Brand logo light

আফগানিস্তান

আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের সন্ধানে বিমান বিধ্বংসী বন্দুকের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজন তালেবান সৈন্য
আফগানিস্তান-পাকিস্তান সংঘর্ষ: যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনা চায় তালেবান, পাকিস্তান ঘোষণা করেছে খোলা যুদ্ধ,২৭৪ জন যোদ্ধা নিহত

আল জাজিরা: কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনা এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষের পর ইসলামাবাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রতিবেশীদের "খোলা যুদ্ধ" ঘোষণা করার পর আফগানিস্তানের তালেবান নেতারা বলেছেন যে তারা আলোচনায় আগ্রহী। শুক্রবার পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং কান্দাহার শহর, যেখানে তালেবান নেতারা অবস্থান করছেন, সেখানে হামলা চালিয়েছে, পাশাপাশি অন্যান্য শহরগুলিতেও, সীমান্তে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। উভয় পক্ষই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ তালেবান সরকারের সাথে "সর্বাত্মক সংঘাত" ঘোষণা করেছেন, X-তে পোস্ট করেছেন: "এখন আমাদের এবং আপনার মধ্যে খোলা যুদ্ধ।" আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন যে তালেবান নেতারা সহিংসতার অবসান ঘটাতে পাকিস্তানের সাথে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। "ইসলামিক আমিরাত অফ আফগানিস্তান সর্বদা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছে, এবং এখন আমরাও আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান করতে চাই," মুজাহিদ বলেছেন। গত সপ্তাহান্তে আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর বৃহস্পতিবার সীমান্তে আফগান প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু হয়, যা পাকিস্তানের দাবির উপর দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা বৃদ্ধি করে যে আফগানিস্তান পাকিস্তানি তালেবান যোদ্ধাদের আশ্রয় দেয়। আফগানিস্তান তা অস্বীকার করে। মুজাহিদ বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে কাবুল, কান্দাহার এবং পাকতিয়ার কিছু অংশে এবং শুক্রবার পাকতিয়া, পাকতিকা, খোস্ত এবং লঘমানে পাকিস্তানি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাদের ভাগাভাগি সীমান্ত বরাবর উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে পাকিস্তানি সামরিক অবস্থান এবং স্থাপনাগুলিতে আফগান ড্রোন হামলা শুরু হয়। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেছেন, পাকিস্তানি বিমান ও স্থল অভিযানে আফগান বাহিনীর কমপক্ষে ২৭৪ জন সদস্য এবং সহযোগী যোদ্ধা নিহত এবং ৪০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে, যেখানে ১২ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছে। অভিযানে একজন পাকিস্তানি সৈন্য নিখোঁজ রয়েছে। মুজাহিদ বিপুল সংখ্যক আফগান সৈন্যের হতাহতের দাবিকে "মিথ্যা" বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন যে ৫৫ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৩ জনের মৃতদেহ আফগানিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন যে "অনেক" পাকিস্তানি সৈন্যকে বন্দী করা হয়েছে। তিনি বলেন, তেরোজন আফগান সৈন্য নিহত হয়েছে এবং আরও ২২ জন আহত হয়েছে, এবং ১৩ জন বেসামরিক নাগরিকও আহত হয়েছে।                                                                                                                 পরবর্তীতে শুক্রবার, আফগান সরকার জানিয়েছে যে দক্ষিণ-পূর্ব আফগানিস্তানের খোস্ত এবং পাকটিকা প্রদেশে পাকিস্তানের হামলায় ১৯ জন বেসামরিক লোক নিহত এবং ২৬ জন আহত হয়েছে।   সম্পর্কের অবনতি ২০২১ সালে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে এটি ছিল আফগানিস্তানের রাজধানীর উপর পাকিস্তানের সবচেয়ে ব্যাপক বোমাবর্ষণ এবং তালেবান কর্তৃপক্ষের দক্ষিণাঞ্চলীয় শক্তি ঘাঁটিতে প্রথম বিমান হামলা। আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের সংঘাতের বিশ্লেষক, সুইডেন-ভিত্তিক আব্দুল সাঈদ বলেছেন যে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ কারণগুলি আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু করার ক্ষমতার উপর একটি উল্লেখযোগ্য বাধা। এই সীমাবদ্ধতা উভয় দেশের জনসংখ্যার, বিশেষ করে ডুরান্ড লাইনের উভয় পাশে বসবাসকারী উপজাতিদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক থেকে উদ্ভূত, ২,৫৭৫ কিলোমিটার (১,৬০০ মাইল) সীমান্ত যা আন্তর্জাতিকভাবে পাকিস্তানের সীমান্ত হিসাবে স্বীকৃত কিন্তু আফগানিস্তান যাকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দেয় না। “ফলস্বরূপ, তার বিশাল সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও, পাকিস্তান আফগানিস্তানের সাথে সশস্ত্র সংঘাতের ফলে যে বৃহৎ পরিসরে রক্তপাত হতে পারে তা সহ্য করতে পারে না,” তিনি বলেন। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে প্রতিবেশীদের মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছে, অক্টোবরে উভয় পক্ষের ৭০ জনেরও বেশি লোক নিহত হওয়ার পর থেকে স্থল সীমান্ত ক্রসিং মূলত বন্ধ হয়ে গেছে। কাতার এবং তুরস্কের মধ্যস্থতায় প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির পর ইসলামাবাদ এবং কাবুলের মধ্যে বেশ কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে, কিন্তু প্রচেষ্টা স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘনের পর, সৌদি আরব এই মাসে হস্তক্ষেপ করে, অক্টোবরে আফগানিস্তান কর্তৃক বন্দী তিন পাকিস্তানি সৈন্যের মুক্তির মধ্যস্থতা করে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন যে তিনি আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের মধ্যে "সহিংসতা বৃদ্ধি এবং বেসামরিক জনগণের উপর এর প্রভাব নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন", তার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছেন। রাশিয়া, ইরান এবং ইরাক এমন দেশগুলির মধ্যে রয়েছে যারা অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
আফগানিস্তান
আফগানিস্তানের ৯৪ চেকপোস্ট ধ্বংস-দখলের দাবি পাকিস্তানের

