ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরাসরি সামরিকভাবে জড়িত ছিল বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। পত্রিকাটির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের শুরু থেকেই আবুধাবি কেবল কূটনৈতিক বা গোয়েন্দা সহায়তা দেয়নি; বরং ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক বিমান হামলায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। শুক্রবার (৩০ মে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পাশাপাশি ইউএই কার্যত এই সামরিক অভিযানের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে। এমনকি গত এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও আমিরাতের সামরিক তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কোন কোন স্থাপনায় হামলার দাবি? প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সরবরাহ করা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হামলাগুলো সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়েছিল। লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও জ্বালানি অবকাঠামোকে। এর মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালির কিশমি ও আবু মুসা দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, লাভান দ্বীপের তেল শোধনাগার এবং আসালুয়েহ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স। বিশেষ করে আসালুয়েহ কমপ্লেক্সে কথিত যৌথ হামলাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ঘটনার পর ওয়াশিংটন ইসরাইলকে ইরানের জ্বালানি খাতে হামলা সীমিত রাখার আহ্বান জানাতে বাধ্য হয়। প্রকাশ্য অবস্থান ও গোপন বাস্তবতা? সংঘাত শুরুর আগে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিল যে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তারা নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আবুধাবি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সরাসরি অভিযানে অংশ নেয়। এই অভিযোগ সত্য হলে তা উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামো এবং আঞ্চলিক কূটনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। ইরানের পাল্টা হামলা ও আঞ্চলিক ঝুঁকি প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইউএইর ভূমিকার প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন শহর, বিমানবন্দর এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। সংবাদমাধ্যমটির দাবি অনুযায়ী, পুরো সংঘাতের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ২ হাজার ৮০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখোমুখি হয়। যদিও এসব সংখ্যার বিষয়ে স্বাধীন আন্তর্জাতিক সূত্রের যাচাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সৌদি-আমিরাত সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন? প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউএইর এই ভূমিকা উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যকার নীতিগত বিভাজনও সামনে নিয়ে এসেছে। গত এপ্রিলের শুরুতে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গোপনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলে দাবি করা হয়েছে। রিয়াদের আশঙ্কা ছিল, আমিরাতের সামরিক পদক্ষেপের কারণে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা পুরো অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি নেতৃত্ব ওয়াশিংটনকে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোতে এবং আবুধাবির ওপর চাপ প্রয়োগ করতে অনুরোধ জানায়। একই সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত সামরিক অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন ইউএইর প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ। অর্থনীতিতে যুদ্ধের প্রভাব ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সংঘাতের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতিও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়া, পর্যটন খাতে রাজস্ব হ্রাস এবং আবাসন বাজারে স্থবিরতার কারণে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক খাতগুলো ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বাধ্যতামূলক ছুটি এবং জনবল ছাঁটাইয়ের পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া এপ্রিলের শেষ নাগাদ দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য হারিয়ে যায় এবং প্রায় ১৮ হাজার ৪০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিবেদন? মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কিন্তু ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশগ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বরং উপসাগরীয় জোটরাজনীতি, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য কৌশল নিয়েও নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এই দাবিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং স্বাধীন যাচাই এখনো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ চাপ ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে একটি ফাঁস হওয়া গোপন নথিকে ঘিরে। মার্কিন অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট নিউজ প্রকাশিত তথাকথিত ‘সাইফার’ নথিতে দাবি করা হয়েছে, ২০২২ সালে ওয়াশিংটন ইসলামাবাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল যাতে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে সরানো হয়। নথিটি প্রকাশের পর পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও জোরালো হয়েছে সেই পুরোনো বিতর্ক— ইমরান খানের পতন কি ছিল কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন, নাকি এর পেছনে সক্রিয় ছিল আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি? কী রয়েছে ফাঁস হওয়া নথিতে প্রকাশিত কূটনৈতিক বার্তা বা “ক্যাবল আই-০৬৭৮” অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৭ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু-এর সঙ্গে বৈঠক করেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান। সেখানে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন প্রশ্নে ইমরান খানের নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে মার্কিন অসন্তোষের কথা উঠে আসে বলে দাবি প্রতিবেদনের। ফাঁস হওয়া নথির ভাষ্য অনুযায়ী, অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে সরানো হলে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন কমে আসবে বলে ইঙ্গিত দেন ডোনাল্ড লু। অন্যদিকে ইমরান খান ক্ষমতায় থাকলে পাকিস্তান আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়। কেন ক্ষুব্ধ ছিল ওয়াশিংটন ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের কারণেই তিনি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েন। বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি একমত না হওয়া এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক অভিযানের জন্য পাকিস্তানের ঘাঁটি ব্যবহারে অস্বীকৃতি জানানো ওয়াশিংটনের অসন্তোষ বাড়ায়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরুর দিনই মস্কো সফরে যান ইমরান খান। যদিও সফরটি বাতিল করতে আগে থেকেই পাকিস্তানকে অনুরোধ জানিয়েছিল ওয়াশিংটন বলে বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়। পরে জাতিসংঘে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আনা একটি প্রস্তাবে ভোটদানে বিরত থাকে পাকিস্তান। এতে দুই দেশের সম্পর্কে আরও উত্তেজনা তৈরি হয়। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর পাকিস্তানে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের মার্কিন আগ্রহও প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ইমরান খান। সে সময় তিনি বলেছিলেন, “অ্যাবসোলিউটলি নট” — পাকিস্তানের মাটি কোনো বিদেশি সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। ইমরানের অভিযোগ কী ছিল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই ইমরান খান দাবি করে আসছেন, তাকে সরাতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিরোধীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তার ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্র ব্যক্তিগতভাবে আমাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চেয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনাস্থা ভোট সফল হলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের “সব ক্ষোভ মিটে যাবে” — এমন বার্তাই দেওয়া হয়েছিল। ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এই ঘটনাকে “বিদেশি ষড়যন্ত্র” হিসেবে তুলে ধরে দীর্ঘদিন ধরে প্রচার চালিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র কী বলেছিল তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেছিলেন, ইমরান খানের অভিযোগের “কোনো সত্যতা নেই”। ওয়াশিংটনের অবস্থান ছিল, পাকিস্তানের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতিই যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন রয়েছে। কীভাবে ক্ষমতাচ্যুত হন ইমরান ২০২২ সালের ৯ এপ্রিল পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারান ইমরান খান। পাকিস্তানের ইতিহাসে তিনিই প্রথম প্রধানমন্ত্রী, যিনি সংসদীয় অনাস্থা ভোটে অপসারিত হন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ফাঁস এবং আদালত অবমাননাসহ একাধিক মামলা হয়। ২০২৩ সালের আগস্টে তাকে এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তারা কারাগারে রয়েছেন। এদিকে ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে পিটিআইয়ের নির্বাচনী প্রতীক বাতিল করা হয়। দলটির সমর্থিত বহু প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করলেও ফলাফল প্রকাশ ও গেজেট নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। নতুন করে কেন গুরুত্বপূর্ণ এই নথি বিশ্লেষকদের মতে, ফাঁস হওয়া নথিটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, সামরিক প্রভাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ— এই তিনটি প্রশ্নকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। যদিও নথিটির সত্যতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক তদন্ত হয়নি, তবুও এটি ইমরান খানের দীর্ঘদিনের অভিযোগকে নতুন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, আফগানিস্তান পরবর্তী মার্কিন কৌশল এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের অবস্থান কতটা স্পর্শকাতর ছিল, সেই বাস্তবতাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধের ইঙ্গিত মিলছে। এখন চূড়ান্ত সমঝোতার দর–কষাকষিতে রয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ইরানের ইউরেনিয়াম। সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান তার সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করবে। তার বিনিময়ে ইরানের জব্দ করা দুই হাজার কোটি ডলার ফেরত দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এমন চুক্তিই হচ্ছে বলে দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও আলোচনার বিষয়ে অবগত আরও দুটি সূত্র জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের দর-কষাকষিতে পৌঁছেছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এবং যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করা বিপুল অঙ্কের অর্থ ফেরত দেওয়া। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করতে পারে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার ফেরত দিতে পারে—যদিও বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার অগ্রগতি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতে এপ্রিলের শুরু থেকে একটি অনানুষ্ঠানিক বিরতি চলছে। এরপর থেকে বিভিন্ন টানাপোড়েন সত্ত্বেও চলতি সপ্তাহে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চূড়ান্ত আলোচনার জন্য খুব শিগগিরই দ্বিতীয় দফার বৈঠক হতে পারে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই বৈঠক পাকিস্তানের ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্ক মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে। ইউরেনিয়াম নিয়ে মূল বিরোধ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত। বিশেষ করে প্রায় ২০০০ কেজি ইউরেনিয়াম, যার মধ্যে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪৫০ কেজি রয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় ওয়াশিংটন। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল ইরান তার সব পারমাণবিক উপাদান যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিক। তবে ইরান এতে সম্মত নয়। বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে এখন আলোচনা চলছে—উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়ামের একটি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো এবং বাকি অংশ আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে ইরানের ভেতরেই কম সমৃদ্ধ করা। অর্থ ফেরত ও শর্ত নিয়ে টানাপোড়েন আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করা ইরানের অর্থ ফেরত দেওয়া। শুরুতে খাদ্য ও ওষুধ কেনার জন্য ৬০০ কোটি ডলার ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হলেও ইরান দাবি করে ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। বর্তমানে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের একটি মধ্যবর্তী অঙ্ক নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, “কোনো অর্থ লেনদেন হবে না”—যা আলোচনার অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। সমঝোতার খসড়া ও সময়সীমা খসড়া সমঝোতা স্মারকে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ২০ বছরের স্থগিতাদেশ চাইলে ইরান ৫ বছরের প্রস্তাব দেয়। এখন এই ব্যবধান কমানোর চেষ্টা চলছে। সম্ভাব্য চুক্তি হলে ৩০ দিনের একটি পর্যবেক্ষণকাল শুরু হবে। এই সময়ে পারমাণবিক কার্যক্রম, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অর্থ ফেরত এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। হুমকি, সতর্কবার্তা ও কূটনৈতিক চাপ চুক্তি না হলে আবার সামরিক অভিযান শুরুর হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, “সমঝোতা না হলে বোমাবর্ষণ আরও তীব্র হবে।” অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরানি এমপি ইব্রাহিম রেজাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ করে যা অর্জন করতে পারেনি, আলোচনার মাধ্যমেও তা পাবে না। এছাড়া পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও গণমাধ্যমের চাপ ব্যবহার করে ইরানের ভেতরে বিভক্তি তৈরির চেষ্টা করছে। বৈশ্বিক বাজারে প্রতিক্রিয়া সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিতে আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০, ডাও ও নাসডাক সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তেলের বাজারে অস্থিরতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি এবং স্থায়ী শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে কিছু মতভেদের কথা স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই মতপার্থক্য বৃহত্তর কৌশলগত ঐক্যের ভেতরেই সীমাবদ্ধ। মঙ্গলবার রাতে ‘আমেরিকান ফ্রেন্ডস অফ লিকুদ’ গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এ মন্তব্য করেন সার। এ তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনোথ। বৈঠকে সার জানান, গত বছরের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে ইরান নতুন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করেনি—যদিও এ বিষয়ে ট্রাম্প ভিন্ন দাবি করে আসছিলেন। ২০২৫ সালের ১৩ জুন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে টানা হামলা চালায়। ওই হামলায় দেশটির কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পারমাণবিক বিজ্ঞানীসহ শতাধিক মানুষ নিহত হন। সার বলেন, ইসরায়েল নতুন যুদ্ধ শুরু করতে চায়নি। তবে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি মাটির গভীরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল, যা ভবিষ্যতে সামরিকভাবে মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে উঠতে পারত। এ কারণেই হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষায়, “আমরা দেখেছিলাম তারা কর্মসূচিটি এমন স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে, যেখানে পৌঁছানো কঠিন। তাই আমাদের সামনে কার্যকর বিকল্প খুব সীমিত ছিল।” তবে এই বক্তব্য ইসরায়েলি ও মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে বলা হয়, ইসরায়েলই যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি হামলার জন্য চাপ দিয়েছিল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। যদিও তেহরান বরাবরই দাবি করে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আবারও ইরানের ওপর যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরে ৮ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, যা পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্প্রসারিত হয়। সার আরও বলেন, ইরানে সরকার পরিবর্তন এই সামরিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক লক্ষ্য ছিল না। তবে ইসরায়েল এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শাসন পরিবর্তনের দিকে যেতে পারে। তিনি স্বীকার করেন, এই ধরনের পরিবর্তন কেবল ইসরায়েলের একার পক্ষে সম্ভব নয় এবং শেষ পর্যন্ত তা নির্ভর করবে ইরানের জনগণের ওপর। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরের কোনো অংশ ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করার সম্ভাবনাও নাকচ করেন সার। তার মতে, এমন পদক্ষেপ ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। সবশেষে, ট্রাম্পের সঙ্গে মতপার্থক্যের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও সার বলেন, “সামগ্রিকভাবে আমাদের লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি অভিন্ন।”
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের বাস্তব চিত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, পেন্টাগন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিচ্ছে না। একটি আন্তর্জাতিক সাময়িকীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রকাশ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। তাদের দাবি, ইরানের সামরিক অবকাঠামোতে বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তবে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ভ্যান্স এসব দাবির সত্যতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, প্রেসিডেন্টের সামনে যে ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে, তা কতটা বাস্তব এবং ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের ঘাটতি বিষয়টি আড়াল করা হচ্ছে কি না। প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার মতে, ভ্যান্স বিশেষ করে গোলাবারুদের মজুদ কমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বিগ্ন। তার আশঙ্কা, এই ঘাটতি ভবিষ্যতে চীন, উত্তর কোরিয়া বা রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও প্রকাশ্যে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রশংসা করেছেন, তবে ভেতরে ভেতরে কৌশলগত পরিকল্পনা ও তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে গভীরভাবে অনুসন্ধান করছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিনি বিষয়টিকে ব্যক্তিগত না করে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, গোয়েন্দা মূল্যায়নে দেখা গেছে, ইরান এখনো তাদের উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছে। দেশটি তাদের বিমানবাহিনীর বড় অংশ, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং নৌ সক্ষমতা বজায় রেখেছে। হরমুজ প্রণালিতে কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা সামুদ্রিক বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলছে। একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু গোলাবারুদের অর্ধেকের বেশি ব্যবহার করে ফেলেছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ পরিচালনায় চাপ তৈরি হতে পারে। উল্লেখ্য, সংঘাত শুরুর আগেই ভ্যান্স এই যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন। তার মতে, এ ধরনের যুদ্ধ ব্যাপক প্রাণহানি ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের উচিত অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংঘাতের ফলাফল ভ্যান্সের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে চলমান উত্তেজনা থেকে একটি ‘সম্মানজনক’ প্রস্থানের পথ খুঁজছে। তেহরানের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ-কে দেওয়া এক বক্তব্যে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ইরানের সামরিক