ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আরজু আহমাদ পদত্যাগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) তিনি দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম-এর হোয়াটসঅ্যাপে পদত্যাগপত্র পাঠান। একই সঙ্গে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতেও একটি স্ট্যাটাস দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আরজু আহমাদ এনসিপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। তিনি দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সেল এবং ধর্ম ও সম্প্রীতি সেলের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং দলের প্রতি কোনো ক্ষোভ থেকে নয়। বরং দলের কাজে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারার কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “দল তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাক—এটাই আমার প্রত্যাশা। ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে আপাতত সময় দিতে পারছি না। তবে দলের জন্য সবসময় শুভকামনা থাকবে।”
বরিশাল অফিস : আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রথম রাজনৈতিক দল হিসেবে ব্যানার নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ—যা “দেশ ও জাতির জন্য স্মরণীয় অবদান” হিসেবে বিবেচিত হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে চরমোনাই দরবার-এ অনুষ্ঠিত বার্ষিক মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও জানান, সেই সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির সমর্থন না পেলে তার বেঁচে থাকা কঠিন হতো। ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে রাজপথে যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। মাহফিল ও বৈঠক এর আগে ভোরে এনসিপির একটি প্রতিনিধি দল আসিফ মাহমুদের নেতৃত্বে চরমোনাই দরবারে পৌঁছায়। ফজরের নামাজের পর মাহফিলে বয়ান করেন চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি ঘরোয়া বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যদিও বৈঠকের আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে—দেশের সমসাময়িক রাজনীতি এবং সম্ভাব্য গণভোট ইস্যু আলোচনায় উঠে আসে। উপস্থিত নেতারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা গাজী আতাউর রহমান ও ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম। এছাড়া এনসিপির নেতা সারোয়ার তুষার, ফয়সাল মাহমুদ শান্তসহ বিভিন্ন ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর চরমোনাই দরবারে এটি প্রথম বড় মাহফিল। নির্বাচন-পূর্ব আয়োজনে সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও, এবারের আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এনসিপিসহ কয়েকটি দল আমন্ত্রণ পেলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-কে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এ ঘটনাকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
বরিশাল অফিস : বরিশালের চরমোনাই দরবারে অনুষ্ঠিত মাহফিলে অংশ নিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার সকালে পৌঁছেছে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। চরমোনাই পৌঁছে ফজর নামাজের পর তারা চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম-এর বয়ানে অংশ নেন। বয়ান শেষে একটি সংক্ষিপ্ত ঘরোয়া মতবিনিময় সভায়ও অংশ নেন এনসিপি নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলমসহ উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান, কেন্দ্রীয় সদস্য হামজা মাহবুব এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশীদসহ অন্যান্য নেতারা। চরমোনাই মাহফিলের মিডিয়া সমন্বয়ক কেএম শরীয়াতুল্লাহ জানিয়েছেন, এনসিপি নেতারা সারাদিন চরমোনাইতে অবস্থান করবেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডস্থ তথ্য ভবনে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি)-এর মহাপরিচালকের কক্ষে শর্টফিল্ম প্রকল্পের অর্থ বণ্টনকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সরকারি ক্যামেরাম্যান সোহাগ মশিউরসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঘটনাস্থলে রক্তের দাগ দেখা গেলেও তা দ্রুত মুছে ফেলা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ঘটনার বিবরণ সোমবার সন্ধ্যার পর ডিএফপির মহাপরিচালকের কক্ষে বৈঠকের সময় হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কয়েকজন নেতা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক পর্যায়ে ক্যামেরাম্যান সোহাগ মশিউরের ওপর হামলা চালানো হয়। তাকে জোর করে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তার স্বজনরা এসে বাধা দেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে জুলাই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে ২০টি শর্টফিল্ম নির্মাণের জন্য প্রায় ২ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে— প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়ম