ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পুলিশ সপ্তাহ ২০২৫ উপলক্ষে ঘোষিত পুলিশ পদক প্রদান অনুষ্ঠান শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। পদকপ্রাপ্তদের তালিকায় বিতর্কিত ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিকবার পুরস্কার পাওয়া কর্মকর্তাদের নাম উঠে আসায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র বলছে, এ বছর মোট ১০৭ জন পুলিশ সদস্যের পদক পাওয়ার কথা ছিল। তাদের মধ্যে অন্তত ১১ জন কর্মকর্তা অতীত সরকারের আমলেও পদক পেয়েছিলেন। এদের একজন বিগত সরকারের সময়ে দুইবার পদক লাভ করেন। পদকের জন্য মনোনীত অন্তত ছয়জন কর্মকর্তা কালবেলাকে জানিয়েছেন, তাদের মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে যে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স প্যারেড গ্রাউন্ডে পদক প্রদানের আনুষ্ঠানিকতা আপাতত বাতিল করা হয়েছে। পরবর্তীতে নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও তাদের জানানো হয়। যদিও এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি— পদকপ্রাপ্তদের তালিকায় কয়েকজন বিতর্কিত সদস্যের নাম শেষ মুহূর্তে নজরে আসায় অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। তবে শনিবার বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’ ও ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের জন্য ‘বিপিএম-সেবা’ ও ‘পিপিএম-সেবা’ পদক দেওয়ার কথাও জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদকপ্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেবেন। এর আগে, গত ২ মে থেকে পদকের জন্য মনোনীত সদস্যরা রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে প্যারেডের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’— এই প্রতিপাদ্যে চার দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ শুরু হচ্ছে রোববার। চলবে ১৩ মে পর্যন্ত। রোববার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করবেন। এ সময় তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যও দেবেন। এবারের প্যারেডে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা অংশ নেবেন প্যারেডে। পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্ম অধিবেশনে গত বছরের কার্যক্রম মূল্যায়ন এবং আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বেশকিছু মামলায় ব্যক্তিগত সুবিধা চরিতার্থ করার জন্য কিছু সাধারণ ও নিরীহ লোককে আসামি করা হয়েছে। কিছু সুবিধাবাদী শ্রেণি এই মামলাগুলো করেছে যেগুলো আমাদের নজরে এসেছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই মামলাগুলো থেকে আসামিদের অব্যাহতি দেয়া হবে। এজন্য জেলা পর্যায় থেকে মামলাগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের চতুর্থ ও শেষ দিনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ অধিবেশন হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের পরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু মামলা হয়েছে, যেগুলো গণহত্যার মামলা এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা। আমরা তাদের (ডিসি) কাছে তালিকা চেয়েছি জেলা পর্যায়ে যে জেলাওয়ারি কতগুলো মামলা সে রকম দাখিল হয়েছে। এগুলো রিমোট ডিস্ট্রিক্টগুলোতে হয়তো কম, কিন্তু মহানগরগুলোতে সংখ্যা একটু বেশি। তাতে আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব যেন আপনারা সবাই জানেন অনেক মামলার মধ্যে হাজার হাজার লোককে আসামি করা হয়েছে। সেগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব প্রকৃত অর্থে প্রকৃত আসামি কারা, সেটা তদন্ত কর্মকর্তারা তদন্ত করে দেখবেন এবং যেন স্বল্প সময়ের ভেতরে সেটা ডিসপোজ অব (নিষ্পত্তি) করতে পারে। তিনি বলেন, আর যাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাদের যেন নিষ্কৃতি দেয় সেই সুপারিশ আমরা করেছি। তবে এটা আইনানুগভাবেই হবে, আইনি প্রক্রিয়ায় হবে। ডিসিদের মামলাগুলো পাঠানোর জন্য কত দিন সময় দেওয়া হয়েছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি এটা দ্রুত পাঠাতে। মৌখিকভাবে বলেছি সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে পাঠাতে। কোনো ক্ষেত্রে কেউ যদি বিলম্ব করে থাকে, আমরা ন্যায় বিচারের স্বার্থে সেটা বিবেচনা করব। আশা করি যারা মামলা প্রত্যাহার চান, তারা তো বিলম্ব করবেন না।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জেলা পর্যায়ে যে কমিটি আমরা করে দিয়েছিলাম হেডেড বাই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, এডিএম, এসপি, পিপি এবং আরও একজন প্রতিনিধি আছে। তারা এই কমিটি প্রজ্ঞাপন দিয়ে জনসাধারণের কাছে জানিয়েছে যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এই সমস্ত ভুয়া মামলা, মিথ্যা মামলাগুলো যদি কারো বিরুদ্ধে হয়ে থাকে, তারা একটা ফরম আছে এই ফর্মের মধ্যে আবেদন করবে উইথ আইদার চার্জশিট, এফআইআর এবং এজাহারসহ। চার্জশিট হয়ে থাকলে চার্জশিটসহ কোন আদালতে মামলা ইত্যাদি তথ্য উল্লেখ করে। তারা সেটা যাচাই-বাছাই করে যদি সত্যিকারে সেই শ্রেণিভুক্ত মামলা হয়ে থাকে তখন সেগুলো প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করবেন। মন্ত্রী