Brand logo light

ভাইরাল নিউজ

প্রেমের টানে টাঙ্গাইলে চীনের স্কুলশিক্ষক
সোশ্যাল মিডিয়ার প্রেমের টানে টাঙ্গাইলে চীনা নাগরিক: ধর্মান্তর ও আন্তর্জাতিক বিয়ের প্রস্তুতি ঘিরে আলোচনার ঝড়

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভালোবাসার কোনো ভৌগোলিক সীমা বা ভাষার বাধা নেই—এই কথাটিই যেন নতুন করে আলোচনায় এসেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে চীন থেকে বাংলাদেশে এসে হাজির হয়েছেন ৩২ বছর বয়সী ওয়াং ইউলাই, যিনি পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক। রাঙ্গগুই প্রদেশ থেকে আসা এই তরুণের গন্তব্য ছিল মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা পূর্বপাড়া। সেখানে বসবাস করেন কলেজপড়ুয়া আনিকা আক্তার (২০)—যার সঙ্গে তার পরিচয় হয় প্রায় সাত মাস আগে একটি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপের মাধ্যমে। প্রথমে বন্ধুত্ব, পরে সম্পর্ক—শেষ পর্যন্ত তা রূপ নেয় দীর্ঘ দূরত্বের প্রেমে। ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে এসে ঘোষণা বিয়ের পরিকল্পনার এক মাসের ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে এসে ওয়াং ইউলাই স্থানীয়দের নজরে আসেন যখন তিনি সরাসরি আনিকার বাড়িতে পৌঁছে যান। ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও ভিড় তৈরি হয়। ওয়াং ইউলাই দাবি করেন, তিনি আনিকাকে “মনে-প্রাণে ভালোবাসেন” এবং বাংলাদেশের আইন মেনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ে করতে চান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে একসাথে জীবন গড়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু প্রতারণামূলক ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি সম্পূর্ণ বৈধ প্রক্রিয়ায় সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চান। পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর তিনি আনিকার পরিবারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে অতিথি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই ঘটনাটিকে কৌতূহল ও বিস্ময়ের চোখে দেখছেন। আনিকার অবস্থান ও সম্পর্কের দাবি কলেজপড়ুয়া আনিকা আক্তার জানান, প্রায় সাত মাস অনলাইনে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে গভীর বোঝাপড়া তৈরি হয়। তিনি বলেন, উভয়ের সম্মতিতেই তারা ভবিষ্যতে একসঙ্গে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আনিকার ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াং ইউলাই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তিনি চীনে স্থায়ী হওয়ার জন্য প্রস্তুত। প্রশাসনের বক্তব্য মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চীনা নাগরিকের বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা রয়েছে। তিনি স্থানীয় থানায় নথিপত্র প্রদর্শন করেছেন এবং বর্তমানে নিরাপদে পরিবারের হেফাজতে আছেন। তিনি আরও জানান, বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি কাঠামোর মধ্যেই পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।  আগেও ঘটেছে এমন ঘটনা স্থানীয়ভাবে এর আগে একই এলাকায় ভুয়া পরিচয়ে বিদেশি নাগরিক পরিচয় দিয়ে বিয়ের চেষ্টা করার একটি ঘটনা আলোচনায় আসে। তবে এবারের ঘটনায় প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী সকল নথি বৈধ থাকায় পরিস্থিতি ভিন্ন। ডিজিটাল প্রেম থেকে আন্তঃদেশীয় সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্ক এখন সীমান্ত পেরিয়ে বাস্তব জীবনে প্রবেশ করছে। তবে এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আইন, অভিবাসন এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের জটিল প্রক্রিয়া। এই ঘটনাও সেই প্রবণতারই একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ—যেখানে অনলাইন পরিচয় পৌঁছে গেছে সরাসরি পারিবারিক ও সামাজিক বাস্তবতায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১, ২০২৬ 0