পাকিস্তান দাবি করেছে যে, তারা আফগানিস্তানের ৯৪টি চেকপোস্ট ধ্বংস এবং দখল করেছে। পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) জানায়, আফগানিস্তানে পাকিস্তান–আফগানিস্তান সীমান্তে ৭৪টি চেকপোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে এবং ১৮টি চেকপোস্ট পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান ইন্টার সার্ভিস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, পাকিস্তান আফগান সীমান্তে বিনা উসকানির আগ্রাসনের জবাবে অভিযান শুরু করে। এতে ২৭৪ জন তালেবান সদস্য ও তাদের সহযোগী নিহত এবং ৪০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। আইএসপিআরের মহাপরিচালক আহমেদ শরিফ চৌধুরি জানান, ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে আফগানিস্তানের ভেতরে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, আফগান তালেবান সরকারের অবৈধ উসকানির কারণে তাদেরকে আক্রমণ করা হয়েছে। পাকিস্তান জানায়, তালেবান যোদ্ধাদের গুলিবর্ষণের জবাবে পাকিস্তান পূর্ণ শক্তিতে পাল্টা আঘাত হানে। এ অভিযান চলাকালে ১১৫টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে এবং আফগানিস্তানের নাঙ্গারহার, লাগমান, পাকতিকা প্রদেশের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এদিকে, পাকিস্তান ঘোষণা করেছে যে আফগানদের বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে সীমান্তে যেকোনো ধরনের উসকানি রুখে দিতে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
আফগান এয়ার ফোর্স
পাকিস্তানের হামলার জবাবে আফগান বিমানবাহিনীর বিমান হামলা

