Brand logo light

মিসাইল হামলা

ইসরাইলে মিসাইল হামলা
ইসরাইলে ইরানের ভয়াবহ মিসাইল হামলা: শতাধিক আহত, অবস্থা গুরুতর : বন্ধ স্কুল, জরুরি নির্দেশনা জারি

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরান থেকে ছোড়া শক্তিশালী মিসাইল হামলায় ইসরাইল-এর বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ১০ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দিমোনা ও আরদ এলাকায় এই হামলার প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। শুধু আরদ শহরেই আহত হয়েছেন অন্তত ৮৪ জন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের বরাতে জানা যায়, একটি ক্লাস্টার মিসাইল রিশন লেজিওন শহরের তিনটি স্থানে আঘাত হানে। শহরটি বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিব থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। শনিবার মধ্যরাতে এই হামলা সংঘটিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, তীব্র গতিতে ছুটে এসে মিসাইলটি বিস্ফোরিত হচ্ছে, যার ফলে আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলার পরপরই দক্ষিণাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। দেশটির সেনাবাহিনীর হোম ফ্রন্ট কমান্ড নতুন নির্দেশনায় জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ৫০ জনের বেশি মানুষ একত্রিত হতে পারবেন না। একই সঙ্গে যেকোনো কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নিকটস্থ বোমা শেল্টার সক্রিয় রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতির অবনতি বিবেচনায় রোববার ও সোমবার দেশের সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লাস্টার মিসাইল অত্যন্ত বিপজ্জনক। সাধারণত একটি ক্লাস্টার মিসাইলে প্রায় ২০টি ছোট বোমা থাকে, যার প্রতিটির ওজন প্রায় আড়াই কেজি। বিস্ফোরণের পর এসব বোমা বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ইসরাইলে দফায় দফায় মিসাইল হামলা
ইসরাইলে দফায় দফায় মিসাইল হামলা,ইরানের সরকারি রেডিও-টেলিভিশন ভবনে হামলা:মাথা নত করবে না ইরান

