স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলন, বন্ধ টিকাদান—তারপরই ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাব : ৫ বছর ক্যাম্পেইন হয়নি: কীভাবে ৪০৯ শিশুমৃত্যুর পথে গেল বাংলাদেশ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ৪০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের ৫৬ জেলায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, হঠাৎ এই পরিস্থিতির পেছনে কোনো অবহেলা বা প্রশাসনিক ব্যর্থতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শুরুর আগেই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি কারণকে সামনে আনছেন— করোনা মহামারির সময় টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন, গত পাঁচ বছরে জাতীয় হাম ক্যাম্পেইন না হওয়া, স্বাস্থ্য সহকারীদের দীর্ঘ আন্দোলনের কারণে মাঠপর্যায়ের টিকাদান বন্ধ থাকা এবং এক বছর ধরে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন স্থগিত থাকা। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এসব কারণ মিলেই দেশে “ইমিউনিটি গ্যাপ” তৈরি করেছে, যার ফল এখন প্রাণঘাতী আকারে সামনে এসেছে। টিকা ছিল, কিন্তু ক্যাম্পেইন হয়নি নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ইপিআই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামের এমআর টিকার কখনও বড় ধরনের সংকট ছিল না। বরং চলমান বিশেষ ক্যাম্পেইনের টিকাও দেশে পৌঁছেছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরে। তাদের দাবি, টিকা হাতে থাকার পরও কয়েক দফায় পরিকল্পনা বদলানো হয়। প্রথমে টাইফয়েড টিকা ক্যাম্পেইন, পরে স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতি, এরপর জাতীয় নির্বাচন—সব মিলিয়ে হামের জাতীয় ক্যাম্পেইন বারবার পিছিয়ে যায়। ফলে, যে বিশেষ ক্যাম্পেইন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হওয়ার কথা ছিল, সেটি শেষ পর্যন্ত শুরু হয় চলতি বছরের ২০ এপ্রিল। কিন্তু তখন পর্যন্ত দেশজুড়ে হাম ছড়িয়ে পড়ে। জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিশেষজ্ঞ ড. তাজুল ইসলাম বারী বলেন, “২০২১ সালের পর আর জাতীয় ক্যাম্পেইন হয়নি। ফলে টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের বড় একটি অংশ জমতে থাকে। গত সেপ্টেম্বরে আসা টিকা দিয়ে যদি দ্রুত ক্যাম্পেইন করা যেত, তাহলে হয়তো এত বড় আউটব্রেক এড়ানো সম্ভব হতো।” কাগজে উচ্চ কভারেজ, বাস্তবে বড় ঘাটতি? সরকারি তথ্যের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে অসামঞ্জস্য। ২০২৩ সালের কভারেজ মূল্যায়ন সমীক্ষা অনুযায়ী, এমআর-১ টিকার কভারেজ ২০১৯ সালের ৮৮.৬ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়ায় ৮৬ শতাংশে। একই সময়ে এমআর-২ কভারেজ ৮৯ শতাংশ থেকে নেমে আসে ৮০.৭ শতাংশে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের অর্থ হলো লাখ লাখ শিশু কার্যত হামের ঝুঁকিতে থেকে গেছে। তবে ইপিআইয়ের আরেক সেট তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪ সালে রুটিন এমআর টিকার কভারেজ ছিল প্রায় ৯৯ শতাংশের কাছাকাছি। এমনকি ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসেও এমআর-১ কভারেজ ৯৭.৯৬ শতাংশ এবং এমআর-২ কভারেজ ৯৫.৬৭ শতাংশ দেখানো হয়। কিন্তু ডিসেম্বর মাসে হঠাৎ এমআর-১ কভারেজ নেমে আসে ২৭.৭৬ শতাংশে এবং এমআর-২ হয় ২৬.৭৬ শতাংশ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হঠাৎ পতনই আউটব্রেকের বিস্ফোরণ ঘটাতে বড় ভূমিকা রেখেছে। স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলনে থেমে যায় মাঠপর্যায়ের টিকাদান দেশব্যাপী প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টিকাকেন্দ্রে কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারীরা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি, নিয়োগবিধি সংশোধন ও টেকনিক্যাল পদমর্যাদার দাবিতে আন্দোলন করছিলেন। ২০২৫ সালে অন্তত তিন দফা কর্মসূচি পালন করেন তারা। সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে ডিসেম্বর মাসে, যখন প্রায় পুরো মাসজুড়ে অস্থায়ী টিকাকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম বন্ধ ছিল। বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সমন্বয়কারী মো. ওয়াসি উদ্দিন রানা বলেন, “ডিসেম্বরজুড়ে আমরা আন্দোলনে ছিলাম। অস্থায়ী টিকাকেন্দ্রগুলোতে