আফগান বিমানবাহিনী পাকিস্তানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে, যা পাকিস্তানের আগের রাতে কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া অঞ্চলে আকাশসীমা লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ছিল। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং জানিয়েছে যে, হামলায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা, ঘাঁটি এবং সেনা কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে। এই হামলা শুরু হয়েছিল বেলা ১১টার দিকে, যখন আফগান বিমানবাহিনী ফাইজাবাদ শহরের কাছে একটি সামরিক শিবির, নওশেরা সেনা ক্যান্টনমেন্ট, জামরুদ সামরিক কলোনি এবং পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে অবস্থিত বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। বিমান হামলার সফলতা আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত কয়েকটি সেনা ঘাঁটি এবং ক্যান্টনমেন্ট। আফগান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাকিস্তান যখন কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া এলাকায় আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল, তখন এ হামলা করা হয়, যা তাদের সামরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ আফগানিস্তানে পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ অভিযানে এই পর্যন্ত ২৭৪ জন তালেবান সদস্য এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য নিহত হয়েছেন। সেইসাথে ৪০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন, জানানো হয়েছে পাকিস্তান আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী। এছাড়া পাকিস্তানের সেনাবাহিনী তালেবানের ৭৩টি সামরিক পোস্ট ধ্বংস করার পাশাপাশি ১৮টি পোস্ট দখল করেছে। পাকিস্তান দাবি করেছে যে, আফগান তালেবানের ১১৫টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান (APC) এবং আর্টিলারি অস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি দুই দেশের সম্পর্কের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে। বিশেষত, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এমন ধরনের আক্রমণ উত্তেজনা বাড়ানোর পাশাপাশি এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই দেশের মধ্যকার এ ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে বৃহত্তর সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে, যার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
ড্রোন হামলা
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার তিন শহরে ড্রোন হামলা আফগানিস্তানের

দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের তিনটি শহরে আফগানিস্তান থেকে ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও পাকিস্তান সরকার দাবি করেছে, সব ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তাতার জানিয়েছেন, আফগানিস্তান থেকে ড্রোন উড়ে আসে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের অ্যাবোটাবাদ, সোয়াবি ও নোসেরা এলাকায়। তবে প্রতিরক্ষা বাহিনীর ড্রোন বিধ্বংসী ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় হয়ে সব ড্রোন ধ্বংস করে দেয়। পাল্টা দাবি আফগানিস্তানের এর আগে আফগান তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করে, তাদের বিমানবাহিনী পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি  সামরিক স্থাপনাসহ একাধিক স্থানে সফল হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ইসলামাবাদের ফয়জাবাদ, নোসেরার একটি সেনা ক্যাম্প, জামরুদের একটি সেনা ঘাঁটি এবং অ্যাবোটাবাদের একটি সামরিক কমপ্লেক্সে আঘাত হানা হয়েছে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের রাজধানী কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাব হিসেবেই এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছে। সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি সেনাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় আফগান বাহিনী। এরপর পাকিস্তান পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করে, যা শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। যদিও উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ বলে দাবি করছে, তবুও সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও সংকটময় করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে বারবার সংঘর্ষ এবং ড্রোন ও বিমান হামলার অভিযোগ দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। এদিকে, আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
পাকিস্তানের ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত: দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান চীন ও রাশিয়ার,মধ্যস্থতার প্রস্তাব ইরানের

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। সীমান্ত পেরিয়ে সহিংসতা বিস্তৃত হওয়ার প্রেক্ষাপটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশ দুটি। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ একাধিক বড় শহরে বিমান হামলা চালানোর পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, পরিস্থিতির অবনতিতে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। তিনি বলেন, “চীন সংঘাতের উত্তেজনা বৃদ্ধিতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছি। যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করে আরও রক্তপাত এড়ানো উচিত।” মাও নিং আরও জানান, চীন নিজস্ব কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার বিরোধ নিরসনে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং উত্তেজনা প্রশমনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত রয়েছে। এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে অবস্থিত চীনা দূতাবাসগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলেও জানান তিনি। রাশিয়ার অবস্থান রাশিয়ার বার্তা সংস্থা আরআইএয়ের খবরে বলা হয়, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে অবিলম্বে সীমান্তবর্তী হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে। মস্কো বলেছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় উভয় পক্ষের সংযম অত্যন্ত জরুরি। ইরানের মধ্যস্থতার প্রস্তাব প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সংঘাত নিরসনে সংলাপ আয়োজনের মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে “ভালো প্রতিবেশীর মতো সম্পর্ক বজায় রাখা এবং সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য সমাধান” করার আহ্বান জানান। এর আগেও সীমান্ত উত্তেজনা বৃদ্ধির সময় একই ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিল তেহরান। আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জাতিসংঘের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক। বার্তা সংস্থা বিবিসির খবরে বলা হয়, গুতেরেস উভয় দেশকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অন্যদিকে, ভলকার তুর্ক সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। সংঘাতের পটভূমি বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সীমান্তে পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে তালেবান বাহিনী হামলা চালায়। জবাবে তালেবানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা চালায়। এ পর্যন্ত উভয়পক্ষের অন্তত ১৮০ জন নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ না নেওয়া হলে এই সংঘাত আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকিতে রূপ নিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব-লিল হক’: তালেবান প্রধান হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিহতের দাবি