বলেন, এগুলা প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসবে। আমরা এর ওপরে কোনো আইনি ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে নেব না। আমরা এটা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। ওখানে আইনমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি কমিটি আছে, তারা ভেটিং করে যদি সঠিক পায় যে সমস্ত মামলা প্রত্যাহারের জন্য উপযুক্ত মনে করবেন তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠালে আমরা সিআরপিসির ৪৯৪ অনুসারে সেগুলো প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় বা হয়রানিমূলক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যেসব ভুয়া গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়েছিল আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সময়ে, সেই মামলাগুলোর বিষয়ে আমরা আবার একটা পত্র দিয়েছিলাম দায়িত্ব গ্রহণের পরে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কিছু মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে কিছু কিছু মামলা, কিছু শ্রেণির মামলা অন্তর্ভুক্ত করা ছিল না তখন। যেমন হত্যা মামলা, অস্ত্র মামলা, নারী নির্যাতন, মাদকপাচার, মানবপাচার এই সমস্ত কিছু মামলা এই আওতাভুক্ত করা ছিল না তখন। তিনি বলেন, ‘আমরা পলিটিক্যাল গভর্নমেন্ট দায়িত্ব নেওয়ার পরে বিবেচনা করেছি যে আমাদের বিরুদ্ধেও অনেক অস্ত্র মামলা, হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এমনকি বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও হত্যা মামলা ছিল, আমার জানামতে অন্তত দুই-তিনটা, যাত্রাবাড়ী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জায়গায়। চৌদ্দগ্রামের মামলাসহ আমার বিরুদ্ধেও একই মামলাগুলো ছিল। অস্ত্র মামলাও ছিল। আমাদের অনেক নেতার বিরুদ্ধে মাদক মামলা দেওয়া হয়েছিল, নারী নির্যাতনসহ যে কোনোভাবে যেন আটক রাখা যায় সেই মামলাগুলো দেওয়া হয়েছিল।’
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ পুলিশে বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে বরিশাল মহানগর পুলিশের (বিএমপি) নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আশিক সাঈদ। মঙ্গলবার (৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলির কথা জানানো হয়। একই প্রজ্ঞাপনে বিএমপির বিদায়ী কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামকে ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এদিন পৃথক আরেক প্রজ্ঞাপনে ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার মোট ৩৯ জন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি ও নতুন পদে পদায়ন করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মো. জিললুর রহমানকে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আরএমপির নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ডিআইজি মোহা. ফয়েজুল কবির। এছাড়া, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মুশফেকুর রহমানকে পুলিশ সদরদপ্তরে ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলামকে সিআইডির ডিআইজি এবং সিআইডির ডিআইজি আবুল বাশার তালুকদারকে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিআইজি) সানা শামীনুর রহমানকে সিআইডিতে এবং সিআইডির ডিআইজি মোহাম্মদ শামসুল হককে ডিএমপিতে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া একাধিক পুলিশ সুপার ও উপ-পুলিশ কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তাকেও বিভিন্ন ইউনিটে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। জেলা পর্যায়েও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। পঞ্চগড়, বান্দরবান, জয়পুরহাট, পাবনা, নীলফামারী, নড়াইল, সাতক্ষীরা, চাঁদপুর, ঝালকাঠি, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম ও ফেনীসহ বিভিন্ন জেলায় নতুন পুলিশ সুপার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণের অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ (রবিবার) দাখিল করা ওই অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামে যোগদানের পর থেকে তিনি বিভিন্ন সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে নীতিমালা উপেক্ষা করে আর্থিক অনিয়ম করেছেন। সরকারি ক্রয়ে অনিয়ম ও অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আসবাবপত্র, কম্পিউটার, প্রশিক্ষণ সামগ্রীসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনাকাটায় বাজারদরের তুলনায় বেশি মূল্য দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, বাজারে যেখানে কম্পিউটার টেবিলের দাম ২,৫০০ থেকে ২,৮০০ টাকা এবং চেয়ারের দাম ৪,০০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা, সেখানে যথাক্রমে ৬,৫০০ ও ৮,৫০০ টাকা দরে ক্রয় দেখানো হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, কম্পিউটার ক্রয়ের ক্ষেত্রে ঘোষিত কনফিগারেশনের তুলনায় নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ নেওয়া হয়েছে। কোটেশন ও ঠিকাদার নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত কোটেশন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ঘনিষ্ঠ বা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার প্রতিষ্ঠানকে কোটেশনে দেখিয়ে ভিন্ন উৎস থেকে মালামাল সংগ্রহের অভিযোগও আনা হয়েছে। ভবন পরিদর্শন কমিটি গঠন নিয়ে বিতর্ক ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বরের একটি স্মারকের ভিত্তিতে ১৬ তলা ভবনের অগ্নি নিরাপত্তা ছাড়পত্র সংক্রান্ত পরিদর্শন কমিটি গঠনের সময় নিয়ম ভেঙে সদস্য সচিবকে বাদ দিয়ে নিজের পছন্দমতো ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও রয়েছে। নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী গ্রহণে চাপের অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অফিসের জন্য বরাদ্দকৃত উন্নতমানের মসুর ডাল সরবরাহ না হলেও তা গ্রহণে চাপ দেওয়া হয়। গ্রহণ কমিটির সদস্য সচিব আপত্তি জানালেও তাকে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পারিবারিক অনুষ্ঠানে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার মেয়ের বিয়েতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে অর্থ ও উপহার সংগ্রহের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকজন কর্মকর্তার কাছ থেকে নগদ অর্থ এবং প্রায় ২ ভরি সোনার গহনা উপহার হিসেবে নেওয়া হয়। সরকারি গাড়ি ব্যবহারে অনিয়ম অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, মার্চ ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৮৭৮ কিলোমিটার সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয় এবং প্রায় ১৯৫ লিটার জ্বালানি অপচয়ের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ২ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩৬ ঘণ্টা অননুমোদিতভাবে গাড়ি ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সম্পদ অর্জন নিয়ে প্রশ্ন ২০২১ সালে একটি মাইক্রোবাস ক্রয় এবং সাভার ও ডেমরা এলাকায় জমি কিনে বসতবাড়ি নির্মাণের তথ্য উল্লেখ করে অভিযোগে অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রশাসনিক পদ শূন্যতা ও অতিরিক্ত দায়িত্ব অভিযোগে বলা হয়, চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে উপ-পরিচালক পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়। এ সুযোগে সহকারী পরিচালককে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি নিজেকে “ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক” হিসেবে উপস্থাপন করে প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, গালিগালাজ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড সরকারি আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া অভিযোগের বিষয়ে মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। মাঠ পর্যায়ে এসে দেখেন। আমি অভিযোগকারীকে চিনি না। আমার কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে এসব করা হচ্ছে।”
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে ভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের একটি অংশকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এদের অনেকেই পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন—যা বর্তমান সরকারের নিরাপত্তা কাঠামোর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অভিযোগ ওঠার পর অন্তত ১২ জন দেহরক্ষীকে ইতোমধ্যে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় ৩০ জনকে নিয়ে চলছে যাচাই-বাছাই। নিয়োগে নীতিগত সিদ্ধান্ত, বাস্তবে ব্যত্যয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা শপথের আগেই একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল—পূর্ববর্তী সরকারের সময় দায়িত্বে থাকা কোনো দেহরক্ষীকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, তদবির, সুপারিশ—এমনকি কিছু ক্ষেত্রে উৎকোচের বিনিময়ে—সেই সিদ্ধান্ত ভেঙে বিতর্কিত ব্যক্তিদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)-এর প্রধান সরদার নুরুল আমিন বলেন, “দেহরক্ষী নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে বদলি করা হয়েছে, অন্যদের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।” কারা এই দেহরক্ষীরা? পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় মোট ১১১ জন পুলিশ সদস্যকে গানম্যান বা দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তে উঠে এসেছে—এদের একটি বড় অংশই আগের সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত এবং সেই সময়ের মন্ত্রীদের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকে: * ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন * রাজনৈতিক ‘কোটা’ বা সুপারিশে নিয়োগ পেয়েছিলেন * সাবেক এমপি বা নেতাদের আত্মীয়স্বজন নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ পুলিশ সদর দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এই ধরনের নিয়োগ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর তথ্যের গোপনীয়তা ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী: * ভিআইপিদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক কথোপকথনে অনেক দেহরক্ষীর রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে * বিষয়টি আইজিপিকে অবহিত করা হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ জানানো হয় * কয়েকজনকে দ্রুত প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে একই ব্যক্তি, ভিন্ন সরকার—একই দায়িত্ব তদন্তে দেখা গেছে, অনেক দেহরক্ষী বিভিন্ন সরকারের সময় একই ধরনের দায়িত্বে বহাল ছিলেন। উদাহরণ হিসেবে: * একজন কনস্টেবল আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীর দেহরক্ষী ছিলেন, পরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং বর্তমানে স্পিকারের নিরাপত্তায় * আরেকজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী, পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং বর্তমান সরকারের মন্ত্রীর অধীনে দায়িত্ব পালন করছেন এমন একাধিক উদাহরণ প্রশাসনের ভেতরে ধারাবাহিক প্রভাব ও নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষজ্ঞদের মত টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, “পুলিশ এখনো পুরোপুরি পেশাদার হয়নি। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রভাব পুরোপুরি এড়িয়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন।” সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, “নিয়োগ যদি দলীয় বিবেচনায় হয়, তাহলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আস্থার সংকট তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।” চলমান পদক্ষেপ এসবির তথ্যমতে: * অন্তত ১২ জন দেহরক্ষী ইতোমধ্যে বদলি হয়েছেন * আরও অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে * নিয়মিত ভেটিং প্রক্রিয়া চালু রাখা হয়েছে সরদার নুরুল আমিন বলেন, > “প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।” বড় প্রশ্ন এই ঘটনার পর মূল প্রশ্নগুলো সামনে আসছে: * ভিআইপি নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল দায়িত্বে রাজনৈতিক প্রভাব কতটা বিস্তৃত? * নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব কি? * পুলিশ বাহিনী কি সত্যিই দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই নির্ধারণ করবে—রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর জনআস্থা কতটা টিকে থাকবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দীর্ঘ দেড় দশক পর পুলিশের চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা মো. কোহিনূর মিয়াকে অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি, চতুর্থ গ্রেড) পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। রোববার (১২ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে জারি করা বরখাস্তের আদেশ বাতিল করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দুটি বিভাগীয় মামলায় কোহিনূর মিয়াকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে একই অভিযোগে দায়ের করা ফৌজদারি মামলাগুলোতে আদালত তাকে নির্দোষ ঘোষণা করে খালাস দেন। পরে তিনি গুরুদণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে রাষ্ট্রপতি তা মঞ্জুর করেন। এর ফলে তার বরখাস্তের আদেশ বাতিল করা হয়েছে এবং ওই সময়কালকে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তিনি বিধি মোতাবেক সব বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। এর আগে গত ৯ মার্চ সরকার তার বরখাস্তকালকে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশের পশ্চিম অঞ্চলের উপকমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কোহিনূর মিয়াকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কে এই কোহিনূর মিয়া? বিসিএস ১২তম ব্যাচের কর্মকর্তা কোহিনূর মিয়ার বাড়ি ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায়। বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় তিনি আস্থাভাজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০০৬ সালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে শাহিন সুলতানা শান্তা নামে এক নারীকে নির্যাতনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে তাকে খালাস দেন। এছাড়া ২০০৪ সালে ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাতেও তিনি অভিযুক্ত ছিলেন। ২০১১ সালে সিআইডি অভিযোগপত্র দিলেও আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সেখান থেকেও তিনি খালাস পান। সবশেষে আদালতের রায় ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ১৫ বছর পর তিনি তার হারানো পদমর্যাদা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা ফিরে পেলেন।
