Brand logo light

শিক্ষা

মনিরের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ
ঢাকা কলেজের কর্মচারী মনিরের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

ঢাকা কলেজের কর্মচারী মনিরের বিরুদ্ধে কোটি টাকার সম্পদ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা কলেজের একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে মনিরুজ্জামান মনিরের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র, অভিযোগকারী এবং এলাকাবাসীর দাবি—দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব-প্রতিপত্তি ব্যবহার করে তিনি নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি এবং মনিরুজ্জামান মনিরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। পরিচয়ের আড়ালে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে ঢাকা কলেজে কর্মরত থাকলেও বিভিন্ন সময়ে মনির নিজেকে সাংবাদিক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তা কিংবা শিক্ষা অফিসের উচ্চপদস্থ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পরিচয় ব্যবহার করে তিনি প্রশাসনিক সুবিধা নেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করতেন। শিক্ষা বিভাগের ভেতরেও তাকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। রাজধানীতে একাধিক ফ্ল্যাট ও সম্পদের অভিযোগ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর কালশী এলাকায় একটি বহুতল ভবনে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে মনিরের। এছাড়া মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১,৭৮০ বর্গফুট আয়তনের একটি অভিজাত ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর সরকারি বেতনের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য পাওয়া যায় না। এছাড়া ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তার নামে-বেনামে আরও সম্পদ থাকার অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস ও বৈধতা যাচাইয়ে সরকারি তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ব্যাংকে কোটি টাকার আমানতের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন ব্যাংকে মনিরের প্রথম স্ত্রী রিমান নামে কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র, এফডিআর এবং ব্যাংক আমানত রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং অস্বচ্ছ লেনদেনের মাধ্যমে এসব অর্থের উৎস তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কিংবা মনিরের পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চুয়াডাঙ্গায় ‘সম্পদের সাম্রাজ্য’ নিজ জেলা চুয়াডাঙ্গাতেও মনিরের বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। শহরের মুসলিমপাড়ায় প্রায় ১৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত একটি বাগানবাড়ি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। এছাড়া শহরের লিনার মোড় এলাকায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার সম্পত্তির মালিকানা থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, চুয়াডাঙ্গা শহরে দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে একটি চারতলা ভবনও নির্মাণ করেছেন তিনি। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—সরকারি চাকরিজীবীর সীমিত আয়ে এত বিপুল সম্পদ অর্জন কীভাবে সম্ভব? ভয়ভীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ মনিরের বিরুদ্ধে শুধু সম্পদ অর্জনের অভিযোগই নয়, রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষা বিভাগের ভেতরে তিনি একটি প্রভাবশালী চক্রের সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ব্যক্তিগত বিরোধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মারধরের মতো ঘটনাতেও তার নাম এসেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, এক ভ্যানচালকের স্ত্রীকে জোরপূর্বক নিজের কাছে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানালে ওই ভ্যানচালককে মারধরের অভিযোগও ওঠে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের রায় বা আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। এছাড়াও নারী কেলেঙ্কারি, অনৈতিক সম্পর্ক এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরছে। তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর মনিরুজ্জামান মনিরের সম্পদের উৎস, ব্যাংক হিসাব, জমি, ফ্ল্যাটের মালিকানা এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল। তাদের মতে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “একজন সাধারণ কর্মচারীর পক্ষে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া অস্বাভাবিক। তাই তার সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা জরুরি।” তবে প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত মনিরুজ্জামান মনিরের ব্যক্তিগত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬ 0
রাবিপ্রবির ১৬৪ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
রাবিপ্রবির ১৬৪ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ, কেন্দ্রে সাবেক পিডি আবদুল গফুর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) স্থাপন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ১৬৪ কোটি ৩০ লাখ টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবং প্রকল্পের সাবেক পরিচালক (পিডি) আবদুল গফুর। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য এবং প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, অতিমূল্যে ফার্নিচার ক্রয়, দ্বৈত টিএ/ডিএ বিল উত্তোলন, কমিশন বাণিজ্য, অবৈধ অগ্রিম উত্তোলন এবং সরকারি অর্থে ব্যক্তিগত বাসার আসবাব কেনাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। যেভাবে শুরু হয় প্রকল্প “রাবিপ্রবি স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত)” প্রকল্পের আওতায় একটি একাডেমিক ভবন, একটি প্রশাসনিক ভবন এবং ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য পৃথক দুটি তিনতলা আবাসিক হল নির্মাণকাজ চলছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান আবদুল গফুর। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়নে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতে থাকে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা। ফার্নিচার ক্রয়ে ‘অস্বাভাবিক’ ব্যয় প্রকল্পের ব্যয় সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ফার্নিচার কেনার ক্ষেত্রে বাজারদরের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মূল্য দেখানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ খাতে অন্তত ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে একটি টেবিলের প্রকৃত মূল্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা হলেও বিল ভাউচারে সেটির দাম দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “একই ধরনের আসবাবপত্র স্থানীয় বাজারে যে দামে পাওয়া যায়, প্রকল্পে তার দ্বিগুণ-তিনগুণ মূল্য দেখানো হয়েছে।” টিএ/ডিএ বিলেও অনিয়মের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টিএ/ডিএ বিল গ্রহণের পরও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সফরের নামে দ্বিতীয়বার অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। নথিপত্রে দেখা যায়, এভাবে প্রায় ৭ লাখ ১১ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, একই সফরের জন্য একাধিক খাত দেখিয়ে বিল সমন্বয় করা হয়েছে। টেন্ডারে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ চারটি ভবনের নির্মাণ টেন্ডার অনুমোদনের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে এক শতাংশ হারে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এভাবে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। কয়েকজন ঠিকাদার এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও জানা গেছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক নির্মাণের নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৩৭ লাখ টাকা উত্তোলন এবং পরিকল্পিত বনায়নের নামে ছবি উপস্থাপন করে আরও ৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা উত্তোলনের তথ্যও মিলেছে। সরকারি অর্থে ব্যক্তিগত বাসার আসবাব? আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, সরকারি প্রকল্পের অর্থ ব্যবহার করে নিজের বাসার জন্য আসবাবপত্র কেনা। অভিযোগে বলা হয়েছে, জয়নাল নামে এক ঠিকাদারের মাধ্যমে তার বাসার জন্য আলমিরা, ফাইল কেবিনেট, চেয়ার-টেবিল এবং খাটসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র কেনা হয়। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো রসিদ বা সরবরাহ নথি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অগ্রিম উত্তোলনে অনিয়ম প্রকল্পের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে বড় অঙ্কের অগ্রিম টাকা উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে, যদিও প্রকল্প নীতিমালায় এ ধরনের অগ্রিম গ্রহণের বিধান নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নথিপত্র অনুযায়ী— মার্শাল চাকমার নামে উত্তোলন করা হয় ১৪ লাখ ৭ হাজার ৩২৮ টাকা নিশান চাকমার নামে ১২ লাখ ৯ হাজার টাকা সেকশন অফিসার আবদুল হকের নামে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫৫০ টাকা মঞ্জুরুল ইসলামের নামে ১৭ লাখ ৩৭ হাজার ৫৬৮ টাকা এছাড়া আবদুল গফুর নিজের নামেও ১৯ লাখ ৬৮ হাজার ৫২২ টাকা উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকটি নথিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি বলেও জানা গেছে। নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন ২০১৭ সালে পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগ দেন আবদুল গফুর। তার নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সাবেক কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, বয়সসীমা অতিক্রম এবং নন-টেকনিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা সত্ত্বেও তিনি ওই পদে নিয়োগ পান। এছাড়া তার শিক্ষাজীবনে দুটি তৃতীয় বিভাগ ছিল এবং এর আগে কোনো সরকারি চাকরির অভিজ্ঞতাও ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, তৎকালীন রেজিস্ট্রার অঞ্জন কুমার চাকমার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করা হয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিবেশগত অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণকাজ? অভিযোগ রয়েছে, এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (ইআইএ) রিপোর্ট এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের পাহাড় কাটার অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। এ ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলায় আসামিও হন আবদুল গফুর। সাময়িক বরখাস্ত ও পাল্টা অভিযোগ চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের জরুরি সভায় আবদুল গফুরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত আদেশে তার বিরুদ্ধে আইসিটি-সংক্রান্ত অপরাধ, প্রশাসনের বিরুদ্ধে অস্থিরতা সৃষ্টি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ আনা হয়। বরখাস্তের পরদিনই তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) চিঠি দিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে নিয়োগে দলীয় প্রভাব ও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। ওই চিঠিতে তিনি নিজেকে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন। পরে বরখাস্ত আদেশ স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করলেও আদালত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। উপাচার্যের বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আতিয়ার রহমান বলেন, “রাবিপ্রবি স্থাপন প্রকল্পে পদে পদে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আবদুল গফুরকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সতর্ক না হয়ে বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করেন।” তিনি আরও বলেন, “বহিষ্কারের পরও আবদুল গফুর ব্যাংক থেকে প্রকল্পের টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করেছিলেন। এ কারণে নতুন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।” অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবদুল গফুরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল এবং খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, প্রকল্পের আর্থিক লেনদেন, টেন্ডার অনুমোদন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোর স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্ত হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্পষ্ট হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
ঢাবির ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল
ঢাবি ল্যাবরেটরি স্কুলে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ, তদন্তে কমিটি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিচালিত ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীর যৌন হয়রানি ও আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জামিল উদ্দীন। অভিযুক্ত শিক্ষক বরুণ কুমার সাহা প্রতিষ্ঠানটির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে অশোভন ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে আসছেন। পাশাপাশি ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে কথা বলার ভিডিও ধারণ করে তা অভিভাবক ও প্রশাসনের কাছে পাঠানোর হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রোববার দুপুরে কয়েকজন শিক্ষার্থী গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, শিক্ষক বরুণ কুমার সাহা প্রায়ই ক্লাসে ব্যক্তিগত ও অস্বস্তিকর প্রসঙ্গ টেনে আনতেন। তার ভাষ্য, “তিনি আগের ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতেন। একবার প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের প্রসঙ্গ টেনে আমাকে উদ্দেশ্য করে এমন কথা বলেন, যা একজন শিক্ষকের মুখে মানায় না।” হিজাব পরিহিত এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষক তাকে পশ্চিমা পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তার দাবি, শিক্ষক তাকে বলেন— “তুমি ২০ বছর পরে জিন্স আর টপস পরে আসলে আমি তোমাকে চিনতেই পারব না।” ওই শিক্ষার্থী জানান, ঘটনার পর তিনি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। তবে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে দীর্ঘদিন স্পষ্ট কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাননি বলেও দাবি করেন। আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, শিক্ষক বরুণ কুমার সাহা ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে দেখলেই সম্পর্ক নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করতেন। তিনি বলেন, “কাউকে বাইরে কথা বলতে দেখলে ভিডিও করতেন। পরে সেই ভিডিও প্রিন্সিপাল বা গার্ডিয়ানকে পাঠানোর ভয় দেখাতেন।” অন্য এক শিক্ষার্থী জানান, অফ পিরিয়ডে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলার সময় তার একটি ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে তাকে আলাদা ডেকে ভিডিওটি অভিভাবকের কাছে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও শিক্ষক বরুণ কুমার সাহার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তদন্ত কমিটির কথা কী বলছে প্রশাসন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জামিল উদ্দীন বলেন, আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ পাওয়ার পরই একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিটির কয়েকজন সদস্য প্রশিক্ষণে থাকায় তদন্ত কার্যক্রম বিলম্বিত হয়। তিনি জানান, গত ৭ মে শিক্ষার্থীরা দ্রুত তদন্ত শেষ করার দাবি জানালে নতুন করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়। তার ভাষ্য, “শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত শেষ হয়েছে। কমিটি একটি খসড়া প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেটি আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে।” তিনি আরও বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে এখনও স্বাক্ষর বাকি রয়েছে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অতিরিক্ত সুপারিশ যুক্ত হতে পারে। ডাকসুর উদ্বেগ ও ক্ষোভ ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। ডাকসুর সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশ্লীল আচরণ, মানসিক হয়রানি, অননুমোদিত ভিডিও ধারণ এবং আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং অভিযোগের দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। ডাকসু বলেছে, এ ঘটনায় গড়িমসি না করে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ ফিরে পাবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১১, ২০২৬ 0
বরিশালে সেশন ফি কমানোর দাবিতে বিক্ষোভ
বরিশাল বিএম কলেজে সেশন ফি নিয়ে বিক্ষোভ: ‘কার্যক্রম নেই, তবু ফি আদায়’