অবস্থান এখন শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী। তার দাবি, “শত্রু যুদ্ধের এক চোরাবালিতে আটকা পড়েছে এবং সেখান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে।” এদিকে মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনার ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও পাকিস্তানে অবস্থান করছেন। তবে তেহরান স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সরাসরি কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের প্রস্তাব ও অবস্থান পাকিস্তানের মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পৌঁছে দেওয়া হবে। দুই সপ্তাহ আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছিল। নতুন করে শুরু হওয়া এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে কি না, তা এখন নজরে রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। তার ভাষায়, “যার সাথেই প্রয়োজন হোক, আমরা কথা বলতে রাজি।” তিনি আরও বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে আহ্বান এলে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সাড়া দেবে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে তাদের কৌশল তুলে ধরেছে। তাদের মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ন্ত্রণ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে এই অবস্থান আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্য তথা মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ব এতদিন সৌদি আরবের হাতে থাকলেও কখনো কখনো সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছিল। তবে সারা বিশ^কে অবাক করে দিয়ে উপসাগরীয় এলাকায় নতুন বস হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে ইরান। পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াই করে প্রাণ হারিয়েছে ইসলামি দেশটির সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ সামরিক-বেসামরিক শীর্ষ নেতারা। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ইরাক, জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা দেখিয়েছে ইরান। জ্বালানির গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালীতে কর্তৃত্ব ধরে রেখে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছে ইসলামিক দেশটি, তেল-গ্যাসের সংকটে ইরানের কাছে নতজানু তাবৎ দুনিয়া। ন্যাটো এবং ইউরোপীয় বন্ধুদেশগুলোর সমর্থন না পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র একা হয়ে পড়েছে রণাঙ্গনে, দখলদার ইসরায়েলের প্ররোচনোয় ইরান আক্রমণ করে মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব হারিয়ে এখন একেকবার একেক কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনা করে পাকিস্তান পক্ষ-প্রতিপক্ষ সব রাষ্ট্রের প্রশংসা কুড়িয়েছে। অন্যদিকে ইরানের ক’টনৈতিক চাপ, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর কঠিন প্রতিরোধ আর যুক্তরাষ্ট্রের চাপে লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য হয়েছে গণহত্যায় অভিযুক্ত ইসরায়েল। আর হরমুজ প্রণালীতে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন নেতৃত্বে এখন ইরান। ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে কারিগরি আলোচনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল সোমবার বা মঙ্গলবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার কারিগরি পর্যায়ের আলোচনায় বসার কথা। সূত্রগুলো বলছে, দুই পক্ষের কারিগরি দল ইসলামাবাদে মিলিত হবে। তাদের লক্ষ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সপ্তাহব্যাপী চলা সংঘাতের একটি স্থায়ী সমাধান চূড়ান্ত করা, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও মধ্যপ্রাচ্যের জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। তারা একবার চুক্তির খসড়া তৈরি করে ফেললে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রপ্রধান চুক্তি সই করতে ইসলামাবাদে উড়ে আসবেন। ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ানের পাশাপাশি আঞ্চলিক আরও কয়েকটি দেশের নেতারাও এই চুক্তি সই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। সূত্রগুলো আরও জানায়, ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফার বৈঠকের পর থেকেই বিবদমান দুই পক্ষ ইসলামাবাদের মাধ্যমে একে অপরের কাছে বার্তা পাঠাচ্ছে। বহুল প্রতীক্ষিত এই আলোচনার পরবর্তী ধাপ শুরু হওয়ার আগেই তারা একটি ‘সর্বোচ্চ বোঝাপড়ায়’ পৌঁছাতে চাইছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী ইরানের হাতে কাগজে-কলমে বিশ্বেরর জ্বালানির ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার হওয়ার তথ্য থাকলেও বাস্তবে এই প্রণালীর গুরুত্ব আরো বেশি। সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, কুয়েত, ইরাক ছাড়াও ইরানের নিত্যপ্রয়োজনীয় আমদানি হয় এই পথ দিয়ে। আবার মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশগুলো থেকে সার রপ্তানি হয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ইরান থেকে অঘোষিতভাবে জ্বালানি এই পথ ধরে যায় চীনসহ অনেক গন্তব্যে। এই হরমুজ প্রণালী কর্তৃত্ব পুরো ইরানের হাতে। ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপের অংশ হিসেবে হরমুজ অবরোধ করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজের আশপাশে ১৫টি যুদ্ধ জাহাজ এবং তিনটি বৃহৎ বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করেছে। তারপরও ইরানের আধিপত্য ভাঙতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। ইরান তার ইচ্ছামতো একবার হরমুজ খুলছে, একবার বন্ধ করছে। ইরানে মার্কিন হামলার শুরু পরেই ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। বিপাকে পড়ে মার্কিন মিত্র সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, কুয়েত ও ইরাক। এসব দেশ থেকে পণ্য আমদানি করতে গিয়ে আটকে পড়ে বহু দেশের জাহাজ ও নাবিকরা। যুদ্ধের সময় এসব নাবিক ইরানের ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারানোর শঙ্কায় ছিল। এইসব গুলো দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটির হাজার হাজার সেনাও মহাবিপদে পড়ে। অনেক হুমকি দিয়েও যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী চালু করতে পারেনি। পরে যুক্তরাষ্ট্রই হরমুজ অবরোধ করে বসে। এর মধ্যেই কিছু জাহাজ এই প্রণালী পার হয়। লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পরপরই হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান। তারপরও মার্কিন অবরোধ বন্ধ না হওয়ায় পরে শনিবার আবার এই প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দেয়। বিভিন্ন দেশের জাহাজ ও সেসবে অবস্থানকারী নাবিকরা আবারো বিপদে পড়লো, মধ্যপ্রাচ্যের ৭টি দেশে অবস্থানকারী ৫০ হাজার মার্কিন সেনাও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সংকটের মধ্যে পড়েছে। এর মধ্যে গত শনিবার হরমুজ প্রণালিতে একটি ট্যাংকারে গানবোট থেকে গুলি ছোড়া হয়। একটি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। দুটি গানবোট থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে, গানবোটগুলো ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে ‘সম্পৃক্ত’। অর্থাৎ হরমুজের পুরো নিয়ন্ত্রণ এখনো ইরানের হাতে। এই শনিবারই ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকায় ক্ষুব্ধ তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘আগের অবস্থায়’ ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। ইরানের এ ঘোষণায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ এক বিবৃতিতে মার্কিন এ অবরোধকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ কারণেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। এখন থেকে এই কৌশলগত নৌপথটি সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের নৌবাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি হলেও হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে ইরান। ছোট নৌযান ও দ্রুতগামী বোট ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনীকে চাপে রাখছে তেহরান। উপকূলের গোপন কোনো স্থান বা এসব নৌকা থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে আইআরজিসি। এগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে প্রধান হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্রণালীর কোথাও কোথাও ইরান মাইন পুঁতে রেখেছে বলে খবর দিচ্ছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো। জাতিসংঘের সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম এজেন্সি জানায়, যুদ্ধ চলাকালীন অন্তত ২০টি জাহাজ আক্রান্ত হয়েছিল। গার্ডস নৌবাহিনী এই হামলাগুলোর দায় খুব কমই স্বীকার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলাগুলো সম্ভবত স্থলভাগ থেকে ভ্রাম্যমাণ লঞ্চার থেকে ছোড়া ড্রোনের মাধ্যমে চালানো হয়েছিল, যা শনাক্ত করা কঠিন। বিশ্লেষকেরা বলেছেন, বোটগুলো প্রায়শই এতটাই ছোট যে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায় না এবং এগুলো পাথুরে উপকূল বরাবর খনন করা গভীর গুহার ভেতরের জেটিতে নোঙর করা থাকে। এগুলো মিনিটের মধ্যে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব। তাদের অস্ত্রশস্ত্র উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য একটি বড় হুমকি। ইরান আক্রমণকারী নৌকার জন্য কমপক্ষে ১০টি অত্যন্ত গোপন ও সুরক্ষিত ঘাঁটি নির্মাণ করেছে। শীর্ষ সব নেতাদের হারানোর পরও আজ ইরান এক আত্মবিশ্বাসী দেশ, সব হারানোর প্রস্তুতি নিয়ে দেশটি মার্কিন আধিপত্য ঠেকাতে বদ্ধপরিকর। দ্বিতীয় দফা বৈঠকে বসতেও ইরান এখনো রাজি হয়নি। বিশ্বের পরাক্রমশালী রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তারা বলছে, শর্তের পর শর্ত দিয়ে কোনো আলোচনা সফল হবে না, শুধুই সময় নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশি কথা বলেন বলে অভিযোগ করে ইরান জানিয়েছে, অন্তত সাত বার তিনি মিথ্যা বলেছেন। সারা বিশে^র নজর এখন পাকিস্তানের দিকে ইরান সভ্যতা ধ্বংসের ঘোষণা দিয়েও ৮ এপ্রিল ইরানের ওপর পূর্বঘোষিত বড় ধরনের ‘বোমাবর্ষণ ও হামলা’ অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করতে রাজি হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের বিশেষ অনুরোধে ইরানের ওপর পূর্বনির্ধারিত ‘বিধ্বংসী হামলা’ দুই সপ্তাহের জন্য তিনি স্থগিতে রাজি হন। ট্রাম্পের এই নাটকীয় ঘোষণার