Brand logo light

মধ্যপ্রাচ্য

ইরানের হামলার নিন্দায় সৌদি-কুয়েত
ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার নিন্দা সৌদি আরব ও কুয়েতের: আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ইরানের কথিত প্রতিশোধমূলক হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সৌদি আরব ও কুয়েত। দুই দেশই হামলাগুলোকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথের জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে। রোববার (১২ জুলাই) সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের সাম্প্রতিক হামলা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সনদ এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের নীতির পরিপন্থী। সৌদি আরবের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সর্বশেষ হামলায় দেশটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা না হলেও গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় একটি সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কুয়েতের উদ্বেগ কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথক এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের এসব হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের পদক্ষেপ চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং সংকট নিরসনের পথকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কুয়েত জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের আলোকে নিজেদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার দেশটির রয়েছে। ইরানের পাল্টা হামলার দাবি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান, কাতার ও ওমানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত দাবি করেছে, তারা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্ন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। সৌদি আরব ও কুয়েতের প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায়, উপসাগরীয় দেশগুলো শুধু নিজেদের নিরাপত্তা নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন।  

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১৩, ২০২৬ 0
আল-আকসা মসজিদ
আল-আকসায় জেরুজালেমের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ মোহাম্মদ হুসেইন আটক

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :      জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজ ও খুতবা শেষ হওয়ার পর জেরুজালেম এবং ফিলিস্তিনের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ মোহাম্মদ হুসেইনকে ইসরায়েলি বাহিনী আটক করেছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াফা । সংবাদ সংস্থাটির প্রতিবেদনে স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, শুক্রবার জুমার খুতবা প্রদান এবং নামাজের ইমামতি শেষ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে ইসরায়েলি সেনাসদস্যরা তাকে হেফাজতে নেয়। আটকের কারণ এখনো স্পষ্ট নয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ মোহাম্মদ হুসেইনকে কী কারণে আটক করা হয়েছে বা তাকে কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রাথমিকভাবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি। এ কারণে আটকের কারণ এবং তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ক্ষোভ ও উত্তেজনার খবর ওয়াফা -এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই ঘটনার পর আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনাটির বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে আটকের কারণ, আইনি ভিত্তি এবং পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্যের জন্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১১, ২০২৬ 0
সৌদি আরবে পরীক্ষামূলক ‘প্যাকেজ ভিসা’ চালু: এক প্ল্যাটফর্মেই ভিসা, ফ্লাইট ও হোটেল বুকিং

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত এবং সমন্বিত করতে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’ চালু করেছে সৌদি আরব। এই উদ্যোগের আওতায় নির্দিষ্ট ট্রাভেল প্যাকেজের অংশ হিসেবে পর্যটকরা একই প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা, যাওয়া-আসার ফ্লাইট, হোটেল বুকিং এবং অন্যান্য ভ্রমণসংশ্লিষ্ট সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কয়েকটি দেশের অনুমোদিত ট্রাভেল ও ট্যুরিজম সেবা প্রদানকারীদের মাধ্যমে এই পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের জন্য সৌদি আরব ভ্রমণকে আরও নির্বিঘ্ন করা এবং দেশটিতে তাদের অবস্থানের সময় বাড়াতে উৎসাহ দেওয়া। এক প্ল্যাটফর্মে ভিসা থেকে হোটেল নতুন ব্যবস্থার আওতায় ভ্রমণকারীরা একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকেই ইলেকট্রনিক ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন, রাউন্ড-ট্রিপ ফ্লাইট বুকিং এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত হোটেলে থাকার ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে পারবেন। এছাড়া, প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্রমণ পরিকল্পনার সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিশেষ কার্যক্রম এবং পর্যটন আকর্ষণও যুক্ত করা যাবে। ফলে আলাদা করে ভিসা আবেদন, বিমান টিকিট সংগ্রহ কিংবা আবাসনের জন্য পৃথক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে না। কারা এই সুবিধা দিতে পারবে? তবে এই সুবিধা সব ট্রাভেল এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত নয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেবল সেইসব অনুমোদিত ট্রাভেল ও ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠান এই সেবা দিতে পারবে, যাদের নিজস্ব ডিজিটাল বুকিং প্ল্যাটফর্ম, উন্নত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সার্বক্ষণিক গ্রাহকসেবা পরিচালনার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার ভ্রমণসেবার মান নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রাহকদের জন্য নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করতে চায়। ‘ভিশন ২০৩০’-এর পর্যটন কৌশলের অংশ নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’ উদ্যোগটি সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির আওতায় পর্যটন খাত সম্প্রসারণের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশটির পর্যটন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বীমা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব পর্যটন খাতে প্রবেশাধিকার সহজ করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ট্যুরিস্ট ই-ভিসা, অন-অ্যারাইভাল ভিসা এবং স্টপওভার ট্রানজিট ভিসা চালু করা। পর্যটক বৃদ্ধির পেছনে সহজ ভিসা নীতি সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সহজতর ভিসা নীতির ফলে দেশটিতে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে সৌদি আরব সফর করেছেন ২ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি আন্তর্জাতিক দর্শনার্থী। পর্যটন মন্ত্রীর বক্তব্য সৌদি আরবের পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল-খতিব এসপিএকে বলেন, "সৌদি আরবের পর্যটনের গল্প সবসময়ই উচ্চাকাঙ্ক্ষা, উন্মুক্ততা এবং ধারাবাহিক অগ্রগতির। প্যাকেজ ভিসার মাধ্যমে আমরা সেই যাত্রার পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করছি। এটি আমাদের পর্যটন খাতের অংশীদারদের আরও সক্ষম করবে, দর্শনার্থীদের ভ্রমণ সহজ করবে এবং সৌদি আরব সফরের অভিজ্ঞতাকে আরও স্মার্ট ও নির্বিঘ্ন করে তুলবে।" কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ? নতুন প্যাকেজ ভিসা শুধু একটি নতুন ভিসা সুবিধা নয়; এটি সৌদি আরবের পর্যটন ব্যবস্থাকে ডিজিটাল ও সমন্বিত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। একটি প্ল্যাটফর্মে ভিসা, পরিবহন, আবাসন এবং পর্যটন কার্যক্রম যুক্ত হওয়ায় ভ্রমণ পরিকল্পনার জটিলতা কমবে। একই সঙ্গে পর্যটকদের দীর্ঘ সময় অবস্থান, অতিরিক্ত ব্যয় এবং বিভিন্ন পর্যটন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও বাড়বে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব প্রযুক্তিনির্ভর ও সহজ প্রবেশব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেকে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৯, ২০২৬ 0
