Brand logo light

মাদারীপুর

বিআরটিসি বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ
ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিআরটিসি বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষ, একই পরিবারের ৪ জনসহ নিহত ৫

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বিআরটিসি বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চার সদস্যসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। রোববার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার শংকরপাশা এলাকায় ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। নিহতরা হলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার তাঁতিবাড়ী এলাকার জাহাঙ্গীর মোল্লা (৬৫), তার স্ত্রী মাজেদা আক্তার (৫৫), জাহাঙ্গীর মোল্লার ভাই আলমগীর মোল্লা (৬০), আলমগীরের স্ত্রী খুশিদা বেগম (৫০) এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক কাওছার হোসেন (২৮)। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাত্রা, পথেই মৃত্যু পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, আলমগীর মোল্লা সম্প্রতি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য রোববার সকাল ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যরা একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে মাদারীপুর থেকে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোর আগেই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার শিকার হন তারা। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতদের স্বজন জাফরিন আক্তার। তিনি বলেন, “আমার মেজ মামা আলমগীর মোল্লা স্ট্রোক করার পর থেকেই অসুস্থ ছিলেন। তাকে ডাক্তার দেখানোর জন্যই সবাই একসঙ্গে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু মামার চিকিৎসা আর হলো না। একই সঙ্গে দুই মামা ও দুই মামিকেও হারালাম।” যেভাবে ঘটলো সংঘর্ষ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিআরটিসির একটি যাত্রীবাহী বাস ফরিদপুর থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসছিল রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি। শংকরপাশা এলাকায় পৌঁছানোর পর দুটি গাড়ির মধ্যে প্রচণ্ড মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার শব্দ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। উদ্ধার অভিযান ও পুলিশের বক্তব্য খবর পেয়ে নগরকান্দা ফায়ার সার্ভিস এবং ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর আটকে থাকা পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, “অ্যাম্বুলেন্সের চার যাত্রী ও চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। ঘাতক বাসটি আটক করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।” পুলিশ জানায়, বাসটির কয়েকজন যাত্রী সামান্য আহত হলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। প্রশ্নের মুখে মহাসড়ক নিরাপত্তা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়কপথ। প্রায়ই এই মহাসড়কে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, ক্লান্ত চালক এবং মহাসড়কে কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, শংকরপাশা এলাকাসহ নগরকান্দার কয়েকটি অংশে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। তবে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি বাড়ানো হয়নি। বাড়ছে উদ্বেগ একই পরিবারের চার সদস্যের একসঙ্গে মৃত্যু এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে। স্বজনদের আহাজারি আর স্থানীয়দের ক্ষোভ নতুন করে সামনে আনছে দেশের মহাসড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা। প্রশ্ন উঠছে—চিকিৎসার জন্য রওনা হওয়া একটি পরিবার কেন নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারলো না, এবং এমন দুর্ঘটনা ঠেকাতে বাস্তবে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0
মাদারীপুর শিক্ষা প্রকৌশলের  হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা
মাদারীপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার বরিশালে সম্পদের পাহাড়

বরিশাল অফিস :  মাদারীপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বেতনের তুলনায় বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও একাধিক অভিযোগে বলা হচ্ছে, মো. সহিদুর রহমান নামের ওই কর্মকর্তা বেতনভিত্তিক আয়ের বাইরে বরিশালে প্রায় ১৫ কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন—যার উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশলে থাকাকালীন সময় টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো, অতিরিক্ত ব্যয় প্রাক্কলন তৈরি, বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে কমিশন গ্রহণ এবং প্রকৌশলীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায়। এসব পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়েই তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। শহর ও গ্রামে সম্পদের বিস্তার অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যে বলা হচ্ছে, বরিশাল নগরীর সার্কুলার রোডে তার নামে একটি পাঁচতলা ভবন রয়েছে। এছাড়া বিএম স্কুল রোড এলাকায় ট্রাফিক অফিসের বিপরীতে আরও একটি বহুতল ভবনের মালিকানাও তার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু নগরেই নয়, তার গ্রামের বাড়ি গৌরনদী উপজেলায়ও রয়েছে বিপুল পরিমাণ জমি ও স্থাপনা। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এসব সম্পদের একটি অংশ পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠদের নামে বা বেনামি মালিকানায় রাখা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকে মোটা অঙ্কের এফডিআর ও নগদ অর্থ জমা থাকার কথাও জানা গেছে, যদিও এর বৈধ উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি। টেন্ডার ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশলে থাকাকালীন সময়ে বরিশালের একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পে দরপত্র প্রক্রিয়া প্রভাবিত করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া হতো। এর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের কমিশন আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। বিশেষ করে  বাবুগঞ্জ ও আগৈলঝাড়ায় দুটি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (টিএসসি) প্রকল্পে প্রায় ৩২ কোটি টাকার কাজ ৭ শতাংশ কমিশনের বিনিময়ে “বিক্রি করা হয়েছে” বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার। তাদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে কাজ বণ্টনের পর তা আবার অন্য ঠিকাদারের কাছে উচ্চ কমিশনে হস্তান্তর করা হতো, যা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। দপ্তরের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ বরিশাল বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা, যারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন, অভিযোগ করেন যে হিসাব শাখার নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি, বিল আটকে রাখা এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করা হতো। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, “অনিয়ম এখানে নিয়মে পরিণত হয়েছে।” ফলে সরকারি প্রকল্পের ব্যয় কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি তাদের।   সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ   ঠিকাদারদের একটি অংশ দাবি করছেন, বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশলে থাকাকালীন সময়ে ৬ থেকে ৮ সদস্যের একটি প্রভাবশালী ঠিকাদার সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বড় প্রকল্পগুলো নিয়ন্ত্রণ করছেন,। তাদের মাধ্যমেই কমিশন বাণিজ্য ও কাজ বণ্টন পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ। ফলে সাধারণ ঠিকাদাররা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে না পেরে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও দাবি তাদের। কর্তৃপক্ষের অবস্থান এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বলেন, “যে কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তদন্তের দাবি দুর্নীতি বিরোধী মহল ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এখন জরুরি। তারা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক লেনদেন, প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং টেন্ডার নথি খতিয়ে দেখার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের মতে, অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু ব্যক্তিগত অনিয়ম নয়, বরং সরকারি শিক্ষা অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের আর্থিক দুর্নীতির ইঙ্গিত বহন করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
মাদারীপুরে সংখ্যালঘু পরিবারকে হত্যার হুমকি
মাদারীপুরে সংখ্যালঘু পরিবারকে হত্যার হুমকি

