ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার পায়রাডাঙ্গা থেকে সিঙ্গা অভিমুখে প্রায় ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কটি অবৈধভাবে মাটি পরিবহনের কারণে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সড়কের বিভিন্ন অংশে কাদা জমে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, পায়রাডাঙ্গা এলাকায় ভেকু (এক্সকেভেটর) দিয়ে মাটি কাটার কারণে সড়কের ওপর কাদার স্তূপ তৈরি হয়েছে। এতে মোটরসাইকেল, ভ্যান ও ছোট যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক স্থানে পথচারীদেরও কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পর গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি নির্মাণ করা হয়। তবে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি অবাধে মাটি কাটায় নতুন নির্মিত সড়কটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। এলাকার বাসিন্দা শরিফুল মন্ডল বলেন, “এত বড় প্রকল্পের রাস্তা অল্প সময়েই নষ্ট হওয়ার পথে। প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন।” স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধভাবে মাটি পরিবহনের সময় কাদা ছড়িয়ে পুরো সড়ক পিচ্ছিল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা। অবৈধ মাটি কাটার বিষয়ে জানতে হরিণাকুণ্ডু সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “আমি সম্প্রতি যোগদান করেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
রাণীনগরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির অভিযোগ, একই ঘর একাধিকবার হাতবদল বরিশাল অফিস : ঢাকা নওগাঁর রাণীনগরে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য নির্মিত সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর অর্থের বিনিময়ে বিক্রি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু ঘর বিক্রিই নয়, একই ঘর একাধিকবার হাতবদল হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এ ছাড়া দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ করা কিছু ঘর দখল করে সেগুলোকে বিলাসবহুল বাসস্থানে রূপান্তরের অভিযোগও রয়েছে। উপজেলার মালিপুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে একাধিক ঘর বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকল্পের ৫ নম্বর ঘরটির মূল বরাদ্দপ্রাপক ছিলেন মল্লিকা নামের এক নারী। বর্তমানে সেখানে বসবাস করছেন প্রবাসী সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা বিবি। ঘরটিতে গিয়ে দেখা যায়, মেঝেজুড়ে দামী কার্পেট, ফ্রিজ ও দেয়ালে ৪৩ ইঞ্চির স্মার্ট টেলিভিশনসহ নানা আসবাবপত্র রয়েছে। ঘরটির অবস্থা দেখে এটিকে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি বলে বোঝার উপায় নেই। মর্জিনা বিবি জানান, তিনি মকবুল নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকায় ঘরটি কিনেছেন। তার দাবি, মকবুল আবার এটি কিনেছিলেন মূল বরাদ্দপ্রাপক মল্লিকার কাছ থেকে। একইভাবে তিনি ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় প্রকল্পের ৬ নম্বর ঘরটিও কিনেছেন। তিনি বলেন, “সরকারি কাগজপত্র এখনো পাইনি। তবে স্ট্যাম্প ও দলিলের মাধ্যমে কেনাবেচা হয়েছে।” প্রকল্প এলাকা ঘুরে আরও দেখা যায়, ৭ নম্বর ঘরটি ৭০ হাজার টাকায় কিনেছেন আমিন, ৯ নম্বর ঘর ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় কিনেছেন আসাদুল এবং ১০ নম্বর ঘর ৮০ হাজার টাকায় কিনেছেন সফেটা নামের এক নারী। এছাড়া ১৪ নম্বর ঘরটি ৭০ হাজার টাকায় কিনেছেন শরিফ নামের এক ব্যক্তি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮, ১৯ ও ২২ নম্বর ঘরসহ আরও কয়েকটি ঘর ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে হাতবদল হয়েছে। এই কেনাবেচায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পের বাসিন্দা হাফিজুলের স্ত্রী নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেন, যাদের ঘর দেওয়া হয়েছিল তারা অনেকেই অন্য এলাকার এবং সেখানে থাকতে আগ্রহী ছিলেন না। নাজমা বেগম বলেন, “তারা থাকতে না চাওয়ায় স্থানীয়দের কাছে ঘর বিক্রিতে আমি সহায়তা করেছি।” স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত ভূমিহীনদের বাদ দিয়ে তুলনামূলক সচ্ছল ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘর বরাদ্দ দেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার নারায়নপাড়ার বাসিন্দা সাইদ ও তার ছেলে বিদেশে অবস্থান করে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হলেও প্রভাব খাটিয়ে ঘর পেয়েছেন। একইভাবে গ্রাম পুলিশ ছাবিনা ইয়াসমিন মীম ও তার বোন বানিছাও আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, মীম তার ঘরটি প্রাচীর দিয়ে ঘিরে আলাদা অবকাঠামো তৈরি করেছেন এবং সেটি ৩ লাখ টাকায় বিক্রির জন্য দরদাম করছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাবিনা ইয়াসমিন মীম। তিনি বলেন, “আমি ঘর বিক্রি করতে চাই না। রাগের মাথায় দাম বলেছিলাম। বরং ঘর বিক্রির তথ্য প্রশাসনকে দিয়েছি।” মালিপুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি ফরিদ আলী বলেন, “৩২টি ঘরের মধ্যে অন্তত ১০ থেকে ১২টি ঘর কেনাবেচা হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।” রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল হাসান বলেন, “ঘর কেনাবেচার অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগে পুকুর ও খাল পুনঃখনন এবং খরা সহিষ্ণু কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর তত্ত্বাবধানে এবং এসকেএস ফাউন্ডেশন-এর বাস্তবায়নে পরিচালিত এই প্রকল্প এখন বিতর্কের মুখে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের বিনোদপুর এলাকায় পাঁচটি খাস পুকুর সংস্কারকে কেন্দ্র করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান একটি পুকুর ভরাটের জন্য ঠিকাদারকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। ঠিকাদার ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার ইউএনও ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর খনন কাজে ব্যবহৃত এক্সকেভেটরের চারটি ব্যাটারি ও টুলবক্স খুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সময় চালকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে ইউএনও কার্যালয়ের পিয়ন রাজন হোসেন-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর পুকুর খননের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রকল্পের প্রেক্ষাপট জানা গেছে, রাজশাহীসহ তিন জেলায় মোট ১৮টি এনজিও এই জলাশয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তানোর উপজেলায় প্রায় ৫২ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় “মেসার্স কুশ এন্টারপ্রাইজ” নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, যার কাজ শুরু হয় ১ এপ্রিল। অভিযোগ রয়েছে, ইউএনও প্রকল্প সমন্বয়কারী আরাফাত রহমান-কে ডেকে উপজেলা পরিষদ চত্বরের একটি পুকুর ভরাটের প্রস্তাব দেন। পরে অফিস সহকারী ইমরান আলী ঠিকাদারদের ডেকে একই বিষয়ে তাগিদ দেন বলেও অভিযোগ। ঠিকাদার দাবি করেন, পুকুরটি ভরাট করতে প্রায় ৫–৬ লাখ টাকা প্রয়োজন, যা প্রকল্পের আওতার বাইরে। পরবর্তীতে এক লাখ টাকা উৎকোচ দাবির অভিযোগও ওঠে, যা তারা প্রত্যাখ্যান করেন। ঠিকাদার পক্ষের বক্তব্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বাপ্পির দাবি, অভিযানের সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন ও গালিগালাজ করা হয় এবং এক্সকেভেটর চালকের মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন রাজন হোসেন। তার দাবি, কোনো ব্যাটারি ভাঙা বা মোবাইল নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি এবং উৎকোচ দাবির অভিযোগ ভিত্তিহীন। অন্যদিকে ইমরান আলী বলেন, তিনি ইউএনওর নির্দেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের ডেকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। ইউএনও নাঈমা খান অভিযোগ নাকচ করে জানান, এটি কোনো সরকারি প্রকল্পের কাজ নয় এবং সংশ্লিষ্ট জলাশয়টি একটি ছোট ডোবা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঠিকাদার পুকুরের মাটি বাইরে বিক্রি করছিলেন—এই অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার অঙ্গীকার করলে জব্দ করা সরঞ্জাম ফেরত দেওয়া হবে। তদন্তের ইঙ্গিত এ বিষয়ে কাজী শহিদুল ইসলাম, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক, বলেন—অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
গৌরনদী: গৌরনদী পৌরসভার হোল্ডিং নম্বর প্লেট স্থাপনের কাজ হঠাৎ করে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা ‘টার্গেট পিপল ফর ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’ (টিপিডিও)-এর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আলীর পক্ষে এ নোটিশ পাঠান বরিশাল জজকোর্ট-এর আইনজীবী আনোয়ার হোসেন মিজান। তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১২ মার্চ গৌরনদী পৌরসভার হোল্ডিং নম্বর প্লেট স্থাপনের জন্য আবেদন করলে টিপিডিওকে কাজটির অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে পৌরসভার অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রম চলমান থাকায় কাজটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১২ মার্চ পুনরায় কাজ শুরু করার আবেদন করলে ১৫ মার্চ পৌর প্রশাসন থেকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটি প্রায় ১০ হাজার প্লেট প্রস্তুত, জনবল নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করে। কিন্তু হঠাৎ করেই একই কাজ অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এতে সংস্থাটির প্রায় ১৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। নোটিশে প্রশাসনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে— পূর্ব অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও কেন কাজটি অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হলো এবং কেন টিপিডিওকে কাজ থেকে বিরত রাখা হলো। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। আইনজীবী আনোয়ার হোসেন মিজান জানান, গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম বলেন, তিনি পৌরসভা থেকে একটি আবেদনপত্র পেয়েছেন, তবে তা যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ পাননি। কেউ অভিযোগ করলে সেটিও বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্টদের তার কার্যালয়ে এসে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে। পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলে কাজ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, যাদের কাজ দেওয়া হয়েছে তারা তার কোনো আত্মীয় নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :নেত্রকোনার মদনের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদ চত্বরের মাটি ভরাটের টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মাটি ভরাটের কাজ করা নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। তবে পিআইও’র দাবি প্রকল্পের টাকার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেনা। তবে ভুক্তভোগী বিভিন্ন মহলের সহযোগিতা নিয়েও কাজের মুজুরীর টাকা পাচ্ছেন না ঘুরছে দ্বারে দ্বারে । অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে মদন উপজেলা পরিষদ চত্বরে মাটি ভরাটের জন্য উপজেলা প্রশাসন কয়েকটি প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়। তখনকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ আলম মিয়া উপজেলা পরিষদের মাটি ভরাটের প্রকল্পের কাজ দেন মাটি ব্যবসায়ী উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের নজরুল ইসলাম কে। মাটি দিয়ে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন জায়গার গর্ত ভরাট করে দেন নজরুল ইসলামকে দিয়ে । মাটি ভরাট করতে খরচ হয় ৩ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে সাবেক ইউএনও শাহ্ আলম মিয়া তাকে কয়েক ধাপে ২লাখ ৩০হাজার টাকা পরিশোধ করেন। বাকি থাকে ১লাখ ৩৯ হাজার টাকা আজ না কাল দিবে দিবে বলে ঘোরাচ্ছেন তাকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। তখনকার সাবেক ইউএনও শাহ্ আলম মিয়া বদলির আদেশ হলে পিআইও হুমায়ুন কবির কে তার অফিসে ডেকে নিয়ে মাটি ভরাটের বাকি ১লাখ ৩৯হাজার টাকা নজরুল ইসলাম কে সময় মতো পরিশোধ করতে নির্দেশ প্রদান করে। কিন্তু কিছু দিন যাবৎ পিআইও তাকে কোনো পাত্তা দিচ্ছে না। টাকা দিতে অনিহা প্রকাশ করলে মাটি ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বাধ্য হয়ে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক বরাবর এক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মদন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে। মাটি কাটার টাকা পরিশোধ না করে আজ না কাল তাল বাহানা করছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তব কর্মকর্তা হুমায়ূন কবীর বলেন, টাকার বিষয়টা আমার পূর্বের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভাল জানেন। টাকার বিষয়ে আমি কিছুই জানি। মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, মদন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঝালকাঠি: ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় প্রশাসনিক স্থবিরতার অবসান হয়েছে। অবশেষে দ্বায়িত্ব হস্তান্তর করলেন ঝালকাঠি সদর উপজেলার ইউএনও এবং নলছিটির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সেগুফতা মেহনাজ। নলছিটি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজ ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্থবির হয়ে পড়া সরকারি সেবাগুলো আবার সচল হতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিয়মিত ইউএনও না থাকায় জন্ম নিবন্ধন সংশোধন, পৌরসভার নাগরিক সনদ প্রদান এবং ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সেবা ব্যাহত হচ্ছিল। এতে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। দায়িত্ব হস্তান্তর জটিলতার কারণে এই অচলাবস্থা তৈরি হলেও, নতুন করে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ফিরতে শুরু করেছে। ভারপ্রাপ্ত ইউএনও হিসেবে রিজভী আহমেদ সবুজ দায়িত্ব নেওয়ায় এসব সেবা এখন আবার উন্মুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমে ইউএনও দপ্তর গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কারী ভূমিকা পালন করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনার নানা কার্যক্রম এই দপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে এই পদটি দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছিল। আরও পড়ুন: নলছিটিতে ইউএনও’র দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে অচলাবস্থা: প্রশাসনিক আদেশ অমান্যের অভিযোগ নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর ঝুলে থাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসনিক এই শূন্যতা পূরণ হওয়ায় নলছিটির সেবাব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, বরিশাল এর ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের ০৫.