ইরানে নতুন করে ভয়াবহ হামলা হয়েছে। সীমান্তবর্তী একটি রেজিমেন্টের সদর দপ্তরে এ হামলা হয়। এতে ৪৩ সেনা নিহত হয়েছেন। এরপরই ভয়াবহ হামলা শুরু করেছে ইরানও। জানা গেছে, ইসরাইলকে লক্ষ্য করে নতুন করে মিসাইল হামলা শুরু করেছে ইরান। গত এক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত তিনবার মিসাইল ছুড়েছে দেশটি। যার প্রভাবে ইসরাইলের বেশিরভাগ জায়গায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজছে। দ্য টাইমস অব ইসরায়েল বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত পৌনে ২টার দিকে জানায়, ইরান নতুন করে মিসাইল ছুড়েছে। এতে করে দক্ষিণাঞ্চলে সাইরেন বাজছে। জনগণ আতঙ্কিত হয়ে বাংকারে লুকাচ্ছেন। অসমর্থিত সূত্র জানিয়েছে, একটি মিসাইল সরাসরি তেলআবিবে আঘাত হেনেছে। তবে বাকি মিসাইলগুলো আকাশে ভূপাতিত করে দেওয়া হয়েছে কি না সেটি নিশ্চিত নয়। আইডিএফ মিসাইল প্রতিহতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রেখেছে। ইরানের সরকারি রেডিও-টেলিভিশন ভবনে হামলা ইরানের সরকারি রেডিও ও টেলিভিশন সদরদপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। তবে পুরো সদরদপ্তরের বদলে এটির আংশিক জায়গায় হামলা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রায়াত্ত্ব টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে সম্প্রচার এখনো সক্রিয় আছে বলে জানিয়েছে তারা। কর্তৃপক্ষ বলেছে, “প্রযুক্তি দল ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করছে।” গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও টেলিভিশন ভবন লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। তবে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা আবার সম্প্রচারে ফিরেছিল।   ইরানে দূতাবাস বন্ধ করে দিল আরব আমিরাত ইরানে নিজেদের দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটিতে মার্কিন ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরান একাধিকবার হামলার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার দিবাগত রাতে এক বিবৃতিতে বলেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত তেহরানে তার দূতাবাস বন্ধ করার এবং রাষ্ট্রদূতসহ দূতাবাসের সকল কূটনৈতিক সদস্যকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিচ্ছে। আমরা আমাদের ভূখণ্ডে ইরানের ন্যাক্কারজনক মিসাইল হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমিরাতের ওপর ইরানের 'সরাসরি ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ' মিসাইল হামলার প্রতিক্রিয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরানের হামলা আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপর এক নগ্ন আগ্রাসন, যা আবাসিক এলাকা, বিমানবন্দর, বন্দর এবং জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং নিরপরাধ সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এদিকে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মেহরানে নতুন করে ভয়াবহ হামলা হয়েছে। সীমান্তবর্তী একটি রেজিমেন্টের সদর দপ্তরে এ হামলা হয়। এতে ৪৩ সেনা নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, রোববার (১ মার্চ) ইরাকের সীমান্তবর্তী ওই শহরটিতে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতদের বেশিরভাগই সীমান্তরক্ষী। এছাড়াও হামলায় আশপাশের কিছু ভবনও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের বরাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের এজেন্টরা এই বোমা হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা মেহের নিউজ। চলমান মার্কিন-ইসরায়েল হামলায় ইরানের ৪৮ জন নেতা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাদের তালিকা প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্র। ধারণা করা হচ্ছে, এ তালিকায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নামও রয়েছে।   দুই শক্তিশালী বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল তেহরান   ইরানের রাজধানী তেহরানে আরও দুটি প্রবল বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ তথ্য জানিয়েছেন বার্তা সংস্থা এএফপির দুজন সাংবাদিক। বিস্ফোরণের ধাক্কায় ওই দুই সাংবাদিকের আবাসিক ভবনের জানালা কেঁপে ওঠেছে, যারা একে অপরের থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিলেন। রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৯টায় এই বিস্ফোরণ দুটি ঘটে। একই সময়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছিল যে তাদের সম্প্রচার কেন্দ্রকে হামলার লক্ষ্য করা হয়েছে। তবে এখনো স্পষ্ট নয়, এই বিস্ফোরণের প্রকৃত লক্ষ্য কী ছিল। তেহরানে অবস্থানরত ওই দুই সাংবাদিক বলেন, হামলাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থানে থেকে তারা হামলার তীব্রতা অনুভব করেন। হামলার সময় তাঁদের অ্যাপার্টমেন্টের জানালার কাঁচ কেঁপে ওঠে। স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে এই বিস্ফোরণগুলো ঘটে। ঠিক একই সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছিল যে, তাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে হামলার লক্ষ্যবস্তু কী ছিল তা পরিষ্কার হওয়া যায়নি। তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভশনের সম্প্রচার সচল ছিল। এর আগে ইসরায়েল জানিয়েছিল, তারা নতুন দফায় তেহরানে হামলা শুরু করেছে।   মাথা নত করবে না ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপ-সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল মুলরয় আল জাজিরাকে বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করার পর সেটাকে ভেনেজুয়েলার পর যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় ‘রেজিম পরিবর্তন’ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে ইরানের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় শাসনব্যবস্থা মূলত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। তার অধীনে তুলনামূলকভাবে তার দুর্বল সহযোগীরা ছিলেন। কিন্তু ইরানে সুপ্রিম লিডার থাকলেও, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে, সামরিক বাহিনীতে, ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পসে (আইআরজিসি) এবং গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে একাধিক ক্ষমতার কেন্দ্র রয়েছে। ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে মুলরয় বলেন, সুপ্রিম লিডারকে সরিয়ে দেয়া হলেও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের দাবিতে ‘রাজি’ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি বলেন, তারা (ইরান) বরং বর্তমান বক্তব্য ও সাম্প্রতিক বিবৃতির ভিত্তিতে পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করতে পারে এবং পুরো অঞ্চলকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে পরিণত করতে পারে। এর মাধ্যমে শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকেও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। মুলরয় আরও বলেন, তাদের (ইরানের) হাতে ড্রোন রয়েছে। সেগুলো আমরা দুবাই ও বাহরাইনের বিভিন্ন ভবনে আঘাত হানতে দেখছি। তারা এগুলো ব্যাপক হারে উৎপাদন করতে পারে এবং বহু বছর ধরে রাশিয়াকেও তারা তা সরবরাহ করে আসছে। এটি একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। তিনি আরও বলেন, অবশ্যই এসব ড্রোন সাধারণত সহজেই ভূপাতিত করা যায়। কিন্তু আমরা দেখেছি অনেকগুলো লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম হয়েছে। হয়তো তারা একসঙ্গে এত বেশি সংখ্যায় পাঠিয়েছিল যে, সবগুলো প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পরিস্থিতি দেখে তাই মনে হচ্ছে এবং এটিই সম্ভবত তাদের সবচেয়ে বড় হুমকি।   ফের সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সৌদি আরব রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে ইরানি এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার দাবি জানিয়েছে সৌদি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও মার্কিন বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি জানিয়েছে সৌদি আরব। রিয়াদের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সৈন্যরা অবস্থান করছেন। ইরানি ওই হামলার বিষয়ে অবগত উপসাগরীয় একটি সূত্র এএফপিকে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।   হামলার জবাব দেওয়ার ঘোষণা হিজবুল্লাহর ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এক বিবৃতিতে হেজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেম বলেছেন, এই গোষ্ঠী সম্মান ও প্রতিরোধের ক্ষেত্র ত্যাগ করবে না। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে অপরাধের সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে অভিহিত করেছেন কাসেম। তিনি বলেন, সৃষ্টিকর্তার নির্দেশনা ও সমর্থনের ওপর আস্থা রেখে আমরা এই আগ্রাসন মোকাবিলায় আমাদের কর্তব্য পালন করবো। হিজবুল্লাহ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি শিয়া মুসলিম সংগঠন; যেটি লেবাননের সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে।   মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের   পারস্য উপসাগরে মোতায়েনরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার প্রতিশোধে মার্কিন ওই রণতরীতে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।রোববার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে ওই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। এক বিবৃতিতে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বলেছে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কনে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। ইরানের এই বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘‘জল এবং স্থল—উভয়ই হবে সন্ত্রাসী আগ্রাসনকারীদের কবরস্থান।’’ তবে পারস্য উপসাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার যে দাবি ইরান করেছে, তা নাকচ করে দিয়েছে পেন্টাগন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, আব্রাহাম লিঙ্কন আক্রান্ত হয়নি। যেসব ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল, সেগুলো আব্রাহাম লিঙ্কনের কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারেনি।’’ ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সদরদপ্তর ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের   ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সদরদপ্তর ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। রোববার (১ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আমেরিকার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রয়েছে। আইআরজিসির এখন আর কোনো সদরদপ্তর নেই। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড আরও বলেছে, গত ৪৭ বছরে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক হাজারেরও বেশি আমেরিকানকে হত্যা করেছে। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের একটি বৃহৎ আকারের হামলা ‘সাপের মাথা কেটে ফেলেছে’।এর আগে, ইরানের আকাশসীমায় প্রায় ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ বা ‘এয়ার সুপ্রিমেসি’ প্রতিষ্ঠার দাবি করে ইসরায়েলিবিমান বাহিনী (আইডিএফ) এবং মার্কিন বিমান বাহিনী (ইউএসএএফ)।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২, ২০২৬ 0
ইরানের রাস্তায় খামেনির হাজার হাজার সমর্থক
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত: ইরানসহ বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা Ayatollah Ali Khamenei নিহত হওয়ার খবরে দেশজুড়ে তীব্র শোক ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে। রাজধানী Tehranসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম Fars News Agency জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর সূর্য ওঠার আগেই বিপুল সংখ্যক মানুষ তেহরানের রেভোলিউশন স্কয়ারের দিকে জড়ো হতে শুরু করেন। অনেকে বুক চাপড়ে শোক প্রকাশ করেন এবং আকাশের দিকে তাকিয়ে খামেনিকে স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন।   আরও পড়ুন: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera জানায়, সিরাজ ও ইয়াসুজসহ বিভিন্ন শহরে খামেনির ছবি ও জাতীয় পতাকা হাতে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে ইরাকের রাজধানী Baghdad ও পবিত্র শহর Karbalaতেও। পাশাপাশি কাশ্মীর অঞ্চলেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। করাচিতে মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ ইরানে হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী Karachiতে মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ চলাকালে সহিংসতায় অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হামলার বিবরণ গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও প্রশাসনিক স্থাপনায় ইসরায়েলি-মার্কিন যৌথ বাহিনী হামলা চালায় বলে জানানো হয়েছে। এতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছাড়াও দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের পাল্টা জবাব ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে ইরান তাৎক্ষণিক প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দেশটি ইসরায়েলের রাজধানী Tel Avivসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১, ২০২৬ 0
তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ
তেহরানে আবার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, উত্তেজনা বৃদ্ধি

