ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানী ঢাকার কাকরাইলে এক অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালতের রায় কার্যকর করতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা উচিত। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের সরকারের কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আগামী ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কী বলেছেন নাহিদ ইসলাম? শুক্রবার (১০ জুলাই) আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। সেখানে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালতের রায় ইতোমধ্যে হয়েছে এবং এখন সেটি কার্যকর করার পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তার ভাষায়, শেখ হাসিনাকে "যথাযথ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর" করা উচিত এবং এ জন্য সরকারের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া দরকার। রয়টার্সের সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গ অনুষ্ঠানে বক্তব্যের সময় নাহিদ ইসলাম রয়টার্সে প্রকাশিত শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গও টানেন। তার দাবি, সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা বলেছেন। এই প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনিও চান শেখ হাসিনা দেশে ফিরুন, তবে তার বিরুদ্ধে আদালতের রায় কার্যকর করার উদ্দেশ্যে। 'সিদ্ধান্ত দিল্লির ওপর নির্ভর করবে' শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, এটি কেবল শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। তার দাবি, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা, বিচার প্রক্রিয়া কিংবা রায় বাস্তবায়নের মতো বিষয়গুলো মূলত ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করবে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে তিনি বর্তমানে কার্যকর রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখেন না। সরকারের ভূমিকায় কী বললেন? সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা কীভাবে দেশে ফিরবেন, তিনি আত্মসমর্পণ করবেন কি না কিংবা তাকে কীভাবে দেশে আনা হবে—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। তার মতে, বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং সরকারের পক্ষ থেকেই পুরো প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হবে। 'যেকোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত' নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীরা রাজনৈতিকভাবে যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতি রক্ষার প্রশ্নে তারা সক্রিয় থাকবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার কোনো প্রচেষ্টা হলে এবং সরকার সেটিকে প্রশ্রয় দিলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে সরকারই। আওয়ামী লীগের বিচার নিয়েও মন্তব্য নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার আওয়ামী লীগকে দলগতভাবে বিচারের আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, সেটিই "সঠিক পথ" হবে। যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ন্যাশনাল এসএমই ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়িক খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং বক্তব্য রাখেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত হওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা প্রায় অভিন্ন ভাষায় বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, বরং তার বিরুদ্ধে চলমান ও নিষ্পন্ন মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা কেবল তার ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক, ভ্রমণসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা এবং সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়া। কী বলেছেন শেখ হাসিনা? রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, তিনি চলতি বছরের ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে ফিরে তিনি এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। তিনি বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে, এমনকি প্রাণনাশের আশঙ্কাও রয়েছে। তবুও তিনি আদালতের মুখোমুখি হতে চান। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের পর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতারা বলেছেন, তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা বিচারাধীন বা যেসব মামলায় আদালতের সিদ্ধান্ত এসেছে, সেগুলোর আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ হওয়া উচিত। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গণমাধ্যমে বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই ২০২৪ সালের আন্দোলন-সংক্রান্ত অভিযোগসহ বিভিন্ন মামলার বিচার চলছে এবং আদালতই তার অপরাধ ও শাস্তি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দেবেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের মতে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও কৌশল নিয়ে দলটির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তার দাবি, অনেক কর্মীর মধ্যে নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, যদি রয়টার্সে প্রকাশিত সাক্ষাৎকার সঠিক হয়ে থাকে এবং শেখ হাসিনা দেশে ফেরেন, তাহলে তাকে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্দিবিনিময় চুক্তির বিষয়টিও উল্লেখ করেন। অন্যদিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা কখন, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরবেন—এটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগই নির্ধারক হবে। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষারও বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। আইনি বাস্তবতা কী? বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ— তার ভ্রমণ নথি বা পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা। বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ট্রাভেল ডকুমেন্ট। বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া। আদালতে বিচারাধীন বা নিষ্পন্ন মামলাগুলোর আইনগত অবস্থান। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ পররাষ্ট্র ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি একটি রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক বিষয়ও। তাদের মতে, তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চাইলেও প্রয়োজন হবে বৈধ ভ্রমণ নথি, সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমোদন এবং বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সমন্বয়। এ কারণেই অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, দেশে ফেরার ঘোষণা বাস্তবে কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে দুই দেশের সরকারি সিদ্ধান্ত এবং আইনি প্রক্রিয়ার ওপর। রাজনৈতিক বার্তা নাকি বাস্তব প্রস্তুতি? রয়টার্সে দেওয়া সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে দুটি ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। একটি পক্ষ মনে করছে, এটি আদালতের মুখোমুখি হওয়ার রাজনৈতিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত। অন্য একটি অংশের ধারণা, এটি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাচাই, সমর্থকদের সক্রিয় রাখা কিংবা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করার একটি কৌশলগত বার্তাও হতে পারে। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা যতই বাড়ুক না কেন, বাস্তবে বিষয়টি নির্ভর করবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর— বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান; ভারত সরকারের কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত; প্রযোজ্য আইন ও আদালতের নির্দেশনা; এবং উভয় দেশের পারস্পরিক আইনি সহযোগিতা। ফলে রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—দেশে ফেরা আদৌ সম্ভব হবে কি না, আর হলে সেটি কোন আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। সেই উত্তরই আগামী সময়ের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র জুলাই পদযাত্রার সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ঘটনার একদিনের মাথায় দায়ের করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ, পরিকল্পনা ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাকা জেলা পুলিশ। পুলিশ বলছে, মঙ্গলবার সকালে সাভার মডেল থানা পুলিশ অভিযানে দুইজনকে গ্রেফতার করে। বিকেলে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় হামলার পেছনে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর মোহাম্মদ জানান, গ্রেফতার দুইজনকে এনসিপির দায়ের করা মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার ব্যক্তিদের একজন মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং একই ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। অপরজন যুবলীগের একজন কর্মী। তাদের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। কী ঘটেছিল? জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সোমবার রাতে সাভারের তারাপুর মাঠে জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। সমাবেশ চলাকালে দুর্বৃত্তরা ককটেল নিক্ষেপ করলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর গভীর রাতে সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন এনসিপির ঢাকা উত্তরের সদস্য সচিব সালামত উল্লাহ রনি। মামলা দায়েরের সময় তার সঙ্গে ছিলেন সংগঠনের আজাহারুল ইসলাম তামিম ও জুলাইযোদ্ধা ইউনুস আলী। তদন্তে কী গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ? ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হামলার উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং এর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক জড়িত ছিল কি না—এসব বিষয় যাচাই করবেন বলে জানা গেছে। যা এখনো স্পষ্ট নয় এ পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কী ধরনের প্রমাণ পাওয়া গেছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া ককটেল নিক্ষেপে অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনে আরও গ্রেফতার ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দিনাজপুরে এক ব্যক্তিকে অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গসংগঠন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফ মুনসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার পেছনে জমি সংক্রান্ত আর্থিক বিরোধ ছিল বলে দাবি করেছেন জেলার কয়েকজন এনসিপি নেতা। ফলে ঘটনাটি এখন ফৌজদারি অভিযোগ এবং পাল্টা দাবির দুই ভিন্ন বয়ানের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে গ্রেফতার পাঁচজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ নূরনবী। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া আরিফ মুন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। তার সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছেন— হাসিন ইসরাক মিম (২২) আজমীর হোসেন ওরফে প্রেম (২২) সাজিদুল মিনহাজ (২৯) মো. হৃদয় (২২) মামলায় কী অভিযোগ? মামলার এজাহার অনুযায়ী, দিনাজপুর সদর উপজেলার খোশালপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদের ছেলে মো. মামুন অভিযোগ করেন, শনিবার (৫ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে তার বাবা সদর উপজেলার পাঁচমাইল এলাকায় দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় নাম উল্লেখিত আসামিদের সঙ্গে আরও ১০ থেকে ১২ জন সেখানে প্রবেশ করে আব্দুস সামাদকে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তার মুক্তির জন্য ১২ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। কীভাবে উদ্ধার করা হয়? পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগ পাওয়ার একদিন পর সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে দিনাজপুর শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠ এলাকা থেকে আব্দুস সামাদকে উদ্ধার করা হয়। একই সময় আরিফ মুনসহ তিনজনকে আটক করা হয়। পরে আটক ব্যক্তিদের থানায় নেওয়ার সময় এনসিপির কিছু নেতাকর্মী তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে পুলিশের দাবি। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পরে ওই ঘটনায় আরও দুইজনকে আটক করা হয়। রাতে ভুক্তভোগীর ছেলে কোতোয়ালি থানায় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার মামলা দায়ের করলে আটক পাঁচজনকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এনসিপি নেতাদের দাবি কী? ঘটনার বিষয়ে জেলার কয়েকজন এনসিপি নেতার সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন একটি দাবি উঠে এসেছে। তাদের দাবি, আব্দুস সামাদ জমি কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত। কিছুদিন আগে আজমীর হোসেন প্রেমের এক আত্মীয় মজিবর রহমানের কাছ থেকে একটি জমির মালিকানা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে জমির মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। বরং জমির দখলসংক্রান্ত বিরোধে মজিবর রহমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এনসিপির নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আর্থিক বিরোধের জেরেই রোববার রাতে আব্দুস সামাদকে ডেকে এনে টাকা ফেরতের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। তাদের দাবি, সোমবার বিকেলে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই আব্দুস সামাদের ছেলে অপহরণের অভিযোগ নিয়ে পুলিশের কাছে যান। পুলিশের বক্তব্য দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মাদ নূরনবী বলেন, ভুক্তভোগীর ছেলে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আটক পাঁচজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে। তদন্তের সামনে যেসব প্রশ্ন ঘটনাটিকে ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে— এটি কি পরিকল্পিত অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা ছিল? নাকি জমি লেনদেন ও আর্থিক বিরোধ থেকেই সংঘাতের সূত্রপাত? ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণের অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে? উদ্ধার অভিযানের সময় ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী বা ডিজিটাল প্রমাণ কী বলছে? পুলিশের হাতে থাকা আলামত ও সাক্ষ্য আদালতে অভিযোগকে কতটা সমর্থন করতে পারে? এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে পুলিশি তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশে ককটেল বা বিস্ফোরক জাতীয় বস্তু বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—বিস্ফোরণের ঠিক আগে কেন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল? ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন জানিয়েছেন, ঘটনাটির সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিস্ফোরণের কারণ, পরিকল্পনা এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনাটি সোমবার (৬ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ড ঈদগাহ মাঠে ঘটে। তখন এনসিপির সমাবেশ চলছিল। কী ঘটেছিল? দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন। সেই সময় সমাবেশস্থলে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে তারা কেউ আহত হননি। বিস্ফোরণে চারজন আহত হন। আহতরা হলেন— মো. শাহীন খন্দকার (৩০) মো. জসিম (২৬) মো. শাহাদাত হোসেন (৪০) অপর একজন, যার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তাদের সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের বক্তব্য এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হাসান জানান, আহত চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজনের পায়ে গুরুতর আঘাত ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর বাকি তিনজনকে জরুরি বিভাগ থেকে অস্ত্রোপচারের জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, আহতরা বিস্ফোরণের কথা জানিয়েছেন। এক্স-রে এবং অন্যান্য পরীক্ষার পর আঘাতের প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিস্ফোরণের আগে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটনার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, বিস্ফোরণের ঠিক আগে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার বিষয়টিকে তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, "কোনো কিছুই আমরা সন্দেহের বাইরে রাখছি না। কেন ঠিক ওই মুহূর্তে বিদ্যুৎ চলে গেল, এরপরই বিস্ফোরণ ঘটল—বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।" তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে, যাতে ওই সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ যাচাই করা যায়। তবে পুলিশ এখনো বলেনি যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং বিস্ফোরণের মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশের বক্তব্য পুলিশ সুপার জানান, পদযাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকেই পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। পাকিজা মোড় থেকে সমাবেশস্থল পর্যন্ত নেতাদের নিরাপত্তা দিয়ে আনা হয়। ঘটনার পরও মঞ্চে থাকা শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তার সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তারা সাভার থানায় যান। তদন্তে কী কী খতিয়ে দেখা হচ্ছে? পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে— বিস্ফোরণে ব্যবহৃত বস্তুটির ধরন। হামলাকারীদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য। ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা। বিস্ফোরণের আগে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য। হামলাটি পরিকল্পিত ছিল কি না। এ ঘটনায় ঢাকা জেলার দুই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মামলা বিস্ফোরণের ঘটনায় এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্যসচিব সালামত উল্লাহ রনি, জুলাই যোদ্ধা মো. ইউনুস আলী এবং আজহারুল ইসলাম তামিম অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ বলছে, তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনসিপির প্রতিক্রিয়া এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিন বলেন, বিস্ফোরণে দলের চার কর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনার পর দলীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ মিছিল করেন। পরে আহতদের দেখতে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। পুলিশও এখন পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। এখন পর্যন্ত যা নিশ্চিত এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা গেছে— সমাবেশ চলাকালে একটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। চারজন আহত হয়েছেন। শীর্ষ নেতারা অক্ষত রয়েছেন। বিস্ফোরণের আগে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়েছিল। পুলিশ বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখছে। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন এবং মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণের উদ্দেশ্য, হামলাকারীদের পরিচয় কিংবা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সঙ্গে ঘটনার সম্পর্ক সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এখন নজর তদন্তের ফলাফলের দিকে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় ‘জুলাই আন্দোলন’ নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য ও কটাক্ষের অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রকাশ্য বক্তব্যে তারা আন্দোলন ও এর স্মৃতিচিহ্নকে অবমাননা করেছেন। রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য এস এম সুইট এই অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন—অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি, শান্তা ফারজানা, সাংবাদিক আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম ও মোমিন মেহেদী। অভিযোগে কী বলা হয়েছে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘জুলাই আন্দোলন’ চলাকালে ১৪০০ জন নিহত এবং ৩০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন—যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। অভিযোগ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন বক্তব্যে এই আন্দোলনকে নিয়ে কটাক্ষ করেছেন এবং অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, শান্তা ফারজানা নামের একজন ব্যক্তি ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ’ করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিনেত্রী শাওনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে আন্দোলনকে ‘সাজানো ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ এবং অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে সাংবাদিক আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম ও মোমিন মেহেদীর বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে কটাক্ষের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর বক্তব্য এস এম সুইট বলেন, “সম্প্রতি জুলাই বিপ্লবের বিরুদ্ধে কটূক্তি এবং স্মৃতিস্তম্ভ অবমাননার মতো ঘটনা ঘটেছে। যারা এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে এবং তাদের পক্ষে বয়ান তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি।” পুলিশের অবস্থান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা জানান, ছয়জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে ঘিরে অতীতের রাজনৈতিক অবস্থান আবারও জাতীয় সংসদে আলোচনায় এসেছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। তাঁর মতে, দলটি অতীতের অবস্থান স্পষ্ট না করায় রাজনৈতিক বিতর্ক এখনো বহাল রয়েছে। রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। কী বলেছেন মির্জা ফখরুল? সংসদে বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াত কখনো জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। তিনি বলেন, "একাত্তর সালের ভূমিকার জন্য আপনারা একবারও ক্ষমা প্রার্থনা করলেন না। জাতির সামনে আপনাদের ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত ছিল। এটা করলে আজকে সমস্যাগুলো হয় না।" তিনি আরও বলেন, জামায়াতের সাবেক নেতা গোলাম আজম একসময় বলেছিলেন, "একাত্তরে আমরা ভুল করি নাই।" এই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দলটির প্রতি আহ্বান জানান, বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে নিজেদের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট করতে। মির্জা ফখরুলের ভাষায়, "এখনো সময় আছে ভেবে-চিন্তে দেখতে পারেন। বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনাদের অবস্থান পরিষ্কার করেন। অতীতের অবস্থান স্পষ্ট করলে দলটির রাজনীতি আরও গ্রহণযোগ্য হবে।" সংসদে আর