নারায়ণগঞ্জের একটি খামারে এই মহিষটির নাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। ছবি-এএফপি
কোরবানির পশুর নামে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু: ভাইরাল সংস্কৃতি, রাজনীতি ও প্রতীকী প্রতিবাদের নতুন ভাষা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ঠিক পাঁচ বছর আগে, ২০২১ সালের মে মাসে, ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েল। সেই সংঘাতের আবহে বাংলাদেশের গাজীপুরের একটি খামারে কোরবানির পশুর নাম রাখা হয়েছিল “হামাস”। ঘটনাটি তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। পাঁচ বছর পর, ২০২৬ সালে এসে একই প্রবণতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নারায়ণগঞ্জের এক খামারে একটি ধবল মহিষের নাম রাখা হয়েছে “ডোনাল্ড ট্রাম্প”। আরেকটির নাম “নেতানিয়াহু”। অন্য একটি খামারে দেখা গেছে “মোদি মহিষ”। একই সময়ে ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে যশোরে একটি গরুর নাম রাখা হয়েছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার নেইমার–এর নামে। প্রথম দৃষ্টিতে বিষয়টি নিছক বিনোদন বা কৌতুক বলে মনে হলেও সমাজবিজ্ঞানী ও গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, এই নামকরণের পেছনে কাজ করছে সমসাময়িক রাজনীতি, ডিজিটাল মনোযোগের অর্থনীতি, ভাইরাল সংস্কৃতি এবং প্রতীকী প্রতিবাদের জটিল মনস্তত্ত্ব। মনোযোগের বাজারে কোরবানির পশু ডিজিটাল যুগে কোরবানির পশুর হাট এখন শুধু পশু কেনাবেচার জায়গা নয়; এটি ক্রমশ “অ্যাটেনশন ইকোনমি” বা মনোযোগের অর্থনীতির অংশে পরিণত হয়েছে। এই তত্ত্বের মূল ধারণা হলো— আধুনিক বিশ্বে তথ্যের অভাব নেই, বরং সবচেয়ে দুষ্প্রাপ্য সম্পদ হলো মানুষের মনোযোগ। ফলে যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে, অর্থনৈতিক সুবিধাও শেষ পর্যন্ত তার দিকেই প্রবাহিত হয়। নারায়ণগঞ্জের যে ধবল মহিষটির নাম রাখা হয়েছিল “ডোনাল্ড ট্রাম্প”, সেটি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও বিষয়টি আলোচিত হয়। খামার কর্তৃপক্ষের দাবি, মহিষটির মাথার সোনালি চুলের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর চুলের মিল থাকায় এই নামকরণ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর মহিষটির বাজারমূল্যও আলোচনায় আসে। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের মহিষটি লাইভ ওয়েটে বিক্রি হয়েছে কয়েক লাখ টাকায়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ঈদুল আজহায় দেশে ৯০ লাখের বেশি পশু কোরবানি হয়েছে। ফলে এটি শুধু ধর্মীয় অনুষঙ্গ নয়; বিশাল একটি প্রতিযোগিতামূলক অর্থনৈতিক বাজারও। সেই বাজারে আলাদা পরিচিতি তৈরি করতে এখন খামারিরা বেছে নিচ্ছেন ব্যতিক্রমী নাম, অদ্ভুত উপস্থাপনা এবং ভাইরাল কৌশল। ভাইরাল সংস্কৃতির নতুন বিপণন বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সার, ইউটিউব ব্লগার এবং ফেসবুকভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতারাই পশুর হাটের অনানুষ্ঠানিক প্রচারক হিসেবে কাজ করছেন। কোনো পশুর অস্বাভাবিক আকার, রঙ বা নাম দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অ্যালগরিদমও কৌতূহলোদ্দীপক ও বিতর্কিত কনটেন্টকে দ্রুত মানুষের ফিডে পৌঁছে দেয়। ফলে “ট্রাম্প”, “নেতানিয়াহু” বা “মোদি” নামের পশু বাস্তবে যতটা না বাজারে আলোচনার বিষয়, তার চেয়ে বেশি ডিজিটাল দর্শকসংখ্যা ও অনলাইন প্রতিক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। এটি মূলত “ভাইরাল মার্কেটিং”–এর একটি রূপ, যেখানে মানুষের আবেগ, রাজনৈতিক অনুভূতি, হাস্যরস ও কৌতূহলকে ব্যবহার করে পণ্যের প্রতি আগ্রহ তৈরি করা হয়। শুধু বিনোদন নয়, রাজনৈতিক প্রতীকও বিষয়টি কেবল বিপণনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে মনে করেন গবেষকরা। কারণ, এই নামগুলোর সঙ্গে সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও জড়িয়ে আছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন মন্তব্যে দেখা গেছে, অনেকে “ট্রাম্প” নামের মহিষকে ঘিরে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ করেছেন। কেউ লিখেছেন, “মেক ক্যাটল গ্রেট অ্যাগেইন”— যা ট্রাম্পের বহুল পরিচিত রাজনৈতিক স্লোগানের অনুকরণ। আবার কেউ কৌতুক করে লিখেছেন, “মহিষটি ট্রাম্পের চেয়ে কম সহিংস।” এসব প্রতিক্রিয়া দেখায়, পশুর নামকে কেন্দ্র করে মানুষ নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান, ক্ষোভ কিংবা বিদ্রূপ প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন। ‘কার্নিভালেস্ক’: উল্টে যাওয়া ক্ষমতার প্রতীক রাশিয়ান দার্শনিক মিখাইল বাখতিন তাঁর “কার্নিভালেস্ক” তত্ত্বে বলেছিলেন, মেলা বা কার্নিভালের পরিবেশে সমাজের প্রচলিত ক্ষমতার কাঠামো সাময়িকভাবে উল্টে যায়। সেখানে রাজা সাধারণ মানুষের হাস্যরসের চরিত্রে পরিণত হন, আর সাধারণ মানুষ প্রতীকী ক্ষমতা অর্জন করে। বাংলাদেশের কোরবানির পশুর হাটকে অনেক বিশ্লেষক এখন সেই “কার্নিভালেস্ক” বাস্তবতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। কারণ, একজন সাধারণ খামারি যখন তার পশুর নাম “ডোনাল্ড ট্রাম্প” বা “নেতানিয়াহু” রাখেন, তখন তিনি বিশ্ব রাজনীতির ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের প্রতীকীভাবে এক গৃহপালিত প্রাণীর পর্যায়ে নামিয়ে আনেন। যে প্রাণীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়, বাজারে প্রদর্শন করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত কোরবানি দেওয়া হয়। এটি সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়; বরং ব্যঙ্গ, হাস্যরস ও প্রতীকের মাধ্যমে প্রকাশিত এক ধরনের “লুকায়িত প্রতিরোধ”। ইতিহাসেও ছিল পশুকেন্দ্রিক রাজনৈতিক ব্যঙ্গ বিশ্ব ইতিহাসে রাজনৈতিক ব্যঙ্গের ক্ষেত্রে পশুর ব্যবহার নতুন নয়। ফরাসি বিপ্লবের সময় রানি মেরি অ্যান্টোনেট–কে বিভিন্ন পশুর রূপে চিত্রিত করা হতো। রাজপরিবারকে শুকরের পাল হিসেবেও উপস্থাপন করা হয়েছিল, যা ছিল লোভ ও ভোগবিলাসের প্রতীক। সাহিত্যে এর সবচেয়ে বিখ্যাত উদাহরণ পশু খামার। ব্রিটিশ লেখক জর্জ অরওয়েল তাঁর উপন্যাসে খামারের পশুদের মাধ্যমে স্বৈরাচারী রাজনৈতিক ব্যবস্থার রূপক চিত্র তুলে ধরেছিলেন। সম্প্রতি জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থানকে ব্যঙ্গ করতে পরিবেশবাদীরা একটি উভচর প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নামও রেখেছেন “ডার্মোফিস ডোনাল্ডট্রাম্পি”। ধর্ম, বাজার ও ডিজিটাল সংস্কৃতির সংমিশ্রণ বাংলাদেশের কোরবানির পশুর নামকরণের এই প্রবণতা দেখাচ্ছে, ধর্মীয় উৎসবও এখন ডিজিটাল সংস্কৃতি ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক আলোচনার বাইরে নয়। একদিকে এটি ব্যবসায়িক কৌশল, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর মনোযোগের লড়াই। একইসঙ্গে এটি সাধারণ মানুষের প্রতীকী ভাষায় ক্ষমতাবানদের নিয়ে মন্তব্য করারও একটি উপায়। ফলে “ট্রাম্প মহিষ” বা “নেতানিয়াহু গরু” কেবল ভাইরাল কনটেন্ট নয়; বরং এটি এমন এক সাংস্কৃতিক বাস্তবতা, যেখানে ধর্মীয় উৎসব, বাজার অর্থনীতি, সামাজিক মাধ্যম ও রাজনৈতিক ব্যঙ্গ একসঙ্গে মিশে যাচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬ 0
ওমানে গাড়ির ভেতরে চার ভাইয়ের মৃত্যু: বিয়ের প্রস্তুতি থেকে কফিনবন্দি প্রত্যাবর্তন ,রাঙ্গুনিয়ায় একসঙ্গে জানাজা ও দাফনে শোকের মাতম