ইরানের রাজধানী তেহরানে আবারও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, সন্ধ্যায় পশ্চিম তেহরানে নতুন একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এ প্রতিবেদন অনুসারে, একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন যে, পশ্চিম তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এ বিষয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, তাদের সাংবাদিকরা তেহরানে নতুন বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। তবে বিস্ফোরণের উৎস সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বুশেহরে মিসাইল হামলা এদিকে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বুশেহরের দুটি এলাকায় মিসাইল হামলার খবর পাওয়া গেছে। ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বুশেহর শহরে হামলা হয়েছে, যেখানে ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও অবস্থিত। হামলার কারণে এলাকার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরানের পাল্টা হামলা তেহরান এবং বুশেহরে বিস্ফোরণের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল থেকে ইরানে সাম্প্রতিক যৌথ হামলার জবাব হিসেবে হতে পারে। এটি ইরানের জন্য একটি বড় পরমাণু উত্তেজনার মুহূর্ত হতে পারে, যেখানে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা শুরু করেছে। এ ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে। শেষ কথা এখন পর্যন্ত তেহরান এবং বুশেহরের বিস্ফোরণ বা হামলার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, বিষয়টি ইরান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও কড়া অবস্থান গ্রহণ করতে বাধ্য করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0