Brand logo light

সামুদ্রিক নিরাপত্তা

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ঘোষণা, কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংকট

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোর হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান, অন্যদিকে কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি এবং ওমানের জলসীমায় সন্দেহভাজন নৌ-মাইন শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা শুধু সামরিক উত্তেজনার ইঙ্গিত নয়; বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক ভারসাম্যের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। হরমুজে কঠোর নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর খাতাম আল-আম্বিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ কর্তৃত্বের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজ, তেলবাহী ট্যাংকার এবং অন্যান্য নৌযানকে নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি যাত্রার আগে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর অনুমতি নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের দাবি, নির্ধারিত বিধিনিষেধ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রণালিতে অবস্থানরত বিদেশি সামরিক বাহিনীকেও সতর্ক করা হয়েছে। তেহরান বলছে, সামুদ্রিক চলাচল বা প্রণালির ব্যবস্থাপনায় বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। কাতারের আপত্তি: স্থায়ী টোলের বিরোধিতা এদিকে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত শাংরি-লা ডায়ালগে কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল রহমান আল-থানি হরমুজ প্রণালিতে স্থায়ী ট্রানজিট ফি বা টোল আরোপের সম্ভাবনার বিরোধিতা করেন। তার মতে, এমন কোনো ব্যবস্থা কার্যকর হলে এর অর্থনৈতিক চাপ শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক ভোক্তাদের ওপরই পড়বে। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, মাইন অপসারণ বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট প্রকল্পের জন্য সীমিত সময়ের অস্থায়ী চার্জ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এই অবস্থান এমন সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য একটি কাঠামো নিয়ে আলোচনা করছে বলে আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। ওমানের জলসীমায় সন্দেহভাজন নৌ-মাইন উত্তেজনার মধ্যেই ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার (এমএসসি) জানিয়েছে, দেশটির জলসীমায় একটি ভাসমান বস্তু শনাক্ত করা হয়েছে, যা নৌ-মাইন হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, হরমুজ প্রণালির ইনশোর ট্রাফিক জোনের পশ্চিম অংশে এই বস্তুটি দেখা গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজ, নাবিক এবং জেলেদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনো বস্তু দেখা গেলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর কয়েকদিন আগেই মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছিল যে তারা দক্ষিণ ইরানের কাছাকাছি এলাকায় মাইন স্থাপনকারী কিছু নৌযানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে চালানো এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন মার্কিন সেনা ও বেসামরিক ঠিকাদার আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হামলায় মার্কিন বাহিনীর দুটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং অন্যটি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। মার্কিন পক্ষের দাবি অনুযায়ী, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি ফাতেহ-১১০ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করলেও এর ধ্বংসাবশেষ ঘাঁটির ভেতরে পড়ে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়। অন্যদিকে আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই ওই মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে একই ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হয়েছিল এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ছিল তারই প্রতিক্রিয়া। আইআরজিসি আরও সতর্ক করেছে, ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক এমন পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইরান বা ইরাকে সামরিকভাবে জড়ানো উচিত ছিল না। তিনি ইরাক যুদ্ধকে ‘অত্যন্ত বোকামিপূর্ণ সিদ্ধান্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সেখানে থাকা উচিত ছিল না। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, কয়েক মাস আগে মার্কিন বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের সামরিক সক্ষমতার ওপর হামলা না চালানো হলে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছে যেত। ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের সামরিক কাঠামোর একটি অংশকে সরাসরি ধ্বংসের লক্ষ্যবস্তু বানায়নি। তার ভাষায়, সামরিক বাহিনীর কিছু অংশকে তারা তুলনামূলকভাবে ‘মধ্যপন্থী’ হিসেবে বিবেচনা করেছে। কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি? বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হরমুজ প্রণালি। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করে। ফলে এখানে সামরিক উত্তেজনা, টোল আরোপ, মাইন বিস্ফোরণের আশঙ্কা কিংবা জাহাজ চলাচলে বাধা—সবকিছুই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সাম্প্রতিক অবস্থান, মার্কিন-ইরান উত্তেজনা এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর ভিন্নমুখী অবস্থান মিলিয়ে হরমুজ প্রণালি আবারও আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়; বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৩১, ২০২৬ 0
ইরানি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি জাহাজ জব্দের ঘটনায় বেড়েছে উত্তেজনা: বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামুদ্রিক মুখোমুখি অবস্থান আরও তীব্র হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।  ভারত মহাসাগরে মার্কিন অভিযানে জাহাজ জব্দ মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরে অভিযান চালিয়ে ইরান থেকে তেল পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে একটি রাষ্ট্রহীন তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। জাহাজটির নাম এম/টি *ম্যাজেস্টিক*। স্থানীয় সময় ২৩ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, জাহাজটি কোনো স্বীকৃত জাতীয়তার অধীনে পরিচালিত হচ্ছিল না এবং ইরান-সম্পর্কিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকার সন্দেহে তল্লাশি ও নিয়ন্ত্রণ অভিযান চালানো হয়। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ইরানকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করে—এমন জাহাজ ও নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র এক ডজনেরও বেশি জাহাজ আটক করেছে, যদিও এসব অভিযান মূলত ইরানের উপকূলবর্তী জলসীমার বাইরে, ভারত মহাসাগরের দূরবর্তী অঞ্চলে পরিচালিত হয়েছে। এর আগে ২১ এপ্রিল এম/টি *টিফানি* নামের আরেকটি জাহাজ জব্দের কথাও জানায় পেন্টাগন।  হরমুজ প্রণালিতে ইরানের জাহাজ জব্দ অন্যদিকে, ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ভারতমুখী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ—‘ইপামিনোন্ডাস’ ও ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’—জব্দ করেছে। ইরান-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম নূর নিউজ প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানি পতাকাবাহী দ্রুতগতির স্পিডবোট জাহাজগুলোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং সশস্ত্র নৌসদস্যরা জাহাজে উঠে নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী: * ‘ইপামিনোন্ডাস’ সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় সেটির দিকে গুলি ছোড়া হয় * ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ ইসরায়েল-সম্পর্কিত মালিকানাধীন * জাহাজগুলো নৌ-নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করছিল তারা আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিয়ম ভঙ্গ বা নিরাপদ নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নির্দেশনা এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দেন— মাইন স্থাপনের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট যেকোনো নৌযানকে সঙ্গে সঙ্গে গুলি করে ধ্বংস করতে হবে। তিনি আরও জানান: * মাইন অপসারণ কার্যক্রম তিনগুণ বাড়ানো হয়েছে * প্রণালিতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে  সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পেন্টাগনের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পুরো হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে প্রায় ছয় মাস সময় লাগতে পারে। এই দীর্ঘ সময়ের অস্থিতিশীলতা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্যের একটি প্রধান রুট হিসেবে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সাম্প্রতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামুদ্রিক পদক্ষেপ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে। জাহাজ জব্দ, সামরিক সতর্কতা এবং সম্ভাব্য মাইন সংকট—সব মিলিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এখন বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা: গুলিবর্ষণ, নিয়ন্ত্রণ জোরদার ইরানের , বৈশ্বিক জ্বালানি ঝুঁকি

