Brand logo light

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা

হাইফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইসরায়েলের হাইফায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ভবন ধ্বংস

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফাতে ইরানের সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। আরও দেখুন ফটো গ্যালারি অনলাইন চাকরির প্ল্যাটফর্ম স্বাস্থ্য বীমা ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলায় একটি আবাসিক ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া দেশটির জরুরি চিকিৎসা সেবার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। ইসরায়েলের হাইফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ভবন ধ্বংস ফ্রান্সের কাছ থেকে দুঃসংবাদ পেল ইসরায়েল ঘটনার পর এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে ফ্রান্স জানিয়েছে, ইসরায়েলকে তারা কোনো আক্রমণাত্মক অস্ত্র সরবরাহ করছে না। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কোনো অস্ত্র দেওয়া হচ্ছে না। রোববার প্রেসটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্যাথরিন ভোত্রাঁ এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে বলেন, “না, ফ্রান্স ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ করছে না। ” তবে তিনি উল্লেখ করেন, ফ্রান্স কিছু উপাদান বিক্রির অনুমতি দিয়েছে, যা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়। যেমন, আয়রন ডোমে ব্যবহারের জন্য প্রজেক্টাইল। সে সঙ্গে কিছু সরঞ্জাম রয়েছে যার একটি অংশ ফরাসি সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনেও ব্যবহৃত হয়। এর কয়েকদিন আগেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসনে অংশ নেবে না ফ্রান্স।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ইরানের ‘হিট লিস্টে’ ৮ সেতু!
ইরানের কারাজে গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে হামলা, নিহত ৮: প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি তেহরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের কারাজ শহরে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল আলোচিত সেতু ধ্বংস হয়েছে। এতে কমপক্ষে আটজন নিহত ও ৯৫ জন আহত হয়েছে। হামলার পরপরই কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশ ও জর্ডানের আটটি প্রধান সেতুর একটি হিট লিস্ট প্রকাশ করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দেশটির সর্বোচ্চ বি১ সেতুতে দুই দফায় এই হামলা চালানো হয়। ১৩৬ মিটার উঁচু নির্মাণাধীন এ সেতুটি তেহরানকে পশ্চিমের শহর কারাজের সঙ্গে সংযুক্ত করছে। হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও পোস্ট করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সবচেয়ে বড় সেতুটি ধ্বংস হয়ে গেছে। বেশি দেরি হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে রাজি হওয়া উচিত তেহরানের। প্রকাশিত হিট লিস্টে উল্লেখিত সেতুগুলো হলো-কুয়েতের শেখ জাবের আল-আহমাদ আল-সাবাহ সমুদ্র সেতু, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেখ জায়েদ সেতু, আল মাকতা সেতু ও শেখ খলিফা সেতু, সৌদি আরব-বাহরাইন সংযোগকারী কিং ফাহদ কজওয়ে সেতু, জর্ডানের কিং হুসেন ব্রিজ, দামিয়া ব্রিজ ও আবদুন ব্রিজ। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, নির্মাণাধীন বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারবে না। বরং এটি শত্রুর নৈতিক পতন ও চরম পরাজয়ের বার্তা বহন করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
রকেট হামলা
ইরানের শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ইরান দাবি করেছে যে তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি জানিয়েছে, বুধবার (১ এপ্রিল) চালানো এই অভিযানে ১০০টিরও বেশি ভারী ক্ষেপণাস্ত্র, আক্রমণকারী ড্রোন এবং অন্তত ২০০টি রকেট ব্যবহার করা হয়েছে। আল-জাজিরা-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলা ইরান এবং তাদের মিত্র “প্রতিরোধ ফ্রন্ট” যৌথভাবে পরিচালনা করেছে। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল-এর বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা, পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। তাদের দাবি, বাহরাইন-এ অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটি এবং কুয়েত-এর আল-আদিরি ঘাঁটিতে থাকা একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ইউনিট লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে একটি হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে বলেও তারা দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, এই হামলা “পূর্ণ তীব্রতা ও শক্তি” নিয়ে অব্যাহত থাকবে। তবে এই হামলার বিষয়ে এখনও যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পেল ইরানের
