Brand logo light

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়

ফারুক ওয়াসিফ মহাপরিচালক পিআইবি
ফারুক ওয়াসিফ, পিআইবি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি: নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উদঘাটন জরুরি

মামুনুর রশীদ নোমানী : দেশের সাংবাদিকতা উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ১৯৭৬ সালের ১৮ই আগস্ট  শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের এর উদ্যোগে  প্রতিষ্ঠিত Press Institute of Bangladesh (পিআইবি) । দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণার কাজ করে আসছে। বর্তমান  পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ–কে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটিতে বাজেট ব্যবস্থাপনা, ব্যয়ের নথি ও স্বচ্ছতার ব্যাপারে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে সাংবাদিক সমাজ, বিভিন্ন গণমাধ্যম সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী দুর্নীতি, প্রশাসনিক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছেন; তাদের দাবী—এই বিষয়গুলো স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।এতে করে পিআইবি–র ভাবমূর্তি, গণমাধ্যম উন্নয়নে এর ভূমিকা এবং সাংবাদিক সমাজের আস্থা, এই সব কিছুই ঝুঁকিতে পড়ে।   অভিযোগ:  ভুয়া সেমিনার ও ভাউচার প্রদর্শন সম্প্রতি একটি অনলাইন ও জাতীয় পত্রিকার রিপোর্ট উল্লেখ করেছে যে, পিআইবি থেকে প্রায় ২.৪ মিলিয়ন টাকার (২৩,৯৭,৫০০ টাকা) সেমিনার অ্যালাউন্স–এর নামে খরচ দেখানো হয়েছে, যেখানে ফাইনাল উপস্থিতি বা বাস্তব ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে এবং অনেক নাম করা সাংবাদিকরা বলছেন যে তারা সেখানে উপস্থিতই ছিলেন না বা স্বাক্ষরও তাদের নয়।  রিপোর্ট অনুসারে: ভুয়া সেমিনার বা কর্মসূচির খরচ হিসেবে চারটি ভাউচার দেখানো হয়, যার প্রতিটির খরচের পরিমাণ মিলিয়ে মোট টাকা একই রকম খাতের হিসাবে ধরা হয়। •    অধিকাংশ নাম থাকা সাংবাদিকদের অভিযোগ—তাদের নাম বা স্বাক্ষর এমন কোনো ইভেন্টে তারা আসলে উপস্থিত ছিলেন না বা স্বাক্ষর করেছেনই না। •    এমনকি কিছু নামের ব্যক্তি বর্তমানে দেশেই নেই বা অন্য স্থানে ছিলেন বলে দাবি করেন। •    উপস্থিতি ও ব্যয়ের প্রত্যয়নযোগ্য ছবি, ভিডিও বা ফটো রিপোর্টে দেখা যায়নি। •    পিআইবি–র দুটি বড় হলেও সেগুলিতে দুই শতাধিক মানুষ একসঙ্গে বসে প্রশিক্ষণ করার মতো জায়গা নেই বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।  চারটি অনুষ্ঠানে প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয়: পিআইবির নথি অনুযায়ী ব্যয়ের হিসাব ছিল— 1️⃣ সংগীতসন্ধ্যা তারিখ: ১৮–১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ স্থান: পিআইবি অডিটরিয়াম ব্যয়: ৫,৭৩,০০০ টাকা 2️⃣ জুলাই অভ্যুত্থানের চলচ্চিত্র, আলোকচিত্র, গ্রাফিতি ও ভিডিও প্রদর্শনী তারিখ: ১৮–১৯ ফেব্রুয়ারি ব্যয়: ৪,৬৭,৫০০ টাকা 3️⃣ সেমিনার: ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান : সংহতি ও প্রত্যাশা’ তারিখ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্যয়: ৬,৯১,৫০০ টাকা 4️⃣ সেমিনার: ‘গণ-অভ্যুত্থানের দিশা ও দর্শন’ তারিখ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ব্যয়: ৬,৬৫,৫০০ টাকা সব মিলিয়ে ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টাকা। এই তথ্যগুলোর ভিত্তিতে সাংবাদিক সমাজের একটি অংশ বলছে, “এভাবে ব্যয়ের হিসাব দেখানো হলে সরকারী অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত থাকে না।”   সাংবাদিকদের স্বাক্ষর ও নাম ব্যবহার: অভিযোগ ও প্রেক্ষাপট রিপোর্ট অনুসারে সেখানে অন্তর্ভুক্ত নামগুলো •    অনেকেই বলেছেন তারা কোনো পিআইবি সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন না। •    তাদের স্বাক্ষর জাল বা অচেনা স্বাক্ষর হতে পারে। •    পিআইবি–র আর্কাইভ বা ভিডিও ফুটেজে সেসব ইভেন্টের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় নি—যেমন নামগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছিল। •    একাংশ বলছেন, “এই টাকাটা নাকি ব্যয় দেখানো হয়েছে কিন্তু *আইনগতভাবে তা ব্যয় হয়নি।”  সাংবাদিক নেতারা এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বলেন— “যদি সরকারি ব্যয়ের হিসাব ও স্বাক্ষরের তথ্য খতিয়ে না দেখানো হয়, নিম্নমানের নথির উপর ভিত্তি করে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে—তবে তা সন্দেহজনক।” প্রতিষ্ঠানটির ক্ষমতা ও স্থাপত্যগত বাস্তবতা পিআইবির নিজের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম, অডিটরিয়াম ও সেমিনার রুমগুলোর ধারণ ক্ষমতা দেখানো হয়; যেখানে একটি ২৩৮ আসনের অডিটরিয়াম, ৬০ আসনের সেমিনার রুম ও আরও ছোট সেন্টার আছে।  