ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদায় জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জের রাবেয়া এগ্রো ফার্ম। সোমবার সন্ধ্যায় নতুন মালিকের কাছে পশুটি হস্তান্তরের সময় লাল গালিচা সংবর্ধনা, বিশেষ আলোকসজ্জা ও ধোঁয়ার ইফেক্টে সাজানো আয়োজনে তৈরি হয় এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় অবস্থিত খামারটিতে দুপুর থেকেই ভিড় জমাতে শুরু করেন উৎসুক মানুষ। কেউ ভিডিও ধারণ করেন, কেউ ছবি তোলেন, আবার অনেকে শুধুই একনজর দেখতে আসেন ভাইরাল এই মহিষটিকে। খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদায়ের আগে মহিষটিকে গোসল করিয়ে বিশেষভাবে সাজানো হয়। পরে রাজকীয় পোশাক পরিয়ে লাল গালিচা ধরে গাড়িতে তোলা হয়। পুরো আয়োজনটি ছিল অনেকটা কোনো সেলিব্রিটিকে বিদায় জানানোর মতো। কীভাবে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নাম? খামার সূত্র বলছে, বিরল এলভিনো জাতের এই মহিষটির গায়ের রঙ, চোখ ও লোমের গঠন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সঙ্গে কিছুটা সাদৃশ্যপূর্ণ মনে হওয়ায় এর নাম রাখা হয় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। নামটি দেন খামারের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধার ছোট ভাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথমে মহিষটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সেটি ভাইরাল হলে দেশের বাইরে থেকেও আগ্রহ তৈরি হয়। খামার কর্তৃপক্ষের দাবি, আন্তর্জাতিক কিছু গণমাধ্যমেও বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর দর্শনার্থীর চাপ আরও বেড়ে যায়। কোরবানির পশু থেকে ‘সামাজিক ব্র্যান্ড’ প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই মহিষটি রাজধানীর জিনজিরা এলাকার বাসিন্দা সামির আগেই কিনে নেন। খামার সূত্র অনুযায়ী, প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে পশুটি বিক্রি করা হয়। তবে বিক্রির পর পরিস্থিতি বদলে যায়। অনলাইনে ভাইরাল হওয়ার কারণে মহিষটি শুধু কোরবানির পশু হিসেবেই নয়, বরং এক ধরনের সামাজিক আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়। ঈদকেন্দ্রিক বাজার সংস্কৃতি, অনলাইন ভাইরাল প্রবণতা এবং ব্যতিক্রমী বিপণন কৌশল—সবকিছুর মিশেলে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ হয়ে ওঠে আলোচিত এক নাম। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোরবানির পশুর বাজারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। বড় আকৃতির গরু, বিরল জাতের পশু কিংবা অদ্ভুত নাম ব্যবহার করে অনেক খামার এখন অনলাইন জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করছে। ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ সেই প্রবণতারই আলোচিত উদাহরণ। আবেগঘন বিদায় রাবেয়া এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী জিয়াউদ্দিন মৃধা বলেন, বহুদিন ধরে মহিষটিকে লালন-পালন করেছেন তারা। তাই বিদায়ের সময় আবেগ কাজ করেছে। তবে কোরবানির মূল শিক্ষা ত্যাগের মধ্যেই নিহিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। নতুন মালিক সামির বলেন, তিনি সাধারণভাবেই পশুটি কিনেছিলেন। পরে এটি ভাইরাল হয়ে গেলে এলাকায়ও মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়। বর্তমানে জিনজিরাতেও অনেকে মহিষটিকে দেখতে আসছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে এক ব্যারিস্টারকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন বক্তব্য ও পাল্টা অভিযোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এম সারোয়ার হোসেন-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করছেন। যদিও এসব অভিযোগ তিনি প্রকাশ্যে অস্বীকার করেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে, দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ-এর চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান গত বছরের ২২ নভেম্বর ঢাকার একটি আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। মামলায় কী বলা হয়েছে? মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিবাদী দীর্ঘদিন ধরে বাদী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে “মিথ্যা, মানহানিকর ও অপপ্রচারমূলক” বক্তব্য দিয়ে আসছেন, যার ফলে তাদের সামাজিক ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। এছাড়া অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক সম্প্রতি একটি ফেসবুক পোস্টে ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন দাবি করেন, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। তবে এ ধরনের দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা সরকারি তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, উল্লিখিত জমির পরিমাণ দেশের রাজধানী ঢাকার আয়তনের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, যা তথ্যটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। মিডিয়া কভারেজ নিয়ে প্রশ্ন ব্যারিস্টার সারোয়ার তার পোস্টে দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়নি। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল বলে জানা যায়। অতীত বিতর্ক এর আগেও বিভিন্ন ঘটনায় ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন আলোচনায় এসেছেন। এক পর্যায়ে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তার আইনজীবী প্যানেলে যুক্ত হন। পরে স্বার্থসংঘাতের অভিযোগ ওঠায় তিনি সেই প্যানেল থেকে সরে দাঁড়ান। আইনি প্রশ্ন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারাধীন বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করা কতটা গ্রহণযোগ্য—সে প্রশ্নও এখানে উঠে আসছে। একই সঙ্গে মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা আইনের আওতায় আসতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ছোট পর্দার অভিনেত্রী কেয়া পায়েল সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনার মুখে পড়েছেন। নেটিজেনদের একটি অংশের অভিযোগ—সৌন্দর্য বাড়াতে তিনি প্লাস্টিক সার্জারির আশ্রয় নিয়েছেন। দীর্ঘদিন এ বিষয়ে নীরব থাকার পর সম্প্রতি একটি পডকাস্টে প্রথমবারের মতো প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি। পায়েল বলেন, এটি প্রথমবার তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলছেন। তার ভাষায়, “প্রত্যেক মানুষ জন্মগতভাবেই সুন্দর। ছোটবেলা থেকেই নিজের সৌন্দর্য নিয়ে প্রশংসা শুনে বড় হয়েছি। আমার কাছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি জানান, নিজের চেহারায় বড় ধরনের পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা কখনো ছিল না। “আমি যেমন আছি, তেমনই খুশি। তবে টুকটাক দুই একটা জিনিস একটু অ্যাড করেছি,”—বলেন এই অভিনেত্রী। তবে তার এই স্বীকারোক্তিই ভক্তদের একাংশের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কারণ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন পায়েল। “ভক্তরা এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। তাদের প্রতিক্রিয়া দেখে মনে মনে বলেছি—ভাই, মাফ চাই, আর হবে না,”—যোগ করেন তিনি। বাংলাদেশি সমাজে জনমতের দ্রুত বিস্তারের বিষয়টিও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তার মতে, “আমাদের দেশের মানুষ একটু অতি আবেগী। একজন কিছু বলা শুরু করলে, অন্যরাও না জেনেই বলতে থাকে। অনেকেই পাঁচ বছর আগের ছবি দেখেও এখন মন্তব্য করছে।” এই প্রবণতাকে তিনি “হুজুগে মানসিকতা” হিসেবে উল্লেখ করেন। উদাহরণ হিসেবে বলেন, “রাস্তায় কোনো ঘটনা ছাড়াই শুধু ভিড় দেখেই মানুষ জড়ো হয়। কী হচ্ছে না জেনেই দাঁড়িয়ে থাকে। এই মানসিকতা অনেক দিন ধরেই চর্চা হচ্ছে।” বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের ফলে ব্যক্তিগত জীবন ও জনমতের সংঘাত এখন আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে, যেখানে জনতার প্রতিক্রিয়া দ্রুতই তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম আলোচিত ও গ্ল্যামারাস চিত্রনায়িকা পরীমণি। কাজের চেয়ে ব্যক্তিজীবন আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব উপস্থিতির কারণে তিনি প্রায়ই খবরের শিরোনামে থাকেন। তবে এবারের শিরোনামটি একটু স্নিগ্ধ আর প্রশান্তির। দীর্ঘ তপ্ত রোদের পর ঝুম বৃষ্টির মাতম যখন প্রকৃতিকে শীতল করেছে, সেই বৃষ্টির আনন্দে নিজেকে উজাড় করে দিলেন এই অভিনেত্রী। পরীমণি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। যা মুহূর্তেই নেটিজেনদের নজর কেড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, আকাশজুড়ে মেঘের ঘনঘটা আর ঝুম বৃষ্টিতে সিক্ত পরীমণি। সাদা টিশার্টে তাকে দেখা যাচ্ছে বৃষ্টি উপভোগ করতে। কখনো তিনি তার গাড়ির ওপর শুয়ে বৃষ্টির স্পর্শ নিচ্ছেন, আবার কখনো বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটায় হারিয়ে যাচ্ছেন। পরীমণির এই ‘বৃষ্টি বিলাস’ ভক্তদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। ভিডিওটির ব্যাকগ্রাউন্ডে বেজে ওঠা রোমান্টিক সুর আর বৃষ্টির শব্দ মিলে এক মায়াবী পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, তার লঙ হেয়ার আর বৃষ্টির জলে ভেজা চেহারার সেই স্নিগ্ধ রূপ সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল। এদিকে কমেন্ট বক্সে নেটিজেনরা পরীর রূপের বেশ প্রশংসা করেছেন। একজন নেটিজেন লিখেছেন, ‘বৃষ্টি মাখা পরী।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘মনে হচ্ছে পরীমনি আবার নতুন করে প্রেমে পরছে।’