ভেঙে অনানুষ্ঠানিকভাবে বাইরের ব্যক্তিদের দেওয়া হয় বিল ইস্যু করা হয় ডিএফপির ক্যামেরাম্যানদের নামে চেক তুলে সেই অর্থ অন্যদের কাছে হস্তান্তরের চাপ দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাজ সম্পন্ন না হলেও আগাম অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ৪টি শর্টফিল্ম জমা পড়েছে, যার মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অনিয়মের ধরণ: শর্টফিল্মের বিল ইস্যু করা হয় ডিএফপির ক্যামেরাম্যানদের নামে চেকও তাদের নামে প্রদান করা হয় পরে সেই অর্থ ব্যাংক থেকে তুলে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করা হয় কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই অগ্রিম ও পূর্ণ অর্থ আদায়ের চেষ্টা জানা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাজ সম্পূর্ণ না হলেও অর্থের বড় অংশ ইতোমধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে। ২০টি শর্টফিল্মের মধ্যে মাত্র ৪টি জমা পড়েছে, যা মানসম্মত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সংঘর্ষের সূত্রপাত সোহাগ মশিউরের দাবি, কাজ ও হার্ডড্রাইভ বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত তিনি বাকি অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উপস্থিত ব্যক্তিরা তার ওপর হামলা চালান। তিনি বলেন, “আমাকে ফোনে ডেকে এনে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। আমি অস্বীকৃতি জানালে মারধর শুরু হয়।” প্রশাসনের অবস্থান ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএফপির মহাপরিচালক খালেদা বেগম পুরো ঘটনার দায় সোহাগ মশিউরের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন। তবে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যায় তিনি স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি। আহতের বিষয়ে তিনি বলেন, “তার শারীরিক সমস্যা আছে,”—যা ভুক্তভোগীর বক্তব্যের সঙ্গে মিলছে না। গুরুতর প্রশ্ন এই ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— সরকারি অর্থ বণ্টনে অনিয়ম কেন ও কীভাবে হলো? প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়ম লঙ্ঘনের দায় কার? প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা কীভাবে এতে সম্পৃক্ত হলেন? তদন্তের দাবি বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি সংঘর্ষ নয়; বরং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অনিয়মের ইঙ্গিত। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।
রাজধানী ঢাকা-র দুই সিটি করপোরেশনসহ দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার (২৯ মার্চ) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন দলের আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। ঘোষণা অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-এ মেয়র পদে প্রার্থী করা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া-কে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-এ প্রার্থী হয়েছেন আরিফুল ইসলাম আদীব। এছাড়া অন্যান্য সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে— কুমিল্লা সিটি করপোরেশন: অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম রাজশাহী সিটি করপোরেশন: মোবাশ্বের আলী সিলেট সিটি করপোরেশন: অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজাল সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার বিভিন্ন সিটিতে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে। তিনি বলেন, “নির্বাচনে প্রশাসকদের মধ্যে কেউ প্রার্থী হতে পারবে না।” তিনি আরও দাবি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে সব নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া-এর ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য তলব করেছে। সোমবার (২ মার্চ) দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাঠানো এক চিঠিতে তার অ্যাকাউন্ট খোলার ফরম, লেনদেনের বিবরণসহ যাবতীয় তথ্য আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে বিএফআইইউতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে বিএফআইইউয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান সূত্র জানায়, একটি নির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের প্রকৃতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে দ্রুত তথ্য সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারে ভূমিকা জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন আসিফ মাহমুদসহ তিনজন ছাত্র প্রতিনিধি। তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এর আগে এনসিপির আহ্বায়ক ও বর্তমান সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টা পদ ছাড়েন। রাজনৈতিক ও ছাত্রজীবন ১৯৯৮ সালে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আকুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আসিফ মাহমুদ। তার পিতা মো. বিল্লাল হোসেন ও মাতা রোকসানা বেগম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদ-এর সভাপতি ছিলেন। এছাড়া ২০২৩ সালে আত্মপ্রকাশ করা গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পরবর্তী পদক্ষেপ বিএফআইইউ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে। সম্পদের হিসাব দিয়ে এসেছি: আসিফ মাহমুদ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সোমবার (২ মার্চ) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ব্যাংক হিসাব তলব করে সব ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে। এ খবর প্রকাশের পর এবার মুখ খুললেন এই অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসে এ বিষয়ে মন্তব্য করেন তিনি।