এবি সিদ্দীক ভূইঁয়া : রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো একটি অতি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে বিতর্কিত একাধিক কর্মকর্তা বহাল থাকায় প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ ও প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে—সাবেক শাসনামলে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এখনও মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিনিয়র সচিবের দপ্তরকে ঘিরে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। এই নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তারা প্রশাসনিক তথ্য নিয়ন্ত্রণ, তদবির বাণিজ্য, এবং প্রভাব খাটিয়ে আর্থিক সুবিধা অর্জনের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগের কেন্দ্রে যারা সংশ্লিষ্ট সূত্রে উঠে এসেছে কয়েকজন কর্মকর্তার নাম, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে: ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রশাসনিক কর্মকর্তা বি এম সাইফুল ইসলাম প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইয়াসিন ফিরদৌস প্রশাসনিক কর্মকর্তা আল কামার অভিযোগ রয়েছে, এদের অনেকেই ছাত্ররাজনীতি সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে চাকরিতে প্রবেশ করেন এবং পরবর্তীতে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সুপারিশে সচিবালয়ে পদায়ন পান। সাবেক সচিবদের সঙ্গে যোগসূত্র অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে অতীতে দায়িত্ব পালনকারী একাধিক সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে নানা অভিযোগে তদন্তাধীন বা কারাবন্দী। অভিযোগ অনুযায়ী, এই কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে প্রশাসনের অভ্যন্তরে একটি শক্তিশালী প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন। তথ্য নিয়ন্ত্রণ ও ভয়ভীতি মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, এই সিন্ডিকেট শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রমেই নয়, তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণেও সক্রিয়। অভিযোগ রয়েছে— গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কর্মচারীদের বিভিন্ন গ্রুপে বার্তা দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ‘ম্যানেজ’ করে অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া চালু রয়েছে একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অনেকেই ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শুধুমাত্র এই সিন্ডিকেটের প্রভাবের কারণে।” দুবাই মিশন নিয়ে প্রশ্ন সম্প্রতি জারি হওয়া একটি সরকারি আদেশে (GO) কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাজে পাঠানো হয়েছে। এই তালিকায় থাকা কয়েকজনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অভিযোগ উঠেছে— এক যুগ্ম সচিবের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এই মিশনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন নিয়োগ ও সুযোগপ্রাপ্তি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন রয়েছে এছাড়া, সিন্ডিকেট সংশ্লিষ্ট অভিযোগের কারণে একজন সিনিয়র ব্যক্তিগত কর্মকর্তার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও প্রভাব কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অতীতে রাজনৈতিক নেতাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রশাসনিক সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ছায়া সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অতীতের কিছু কর্মকাণ্ডের কারণে কয়েকজন কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাকা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, “এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রশাসনিক তথ্য ফাঁস হওয়ার বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে।” অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও হতাশা মন্ত্রণালয়ের ভেতরে কর্মরত অনেক কর্মকর্তা এই পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও যদি বিতর্কিত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকেন, তবে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। ইতোমধ্যে মন্ত্রী ও সিনিয়র সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। প্রশ্নের মুখে প্রশাসন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন— ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও কীভাবে এই কর্মকর্তারা এখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো সংবেদনশীল স্থানে বহাল রয়েছেন? বিশ্লেষকদের মতে, “এই ধরনের প্রভাবশালী সিন্ডিকেট যদি দ্রুত ভেঙে দেওয়া না হয়, তবে তা শুধু প্রশাসনের ভাবমূর্তিই নয়, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।” স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবি সিদ্দীক ভূইঁয়া,ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেতরে একটি প্রভাবশালী ‘সিন্ডিকেট’ সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে, অতীত সরকারের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রণালয়ের সংবেদনশীল দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাদের মাধ্যমে তদবির বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এখনো বহাল তবিয়্যাতেই আছে নিষিদ্ধ আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেট চক্র।