ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশের দুটি প্রশ্ন নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ওঠা বিতর্কের পর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। সোমবার রাতে প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে কমিটি জানায়, পরীক্ষার ৬ ও ৭ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্ন সম্পর্কে উত্থাপিত অভিযোগ সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পর্যালোচনায় প্রশ্নে ত্রুটি বা অসঙ্গতি প্রমাণিত হলে পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে প্রয়োজনে ওই দুটি প্রশ্নের জন্য পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমানের পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র পরীক্ষার সৃজনশীল অংশের দুটি প্রশ্ন নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড অবগত এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নসমূহ পর্যালোচনার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি স্পষ্ট করেছে, প্রচলিত পরীক্ষা মূল্যায়ন নীতিমালা অনুযায়ী কোনো প্রশ্নে ত্রুটি বা অসঙ্গতি প্রমাণিত হলে পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষণ করা হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, পর্যালোচনার ফলাফলে যদি সংশ্লিষ্ট প্রশ্নে ত্রুটি পাওয়া যায়, তবে মূল্যায়ন নীতিমালা অনুসরণ করে ওই প্রশ্নগুলোর জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। গণবিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কমিটি বলেছে, পর্যালোচনার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। এই ঘোষণা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া অনিশ্চয়তা কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও যাচাই প্রক্রিয়ার মান নিয়ে নতুন করে আলোচনারও জন্ম দিয়েছে ঘটনাটি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুরে ‘জ্বীনের বাদশা’ পরিচয়ে চিকিৎসার নামে নারীদের প্রতারণা ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বিপুল (২৩) নামে এক ভুয়া কবিরাজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার ব্যক্তি গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা হলেও গাজীপুরের কাশিমপুর চক্রবর্তী এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে কথিত কবিরাজি চিকিৎসার আড়ালে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। কাশিমপুর থানা পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) গভীর রাতে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগকারী একাধিক নারীর বক্তব্য গ্রহণ করে অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যায়। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় আদালতে পাঠানো হয়। চিকিৎসার নামে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ অভিযোগকারী এক নারী পুলিশকে জানান, বিপুল বিভিন্ন ব্যক্তিগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতেন। পরে ‘চিকিৎসা’ দেওয়ার কথা বলে তাকে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই নারী অভিযোগ করেন, সেখানে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে তাবিজ পরিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাকে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়। বাধা দিলে অভিযুক্ত নিজেকে ‘জ্বীনের বাদশা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ক্ষতি করার ভয় দেখান বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য তাকে শপথ করানো হয়। পরে কয়েক দিন তাকে একটি ফ্ল্যাটে আটকে রাখা হয় এবং তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র অন্য একটি কক্ষে সরিয়ে নেওয়া হয়। ধর্ষণের ভিডিও ধারণ ও ভয় দেখানোর অভিযোগ আরেক ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, পারিবারিক সমস্যার সমাধান করে দেওয়ার কথা বলে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। বিপুল তাকে বোঝান যে, তার ওপর ‘খারাপ প্রভাব’ রয়েছে এবং বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন। ওই নারী জানান, চিকিৎসার নামে তাকে নির্যাতন করা হয় এবং ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য শপথ করানো হয়। একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন এবং ভয় দেখিয়ে নীরব রাখার চেষ্টা করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার নাক, গলা ও কানের গহনা খুলে নেওয়া হয়। মোবাইল ফোনে মিলেছে একাধিক ভিডিও: পুলিশ কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা খালিদ হোসেন বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং অভিযোগকারী নারীদের বক্তব্য নেয়। তিনি জানান, অভিযুক্তের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে একাধিক নারীর সঙ্গে একই ধরনের ঘটনার ভিডিও পাওয়া গেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশের দাবি, চিকিৎসার কথা বলে নারীদের ডেকে এনে যৌন নির্যাতন এবং পরে ভিডিও ধারণ করে ভয় দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত চলছে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত বিপুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং অভিযোগের পরিধি কতটা বিস্তৃত—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, কথিত তান্ত্রিক, কবিরাজ বা অলৌকিক চিকিৎসার নামে প্রতারণার ঘটনায় মানুষকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী পরিচালক ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার (৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ নিজ অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে তারা এ ঘোষণা দেন। তাদের পদত্যাগের ঘোষণার পর সংগঠনটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, ট্রাস্ট গঠন এবং শহীদ ওসমান হাদির ওয়ারিশ দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। কেন দায়িত্ব ছাড়লেন তারা? জাবের ও জুমা তাদের ফেসবুক পোস্টে দায়িত্ব ছাড়ার পেছনের কারণ সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়েছেন। উভয়ের বক্তব্যেই শহীদ ওসমান হাদির ওয়ারিশ-সংক্রান্ত দাবি, ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ এবং সংগঠনকে “জনতার আমানত” হিসেবে দেখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে তাদের পোস্টের বাইরে এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। জাবেরের বক্তব্য: ওয়ারিশ দাবির প্রেক্ষিতে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত আব্দুল্লাহ আল জাবের তার পোস্টে বলেন, শহীদ ওসমান হাদি শাহাদাতের আগে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তবে তা সম্পন্ন করতে পারেননি। তিনি লিখেছেন যে, গত ছয় মাস ধরে শাহাদাত-পরবর্তী ওয়ারিশ-সংক্রান্ত ইস্যু সমাধানের চেষ্টা চলেছে। একই সময়ে সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও পরিকল্পনাও চলমান ছিল, তবে পরিস্থিতি “আরও জটিল” হয়ে উঠেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জাবেরের ভাষ্য অনুযায়ী, ওসমান হাদির সম্মান রক্ষার স্বার্থে, তার ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে এবং সংশ্লিষ্ট দলিল-দস্তাবেজ বিবেচনায় ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দাবিদারদের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদির শাহাদাতের পর ঢাকা-৮, সেন্টারসহ কিছু অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ থাকায় সংশ্লিষ্ট হিসাব ব্যতীত তার দায়িত্বকালীন সময়ের অন্যান্য হিসাব দ্রুত প্রকাশ করা হবে। জুমার বক্তব্য: সাংস্কৃতিক ফোকাস ও ব্যক্তিগত চাপের কথা ফাতিমা তাসনিম জুমা তার পোস্টে উল্লেখ করেন, জুলাই-পরবর্তী বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি “বাংলাদেশপন্থি কালচারের স্বার্থে” ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি জানান, সংগঠনটি যখন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম থেকে কিছুটা রাজনৈতিক হয়ে উঠতে শুরু করে, তখন তিনি শহীদ ওসমান হাদির কাছে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। জুমা আরও লেখেন, ওসমান হাদির শাহাদাতের পর ওয়ারিশ-সংক্রান্ত নানা জটিলতা সামনে আসে। তিনি দাবি করেন, এই সমস্যাগুলো বিবেচনায় নিয়ে ট্রাস্ট গঠনের চেষ্টা করা হলেও তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তার পোস্টে সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ারিশ ইস্যু নিয়ে “অপপ্রচার” ও “মানহানিকর মন্তব্য” ছড়িয়ে পড়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অবস্থানের কারণে তিনি এই চাপ বহন করার অবস্থায় নেই। ট্রাস্ট প্রশ্ন ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব উভয়ের বক্তব্যে ট্রাস্ট গঠনের বিষয়টি কেন্দ্রীয় গুরুত্ব পেয়েছে। তারা দাবি করেছেন, ওসমান হাদি ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তবে তা শেষ করে যেতে পারেননি। এখন সংগঠনটি ওসমান হাদির ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। তবে এই হস্তান্তর কী প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হবে, ট্রাস্ট কাঠামো কীভাবে গঠিত হবে এবং ভবিষ্যতে সংগঠনের প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক নেতৃত্ব কারা নেবেন—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। হিসাব প্রকাশের প্রতিশ্রুতি জাবের ও জুমা উভয়েই তাদের দায়িত্বকালীন সময়ের হিসাব প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ থাকা অংশ বাদে অন্যান্য হিসাব দ্রুততম সময়ে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। এই ঘোষণা সংগঠনটির আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তা নিরসনের একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংগঠনগত সংকট নাকি উত্তরাধিকার প্রশ্ন? ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের নেতৃত্ব থেকে প্রতিষ্ঠাকালীন দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সরে দাঁড়ানো সংগঠনটির ভেতরে উত্তরাধিকার, ট্রাস্ট কাঠামো এবং সাংগঠনিক মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তাকে সামনে এনেছে। তাদের প্রকাশিত বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, এই সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শহীদ ওসমান হাদির ওয়ারিশ দাবিকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিরোধ এবং ট্রাস্ট গঠন না হওয়ায় প্রশাসনিক জটিলতা। তবে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ পরিচালনা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা এবং হস্তান্তর-পরবর্তী কাঠামো কী হবে—সেসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত ঘোষণা এখনো অপেক্ষমাণ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র জুলাই পদযাত্রার সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ঘটনার একদিনের মাথায় দায়ের করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ, পরিকল্পনা ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাকা জেলা পুলিশ। পুলিশ বলছে, মঙ্গলবার সকালে সাভার মডেল থানা পুলিশ অভিযানে দুইজনকে গ্রেফতার করে। বিকেলে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় হামলার পেছনে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর মোহাম্মদ জানান, গ্রেফতার দুইজনকে এনসিপির দায়ের করা মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার ব্যক্তিদের একজন মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং একই ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। অপরজন যুবলীগের একজন কর্মী। তাদের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। কী ঘটেছিল? জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সোমবার রাতে সাভারের তারাপুর মাঠে জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। সমাবেশ চলাকালে দুর্বৃত্তরা ককটেল নিক্ষেপ করলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর গভীর রাতে সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন এনসিপির ঢাকা উত্তরের সদস্য সচিব সালামত উল্লাহ রনি। মামলা দায়েরের সময় তার সঙ্গে ছিলেন সংগঠনের আজাহারুল ইসলাম তামিম ও জুলাইযোদ্ধা ইউনুস আলী। তদন্তে কী গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ? ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হামলার উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং এর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক জড়িত ছিল কি না—এসব বিষয় যাচাই করবেন বলে জানা গেছে। যা এখনো স্পষ্ট নয় এ পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কী ধরনের প্রমাণ পাওয়া গেছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া ককটেল নিক্ষেপে অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনে আরও গ্রেফতার ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগের সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির নয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও দায়িত্ব গ্রহণ করেননি মু. রেজা হাসান। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে বিভিন্ন আলোচনা, যদিও এসব দাবির সরকারি কোনো নিশ্চিতকরণ নেই। প্রশ্ন উঠছে—একজন জেলা প্রশাসককে নিয়োগের পরও কেন তিনি কর্মস্থলে যোগ দিচ্ছেন না? এটি কি কেবল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণ? প্রশাসনের অবস্থান: ‘আমরা কিছু জানি না’ সোমবার বিকেলে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা বলেন, "এটি (ডিসির যোগদান করা কিংবা না করা) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলতে পারবে। এ বিষয়ে কিছু জানা নেই আমার।" তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, জেলা প্রশাসনের বর্তমান দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছেও নতুন ডিসির যোগদানে বিলম্বের কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি কী? সরকারদলীয় সিলেটের একটি স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র দাবি করেছে, মু. রেজা হাসানকে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় একজন মন্ত্রীর পছন্দ হয়নি। ওই সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় সিলেটের জন্য নতুন করে আরেকটি নিয়োগ প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। তবে এই দাবির পক্ষে সরকার বা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বদলির ধারাবাহিকতা গত ২১ জুন সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। তবে ওই প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি এবং একই সঙ্গে নতুন জেলা প্রশাসকের নামও ঘোষণা করা হয়নি। পরবর্তীতে ২৮ জুন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনরত মু. রেজা হাসানকে সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের পর তিনি কুমিল্লার দায়িত্ব ছেড়ে দিলেও এখনও সিলেটে যোগ দেননি। ফলে বর্তমানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিংকি সাহা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মাজারের দানব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্কের সঙ্গে কি কোনো সম্পর্ক? প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলের একাধিক সূত্রের দাবি, সারওয়ার আলমের বদলির আগে সিলেটে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা। গত ১২ জুন দুই মাজার পরিদর্শনের সময় সারওয়ার আলম দান ও ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগের ঘোষণা দেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন— পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করা হয়; নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়; দীর্ঘদিন ব্যবহৃত ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগও সিলগালা করা হয়। এই পদক্ষেপের পর জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একটি অংশ প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানায়। অন্যদিকে অনেকেই মাজারের প্রচলিত ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ হিসেবে বিষয়টি দেখেন এবং সমালোচনা করেন। বদলি কি ছিল ‘রুটিন’? মাজারের দানব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের কয়েক দিনের মধ্যেই সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। এই সময় সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকেই মন্তব্য করেন, দানবাক্সের ব্যবস্থাপনায় হাত দেওয়ার কারণেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের একাধিক মন্ত্রী প্রকাশ্যে বলেছেন, জেলা প্রশাসকের বদলি ছিল ‘রুটিন ওয়ার্ক’ এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো বিশেষ কারণ যুক্ত নয়। সরকারি এই ব্যাখ্যার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নানা ব্যাখ্যা ও গুঞ্জন চলমান থাকলেও সেগুলোর কোনোটি এখন পর্যন্ত সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়নি। এখনও উত্তরহীন কয়েকটি প্রশ্ন বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা— নিয়োগের নয় দিন পরও কেন সিলেটে যোগ দেননি মু. রেজা হাসান? তিনি কি ব্যক্তিগত বা প্রশাসনিক কোনো কারণে যোগদান স্থগিত রেখেছেন? রাজনৈতিক আপত্তির যে আলোচনা চলছে, তার বাস্তব ভিত্তি কতটা? জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কি নতুন কোনো সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে? সিলেটে কি আবারও নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে? যা নিশ্চিত এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে জানা তথ্য হলো— সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মু. রেজা হাসানকে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। তিনি কুমিল্লার দায়িত্ব ছেড়েছেন। কিন্তু এখনও সিলেটে দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। ফলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা না দেওয়া পর্যন্ত নতুন জেলা প্রশাসকের যোগদানে বিলম্বের প্রকৃত কারণ নিয়ে তৈরি হওয়া আলোচনা ও জল্পনার অবসান হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জামালপুর: জামালপুরের বকশীগঞ্জে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মামলার আরেক আসামি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মো. ইদ্রিছ আলীকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত সাতজনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— বকশীগঞ্জ উপজেলার নীলক্ষীয়া পশ্চিম পাড়ার জাফর মেম্বারের ছেলে মো. রাশেদুর রহমান ওরফে পাপ্পু (৩০), জানকি মহরবান গ্রামের শাহাজাদা ঠিকাদারের ছেলে মো. বিজু মিয়া (৩৬), জানকিপুর মহরবান গ্রামের মুকুল মিয়ার ছেলে মো. বাদশা মিয়া (৩৫), একই এলাকার জাফর মিয়ার ছেলে মো. আলী (৩৬), দিকপাড়ার বাসনকান্দা গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে মো. আসমত আলী (৩০), জানকিপুর চকপাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে মনিরুজ্জামান ওরফে জুয়েল মিয়া (৩৫) এবং জানকিপুর মহরবান গ্রামের আলতাব হোসেনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (৪০)। কী ঘটেছিল মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৫ মে রাতে ভুক্তভোগী গৃহবধূ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ঝগড়ারচর বাজার থেকে নীলক্ষীয়া বাজারে যাচ্ছিলেন। তিনি স্বামীর সঙ্গে বকশীগঞ্জ উপজেলার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তার স্বামী সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। পথে উপজেলার মাঞ্জালিয়া সেতু এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি অটোরিকশার গতিরোধ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ওই নারীকে জোর করে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে অন্য একটি ভ্যানগাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় একটি পরিত্যক্ত বাড়ির রান্নাঘরে নিয়ে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর স্বামী তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চারজনকে আসামি করা হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন এবং তাদের মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে, মামলার আরেক আসামি মো. ইদ্রিছ আলীকে খালাস দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-১-এর সরকারি কৌঁসুলি ফজলুল হক বলেন, "মামলায় ভুক্তভোগী গৃহবধূসহ সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। দীর্ঘ শুনানিতে অভিযোগটি প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে আদালত সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং একজনকে খালাস দেন।" মামলায় আসামিপক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন মো. মোকাম্মেল হক।