পেছনে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যস্থতা বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পাকিস্তান সরকারের অনুরোধ এবং ইরানের পক্ষ থেকে পাওয়া ১০ দফার একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অবশ্য যুদ্ধবিরতির তিন দিনের মাথায় ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কোনও সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। ২১ ঘণ্টা ধরে চলা প্রথম দফার আলোচনায় কোনো সাফল্য না এলেও দুপক্ষের মধ্যে অনেকটা অস্বস্তি কেটেছে। পাকিস্তান প্রবল প্রচেষ্টা চালানোর কারণেই আবারও নতুন বৈঠক হতে যাচ্ছে ইসলামাবাদে। একদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সফর করেন সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলোতে। আর দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনির ছুটে যান ইরানে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারসহ পাকিস্তানের সামরিক- বেসামরিক প্রশাসনের আপ্রাণ চেষ্টার ফলেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরেকটি বৈঠক হতে যাচ্ছে। প্রথম দফার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারসহ বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা। আলোচনায় ইরানের নেতৃত্ব দেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের প্রধান আলী আকবর আহমাদিয়ান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদুল নাসের হেমমাতিসহ বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা। দ্বিতীয় দফা আলোচনার মধ্য দিয়ে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের ব্যবস্থা করতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ঝটিকা সফরে যান সৌদি আরব, কাতার এবং তুরস্কে। ইরানে গিয়ে আসিম মুনিরও অনেকটা গুছিয়ে এনেছেন দ্বিতীয় দফার আলোচনা। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গত ১১ এপ্রিল শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে আসা ইরানি কূটনীতিক দলকে পাকিস্তানি বিমানবাহিনী নিরাপত্তা পাহারা দিয়ে দেশে পৌঁছে দিয়েছিল। সেদিন ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়া মার্কিন কূটনীতিক দল একটি সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলন শেষে দ্রুত ইসলামাবাদ ছাড়ে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যর্থ আলোচনার পর ইরানের কূটনীতিকদের আশঙ্কা ছিল, দেশে ফেরার পথে ইসরায়েল তাদের হত্যা করার চেষ্টা করতে পারে। এরপর পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর একটি বড় বহর ইরানি কূটনীতিকদের বহন করা উড়োজাহাজটিকে পাহারা দিয়ে দেশে পৌঁছে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র বন্ধুদের না পেলেও ইরানের পাশে ছিলো চীন-রাশিয়া ইরান গোপনে একটি চীনা গোয়েন্দা স্যাটেলাইট সংগ্রহ করেছে। এটি সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে শক্তিশালী সক্ষমতা দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) এক অনুসন্ধানে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। ফাঁস হওয়া ইরানি সামরিক নথির বরাত দিয়ে এফটির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, টিইই-০১বি নামের এই স্যাটেলাইট ২০২৪ সালের শেষের দিকে চীন থেকে মহাকাশে উৎক্ষেপণের পর ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্স এটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। সময়, স্থানাঙ্ক তালিকা, স্যাটেলাইট চিত্র ও কক্ষপথ বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, ইরানি সামরিক কমান্ডাররা পরবর্তী সময়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর নজরদারি করতে এই স্যাটেলাইট কাজে লাগিয়েছিলেন। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে ও পরে ওই সব জায়গার ছবি তোলা হয়েছিল। সিআইএর চীনবিষয়ক সাবেক প্রধান ডেনিস ওয়াইল্ডার বলেন, চীন ঐতিহাসিকভাবেই ইরানকে অস্ত্র ও প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করে আসছে। বর্তমানে মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানকে চীনের দেওয়া অন্যান্য সম্ভাব্য সামরিক সহায়তা, যেমন কাঁধে রেখে চালানো যায়, এমন ক্ষেপণাস্ত্র নিয়েও উদ্বিগ্ন। কাঁধে রেখে চালানো যায়, এমন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সম্প্রতি একটি মার্কিন এফ-১৬ বিমান ভূপাতিত করা হয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে। সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো চীনা কোম্পানি এভাবে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে পারে না। চীন ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য করছে। তবে নিজেদের সম্পৃক্ততা লুকিয়ে রাখতে চাচ্ছে। আবার রাশিয়া নিয়মিতভাবেই ইরানে ড্রোন সরবরাহ করছে বলে খবর রয়েছে, যেমনটা রাশিয়ার ইউক্রেন হামলায় ইরান বিপুল সংখ্যাক শাহেদ ড্রোন পাঠিয়ে গেছে কয়েক বছর। সেই শাহেদ ড্রোনের আরো উন্নত সংস্করণ রাশিয়া এখন ইরানকে দিচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ইউরোপীয় মিত্ররা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, মার্কিন চাপেও যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ইরান যুদ্ধে সামিল হয়নি, যেমনটা তারা যুক্ত হয়েছিল ইরাক ও আফগানিস্তান আক্রমনে। অথচ ইউরোপে মাত্র ছয় সপ্তাহের জেট জ্বালানি মজুত আছে। স্পেন তো সরাসরি ইরানে মার্কিন হামলার বিরোধীতা করেছে। ইতালি ইসরায়েলের সঙ্গে করা সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্থগিত করেছে। যুক্তরাজ্য থেকে ইসরায়েলে অস্ত্র পরিবহন করার সময় একটি ফ্লাইট আটকে দিয়েছে বেলজিয়াম। জাপান, কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া যুদ্ধ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেছে, যারা বহু বছর ধরে মার্কিন সেনা ও অস্ত্রে সুরক্ষিত হয়ে আসছে। যুদ্ধবিরতির জন্য মরিয়া ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে ইরানকে ধ্বংস করার হুমকি দিচ্ছিলেন এবং অন্যদিকে দাবি করছিলেন, তেহরান নিজেই বাঁচার জন্য শান্তিচুক্তি ভিক্ষা চাচ্ছে। কিন্তু পর্দার আড়ালের হোয়াইট হাউসই একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরেই ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের ওপর চাপ দিচ্ছিল, যাতে তারা ইরানকে বুঝিয়ে যুদ্ধ থামানোর ব্যবস্থা করে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়। পাকিস্তান একটি মুসলিম দেশ এবং প্রতিবেশী হওয়ার কারণে ওয়াশিংটন মনে করেছিল, তাদের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠালে ইরান সেটা সহজে মেনে নেবে। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এই গোপন তৎপরতা চালান। যার ফলে ৮ এপ্রিল রাতে দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। আসলে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প বেশ দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এ ছাড়া ইরান যেভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, তা-ও তাঁকে অবাক করে দিয়েছিল। ২১ মার্চ থেকেই ট্রাম্প মনে মনে যুদ্ধবিরতির জন্য মরিয়া ছিলেন। আরো গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে ইসরায়েল লেবাননে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিরা বৈঠক করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি লেখেন, ‘আমি লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে চমৎকার আলোচনা করেছি। তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিকেল ৫টা (ইস্টার্ন টাইম) থেকে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।’ এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ‘স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা’ প্রতিষ্ঠায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রচেষ্টার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান লেবাননের প্রেসিডেন্ট। যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামও; আর ইসরায়েল হামলা বন্ধ করলে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার ঘোষণা দিয়েছেন লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম মুসাবি। লেবাননে নির্বিচার মানুষ হত্যা চালিয়েছে ইসরায়েল। এখন পর্যন্ত লেবাননের দক্ষিণে নির্বিচার বিমান হামলা চালিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে বহু জনপদ, হাজার হাজার ভবন। ইসরায়েল একাধারে জল-স্থল ও আকাশ থেকে আক্রমন চালিয়ে মেরে ফেলেছে দুই হাজারের বেশি মানুষ। তাদের হামলা থেকে রেহাই পায়নি নারী ও শিশুরাও। ইসরায়েলের আক্রমণে প্রাণ গেছে লেবানিজ সেনাসদস্য, এমনকি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদেরও। ইন্দোনেশিয়ার শান্তিরক্ষীরা মারা গেছে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের মধ্যে আর গত শনিবার যুদ্ধবিরতি মাঝে ইসরায়েলের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ফ্রান্সের একজন শান্তিরক্ষী। এই ধ্বংসস্তূপ থেকেই প্রতিরোধ চালাচ্ছে ইরানপন্থি শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। তারা লেবানন দখলকারী সেনাদের ওপর যেমন হামলা চালাচ্ছে, তেমনি রকেট ছুড়ছে ইসরায়েলের ভূখন্ডেও। ট্রাম্প লেবানন যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর লেবানিজরা তাদের বাড়ি-ঘরে ফিরতে শুরু করে সেদিনই। ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকাগুলোতেই তারা ফিরছে, কারণ সেটাই তাদের দেশ, জন্মভূমি। এমনকি লেবাননের সেনাবাহিনীর সতর্ক বার্তাও তাদের থামাতে পারেনি। লেবানন দখলকারী ইসরায়েলকে যেমন গুনায় ধরছে লেবানিজরা, তেমনি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল- লেবানন যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েলকে ডাকা হয়নি। দুটিই ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, যে কারণে দেশের ভেতরেই রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। আঞ্চলিক নেতৃত্বের পরিবর্তন? বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়েকটি প্রবণতা স্পষ্ট: ইরান সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে সীমাবদ্ধতা অনুভব করেছে ইউরোপীয় দেশগুলো নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান নতুন কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরান যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টা আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা ও হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। এর পরপরই মি. ভ্যান্স ও উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তারা নিজের দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন। এটি ছিল একটি সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলন যেখানে অল্প কয়েকজন সাংবাদিকই প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া মি. ভ্যান্সের মূল বক্তব্য নিচে দেওয়া হলো: ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার শান্তি আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ বন্ধে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। ভ্যান্স বলেন, "আমরা ইরানিদের সাথে বেশ কিছু গঠনমূলক আলোচনা করেছি, এটা সুসংবাদ। তবে দুঃসংবাদ হলো যে, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আমি মনে করি এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি খারাপ খবর।" তিনি আরও বলেন, "আমরা এমন কোনো পরিস্থিতিতে পৌঁছাতে পারিনি যেখানে ইরানিরা আমাদের শর্তগুলো মেনে নেবে।" পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মি. ভ্যান্স। তিনি বলেন, আলোচনার ক্ষেত্রে 'যে ঘাটতি-ই' থাকুক না কেন, 'তা পাকিস্তানিদের কারণে হয়নি, তারা অসাধারণ কাজ করেছেন'। ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে মি. ভ্যান্স জবাব দেন যে, ইরানকে বর্তমান এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের "মূল লক্ষ্য"। তিনি আরও জানান যে, মি. ট্রাম্প এ আলোচনার সাথে যুক্ত ছিলেন এবং আলোচনার সময় তিনি প্রেসিডেন্টের সাথে অন্তত 'আধা ডজন' থেকে 'ডজনখানেক'বার কথা বলেছেন। বক্তব্য শেষ করার আগে মি. ভ্যান্স যোগ করেন, "আমরা এখান থেকে একটি অত্যন্ত সহজ প্রস্তাব নিয়ে যাচ্ছি - একটি সমঝোতার পথ যা আমাদের চূড়ান্ত এবং সেরা অফার। এখন দেখা যাক ইরানিরা এটি গ্রহণ করে কি-না।" যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা দুই পক্ষের জন্য 'অপরিহার্য': পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তি আলোচনা শেষ হওয়ার পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে তিনি উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। ইসহাক দার বিবৃতিতে বলেছেন, "(যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান) পক্ষগুলোর জন্য যুদ্ধবিরতির প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা অপরিহার্য।" এক্স-এ প্রকাশিত ওই পোস্টে বলা হয়েছে, "আমরা আশা করি যে, উভয় পক্ষ ওই সমগ্র অঞ্চল এবং এর বাইরেও টেকসই শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবে।" পোস্টটির শেষে পাকিস্তান জানিয়েছে, "সামনের দিনগুলোতে" তারা দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ সহজতর করতে ভূমিকা পালন করে যাবে। ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়া নিয়ে ইরানের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, শান্তি আলোচনায় সব বিষয়ে তাদের মতানৈক্য হয়নি, অনেকগুলো বিষয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একমতও হয়েছিলেন।। 'ইরান নিউজ নেটওয়ার্ক'কে দেয়া সাক্ষাৎকারে মি. বাঘাই বলেছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মোট ২৪ থেকে ২৫টি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। "কিছু ক্ষেত্রে আমরা মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাথে সমঝোতায় পৌঁছেছিলাম, তবে দুই বা তিনটি ক্ষেত্রে মতপার্থক্য ছিল এবং সেখানে আমরা কোনো সমেঝাতায় পৌঁছাতে সক্ষম হইনি।" তবে, ঠিক কোন বিষয়গুলোতে মতানৈক্য হয়েছিল, সেটি স্পষ্ট করে বলেননি তিনি। তিনি কেবল বলেছেন, হরমুজ প্রণালি এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির মতো নতুন বিষয়গুলো যুক্ত হওয়ায় আলোচনা আরও জটিল হয়ে পড়ে। এদিকে, এর আগে আরেক সাক্ষাৎকারে ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যে দ্রুতই একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে, তা কখনোই প্রত্যাশিত ছিল না। ইরানের রাষ্ট্রীয় স্টুডেন্ট নিউজ নেটওয়ার্ককে তিনি বলেন: "শুরু থেকেই আমাদের এটা আশা করা উচিৎ ছিল না যে আমরা একটিমাত্র বৈঠকেই কোন চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব। আমার মনে হয় না কারোই এমন কোনো প্রত্যাশা ছিল।" তিনি বলেছেন, ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা 'চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের' পর এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার দুইদিনের মধ্যেই একটি শান্তি আলোচনা হয়েছে, যা 'অবিশ্বাস, সন্দেহ ও সংশয়ে ভরা' এক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে, শান্তি আলোচনা বা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেল কী-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "কূটনীতি কখনও শেষ হয় না"। মি. বাঘাই এর আগে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত 'অতিরিক্ত দাবি' করা থেকে বিরত থাকা। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দুই বা তিনটি ক্ষেত্রে মতপার্থক্য ছিল: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়া নিয়ে ইরানের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, শান্তি আলোচনায় সব বিষয়ে তাদের মতানৈক্য হয়নি, অনেকগুলো বিষয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একমতও হয়েছিলেন।। 'ইরান নিউজ নেটওয়ার্ক'কে দেয়া সাক্ষাৎকারে মি. বাঘাই বলেছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মোট ২৪ থেকে ২৫টি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। "কিছু ক্ষেত্রে আমরা মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাথে সমঝোতায় পৌঁছেছিলাম, তবে দুই বা তিনটি ক্ষেত্রে মতপার্থক্য ছিল এবং সেখানে আমরা কোনো সমেঝাতায় পৌঁছাতে সক্ষম হইনি।" তবে, ঠিক কোন বিষয়গুলোতে মতানৈক্য হয়েছিল, সেটি স্পষ্ট করে বলেননি তিনি। তিনি কেবল বলেছেন, হরমুজ প্রণালি এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির মতো নতুন বিষয়গুলো যুক্ত হওয়ায় আলোচনা আরও জটিল হয়ে পড়ে। এদিকে, এর আগে আরেক সাক্ষাৎকারে ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যে দ্রুতই একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে, তা কখনোই প্রত্যাশিত ছিল না। ইরানের রাষ্ট্রীয় স্টুডেন্ট নিউজ নেটওয়ার্ককে তিনি বলেন: "শুরু থেকেই আমাদের এটা আশা করা উচিৎ ছিল না যে আমরা একটিমাত্র বৈঠকেই কোন চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব। আমার মনে হয় না কারোই এমন কোনো প্রত্যাশা ছিল।" তিনি বলেছেন, ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা 'চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের' পর এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার দুইদিনের মধ্যেই একটি শান্তি আলোচনা হয়েছে, যা 'অবিশ্বাস, সন্দেহ ও সংশয়ে ভরা' এক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে, শান্তি আলোচনা বা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেল কী-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "কূটনীতি কখনও শেষ হয় না"। মি. বাঘাই এর আগে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত 'অতিরিক্ত দাবি' করা থেকে বিরত থাকা। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র্রের সাথে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর সকালেই ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওয়ানা হন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যঅন্স এবং কর্মকর্তারা। ইসলামাবাদে আলোচনা ব্যর্থ - এখন কী হবে? যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান উভয় পক্ষই এ আলোচনায় অংশ নিয়েছিল যুদ্ধে তারা জয়ী হয়েছে - এমন দাবি নিয়ে, তাই এত অল্প সময়ে কোনো একটি চুক্তিতে পৌঁছানো স্বাভাবিক বিচারেই কঠিন ছিল। আর এখন মনে হচ্ছে এটি আসলে অসম্ভবই ছিল। দেখা যাচ্ছে ব্যর্থতার জন্য উভয় পক্ষই পরস্পরকে দায়ী করে ফিরে যাচ্ছে। গত বুধবার যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তা শুরু হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্টের 'অ্যাপোক্যালিপটিক' বা ধ্বংসাত্মক হুমকির মধ্য দিয়ে, যেখানে তিনি ইরানি সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এখন তাহলে কী হবে? যুদ্ধবিরতি কি বহাল থাকবে? বিবিসি সংবাদদাতা জো ইনউড বলছেন, ইরানের ওপর নতুন করে হামলা শুরু হবে কী-না, তা নিয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে হামলার সম্ভাবনা যে নিশ্চিতভাবেই বেড়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। হরমুজ প্রণালি, যে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ যা ইরান আংশিকভাবে কিন্তু কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল, তা আলোচনার মাধ্যমে পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি আপাতত আলোচনার টেবিলের বাইরে রয়ে গেছে। কিন্তু, পারস্য উপসাগরে কয়েকদিন আগে মোতায়েন করা দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো অন্য কোনো পথের কথা ভাবছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না - এমন বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যর্থ হওয়াটাই ছিল আলোচনা সফল হওয়ার পথে প্রধান বাধা। ইরান সবসময়ই দাবি করে এসেছে যে তারা মারণাস্ত্র উৎপাদন করতে চায় না, কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে দুটি যুদ্ধের অভিজ্ঞতা হওয়ায় তাদের দেশে পারমাণবিক অস্ত্রের সমর্থকদের এখন পারমাণবিক শক্তি অর্জনে আরও উৎসাহিত করবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এ সরাসরি আলোচনা ছিল ঐতিহাসিক, কিন্তু এটি হয়তো কূটনীতির একটি ব্যর্থতা হিসেবেই ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ইসলামাবাদ ছেড়েছেন ইরানের কর্মকর্তারা কিছুক্ষণ আগে ইরানি কর্মকর্তারাও ইসলামাবাদ থেকে তেহরানের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন। ইরানের আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানি প্রতিনিধি দলটি ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলটি জেডি ভ্যান্সের ইসলামাবাদ ত্যাগের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সাথে বৈঠক করে। যুদ্ধবিরতি মেনে চলা এবং শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর আহ্বান অস্ট্রেলিয়ার অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে এবং শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিবিসি অ্যারাবিকের খবর বলছে, মিজ ওং বলেছেন, "যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদ আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়া শেষ হওয়াটা হতাশাজনক।" তিনি বলেন যে, "বর্তমান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা।" মিজ ওং সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে মানবিক ক্ষয়ক্ষতি বাড়বে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় ট্রাম্পের সামনে কঠিন পরিস্থিতি - বিশ্লেষণ মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভেঙ্গে যাওয়াকে সুসংবাদ এবং দুঃসংবাদ উভয়ই বলেছেন। বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লিজ ডুসেটের বলছেন, এই আলোচনা সেশন কতক্ষণ ধরে চলেছে, সেটি তাৎপর্যপূর্ণ এবং আশ্চর্যজনক। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে যে কোনো চুক্তি হয়নি, এটা আশ্চর্যজনক নয়। তিনি বিশ্লেষণ করছেন যে, আমেরিকানরা এই ধারণা নিয়ে পাকিস্তানে এসেছিল যে যুদ্ধে ইরান এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে তাদের সাথে দ্রুত আপোষ করা সম্ভব হবে। জেডি ভ্যান্স বললেন, "তারা (ইরান) আমাদের শর্তগুলো মেনে নিতে রাজি হয়নি।" লিজ ডুসেট মনে করেন, ইরানেরও নিজস্ব সীমা রয়েছে, অর্থাৎ যেসব বিষয়ে তারা ছাড় দিতে পারবে না বা দেবে না। তারা শক্তিশালী অবস্থানে আছে - এমন বিশ্বাস নিয়ে দেশটি ইসলামাবাদে আলোচনায় এসেছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সামরিক সক্ষমতার ব্যাপক ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও, দেশটি এখনও যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম এবং ইচ্ছুক। বিশেষ করে কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণের কারণে ইরানের হাতে এখনও যথেষ্ট দর কষাকষির সুযোগ রয়েছে। এক দশক আগে তেহরান ও ওয়াশিংটন শেষবার যখন একটি পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছেছিল, তখন তাতে ১৮ মাস ধরে নানা অগ্রগতি ও অচলাবস্থার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। লিজ ডুসেটের মতে, ট্রাম্প এখন এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হবেন – হয় পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারেন তিনি, অথবা আলোচনায় ফিরে এসে নতুন করে পরিস্থিতিকে মূল্যায়ন করা। যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রতিনিধিদলের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে: ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও তেহরানের প্রতিনিধিদলের প্রধান মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বলেছেন, এখন যুক্তরাষ্ট্রকেই ঠিক করতে হবে তারা ইরানের আস্থা অর্জন করতে চায় কী-না। এক্স (সাবেক টুইটার) এ দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, আলোচনার আগে তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে ইরানের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা রয়েছে। কিন্তু আগের দুই যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কারণে প্রতিপক্ষের ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই। তিনি বলেন, “ইরানের প্রতিনিধিদল কিছু দুরদর্শী পদক্ষেপ উপস্থাপন করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই দফার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রতিনিধিদলের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে”। তিনি আরও বলেন, “আমরা এক মুহূর্তের জন্যও থামব না, এই ৪০ দিনের যুদ্ধে যা অর্জন করেছি, তা ধরে রাখতে ও শক্ত করতে আমরা কাজ চালিয়ে যাব”। তিনি বলেন, এই আলোচনা আয়োজন কঠিন ছিল। যে কারণে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি ইরানকে ধন্যবাদও জানান। হরমুজ প্রণালি পার হতে হলে টোল দিতে হবে, ইরানি ডেপুটি স্পিকারের ঘোষণা পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধি দলের সাথে কয়েক ঘণ্টার বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স হরমুজ প্রণালির বিষয়টি উল্লেখ করেননি। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় এই বিষয়টিও ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি চলছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা। ইরান পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবায়ি দেশটির মেহর নিউজ এজেন্সিকে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি তেহরানের জন্য একটি রেডলাইন। তিনি বলেন, এই প্রণালি পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে এবং সেখান দিয়ে চলাচলের জন্য ইরানি মুদ্রায় টোল প্রদান করতে হবে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালের এক পোস্টে বলেন, হরমুজ প্রণালি শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড শনিবার জানিয়েছে, দুটি নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং সমুদ্রের মাইন অপসারণে কাজ করছে। তবে, সেন্ট্রাল কমান্ডের এই দাবি অস্বীকার করেছে ইরান। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, কোনো সামরিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় ব্রডকাস্টার আইআরআইবি’র বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে এএফপি।
ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র গোপনে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের এক উপ-প্রতিনিধিকে বহিষ্কার করেছে বলে জানা গেছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ দেখিয়ে গত ডিসেম্বরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওজের বরাতে তুর্কি গণমাধ্যম ইয়েনি শাফাক শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বহিষ্কৃত ওই কূটনীতিক সাদাত আগাজানি, যিনি জাতিসংঘে ইরানের ডেপুটি প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাকে ডিসেম্বরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। ইয়েনি শাফাক জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ‘সেকশন ১৩’ নামে একটি বিশেষ অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া ব্যবহার করে তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। সাধারণত কূটনীতিকদের ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করে বহিষ্কার করা হলেও, এই পদ্ধতিতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয় না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগাজানির সন্তানদেরও ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর আগে একই ধরনের প্রক্রিয়ায় আরও অন্তত দুইজন ইরানি কূটনীতিককে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে নিউইয়র্কে অবস্থানরত ইরানি কূটনীতিকদের চলাচল ম্যানহাটনের কেন্দ্র থেকে ২৫ মাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে অন্তত একজন এই নিয়ম লঙ্ঘন করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘে কর্মরত কিছু ইরানি কর্মকর্তার বিষয়ে একটি ‘নোট ভার্বাল’ জারি করা হয়েছিল। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপটি ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের অনেক আগেই নেওয়া হয়েছিল এবং এর সঙ্গে ওই ঘটনাগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই।
ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে চীন থেকে ইরানে রাসায়নিক বহনকারী একাধিক জাহাজ পৌঁছানোর খবর নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু বাণিজ্যিক লেনদেন নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত ভূরাজনৈতিক পদক্ষেপ হতে পারে। ব্রিটিশ গণমাধ্যমের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে অন্তত চারটি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ দেশটির বিভিন্ন বন্দরে নোঙর করেছে। আরও একটি জাহাজ উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। এসব জাহাজ চীনের ঝুহাইয়ের গাওলান বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এসব জাহাজে বহন করা হয়েছে সোডিয়াম পারক্লোরেট—যা কঠিন জ্বালানিভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাদের মতে, এই পরিমাণ কাঁচামাল দিয়ে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা সম্ভব। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের মধ্যেই ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই ধরনের আমদানি সেই প্রচেষ্টারই ইঙ্গিত বহন করে। অন্যদিকে, মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এখনও অক্ষত রয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হলেও দেশটি পুরোপুরি উৎপাদনক্ষমতা হারায়নি এবং বিকল্প বা বিচ্ছিন্ন ব্যবস্থায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এসব জাহাজ রাষ্ট্রায়ত্ত শিপিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। নজরদারি এড়াতে তারা স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এআইএস) বন্ধ রাখা, ভুয়া গন্তব্য দেখানো এবং জাহাজের নাম পরিবর্তনের মতো কৌশল ব্যবহার করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সরবরাহের সময়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, চলমান সংঘাতে ইরান ব্যাপক হারে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করায় তাদের মজুদ দ্রুত কমে আসছে। একই সঙ্গে অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। নতুন কাঁচামাল সরবরাহ দেশটির আক্রমণাত্মক সক্ষমতা আরও কিছুদিন ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েকটি জাহাজের সক্ষমতা বিবেচনায় ইরান প্রায় ৭৮৫টি অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির মতো কাঁচামাল সংগ্রহ করেছে। এতে দেশটি অন্তত আরও এক মাস প্রতিদিন ১০ থেকে ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। চীনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও বেইজিং সরাসরি সামরিক সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্যিক পণ্যের আড়ালে কৌশলগতভাবে এই ধরনের সরবরাহ অব্যাহত রাখা হচ্ছে। তবে এই কৌশল ঝুঁকিমুক্ত নয়। উপসাগরীয় অঞ্চলে চীনের বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিনিয়োগ রয়েছে, যা চলমান সংঘাতের কারণে হুমকির মুখে পড়তে পারে। ফলে বেইজিংকে এখন সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রেখে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশল পরিচালনা করতে হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে আটকে থাকা বাংলাদেশের ছয়টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পেয়েছে। ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিল এ অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত। বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকায় ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা ছয়টি বাংলাদেশি জাহাজকে ফিরে আসার সুযোগ দিতে প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জাহাজগুলো দেশে ফিরিয়ে আনতে ইরান ও বাংলাদেশ যৌথভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, জাহাজে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান প্রসঙ্গে কিছুটা অসন্তোষের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি যুদ্ধের বিষয়ে আরও স্পষ্ট নিন্দা জানানো উচিত ছিল। রাষ্ট্রদূত বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের ভাইপ্রতিম দেশ। কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই স্বাভাবিক প্রত্যাশা।” মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরানে আগ্রাসন শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রত্যাশা ছিল দ্রুত ফলাফল—প্রথম দিনেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ও শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের হত্যা করা গেলে সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসবে এবং সরকার পতনের পথ সুগম হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই হিসাব মেলেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অব্যাহত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরও ইরানের শাসন ব্যবস্থা দৃঢ়ভাবে টিকে আছে। বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় একপর্যায়ে স্থল হামলার চিন্তা করা হলেও, মার্কিন সেনাদের পক্ষে তা সম্ভব নয়—এমন উপলব্ধি থেকে নতুন কৌশল হিসেবে ইরানের সীমান্তবর্তী ইরাকের কুর্দি যোদ্ধাদের প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবং তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা বারবার দাবি করতে থাকেন যে, কুর্দিরা ইরানে আক্রমণ চালিয়ে শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারে। কিন্তু সেই পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের মুখ দেখছে না। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র—যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যেই এই ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। ফলে আন্তর্জাতিক সমর্থনেও ভাটা পড়েছে। এর মধ্যেই ইরাকের কুর্দি বাহিনী পেশমারগার শীর্ষ কর্মকর্তা সিরওয়ান বারজানি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় অংশ নেবেন না। তিনি বলেন, হামলা শুরুর পর থেকে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চল প্রায় ৪৩০টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। উত্তর ইরাকে আইএসবিরোধী ফ্রন্টলাইনের দায়িত্বে থাকা বারজানি প্রশ্ন তোলেন, “আমরা তো তাদের বিরুদ্ধে কিছুই করিনি। আমরা প্রতিবেশী। আমাদের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে—তাহলে কেন প্রতিদিন আমাদের ঘাঁটিতে হামলা চালানো হচ্ছে?” একই দিনে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পেশমারগা বাহিনীর ৬ সদস্য নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন। এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ হিসেবে আখ্যা দেন বারজানি। বিশ্লেষকরা বলছেন, কুর্দিদের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরিকল্পনায় বড় ধরনের ধাক্কা। এতে করে ইরানের বিরুদ্ধে বহুমুখী চাপ সৃষ্টির যে পরিকল্পনা ছিল, তা এখন অনেকটাই ভেঙে পড়ার মুখে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও যুক্তরাষ্ট্র ক্রমশ একঘরে হয়ে পড়ছে।
পারস্য উপসাগরের কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালী ঘিরে আবারও তীব্র হয়ে উঠছে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা। ইরানের সামরিক বাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সরাসরি সতর্ক করে দিয়েছে—তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যদি ইরানের নিয়ন্ত্রিত দ্বীপগুলোর বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণ চালানো হয়, তাহলে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। এই হুঁশিয়ারি শুধু দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনার ইঙ্গিতই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে, যার প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। কী ঘটেছে? ইরানের সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত আবু মুসা এবং গ্রেটার তুনব দ্বীপের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আগ্রাসন হলে তা সরাসরি যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হবে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী: সংযুক্ত আরব আমিরাত যদি তাদের ভূখণ্ড থেকে এই দ্বীপগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানোর অনুমতি দেয়, তাহলে ইরান পাল্টা হামলা চালাবে। এই হুঁশিয়ারিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে রাস আল খাইমাহ অঞ্চলের কথা, যা আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। বিতর্কিত দ্বীপ: কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? আবু মুসা ও গ্রেটার তুনব—এই দুটি দ্বীপ দীর্ঘদিন ধরেই ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বিরোধের কেন্দ্র। মূল তথ্য: বর্তমানে দ্বীপগুলো ইরানের নিয়ন্ত্রণে আমিরাত এগুলোর মালিকানা দাবি করে অবস্থান: হরমুজ প্রণালীর প্রবেশমুখ এই দ্বীপগুলোর কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ: 👉 বিশ্বের প্রায় ২০% তেল এই পথ দিয়ে পরিবহন হয় 👉 আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট 👉 সামরিক নিয়ন্ত্রণ মানে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার আঞ্চলিক যুদ্ধ: উত্তেজনার পেছনের বড় কারণ এই উত্তেজনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের অংশ। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি হামলার পর থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটেছে বলে দাবি করছে তেহরান। ইরানের অভিযোগ: উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিচ্ছে মার্কিন বাহিনী সেখান থেকে হামলা চালাচ্ছে এসব দেশের ভেতরে “মার্কিন স্বার্থ” লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে ইরান ইতোমধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বলে দাবি করছে। হরমুজ প্রণালী: বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হরমুজ প্রণালী শুধু একটি সামুদ্রিক পথ নয়—এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধমনী। কেন গুরুত্বপূর্ণ? প্রতিদিন কোটি কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার জ্বালানি নির্ভরতা বিকল্প রুট প্রায় নেই বললেই চলে যদি এই রুটে বিঘ্ন ঘটে: তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ধাক্কা লাগতে পারে সরবরাহ চেইনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে তেল বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনা যদি সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়, তাহলে: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়বে জ্বালানি সংকট তৈরি হতে পারে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো, যারা মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল। আমিরাতের অবস্থান: দ্বিধায় কূটনীতি সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন একটি জটিল অবস্থানে রয়েছে। একদিকে: তারা যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র পশ্চিমা নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ অন্যদিকে: ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায় না অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আগ্রহী এই পরিস্থিতিতে আমিরাতের যেকোনো সিদ্ধান্ত পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। সামরিক ভারসাম্য: কার হাতে কত শক্তি? ইরান: শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ড্রোন যুদ্ধ সক্ষমতা আঞ্চলিক মিলিশিয়া নেটওয়ার্ক আমিরাত: আধুনিক পশ্চিমা অস্ত্র উন্নত বিমান বাহিনী আন্তর্জাতিক সামরিক সহযোগিতা তবে সরাসরি সংঘাতে ইরানের ভৌগোলিক সুবিধা বেশি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। বিশ্লেষণ: কেন এখন এই হুঁশিয়ারি? বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই বার্তা তিনটি উদ্দেশ্যে দেওয়া: ভয় প্রদর্শন (Deterrence) আঞ্চলিক দেশগুলোকে সতর্ক করা মার্কিন প্রভাব কমানো এটি মূলত একটি কৌশলগত বার্তা—যুদ্ধের আগেই প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা। সামনে কী হতে পারে? বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়েকটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট: ১. সীমিত সংঘাত ছোট আকারের হামলা ও পাল্টা হামলা ২. কূটনৈতিক সমাধান আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় উত্তেজনা প্রশমিত ৩. বৃহত্তর যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উত্তেজনা কেবল দুই দেশের বিরোধ নয়—এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। একটি ভুল পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে—এই উত্তেজনা কি কূটনীতির মাধ্যমে থামবে, নাকি নতুন এক সংঘাতের সূচনা করবে?