১০.০০০০.০০০.০০১.০৫.০০০২.২৬.১১৪ নং স্মারক ও ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয় ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের জারি করা০৫.১০,৪২০০,০০০.০০৬.০৫.০০০৪.২৫.১২৮ নম্বর স্মারকে এক অফিস আদেশে নলছিটি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ইউএনও’র দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঝালকাঠি সদর উপজেলার ইউএনও এবং নলছিটির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সেগুফতা মেহনাজকে নির্দেশ দেওয়া হয় নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিতে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে কাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে তিনি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। উপজেলার আঙ্গারিয়া এলাকায় রাঢ়ি বাড়ির সামনে থেকে শুরু হওয়া খালের বিভিন্ন অংশে ফিতা দিয়ে মাপ নেওয়া হয়। এ সময় নির্ধারিত ৩০ ফুট প্রস্থের পরিবর্তে কোথাও কোথাও ২৬ থেকে ২৮ ফুট পাওয়া যায়। পরিদর্শনে রাজাপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্পের ব্যয় ও পরিধি স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলজিইডির আওতায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার খাল পুনঃখননের জন্য বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টাকা। এছাড়া উপজেলায় মোট ১৩টি খাল খনন ও ৩টি বাঁধ নির্মাণে প্রায় ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আলোচিত দুটি খালের ৪ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার খননে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ স্থানীয় কৃষক ও সুবিধাভোগীরা অভিযোগ করেন, প্রকল্পের শিডিউল অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ খনন না করে দায়সারাভাবে কাজ করা হয়েছে। তাদের দাবি, খালের মাঝখান থেকে সামান্য পলি অপসারণ করে নালার মতো আকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা প্রকৃত অর্থে খাল পুনঃখনন নয়। একজন কৃষক বলেন, “নিয়ম মেনে খাল খনন করা হলে হাজারো কৃষক সেচ সুবিধা পেত। কিন্তু বর্তমান কাজের কারণে কোনো উপকারই হবে না।” তাদের অভিযোগ, খনন কাজ শুরুর আগে খালের দুই পাড়ের বহু ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু যথাযথ খনন না হওয়ায় একদিকে গাছ হারিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা, অন্যদিকে সেচ সুবিধা ও মাছ চাষের সম্ভাবনাও নষ্ট হয়েছে। এছাড়া খালের পাড় তির্যকভাবে কাটার কারণে ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া পরিদর্শন শেষে ইউএনও রিফাত আরা মৌরি সাংবাদিকদের বলেন, “অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। যেসব স্থানে প্রস্থ কম মনে হয়েছে, সেখানে মাপ নিয়ে ৩০ ফুট পাওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করা হবে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্ব হস্তান্তর ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক অচলাবস্থা। বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের আদেশ বাস্তবায়ন হয়নি। সাত দিন পেরিয়ে গেলেও দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি। এদিকে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের অফিস আদেশও উপেক্ষিত। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, বরিশাল এর ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের ০৫.১০.০০০০.০০০.০০১.০৫.০০০২.২৬.১১৪ নং স্মারক ও ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয় ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের জারি করা ০৫.১০,৪২০০,০০০.০০৬.০৫.০০০৪.২৫.