কাতার সংলাপ শেষে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সরাসরি যোগাযোগ চ্যানেল, ৬০ দিনের ইসলামাবাদ সমঝোতা কার্যকরে নতুন পদক্ষেপ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নিজেদের মধ্যে একটি যোগাযোগ চ্যানেল খোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কাতারে সংলাপ শেষ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরকারি প্রতিনিধিরা। বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা ইরনাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। এই চ্যানেল খোলার মূল উদ্দেশ্য হবে আগামী ৬০ দিন ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির কোনো ধারা বা শর্ত লঙ্ঘন হলে উভয়পক্ষ যেন তাৎক্ষণিকভাবে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যে দিয়েই শেষ হয়েছে কাতার সংলাপ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এবং তারপর টানা ৪০ দিন ধরে সংঘাত শেষে গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র এবং এ কারণেই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে।    

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ২, ২০২৬ 0
সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি
আমিরাতে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি ছাড়ানোর আশঙ্কা, আর্দ্রতা ও বৃষ্টির পূর্বাভাস

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রীষ্মের তীব্রতা আরও বাড়তে যাচ্ছে। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম) জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে দেশের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা অতিক্রম করতে পারে। আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, প্রচণ্ড গরমের পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে জনজীবনে অস্বস্তি বাড়তে পারে। একই সময়ে দেশের পূর্বাঞ্চলীয় ও পার্বত্য এলাকাগুলোতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত এবং বজ্রঝড়ের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এনসিএমের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাস ধরে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। যদিও তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উঠতে পারে, তবে তা দীর্ঘ সময় স্থায়ী হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের পশ্চিমাঞ্চলগুলোতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। গরমের মধ্যেই বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের মধ্যেও চলতি সপ্তাহে কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত হতে পারে। স্থানীয়ভাবে ‘রাওয়ায়েহ’ নামে পরিচিত গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার প্রভাবে পরিচলন মেঘ তৈরি হয়ে বজ্রঝড় ও বৃষ্টির সৃষ্টি হয়। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ তাপমাত্রা, অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে এসব মেঘের উৎপত্তি ঘটে। এবারের সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত মূলত পূর্বাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকাকেই বেশি প্রভাবিত করতে পারে। বড় শহরগুলোতে পরিস্থিতি কেমন? রাজধানী আবুধাবি, বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাই এবং শারজাহসহ বড় শহরগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। তবে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং কিছু এলাকায় হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি দেখা যেতে পারে। আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, সপ্তাহের শেষ দিকে মেঘলা আবহাওয়া ও বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতের কারণে তাপমাত্রা সামান্য কমে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে আমিরাতজুড়ে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৫, ২০২৬ 0
ফাটল ধরতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটে
দক্ষিণ লেবানন সংকট: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কে বিভাজন তৈরির সুযোগ দেখছে ইরান

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দক্ষিণ লেবাননে চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ভল্ফগ্যাং পুস্তাইয়ের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে কেবল সীমান্ত সংঘাত হিসেবে দেখলে ভুল হবে; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ। আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশ্লেষণধর্মী সাক্ষাৎকারে পুস্তাই বলেছেন, তেহরানের প্রধান লক্ষ্য এখন দক্ষিণ লেবাননের সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যে চাপ সৃষ্টি করা। তার মতে, ইরান এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থানের পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। কোথায় দেখছেন সুযোগ? পুস্তাইয়ের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ইরানের কৌশল শুধু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সম্পর্ককে ঘিরে নয়। বরং এটি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যকার সম্ভাব্য মতপার্থক্যকেও কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে। তার মতে, তেহরান বিশ্বাস করে যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে দুই মিত্র দেশের কৌশলগত অগ্রাধিকারের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হতে পারে। আর সেই ব্যবধানই ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিতে পারে। লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান থামানো কি সম্ভব? বিশ্লেষকের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান অবশ্যই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ দেখতে চায়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তিনি বলেন, তেহরান, বৈরুত, হিজবুল্লাহ, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র—সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই জানে যে এই লক্ষ্য অর্জন সহজ নয়। কারণ ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থে হামলার জবাবে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার নীতি দীর্ঘদিনের। ফলে