ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুরো এলাকা পরিণত হয় সংঘর্ষ, আগুন ও আতঙ্কের নগরীতে। একদিকে শিশুটির প্রতি নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে ক্ষুব্ধ জনতা, অন্যদিকে অভিযুক্তকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে পুলিশের মরিয়া প্রচেষ্টা—এই দুইয়ের সংঘাতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, যানবাহন ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ। ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন পুলিশ সদস্য, পাঁচজন সাংবাদিক এবং আরও বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। রাতভর অচল হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের একটি অংশ। অভিযোগ যেভাবে বিস্ফোরণে রূপ নেয় স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশুটির মা পোশাক কারখানায় এবং বাবা রিকশা চালাতে বাইরে ছিলেন। সেই সুযোগে একই এলাকার ডেকোরেশন কর্মচারী মনির হোসেন শিশুটিকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা অভিযুক্তকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে একটি ভবনে তার অবস্থানের খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ সেখানে জড়ো হয়। ভবনের গেটে তালা ঝুলিয়ে দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা কয়েক দফা গেট ভাঙার চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। কিন্তু ততক্ষণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে শুরু করে। পুলিশের গাড়ি ঘিরে ছয় ঘণ্টার অবরোধ অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে থানায় নেওয়ার সময় পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে জনতা। বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি ছিল অভিযুক্তকে জনতার হাতে তুলে দেওয়া। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড এবং ফাঁকা গুলি ছুড়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। রাত ১০টার দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে পুলিশ কৌশল নেয়। অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে গোপনে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে বিষয়টি টের পেয়ে ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরও করা হয়। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে মহাসড়কে অভিযুক্তকে থানায় নেওয়ার পরও উত্তেজনা থামেনি। পুলিশের পিছু নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাকলিয়া এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে অবস্থান নেয়। রাত সাড়ে ১০টার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে আগুন দেয় এবং যানবাহনে হামলা চালায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে এপিবিএন ও র্যাব সদস্যরা যোগ দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। রাত ১টার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পুলিশ বলছে ‘দুষ্কৃতকারীদের’ বিরুদ্ধে মামলা হবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ জানিয়েছেন, সংঘর্ষে ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। কয়েকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়েছে, সরকারি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর হয়েছে। এসব ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, ধর্ষণের অভিযোগে শুক্রবার শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অভিযুক্ত মনির হোসেন কে? পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মনির হোসেনের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকায়। তিনি নগরীর বাকলিয়ার মিয়াখান নগরে ভাড়া থাকতেন এবং পেশায় ডেকোরেশন কর্মচারী। হাসপাতালে শিশুটিকে দেখতে রাজনৈতিক নেতারা শুক্রবার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে গিয়ে শিশুটির খোঁজ নেন নগর জামায়াত নেতারা। চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, শিশুটি এখনো ভয় ও মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে। তিনি এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই দাবিতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করে ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। প্রশাসনের সামনে বড় প্রশ্ন ঘটনার পর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা চমেক হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে বলেন, শুধু প্রতিবাদ করলেই হবে না, অপরাধ ঘটার আগেই সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, প্রশাসন এখন শুধু একটি ধর্ষণ মামলাই নয়, বরং জনরোষ, বিচারহীনতার আশঙ্কা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা—সবকিছুর সম্মিলিত চাপের মুখে রয়েছে। এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জনতার ক্ষোভ কেন এত দ্রুত বিস্ফোরিত হচ্ছে? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনাস্থা কতটা গভীর হলে অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য হাজারো মানুষ রাস্তায় নামে? বাকলিয়ার রাতভর সহিংসতা শুধু একটি অপরাধের প্রতিক্রিয়া নয়; এটি বিচারপ্রক্রিয়া, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জনআস্থার সংকটেরও এক নির্মম প্রতিচ্ছবি।
বরিশাল অফিস : বরিশালে একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে মানব পাচার ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ছয়জনকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) মিডিয়া সেল জানিয়েছে, পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল গত ১৮ মে রাত প্রায় ১০টার দিকে নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানার পোর্ট রোড এলাকার আবাসিক হোটেল ‘পপুলার’-এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আটক ব্যক্তিরা হলেন— মো. জাফর হোসেন (৩৫), মো. আল আমিন বেপারী (৩০), মো. শাওন সিকদার (২১), মোসা. সুমাইয়া ইসলাম (২২), মিঠুন দেবনাথ (২৮) এবং মোসা. রুনা আক্তার (২২)। পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে হোটেলের কাউন্টার ও বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি করা হয়। এ সময় পতিতাবৃত্তি ও দেহ ব্যবসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের যোগসাজশে নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনা করে আসছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও ভবনে গোয়েন্দা বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিএমপি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার মিরপুরে শাহ আলী বাগদাদী (রহ.) মাজারে সাম্প্রতিক হামলা ও সংঘর্ষ নতুন করে সামনে এনেছে বাংলাদেশের মাজারকেন্দ্রিক রাজনীতি, অর্থনীতি এবং ধর্মীয় মতাদর্শগত দ্বন্দ্বের পুরোনো বাস্তবতা। ঘটনাটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এক পক্ষের দাবি, মাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা মাদক বাণিজ্যের বিরুদ্ধে অভিযানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অন্যদিকে স্থানীয়দের একটি অংশ বলছে, ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ ছিল মূলত প্রভাব বিস্তার ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ দখলের কৌশল। বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি কেবল আইনশৃঙ্খলা বা ধর্মীয় বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে ওয়াকফ সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, স্থানীয় রাজনৈতিক আধিপত্য, অনুসারী নিয়ন্ত্রণ এবং মতাদর্শগত প্রভাব বিস্তারের বহুমাত্রিক সংঘাত। আধ্যাত্মিক কেন্দ্র থেকে অর্থনৈতিক বলয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সমাজে মাজার শুধু ধর্মীয় উপাসনাকেন্দ্র নয়; বরং এটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত। মাজারকে ঘিরে গড়ে উঠেছে মসজিদ, মাদ্রাসা, বাজার ও বাণিজ্যিক স্থাপনা। ভক্তদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের মানুষের কাছেও এসব স্থান সামাজিক মর্যাদা ও ঐতিহ্যের অংশ। মাজারপন্থিদের বিশ্বাস, শরিয়তের অনুশীলনের মধ্য দিয়েই সুফিরা আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ অর্জন করেন। জিকির, ধ্যান ও আত্মসংযম আত্মশুদ্ধির পথ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, কিছু মাজারে কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, শিরকচর্চা এবং অপরাধী চক্রের প্রভাব বিস্তার করেছে। এই মতাদর্শগত দ্বন্দ্ব বহু সময় সহিংস রূপও নিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতেও মাজারের প্রভাব দৃশ্যমান। বহু রাজনৈতিক নেতা গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির আগে মাজার জিয়ারত করেন। ফলে মাজারকে ঘিরে বিরোধ এখন আর কেবল ধর্মীয় নয়; বরং তা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। মাজারকেন্দ্রিক অপরাধ ও অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, কিছু মাজার এলাকায় মাদক গ্রহণ ও খুচরা মাদক বিক্রি এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন বিপুল মানুষের সমাগম হওয়ায় বহিরাগতদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। অভিযানের খবর পেলেই সংশ্লিষ্টরা দ্রুত সরে যাওয়ার সুযোগ পায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে মাজার এলাকা সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রের গোপন যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। অবৈধ অস্ত্র গোপন রাখা, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, নতুন সদস্য সংগ্রহ কিংবা চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। এর পাশাপাশি তাবিজ-কবজ, অলৌকিক চিকিৎসা কিংবা সমস্যা সমাধানের নামে প্রতারণার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। জনসমাগমপূর্ণ পরিবেশের সুযোগে ছিনতাই, পকেটমার ও শিশু নিখোঁজের ঘটনাও মাঝে মধ্যে সামনে আসে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিচ্ছিন্ন অপরাধের দায় পুরো সুফি ঐতিহ্য বা সব মাজারের ওপর চাপানোও বাস্তবসম্মত নয়। হাজার কোটি টাকার সম্পদ ঘিরে দ্বন্দ্ব শাহ আলী মাজারকে ঘিরে বিরোধের বড় একটি কারণ এর বিপুল সম্পদ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মাজারের মোট জমির পরিমাণ ৩২ দশমিক ১৪ একর বা প্রায় ৯৭ দশমিক ৪০ বিঘা। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ বিঘা ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত। এই সম্পত্তির ওপর গড়ে উঠেছে কাঁচামালের আড়ত, দোকান ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দোকান বরাদ্দ, ভোগদখল ও তদারকিতে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করছে। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণও হাতবদল হয়। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, মাজারকেন্দ্রিক এই অর্থনৈতিক বলয়কে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী এবং সন্ত্রাসী চক্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্যের প্রতিযোগিতা চলছে। ২০২২ সালে ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট হওয়াও এই দ্বন্দ্বের গভীরতা নির্দেশ করে। ‘তৌহিদী জনতা’ পরিচয়ের আড়ালে কারা? মাজারে হামলার ঘটনাগুলোতে বারবার উঠে আসছে ‘তৌহিদী জনতা’ শব্দবন্ধ। বিশ্লেষকদের একটি অংশের দাবি, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে সংগঠিত হামলাকে স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মীয় প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপন করতে এই পরিচয় ব্যবহার করা হচ্ছে। সুন্নি মতাদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব স উ ম আবদুস সামাদ বলেন, সরকার পরিবর্তনের পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে মাজারে হামলার ঘটনা সামনে আসে। তার প্রশ্ন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার সম্পর্ক কীভাবে তৈরি হলো? তার দাবি, একটি সংগঠিত গোষ্ঠী নিজেদের প্রকৃত পরিচয় আড়াল করে ‘তৌহিদী জনতা’ পরিচয় ব্যবহার করছে, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে ঘটনাগুলোকে স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মীয় প্রতিক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরা যায়। মাদকবিরোধী অভিযানের যুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ কেন আইন হাতে তুলে নেবে— সেই প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। ধর্মীয় মতাদর্শ বনাম প্রশাসনিক দায় ইসলামিক বুদ্ধিজীবী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান শাহসুফি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হান্নান আল হাদীও মাজারে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তার মতে, কোথাও শরিয়তবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে প্রশাসনের সহায়তায় তা বন্ধ করা উচিত; হামলা বা সহিংসতা কখনও সমাধান হতে পারে না। তিনি বলেন, কিছু স্থানে গাঁজা সেবন বা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও সেগুলো দমনের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। একইসঙ্গে মাজারে শায়িত অলি-আউলিয়াদের প্রতি সম্মান বজায় রাখাও জরুরি। জামায়াতের অস্বীকার, প্রশ্ন রয়ে গেছে শাহ আলী মাজারে হামলার ঘটনায় স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তা অস্বীকার করেছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কোনও সম্পৃক্ততা নেই এবং একটি মহলউদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, কেবল অস্বীকার যথেষ্ট নয়। তার মতে, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিষয়ে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দুই বছরে ৬৮ মাজারে হামলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ৬৮টি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৭০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে মাজারকেন্দ্রিক হুমকি নিয়ে ৪০টি সাধারণ ডায়েরি এবং ২৭টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে নয়টি মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে, ছয়টিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে এবং ১২টি মামলা এখনও তদন্তাধীন। শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, শাহ আলী মাজার হামলার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছে। হামলার কারণ এবং সংশ্লিষ্টদের রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই চলছে। সংঘাতের কেন্দ্রে মাজার, সম্পদ ও প্রভাব স্থানীয়দের মতে, শাহ আলী মাজারের ঘটনাকে শুধুমাত্র ধর্মীয় উগ্রবাদ বা মাদকবিরোধী অভিযানের ফল হিসেবে দেখলে পুরো বাস্তবতা ধরা পড়বে না। এখানে জড়িয়ে আছে বিপুল ওয়াকফ সম্পত্তি, স্থানীয় অর্থনীতি, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, ধর্মীয় মতাদর্শ এবং সামাজিক প্রভাবের জটিল সমীকরণ। ফলে প্রশ্ন উঠছে— মাজারকে ঘিরে চলমান এই সংঘাত কি কেবল ধর্মীয় মতভেদের বহিঃপ্রকাশ, নাকি এর গভীরে রয়েছে অর্থনৈতিক আধিপত্য ও রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের বৃহত্তর লড়াই?
বিতর্কিত কর্মকর্তাদের প্রত্যাবর্তন: প্রশ্নের মুখে পুলিশ সংস্কারের অঙ্গীকার ২০২৩ সালের ২৬ আগস্ট দেশের প্রায় সব শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে একটি খবর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে—বদলির আদেশ পাওয়ার পর তিনি থানার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), টেলিভিশন, আইপিএস ও সোফা সেট খুলে বাসায় নিয়ে গেছেন। ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তীব্র সমালোচনার মুখে তাকে ভূঞাপুর থানা থেকে সরিয়ে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছিল। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই ফরিদুল ইসলাম এখন রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বনানী থানার ওসি। ফরিদুল ইসলাম দাবি করেন, সে সময় সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি “অতিরঞ্জিতভাবে” উপস্থাপন করা হয়েছিল। তার ভাষ্য, তিনি নিজেও প্রশাসনিকভাবে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে শুধু একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি দমন কিংবা ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে সমালোচিত বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে আবারও গুরুত্বপূর্ণ থানা ও প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে পুলিশের ভেতর থেকেই। ‘শাস্তিমূলক বদলি’ থেকে আবার রাজধানীতে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যেসব কর্মকর্তাকে ঢাকা বা গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট থেকে সরিয়ে দূরবর্তী স্টেশনে পাঠানো হয়েছিল, তাদের অনেকেই আবার রাজধানীতে ফিরছেন। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উচ্চপর্যায়কে “ম্যানেজ” করেই এসব পদায়ন হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের ভেতরে এখনো প্রভাবশালী একটি বলয় সক্রিয় রয়েছে, যারা আগের সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের পুনর্বাসনে ভূমিকা রাখছে। এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের শেষদিকে পুলিশ ভয়াবহ ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে। গণ-অভ্যুত্থানের পর সেই আস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা হয়েছিল। এখন আবার বিতর্কিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলে সেই প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” হত্যা মামলার আসামি, তবু এসপি পদে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) পদে মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানের পদায়ন। ৫ মে তাকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছিলেন। স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের দমন, হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ বহুদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে ছিল। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে শিবগঞ্জ যুবদল নেতা মিজান হত্যাকাণ্ডের মামলাটি বিশেষভাবে আলোচিত। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন মিজান। নিহতের বাবা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হত্যা মামলা দায়ের করলে মাহবুব আলম খানকে আসামি করা হয়। আরেকটি হত্যা মামলাতেও তার নাম রয়েছে। তবে মাহবুব আলম খান সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হলে তিনি দায়মুক্ত হবেন। ডিএমপিতে ফিরছেন পুরোনো মুখ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পালন করা নুরুল মুত্তাকিনও আবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরেছেন। আওয়ামী আমলে তিনি ডেমরা, ভাটারা, তুরাগ ও লালবাগ থানার ওসি ছিলেন। পরবর্তীতে ডিএমপির সহকারী কমিশনার (এসি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তাকে এপিবিএনে পাঠানো হলেও মার্চ মাসে আবার ডিএমপিতে ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমানে তিনি মোহাম্মদপুর জোনে এসি (প্যাট্রোল) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে গুলশান থানার বর্তমান ওসি দাউদ খানও দীর্ঘদিন ডিবিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ডিএমপির বহু কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে পাঠানো হলেও তিনি রাজধানীতেই থেকে যান। পরে পর্যায়ক্রমে খিলগাঁও, ক্যান্টনমেন্ট হয়ে গুলশান থানার ওসি হন। ‘বঞ্চিত’ কর্মকর্তাদের ক্ষোভ পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে এ নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ। কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, আওয়ামী আমলে তাদের “ব্ল্যাকলিস্টেড” রাখা হয়েছিল। ছাত্রদল বা বিএনপিপন্থি পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তারা পদোন্নতি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন থেকে বঞ্চিত হন। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারা বৈষম্য দূর হওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে আগের সরকারের সুবিধাভোগীরাই আবারও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাচ্ছেন। এক কর্মকর্তা বলেন, “যারা বিগত সময়ে নির্যাতন-নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারাই এখন পুনর্বাসিত হচ্ছেন। অথচ বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।” সমালোচনার মুখে একাধিক পদায়ন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরও কয়েকটি পদায়ন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মাহাবুব রহমান, যিনি আওয়ামী সরকারের শেষদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার ওসি ছিলেন, তাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার ওসি করা হয়েছে। আমির হোসেন সেরনিয়াবাতকে মাদারীপুরের শিবচর থানার ওসি করা হলেও ব্যাপক সমালোচনার মুখে চার দিনের মাথায় প্রত্যাহার করা হয়। ভোলা ছাত্রদল নেতা নুরে আলম হত্যা মামলার আসামি আরমান হোসেনকে কক্সবাজারের রামু থানার ওসি করার আলোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শেষ পর্যন্ত সেই পদায়ন কার্যকর হয়নি। চট্টগ্রামে নূর হোসেন মামুন ও আতিকুর রহমানের মতো কর্মকর্তারাও গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া সাভার, আশুলিয়া, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ রেঞ্জের কয়েকটি থানার ওসি পদায়ন নিয়েও পুলিশের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছে। ভাবমূর্তি বনাম প্রশাসনিক বাস্তবতা বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর পুলিশ বাহিনীর প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠন ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষাপটে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পুনর্বহাল বা গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন জনমনে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তাদের মতে, প্রশাসনিক দক্ষতা, পেশাগত যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে পদায়ন নিশ্চিত না হলে পুলিশ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ বলেন, তিনি সম্প্রতি প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং বিষয়গুলো পর্যালোচনা করার পর মন্তব্য করবেন। তবে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—পুলিশ বাহিনীর ভেতরে কি সত্যিই পরিবর্তন এসেছে, নাকি পুরোনো প্রভাববলয় নতুন বাস্তবতায় আবারও নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে?