মাদারীপুর: মাদারীপুর সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর একাধিক মামলার আসামি পারভেজ ব্যাপারী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার মধ্যে পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে গেছেন। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। ঘটনার পর তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারে অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু নাঈম জানান, সোমবার সন্ধ্যার পর সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে পারভেজ ব্যাপারীকে আটক করা হয়। এ সময় তার ফেলে দেওয়া ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর অভিযানের ধারাবাহিকতায় পারভেজকে নিয়ে একটি স্থানে যাওয়ার সময় তার সহযোগীরা ঘটনাস্থলে একাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে পারভেজ পালিয়ে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, পারভেজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্র উদ্ধারের উদ্দেশ্যে পুলিশ তাকে একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পরপরই কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং ওই পরিস্থিতির মধ্যেই পারভেজ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু নাঈম বলেন, "পারভেজ একজন মাদক ব্যবসায়ী। তাকে আটকের পরই তার সহযোগীরা একাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই পরিস্থিতিতে সে পালিয়ে যায়। ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্য আহত হননি।" পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক পারভেজকে পুনরায় গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বোমা বিস্ফোরণে জড়িত সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তবে ঘটনায় কতজন হামলায় অংশ নিয়েছিল, কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে এবং পুলিশের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে কীভাবে আসামি পালাতে সক্ষম হন—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় একটি ভাড়া বাসা থেকে আসমা আক্তার নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নিহত আসমা আক্তার পূর্ব বালিগাও জামে মসজিদের ইমাম মুহসিন উদ্দিনের স্ত্রী। ঘটনার পর থেকে তাদের একমাত্র শিশু কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে ইমাম মুহসিন উদ্দিনের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। সোমবার (৬ জুলাই) রাত প্রায় ৮টার দিকে উপজেলার পূর্ব বালিগাও এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে টঙ্গিবাড়ী থানা পুলিশ। কীভাবে সামনে আসে ঘটনাটি? স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ইমাম মুহসিন উদ্দিন বাড়ির মালিককে ফোন করে জানান, তার স্ত্রী ঘরের ভেতরে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে পারেন। বাড়ির মালিক বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতরে আসমা আক্তারকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে আসমা আক্তারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি তদন্তকারী সংস্থা। স্থানীয়দের তথ্য কী বলছে? স্থানীয় বাসিন্দা কুরবান আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, মুহসিন উদ্দিনের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে নয়। তিনি প্রায় দুই বছর ধরে পূর্ব বালিগাও জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পূর্ব বালিগাও গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম খানের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ঘটনার সময় বাড়ির মালিক ঢাকায় অবস্থান করছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পুলিশের বক্তব্য টঙ্গিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহম্মেদ বলেন, ভাড়া বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তার ভাষ্য, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ওসি আরও জানান, ঘটনার পর নিহতের স্বামী তাদের শিশু কন্যাকে নিয়ে চলে যাওয়ায় এখন পর্যন্ত তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে তার বক্তব্যও এখনো নেওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে যেসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীদের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে— আসমা আক্তারের মৃত্যু আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে? ইমাম মুহসিন উদ্দিন কেন বাড়ির মালিককে ফোন করে স্ত্রীর মৃত্যুর কথা জানান? ফোন করার পর তিনি কোথায় গেছেন এবং কেন শিশু কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন? ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে কী তথ্য উঠে আসে? ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ তদন্তে কী নতুন তথ্য যোগ করে? এসব প্রশ্নের উত্তর মিললেই ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে। এখন পর্যন্ত যা নিশ্চিত আসমা আক্তারের মরদেহ টঙ্গিবাড়ীর একটি ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী মুহসিন উদ্দিন শিশু কন্যাসহ নিখোঁজ রয়েছেন। এখনো তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলমান এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশে ককটেল বা বিস্ফোরক জাতীয় বস্তু বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—বিস্ফোরণের ঠিক আগে কেন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল? ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন জানিয়েছেন, ঘটনাটির সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিস্ফোরণের কারণ, পরিকল্পনা এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনাটি সোমবার (৬ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ড ঈদগাহ মাঠে ঘটে। তখন এনসিপির সমাবেশ চলছিল। কী ঘটেছিল? দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন। সেই সময় সমাবেশস্থলে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে তারা কেউ আহত হননি। বিস্ফোরণে চারজন আহত হন। আহতরা হলেন— মো. শাহীন খন্দকার (৩০) মো. জসিম (২৬) মো. শাহাদাত হোসেন (৪০) অপর একজন, যার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তাদের সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের বক্তব্য এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হাসান জানান, আহত চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজনের পায়ে গুরুতর আঘাত ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর বাকি তিনজনকে জরুরি বিভাগ থেকে অস্ত্রোপচারের জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, আহতরা বিস্ফোরণের কথা জানিয়েছেন। এক্স-রে এবং অন্যান্য পরীক্ষার পর আঘাতের প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিস্ফোরণের আগে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটনার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, বিস্ফোরণের ঠিক আগে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার বিষয়টিকে তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, "কোনো কিছুই আমরা সন্দেহের বাইরে রাখছি না। কেন ঠিক ওই মুহূর্তে বিদ্যুৎ চলে গেল, এরপরই বিস্ফোরণ ঘটল—বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।" তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে, যাতে ওই সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ যাচাই করা যায়। তবে পুলিশ এখনো বলেনি যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং বিস্ফোরণের মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশের বক্তব্য পুলিশ সুপার জানান, পদযাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকেই পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। পাকিজা মোড় থেকে সমাবেশস্থল পর্যন্ত নেতাদের নিরাপত্তা দিয়ে আনা হয়। ঘটনার পরও মঞ্চে থাকা শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তার সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তারা সাভার থানায় যান। তদন্তে কী কী খতিয়ে দেখা হচ্ছে? পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে— বিস্ফোরণে ব্যবহৃত বস্তুটির ধরন। হামলাকারীদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য। ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা। বিস্ফোরণের আগে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য। হামলাটি পরিকল্পিত ছিল কি না। এ ঘটনায় ঢাকা জেলার দুই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মামলা বিস্ফোরণের ঘটনায় এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্যসচিব সালামত উল্লাহ রনি, জুলাই যোদ্ধা মো. ইউনুস আলী এবং আজহারুল ইসলাম তামিম অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ বলছে, তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনসিপির প্রতিক্রিয়া এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিন বলেন, বিস্ফোরণে দলের চার কর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনার পর দলীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ মিছিল করেন। পরে আহতদের দেখতে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। পুলিশও এখন পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। এখন পর্যন্ত যা নিশ্চিত এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা গেছে— সমাবেশ চলাকালে একটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। চারজন আহত হয়েছেন। শীর্ষ নেতারা অক্ষত রয়েছেন। বিস্ফোরণের আগে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়েছিল। পুলিশ বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখছে। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন এবং মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণের উদ্দেশ্য, হামলাকারীদের পরিচয় কিংবা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সঙ্গে ঘটনার সম্পর্ক সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এখন নজর তদন্তের ফলাফলের দিকে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার এসবির ডিআইজি মো: ইকবাল হোসেনকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, বরিশালের পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মো: আশিক সাঈদকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহকে বরিশালের পুলিশ কমিশনার, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো: মোস্তাফিজুর রহমানকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হককে শিল্পাঞ্চল পুলিশের ডিআইজি ও রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহানকে ঢাকার এপিবিএন’র ডিআইজি করা হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ রদবদলের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ। এদিকে, তিনজন পুলিশ কর্মকর্তার পদে রদবদল করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়- সিআইডির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লাকে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজীকে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার ও ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো: নজরুল ইসলামকে সিআইডির পুলিশ সুপার করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কী ঘটেছিল? ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে সিজান (২৫) নামে এক যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় অনিক নামে আরেক তরুণ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনিবার (৪ জুলাই) রাতে পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। নিহত সিজান পশ্চিম মাসদাইর এলাকার বাসিন্দা ইউনুছ ওরফে ইন্নু মিয়ার ছেলে। স্থানীয়দের বক্তব্য: সামাজিক উদ্যোগ নাকি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া? স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সম্প্রতি এলাকার একটি মসজিদের ইমাম কাউছারের উদ্যোগে ৩০ থেকে ৪০ সদস্যের একটি সামাজিক সংগঠন গড়ে ওঠে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংগঠনটি এলাকায় অপরাধ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কাজ করে। তাদের দাবি, সেই কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই সিজানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থলে ঠিক কী ঘটেছিল, কারা মারধরে অংশ নিয়েছিল এবং কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিবারের অভিযোগ নিহতের বাবা ইন্নু মিয়া অভিযোগ করেন, মসজিদের ইমাম কাউছারের নেতৃত্বে একদল কিশোর ও যুবক তার ছেলেকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। তার অভিযোগ অনুযায়ী, পরে মাসদাইর মোড়ে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে সিজানকে বেঁধে পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তার ডান পা ভেঙে যায় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। ইন্নু মিয়ার দাবি, পরে ইমাম কাউছার সিজানের হাতের বাঁধন খুলে দিয়ে তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে বলেন। দ্রুত খানপুর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ইমাম কাউছারের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে মসজিদের ইমাম কাউছার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার ভাষ্য, "সিজানের বিরুদ্ধে ছিনতাইসহ একাধিক অভিযোগ ছিল। তাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়, বরং খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে বোঝানোর উদ্দেশ্যে বাসা থেকে আনা হয়েছিল। তবে সেখানে উপস্থিত কিছু উত্তেজিত ব্যক্তি তাকে মারধর করেন।" তিনি আরও দাবি করেন, যারা মারধরে অংশ নিয়েছেন তারা তার সংগঠনের সদস্য নন। পুলিশের তদন্ত ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনো বাকি ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— সিজানকে কোন আইনি ক্ষমতায় বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল? কথিত সামাজিক সংগঠনের সদস্যদের ভূমিকা কী ছিল? মারধরে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা কারা? ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যরা কেন হামলা ঠেকাতে পারেননি? আহত অনিক কীভাবে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হলেন? ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কী উঠে আসে? এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আরও পরিষ্কার হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পুলিশের ৩৩ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জনস্বার্থে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ১৪ জন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), ১৮ জন অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) এবং একজন পুলিশ সুপার (এসপি)। রোববার (৫ জুলাই) রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা-১ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের তালিকাভুক্ত কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো ৩৩ কর্মকর্তার মধ্যে ১৪ জন ডিআইজি, ১৮ জন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং একজন পুলিশ সুপার রয়েছেন। এদের মধ্যে দুইজন ডিআইজি বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে ভূতাপেক্ষ (Retrospective) পদোন্নতি দিয়ে অবসরপূর্ব লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীত করেছে সরকার। একই সঙ্গে পূর্বের পদ অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি তাকে এককালীন ১ কোটি টাকা বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সরকারি গেজেটে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। গেজেট অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন কারণে অবসরপ্রাপ্ত, অপসারণকৃত ও অব্যাহতিপ্রাপ্ত মোট ১৫০ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি, অবসর এবং আর্থিক সুবিধা সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। ১৫০ কর্মকর্তাকে ঘিরে সরকারি সিদ্ধান্ত গেজেট অনুযায়ী, এই তালিকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১১৫ জন, নৌবাহিনীর ২১ জন এবং বিমানবাহিনীর ১৪ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক অবসর, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিসহ স্বাভাবিক অবসর, অকালীন (বাধ্যতামূলক) অবসর কিংবা পদোন্নতির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতা, আর্থিক সুবিধা এবং বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আযমীর ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে? সরকারি গেজেট অনুযায়ী, আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে ২৬ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখ থেকে ভূতাপেক্ষভাবে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে। এরপর ২৬ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখ থেকে তাকে অবসরপূর্ব লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে বয়সসীমা শেষে স্বাভাবিক অবসর দেওয়া হয়েছে বলে গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে। কী কী আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন? সরকারি আদেশ অনুযায়ী, তিনি— ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও ভূতাপেক্ষ মেজর জেনারেল পদের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতা পাবেন। সংশ্লিষ্ট আর্থিক ও আনুষঙ্গিক সুবিধা প্রাপ্য হবেন। বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা হিসেবে এককালীন ১ কোটি টাকা পাবেন। এ ছাড়া বয়স ও যোগ্যতা বিবেচনায় তাকে ভবিষ্যতে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত কোনো প্রতিষ্ঠানে পদায়নের সুপারিশও গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আবদুল্লাহিল আমান আযমী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে। তার পদোন্নতি, আর্থিক সুবিধা এবং সরকারি পদায়নের সুপারিশ এমন একটি বৃহত্তর সরকারি সিদ্ধান্তের অংশ, যেখানে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে সামরিক বাহিনীর ১৫০ জন কর্মকর্তার চাকরিজীবন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। কী জানা যাচ্ছে? সরকারি গেজেট অনুযায়ী, আবদুল্লাহিল আমান আযমীর ক্ষেত্রে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে— ২০১১ সাল থেকে ভূতাপেক্ষ মেজর জেনারেল পদোন্নতি; ২০১৪ সালে অবসরপূর্ব লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীতকরণ; বকেয়া আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি এককালীন ১ কোটি টাকা বিশেষ প্রণোদনা প্রদান। সরকারি