সংঘাতের মাত্রা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থাকলেও ময়দানের বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল বলে মনে করছেন তিনি। ট্রাম্পের কূটনীতি বনাম ইসরায়েলের নিরাপত্তা হিসাব পুস্তাই মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েল এমন অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করবে যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যায়, তাহলে ইসরায়েল প্রয়োজনীয় সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে দ্বিধা করবে না। অর্থাৎ কূটনৈতিক সমন্বয় বজায় রাখার চেষ্টা থাকলেও নিরাপত্তা প্রশ্নে তেল আবিবের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কৌশলগত সমীকরণ বিশ্লেষকের মূল্যায়নে, বর্তমান সংকটকে ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছে। কারণ সরাসরি সামরিক সংঘাতে না গিয়ে প্রতিপক্ষ জোটের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দূরত্ব সৃষ্টি করা তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর কৌশল হতে পারে। তার মতে, তেহরানের বর্তমান মনোযোগ মূলত ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সম্পর্কের ভেতরে সম্ভাব্য ফাটল তৈরি করার দিকে। আর দক্ষিণ লেবাননের চলমান পরিস্থিতি সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।   মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কেবল সীমান্ত সংঘাত বা সামরিক অভিযানের প্রশ্ন নয়; এটি বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে প্রভাব বিস্তার, জোট রাজনীতি এবং কৌশলগত ভারসাম্যের লড়াইও। ভল্ফগ্যাং পুস্তাইয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান এখন সরাসরি সংঘর্ষের চেয়ে প্রতিপক্ষের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে কাজে লাগানোর পথেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে শুধু নিরাপত্তা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0
দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহর
টাইর ছাড়ার নির্দেশ, বাড়ছে আতঙ্ক: নতুন সংঘাতের আশঙ্কায় দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক শহর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় শহর টাইরের বাসিন্দাদের জরুরিভাবে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। মঙ্গলবার (৯ জুন) জারি করা এই নির্দেশনার আওতায় শহরের খ্রিস্টান অধ্যুষিত অঞ্চল এবং আশপাশের শরণার্থী শিবিরগুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইডিএফের আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিখাই আদরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় বলেন, টাইর শহরের বাসিন্দাদের দ্রুত সরে গিয়ে জাহরানি নদীর উত্তরে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর সদস্য ও তাদের ব্যবহৃত স্থাপনার কাছাকাছি অবস্থান করা বেসামরিক মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে সন্দেহ করা যেকোনো স্থাপনা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। কেন গুরুত্বপূর্ণ টাইর? ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী টাইর শুধু দক্ষিণ লেবাননের একটি প্রধান শহরই নয়, এটি দেশটির অন্যতম ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। শহরটিতে মুসলিম, খ্রিস্টান এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থী সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের বসবাস রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, টাইরের মতো জনবহুল এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ সাধারণত বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে যখন নির্দেশনাটি শহরের বিস্তৃত আবাসিক অঞ্চল ও শরণার্থী শিবির পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, তখন সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে। গোলাবর্ষণের খবর, নীরব আইডিএফ লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে টাইর জেলার মানসুরি ও মাজদাল জুন এলাকার উপকণ্ঠে গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি আইডিএফ। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সীমান্তবর্তী এলাকায় সামরিক তৎপরতা ও নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নতুন করে সংঘাত বিস্তারের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বেসামরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মতে, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও দ্রুত বাস্তুচ্যুত হওয়া সবসময় সহজ নয়। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি এবং শরণার্থী পরিবারগুলোর জন্য স্থানান্তর একটি বড় মানবিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। টাইরের বাসিন্দাদের অনেকেই ইতোমধ্যে শহর ছেড়ে নিরাপদ অঞ্চলের দিকে যাত্রা শুরু করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে কত সংখ্যক মানুষ এই নির্দেশনার আওতায় পড়েছেন, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আঞ্চলিক উত্তেজনা কোন দিকে যাচ্ছে? ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা গত কয়েক মাসে নতুন মাত্রা পেয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলা, ড্রোন অভিযান এবং গোলাবর্ষণের ঘটনা ক্রমেই বেড়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি এই উত্তেজনা আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে, তাহলে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নতুন মানবিক সংকটের মুখে পড়তে পারে। টাইর শহরের জন্য জারি করা সর্বশেষ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৯, ২০২৬ 0
ইরাকের উত্তরাঞ্চলে হামলা চালিয়েছে ইরান
ইরাকের উত্তরাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আইআরজিসির বিমান ও স্থল অভিযান শুরু

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইরাকের উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বিমান ও স্থল—দুই ধরনের সমন্বিত হামলা নিয়ে পরিচালিত এই অভিযানকে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রোববার (৩১ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসির স্থল বাহিনী অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে অভিযানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু, হামলার স্থান কিংবা কোন কোন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে—সেসব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ পর্যন্ত অভিযান থেকে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, সে সম্পর্কেও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ফলে অভিযানের প্রকৃত ব্যাপ্তি এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি এখনও স্পষ্ট নয়। সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের পার্বত্য সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ইরান-বিরোধী সশস্ত্র ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর উপস্থিতি রয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, এসব গোষ্ঠী সীমান্তবর্তী এলাকাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে ইরানের ভেতরে নিরাপত্তা অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা দেশটির জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্তঘেঁষা এলাকায় সংঘর্ষ, অনুপ্রবেশ এবং সশস্ত্র তৎপরতা বৃদ্ধির অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই অভিযান? আইআরজিসির সর্বশেষ এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পরিচালিত সশস্ত্র কার্যক্রম তার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, এই অভিযান শুধু সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা দুর্বল করার প্রচেষ্টা নয়; একই সঙ্গে এটি একটি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে। এর মাধ্যমে তেহরান দেখাতে চাইছে যে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে যেকোনো নিরাপত্তা ঝুঁকির বিরুদ্ধে তারা প্রয়োজন হলে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। আঞ্চলিক প্রভাবের প্রশ্ন অভিযানটি ইরান-ইরাক সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। যদিও অভিযানের বিস্তারিত তথ্য এখনও সীমিত, তবু এটি স্পষ্ট যে সীমান্তবর্তী কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ও সশস্ত্র তৎপরতা নিয়ে তেহরানের উদ্বেগ আগের মতোই বহাল রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, অভিযানের পরবর্তী ধাপ, সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া এবং ইরাকের অবস্থান—এসব বিষয় আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১, ২০২৬ 0
নাবাতিয়েহ ঘিরে ফেলছে ইসরাইলি বাহিনী
নাবাতিয়েহ ঘিরে ফেলছে ইসরাইল? দক্ষিণ লেবাননে নতুন সামরিক অগ্রযাত্রায় সংঘাতের আশঙ্কা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ শহর নাবাতিয়েহ ঘিরে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে ইসরাইলি বাহিনী। একাধিক সামরিক ও সংবাদ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শহরটির চারপাশে সেনা মোতায়েন বাড়িয়ে কার্যত অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল, যা অঞ্চলজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। সামরিক সূত্রগুলো বলছে, ২০০৬ সালের যুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো ইসরাইলি সেনারা লিতানি নদী অতিক্রম করেছে। দীর্ঘদিন ধরে নদীটিকে একটি অঘোষিত ‘বাফার জোন’ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা সেই বাস্তবতায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমানে নাবাতিয়েহ শহরের উপকণ্ঠে ইসরাইলি বাহিনীর অবস্থানের খবর পাওয়া যাচ্ছে। দক্ষিণ লেবাননের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত শহরটি দীর্ঘদিন ধরে হিজবুল্লাহ-প্রভাবিত অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল নাবাতিয়েহকে ঘিরে ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং হিজবুল্লাহর প্রতিরক্ষা বলয় ভেঙে আরও ভেতরে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে দক্ষিণ ও পশ্চিম লেবাননের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, নাবাতিয়েহকে ঘিরে ফেলা সম্ভব হলে দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর কৌশলগত অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তৃতি আরও বাড়তে পারে। হামলায় আহত সেনা, নিহত প্যারামেডিক লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নাবাতিয়েহর কাছে একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় তাদের দুই সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন। একই সময়ে জেবশিত গ্রামে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় একজন প্যারামেডিক নিহত এবং আরও চারজন আহত হন বলে জানিয়েছে লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা। হামলায় একটি হাসপাতালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। স্বাস্থ্য অবকাঠামোর ওপর হামলার অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। বেউফোর্ট দুর্গ এলাকায় তীব্র গোলাবর্ষণ সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বেউফোর্ট দুর্গ-সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক হামলার ঘটনা ঘটেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০০০ সাল পর্যন্ত এই দুর্গ ও আশপাশের এলাকা ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণে ছিল। ফলে অঞ্চলটি সামরিক ও প্রতীকী—উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। পাল্টা হামলার দাবি হিজবুল্লাহর হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা উত্তর ইসরাইলের কিরিয়াত শমোনা শহরে রকেট হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থানরত ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করেও হামলা চালানোর দাবি করেছে সংগঠনটি। তবে এসব হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। নতুন বাস্তুচ্যুতি সংকট ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননের অন্তত ১০টি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। লেবাননের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। মানবিক সংকট ক্রমেই গভীরতর হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। ‘বিপজ্জনক ও নজিরবিহীন’ পরিস্থিতি লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘বিপজ্জনক ও নজিরবিহীন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সংঘাতের বিস্তার শুধু লেবানন নয়, পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অগ্রযাত্রা এবং হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলা পরিস্থিতিকে দ্রুত একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ দিতে পারে। অঘোষিত যুদ্ধবিরতির আলোচনা থাকলেও মাঠের বাস্তবতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সংঘাত কার্যত নতুন মাত্রায় প্রবেশ করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৩১, ২০২৬ 0
গাজায় ইসরাইলি হামলায় চার শিশুসহ অন্তত ১০ জন নিহত
গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরাইলি হামলা, নিহত ১০: ৩ হাজারের বেশি লঙ্ঘনের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : উত্তর গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। হামলায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার গভীর রাতে গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে এই হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সূত্র বলছে, হামলার সময় আশপাশের একটি পার্কে কয়েকজন শিশু খেলছিল। বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরাইল প্রায় প্রতিদিন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নতুন করে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিবারগুলো সন্তানদের নিয়ে ঘর কিংবা অস্থায়ী তাঁবু ছেড়ে বাইরে বের হতেও আতঙ্ক বোধ করছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera জানিয়েছে, উত্তর গাজাজুড়ে এখনো অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। হামাস নেতার জানাজার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হামলা এই বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই গাজায় হামাসের সশস্ত্র শাখার প্রধান মোহাম্মদ ওদেহের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার ইসরাইলি হামলায় তিনি নিহত হন। জানাজায় শত শত ফিলিস্তিনি অংশ নেন। ইসরাইল জানিয়েছে, হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করেই তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গাজা সিটিতে চালানো হামলায় মোহাম্মদ ওদেহের স্ত্রী ও ছেলেও নিহত হয়েছেন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu দাবি করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার সময় ওদেহ হামাসের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ছিলেন। গত সপ্তাহে ইসরাইলি হামলায় নিহত ইজ আল-দিন আল-হাদ্দাদের পর তাকে হামাসের সশস্ত্র শাখার প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ‘যুদ্ধ থামেনি, শুধু নাম বদলেছে’ ওদেহের স্বজন আবু আল-আব্দ ওদেহ সংবাদ সংস্থা Reuters-কে বলেন, গাজার বাস্তবতা এখনো ভয়াবহ। তার ভাষায়, “যুদ্ধ থেমে গেছে— এমন কথা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য যুদ্ধের কোনো বিরতি নেই। জীবনযাত্রার অবস্থারও কোনো উন্নতি হয়নি।” স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, গত অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরাইল ৩ হাজারের বেশি বার লঙ্ঘন করেছে। ত্রাণ প্রবেশ নিয়েও বাড়ছে অভিযোগ গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় যে পরিমাণ ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশের কথা ছিল, বাস্তবে তার অল্প অংশ প্রবেশ করতে পেরেছে। বুধবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, গত ২২৭ দিনে যুদ্ধবিরতির ৩,০০৫টি গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে গাজায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের কথা থাকলেও বাস্তবে প্রবেশ করেছে মাত্র ৪৯ হাজার ৯৭৩টি। অর্থাৎ চুক্তি বাস্তবায়নের হার ৩৬ শতাংশেরও কম। নতুন করে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের শঙ্কা ইসরাইল ও হামাস— উভয়পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণমাত্রার সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। ইসরাইল বলছে, হামাস অস্ত্র সমর্পণে রাজি না হওয়ায় সমঝোতা এগোচ্ছে না। অন্যদিকে হামাসের দাবি, ইসরাইল নিয়মিত হামলা চালানো এবং মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করায় আলোচনা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে বহাল থাকলেও গাজার বাস্তবতা এখনো যুদ্ধক্ষেত্রের মতোই রয়ে গেছে। নিহতের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয় সংকটও ক্রমেই গভীর হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৯, ২০২৬ 0
ফ্লোটিলার কর্মীদের আটকে ধর্ষণের অভিযোগ ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে
গাজা ফ্লোটিলা কর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ: যৌন সহিংসতা, নির্যাতন ও আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে যাওয়া আন্তর্জাতিক ফ্লোটিলার কর্মীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মুক্তি পাওয়া কয়েকজন কর্মী দাবি করেছেন, আটক অবস্থায় তারা মারধর, অপমানজনক আচরণ, এমনকি যৌন সহিংসতারও শিকার হয়েছেন। শুক্রবার প্রকাশিত বিভিন্ন সাক্ষ্য ও সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে আটক হওয়া কর্মীদের মধ্যে অন্তত ১৫ জন যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন ভুক্তভোগী ধর্ষণের অভিযোগও তুলেছেন। মানবিক সহায়তা বহনকারী এই বহরে অংশ নেওয়া কর্মীদের সংগঠন ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে প্রায় ৪৩০ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের একটি অংশকে জাহাজে তৈরি অস্থায়ী বন্দিশিবিরে রাখা হয়, যেখানে কনটেইনার ও কাঁটাতারের বেড়ার মধ্যে অমানবিক পরিবেশে দিন কাটাতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ‘কনটেইনার বন্দিশিবিরে’ নির্যাতনের অভিযোগ মুক্তি পাওয়া কয়েকজন কর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের ওপর অপমানজনক দেহ তল্লাশি, শারীরিক নির্যাতন এবং যৌন হয়রানি চালানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্পর্শকাতর অঙ্গে আঘাত, জোরপূর্বক তল্লাশি এবং একাধিক ধর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে। ইতালীয় কর্মী ইলারিয়া মানকোসু দাবি করেছেন, অনেকের হাত ও পাঁজর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। টেজার গান ব্যবহারের কারণে কয়েকজনের কান ও চোখে গুরুতর আঘাতের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তিনি। আরেক ইতালীয় কর্মীর অভিযোগ, আটক ব্যক্তিদের টানা দুই দিন পানি পান করতে দেওয়া হয়নি এবং গুরুতর আহতদেরও চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া হয়নি। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ঘটনাটি ঘিরে ইউরোপের কয়েকটি দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইতালির রোমে প্রসিকিউটররা অভিযোগ তদন্তে প্রাথমিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। জার্মানি ঘটনাগুলোকে “অত্যন্ত গুরুতর” হিসেবে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে আহত কয়েকজন ফরাসি নাগরিক বর্তমানে তুরস্কে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ ইসরায়েলের এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা নিয়েও আলোচনা শুরু করেছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভিডিওটিতে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রীকে আটক কর্মীদের নিয়ে উপহাস করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও ভিডিওটির প্রেক্ষাপট নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার ইসরায়েলের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসরায়েলের কারা কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, আটক কর্মীদের ওপর নির্যাতন বা যৌন সহিংসতার অভিযোগ “ভিত্তিহীন” এবং “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সংঘটিত ঘটনাগুলোর সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা দাবির মধ্যেই ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ঘটনার নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করেছে। তাদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, গাজাকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে এই অভিযোগ নতুন করে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে পারে এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬ 0
ইরানের তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইঙ্গিত
শান্তি আলোচনার মধ্যে ইরানের তেল নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিলে নীতিগত সম্মতি যুক্তরাষ্ট্রের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চলমান শান্তি আলোচনা চলাকালে ইরানের তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করতে যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে জানায়, আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার না করলেও তা আংশিকভাবে স্থগিত রাখার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর আগে থেকেই ইরান বলে আসছিল, যেকোনো শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে সব ধরনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘাতে বহু মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর প্রভাব পড়ে জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক দেশে। যুদ্ধের প্রভাবে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে বিমান চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক তেলবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সংঘাত শুরুর প্রায় ৪০ দিন পর দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। পরে সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হলেও এখনও স্থায়ী শান্তিচুক্তি হয়নি। বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চললেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এখনো চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয়নি বলে জানা গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েলের গোপন ঘাঁটি
ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েলের গোপন ঘাঁটির দাবি, তথ্য দিলেন এক মেষপালক

ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় দুর্গম মরুভূমিতে ইসরায়েলের একটি গোপন সামরিক ঘাঁটির অস্তিত্বের দাবি সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal–এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বিমান হামলা ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার সহায়ক কেন্দ্র হিসেবে এই ঘাঁটি ব্যবহার করা হতো। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ মাসের শুরুতে এক ইরাকি মেষপালক মরুভূমির নির্জন এলাকায় অস্বাভাবিক হেলিকপ্টার চলাচল এবং সন্দেহজনক সামরিক তৎপরতা লক্ষ্য করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইরাকি বাহিনী সেখানে তল্লাশি অভিযান চালায়। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই এলাকায় অবস্থানরত ইসরায়েলি কমান্ডোদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত একজন ইরাকি সেনা নিহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সময় বাগদাদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে জাতিসংঘে অভিযোগ জানায়। তবে নতুন এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার নেপথ্যে ছিল ইসরায়েলের বিশেষ সামরিক অভিযান। সূত্রগুলোর বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মরুভূমির ওই ঘাঁটিটি মূলত একটি “লজিস্টিক হাব” হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেখানে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দলও মোতায়েন ছিল। বিশেষ করে ইরানের ভেতরে অভিযানের সময় কোনো ইসরায়েলি পাইলট বিপদে পড়লে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য এই ঘাঁটির ব্যবহার করা হতো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ জ্ঞাতসারেই এই স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরাক ও ইসরায়েল—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ইরাকের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা প্রতিবেদনের সত্যতা অস্বীকার করেছেন। তবে মেষপালকের দেওয়া তথ্য, পরবর্তী সামরিক অভিযান এবং বিমান হামলার ঘটনাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১১, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালীতে এবার সাবমেরিন মোতায়েন
হরমুজে ইরানের ‘ডলফিন’ সাবমেরিন, প্রস্তুত হচ্ছে ব্রিটেন-ফ্রান্সের নৌমিশন

 ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : হরমুজ প্রণালিতে শত্রুপক্ষের নৌযান মোকাবিলায় দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত হালকা বিশেষ সাবমেরিন মোতায়েন করেছে ইরান। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী এসব সাবমেরিনকে “পারস্য উপসাগরের ডলফিন” হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে পার্সটুডে জানিয়েছে, ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি এক ভাষণে বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসব হালকা সাবমেরিন শত্রুর হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর সক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারে এবং প্রয়োজন হলে হরমুজ প্রণালীর বিস্তীর্ণ এলাকায় অবস্থান নিতে সক্ষম। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় সমুদ্রতলের গভীরে অবস্থান করা, শত্রু জাহাজের গতিবিধি প্রতিরোধ করা এবং প্রয়োজন হলে আঘাত হানার সক্ষমতা এসব সাবমেরিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এ কারণেই এগুলোকে “পারস্য উপসাগরের ডলফিন” নামে ডাকা হয়। ইরানি এই নৌকমান্ডার জানান, হরমুজ প্রণালীতে দেনা ডেস্ট্রয়ারের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক অভিযানে এসব সাবমেরিন পানির ওপর উঠে আসে। পরে প্রদর্শনীমূলক মহড়া শেষে আবার গভীর সমুদ্রে নিজেদের নির্ধারিত দায়িত্বে ফিরে যায়। হরমুজ ঘিরে সক্রিয় হচ্ছে ইউরোপ এদিকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য বহুজাতিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য তাদের যুদ্ধজাহাজ ‘এইচএমএস ড্রাগন’ পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন করছে। যুদ্ধজাহাজটি এর আগে গত মার্চে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সাইপ্রাসকে সহায়তা দিতে পাঠানো হয়েছিল। ফ্রান্স ইতোমধ্যে লোহিত সাগরে একটি বিমানবাহী রণতরী ও তার সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজের বহর মোতায়েন করেছে। এর পরই যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপ সামনে এলো। মূলত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে আস্থা ফিরিয়ে আনতে যৌথ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে লন্ডন ও প্যারিস। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, “এইচএমএস ড্রাগনকে আগাম মোতায়েন করা হয়েছে একটি বিচক্ষণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ব্রিটিশ-ফরাসি যৌথ নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক জোটের অংশ হয়ে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি ভূমিকা রাখবে।” ইরানের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রশ্ন ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য কয়েক সপ্তাহ ধরে এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে, যার লক্ষ্য হলো সংঘাত কমে এলে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচলের ভিত্তি তৈরি করা। তবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। প্রস্তুতিমূলক বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকটি দেশও সম্ভাব্য এ অভিযানে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পশ্চিম এশিয়াজুড়ে উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে ইউরোপের দেশগুলো সরাসরি সম্পৃক্ততা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করলেও নৌচলাচলে বিঘ্ন এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি উঠে যাওয়ায় এখন তারা নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় হচ্ছে। তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালির চলাচল সীমিত করে দেওয়ার পর ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ জোরদার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই অবরোধ কার্যকরে ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি সহযোগিতা না করায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের দূরত্বও বেড়েছে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৪, ২০২৬ 0
যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে লেবাননজুড়ে হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরাইল।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলা: ২৪ ঘণ্টায় নিহত ৪১, চলতি বছরে ২,৬৫৯

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : দক্ষিণ লেবানন-এ ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন, যা গত ২৪ ঘণ্টায় মোট নিহতের সংখ্যা ৪১-এ পৌঁছেছে। খবর জানিয়েছে আল জাজিরা। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২ মে) চালানো সর্বশেষ হামলাগুলোর ফলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে, চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৫৯ জনে এবং আহত হয়েছেন ৮ হাজার ১৮৩ জন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)-এর বরাতে জানানো হয়, নাবাতিয়েহ জেলার শৌকিন শহরে ইসরাইলি হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, কফর দাজ্জাল গ্রামে একটি গাড়িতে হামলায় দু’জন নিহত হন। লোয়াইজেহ গ্রামে একটি বাড়িতে হামলায় প্রাণ হারান আরও তিনজন। শৌকিন গ্রামেও পৃথক আরেকটি হামলায় নিহত হয়েছেন দুইজন। ইসরাইলি বাহিনী নাবাতিয়েহ শহরের আল-কুদস মোড়ের কাছে একটি বিমান হামলা চালায়। পাশাপাশি যুদ্ধবিমান টাইর জেলার সিদ্দিকিন এলাকাতেও হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইল-এর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে এরপরও একাধিকবার এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। ইসরাইলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-এর সদস্যরা। তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, নিহতদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৩, ২০২৬ 0
বিমান হামলায় লেবাননে নিহত ১২
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ১২ নিহত, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও হামলা অব্যাহত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। চলমান যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও এসব হামলা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার (১ মে) নাবাতিয়েহ জেলার হাব্বুশ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর একাধিক হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন শিশু ও একজন নারী রয়েছেন। স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে হতাহতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ব্যাপক বিমান হামলায় পুরো একটি আবাসিক এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বহু ভবন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এদিন টায়ার ও নাবাতিয়েহর আশপাশের আরও কয়েকটি এলাকায় পৃথক হামলায় অন্তত ৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে বাড়িঘর, একটি কনভেন্ট এবং একটি স্কুল ধ্বংস করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, হামলার আগে হাব্বুশ এলাকার বাসিন্দাদের জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তবে এর আগের দিন একই এলাকায় কোনো সতর্কতা ছাড়াই হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২, ২০২৬ 0
ক্ষেপণাস্ত্র বের করছে ইরান
যুদ্ধবিরতির সুযোগে ক্ষেপণাস্ত্র পুনরুদ্ধার জোরদার করছে ইরান, নতুন সামরিক পদক্ষেপ ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা জোরদার করেছে ইরান—এমন দাবি করেছে মার্কিন কর্মকর্তারা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে তেহরান সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। দুটি অবগত সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ভূগর্ভস্থ স্থাপনা এবং আঘাতপ্রাপ্ত সামরিক ঘাঁটি থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে দ্রুত পুনরায় মোতায়েনযোগ্য অবস্থায় আনার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, যদি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সামরিক অভিযান শুরু করেন, তাহলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে হামলা চালাতে পারে। এ কারণেই দেশটি তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠন করছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রেক্ষাপটে, গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সামরিক অবস্থা ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে ব্রিফিং দেন। আলোচনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করার কৌশলও বিবেচনায় আসে। “দুটি পথ” সামনে ট্রাম্পের শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে তার সামনে দুটি বিকল্প রয়েছে—সামরিক পদক্ষেপ বা কূটনৈতিক সমাধান। তিনি বলেন, “আমরা কি তাদের সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করব, নাকি একটি চুক্তির চেষ্টা করব—এই দুটি পথই খোলা রয়েছে।” তবে সরাসরি হামলার বিষয়ে তিনি অনিচ্ছার কথাও জানান। যুদ্ধবিরতি ও অচলাবস্থা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৮ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে এখন পর্যন্ত আলোচনায় কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। সামরিক সক্ষমতা নিয়ে দ্বিমত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের দাবি, ইরানের অধিকাংশ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ বলেন, ইরান তাদের হারানো অস্ত্র পুনরুদ্ধার করলেও নতুন করে তা প্রতিস্থাপনের সক্ষমতা নেই। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি দাবি করেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, উৎপাদন কেন্দ্র এবং নৌবাহিনী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এনবিসি নিউজ জানায়, বাস্তবে ইরানের উল্লেখযোগ্য সামরিক শক্তি এখনও অক্ষত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি অংশ বিমানবাহিনীর অর্ধেকের বেশি বিমান ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের নৌবাহিনীর বড় অংশ কৌশলগত বিভ্রান্তি? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান হয়তো নকল বা ডামি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে প্রকৃত অস্ত্রভাণ্ডার আড়াল করতে সক্ষম হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে এসব ছড়িয়ে রাখার মাধ্যমে আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার কৌশলও ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র এখনও অবশিষ্ট রয়েছে, যদিও তার দাবি—এর প্রায় ৮২ শতাংশ ধ্বংস হয়েছে। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরানের হাতে এখন “মাত্র অর্ধেক” ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে এবং তাদের সামরিক শিল্প কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। সামনে কী? বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই ইরান দ্রুত অস্ত্র পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। এদিকে, মে মাসে ট্রাম্পের চীন সফরও এই সংকট মোকাবিলায় কূটনৈতিক মাত্রা যোগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২, ২০২৬ 0
ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলের মতভেদ
ট্রাম্পের সঙ্গে ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে মতভেদ স্বীকার করলেন গিডিওন সার, তবে কৌশলগত ঐক্য বহাল