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। শনিবার (৯ মে) পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন। আগামীকাল ১০ মে শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনমনে শান্তি ও স্বস্তি ফিরেছে।” তিনি আরও বলেন, জনগণ এখন এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ প্রত্যাশা করে যেখানে গুম, অপহরণ ও ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না এবং মানুষ জানমাল, অবিচার বা নির্যাতনের শঙ্কামুক্ত জীবনযাপন করতে পারবে। এই পরিস্থিতি বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। “জনগণের আস্থা ছাড়া পুলিশের কাজ কঠিন” প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীর বিকল্প নেই। তবে জনগণের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে পুলিশের দায়িত্ব পালন আরও সহজ হবে। তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা রক্ষায় একটি পেশাদার ও দায়িত্বশীল পুলিশ বাহিনী অপরিহার্য। তাঁর ভাষায়, পুলিশ সপ্তাহ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জনগণের বিশ্বস্ত হয়ে ওঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি সুযোগ হওয়া উচিত। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে অগ্রাধিকার বিবৃতিতে সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমান সরকার একটি “সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র” গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে মানুষের মনে নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত না হলে সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, “পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নই এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার।” নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকারও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, উপযোগী ও অনুকূল পরিবেশ পেলে পুলিশ দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম—সাম্প্রতিক নির্বাচন সেই সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সাফল্যের উল্লেখ বাংলাদেশ পুলিশের আন্তর্জাতিক অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশের ভূমিকা বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। “জননিরাপত্তায় বিনিয়োগ অপরিহার্য” প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং জাতীয় অগ্রগতি একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এজন্য পুলিশের উন্নয়নে বিনিয়োগকে সরকার জননিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীতে জননিরাপত্তা জোরদার এবং কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও ছিনতাই প্রতিরোধে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় আরও ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাং ও ছিনতাই দমনে ৭০০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা জোরদারে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বসিলায় নতুন একটি পুলিশ ফাঁড়ি চালু করা হয়েছে এবং আরও একটি ফাঁড়ি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ৫০টি থানায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি), সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) এবং পেট্রোল ইন্সপেক্টর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাতে মাঠপর্যায়ে নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও কার্যকর করা যায়। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, বর্তমানে ঢাকায় মোট ১ হাজার ৯১০টি সিসি ক্যামেরা কার্যকর রয়েছে। এর মধ্যে ডিএমপির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ৭১০টি এবং বিভিন্ন সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে ১ হাজার ২০০টি ক্যামেরা। তিনি বলেন, নতুন করে আরও ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ টিম পাঠানোও সহজ হচ্ছে। ডিএমপি জানিয়েছে, জাতীয় দিবস, বড় অনুষ্ঠান ও উৎসবকে ঘিরেও অস্থায়ী সিসি ক্যামেরা বসিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্লক রেইড, নিয়মিত টহল এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে কিশোর গ্যাং-সংক্রান্ত অপরাধ দমনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে সিসি ক্যামেরা প্রযুক্তি রাজধানীর যানজট ব্যবস্থাপনাতেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে দাবি করেছে ডিএমপি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার কারওয়ান বাজারে একসময় ফুটপাতে আলু-পেঁয়াজ বিক্রি করা একটি পরিবারের বিরুদ্ধে এখন উঠেছে সংগঠিত মাদক কারবার, বিপুল সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বলছে, বাবা, তিন মেয়ে, দুই জামাই এবং এক পুত্রবধূ—এই সাত সদস্য মিলে গড়ে তুলেছিল একটি পারিবারিক মাদক সিন্ডিকেট। সম্প্রতি এই পরিবারের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করেছে সিআইডি। সংস্থাটির দাবি, অবৈধ মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বৈধ করার প্রমাণও পাওয়া গেছে। কারওয়ান বাজার: উত্থানের সূচনা তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯–২০১০ সালের দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় গাঁজার ছোট পরিসরের ব্যবসা দিয়ে তাদের কার্যক্রম শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ব্যবসা বিস্তৃত হয় ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকেও। কারওয়ান বাজারের ব্যস্ত ফুটপাত—যেখানে মাছ-মাংস ও নিত্যপণ্যের ভিড়—তার পাশেই রেললাইনের আশপাশকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে মাদক লেনদেনের একটি নেটওয়ার্ক, এমনটাই দাবি অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টদের। “ফুটপাতের ব্যবসা থেকে কোটি টাকার সম্পদ” পরিবারটির এক সদস্যের স্বামী মহিদুল দাবি করেন, তারা একসময় পোটলা বিক্রির মতো ছোট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার ভাষায়, “পোটলা বিক্রি করত এক হাজার, ৫০০ টাকা থেকে দুই হাজারে। যত সেল হত তত টাকাই তারা পাইত।” তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও বর্তমানে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। দত্তপাড়ার বহুতল ভবন ও প্রশ্নবিদ্ধ সম্পদ বর্তমানে পরিবারটি টঙ্গীর দত্তপাড়া এলাকায় বসবাস করছে। সেখানে তাদের একটি চারতলা এবং একটি ছয়তলা ভবনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। একটি সূত্রের দাবি, সম্পত্তির পরিমাণ ও আর্থিক সক্ষমতা তাদের বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে এলাকাবাসীর একাংশ জানিয়েছেন, পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ ও পরিচয় নিয়ে দ্বিধা ও দূরত্ব রয়েছে। “আমরা ভালো হয়ে গেছি”—অভিযুক্তদের দাবি অভিযুক্ত রেশমা খাতুন ফোনে সময় সংবাদকে জানান, তারা অতীতে মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এখন আর সেই কর্মকাণ্ডে নেই। তার ভাষায়, “আমরা তিনটা বোন, বোন জামাই—আমরা পরিস্থিতির শিকার। আমার বয়স এখন চল্লিশ। আজ থেকে ১৫–২০ বছর আগে আমরা ভালো হয়ে গেছি। ৬–৭ বছর হলো আমরা টঙ্গীতে বাড়ি করেছি।” তিনি আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও সেগুলোর সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ। সিআইডির তদন্ত ও ব্যাংকিং লেনদেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য পাচার ও কারবারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে। সিআইডির দাবি অনুযায়ী, অন্তত ৫ কোটি টাকার বেশি লেনদেন বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে শনাক্ত হয়েছে, যা মাদক ব্যবসার অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এক পরিবারের ভেতরেই নেটওয়ার্ক তদন্তে জানা যায়, এই চক্রে রয়েছেন— * বাবা * তিন মেয়ে * দুই জামাই * এক পুত্রবধূ অভিযুক্তদের মধ্যে রেশমা খাতুনের বিরুদ্ধে ১০টি, আসমার বিরুদ্ধে ৩টি, লিজা বেগম ওরফে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে ৭টি এবং মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে ৫টি মাদক মামলা রয়েছে বলে সিআইডি জানিয়েছে। অপরাধের বিস্তার ও সামাজিক প্রভাব অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিবারভিত্তিক এমন সংগঠিত মাদক নেটওয়ার্ক স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া মাদক ব্যবসার একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তবে এসব দাবির পূর্ণ বিচারিক সত্যতা এখনো আদালতে নির্ধারিত হয়নি। কারওয়ান বাজারের ফুটপাত থেকে টঙ্গীর বহুতল ভবন—একটি পরিবারের এই উত্থানকে ঘিরে এখন প্রশ্ন উঠছে অবৈধ অর্থনীতি, সামাজিক প্রভাব এবং আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে। তদন্ত চলছে। আর সেই তদন্তের ফলের ওপরই নির্ভর করছে এই গল্পের শেষ অধ্যায়।
বরিশাল অফিস : বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করা পুলিশ কর্মকর্তা এম এ খায়ের কাওছার (আবুল খায়ের) বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। ঘুষ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্ত হওয়া জুয়ার আসরে অংশ নেওয়ার অভিযোগ তদন্তের দাবি আরও জোরালো করেছে। সাম্প্রতিক ঘটনায়, ১৩ এপ্রিল রাতে বরিশাল নগরের একটি ফ্ল্যাটে জুয়ার আসরে তার উপস্থিতির অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা প্রশাসনের নজরে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আরও পড়ুন: ক্ষমতার বলে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি গড়েছেন ওসি আবুল খায়ের! পুলিশের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের খোঁজখবর শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং ভিডিও ফুটেজ যাচাইয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। এর আগে মহিপুর থানায় দায়িত্ব পালনকালে অবৈধ সম্পদ অর্জন, কুয়াকাটা এলাকায় জমি ক্রয় ও আত্মীয়দের নামে হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ দাবি করেছেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রভাব খাটানোর ঘটনাও ঘটেছে, যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশ পায়নি। কুয়াকাটার ব্যবসায়ী মহলের অভিযোগও নতুন করে সামনে এসেছে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকরা দাবি করেছেন, নিয়মিত অর্থ প্রদানের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হতো। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, দাবিকৃত অর্থ না দিলে প্রশাসনিক হয়রানি বা ভীতি প্রদর্শনের শিকার হতে হয়েছে। একটি রেস্টুরেন্টের মালিক বকেয়া বিল পরিশোধ না করার অভিযোগ তুলেছেন, অন্যদিকে এক মাছ ব্যবসায়ী চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়িক সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। বর্তমানে নলছিটি পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত খায়েরের বিরুদ্ধে একাধিক স্থানে কর্মরত অবস্থায় অভিযোগ ওঠার ধারাবাহিকতা প্রশ্ন তুলছে তার দায়িত্ব পালনের ধরন নিয়ে। সচেতন মহল মনে করছে, এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা জরুরি, যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জনসাধারণের আস্থা অটুট থাকে। এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা তার পক্ষ থেকে এখনো এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তের অগ্রগতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন স্থানীয়রা।
