Brand logo light

তদন্ত প্রতিবেদন

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু
তনু হত্যা মামলা: তদন্ত অগ্রগতি জানতে পিবিআই কর্মকর্তাকে আদালতে তলব,, আবারও জাগছে বিচারের আশা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে আলোচিত তনু হত্যা মামলাটি প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশের অন্যতম অমীমাংসিত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক আদালতের তলব আদেশে আবারও নতুন করে আশার আলো দেখছে ভুক্তভোগী পরিবার—যেন দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান এবার সত্যিই ঘটতে পারে। আদালতের তলব, তদন্তে নতুন গতি? পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম-কে কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট আদালতে তলব করা হয়েছে। আদালত মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনি আদালতে লিখিত ব্যাখ্যা দেবেন—যদিও এখনই চার্জশিট বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের সম্ভাবনা নেই।এই তলব আদেশকে অনেকেই মামলাটির দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা কাটানোর একটি সম্ভাব্য সূচনা হিসেবে দেখছেন। ঘটনাপ্রবাহ: একটি নির্মম হত্যাকাণ্ডের শুরু ২০১৬ সালের ২০ মার্চ। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন তার মরদেহ পাওয়া যায় একটি জঙ্গলে—যা পুরো দেশকে নাড়িয়ে দেয়। তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু তারপরের গল্প—বারবার তদন্ত, কিন্তু কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নয়। তদন্তের ঘুরপাক: একাধিক সংস্থা, শূন্য ফলাফল মামলাটি প্রথমে থানা-পুলিশ, পরে ডিবি, এরপর সিআইডি—প্রতিটি সংস্থাই দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত চালায়। কিন্তু কেউই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। ২০২০ সালে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর একাধিক কর্মকর্তা দায়িত্ব নেন—বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম এই মামলার ষষ্ঠ তদন্তকারী। প্রায় চার বছর ধরে পিবিআই তদন্ত চালালেও এখনো পর্যন্ত কোনো চার্জশিট বা নির্দিষ্ট অভিযুক্ত সামনে আসেনি—যা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও হতাশা দুটোই রয়েছে। পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষা ও ক্ষোভ তনুর বাবা ইয়ার হোসেন-এর কণ্ঠে আজও একই আর্তি: “১০ বছর পার হয়ে গেছে। অসংখ্যবার সাক্ষ্য দিয়েছি। কিন্তু কোনো ফল পাইনি। মরার আগে মেয়ের হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।” তার এই বক্তব্য শুধু একটি পরিবারের নয়—বরং বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নও তুলে ধরে। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো এখনো অমীমাংসিত সেনানিবাসের মতো নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটল? ফরেনসিক ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অসঙ্গতি কেন আজও পরিষ্কার নয়? এতগুলো তদন্ত সংস্থা কেন ব্যর্থ হলো? প্রভাবশালী কোনো মহল কি তদন্তকে প্রভাবিত করেছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না মিললে তনু হত্যা মামলা শুধু একটি অপরাধ নয়—একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে থাকবে।   আদালতে তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতি এবং ব্যাখ্যা প্রদান—এটি হয়তো মামলার একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো, অতীতে এমন বহু “আশার মুহূর্ত” এসেছে, কিন্তু ফলাফল শূন্যই থেকেছে। তবুও, এক দশকের দীর্ঘ অন্ধকারে এই সামান্য আলোটুকুই এখন ভরসা তনুর পরিবারের। প্রশ্ন একটাই—এই আলো কি সত্যিই ন্যায়বিচারের পথে নিয়ে যাবে, নাকি আবারও মিলিয়ে যাবে অজানার অন্ধকারে?