যদিও এই ধারণক্ষমতা স্বীকারযোগ্য, দুইশো মানুষের একটি একদিনের প্রশিক্ষণ বা সেমিনার আয়োজনের জন্য বাস্তবসম্মত নয়—অনেক পেশাজীবী মনে করছেন দেখা উচিত যে সেই বিনিয়োগ কি বাস্তবে হয়েছে কি না।   মহাপরিচালকের বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া:  অভিযোগ উঠে আসার পর পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ অভিযোগগুলো সম্পর্কে বলেছেন, “প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কিছু বিদ্রোহী গ্রুপ  ভুয়া বিল তৈরি করেছে এবং আমি তা অনুমোদন করি নি; কোন টাকা ওই বিষয়ে ব্যয় হয়নি।” তারা বলেন তিনি প্রতিদিন অনেক ফাইল সই করেন, এবং পরে খানি ভুয়া/ভুল ফাইল সনাক্ত করেন। বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে বলে মনে করেন তিনি।  এই ধরনের প্রতিক্রিয়া সাংবাদিক সমাজের সব পক্ষেই সমালোচিত হচ্ছে, কারণ সত্য উদঘাটন ছাড়া সবকিছু অনুমান বা প্রত্যাশার উপরে স্থাপন করা কঠিন। সাংবাদিক সমাজ ও সংগঠনের দাবি :  সাংবাদিকদের একটি অংশ মনে করছে, পিআইবি–র মতো একটি প্রতিষ্ঠান যদি ব্যয়ের অডিট, উপস্থিতির ডকুমেন্টস, ভিডিও বা ফটোগ্রাফিক প্রমাণাদি প্রকাশ করে না—তবে জন আস্থা তৈরি হয় না। তাদের দাবি: •    দূরদর্শী তদন্ত কমিটি গঠন হতে হবে। •    অডিট রিপোর্ট ও পেমেন্ট ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা উচিত। •    অনিয়ম ও অসাধু আচরণের ক্ষেত্রে যথাযথ বিধান অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বিশ্লেষণ: স্বচ্ছতার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকেও নাগরিকদের কাছে দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক হতে হয়। পিআইবি–র মতো সাংবাদিকতা উন্নয়নের মুখ্য সংস্থায় অভিযোগ উঠলে— ১. দেখার বিষয়: * ব্যয়ের প্রমাণ—ভাউচার, ফটো, ভিডিও, উপস্থিতি যুক্ত নথি; ২. আদর্শ হয়: * অডিট রিপোর্ট খুলে দেওয়া যায় কি না; ৩. কি ঘটেছে: * অনেক নামের ব্যক্তির তো দাবি—সে অনুষ্ঠানেই উপস্থিত ছিলেন না। * কিছু শিক্ষকের নাম ভুল বা বাস্তবে সেই ইভেন্টে কেউ ছিলেনই না।  এগুলো দুর্নীতি কিনা—তা যাচাইয়ের জন্য দাবি ও তথ্যের যথাযথ যাচাই জরুরি। পিআইবি–র উদ্দেশ্য দেশের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা বৃদ্ধি—অবশেষে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করা। তবে মহাপরিচালক পদে থাকা অবস্থায় যদি ভুল তথ্য, নাগরিকের স্বাক্ষর, ব্যয়ের অভিলেখ বা অন্যান্য পক্ষের দাবিকে উপেক্ষা করা হয়—তবে সেটি উদাসীনতা, ব্যয়ের অপব্যবহার, কিংবা স্বচ্ছতার অভাব—এমন প্রশ্ন তোলে। সাংবাদিক সমাজের একাংশ মনে করেন—এই দাবির যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত এবং সেই অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কোনো অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তা সহজভাবে ফেলে দেওয়া যায় না। পিআইবি–র শুদ্ধ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাজের স্বার্থে স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া আশা করা উচিত নয়। পিআইবিতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক, তদন্তের দাবি সাংবাদিক মহলের •  প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ •  নিয়োগ, প্রকল্প বা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন •  কিছু কর্মকর্তার মধ্যে অসন্তোষের ব্যাপারে সাংবাদিক সমাজের দাবি: কিছু সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়, অর্থাৎ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। পিআইবি দেশের সাংবাদিকতা উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে ওঠা অভিযোগ বা প্রশ্নগুলো স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন—এমন মত প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই।   ২০২৪ সালে পিআইবির মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান ফারুক ওয়াসিফ।তিনি যোগদানের পরেই জাতীয়তাবাদ আদর্শের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে  বাধ্যতামুলক অবসর, অনত্র বদলীসহ বিভিন ভাে হয়রানী ষুরু করেন।   ফারুক  ওয়াসিফের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ:  ১. সেমিনার ও প্রশিক্ষণ ব্যয়ের অনিয়মের অভিযোগ কিছু সূত্র দাবি করেছে যে, কয়েকটি সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুয়া বিল ও স্বাক্ষরের মাধ্যমে অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ ওঠে, যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।  ২. প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ পিআইবির কয়েকজন কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা নেই এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়া হচ্ছে—যা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ৩. সাংবাদিক মহলের উদ্বেগ সাংবাদিকদের কয়েকটি সংগঠন ও পেশাজীবী মহলের একটি অংশ দাবি করেছে—পিআইবির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন। ৪.একই দিনে ৪ কর্মশালা,কোটি টাকার ভুয়া বিল ৫.ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে চার লক্ষ সাতষট্টি হাজার পাঁচশ টাকা আত্মসাত ৬.ণ আন্দোলনের দিশা ও দর্শণ বিষয়ক সেমিনারের নামে ছয় লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার পাঁচশ টাকা আত্মসাত: ৭.জুলাই গণ অভ্যুত্থান: সংহতি ও প্রত্যাশা বিষয়ক সেমিনারের নামে ৬ লাখ ৯১ হাজার পাচঁশত টাকা আত্মসাত: ৮.amera & Crowd: Covering Revolution নামে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা দেখিয়ে ৫৫,০২৫ টাকা আত্মসাৎ: ৯.টেন্ডার ছাড়াই সংস্কার কাজ  ১০.অডিট নির্দেশ অমান্য ও তহবিল স্থানান্তর ১১.পিআইবির ডরমিটরিতে মদপান ও অসামাজিক কাজ: ১২.নিয়োগ বানিজ্য: অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজন : নথি যাচাই •    পিআইবির গত ১–২ বছরের সেমিনার বাজেট •    প্রশিক্ষণ ব্যয়ের বিল •    প্রকল্প অনুমোদন নথি •    অডিট রিপোর্ট ফারুক ওয়াসিফের নিকট প্রশ্ন?  •     সেমিনার ব্যয়ের অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হয়েছে? •    বাজেট অনুমোদনের প্রক্রিয়া কী? ,একই দিন ৪টি প্রোগ্রাম করা আদৌ সম্ভব?  •    পিআইবির প্রশাসনিক অভিযোগের বিষয়ে তথ্য মন্ত্রনালয়ে অবহিত করেছেন?   মন্ত্রনালয় তদন্তে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা?   •    মন্ত্রণালয় বা অভ্যান্তরিন কোন অডিট করেছেন?  •    অভিযোগগুলো সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী? •    কোনো তদন্ত হলে আপনি সহযোগিতা করবেন কি? সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়া : পিআইবির সাম্প্রতিক প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে গণমাধ্যমে যে অভিযোগগুলো উঠেছে তা গভীর উদ্বেগের বিষয়। দেশের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিআইবির কার্যক্রম স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হওয়া জরুরি। সাংবাদিক সমাজ মনে করে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমরা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কাছে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। পিআইবি–র উদ্দেশ্য দেশের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা বৃদ্ধি—অবশেষে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করা। তবে মহাপরিচালক পদে থাকা অবস্থায় যদি ভুল তথ্য, নাগরিকের স্বাক্ষর, ব্যয়ের অভিলেখ বা অন্যান্য পক্ষের দাবিকে উপেক্ষা করা হয়—তবে সেটি উদাসীনতা, ব্যয়ের অপব্যবহার, কিংবা স্বচ্ছতার অভাব—এমন প্রশ্ন তোলে। সাংবাদিক সমাজের একাংশ মনে করেন—এই দাবির যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত এবং সেই অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কোনো অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তা সহজভাবে ফেলে দেওয়া যায় না। পিআইবি–র শুদ্ধ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাজের স্বার্থে স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া আশা করা উচিত নয়। বাংলাদেশের সাংবাদিকতা উন্নয়নে Press Institute of Bangladesh( PIB)  দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।তাই এই প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।সাংবাদিক সমাজের অনেকেই মনে করছেন—পিআইবির ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থেই অভিযোগগুলো দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত।তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হলে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আস্থা আরও শক্তিশালী হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। লেখক : সাংবাদিক, [email protected] তথ্য সুত্র :  1. BD Digest, লিংক-  https://en.bddigest.com/pib-dg-faruq-wasifs-fraud-2-4-million-disappeared-through-fake-seminar-and-journalists-forged-signatures/?utm_source=chatgpt.com 2. দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, লিংক-         https://www.bd-pratidin.com/national/2026/03/05/1224362 3. দৈনিক কালের কণ্ঠ,       লিংক-                https://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2026/03/05/1655859 4.