বরিশাল অফিস :    বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে সেশন ফি ও অন্যান্য খাতে ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতসহ ১০ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট থেকে মিছিল বের করে কলেজ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমাবেশ করেন। কেন ক্ষোভ? শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতি বছর বিভিন্ন খাতে “অযৌক্তিক” সেশন ফি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যার বিপরীতে তারা পর্যাপ্ত সেবা পাচ্ছেন না। সম্প্রতি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৯টি খাতে মোট ২ হাজার ৬২০ টাকা সেশন ফি নির্ধারণ করে নোটিশ জারি করা হয়। এতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তাদের দাবি, এই ১৯টি খাতের মধ্যে অন্তত ১০টির কোনো কার্যক্রম নেই। অথচ এসব খাতেই প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। কোন খাতে আপত্তি? শিক্ষার্থীরা যেসব খাতকে অকার্যকর বা সীমিত সেবার বলে উল্লেখ করছেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— খেলাধুলা (বহিরাঙ্গন) অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া ও কমনরুম ম্যাগাজিন গ্রন্থাগার পরিবহন তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) অত্যাবশ্যকীয় খরচ চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাপনা ফি বিবিধ শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, বহু বছর ধরে নিয়মিত খেলাধুলা বা ম্যাগাজিন প্রকাশ নেই গ্রন্থাগার সেবা সীমিত পরিবহন সুবিধা পান মাত্র প্রায় ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী চিকিৎসা সেবা কার্যত অপ্রতুল একজন শিক্ষার্থী বলেন, “সেশন চার্জ নেওয়া হলেও প্রতিটি খাতে আমাদের পর্যাপ্ত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।” আরেকজন ছাত্রী প্রশ্ন তোলেন, “আগেই সব ফি দেওয়ার পর আবার কেন অতিরিক্ত সেশন চার্জ দিতে হবে?” প্রশাসনের অবস্থান কলেজের অধ্যক্ষ ড. শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের কিছু দাবি স্বল্পমেয়াদি এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদি। এসব বিষয়ে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সেশন ফি নেওয়া হয়। তবে যেসব খাতে কার্যক্রম নেই, সেগুলোতে ২০২৫ সালের পর থেকে ফি না নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। পরিবহন সুবিধা সীমিত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে অধ্যক্ষ বলেন, “সব শিক্ষার্থী এই সুবিধা পান না, তবে অন্যান্য খাতে ব্যয় রয়েছে।” অত্যাবশ্যকীয় খাতে আদায় করা অর্থ দিয়ে কর্মচারীদের সম্মানী ও প্রতিষ্ঠান রক্ষণাবেক্ষণের খরচ মেটানো হয় বলেও জানান তিনি। আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে একই দাবিতে ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও কর্মসূচি পালন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
পবিপ্রবি অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ওবায়দুল ইসলাম
পবিপ্রবিতে প্রকল্প পরিচালককে দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ, দুর্নীতি ও চাঁদা দাবির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ওবায়দুল ইসলামকে দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৪ মে) দুপুরে একদল শিক্ষার্থী তার কার্যালয়ের দরজায় তালা ঝুলিয়ে এ অবরোধ সৃষ্টি করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং তিনি মুক্ত হন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, দুপুরে নিজ কার্যালয়ে অবস্থানকালে ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী তার কক্ষের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে তিনি প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন কাজে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে। শিক্ষার্থী এইচ এম সামিউল নাসে অভিযোগ করেন, প্রকল্প পরিচালক মাসে দু-একবার এসে কাজ পরিদর্শন করে চলে যান এবং অধিকাংশ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করেন। তার দাবি, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কাজ শেষ হওয়ার আগেই ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। এসব বিষয় প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে প্রকল্প পরিচালক ওবায়দুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি পাল্টা দাবি করেন, চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তাকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক চলমান প্রকল্পের বিল থেকে ১ শতাংশ অর্থ দাবি করেন। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করা হয়। একই দাবিতে গত ৭ এপ্রিলও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, ছাত্রদলের নেতারা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক দুর্নীতি করছেন। কাজের গুণগতমান নিশ্চিত করার অনুরোধ উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কাজী রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার সময় তিনি দাপ্তরিক কাজে বরিশালে অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি জানার পর তিনি প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। উপাচার্য আরও জানান, ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যার প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেশ কিছু কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে প্রায় ৯১ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু জটিলতা রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
দিনাজপুর হাজীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়
দিনাজপুরের খানসামায় এসএসসি পরীক্ষায় শূন্য অংশগ্রহণ: খাতায় ২০০ শিক্ষার্থী, বাস্তবে মাত্র ৬