কী আলোচনা হয়? জামায়াতের নেতাদের উদ্দেশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পারস্পরিক উত্তেজনা সৃষ্টি বা একে অপরকে উপেক্ষা করার সময় নয়। বরং অতীতের বিতর্কিত অধ্যায় নিয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, "আমাদের বন্ধুরা বিভিন্নভাবে আমাদের ইগনোর করার চেষ্টা করছেন। আমাদের বিভিন্নভাবে ক্ষুব্ধ করার চেষ্টা করছেন। আমি মনে করি এ সময়টা সঠিক নয়। নিজেদের দিকেও আপনাদের ফিরে তাকানো দরকার।" বক্তৃতার সময় বিরোধী দলের সদস্যদের মন্তব্যের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীও বলেন, তিনি আজ পর্যন্ত জামায়াতের কাছ থেকে ১৯৭১ সালের ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট স্বীকারোক্তি শোনেননি। তাঁর মতে, বিষয়টি স্বীকার করলে দলটির রাজনীতি পরিচালনা সহজ হবে। এনসিপিকে নিয়েও মন্তব্য জামায়াতের জোটসঙ্গী এনসিপির প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তাদের সামনে সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যে দলের সঙ্গে তারা রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, সেই দল বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করেনি—এমন অভিযোগ তুলে তিনি এনসিপিকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও পরিষ্কার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "তারা ভালো করবে, আমরা চাই তারা ভালো করুক। কিন্তু বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্নে যারা বিতর্কিত অবস্থানে ছিল, সেই স্টিগমা নিয়ে যেন তাদের রাজনীতি না এগোয়।" মির্জা ফখরুলের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার ইতিহাস এবং ১৯৭১ সালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিশেষ করে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমীকরণ, জোট রাজনীতি এবং নতুন দলগুলোর অবস্থান নিয়ে বিতর্কের মধ্যে তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নির্বাচনের আগে সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ না করার যে রাজনৈতিক অবস্থানের কথা বলা হয়েছিল, ক্ষমতার কাঠামোর কাছাকাছি পৌঁছানোর পর সেই অবস্থান কতটা অপরিবর্তিত থাকে—এ প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। মঙ্গলবার (৯ জুন) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কে লক্ষ্য করে দাবি করেন, নির্বাচনের আগে তারা সরকারি বাড়ি-গাড়ি ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ না করার কথা বললেও সংসদে প্রবেশের পর গাড়ি ও অফিসের দাবি তুলেছে। রাশেদ খান, যিনি একসময় গণ অধিকার পরিষদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে বিএনপিতে যোগ দেন, লিখেছেন যে শুরুতে জামায়াত ও এনসিপির নেতারা ক্ষমতায় গেলে সরকারি বাড়ি-গাড়ির সুবিধা নেবেন না বলে প্রচার করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে সংসদে যাওয়ার পর তাদের অবস্থানে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। মারদিয়া মমতাজকে ঘিরেও প্রশ্ন ফেসবুক পোস্টে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মারদিয়া মমতাজের সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। তার দাবি, মারদিয়া মমতাজ বলেছেন আত্মীয়ের বাসায় থেকে সংসদে যাতায়াত করা কষ্টসাধ্য হওয়ায় সরকারি আবাসনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাশেদ খান প্রশ্ন করেন, যদি তিনি অতীতে শিক্ষকতা এবং নিয়মিত টেলিভিশন টকশোতে অংশগ্রহণ করতে পারেন, তাহলে একই পরিস্থিতিতে সংসদীয় দায়িত্ব পালনে অতিরিক্ত সুবিধার প্রয়োজন কেন দেখা দিল। পুরোনো টকশো অভিজ্ঞতার উল্লেখ পোস্টে রাশেদ খান একটি টেলিভিশন টকশোতে মারদিয়া মমতাজের সঙ্গে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অনুষ্ঠানে মারদিয়া মমতাজ শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পরিচয়ে উপস্থিত ছিলেন। তবে আলোচনার সময় তার বক্তব্যে জামায়াতপন্থী অবস্থান স্পষ্ট ছিল বলে রাশেদ খানের দাবি। তিনি আরও বলেন, আলোচনার এক পর্যায়ে মারদিয়া মমতাজ নিজেকে জামায়াতের কোনো পদধারী বা আনুষ্ঠানিক কর্মী নয়, বরং সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। আদর্শ বনাম বাস্তবতার প্রশ্ন রাশেদ খানের পোস্টের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশটি ছিল রাজনৈতিক আদর্শ ও বাস্তব রাজনীতির মধ্যে ব্যবধান নিয়ে তার মন্তব্য। তিনি ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, এমন এক রাজনৈতিক দর্শনের কথা বলা হচ্ছে যেখানে নির্বাচনের আগে গাড়ি, বাড়ি ও অফিসের প্রয়োজন হয় না, কিন্তু নির্বাচনের পর সেই প্রয়োজনীয়তাই সামনে চলে আসে। তার এই বক্তব্য মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও ক্ষমতার কাছাকাছি যাওয়ার পর বাস্তব অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক তাৎপর্য বিশ্লেষকরা বলছেন, সংসদীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের প্রশ্নটি কেবল প্রশাসনিক নয়; এটি রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গেও জড়িত। কোনো দল বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যদি নির্বাচনের আগে কঠোর নৈতিক অবস্থান গ্রহণ করে, তবে পরবর্তীতে সেই অবস্থান থেকে বিচ্যুতির অভিযোগ তাদের রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে রাশেদ খানের অভিযোগের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি বা মারদিয়া মমতাজের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আগাম শক্তি প্রদর্শনের লড়াই। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন—সব স্তরেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ, গণসংযোগ এবং নেপথ্য সমঝোতা এখন দৃশ্যমান। তবে এই প্রস্তুতির কেন্দ্রে রয়েছে ১১-দলীয় জোটের দুই গুরুত্বপূর্ণ শরিক—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বিপরীতে, এখনো দৃশ্যমান তৎপরতায় তুলনামূলক পিছিয়ে রয়েছে বিএনপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু প্রশাসনিক প্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নয়; এটি মূলত তৃণমূল রাজনৈতিক শক্তি, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং ভোটব্যাংক যাচাইয়ের সবচেয়ে কার্যকর মঞ্চ। ফলে জাতীয় নির্বাচনের আগেই স্থানীয় ভোটকে ঘিরে দলগুলোর কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আগেভাগে মাঠে জামায়াত-এনসিপি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচনি সমীকরণ মেলাতে ইতোমধ্যে সক্রিয় হয়েছে জামায়াত ও এনসিপি। প্রকাশ্যে মতভিন্নতা থাকলেও, দুই দলের মধ্যে সমঝোতা ও প্রতিযোগিতা—দুই কৌশলই একসঙ্গে এগোচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিষয়টি সবচেয়ে স্পষ্ট। জামায়াতের পক্ষে ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও প্রকাশ্যে প্রচারণা শুরু করেছেন। একই ধরনের সমীকরণ তৈরি হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরেও। জামায়াতের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, সিটি করপোরেশন পর্যায়ে জোটগত সমঝোতার সম্ভাবনা প্রবল হলেও উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে শরিক দলগুলোকে অনেকাংশে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনাই বেশি। তবে এনসিপির অবস্থান কিছুটা আলাদা। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় কিছু এলাকায় জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা হলেও রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিটিতে নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য একক প্রার্থী দেওয়ার কৌশল নিয়েছে তারা। ‘সমঝোতা’ না ‘শক্তি পরীক্ষা’? এনসিপি ইতোমধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র পদে ১০০ সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ৫০ জন এবং পৌর মেয়র পদে রয়েছেন আরও ৫০ জন। দলটির পরিকল্পনায় আরও অন্তত ৪০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা রয়েছে বলে জানা গেছে। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীরা এখন থেকেই মাঠে কাজ শুরু করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির এই তৎপরতা মূলত নিজেদের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও ভোটের সক্ষমতা যাচাইয়ের প্রচেষ্টা। বিএনপি ও জামায়াতের মতো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান মাপতে চাইছে দলটি। অন্যদিকে জামায়াতও তরুণ ভোটার, নারী ভোটার এবং সাংগঠনিক নেটওয়ার্ককে সামনে রেখে আলাদা প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটির নারী বিভাগও ইতোমধ্যে নির্বাচনি কার্যক্রমে সক্রিয় হয়েছে বলে জানা গেছে। অনলাইন দ্বন্দ্ব, নেপথ্যে সমন্বয় দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য বিতর্ক ও অবস্থান নেওয়ার প্রবণতা বাড়লেও সংশ্লিষ্টরা এটিকে নির্বাচনি কৌশলের অংশ বলেই মনে করছেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ধরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় রাখলে ভোটারদের কাছে পরিচিতি তৈরি হয়। ফলে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন যেই পাক না কেন, দলীয় উপস্থিতি ও প্রচারণা—দুটিই লাভবান হয়। জামায়াতের এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “জুলাই চেতনায় বিশ্বাসী শক্তিগুলোকে নিয়েই আমরা এগোতে চাই। জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও সমঝোতার ভিত্তিতে এগোনোর চিন্তা রয়েছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে সবাই নিজেদের অবস্থানও যাচাই করতে চায়।” বিএনপি কেন পিছিয়ে? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতি এখনো দৃশ্যমান নয়। দলটি জাতীয় রাজনীতির বড় ইস্যুতে সক্রিয় থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে প্রার্থী প্রস্তুতি, সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ের প্রচারণায় জামায়াত ও এনসিপির তুলনায় অনেকটাই নীরব। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত করতে চাইছে জামায়াত ও এনসিপি। বিশেষ করে নতুন ভোটার ও তরুণ রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে দুই দলই। কৌশলের কেন্দ্রে ‘জোট রাজনীতি’ ১১-দলীয় জোটের ভেতরে আপাত মতভিন্নতা থাকলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি মূলত ‘নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা’। জাতীয় নির্বাচনে যে সমন্বয়কেন্দ্রিক কৌশল নেওয়া হয়েছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সমঝোতা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তফসিল ঘোষণার পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। তবে দলগুলো কৌশলগত প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। তার ভাষায়, “জাতীয় নির্বাচনের আগেই অধিকাংশ জায়গায় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা হলে কোথায় কতটুকু ছাড় দেওয়া হবে, সেটি তখন বিবেচনায় আসবে।”
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী রাজনীতির অংশ হিসেবে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের কথা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, তারা ১১ দলীয় জোটে থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের শক্তি বাড়াতে কাজ করছে। মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, এনসিপি আগামী ১০ মে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র পদে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবে। এর আগে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও, সাংগঠনিক ও ব্যক্তিগত নানা কারণে সেই সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন নতুন সময়সীমা অনুযায়ী ১০ মে’র মধ্যে প্রাথমিকভাবে সমর্থিত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের আশা করছে দলটি। সারজিস আলম আরও জানান, চলতি মাসের মধ্যেই সাতটি সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোটের অংশ হয়েও স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা দলীয় সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাই ও সম্প্রসারণের একটি কৌশল। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশাসক নিয়োগ দিচ্ছে। তার ভাষায়, ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন চলতি বছরের মধ্যেই সম্পন্ন হওয়া উচিত।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের একটি আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমকে সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (৪ মে) রাতে গেজেটটি প্রকাশ করা হয় বলে জানিয়েছেন ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক। তবে একই আসনে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে জামায়াত জোটের আরেক প্রার্থী ও এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিনের দায়ের করা রিট আবেদন এখনো বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের শুনানিতে ভিন্ন কোনো নির্দেশনা এলে ইসি পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে কমিশন। জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে নতুন কোনো নির্দেশনা আসেনি। আগে আদালতের নির্দেশে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয় এবং যাচাই-বাছাই শেষে তাকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, আইন অনুযায়ী বৈধতা পাওয়ার পর একদিন অপেক্ষার বিধান থাকলেও কমিশন দুই দিন অপেক্ষা করেছে। “যদি আদালত ভিন্ন কোনো নির্দেশনা দেন, আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব,” যোগ করেন তিনি। প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতা মনিরা শারমিনের ক্ষেত্রে সরকারি ব্যাংক থেকে অবসরের তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল হতে পারে—এমন আলোচনা শুরু হয় মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ২১ এপ্রিল। সেদিন নির্ধারিত সময় বিকেল ৪টার ১৯ মিনিট পর জামায়াত জোটের পক্ষ থেকে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হলে, সময়োত্তীর্ণ হওয়ায় তা প্রথমে গ্রহণ করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরবর্তীতে ২৩ এপ্রিল যাচাই-বাছাইয়ে মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়। এর পর নুসরাত তাবাসসুম হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে আদালত তার মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশনার পর ২ মে রিটার্নিং কর্মকর্তা পুনরায় যাচাই করে নুসরাতের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। ৩ মে তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। ভোটের সম্ভাবনা আছে কি? ইসি কর্মকর্তাদের মতে, মনিরা শারমিনের রিটের শুনানি শেষে আদালত যদি তার মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেয়, তাহলে ওই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সে ক্ষেত্রে জামায়াত জোটের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা ভোট দিয়ে একজনকে নির্বাচিত করবেন। আসন বণ্টন ও বর্তমান অবস্থা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টনে নির্বাচন কমিশন বিএনপি জোটকে ৩৬টি, জামায়াত জোটকে ১৩টি এবং স্বতন্ত্র জোটকে একটি আসন দেয়। নুসরাত-মনিরার আসনটি ছাড়া বাকি ৪৯টি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন এবং ইতোমধ্যে শপথও নিয়েছেন। আদালত থেকে ভিন্ন কোনো নির্দেশনা না এলে, আপাতত