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
বরিশাল-ঢাকা লঞ্চ
বরিশাল-ঢাকা ও ঢাকা-চাঁদপুর নৌপথে লঞ্চ ভাড়া বৃদ্ধি, কেবিন টিকিট কালোবাজারে : ভাড়া নির্ধারণে স্বচ্ছতার অভাব

ঈদ এলেই নৌপথে যাত্রীদের ভোগান্তি যেন এক নীরব বাস্তবতা। ভাড়া বৃদ্ধি, কেবিন সংকট, এবং কালোবাজারির অভিযোগ নতুন কিছু নয়—বরং বছর ঘুরে একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি। সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বরিশাল-ঢাকা ও ঢাকা-চাঁদপুর নৌরুটে ভাড়া নিয়ে অসংগতি এবং টিকিট বাণিজ্যের এক অপ্রকাশিত চক্র। ডেক ভাড়া: মৌসুমভিত্তিক ‘অঘোষিত নিয়ম’ যাত্রীদের অভিযোগ অনুযায়ী, বরিশাল-ঢাকা রুটে সারা বছর ডেক ভাড়া ২০০–২৫০ টাকা থাকলেও ঈদ এলেই তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩০০ টাকায়। যাত্রীদের ভাষ্যমতে— যাত্রী কম → ভাড়া কম যাত্রী বেশি → ভাড়া বেশি এই চর্চা এখন ‘অঘোষিত নিয়মে’ পরিণত হয়েছে।  সরকার নির্ধারিত ভাড়া বনাম বাস্তবতা সরকারি তালিকা অনুযায়ী— ডেক ভাড়া: ৪০৪ টাকা সিঙ্গেল কেবিন: ১,৬১৬ টাকা ডাবল কেবিন: ৩,২৩২ টাকা ভিআইপি কেবিন: ৭,০০০–১১,০০০ টাকা কিন্তু বাস্তবে— স্বাভাবিক দিনে কম ভাড়া নেওয়া হয় ঈদে তুলনামূলক বেশি নেওয়া হলেও সেটি ‘সরকারি ভাড়ার নিচে’ বলে দাবি কর্তৃপক্ষের কেবিন টিকিট: ‘সোনার হরিণ’ ও কালোবাজারি চক্র অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরও গুরুতর অভিযোগ— ✔ কাউন্টারে কেবিন টিকিট নেই ✔ কিন্তু দালালদের কাছে দ্বিগুণ দামে পাওয়া যাচ্ছে ✔ অফিস স্টাফদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ একাধিক যাত্রীর ভাষ্য— “কাউন্টারে নেই, কিন্তু টাকায় সব পাওয়া যায়।”  যাত্রীদের অভিজ্ঞতা যাত্রীদের মতে— স্বাভাবিক দিনে সিঙ্গেল কেবিন: ১,০০০ টাকা → ঈদে ১,২০০ ডাবল কেবিন: ২,০০০ → ২,৫০০ টাকা তাদের অভিযোগ— 👉 চাহিদা বাড়লে ভাড়া কমানোর বদলে বাড়ানো হচ্ছে 👉 এতে মানুষ বিকল্প হিসেবে সড়কপথে ঝুঁকছে  লঞ্চ মালিকদের যুক্তি: ‘লোকসান পুষিয়ে নেওয়া’ লঞ্চ মালিক ও সংশ্লিষ্টদের দাবি— সারা বছর লোকসান যাত্রী কম থাকায় কেবিন খালি থাকে ঈদ মৌসুমেই আয় হয় তাদের বক্তব্য— 👉 “স্বাভাবিক সময়ে কম ভাড়া নেওয়ায় এখন বেশি মনে হচ্ছে” 👉 “ঈদে কিছুটা বেশি না নিলে ব্যবসা টিকবে না” পদ্মা সেতুর প্রভাব লঞ্চ মালিকদের মতে— পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী কমেছে লোকসান বেড়েছে অনেক লঞ্চ বিক্রি পর্যন্ত করতে হয়েছে  ঢাকা-চাঁদপুর রুট: ১০% ছাড়েও অনিয়ম সরকার ঈদ উপলক্ষে ১০% ভাড়া কমানোর নির্দেশ দিলেও— বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি যাত্রীদের অভিযোগ— আগের ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে ছাড়ের কোনো বাস্তব প্রতিফলন নেই অন্যদিকে কর্তৃপক্ষ বলছে— 👉 “আগেই কম নেওয়া হতো, এখন সেটার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে”  নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি বিআইডব্লিউটি সূত্রে জানা গেছে— অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের লিখিত অভিযোগ কম কিন্তু মাঠপর্যায়ে নজরদারি দুর্বল ভাড়া কাঠামো নিয়েও কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে  মূল সমস্যা কোথায়? এই পুরো পরিস্থিতিতে তিনটি বড় সমস্যা স্পষ্ট— ১. ভাড়া নির্ধারণে স্বচ্ছতার অভাব সরকারি ভাড়া বনাম বাস্তব ভাড়া—দুটি আলাদা বাস্তবতা ২. কালোবাজারি সিন্ডিকেট অফিস-দালাল যোগসাজশের অভিযোগ ৩. দুর্বল নজরদারি আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই   ঈদ যাত্রা শুধু উৎসবের আনন্দ নয়—বরং অনেক যাত্রীর জন্য ভোগান্তির নাম। নৌপথে ভাড়া বৃদ্ধি, টিকিট সংকট এবং কালোবাজারি রোধে কার্যকর মনিটরিং ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এই চক্র ভাঙা কঠিন। যাত্রীদের প্রশ্ন এখন একটাই—  “নিয়ম আছে, কিন্তু বাস্তবায়ন কোথায়?”