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে একটি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, প্রণালিতে চলাচলরত একটি ট্যাংকারে দুটি গানবোট থেকে গুলি চালানো হয়। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ব্যবহৃত নৌযানগুলো ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। ট্যাংকারের ক্যাপ্টেন দাবি করেছেন, কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই এই গুলিবর্ষণ করা হয়। যদিও এতে জাহাজের বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি এবং ক্রুরা নিরাপদে রয়েছেন। ভারতীয় জাহাজেও হামলার অভিযোগ একই দিনে হরমুজ অতিক্রমের সময় একটি ভারতীয় পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। সরকারি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ‘সানমার হেরাল্ড’ নামের জাহাজটিও লক্ষ্যবস্তু ছিল। তবে এই ঘটনাতেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ঘটনার পর ভারত সরকার তেহরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে উদ্বেগ জানায়, যা পরিস্থিতির কূটনৈতিক মাত্রাকে আরও স্পষ্ট করে। নিয়ন্ত্রণে ইরান, অনিশ্চয়তায় নৌপথ ইরান ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, চলমান সংঘাত পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রণালি অতিক্রমকারী সব জাহাজের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং ট্রানজিট অনুমোদন ও সেবা ফি কার্যকর থাকবে। এছাড়া, কিছু জাহাজ রেডিও বার্তার মাধ্যমে সতর্কবার্তা পেয়েছে যে প্রণালিটি পুনরায় বন্ধ করা হয়েছে এবং কোনো জাহাজকে অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হবে না। এই ঘোষণার পরপরই গুলিবর্ষণের ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে। সাময়িক স্বস্তি, দ্রুত অবনতি ঘটনার আগে সাময়িকভাবে পরিস্থিতির উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। অন্তত আটটি তেলের ট্যাংকারের একটি বহর প্রণালি অতিক্রম করছিল, যা সাত সপ্তাহ ধরে চলমান সংঘাতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেই স্বস্তি মিলিয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান টানাপোড়েন এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের উপকূলীয় অঞ্চল ও বন্দরগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। মার্কিন সামরিক সূত্র জানিয়েছে, এই নজরদারির কারণে অন্তত ২৩টি জাহাজ তাদের গন্তব্য পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র এই নজরদারির আড়ালে জলদস্যুতার মতো আচরণ করছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অবরোধের কথা অস্বীকার করলেও তাদের কার্যক্রম বাস্তবে জাহাজ চলাচলে প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া যুক্তরাজ্য হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌপরিবহন পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বৈঠকে বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও প্রণালিতে এখনো স্বাভাবিক চলাচল শুরু হয়নি, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক। বৈশ্বিক প্রভাব বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যে কোনো ধরনের অস্থিরতা সরাসরি তেলের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। হরমুজ প্রণালির সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। গুলিবর্ষণ, নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে। এই উত্তেজনা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং কূটনৈতিক সমাধান কতটা কার্যকর হবে, তা এখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় প্রশ্ন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালী ‘শক্ত হাতে’ নিয়ন্ত্রণ করছে ইরান