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীও অংশ নেয়নি—যা স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থার দুরবস্থার একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে। উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে অবস্থিত হাজীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০১ সালে নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওভুক্ত হয়। তবে তিন দশকের এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে শিক্ষার্থী উপস্থিতি এবং পাঠদানের পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০২৬ সালে এ প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। আগের বছর ২০২৫ সালে মাত্র একজন পরীক্ষার্থী ছিল। ২০২৪ সালে ৫ জনের মধ্যে ৪ জন এবং ২০২৩ সালে ১১ জনের মধ্যে ৮ জন পাস করলেও ২০২২ সালে ১১ জন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ওই বছরের শতভাগ অকৃতকার্যতার পর থেকেই শিক্ষার্থী সংখ্যা দ্রুত কমতে শুরু করে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, খাতা-কলমে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর নাম থাকলেও বাস্তবে উপস্থিত ছিল মাত্র ৬ জন। এর মধ্যে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ৪ জন, ৭ম শ্রেণিতে ১ জন এবং ৮ম শ্রেণিতে ১ জন। উপস্থিতির খাতায় মার্চ ও এপ্রিল মাসে নিয়মিত উপস্থিতির কোনো সুস্পষ্ট রেকর্ডও পাওয়া যায়নি। একই দিনে বিদ্যালয়ের ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৬ জন, যা পাঠদানের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি দেখানোর জন্য আশপাশের প্রাইভেট স্কুল ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে কাগজে শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি থাকলেও বাস্তবে শ্রেণিকক্ষ প্রায় ফাঁকাই থাকে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, শিক্ষার মানের অবনতি এবং বিকল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতি আগ্রহ বাড়ার কারণে এ বিদ্যালয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন অনেকে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিৎ চন্দ্র রায় বলেন, “২০২২ সালে শতভাগ ফেল করার পর থেকেই মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী কমতে শুরু করে। আমরা পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা করছি।” তিনি শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির জন্য প্রতিকূল আবহাওয়াকেও দায়ী করেন। এ বিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান সরকার বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরকার বলেন, “কোনো বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীও অংশ না নেওয়া উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 0
রাজশাহীর দুর্গাপুরে কলেজে হামলা- শিক্ষিকাকে জুতা দিয়ে আঘাত
রাজশাহীর দুর্গাপুরে কলেজে হামলা: শিক্ষিকাকে জুতা দিয়ে আঘাত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ওপর হামলা ও লাঞ্ছনার একটি ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে এক শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে জুতা দিয়ে আঘাত করার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কী ঘটেছিল? প্রত্যক্ষদর্শী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল কলেজে প্রবেশ করে এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ৪ থেকে ৫ জন শিক্ষক শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার শিকার হন। এই ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলী, যুবদলের সাবেক এক নেতা এবং আরও কয়েকজন। অভিযোগ রয়েছে, তারা সংঘবদ্ধভাবে এই হামলায় নেতৃত্ব দেন। ভিডিওতে যা দেখা গেছে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর একটি অংশে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকাকে উত্তেজিত অবস্থায় দেখা যায়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করলে বিষয়টি একপাক্ষিকভাবে ব্যাখ্যা করার ঝুঁকি রয়েছে। তাদের দাবি, বহিরাগতদের অনধিকার প্রবেশ এবং শিক্ষকদের ওপর চড়াও হওয়ার প্রেক্ষিতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় আত্মসম্মান রক্ষার্থে ওই শিক্ষিকা প্রতিক্রিয়া দেখান। প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষক সমাজে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, কোনো পরিস্থিতিতেই একজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে অপমান বা শারীরিকভাবে আঘাত করা গ্রহণযোগ্য নয়। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো অভিযোগ থাকলে তা প্রশাসনিক বা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত ছিল। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল অভিযুক্তদের একজনকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।  জুতা দিয়ে পেটানো বিএনপি নেতা বহিষ্কার দাওকান্দি সরকারি কলেজে ঢুকে ভাঙচুর ও শিক্ষিকাকে জুতা দিয়ে পেটানোর ঘটনায় দুর্গাপুর উপজেলাধীন জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে রাজশাহী জেলাধীন দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলীকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে আকবর আলী বলেন, এ বিষয়ে আমি জানি না। সেদিন এলাকার মুরব্বিরা দাওয়াত পত্র নিয়ে গেছিল। এ সময় ম্যাডাম বলেন- আপনারা কি জন্য এখানে। আপনারা টাকা নিতে আসছেন নাকি? এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারি ঘটনা ঘটে। ঘটনার এক ভিডিওতে দেখা গেছে, এক নারী শিক্ষককে জুতা দিয়ে পেটাচ্ছেন এক বিএনপি নেতা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারী শিক্ষককে পেটানো ওই নেতা হলেন দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলী।   নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ও সহিংসতার ঘটনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা না গেলে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে। একই সঙ্গে আংশিক তথ্য বা ভিডিওর ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোরও আহ্বান জানানো হচ্ছে।   এক নজরে দাওকান্দি সরকারি কলেজ রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজ (স্থাপিত: ১৯৭২) একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান । বারনই নদীর তীরে অবস্থিত এ কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক (পাস/সম্মান) ও মাস্টার্স ১ম পর্বের কোর্স চালু রয়েছে । বর্তমানে এখানে ২/৩ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত এবং এটি স্থানীয় শিক্ষার একটি প্রধান কেন্দ্র।  সাম্প্রতিক ঘটনাবলী:     মারামারি ও ভাঙচুর: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কলেজের স্নাতক পরীক্ষা চলাকালীন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের                অভিযোগ ওঠে ।     শিক্ষক লাঞ্ছনা: এই ঘটনায় কলেজের একজন নারী প্রদর্শক (ডেমোনেস্ট্রেটর) আলেয়া খাতুন হীরা লাঞ্ছিত হন এবং পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় ।     তদন্ত কমিটি: এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে ।  কলেজ সম্পর্কে তথ্য:     অবস্থান: দাওকান্দি বাজার সংলগ্ন, জয়নগর ইউনিয়ন, দুর্গাপুর উপজেলা, রাজশাহী ।     শিক্ষাক্রম: কলা, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে ফরিদা খানম
ঢাকার ডিসি নিয়োগে ৩০ কোটি টাকা লেনদেন ঘিরে বিতর্ক : প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে ফরিদা খানমের সাম্প্রতিক নিয়োগকে ঘিরে প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া, অতীত কর্মকাল এবং দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ—সব মিলিয়ে এ ঘটনাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, এটি নিয়মিত প্রশাসনিক পদায়ন। তবে একাধিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক মহল এবং বিভিন্ন সূত্রের দাবি—এই নিয়োগ ঘিরে প্রভাব, চাপ এবং প্রক্রিয়াগত ব্যতিক্রম রয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসন ক্যাডারের বর্তমান সময়ের আলোচিত দুর্নীতিবাজ এই নারী কর্মকর্তাকে ঢাকার ডিসি পদে নিয়োগে প্রভাব খাটিয়েছে ওই একই সিন্ডিকেট। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে এ সংক্রান্ত সঠিক তথ্য তুলে ধরা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে রাজি করানো হয়েছে। এর নেপথ্যে রয়েছে সিন্ডিকেটের ৩০ কোটি টাকার লেনদেন। সিন্ডিকেটে রয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং প্রধানমন্ত্রীর পিএস মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদী। এছাড়া বহুল আলোচিত ও ‘সুপার পাওয়ারফুল’ বলে পরিচিত স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী তো রয়েছেনই। এই সিন্ডিকেটেরই একজনের আপন মেয়ের জামাই, জুডিশিয়াল ক্যাডারের সদস্য, বর্তমানে যিনি আইন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব পদে আছেন- তাঁর মাধ্যমেই এই টাকার লেনদেন হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। দ্রুত প্রজ্ঞাপন ও দায়িত্ব গ্রহণ: প্রশাসনে অস্বাভাবিকতা? সূত্রের দাবি অনুযায়ী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফরিদা খানম ঢাকার ডিসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সাধারণভাবে জেলা প্রশাসক পর্যায়ের পদায়নে দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়। তবে এক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি বলে কয়েকজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রজ্ঞাপন জারির পরই দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ প্রশাসনিক রীতির মধ্যে অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চট্টগ্রামের দায়িত্বকাল: অভিযোগের কেন্দ্রে ফরিদা খানমের পূর্ববর্তী কর্মস্থল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। সেখানে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে— খাস জমি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম বালুমহাল ইজারা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার অভাব সরকারি তহবিল ব্যবহারে অপব্যবহার প্রশাসনিক ক্ষমতার অপপ্রয়োগ তবে এসব অভিযোগের কোনোটি এখনো আদালত বা চূড়ান্ত তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। দুদকের অনুসন্ধান: প্রাথমিক পর্যায়ের তদন্ত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা যায়, ফরিদা খানমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছিল। দুদকের একজন তদন্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নথিপত্র চেয়েছেন বলে জানা গেছে। অনুসন্ধানের আওতায় বিভিন্ন প্রশাসনিক রেকর্ড ও সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে দুদকের পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। ‘প্রভাবশালী গোষ্ঠী’র সম্পৃক্ততার অভিযোগ কিছু সূত্র দাবি করছে, এই নিয়োগের পেছনে একটি প্রভাবশালী প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ভূমিকা থাকতে পারে। এমনকি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও কিছু মহল থেকে তোলা হয়েছে।   রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বিভক্ত অবস্থান নিয়োগকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কিছু মহল এটিকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলেও অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের পদায়ন প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এ ঘটনায় সরকারের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। ফরিদা খানমের অতীত কর্মজীবন নিয়ে বিতর্ক সূত্র ও পূর্ববর্তী কিছু গণমাধ্যম প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ফরিদা খানম বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালনকালে একাধিকবার বিতর্কের মুখে পড়েন। তবে একই সঙ্গে তার সমর্থকরা দাবি করেন, তিনি দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন কর্মকর্তা।   প্রশাসনের নীরবতা ও অনুত্তরিত প্রশ্ন এই নিয়োগ ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। প্রশাসনিক মহলের ভেতরে প্রশ্ন উঠছে— কেন এত দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ সম্ভব হলো? অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা কেন আসেনি? সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো বিশেষ চাপ বা প্রভাব ছিল কি না?   ঢাকার জেলা প্রশাসকের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে নিয়োগকে ঘিরে ওঠা এই বিতর্ক এখনো চলমান। অভিযোগ, পাল্টা দাবি এবং প্রশাসনিক নীরবতা—সব মিলিয়ে বিষয়টি আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও স্বচ্ছতার দাবি রাখে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এই প্রতিবেদনটি বিভিন্ন সূত্রের দাবি ও অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
সরকারি সংগীত কলেজ
সরকারি সংগীত কলেজে শিক্ষক বিতর্ক, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  রাজধানীর সরকারি সংগীত কলেজে এক শিক্ষককে ঘিরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের ঘটনা সামনে এসেছে। বিষয়টি কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের মধ্যে স্পষ্ট মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। লোকসংগীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এম. এম. ইউনুছুর রহমানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, অসদাচরণ এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। তবে এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীদের প্রতি অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের দাবি, ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশালীন পোস্টও করা হয়েছে। এসব অভিযোগের পক্ষে স্ক্রিনশট ও ভিডিও প্রমাণ থাকার কথাও উল্লেখ করেছেন তারা। শিক্ষার্থীদের একটি অংশের অভিযোগ, শিক্ষক হিসেবে নিজের অবস্থান ব্যবহার করে তিনি ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন। পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়া বা ফেল করিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতো বলেও দাবি করা হয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্নভাবে সহায়তার প্রস্তাব—যেমন বিসিএস প্রস্তুতি, চাকরির আবেদন, প্রযুক্তিগত সহায়তা বা ব্যক্তিগত সুবিধা—দিয়ে প্রথমে আস্থা অর্জনের চেষ্টা করা হতো। পরে সেই সম্পর্ককে ব্যক্তিগত পর্যায়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। কিছু শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, মানসম্মান ও নিরাপত্তার ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। উত্তেজনাকর পরিস্থিতি গত রোববার (২০ এপ্রিল) রাত প্রায় ৮টার দিকে কলেজে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এক শিক্ষার্থী ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য গেট খুলতে চাইলে দারোয়ানকে তা না করতে বলা হয়। এসময় বাইরে থাকা শিক্ষার্থীরা কলেজের ভেতরে বহিরাগতদের উপস্থিতির অভিযোগ তোলেন। ঘটনাটির ভিডিও ফুটেজ থাকার দাবিও করেছেন তারা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযুক্ত শিক্ষক শেরে বাংলা নগর থানায় যোগাযোগ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টিকে কলেজের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে ফিরে যায়। শিক্ষকের প্রতিক্রিয়া অভিযুক্ত শিক্ষক এম. এম. ইউনুছুর রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “নিরাপত্তার স্বার্থে থানায় অভিযোগ করেছি, যেন বিষয়টি আইনগতভাবে সমাধান হয়। অভিযোগগুলো পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন।” প্রশাসনের অবস্থান কলেজের অধ্যক্ষ নাদিয়া সোমা বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কিছু ‘অভিমানজনিত’ ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, এক শিক্ষার্থী বাথরুমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে দারোয়ান যোগাযোগ করলেও নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে তিনি সাড়া দিতে পারেননি। তার মতে, এক স্টাফের সঙ্গে বহিরাগত প্রবেশকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা বিষয়টিকে বড় করে দেখছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের লেখালেখি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ওরা আমাদেরই শিক্ষার্থী। অভিমান থেকেই এমনটি হয়ে থাকতে পারে। আমরা চাই না প্রতিষ্ঠানের মানহানি হোক।” শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের কারণে অনেক সময় সীমারেখা ঝাপসা হয়ে যায় এবং শিক্ষকদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তদন্তের দাবি এদিকে শিক্ষার্থীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। তারা দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে স্বচ্ছ তদন্তই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
পবিপ্রবিতে ‘গ্রিন ফোরাম’ কমিটি
পবিপ্রবিতে ‘গ্রিন ফোরাম’ কমিটি, প্রশ্নের মুখে জামায়াতের কথিত সেই আদর্শিক স্বচ্ছতা!

