Brand logo light

কুড়িগ্রাম

এসি ল্যান্ড আরিফুল ইসলাম
কুড়িগ্রামে গুচ্ছগ্রামের ৭২ একর খাস জমি ব্যক্তিমালিকানায় নামজারির অভিযোগ, উচ্ছেদের শঙ্কায় শতাধিক পরিবার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কুড়িগ্রাম সদরের আরাজি পলাশবাড়ী গুচ্ছগ্রামের খাস জমি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের লিখিত নির্দেশনা উপেক্ষা করে সরকারি বন্দোবস্তকৃত জমি ব্যক্তিমালিকানায় নামজারি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সদর ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (এসি ল্যান্ড) আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অন্তত ৭২ একর খাস জমি ধাপে ধাপে বেসরকারি মালিকানায় স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এতে গুচ্ছগ্রামের শতাধিক পরিবার উচ্ছেদের ঝুঁকিতে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ভূমি অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনার পরও নামজারি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও জেলা প্রশাসনের আর এম শাখা সূত্রে জানা গেছে, আরাজি পলাশবাড়ী মৌজার এস এ দাগ ২০০১, ২০৭৩ ও ২০৭৪ নম্বর জমি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। এই জমির ওপরই কয়েক দশক ধরে গড়ে উঠেছে সরকারি গুচ্ছগ্রাম আবাসন প্রকল্প। গুচ্ছগ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, এসব খাস জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে “ভ্রমাত্মক রেকর্ডভুক্ত” করা হয়। পরে রেকর্ড সংশোধনের দাবিতে তারা জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে জেলা প্রশাসন সদর এসি ল্যান্ডকে লিখিত নির্দেশ দেয়—আর এস রেকর্ড সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জমির সব কার্যক্রম এস এ রেকর্ড অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে। ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণও সেই অনুযায়ী চালিয়ে যেতে বলা হয়। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই নির্দেশনা কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছে। বর্তমান এসি ল্যান্ড আরিফুল ইসলাম ২০২৪ সালের মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে আর এস রেকর্ডের ভিত্তিতে ব্যক্তিমালিকানায় নামজারি শুরু হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়লে গুচ্ছগ্রামবাসীরা আবারও জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। পরে ২০২৫ সালের মার্চে জেলা প্রশাসন একই ধরনের আরেকটি নির্দেশনা জারি করে। “টাকা নিয়ে জমি দিয়ে দিচ্ছে” গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মো. ফারুক অভিযোগ করে বলেন, “ডিসি অফিসের নির্দেশনার পর জমির খাজনা দিতে গেছি। এস এ অনুযায়ী খাজনা নিচ্ছে না। শুনতেছি তলে তলে টাকা নিয়ে অন্যদেরকে জমি দিয়ে দিচ্ছে।” আরেক বাসিন্দা হাছেন আলী বলেন, “সরকার জমি দিছে, ঘর দিছে। বন্দোবস্ত দেওয়া খাস জমি কীভাবে অন্যদের দিল, এই প্রশ্ন আমাদেরও।” একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার। দীর্ঘদিনের পুনর্বাসন প্রকল্প অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে প্রথম দফায় ১৫টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে রেজিস্ট্রিকৃত কবুলিয়াতের মাধ্যমে এই এলাকায় পুনর্বাসন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে আরও ২০টি পরিবারকে ব্যারাক ঘরে পুনর্বাসন করা হয়। ২০২১ সালে সরকার পাকা ঘর নির্মাণ করে আরও ২৪টি পরিবারকে সেখানে বসবাসের সুযোগ দেয়। এছাড়া ২০০৯ সালে বীর প্রতীক তারামন বিবিকেও ওই মৌজার ১ একর খাস জমিতে বাড়ি নির্মাণ করে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি পুনর্বাসন প্রকল্প গড়ে ওঠার পর থেকেই একটি প্রভাবশালী চক্র জমিগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় সরকারি খাস জমিকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে রেকর্ডভুক্ত করা হয়। “চিঠির বিষয়ে জানা নেই” পৌর ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম শেখ প্রথমে বলেন, “চিঠির বিষয়ে আমার জানা নেই। প্রয়োজনে নামজারি বাতিল করা হবে।” তবে পরে তিনি অবস্থান পরিবর্তন করে বলেন, “আর এস গেজেট হওয়ায় এস এ অনুযায়ী ভূমি উন্নয়ন কর নেওয়ার সুযোগ নেই।” অন্যদিকে এসি ল্যান্ড আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, “আর এস রেকর্ড অনুযায়ী নামজারি করা হচ্ছে। নামজারি করার সময় আমরা এস এ রেকর্ড দেখি। সেখানে সরকারি স্বার্থ থাকলে নামজারি স্থগিত রাখা হয়।” তবে সরকারি খাস জমি কীভাবে ব্যক্তিমালিকানায় নামজারি হচ্ছে—এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি তিনি। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এমন কোনো চিঠি আমি পাইনি। পেলেও বিধিসম্মত নয় জানিয়ে উত্তর লিখতাম।” প্রশাসনের নীরবতা এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কয়েক দশক ধরে সরকারি পুনর্বাসন প্রকল্পে বসবাস করা পরিবারগুলো ভূমিহীন হয়ে পড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাস জমি নিয়ে রেকর্ড জটিলতা ও প্রশাসনিক অনিয়ম শুধু ভূমিহীন মানুষের নিরাপত্তাকেই হুমকিতে ফেলছে না, বরং সরকারি পুনর্বাসন নীতির বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
সিজারের তিনদিন পর নবজাতক রেখে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেন কুড়িগ্রামের হাওয়া আক্তার

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে সন্তান জন্মের মাত্র তিনদিন পর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এক শিক্ষার্থী দৃঢ় মনোবল ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। হাওয়া আক্তার নামের ওই পরীক্ষার্থী কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার বাবা হযরত আলী। গত ১৮ এপ্রিল তার সিজারিয়ান অপারেশন হয়। শারীরিক দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও তিনি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে নবজাতক সন্তানকে পরিবারের কাছে রেখে তিনি কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে উপস্থিত হন। সেখানে নির্ধারিত সময়ে ‘কুরআন মাজিদ ও তাজভীদ’ বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। পরিবারের এক সদস্য নবজাতককে নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রের পাশের একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন। ফলে পরীক্ষার সময়ও সন্তানের দেখভালের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মদ নুর বখত মিঞা জানান, তাদের কেন্দ্রে প্রায় ১,১০০ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে একজন শিক্ষার্থী সিজারের তিনদিন পর পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, যা “অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক”। স্থানীয়দের মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও লক্ষ্যে অবিচল থাকার এই ঘটনা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষণীয়। হাওয়া আক্তারের এই উদ্যোগ দেখিয়ে দেয়, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
কুড়িগ্রামে চোরচক্রের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান
কুড়িগ্রামে চোরচক্রের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান: ৯ জন গ্রেফতার, ১০টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার

কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে সংগঠিত মোটরসাইকেল চোরচক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযানে ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১০টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে কুড়িগ্রাম সদর থানার কোর্ট চত্বর, সদর হাসপাতাল এলাকা, নিউরোন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও জিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ৬৪টি মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে একটি মামলার তদন্তে নামে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। এরপর প্রথমে গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকা থেকে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে লালমনিরহাট, উলিপুর, নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের বাকি সদস্যদের আটক করা হয়। গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন—বাবু মিয়া ওরফে শাহজালাল, নুর ইসলাম, খাইরুল ইসলাম বাবু, রেজাউল হাসান ওরফে বারেক, রফিকুল ইসলাম, মিটুল মিয়া ওরফে পাশা, খায়রুল আলম, আজিজুল হক ও আনিছুর রহমান। পুলিশের দাবি, এই চক্রটি বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় মোটরসাইকেল চুরি করে কম দামে বিক্রি করত এবং পরে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করত। গ্রেফতারদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও রাজারহাট থানায় মোট চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলের মধ্যে দুইটির প্রকৃত মালিক শনাক্ত করে ইতোমধ্যে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি মোটরসাইকেলগুলো থানা হেফাজতে রয়েছে এবং মালিকানা যাচাই চলছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাচাই শেষে সেগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বির দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে চোরচক্র দমনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) আরিফুল ইসলাম
কুড়িগ্রামের এসিল্যান্ডকে ভাই বলায় ক্ষুব্ধ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সাংবাদিক পরিচয় দি‌য়ে জনসম্মুখে ‘ভাই’ বলায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) আরিফুল ইসলাম ‘চটে’ গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ঘটনার শিকার এক সাংবাদিক। তার দাবি, এসিল্যান্ড নিজেকে ‘সাধারণ কোনো মানুষ নন’ বলেও মন্তব্য করেছেন। দেশ টেলি‌ভিশ‌নের জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক জুয়েল রানা রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে কুড়িগ্রাম পৌর শহরের সাহা ফিলিং স্টেশনে এ পরিস্থিতির মুখে পড়েন বলে দাবি করেছেন।   জুয়েল রানা জানান, রোববার সকাল থেকে জেলা শহরের কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে গ্রাহক‌দের মাঝে তেল সরবরাহ চলছিল। প্রতি‌টি পাম্পেই গ্রাহক‌দের অতিরিক্ত ভিড় ছিল। দুপুরের দিকে শহরের কলেজ মো‌ড়ে সাহা ফিলিং স্টেশনটি পরিদর্শনে আসেন এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম। এসময় সাংবাদিক জুয়েল রানা ফিলিং স্টেশনে গ্রাহক প্রতি কী পরিমাণ তেল দেওয়া হচ্ছে জানার জন্য এসিল্যান্ডকে ‘ভাই’ সম্বোধন ক‌রে নিজের পরিচয় দি‌য়ে প্রশ্ন করেন। এতেই ‘চটে যান’ এসিল্যান্ড।   জুয়েল রানা বলেন, আমি ‘ভাই’ স‌ম্বোধন ক‌রে প্রশ্ন কর‌তেই চ‌টে যান এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম। তিনি আমা‌কে বলেন, ‘ভাই কেন বললেন? এভাবে সবার সামনে ভাই ডাকলে সাধারণ মানুষ ভাববে আপনার সাথে আমার স্বজনপ্রীতি রয়েছে। সবাই আমাকেও সাধারণ মানুষ ভাববে। আমি তো সাধারণ মানুষ নই। ’ এরপর আমা‌কে আর কথা বলার সু‌যোগ দেননি। তার এমন আচরণে আমি সবার সামনে বিব্রত অবস্থায় পড়ি। জুয়েল আরও বলেন, ‘স্যার’ না বলে ভাই বলার কারণেই এসিল্যান্ড ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তা‌কে স্যার বলতে হবে কেন? প্রশাসনের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশনার পরও মাঠ পর্যায়ের কর্মচারী‌দের এমন প্রভুত্বের আচরণ নিন্দনীয়। এ বিষয়ে এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম বলেন, আমি এসিল্যান্ড বল‌তে ব‌লি‌নি। আমি বলেছি, ভাই বলছেন, বা‌কি লোকদের ই‌য়ে হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসমাইল হোসেনের সাথে যোগা‌যো‌গের চেষ্টা করা হ‌লেও তি‌নি ফোন রিসিভ ক‌রেন‌নি। সম্প্রতি সদ‌রের কাঁঠালবাড়ী ইউ‌নিয়ন পরিষদ চত্বরের ২১ টি গাছ কাটা ও অপসারণের প্রকাশ্য নিলাম গোপ‌নে সারার অভি‌যোগ ওঠে এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ নি‌য়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
তাইজুল ইসলাম
কুড়িগ্রামের তরুণ ভাইরাল ‘তাজু ভাই ২.০’: লাখো ভিউ, “সরকারি রেটে জিলাপি কত?”