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার লালানগর গ্রামে ১৫ মে ছিল উৎসবের অপেক্ষা। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান থেকে দেশে ফেরার কথা ছিল চার ভাইয়ের। পরিবারের সদস্যরা প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন দুই ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন ঘিরে। কিন্তু সেই প্রতীক্ষা শেষ হলো চারটি কফিনে। ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ বুধবার (২০ মে) নিজ গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সকাল থেকে হাজারো মানুষের কান্না, আহাজারি ও শোকের মাতমে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মারা যাওয়া চার ভাই হলেন শাহিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম ও রাশেদুল ইসলাম। তারা সবাই চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাদের বাবা মৃত জামাল উদ্দিন। চার ভাইয়ের মধ্যে রাশেদুল ও শাহিদুল বিবাহিত ছিলেন। অন্য দুই ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। একসঙ্গে চার ভাইয়ের জানাজা বুধবার সকাল ১১টায় হোছনাবাদ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে চার ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। কয়েক হাজার মানুষ এতে অংশ নেন। জানাজায় ইমামতি করেন নিহতদের একমাত্র জীবিত ছোট ভাই হাফেজ মুহাম্মদ এনামুল হক। ভাইদের জন্য দোয়া চাইতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। ভাঙা কণ্ঠে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে বলেন, “আমার ভাইদের আপনারা ক্ষমা করে দিয়েন। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।” জানাজা শেষে চার ভাইকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাঙ্গুনিয়ার ইতিহাসে একসঙ্গে চার ভাইয়ের জানাজা ও দাফনের মতো ঘটনা আগে কেউ দেখেনি। স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াকুব আলী বলেন, “একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যু কতটা মর্মান্তিক, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।” মায়ের কাছ থেকে এক সপ্তাহ গোপন রাখা হয় মৃত্যুর খবর পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহতদের মা খাদিজা বেগমের কাছ থেকে প্রায় এক সপ্তাহ মৃত্যুর খবর গোপন রাখা হয়েছিল। বুধবার ভোরে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর তাকে বিষয়টি জানানো হয়। কফিনবন্দি ছেলেদের মরদেহ দেখে তিনি বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। ঘরের ভেতরে আহাজারি করছিলেন নিহত রাশেদুলের স্ত্রী কুলসুমা আক্তার ও শাহিদুলের স্ত্রী শান্তা আক্তারও। স্থানীয় চিকিৎসক কাজী মনসুর আহমেদ জানান, সকাল থেকে শোক ও মানসিক আঘাতে খাদিজা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। প্রবাস জীবনের সাফল্য, হঠাৎ মৃত্যুর ট্র্যাজেডি স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১১ বছর আগে পরিবারের মেজো ভাই প্রথমে ওমানে যান। পরে একে একে অন্য ভাইদেরও সেখানে নিয়ে যান। তারা মিলে গাড়ি ওয়াশিংয়ের দুটি ব্যবসা গড়ে তুলেছিলেন এবং আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়ে ওঠেন। স্থানীয় বাসিন্দা এম এ মতিন বলেন, “অনেক কষ্ট করে তারা দাঁড়িয়েছিল। পরিবারের অবস্থাও বদলে দিয়েছিল। কিন্তু একসঙ্গে চার ভাইয়ের এভাবে চলে যাওয়া কেউ মেনে নিতে পারছে না।” পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১৫ মে দুই অবিবাহিত ভাইয়ের বিয়ের কেনাকাটা ও দেশে ফেরার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তারা একসঙ্গে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলেন। এরপরই ঘটে বিপর্যয়। কীভাবে মৃত্যু হলো? গত ১৩ মে রাতে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করে রয়্যাল ওমান পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় এসির এক্সহস্ট সিস্টেম থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস গাড়ির ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় সেই বিষাক্ত গ্যাস শ্বাস নেওয়ার ফলে তাদের মৃত্যু হতে পারে। কার্বন মনোক্সাইড