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ভাটারার ওসি
ঢাকার ভাটারা থানার ওসি বদলি: ৩৩ লাখ টাকার মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেন, অনলাইন জুয়ার অভিযোগে তদন্ত

ঢাকা: রাজধানীর ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমাউল হক-কে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে ডিএমপি’র ডেভেলপমেন্ট বিভাগে বদলি করা হয়েছে। জানা গেছে, ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে ৩৩ লাখ টাকার অস্বাভাবিক অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে, যা অনলাইন জুয়ার লেনদেন বলে অভিযোগ ছিল। বুধবার (১৮ মার্চ) ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার-এর সই করা এক অফিস আদেশে ইমাউল হক-কে বদলির আদেশ দেওয়া হয়, তবে কারণ উল্লেখ করা হয়নি আদেশে। এর আগে ২০ ফেব্রুয়ারি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের একটি পোস্ট করেন।   ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ডিএমপির ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হকের ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে (01712254***) অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য মিলেছে। ২০২৫ এর ২০ ডিসেম্বর থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লেনদেন হওয়া এসব টাকার বেশির ভাগই আবার অনলাইন জুয়ায় ব্যয় হয়েছে। ওসির বিকাশ ও নগদ নম্বরে আসা এই অর্থের পরিমাণ ৩২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা, যা সাতটি বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে তার কাছে বিভিন্ন সময়ে পাঠানো হয়। তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ভাটারা থানার পেছনে অবস্থিত একটি বিকাশ/নগদের দোকান থেকে (রহিমের দোকান) গত দুই মাসে ওসির মোবাইল নম্বরে এসেছে ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। কনস্টেবল আমজাদের মোবাইল নম্বর থেকে এসেছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা। কনস্টেবল সাদ্দামের মোবাইল নম্বর থেকে এসেছে ৬ লাখ ৯১ হাজার ৬২৯ টাকা। এছাড়া গত দুই মাসে নাসিমের (বাড়িওয়ালা) নম্বর থেকে এসেছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০ টাকা। মদিনা এজেন্ট হাউজ থেকে এসেছে ২ লাখ ১৪ হাজার টাকা। এর বাইরে খালেক নামের এক ব্যক্তি ওসির বিকাশ/নগদে পাঠিয়েছেন ২ লাখ ৯০ হাজার ৮৫০ টাকা। লন্ড্রি পিকআপ অ্যান্ড ড্রপ নামে রেজিস্ট্রেশন করা একটি নম্বর থেকে ওসির ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে এসেছে ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯১০ টাকা। আর মিজানুর নামের আরেক ব্যক্তির নম্বর থেকে এসেছে ৫ লাখ ৪৯ হাজার ১২০ টাকা। পাশাপাশি ওসির ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও বিপুল অর্থ লেনদেনের তথ্য মিলেছে। ওসি তার মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পাওয়া এসব টাকা এপিআই (এপিআই) সিস্টেমের মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন জুয়ায়ও খরচ করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে ওই সময় ওসি ইমাউল জানান, অনলাইন জুয়ার বিষয় কোনো ধারণা নেই ও তার মোবাইল হ্যাক করে একটি গোষ্ঠী এই কাজ করেছে বলে দাবি করেন তিনি। অভিযোগ অস্বীকার করে ইমাউল হক আরও বলেন, এ ঘটনায় তিনি ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
চট্টগ্রামে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার পৌরকর কমিয়ে ১৮ লাখ টাকা !