কুড়িগ্রাম: হাতে লম্বা বুম, টেলিভিশন সাংবাদিকদের মতো উপস্থাপনা, আর গ্রামবাংলার সহজ-সরল ভাষা—এই তিনের মিশেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাতারাতি আলোচনায় উঠে এসেছেন কুড়িগ্রামের তরুণ তাইজুল ইসলাম তাজু, যিনি এখন পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। কিন্তু ভাইরাল হওয়ার পরও তার জীবনের বাস্তবতা রয়ে গেছে আগের মতোই কঠিন—অভাব, অনিশ্চয়তা আর সংগ্রামে ভরা।  ভাইরালের শুরু যেভাবে গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে স্থানীয় এক জিলাপির দোকানে দাঁড়িয়ে “সরকারি রেটে জিলাপি কত?”—এমন সরল প্রশ্ন করে ভিডিও করেন তাজু। তার স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থাপনা আর গ্রামীণ ভাষা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। ভিডিওটি ৫০ লাখেরও বেশি ভিউ পায়। এরপর থেকেই তিনি নিয়মিত ভিডিও বানাতে থাকেন—নদীভাঙন, ভাঙা রাস্তা, চরাঞ্চলের উন্নয়ন বঞ্চনা—সবই উঠে আসে তার কণ্ঠে।  ‘লাইভ’ ভঙ্গিতে গ্রামের গল্প তাজুর ভিডিওর বিশেষত্ব তার সরলতা। তিনি নিজেকে সাংবাদিক দাবি না করলেও, তার ভিডিওতে উঠে আসে এমন বাস্তবতা, যা অনেক সময় মূলধারার মিডিয়ায় দেখা যায় না। তার ভাষায়, “আমি এলাকার খবর বাইরে তুলতে চাই। সাংবাদিকরা তো এখানে আসে না।”  ভাইরাল, কিন্তু অভাব যায়নি ৩০ বছর বয়সী তাজু পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী। ঢাকায় কাজ করে সংসার চালাতেন। বর্তমানে আট সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। তার বাবা-মা অসুস্থ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী। নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে তারা এখন অন্যের জমিতে বসবাস করছেন। নিজে কখনো স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পাননি। মাত্র ৮ হাজার টাকার একটি মোবাইল ফোন আর ধার করা বুম দিয়েই তৈরি হয় তার ভিডিও। তাজু বলেন, “মানুষ ভালোবাসা দিছে, কিন্তু আমার কষ্ট কমে নাই। পেইজে কোনো আয় নাই। কাজ না করলে তো পরিবার চলবে না।”  ভাইরাল পেজ, কিন্তু আয় নেই ভাইরালের আগে তার ফেসবুক পেজে অনুসারী ছিল প্রায় ৬ হাজার। এখন তা এক লাখ ছাড়িয়েছে। তবে এখনো কোনো মনিটাইজেশন বা আয়ের সুযোগ তৈরি হয়নি। 🗣️ স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া স্থানীয় বাসিন্দারা তাজুকে এলাকার গর্ব হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করেন, তার মতো প্রতিভাবান একজন তরুণকে সহায়তা করা প্রয়োজন। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “তার সরলতা আর উপস্থাপনা মানুষকে আকর্ষণ করে। তাকে ট্রল না করে পাশে দাঁড়ানো উচিত।” ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, “নদীভাঙনে সব হারিয়েও সে মানুষের কথা বলছে—এটা গর্বের বিষয়।”  সামনে অনিশ্চিত পথ ভাইরাল হলেও জীবনের কঠিন বাস্তবতা থেকে বের হতে পারেননি তাজু। সংসারের চাপে আবার ঢাকায় গিয়ে কাজ করার কথাও ভাবছেন তিনি। তার কথায়, “ভিডিও করি নিজের দুঃখ ভুলতে। মানুষ ভালোবাসে—এইটাই আমার শক্তি।”

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
মো. তাইজুল ইসলাম
কুড়িগ্রামের তাজু: হাসির খোরাক নাকি নাগরিক সাংবাদিকতার নতুন উদাহরণ?