সৌদি আরবের দুটি তেল পরিশোধনাগারে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সউদ। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রিয়াদে বিশ্বের অন্যান্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান। এ সময় তিনি জানান তাদের দুটি তেল পরিশোধনাগারে হামলা চালিয়েছে ইরান। তিনি ইরানের এই হামলাকে ‘ভুল হিসাব’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, ইরানকে নিজেদের হিসাব করতে হবে। কারণ এসব হামলায় তাদের কোনো উপকারই হবে না। ইরানে হামলা চালানোর হুমকি সৌদি আরবের ইরান গত কয়েকদিন ধরে সৌদি আরবে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যে বুধবার দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তেহরান। এমন পরিস্থিতিতে ইরানে সামরিক হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সউদ বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাতে রিয়াদে সাংবাদিকদের বলেছেন, “ইরান তাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে আলোচনাকে বিশ্বাস করে না। এর বদলে তারা প্রতিবেশীদের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছে। কিন্তু এসব চাপ কাজে দেবে না।” “সৌদি আরব চাপের কাছে হার মানবে না। এমনকি এসব চাপ হিতে বিপরীরতও হতে পারে… রাজনৈতিকভাবে, আমি বিশ্বাস করি নৈতিকভাবে এবং নিশ্চিতভাবে আমরা যেটি আগেও বলেছি, সামরিকভাবে। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার আমাদের আছে।” এদিকে রাজধানী রিয়াদে একাধিক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখান থেকে বের হয়েই তিনি এমন হুমকি দিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরেন তারেক রহমান। এর দেড় মাসের মাথায় তাঁকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল দেখাচ্ছে, বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। টাইম সাময়িকী গত জানুয়ারিতে দলটির নেতা তারেক রহমানের মুখোমুখি হয়েছিল। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, প্রথম অগ্রাধিকার নিয়ে। জবাবে তিনি আইনের শাসন নিশ্চিত করার কথা বলেছিলেন। তাঁর কাছে দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হলো অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। তৃতীয়ত, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা। তারেক রহমান বলেছেন, যতই রাজনৈতিক কর্মসূচি কিংবা নীতি নেওয়া হোক না কেন, ঐক্যবদ্ধ হতে না পারলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। আস্থা ফিরিয়ে ঐক্যবদ্ধ করা ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশে অন্তত ১ হাজার ৪০০ লোক প্রাণ হারায়। এর আগে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে বিচারবহির্ভূতভাবে গুমের শিকার হয় সাড়ে তিন হাজার মানুষ। সেই ক্ষতগুলো এখনও বেশ তাজা। শেখ হাসিনার সময় যেসব প্রতিষ্ঠানে রাজনীতিকরণ হয়েছিল সেগুলোর ওপর এখন মানুষের আস্থা ফেরাতে তারেক রহমানকে কাজ করতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে সেনাবাহিনী, আদালত, সিভিল সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এর আগে ক্ষমতায় বসেছিল ২০০১ সালে। এর পরপরই আওয়ামী লীগ ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল। ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের এই দেশে ফিরে আসার পর থেকে তারেক রহমান ঐক্যের বাণী প্রচার করছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিহিংসা কিছুই ফিরিয়ে আনবে না। বরং আমরা যদি এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারি, দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারি, তাহলে হয়তো ভালো কিছু পাব।’ অর্থনীতির মেরামত আওয়ামী লীগের আমলে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল দ্রুত বর্ধনশীল। জিডিপি ২০০৬ সালের ৭১ বিলিয়ন থেকে ২০২২ সালে ৪২০ বিলিয়নে পৌঁছায়। কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বৈষম্য ও বেকারত্বের কারণে দলটির বিরুদ্ধে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় দলটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। কিন্তু শেখ হাসিনার পতনের পরও মানুষের জীবনযাত্রার মানের খুব একটা উন্নতি হয়নি। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও টাকার মান কমে যাওয়ায় সাধারণ পরিবারগুলোর প্রকৃত আয় সংকুচিত হয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। অথচ যুব বেকারত্বের হার বর্তমানে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ায় আমদানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে হয়েছে। এটি জ্বালানি সরবরাহ এবং গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রায় ৪ কোটির বেশি বাংলাদেশি চরম দারিদ্রতার মধ্যে বসবাস করছে। এ অবস্থায় বিএনপি তাদের নির্বাচনী প্রচারে নারীদের ভাতা ও বেকারদের ‘ফ্যামিলি কার্ডের’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু এতে অর্থায়ন কীভাবে হবে তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন আছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল অর্থনীতিতে যুক্ত করতে তারেক রহমান সংযোগ ব্যবস্থা জোরদার করতে চান। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্যোক্তাদের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং খাতের উদারীকরণও তাঁর লক্ষ্য। বর্তমানে বিদেশে প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি কর্মী আছেন। তারা যাতে ভালো বেতনের চাকরি পান সেজন্য দক্ষ করে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও আছে তারেক রহমানের। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের ভাষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে পারি।’ ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের উন্নয়ন করতে দুটি শক্তিধর দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করা জরুরি। একটি প্রতিবেশী দেশ ভারত, অন্যটি বাংলাদেশি পণ্যের অন্যতম শীর্ষ আমদানিকারক যুক্তরাষ্ট্র। শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কে অবনতি ঘটেছে। ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়াটা এই উত্তেজনার সবশেষ উদাহরণ। বাংলাদেশও আইপিএল সম্প্রচার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু এখনও বিএনপির সঙ্গে ভারতের কাজ করার আগ্রহের কিছু ইঙ্গিত আছে। গত ডিসেম্বরে ঢাকা সফরের সময় তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পরাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তবে তিস্তা নদীসহ বেশ কিছু অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে। কারণ, বিএনপি ১৯৯৭ সালের জাতিসংঘ ওয়াটার কনভেনশনে স্বাক্ষরের মাধ্যমে ‘পানির ন্যায্য হিস্যা দাবি’ করে আসছে। তারেক রহমান বলেছেন, ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সঠিক পুনর্গঠনের জন্য আগেকার চুক্তির সংশোধন প্রয়োজন। শেখ হাসিনার সময়ে হওয়া অনেক চুক্তিতে অসামঞ্জস্যতা আছে। আমরা প্রতিবেশী হলেও বাংলাদেশের ও মানুষের স্বার্থ রক্ষা করাটা সবার আগে। এরপর সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ৩৭ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক। আলোচনার মাধ্যমে চলতি মাসে তা ১৯ শতাংশে নামানো হয়েছে। কিন্তু এর বিনিময়ে মার্কিন পণ্যের জন্য বাজার আরও উন্মুক্ত করতে রাজি হয়েছে ঢাকা। এছাড়া, মার্কিন তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি নির্দিষ্ট কিছু পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য এখন শুল্কমুক্তভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। এটি একটি অগ্রগতি, তবে তারেক রহমানের লক্ষ্য হলো দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে শুল্কের ক্ষেত্রে আরও ছাড় পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া। সম্ভবত বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ ও মার্কিন জ্বালানি অবকাঠামো কেনার মাধ্যমে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রসঙ্গে তারেক বলেন, ‘আমরা একে অপরকে সাহায্য করতে পারি।’ ইসলামপন্থীদের উত্থান সামলানো বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে আসন প্রাপ্তির সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির গঠনতন্ত্রে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য থাকলেও কট্টরপন্থী অবস্থান কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছে। এখন তারা সামাজিক কল্যাণ ও নিজেদেরকে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী’ হিসেবে প্রচারের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। কিন্তু সমালোচকরা মনে করেন, ‘স্বভাব কখনও বদলায় না’। নারীদের নিয়ে দলটির আমির শফিকুর রহমানের মন্তব্য মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। জামায়াত এক সময় বিএনপির নির্বাচনী জোট সঙ্গী ছিল। এবার জাতীয়তাবাদী দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, দেশ পরিচালনায় ইসলামপন্থীদের প্রভাব সীমিত থাকবে। কিন্তু ভবিষ্যতের রাজনীতিতে জামায়াত একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবেই থাকবে। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান বলেছেন, ‘বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য সব দলের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।’ তারেক রহমান বলেন, ‘এটি কেবল বিএনপির দায়িত্ব নয়, বরং গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকারে বিশ্বাসী সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব। আমাদের একত্রে কাজ করতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যাতে আমরা ৫ আগস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে না যাই। মানুষ যাতে তাদের রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে পারে সেজন্য আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’ শিক্ষার্থীদের জন্য কী? শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়েছিল চাকরিতে কোটা বৈষম্য ঘিরে। তারা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিল। কিন্তু ছাত্র নেতাদের গঠন করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতের নির্বাচনী জোট সঙ্গী হওয়ায় অনেক নারী ও সংখ্যালঘু সদস্য মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আন্দোলনকারী ছাত্রদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে। বর্তমানে প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী আধিপত্য অনেক তরুণকে হতাশ করেছে। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের সময় সামনের সারিতে থাকা নারীরা সংস্কার প্রক্রিয়ায় ব্যাপকভাবে অবহেলিত হয়েছেন। এনসিপির সাবেক নেত্রী তাসনিম জারা বলছেন, তিনি বিশ্বাস করেন এখনও প্রকৃত রাজনৈতিক বিকল্পের আশা আছে। তবে তা রাতারাতি তৈরি হবে না। এ জন্য কিছু মানুষকে পেশাগত সততা নিয়ে রাজনীতিতে এসে, নীতিতে অবিচল থেকে মানুষের মাঝে ধীরে ধীরে আস্থা তৈরি করতে হবে। এমনকি যদি একটি আসনেও কেউ সফল হয়, সেটিও প্রমাণ করবে, পুরনো রাজনৈতিক নেতৃত্বই একমাত্র ভবিষ্যৎ নয়। নিজের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেছেন, যারা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য সবকিছু বিসর্জন দিয়েছেন, তাদের প্রতি সম্মান জানাতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের প্রতি এক গভীর দায়িত্ব আছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।