ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা ও কৌশল নিয়ে। বিশ্লেষকদের একাংশ এই যুদ্ধকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘স্বেচ্ছায় চাপিয়ে দেওয়া সংঘাত’ হিসেবে দেখছেন, যার আইনি ভিত্তি নিয়ে রয়েছে গুরুতর প্রশ্ন। সমালোচকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের ওপর আসন্ন হামলার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে এই সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে কতটা বৈধ—তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বিবিসির আন্তর্জাতিক সম্পাদক জেরেমি বোয়েন তার বিশ্লেষণে ট্রাম্পের অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য—বিশেষ করে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি—আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধনীতির দৃষ্টিতে অত্যন্ত উদ্বেগজনক, এমনকি তা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে। আন্তর্জাতিক যুদ্ধনীতি অনুযায়ী, যেকোনো সামরিক অভিযানে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং হুমকির মাত্রা অনুযায়ী শক্তি প্রয়োগ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ট্রাম্পের বক্তব্য ও পদক্ষেপে এই নীতিগুলোর প্রতিফলন খুব কমই দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিশ্লেষকরা। তেহরান ও কারাজ সংযোগকারী একটি সেতুতে মার্কিন হামলার ঘটনাটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সামগ্রিকভাবে ট্রাম্পের নীতিতে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ও নিয়ম-নীতির প্রতি অনীহা স্পষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে। অনেকের মতে, তার কৌশল ‘জোর যার মুল্লুক তার’—এই দর্শনের প্রতিফলন। সম্প্রতি দেওয়া ট্রাম্পের ১৯ মিনিটের ভাষণেও তার অবস্থানের দ্রুত পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বোয়েনের ভাষায়, এটি ‘কৌশলগত অনিশ্চয়তা’র একটি উদাহরণ—যেখানে একদিকে তিনি পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন, অন্যদিকে কার্যকর কোনো সমঝোতার দিকেও এগোতে পারছেন না। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, যদি যুক্তরাষ্ট্র স্থলবাহিনী মোতায়েন করে, তবে তা উল্টো ইরানের জন্য কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে। কারণ, ইরান দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে প্রতিপক্ষকে জড়িয়ে ফেলতে আগ্রহী—যেখানে সময়ই হয়ে ওঠে তাদের প্রধান শক্তি। রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতায় দেখা গেছে, তুলনামূলক দুর্বল দেশও ‘অসম যুদ্ধে’ শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে দীর্ঘ সময় ধরে চাপে রাখতে সক্ষম। এ ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী ইরানের হাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকস্মিক ইরানে বিমান হামলা শুরু করে এবং তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অনেক শীর্ষ নেতাকে হত্যা করে। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত আগ্রাসনবাদী বাহিনী এক হাজার ৪০০ জনের মতো ইরানিকে হত্যা করেছে। ওই উসকানিমূলক হামলার জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে ইরান। একইসঙ্গে তারা বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এই হরমুজ প্রণালী ইরানের কব্জায় যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে বেকায়দায় পড়েছে। তাদের ওপর আরব ও ইউরোপীয় অঞ্চলের মিত্রদের চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র বলপ্রয়োগের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী উদ্ধার করতে ইউরোপীয়দের যুদ্ধে ডাকলেও সাড়া পাচ্ছে না। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানির মতো দেশগুলোর নেতারা বলছেন, এই যুদ্ধ তাদের নয়। এমনকি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কম কথা বলারও পরামর্শ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে শুক্রবার ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আরও কিছুটা সময় পেলে আমরা খুব সহজেই হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করতে পারি। (সেখানকার) তেল দখল করে আমরা প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারি। এটি কি বিশ্বের জন্য একটি তেলের খনি হবে না?’
ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে তেহরান। দফায় দফায় ছুড়ছে ক্ষেপণাস্ত্র। এমনকি ক্লাস্টার ওয়ারহেড বা গুচ্ছ বোমাযুক্ত মিসাইল নিক্ষেপ করছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এতে ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বেশ কয়েকটি এলাকার অনেক ভবন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, উত্তর ইসরাইলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে এবং অন্য একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে আঘাত হেনেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর খবরটি সামনে আসে। এদিকে তেল আবিব জেলার গুরুত্বপূর্ণ শহর রামাত গানেও তাণ্ডব চালিয়েছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। এতে ধসে পড়েছে বেশ কয়েকটি ভবন ও স্থাপনা। এর আগে সোমবার (১৬ মার্চ) ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানিকে হত্যা করে ইসরাইল।একই সঙ্গে ইরানের বাসিজ বাহিনীর প্রধানকেও খুন করে অবৈধ ইহুদি ভূখণ্ডটি। পরে ইসরাইলি গণহত্যাকারীরা নিরাপত্তা কাউন্সিলের দ্বিতীয় প্রধানকেও হত্যা করেছে বলে জানায়। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কি আদৌ জীবিত? মৃত নাকি আহত হয়েছেন? নেতানিয়াহু সুরক্ষিত কোনো জায়গায় রয়েছেন? গত কয়েক দিন ধরে নেতানিয়াহুকে নিয়ে এ-হেন বহু জল্পনা ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। কিন্তু এমন জল্পনার কারণ কী? কারণ, গত কয়েক দিন ধরে প্রকাশ্যে আসা একাধিক ভিডিও। নেতানিয়াহুর ওই ভিডিওগুলো পর পর পোস্ট হওয়ার কারণেই সন্দেহ দানা বেঁধেছে মানুষের মনে। দাবি উঠেছে, ওই ভিডিওগুলোতে নেতানিয়াহুকে ‘জোর করে জীবিত দেখানোর’ চেষ্টা চলছে। যদিও কোনো ভিডিওরই সত্যতা যাচাই করা যায়নি। কিন্তু ওই ভিডিওগুলো প্রকাশ্যে আসার পরেই প্রশ্ন উঠেছে, কোথায় ‘বিবি’ (নেতানিয়াহুর ডাকনাম। রাজনৈতিক মহল এবং গণমাধ্যমেও নামটি বহুল স্বীকৃত)? পাশাপাশি জল্পনা ছড়িয়েছে, তিনি আর বেঁচে নেই। কিন্তু সেই খবর যাতে প্রকাশ্যে না আসে, তাই ওই সব ভিডিওর মাধ্যমে তাকে জীবন্ত প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা করছে ইসরায়েল। আমেরিকা-ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রথম থেকেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে ইরান। এর পর পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার পর গত কয়েক দিন ধরে দাবি উঠেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন নেতানিয়াহু। তার মধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে পর পর পোস্ট হওয়া ওই ভিডিওগুলো তার মৃত্যু-জল্পনার পালে হাওয়া দিয়েছে। দাবি উঠেছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ‘জীবিত থাকার প্রমাণ’ হিসাবে একাধিক ভিডিও প্রকাশ্যে এনে তার মৃত্যু সংক্রান্ত দাবিগুলো খণ্ডন করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে ইসরায়েল। তবে সেই ভিডিও ক্লিপগুলো জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটানোর পরিবর্তে নতুন করে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। প্রথমে ১৩ মার্চ, পরে ১৫ মার্চ নেতানিয়াহুর একটি করে ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। ১৫ মার্চের ভিডিয়োতে তাকে একটি কফি কাপ হাতে বক্তৃতা করতে দেখা যায়। সেই ভিডিওতে তার মৃত্যুর খবর গুজব বলেও দাবি করতে দেখা যায় খোদ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে। ১৫ মার্চের সেই ভিডিওতে নেতানিয়াহুকে কফির কাপ হাতে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘কফির জন্য আমি মরতে রাজি। আমি আমার দেশের মানুষকে ভালবাসি।’ এর পর তিনি দুই হাতের আঙুল তুলে ক্যামেরায় দেখাতে শুরু করেন। কারণ ১৩ মার্চ ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিভিন্ন সূত্রে দাবি উঠেছিল যে নেতানিয়াহুর ডান হাতে ছ’টি আঙুল রয়েছে। কিন্তু সেই ভিডিওতে ডান হাতের ছ’টি আঙুল দেখা যায়নি। ভিডিওটি সমাজমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত হতেই সেটি ভুয়ো বলে জল্পনা শুরু হয়। এক এক্স ব্যবহারকারী এক্সের চ্যাটবট গ্রোকের কাছে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেন। সেই প্রশ্নের উত্তরে গ্রোক জানিয়েছে, এটি আসলে কৃত্রিম মেধা দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও। ভিডিওটি ১০০ শতাংশ ডিপফেক। নেতানিয়াহু একটি ক্যাফেতে কফি খাচ্ছেন, বাস্তবে তেমন কিছু ঘটেনি। যেহেতু ভিডিওটি নেতানিয়াহুর নিজস্ব সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত হয়েছিল, গ্রোকের প্রতিক্রিয়া বিতর্ক আরো উস্কে দেয়। এর মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয় যে ৭৬ বছর বয়সি ইহুদি নেতা এখনো তেল আবিবেই আছেন। কিন্তু ভিডিওগুলো প্রকাশ্যে আসার পর নেতানিয়াহুর অবস্থান বা নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করে। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জল্পনা তৈরি হয়। জল্পনা আরো তীব্র হয় ১৬ মার্চ। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত একটি নতুন ভিডিওতে দেখা যায়, জেরুজালেমের রাস্তায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটছেন এবং পথচারীদের সঙ্গে কথা বলছেন নেতানিয়াহু। কিন্তু সেই ভিডিওতেও বিস্তর গোলযোগ খুঁজে পান নেটাগরিকেরা। ভিডিওতে যখনই নেতানিয়াহুর দু’হাত দেখা যাচ্ছিল, তখনই তার হাতে থাকা একটি আংটি বারবার অদৃশ্য এবং দৃশ্যমান হতে দেখা যায়। ফলে সেই ভিডিওটির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। নেতানিয়াহুর বেঁচে থাকাকে কেন্দ্র করে সংশয় আর জল্পনা মিলেমিশে যখন একাকার, ঠিক সেই সময় আবার নেতানিয়াহুর এক্স হ্যান্ডল থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেই ভিডিওতে ইরানবাসীদের উদ্দেশে ‘নওরোজ়’ উৎসবের শুভেচ্ছাবার্তা দিতে দেখা গিয়েছে। নেতানিয়াহু বলছেন, ‘ইরানের নির্ভীক জনগণকে আমার শুভেচ্ছা। প্রতি বছরই এই আলোর উৎসবে যেমন শুভেচ্ছাবার্তা পাঠাই, এ বার তেমন আপনাদের জন্য রইল অনেক শুভেচ্ছা।’ এর কয়েক ঘণ্টা পর এক্স হ্যান্ডল থেকে আরো একটি ভিডিও পোস্ট করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। শুধু তা-ই নয়, মৃত্যু-জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে, আবারও তাকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘আমি বেঁচে আছি।’ কিছুটা রসিকতার সুরেই এ কথাগুলো বলতে শোনা গিয়েছে তাকে। যে ভিডিওটি নেতানিয়াহু প্রকাশ করেছেন, সেখানে তার সঙ্গে দেখা যাচ্ছে আরো এক ব্যক্তিকে। তিনি আর কেউ নন, ইসরায়েলে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। যে ভিডিওটি প্রকাশ্যে এসেছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহু এবং হাকাবি পাশাপাশি হাঁটছেন। খুব হালকা চালে কথা বলছেন তারা দু’জনে। হাকাবিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘মিস্টার প্রাইম মিনিস্টার, আপনি সুরক্ষিত আছেন কি না তা খোঁজ নিতে প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড ট্রাম্প) আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন।’ তার উত্তরে নেতানিয়াহু হাসতে হাসতে বলছেন, ‘অবশ্যই, মাইক। আমি বেঁচে আছি এবং সুস্থ আছি।’ এ কথা শুনে হাকাবি বললেন, ‘আপনি সুরক্ষিত আছেন, এটা দেখে আমি খুবই খুশি। কিন্তু প্রেসিডেন্ট বার বার জানতে চাইছিলেন আপনার বিষয়ে।’ তবে এই ভিডিও ডিপফেক ব্যবহার করে তৈরি কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। দাবি উঠেছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলেই তাকে জীবন্ত প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা চলছে। প্রতি দিন নিত্যনতুন ভিডিও পোস্ট করা হচ্ছে। আর তা করতে গিয়ে ভুয়ো ভিডিও অবধি পোস্ট করে ফেলছে ইসরায়েলি প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা-সমালোচনার ঢেউ উঠেছে সমাজমাধ্যমে। নেতানিয়াহুর বেঁচে থাকা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। নানা মত প্রকাশ করেছেন নেটাগরিকেরা। জল্পনা অবশেষে এই দাবিতে পরিণত হয়েছে যে, নেতানিয়াহু বিমান হামলায় গুরুতর আহত বা নিহত হয়েছেন। তবে শুধু ভিডিও নয়, নেতানিয়াহু যে বেঁচে নেই, তেমনটা জল্পনা ছড়ানোর কারণ রয়েছে আরো। গত সপ্তাহ থেকে টিভিতে সরাসরি কোনো বার্তা দিতে দেখা যায়নি নেতানিয়াহুকে। আবার নেতানিয়াহুর পুত্র ইয়াইর নেতানিয়াহু সর্বক্ষণ সমাজমাধ্যমে সক্রিয় থাকেন। দিনে বহু পোস্ট করেন তিনি। রহস্যজনকভাবে ইয়াইরও একেবারে চুপ। সমাজমাধ্যমে গত ৯ মার্চ থেকে তিনি নিষ্ক্রিয়। আর সেই বিষয়টিও নেতানিয়াহুর মৃত্যু-জল্পনাকে আরো উস্কে দিয়েছে।
বাবার হত্যার পর খামেনির ছেলেকে ইরান নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে মোজতবা খামেনির বিরুদ্ধে এখন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে ৪৭ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ আনা হবে। ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পুত্র মোজতবা খামেনি তেহরানে জেরুজালেম দিবস উপলক্ষে এক বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। [ফাইল: মোর্তেজা নিকোবাজল/নূরফটো গেটি ইমেজেসের মাধ্যমে] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার মাত্র এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পরে ইরান মোজতবা খামেনিকে তার নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা পুরো অঞ্চলকে এক বিস্তৃত যুদ্ধে ডুবিয়ে দিয়েছে। ৫৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে এখন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে ৪৭ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ আনা হবে, রবিবার ধর্মগুরুরা তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে নাম ঘোষণা করেছেন। ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং সশস্ত্র বাহিনী, সকলেই নতুন নেতার প্রতি তাদের সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি, যিনি আমেরিকা ও ইসরায়েলের সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করার পর থেকে ইরানের নিরাপত্তা কৌশল পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন, তিনি নতুন সর্বোচ্চ নেতার চারপাশে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই পছন্দকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে অনুসরণ করা একটি "ধর্মীয় ও জাতীয় কর্তব্য"। মোজতবা খামেনি কখনও পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি বা জনসাধারণের ভোটের শিকার হননি, তবে কয়েক দশক ধরে সর্বোচ্চ নেতার অভ্যন্তরীণ বৃত্তে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, আইআরজিসির সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, খামেনিকে তার বাবার সম্ভাব্য শীর্ষস্থানীয় বিকল্প হিসেবে ক্রমবর্ধমানভাবে প্রচার করা হচ্ছে। তার নির্বাচন ইরানের প্রতিষ্ঠানের আরও কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলির ক্ষমতা ধরে রাখার লক্ষণ হতে পারে এবং এটি ইঙ্গিত দিতে পারে যে যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করায় সরকারের স্বল্পমেয়াদে কোনও চুক্তি বা আলোচনায় সম্মত হওয়ার খুব কম ইচ্ছা রয়েছে। আল জাজিরার আলী হাশেম খামেনিকে তার "পিতার দারোয়ান" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। "তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের ক্ষেত্রে তার পিতার অবস্থান গ্রহণ করেন। তাই আমরা একজন সংঘাতমূলক নেতার প্রত্যাশা করছি। আমরা কোনও মধ্যপন্থা আশা করছি না," তিনি বলেন। "তবে, যদি এই যুদ্ধ শেষ হয় এবং তিনি এখনও বেঁচে থাকেন এবং তিনি দেশ পরিচালনা চালিয়ে যেতে সক্ষম হন, তাহলে ইরানের জন্য নতুন পথ খুঁজে বের করার বিশাল সম্ভাবনা থাকবে," হাশেম বলেন। আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ বৈরুতের একজন বিশিষ্ট পাবলিক পলিসি ফেলো রামি খুরি বলেন, খামেনির নিয়োগ "ধারাবাহিকতার" ইঙ্গিত দেয় এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতা যুদ্ধের অবসানের জন্য আলোচনার জন্য চাপ দেবেন কিনা তা দেখার বিষয়। আপনার আগ্রহের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক সতর্কতা এবং আপডেট পান। বড় খবর ঘটলে প্রথমেই জানুন। তিনি বলেন, তার নিয়োগ ছিল "অবাধ্যতার একটি কাজ"। তিনি আরও বলেন, ইরান "আমেরিকান এবং ইসরায়েলিদের বলছিল 'আপনি আমাদের ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চান? আচ্ছা ... এটি তার বাবার চেয়েও বেশি উগ্র ব্যক্তি যিনি নিহত হয়েছেন'।" দেশের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য হায়দারি আলেকাসির বলেন, প্রার্থীকে প্রয়াত খামেনির পরামর্শের ভিত্তিতে নির্বাচিত করা হয়েছে যে ইরানের শীর্ষ নেতাকে "শত্রুদের দ্বারা ঘৃণা করা উচিত" বরং তাদের দ্বারা প্রশংসা করা উচিত। “এমনকি মহান শয়তান (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)ও তার নাম উল্লেখ করেছে,” এই জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা বলেন। ট্রাম্পের পূর্বের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, মোজতবা খামেনি তার জন্য "অগ্রহণযোগ্য" পছন্দ হবেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পূর্বে যেকোনো উত্তরসূরীকে সতর্ক করে দিয়েছিল যে "আমরা আপনাকে লক্ষ্যবস্তু করতে দ্বিধা করব না"। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে কাকে নির্বাচিত করা হবে তার উপর প্রভাব বিস্তারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বলেছিলেন যে, ওয়াশিংটনের অনুমোদন ছাড়া, যাকে এই ভূমিকার জন্য নির্বাচিত করা হবে তিনি "দীর্ঘদিন টিকবেন না"। খামেনির ছেলের নির্বাচন নিশ্চিতভাবেই ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করবে। সর্বোচ্চ নেতা ‘এপস্টাইনের দল’ দ্বারা নির্ধারিত হয়নি ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ রবিবার বলেছে যে "অপরাধী আমেরিকা এবং দুষ্ট ইহুদিবাদী শাসনের নৃশংস আগ্রাসন" সত্ত্বেও, তারা নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করতে "এক মিনিটের জন্যও দ্বিধা করেনি"। এর আগে, ধর্মীয় সংস্থাটি ইঙ্গিত দিয়েছিল যে তারা তাদের পছন্দের বিষয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ ঐক্যমতে পৌঁছেছে, নাম উল্লেখ না করেই, একজন সদস্য বলেছিলেন, "ইমাম খোমেনির পথ এবং শহীদ ইমাম খামেনির পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। খামেনির নাম অব্যাহত থাকবে।" খামেনি শিয়া ধর্মতাত্ত্বিক শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র কোমের মাদ্রাসাগুলিতে রক্ষণশীল ধর্মীয় নেতাদের অধীনে পড়াশোনা করেছেন এবং হোজ্জাতোলেসলামের ধর্মীয় পদমর্যাদা ধারণ করেছেন। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির স্থলাভিষিক্ত হয়ে ৩৭ বছর ধরে ইরান শাসনকারী আলী খামেনি ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন। যুদ্ধের শুরুতেই মধ্যপ্রাচ্যে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই খামেনির যেকোনো বিকল্পকে হত্যার হুমকি দিয়েছে, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি মনোনয়নের বিষয়ে মতামত দাবি করেছিলেন, বলেছেন যে ইরানের সামরিক বাহিনী এবং শাসকদের নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হলেই যুদ্ধ শেষ হতে পারে। ট্রাম্প রবিবার বলেছেন যে ইরানের পরবর্তী নেতা তার অনুমোদন ছাড়া "দীর্ঘদিন" টিকবেন না। "তাকে আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে," ট্রাম্প এবিসি নিউজকে বলেন। "যদি তিনি আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন না পান তবে তিনি বেশিদিন টিকবেন না।" ইরানি কর্মকর্তারা দেশের পরবর্তী নেতা নির্বাচনের সাথে জড়িত থাকার জন্য ট্রাম্পের চাপ প্রত্যাখ্যান করেছেন, জোর দিয়ে বলেছেন যে কেবল ইরানিরাই তাদের দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবিকে উপহাস করেছেন যে তিনি খামেনির উত্তরসূরি নিয়োগে তাদের বক্তব্য রাখতে চান। “প্রিয় ইরানের ভাগ্য, যা জীবনের চেয়েও মূল্যবান, তা কেবল গর্বিত ইরানি জাতির দ্বারা নির্ধারিত হবে, [জেফ্রি] এপস্টাইনের দল দ্বারা নয়,” গালিবাফ X-এ লিখেছেন, প্রয়াত যৌন অপরাধীর কথা উল্লেখ করে যার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধনী ও ক্ষমতাশালী ব্যক্তিত্বদের সম্পর্ক ছিল। অন্ধকার আকাশ ধর্মগুরুরা নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করার সাথে সাথে, তেহরানের উপর একটি অন্ধকার কুয়াশা ছড়িয়ে পড়ে যখন ইসরায়েল রাতারাতি রাজধানী শহর এবং তার আশেপাশের পাঁচটি তেল স্থাপনায় হামলা চালায়, সেগুলিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং আকাশ তীব্র ধোঁয়ায় ভরে যায়। যুদ্ধ যখন নবম দিনে পৌঁছে, তখন আইআরজিসি বলে যে তাদের কাছে মধ্যপ্রাচ্যে ছয় মাস পর্যন্ত তাদের ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। গার্ডের মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেছেন যে ইরান এখনও পর্যন্ত কেবল প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, তবে আগামী দিনে "উন্নত এবং কম ব্যবহৃত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র" ব্যবহার করবে। ট্রাম্প আবারও ইরানে আমেরিকান স্থল সেনা পাঠানোর বিষয়টি উড়িয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, তবে জোর দিয়ে বলেছেন যে চলমান ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা সত্ত্বেও যুদ্ধ প্রায় জয়ী হয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন যে এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে চলতে পারে এমন একটি সংঘাতের অবসানের কোনও স্পষ্ট পথ এখনও নেই। মোজতবা খামেনি প্রভাবশালী মোজতবা খামেনি কখনও জনসম্মুখে কোনো নির্বাচনে অংশ নেননি। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি তার বাবার ঘনিষ্ঠ বৃত্তে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। বিশ্লেষকদের মতে, আইআরজিসির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল গোষ্ঠীর সমর্থনের কারণেই তাকে উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাকে আলী খামেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কঠোর বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পরবর্তী নেতা যদি ওয়াশিংটনের অনুমোদন না পান, তাহলে তিনি “দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না”। এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও সতর্ক করে দিয়েছে যে ইরানের নতুন যেকোনো নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করতে তারা দ্বিধা করবে না। তবে ইরানের নেতারা এই মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে কেবল ইরানের জনগণ। চলমান যুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে যুদ্ধ ইতোমধ্যে নবম দিনে পৌঁছেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের কাছে অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো অস্ত্র রয়েছে। গার্ডের মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেছেন, এখন পর্যন্ত তারা মূলত প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হতে পারে। বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসার ফলে ইরানের নীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। তবে যদি চলমান যুদ্ধ শেষ হয় এবং নতুন নেতা স্থিতিশীলভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারেন, তাহলে ইরানের জন্য নতুন রাজনৈতিক পথ খুঁজে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পর তার স্ত্রীও নিহত হয়েছেন। এদিকে ইউরোপে গ্যাসের দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশেরও বেশি।হেজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে লেবানন সরকার। ব্রেকিং নিউজ জানতে চোখ রাখুন ইত্তেহাদ নিউজে............................... যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ: ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় যুক্তরাজ্য যোগ দেবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বেইত শেমেশ এলাকা পরিদর্শন করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি নিয়ে সমালোচনার মুখে সোমবার নতুন করে বিবৃতি দিয়েছে সরকার। এতে বলা হয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হামলা চালিয়ে হত্যার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো নেগোশিয়েশন বা সমঝোতা করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী লারিজানি। যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে অবস্থানরত তাদের দেশের নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত চারজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সেন্ট্রাল কমান্ড। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার স্ত্রীও নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোববার বৈরুতে চালানো হামলায় হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা প্রধান নিহত হয়েছেন। ইরানের পাল্টা হামলার পর কাতারের জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে ইউরোপে গ্যাসের দাম ৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। লেবাননের রাজধানী বৈরুত ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় ৩১ জন নিহত হয়েছে। আরো ১৪৯জন আহত হয়েছেন। লেবানন সরকার দেশটিতে হেজবুল্লাহর সশস্ত্র কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই সিদ্ধান্তের ফলে হেজবুল্লাহ ও সরকারের সমান্তরাল ক্ষমতার বিষয়টি এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লো। জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের কোনো পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন কোন কিছুর লক্ষণ তারা টের পান নি। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ জানিয়েছে, তারা ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের ইসরায়েলবিষয়ক উপমন্ত্রী সাইয়েদ ইয়াহিয়া হামিদিকে হত্যা করেছে। ইরানে গত শনিবার ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের প্রতিরোধে সোমবার সকালে অন্তত তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ভোর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত, কাতার, দুবাইয়ে ব্যাপক বিষ্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেই লেবাননে হেজবুল্লাহবিরোধী অভিযান ইসরায়েলের ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই লেবাননে হেজবুল্লাহ’র বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। বৈরুত ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ইতোমধ্যে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এসব হামলায় আরো ১৪৯ জন মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানান লেবাননের কর্মকর্তারা। এদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৈরুতে তাদের চালানো হামলায় হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা প্রধান হুসেইন মাকলেদ নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্টজ সোমবার বলেছেন, হেজবু্ল্লাহ সেক্রেটারি জেনারেল নাঈম কাশেম এখন স্পষ্টভাবে তাদের হত্যার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমি এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।” এমন অবস্থায় সোমবার হেজবুল্লাহর সশস্ত্র কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে লেবানন সরকার। তবে গোষ্ঠীটি তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে পারবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়ের হামলার জবাবে সোমবার তৃতীয় দিনের মতো পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে ‘সতর্কতামূলক নির্দেশনা