স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, আগামীকাল আমি নিজেই ব্যাংক স্টেটমেন্ট সবার জন্য উন্মুক্ত করবো।ওই স্ট্যাটাসে আসিফ মাহমুদ আরও লেখেন, পদত্যাগের আগেই আয়-সম্পদের হিসাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে দিয়ে এসেছি।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চাঁদাবাজির পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে কেন্দ্র করে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-এর দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ফতুল্লার পঞ্চবটি গুলশান রোড এলাকায় ইয়াসিন আরাফাত ও আলিফ গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আলিফ গ্রুপের অভিযোগ নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির সংগঠক আলিফ জানান, ইয়াসিন আরাফাতের কোনো সাংগঠনিক পদ-পদবি নেই। তিনি নির্বাচনের সময় তাদের সঙ্গে থাকলেও বর্তমানে পঞ্চবটি মোড়ে ফুটপাতে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি। আলিফের দাবি, এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় এনায়েতনগর ইউনিয়ন এনসিপির সংগঠক বিপ্লবকে রাস্তা থেকে ধরে ইয়াসিন আরাফাত তার রোলিং মিলে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ইয়াসিন আরাফাতের পাল্টা বক্তব্য অভিযোগ অস্বীকার করে ইয়াসিন আরাফাত বলেন, তিনি পঞ্চবটি এলাকার এমদেদিয়া রোলিং মিলের মালিক। শনিবার বিকেলে আলিফের নেতৃত্বে সাব্বির, বিপ্লব, সিয়াম ও রাসেলসহ একটি দল তার মালিকানাধীন পঞ্চবটি এমদেদিয়া রোলিং মিলে গিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি দাবি করেন, চাঁদা না পেয়ে তারা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ চারজনকে মারধর করেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চাঁদা না দিলে রোলিং মিল জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান। এ বিষয়েও থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পুলিশের বক্তব্য এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের কাছ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিভিন্ন নম্বর থেকে হত্যার হুমকি পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন সালেহ উদ্দিন সিফাত। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন। পোস্টে সিফাত দাবি করেন, তার মোবাইল নম্বর, পারিবারিক ঠিকানা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, “গণহত্যাকারী লীগ” তার এসব তথ্য প্রকাশ করেছে। এর পর থেকেই বিভিন্ন অজ্ঞাত নম্বর থেকে তাকে অনবরত মৃত্যুর হুমকি, হামলার আশঙ্কা এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর আঘাতের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও লেখেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি পুলিশের কাছে মামলা করতে যাচ্ছেন। পাশাপাশি সীতাকুণ্ড-এর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকেও অবহিত করেছেন। পোস্টের শেষাংশে তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে লেখেন, “এই গণহত্যাকারী ও ফ্যাসিবাদীদের মোকাবেলায় আমি আপনাদেরকে পাশে চাই। আমরা এই খুনীচক্রকে একসঙ্গে প্রতিহত করবো, ইনশাআল্লাহ! ইনকিলাব জিন্দাবাদ!” এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস ও হুমকির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা হালনাগাদ করা হবে।
নোয়াখালীর হাতিয়ায় নির্বাচনের পরদিন একজন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। ওই নারী অভিযোগ করেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কারণে তাকে ধর্ষণ ও লাঞ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে যখন এই অভিযোগ করছিলেন, সে সময়ের ভিডিও বিবিসির কাছে এসেছে। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি এ-ও অভিযোগ করছিলেন যে, বৃহস্পতিবার নির্বাচনের পর থেকেই তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিলো। শুক্রবার রাতে তার স্বামীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেন তিনি। এই ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে ওই নারী অভিযোগ এনেছেন, তারা বিএনপির কর্মী বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই নারী এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সুপারিনটেন্ডেন্ট চিকিৎসক ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, শনিবার বিকাল পাঁচটার দিকে একজন মহিলা ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছেন। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তার শারীরে বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু ধর্ষণ হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে এখনও পরীক্ষা করা হয়নি। এই পরীক্ষার জন্য পুলিশ বা আদালতের চাহিদা বা অনুমতি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন ওই চিকিৎসক। এদিকে, রোববার সকালে দশটায় নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ওই নারীকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তবে, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এখনো কোনো মামলা হয়নি এবং ধর্ষণের পরীক্ষার জন্য হাসপাতালেও পুলিশ থেকে কোনো পত্র দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এমন অভিযোগের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছেন, ঘটনাটি তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতার কাছে তুলবেন। একইসাথে দলটির অঙ্গ সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির এই ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে। এদিকে, হাতিয়ার ওই এলাকাটি নোয়াখালী - ৬ আসনে পড়েছে। এই আসনে নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন এনসিপির নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদ। এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মি. মাসউদ। ঘটনাটির তদন্তের আগেই নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন মন্তব্য করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মি. মাসউদ। যদিও বিএনপি নেতারা বলছেন, নির্বাচন পরবর্তীতে একটি ঘটনাকে ইস্যু বানিয়ে তদন্ত হওয়ার আগেই পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ওই নারীর সাথে মোবাইলে কথা বলে আইনী সহযোগীতাসহ সব ধরনের সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বিকেলে গণমাধ্যমকে হাতিয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছেন। শুক্রবার রাতে কী ঘটেছে? ওই নারী নোয়াখালীর নলেরচর এলাকার একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা বলে জানান। সরকারের তৈরি এই আশ্রয়ন প্রকল্পগুলোতে ভূমিহীন মানুষের বাসস্থান। শনিবার বিকেলে নোয়াখালীর জেনারেল হাসপাতালে স্থানীয় সাংবাদিকরা ওই নারীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। সেই সাক্ষাৎকারের ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী দাবি করেন, নির্বাচনের দিন বৃহস্পতিবার থেকে হুমকি পাওয়ায় শুক্রবার রাতে চাচাতো বোনের বাড়িতে চলে যান তিনি। সেখানেও ভাংচুর ও হামলা চালানো হয়। পরে তার স্বামী তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখানে রাত ১১টার দিকে তিন ব্যক্তি এসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব কথা বলার সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এই নারী। তিনি দাবি করেন, শুক্রবার রাতে ধর্ষণ করার পর আবার শনিবার ভোর ছয়টা সাড়ে ছয়টার দিকে আবার ১০-১২ জন ব্যক্তি আসেন। সেসময় তার স্বামীকে মারধর করে আবার তাকে নিয়ে যায় বলে দাবি করেন এই নারী। এই ঘটনার পর ওই নারীর নিরাপত্তায় হাসপাতালে সাত সদস্যের একটি পুলিশের দল মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে, ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অভিযুক্ত এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ "বানোয়াট ও মিথ্যা"। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের সুপারিনটেন্ডেন্ট ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ধর্ষণের পরীক্ষার জন্য পুলিশ বা আদালতের রিকুইজিশন লাগে। বিবিসি বাংলাকে মি. চৌধুরী বলেন, "আমরা যথারীতি ওনাকে হাসপাতালে ভর্তি করলাম। পরে চিকিৎসার অংশ হিসেবে ওনাকে যতটুকু পরীক্ষা করার সেটা পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু ধর্ষণের ক্ষেত্রে আইনী কর্তৃপক্ষের চাহিদা লাগে, রিকুইজিশন লাগে ধর্ষণের বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য। সেটি আসলে ফরমালি আমরা এখনো পাইনি। এসপি সাহেবের সাথে কথা হয়েছে আমার। ওনারা যদি আমাদের কাছে রিকুইজিশন পাঠান তাহলে আমরা পরীক্ষা করতে পারবো।" এই চিকিৎসক জানান, রোববার সকাল দশটার দিকে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক ওই নারীকে দেখতে হাসপাতালে গেলে চাহিদাপত্রের বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। "আমি ওনাকে বলেছি, ফরমাল পরীক্ষার জন্য আমাদের তো আইনী কর্তৃপক্ষের চাহিদাপত্র লাগে। আপনারা দেবেন বা ভিকটিম যদি কোর্টে মামলা করে, আমাদের কাছে চাইতে হবে। তখন আমরা একটা মেডিকেল বোর্ড করে যাবতীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করে পরীক্ষা শেষে একটা প্রতিবেদন দিতে পারবো" বলেন মি. চৌধুরী। তবে, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে হাসপাতালে কোনো চাহিদাপত্র দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। পুলিশ কী বলছে? নোয়াখালীর জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ওই নারীর সাথে সকালেই দেখা করেছেন পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন। এ বিষয়ে জানতে কয়েকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, নোয়াখালী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লিয়াকত আকবর বিবিসি বাংলাকে জানান, শনিবার আশ্রয়ন প্রকল্পের ওই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তিনি। "আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে মারধরের আমরা সত্যতা পেয়েছি। কিন্তু ধর্ষণের বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি" বলেন মি. আকবর। নোয়াখালী – ৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ দাবি করেন, নির্বাচনের ফলাফলের পর ওই এলাকায় ব্যাপক হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছে। মি. মাসউদ বলেন, "মহিলার অভিযোগ সত্যও হইতে পারে, মিথ্যাও হইতে পারে। এটার আমার ধারণা নাই। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, লিগ্যাল প্রসেসেতো যাবে। যেই নিয়মে হওয়ার কথা, মহিলার আগে শারীরিক পরীক্ষা করবে তারপর মন্তব্য করবে। তার আগে কিভাবে এসপি মন্তব্য করে?" এদিকে, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছেন। মি. নাসিরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে তিনি এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে উল্লেখ করেছেন। "সকল প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ, ভিডিও বক্তব্য, চিকিৎসা নথি এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিস্তারিত যাচাই-বাছাই পর্যালোচনা করে এ পর্যন্ত হাতিয়ার ঘটনাটি অনেকের কাছেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিত বয়ান বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে" ফেসবুকে লিখেছেন তিনি। গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিভ্রান্তি ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর দাবি-জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জেরে তার ওপর হামলা ও যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির দাবি এটি একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। এদিকে, ভুক্তভোগীর স্বামী নিখোঁজ থাকায় মামলা হয়নি। ওই নারীর নিরাপত্তায় হাসপাতালে বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রোববার নোয়াখালীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা দিলেও তা স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে শনিবার রাতে ঢাকায় এনসিপি বিক্ষোভ করে। এদিকে, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে কমিটি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জেন-জি নেতৃত্বাধীন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনার পতনের পর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের নিয়ে গঠিত দল ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)। রাজপথে অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া এই দলের প্রার্থীরা ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র ছয়টিতে জয়ী হতে পেরেছেন। অন্যদিকে, ২১২টি আসনে জয়লাভ করে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এনসিপির অনেক সমর্থক মনে করেন, ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্তই দলটিকে মূল প্রতিযোগিতা থেকে কার্যত ছুড়ে ফেলেছে এবং তাঁরা বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন। শুরুর দিকে এনসিপি প্রায় সব আসনেই প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জোটের অংশ হয়ে তারা মাত্র ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। তবে জোটের ব্যাপারে এনসিপি নেতাদের ভাষ্য একটু ভিন্ন। তাঁরা বলেন, জুলাই আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা (ওসমান হাদি) নিহত হওয়ার পর বড় দলের সমর্থন ও প্রভাব তাঁদের জন্য জরুরি ছিল এবং এ জন্যই তাঁরা জোটে যান। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে দল হিসেবে একটা রাজনৈতিক ভিত্তি ও মানুষের পর্যাপ্ত সমর্থন আদায় করতে পারেনি এনসিপি। ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর মানুষ যে স্বপ্ন দেখেছিল, এনসিপি তা পূরণ করতে পারেনি। জামায়াতের সঙ্গে জোট আমাদের কাছে বিশ্বাসভঙ্গের মতো লেগেছে। তাই অনেক তরুণ ভোটার তাদের সমর্থন করেনি।’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপির ছয় বিজয়ীর একজন ৩২ বছর বয়সী আইনজীবী আবদুল্লাহ আল আমিন। তিনি বলেন, দলটি আরও বেশি আসন পাওয়ার আশা করেছিল এবং কয়েকটি আসনে অল্প ব্যবধানে হেরেছে। আল আমিন বলেন, ‘আমরা মাত্র যাত্রা শুরু করেছি। জুলাই আন্দোলনের সময় যখন আমরা রাস্তায় নেমেছিলাম, তখন যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলাম, তা বাস্তবায়নে আমরা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে চাই।’ আল আমিন দাবি করেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট করেই এনসিপি ছয়টি আসন পেয়েছে। জোট না হলে এটা সম্ভব ছিল না। কিন্তু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শাকিল আহমেদ মনে করেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট তরুণ ভোটারদের একাংশকে এনসিপি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তিনি বলেন, অনেকে এটিকে পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে যাওয়া হিসেবে দেখেছেন, নতুন ধারার সূচনা হিসেবে নয়। এনসিপির এই সিদ্ধান্ত তরুণ ভোটারদের বিভক্ত করেছে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির ভাবমূর্তি জোরদার করেছে। তবে এনসিপির লক্ষ্য আগামী বছরের স্থানীয় নির্বাচন। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ জানান, দলটি এখন বিরোধী অবস্থানে থেকে নিজেদের পুনর্গঠন করবে এবং আগামী বছরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেবে। গত বছরের ডিসেম্বরে দলের প্রধান নাহিদ ইসলাম বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছিলেন, দল গঠনের জন্য পর্যাপ্ত সময় তাঁরা পাননি। এ ছাড়া অর্থের সংকট এবং নারী ও সংখ্যালঘু অধিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থানের অভাবও তাঁদের দুর্বল করেছে। কিন্তু অধ্যাপক শাকিল আহমেদ সতর্ক করে বলেন, এনসিপি যদি নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় পুনর্গঠন করতে না পারে এবং এমন জোট থেকে দূরে না সরে, তাহলে তারা গতি হারাবে এবং বড় রাজনৈতিক শক্তির বদলে প্রতীকী প্রতিপক্ষ হিসেবেই রয়ে যাবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে একজন এনসিপির সাবেক নেতা ৩১ বছর বয়সী চিকিৎসক তাসনিম জারা। গত ডিসেম্বরে জোটের প্রতিবাদে এনসিপি ছাড়েন তিনি এবং ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। ৪৪ হাজারের বেশি ভোট পেলেও বড় ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থীর কাছে হেরে যান তিনি। তাসনিম জারা বলেন, ‘আমরা প্রমাণ করেছি যে, পরিচ্ছন্ন ও সৎ প্রচারণার মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করা সম্ভব। তবে আমাদের সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে। এমন রাজনৈতিক পরিবেশ টিকিয়ে রাখতে হলে শক্তিশালী হতে হবে। সুস্থ ধারার রাজনৈতিক পরিবেশ রক্ষা করতে হলে ভয়ভীতি মোকাবিলায় সক্ষম সংগঠন গড়ে তুলতে হবে।’ নির্বাচনে নিজের পাওয়া ভোটের কথা উল্লেখ করে জারা বলেন, আশার জায়গা এখনো আছে এবং তিনি আর যুক্তরাজ্যে ফিরে যাচ্ছেন না। তাসনিম জারা বলেন, ‘আমাদের সেরা দিনগুলো এখনো সামনে।’
ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মেঘনা আলম পেয়েছেন ৬০৮ ভোট। আসনটিতে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ৫ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছেন। শুক্রবার (১৩ফেব্রুয়ারি) ভোররাত পৌনে ৪টায় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার (রিটার্নিং কর্মকর্তা) শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী চৌধুরী এ ফল ঘোষণা করেন। ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির মোহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ১০৮টি কেন্দ্রে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৫৭২ ভোট। এর সঙ্গে তিনি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ৫৫৫টি। মোট ৫৪ হাজার ১২৭টি ভোট পান তিনি। এ আসনের অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী কেফায়েত উল্লা হাতপাখা মার্কায় মোট ১ হাজার ৪৩৬ ভোট এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ট্রাক প্রতীকের মেঘনা আলম ৬০৮ ভোট পেয়েছেন। ঢাকা-৮ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭৪ জন। এর মধ্যে ভোট পড়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৪৮৪টি। বাতিল হয় ২ হাজার ৮১৭টি। বৈধ ভোট হয় ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৬৭টি। এ আসনে পোস্টাল ভোটার ছিলেন ৮ হাজার ৯৯২ জন। এর মধ্যে ভোট পড়ে ৬ হাজার ১২টি। বাতিল হয় ৩২০টি।
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসুদের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।হান্নান মাসউদের দুজন সমর্থক জানান, বিএনপির নেতাকর্মীরা ধানের শীষ স্লোগান দিয়ে সংঘবদ্ধভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় এই হামলা চালায়। তারা একাধিক বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট চালায় এবং ভয়ভীতি দেখায়। এ ঘটনায় আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিক নেতাকে ফোন করা হলেও কেউ রিসিভ করেননি। হামলার ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, হাতিয়ার সব জায়গায় নৌবাহিনী সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। বিষয়টি নৌবাহিনী এবং পুলিশকে জানানো হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।