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল-এ পাকিস্তানের কথিত ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ অভিযানে তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা থিঙ্কট্যাংক সংস্থা ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্সের (ওসিন্ট) ইউরোপ শাখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানায়। শুক্রবার ভোর ৬টা ৩ মিনিটে প্রকাশিত পোস্টে বলা হয়, পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর হামলায় ইসলামিক এমিরেত অব আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা কয়েকজন শীর্ষ তালেবান কমান্ডারসহ নিহত হয়েছেন। তবে এ দাবির বিষয়ে এখনো পর্যন্ত তালেবান সরকার কিংবা পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্বতন্ত্রভাবে এ তথ্য যাচাইও করা সম্ভব হয়নি। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ত্যাগের পর দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা দখল করে তালেবান। পরবর্তীতে সরকার গঠন করে সংগঠনটির শীর্ষ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হয় তালেবান সরকারের নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। পাকিস্তান-আফগানিস্তান উত্তেজনা পাকিস্তানের অভিযোগ, নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিচ্ছে কাবুলের সরকার। তবে তালেবান প্রশাসন বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তান একাধিকবার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জঙ্গি আস্তানায় হামলার দাবি করেছে। এর প্রেক্ষাপটে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ পরিচালিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আঞ্চলিক প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, যদি হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার নিহত হওয়ার দাবি সত্য হয়, তবে তা আফগানিস্তানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তালেবান নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও নতুন করে অস্থির হয়ে উঠতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহল সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের অপারেশন
ব্রেকিং নিউজ: আফগানিস্তানে পাকিস্তানের অপারেশন: ২২৮ তালেবান যোদ্ধা নিহত, কাবুলসহ তিন শহরে ব্যাপক হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে পাকিস্তান। দেশটির সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে পরিচালিত অভিযানে ২২৮ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং ৩১৪ জন আহত হয়েছেন। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কাবুলসহ তিন শহরে হামলা পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, রাজধানী কাবুল ছাড়াও কান্দাহার ও পাকতিয়া এলাকায় একযোগে বিমান ও স্থল হামলা চালানো হয়। এতে তালেবানদের ৭৪টি ঘাঁটি ধ্বংস এবং ১৮টি ঘাঁটি দখলে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তানি সামরিক সূত্র জানায়, কাবুলে দুটি এবং কান্দাহারে একটি ব্রিগেড সদরদপ্তর ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালানো হয়েছে। ‘গজব লিল হক’ অপারেশন পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, তারা আফগানিস্তানে ‘গজব লিল হক’ নামের সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশারফ জাফরি দাবি করেছেন, এ পর্যন্ত ২৭টি আফগান তালেবান শিবির ধ্বংস করা হয়েছে। ৮০টির বেশি কামান ধ্বংস এবং নয়জন তালেবান সদস্যকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তালেবানের পাল্টা দাবি অন্যদিকে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লা মুজাহিদ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সীমান্ত অঞ্চলে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, রোববারের হামলার জবাব হিসেবেই পাকিস্তান এ আক্রমণ চালিয়েছে। এর আগে তালেবান সরকার দাবি করেছিল, পাকিস্তানের হামলায় তাদের আটজন যোদ্ধা নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। পাকিস্তানেও হতাহত চলমান সংঘাতে পাকিস্তানেও অন্তত ২৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং উভয়পক্ষই একে অপরের ওপর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি করছে। সামগ্রিক হতাহতের চিত্র বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতে উভয়পক্ষে অন্তত ১৮০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে, কারণ দুই পক্ষের দাবির মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
পাকিস্তানে আফগানিস্তানের হামলা
পাক সামরিক স্থাপনায় আফগানিস্তানের পাল্টা হামলা, সীমান্তে উত্তেজনা তীব্র

সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তানের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। তালেবান কর্তৃপক্ষের বরাতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, যা তারা ব্যাখ্যা করেছে পূর্বের পাকিস্তানি বিমান হামলার জবাব হিসেবে। আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কোরের মিডিয়া অফিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান হামলার পরই “তীব্র সংঘর্ষ” শুরু হয়।   🗣️ তালেবানের বক্তব্য তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেছেন: “পাকিস্তানি সামরিক মহলের পুনঃপুন উসকানি এবং সীমান্ত লঙ্ঘনের জবাবে ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন সামরিক অবস্থান ও স্থাপনায় ব্যাপক আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করা হয়েছে।” ডুরান্ড লাইন — প্রায় ২,৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত, যা আফগানিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি।   💥 সংঘর্ষ ও দাবি আফগান সামরিক একটি সূত্র আল জাজিরা‑কে জানিয়েছে: সংঘর্ষে ১০ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে তালেবান বাহিনী ১৩টি পাকিস্তানি চৌকি দখল করেছে   🇵🇰 পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক্সে জানায়: খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বিভিন্ন সেক্টরে তালেবান বাহিনীর গুলির জবাবে পাকিস্তানি বাহিনী তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া দিয়েছে চিত্রাল, খাইবার, মোহমান্ড, কুররাম ও বাজাউর সেক্টরগুলোতে তালেবানকে “শাস্তি” দেওয়া হচ্ছে প্রাথমিক প্রতিবেদনে আফগান পক্ষের ব্যাপক হতাহতের তথ্য এবং একাধিক চৌকি ও সরঞ্জাম ধ্বংসের তথ্য পাওয়া গেছে তবে পাকিস্তানি সরকারের মুখপাত্র খোলাখুলি স্বীকার করেননি যে কোন পোস্ট বা স্থাপনা দখল হয়েছে বা পাকিস্তানি সেনা হতাহত হয়েছে। নিরাপত্তা সূত্র আরও জানায়, “উসকানিমূলক তালেবান আগ্রাসনের জবাবে পাকিস্তান সীমান্ত জুড়ে আফগান বাহিনীর ওপর তীব্র আক্রমণ শুরু করেছে”। কিছু পাকিস্তানি সূত্র দাবি করে, পাল্টা গোলাবর্ষণে লক্ষ্যবস্তু তিনটি স্থান থেকে কয়েকজন আফগান সেনা পালিয়ে গিয়েছে।   🧨 পূর্বের সংঘাত এর আগে রবিবার পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলা চালিয়ে অন্তত ৭০ যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছিল, যা আফগানিস্তান নাকচ করে জানায় ওই সময় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।   📉 বর্তমান সম্পর্ক ও পরিস্থিতি গত মাসগুলোতে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন ব্যাপকভাবে বেড়েছে। গত অক্টোবরে সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে উভয়পক্ষে সাতত্তর (৭০+) জনের বেশি নিহত হওয়ার পর থেকে অধিকাংশ স্থলবন্দর বন্ধ রয়েছে। ইসলামাবাদ এ অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তান তার ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানে হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না, এবং তালেবান সরকার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা : নিহত-৮০, টিটিপির ৭ ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি

আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়ে ৮০ জনের বেশি  হত্যার দাবি করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। দেশটির নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, রোববার রাতভর পরিচালিত এই অভিযানে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসলামাবাদের একাধিক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত আত্মঘাতী বোমা হামলার জবাবে আফগানিস্তানভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে এ অভিযান চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজের  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার ভোরের দিকে  আফগানিস্তানের নানগরহার, পাকতিকা এবং খোস্ত প্রদেশে একাধিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, বিমান হামলায় ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামে অভিহিত গোষ্ঠীর ৮০ জনের বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে স্বাধীনভাবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে এএফপি। টিটিপির ৭ ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি পাকিস্তানের নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গিগোষ্ঠী টিটিপি-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাতটি আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। ধ্বংস হওয়া ঘাঁটিগুলোর মধ্যে রয়েছে— নানগরহারের নিউ সেন্টার নম্বর–১ নানগরহারের নিউ সেন্টার নম্বর–২ খোস্তের মোলভি আব্বাস সেন্টার নানগরহারের ইসলাম সেন্টার নানগরহারের ইব্রাহিম সেন্টার পাকতিকার মোল্লা রাহবার সেন্টার পাকতিকার মুখলিস ইয়ার সেন্টার পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জঙ্গিদের উপস্থিতি ও তৎপরতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ হামলা চালানো হয়েছে। অভিযান-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন ও গোয়েন্দা যাচাই শেষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। এদিকে, আফগানিস্তান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এ ধরনের হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0