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি ‘গ্রিন ফোরাম’-এর একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ পেয়েছে। দীর্ঘদিন পর কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের এমন প্রকাশ্য কমিটি সামনে আসায় বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গত দেড় দশকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনকে নানা কৌশলে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হয়েছে। তবে নতুন করে প্রকাশিত এই কমিটির সদস্য তালিকা পর্যালোচনা করলে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে আলোচনায় এসেছে—এখানে এমন কয়েকজন শিক্ষক অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন যাদেরকে বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকতে দেখা গেছে। বিশেষ করে শিক্ষক নির্বাচন ও প্রশাসনিক সমর্থনের ক্ষেত্রে যাদের ভূমিকা নিয়ে ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ছিল, তাদের কয়েকজন এখন এই কমিটির অংশ।  অভিযোগ রয়েছে, মো. নাঈমুর রহমান, মো. মোমিন উদ্দীন, মো. আশিক ও মো. শাহীন অতীতে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।  শিক্ষক সমিতিতে 'নীল দলের' প্যানেলভুক্ত হয়ে নির্বাচনও করেছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, সরকারি প্রক্টর হিসেব ও দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে মো. মুজাহিদুল ইসলাম, মো. নুরনবী ও মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের নাম বঙ্গবন্ধু পরিষদের তালিকাভুক্ত সদস্য হিসেবে ক্যাম্পাসে আলোচিত ছিল। এই প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—তাহলে কি এতদিন তারা ভিন্ন পরিচয়ে সক্রিয় ছিলেন, নাকি নতুন বাস্তবতায় রাজনৈতিক অবস্থান বদলেছেন?  আরও একটি প্রশ্ন সামনে আসে—যে আদর্শিক ভিত্তির ওপর একটি সংগঠন দাঁড়িয়ে থাকে, সেখানে অতীতের রাজনৈতিক ভূমিকা কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে? বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতিতে মত ও আদর্শের ভিন্নতা থাকতেই পারে। কিন্তু একটি সংগঠন যখন নিজেকে আদর্শভিত্তিক হিসেবে তুলে ধরে, তখন সেই আদর্শের প্রতি স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।  তা না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষকগণ ও সামান্য সুবিধার বিনিময়ে অনেক অনৈতিক কাজের  সংশ্লিষ্টতায় অভিযুক্ত হতে পারেন যা আমরা বিগত সময়ে দেখেছি ,যা এতদিন শুধুমাত্র ভাইস চ্যান্সেলরগণকেই শুধুমাত্র দোষী সাব্যস্ত হতে দেখেছি এমনকি জেল ও খেটেছেন। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এই কমিটি তাই শুধু একটি সাংগঠনিক ঘোষণা নয়; এটি ক্যাম্পাসের শিক্ষক রাজনীতিতে আদর্শ, অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন করে আলোচনারও জন্ম দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
নবম শ্রেণির পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ৫৫ বছর বয়সী গুলাম কাদির।
বয়স নয়, ইচ্ছাশক্তিই বড়—৫৫ বছর বয়সে নবম শ্রেণির পরীক্ষায় গুলাম কাদির

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সব বাধা অতিক্রম করে শিক্ষার পথে এগিয়ে চলার এক অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ৫৫ বছর বয়সী গুলাম কাদির। পাকিস্তানের মুজাফফরগড় এলাকায় তিনি বর্তমানে নবম শ্রেণির পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, যা সমাজে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। জানা যায়, প্রায় ১৩ বছর আগে সর্বশেষ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও পড়াশোনায় ফিরে আসার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তার পরিবার, বিশেষ করে তার শিক্ষিত সন্তানরা। তাদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় গুলাম কাদির নতুন করে শিক্ষাজীবন শুরু করার সাহস পান। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অতীতে দুবার ম্যাট্রিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েও অকৃতকার্য হয়েছিলেন। তবে সেই ব্যর্থতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার মধ্যে আরও দৃঢ় হয়েছে শিক্ষালাভের আকাঙ্ক্ষা। তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রস্তুতির পর এবার আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং সফল হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। ভবিষ্যতে ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ের শিক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তার। গুলাম কাদিরের ভাষায়, “জ্ঞান অর্জনের জন্য বয়স কোনো বাধা নয়।” শেখার প্রতি তার এই অদম্য অঙ্গীকার সমাজের জন্য এক অনুকরণীয় বার্তা বহন করে—ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে জীবনের যেকোনো পর্যায়েই নতুন করে শুরু করা সম্ভব। এই ঘটনা প্রমাণ করে, শিক্ষা কেবল তরুণদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আজীবন চলমান এক প্রক্রিয়া, যেখানে বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0
বরিশালে এসএসসি কেন্দ্রে ভুল প্রশ্ন বিতরণ
বরিশালে এসএসসি কেন্দ্রে ভুল প্রশ্ন বিতরণ: ২০২৬ সালের পরীক্ষার্থীকে দেওয়া হলো ২০২৫ সালের প্রশ্ন

বরিশাল অফিস :   বরিশালের একটি এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে ২০২৬ সালের পরীক্ষার্থীদের ভুলবশত ২০২৫ সালের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার সময় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, লিখিত অংশে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হলেও বহুনির্বাচনী অংশে বিতরণ করা হয় আগের বছরের প্রশ্ন। পরীক্ষার নির্ধারিত সময় শুরুর প্রায় ১০ মিনিট পর ওই প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়। শালুকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী মারুফ সিকদার জানান, সময় স্বল্পতার কারণে পরীক্ষা চলাকালে তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে পরীক্ষা শেষে সহপাঠীদের সঙ্গে প্রশ্ন মিলিয়ে দেখার সময় অসামঞ্জস্যটি ধরা পড়ে। তিনি বলেন, “লিখিত অংশ ঠিক থাকলেও এমসিকিউ প্রশ্ন ছিল ২০২৫ সালের। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমি আমাদের প্রধান শিক্ষিকাকে জানাই।” মারুফের অভিযোগ, বিষয়টি জানানো হলে কেন্দ্র সচিব তাকে শিক্ষা বোর্ডে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে তা বাস্তবায়ন করেননি। পরবর্তীতে অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে তিনি শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। মারুফের চাচা শাহ আলম বলেন, “এ ধরনের ঘটনা রহস্যজনক। এটি শুধু দায়িত্বহীনতা নয়, প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।” এদিকে, শালুকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রেবেকা খানম জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি দ্রুত কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অন্যদিকে, কেন্দ্র সচিব ও প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “ভুলবশত ২০২৫ সালের প্রশ্ন বিতরণ হয়েছে। আমরা শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।” তিনি আরও জানান, পরীক্ষার হলে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকেরও এ ঘটনায় গাফিলতি থাকতে পারে। তবে শিক্ষা বোর্ডের আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা। তারা এ ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত এবং উপযুক্ত সমাধান দাবি করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
স্বপ্নীল বর্মন, স্বর্ণালী বর্মন ও সেঁজুতি বর্মন
একই দিনে জন্ম, একসঙ্গে এসএসসি: ঠাকুরগাঁওয়ের তিন বোনের অনন্য যাত্রা