এইচ এম মিলন ,মাদারীপুর : মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার গদাধরদী গ্রামে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর ধারাবাহিক হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের এক সদস্য প্রাণনাশের আশঙ্কায় ইতোমধ্যে দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে গেছেন বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। স্থানীয় সূত্র ও পরিবারটির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চিন্ময় কর্মকার অনীক নামে ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার প্রভাবশালী কিছু মানুষের কাছ থেকে নানা ধরনের হুমকি পেয়ে আসছিলেন। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে তিনি নিজের জীবনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দেশ ত্যাগ করেন। পরিবারের অভিযোগ, অনীক দেশ ছাড়ার পরও তার বাবা অরুণ চন্দ্র কর্মকার এবং মা অলোকা রানী কর্মকারকে হুমকি দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে অনীককে দেখামাত্র হত্যার হুমকি দিয়েছে বলেও দাবি পরিবারের। এতে করে পরিবারটির মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো সময় বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, সংখ্যালঘু পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ফুটপাত দখল
ফুটপাত দখল,ভোগান্তিতে পথচারী

মাদারীপুর পৌর শহরের পুরান বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অস্থায়ী দোকানপাট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরের পথচারী ও সাধারণ মানুষ। ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতে না পেরে অনেককে সড়ক দিয়েই হাঁটতে হচ্ছে, ফলে শহরে বাড়ছে যানজট। জেলা শহরের বাসিন্দা শেখ আব্দুর রহিম জানান, পুরান বাজার এলাকায় কেনাকাটা করতে এলে নানা ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। ফুটপাতগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব হাসান বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি ফুটপাতের বিভিন্ন জায়গা কিছু দোকান মালিক ভাড়া দিয়ে দখল করে রেখেছে। পৌর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের উচিত যারা অবৈধভাবে ফুটপাত ভাড়া দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।’ স্থানীয় আরেক বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন পৌরসভায় দিনের বেলায় বড় ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকে। মাদারীপুর পৌরসভাতেও এমন নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বড় ট্রাকগুলো পুরান বাজার এলাকায় প্রবেশ করায় যানজট তৈরি হয়। ট্রাফিক বিভাগের কিছু অসাধু কর্মচারী টাকার বিনিময়ে এসব ট্রাককে সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।’ এ বিষয়ে মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি এ্যাড. মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘প্রশাসনের উচিত সড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা দ্রুত সরিয়ে দিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা। একই সঙ্গে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হলে পথচারীদের ভোগান্তিও অনেকটাই কমে আসবে।’ এদিকে বিষয়টি নিয়ে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে যাতে কেউ ফুটপাত দখল করে যানজট তৈরি করতে না পারে, সে জন্য ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে।’ স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ফুটপাত দখলমুক্ত এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হলে শহরের যানজট অনেকটাই কমে আসবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
মাদারীপুরে ৪০ বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাট-অগ্নিসংযোগ
মাদারীপুরে আধিপত্যের সংঘর্ষে হত্যা, ৪০ বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ

মাদারীপুর সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার জেরে অন্তত ৪০টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয়রা। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান আখতার হাওলাদারের সমর্থক আলমগীর হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন। এই হত্যাকাণ্ডের জের ধরে রাতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে নিহত আলমগীর হাওলাদারের পক্ষের সমর্থকরা প্রতিপক্ষ হাসান মুন্সী পক্ষের লোকজনের বাড়িঘরে হামলা চালায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামলাকারীরা অন্তত ২০টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পাশাপাশি জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লাবলু হাওলাদার ও হাসান মুন্সীর বাড়িসহ অন্তত ২০টি বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যান। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, হামলার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি বলেন, হামলাকারীরা ঘটনাস্থলের বিভিন্ন সড়কে ইট ও গাছ ফেলে রাস্তা অবরোধ করে দেয়। এতে সেখানে পৌঁছাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেগ পেতে হয়েছে। তবে বর্তমানে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন বলে জানান তিনি। দীর্ঘদিনের বিরোধ স্থানীয়দের দাবি, নতুন মাদারীপুর এলাকায় সাবেক কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান আখতার হাওলাদার পক্ষ এবং হাসান মুন্সী পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। গত কয়েক বছরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এলাকায় দুই পক্ষের উত্তেজনা আবারও বাড়তে শুরু করে। সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ডের পর সেই বিরোধ নতুন করে সহিংস রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0