একটি বর্ণহীন ও গন্ধহীন বিষাক্ত গ্যাস, যা বন্ধ পরিবেশে দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাড়ির বায়ু চলাচল ব্যবস্থা বা এক্সহস্ট লাইনে ত্রুটি থাকলে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিমানবন্দর থেকে গ্রামের পথে মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত ৮টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে চার ভাইয়ের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ ফ্রিজার ভ্যানে করে মরদেহগুলো রাঙ্গুনিয়ায় নিয়ে আসা হয়। বুধবার ভোরে মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর পর থেকেই মানুষের ঢল নামে। শুধু রাঙ্গুনিয়া নয়, আশপাশের রাউজান, ফটিকছড়ি, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও সীতাকুণ্ড থেকেও মানুষ ছুটে আসেন শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আমির হোসেন সুমন বলেন, “চার ভাইকে একই সারিতে কবর দেওয়া হয়েছে। পুরো এলাকা শোকে স্তব্ধ।” রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান জানান, মরদেহ ভোরে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২১, ২০২৬ 0
কথিত স্বামী-স্ত্রী
বরিশালে ‘হানিট্র্যাপ’ চক্র: আটক দুইজন রিমান্ডে চেয়ে আবেদন, জড়িত থাকতে পারে আরও সদস্য

বরিশাল মহানগরীতে কথিত ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের মাধ্যমে এক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আটক নারীসহ দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। মহানগর কোতয়ালী থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুৎফর রহমান জানান, গত ৫ মে ইউনুছ আলী নামে এক ব্যক্তিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। পরে তার কাছ থেকে নগদ ২৩ হাজার টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আহত অবস্থায় তাকে সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। ঘটনার পর ভিকটিম থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় অভিযুক্ত নারী ও তার সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটককৃতরা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী দাবি করলেও পুলিশের ভাষ্য, তারা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের সদস্য হতে পারে। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা বিভিন্ন ধরনের অসংলগ্ন তথ্য দিয়েছে। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, কললিস্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। একই ধরনের আরও অভিযোগ রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে আটককৃতদের দাবি, তারা একতরফাভাবে অভিযুক্ত হচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, “যদি আমরা অপরাধী হই, তাহলে নারীলোভ দেখিয়ে যোগাযোগ করা ওই ব্যক্তিকেও আইনের আওতায় আনা উচিত।” তবে পুলিশ বলছে, কোনো ব্যক্তি অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর চেষ্টা করলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা ছিনতাই করার সুযোগ নেই। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সম্পর্ক ও অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে গোপন সাক্ষাৎ বাড়ার কারণে এ ধরনের অপরাধও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সাইবার নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। কোতয়ালী থানা সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে সংঘবদ্ধ প্রতারণা ও ছিনতাই চক্রের বিরুদ্ধে পৃথক ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১১, ২০২৬ 0
নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা তারেক রহমানের
