Brand logo light

রুহুল কবির রিজভী

বিএনপি
এক দশক পর বিএনপির কাউন্সিল: নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা নাকি নতুন সমীকরণ? : মহাসচিব পদে নতুন মুখের সম্ভাবনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কাউন্সিল করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের মার্চে। এরপর কেটে গেছে এক দশকেরও বেশি সময়। দলটির শীর্ষ নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক বাস্তবতা, আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-মোকদ্দমা এবং সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত সময়ে কাউন্সিল আয়োজন সম্ভব হয়নি। তবে এ সময়ে দলের কার্যক্রম সচল রাখতে বিভিন্ন পদে রদবদল, পদোন্নতি এবং সাংগঠনিক সমন্বয় করা হয়েছে। এখন দীর্ঘ বিরতির পর সপ্তম জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি শুরু হওয়ায় বিএনপির অভ্যন্তরে নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই? দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র বলছে, আসন্ন কাউন্সিলে চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কার্যত নেই। ২০২৫ সালের শেষ দিকে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তে তারেক রহমান পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি প্রায় আট বছর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। দলের ভেতরে প্রচলিত মূল্যায়ন অনুযায়ী, বর্তমান সময়ে তারেক রহমানের বিকল্প নেতৃত্ব দৃশ্যমান নয়। ফলে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনাও অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করছেন নেতারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখন স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতাকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছে। সে কারণে শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা সীমিত। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: মহাসচিব থাকছেন কি মির্জা ফখরুল? চেয়ারম্যানের পর বিএনপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ মহাসচিব। বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এ দায়িত্ব পালন করছেন। দলের দুর্দিনে আন্দোলন, রাজনৈতিক সমঝোতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক সমন্বয়ে তিনি কেন্দ্রীয় ভূমিকা রেখেছেন। সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই জানান যে তিনি ক্লান্ত এবং কাউন্সিলের পর অবসর নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। তার এই বক্তব্যের পর থেকেই মহাসচিব পদে সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে দলের একটি অংশ মনে করে, সংকটময় সময়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা এবং গ্রহণযোগ্যতার কারণে দল এখনও তাকে ধরে রাখতে চাইতে পারে। মহাসচিব পদে আলোচনায় চার নেতা দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মির্জা ফখরুল সরে দাঁড়ালে অন্তত চারজন নেতা সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনায় থাকতে পারেন। ১. সালাহউদ্দিন আহমদ বর্তমানে স্থায়ী কমিটির সদস্য। নীতি নির্ধারণ, রাজনৈতিক কৌশল এবং সাংগঠনিক পরিকল্পনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে। ২. আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দলের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, অর্থনৈতিক নীতি এবং কূটনৈতিক তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতার কারণে তিনিও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। ৩. রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরে দলীয় দফতর, সাংগঠনিক সমন্বয় এবং মাঠ পর্যায়ের রাজনীতি পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। আন্দোলনের সময় দৃশ্যমান ভূমিকা তাকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছে। ৪. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং দলীয় আনুগত্যের কারণে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন। স্থায়ী কমিটিতে আসছে নতুন মুখ? বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি। বর্তমানে বিভিন্ন কারণে কয়েকটি পদ কার্যত শূন্য রয়েছে। এছাড়া কিছু সদস্য অসুস্থ এবং কয়েকজন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এ পরিস্থিতিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। দলীয় সূত্রগুলো যাদের নাম সামনে আনছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন— রুহুল কবির রিজভী হাবিব উন নবী খান সোহেল শামসুজ্জামান দুদু সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বিশেষ করে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে রিজভীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার পরিকল্পনা বিএনপির শীর্ষ নেতারা ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে নতুন কমিটিতে নবীন ও প্রবীণের সমন্বয় ঘটানো হবে। স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্বকে সুযোগ দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। দলটির একাধিক নেতা মনে করছেন, আগামী রাজনৈতিক বাস্তবতায় সাংগঠনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং আধুনিক রাজনৈতিক যোগাযোগের জন্য নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি। কাউন্সিল কেন গুরুত্বপূর্ণ? বিএনপির ইতিহাসে কাউন্সিল কেবল নেতৃত্ব নির্বাচন নয়; এটি দলীয় দিকনির্দেশনা নির্ধারণেরও প্রধান মঞ্চ। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর দলটি মাত্র ছয়টি জাতীয় কাউন্সিল করেছে। প্রতিটি কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাস এবং রাজনৈতিক কৌশলের নতুন রূপরেখা নির্ধারিত হয়েছে। দীর্ঘ এক দশক পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সপ্তম কাউন্সিল তাই শুধু সাংগঠনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলারও গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ধারাবাহিকতার সঙ্গে পরিবর্তনের বার্তা? বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিএনপি শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের চেয়ে ধারাবাহিকতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্ব প্রশ্নাতীত অবস্থানে থাকলেও মহাসচিব পদে নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে স্থায়ী কমিটি ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে তরুণদের অন্তর্ভুক্তি দলটির দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল বিএনপির জন্য কেবল নেতৃত্ব নির্বাচনের অনুষ্ঠান নয়; বরং আগামী দশকের রাজনৈতিক কৌশল, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং উত্তরাধিকার রাজনীতির নতুন রূপরেখা নির্ধারণের মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১, ২০২৬ 0
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আগামী ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।  রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর আগে শাহাদত বার্ষিকী সফলভাবে পালনের লক্ষ্যে দলীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এতে দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবগণ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিন দেশব্যাপী বিশেষ পোস্টার প্রকাশ করা হবে এবং দলীয় নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন। এছাড়া বিভিন্ন সংবাদপত্র ও অনলাইন পোর্টালে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। ৩০ মে শনিবার ভোর ৬টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সকল স্তরের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। একই দিন সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মাজার জিয়ারত করবেন। জিয়ারত শেষে মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে এক দোয়া মহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি থানায় এবং দেশের অন্যান্য ইউনিটে অসচ্ছল ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে কাপড় এবং চাল, ডালসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে। অনুরূপভাবে, দেশের সকল জেলা, মহানগরীসহ প্রতিটি ইউনিটেও ৩০ মে ভোর ৬টায় দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং স্থানীয় সুবিধা অনুযায়ী আলোচনা সভা, দোয়া মহফিল ও দুঃস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হবে। পরদিন ৩১ মে রোববার বেলা ২টায় রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে দেশের ক্রান্তিকালে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, ‘দেশের ক্রান্তিকালে রাজনীতি ও রাষ্ট্রক্ষমতার পাদপীঠে আলো ছড়িয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। এর আগে গণতন্ত্র হত্যা করা হয়েছিল, চরম নৈরাজ্য তৈরি হয়েছিল, দেশ দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে নিপতিত হয়েছিল, সমাজে চলছিল ভয়ংকর রক্তপাত, সহিংসতা ও খুনাখুনি।’ তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা-উত্তর সেই ক্রান্তিকাল অতিক্রমের এক পর্যায়ে জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে শান্তিময় পরিবেশ তৈরির প্রত্যয় নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমানকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তিনি রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেন। তাঁর আমলের শান্তি ও আইনের শাসন ফিরিয়ে আনার দৃষ্টান্ত বিরল। দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে তাঁর যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো আজও মানুষের মনে অম্লান।’ বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবনের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বাকশাল গঠন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল। সেই মৃত গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করেন জিয়াউর রহমান। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন, যার ফলে অনেক দল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করার এবং স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ পায়।’ এ সময় রিজভী দলীয় নেতাকর্মীদের কর্মসূচি পালনের সময় জনগণের ভোগান্তি এড়াতে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, জনগণের কষ্ট হয় এমন কোনো কর্মসূচি পরিচালনা করা যাবে না। রাস্তার মোড়ে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে কোনো আলোচনা সভা করা যাবে না, কর্মসূচি কেবল উন্মুক্ত মাঠ বা মিলনায়তনে সম্পন্ন করতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
মনোনয়ন পেলেন না যেসব নেত্রী-তারকা
সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় থেকেও মনোনয়ন পেলেন না যেসব নেত্রী-তারকা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৬ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে বিএনপি। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তাদের নাম ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তবে এতে মনোনয়ন পাননি আলোচিত অনেক প্রার্থী। এর মধ্যে রয়েছেন– সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, কনকচাঁপা, বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভীন, মেঘনা আলম, ফারজানা সিঁথি, প্রয়াত নাসির উদ্দীন পুন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা মওদুদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মেয়ে অপর্ণা রায়, সালাহ উদ্দিন আহমদ এর স্ত্রী হাসিনা আহমদ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বড় ছেলের স্ত্রী নাঈমা খন্দকার, মহিলা দলের সহ-সভাপতি বেবী মওদুদ, বরিশাল মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা নাসরিন,সামিরা তাজরিন ও মাহরীন খান। পরিচিত মুখ হিসেবে এই কয়েকজন মোটামুটি আলোচনায় ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত বাছাইয়ে তারা বাদ পড়েছেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, তাদের ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হতে পারে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে মোট ১ হাজার ২৫টি। তবে, জমা দিয়েছেন প্রায় ৯০০ জন। প্রতিটি ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২ হাজার টাকা এবং মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীদের ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়। গত ১৭ ও ১৮ এপ্রিল প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসস
বিএনপির মনোনয়ন পাননি আফরোজা আব্বাসসহ হেভিওয়েট অনেকে

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জাতীয় কমিটির সদস্যরা দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর মনোনয়ন বোর্ড এই তালিকা চূড়ান্ত করেছে। তালিকায় নতুন কিছু মুখ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় যেমন চমক তৈরি হয়েছে, তেমনি বাদ পড়েছেন দলের কয়েকজন পরিচিত ও প্রভাবশালী নেত্রী। সংরক্ষিত আসনের এই তালিকায় স্থান পাননি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস। একইভাবে সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া-ও মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আলোচনায় থাকা জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা শেষ পর্যন্ত তালিকায় জায়গা পাননি। এছাড়া মহিলা দলের সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, কৃষিবিষয়ক সম্পাদক সেলিনা হাফিজ এবং প্রয়াত নেতা মওদুদ আহমদ-এর স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদও বাদ পড়েছেন। সম্প্রতি দলে যোগ দেওয়া অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান-কে ঘিরে আলোচনা থাকলেও তিনিও তালিকায় স্থান পাননি। একইভাবে কণ্ঠশিল্পী বেবি নাজনীন-ও মনোনয়ন পাননি। অন্যদিকে, মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই তালিকা দলটির অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য, নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি এবং রাজনৈতিক কৌশলের ইঙ্গিত বহন করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
নিপুণ রায় চৌধুরী।
সংরক্ষিত নারী আসন: বিএনপির মনোনয়ন পেলেন নিপুণ রায় চৌধুরী, একই পরিবারে তিন এমপি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে যাওয়ার পথে রয়েছেন। দলটির পক্ষ থেকে ঘোষিত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেন। ওই তালিকায় স্থান পান নিপুণ রায় চৌধুরী। এই মনোনয়নের ফলে একই পরিবারের তিনজন সদস্য জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নিপুণ রায়ের বাবা নিতাই রায় চৌধুরী মাগুরা-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার শ্বশুর গয়েশ্বর চন্দ্র রায় চৌধুরী ঢাকা-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। নিপুণ রায় চৌধুরী নিজে এবারের সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও বাবার ও শ্বশুরের নির্বাচনি এলাকায় সক্রিয় প্রচারণা চালান। দলের আন্দোলন-সংগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই নেত্রী বিগত সরকারের সময় একাধিকবার কারাবরণও করেছেন। দলীয় সূত্র বলছে, মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এই মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, সংরক্ষিত নারী আসনের এই তালিকায় বিএনপির বেশ কয়েকজন পরিচিত ও আলোচিত নারী নেত্রী শেষ পর্যন্ত স্থান পাননি। তাদের মধ্যে রয়েছেন মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, নাজমুন নাহার বেবী, হাসনা মওদুদ, হাসিনা আহমদ, নাঈমা খন্দকার এবং নাসিমা আক্তার কল্পনা। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের স্ত্রী সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়াও মনোনয়ন তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। তবে দলীয় সূত্রের দাবি, চূড়ান্ত তালিকায় না থাকলেও এসব নেত্রীদের ভবিষ্যতে অন্যভাবে মূল্যায়ন করা হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
সুবর্ণা ঠাকুর