বরিশাল অফিস : বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিদর্শক জসীম উদ্দীন (পরিচিতি নং-৩১১১৪) এর বিরুদ্ধে মাদক উদ্ধারের নামে সাধারন মানুষদের হয়রানী।বাসা বাড়িতে প্রবেশ করে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি ,অর্থ আদায়, অর্থ না পেলে মাদকদ্রব্য দিয়ে আটকসহ ঘুষ বনিজ্য রমরমার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে জসীম উদ্দীনকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর একটি বিভাগীয় মামলার আদেশে একজন অভ্যাসগত অপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। তিন তিনটে বিভাগীয় মামলা হলেও বার বার ঘুষের বিনিময়ে ও ক্ষমতার প্রভাবে পার পেয়ে যান জসীম উদ্দিন। বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত হলেও জসীম উদ্দিনকে বদলী করা হয় বরিশালে। বরিশালে যোগদানের পরেই পুর্বের কর্মস্থলের মত ঘুষ আদায়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেন।বরিশালে মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে এসে মাদক কারবারিদের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিদর্শক জসীম উদ্দিন। মাদক বিক্রেতাদের পথ মসৃণ করে দিয়ে নিজের পকেটে ভরছেন মাসোহারা। বেপরোয়া উপ পরিদর্শক জসীম অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন মাদক কারবারির কাছ থেকে নেওয়া সেই মাসোহারার ভাগ পান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। যে কারণে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন উপ পরিদর্শক জসীম। বরিশালে যোগদান করার পর আগের রূপে ফিরেছেন জসীম উদ্দিন। একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, বরিশাল নগরীর চিহ্নিত মাদক কারবারিদের সঙ্গে জসীমের দোস্তি সম্পর্ক রয়েছে। নগরীর রিফিউজি কলোনির ‘গাঁজাসম্রাট’ রফিকের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নেন জসীম। কাউনিয়ার জোসনা, সুমি, কেডিসির নিলু, ডিজে লিটন, বাবু নাজু, আসমা-পারুল, মানিক, রুবেল, ময়না ও খলিলের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুসের টাকা নেন জসীম। নগরীতে চোলাই মদের ঘরগুলো থেকে মাসোহারা উঠান জসীম। অভিযোগ রয়েছে, মাদকসহ আটক করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আসামিদের ছেড়ে দেন তিনি। অভিযোগের পুনরাবৃত্তি না প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা? বরিশালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিদর্শক জসীম উদ্দীনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ নতুন নয়—বরং এটি একটি দীর্ঘ ধারাবাহিকতার অংশ, যা প্রশাসনিক নথি, বিভাগীয় তদন্ত এবং স্থানীয় অভিযোগের মধ্যে এক অস্বস্তিকর সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। অতীতে একাধিক বিভাগীয় মামলায় অভিযুক্ত হওয়া, শাস্তি পাওয়া এবং তারপরও দায়িত্বে বহাল থাকা—এই ঘটনাপ্রবাহ এখন নতুন কর্মস্থলেও একই ধরনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে দাবি উঠেছে। এই প্রতিবেদনে সরকারি নথি, বিভাগীয় তদন্তের তথ্য এবং সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা হয়েছে—একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযোগ কীভাবে প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে টিকে থাকে এবং তার প্রভাব কী হতে পারে। অভিযোগের প্রকৃতি: অভিযানের আড়ালে অনিয়ম? স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অর্থ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ড ঘটছে। অভিযোগে বলা হয়— * বাড়িতে তল্লাশির সময় মাদক দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয় * অর্থ দিলে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়া হয় * অর্থ না দিলে “মাদক উদ্ধার” দেখিয়ে মামলা দেওয়া হয় এ ধরনের অভিযোগ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে, বিশেষ করে যখন অভিযুক্ত ব্যক্তি অতীতেও একই ধরনের অভিযোগে তদন্ত ও শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন। নথিতে যা পাওয়া যায়: ২০২৪ সালের অফিস আদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি অফিস আদেশ (২০ অক্টোবর ২০২৪) অনুযায়ী, উপ পরিদর্শক জসীম উদ্দীন শেরপুরে কর্মরত থাকাকালীন বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি হন। নথিতে উল্লেখ করা হয়— * মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলা * মাসোহারা গ্রহণের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রমে সহায়তা করা * অভিযানে জব্দ মাদক অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ * মাদকসেবীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় * অর্থের বিনিময়ে আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া এছাড়া, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করলেও তিনি তা আমলে নেননি বলেও উল্লেখ করা হয়। নির্দিষ্ট একটি অভিযান: তদন্তে যা উঠে আসে ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি শেরপুর সদর থানাধীন একটি এলাকায় পরিচালিত অভিযানের সময় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা পরবর্তীতে বিভাগীয় তদন্তের কেন্দ্রে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযানের সময় মাদক সেবনকারী মোঃ মিনালকে গাঁজাসহ আটক করে মারধর করা হয়। পরে তার স্ত্রী ১০ হাজার টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তদন্তে উঠে আসে— * প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন * অভিযানে অংশগ্রহণকারী দলের সদস্যদের সনাক্ত করা গেছে * অভিযুক্ত কর্মকর্তা ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন এই ঘটনাটি শেরপুর জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও আলোচিত হয়, যা সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে নথিতে উল্লেখ আছে। বিভাগীয় তদন্ত ও সিদ্ধান্ত সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী উপ পরিদর্শক জসীম উদ্দীনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। বিভাগীয় মামলা নং-০৫/২০২৪ । তদন্ত শেষে অভিযোগ “প্রমাণিত” বলে উল্লেখ করা হয় এবং তাকে গুরুদণ্ডযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়— * ভুক্তভোগী শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন * অর্থ গ্রহণের বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে * অভিযানের নেতৃত্বদানকারী হিসেবে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই এরপর তাকে চাকরিচ্যুত করার বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি লিখিত জবাব দাখিল করলেও তা সন্তোষজনক নয় বলে বিবেচিত হয়। পূর্বের শাস্তির ইতিহাস নথিপত্র অনুযায়ী, এটি ছিল না তার বিরুদ্ধে প্রথম বিভাগীয় ব্যবস্থা। * ২০১৯ সালে একটি মামলায় তার বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থায়ীভাবে স্থগিত করা হয়,(বিভাগীয় মামলা নম্বর -১৯/২০১৯) । * ২০২১ সালে তাকে তিরস্কার দণ্ড দেওয়া হয়,(বিভাগীয় মামলা নম্বর -১২৩/২০২১)। * ২০২৪ সালে বেতন গ্রেডের নিম্নতর ধাপে অবনমিতকরণ দন্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়,(বিভাগীয় মামলা নম্বর -০৫/২০২৪ )। তবুও তার আচরণে পরিবর্তন হয়নি বলে নথিতে উল্লেখ করা হয় এবং তাকে “অভ্যাসগত অপরাধী” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: বরখাস্ত নয়, অবনমন যদিও তদন্তে অভিযোগ গুরুতর হিসেবে প্রমাণিত হয় এবং তাকে চাকরিচ্যুত করার সুপারিশ উঠে আসে, শেষ পর্যন্ত তাকে বরখাস্ত করা হয়নি। নথিতে উল্লেখ করা হয়— * তার ওপর পরিবারের নির্ভরশীলতা (বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, তিন সন্তান) * আর্থিক অবস্থা * “শেষবারের মতো আত্মশুদ্ধির সুযোগ” এই বিবেচনায় তাকে বেতন গ্রেডে তিন ধাপ নিচে নামিয়ে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক কঠোরতা বনাম মানবিক বিবেচনার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে—বিশেষ করে যখন অভিযোগগুলো গুরুতর এবং পুনরাবৃত্ত। বরিশালে নতুন অধ্যায়: পুরোনো অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর বরিশালে যোগদানের পর থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আবারও একই ধরনের অভিযোগ উঠতে শুরু করে। স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ— * মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ গ্রহণ * অভিযানে পাওয়া মাদক অন্যত্র বিক্রি * মাদকসেবীদের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় সাম্প্রতিক অভিযোগ: দুটি ঘটনার বিবরণ প্রথম ঘটনা:- বরিশাল নগরীর সার্কুলার রোড এলাকায় এক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশির সময় মাদক না পেয়ে ঘরে থাকা ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে তাকে ইয়াবা দিয়ে আটক দেখানো হয় বলে দাবি। দ্বিতীয় ঘটনা: গোরস্থান রোডে এক ইট ও বালু ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশির সময় তার স্ত্রীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ঘুষ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে মাদক দিয়ে আটক করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই অভিযোগগুলো পূর্বের নথিভুক্ত ঘটনার সঙ্গে মিল থাকায় তা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেন ফেনসিডিল বিক্রেতাকে লুৎফর রহমান সড়কের ফেনসিডিল বিক্রেতা বাবুল তালুকদারকে ছয় বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করে ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেন জসীম। এর কয়েক মাস আগে বরিশাল সদর উপজেলার লাকুটিয়া সড়কে নয়ন নামের এক মাদক বিক্রেতাকে তিনশ পিস ইয়াবাসহ আটক করার পর তিন লাখ টাকার বিনিময়ে অল্প কয়েকপিস ইয়াবা দিয়ে মামলা দেন জসীম। এই ঘটনার পরপরই নগরীর পলাশপুর এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি গাঁজা কালাম ও তার পরিবারের চারজনকে ছয় কেজি গাঁজাসহ আটক করেন তিনি। পরে চার লাখ টাকার বিনিময়ে তিনজনকে মুক্তি দিয়ে ছয় কেজি গাঁজার পরিবর্তে দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার দেখিয়ে গাঁজা কালামের বিরুদ্ধে মামলা দেন তিনি। কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, তিনি তল্লাশি দলের সদস্য ছিলেন এবং বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনা পূর্বের বিভাগীয় মামলা বা নতুন অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্ন: জবাবদিহিতা কোথায়? এই ঘটনাপ্রবাহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে— * একাধিক বিভাগীয় মামলায় দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও কেন কঠোর শাস্তি কার্যকর হয়নি? * কেন একই ধরনের অভিযোগ নতুন কর্মস্থলেও অব্যাহত? * অভ্যন্তরীণ নজরদারি ও জবাবদিহিতার কাঠামো কতটা কার্যকর? আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যখন অভিযোগের ধরন একই থাকে এবং তা সময়ের সঙ্গে পুনরাবৃত্ত হয়, তখন তা শুধু ব্যক্তিগত নয়—প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার ইঙ্গিতও দিতে পারে। বৃহত্তর প্রভাব: জনআস্থা ও আইন প্রয়োগ মাদকবিরোধী অভিযান একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের সময় যদি অনিয়ম, দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা জনআস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে— * স্বচ্ছ তদন্ত * দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা * জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা —এসবই অত্যন্ত জরুরি। বরিশালের এই ঘটনাটি কেবল একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের গল্প নয়; এটি প্রশাসনিক জবাবদিহিতা, শাস্তির কার্যকারিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার একটি উদাহরণ। অতীতের নথিভুক্ত অভিযোগ, বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণিত অনিয়ম এবং বর্তমানের নতুন অভিযোগ—সব মিলিয়ে একটি প্রশ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠছে: **ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু তা কি যথেষ্ট?** এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর—যা শুধু একটি ব্যক্তির নয়, পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে জড়িত।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় একটি তেল পাম্পে লাইসেন্স ও নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ভাউলাগঞ্জ এলাকায় মেসার্স জান্নাতুন মাওয়া ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, সকাল ৯টা থেকে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ওই পাম্পে জ্বালানি সরবরাহ চলছিল। এ সময় আশপাশের বিভিন্ন এলাকা—ডোমার উপজেলার চিলাহাটি, বোদা উপজেলার বড়শশী ও বগদুলঝুলা এবং দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ও চিলাহাটি ইউনিয়ন থেকে মোটরসাইকেল চালকেরা জ্বালানি নিতে ভিড় করেন। এতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। দুপুরে ইউএনও সবুজ কুমার বসাক পরিস্থিতি পরিদর্শনে গেলে তিনি লাইনে থাকা চালকদের ফুয়েল কার্ড, গাড়ির নিবন্ধন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই শুরু করেন। যাদের বৈধ কাগজপত্র ছিল না, তাদের সরে যেতে নির্দেশ দেন। এ সময় দুইজন চালকের বিরুদ্ধে নিবন্ধন ও লাইসেন্স না থাকায় প্রত্যেককে ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাইনে থাকা ৩০ থেকে ৪০ জন চালক হট্টগোল শুরু করেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের অনেকের কাছেই বৈধ কাগজপত্র ছিল না। কিছুক্ষণের মধ্যে শতাধিক লোকের একটি মিছিল এসে ইউএনও ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালায়। আনসার সদস্য আহত, অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হামলার সময় ইউএনওর নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্য তৈয়বুর রহমানকে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তার কাছ থেকে সরকারি অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ইউএনওকে স্থানীয়দের সহায়তায় পাশের একটি বাড়িতে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ইউএনওকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। আহত আনসার সদস্যকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ইউএনও সবুজ কুমার বসাক বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির খবর পেয়ে পাম্পে যাই। কাগজপত্রবিহীন চালকদের সরে যেতে বলি এবং দুজনকে জরিমানা করি। এরপরই শতাধিক লোক মিছিল নিয়ে এসে হামলা চালায়। আমার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।” দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালেক জানিয়েছেন, “পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ওই ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি বন্ধ থাকবে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাউকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজে পরীক্ষার সময় সংঘটিত এক সহিংস হামলার ঘটনায় উঠে এসেছে চাঁদাবাজি, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন। নারী শিক্ষককে প্রকাশ্যে লাঞ্ছনা ও মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসে। কী ঘটেছিল সেদিন বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল), স্নাতক (ডিগ্রি) পরীক্ষার সময় কলেজে ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও দুপুরে ১০-১২ জনের একটি দল জোরপূর্বক ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষকরা বলছেন, তারা নিজেদের স্থানীয় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে পরিচয় দেন এবং অধ্যক্ষের কাছে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং এক পর্যায়ে শারীরিকভাবে আক্রমণ চালায়। নারী শিক্ষকের ওপর হামলা ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত অংশটি হলো শিক্ষক আলেয়া খাতুন হীরার ওপর হামলা। তিনি জানান, অধ্যক্ষকে লক্ষ্য করে কটূক্তি করা হলে তিনি প্রতিবাদ করেন। এর জেরে এক হামলাকারী তাকে উদ্দেশ্য করে অশোভন মন্তব্য করলে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ অত্যন্ত সহিংস রূপ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি স্যান্ডেল খুলে শিক্ষককে মারধর করেন। পরে তাকে চুল ধরে টেনে কক্ষের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে তার একটি দাঁত ভেঙে যায় এবং আরও দুটি দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। অধ্যক্ষকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে জানা গেছে। ‘চাঁদা না দেওয়াই মূল কারণ’ ভুক্তভোগী শিক্ষক ও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এ ঘটনা আকস্মিক নয়—বরং দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজির চাপের ফল। অধ্যক্ষের দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন পক্ষ তার কাছে নিয়মিত অর্থ দাবি করে আসছিল। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধের সূত্রপাত হয়। শিক্ষক আলেয়া খাতুনের ভাষ্য অনুযায়ী, “হিসাব চাওয়ার নামে মূলত চাঁদাই দাবি করা হতো।” স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা—যিনি এলাকায় ‘সামাদ দারোগা’ নামে পরিচিত—এই প্রভাববলয়ের কেন্দ্রে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তের বক্তব্য হামলায় জড়িত হিসেবে অভিযুক্ত এক ব্যক্তি ঘটনার আংশিক দায় স্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে কলেজে গিয়েছিলেন এবং তর্কের এক পর্যায়ে ‘আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে’ মারধর করেন। তবে এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক। তার দাবি, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং উদ্দেশ্য ছিল ভয় দেখিয়ে ভবিষ্যতে অর্থ আদায় নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা দাবি ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল এক নেতাকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়। তবে মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, স্থানীয় কিছু নেতা সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছেন, ঘটনাটি “ভুলভাবে উপস্থাপন” করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা কলেজে স্বাভাবিকভাবেই প্রবেশ করেছিলেন এবং পরিস্থিতির অবনতি ঘটে শিক্ষিকার আচরণের কারণে। তারা অধ্যক্ষ ও শিক্ষকের অপসারণ দাবি করে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দিয়েছেন। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ঘটনার সময় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং পুলিশ উপস্থিত ছিল বলে জানা গেছে। তবুও কীভাবে হামলাকারীরা ক্যাম্পাসে ঢুকে দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চালাতে পারল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষকরা। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। বৃহত্তর প্রেক্ষাপট এই ঘটনা শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহিংসতার উদাহরণ নয়—এটি স্থানীয় ক্ষমতার কাঠামো, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তাহীনতার একটি জটিল চিত্র তুলে ধরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও এ ধরনের প্রকাশ্য সহিংসতা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয়। এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তবে ভুক্তভোগীরা আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—এই তিনটি বিষয়ই এখন মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বগুড়ার শেরপুর থানায় কর্তব্যরত এক নারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) কর্তৃক ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে এক পিকআপচালককে প্রায় দেড় ঘণ্টা থানায় আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে ঘটে বলে জানা গেছে। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হস্তক্ষেপ করলে মুচলেকা নিয়ে ওই ব্যক্তিকে তার অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। ‘ম্যাডাম’ সম্বোধনে ক্ষোভ, আটকে রাখার অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকারটোলা গ্রামের পিকআপচালক নূর মোহাম্মদ মামুন তার এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে থানায় যান, যিনি একটি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। থানায় ডিউটি অফিসারের দায়িত্বে থাকা এসআই রোখসানা খাতুনকে সালাম দিয়ে ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন করলে তিনি ক্ষুব্ধ হন—এমন অভিযোগ ওঠে। এরপর মামুনকে থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেস্ক কক্ষে আটক রাখা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ওসি এসএম মঈনুদ্দীনের হস্তক্ষেপে তাকে মুচলেকা নিয়ে স্বজনদের জিম্মায় দেওয়া হয়। স্থানীয়দের মধ্যে প্রতিক্রিয়া ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ওই নারী এসআইয়ের বিরুদ্ধে অতীতেও অসদাচরণ ও অপেশাদার আচরণের অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী হিসেবে রেজাউল করিম, হাসান ও নাঈম ইসলাম জানান, কয়েক মাস আগে থানায় গেলে তাদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় এবং ধমক দিয়ে থানা থেকে বের করে দেওয়া হয়। আরেক ভুক্তভোগী ইমরান হোসেন দাবি করেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে একই ধরনের আচরণের বিষয়ে তিনি থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছিলেন। পুলিশের অবস্থান শেরপুর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দীন বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ‘ম্যাডাম’ সম্বোধনকে কেন্দ্র করে পিকআপচালককে আটক রাখার বিষয়টি তদন্তাধীন। অভিযোগের বিষয়ে এসআই রোখসানা খাতুনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি, কারণ তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। বদলি ও শাস্তির দাবি ভুক্তভোগী নূর মোহাম্মদ মামুন এবং স্থানীয়রা অভিযুক্ত এসআইয়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাকে অন্যত্র বদলির দাবি জানিয়েছেন।
বরিশাল অফিস : বরিশাল জেলায় তিন পুলিশ সদস্যের ডোপ টেস্টে মাদকদ্রব্যের উপস্থিতি ধরা পড়ায় পুরো পুলিশ বিভাগে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাহিনীকে মাদকমুক্ত রাখতে চলমান নজরদারি কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার উজিরপুর থানায় কর্মরত সদস্যদের ওপর সাম্প্রতিক সময়ে ডোপ টেস্ট পরিচালনা করা হয়। তিন দিন আগে অনুষ্ঠিত ওই পরীক্ষায় তিন কনস্টেবলের ফল পজিটিভ আসে। এরপরই তাদের বরিশাল জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয় এবং সেখানে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, বাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষায় “জিরো টলারেন্স” নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। কোনো সদস্য মাদক গ্রহণের সঙ্গে জড়িত প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উজিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সংশ্লিষ্ট তিন সদস্যকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের একাধিক সদস্য, যারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থাকতে চেয়েছেন, জানিয়েছেন যে জেলার সব থানায় ধাপে ধাপে ডোপ টেস্ট কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে উজিরপুর থানার সদস্যদের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পুলিশের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান জোরদার করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষা এবং সদস্যদের মধ্যে শৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, “শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। যে কোনো সদস্য মাদক গ্রহণের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এদিকে, পুলিশের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান জোরদার করার অংশ হিসেবে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এতে বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষার পাশাপাশি সদস্যদের মধ্যে শৃঙ্খলা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ কর্তৃপক্ষ।
পিরোজপুর : পিরোজপুরে চুরির অভিযোগে আটক এক অস্থায়ী কেয়ারটেকারকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের দাবি, তাকে স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ভুক্তভোগী মো. ইউনুস ফকির (৪০) পিরোজপুর সদর উপজেলার খানাকুনিয়ারি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একটি পুলিশ অফিসার্স মেসে অস্থায়ী কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ এপ্রিল গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক কর্মকর্তার কক্ষ থেকে টাকা চুরির অভিযোগ তুলে ইউনুস ফকিরকে আটক করা হয়। কক্ষের একটি চাবি তার কাছে থাকায় তাকে সন্দেহ করা হয়। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করলেও তাকে হাতকড়া পরিয়ে মারধর করা হয় বলে দাবি পরিবারের। তাদের ভাষ্য, নির্যাতনের অংশ হিসেবে ইউনুসকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয় এবং গরম মোম গলিয়ে শরীরের সংবেদনশীল স্থানে ঢেলে দেওয়া হয়। চিৎকার করলে তার মুখে লাঠি ঢুকিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবার আরও জানায়, পরে তাকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে টাকা আদায়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ‘প্রকৃত অভিযুক্ত শনাক্ত’ ঘটনার কয়েকদিন পর নতুন মোড় আসে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মেসের এক ঝাড়ুদার শাকিল চুরির কথা স্বীকার করেন এবং টাকা ফেরত দেন বলে জানানো হয়েছে। এরপর ইউনুসের পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া অর্থও ফেরত দেওয়া হয়। ‘ধামাচাপার চেষ্টা’ অভিযোগ ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি গোপন রাখতে ইউনুসকে হাসপাতালে নিতে বাধা দেওয়া হয় এবং তাকে নিজের আঘাত সম্পর্কে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিতে চাপ দেওয়া হয়। এমনকি খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পরও একই ধরনের বক্তব্য দিতে বলা হয়েছিল বলে দাবি তাদের। ইউনুসের ভাই আনিসুর রহমান বলেন, “আমার ভাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। পুলিশের ভয়ে আমরা কোনো অভিযোগ করতে পারিনি।” পুলিশের প্রতিক্রিয়া অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিবি কর্মকর্তা সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি ছুটিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সহ তিনজনকে ক্লোজড করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” প্রেক্ষাপট ও প্রশ্ন বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি আবারও মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এখন মূল প্রশ্ন—অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার কতটা নিশ্চিত করা যায়, এবং ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পাবেন কি না।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কুষ্টিয়ায় একটি পীরের দরগায় হামলার ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন সহিংসতা নয়—বরং সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বাড়তে থাকা ‘মব জাস্টিস’-এর একটি উদ্বেগজনক প্রতিচ্ছবি। ইসলাম বিকৃতির অভিযোগ ঘিরে গত শনিবার ‘শামীম বাবার দরবার শরিফে’ যে হামলা হয়, তার আগে-পরে ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে উঠে আসে উত্তেজনা ছড়ানো, সংগঠিত আক্রমণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিরোধের ঘাটতির এক জটিল চিত্র। হামলার দিন: আলোচনার বদলে আক্রমণ ঘটনার সময় দরগার ভেতরেই ছিলেন এর প্রধান আব্দুর রহমান শামিম, যিনি নিজেকে পীর হিসেবে পরিচয় দিতেন। উপস্থিত ছিলেন দরগার খাদেম জামিরন নেসাও। তার বর্ণনায়, হামলার আগে এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল—পীর ইসলামবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। জামিরন নেসা বলেন, শুরুতে ধারণা ছিল স্থানীয় মানুষ আলোচনা করতে আসবেন। “পীর বাবা বলছিলেন, আমার যদি ভুল হয়, আমি মেনে নেবো—কিন্তু তারা যেন কথা বলে,” জানান তিনি। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। এক থেকে দেড়শো মানুষ লাঠিসোঁটা ও অস্ত্র নিয়ে দরগায় ঢুকে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শামিম আলোচনা করতে চেয়েছিলেন। তিনি দুই হাত তুলে থামতে বললেও হামলাকারীরা তা উপেক্ষা করে। এলাপাতাড়ি হামলায় গুরুতর আহত হন তিনি এবং পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ‘ধর্ম অবমাননা’—উত্তেজনা তৈরির হাতিয়ার? এই হামলার পেছনে অন্যতম ট্রিগার হিসেবে উঠে এসেছে একটি ভিডিও। অভিযোগ—পীরের পুরনো বক্তব্য কেটে সম্পাদনা করে তা ‘কোরআন অবমাননা’ হিসেবে প্রচার করা হয়। অনুসারীদের দাবি, এটি ছিল বিকৃত উপস্থাপন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি পরিচিত প্যাটার্ন। প্রথমে ‘ধর্ম অবমাননা’ বা ‘ইসলাম রক্ষার’ আহ্বান ছড়ানো হয়, এরপর তা জনরোষে রূপ নেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন বলেন, ধর্মীয় আবেগকে সামনে আনা হলে সাধারণ মানুষ দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে—কিংবা নীরব থাকে। এতে সহিংসতার ক্ষেত্র তৈরি হয়। তার ভাষায়, “ইসলাম রক্ষার নামে একটি নিয়ন্ত্রণমূলক আদর্শ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রেই পরিকল্পিত।” লুটপাট ও অর্থনৈতিক স্বার্থ এই হামলাকে শুধুই ধর্মীয় উত্তেজনার ফল হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র ধরা পড়ে না। ঘটনাস্থলে লুটপাটের অভিযোগও রয়েছে। নিহতের ভাইয়ের করা মামলায় দরগার সম্পদ ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। খাদেম জামিরন নেসাও বলেন, হামলার সময় একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাটে জড়িত ছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে ধর্মীয় অভিযোগকে ব্যবহার করা হয় জমি দখল বা সম্পদ লুটের আড়াল হিসেবে। ধর্মীয় বয়ান ও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে কিছু ধর্মীয় বক্তৃতায় নির্দিষ্ট পীর, মাজার বা মতাদর্শকে ‘বিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা রয়েছে। যদিও