নুসরাত তাবাসসুমকেই সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০তম সংসদ সদস্য হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর বিভিন্ন দিক থেকে চাপের মুখে পড়ার অভিযোগ তুলেছেন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি। সম্প্রতি তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগ দিয়ে নিজ এলাকা পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) ‘Kafi’ নামের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে কাফি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার জেরে তাকে দুই বছর ধরে ভাড়া থাকা বাসা ছাড়ার জন্য বলা হয়েছে। পাশাপাশি তার পেশাগত জীবনেও চাপ তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। ভিডিও বার্তায় কাফি জানান, একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার এক বছরের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর চুক্তি ছিল, যা হঠাৎ বাতিল করা হয়েছে। তার ভাষায়, “রাজনীতিতে আসার পর অল্প সময়েই বড় দুটি ত্যাগ স্বীকার করতে হলো।” তিনি আরও দাবি করেন, নিজের বাসার ছাদে একটি সাক্ষাৎকার দেওয়াকে কেন্দ্র করে অন্য বাসিন্দাদের আপত্তি তৈরি হয়, যা তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার ফল। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বাসার মালিকপক্ষ। কাফির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ট্রাভেল এজেন্সি ট্রাভেল নেক্সট বিডি-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, আর্থিক চ্যালেঞ্জের কারণে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। এতে কোনো রাজনৈতিক চাপ বা ব্যক্তিগত কারণ জড়িত নয়। অন্যদিকে বাসার মালিক তৃষা আক্তার জানান, তাকে সরাসরি বাসা ছাড়ার কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। তবে ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাট মালিকরা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সম্ভাব্য ভিড় ও যাতায়াত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায়, ভবনটিতে ব্যাচেলর ভাড়া দেওয়ার নিয়ম নেই, যদিও ব্যতিক্রম হিসেবে কাফিকে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। নতুন পরিস্থিতিতে অন্যান্য বাসিন্দাদের উদ্বেগ থেকেই বিষয়টি উঠে এসেছে। সব চাপের মধ্যেও নিজের অবস্থান থেকে সরে না আসার কথা জানিয়েছেন কাফি। তিনি এটিকে জীবনের একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন এবং ভবিষ্যতে ইতিবাচক কিছু ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন তিনি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মাহমুদা আলমের (মিতু) ৩১ লাখ ২৮ হাজার ৭৩৫ টাকার অস্থাবর সম্পদ আছে। এর বাইরে ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে তাঁর। গাড়ি, বাড়ি, জমিসহ কোনো স্থাবর সম্পদ তাঁর নেই। সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মাহমুদা আলমের জমা দেওয়া হলফনামায় এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। হলফনামার তথ্য বলছে, ৩৭ বছর বয়সী মাহমুদা আলম এমবিবিএস সম্পন্ন করেছেন। তাঁর বার্ষিক আয় ৩ লাখ টাকা। তিনি এই অর্থ আয় করেন চিকিৎসাপেশা থেকে। হলফনামার তথ্যানুযায়ী, মাহমুদা আলমের ৩১ লাখ ২৮ হাজার ৭৩৫ টাকার (অর্জনকালীন মূল্য) অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে নগদ অর্থ আছে ২৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৭৩৫ টাকা। তাঁর ইলেকট্রনিক পণ্য আছে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকার। এর বাইরে ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার থাকার কথা উল্লেখ করেছেন মাহমুদা। মাহমুদা আলম মিতুর স্বামী মো. মাহবুবুর রহমানও পেশায় চিকিৎসক। হলফনামার তথ্যানুযায়ী, মাহবুবুর রহমানের অস্থাবর সম্পদ আছে ৬১ লাখ ৬ হাজার ২১৩ টাকার। এর মধ্যে নগদ অর্থ ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ২৪ টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৮৯ টাকা। এ ছাড়া ১ লাখ ১২ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য এবং ১ লাখ ২০ হাজার টাকার আসবাব রয়েছে মাহবুবুর রহমানের। মাহমুদা আলমের মতো তাঁর স্বামীরও কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। অর্থাৎ তাঁদের কোনো কৃষি বা অকৃষিজমি, বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট কিংবা ভবন নেই। মাহমুদা আলম জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় চিকিৎসকদের মধ্যে একজন। রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বেসরকারি সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজের সাবেক এই ছাত্রী বর্তমানে চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠকের পাশাপাশি দলের নারী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির সদস্যসচিব হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমে ঝালকাঠি-১ আসনে এনসিপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন মাহমুদা আলম। কিন্তু পরে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের আওতায় সমঝোতার কারণে এনসিপিকে আসনটি ছেড়ে দিতে হয়। ফলে মাহমুদা আলম আর নির্বাচন করেননি। এবার সেই আসন (ঝালকাঠি-১) থেকেই তিনি সংসদে যাচ্ছেন, তবে সংরক্ষিত আসনের সদস্য হিসেবে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন তীব্র অভ্যন্তরীণ সংকটে পড়েছে। নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, সাংগঠনিক অচলাবস্থা এবং কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে গঠন করা হয়েছে পাঁচ সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা পরিষদ—যা নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে নতুন বিতর্ক। নেতৃত্ব ছাড়ার পরেই সংকট তীব্র সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশীদ ও দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেনসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়ার পরই পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। সংগঠনের একাধিক সূত্র বলছে, গুরুত্বপূর্ণ পদধারীদের পদত্যাগ ও দলত্যাগের কারণে কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় গত ১৮ এপ্রিল এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটি স্থগিত ঘোষণা করা হয় এবং গঠন করা হয় পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ। এতে রাখা হয় আবু সাঈদ লিওন, হামযা মাহবুব, তারিকুল ইসলাম (রেজা), মুঈনুল ইসলাম ও শাহাদাত হোসেনকে। বলা হয়, ৩০ দিনের মধ্যে তারা সাংগঠনিক পুনর্গঠন সম্পন্ন করবেন। তবে এই সিদ্ধান্ত সংগঠনের ভেতরেই সর্বসম্মত সমর্থন পায়নি। ‘অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত’—বিরোধীদের অভিযোগ সংগঠনের একটি অংশ এই পদক্ষেপকে ‘একতরফা’ ও ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করার এখতিয়ার কারও নেই। সংগঠনের মুখপাত্র হিসেবে নিজেকে দাবি করা সিনথিয়া জাহীন আয়েশা অভিযোগ করেন, “রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকেই কয়েকজন নেতা সংগঠন ছেড়ে গেছেন। একই সঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি সামনে আসার পরই তারা সরে দাঁড়ান।” তিনি আরও বলেন, “আমরা যখন আর্থিক বিষয়ে জবাব চাই, তখন আমাদের বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি কেন্দ্রীয় ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে অনুমোদনহীনভাবে কমিটি স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।” উপদেষ্টা পরিষদের বিরোধিতা করায় আয়েশাকে সংগঠনের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোটি টাকার লুটপাটের অভিযোগ সংগঠনের ভেতরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আর্থিক অনিয়ম নিয়ে। আয়েশা দাবি করেন, “কোটির ওপর একটি বড় অঙ্কের টাকা লুটপাট হয়েছে।” তিনি জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রকাশ করা হবে। অন্যদিকে, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুঈনুল ইসলাম এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তার ভাষায়, “কমিটিতে কোনো আর্থিক লেনদেনই হয়নি। অন্তত আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।” ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন সাবেক নেতারা সংগঠন ছেড়ে এনসিপিতে যোগ দেওয়া সাবেক দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন পুরো ঘটনাকে স্বাভাবিক সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “নতুন কমিটি বা কাঠামো গঠনের সময় এমন অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ দেখা যায়। উপদেষ্টা পরিষদ তাদের মনমতো হয়নি বলেই এসব অভিযোগ আসছে।” তার দাবি, নতুন উপদেষ্টা পরিষদ গঠনে বৃহত্তর সমন্বয়ক কাঠামোকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অরাজনৈতিক পরিচয়ের প্রশ্নে বিতর্ক শুরু থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নিজেদের একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচয় দিয়ে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সংগঠনের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ছিল বলে একাধিক নেতা দাবি করেছেন। বিশেষ করে এনসিপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসার পর সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। মাঠপর্যায়ে হতাশা, তবে ঐক্যের আশ্বাস সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশও এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, আন্দোলনের আদর্শকে পাশ কাটিয়ে ‘পকেট কমিটি’ তৈরির চেষ্টা চলছে, যা কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। তবে তারা আন্দোলনের মূল চেতনাকে ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এবং শিগগিরই নতুন রূপরেখা ঘোষণার কথা জানিয়েছেন। ভবিষ্যৎ কোন দিকে? নেতৃত্ব শূন্যতা, সাংগঠনিক বৈধতা নিয়ে বিতর্ক এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ—সব মিলিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। উপদেষ্টা পরিষদ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কী ধরনের পুনর্গঠন করতে পারে, এবং আর্থিক অভিযোগগুলো কতটা প্রমাণিত হয়—তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ।
ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আরজু আহমাদ পদত্যাগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) তিনি দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম-এর হোয়াটসঅ্যাপে পদত্যাগপত্র পাঠান। একই সঙ্গে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতেও একটি স্ট্যাটাস দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আরজু আহমাদ এনসিপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। তিনি দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সেল এবং ধর্ম ও সম্প্রীতি সেলের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং দলের প্রতি কোনো ক্ষোভ থেকে নয়। বরং দলের কাজে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারার কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “দল তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাক—এটাই আমার প্রত্যাশা। ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে আপাতত সময় দিতে পারছি না। তবে দলের জন্য সবসময় শুভকামনা থাকবে।”
বরিশাল অফিস : আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রথম রাজনৈতিক দল হিসেবে ব্যানার নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ—যা “দেশ ও জাতির জন্য স্মরণীয় অবদান” হিসেবে বিবেচিত হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে চরমোনাই দরবার-এ অনুষ্ঠিত বার্ষিক মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও জানান, সেই সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির সমর্থন না পেলে তার বেঁচে থাকা কঠিন হতো। ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে রাজপথে যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। মাহফিল ও বৈঠক এর আগে ভোরে এনসিপির একটি প্রতিনিধি দল আসিফ মাহমুদের নেতৃত্বে চরমোনাই দরবারে পৌঁছায়। ফজরের নামাজের পর মাহফিলে বয়ান করেন চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি ঘরোয়া বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যদিও বৈঠকের আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে—দেশের সমসাময়িক রাজনীতি এবং সম্ভাব্য গণভোট ইস্যু আলোচনায় উঠে আসে। উপস্থিত নেতারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা গাজী আতাউর রহমান ও ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম। এছাড়া এনসিপির নেতা সারোয়ার তুষার, ফয়সাল মাহমুদ শান্তসহ বিভিন্ন ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর চরমোনাই দরবারে এটি প্রথম বড় মাহফিল। নির্বাচন-পূর্ব আয়োজনে সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও, এবারের আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এনসিপিসহ কয়েকটি দল আমন্ত্রণ পেলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-কে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এ ঘটনাকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
বরিশাল অফিস : বরিশালের চরমোনাই দরবারে অনুষ্ঠিত মাহফিলে অংশ নিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার সকালে পৌঁছেছে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। চরমোনাই পৌঁছে ফজর নামাজের পর তারা চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম-এর বয়ানে অংশ নেন। বয়ান শেষে একটি সংক্ষিপ্ত ঘরোয়া মতবিনিময় সভায়ও অংশ নেন এনসিপি নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলমসহ উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান, কেন্দ্রীয় সদস্য হামজা মাহবুব এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশীদসহ অন্যান্য নেতারা। চরমোনাই মাহফিলের মিডিয়া সমন্বয়ক কেএম শরীয়াতুল্লাহ জানিয়েছেন, এনসিপি নেতারা সারাদিন চরমোনাইতে অবস্থান করবেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডস্থ তথ্য ভবনে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি)-এর মহাপরিচালকের কক্ষে শর্টফিল্ম প্রকল্পের অর্থ বণ্টনকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সরকারি ক্যামেরাম্যান সোহাগ মশিউরসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঘটনাস্থলে রক্তের দাগ দেখা গেলেও তা দ্রুত মুছে ফেলা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ঘটনার বিবরণ সোমবার সন্ধ্যার পর ডিএফপির মহাপরিচালকের কক্ষে বৈঠকের সময় হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কয়েকজন নেতা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক পর্যায়ে ক্যামেরাম্যান সোহাগ মশিউরের ওপর হামলা চালানো হয়। তাকে জোর করে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তার স্বজনরা এসে বাধা দেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে জুলাই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে ২০টি শর্টফিল্ম নির্মাণের জন্য প্রায় ২ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে— প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়ম ভেঙে অনানুষ্ঠানিকভাবে বাইরের ব্যক্তিদের দেওয়া হয় বিল ইস্যু করা হয় ডিএফপির ক্যামেরাম্যানদের নামে চেক তুলে সেই অর্থ অন্যদের