বিয়ের অনুষ্ঠানের কথা ভেবে আগেই শেষ হলো বিএনপির কর্মসূচি, নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা তারেক রহমানের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : একই মিলনায়তনে নির্ধারিত ছিল রাজনৈতিক কর্মসূচি ও একটি বিয়ের আয়োজন। অনুষ্ঠানসূচির সংঘাতের বিষয়টি জানার পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্ধারিত সময়ের আগেই দলীয় কর্মসূচি শেষ করার নির্দেশ দেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় ওই মিলনায়তনে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। যাতে নবদম্পতি ও অতিথিদের কোনো ধরনের অসুবিধার মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করা হয়। পরে তারেক রহমান নবদম্পতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি বর-কনেকে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অতিথিদের অনেকেই এ আচরণকে ইতিবাচক ও মানবিক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেও সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত আয়োজন ও অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয় বহন করে। এ ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই এটিকে সৌজন্য ও সামাজিক সংবেদনশীলতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১০, ২০২৬ 0
রংপুরে এসে প্রেমিকাকে বিয়ে করলেন চীনা যুবক
সামাজিক মাধ্যমে পরিচয়: চীন থেকে প্রেমের টানে রংপুরে, দেড় মাসেই বিয়ে

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রংপুরের মিঠাপুকুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা এক প্রেমের সম্পর্ক দেড় মাসের মধ্যেই বিয়েতে রূপ নিয়েছে। সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে এসে এক বাঙালি তরুণীকে বিয়ে করেছেন এক চীনা যুবক—যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের হামিদপুর এলাকার বাসিন্দা আনিকা আক্তারের সঙ্গে প্রায় দেড় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হয় চীনা নাগরিক মা লিয়াংহুইয়ের। অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। এই সম্পর্কের সূত্র ধরেই গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বাংলাদেশে আসেন মা লিয়াংহুই। এরপর তিনি আনিকার গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করেন। পরদিন শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে তাদের বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় কৌতূহল ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়। স্থানীয়রা ভিনদেশি ওই যুবককে একনজর দেখতে আনিকার বাড়িতে ভিড় করেন। আনিকা আক্তার স্থানীয় বাসিন্দা তৌহিদুল ইসলামের মেয়ে। বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, একজন বিদেশি নাগরিক ওই এলাকায় অবস্থান করছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার কথা জানিয়েছেন। বর্তমানে মা লিয়াংহুই তার স্ত্রীর বাড়িতেই অবস্থান করছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও টিকটকার প্রিয়া খান (২২)
টিকটকার প্রিয়া খান, মা ও ভাই গ্রেপ্তার: প্রতারণা ও মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও টিকটকার প্রিয়া খান, তার মা হাফসা আখতার এবং ভাই স্বাধীন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নেত্রকোনা জেলার একটি মামলার ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাত ১টার দিকে তাদের আশুলিয়া মডেল থানায় নেওয়া হলে সেখানে বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রিয়া খান তার মা ও ভাইয়ের সহায়তায় বিভিন্ন উঠতি রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে অর্থ আদায় করতেন। এ ধরনের অন্তত ৪২টি অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলেও জানা গেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা নিয়মিত বাসা পরিবর্তন করে নতুন ‘টার্গেট’ নির্ধারণ করতেন। সম্পর্ক স্থাপনের পর তা ব্যবহার করে মামলা ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায় করাই ছিল তাদের মূল কৌশল। আশুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, প্রিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও নারী হওয়ায় অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করতে সাহস পাননি। তিনি আরও জানান, নেত্রকোনার আকপাড়া থানার একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের হেফাজতে নিতে ইতোমধ্যে আশুলিয়ায় পৌঁছেছেন। এদিকে আকপাড়া থানার এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, ওই মামলার বাদী তমা আক্তার। তার অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রিয়া খান, তার মা ও ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই থানায় তাদের বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
সিমরিন লুবাবা।
১৫ বছর বয়সে বিয়ে করলেন শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবা

বাংলাদেশের ছোট পর্দার একসময়ের পরিচিত মুখ ও আলোচিত শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবা নতুন জীবনের পথে পা রেখেছেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই বিয়ের খবর নিশ্চিত করেন লুবাবা। একটি ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ। দুটি আত্মা, এক কিবলা—দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য। আল্লাহ আমাকে একজন দ্বীন শেখার সঙ্গী উপহার দিয়েছেন।” এর আগে থেকেই শোবিজ অঙ্গন থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্টে নিজের জীবনের আধ্যাত্মিক পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন লুবাবা, যা তার অনুসারীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়। বিয়ের ঘোষণার পর তার পোস্টে শুভেচ্ছার বন্যা বইতে দেখা যায়। অনেকেই তার নতুন জীবনের জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানিয়েছেন। একজন মন্তব্য করেন, “মাশাআল্লাহ, আল্লাহ তোমাদের দাম্পত্য জীবন রহমতের চাদরে মুড়িয়ে রাখুন।” আরেকজন লেখেন, “আল্লাহ আপনাদের ভালো রাখুক।” অন্য এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, “আল্লাহ যার হেদায়াত চান তাকে কেউ আটকাতে পারে না।” আবার কেউ কেউ কম বয়সে বিয়েকে ‘সুন্নাহ পালন’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রশংসাও করেছেন। উল্লেখ্য, শিশু শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পাওয়া লুবাবা সাম্প্রতিক সময়ে ব্যক্তিগত জীবন ও ধর্মীয় অনুশীলনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তার এই পরিবর্তন এবং অল্প বয়সে বিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ঢাকা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী জুনায়েদ আবু ইয়াসির
ঢাকা ওয়াসা : নির্বাহী প্রকৌশলী জুনায়েদ আবু ইয়াসিরের দুর্নীতি, সিন্ডিকেট ও ক্ষমতার অপব্যবহার

ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা :  ঢাকা ওয়াসার সাবেক এমডি প্রকৌশলী তাকসিম এ খান এবং তার ঘনিষ্ঠ সহোচর, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের নেতা জুনায়েদ আবু ইয়াসিরের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্নীতির গভীর দিক উন্মোচন করেছে। জানাযাচ্ছে, জুনায়েদ আবু ইয়াসির দীর্ঘদিন ঢাকা ওয়াসার প্রকল্পে নির্বাহী প্রকৌশলী এবং মডস্ জোন-৯-এর নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করার সময় প্রকল্পকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। তিনি রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে আউটসোর্সিং নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্য পরিচালনা করেছেন।   