বিএনপির এমপি হচ্ছেন আ.লীগ নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপি তাদের ৩৬ জন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই তালিকা ঘোষণা করেন। তবে এই তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক ও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছেন গোপালগঞ্জের সুবর্ণা ঠাকুর। আওয়ামী লীগের কাশিয়ানী উপজেলার বর্তমান পদে থেকেও বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র তোলপাড়।যদিও সুবর্ণা ঠাকুরের দাবি, তাকে না জানিয়ে আওয়ামী লীগে পদ দেওয়া হয়েছে। তিনি পদত্যাগও করেছেন। কোনোদিন কোনো মিছিল মিটিংয়ে যাননি আওয়ামী লীগের পক্ষে।  অবশ্য কবে পদত্যাগ করেছেন তা জানাতে পারেননি বিএনপির টিকিটে এমপি হতে যাওয়া এই শিক্ষক।জানা গেছে, সুবর্ণা ঠাকুর বর্তমানে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি ওড়াকান্দি হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য ও পেশায় একজন শিক্ষক।  তবে আওয়ামী লীগের পদধারী হয়েও বিএনপির প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তার ব্যাখ্যা ভিন্ন।  তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগে তাকে যে পদ দেওয়া হয়েছে, তা তাকে না জানিয়েই দেওয়া হয়েছে। তিনি কোনোদিন দলটির কোনো মিছিল বা মিটিংয়ে অংশ নেননি।’ উল্টো নিজেকে বিএনপির লোক পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘১৯৯২ সাল থেকেই তার পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তারা নিয়মিত শহীদ জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেন। বেগম খালেদা জিয়ার জন্য প্রার্থনা করেছেন। একসময় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও দেখা করেছেন। মাতুয়া সম্প্রদায়ের জন্য কাজ করেছেন।’ বিএনপির মনোনয়ন কেনার আগেই কি আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পদত্যাগ করেছি। তবে কবে করলাম সেটার তারিখ এখন মনে নেই।’ আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেত্রী হিসেবে পরিচিত সুবর্ণা ঠাকুরের নাম বিএনপির চূড়ান্ত তালিকায় আসায় দলের ভেতরে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন, তারা এই সিদ্ধান্তকে ‘হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের মতে, দলের ত্যাগী ও নির্যাতিত কর্মীদের মূল্যায়ন না করে এভাবে অন্য দলের পদধারী নেত্রীকে সরাসরি মনোনয়ন দেওয়া দলের আদর্শিক অবস্থানের পরিপন্থী। তারা একে ‘অনুপ্রবেশ’ হিসেবেও দেখছেন। এদিকে বিএনপির কোনো পদে না থেকেও হঠাৎ সংসদ সদস্য হতে যাওয়া সুবর্ণা ঠাকুর নিজেকে একজন যোগ্য প্রার্থী মনে করেন।  তিনি বলেন, ঠাকুর পরিবারের সদস্য হিসেবে এবং শিক্ষক হিসেবে মানুষের পাশে থাকার কারণেই তিনি এই পর্যায়ে এসেছেন। বিএনপির হাইকমান্ড তাকে বেছে নেওয়ার পেছনে তার জনসম্পৃক্ততা সুবিধা করেছে বলে মনে করেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান একাধিকবার ফোন করলেও কথা সম্ভব হয়নি। আর কাশিয়ানী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তফা মোল্লাকে ফোন করলে তিনি  বলেন, ‘২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে তার পদ আছে। বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক। পদত্যাগ করেছেন কী করেননি সেটা তিনি বলতে পারবেন না ।’ ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও মাদারীপুর-২ আসনের একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য আক্ষেপ জানিয়ে লিখেছেন, কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদিকা শ্রীমতী সুবর্ণা ঠাকুরকে বিএনপি’র সংরক্ষিত নারী এমপি মনোনীত করায় মনোনয়ন বোর্ডের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। অভিনন্দন শ্রীমতি সুবর্ণা ঠাকুর।’    

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
রিজভী
দেশে বাকস্বাধীনতা ফিরে এসেছে, গুমের আশঙ্কা নেই—স্বাধীনতা দিবসে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, বর্তমান ব্যবস্থায় দেশে মানুষের বাকস্বাধীনতা ফিরে এসেছে এবং এখন এমন একটি নিরাপদ পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যেখানে নির্ভয়ে নিজের মত প্রকাশ করা সম্ভব। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এখন আর নিজের মত প্রকাশের কারণে কাউকে গুমের শিকার হতে হবে না।” তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল বিএনপির বিরুদ্ধে অবান্তর ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এসব বক্তব্যকে ‘মিথ্যাচার’ আখ্যা দিয়ে রিজভী বলেন, “যারা বর্তমান সরকারকে নিয়ে মিথ্যাচার করছে, তারা আসলে ফ্যাসিবাদের লক্ষণই ধারণ করছে।” গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার বন্ধ করা জরুরি। 🇧🇩 স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি সংবাদ সম্মেলনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন রিজভী। কর্মসূচিগুলো হলো— 🔹 ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার): ভোর ৬টায় নয়াপল্টনসহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন ভোর ৫টায় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ঢাকায় ফিরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত পুষ্পস্তবক অর্পণ মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল 🔹 ২৫ মার্চ (বুধবার): দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা এতে বিএনপির জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখবেন রিজভী বলেন, স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