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : চলমান ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) মানেই গ্যালারিতে পাঞ্জাব কিংসের মালকিন প্রীতি জিনতার প্রাণবন্ত উপস্থিতি। দলের জয়ে যেমন তিনি উচ্ছ্বসিত হন, তেমনি হারলে বিষণ্ণতা গ্রাস করে তাকে। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে পাঞ্জাব কিংসের ‘ট্রফি’ বলে অভিহিত করে তির্যক মন্তব্য করেন এক নেটিজেন। এমন মন্তব্যে চুপ থাকেননি তিনি। এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ভক্তদের সঙ্গে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়েছিলেন প্রীতি। সেখানে তাকে ‘ট্রফি’ হিসেবে বর্ণনা করা একটি মন্তব্যের জবাবে অভিনেত্রী সাফ জানান, কেন নারীদের এমন তকমা দেওয়া সমস্যাজনক। প্রীতি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘ধন্যবাদ, এটা হয়তো খুব মিষ্টি কথা, কিন্তু সত্যি বলতে গেলে কোনো নারীই ট্রফি হতে চায় না। ট্রফি কেনা যায়, নারীদের নয়! ট্রফি রাখা হয় কাঁচের আলমারিতে। আর একজন নারীর জায়গা কাঁচের আলমারিতে নয়, বরং আপনার জীবনে এবং আপনার হৃদয়ে।’ নারীর সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে প্রীতির এমন সময়োপযোগী মন্তব্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা তার এই দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করে বলছেন, বিনোদন জগতের বাইরেও তিনি একজন সচেতন ও বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। একই প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রীতি কথা বলেছেন তার আসন্ন সিনেমাগুলো নিয়েও। দীর্ঘদিন পর পর্দায় ফেরা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘লাহোর ১৯৪৭’ সিনেমাটি নিয়ে তিনি বেশ উত্তেজিত। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময়ই একটি পিরিয়ড ড্রামায় কাজ করতে চেয়েছিলাম। রাজ কুমার সন্তোষীর মতো গুণী পরিচালক এবং সানি দেওলের সঙ্গে কাজ করাটা আমার জন্য সব সময় আনন্দের।’ এছাড়া নিজের আরেকটি কাজ ‘ভাইব’ নিয়ে প্রীতি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত মজার ও হালকা মেজাজের একটি ছবি। ‘লাহোর ১৯৪৭’-এর মতো গম্ভীর ঘরানার কাজের পর এই ছবিটিতে অভিনয় করে আমি বেশ আনন্দ পেয়েছি।’ ব্যক্তিগত জীবন ও ক্যারিয়ারের ব্যস্ততার মাঝেও নারীর মর্যাদা নিয়ে প্রীতির এই জোরালো প্রতিবাদ বিনোদন পাড়ায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রীতির ভাষ্যমতে, নারীকে প্রদর্শনের বস্তু হিসেবে নয় বরং সম্মানের সঙ্গে মূল্যায়ন করাটাই প্রকৃত বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রংপুরের মিঠাপুকুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা এক প্রেমের সম্পর্ক দেড় মাসের মধ্যেই বিয়েতে রূপ নিয়েছে। সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে এসে এক বাঙালি তরুণীকে বিয়ে করেছেন এক চীনা যুবক—যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের হামিদপুর এলাকার বাসিন্দা আনিকা আক্তারের সঙ্গে প্রায় দেড় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হয় চীনা নাগরিক মা লিয়াংহুইয়ের। অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। এই সম্পর্কের সূত্র ধরেই গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বাংলাদেশে আসেন মা লিয়াংহুই। এরপর তিনি আনিকার গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করেন। পরদিন শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে তাদের বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় কৌতূহল ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়। স্থানীয়রা ভিনদেশি ওই যুবককে একনজর দেখতে আনিকার বাড়িতে ভিড় করেন। আনিকা আক্তার স্থানীয় বাসিন্দা তৌহিদুল ইসলামের মেয়ে। বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, একজন বিদেশি নাগরিক ওই এলাকায় অবস্থান করছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার কথা জানিয়েছেন। বর্তমানে মা লিয়াংহুই তার স্ত্রীর বাড়িতেই অবস্থান করছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কেবল আনন্দ ভাগাভাগি নয়, দুঃখের সময় পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই প্রকৃত বন্ধুত্বের পরিচয় মেলে—কুমিল্লার