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) আগ্রাবাদ এলাকায় অবস্থিত হোটেল সেন্টমার্টিন লিমিটেড-এর বার্ষিক পৌরকর সংক্রান্ত একটি ভয়াবহ অনিয়মের সত্যতা তদন্ত কমিটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, হোটেলের পৌরকর ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ১৮ লাখ টাকায় নেমেছে, যা চসিকের জন্য ৩ কোটি ১২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন-এর কাছে বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় এই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। তদন্ত কমিটি হোটেলের পৌরকর কমানোর পিছনে রাজস্ব বিভাগের দুই কর্মকর্তার যোগসাজশের প্রমাণ পায়। তদন্ত কমিটির গঠন ও দায়িত্ব চসিক ২৪ নভেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান সংস্থাটির আইন কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মুরাদ, আর সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আশুতোষ দে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সাব্বির রহমান সানি এবং শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা বিনতে আমিন। কমিটির মূল কাজ ছিল হোটেল সেন্টমার্টিন লিমিটেডের ‘পৌরকর কমানোর’ অভিযোগ যাচাই করা। তদন্তে উঠে আসে যে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে হোটেলের বার্ষিক পৌরকর প্রথমে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে দুই দফা কমিয়ে তা ১৮ লাখ টাকায় আনা হয়। পৌরকর কমানোর প্রক্রিয়ার বিশদ ২০১৭ সালে হোটেল কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত পৌরকরের বিরুদ্ধে আপিল করে। আপিলের পর ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার পৌরকর কমিয়ে ২২ লাখ টাকায় নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পুনরায় আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্তভাবে ১৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্ষিক মূল্যায়ন সংক্রান্ত আপিল once সিদ্ধান্ত হওয়ার পর তা আর পরিবর্তন করার বা পুনরায় আপিল দায়ের করার সুযোগ নেই। তবে তৎকালীন কর কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন বেআইনিভাবে আপিল কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। চসিকের আর্থিক ক্ষতি এই অনিয়মের কারণে চসিক ৩ কোটি ১২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। কমিটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, পৌরকরের সঠিক পুনর্মূল্যায়ন ও প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে যে কর কমানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বেআইনি। চসিকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অনিয়মের বিষয়টি প্রথম প্রকাশিত হয় সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। এরপরই চসিক তদন্ত কমিটি গঠন করে। অনিয়মের দায় এবং সম্ভাব্য পদক্ষেপ কমিটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। এছাড়া ভবিষ্যতে এমন ধরনের অনিয়ম রোধ করতে চসিককে আরও স্বচ্ছ ও নিয়মিত মূল্যায়ন ও তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে। চট্টগ্রামে কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বারবার দাবি করেছে যে, স্থানীয় সরকার ও কর প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মূল্যায়ন এবং স্বতন্ত্র তদন্ত প্রক্রিয়া চালু করা হবে। হোটেল সেন্টমার্টিন লিমিটেডের মতো বড় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর কর নির্ধারণ ও পরিশোধ প্রক্রিয়ার তদারকি চসিকের অগ্রাধিকারের মধ্যে থাকবে।   চট্টগ্রামে হোটেল সেন্টমার্টিন লিমিটেডে পৌরকর কমানোর এই ঘটনা স্থানীয় কর প্রশাসনের জন্য এক সতর্কবার্তা। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, রাজস্ব কর্মকর্তাদের বেআইনি ক্রিয়াকলাপ চসিকের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে। চট্টগ্রামবাসী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই প্রতিবেদন অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে এমন ধরনের অনিয়ম আর ঘটবে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৫, ২০২৬ 0
