এলাকায় শাহিদা বেগম নামের এক নারী অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় নিজ জমিতে দুটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করেছিলেন বলে জানা গেছে। প্রথমে এলএ শাখা স্থাপনাগুলোকে “জনস্বার্থবিরোধী” উল্লেখ করে তালিকা থেকে বাদ দিলেও পরে আপত্তি নিষ্পত্তির মাধ্যমে তাঁকে প্রায় ৪৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সড়ক প্রকল্পের অন্তত ১৯টি এলএ কেসে প্রায় ১২০টি আপত্তি যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের চেকে ‘পারসেন্টেজ’ নেওয়ার অভিযোগ ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে। দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকার আবদুল মালেক ফকির অভিযোগ করেন, ১৬ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক তুলতে তাঁকে আড়াই লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন নান্নু সরদার। তাঁর দাবি, “ভ্যাটের কথা বলে” ক্ষতিপূরণের টাকার ৬ শতাংশ কেটে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাসুদুল আলম বলেন, তাঁর কাছে এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, “কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যেন পারসেন্টেজ না নেন, সে বিষয়ে শুরু থেকেই কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেনও বলেছেন, ক্ষতিপূরণ প্রদানে অনিয়মের বিষয়ে তাঁর কাছে এখনো কোনো তথ্য আসেনি। তবে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে। প্রশ্নের মুখে জবাবদিহি অবকাঠামো উন্নয়নের নামে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন নতুন নয়। তবে শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়ক প্রকল্পে ওঠা অভিযোগগুলো এখন শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতার নয়, বরং সরকারি অর্থ অপচয় ও সংঘবদ্ধ দুর্নীতির আশঙ্কাও সামনে আনছে। যেখানে ছয় বছরেও প্রকল্পের অর্ধেক জমি অধিগ্রহণ শেষ হয়নি, সেখানে অতিরিক্ত শত শত কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব নতুন করে নজরদারি ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জোরালো করছে।
রাণীনগরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির অভিযোগ, একই ঘর একাধিকবার হাতবদল বরিশাল অফিস : ঢাকা নওগাঁর রাণীনগরে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য নির্মিত সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর অর্থের বিনিময়ে বিক্রি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু ঘর বিক্রিই নয়, একই ঘর একাধিকবার হাতবদল হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এ ছাড়া দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ করা কিছু ঘর দখল করে সেগুলোকে বিলাসবহুল বাসস্থানে রূপান্তরের অভিযোগও রয়েছে। উপজেলার মালিপুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে একাধিক ঘর বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকল্পের ৫ নম্বর ঘরটির মূল বরাদ্দপ্রাপক ছিলেন মল্লিকা নামের এক নারী। বর্তমানে সেখানে বসবাস করছেন প্রবাসী সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা বিবি। ঘরটিতে গিয়ে দেখা যায়, মেঝেজুড়ে দামী কার্পেট, ফ্রিজ ও দেয়ালে ৪৩ ইঞ্চির স্মার্ট টেলিভিশনসহ নানা আসবাবপত্র রয়েছে। ঘরটির অবস্থা দেখে এটিকে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি বলে বোঝার উপায় নেই। মর্জিনা বিবি জানান, তিনি মকবুল নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকায় ঘরটি কিনেছেন। তার দাবি, মকবুল আবার এটি কিনেছিলেন মূল বরাদ্দপ্রাপক মল্লিকার কাছ থেকে। একইভাবে তিনি ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় প্রকল্পের ৬ নম্বর ঘরটিও কিনেছেন। তিনি বলেন, “সরকারি কাগজপত্র এখনো পাইনি। তবে স্ট্যাম্প ও দলিলের মাধ্যমে কেনাবেচা হয়েছে।” প্রকল্প এলাকা ঘুরে আরও দেখা যায়, ৭ নম্বর ঘরটি ৭০ হাজার টাকায় কিনেছেন আমিন, ৯ নম্বর ঘর ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় কিনেছেন আসাদুল এবং ১০ নম্বর ঘর ৮০ হাজার টাকায় কিনেছেন সফেটা নামের এক নারী। এছাড়া ১৪ নম্বর ঘরটি ৭০ হাজার টাকায় কিনেছেন শরিফ নামের এক ব্যক্তি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮, ১৯ ও ২২ নম্বর ঘরসহ আরও কয়েকটি ঘর ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে হাতবদল হয়েছে। এই কেনাবেচায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পের বাসিন্দা হাফিজুলের স্ত্রী নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেন, যাদের ঘর দেওয়া হয়েছিল তারা অনেকেই অন্য