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর গ্রামের তিন বোন—স্বপ্নীল বর্মন, স্বর্ণালী বর্মন ও সেঁজুতি বর্মন—জীবনের প্রতিটি ধাপেই যেন একে অপরের প্রতিচ্ছবি। ২০০৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর একই দিনে জন্ম নেওয়া এই তিনজন এবার একসঙ্গেই অংশ নিচ্ছেন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায়, যা শুরু হয়েছে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল)। শৈশব থেকে তাদের বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন জীবন—সবই একসঙ্গে। পরিবারের সদস্যদের কাছেও তারা বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তাদের বাবা ঠান্ডারাম বর্মন ও মা ময়না রানী সেনের চার সন্তানের মধ্যে এই তিন বোনই আলাদা করে নজর কাড়েন। পরীক্ষার আগের দিন তাদের বাড়িতে দেখা যায়, পাশাপাশি বসে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত তিনজনই। লক্ষ্য একটাই—ভালো ফলাফল করে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করা। প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু হয় একটি কিন্ডারগার্টেনে। পরে তারা ভর্তি হন স্থানীয় আরাজী কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। একই রকম চেহারা ও অভ্যাসের কারণে শিক্ষক-সহপাঠীদের জন্য তাদের আলাদা করে চেনা ছিল কঠিন। ২০১৮ সালে স্বপ্নীল ও স্বর্ণালী ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন। পরে একই বিদ্যালয়ে যোগ দেন সেঁজুতি। যদিও তারা একই শিফটে পড়েছেন, স্বর্ণালীকে পড়তে হয়েছে ভিন্ন শাখায়। এবার তিনজনই বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। পড়াশোনায় তারা সবাই মনোযোগী এবং নিয়মিত ভালো ফল করে আসছেন। তবে পছন্দের বিষয়ে রয়েছে কিছু পার্থক্য—স্বপ্নীলের আগ্রহ জীববিজ্ঞান ও বাংলা সাহিত্যে, স্বর্ণালীর জীববিজ্ঞান ও রসায়নে, আর সেঁজুতির পছন্দ জীববিজ্ঞান। পড়াশোনার বাইরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও তারা সক্রিয়। ঠাকুরগাঁও বেতার কেন্দ্রের তালিকাভুক্ত শিশুশিল্পী হিসেবে দেশাত্মবোধক গান গাইতে ভালোবাসেন তিনজনই। অবসরে তারা উপন্যাস ও বিজ্ঞান কল্পকাহিনি পড়েন, গান শোনেন ও গেয়ে সময় কাটান। ভবিষ্যৎ নিয়েও তাদের স্বপ্ন আলাদা—স্বপ্নীল চান বিসিএস ক্যাডার হতে, স্বর্ণালীর লক্ষ্য চিকিৎসক হওয়া এবং সেঁজুতি শিক্ষক হতে আগ্রহী। তাদের দৈনন্দিন জীবনও অনেকটা একই ছন্দে বাঁধা—একই ঘরে থাকা, একসঙ্গে স্কুলে যাওয়া, পড়াশোনা করা ও খেলাধুলা। ছোটখাটো মনোমালিন্য হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বিদ্যালয়ের শিক্ষক তাপস দেবনাথ জানান, একই ইউনিফর্মে তাদের আলাদা করা অনেক সময়ই কঠিন হয়ে যেত, তাই মাঝে মাঝে আলাদা চিহ্ন ব্যবহার করতে হতো। মা ময়না রানী সেন বলেন, “একসঙ্গে তিন মেয়েকে বড় করা সহজ ছিল না। তবে তাদের ভালোবাসাই সব কষ্ট ভুলিয়ে দেয়।” বাবা ঠান্ডারাম বর্মন জানান, শুরুতে তিনি যমজ সন্তানের প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু তিন কন্যার জন্ম তাকে চিন্তায় ফেলেছিল। এখন তাদের সাফল্যে তিনি গর্বিত এবং তাদের স্বপ্নপূরণে সর্বোচ্চ সহায়তা করতে চান।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় স্কুলের টিউবওয়েল
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় স্কুলের টিউবওয়েলে কীটনাশক মিশিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি

 বরিশাল অফিস :   বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলে কীটনাশক প্রয়োগের ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি, যা স্থানীয়দের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল (বুধবার) সকালে উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের পূর্ব মোহনকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা টিউবওয়েল থেকে পানি পান করতে গেলে দেখতে পায় পানির রং সাদা হয়ে গেছে এবং তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষকদের জানানো হলে তারা টিউবওয়েলটি বন্ধ করে দেন এবং প্রশাসনকে অবহিত করেন। ঘটনার পর থেকে শতাধিক শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। দুর্বৃত্তদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা না হলে আন্দোলনের ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন অভিভাবকরা। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী বাড়ৈ বলেন, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর আমরা টিউবওয়েলটি বন্ধ করে দিই এবং বৃহস্পতিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। অন্যদিকে, ঘটনার দুই দিন পার হলেও উপজেলা প্রশাসন বা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কোনো প্রতিনিধি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে জিডি দায়েরের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক জানান, বিষয়টি জানার পর শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দ্রুত প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং অভিভাবকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
শিক্ষা মন্ত্রণালয়
জাল ও ভুয়া সনদে নিয়োগ পাওয়া ৪৭১ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন বন্ধের উদ্যোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জাল ও ভুয়া সনদ ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়া ৪৭১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)-এর তদন্তে এসব শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাউশিকে নির্দেশনা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, যথাযথ নিরীক্ষা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের ৪৭১ জন জাল বা ভুয়া সনদধারীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এরপর তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে বলা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৫ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানিয়েছে, শুধু এমপিও বাতিল নয়, চাকরির সময়কালে গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ফেরত নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই চূড়ান্ত নির্দেশনা জারি হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়
রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে বরাদ্দের অর্থ নিয়ে প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি সরকারি বরাদ্দকে ঘিরে প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ভবন সংস্কার ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী মিলনায়তনের আসবাবপত্র কেনার জন্য দেওয়া অর্থের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তারা আজও অন্ধকারে। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি, প্রয়াত নাসিম উদ্দিন আকন তার মৃত্যুর মাত্র দুদিন আগে নিজ বাসায় এক বৈঠকে তাদের এই বরাদ্দের বিষয়ে অবহিত করেন। ওই বৈঠকে প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদের কয়েকজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তাদের দাবি,  প্রায় দুই লাখ টাকার একটি বরাদ্দ আনা হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল— গ্রন্থাগার ভবন সংস্কার ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনায়তনের জন্য আসবাবপত্র ক্রয় । প্রকল্পটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন রাজাপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপন তালুকদার। বরাদ্দের খাত ও অর্থ বণ্টন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বরাদ্দের অর্থ তিনটি খাতে ভাগ করা হয়: গ্রন্থাগার ভবন সংস্কারের জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে ৫০,০০০ টাকা।প্রকল্প অফিস ব্যয় বাবদ ৩০,০০০ টাকা।মিলনায়তনের আসবাবপত্র কেনার জন্য ১,২০,০০০ টাকা। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রয়াত নাসিম উদ্দিন আকন তাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে, অল্প সময়ের মধ্যেই মিলনায়তনের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হবে। নাসিম আকনের মৃত্যুর পর জটিলতা নাসিম উদ্দিন আকনের অকাল মৃত্যুর পর পরিস্থিতি বদলে যায় বলে অভিযোগ। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা জানান, মরহুম নাসিম আকনের অকাল মৃত্যুর পরে তার ভাই ফিরোজ আকনের  সাথে যোগাযোগ করেন প্রাক্তনশিক্ষার্থীরা। তিনি যুবদল নেতা মোস্তফা নিপুর মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। এই টাকা গ্রহণ করতে তারা অস্বীকৃতি জানান।,  একই সময়ে বিদ্যালয়ে শতবর্ষ উদযাপন সংক্রান্ত একটি সভায় উপস্থিত থেকে তারা বিষয়টি প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলামকে অবহিত করেন। প্রধান শিক্ষক বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দেন—তবে এরপর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কেউই অবগত নন বলে দাবি করা হয়েছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে আসবাবপত্র এদিকে বরাদ্দের অর্থ না পৌঁছানোয় মিলনায়তনের জন্য প্রয়োজনীয় চেয়ার কিনতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কয়েকজন নিজ উদ্যোগে স্থানীয় একটি দোকান থেকে বাকিতে ১৫টি প্লাস্টিক চেয়ার সংগ্রহ করেন, যা বর্তমানে ব্যবহৃত হলেও এর মূল্য এখনও পরিশোধ করা হয়নি বলে জানা গেছে। জবাবদিহিতার প্রশ্ন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে যে, একটি সরকারি বরাদ্দ হওয়া সত্ত্বেও এর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়নি। তাদের প্রশ্ন—এই অর্থ কোথায় গেল, কার কাছে রয়েছে, এবং কেন নির্ধারিত খাতে ব্যয় হয়নি? একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী বলেন,  “এটি সরকারি অর্থ, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে বরাদ্দ করা হয়েছিল। তাহলে এর হিসাব থাকবে না কেন?”   দাবি ও প্রত্যাশা প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে দ্রুত তদন্ত ও অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মিলনায়তনের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।   এই ঘটনার বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়।
আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে ভুয়া ভর্তি ও দালালচক্রের বিস্তার | বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সতর্কবার্তা