হুমায়ুন ইসলাম: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার তাজু, যার আসল নাম তাইজুল ইসলাম, সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছেন। এক সাধারণ মানুষ হলেও তার সরল ভিডিওগুলো আজ একটি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সরল প্রশ্ন, বড় প্রতিধ্বনি তাজুর ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির বিষয়বস্তু ছিল একটি দোকানে জিলাপির দাম সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন করা—“জিলাপি কত করে বিক্রি করছেন? সাদাডা কত, লালডা কত?”। যদিও প্রশ্নটি দৈনন্দিন জীবনের একটি সাধারণ অংশ, সামাজিক মিডিয়ায় এটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। অনেকেই তাকে হাস্যরসের খোরাক হিসেবে গ্রহণ করে, আবার অনেকে তার সরলতাকে প্রশংসা করেছেন। তাজু নিজে বলেন, “আমি সাংবাদিক নই। সাংবাদিকরা আমাদের চরাঞ্চলে আসেন না, তাই আমি নিজেই ভিডিও করি। আমি বোকাসোকা মানুষ, ভুল হতেই পারে। আমাকে ট্রল করলেও আমার কষ্ট নেই, আমি শুধু চাই আমাদের এলাকার উন্নয়ন হোক।” নাগরিক সাংবাদিকতার উদাহরণ সরাসরি সাংবাদিকতা না হলেও তাজুর উদ্যোগ নাগরিক সাংবাদিকতা বা সিটিজেন জার্নালিজমের উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন প্রথাগত মিডিয়া পুরো দেশব্যাপী পৌঁছাতে পারে না, তখন সাধারণ মানুষ তাদের নিজস্ব অঞ্চলের ঘটনা তুলে ধরতে পারে। ডা. মেহেদী হাসান, গণমাধ্যম গবেষক, মন্তব্য করেন, “তাজুর মতো মানুষ সমাজের প্রতিটি প্রান্তে ঘটে যাওয়া সমস্যাগুলো তুলে আনতে পারে। এটি মিডিয়ার ফাঁক পূরণ করার একটি নতুন পদ্ধতি।” প্রতিক্রিয়ার বিভাজন তাজুর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া দুইভাবে দেখা গেছে: প্রশংসা: সরল ভাষায় জনগণের কষ্ট তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ। বিনোদনমূলক ব্যঙ্গ: ভিডিওকে মজা করা, সরল প্রশ্নগুলোকে হাস্যরস হিসেবে দেখানো। তবে ইনভেস্টিগেটিভ দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—আমরা কি শুধু তার সরলতাকে উপহাসের খোরাক বানাচ্ছি, নাকি প্রকৃত সমস্যার দিকে নজর দিচ্ছি? প্রান্তিক জনগণের কণ্ঠ তাজুর সরলতা প্রকৃতপক্ষে প্রতিফলিত করে প্রান্তিক মানুষের দৈনন্দিন দুঃখ। ব্রিজ, সেতু, রাস্তা, যোগাযোগের সমস্যা—এসব তার ভিডিওর আড়ালে লুকিয়ে থাকে। তার কণ্ঠ শুধু নিজের সমস্যা নয়, পুরো অঞ্চলের জনগণের এক ধরনের ক্ষোভ এবং দাবি প্রকাশ করে। সামাজিক বিশ্লেষক রুবিনা আক্তার বলেন, “যারা সামাজিক মিডিয়ায় তার ভিডিওকে মজা করছে, তারা হয়তো সেই অঞ্চলের বাস্তবতা বুঝতে পারছে না। তাজুর সরলতা আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে—সামাজিক উন্নয়ন কি সবসময় মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে, নাকি প্রান্তিক জনগণ নিজ উদ্যোগে এগিয়ে আসতে পারবে?”   তাজু ভাইরাল হয়েছেন হাসির খোরাক হিসেবে, কিন্তু তার ভিডিও আমাদের ভাবার সুযোগ দেয়—কীভাবে সাধারণ মানুষ সমাজের দুঃখ এবং সমস্যা তুলে ধরতে পারে। তার সরলতা এবং সাহস আমাদের শিখিয়ে দেয় যে নাগরিক সাংবাদিকতা শুধু প্রথাগত সাংবাদিকদের কাজ নয়; এটি যেকোনও মানুষের দায়িত্ব হতে পারে। তাজুর মতো কণ্ঠস্বর শোনার সুযোগ না দিলে সমাজ কি প্রকৃত সমস্যাগুলোর দিকে নজর দিতে পারত? সম্ভবত না। তাই তাজু শুধুমাত্র হাসির খোরাক নয়—সে প্রান্তিক জনগণের কণ্ঠ, যা আমাদের শোনার প্রয়োজন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0