হরমুজ প্রণালি পারের অনুমতি পেল আটকে থাকা বাংলাদেশের ৬ জাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে আটকে থাকা বাংলাদেশের ছয়টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পেয়েছে। ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিল এ অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত। বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকায় ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা ছয়টি বাংলাদেশি জাহাজকে ফিরে আসার সুযোগ দিতে প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জাহাজগুলো দেশে ফিরিয়ে আনতে ইরান ও বাংলাদেশ যৌথভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, জাহাজে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান প্রসঙ্গে কিছুটা অসন্তোষের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি যুদ্ধের বিষয়ে আরও স্পষ্ট নিন্দা জানানো উচিত ছিল। রাষ্ট্রদূত বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের ভাইপ্রতিম দেশ। কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই স্বাভাবিক প্রত্যাশা।” মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
কুয়েতের তেলভর্তি জাহাজে ইরানের হামলা
দুবাই বন্দরের কাছে তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করা একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। হামলার ফলে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং এর কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দুবাই কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার সংঘটিত এই হামলার পরপরই নৌ-অগ্নিনির্বাপক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর মঙ্গলবার ভোরে আগুন সম্পূর্ণভাবে নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়। জাহাজে থাকা ২৪ জন ক্রু সদস্য সবাই নিরাপদ রয়েছেন এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা জানিয়েছে, ‘আল-সালমি’ নামের জাহাজটি কুয়েত ও সৌদি আরব থেকে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে চীনের চিংদাও বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। জাহাজটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) জানিয়েছে, হামলার কারণে সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দেন যে, হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেল স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার সঙ্গে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। হামলার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। তবে পরবর্তীতে এক প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী—এমন ইঙ্গিত পাওয়ায় বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয়। ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে কেপিসি। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দুবাই কর্তৃপক্ষ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালি:মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন তাড়িয়ে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যের অতি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরান দাবি করেছে, তাদের সামরিক চাপের মুখে মার্কিন যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন অঞ্চলটি থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, দেশটির এক নৌ-কমান্ডার বলেছেন—মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য ইরান প্রস্তুত এবং তারা উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সুযোগ পেলে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া হবে। সম্প্রতি মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ ওঠে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় জ্বালানি ট্যাঙ্কারগুলো এই পথ ব্যবহার বন্ধ করে দেয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র-এর নৌবাহিনীর উপস্থিতি, বিশেষ করে আরব সাগরে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন, ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছিল। এ অবস্থায় ইরান দাবি করছে, তাদের সামরিক তৎপরতার মুখে মার্কিন রণতরীটি শত শত মাইল দূরে সরে গেছে। এর ফলে এখন থেকে হরমুজ প্রণালি তারা “বাধাহীনভাবে” নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। তবে এ দাবির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল পরিবহন হয়। ফলে এ অঞ্চলে সামান্য উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
মার্কিন সামরিক জাহাজ
ওমান উপকূলে মার্কিন সামরিক জাহাজে ইরানের হামলা