মুরাদনগরে এমনই এক ঘটনা স্পর্শ করেছে বহু মানুষের হৃদয়। উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার খৈয়াখালী বাজারের একটি সেলুনে গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) দেখা যায় এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। পরে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর গ্রামের সজীব নামের এক যুবক মাথার ত্বকের সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি নিজের মাথার চুল ফেলে ন্যাড়া হন। বিষয়টি জানার পর তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা একটি অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত নেন। সজীব যাতে নিজেকে একা বা বিব্রত না মনে করেন, সেই লক্ষ্যেই একে একে নিজেদের মাথার চুল কেটে ন্যাড়া হয়ে যান আরও নয়জন বন্ধু। এই বন্ধুদের মধ্যে রয়েছেন—কাইয়ুম মিয়া, মো. আলম, শরিফ, মো. মোমেন, মো. নাজিম, মো. শাহজালাল, মো. মাইনুদ্দিন, মো. সাদ্দাম ও মো. সাগর। বন্ধুরা জানান, এটি ছিল সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত একটি উদ্যোগ। তাদের ভাষায়, “সজীব যেন মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে, সে জন্যই আমরা সবাই একসঙ্গে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” এই ঘটনাকে অনেকেই প্রকৃত বন্ধুত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার পাশাপাশি এটি মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবেও আলোচিত হচ্ছে। “বন্ধুর জন্য নিজের চেহারাও বদলে ফেলতে পারেন—মুরাদনগরের এই গল্প প্রমাণ করলো, সত্যিকারের বন্ধুত্ব এখনো বেঁচে আছে।”
বাগেরহাট : বাগেরহাটে হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে একটি কুকুর কুমিরের শিকার হওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটির ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ উপস্থিত অনেকেই ভিডিও ধারণ করলেও কুকুরটিকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেননি। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের খাবার হিসেবে ফেলা হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শী, মাজারের খাদেম ও নিরাপত্তাকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি সম্পূর্ণ দুর্ঘটনাজনিত। গত ৮ এপ্রিল বিকেলে একটি অসুস্থ কুকুর মাজার এলাকায় কয়েকজনকে কামড় দেয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয়রা কুকুরটিকে তাড়া দেয় এবং লাঠি ছুড়ে মারে। একপর্যায়ে কুকুরটি দৌড়ে প্রধান ঘাটে চলে যায়। সেখানে নিরাপত্তাকর্মী ফোরকান হাওলাদার কুকুরটিকে তাড়াতে গেলে সেটি তার পায়ে আঁচড় দেয়। তিনি পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি পানিতে পড়ে যায়। এ সময় ঘাটের পানির নিচে থাকা একটি কুমির মুহূর্তেই কুকুরটিকে ধরে নিয়ে যায়। পরে কয়েক ঘণ্টা পর কুকুরটির মরদেহ দিঘিতে ভেসে ওঠে এবং সেটি পাড়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, কুকুরটির কামড়ে অন্তত ৭-৮ জন আহত হয়েছেন এবং তারা বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদিকে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কুকুরটিকে বেঁধে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে—এমন দাবি করা হলেও তা সঠিক নয় বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ভিডিওতে কুকুরটিকে বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়নি, তবে সেটি দুর্বল ছিল এবং পানির বাইরে উঠতে পারছিল না। মাজারের খাদেমরা জানান, বর্তমানে দিঘিতে মাত্র একটি কুমির রয়েছে, যা ২০০৫ সালে ভারত থেকে এনে ছাড়া হয়েছিল। ঘটনাটি নজরে আসার পর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।” এরই মধ্যে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিতে প্রশাসন, পুলিশ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে আসা এক সাধারণ দিনমজুর—তাইজুল ইসলাম তাজু। অল্প সময়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসাধারণ জনপ্রিয়তা অর্জন করা এই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ফেসবুক পেজ ‘তাজু ভাই ২.০’ হঠাৎ করেই অদৃশ্য হয়ে গেছে। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরের পর থেকে এক মিলিয়নের বেশি ফলোয়ার থাকা পেজটি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনাটি এখন স্থানীয় পর্যায় ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়ে কৌতূহল ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। হঠাৎ উত্থান: ট্রল থেকে প্রশংসা মাত্র ১০ হাজারের কম ফলোয়ার নিয়ে চলা পেজটি গত ২৮ মার্চের পর থেকে আচমকাই আলোচনায় আসে। এর পেছনে ছিল ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে প্রকাশিত একটি ভিডিও—“সরকারি রেটে জিলাপি বিক্রি হচ্ছে”। চরনারায়ণপুরের একটি স্থানীয় বাজারে ধারণ করা সেই ভিডিওতে তাজুর উপস্থাপনা, স্বতঃস্ফূর্ত ভাষা এবং ব্যতিক্রমী স্টাইল দ্রুত দর্শকদের নজর কাড়ে। প্রথমদিকে ভিডিওটি নিয়ে ট্রল হলেও, খুব দ্রুত সেটি প্রশংসায় রূপ নেয়। কারণ, ভিডিওর আড়ালে উঠে আসে স্থানীয় মানুষের বাস্তব সমস্যা, বাজার ব্যবস্থার অসঙ্গতি এবং গ্রামীণ জীবনের অনাবৃত চিত্র। ভাইরাল বিস্ফোরণ ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েক দিনের মধ্যেই তাজুর পেজে ফলোয়ার সংখ্যা লাফিয়ে বাড়তে থাকে। এক সপ্তাহেরও কম সময়ে তা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়—যা বাংলাদেশের ডিজিটাল কনটেন্ট জগতে বিরল ঘটনা। এই সময়ের মধ্যে তাজুর আরও কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে তিনি চরাঞ্চলের নিত্যদিনের সমস্যা—পণ্যদ্রব্যের দাম, যোগাযোগ সংকট, ও জনসেবার ঘাটতি তুলে ধরেন। হঠাৎ অদৃশ্য: কী ঘটেছে? এই দ্রুত উত্থানের মাঝেই আসে অপ্রত্যাশিত ধাক্কা। ৫ এপ্রিল দুপুরের পর থেকেই পেজটি আর দেখা যাচ্ছে না। তাজুর সহযোগী শাহ আলম হোসেন জানান, এটি প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণেও হতে পারে। তার ভাষায়, “আমরা আশা করছি, স্বল্প সময়ের মধ্যেই পেজটি আবার চালু হবে।” অন্যদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য কবিরুল ইসলাম ভিন্ন একটি সম্ভাবনার কথা বলেন। তার মতে, “অল্প সময়ে পেজটিতে বিপুল ফলোয়ার ও ভিউ বাড়ায় মেটা কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের অংশ হিসেবে সাময়িকভাবে পেজটি অদৃশ্য করে থাকতে পারে।” সম্ভাব্য কারণ বিশ্লেষণ তদন্তে উঠে আসছে কয়েকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা— ১. অস্বাভাবিক গ্রোথ অ্যালার্ট হঠাৎ করে ফলোয়ার সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে গেলে প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম সেটিকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে। এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিভিউ শুরু হয়। ২. রিপোর্ট বা মাস রেপোর্টিং ভাইরাল হওয়ার পর অনেক সময় ট্রল, প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা সংগঠিত রিপোর্টিংয়ের কারণে পেজ সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। ৩. কমিউনিটি গাইডলাইন যাচাই ভিডিওর কনটেন্টে যদি কোনোভাবে প্ল্যাটফর্মের নীতিমালার সঙ্গে অসঙ্গতি থাকে, তবে তা যাচাইয়ের জন্য পেজ লুকিয়ে রাখা হতে পারে। ৪. প্রযুক্তিগত ত্রুটি মাঝেমধ্যে বড় প্ল্যাটফর্মেও সাময়িক বাগ বা সার্ভার সমস্যার কারণে পেজ অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। গ্রামীণ কণ্ঠের উত্থান—নাকি ঝুঁকি? তাজুর ঘটনা শুধু একটি পেজ হারানোর গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের গ্রামীণ ডিজিটাল কনটেন্ট ইকোসিস্টেমের একটি প্রতীকী ঘটনা। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একজন মানুষ যখন সরাসরি নিজের ভাষায় স্থানীয় সমস্যা তুলে ধরেন, তখন তা দ্রুত মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে। কিন্তু সেই একই দ্রুততা প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদমিক নজরদারির ঝুঁকিও বাড়ায়। এখন কী? তাইজুল ইসলামের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে পেজটি স্বেচ্ছায় ডিঅ্যাক্টিভ করা হয়েছে, নাকি প্ল্যাটফর্ম কর্তৃপক্ষ সরিয়েছে—এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী—যদি এটি শুধুই যাচাই-বাছাই বা প্রযুক্তিগত সমস্যা হয়ে থাকে, তাহলে খুব শিগগিরই ‘তাজু ভাই ২.০’ আবারও অনলাইনে ফিরে আসবে। তাজুর গল্প প্রমাণ করে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া যতটা সহজ মনে হয়, তা ধরে রাখা ততটাই জটিল। একদিকে মানুষের ভালোবাসা, অন্যদিকে অ্যালগরিদমের কঠোর নজরদারি—এই দুইয়ের মাঝেই এখন ঝুলে আছে ‘তাজু ভাই ২.