এলাকার এবং সেখানে থাকতে আগ্রহী ছিলেন না। নাজমা বেগম বলেন, “তারা থাকতে না চাওয়ায় স্থানীয়দের কাছে ঘর বিক্রিতে আমি সহায়তা করেছি।” স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত ভূমিহীনদের বাদ দিয়ে তুলনামূলক সচ্ছল ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘর বরাদ্দ দেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার নারায়নপাড়ার বাসিন্দা সাইদ ও তার ছেলে বিদেশে অবস্থান করে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হলেও প্রভাব খাটিয়ে ঘর পেয়েছেন। একইভাবে গ্রাম পুলিশ ছাবিনা ইয়াসমিন মীম ও তার বোন বানিছাও আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, মীম তার ঘরটি প্রাচীর দিয়ে ঘিরে আলাদা অবকাঠামো তৈরি করেছেন এবং সেটি ৩ লাখ টাকায় বিক্রির জন্য দরদাম করছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাবিনা ইয়াসমিন মীম। তিনি বলেন, “আমি ঘর বিক্রি করতে চাই না। রাগের মাথায় দাম বলেছিলাম। বরং ঘর বিক্রির তথ্য প্রশাসনকে দিয়েছি।” মালিপুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি ফরিদ আলী বলেন, “৩২টি ঘরের মধ্যে অন্তত ১০ থেকে ১২টি ঘর কেনাবেচা হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।” রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল হাসান বলেন, “ঘর কেনাবেচার অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মাদারীপুর এলজিইডিতে ‘পুকুর চুরি’র অভিযোগ: শতকোটি টাকার অনিয়মে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মাদারীপুরের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ঘিরে আবারও বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জেলার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বর্তমানে একটি বড় সরকারি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) বাবুল আখতারের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি, অতিমূল্যে কার্যাদেশ প্রদান এবং ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারের বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বিশেষ করে করোনাকালীন সময়কে কেন্দ্র করে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে শতকোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে। অভিযোগের তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর নজরেও আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে কোটি কোটি টাকা বেশি ব্যয় অভিযোগ অনুযায়ী, শিবচর উপজেলার অধীনে দরপত্র আইডি ৫৮৯৬৪৫-এর আওতায় আড়িয়াল খাঁ ব্রিজ থেকে বাবলাতলা বাজার এবং শিবচর সদর থেকে রাজৈর ভায়া উত্রাইল জিসি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ২৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার প্রাক্কলনের বিপরীতে ২৬ কোটি ৬০ লাখ টাকায় কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এই কাজটি পায় মেসার্স হামীম ইন্টারন্যাশনাল। অভিযোগ রয়েছে, প্রাক্কলিত মূল্যের তুলনায় প্রায় ১৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ বা প্রায় ৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা বেশি দামে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারি নির্মাণকাজে সাধারণত দরপত্রে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কম দরে কার্যাদেশ দেওয়ার প্রবণতা থাকে। কিন্তু এখানে উল্টো অতিরিক্ত মূল্যে কার্যাদেশ দেওয়াকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। একই দরপত্রের আরেকটি প্যাকেজেও ২২ কোটি ৫৪ লাখ টাকার প্রাক্কলনের বিপরীতে প্রায় ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি দামে কার্যাদেশ দিয়ে সরকারের প্রায় ২ কোটি ২২ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সেতু নির্মাণ প্রকল্পেও একই অভিযোগ শিবচরের বিভিন্ন সড়কে অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে দরপত্র আইডি ৫৬০৫০৫-এ প্রায় ১৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকার কাজেও একই প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি দামে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এছাড়া আরসিআইপি প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলায় প্রায় ২৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকার একটি প্রকল্পে ‘ভুয়া প্রাক্কলন’ তৈরি করে অনুমোদন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ওই কাজটি মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজকে দেওয়া হয়। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাকালীন লকডাউনের সময় প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। ছোট প্রকল্পেও ‘উচ্চ দর’ কৌশল অনুসন্ধানে আরও কয়েকটি ছোট ও মাঝারি প্রকল্পে একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে— দরপত্র আইডি ২৬২৯৭৫ (প্যাকেজ ২২৮)-এ ৪.৯৩ শতাংশ বেশি দামে মেসার্স পাভেল এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দরপত্র আইডি ৩৩৮৩২৯ (প্যাকেজ ৩০৮)-এ ৪.৯৫ শতাংশ বেশি দামে হাবিবা কনস্ট্রাকশনকে কার্যাদেশ দরপত্র আইডি ৩১৬০৬৯ (প্যাকেজ ২৭৮)-এ ৪.৯৭ শতাংশ বেশি দামে মেসার্স মোহাম্মদ ফারুক মিয়াকে কার্যাদেশ দরপত্র আইডি ২৬২৯৭৬ (প্যাকেজ ২১৪)-এ ৪.৯৭ শতাংশ বেশি দামে মেসার্স হামীম ইন্টারন্যাশনালকে কার্যাদেশ দরপত্র আইডি ৩৩৮৩৩০ (প্যাকেজ ৩০৯)-এ ৯.৪৯ শতাংশ বেশি দামে মেসার্স আতাহার এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দরপত্র আইডি ৩৩৩২০০ (প্যাকেজ ২৮০)-এ ৯.৭২ শতাংশ বেশি দামে মেসার্স মাদবর ট্রেডার্সকে কার্যাদেশ এছাড়া কয়েকটি এইচবিবি ও ড্রেনেজ প্রকল্পেও প্রাক্কলিত মূল্যের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত দরে কার্যাদেশ দিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ‘সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের’ অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাবুল আখতার তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারি সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিতে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতেন। একাধিক প্রকল্পে একই ধরনের উচ্চ দর অনুমোদনের ঘটনায় পরিকল্পিত যোগসাজশের ইঙ্গিত মিলেছে বলে দাবি অভিযোগকারীদের। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, করোনাকালীন সময় প্রশাসনিক নজরদারি দুর্বল থাকায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ লুটপাট করা হয়ে থাকতে পারে। তদন্তের দাবি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের দাবি, টেন্ডার প্রক্রিয়া, প্রাক্কলন অনুমোদন, কার্যাদেশ প্রদান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের আর্থিক নথিপত্র স্বাধীনভাবে নিরীক্ষা করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে। অভিযুক্ত বাবুল আখতারের বক্তব্য নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে।
এনবিআরের এক কর্মচারীর বিপুল সম্পদ: দুদকের অনুসন্ধানে যা জানা যাচ্ছে ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক কর্মচারীর বিপুল সম্পদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বলছে, কর অঞ্চল-১৪–এ কর্মরত উচ্চমান সহকারী আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান চলছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল লতিফ কিছুদিন আগেও একই দপ্তরে পিয়ন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে তিনি উচ্চমান সহকারীর দায়িত্ব পান। তবে তার বিরুদ্ধে জমা পড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরির আড়ালে তিনি কয়েক কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন, যার বৈধ উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মাতুয়াইলের রহমতপুর এলাকায় আব্দুল লতিফের একটি বহুতল ভবন রয়েছে। এছাড়া ডেমরার হাজী বাদশা মিয়া রোড এবং মাতুয়াইল নিউ টাউন এলাকায় নিজের ও স্ত্রীর নামে বিপুল পরিমাণ জমি কেনার তথ্যও পেয়েছে দুদক। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঢাকায় বিভিন্ন আবাসিক ভবনে একাধিক ফ্ল্যাট, ব্যাংক হিসাবে বড় অঙ্কের অর্থ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কারের তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এদিকে, তদন্ত শুরুর আভাস পাওয়ার পর আব্দুল লতিফ ঢাকার কয়েকটি ফ্ল্যাট দ্রুত বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সেই অর্থ দিয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে নতুন করে জমি কিনছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমানের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি দুদকের নজরে আসে। সংস্থাটি জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আব্দুল লতিফের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কর্মস্থলেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। দুদকের উপপরিচালক ফাতেমা সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, “মামলাটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি অনুসন্ধান করছি। তদন্তে অবৈধ সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ঘটনাটি এনবিআর ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারীর পক্ষে কীভাবে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব হলো। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা ছাড়া এমন সম্পদ গড়ে তোলা কঠিন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নেসকো’র নির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচি । বরাজশাহী ভিত্তিক বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠান নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি পিএলসি (নেসকো)-এর নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন ও মানব সম্পদ উন্নয়ন) আবু হায়াত মোঃ রহমতুল্লাহর বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার কারসাজি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচিব এ. জে. এম. এরশাদ আহসান হাবিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা এক অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নেসকোতে চলমান বিভিন্ন নিয়োগ ও বদলি কার্যক্রমে অনিয়মের মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের সাব-স্টেশন অ্যাটেনডেন্ট পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অর্থ লেনদেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং প্রভাব খাটিয়ে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, লিখিত পরীক্ষার মাত্র এক দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করে ২১৭ জনকে ভাইভার জন্য ডাকা হয়, যা নিয়ে নিয়োগপ্রত্যাশীদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রতি প্রায় ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার চুক্তি করা হয়েছে। এছাড়াও বদলি বাণিজ্য, পছন্দের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা এবং অপছন্দের কর্মকর্তাদের দূরবর্তী এলাকায় বদলির অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, উৎকোচের বিনিময়ে পদায়ন ও বদলির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চালিয়ে আসছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা। টেন্ডার অনিয়মের অভিযোগে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাজ নিয়মিত দরপত্র ছাড়াই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তার ঘনিষ্ঠজনদের ব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে। এছাড়া অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বলা হয়, রাজশাহীতে বহুতল ভবন, ফ্ল্যাট ও জমিসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন আবু হায়াত মোঃ রহমতুল্লাহ। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্প ও উন্নয়ন খাত থেকে অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে এসব সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চলমান সাব-স্টেশন অ্যাটেনডেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার দাবি জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে আবু হায়াত মোঃ রহমতুল্লাহর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।
বিআইডব্লিউটিএ ড্রেজিং বিভাগ: অভিযোগ, অনিয়ম ও এক প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে ঘিরে বিতর্ক ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর ড্রেজিং বিভাগকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এই বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, যা টেন্ডার, নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মো. সাইদুর রহমানকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগে বলা হচ্ছে, নদী খনন প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, ভুয়া বিল-ভাউচার এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনো পুরোপুরি প্রকাশিত হয়নি। নদী খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, ক্যাপিটাল ড্রেজিংসহ একাধিক প্রকল্পে কাজ না করেই কাগজে-কলমে অগ্রগতি দেখানো হয়েছে। বিশেষ করে ভোগাই ও কংস নদ খনন প্রকল্পে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। সিন্ডিকেট ও প্রশাসনিক প্রভাবের অভিযোগ অভ্যন্তরীণ কিছু সূত্রের দাবি, ড্রেজিং বিভাগে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যা দরপত্র প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক বদলিতে প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটের বাইরে অবস্থানকারী কর্মকর্তারা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বা পদোন্নতিতে বাধার মুখে পড়ছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তার সম্পদ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করলেও