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী গত প্রায় চার সপ্তাহ ধরে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সৃষ্টি হয়েছে নজিরবিহীন অস্থিরতা। এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সার সরবরাহেও এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কেন বন্ধ হয়ে গেল হরমুজ প্রণালী? উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান-এর সামরিক তৎপরতা, জাহাজে হামলা এবং সরাসরি হুমকির কারণে এই রুটে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে অধিকাংশ শিপিং কোম্পানি জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তার ভৌগোলিক অবস্থান ও অপ্রচলিত যুদ্ধকৌশল—বিশেষ করে ড্রোন, সামুদ্রিক মাইন ও দ্রুতগতির নৌযান ব্যবহার করে—এই সংকটকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। ভৌগোলিক সুবিধা কীভাবে কাজে লাগাচ্ছে ইরান? হরমুজ প্রণালী সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থানে মাত্র ২৪ মাইল চওড়া। জাহাজ চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট লেন আরও সংকীর্ণ হওয়ায় এটি একটি “চোকপয়েন্ট” হিসেবে পরিচিত। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকীর্ণতার কারণে জাহাজের পক্ষে পথ পরিবর্তন বা আক্রমণ এড়ানো প্রায় অসম্ভব। ফলে ইরানের জন্য লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সহজ হয়ে যায়। ইরানের প্রায় ১,০০০ মাইল দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং পাহাড়ি ও দ্বীপঘেরা ভূপ্রকৃতি তাদের মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা গোপন রাখতে সাহায্য করছে। জাহাজগুলোর জন্য কী ধরনের হুমকি? বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলো হলো— সামুদ্রিক মাইন ড্রোন হামলা ছোট দ্রুতগতির আক্রমণকারী নৌযান বিস্ফোরক বোঝাই চালকহীন নৌকা এই পরিস্থিতিকে অনেক বিশ্লেষক “কিল জোন” হিসেবে বর্ণনা করছেন, যেখানে প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ড। যুক্তরাষ্ট্র কী করছে? ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর পাশাপাশি তেলবাহী জাহাজে নৌবাহিনীর এসকর্ট দেওয়ার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। এছাড়া USS Tripoli সহ বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। ইরানের অর্থনৈতিক লাভ বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইরান কিছু জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দিয়ে মোটা অঙ্কের ফি আদায় করছে। যদিও এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। বর্তমান পরিস্থিতি অন্তত ১৯টি জাহাজে হামলার অভিযোগ প্রায় ২,০০০ জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকা সীমিত কিছু জাহাজ এখনো পারাপার করছে বিশ্লেষকদের মতে, সম্পূর্ণ চলাচল পুনরায় শুরু হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগবে। সামনে কী হতে পারে? পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ— উত্তেজনা কমার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ছে বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ ও খাদ্য নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে টোল আরোপে আইন আনছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপের পরিকল্পনা করছে ইরান। এ লক্ষ্যে দেশটির পার্লামেন্টে একটি নতুন আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ফার্স ও তাসনিম। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সংসদের সিভিল অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে একটি খসড়া আইন ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই আইনসভা দলের মাধ্যমে সেটি চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, “এই পরিকল্পনার আওতায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান ফি আদায় করবে।” তার মতে, বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে অস্বাভাবিক কিছু নয়। তিনি বলেন, “বিশ্বের অন্যান্য বাণিজ্য করিডোর ব্যবহার করলে যেমন শুল্ক দিতে হয়, তেমনি হরমুজ প্রণালীও একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর। আমরা এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করি, তাই জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর শুল্ক প্রদান স্বাভাবিক।” বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে হরমুজ প্রণালীতে টোল আরোপের সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক বাণিজ্য ও তেলবাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরান যে পাঁচটি শর্ত দিয়েছে, তার একটি হলো—হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের কর্তৃত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা। এই প্রেক্ষাপটে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ যাতায়াতে ২২ দেশের উদ্যোগ, ইরানের পদক্ষেপের নিন্দা

হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য প্রচেষ্টা চালাতে চায় ২০টিরও বেশি দেশ। যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতও রয়েছে। খবর ডনের। প্রতিবেদন বলছে, ২০টিরও বেশি দেশ হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অবরোধের নিন্দা করেছে। প্রধানত ইউরোপীয় দেশগুলোসহ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন মিলে ২২টি দেশ বলেছে, ‘আমরা পারস্য উপসাগরে নিরস্ত্র বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলা, তেল ও গ্যাস স্থাপনাসহ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা এবং ইরানি বাহিনীর হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয়ার তীব্র নিন্দা জানাই।’ ‘প্রণালীটি দিয়ে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার যথাযথ প্রচেষ্টায় অবদান রাখতে আমরা আমাদের প্রস্তুতি প্রকাশ করছি। যেসব দেশ প্রস্তুতিমূলক পরিকল্পনায় নিযুক্ত রয়েছে, আমরা তাদের অঙ্গীকারকে স্বাগত জানাই।’ তারা একটি যৌথ বিবৃতিতে বলেছে। ‘তেল ও গ্যাস স্থাপনাসহ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলায় অবিলম্বে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থগিতাদেশের আহ্বান জানাচ্ছি।’ দেশগুলো আরও যোগ করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0