গোলাম ফারুক
বিআরটিসির ডিজিএম গোলাম ফারুকের বিরুদ্ধে ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ করপোরেশন (বিআরটিসি)-এর এক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়ম ও তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রশাসনিক মহলে। সংস্থাটির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) গোলাম ফারুকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ের তদন্ত প্রতিবেদনে মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকার আর্থিক গরমিলের তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর।   📌 বগুড়া ডিপো: রাজস্ব জমা না দেওয়ার অভিযোগ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, বগুড়া ডিপোর ইউনিট প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২ কোটি ৩৩ লাখ ১১ হাজার ৭৫০ টাকা রাজস্ব তহবিলে জমা হয়নি। তদন্ত নথিতে বলা হয়, দৈনন্দিন বাস পরিচালনার আয় বিভিন্ন চালক ও কর্মচারীর নামে বকেয়া দেখিয়ে তা সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া নিজস্ব চালকদের পরিবর্তে বহিরাগত চালক নিয়োগের মাধ্যমে পরিচালিত বাসের আয় থেকে ১ কোটি ১২ লাখ ৬২ হাজার ৬০০ টাকা জমা না হওয়ার অভিযোগও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। 📌 মোহাম্মদপুর ডিপো: বেতন ও জ্বালানি ব্যয়ে অনিয়ম ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোহাম্মদপুর বাস ডিপোতে কর্মরত অবস্থায় বেতন, রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি সংক্রান্ত ব্যয়ে ২৮ লাখ ৩৫ হাজার ৬০০ টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হলেও পরবর্তীতে তা নিষ্পত্তি হয়ে যায়। 📌 গাবতলী ডিপো: বকেয়া বেতন-ভাতার হিসাব ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ঢাকার গাবতলী ডিপোর ম্যানেজার থাকাকালে ৩৫ লাখ ৪৪ হাজার ৭৫ টাকা বেতন-ভাতা বাবদ পরিশোধ না করার তথ্য তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। 📌 ভুয়া বিল ও লিজ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম বিআরটিসির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানায়, বাস রক্ষণাবেক্ষণ ও খুচরা যন্ত্রাংশ ক্রয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, অকেজো বাস বিক্রয় এবং লিজ নবায়নে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেন, ট্রিপ শিট ও সার্ভিসিং ব্যয়ের হিসাবে গরমিলের মাধ্যমে নিয়মিত অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটছে। 📌 বিভাগীয় মামলা ও পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্ন তদন্ত নথিতে একাধিক শোকজ নোটিশ ও বিভাগীয় মামলার তথ্য থাকলেও গোলাম ফারুক পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে ডিজিএম পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৯ সালের জুন মাসে ইন্সট্রাক্টর পদে যোগ দিয়ে বর্তমানে তিনি সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। 📌 সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে গোলাম ফারুকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। বর্তমান চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।”   রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নিরীক্ষা ও তদন্ত ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও অভিযোগের কার্যকর নিষ্পত্তি না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণই প্রতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করার একমাত্র পথ।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0