০’-এর ভবিষ্যৎ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খোয়াসাগর দিঘি থেকে গভীর রাতে বিপুল পরিমাণ মাছ ধরার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে দালাল বাজার এলাকার দিঘিতে জেলেদের মাধ্যমে জাল ফেলে মাছ তোলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন ও হাবিবুর রহমানের নির্দেশেই এই মাছ ধরা হয় এবং পরে সরকারি গাড়িতে তা নিয়ে যাওয়া হয়। একটি ভিডিও ইতোমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে জেলেদের মাধ্যমে দিঘিতে মাছ ধরার দৃশ্য দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওই রাতে প্রায় দুই টন মাছ ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রুই, কাতল, চিতল, আইড় ও পাঙ্গাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ ছিল। কয়েকটি চিতল মাছের ওজন ৭-৮ কেজি পর্যন্ত হতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, দিঘি থেকে ধরা অন্তত ১১২ কেজি তেলাপিয়া মাছ স্থানীয় দুই ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে। একজন ব্যবসায়ী ৪২ কেজি এবং অন্যজন ৭০ কেজি মাছ পেয়েছেন। সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন জানিয়েছেন, দিঘি থেকে ধরা মাছ এতিমখানায় দেওয়া হয়েছে এবং কিছু মাছ বিক্রিও করা হয়েছে। তবে মোট কত মাছ ধরা হয়েছে, কত টাকার মাছ বিক্রি হয়েছে বা কতটা দান করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। খোয়াসাগর দিঘি প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো, প্রায় ২৫ একর এলাকায় বিস্তৃত। একসময় এটি পৌরসভার মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হলেও প্রায় এক দশক আগে জেলা প্রশাসনের অধীনে নেওয়া হয়। এরপর থেকে দিঘির ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বচ্ছতা না থাকার অভিযোগ রয়েছে। রাতের অন্ধকারে মাছ ধরা, সরকারি সম্পদের ব্যবহারে অস্পষ্টতা এবং যথাযথ তথ্য না দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাইজুল ইসলামের পাশে দাঁড়িয়েছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। পথশিশু ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, তারা তাইজুলের জন্য একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দেবে। সংগঠনটির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ নয়ন বলেন, “তাইজুল ইসলামের জীবনযাপন এবং তার সংগ্রামের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। খুব দ্রুতই তার জন্য একটি ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে।” সম্প্রতি জিলাপির দাম নিয়ে করা একটি ভিডিওর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসেন তাইজুল। ভিডিওটিতে তাকে স্থানীয় একটি দোকানে গিয়ে সরল ভাষায় প্রশ্ন করতে দেখা যায়—“জিলাপি কত করে বিক্রি করছেন? সাদাডা কত, লালডা কত?” তার এই সহজ-সরল উপস্থাপনা অনেকের কাছে বিনোদন হিসেবে ধরা পড়লেও, সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতাকে প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ ব্যঙ্গ-বিদ্রূপও করেছেন। তাইজুল ইসলাম কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রির সহকারী। কাজের ফাঁকে ফাঁকে শখের বসে ভিডিও তৈরি করেন। তিনি বলেন, “আমাদের এলাকার খবর কেউ তুলে ধরে না। তাই আমি নিজেই ভিডিও করি। আমি সাধারণ মানুষ, ভুল হতেই পারে। মানুষ আমাকে নিয়ে ট্রোল করলেও আমার কষ্ট নেই। আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক।” স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তিনি বিষয়টি আগে জানতেন না। পরে শুনেছেন যে তাইজুল ভিডিও করে ভাইরাল হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পাওয়ার পর এখন তাইজুলের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
নোয়াখালী : নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আগে সোমবার (১৬ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউএনও মো. আলাউদ্দিনকে ঘিরে একটি আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হয়। প্রায় ২৯ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ওই ভিডিওটি দ্রুতই ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগের বিষয়ে মো. আলাউদ্দিন দাবি করেছেন, ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগের কর্মস্থল সুনামগঞ্জের তাহেরপুর এলাকা থেকে পরিকল্পিতভাবে এটি ছড়ানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার খবর পাওয়ার পর সোমবার সকালেই তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করে জেলা সদরের উদ্দেশে রওনা দেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ইউএনও কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি অবগত আছেন। তবে ভিডিওতে থাকা নারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ একে ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে দেখছেন, যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালার একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত থেকে ভিডিওটি ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে উপজেলাজুড়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। এর আগে সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা শুক্রবার বিকেলে শিবচরের বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর মাঠে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখেন। সেই অনুষ্ঠানে দেওয়া তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। চার মিনিট ২২ সেকেন্ডের ভিডিও বক্তব্যে দেখা যায়, তিনি বলেন, এ দেশের প্রবাসী ভাইয়েরা আমাদের বিশ্বাস করেছেন। এ দেশের সব মানুষ আমাদের বিজয়ী করেছে। এজন্য আমাদের জমা-খরচ দিয়ে রাজনীতি করতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। আমি গত কয়েকদিন ধরে ভালোভাবে খেয়াল করেছি, আমাদের কিছু ভাইয়েরা খুব লেখালেখি করছেন এবং খুব কথা বলছেন। তারা অন্য কেউ নয়, তারা শিবচরের বিএনপি ভাইয়েরা। কিন্তু আমি তাদের বলতে চাই, আপনারা কি এটা মনে করেন না— আমি হানজালা নির্বাচিত হওয়ার পর আমার নেত্রীবৃন্দ কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেনি, হুমকি-ধমকি দেয়নি। আমি হানজালা এমপি হওয়ার আগে আমার কতটুকু ক্ষমতা ছিল এই শিবচরের মাটিতে, তা আপনারা দেখেননি। তাহলে আপনারা কি মনে করছেন, আমি চুপ করে আছি? আমি শান্তি চাই। আমি শিবচরের প্রত্যেকটা মানুষকে নিয়ে কাজ করতে চাই। আমি শিবচরের প্রতিটি সদস্যকে নিয়ে কাজ করতে চাই। আমার চুপ করে থাকা মানে আমার কোনো দুর্বলতা নয়। যদি মনে করেন হানজালা চুপ করে থাকা দুর্বলতা, তাহলে সেটা আপনাদের ভুল— আপনার চিন্তায় ভুল আছে। হানজালা চুপ করে থাকা মানে হানজালা শিবচরের মাটিতে শান্তি চায়। ভিডিও বক্তব্যে আরও শোনা যায়, তিনি বলেন, আমার এক প্রার্থী বক্তব্য দিয়েছেন যে বিএনপিকে খোঁচাখুঁচি করবেন না। আরে আমি হানজালা খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি এ দেশে থাকতে পারবে না। আপনারা রাজনীতি করেন শিবচর উপজেলা নিয়ে, হানজালা রাজনীতি করে পুরো বাংলাদেশ নিয়ে। আপনারা চিল্লাচিল্লি করবেন ক্লাবে-ক্ষেতে, হানজালা চিল্লাচিল্লি করবে বাংলাদেশের পার্লামেন্টে। তাই আমি শান্তি চাই। আমার চুপ করে থাকা মানে, বারবার বলছি, এটা কোনো দুর্বলতা নয়। আমি নতুনত্বের রাজনীতি চাই। আমি শিবচরে কোনো প্রতিহিংসা বা আধিপত্যের রাজনীতি আগামীতে দেখতে চাই না। এজন্য বলছি, আসুন ভালোবাসা দিয়ে কাজ করি, আসুন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি। এ সংসদ সদস্য তার ভিডিও বক্তব্যে আরও বলেন, আমার জায়গায় যদি আজ অন্য কেউ হতো, তাহলে আপনাদের বাড়িঘরে কাউকে থাকতে দিত না। আমার জায়গায় যদি অন্য কেউ হতো, কাউকে ঠিকমতো চলতে দিত না, বাড়িঘর থেকে বের হতে দিত না। আমি আপনাদের বাকস্বাধীনতা দিয়েছি। আমার নামে লেখালেখি করবেন— আমি সেই স্বাধীনতা শিবচরের মানুষকে দিয়েছি। আগের এমপির বিরুদ্ধে এ দেশের একজনও কলম ধরতে পারেনি। আমি শিবচরের মানুষকে সেই বাকস্বাধীনতা দিয়েছি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীক নিয়ে সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাদিরা চৌধুরীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। বর্তমানে উপজেলাজুড়ে এমপি সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালার একটি ভিডিও নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান, তিনি একজন এমপি হয়ে এ ধরনের কথা বলতে পারেন না। আমাদের শিবচরে তার এ বক্তব্য নিয়ে নানা সমালোচনা চলছে। শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. সোহেল রানা বলেন, শিবচরের বর্তমান এমপি এবং তাঁর পরিবার পাঁচ আগস্টের আগে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে ছিলেন। আসলে তিনি যেটা চাচ্ছেন, তা হলো শিবচরে উগ্রবাদী রাজনীতির উত্থান ঘটানো। শিবচরে যে শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক সামাজিক পরিবেশ রয়েছে, তা উত্তপ্ত করার অভিপ্রায় থেকেই তিনি শিবচর বিএনপিকে নিয়ে এ মন্তব্য করেছেন বলে আমি মনে করি। মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বলেন, আসলে শিবচরে আমি নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আমার কোনো লোক এ পর্যন্ত কারও সঙ্গে কোনো রূপ খারাপ আচরণ করেনি। এ সুযোগও আমি দেব না। সেখানে বিএনপির লোকজন আমার লোকজনকে হুমকি দেয়। আমাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয়। এরই প্রেক্ষিতে আমি একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কথাটা বলেছি। মূলত বিএনপি বলতে শিবচর বিএনপিকে বুঝিয়েছি। অনেকে আমার বক্তব্য কেটে কেটে সামাজিক মাধ্যমে ছেড়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমি শিবচরে কোনো অন্যায় রাজনীতি হতে দেব না। সাধারণ মানুষ যেন ভালো থাকে, সেই চেষ্টাই করে যাব।