কার্যক্রম বন্ধ ছিল। কিছু স্থায়ী কেন্দ্রে সীমিত টিকাদান চলেছে।” ইপিআইয়ের তৎকালীন উপ-পরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ স্বীকার করেন, আন্দোলনের সময় টিকাদান কার্যক্রমে “গ্যাপ” তৈরি হয়েছিল। তার ভাষায়, “ইপিআই থেকে টিকা সরবরাহে কোনো ঘাটতি হয়নি। কিন্তু মাঠপর্যায়ে অস্থায়ী টিকাকেন্দ্র বন্ধ থাকায় শিশুদের বড় অংশ টিকার বাইরে থেকে যায়।” পাঁচ বছর বন্ধ ছিল জাতীয় ক্যাম্পেইন বাংলাদেশে সর্বশেষ জাতীয় হাম ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এবং শেষ হয় ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এরপর নতুন ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও তা আর হয়নি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রুটিন টিকাদানে বাদ পড়া শিশুদের জাতীয় ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে কভার করার কথা। কিন্তু টানা প্রায় পাঁচ বছর এমন ক্যাম্পেইন না হওয়ায় লাখ লাখ শিশু ঝুঁকির মধ্যে জমা হতে থাকে। এটিকেই তারা “পুঞ্জীভূত ইমিউনিটি গ্যাপ” হিসেবে বর্ণনা করছেন। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকাও বাড়িয়েছে মৃত্যুঝুঁকি রোগতত্ত্ববিদরা বলছেন, হাম নিজে যতটা বিপজ্জনক, তার চেয়েও মারাত্মক হয়ে ওঠে অপুষ্টি ও নিউমোনিয়ার সঙ্গে মিলিত হলে। বাংলাদেশে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের বছরে দুবার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়ার নিয়ম থাকলেও সর্বশেষ ক্যাম্পেইন হয়েছিল ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। এরপর আর কোনো জাতীয় কর্মসূচি হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ‘এ’ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এই ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকায় অপুষ্ট শিশুরা হামে আক্রান্ত হয়ে দ্রুত জটিলতায় পড়েছে। তদন্তের মুখে স্বাস্থ্যব্যবস্থা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেছেন, “বিগত কয়েক বছর ধরে বড় সংখ্যক শিশু টিকা কাভারেজের বাইরে ছিল। জাতীয় ক্যাম্পেইন না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। আইইডিসিআরকে গবেষণার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।” তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন আরও গভীর। যখন টিকা দেশে ছিল, তখন কেন ক্যাম্পেইন পিছিয়েছে? স্বাস্থ্য সহকারীদের দীর্ঘ আন্দোলন কেন সমাধান করা যায়নি? কেন টিকাদান কাভারেজের সরকারি তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলো? এবং সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই ৪০৯ শিশুমৃত্যু কি প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল? সরকারি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে দেশ।
শীর্ষনিউজ: আওয়ামী আমলে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কেনাকাটায় কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয়নি। সে সময়ের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাইন্স হাউজের বিরুদ্ধে হাসপাতালের ১০৫ কোটি টাকার কেনাকাটায় ব্যাপক দুর্নীতি-অনিয়মের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। তারপরও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ৭৬ কোটি টাকার আরেকটি কাজ এই প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার ছক সাজিয়েছিল একই দুর্নীতিবাজ চক্র। তবে কারসাজি করে সাইন্স হাউজকে কাজ দেওয়া হচ্ছেÑ এমন তথ্য গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর সেই দরপত্র বাতিল করা হয়। একই লটে ৭০৩ ধরনের পণ্য বিএনপি আমলে এবার বাতিল হওয়া সেই দরপত্রের একই কারসাজিতে আবারও নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ক্রয় তালিকায় একই লটে অস্ত্রোপচার যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে টেলিভিশন, ঘড়িসহ ৭০৩ ধরনের পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; যা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালার (পিপিআর) পরিপন্থি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর এই বিষয়ে প্রথমবার দরপত্র আহবান করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণির পণ্য একত্রে রাখার কারণে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। একাধিক