দৈনিক কালের কণ্ঠ,       লিংক-                   https://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2026/03/05/1655869 5.ইত্তেহাদ নিউজ :           লিংক-                   https://etihad.news/pib-tarunyer-utsob-24-lakh-corruption-allegation-bangladesh 6.ইত্তেহাদ নিউজ :           লিংক-                  https://etihad.news/pib-faruk-wasif-corruption-fake-bill-recruitment-scam 7.otnbangla                    লিংক-                   https://otnbangla.com.au/news/51830 8. somoynews.tv          লিংক-                       https://www.somoynews.tv/news/2026-03-06/LJ2U9TzR 9. ঢাকা টাইমস              লিংক-                     https://www.dhakatimes24.com/2026/03/05/402684 10. কালের কণ্ঠ             লিংক-                     https://www.youtube.com/watch?v=dXwwe8EzTME 11.বাংলানিউজ            লিংক-                      https://www.youtube.com/watch?v=449Y3K3uMP8 12.Somoy TV            লিংক-                        https://www.youtube.com/watch?v=xCZRP0vVHq8 13. বরিশাল খবর         লিংক-                                       https://www.barisalkhabar24.com/onusondhaninews/%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%95-%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%95-%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B2%E0%A7%81%E0%A6%9F%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%9F,-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE-%E0%A6%86%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A7%8E 13. বরিশাল খবর         লিংক-      https://www.barisalkhabar24.com/onusondhaninews/%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%87-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A7%A8%E0%A7%AA-%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%96-%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B2:-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B2,-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A6%BE,-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0 14. বিডি২৪নিউজ                 লিংক-                    https://bd24news.com %e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%86%e0%a6%87%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%ad%e0%a7%81%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0/ 15.বিডি২৪নিউজ লিংক-    https://bd24news.com/%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%86%e0%a6%87%e0%a6%ac%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a7%81%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%b8/ 16.moheshpurnews         লিংক-                                    https://moheshpurnews24.com/%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AD%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%99%E0%A7%8D/    

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৮, ২০২৬ 0
জহির উদ্দিন স্বপন
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনে কারাভোগ করেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়ে নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও দুইবারের সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। বিপুল ভোটে বিজয় এবারের নির্বাচনে স্বপন পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা কামরুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৪৬ হাজার ২৬৩ ভোট। প্রায় ৪৯ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে তিনি সরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ১৮ বছর পর এ আসনে বিএনপির জয় দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ছাত্র রাজনীতি থেকে জাতীয় নেতৃত্বে বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার সরিকল গ্রামে জন্ম নেওয়া স্বপনের রাজনৈতিক উত্থান ছাত্র রাজনীতি থেকে। আশির দশকে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন এবং নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৩ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। পরবর্তীতে দলের মিডিয়া সেলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক, কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-র উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনে তার অগ্রণী ভূমিকা ছিল বলে দলীয় সূত্র জানায়। আন্দোলন চলাকালে তিনি একাধিকবার কারাভোগ করেন। সংসদীয় অভিজ্ঞতা স্বপন ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-1 আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি এবং সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিলেও পরে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূমিকা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও রয়েছে তার অভিজ্ঞতা। তিনি দুইবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। এছাড়া আইনপ্রণেতাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক পার্লামেন্টারিয়ানস ফর গ্লোবাল অ্যাকশনের এশিয়া অঞ্চলের সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষাজীবন ও প্রতিক্রিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা স্বপন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চাই। দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে দায়িত্ব পালন করব। আমাকে এই সুযোগ দেওয়ার জন্য বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানাই।” এলাকায় উৎসবের আমেজ দীর্ঘ ১৮ বছর পর এ আসনে বিএনপির জয় এবং এলাকার একজন নেতার মন্ত্রী হওয়ায় গৌরনদী–আগৈলঝাড়া এলাকায় উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ উদযাপন ও মিষ্টি বিতরণের খবর পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় বরিশাল অঞ্চলে বিএনপির রাজনৈতিক পুনরুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
তথ্যমন্ত্রী
ভয়মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করব: তথ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশে ভয়মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন নতুন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে শপথ নেয়। নতুন এই মন্ত্রিসভার সদস্য জহির উদ্দিন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।  বুধবার বেলা সোয়া একটার দিকে তিনি সচিবালয়ে আসেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। নিজের রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন। তিনি বলেন, তিনি নিজেও জানেন, ভয়ভীতির মধ্যে যাঁরা বাস করেন, তাঁদের কী ধরনের মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। বিশেষ করে গণমাধ্যমের মতো এ রকম পেশায় যাঁরা কাজ করেন। তাঁদের যদি সারাক্ষণ নজরদারির মধ্যে থাকতে হয়। জহির উদ্দিন আরও বলেন, ‘সমস্যা যেহেতু আমরা জানি, প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) যেহেতু তাঁর পরিকল্পনার মধ্যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিকল্পনা দিয়েছেন, তাহলে আমরা বাংলাদেশে একটা ভয়মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করব, ইনশা আল্লাহ।’

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ
পিআইবিতে মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের লুটপাট, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ

বাসসের এমডি ও ৪ শ সাংবাদিকের নামে ভূয়া বিল ভাউচার: নিয়োগ বানিজ্য, অনিয়ম ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)-কে ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের প্রথম পর্ব প্রকাশের পর নতুন করে সামনে এসেছে ভয়াবহ সব তথ্য। দ্বিতীয় পর্বে উঠে এসেছে ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে সাংবাদিক ভাতা উত্তোলন, একই দিনে একাধিক কর্মশালার নামে অর্থ আত্মসাৎ এবং একটি সুসংগঠিত আর্থিক নেটওয়ার্কের অভিযোগ।অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-এর হস্তক্ষেপ , নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন ও ফারুক ওয়াসিফের দ্রুত অপসারণ দাবি দাবি জানিয়েছেন। ফারুক ওয়াসিফ ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর  পিআইবির মহাপরিচালক পদে যোগদান করেই শুরু করেন দুর্নীতির বানিজ্য। বিধি বর্হিভূত ভাবে পরিচালক, উপ-পরিচালক, সিনিয়র রিসার্চ অফিসার, সিনিয়র প্রশিক্ষক সহ বিভিন্ন পদে অস্থায়ী ভাবে তার বন্ধু, বান্ধবী ও আত্মীয়দের-কে নিয়োগ দিতে থাকেন। এই নিয়োগের বিষয়ে পিআইবির স্থায়ী কর্মকর্তা কর্মচারী আপত্তি তুললে তাদের উপর খড়ক নেমে আসে। তিনি তখন দম্ভোক্তি করে বলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ের সচিব আমার খুবই কাছের লোক, পিআইবির বিষয়ে আমি যা বলব তাই হবে। আমার সিদ্ধান্তের বাহিরে বোর্ড ও মন্ত্রনালয়ের কিছু করার ক্ষমতা রাখে না। সুতরাং আমার কাজে যারা প্রশ্ন তুলবে তাদের চাকুরী নট করে দেব। নিয়োগ বানিজ্য:  ফারুক ওয়াসিফ বিধি বর্হিভূত ভাবে মোট ৩৯জন লোক অস্থায়ী ভাবে নিয়োগ প্রদান করেছেন। নিয়োগ পেয়েছে যারা তারা মহাপরিচালকের বন্ধু, ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ও আত্মীয়। বিভিন্ন জনের নিকট থেকে মোটা উৎকোচের বিনিময়ে চাকুরী স্থায়ী করার শর্তে অস্থায়ী ভাবে নিয়োগ প্রদান করেন। মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ এর চুরি, দুর্নীতি ও অবৈধ নিয়োগ নিয়ে আপত্তি জনালে হিসাব রক্ষক (চ.