কাছে হস্তান্তরের চাপ দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাজ সম্পন্ন না হলেও আগাম অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ৪টি শর্টফিল্ম জমা পড়েছে, যার মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অনিয়মের ধরণ: শর্টফিল্মের বিল ইস্যু করা হয় ডিএফপির ক্যামেরাম্যানদের নামে চেকও তাদের নামে প্রদান করা হয় পরে সেই অর্থ ব্যাংক থেকে তুলে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করা হয় কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই অগ্রিম ও পূর্ণ অর্থ আদায়ের চেষ্টা জানা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাজ সম্পূর্ণ না হলেও অর্থের বড় অংশ ইতোমধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে। ২০টি শর্টফিল্মের মধ্যে মাত্র ৪টি জমা পড়েছে, যা মানসম্মত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সংঘর্ষের সূত্রপাত সোহাগ মশিউরের দাবি, কাজ ও হার্ডড্রাইভ বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত তিনি বাকি অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উপস্থিত ব্যক্তিরা তার ওপর হামলা চালান। তিনি বলেন, “আমাকে ফোনে ডেকে এনে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। আমি অস্বীকৃতি জানালে মারধর শুরু হয়।” প্রশাসনের অবস্থান ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএফপির মহাপরিচালক খালেদা বেগম পুরো ঘটনার দায় সোহাগ মশিউরের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন। তবে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যায় তিনি স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি। আহতের বিষয়ে তিনি বলেন, “তার শারীরিক সমস্যা আছে,”—যা ভুক্তভোগীর বক্তব্যের সঙ্গে মিলছে না। গুরুতর প্রশ্ন এই ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— সরকারি অর্থ বণ্টনে অনিয়ম কেন ও কীভাবে হলো? প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়ম লঙ্ঘনের দায় কার? প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা কীভাবে এতে সম্পৃক্ত হলেন? তদন্তের দাবি বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি সংঘর্ষ নয়; বরং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অনিয়মের ইঙ্গিত। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।
রাজধানী ঢাকা-র দুই সিটি করপোরেশনসহ দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার (২৯ মার্চ) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন দলের আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। ঘোষণা অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-এ মেয়র পদে প্রার্থী করা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া-কে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-এ প্রার্থী হয়েছেন আরিফুল ইসলাম আদীব। এছাড়া অন্যান্য সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে— কুমিল্লা সিটি করপোরেশন: অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম রাজশাহী সিটি করপোরেশন: মোবাশ্বের আলী সিলেট সিটি করপোরেশন: অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজাল সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার বিভিন্ন সিটিতে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে। তিনি বলেন, “নির্বাচনে প্রশাসকদের মধ্যে কেউ প্রার্থী হতে পারবে না।” তিনি আরও দাবি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে সব নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া-এর ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য তলব করেছে। সোমবার (২ মার্চ) দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাঠানো এক চিঠিতে তার অ্যাকাউন্ট খোলার ফরম, লেনদেনের বিবরণসহ যাবতীয় তথ্য আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে বিএফআইইউতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে বিএফআইইউয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান সূত্র জানায়, একটি নির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের প্রকৃতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে দ্রুত তথ্য সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারে ভূমিকা জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন আসিফ মাহমুদসহ তিনজন ছাত্র প্রতিনিধি। তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এর আগে এনসিপির আহ্বায়ক ও বর্তমান সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টা পদ ছাড়েন। রাজনৈতিক ও ছাত্রজীবন ১৯৯৮ সালে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আকুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আসিফ মাহমুদ। তার পিতা মো. বিল্লাল হোসেন ও মাতা রোকসানা বেগম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদ-এর সভাপতি ছিলেন। এছাড়া ২০২৩ সালে আত্মপ্রকাশ করা গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পরবর্তী পদক্ষেপ বিএফআইইউ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে। সম্পদের হিসাব দিয়ে এসেছি: আসিফ মাহমুদ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সোমবার (২ মার্চ) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ব্যাংক হিসাব তলব করে সব ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে। এ খবর প্রকাশের পর এবার মুখ খুললেন এই অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসে এ বিষয়ে মন্তব্য করেন তিনি।স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, আগামীকাল আমি নিজেই ব্যাংক স্টেটমেন্ট সবার জন্য উন্মুক্ত করবো।ওই স্ট্যাটাসে আসিফ মাহমুদ আরও লেখেন, পদত্যাগের আগেই আয়-সম্পদের হিসাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে দিয়ে এসেছি।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চাঁদাবাজির পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে কেন্দ্র করে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-এর দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ফতুল্লার পঞ্চবটি গুলশান রোড এলাকায় ইয়াসিন আরাফাত ও আলিফ গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আলিফ গ্রুপের অভিযোগ নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির সংগঠক আলিফ জানান, ইয়াসিন আরাফাতের কোনো সাংগঠনিক পদ-পদবি নেই। তিনি নির্বাচনের সময় তাদের সঙ্গে থাকলেও বর্তমানে পঞ্চবটি মোড়ে ফুটপাতে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি। আলিফের দাবি, এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় এনায়েতনগর ইউনিয়ন এনসিপির সংগঠক বিপ্লবকে রাস্তা থেকে ধরে ইয়াসিন আরাফাত তার রোলিং মিলে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ইয়াসিন আরাফাতের পাল্টা বক্তব্য অভিযোগ অস্বীকার করে ইয়াসিন আরাফাত বলেন, তিনি পঞ্চবটি এলাকার এমদেদিয়া রোলিং মিলের মালিক। শনিবার বিকেলে আলিফের নেতৃত্বে সাব্বির, বিপ্লব, সিয়াম ও রাসেলসহ একটি দল তার মালিকানাধীন পঞ্চবটি এমদেদিয়া রোলিং মিলে গিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি দাবি করেন, চাঁদা না পেয়ে তারা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ চারজনকে মারধর করেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চাঁদা না দিলে রোলিং মিল জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান। এ বিষয়েও থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পুলিশের বক্তব্য এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের কাছ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।