তা দীর্ঘদিন ধরে অগ্রগতি হয়নি। তবে দুদকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। চাকরি ও সনদ নিয়ে অভিযোগ আরেকটি অভিযোগে বলা হচ্ছে, চাকরির পূর্ববর্তী তথ্য গোপন করে তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। তবে এ অভিযোগও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত নয়। প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিআইডব্লিউটিএ’র মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় থাকলেও, এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তদন্ত ও প্রকাশ্য জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরাধীন সেতু/কালভার্ট প্রকল্পে নিয়োজিত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয়ের কার্যসহকারীদের চাকরি রাজস্বকরণের প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই বিশাল প্রতারণা চক্রের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছেন জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা পিআইও কার্যালয়ের কার্যসহকারী মো. আব্দুল মতিন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মো. আব্দুল মতিন সারা দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় কর্মরত কার্যসহকারীদের নিয়ে একটি সমিতি গঠন করেন। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজেই সেই সমিতির সভাপতি পদ দখল করেন। এরপর থেকেই শুরু হয় তার চাঁদাবাজির মহোৎসব। চাকরি স্থায়ী বা রাজস্বকরণের আশ্বাস দিয়ে তিনি সাধারণ কর্মচারীদের মগজ ধোলাই করতে শুরু করেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, গত এক থেকে দেড় বছর ধরে আব্দুল মতিন ‘প্রশাসনিক তদবির’ এবং ‘আদালতে মামলা পরিচালনা’র অজুহাত দেখিয়ে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেছেন। প্রতিটি উপজেলা থেকে কর্মরতদের কাছ থেকে ২০ হাজার থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। এইভাবে সারা দেশ থেকে কয়েক কোটি টাকা সংগ্রহ করলেও চাকরির স্থায়ীত্বের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী কর্মচারী জানান, মতিন নিজেকে ওপর মহলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিতেন। তারা বলেন: “আমরা সামান্য বেতনে প্রকল্পে কাজ করি। স্থায়ীকরণের আশায় ধার-দেনা করে তাকে টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি, মামলার নাম করে তিনি কেবল নিজের পকেট ভারী করেছেন। আমাদের কাছে তার টাকা চাওয়ার ও আশ্বাস দেওয়ার পর্যাপ্ত অডিও রেকর্ড রয়েছে।” মাঠ পর্যায়ের সাধারণ কর্মচারীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এমন সুপরিকল্পিত প্রতারণার ঘটনায় ক্ষোভ বিরাজ করছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, সরকারি কার্যালয়ে কর্মরত থেকে একজন কর্মচারী কীভাবে এমন একটি বিশাল নেটওয়ার্ক চালিয়ে যাচ্ছেন, তা খতিয়ে দেখা দরকার। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নরসিংদীর কান্দাইল মৌজায় রাজউক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন ছাড়াই “পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী” নামে একটি আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে ল্যান্ড ডেভেলোপার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক হাজার একর জমি জবরদখল করে গড়ে ওঠা এ প্রকল্পে সরকারি খাস জমি, অর্পিত সম্পত্তি, খাল-বিল ও জলাশয় ভরাট করা হয়েছে অবৈধভাবে। প্রকল্পটির বিরুদ্ধে জলাধার সংরক্ষণ আইনে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। আদালত প্রকল্পের কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দিলেও অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটি সেই নির্দেশ অমান্য করে প্রকল্প সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংস হয়ে পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে পূর্বাচল প্রবাসী পল্লীর মহাব্যবস্থাপক মফিজুর রহমান মফিজ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, “রাষ্ট্রের সকল নিয়ম-কানুন মেনেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।” অন্যদিকে রাজউকের চেয়ারম্যান মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “আমার জানামতে পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী একটি অবৈধ আবাসন প্রকল্প। এতে রাজউকের কোনো অনুমোদন নেই। প্রতিষ্ঠানটিকে সকল অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, সরকারি খাল, জলাশয় ও তিন ফসলি জমি ভরাটের দায়ে প্রকল্প এলাকায় একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি অর্থদণ্ড এবং