দা) মোঃ আলী হেসেন-কে বিনা অপরাধে চাকুরী থেকে অবসর দেয়া হয়। অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় পরিচালক (প্রশিক্ষক) চ.দা. পারভীন সুলতানা রাব্বী-কে  মন্ত্রনালয়ে ভুল বুঝিয়ে নিমকো-তে বদলী করা হয়। কাউকে অন্য শাখায় বদলী করা হয়। কাউকে কর্মহীন করে রাখা হয়েছে। পিআইবিতে বর্তমানে চাকুরী হারানোর বিষয়ে অনেকেই আতঙ্কে আছেন।  বোর্ড মিটিং-এ কিছু বোর্ড মেম্বার-কে ম্যানেজ করে ৩৯ জন অস্থায়ী-কর্মকর্তা কর্মচারীকে স্থায়ী করার জন্য বোর্ডেএ উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু ফারুক ওয়াসিফ-এর চালাকি বোর্ড মেম্বারদের চোখে ধরা পড়ে যায়। বোর্ড বলে দেয় বিধি মোতাবেক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন করে পুনরায় বোর্ডে উপস্থাপন করার জন্য। ফলে মহাপরিচালকের মাথা নষ্ঠ হয়ে যায়। নামে মাত্র নিয়োগ বিধি মানার জন্য সম্প্রতি তার নিয়োগকৃত অস্থায়ীদের স্থায়ী করার জন্য জরুরী ভিত্তিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। জরুরী সিলেকশন কমিটি ডেকে মোটা উৎকোচ গ্রহন করে স্থায়ী পদে নিয়োগ প্রদান করার জোর তৎপরতা চলছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়টি অতি গোপনে তার বন্ধু অস্থায়ী ভাবে নিয়োগকৃত পরিচালক (প্রশাসন) কাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার, ঘনিষ্ঠ বান্ধবী সহযোগী অধ্যাপক মনিরা শরমিন, উপ-পরিচালক (প্রশা:) মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরীর, সিনিয়র প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদ, সহ-সম্পাদক গোলাম মর্তুজা, অবৈধ হিসাব অফিসার মো. ফকরুল ইসলাম-কে নিয়ে সন্ধ্যার পর কাজ করে যাচ্ছেন। এই সব কাজে সহযোগিতা করছে পিআইবির সুবিধাভোগী কয়েকজন কর্মকর্তা এর মধ্যে এক জন অবসর গ্রহণকারী হিসাব অফিসার মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরী যাকে বর্তমান মহাপরিচালক বিধিবর্হিভূত ভাবে অস্থায়ী ভাবে উচ্চ বেতনে উপ-পরিচালক প্রশাসন পদে বসিয়ে অবৈধ ভাবে আয়ন ব্যয়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব দিয়ে চুরি, দুর্নীতি ও লুটপাট করে যাচ্ছেন। এই মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরীর মাধ্যমে  মহাপরিচালক ভূয়া বিল ভাউচার তৈরী করে সকল অবৈধ লেনদেন সকল চুরি, দুর্নীতি করে যাচ্ছেন। এ ছাড়া আইবাসের মাধ্যমে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের বরাদ্দকৃত বিভিন্ন খাতে অব্যয়িত এক কোটি বার লক্ষ টাকা অন্য ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন খাতে বরাদ্দকৃত এক খাতের টাকা অন্য খাতে ব্যয় করা হচ্ছে। অবৈধ ভূয়া আয়ন ব্যয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরীর-কে সহযোগীতা করছেন বর্তমান মহাপরিচালকের অস্থায়ী ভাবে নিয়োগকৃত পরিচালক (প্রশাসন) কাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার, সিনিয়র প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদ, সহ-সম্পাদক গোলাম মর্তুজা, অবৈধ হিসাব অফিসার মো. ফকরুল ইসলাম সহ কয়েকজন। মধ্যে পিআইবি-কে ধংসের অন্যতম কর্মকর্তা টেকনিক্যাল সুপারভাইজার আফতাবউদ্দিন ভূইয়া যিনি আওয়ামিলীগের নিয়োগকৃত। তিনি পিআইবির টেন্ডার সংক্রান্ত সকল কাজের হোতা বিভিন্ন প্রতিষ্টানের যোগসাজসে লক্ষ লক্ষ টাকা দুর্নীতি, লুটপাট ও অসাধু কর্মকান্ডের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন। তার পুরস্কার হিসেবে ফারুক ওয়াসিফ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ডিগ্রী না থাকা সর্ভেও তাকে নিয়োগ বিধি লঙন করে পরিচালনা বোর্ড-কে অবহিত না করে প্রকৌশলী পদে পদন্নোতি প্রদান করেন। প্রশাসনের সকলকাজ কর্ম তার মাধ্যমে চলে। কারন ডিজি যাদের নিয়োগ প্রদান করেছেন তারা কোন কাজ কর্ম জানেন না। এই দুর্নীতিবাজ টেকনিক্যাল সুপারভাইজার আফতাবউদ্দিন ভূইয়া সকল চুরি, দুর্নীতি, লুটপাট ও অসাধু কর্মকান্ডের একমাত্র সহযোগী। উল্লেখ্য, পিআইবির সকল অবৈধ লেনদেনের টাকা তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু সিনিয়র প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদ-কে অগ্রিম প্রদানের মাধ্যমে টাকা আত্মসাত করেছেন। একই দিনে ৪ কর্মশালা,কোটি টাকার ভুয়া বিল ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি-২০২৫ তারিখে তারুণ্যের উৎসব, জুলাই গণ অভ্যুত্থান: সংহতি ও প্রত্যাশা বিষয়ক সেমিনার, গণ আন্দোলনের দিশা ও দর্শণ বিষয়ক সেমিনারের নামে একই দিনে ৪-টি কর্মশালা দেখিয়ে তেইশ লক্ষ সাতানব্বই হাজার পাঁচ শত টাকার ভুয়া বিল ভাউচরের মাধ্যমে টাকা আত্মসাত করেছেন।  ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি-২০২৫ একই তারিখে তারুণ্যের উৎসব নামে পাচঁ লাখ তিয়াত্তর হাজার  টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। সঙ্গীত সন্ধ্যা নামে অনুষ্ঠান দেখিয়ে আদনান কাইয়ুম গ্রুফ লিডার নবজাগরাণ সঙ্গিত নিকেতন, বারিধারা ঢাকা নামে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার ভুয়া বিল করে টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে চার লক্ষ সাতষট্টি হাজার পাঁচশ টাকা আত্মসাত পিআইবিতে আধুনিক অডিটোরিয়াম ও সেমিনার রুম থাকা সত্বেও সাউন্ড সিস্টেম, আলোক সজ্জা দেখিয়ে বর্তমান বাংলা লিঃ নামে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ভুয়া বিল করে টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। দুই দিনের অনুষ্ঠানে দুই বার গেট সাজানোর নামে টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি-২০২৫ একই তারিখে অনুষ্ঠিত জুলাই অভ্যুত্থান চলচ্চিত্র, আলোক চিত্র ভিডিও প্রদর্শনীর নামে ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে চার লক্ষ সাতষট্টি হাজার পাঁচশ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। বাস্তবে এর কিছুই হয় নাই। গণ আন্দোলনের দিশা ও দর্শণ বিষয়ক সেমিনারের নামে ছয় লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার পাঁচশ টাকা আত্মসাত:  ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি-২০২৫ একই তারিখে অনুষ্ঠিত গণ আন্দোলনের দিশা ও দর্শণ বিষয়ক সেমিনারে ছয় লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার পাঁচশ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০ সাংবাদিককে ভাতা ও যাতায়াত পরিশোধের ভূয়া স্বাক্ষরের বিল করে টাকা আত্বসাত করা হয়েছে। এবং এই ভূয়া বিলের মধ্যে আলোচকদের সম্মানী দেখিয়েছেন মাহবুব মোর্শেদ ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, মো: মাঈনুল ইসলাম সাংবাদিক বাংলাভিশন, ওবায়দুল হক সহযোগী অধ্যাপক চ.বি, শহীদুল্লাহ লিপন অধ্যাপক, চ. বি, খান মোহাম্মদ বাহাদুর, অধ্যাপক সোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এদের নামে  ১ লাখ টাকা ভূয়া বিল বানিয়ে টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। বাস্তবে এই সব আলোচকরা অনুষ্ঠানে আসেই নাই। জুলাই গণ অভ্যুত্থান: সংহতি ও প্রত্যাশা বিষয়ক সেমিনারের নামে ৬ লাখ ৯১ হাজার পাচঁশত টাকা আত্মসাত: গত ১৮-১৯ ফেব্রুয়ারি-২০২৫ একই তারিখে অনুষ্ঠিত জুলাই গণ অভ্যুত্থান: সংহতি ও প্রত্যাশা বিষয়ক সেমিনারের নামে ৬ লাখ ৯১ হাজার পাচঁশত টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। এখানেও ২০০ জন সাংবাদিক ও ছাত্র দেখিয়ে তাদের ভূয়া স্বাক্ষর করে ভাতা ও যাতায়াত বিল এবং খাবার ও আনুসঙ্গিক ভুয়া বিল করে টাকা আত্বসাত করা হয়েছে। Camera & Crowd: Covering Revolution নামে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা দেখিয়ে ৫৫,০২৫ টাকা আত্মসাৎ: এ ছাড়া ২ সেপ্টেম্বর-২০২৫ তারিখে Camera & Crowd: Covering Revolution নামে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা দেখিয়ে ৫৫,০২৫ টাকা ফারুক ওয়াসিফের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সিনিয়র প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদ ভূয়া বিল ভাউচার দাখিলের মাধ্যমে উক্ত টাকা আত্মসাত করেন। এই বিল গত ৪ সেপ্টেম্বর-২০২৫ তারিখে দাখিল করে একদিনের মধ্যে অস্থায়ী ভাবে নিয়োগকৃত পরিচালক (প্রশাসন) কাজী মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার, উপ-পরিচালক (প্রশাঃ) মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরীর, হিসাব অফিসার মো. ফকরুল ইসলাম ও মহাপরচালক ফরুক ওয়াসিফ চূড়ান্ত ভাবে পাশ করেন। তদন্ত করলে মাহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ ১৫ মাসের দায়িত্ব পালন কালে কোটি কোটি টাকা অনিয়ম মন্ত্রনালয় ও পরিচালনা বোর্ড-কে বোকা বানিয়ে স্থায়ী ও দক্ষ কর্মকর্তা কর্মচারীদের সরিয়ে দিয়ে এই চুরি, দুর্নীতির মহা উৎসব চালিয়ে যাচ্ছেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়ের