ওমান উপকূলের কাছে একটি মার্কিন সামরিক সহায়তাকারী জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। আইআরজিসির খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওমান-এর সালালাহ বন্দরের কাছাকাছি আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানরত একটি মার্কিন সামরিক সহায়তাকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। মার্কিন পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ ওমানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে এবং এ হামলা কোনোভাবেই ওমানের বিরুদ্ধে নয়। বরং এটি নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তু কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর ও আশপাশের জলসীমায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ঘটনার পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো, এবং কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালী ‘শক্ত হাতে’ নিয়ন্ত্রণ করছে ইরান

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী গত প্রায় চার সপ্তাহ ধরে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সৃষ্টি হয়েছে নজিরবিহীন অস্থিরতা। এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সার সরবরাহেও এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কেন বন্ধ হয়ে গেল হরমুজ প্রণালী? উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান-এর সামরিক তৎপরতা, জাহাজে হামলা এবং সরাসরি হুমকির কারণে এই রুটে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে অধিকাংশ শিপিং কোম্পানি জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তার ভৌগোলিক অবস্থান ও অপ্রচলিত যুদ্ধকৌশল—বিশেষ করে ড্রোন, সামুদ্রিক মাইন ও দ্রুতগতির নৌযান ব্যবহার করে—এই সংকটকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। ভৌগোলিক সুবিধা কীভাবে কাজে লাগাচ্ছে ইরান? হরমুজ প্রণালী সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থানে মাত্র ২৪ মাইল চওড়া। জাহাজ চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট লেন আরও সংকীর্ণ হওয়ায় এটি একটি “চোকপয়েন্ট” হিসেবে পরিচিত। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকীর্ণতার কারণে জাহাজের পক্ষে পথ পরিবর্তন বা আক্রমণ এড়ানো প্রায় অসম্ভব। ফলে ইরানের জন্য লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সহজ হয়ে যায়। ইরানের প্রায় ১,০০০ মাইল দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং পাহাড়ি ও দ্বীপঘেরা ভূপ্রকৃতি তাদের মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা গোপন রাখতে সাহায্য করছে। জাহাজগুলোর জন্য কী ধরনের হুমকি? বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলো হলো— সামুদ্রিক মাইন ড্রোন হামলা ছোট দ্রুতগতির আক্রমণকারী নৌযান বিস্ফোরক বোঝাই চালকহীন নৌকা এই পরিস্থিতিকে অনেক বিশ্লেষক “কিল জোন” হিসেবে বর্ণনা করছেন, যেখানে প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ড। যুক্তরাষ্ট্র কী করছে? ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর পাশাপাশি তেলবাহী জাহাজে নৌবাহিনীর এসকর্ট দেওয়ার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। এছাড়া USS Tripoli সহ বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। ইরানের অর্থনৈতিক লাভ বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইরান কিছু জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দিয়ে মোটা অঙ্কের ফি আদায় করছে। যদিও এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। বর্তমান পরিস্থিতি অন্তত ১৯টি জাহাজে হামলার অভিযোগ প্রায় ২,০০০ জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকা সীমিত কিছু জাহাজ এখনো পারাপার করছে বিশ্লেষকদের মতে, সম্পূর্ণ চলাচল পুনরায় শুরু হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগবে। সামনে কী হতে পারে? পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ— উত্তেজনা কমার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ছে বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ ও খাদ্য নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
সৌদি আরবে মার্কিন ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ
সৌদি আরবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণ, ইরানের ড্রোন হামলার দাবি ঘিরে উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এ হামলার পেছনে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্টতার দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে অন্তত ১৩টি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে। বিশেষ করে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবা, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বুয়েরিং সামরিক ঘাঁটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি, যা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আঞ্চলিক সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত, সেখানকার শক্তিশালী রাডার ব্যবস্থাও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিটের সদর দপ্তরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে আসছে ইরান। তাদের মতে, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এসব দাবি বারবারই অস্বীকার করে আসছে। তারা বলছে, ইরানের এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অতিরঞ্জিত। এদিকে সর্বশেষ ঘটনার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ ও জল্পনা-কল্পনা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলার খবর সত্য হলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
যুক্তরাজ্যের একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে আরব সাগরে ব্রিটিশ পারমাণবিক সাবমেরিন

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আরব সাগরে পৌঁছেছে যুক্তরাজ্যের একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন। ব্রিটিশ একটি ট্যাবলয়েডের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘এইচএমএস অ্যানসন’ নামের আধুনিক এই সাবমেরিনটি গত ৬ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহর থেকে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এটি হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী উত্তর আরব সাগরে অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে সাবমেরিনটির উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সাবমেরিনটি অত্যাধুনিক টমাহক ব্লক-৪ ল্যান্ড অ্যাটাক ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত, যার কার্যক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এছাড়া এতে রয়েছে স্পিয়ারফিশ হেভিওয়েট টর্পেডো, যা সমুদ্রের গভীরে শত্রু লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে সক্ষম। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে, কারণ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার যুক্তরাষ্ট্রকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই সামরিক তৎপরতা অঞ্চলটিতে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সেখানে যেকোনো সামরিক উপস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
গোলামরেজা সোলেমানি
ইরানের বাসিজ প্রধান গোলামরেজা সোলেমানি নিহত: আইআরজিসির দাবি “আমেরিকান-জায়োনিস্ট হামলা”

রানের স্বেচ্ছাসেবী মিলিশিয়া বাহিনী বাসিজের প্রধান গোলামরেজা সোলেমানি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের অর্ধসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি-এর বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে। আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, “আমেরিকান-জায়োনিস্ট শত্রুর হামলায়” সোলেমানি নিহত হয়েছেন। তবে হামলার সময়, স্থান বা বিস্তারিত পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত ছয় বছর ধরে বাসিজ বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন সোলেমানি এবং তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা তদারকিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার নেতৃত্বে বাসিজ বাহিনীর কাঠামো আধুনিকীকরণ, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সহায়তায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়। আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে এই হত্যাকাণ্ডকে “ন্যাক্কারজনক” উল্লেখ করে বলেছে, এটি প্রমাণ করে যে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতে বাসিজ বাহিনীর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে “আমেরিকান সন্ত্রাসী বাহিনী” ও “জায়োনিস্ট শাসন”-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই বাহিনী সক্রিয় রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেছে। বাসিজ বাহিনী ইরানের একটি স্বেচ্ছাসেবী মিলিশিয়া সংগঠন, যা সরাসরি আইআরজিসির অধীনে পরিচালিত হয়। তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, দারিদ্র্য হ্রাসে কাজ করা এবং বিপ্লবী আদর্শে জনগণকে প্রশিক্ষণ ও সচেতন করা। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
মার্কিন ট্যাঙ্কারে আঘাত করেছে ইরান
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা: মার্কিন ট্যাঙ্কারে হামলার দাবি আইআরজিসির, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের জাহাজকে হুঁশিয়ারি

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, পারস্য উপসাগরের উত্তরাংশে তারা একটি মার্কিন ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং তাদের সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। বৃহস্পতিবার সকালে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের নৌবাহিনী পারস্য উপসাগরের উত্তরের একটি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। যদিও এ হামলায় কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা ট্যাঙ্কারটির অবস্থা কী— সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি তারা। এ খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান তাদের অনলাইন প্রতিবেদনে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং তাদের ইউরোপীয় মিত্রদের কোনো সামরিক বা বাণিজ্যিক জাহাজ যদি হরমুজ প্রণালির আশপাশে দেখা যায়, তাহলে সেগুলোর ওপর হামলা চালানো হতে পারে। বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা আগেও স্পষ্ট করে বলেছি— আন্তর্জাতিক আইন ও বিভিন্ন প্রস্তাবের আলোকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার রাখে।” তারা দাবি করে, ইরানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজন হলে ওই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ব্যবহার সীমিত বা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এই সংকীর্ণ জলপথ। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল এবং বিপুল পরিমাণ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রণালিতে কোনো ধরনের সামরিক সংঘাত বা অবরোধ সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া আইআরজিসির এই দাবির পর এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অতীতে ওয়াশিংটন বারবার বলেছে, আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচল অবাধ রাখার জন্য তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে টহল দিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে সেখানে বিভিন্ন সময় বহুজাতিক নৌজোটও গঠন করা হয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার দীর্ঘ ইতিহাস ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বহুদিনের। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বারবার সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে পারস্য উপসাগর এলাকায় একাধিকবার ট্যাঙ্কার জব্দ, ড্রোন ভূপাতিত করা এবং নৌবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ মুখোমুখি অবস্থার ঘটনা ঘটেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনার পেছনে রয়েছে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার লড়াই। আন্তর্জাতিক উদ্বেগ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনেক দেশ আশঙ্কা করছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকজন কূটনীতিক ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, সামুদ্রিক বাণিজ্যপথকে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হলে তার প্রভাব গোটা বিশ্বের ওপর পড়বে। সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে এবং অনেক দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। পরিস্থিতি নজরে বিশ্ব বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহল গভীরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ বিশ্ব রাজনীতির নতুন সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
সৌদি আরবে হামলা
সৌদি আরবে হামলা

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ-এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।  রিয়াদের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্ফোরণের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি। পরিস্থিতি নিয়ে আরও তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে বলে জানা গেছে। পাল্টা হামলায় নতুন করে উত্তেজনা এদিকে ইসরায়েল-এ হামলার জবাবে এবার বাহরাইন, কুয়েত এবং আবুধাবি-তে ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এজেন্সি ফ্রান্স প্রেস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-এর যৌথ হামলার জবাব দিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে। এরইমধ্যে বাহরাইন, কুয়েত ও আবুধাবিতেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বাহরাইন নিশ্চিত করেছে, দেশটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম নৌবহরের সদর দফতর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। খামেনিকে লক্ষ্য করে হামলা এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-এর অফিস লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-এর সূত্রে জানা গেছে, খামেনি ইতোমধ্যেই তেহরান ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তার বর্তমান অবস্থান সরকারিভাবে গোপন রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠতে দেখা গেছে। হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণও নিশ্চিত করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার চেষ্টা করলেও কোনো সমাধানের পথ খুঁজে পায়নি। নিরাপত্তা সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এ মুহূর্তে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এ উত্তেজনা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল; নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা হালনাগাদ করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0