বাংলাদেশ সচিবালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে সিনিয়র সচিব মহোদয়ের দপ্তরে ফ্যাসিষ্ট আমলে নিয়োগ প্রাপ্ত প্রসাশনিক কর্মকর্তা ইয়াসিন ফিরদৌস, প্রসাশনিক কর্মকর্তা আল কামার, সহ আরো একাধিক কর্মকর্তা যারা আওয়ামীলীগের রাজনিতির সঙ্গে জড়িত ছিল। আওয়ামীলীগের মন্ত্রী এমপিদের ডিউলেটের মাধ্যমে সচিবালয়ে নিয়োগ প্রাপ্তহন এবং এদের মাধ্যমে তদবির বাণিজ্যের সিন্ডিকেট চক্র তৈরি হয়েছে। উক্ত সিন্ডিকেট চক্রের সাথে জড়িত আছেন বলে জানাগেছে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলের সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম ( বর্তমানে কারাগারে) , সাবেক সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, আমিনুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, আক্তার হোসেন দপ্তরে কর্মরত ছিল ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রসাশনিক কর্মকর্তা বি এম সাইফুল বর্তমানে ও সিনিয়র সচিবের দপ্তরে কর্মরত আছেন তাদের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গঠিত হয়েছে অভিযোগ অনুযায়ী এই সিন্ডিকেট মন্ত্রনালয়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ন্ত্রণ করছে এবং তা নিষিদ্ধ ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক দলের প্রভাব বিস্তারে ব্যবহার করছে ও সরকার বিরোধী বিভিন্ন ধরনের উস্কানি মূলক কথাবার্তা বলেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় তৃতীয় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের গ্রুপে ম্যাসেজ দিয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তাদের বরাতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের প্রসাশন- ১ শাখা জারিকৃত একটি সরকারি আদেশ ( Government Order) অনুযায়ী কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে পাসপোর্ট ইস্যু /রি ইস্যু সংক্রান্ত কাজে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই সফরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে উক্ত আদেশে উল্লেখিত ব্যক্তিরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের অতি গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল জায়গায় ফ্যাসিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন ১. লাবনী সূত্রধর, স্টেনো টাইপিষ্ট কাম কম্পিউটার অপারেটর, লাবনী সূত্রধর সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে যে,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের আলোচিত কর্মকর্তা যুগ্ম- সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসের আপন শেলিকা এ ছাড়া তার নিয়োগ এবং বিভিন্ন সূবিধা লাভের বিষয়ে প্রসাশনিক মহলে নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২.সূমি বড়ুয়া, স্টেনো টাইপিষ্ট কাম কম্পিউটার অপারেটর, সূমি বড়ুয়া সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি সাবেক পলাতক সরকারের আলোচিত কর্মকর্তা যুগ্ম-সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসের নিয়োগপ্রাপ্ত এবং সে-সময়ে প্রসাশনিক প্রভাবে দায়িত্বে বহাল ছিলেন, ৩. বি এম সাইফুল, প্রসাশনিক কর্মকর্তা,মোঃ সাইফুল ইসলাম (ব্যক্তিগত কর্মকর্তা) সম্পর্কে জানাগেছে যে,তারা পতিত সরকারের সময়ে দায়িত্বে থাকা অত্র মন্ত্রনালয়ের একাধিক সচিব ও সিনিয়র সচিবের বিশ্বস্ত সহকারী হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি ওই সময়ের কয়েকজন সাবেক সচিব অতীত কর্মকান্ডের দায়ে কারাবন্দী রয়েছেন, ৪.আল কামার,প্রসাশনিক কর্মকর্তা, সসম্পর্কে জানাগেছে যে, তিনি শেরপুর জেলার আওয়ামীলীগের সাবেক হুইপ আতিক সাহেবের জামাতা এছাড়া সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ রাসেলের প্রতিকৃতি তৈরির অন্যতম উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টভাবে ইয়াসিন ফেরদৌস নামের একজন ব্যক্তিও বিভিন্ন প্রসাশনিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন বলে জানাগেছে এবং তাদের নাম ও উক্ত সরকারি আদেশে অন্তরভূক্ত রয়েছে ৫. মোঃ নাজমুল হোসেন, যিনি বর্তমানে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রটোকল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং বিভিন্ন অপকর্মের সহযোগী ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সহ বিভিন্ন কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে তদবির বাণিজ্য করার কারণে এবং পূর্বে দায়িত্ব পালনে তাকে প্রটোকল অফিসারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল বর্তমানে সে পূনরায় মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন । এই সিন্ডিকেটের অভিযোগের কারণে দুবাই অস্থায়ী মিশনে অন্তর্ভুক্ত হওয়া একজন সিনিয়র কর্মকর্তার নাম বাতিল করা হয়েছে। তা নিয়েও প্রসাশনিক মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, যারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের নিচে বঙ্গবন্ধুর কর্নার ও শেখ রাসেলের কর্নার তৈরি করে নিয়মিত ফুল দিত, তা ছাড়া গত ০৭মার্চ ২০২৪ যুগান্তর ই -পেপার পত্রিকায় প্রকাশিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় কল্যাণ সমিতির নামে একটি সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্থায়ী মূরাল নির্মাণের দাবি জানান, মন্ত্রনালয়ের সূত্রে জানাগেছে কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাক্ষী দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ডাকা