প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালের নভেম্বরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়। অভিযোগে নিম্নমানের স্পেসিফিকেশন, নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড ও মডেল উল্লেখ, মাত্র দুই বছরের ওয়ারেন্টি এবং উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের বদলে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন গ্রহণযোগ্য করার মতো শর্তের কথা বলা হয়। এই পটভূমিতে তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর দরপত্রটি বাতিলের সিদ্ধান্ত দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে ২০২৬ সালের ৮ মার্চ নতুন আহ্বান করা দরপত্রে আগের একই ধরনের শর্ত বহাল রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত মাসের ৬ এপ্রিল দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল। এতে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিয়েছে। দরপত্রে নেই গুণগত মান, গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টি সম্পর্কিত সুস্পষ্ট শর্ত দরপত্রের নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, একই লটে তালিকায় সিসিইউ বেড, কার্ডিয়াক মনিটর, হিমোডায়ালাইসিস মেশিন, অ্যানেসথেশিয়া যন্ত্র, এক্স-রে ইউনিটের পাশাপাশি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, জেনারেটর, এমনকি টেলিভিশন ও ঘড়িও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এত বৈচিত্র্যময় পণ্য এক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে কোনো একক প্রতিষ্ঠান সব সরঞ্জাম সরবরাহ করতে পারে না। এতে প্রকৃত প্রতিযোগিতা কমে গিয়ে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এছাড়া দরপত্রে অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে গুণগত মান, গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টি সম্পর্কিত সুস্পষ্ট শর্ত নেই। ভারী ও সংবেদনশীল চিকিৎসা যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে যেখানে সাধারণত পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি চাওয়া হয়, সেখানে নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র দুই বছর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টি সম্পর্কিত সুস্পষ্ট শর্ত না থাকলে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহের সুযোগ তৈরি হতে পারে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, সরবরাহ ও স্থাপনের পরপরই ওয়ারেন্টি কার্যকর হওয়ায় দক্ষ জনবল না থাকলে অনেক যন্ত্র ব্যবহার না করেই ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হয়ে যেতে পারে, যা সরকারি অর্থের অপচয়। অন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ, দরপত্রে কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড, মডেল, উৎপত্তিস্থল ও কোড উল্লেখ করা হয়েছে। এতে অন্যান্য যোগ্য সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত হয়। দেশের অন্য সরকারি হাসপাতালগুলোতে যেখানে পরীক্ষিত উন্নতমানের যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হচ্ছে, সেখানে কম পরিচিত ব্র্যান্ডের প্রতি ঝোঁক কেন, তা স্পষ্ট নয়। ‘পিপিআর’-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’ হাসপাতালের কারিগরি কমিটির দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কমিটির অদক্ষতা বা সীমাবদ্ধতার কারণে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি কেনার পথ সুগম হয়েছে। ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইনটেইন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের সহকারী প্রকৌশলী মাইনুর শুভ বলেন, এক লটে ৭০৩ ধরনের পণ্য কেনা পিপিআরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বাতিল হওয়ার পর নতুন করে বিধি মেনে দরপত্র আহ্বান করা উচিত। এর আগে ব্লাড ব্যাংক ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি কেনায় প্রায় ৯৬ কোটি টাকার ৯টি দরপত্র আহবান করা হয়। সব কাজ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হলে পরে অভিযোগ ওঠে, নিম্নমানের পণ্যে বিদেশি ব্র্যান্ডের স্টিকার লাগানো হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের দরপত্র প্রক্রিয়া উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন ছাড়া সম্ভব নয়। এতে