আদেশে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ২২ জুন আশুলিয়ার তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি মিছিল, সাতজন নেতাকর্মীর গ্রেপ্তার, নদীতে ধাওয়া খেয়ে কয়েকজনের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ এবং পরবর্তী চার দিনে তুরাগ থেকে একাধিক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা, প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ঘিরে নানা ধরনের দাবি, গুজব ও সন্দেহ ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত ঘটনার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শী, মিছিলে অংশ নেওয়া এক আওয়ামী লীগ কর্মী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আইনজীবী, নিহতদের পরিবার এবং পুলিশের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়—ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্নের এখনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। কী ঘটেছিল ২২ জুন? মিছিলে অংশ নেওয়া পরিচয় গোপন রাখা এক আওয়ামী লীগ কর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, দলের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ জন নেতাকর্মী তুরাগের বেড়িবাঁধ এলাকায় কর্মসূচি শেষ করে ট্রলারে করে নিরাপদে এলাকা ত্যাগের পরিকল্পনা করেন। তার দাবি, সড়কপথে পুলিশি নজরদারি ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলার আশঙ্কা থাকায় তারা নদীপথ বেছে নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, প্রথমে কয়েকটি ঘাটে ভিড়তে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত আশুলিয়া ঘাটে ট্রলার ভেড়ানো হয়। তার অভিযোগ, ট্রলার ঘাটে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ নদীতে ঝাঁপ দেন, কেউ বিভিন্ন দিকে ছুটে যান এবং সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দাবি, প্রাথমিকভাবে সাতজন নিখোঁজ হন। পরে তাদের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। বাকি চারজন জীবিত আছেন বলে তারা তথ্য পেয়েছেন। আইনজীবীর বক্তব্যে কী উঠে এসেছে? গ্রেপ্তার হওয়া সাতজনের আইনজীবী আরিফ সরকার পাভেল জানান, রিমান্ড শুনানির সময় তার মক্কেলরা অভিযোগ করেন যে, মিছিলের তথ্য আগে থেকেই ফাঁস হয়ে যায়। তাদের দাবি অনুযায়ী, আশুলিয়া ঘাটে পৌঁছানোর পর পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী কয়েকজন ব্যক্তি ধাওয়া দিলে ট্রলারে থাকা অনেকে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। আসামিদের আরও অভিযোগ, নদীতে ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেলও নিক্ষেপ করা হয়েছিল। আশুলিয়া এলাকার পরিচয় গোপন রাখা এক প্রত্যক্ষদর্শীও বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, সেদিন ঘাট এলাকায় কিছু মানুষের দিকে ইট-পাটকেল ছোড়ার ঘটনা তিনি দেখেছেন। তবে আতঙ্কে দ্রুত স্থান ত্যাগ করায় পরবর্তী পরিস্থিতি তিনি দেখেননি। বিএনপির স্থানীয় নেতারা কী বলছেন? আশুলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর দাবি করেন, ঘটনাস্থলে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন না। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নূরু সরকারও। তার দাবি, এ ধরনের ঘটনায় দলের কোনো কর্মী জড়িত থাকার তথ্য তিনি পাননি। পুলিশের বক্তব্য আশুলিয়া থানা পুলিশ সাতজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নদীতে ধাওয়া খেয়ে কেউ নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাশেদুদ জামানের ভাষ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযানে গিয়ে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে আশুলিয়া ট্রলার ঘাট থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অন্যরা পালিয়ে যায়। কেউ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন—এমন কোনো তথ্য পুলিশের কাছে নেই। তিনি আরও বলেন, পরে তুরাগ নদ থেকে যেসব মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, তাদের সঙ্গে ওই অভিযানের কোনো সম্পর্ক নেই। যদিও মামলার এজাহারে ২২ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি ৪০ থেকে ৪৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর নতুন প্রশ্ন ২২ জুনের পরবর্তী চার দিনে তুরাগ নদ থেকে অন্তত তিনটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগ কর্মীর দাবি, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে আরিফ ও সুমন ২২ জুনের মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন এবং সেদিন থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। তবে পুলিশ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সুমনের পরিবারের বক্তব্য নিহত সুমনের পরিবারের পক্ষ থেকে তার খালু জুয়েল বাবু জানান, পরিবার আগে জানত না সুমন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২২ জুন নিখোঁজ হওয়ার খবর তারা মিছিলের অন্য অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকেই জানতে পারেন। পরে আশুলিয়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকা থেকে সুমনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পুলিশ তাদের জানায়। পরিবারের দাবি, মরদেহে কয়েকটি লালচে দাগ ছিল, যা আঘাতের চিহ্ন হতে পারে বলে তাদের সন্দেহ হয়েছিল। এছাড়া মরদেহ উদ্ধারের সময় চোখও ছিল না। তবে পরিবার শেষ পর্যন্ত অপমৃত্যুর মামলা করে। জুয়েল বাবুর ভাষ্য, পুলিশ জানতে চেয়েছিল কার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় অপমৃত্যুর মামলাই করা হয়। তিনি বলেন, সুমন মিছিলে গিয়েছিলেন—এটি সত্য। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কাউকে দায়ী করা হচ্ছে না। তাদের ধারণা, তিনি পানিতে ডুবে মারা গেছেন। মোবাইল ফোন নিয়ে নতুন তথ্য সুমনের মরদেহ উদ্ধারের সময় তার পকেট থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগ কর্মীর দাবি, এর মধ্যে তিনটি ফোন অন্য কর্মীদের ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিলের ভিডিও ধারণ কিংবা ভিডিও সংগ্রহের জন্য ফোনগুলো সুমনের কাছে দেওয়া হয়েছিল। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও মেলেনি ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনও অনুত্তরিত রয়ে গেছে— নদীতে ঝাঁপ দিয়ে কেউ নিখোঁজ হয়েছিল কি না; উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর সঙ্গে ২২ জুনের ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না; ঘটনাস্থলে পুলিশের বাইরে অন্য কোনো পক্ষ উপস্থিত ছিল কি না; ইট-পাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ সত্য কি না; মৃত্যুগুলো নিছক দুর্ঘটনা, নাকি অন্য কোনো ঘটনার ফল। মানবাধিকারকর্মীর মত মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটনের মতে, ঘটনাটি ঘিরে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং একাধিক মরদেহ উদ্ধারের কারণে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তার ভাষায়, কয়েকটি সম্ভাবনাই তদন্তের আওতায় আনা উচিত। তার মতে, নদীতে ধাওয়া খেয়ে ডুবে মৃত্যু যেমন সম্ভব, তেমনি পানিতে হামলা, আটক করে নির্যাতন কিংবা পরে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, "কোনটি সত্য, তা কেবল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হতে পারে।" এখনও যেসব বিষয়ে মতভেদ এই ঘটনায় চারটি বড় বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য একেবারেই ভিন্ন— আওয়ামী লীগ কর্মীদের দাবি, ধাওয়া খেয়ে কয়েকজন নদীতে ঝাঁপ দেন; পুলিশ তা অস্বীকার করছে। পরিবার ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া অন্তত দুজন মিছিলে ছিলেন; পুলিশ তা মানছে না। ইট-পাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ উঠলেও বিএনপির স্থানীয় নেতারা সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে পৃথক ঘটনা বলছে; অন্যদিকে মানবাধিকারকর্মীরা পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন। এ কারণে ২২ জুন আশুলিয়ার তুরাগ নদে আসলে কী ঘটেছিল—সে প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য ও চূড়ান্ত উত্তর এখনও সামনে আসেনি। ঘটনাটি ঘিরে বিরোধপূর্ণ বক্তব্য ও উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর প্রেক্ষাপটে একটি স্বাধীন, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের বড় কালীপুরা গ্রামের সরকারবাড়ি-সংলগ্ন খালের ওপর নির্মিত একটি সেতু নির্মাণের মাত্র দুই বছরের মাথায় দেবে যায়। এরপর বন্যার পানির প্রবল স্রোতে সেতুর নিচের মাটি সরে গিয়ে এর একাংশ ধসে পড়ে। প্রায় ছয় বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে সরকারের প্রায় ৩২ লাখ টাকার একটি অবকাঠামো প্রকল্প কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে এবং স্থানীয় কয়েক শ মানুষকে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বড় কালীপুরা-তনু সরকার কান্দী সড়কের বড় কালীপুরা গ্রাম-সংলগ্ন খালের ওপর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ছিল ৩২ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৬ টাকা। সরেজমিনে যা দেখা গেল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির এক প্রান্ত ওপরে উঠে গেছে এবং অপর প্রান্ত নিচের দিকে দেবে গেছে। বিভিন্ন স্থানে কংক্রিট খসে পড়েছে, বেরিয়ে এসেছে লোহার রড। নিরাপত্তাহীন অবস্থার কারণে সেতুটি দিয়ে মানুষের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি দীর্ঘদিন অচল থাকলেও স্থায়ী সমাধানের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। প্রতিদিনের দুর্ভোগ স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, "ছয় বছর আগে বন্যার সময় সেতুটি ভেঙে যায়। এরপর থেকে আমাদের অনেক পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা হলে এ ভোগান্তির অবসান হবে।" স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সেতুটি অচল হয়ে পড়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং দৈনন্দিন যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই বাড়তি সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বড় কালীপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আছমা আক্তার বলে, "সেতু না থাকায় সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। অনেক ঘুরে যেতে হয়। একটি সেতুর অভাবে পুরো এলাকার মানুষ পিছিয়ে পড়ছে।" স্থানীয়দের মতে, একটি মাত্র সেতুর অচলাবস্থা পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, "স্থানীয় জনগণের যাতায়াতের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সেতুটি নদী-সংলগ্ন এলাকায় হওয়ায় পুনর্নির্মাণের জন্য যথাযথ কারিগরি পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।" তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, নির্মাণের মাত্র দুই বছরের মধ্যে একটি সরকারি সেতু কীভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ল এবং দীর্ঘ ছয় বছরেও কেন কার্যকর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকার পরিবর্তন হয়, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিও বদলায়। কিন্তু পাসপোর্ট করতে দালালকে টাকা দেওয়া, জমির নামজারি দ্রুত করাতে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ, থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা তদন্ত এগিয়ে নিতে অনানুষ্ঠানিক লেনদেন—এসব যেন বাংলাদেশের নাগরিক জীবনের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তবতা। প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল হলেও কেন সেবা খাতের ঘুষ-দুর্নীতির ধরন বদলায় না? সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ প্রকাশের পর বিষয়টি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। জরিপ বলছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি সেবা খাতে আনুমানিক ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে। আগের জরিপের তুলনায় যা ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে অন্তত একটি সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার কোনো না কোনো ধরনের দুর্নীতির মুখোমুখি হয়েছে। ২০২৩ সালের জরিপে এ হার ছিল ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পর রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুর্নীতি কেন কমেনি। আবার অনেকে জানতে চাইছেন, বর্তমান সরকারের সময়ে পরিস্থিতির আদৌ কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না। তবে তথ্য বলছে, এই দুই প্রশ্নের উত্তর এক নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার এক বছরের চিত্র টিআইবির জরিপ মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার এক বছরের সেবা খাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে। জরিপ অনুযায়ী, শুধু ঘুষের মোট অঙ্কই বাড়েনি, বেড়েছে ঘুষ দিতে বাধ্য হওয়া পরিবারের সংখ্যাও। ২০২৩ সালে যেখানে ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার অন্তত একটি সেবা নিতে ঘুষ দেওয়ার কথা জানিয়েছিল, সর্বশেষ জরিপে তা বেড়ে হয়েছে ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ। সবচেয়ে দুর্নীতিপ্রবণ সেবার তালিকায় রয়েছে— পাসপোর্ট বিআরটিএ বিচার সংশ্লিষ্ট সেবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ভূমি অফিস পাসপোর্ট সেবা নিতে যাওয়া ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। বিআরটিএ সেবায় দুর্নীতির অভিজ্ঞতার হার ৭৯ দশমিক ৩ শতাংশ। "ঘুষ না দিলে সেবা পাওয়া কঠিন" জরিপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণগুলোর একটি হলো, ঘুষ দেওয়া পরিবারগুলোর ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ জানিয়েছে, ঘুষ না দিলে সেবা পাওয়া সম্ভব হতো না কিংবা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়তো। অর্থাৎ, বহু ক্ষেত্রে ঘুষ এখন বিচ্ছিন্ন অনিয়ম নয়; বরং নাগরিকের কাছে কার্যত সেবা পাওয়ার অলিখিত শর্তে পরিণত হয়েছে। পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ৯ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৫ হাজার ১২৪ টাকায় নেমে এলেও টিআইবি বলছে, এটিকে দুর্নীতি কমার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যাবে না। কারণ, ব্যক্তি প্রতি ঘুষের অঙ্ক কমলেও আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিবার ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছে। অর্থাৎ দুর্নীতির বিস্তার বেড়েছে। ডিজিটাল সেবা এখনও সীমিত জরিপে দেখা গেছে, ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপস্থিত হয়ে সরকারি সেবা নিয়েছেন। অন্যদিকে অনলাইনে সেবা নিয়েছেন মাত্র ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি যোগাযোগের এই উচ্চ হার দালাল চক্র, ফাইল আটকে রাখা, দ্রুত সেবা দেওয়ার নামে অর্থ আদায় এবং কর্মকর্তা-সেবাগ্রহীতার অনানুষ্ঠানিক লেনদেনের সুযোগ বহাল রেখেছে। বর্তমান সরকারের সময় পরিস্থিতি কি বদলেছে? এখানেই গুরুত্বপূর্ণ একটি পার্থক্য রয়েছে। বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয় ১৭ ফেব্রুয়ারি। অন্যদিকে টিআইবির প্রকাশিত জাতীয় জরিপটি মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা। ফলে পরিসংখ্যানগতভাবে এখনই বলা সম্ভব নয়, বর্তমান সরকারের সময়ে সেবা খাতের ঘুষ কমেছে, বেড়েছে নাকি একই অবস্থায় রয়েছে। তবে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে টিআইবি। সেখানে সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট সুবিধা বাতিল, প্রধানমন্ত্রীর ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিত করা, রাষ্ট্রীয় অর্থে ব্যক্তিগত বিদেশ সফর নিরুৎসাহিত করা এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি বলেছে, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সুশাসন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য এখনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দৃশ্যমান নয়। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, বিচারব্যবস্থা ও গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ স্থগিত বা পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত সংস্কারের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। দুদকের নেতৃত্বে দীর্ঘ শূন্যতা দুর্নীতি দমনে রাষ্ট্রের প্রধান প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কিন্তু বর্তমান সরকারের শুরুতেই প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের প্রশাসনিক সংকটে পড়ে। গত মার্চে চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার একযোগে পদত্যাগ করার পর প্রায় সাড়ে তিন মাস কমিশনের অনুসন্ধান, মামলা অনুমোদন, চার্জশিট, সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং গ্রেফতারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সরকার ইতোমধ্যে নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠন করেছে এবং আবেদনও আহ্বান করেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব না পাওয়া পর্যন্ত কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সংসদে রাজনৈতিক বিতর্ক টিআইবির প্রতিবেদন প্রকাশের পর জাতীয় সংসদেও বিষয়টি আলোচনায় আসে। সরকারি দলের সদস্যরা ১২ হাজার কোটি টাকার ঘুষের হিসাব তুলে ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন এবং উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেন। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্পে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের হিসাব নয়। বরং নাগরিকরা সরকারি সেবা নিতে গিয়ে যে ঘুষ দিয়েছেন, তার সামগ্রিক অর্থমূল্য। ফলে এই অর্থকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের ব্যক্তিগত দুর্নীতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে সেবা খাতের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় সংশ্লিষ্ট সরকারের ওপর বর্তায় বলে সরকারি বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়। তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দুর্নীতি একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং এর কোনো তামাদি নেই। অভিযোগ যে সময়েরই হোক, দুদক স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে পারে এবং করা উচিত। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা থাকবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষজ্ঞ কী বলছেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক মাসুদ কামালের মতে, সেবা খাতের দুর্নীতি বাংলাদেশে নতুন নয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তা তুলনামূলকভাবে বেড়েছিল। তার ভাষায়, মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের মধ্যে শাস্তির ভয় দুর্বল হয়ে পড়ায় ঘুষের প্রবণতাও বেড়েছে। তিনি বলেন, "দুর্নীতি বন্ধের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো দলীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের সমান প্রয়োগ। কেউ যদি বিশ্বাস করে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তার বিচার হবে না, তাহলে দুর্নীতি কখনও কমবে না।" আরও বলেন, "দুর্নীতিবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এই প্রবণতা চলতেই থাকবে। সরকার আওয়ামী লীগের হোক, অন্তর্বর্তী সরকারের হোক কিংবা বিএনপির—প্রশাসনের একই লোকজন যদি শাস্তির ভয় না পায়, তাহলে সেবা খাতের ঘুষও বন্ধ হবে না।" অনুসন্ধানের সারকথা টিআইবির জরিপ একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেবা খাতের দুর্নীতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে না। কারণ, ঘুষের সংস্কৃতি অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কাঠামো, জবাবদিহির দুর্বলতা, সীমিত ডিজিটাল সেবা, দালালনির্ভর প্রক্রিয়া এবং শাস্তিহীনতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। বর্তমান সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তাই রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; বরং এমন একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে পাসপোর্ট অফিস, ভূমি কার্যালয়, থানা, বিআরটিএ, আদালত কিংবা ব্যাংকে সাধারণ মানুষ বাস্তবে ঘুষ ছাড়াই সেবা পেতে পারেন। শেষ পর্যন্ত দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকারের সফলতা পরিমাপ হবে নাগরিকের অভিজ্ঞতায়—প্রতিশ্রুতিতে নয়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক কলেজছাত্রীকে ‘হানি ট্র্যাপ’ ফাঁদে ফেলে খালি বাসায় ডেকে নিয়ে আটকে রেখে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ এবং পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, গত ২৯ জুন সকালে স্থানীয় একটি চক্র ওই কলেজছাত্রীকে একটি পরিত্যক্ত বাসায় ডেকে নেয়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল সাব্বির (২৬), তার স্ত্রী মুমু (২৩) এবং তাদের সহযোগী রিফাতসহ কয়েকজন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ওই কলেজছাত্রীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে জোরপূর্বক তার পোশাক খুলে ভিডিও ধারণ করে। পরিবারের অভিযোগে বলা হয়, ভিডিও ধারণের পর ভুক্তভোগীকে অবরুদ্ধ রেখে সেই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার পরিবারের কাছ থেকে মোবাইল ফোনে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর বাবা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ভুক্তভোগীর বাবা মমিন আলী বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, অভিযুক্ত সাব্বির ও তার স্ত্রী মুমুসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হানি ট্র্যাপ’ ফাঁদে ফেলে মানুষকে বাসায় ডেকে এনে লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গেও সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার জানিয়েছেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। বিষয়টি নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে বলে জানান তিনি। তদন্ত শুরু হলেও এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তদের কেউ গ্রেফতার হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিনেই বড় ধরনের অনুপস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন। একই দিনে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে সাত জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের স্বাক্ষরিত পরিসংখ্যানে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। অনুপস্থিতির বিভাজন: কোন বোর্ডে কতজন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিতি দেখা গেছে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ড: ১৭,২৩৩ জন অনুপস্থিত মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড: ৪,৪৭৮ জন অনুপস্থিত কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: ৩,০৭৩ জন অনুপস্থিত অন্যদিকে, বহিষ্কারের ঘটনাতেও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে সংখ্যাটি সর্বোচ্চ। মোট সাত জন বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাঁচ জন সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের, একজন মাদ্রাসা বোর্ডের এবং একজন কারিগরি বোর্ডের। দেশের ১১ বোর্ডে একযোগে পরীক্ষা শুরু বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সারা দেশে একযোগে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়, যা শেষ হয় দুপুর ১টায়। প্রথম দিনে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নেয়। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে অনুষ্ঠিত হয় আলিম পর্যায়ের কোরআন মাজিদ পরীক্ষা এবং কারিগরি বোর্ডে বাংলা-২ (HSC BMT) পরীক্ষা নেওয়া হয়। এবার মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (ভোকেশনাল), এইচএসসি (বিএম/বিএমটি) এবং ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবার নজরদারি জোরদার করেছে। সব বোর্ডে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল থেকে তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ—যা পরীক্ষার সময় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, পরীক্ষার প্রথম দিনের এই অনুপস্থিতির হার ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, চাপ এবং উপস্থিতি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চলতি বছরের জুন মাসে বাংলাদেশজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, দলীয় কোন্দল, মব সহিংসতা, সাংবাদিক নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, নারী-শিশু নির্যাতন এবং সীমান্ত সহিংসতাসহ মানবাধিকার পরিস্থিতির বিভিন্ন সূচকে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রকাশিত সংগঠনটির মাসিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন মাসে সারা দেশে ৫৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ৩৪৬ জন আহত হয়েছেন। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ছিল পাঁচজন এবং আহত ছিলেন ২৮৯ জন। ফলে এক মাসের ব্যবধানে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কোথায় সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষ? এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজনৈতিক সহিংসতার সবচেয়ে বড় অংশই ঘটেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃদলীয় সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে। জুন মাসে— বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ২১টি ঘটনায় ৩ জন নিহত এবং অন্তত ১৪৬ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে ৮টি সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ১৪টি সংঘর্ষে ২ জন নিহত এবং ১১৫ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে ৫টি সংঘর্ষে ১৮ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি ও অন্যান্য দলের মধ্যে ৫টি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৯ জন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক সংঘর্ষের আরও ৫টি ঘটনায় ২ জন নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছেন। নিহত ৯ জনের মধ্যে বিএনপির চারজন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুজন, ছাত্রশিবিরের একজন, ইউপিডিএফের একজন এবং একটি চরমপন্থী সংগঠনের একজন সদস্য রয়েছেন। সহিংসতার পেছনে কী কারণ? প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ রাজনৈতিক সংঘর্ষের পেছনে ছিল— আধিপত্য বিস্তার রাজনৈতিক বিরোধ দলীয় ও অন্তর্কোন্দল চাঁদাবাজি এছাড়া দুষ্কৃতকারীদের মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর অন্তত ১২টি হামলার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন— আওয়ামী লীগের ৩ জন (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বিএনপির ৫ জন চরমপন্থী দলের ১ সদস্য একই সময়ে অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। অন্যদিকে, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক সহিংসতা ও দখলকে কেন্দ্র করে ১৫টি ঘটনায় অন্তত ৪৫টি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক মামলা ও গ্রেফতার জুন মাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ২২টির বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায়— ৬২৭ জনকে নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে। আরও প্রায় ১,২৬২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক ও অন্যান্য ঘটনায় মোট ২৫৭টি ঘটনায় অন্তত ৪,৭৭৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে— আওয়ামী লীগের অন্তত ১,৫৫৯ জন বিএনপির ৩৫ জন জামায়াতের ২ জন গ্রেফতার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মব সহিংসতার ঊর্ধ্বগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাকবিতণ্ডা, আধিপত্য বিস্তার এবং ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ৬৩টি মব সহিংসতার ঘটনায় ৩১ জন নিহত এবং ৬৯ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে— ২৯টি ঘটনায় ৬৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হামলা ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন। সাংবাদিকদের ওপর হামলা এইচআরএসএস বলছে, জুন মাসে ৩৯টি ঘটনায় ৪৭ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে— ২৮ জন আহত ৫ জন লাঞ্ছিত ৯ জন হুমকির মুখে ৫ জন আটক এছাড়া ৭টি মামলায় ১২ জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রতিবেদন অনুযায়ী— ৬টি সভা-সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার অভিযোগ রয়েছে। এতে ১৭ জন আহত ও ৩৬ জন আটক হয়েছেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশকে কেন্দ্র করে— ১১টি ঘটনায় ১১ জন আটক হয়েছেন। ৭টি মামলা হয়েছে। অন্তত ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান ও বিএনপির নেতাদের সমালোচনা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং অন্যান্য অভিযোগের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। একই সময়ে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫-এর আওতায় পৃথক চারটি মামলায় ৯ জনকে অভিযুক্ত এবং ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বিচারবহির্ভূত মৃত্যু ও কারাগারে প্রাণহানি এইচআরএসএসের তথ্য অনুযায়ী— আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, হেফাজত ও নির্যাতনে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ জন কথিত বন্দুকযুদ্ধে এবং ১ জন ডিবি হেফাজতে নির্যাতনে নিহত হয়েছেন। গ্রেফতার এড়াতে গিয়ে ধাওয়া খেয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া জুন মাসে কারাগারে ৭ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। সংখ্যালঘু ও সীমান্ত পরিস্থিতি প্রতিবেদন বলছে— সংখ্যালঘুদের ওপর ১২টি হামলায় ৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া— ১২টি মন্দির ১১টি প্রতিমা ৭টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও হামলার শিকার হয়েছে। একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে— ৫টি ঘটনায় ২ জন নিহত ২ জন আহত ৪ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া বিএসএফ একজনকে আটক করেছে এবং সাতজনকে পুশইনের পাশাপাশি চার শতাধিক মানুষকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে পৃথক তিন ঘটনায় এক রোহিঙ্গাসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। শ্রমিক, নারী ও শিশুর চিত্র প্রতিবেদন অনুযায়ী— শ্রমিক ৫৫টি ঘটনায় ১১ শ্রমিক নিহত ১৮৪ জন আহত কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় আরও ৩৯ শ্রমিক নিহত নারী জুন মাসে ৩৫২ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে— ১০৬ জন ধর্ষণের শিকার ৭৫ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে ১৯ জন গণধর্ষণের শিকার ধর্ষণের পর ২ কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়েছে ৯৪ জন যৌন নিপীড়নের শিকার যৌতুক-সংক্রান্ত ঘটনায়— ৪ জন নিহত ৪ জন আহত ২ জন আত্মহত্যা করেছেন। পারিবারিক সহিংসতায়— ৫৭ জন নিহত ৪৮ জন আহত ৩৬ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন। শিশু জুন মাসে ২৯১ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে— ৫৪ জন নিহত ২৩৭ জন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এইচআরএসএস কী বলছে? সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, জুন মাসে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি একটি সংবেদনশীল ও পরিবর্তনশীল পর্যায় অতিক্রম করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, সাংবাদিক নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, নারী-শিশু নির্যাতন, সীমান্ত সহিংসতা এবং শ্রমিক নির্যাতনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশকে কেন্দ্র করে গ্রেফতার, মামলা ও হয়রানির ঘটনা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারের আরও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা এবং নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। বিশ্লেষণ জুন মাসের এই পরিসংখ্যানগুলো ইঙ্গিত করছে যে রাজনৈতিক সহিংসতা কেবল দলগুলোর পারস্পরিক সংঘর্ষেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, স্থানীয় আধিপত্য, চাঁদাবাজি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে তা জটিলভাবে জড়িয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিক নিরাপত্তা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সীমান্ত পরিস্থিতির মতো বিভিন্ন মানবাধিকার সূচকে সমান্তরাল উদ্বেগের উপস্থিতি দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার বাস্তবতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। উল্লেখ্য: এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত সব পরিসংখ্যান ও দাবি হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর প্রকাশিত জুন মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদনের তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পাঁচ লাখ টাকার ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বিকাশ ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, পাওনা টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে ব্যবসায়িক অংশীদার মোতালেব (৬৫)-কে বাসায় ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ তোশকে মুড়িয়ে একটি ইজিবাইকে করে সড়কের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে একটি গ্যারেজের মহাজন ও এক ইজিবাইক চালককে আটক করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত হিসেবে যাঁর নাম উঠে এসেছে, সেই জাকির হোসেন সপরিবারে পলাতক রয়েছেন। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় ঘটে। নিহত কে? নিহত মোতালেব লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত সোলেমান মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে ফতুল্লার মাসদাইর কবরস্থান এলাকার ফারুক মিয়ার জাজিরা টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় বসবাস করতেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাসদাইর বাজারে তিনি বইয়ের দোকানের পাশাপাশি বিকাশের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। একই ব্যবসার সূত্রে জাকির হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় এবং পরে যৌথভাবে ব্যবসা পরিচালনা শুরু হয়। পাঁচ লাখ টাকার বিরোধ পরিবারের অভিযোগ, ব্যবসায়িক লেনদেনে জাকির হোসেনের কাছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা পাওনা ছিল মোতালেবের। সেই টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যেই তাকে পরিকল্পিতভাবে বাসায় ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জাকির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ। যেভাবে সামনে আসে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে একটি গ্যারেজ থেকে একটি ইজিবাইক বের করা হয়। ভোরে বিষয়টি নিয়ে গ্যারেজ মালিক সোহেল মিয়া ও চালক ফারুকের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে স্থানীয়দের সন্দেহ তৈরি হয়। এর কিছু সময় পর সড়কের পাশে তোশকে মোড়ানো একটি মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা গ্যারেজ মহাজন সোহেল মিয়া ও ইজিবাইক চালক ফারুককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ইজিবাইক চালকের দাবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ইজিবাইক চালক ফারুক দাবি করেন, গভীর রাতে জাকির হোসেন তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। ফারুকের ভাষ্যমতে, জাকির তাকে বলেন, একটি তোশকে পোকার আক্রমণ হয়েছে এবং সেটি ফেলে দিতে হবে। প্রথমে তিনি রাজি না হলেও পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে সম্মত হন। পরে জাকিরের বাসার সামনে থেকে তোশকটি ইজিবাইকে তুলে কিছু দূরে সড়কের পাশে ফেলে দিয়ে তিনি টাকা নিয়ে চলে যান বলে পুলিশের কাছে জানিয়েছেন। সিসিটিভিতে যা দেখেছে পুলিশ ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, জাকির হোসেন হাসিমুখে মোতালেবের কাঁধে হাত রেখে তাকে নিজের বাসার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। পরে একই রাতে ওই বাসা থেকে একটি তোশক ইজিবাইকে তুলে নেওয়া হয়। আরেকটি ফুটেজে একই ইজিবাইক চালককে আরও দুজনের সহায়তায় সড়কের পাশে তোশকটি ফেলে দিতে দেখা গেছে বলে দাবি পুলিশের। উদ্ধার হওয়া আলামত পুলিশ জানিয়েছে, জাকির হোসেনের বাড়ির পেছন থেকে নিহত মোতালেবের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এসব আলামত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহ ও সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। তদন্তের বর্তমান অবস্থা পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন সপরিবারে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তার করা গেলে হত্যার প্রকৃত কারণ, ঘটনার পরিকল্পনা এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না—এসব বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এদিকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত এবং চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে নতুন করে পাঁচ দফা নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেশের সব সিভিল সার্জনকে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, রোগীদের নিরাপদ, মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হবে। শয্যাসংখ্যা অনুযায়ী চিকিৎসক নিয়োগ বাধ্যতামূলক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে শয্যাসংখ্যা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত রাখতে হবে। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ৫০ শয্যার একটি হাসপাতালে প্রতি শিফটে কমপক্ষে পাঁচজন মেডিক্যাল অফিসার উপস্থিত থাকতে হবে। অর্থাৎ প্রতি ১০টি শয্যার বিপরীতে অন্তত একজন মেডিক্যাল অফিসারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। সিভিল সার্জনদের জন্য ৫ দফা নির্দেশনা স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিঠিতে জেলা পর্যায়ের সিভিল সার্জনদের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১. জেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে প্রতি মাসে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ করতে হবে। ২. প্রতিটি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে চিকিৎসকদের নাম, বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর এবং মোবাইল নম্বরসহ হালনাগাদ তালিকা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জমা নিশ্চিত করতে হবে। ৩. জমা দেওয়া ডিউটি রোস্টার ও চিকিৎসকদের তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত যাচাই-বাছাই এবং আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা করতে হবে। ৪. প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক উপস্থিত না থাকলে অথবা ভুল কিংবা অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরকে অবহিত করতে হবে। ৫. মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠাতে হবে। কেন এই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, ঘোষিত চিকিৎসকের পরিবর্তে অন্য চিকিৎসকের মাধ্যমে সেবা প্রদান, এবং প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের অভিযোগ রয়েছে। নতুন নির্দেশনায় প্রথমবারের মতো নিয়মিত ডিউটি রোস্টার, চিকিৎসকদের নিবন্ধন তথ্য এবং আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও নিবিড়ভাবে তদারকির ব্যবস্থা করা হলো। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভাষ্য অনুযায়ী, রোগীদের নিরাপদ, মানসম্মত এবং নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এ কারণে নির্দেশনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব সিভিল সার্জনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।