হয়েছে, তদন্ত সংস্থার কো-অর্ডিনেটর আনসার উদ্দিন খান পাঠান জানান, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রসাশনিক তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুকি রয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে যে,২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও এই কর্মকর্তারা কীভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ও রাষ্ট্রের সংবেদনশীল জায়গায় সিনিয়র সচিবের দপ্তরে বহাল রয়েছেন, সরকারের এমন একটি স্পর্শকাতর জায়গায় এখনো তাদের উপস্থিতি সত্যিই বিস্ময় এবং উদ্বেগ উভয়ই সৃষ্টি হয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান মাননীয় মন্ত্রী ও সিনিয়র সচিব মহোদয়ের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, মাননীয় মন্ত্রী ও সিনিয়র সচিব মহোদয়ের ষদ্বয় দৃষ্টি কামনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনে মহোদয় গণের সূ- মর্জি কামনার কথা জানিয়েছেন। এই চক্রের বিষয়ে এখনই ব্যবস্থা না নিলে তাদের বেপরোয়া কর্মকান্ডে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তথা সরকারের মান ক্ষুন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে উক্ত সিন্ডিকেটের মূল হোতা সাইফুল ইসলাম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গ্রুপে একটি মেসেজ দিয়েছেন আমরা চলি পাতায় পাতায় আমরা একেকজনের হাঁড়ির খবর জানি, তাই আমাদের কেউ কিছু করতে পারবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন মহল থেকে এ বিষয় প্রতিকার সহ সরকারের উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এবি সিদ্দীক ভূইঁয়া,ঢাকা: আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মারা সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে সিন্ডিকেট গঠন করে বিভিন্ন ফন্দি ফিকির শুরু করেছে। অথচ ছাত্র জনতার আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ,শ্রমিক লীগকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ! থাকা সত্ত্বেও এ চক্র রয়েছে বহাল তবিয়তে।সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে থাকা আওয়ামীলীগের অনুসারীরা গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন তাদের মধ্যে এই চক্রের সদস্যরা অন্যতম। আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা বতর্মানেও ছাত্র জনতার মহান উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এখনো সক্রিয় রয়েছেন। অথচ অদৃশ্য শক্তির বলে বহাল তবিয়তে রয়েছেন এ সকল কর্মকর্তারা ।তাহার সুত্র ধরে বেরিয়ে আসে কিছু অকল্পনীয় তথ্য সাম্প্রতিক সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে এক চাঞ্চল্যকর সিন্ডিকেট ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগ অনুসারে, আওয়ামী আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা এখনও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে বহাল থাকায় প্রশাসনিক দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।সিনিয়র সচিবের দপ্তরে গঠিত সিন্ডিকেট চক্র। সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের দপ্তরে কর্মরত মোঃ সাইফুল ইসলাম নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্রের অন্যতম হোতা। একটি অভিযোগ সুত্রে জানাযায়,এই সিন্ডিকেট মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ন্ত্রণ করছে এবং তা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাব বিস্তারের জন্য ব্যবহার করছে। সিন্ডিকেটের কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল: নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম - সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্বজনপ্রীতি এবং ব্যক্তিগত প্রভাব ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ এবং পদোন্নতি নিশ্চিত করা। বিদেশি পোস্টিং ও তদবির: মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং তাদের আত্মীয়-স্বজন বিদেশি পোস্টিংয়ের সুযোগ পেতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তদবির চালাচ্ছেন কিছু কর্মকর্তা । গোপনীয় তথ্যের অবৈধ ব্যবহারে উদ্বেগ: সরকারের গোপনীয় তথ্য , গুরুত্বপূর্ণ নীতি সিদ্ধান্তের সময় এই সিন্ডিকেট মন্ত্রণালয়ের গোপন তথ্য অনিয়মিতভাবে বাহিরে পাঠায়। আওয়ামী আমলের নিয়োগ প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রভাব:আওয়ামী আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও তাদের আত্মীয়-স্বজনরা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখায় গুরুত্বপূর্ণ পদে অবস্থান করছে। অভিযোগ রয়েছে যে, তারা চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই দপ্তরের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে এবং ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের জন্য প্রশাসনিক নিয়ম উপেক্ষা করছে। বিশেষ করে, সিনিয়র সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলামের মাধ্যমে স্বজনপ্রীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার গঠিত হয়েছে। তিনি একাধিক আত্মীয়কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ অধিদপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিতে সক্ষম হয়েছেন। এতে মন্ত্রণালয়ের সাধারণ কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা এবং অসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নজরে সিন্ডিকেট গঠন করেন। মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কিছু সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাক দিয়েছে। তদন্ত সংস্থার কো-অর্ডিনেটর আনসার উদ্দিন খান পাঠান জানান, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তদন্ত সংস্থার এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং তথ্য নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, সিন্ডিকেটের কিছু সদস্য নির্বাচনী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মন্ত্রণালয়ের বাইরে পাঠানোর চেষ্টা করতে পারে, যা সরকারকে বিভ্রান্ত করতে পারে। প্রশাসনিক দুর্নীতি ও দপ্তরের অসন্তোষ:মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা জানান, সিন্ডিকেটের কারণে স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তারা লিখিতভাবে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি। সিন্ডিকেটের সদস্যরা দপ্তরের সম্পদ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত তদবির চালাচ্ছে এবং প্রভাব বিস্তার করছে। একাধিক বিশ্লেষক মনে করছেন, সিন্ডিকেটের ক্ষমতা অব্যাহত থাকলে দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে। তারা বলছেন, এই ধরনের সিন্ডিকেটের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি করা জরুরি। সিন্ডিকেটের সদস্যদের বহাল থাকার প্রভাবে মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হচ্ছে।দপ্তরের অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তারা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে না। নির্বাচনী সময়ে প্রশাসনিক তথ্যের নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে।বিদেশি পোস্টিং ও তদবিরে সিন্ডিকেটের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে।সাম্প্রতিক ঘটনায় দেখা গেছে, সিন্ডিকেটের সদস্যরা নিজস্ব তদবির ও প্রভাবের মাধ্যমে বিদেশি ভ্রমণ এবং পদোন্নতি নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাধারণ কর্মচারীরা হতাশার শিকার হচ্ছেন এবং দপ্তরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার দেশীয় প্রশাসন এবং সরকারি স্বচ্ছতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিক পর্যায়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে, সিন্ডিকেটের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি উঠেছে, জরুরি ভিত্তিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বদলি ও দপ্তরের তদারকি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।সিনিয়র সচিব দপ্তরে কর্মরত ফ্যাসিস্ট আমলে নিয়োগ প্রাপ্ত ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সাইফুল ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল এদেরকে যেহেতু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ডেকেছে। তাই গোপনীয়তা রক্ষা ও নির্বাচনকালীন বিভিন্ন তথ্য ফ্যাসিস্ট দের হাতে না যায় তাই জরুরী ভিত্তিতে বদলি করা একান্ত প্রয়োজন।এখন তারা বিএনপি সেজে বিভিন্ন দপ্তরে যাওয়ার চেষ্টা করতেছে।উক্ত অভিযোগের এ সকল প্রমাণ পত্রসহ আরো অনেক প্রমাণ পত্র উক্ত অভিযোগ টিতে সংযুক্তি আকারে রয়েছে, উক্ত অভিযোগটির তদন্ত করলে সরষের ভিতর যে কত বড় ভূত রয়েছে তা বেরিয়ে আসবে।তাদের নিজ এলাকায় একাধিক ব্যক্তি নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীত সাথে জড়িত তার পরিবার। ছাত্র অবস্থায় আওয়ামী লীগের ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন । তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সেটা সত্য।একথা গুলো তার নিজ এলাকায় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জানাযায়। আওয়ামী লীগে বড় নেতাদের সাথে বতর্মানে ও কথা হয়। নাম না প্রকাশ করার সত্ত্বে এক কর্মকর্তা বলেন বতর্মান সরকার ক্ষমতা গ্রহনের সাথে সাথে তারা আওয়ামী লীগের শুর পরিবর্তন করে বিএনপির শুরে কথা বলে বিএনপি সাজার চেষ্টা করে সুবিধা নিয়ে সুবিধা জনক স্থান দখল করে নেন। নাম না প্রকাশের সত্ত্বে আরও এক কর্মকর্তা বলেন আওয়ামী লীগে বড় নেতাদের সাথে বতর্মানে ও কথা হয় বদলি হয়।মন্ত্রণালয়ের গোপনীয় তথ্য আওয়ামী লীগের কাছে দিয়ে থাকেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সাইফুল ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল এদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে মাঠ প্রশাসন থেকে পাওয়া অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কন্ট্রোল রুম খুলেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রত্যেক দিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ও ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারীরা কন্ট্রোল রুমে দায়িত্ব পালন করবেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রাপ্ত অভিযোগ বা তথ্যাদিন বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।