বিএনপি
বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থীদের ভাগ্যে কী আছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রার্থী হওয়ার কারণে শতাধিক নেতাকে বহিষ্কার।বহিষ্কৃত কেউ কেউ জয়ী হয়ে এখন দলে ফিরতে চাচ্ছেন কেউ।কী আছে  তাদের ভাগ্যে।        ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বহিষ্কৃত শতাধিক নেতাকে নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনের পর তাদের অনেকেই আবার দলের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। দলীয় সূত্র বলছে, বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কোনো ফোরামে আলোচনা হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কমিটির মতামতের ভিত্তিতে। শতাধিক নেতা বহিষ্কার মনোনয়ন না পেয়ে অন্তত ১৯০ জন বিএনপি নেতা ১১৭টি আসনে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে অনেকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও শেষ পর্যন্ত ৭৮টি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থনের অভিযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহস্রাধিক নেতাকর্মীকেও বহিষ্কার করা হয়। সাত বিদ্রোহীর জয় নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, অন্তত সাতজন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি মনোনীত বা জোট সমর্থিত প্রার্থীদের হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এদিকে বেশ কয়েকটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের অংশগ্রহণের কারণে ধানের শীষ প্রতীকের ভোট বিভক্ত হয়ে যায়, যার ফলে দলীয় প্রার্থীরা প্রত্যাশিত ফল পায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, অন্তত ২৮টি আসনের ফলাফলে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সরাসরি প্রভাব ছিল। ভোট বিভক্তির উদাহরণ ঢাকা–১২ এ আসনে বিএনপি সমর্থিত বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক পেয়েছেন ৩০,৯৬৩ ভোট। অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল আলম (নীরব) পান ২৯,৮৬৯ ভোট। দুই প্রার্থীর মোট ভোট দাঁড়ায় ৬০,৮৩২। কিন্তু ভোট বিভক্তির সুযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি সমর্থিত প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন ৫৩,৭৭৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। সিলেট–৫ এখানে বিএনপি সমর্থিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক পান ৬৯,৭৭৪ ভোট। বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশিদ পান ৫৬,৩৬৯ ভোট। ভোট বিভক্তির সুযোগে খেলাফত মজলিস প্রার্থী আবুল হাসান ৭৯,৩৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। নারায়ণগঞ্জ–৪ এ আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমী পান ৮০,৬১৯ ভোট। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. শাহ আলম পান ৩৯,৫৮৯ ভোট এবং মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন পান ৪,৭৭৯ ভোট। ফলে ভোট বিভক্ত হয়ে যাওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন ১,০৬,১৭১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম–১৬, পাবনা–৪, বাগেরহাট–১, ঝিনাইদহ–৪, নড়াইল–২, যশোর–৫, মাদারীপুর–১, ঢাকা–১৪, সাতক্ষীরা–৩ ও ময়মনসিংহ–৬সহ আরও কয়েকটি আসনে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। দলে ফেরার চেষ্টা দলীয় সূত্র বলছে, বহিষ্কৃত অনেক নেতা ইতোমধ্যে নিজেদের ভুল স্বীকার করে দলীয় কর্মকাণ্ডে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আবার অনেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দলের হাইকমান্ডের ইতিবাচক সংকেতের অপেক্ষায় আছেন। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বহিষ্কারাদেশ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি দলের চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় কমিটির আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।” কঠোর অবস্থানে হাইকমান্ড বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে, যারা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করেছেন তাদের ফেরার পথ সহজ হবে না। বিশেষ করে নির্বাচনে পরাজিত বিদ্রোহীদের ক্ষেত্রে দলের অবস্থান তুলনামূলক কঠোর। দলীয় সূত্র বলছে, দলের শীর্ষ পর্যায়ের বার্তা পরিষ্কার— “দল আগে, ব্যক্তি পরে।” তৃণমূলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বহিষ্কৃত নেতাদের দলে ফেরানো নিয়ে তৃণমূলেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কিছু নেতাকর্মী মনে করেন, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান প্রয়োজন। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, জনপ্রিয় ও সংগঠক নেতাদের বাইরে রাখলে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোতে নির্বাচন ঘিরে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিষ্কার এবং পরে আবার দলে ফেরানোর নজির নতুন নয়। তাদের মতে, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী অনেক নেতাকে দীর্ঘদিন বাইরে রাখলে সাংগঠনিক ক্ষতি হতে পারে। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিএনপিও হয়তো বাস্তবতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0