১২৮ নম্বর স্মারকে এক অফিস আদেশে নলছিটি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ইউএনও’র দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঝালকাঠি সদর উপজেলার ইউএনও এবং নলছিটির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সেগুফতা মেহনাজকে নির্দেশ দেওয়া হয় নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিতে। এই আদেশটি জারি করা হয় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের ১৯ এপ্রিলের নির্দেশনা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নীতিমালার আলোকে। সমস্যা কোথায়? নির্দেশনা পরিষ্কার থাকার পরও ৭ দিন পার হয়ে গেছে, কিন্তু দায়িত্ব হস্তান্তর হয়নি। ফলে: প্রশাসনিক কাজকর্মে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে, জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় কমিশনারের আদেশ কার্যত উপেক্ষিত হচ্ছে। এটা কেন গুরুত্বপূর্ণ? ইউএনও (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) একটি উপজেলার প্রশাসনের প্রধান। দায়িত্ব হস্তান্তর না হলে: উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হতে পারে, সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়, আইন-শৃঙ্খলা ও দৈনন্দিন প্রশাসনেও প্রভাব পড়ে। কী হতে পারে? অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব, ঊর্ধ্বতন নির্দেশনা বাস্তবায়নে অনীহা । আদেশ বাস্তবায়নে বিলম্ব তবে অভিযোগ উঠেছে, নির্দেশনা পাওয়ার পরও সেগুফতা মেহনাজ দায়িত্ব হস্তান্তরে অনীহা দেখাচ্ছেন। ফলে ২৫ এপ্রিল পর্যন্তও আদেশ কার্যকর হয়নি। এ অবস্থায় প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবা কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে, যা নিয়ে বাড়ছে জনদুর্ভোগ। একাধিক সূত্র বলছে, দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়ায় প্রশাসনের ভেতরে “চেইন অব কমান্ড” নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—আদেশ জারির পরও তা বাস্তবায়ন না হওয়া প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য কতটা স্বাভাবিক? মাঠপর্যায়ে প্রভাব নলছিটির বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী ইউএনও না থাকায় তারা নিয়মিত সেবা পাচ্ছেন না। পৌর এলাকার বাসিন্দা আসলাম বলেন, জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে তিনি ইউএনওকে খুঁজে পাননি। “অফিসে গিয়ে শুনি ইউএনও জেলায় আছেন, কবে আসবেন কেউ বলতে পারে না,” বলেন তিনি। তালতলা গ্রামের বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম জানান, জন্মনিবন্ধনের কাজ করতে গিয়ে তিনিও একই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। “ইউএনও না থাকায় কাজ এগোয় না,” বলেন তিনি। একজন সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “স্থায়ী ইউএনও না থাকলে বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।” দীর্ঘদিন ধরে পদ শূন্য নলছিটি উপজেলায় গত কয়েক মাস ধরে ইউএনও পদে স্থায়ী নিয়োগ নেই। এর আগে কয়েকজন কর্মকর্তা স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ ইউএনও প্রশিক্ষণে চলে যাওয়ার পর থেকে পদটি কার্যত শূন্য রয়েছে এবং অতিরিক্ত দায়িত্বের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের অবস্থান ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে আপাতত অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থায়ী ইউএনও নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রশ্ন ও উদ্বেগ তবে মূল প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কেন দায়িত্ব হস্তান্তর বিলম্বিত হচ্ছে? প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি শুধু স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকারিতা নয়, বরং সরকারি নির্দেশনার বাস্তবায়ন ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। নলছিটির মতো একটি উপজেলায় যেখানে ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে, সেখানে প্রশাসনিক নেতৃত্বে অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হলে জনসেবা আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তর ও স্থায়ী ইউএনও নিয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বরিশালের বাকেরগঞ্জে ইউএনওকে ঘিরে ‘পার্সেন্টেজ বাণিজ্য’ অভিযোগ বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় সদ্য বদলি হওয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজকে ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ‘পার্সেন্টেজ বাণিজ্য’-এর অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১৫ মাস দায়িত্ব পালনের সময়কালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, ত্রাণ বরাদ্দ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্টরা। যদিও এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন ওই কর্মকর্তা। অভিযোগের ধরন: বিল পাস থেকে বরাদ্দ—সবখানেই ‘নির্ধারিত হার’? অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই উন্নয়ন প্রকল্পের বিল অনুমোদনে নির্দিষ্ট হারে কমিশন আদায় শুরু হয়। উপজেলা পরিষদের একাধিক সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ১৩ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়েছে। ত্রাণ ও পুনর্বাসন খাতের প্রকল্পে ৫ শতাংশ, বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পে ২ শতাংশ, এলজিইডি প্রকল্পেও ২ শতাংশ হারে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এই অর্থ সরাসরি ইউএনওর নামে তার কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হতো বলে অভিযোগ। একজন ঠিকাদার জানান, “বিল তুলতে গেলে নির্ধারিত পার্সেন্টেজ না দিলে ফাইল এগোতো না।” কাবিখা ও টিআর প্রকল্পেও অভিযোগ কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একজন ইউপি সদস্যের পরিবারের সদস্যের দাবি, ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার প্রকল্পে প্রায় ১৮,৭৫০ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। অন্য ইউনিয়নগুলোর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। ‘অস্তিত্বহীন এতিমখানা’ ও বরাদ্দ প্রশ্নে বিতর্ক ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫টি এতিমখানার নামে ১৫ টন জিআর (গ্র্যাটুইটাস রিলিফ) চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর বাস্তব অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া: সড়ক সংস্কার ও ড্রেন পরিষ্কারের নামে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব দেখানো হলেও কাজের দৃশ্যমান প্রমাণ নেই বলে অভিযোগ পরিত্যক্ত ঘোষিত সরকারি বাসভবনে যাওয়ার রাস্তা মেরামতে ৬ লাখ টাকা ব্যয়ের দাবি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে পৌর প্রশাসক হিসেবেও একই অভিযোগ ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পৌর প্রশাসকের দায়িত্বেও ছিলেন রুমানা আফরোজ। এখানেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পৌরসভার সংশ্লিষ্টদের দাবি: ঠিকাদারি বিল পেতে ৫ শতাংশ ঘুষ জামানতের টাকা ফেরত নিতেও একই হার প্রকৌশল শাখায় কাজ পেতে ২ শতাংশ কমিশন এক বছরে প্রায় ৩০ কোটি টাকার প্রকল্পের মধ্যে অন্তত ৫ কোটি টাকার বিল থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ‘অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প’ ও তড়িঘড়ি দরপত্র বদলির আগে তড়িঘড়ি করে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকার ছয়টি প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে তিনটি প্রকল্পে ৬৩ লাখ টাকার ব্যয় প্রস্তাবকে সংশ্লিষ্টরা “অস্বাভাবিক” ও “অপ্রয়োজনীয়” বলে উল্লেখ করেছেন। চাঁদা আদায়ের অভিযোগ জাতীয় দিবস উদযাপনের নামে ইটভাটা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি: প্রতি ইটভাটা থেকে ৫,০০০–৮,০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো না দিলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানার ভয় দেখানো হতো নামজারি অনুমোদনেও অনিয়ম? অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকাকালে প্রায় ১,০০০ নামজারির বিপরীতে প্রতিটি থেকে ১,০০০ টাকা করে অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে, যা মোট প্রায় ১০ লাখ টাকার সমান। ইউএনওর বক্তব্য: “অপপ্রচার” সব অভিযোগ অস্বীকার করে রুমানা আফরোজ বলেন: “অনেকেই অনৈতিক সুবিধা নিতে চেয়েছেন। তাদের দাবি না মানায় আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। কাজের চাপে কিছু ভুলত্রুটি হতে পারে, কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ সত্য নয়।” প্রশ্নগুলো রয়ে যাচ্ছে এই ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে: প্রকল্প বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তদারকি কতটা কার্যকর? স্থানীয় প্রশাসনে ‘পার্সেন্টেজ সংস্কৃতি’ কতটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে? অভিযোগগুলো তদন্তে কি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া নিশ্চিত হবে? স্থানীয় পর্যায়ে এই বিষয়টি ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নোয়াখালী : নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আগে সোমবার (১৬ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউএনও মো. আলাউদ্দিনকে ঘিরে একটি আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হয়। প্রায় ২৯ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ওই ভিডিওটি দ্রুতই ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগের বিষয়ে মো. আলাউদ্দিন দাবি করেছেন, ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগের কর্মস্থল সুনামগঞ্জের তাহেরপুর এলাকা থেকে পরিকল্পিতভাবে এটি ছড়ানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার খবর পাওয়ার পর সোমবার সকালেই তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করে জেলা সদরের উদ্দেশে রওনা দেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ইউএনও কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি অবগত আছেন। তবে ভিডিওতে থাকা নারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ একে ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে দেখছেন, যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।