জলাধার আইনে একাধিক মামলাও দায়ের করা হয়েছে। জমি দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বাচল প্রবাসী পল্লীর চেয়ারম্যান সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে স্থানীয় কৃষকদের জমি জোরপূর্বক দখল, বালু ভরাট এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে নামমাত্র মূল্যে জমি রেজিস্ট্রি করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তারা রাজউক, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ভূমি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও কার্যকর প্রতিকার পাননি। বরং প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং ৬১২৯/২০১১ দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে যে, সংশ্লিষ্ট মৌজায় এককভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের অধিকার তাদের রয়েছে। এ রিটের অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে উকিল নোটিশ পাঠিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে। ব্যারিস্টার আক্তার-উল-আলম বলেন, “উচ্চ আদালতের আদেশের অপব্যবহার এবং আদালত অবমাননার শামিল এমন কর্মকাণ্ড। কোনো ব্যক্তি বিশেষের এককভাবে পুরো এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই।” সরকার পরিবর্তনের পর ফের সক্রিয় চক্র স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর কিছু সময় আত্মগোপনে থাকলেও ২০২৬ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে সংশ্লিষ্ট চক্রটি। প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় তারা পুনরায় জমি দখল ও ভরাট কার্যক্রম শুরু করেছে বলে দাবি করা হয়। গত ২৮ জানুয়ারি মাধবদী থানায় দায়ের করা একটি মামলায় প্রশাসনকে প্রবাসী পল্লীকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তার অনুরোধ জানানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে পুনরায় উল্লেখ করা হয় রিট পিটিশন নং ৬১২৯/২০১১। এছাড়া গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার একটি তদন্তে অভিযোগ ওঠে, স্বল্প পরিমাণ জমি ক্রয়ের বিপরীতে পাঁচ থেকে ছয় হাজার প্লট বিক্রির মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের ঘটনা ঘটেছে। আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ গত ২ অক্টোবর ২০২৪ দায়ের হওয়া দেওয়ানি মামলা নং ১২১/২০২৪-এ নরসিংদীর সদর সহকারী জজ আদালত কান্দাইল মৌজার বিতর্কিত জমিতে কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা না করার নির্দেশ দেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে এখনো সেখানে বালু ভরাট ও উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় পাঁচ হাজার বিঘা ফসলি জমি বালু ফেলে ভরাট করায় এক সময়ের উর্বর কৃষি অঞ্চল এখন ধূধূ বালুচরে পরিণত হয়েছে। কৃষকদের দুর্দশা কান্দাইল গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা রতন মিয়া, মানিক ও সাইদুল ইসলাম জানান, একসময় এ এলাকায় ধান, গম, পাট, শাক-সবজি ও নানা কৃষিপণ্যের সমৃদ্ধ উৎপাদন ছিল। এখন সেখানে ফসল জন্মায় না। ফলে শত শত কৃষক পরিবার কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সাইফুল ইসলাম বলেন, “একাধিক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েও এই শক্তিশালী ভূমিদস্যু চক্রকে থামানো যায়নি। হাজার হাজার প্রবাসীর কাছ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে।” ভুক্তভোগী হারুন মিয়া জানান, “অনেক প্রবাসী গ্রাহক ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধ করেও বছরের পর বছর প্লট বুঝে পাননি। অনেকে অপেক্ষা করতে করতে মৃত্যুবরণ করেছেন।” স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষকদের কাছ থেকে অস্থায়ীভাবে জমি ভাড়া নিয়ে সেখানে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে প্লট বিক্রির নামে প্রতারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও কালো টাকা বিনিয়োগের অভিযোগ স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, প্রকল্পটির সঙ্গে সাবেক ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তারা দাবি করেন, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির বিনিয়োগ রয়েছে এ প্রকল্পে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, গত প্রায় ১৭ বছর ধরে “প্রবাসী পল্লী” প্রকল্পের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও প্রলোভনের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, যার একটি অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো প্রধানমন্ত্রী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।