সম্পদ ও আয়কর ফাঁকি সম্পদ ধরণ অবস্থান / বিবরণ মন্তব্য ফ্ল্যাট খিলগাঁও, সেবা হোল্ডিং ৫ তলা (২টি) অবৈধ ও বৈধ উভয়ভাবে দখল ফ্ল্যাট মোহাম্মদপুর (১টি) দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ প্লট রাজধানী ও গ্রামের বাড়ি উচ্চমূল্যবান ভূমি প্রাইভেট কার ঢাকার বিভিন্ন এলাকা অসংখ্য গাড়ি ব্যাংক এফডিআর নিজের ও পরিবারের নামে কোটি টাকা আয়কর ফাঁকি জুনায়েদ আবু ইয়াসির তার সম্পদের তথ্য গোপন করে সরকারকে নিয়মিত আয়কর ফাঁকি দিচ্ছেন।  সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক প্রভাব জুনায়েদ আবু ইয়াসিরের সিন্ডিকেট কাঠামো (ভিজ্যুয়াল চার্টের জন্য প্রস্তুত): জুনায়েদ আবু ইয়াসির (নির্বাহী প্রকৌশলী, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ) ↳ তাকসিম এ খানের সহচর ও সিন্ডিকেটের ডান হাত ↳ আউটসোর্সিং নিয়োগ ও বদলি-বাণিজ্য ↳ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হিসেবে আন্দোলন দমন ও অর্থায়ন ↳ ঢাকা ওয়াসার প্রকল্পে অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দু সিন্ডিকেটের মাধ্যমে: আউটসোর্সিং নিয়োগে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্য রাজনৈতিক দাপটের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয় অব্যাহত প্রকল্প ও দুর্নীতি ঢাকা এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পে জুনায়েদ আবু ইয়াসিরের ভূমিকা: প্রকল্প পদ সময়কাল কর্মকাণ্ড মন্তব্য সহকারী প্রকৌশলী - প্রকল্পে যোগদান রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে পদোন্নতি উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী - দায়িত্ব পালন অনিয়ম-দুর্নীতির শুরু নির্বাহী প্রকৌশলী - প্রকল্প পরিচালনা দুর্নীতির আখড়া, সিন্ডিকেটের কেন্দ্রবিন্দু প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা লোপাট ও ক্ষমতার অপব্যবহার, জনসেবায় বাধা। প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক প্রভাব জুনায়েদ আবু ইয়াসির তাকসিম এ খানের দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের প্রধান সহযোগী। বিএনপি-বিরোধী রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ছাত্র আন্দোলন দমন। রাজনৈতিক ক্ষমতা বজায় রাখতে সরকারি প্রকল্পের সম্পদ ব্যবহার। পদত্যাগের পরও প্রভাবশালী অবস্থানে বহাল তবিয়তে।   জুনায়েদ আবু ইয়াসির ও তাকসিম এ খানের সিন্ডিকেট শুধু ঢাকা ওয়াসা নয়, বাংলাদেশের সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির প্রতীক। কোটি কোটি টাকার লোপাট, আউটসোর্সিং বাণিজ্য ও রাজনৈতিক প্রভাব এই প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে। “ডাকো পানি সাপ্লাইয়ের নামের আড়ালে কোটি কোটি টাকার লোপাট, সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক প্রভাব! কোন কর্মকর্তা জবাব দেবে?”   জুনায়েদ আবু ইয়াসিরের সম্পদ ও দুর্নীতি সম্পদ ধরণ পরিমাণ / অবস্থান মন্তব্য ফ্ল্যাট খিলগাঁও ৫ তলা (২টি) অবৈধ ও বৈধ মিলিত ফ্ল্যাট মোহাম্মদপুর (১টি) সেবা হোল্ডিং ৫ তলা প্লট ঢাকার বিভিন্ন এলাকা + গ্রামের বাড়ি উচ্চমূল্যবান ভূমি প্রাইভেট কার ঢাকার বিভিন্ন এলাকা বহু গাড়ি ব্যাংক এফডিআর নিজের ও পরিবারের নামে কোটি টাকা আয়কর ফাঁকি  জুনায়েদ আবু ইয়াসির ঢাকা ওয়াসার সবচেয়ে বড় প্রকল্প তথা ঢাকা এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পে নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে ছিলেন। সম্প্রতি তাকে ঢাকা ওয়াসার মডস্ জোন-৯ এ নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। আওয়ামী রাজনৈতিক প্রভাব বলয়ে থেকে ঢাকা ওয়াসার এত বড় প্রকল্পে সহকারি প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করার পর পদোন্নতি পেয়ে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও পরে নির্বাহী প্রকৌশলী হয়ে একই জায়গায় দীর্ঘ সময় কর্মরত ছিলেন। তাকসিমের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকল্পকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0