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান: এক হাজার বছরেরও অধিক সময় ধরে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ইসলামী বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের অবিচল কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় আজ এক ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি।  যে প্রতিষ্ঠানের নাম একসময় ছিল আলোকবর্তিকা, আজ সেই নামকেই ঢাল বানিয়ে এক শ্রেণির অসাধু দালালচক্র প্রতারণা, জালিয়াতি ও অপরাধের সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে—যার অভিঘাত কেবল ব্যক্তি বা পরিবারে সীমাবদ্ধ নয়, বরং একটি জাতির সম্মান, একটি ঐতিহ্যের মর্যাদা এবং একটি বৈশ্বিক ইসলামী প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও আঘাত করছে।  তদন্তে উঠে এসেছে, মিশরে অবস্থানরত কিছু বাংলাদেশি ‘নামধারী ছাত্র’ নিজেদের পরিচয়কে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে দেশে বসে থাকা নিরীহ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।  তাদের কৌশল সুপরিকল্পিত ‘নিশ্চিত ভর্তি’, ‘সহজ মিনহা (স্কলারশিপ)’, ‘দ্রুত প্রতিষ্ঠা’ এসব লোভনীয় প্রতিশ্রুতির ফাঁদে ফেলে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।  অথচ বাস্তবতা হলো, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়-এ ভর্তি একটি কঠোর একাডেমিক প্রক্রিয়া, যেখানে যোগ্যতা, যাচাই ও আনুষ্ঠানিকতার প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।  প্রতারণার ধরণও ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ভুয়া সিল-স্ট্যাম্প ব্যবহার করে জাল সার্টিফিকেট তৈরি, তথাকথিত স্কলারশিপের নামে অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধ ডলার লেনদেন এসব যেন এখন নিয়মিত চিত্র।  আরও উদ্বেগজনক অভিযোগ রয়েছে এই চক্রের একটি অংশ ইউরোপমুখী মানবপাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত, যেখানে ‘আজহারের ছাত্র’ পরিচয়কে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশ্বাস অর্জনের ছদ্মবেশ হিসেবে। অর্থাৎ, শিক্ষা ও ধর্মীয় আবেগ দুটোকেই তারা বাণিজ্যের নিষ্ঠুর পণ্যে পরিণত করেছে।  বিশেষভাবে টার্গেট করা হচ্ছে সদ্য হিফজ সম্পন্ন করা তরুণ এবং আলিম ও দাওরা পরীক্ষার্থীদের। পরিবারগুলোর ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে ‘আজহারে ভর্তির নিশ্চয়তা’র প্রলোভন দেখিয়ে তাদের মিশরে নিয়ে আসা হচ্ছে। এরপর শুরু হয় বাস্তবতার নির্মমতা ভর্তি অনিশ্চিত, থাকার ব্যবস্থা অনিরাপদ, আইনি কাগজপত্র জটিল, অনেকেই পড়ে যাচ্ছে আর্থিক ও মানসিক সংকটে।  কিছু ক্ষেত্রে তথাকথিত ‘মারকাজ’ খুলে এই দালালি কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।  এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মিশরে অধ্যয়নরত প্রকৃত শিক্ষার্থীরা। তাদের ওপর বাড়ছে প্রশাসনিক নজরদারি, জটিল হচ্ছে ‘একামা’ বা বৈধ আবাসনের প্রক্রিয়া, আর একটি অসাধু গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের দায়ভার এসে পড়ছে পুরো কমিউনিটির ওপর।  ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়-এ অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, এই দালালচক্র কেবল প্রতারণা করছে না, তারা আজহারের মর্যাদাকেই পরিকল্পিতভাবে ক্ষুণ্ন করছে।  শিক্ষার্থী মুহাম্মদ আম্মার হোসাইন বলেন, ‘আমরা আলিম শেষ করে এখানে এসে কত কষ্ট করে মুয়াদালা (সমমান) সম্পন্ন করেছি এটা সহজ কোনো বিষয় নয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে, কঠোর যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে এখানে পড়ার সুযোগ পাওয়া যায়। অথচ দালালরা দেশে বসে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে আজহারিদের সম্মান নষ্ট করছে। আমি সবাইকে সতর্ক করছি এই প্রতারণার ফাঁদে পা দেবেন না।”’ শিক্ষার্থী শরীফ সালাউদ্দিনের কণ্ঠে ছিল তীব্র ক্ষোভ। তিনি বলেন, এই দালালদের কারণে দেশে আল-আজহারের মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটি কেবল ব্যক্তিগত প্রতারণা নয়, এটি একটি ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে অপরাধ। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।  আরও কঠোর ভাষায় সতর্ক করেন আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ ইয়াসিন। তিনি বলেন, এদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে দেশে আজহারিদের কোনো সম্মান অবশিষ্ট থাকবে না। যারা ছাত্র পরিচয়ে মানবপাচারের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িত, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে।  বিশ্লেষকদের মতে, এই দালালচক্রের কর্মকাণ্ড কেবল প্রতারণার সীমায় আবদ্ধ নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈশ্বিক আস্থাকেও দুর্বল করে দিচ্ছে।  ইতোমধ্যে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে এবং জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে কোনো অবৈধ কার্যক্রম সহ্য করা হবে না।  এই প্রেক্ষাপটে সময়ের দাবি স্পষ্ট সচেতনতা, যাচাই-বাছাই এবং আইনগত পদক্ষেপ। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের বুঝতে হবে, জ্ঞানের পথে কোনো শর্টকাট নেই, আল-আজহারের মতো প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের প্রতিটি ধাপই স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক।  অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও প্রয়োজন কার্যকর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা, যাতে এই প্রতারণা-চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলা যায়। কারণ একটি ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানকেন্দ্রের নামকে ব্যবহার করে প্রতারণা শুধু অপরাধ নয়, এটি ইতিহাসের সঙ্গে প্রতারণা, বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।  শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি কেবল দালালদের নয়, প্রশ্নটি আমাদের সম্মিলিত দায়বদ্ধতার আমরা কি ঐতিহ্যকে রক্ষা করব, নাকি প্রতারণার কাছে তা সমর্পণ করব?  লেখক: শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো, মিশর

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজ
ঝালকাঠির আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজে ৭৭ লাখ টাকার দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