আমন্ত্রনে গত ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২২ নভেম্বর তারিখে সরকারী খরচে ফারুক ওয়াসিফ আজার বাইজান সফর করেন। এই সফরের আগের দিন কোন মন্ত্রনালয়ের কোন জিও, অনুমোদনের কোন কাগজ পত্র নোট ছাড়াই তার পিএ নামে ৬৫,০০০ টাকার চেক ইস্যু করে টাকা উত্তোলন করেন ফারুক ওয়াসিফ-কে প্রদান করা হয়। টেন্ডার ছাড়াই সংস্কার কাজ  এ ছাড়া কোন প্রয়োজন ছাড়াই ৬ষ্ঠ তলা ভবনের ৩য় তলায় টেন্ডার ছাড়া কিছু মেরামত ও পরিবর্তনের কাজ দেখিয়ে ৭০ লক্ষ টাকার বিল পরিশোধের নামে ৫০% টাকা আত্মসাত করেছে মহাপরিচালক। একই বিল্ডিং এর ২য় তলায় মেরামত ও পরিবর্তন দেখিয়ে ৯০ লক্ষ টাকার বিল পরিশোধের নামে ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।  অডিট নির্দেশ অমান্য ও তহবিল স্থানান্তর গত ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের সরকারী অডিট চলাকালীন সময়ে পিআইবির বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ২ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা জমা ছিল। সরকারী অডিটের নির্দেশ ছিল উক্ত টাকা সরকারী তহবিলে জমা করা। কিন্তু অবৈধ ভূয়া আয়ন ব্যয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরীর কু- পরামর্শে উক্ত টাকা সরকারী তহবিলে জমা না করে ডিজি ইচ্ছামত ব্যয় করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সুবিধা প্রাপ্ত কথিত বুদ্ধিজীবি মোন্তাছির মামুন, শাহরীয়ার কবীর, সাংবাদিক বোরহান কবীর, মোজাম্মেল বাবু, নাইমুল ইসলাম খান ও মুন্নিসাহা-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন ফারুক ওয়াসিফ, বন্ধু গোলাম মুর্শেদ, মুন্না, মনিরা শরমিন । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি আরিফিন সিদ্দিকের ঘনিষ্ঠ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক খোরশেদ আলমের তৃতীয় স্ত্রী সিফাত তাসনিম, সহ-সম্পাদক গোলাম মুতুর্জা সহ কয়েক জন অস্থায়ী আওয়ামী ঘরনার কর্মকর্তাকে নিয়ে পিআইবিতে স্থায়ী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জিম্মী করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। পিআইবির ডরমিটরিতে মদপান ও অসামাজিক কাজ: পিআইবির ডরমিটরিতে নিয়ম ভেঙ্গে সাংবাদিকদের থাকতে না দিয়ে মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, অস্থায়ী পরিচালক (প্রশাঃ) মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার ও অস্থায়ী উপ-পরিচালক (প্রশা:) নাছির উদ্দীন চৌধুরীর আত্মীয় স্বজনকে বিনা ভাড়ায় দিনের পর দিন থাকেন। এটা পিআইবির ইতিহাসে নজির বিহীন ঘটনা। মহাপরিচালক অফিস সময়ের পর পিআইবির ডরমিটরিতে প্রায়ই বন্ধু বান্ধবী নিয়ে মদ ও অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকেন। মাঝে মধ্যে মদ্যপান করে মাতাল অবস্থায় তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু অস্থায়ী কর্মকর্তাদের সহায়তায় তার নিজস্ব নিয়োগকৃত ড্রাইভার রাসেল বাসায় পৌছাইয়া দেন। এই ডিজি পিআইবির পরিবেশ-কে কলুষিত করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, ফারুক ওয়াসিফ মহাপরিচালক হিসাবে পিআইবিতে যোগদানের পর মদপানের জন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিকট থেকে টাকা হাওলাদ নিতেন। কিন্তু কখনো টাকা ফেরৎ দেন নাই। এখনো ৮/১০ জন তার নিকট টাকা পাওনা আছে সে টাকা ফেরৎ চাওয়ার কেহ সাহস পা না। বর্তমানে তার নিয়োগকৃত অস্থায়ী সিনিয়র প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদের নামে অগ্রিম দেখিয়ে ট্রেনিং, সেমিনার, মিটিং ও অফিস আপ্যায়ন এর ভুয়া বিল করে নিয়মিত মদপানের অর্থ সংগ্রহ করেন। এখন সে আর কারও কাছ থেকে হাওলাত নিতে হয় না। বিভিন্ন টেনিং ও সেমিনারে তার বাহিনী ও ফারুক ওয়াসিফ প্রশিক্ষনের অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদেরসাথে দুর্ব্যবহার করেন। সদ্য সমাপ্ত একটি সমাপানী অনুষ্ঠানেও এ ঘটনা ঘটে। তদন্ত ও  ফারুক ওয়াসিফের দ্রুত অপসারণ দাবি দুর্নীতিবাজ পিআইবির মহা পরিচালক ফারুক ওয়াসিফের দ্রুত অপসারণ ও দুর্নীতির তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেছেন তথ্যমন্ত্রীর নিকট সাংবাদবক সমাজ ও পিআইবির জাতীয়তাবাদ আদর্শের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।  দুর্নীতির তথ্যবলীর প্রমান হিসাবে ভূয়া বিল ভাউচারের কপিসহ সকল প্রমানাদী প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। অভিযুক্তদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা হবে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন জরুরি বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0