ঢাকা : ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার দাফন আজ (রোববার) সম্পন্ন হয়েছে। ইকরাকে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের রান্দিয়া গ্রামে তার নানা বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে তার মরদেহ ঢাকার মিরপুর থেকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। মরদেহ আসার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে এলাকার আকাশ-বাতাস। একের পর এক অমানবিক ঘটনা যেন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। স্বজনদের দাবি, ইকরার মৃত্যু ছিল এক গভীর মানসিক যন্ত্রণার ফল। তার বাবা, যিনি এখন পাগলপ্রায়, তার মেয়ের মৃত্যুকে ‘পরিকল্পিত হত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, অভিনেতা যাহের আলভী এবং তার মায়ের একাধিক মানসিক নির্যাতন ও ক্রমাগত প্ররোচনাই ইকরাকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিয়েছে। তার ভাষায়, “এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।” আলভীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তার অবহেলা এবং অনৈতিক জীবনযাপন ইকরাকে অবর্ণনীয় মানসিক যন্ত্রণায় ফেলেছিল। ইকরার স্বজনরা অভিযোগ করেছেন যে, দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে তিনি সব সময় অবহেলিত ছিলেন এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইকরার একটি ব্যক্তিগত চ্যাট স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে তার চরম মানসিক বিপর্যস্ত হওয়ার বিষয়টি ফুটে ওঠে এবং আলভীর বিরুদ্ধে এক সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগও তোলা হয়। গুরুতর অভিযোগের পর, বেশ কিছুদিন ধরে ইকরার পরিবার এবং এলাকাবাসী দাবি করছিল যে, এই ঘটনার তদন্ত সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত হওয়া উচিত এবং যারা এই মৃত্যুর জন্য দায়ী, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত। ইকরার মৃত্যু বাংলাদেশের সারা দেশে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ময়মনসিংহের ভালুকার গ্রামে এবং তার ভক্তদের মধ্যে এক গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকার বাসিন্দারা দাবি করছেন, যদি এই মৃত্যুর পেছনে কারো প্ররোচনা থাকে, তাহলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা উচিত। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় অভিনেতা যাহের আলভী ঈদুল ফিতরের নাটকের শুটিংয়ের জন্য নেপালে ছিলেন। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা দেশের মিডিয়া অঙ্গনে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়াতে এই ঘটনায় আলভীর শাস্তি দাবি করছেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণ বিধিমালা যথাযথভাবে প্রতিপালনের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি নির্দেশনামূলক চিঠি দেশের সব রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৬ অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে চাইলে প্রার্থী, তার নির্বাচনি এজেন্ট বা দলের পক্ষ থেকে ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইলসহ সব শনাক্তকরণ তথ্য প্রচারণা শুরুর আগেই রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করতে হবে। এছাড়া বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ২২-এর উপবিধি (২) অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচন সংক্রান্ত কনটেন্ট তৈরি, বিজ্ঞাপন, বুস্টিং ও স্পন্সরশিপসহ সব ধরনের ব্যয় নির্বাচনি ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে। এসব ব্যয়ের হিসাব সামগ্রিক নির্বাচনি ব্যয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাখিল করতে হবে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে যে ব্যয় হবে তা অবশ্যই নির্বাচনি ব্যয় হিসেবে বিবেচিত হবে এবং রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে। এমতাবস্থায় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালায় উল্লিখিত সব নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করতে রিটার্নিং অফিসারদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে কোন রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী কোন কোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে, সে সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখায় প্রেরণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।