পাঠিয়েছে। উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের কাছে অবস্থিত এরবিল বিমানবন্দরের আকাশ থেকে তিনটি সশস্ত্র ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য প্রকাশ করেছে। বিমানবন্দরটিতে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছে। মূলত ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন স্থাপনা রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করেই হামলা চালাচ্ছে ইরান। এর মধ্যে সোমবার কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সকালে সেদেশে একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানের ক্রুরা "অক্ষত অবস্থায় বেঁচে গেছেন" এবং তাদের উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় যোগ দেবে না যুক্তরাজ্য: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় যুক্তরাজ্য যোগ দেবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যেসব জায়গায় সংরক্ষিত রয়েছে বা উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে, শুধুমাত্র সেগুলোকে উৎসমূলেই থামানোর জন্যই যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইরান যেন অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বেসামরিক মানুষকে হত্যা করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই তিনি এই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অনুরোধে সম্মতি দিয়েছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, “যুক্তরাজ্য ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের’ সাথে হামলায় অংশ নেবে না। তিনি আরও জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ সক্ষমতা রোধ করতেই যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে ফ্রান্স- জার্মানিও প্রস্তত রয়েছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন নেতানিয়াহু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বেইত শেমেশ এলাকা পরিদর্শন করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। পরিদর্শনে গিয়ে এসময় তিনি সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে কথাও বলেছেন। তিনি যে এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছেন, ওই এলাকায় আগের দিন রোববার ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণে কমপক্ষে নয়জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়েছেন। ওই এলাকাটি ছিল একটি আবাসিক এলাকা এবং আশপাশের কাঠামোগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। তবে তিনি ঠিক কী বলেছেন তার বিস্তারিত এখনো জানা যায় নি। নিজ দেশের নাগরিকদের দ্রুত লেবানন ছাড়ার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে অবস্থানরত তাদের দেশের নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বৈরুতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের এক্স পোস্টে লিখেছে, “আমরা মার্কিন নাগরিকদের লেবাননে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানাচ্ছি। কেউ যদি বর্তমানে দেশটিতে অবস্থান করে থাকেন, তাহলে ফ্লাইট চালু থাকা অবস্থায় এখনই লেবানন ত্যাগ করুন।” তারা আরও বলেছে, “লেবাননের নিরাপত্তা দ্রুতই অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে। দেশজুড়ে, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চল, বেকা উপত্যকা এবং বৈরুতের কিছু অংশে বিমান হামলা শুরু হয়েছে। লেবাননের রাজধানী বৈরুত থেকে বিবিসির সংবাদদাতার জানিয়েছেন, ইরান-সমর্থিত সংগঠন হেজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দাহিয়েহ এলাকায় একটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরান অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের চারজন সেনা নিহত ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত চারজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সেন্ট্রাল কমান্ড। এর আগে তিনজন নিহত খবর জানিয়েছিল দেশটি। গুরুত্বর আহত একজন সেনা সদস্যের সোমবার মৃত্যু হয়েছে বলে সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়। এদিকে, চারজন সেনার মৃত্যুতে শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেন, “এই সেনারা ছিল আমাদের জাতির সেরা সন্তান”। ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন খামেনির স্ত্রীও: ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পরদিন তার স্ত্রীও নিহত হয়েছেন। সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে শনিবারে ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওই হামলায় খামেনির মেয়ে, নাতি ও জামাই নিহত হওয়ার খবর দেয় ইরানের সংবাদ মাধ্যমগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন "ইতিহাসের অন্যতম খারাপ মানুষ খামেনি মারা গেছেন”। এদিকে, রাশিয়া ও চীন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছিল। বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় হেজবুল্লাহর গোয়েন্দা প্রধান নিহত: আইডিএফ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোববার বৈরুতে চালানো হামলায় হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা প্রধান নিহত হয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, রোববার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামলায় হেজবুল্লাহর গোয়েন্দা সদরদপ্তরের প্রধান হুসেইন মাকলেদকে হত্যা করা হয়েছে। কাতারের জ্বালানি উৎপাদন বন্ধের পর ইউরোপে গ্যাসের দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশেরও বেশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর, পাল্টা জবাব দিতে দিচ্ছে ইরান। গত কয়েকদিনে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরবে। এমন অবস্থার মধ্যে কাতারের জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে ইউরোপে গ্যাসের দাম ৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। হেজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করল লেবানন সরকার লেবানন সরকার দেশটিতে হেজবুল্লাহর সশস্ত্র কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই সিদ্ধান্তের ফলে হেজবুল্লাহ ও সরকারের সমান্তরাল ক্ষমতার বিষয়টি এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লো। তবে হেজবুল্লাহ রাজনৈতিক দল হিসেবে কার্যক্রম চালাতে পারবে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মধ্যে হেজবুল্লাহ সোমবার ইসরায়েলের দিকে রকেট হামলার পরই লেবানন সরকার হেজবুল্লাহর সশস্ত্র কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার এই সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লেবাননের অবস্থান যেখানে যে কোনো ধরনের সংঘাত বিরোধী, সেখানে কোনো পরামর্শ ছাড়াই রকেট হামলা চালিয়েছে হেজবুল্লাহ। যা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। দেশটির রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উভয়েই বলেছেন, হেজবুল্লাহর এই তৎপরতা লেবাননের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। বাস্তবে এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ সাম্প্রতিক সংঘাত সত্ত্বেও হেজবুল্লাহ এখনো সশস্ত্র অবস্থায় রয়েছে। এদিকে, ইসরায়েলী বাহিনী লেবাননে হেজবুল্লাহর অবকাঠামোগুলোয় হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার লক্ষণ নেই: জাতিসংঘ পারমাণবিক তদারকি সংস্থা জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থার প্রধান রাফিয়াল গ্রোসি বলেছেন, সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের কোনো পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন কোন কিছুর ইঙ্গিত তারা পান নি। তিনি জানান, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেহরান গবেষণা রিঅ্যাক্টর বা অন্যান্য পারমাণবিক জ্বালানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন কোন লক্ষণ নেই। সংস্থাটির গভর্নর বোর্ডে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অ্যাটমিক অ্যানার্জি এজেন্সি বা আইএইএ ইরানের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিল, তবে তাদের কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। আইএইএ-তে ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা নাজাফি বিবিসিকে জানিয়েছেন, রোববার নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি। ব্রেকিং আপডেট পেতে চোখ রাখুন ইত্তেহাদ নিউজে.......................
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় নিহত হয়েছেন বলে আজ রোববার (১ মার্চ) দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা এবং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে। ইরানি রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার বরাতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী খামেনির মৃত্যুর খবর ঘোষণা করার পর দেশ জুড়ে ৪০ দিনব্যাপী শোক পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে গতকাল শনিবার রাতে বিশেষ ঘোষণা বার্তায় জানানো হয় যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মৃত্যুবরণ করেছেন এবং দেশজুড়ে শোক ও স্মরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে শনিবার সকালে ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে দেশটিতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালায়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও সরকারি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, এবং ঘটনাস্থলে খামেনির মৃত্যুর খবর বিভিন্ন প্রাথমিক রিপোর্টে প্রকাশ পায়। খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি প্রথমে ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করতে অস্বীকার করলেও, অবশেষে আজ সকালে সরকারি বার্তাগুলোর মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার মৃত্যুর ফলে ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যত ও পরবর্তী নেতৃত্ব নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়ে আগ্রহ এবং অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় আসা খামেনি দেশটির সামরিক, রাজনৈতিক এবং বিচার বিভাগসহ সব ক্ষেত্রেই গভীর প্রভাবশালী ছিলেন। তার মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতৃত্ব নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়েও এখন আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি আজ সকালে জানায়, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন।”এর আগে খামেনির নিহত হওয়ার খবর জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেন, “খামেনি মারা গেছেন।”রয়টার্সের প্রতিবেদনের তথ্য, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গতকাল শনিবার সকালে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে হামলায় নিহত হয়েছেন। ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় খামেনি ও তার শীর্ষ সহযোগীরা নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলী শামখানি ও ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোর। ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, হামলার ঠিক আগে শামখানি ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলী লারিজানির সঙ্গে খামেনি একটি সুরক্ষিত স্থানে বৈঠক করছিলেন। শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাসভবনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছিল আল জাজিরা। স্যাটেলাইটে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, খামেনির প্রাসাদটি ধসে পড়েছে। এটির চারপাশ কালো হয়ে গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যেভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হয়ে উঠলেন বিশ্বের অন্য অনেক দেশের তুলনায় ইরানের শাসন পদ্ধতি বেশ আলাদা। সেখানে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বা সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হলেও দেশের মূল ক্ষমতা রয়েছে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হাতে। তিন দশকেরও বেশী সময় ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হিসেবে রয়েছেন। সম্প্রতি ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সময় আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে যে, তাকে হত্যার চেষ্টা করা হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ইরানের কথিত সর্বোচ্চ নেতা কোথায় লুকিয়েছেন সেটি তার জানা, কিন্তু এখনি তাকে মারা হবে না। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নয়, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কেন আমেরিকা বা ইসরায়েলের টার্গেটে সেই প্রশ্নও সামনে আসছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসনের এই ব্যবস্থা চালু হয় ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে। একটি বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রকে উৎখাত করা হয়। তাকে উৎখাতের পর ইরানে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর দেশটি দুজন সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতা পেয়েছে। তাদের পদবী হিসেবে আয়াতুল্লাহ ব্যবহার করা হয়, শিয়া ধর্মাবলম্বীদের কাছে যার অর্থ সিনিয়র ধর্মীয় নেতা। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এখন দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চীফ। এছাড়া দেশের সব বড় বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তার সম্মতি দরকার হয়। এমনকি ইরান পারমাণবিক ক্ষমতার অধিকারী হবে কিনা অথবা জাতিসংঘের আণবিক শক্তি সংস্থাকে সহযোগিতা করবে কিনা, এসবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনি দেন। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কে? ১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে এক ধর্মীয় পণ্ডিতের ঘরে জন্ম নেওয়া আলী খামেনি নিজ শহরের ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রে পড়াশোনা করেন, পরে যান শিয়া মুসলিমদের পবিত্র নগরী কোমে। ১৯৬২ সালে তিনি শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিরুদ্ধাচরণকারী আয়াতুল্লাহ খোমেনির ধর্মীয় আন্দোলনে যোগ দেন। তরুণ আলী খামেনি খোমেনির একজন একনিষ্ঠ অনুসারী হয়ে ওঠেন। তার নিজের ভাষায়, তিনি যা করেছেন এবং এখন যা বিশ্বাস করেন, সবই খোমেনির ইসলামী ভাবধারা থেকে প্রাপ্ত। আলী খামেনি শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিরুদ্ধে সরাসরি বিক্ষোভে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং বেশ কয়েকবার গ্রেফতারও হয়েছিলেন। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর, আলী খামেনি বিপ্লবী পরিষদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হন এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোরকে সংগঠিত করতে সহায়তাও করেন। এই বিপ্লবী গার্ড ইরানের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ১৯৮১ সালের জুন মাসে, তেহরানের একটি মসজিদে বোমা হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। তার ওপর ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল দেশটির বামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ওপর। এই ঘটনায় তার ডান হাত পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। দুই মাস পর, একই বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইরানের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ-আলী রাজাইকে হত্যা করে। রাজাইয়ের মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হিসেবে আলী খামেনি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। আট বছর ধরে আনুষ্ঠানিক এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি। এই সময় তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মির হোসেইন মুসাভির সঙ্গে নানা মতবিরোধে জড়ান। কারণ তিনি মনে করতেন, মুসাভি ইরানের ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সংস্কার আনতে চাইছেন। আলী খামেনি ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইরানের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পরে ১৯৮৯ সালের জুনে খোমেনির মৃত্যুর পর বিশেষজ্ঞ পরিষদ (ধর্মীয় আলেমদের একটি পরিষদ) আলী খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। যদিও তিনি সংবিধানে নির্ধারিত শিয়া ধর্মগুরুদের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদমর্যাদা বা 'গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ' অর্জন করতে পারেননি। পরে ইরানের সংবিধানে সংশোধন আনা হয়। সংশোধনে বলা হয়েছিল যে, সর্বোচ্চ নেতাকে "ইসলামী পাণ্ডিত্য অর্জন করতে হবে এবং আলী খামেনি নির্বাচিত হতে পারবেন। পরে রাতারাতি তাকে হোজ্জাতুল ইসলাম থেকে আয়াতুল্লাহ পদে উন্নীত করা হয়েছিল। ইরানের সংবিধানে তখন আরও একটি পরিবর্তন আনা হয়। প্রধানমন্ত্রী পদ বাতিল করা হয় এবং রাষ্ট্রপতির হাতে অধিক ক্ষমতা অর্পণ করা হয়। ইরানের সংবিধানও পরিবর্তন করে প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত করে রাষ্ট্রপতির হাতে বৃহত্তর কর্তৃত্ব ন্যস্ত করা হয়েছিল। আয়াতুল্লাহ খামেনি শাসনামলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ ছয়জন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করেন। যাদের অনেকেই খামেনির কর্তৃত্বকে কিছুটা চ্যালেঞ্জ করলেও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করেননি। ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন সংস্কারপন্থী নেতা মোহাম্মদ খাতামি। মি. খাতামি পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চেয়েছিলেন। মি. খাতামি প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় ইরানের সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও তখন সর্বোচ্চ নেতা খামেনি এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। মি. খাতামির পরে তার উত্তরসূরি হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন রক্ষণশীল নেতা মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে। মি. আহমাদিনেজাদকে কেউ কেউ আয়াতুল্লাহ খামেনির অনুসারী মনে করতেন। কিন্তু অর্থনীতি এবং বৈদেশিক নীতি নিয়ে আহমাদিনেজাদ সরকারের অবস্থান তখন ইরানে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। একই সাথে মি. আহমাদিনেজাদ নিজের ক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ নেতা খামেনির সাথে তার বিরোধিতা হয়। ২০০৯ সালে আহমাদিনেজাদের বিতর্কিত পুনঃ-নির্বাচন ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় আন্দোলনের জন্ম দেয়। সর্বোচ্চ নেতা খামেনি ওই নির্বাচনের ফলাফল বৈধ বলে ঘোষণা দেন এবং তীব্র আন্দোলন দমনে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন। এই দমন অভিযানে অনেক বিরোধী কর্মী নিহত হন, গ্রেফতার হন হাজার হাজার মানুষ। ২০১৩ সালে ইরানের উদারপন্থী নেতা হাসান রুহানি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং বিশ্বশক্তিগুলোর সাথে ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি করেন। এই চুক্তি খামেনির সম্মতিতেই সম্পন্ন হয়। তবে রুহানির নাগরিক অধিকার প্রসার ও অর্থনৈতিক সংস্কার উদ্যোগে বাধা দেন সর্বোচ্চ নেতা খামেনি। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে এসে ইরানের ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সাধারণ ইরানিদের অর্থনৈতিক দুর্দশা আরও বাড়তে শুরু করে। রুহানি সেই চাপ সামলাতে ব্যর্থ হন এবং ২০১৯ সালের নভেম্বরে ব্যাপক গণবিক্ষোভ শুরু হয়। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরাকের মাটিতে একটি ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করে। সোলেইমানি আয়াতুল্লাহ খামেনির ঘনিষ্ঠ মিত্র ও ব্যক্তিগত বন্ধু ছিলেন। এই হামলার পর খামেনি সোলেইমানি হত্যার প্রতিশোধের ঘোষণা দেন। ইরাকের দুটি মার্কিন ঘাটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। পরে তিনি বলেছিলেন, ইরাকে অবস্থিত দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের প্রতিশোধমূলক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছিল 'আমেরিকার গালে চপেটাঘাত'। খামেনি তখন জোর দিয়ে বলেছিলেন, "এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়।" শীর্ষ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ খামেনি বহুবারই ইসরায়েল রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০১৮ সালে তিনি ইসরায়েলকে "একটি ক্যানসার আক্রান্ত টিউমার" আখ্যা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইসরায়েলকে মুছে ফেলার ফেলার হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি প্রকাশ্যে হলোকাস্ট বা 'ইহুদি গণহত্যা' আদৌ ঘটেছিল কি-না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। ২০১৪ সালে তার টুইটার অ্যাকাউন্টে উদ্ধৃত একটি বার্তায় বলা হয়েছিল: "হলোকাস্ট এমন এক ঘটনা যার বাস্তবতা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে, আর যদি ঘটেও থাকে, সেটা কীভাবে ঘটেছিল, তাও স্পষ্ট নয়। " ২০২০ সালে, আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং ইরানের সরকার দুটি বড় সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। প্রথম সংকটটি শুরু হয় ওই বছর আটই জানুয়ারি। তখন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি ভুল করে ইউক্রেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমান তেহরানের কাছে ভূপাতিত করে। এতে বিমানে থাকা ১৭৬ জন যাত্রীর সবাই নিহত হন। যাদের অনেকেই ছিলেন ইরানি নাগরিক। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার ফলে ইরানের ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কট্টরপন্থী সংবাদপত্রগুলি পদত্যাগের দাবি জানায় এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভের নতুন ঢেউ ওঠে। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলির ব্যবহারও করে বলে অভিযোগ ছিল। সে সময় শুক্রবারের জুমার নামাজের বিরল এক খুতবায় আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, "বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় তিনি মর্মাহত"। তবে তিনি তখন সামরিক বাহিনীর পক্ষই নিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইরানের শত্রুরা এই ট্র্যাজেডিকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে, ইরানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ছড়িয়ে পড়ে। আয়াতুল্লাহ খামেনি প্রথমে করোনাভাইরাসের হুমকিকে খাটো করে দেখেছিলেন, বলেছিলেন যে ইরানের শত্রুরা এটিকে ভয় দেখানোর কৌশল হিসেবে অতিরঞ্জিত করছে। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বাছাই হয় কিভাবে? ২০২১ সালে ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঘনিষ্ঠ কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা এব্রাহিম রাইসি। চলতি বছরের জুনে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ১৯শে মে ইব্রাহিম রাইসি এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা গেলে প্রেসিডেন্ট পদটি শূন্য হয়ে যায়। রাইসির মৃত্যুর পর জুলাইয়েই ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন সংস্কারপন্থী নেতা মাসুদ পেজেশকিয়ান। প্রায় ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ খামেনি স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যায় ভুগছেন গত কয়েক বছর ধরে। তিনি মারা গেলে বা পদত্যাগ করলে কে হবেন ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা, এই প্রশ্ন ঘিরে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। আয়াতুল্লাহ খামেনির বয়স এবং সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তিনি যে স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে, সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে কে তার উত্তরসূরি হতে পারেন তা নিয়ে অবিরাম জল্পনা-কল্পনা চলছে। আয়াতোল্লোহ খামেনির পরবর্তীতে ইব্রাহিম রাইসিকেই পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচিত হবেন বলেই মনে করা হচ্ছিল। সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষের সময় তাকে হত্যার চেষ্টা করা হতে পারে, এমন আশঙ্কায় সম্ভাব্য তিনজন উত্তরসূরির নাম জানিয়েছিলেন বলে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, এই পদে কে থাকবেন তা নির্ধারণ করেন বিশেষজ্ঞমণ্ডলী বা অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস নামে ৮৮ জন ধর্মীয় নেতার একটি পরিষদ। ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর আয়াতোল্লা আলি খামেনেই দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে আসীন দ্বিতীয় ব্যক্তি। এই মণ্ডলীর সদস্যদের নির্বাচন করা হয় প্রতি আট বছর অন্তর। কিন্তু কারা গোষ্ঠীর সদস্য পদের জন্য প্রার্থী হতে পারবেন তা নির্ভর করে দেশটির গার্ডিয়ান কাউন্সিল নামে একটি কমিটির অনুমোদনের ওপর। আর এই গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্যদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচন করেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। অর্থাৎ এই দুটি পরিষদ বা মণ্ডলীর ওপর সর্বোচ্চ নেতার প্রভাব থাকে। গত তিন দশক ধরে আলী খামেনি নিশ্চিত করেছেন যে বিশেষজ্ঞ মণ্ডলীর নির্বাচিত সদস্যরা যেন রক্ষণশীল হয় - যারা তার উত্তরসূরি নির্বাচনের সময় তারই নির্দেশ মেনে চলবে। নির্বাচিত হবার পর, সর্বোচ্চ নেতা তার পদে আজীবন বহাল থাকতে পারেন। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা হতে হবে একজন আয়াতুল্লাহকে, অর্থাৎ যিনি একজন শীর্ষস্থানীয় শিয়া ধর্মীয় নেতা। কিন্তু আলী খামেনিকে যখন নির্বাচন করা হয়েছিল, তিনি আয়াতুল্লাহ ছিলেন না। তখন তিনি যাতে এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন, তার জন্য আইন পরিবর্তন করা হয়েছিল।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে সকল প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিককে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে আবুধাবি বাংলাদেশ দূতাবাস। সম্প্রতি ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, নিরাপত্তার জন্য সকল প্রবাসী নাগরিককে সামরিক স্থাপনাগুলোর আশপাশ থেকে দূরে থাকার এবং বিপদ কেটে না যাওয়া পর্যন্ত বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিশেষত, খোলা আকাশের নিচে না যাওয়া এবং অযথা জমায়েত না করার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে। দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সকল প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিককে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করে নিম্নলিখিত জরুরি সামগ্রীসহ প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে: নগদ টাকা এমিরেটস আইডি, পাসপোর্ট প্রয়োজনীয় ওষুধ, মোবাইল চার্জার, পাওয়ার ব্যাংক পানি ও শুকনো খাবার এছাড়া, স্থানীয় সরকারের নির্দেশনা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে কোনো ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি বা ভিডিও আপলোড করার ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, কারণ এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রচলিত আইনের পরিপন্থি হতে পারে। দূতাবাসের জরুরি হটলাইন ও যোগাযোগের তথ্য যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং কনস্যুলেটের নিম্নলিখিত হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে: বাংলাদেশ দূতাবাস, আবুধাবি: হোয়াটসএ্যাপ ও ফোন: +৯৭১ ৫৬৬১১ ৭২১৫, +৯৭১ ০২৪৪৬ ৫১০০, +৯৭১ ৫৪ ৭৪৩ ৯৩৯২, +৯৭১ ৫০ ২৬৪ ৩৩৯৬ ইমেইল: [email protected] বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, দুবাই: হোয়াটসএ্যাপ ও ফোন: +৯৭১ ৫০ ৮১৬৮২৫৩, +৯৭১ ৫০৮১৬৮৩৬৩ ইমেইল:[email protected] এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দূতাবাসের এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবার প্রতি অনুরোধ, স্থানীয় আইন মেনে চলুন এবং নিরাপদ থাকুন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।