ভবিষ্যতে নিরীক্ষা আপত্তি ও দুর্নীতির মামলার ঝুঁকি রয়েছে। তাদের পরামর্শ, প্রয়োজনভিত্তিক আলাদা লটে বিভাজন করে স্বচ্ছ প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান করা না হলে সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা কঠিন হবে। প্রকল্প পরিচালক এস এম কবির হোসেন বলেন, দরপত্র আহবান করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে। বাতিল হওয়া দরপত্রের শর্তেই কেন নতুন দরপত্র আহ্বান করা হলো- জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। হাসপাতালটিকে জিম্মি করে রেখেছে আওয়ামী দুর্নীতিবাজ চক্র পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রকল্পে আওয়ামী সরকারের আমলে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলের শেষ দিকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে এ নিয়ে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয় গণমাধ্যমে। ৯টি প্যাকেজে প্রায় ১০৫ কোটি টাকার কেনাকাটা হয়। নানা রকমের অনিয়ম ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ৯টি প্যাকেজেরই কার্যাদেশ দেওয়া হয় বহুল আলোচিত, চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ আওয়ামী ঠিকাদার বাংলাদেশ সায়েন্স হাউজকে। কিন্তু দুই বছর আগে বিল পরিশোধ করলেও সেইসব মালামাল এখনো পুরোপুরি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে, তাতে ইউরোপ-আমেরিকার স্টিকার ও সিল ব্যবহার করেছে। অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেই একই ঠিকাদারকে আবারও ৭৬ কোটি টাকার কার্যাদেশ দেওয়ার প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছিল। টেন্ডারের শুরুতেই ভয়াবহ রকমের অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়। পিপিআর-এর গুরুত্বপূর্ণ ধারা এক্ষেত্রে চরমভাবে লঙ্ঘন করা হয়। টেন্ডারের এসব গুরুতর অনিয়মকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ দেওয়া হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত নির্দেশও দেওয়া হয় মন্ত্রণালয় থেকে। কিন্তু তারপরও দুর্নীতিবাজচক্রের তৎপরতা থামেনি। এর কারণ হলো, তদন্তের পরে টেন্ডার বাতিল হলেও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোনোই ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। প্রত্যেকেই বহাল-তবিয়তে রয়ে গেছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুমেবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশিষ্ট সার্জারি বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন। রোববার (১২ এপ্রিল) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে আগামী চার বছর তিনি খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা শিক্ষা ও সার্জারি ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার কারণে তিনি চিকিৎসা অঙ্গনে একজন দক্ষ শিক্ষক ও সফল সার্জন হিসেবে সুপরিচিত। তার এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে মনে করছেন, তার প্রশাসনিক দক্ষতা ও চিকিৎসা শিক্ষায় অভিজ্ঞতা খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে উচ্চতর চিকিৎসা গবেষণা, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে তার নেতৃত্ব সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় তাকে চিকিৎসক সমাজসহ বিভিন্ন মহল থেকে অভিনন্দন জানানো হচ্ছে। তিনি শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে শিশুমৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সম্প্রতি হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ১০০ শিশুর মৃত্যুর খবর সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে। রোববার (২৯ মার্চ) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সাংবাদিকদের জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই মন্ত্রীকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বৈঠকে হামের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং দিয়েছে। সেখানে শিশুমৃত্যুর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।” সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা মাঠপর্যায়ে গিয়ে পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করবেন এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে, এই পরিস্থিতির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি, সচেতনতার অভাব এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা হামের বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুমৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত তিন মাসে হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সেখানে ৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