দিবস তালুকদার,ইত্তেহাদ নিউজ,ঝালকাঠি : ঝালকাঠির বাসন্ডা এলাকার আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজকে কেন্দ্র করে জেলা পরিষদের উন্নয়ন বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের দাবি, বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়নি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে ছিল স্বচ্ছতার ঘাটতি। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু ২০১২ সালে তার মা-বাবার নামে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুরু থেকেই নানা বিতর্কে জড়িয়ে থাকা এই কলেজটির নামে ঝালকাঠি জেলা পরিষদ থেকে বারবার উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে রয়েছে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। বরাদ্দ সংক্রান্ত নরিপত্রে একাধিকবার কলেজটির নাম পরিবর্তন করে কখনো "আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজ", কখনো আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন কলেজ” আবার কখনো "আকলিমা মোয়াজ্জেম বিশ্ববিদ্যালয়” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঝালকাঠি জেলা পরিষদ সুত্রে জানা যায়, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে কলেজটির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে প্রায় ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে এডিবির বিশেষ বরাদ্দ থেকে মসজিদ উন্নয়নের নামে ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ রয়েছে। অথচ এখানে কেন মসজিদ নির্মানই হয়নি। এছাড়া বাকি প্রায় ৬২ লাখ টাকা বালু ভরাট, বাউন্ডারি ওয়াল,সাইকেল স্ট্যান্ড ও শহীদ মিনার নির্মানের নামে ব্যয় দেখানো হয়েছে। ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে গেইট ও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে একই প্রকল্পকে “সীমানা প্রাচীর” উল্লেখ করে আবারো অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে “ঝালকাঠি আকলিমা মোয়াজ্জেম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ” নামে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই সময়ে শহীদ মিনার নির্মাণে ৪ লাখ টাকা উত্তোলন করা হলেও অডিটে সেটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পরে ২০২২ সালে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। এছাড়া মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের শেড নির্মাণে ৪ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হলেও সরেজমিনে দেখা গেছে, সেখানে একটি সাধারণ খোলা কক্ষ তৈরি করা হয়েছে, যার টিনের ছাউনি দেওয়া হয়েছে সরকারি ত্রাণের ঢেউটিন দিয়ে। ২০২০-২১ অর্থবছরেও মাঠ ভরাট ও ডোবা ভরাটের নামে পুনরায় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই সময়ে “আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন জামে মসজিদ” উন্নয়নের নামে আরও ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও জেলার কোথাও ওই নামে কোনো মসজিদের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন জেলা পরিষদের তৎকালীন এক কর্মকর্তা। জেলা পরিষদের একাধিক নথি স্টোররুম থেকে গায়েব হওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, যা পুরো বিষয়টিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে। স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা মনে করছেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিকে খুশি রাখতেই তৎকালীন প্রশাসক, প্রকৌশলী ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে এ ধরনের অনিয়ম হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চতর প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই এমনটি করা হয়েছে। বাসন্ডায় আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজকে ঘিরে উন্নয়ন বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।  স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি—বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়নি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাব ছিল। সূত্রে জানায়, কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সংস্কার কাজ ও বিভিন্ন সুবিধা বৃদ্ধির জন্য জেলা পরিষদ থেকে কয়েক দফায় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বাস্তবে কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে কাজ অসম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও বিল উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, কিছু কাজ কাগজে-কলমে সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায় না। কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ—শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের কথা বলা হলেও এখনো নানা মৌলিক সমস্যায় ভুগছে প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বরাদ্দে অনিয়ম হলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। উল্লেখ্য, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।   আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজ এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজ বর্তমানে বাসন্ডা কলেজ নামে পরিচিত হতে যাচ্ছে । ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলায় অবস্থিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান । ২০১২ সালে এই কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় অবস্থিত।  কলেজটি সম্পর্কে কিছু মূল তথ্য নিচে দেওয়া হলো:     অবস্থান: বরিশাল-পিরোজপুর মহাসড়ক, বাসন্ডা, ঝালকাঠি সদর, ঝালকাঠি ।     স্থাপিত: ২০১২ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ।     প্রতিষ্ঠান কোড (EIIN): ১৩৬৫৫৫ ।     শিক্ষাস্তর: এখানে এইচএসসি  এবং ডিগ্রি (পাস) কোর্স চালু রয়েছে ।      নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত তথ্য: আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজটি  সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, কলেজটির নাম পরিবর্তন করে 'বাসন্ডা কলেজ' করার একটি প্রক্রিয়া চলছে। কলেজটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির অপকর্ম: টেন্ডার রাজনীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ভাইস চ্যান্সেলর ড. কাজী রফিক ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে মাত্র দেড় বছরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় এমন অস্থিতিশীলতা ও অনিয়মের পথ তৈরি করেছেন, যা ইতিহাসে বিরল।বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম রিজেন্ট বোর্ডে শিল্পপতি কোটায় ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারিতে মাত্র ৩৫ বছর বয়স্ক ঢাবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মোঃ শরফুদ্দিনকে মনোনয়ন দেন সমন্বয়ক পরিচয়ে। জামায়াতের রোকন প্রফেসর আব্দুল লতিফ কে বানিয়েছেন ট্রেজারার। ওই বছরের ২৭শে জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পক্ষে মানববন্ধনকারী সগিরুল ইসলাম মজুমদার, শিবিরের সাবেক দুই সভাপতি আবু তাহের উজ্জ্বল, পটুয়াখালী জেলা সভাপতি মাহমুদ হোসাইনসহ নয়জনকে খন্ডকালীন শিক্ষক কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেন। কথিত আছে ভিসি হওয়ার সময় কোটি টাকার যে লেনদেন হয়েছিল মাসুদ- -নাহিয়ান- শরফুদ্দিন - সগির গংয়ের মাধ্যমে সেই টাকা এ নিয়োগের মাধ্যমে উঠানো হয়েছিল। এরমধ্যে জুন মাসে সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি সহ ১৬ জন শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয় মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে যার নেতৃত্ব দিয়েছেন দুই শিক্ষক সগিরুল ইসলাম মজুমদার ও ইকবাল হোসেন। নিয়োগ ও টেন্ডার বাণিজ্যের অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে ভিসির ক্যাশিয়ারে পরিণত হন এই ইকবাল। পুরষ্কারস্বরূপ অধিষ্ঠিত করা হয় ভিসির পিএস হিসেবে। টেন্ডার বাণিজ্যের মূল হোতা পিএস ইকবাল পিএস হয়েই ধরাকে সরা জ্ঞান করতে শুরু করেন ইকবাল। হয়ে পড়েন টেন্ডার বাণিজ্যের মূল হোতা। ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে টাকার বিনিময়ে নেগোসিয়েশন শুরু করেন ভিসির পক্ষ থেকে। ঠিকাদার মাহফুজ খান ও আমির এর উপহারের টাকায় ক্রয় করেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফ্যাসিস্ট কাউসার আমিন হাওলাদার (মালটা কাউসার )এর বিলাসবহুল গাড়ী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একসাথে ১০০ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফ্যাসিস্ট পিডি ওবায়দুল ইসলাম ও ডিপিডি ফাইয়াজ এর মাধ্যমে ২ পার্সেন্ট কমিশন হিসেবে দুই কোটি টাকা উৎকোচের বিনিময়ে আলোচিত নাহিয়ান, মাহফুজ খান, আমির সহ অন্যান্য ঠিকাদারদের মধ্যে কাজ বন্টন করেন যা ক্যাম্পাসে এখন ওপেন সিক্রেট। সেই টেন্ডার বাণিজ্যের হোতা আল নাহিয়ান এখন পটুয়াখালী পৌরসভার জামায়াত সমর্থিত মেয়র প্রার্থী।ফলশ্রুতিতে ঠিকাদাররা এখন যেনতেন ভাবে কাজ করে বিল আদায় করছেন ফ্যাসিস্ট প্রকৌশলী, পিডি ডিপিডির মাধ্যমে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।শুধু তাই নয় কাজী রফিকের এই অপকর্মের ভাগীদার বানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ, জামায়াত সমর্থিত গ্রিন ফোরাম এবং সুবিধাবাদী বিএনপি নামধারী কতিপয় অসাধু শিক্ষক- কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ভ্রমন বিল ও অন্যান্য সরকারি কেনাকাটার মাধ্যমে। দেড় বছরে লক্ষাধিক টাকার ভ্রমণ বিল এই দেড় বছরে লক্ষাধিক টাকার ভ্রমণ বিল উত্তোলন করেছেন পরিকল্পনা বিভাগ এর অসাধু কর্মকর্তা এবং কতিপয় ভিসি পন্থী শিক্ষক। কাজী রফিকের আস্থাভাজন বিশ্ববিদ্যালয়ের জামাতপন্থী কর্মকর্তা মোঃ মহসিন এ দেড় বছরে ভুয়া বিল ভাউচারে২৭ টি চেক এর মাধ্যমে ৫ লক্ষ ১৫ হাজার ২৭০ টাকা উত্তোলন করেন যার প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। হিসাব শাখা ও পরিকল্পনা শাখার অনেক কর্মকর্তাদের উৎকোচ ও ভ্রমণ বিল এত পরিমান উত্তোলিত করেছেন যে বেতনের টাকায় আর হাত দেওয়া লাগে নাই। ফ্যাসিস্টদের পদোন্নতির মহোৎসব অন্যান্য সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের বিচার হলেও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতি ভাইস চ্যান্সেলর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বিচারের বদলে মেতেছেন ফ্যাসিস্টদের পদোন্নতির মহোৎসবে। ১৯ জন আওয়ামী ফ্যাসিস্ট কে সহযোগী অধ্যাপক পদে এবং ১৫ জন আওয়ামী ফ্যাসিস্ট কে অধ্যাপক পদে পর্যায়োন্নয়ন দিয়েছেন। কিন্তু ফ্যাসিস্ট আমলে নির্যাতিত ও ১০ বছর যাবৎ চাকুরীচ্যুত ইউনিভার্সিটি টিচার্স এসোসিয়েশন (ইউট্যাবের) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলামকে প্রতিহিংসা ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে অধ্যাপক পদে পর্যায়ন্নোয়ন দেননি। বাছাই বোর্ড ড. সাইফুল ইসলামকে অধ্যাপক পদে পর্যায়োন্নয়নের সুপারিশ করলেও জামায়াতের সহযোগিতায় চক্রান্ত মুলকভাবে সকল যোগ্যতা থাকার পরেও রিজেন্ট বোর্ডের নিজের অনুসারী সদস্যদের মাধ্যমে অনুমোদন দেননি। কাজী রফিকের মূল উদ্দেশ্যই হলো পবিপ্রবিতে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নির্মূল করা। ভিসি কাজী রফিকের অনিয়ম ও জুলুমের এখানেই শেষ নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাক্টে বলা আছে, রিজেন্ট বোর্ড বাছাই বোর্ডের সুপারিশ অনুমোদন না করলে বিষয়টি  চ্যান্সেলর তথা রাষ্ট্রপতির নিকট পাঠাতে হবে এবং তাহার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত  গণ্য হবে। কিন্তু জামায়াতি ভিসি হীনউদ্দেশ্যে প্রতিহিংসামূলকভাবে রিজেন্ট বোর্ডের তিন মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও ড. সাইফুলের পর্যায়োন্নয়নের চিঠি চ্যান্সেলরের নিকট প্রেরণ করেননি। ইউট্যাবের শিক্ষকদের প্রতি এহেনও প্রতিহিংসামূলক আচরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক গণ ক্ষুদ্ধ। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ফ্যাসিস্ট কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিলেও জিয়া পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম শাহাদাত হোসেনকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে পদোন্নতি দেননি। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিট জামায়াতি ভিসি কাজী রফিকের প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া: রাজনৈতিক প্রভাবের ছায়া ড. কাজী রফিকের নিয়োগ ঘটে সরাসরি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সুপারিশে, তৎকালীন শিক্ষা সচিব আব্দুর রশিদ কর্তৃক ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। নিয়োগের পরপরই দেখা যায় যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পদে ছাত্র-শিবির ও জামায়াত সমর্থিত ব্যক্তিদের নিয়োগ, টেন্ডার বাণিজ্য এবং অর্থ লেনদেন চালু হয়। উদাহরণস্বরূপ: ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি রিজেন্ট বোর্ডে শিল্পপতি কোটায় মাত্র ৩৫ বছরের ঢাবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মোঃ শরফুদ্দিনকে মনোনয়ন। ট্রেজারার পদে নিযুক্ত করা হয় জামায়াত সমর্থক অধ্যাপক আব্দুল লতিফকে। ২৭ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নয়জন খন্ডকালীন শিক্ষক-অফিসার নিয়োগ, যেখানে শিবির ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত নাম রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, এই নিয়োগ ও অর্থ লেনদেন পূর্বনির্ধারিত ও ব্যক্তিগত স্বার্থান্বেষণে পরিচালিত হয়েছে।সূত্র বলছে, এই নিয়োগের মাধ্যমে কোটি টাকার লেনদেন পরিচালনা করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতার জন্য বড় হুমকি। টেন্ডার বাণিজ্য ও অর্থের ব্যবস্থাপনা ড. কাজী রফিকের ভিসি পদাধিকার গ্রহণের পর, বিশ্ববিদ্যালয়ে টেন্ডার বাণিজ্য অতীতের তুলনায় বৃহৎ পরিসরে পরিচালিত হয়েছে। প্রধান হাইলাইটস: ইকবাল হোসেন – ভিসির পিএস হিসেবে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর টেন্ডার বাণিজ্যের মূল হোতা হয়ে ওঠেন। এক বছরের মধ্যে ১০০ কোটি টাকার টেন্ডার সম্পন্ন, যেখানে ঠিকাদারদের মধ্যে ২% কমিশন বিতরণ। এই অর্থের মাধ্যমে বিলাসবহুল গাড়ি ও ব্যক্তিগত সুবিধার বিনিময়ে টাকা উত্তোলন। উল্লেখযোগ্য, কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও ভিসিপন্থী শিক্ষক ভ্রমণ বিল ও ভুয়া চেকের মাধ্যমে লক্ষাধিক টাকা উত্তোলন করেছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার জন্য বড় হুমকি।বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরে লেনদেন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য অর্থ উত্তোলন ঘটেছে। প্রতিহিংসা ও অযোগ্য ব্যক্তিদের পদোন্নতি ভিসি ড. কাজী রফিক পাবলিক এবং জাতীয়তাবাদী শক্তিকে পদোন্নতি ও নিয়োগে বাদ দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গীকার অনুযায়ী কাজ করেছেন। ১৯ জন আওয়ামী ফ্যাসিস্টকে সহযোগী অধ্যাপক এবং ১৫ জনকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি। ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম, দীর্ঘ ১০ বছর চাকুরীচ্যুত এবং যোগ্য, অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাননি। জিয়া পরিষদের  কে এম শাহাদাত হোসেনও উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাদ পড়েছেন। এতে দেখা যায়, ভিসির মূল উদ্দেশ্য জাতীয়তাবাদী শিক্ষকমন্ডলীর শক্তিকে কমানো এবং রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার প্রতি প্রভাব ড. কাজী রফিকের এই নীতিমালা: শিক্ষকদের মধ্যে অবিশ্বাস ও ক্রোধের পরিবেশ তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশাসনিক দুর্নীতির প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান হ্রাস করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক, কর্মকর্তা, ও শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং দাবি জানাচ্ছেন একজন যোগ্য, ন্যায়পরায়ণ অধ্যাপককে ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য।   প্রমাণভিত্তিক হাইলাইটস ভিসির আস্থাভাজন কর্মকর্তা মোহসিন ২৭টি ভুয়া চেকের মাধ্যমে ৫,১৫,২৭০ টাকা উত্তোলন। টেন্ডার বাণিজ্যে ঠিকাদারদের মধ্যে কমিশন বণ্টন ও বিলাসবহুল সম্পদ অর্জন। জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পদোন্নতি বা স্বীকৃতি অস্বীকৃত। রাজনৈতিক ও পার্টি সমর্থিত নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রচলিত ন্যায়নীতি ভেঙে চালানো হয়েছে। পবিপ্রবিতে ড. কাজী রফিকের দেড় বছরের পদাধিকার প্রশাসন ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বিশাল অনিয়ম, প্রতিহিংসা, এবং রাজনৈতিক প্রভাবের পরিচয় দিয়েছে।  দেখা যায়- রাজনৈতিক প্রভাব ও পার্টি সমর্থিত নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয় সর্বমুখী দুর্নীতির শিকার। টেন্ডার ও অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বার্থ অর্জন। জাতীয়তাবাদী ও যোগ্য শিক্ষকদের দমন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে বৈষম্য। পবিপ্রবিতে ড. কাজী রফিকের  প্রশাসন দুর্নীতিপূর্ণ, প্রতিহিংসামূলক এবং রাজনৈতিক স্বার্থে পরিচালিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও নৈতিকতা ক্ষতিগ্রস্ত। টেন্ডার বাণিজ্য ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লক্ষাধিক টাকার লেনদেন। জাতীয়তাবাদী ও যোগ্য শিক্ষকদের অবমূল্যায়ন। শিক্ষকমন্ডলী ও শিক্ষার্থীরা একজন যোগ্য, ন্যায়পরায়ণ ভাইস চ্যান্সেলরের তৎক্ষণাৎ নিয়োগ দাবী করছেন, যেন বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় শিক্ষার মূল লক্ষ্য ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে পারে। সার্বিকভাবে, পবিপ্রবিতে শিক্ষার মান, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, এবং নৈতিকতার অবনতি ঘটছে। শিক্ষকমন্ডলী ও শিক্ষার্থীরা একজোট হয়ে দাবি করছেন দ্রুত ও ন্যায়পরায়ণ পরিবর্তন।   উল্লেখ্য,পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর (উপাচার্য) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম। তিনি ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর  রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে এই পদে ৪ বছরের জন্য নিয়োগ পান ।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
ঝালকাঠির উদ্বোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান পলাশ।
ঝালকাঠি উদ্বোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১২৩ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা ফি আদায়ের অভিযোগ