ইসলামী গবেষক ড. ওয়ালীয়ুর রহমান দাবি করেন, এসব সহিংসতার পেছনে ‘বড় আলেমদের’ নির্দেশনা থাকে না। তার মতে, অনেক সময় কম শিক্ষিত বা উত্তেজিত তরুণরাই এমন ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে। তবে তিনি স্বীকার করেন, ধর্মীয় বয়ানে সতর্কতার অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, ইমাম ও খতিবদের উচিত—ধর্মীয় সমালোচনার পাশাপাশি স্পষ্টভাবে বলা যে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও মব সহিংসতার বিস্তার মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই দেশে অন্তত ৮৮টি মব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। জোবাইদা নাসরীন বলেন, “ধর্মকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার কারণে সরকারসহ সব দলই এ ধরনের ঘটনায় সরাসরি হস্তক্ষেপে দ্বিধাগ্রস্ত।” সরকারের স্বীকারোক্তি এই প্রেক্ষাপটে সরকারের অবস্থানও প্রশ্নের মুখে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান স্বীকার করেছেন, মব সহিংসতা প্রতিরোধে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা ঠেকানো সরকারের দায়িত্ব ছিল, এবং আমরা ব্যর্থ হয়েছি। তবে এখন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে।” সরকার আইনের কঠোর প্রয়োগের কথা বললেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে এবং কত দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। একটি বিপজ্জনক ধারা কুষ্টিয়ার এই ঘটনা দেখায়, কীভাবে গুজব, বিকৃত তথ্য, ধর্মীয় আবেগ এবং সংগঠিত স্বার্থ একত্রে সহিংসতার জন্ম দেয়। আলোচনার সুযোগ না দিয়ে সরাসরি আক্রমণে যাওয়ার এই প্রবণতা শুধু আইনের শাসনকেই চ্যালেঞ্জ করছে না—বরং সামাজিক সহাবস্থানের ভিত্তিকেও দুর্বল করছে। যদি দ্রুত ও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ‘ধর্ম রক্ষার’ নামে এই সহিংসতা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পিরোজপুরে এক কেয়ারটেকারের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে নীরবতা, প্রশ্ন আর শঙ্কা—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক গভীর উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একাধিক সদস্য। ভুক্তভোগীর দাবি, একটি চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, এমনকি তার পুরুষাঙ্গ ঝলসে দেওয়া হয়েছে। অথচ পরবর্তীতে চুরির ঘটনায় অন্য একজনের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনার সূত্রপাত ভুক্তভোগী মো. ইউনুস ফকির (৪০), যিনি দীর্ঘদিন ধরে পিরোজপুর পুলিশ লাইন্স এলাকায় কর্মকর্তাদের মেসে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন, জানান—১৩ এপ্রিল দুপুরে হঠাৎ করেই ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম তার কাছে থাকা কক্ষের একটি চাবি ফেরত চান। চাবিটি দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ আনা হয়। ইউনুস অভিযোগ অস্বীকার করলে পরিস্থিতি দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়। তার ভাষ্যমতে, তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নিচতলায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে কয়েকজন ডিবি সদস্য মিলে মারধর শুরু করে। পরে আরও সদস্য এসে নির্যাতনে যোগ দেয়। নির্যাতনের বর্ণনা ইউনুসের অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে শারীরিকভাবে মারধরের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। চিৎকার ঠেকাতে মুখে লাঠি চেপে ধরা হয়। একপর্যায়ে তাকে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে টাকা জোগাড়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়। পরিবার সময় চাইলে আবার তাকে মেসে ফিরিয়ে এনে নির্যাতন চালানো হয়। সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগটি আসে পরে—ডিবি সদস্য কাওসারের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে তার পুরুষাঙ্গে গলিত মোমবাতি ফেলে প্রায় আধাঘণ্টা ধরে নির্যাতন করে। এই বর্ণনা শুধু শারীরিক নির্যাতন নয়, বরং মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম উদাহরণ হিসেবে সামনে আসে। চুরির রহস্য উন্মোচন ঘটনার একপর্যায়ে ইউনুসকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী-এর কাছে নেওয়া হয়। তিনি বিষয়টি শোনার পর মেসের আরেক কর্মী শাকিলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকেন। জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল চুরির কথা স্বীকার করলে পুলিশ টাকা উদ্ধার করে। ইউনুসের কাছ থেকে নেওয়া অর্থও ফেরত দেওয়া হয়। চিকিৎসা ও গোপনীয়তার অভিযোগ নির্যাতনের পর ইউনুস চিকিৎসা নিতে চাইলে তাকে প্রথমে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তার প্রকৃত আঘাতের কথা চিকিৎসকদের জানাতে দেওয়া হয়নি। পরে খুলনার একটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাধ্য করা হয় ভিন্ন গল্প বলতে—যেন তিনি নিজেই নিজের ক্ষতি করেছেন। নীরব প্রশাসন, অজানা ভবিষ্যৎ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম ছুটিতে আছেন বলে জানিয়েছেন এবং এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগীর মানসিক অবস্থা ও দাবী এই ঘটনার পর ইউনুস মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। পুলিশের ভয়ে তিনি আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করতে পারেননি। তার পরিবার জানায়, “কর্মসংস্থান নয়, আমরা চাই সুষ্ঠু বিচার।” প্রশ্নগুলো রয়ে যায় এই ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে— আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরে জবাবদিহিতা কতটা কার্যকর? নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগের পরও কেন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ রয়েছে? এই ঘটনা শুধু একটি নির্যাতনের গল্প নয়—এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, ন্যায়বিচারের অনিশ্চয়তা এবং ভয়ের সংস্কৃতির একটি প্রতিচ্ছবি। এখন দেখার বিষয়, এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত আদৌ হয় কি না, নাকি এটি আরেকটি চাপা পড়ে যাওয়া গল্প হয়ে থাকবে। এদিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম ছুটিতে আছেন বলে জানিয়েছেন এবং এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন,রাঙ্গামাটি : রাঙ্গামাটিতে সশস্ত্র হামলায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর এক নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার দুই বোন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুক্রবার সকাল আনুমানিক ছয়টার দিকে রাঙ্গামাটির কুতুকছড়ি এলাকার উপরপাড়ায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত ধর্মসিং চাকমা ইউপিডিএফের সহযোগী সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। তার বাবার নাম ধনঞ্জয় চাকমা। স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, একদল সশস্ত্র ব্যক্তি ধর্মসিং চাকমার বাসায় গিয়ে তাকে বাইরে ডাকে। এ সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। গুলির সময় এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে তার দুই বোন—ভাগ্যসোনা চাকমা ও কৃপাসোনা চাকমা—আহত হন। তাদের দুজনের হাত গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শওকত আকবর জানান, আহত দুই নারীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তারা বাড়ি ফিরে গেছেন। ঘটনার বিষয়ে রাঙ্গামাটি কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিমউদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে এবং বিস্তারিত পরে জানানো হবে। এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ইউপিডিএফের নেতাকর্মীরা রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
মো. আমিনুল ইসলাম, কাঁঠালিয়া : ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় এক প্রবাসীর জমি দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত নেতা অভিযোগটি ‘অপপ্রচার’ বলে অস্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে প্রবাসী রিয়াজ তালুকদারের স্ত্রী হনুফা বেগম প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বিষয়টি সামনে আনেন। অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের মহিষকান্দি গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ তালুকদার বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তিনি আড়াই একর জমি ক্রয় করে এর একটি অংশে পাকা ভবন নির্মাণ করেন। অবশিষ্ট জমি ফাঁকা থাকায় একই এলাকার জাকির ও ছগির হোসেন পাশের জমি কেনার পর একটি দাগ থেকে দখলের চেষ্টা চালান। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে হনুফা বেগম ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় মামলা করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আদালতের নির্দেশে বিরোধপূর্ণ জমিতে নিষেধাজ্ঞার নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষকে বর্তমান অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, এই নির্দেশ অমান্য করে জাকির ও ছগির দলবল নিয়ে সেখানে কাজ করতে যান। প্রবাসে অবস্থান করায় রিয়াজ তালুকদারের অনুপস্থিতির সুযোগে তাদের পক্ষ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা মামুনুর রশীদ জমি দখলের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। বাধা দিলে হনুফা বেগমকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মামুনুর রশীদ বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে একটি পক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাসের রায়হান জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জমিতে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। ভয়ভীতি প্রদর্শন বা চাঁদাবাজির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও প্রায় ২০০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা দায়েরের সময় নিহতের আরও দুই ভাই থানায় উপস্থিত ছিলেন। মামলার এজাহারে উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা কাঠমিস্ত্রি রাজীব দফাদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া এজাহারভুক্ত চারজনসহ মোট ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, “এজাহারভুক্ত চারজনসহ অজ্ঞাত আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” ঘটনার পর থেকে ফিলিপনগর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে গত শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় ‘কালান্দার বাবা শ্রী শামীম জাহাঙ্গীর দরবার শরীফে’ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীদের অভিযোগ ছিল, ওই আস্তানায় ইসলাম ধর্ম বিকৃতি করা হচ্ছিল। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ একটি দল দরবারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এ সময় হামলাকারীদের আঘাতে গুরুতর আহত হন পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীর। পরে তিনি মারা যান। রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আস্তানার পাশের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে পীর আবদুর রহমান ওরফে ‘শামীম বাবা’কে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটনার কয়েকদিন পার হলেও এখনো কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি, এমনকি কোনো মামলা পর্যন্ত দায়ের হয়নি—যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে। রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে জানাজা শেষে তাকে উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্তে নৃশংসতার চিত্র হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, নিহতের মুখমণ্ডলে ১৫ থেকে ১৮টি কোপের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া মাথা, ঘাড় ও পিঠে গভীর জখম ছিল। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই মৃত্যুর প্রধান কারণ। ঘটনার সূত্রপাত: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, একটি ৩৬ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই উত্তেজনা তৈরি হয়। শুক্রবার রাত থেকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ভিডিওটি শেয়ার হতে থাকে এবং শনিবার সকাল নাগাদ তা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, অন্তত সাতটি আইডি থেকে ভিডিওটি প্রচার করা হয়—যার মধ্যে কিছু পেজ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এর একটি ‘সত্যের সন্ধানে ফিলিপনগর’ নামে পেজ বলে জানা গেছে। হামলা: পূর্বপরিকল্পিত নাকি আকস্মিক উত্তেজনা? শনিবার দুপুরের দিকে শতাধিক লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে দরবারে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলাকারীরা স্লোগান দিতে দিতে দরবারে ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এরপর শামীমকে তার কক্ষ থেকে টেনে বের করে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “সকালে স্থানীয় এক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তিনি সম্ভাব্য বৈঠকের কথা বললেও দরবারে কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান। কিন্তু পরে ঘটনাপ্রবাহ দেখে মনে হয়েছে, হামলাটি সংগঠিত ছিল।” এই বক্তব্য থেকে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—স্থানীয় পর্যায়ে কোনো পরিকল্পনার তথ্য কি আগে থেকেই ছিল, যা যথাযথভাবে গুরুত্ব পায়নি? পুলিশের অবস্থান: শনাক্ত হলেও গ্রেফতার নয় দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলায় জড়িত ১৫ থেকে ১৮ জনকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ভিডিও প্রচারকারী কয়েকটি আইডির অ্যাডমিনের পরিচয়ও পাওয়া গেছে। তবে এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, “ভিডিও দেখে জড়িতদের শনাক্ত করতে একাধিক টিম কাজ করছে। নিশ্চিত হয়ে আইনের আওতায় আনা হবে।” মামলা হয়নি কেন? নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। পরিবারের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি নিরাপদ নয়। নিহতের বড় ভাই বলেন, “পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা মামলা করবো।” আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকেও মামলা দায়েরের সুযোগ রয়েছে, যা এখনো হয়নি। নিরাপত্তা জোরদার, তবে আতঙ্ক কাটেনি ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি ‘নিয়ন্ত্রণে’ বলা হলেও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক রয়ে গেছে। এমনকি পাশের গ্রামের লালনশিল্পী বাউল শফি মণ্ডলের বাড়িতেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। পটভূমি: বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও পূর্বের গ্রেফতার আবদুর রহমান ওরফে শামীম নিজেকে ‘সংস্কারপন্থি ইমাম’ হিসেবে পরিচয় দিতেন। ২০১৮ সালে নিজের দরবার প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২১ সালে একটি শিশুর দাফনকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও তাকে আলোচনায় আনে। ওই বছরই ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। প্রশ্নগুলো রয়ে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওটি কতটা সত্য ছিল? স্থানীয় পর্যায়ে কোনো পরিকল্পিত উসকানি ছিল কি? পুলিশ আগাম তথ্য পেয়েও কেন হামলা ঠেকাতে পারেনি? শনাক্ত হওয়ার পরও অভিযুক্তরা গ্রেফতার হচ্ছে না কেন? কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের এই ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়; এটি সামাজিক উত্তেজনা, গুজবের প্রভাব এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তের অগ্রগতি ও দায়ীদের বিচারের মধ্য দিয়েই এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশজুড়ে চাঁদাবাজি যেন একটি অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী অর্থনৈতিক সন্ত্রাসে রূপ নিয়েছে—এমন প্রেক্ষাপটে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বড় ধরনের পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর অভ্যন্তরীণ তদন্তে উঠে এসেছে এক বিস্ময়কর চিত্র: সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা অন্তত ৬৫০ জন চাঁদাবাজের একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি হয়েছে, যা এখনও চূড়ান্ত নয়—বরং বাড়তেই পারে। ছায়ার ভেতরের নেটওয়ার্ক র্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে গঠিত এই তালিকা শুধু সংখ্যা নয়—এটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় চাঁদাবাজি সিন্ডিকেটের কাঠামোগত উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। তালিকার শীর্ষে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ—র্যাব-১১’র আওতাধীন এই শিল্পঘন এলাকায় ১১০ জনের নাম পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সিরাজগঞ্জ (র্যাব-১২) থেকেও উঠে এসেছে ৬৩ জনের নাম। এই সংখ্যাগুলো কেবল বিচ্ছিন্ন অপরাধের ইঙ্গিত দেয় না; বরং একটি সংগঠিত, প্রভাবশালী এবং অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পরিচালিত নেটওয়ার্কের অস্তিত্ব তুলে ধরে। রাজধানীতে চাঁদাবাজির নগ্ন উদাহরণ রাজধানী ঢাকা-র কল্যাণপুরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা পুরো বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসে। সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তি—স্থানীয় এক তথাকথিত ‘যুবদল নেতা’—নিজেকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে শুধু অর্থ দাবিই করেননি, বরং হাসপাতালের স্টাফদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, মব তৈরি এবং রাজনৈতিক ট্যাগ ব্যবহার করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেছেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আর স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি; রাজনৈতিক মহল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সক্রিয় হয়ে ওঠে। সিন্ডিকেট, আধিপত্য এবং রক্তাক্ত পরিণতি চাঁদাবাজির অর্থনীতি যে কতটা সহিংস হতে পারে, তার প্রমাণ মেলে সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে। কারওয়ান বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদার ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে খুন হন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বির। তদন্তে উঠে এসেছে—এখানে অন্তত ৮-৯টি সক্রিয় চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট রয়েছে। অন্যদিকে, রাজবাড়ী-র পাংশায় ‘সম্রাট’ নামে পরিচিত এক চাঁদাবাজকে গণপিটুনিতে হত্যা করে স্থানীয়রা—যা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতারও বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত। মিরপুর এলাকাতেও একই চিত্র—চাঁদার দ্বন্দ্বে গুলি করে হত্যা করা হয় এক রাজনৈতিক কর্মীকে। কেন বাড়ছে চাঁদাবাজি? বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয় বরং একটি “সিস্টেমিক ক্রাইম ইকোনমি”। সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে: নির্মাণ খাত বাজার ও খুচরা ব্যবসা পরিবহন সেক্টর স্থানীয় ঠিকাদারি কাজ অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসা শুরু করতে, দোকান চালাতে বা পণ্য পরিবহন করতেও নির্দিষ্ট হারে চাঁদা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। অস্বীকৃতি জানালে হুমকি, হামলা—এমনকি হত্যাও ঘটছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা: ভুক্তভোগীদের নীরবতা। ভয়, রাজনৈতিক চাপ এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকেই অভিযোগ করতে চান না—ফলে অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। সরকারের অবস্থান ও পরবর্তী পদক্ষেপ সাম্প্রতিক সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা দিয়েছেন—দেশের সব শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় আনা হবে। যদিও কৌশল প্রকাশ করা হয়নি, তবে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো এবং সমন্বিত অভিযান চালানোর কথা বলা হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে: তালিকা “আনবায়াসড”ভাবে তৈরি করা হচ্ছে গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠ পর্যায়ের যাচাই চলছে ছোট থেকে বড়—সব স্তরের অপরাধী অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে খুব শিগগিরই দেশব্যাপী অভিযান শুরু হতে পারে এই তালিকা যদি কার্যকর অভিযানে রূপ নেয়, তবে এটি হতে পারে দেশের চাঁদাবাজি দমনে একটি টার্নিং পয়েন্ট। তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়: রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তদন্ত ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জন বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা সিন্ডিকেট ভাঙার ধারাবাহিকতা সবশেষে প্রশ্ন একটাই: তালিকা কি কেবল কাগজেই থাকবে, নাকি সত্যিই ভেঙে পড়বে চাঁদাবাজির এই অদৃশ্য সাম্রাজ্য?
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।