রাজধানী ঢাকায় মশার তীব্র উপদ্রব জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। শহরের ঘরবাড়ি, সড়ক ও আবাসিক এলাকার প্রায় প্রতিটি স্থানে মশার ঘনত্ব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে মশার পরিমাণ ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মার্চে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে, বর্তমানে রাজধানীর প্রায় ৯০ শতাংশ মশাই কিউলেক্স প্রজাতির। গবেষণায় আরও জানা যায়, এক ঘণ্টায় কামড়াতে আসা মশার সংখ্যা এক মাসের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিশ্বমান অনুযায়ী, ঘণ্টায় পাঁচটি মশা কামড়াতে এলেই তা ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত হয়। সেখানে বাংলাদেশে এই সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ৮৫০-এ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। মশা বৃদ্ধির তিন প্রধান কারণ গবেষকদের মতে, এ বছর মশার প্রকোপ বৃদ্ধির পেছনে তিনটি মূল কারণ রয়েছে— ১. কম তীব্র শীত ও আগাম শীত বিদায় — ফলে মশার বংশবিস্তার দ্রুত শুরু হয়েছে। ২. নর্দমা ও জলাশয়ের দূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা — অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ প্রজননের অনুকূল ক্ষেত্র তৈরি করেছে। ৩. প্রশাসনিক দুর্বলতা ও তদারকির ঘাটতি — দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি না থাকায় কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিক স্থবিরতায় মশক নিধন কার্যক্রম ব্যাহত গত ৫ আগস্টের পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-এর প্রশাসনিক কাঠামো নড়বড়ে হয়ে পড়ে। মেয়র ও কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতিতে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে যায়। করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ফগিং বা ধোঁয়া ছিটানো পূর্ণবয়স্ক মশা কমাতে কিছুটা কার্যকর হলেও লার্ভা ধ্বংসে তেমন ফল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হচ্ছে না। নাগরিকদের দুর্ভোগ চরমে মিরপুরের বাসিন্দা শিল্পী আক্তার বলেন, আগে ওয়ার্ড কাউন্সিলররা মাঠপর্যায়ে তদারকি করতেন। এখন সেই জবাবদিহি না থাকায় মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। বাড্ডার বাসিন্দা জুনায়েদ জানান, আগে মশারি ছাড়া ঘুমানো যেত, এখন স্প্রে করেও রেহাই মিলছে না। শেওড়াপাড়ার পারভিন তালুকদার বলেন, আগে সন্ধ্যায় মশা বেশি থাকত, এখন দিনভর উপদ্রব চলছে। দরজা-জানালা খোলা রাখার সুযোগ নেই। নতুন সরকারের নির্দেশনা নতুন নির্বাচিত সরকার ছয় সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনিযুক্ত প্রশাসকদের মশক নিধন, বনায়ন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-এর নতুন প্রশাসক আবদুস সালাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালিত হবে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করবে। মশা নিধনের ওষুধ কার্যকর কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে এবং ডিপো পরিদর্শনের পরিকল্পনাও রয়েছে। চলতি বছর এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। সমন্বিত পরিকল্পনার বিকল্প নেই বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ফগিং নয়— কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ খাল-নালার পরিষ্কার নির্মাণাধীন ভবন ও ছাদে জমে থাকা পানির নজরদারি জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো এসব নিশ্চিত না হলে রাজধানীতে মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। মার্চ মাস ঘনিয়ে আসছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রাজধানীবাসীর জন্য সামনে অপেক্ষা করছে আরও দুর্বিষহ সময়। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত ও টেকসই উদ্যোগ নেওয়াই সময়ের দাবি।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।