ঝালকাঠি: ঝালকাঠির উদ্বোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান পলাশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, যে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, বরিশাল কর্তৃক ২০২৬ সালের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ১২৩ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা ফি নিচ্ছেন। অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, ১ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়কে ২৭৫ টাকা ফি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে ২ ফেব্রুয়ারি সংশোধিত নির্দেশনায় ফি কমিয়ে ১২৩ টাকা করা হয়। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথম নির্দেশনাটি অনুসরণ করে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া অব্যাহত রেখেছে। নির্ধারিত ফি বনাম বাস্তব আদায় বোর্ড নির্ধারিত ফি: ১২৩ টাকা বিদ্যালয়ে আদায়: ৩০০ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে: ১৭৭ টাকা (প্রায় দ্বিগুণ) নির্দেশনা নিয়ে বিভ্রান্তি অভিযোগ অনুযায়ী— ১ ফেব্রুয়ারি: প্রথম নির্দেশনায় ফি ছিল ২৭৫ টাকা ২ ফেব্রুয়ারি: সংশোধিত নির্দেশনায় কমিয়ে করা হয় ১২৩ টাকা অভিভাবকদের ক্ষোভ অভিভাবকরা বলছেন— “বোর্ড নির্ধারিত ফি মানা হচ্ছে না” “অতিরিক্ত টাকা নেওয়া অন্যায়” “এতে আমাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে”   কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ? শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ অভিভাবকদের আর্থিক চাপ বৃদ্ধি সরকারি নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন লিটন হোসেন, শাহাদাত খান ও মিরাজসহ কয়েকজন অভিভাবক বলেন, “বোর্ড নির্ধারিত ফি ১২৩ টাকা হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ অন্যায় এবং আমাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।” প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান পলাশ জানান, “আমরা প্রথমে ২৭৫ টাকার নির্দেশনা পেয়েছিলাম। পরবর্তীতে সংশোধিত চিঠিটি পাঁচ দিন পরে দেখার সুযোগ হয়েছিল। তাই পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ী টাকা নেওয়া হয়েছে। এখন বিষয়টি জানার পর সমন্বয় করে টাকা ফেরত দেওয়া হবে।” বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, “অভিযোগ গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। বোর্ডের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা প্রশাসনিক দায়িত্ব। নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই।”

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
কালীগঞ্জের ছোট শিমলা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে চাষ করা শাক তুলতে ব্যস্ত
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে স্কুল মাঠ দখল করে সবজি চাষ, খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ এখন আর আগের মতো নেই। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, এটি যেন কোনো সবজি ক্ষেত—লাল ও সবুজ শাকে ভরে গেছে পুরো মাঠ। অভিযোগ উঠেছে, ঈদুল ফিতরের ছুটিতে স্কুল বন্ধ থাকার সুযোগে স্থানীয় একটি এনজিও মাঠটি দখল করে সেখানে সবজি চাষ করেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সরেজমিনে দেখা যায়, ছোট শিমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরো মাঠজুড়ে শাকের চাষ করা হয়েছে এবং এর তিন পাশ ঘিরে রাখা হয়েছে জাল দিয়ে। ফলে শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা তো দূরের কথা, ঠিকমতো অ্যাসেম্বলিও করতে পারছে না। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, মাঠে ঢুকতে গেলেই তাদের বকাঝকা করা হয়, কখনও ভয়ভীতিও দেখানো হয়। এতে তারা মাঠে যাওয়া এড়িয়ে চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসআরবি সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন নামে একটি এনজিও প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই চাষাবাদ করেছে। যদিও প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান দাবি করেন, তিনি বিষয়টি আগে জানতেন না। ছুটি শেষে স্কুলে এসে তিনি এ দৃশ্য দেখেন। অন্যদিকে, এনজিওটির সভাপতি হুমায়ন কবির মন্টু স্বীকার করেছেন যে তাদের পক্ষ থেকেই মাঠে শাকের বীজ বপন করা হয়েছে। তার দাবি, মাঠে ঘাস না থাকায় এটি করা হয়েছে। তবে তিনি এ নিয়ে প্রশ্ন তুললে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং হুমকিসূচক মন্তব্যও করেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ লিজ দেওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ এভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এতে শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0