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে কিছু মতভেদের কথা স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই মতপার্থক্য বৃহত্তর কৌশলগত ঐক্যের ভেতরেই সীমাবদ্ধ। মঙ্গলবার রাতে ‘আমেরিকান ফ্রেন্ডস অফ লিকুদ’ গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এ মন্তব্য করেন সার। এ তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনোথ। বৈঠকে সার জানান, গত বছরের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে ইরান নতুন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করেনি—যদিও এ বিষয়ে ট্রাম্প ভিন্ন দাবি করে আসছিলেন। ২০২৫ সালের ১৩ জুন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে টানা হামলা চালায়। ওই হামলায় দেশটির কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পারমাণবিক বিজ্ঞানীসহ শতাধিক মানুষ নিহত হন। সার বলেন, ইসরায়েল নতুন যুদ্ধ শুরু করতে চায়নি। তবে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি মাটির গভীরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল, যা ভবিষ্যতে সামরিকভাবে মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে উঠতে পারত। এ কারণেই হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষায়, “আমরা দেখেছিলাম তারা কর্মসূচিটি এমন স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে, যেখানে পৌঁছানো কঠিন। তাই আমাদের সামনে কার্যকর বিকল্প খুব সীমিত ছিল।” তবে এই বক্তব্য ইসরায়েলি ও মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে বলা হয়, ইসরায়েলই যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি হামলার জন্য চাপ দিয়েছিল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। যদিও তেহরান বরাবরই দাবি করে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আবারও ইরানের ওপর যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরে ৮ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, যা পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্প্রসারিত হয়। সার আরও বলেন, ইরানে সরকার পরিবর্তন এই সামরিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক লক্ষ্য ছিল না। তবে ইসরায়েল এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শাসন পরিবর্তনের দিকে যেতে পারে। তিনি স্বীকার করেন, এই ধরনের পরিবর্তন কেবল ইসরায়েলের একার পক্ষে সম্ভব নয় এবং শেষ পর্যন্ত তা নির্ভর করবে ইরানের জনগণের ওপর। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরের কোনো অংশ ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করার সম্ভাবনাও নাকচ করেন সার। তার মতে, এমন পদক্ষেপ ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। সবশেষে, ট্রাম্পের সঙ্গে মতপার্থক্যের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও সার বলেন, “সামগ্রিকভাবে আমাদের লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি অভিন্ন।”

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 0
গাজামুখী মানবিক সহায়তা বহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। ফাইল ছবি
ভূমধ্যসাগরে গাজামুখী সহায়তা বহর আটক, ড্রোন ও সশস্ত্র অভিযানের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ভূমধ্যসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজামুখী একটি মানবিক সহায়তা বহরকে আটক করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী—এমন অভিযোগ করেছে আয়োজকরা। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) আয়োজক কর্তৃপক্ষ ও ইসরায়েলি গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামে পরিচিত এই বহরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ড্রোন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রযুক্তি এবং সশস্ত্র অভিযানের মাধ্যমে তাদের জাহাজগুলোকে থামিয়ে দেওয়া হয়। এক বিবৃতিতে আয়োজকরা অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি সামরিক স্পিডবোটগুলো বহরটিকে ঘিরে ফেলে এবং অংশগ্রহণকারীদের লক্ষ্য করে লেজার ও সেমি-অটোমেটিক অস্ত্র তাক করা হয়। এ সময় জাহাজে থাকা ব্যক্তিদের সামনে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় তাদের ‘অবৈধভাবে’ ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং অপহরণ ও সহিংসতার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বহরের মোট ৫৮টি জাহাজের মধ্যে ১১টির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি আর্মি রেডিও জানিয়েছে, গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে বহরের অন্তত সাতটি জাহাজ জব্দ করা হয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, বহরটি তাদের এলাকায় পৌঁছানোর আগেই থামানো হয়েছে। তিনি অংশগ্রহণকারীদের ‘মনোযোগ আকর্ষণে মরিয়া বিভ্রান্ত উসকানিদাতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, ফ্লোটিলার মুখপাত্র গুর সাবর বলেন, ইসরায়েল থেকে শত শত মাইল দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরস্ত্র বেসামরিক জাহাজের ওপর এই অভিযান ‘সরাসরি জলদস্যুতা’। তার দাবি, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এমন পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অবৈধ এবং সমুদ্রের মাঝখান থেকে কাউকে আটক করা অপহরণের শামিল। তিনি আরও বলেন, বহরটিতে ৪০০-এর বেশি বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। “এ মুহূর্তে নীরব থাকা মানে এই অপরাধের অংশীদার হওয়া,” যোগ করেন তিনি।   ফ্লোটিলার পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলের সামরিক নৌযানগুলো অবৈধভাবে ফ্লোটিলাকে ঘিরে ফেলেছে। অপহরণ ও সহিংসতার হুমকি দিয়েছে।’   ওই পোস্টে আরও বলা হয়, ‘১১টি নৌযানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং ইসরায়েলি গণমাধ্যম দাবি করছে, ৭টি নৌযান আটক করা হয়েছে। ফ্লোটিলার সুরক্ষায় বিভিন্ন দেশকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 0
পানামা খাল
ইরান সংকটে পানামা খালে জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব বৈশ্বিক বাণিজ্যপথে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ইরান সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির কারণে বিকল্প রুট হিসেবে পানামা খালের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এর ফলে বিকল্প রুট হিসেবে মধ্য আমেরিকার পানামা খালে জাহাজের চাপ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এজন্য গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে ৪০ লাখ ডলারে সিরিয়াল বিক্রি হচ্ছে।   পানামা খাল কর্তৃপক্ষের অর্থ বিভাগের প্রধান ভিক্টর ভিয়াল জানিয়েছেন, গত বছরের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত আগের তুলনায় প্রায় ৩০০টি বেশি জাহাজ এই খাল ব্যবহার করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট অব্যাহত থাকলে এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া। ফলে অনেক জাহাজ নিরাপদ ও বিকল্প পথ হিসেবে পানামা খালকে বেছে নিচ্ছে। এই পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবহন ব্যয়ে। সাধারণত পানামা খাল অতিক্রম করতে জাহাজভেদে ৩ থেকে ৪ লাখ মার্কিন ডলার খরচ হয়। তবে দ্রুত পারাপারের সুবিধা পেতে কিছু জাহাজকে অতিরিক্ত ফি হিসেবে প্রায় ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা এবং পণ্যের দামের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: যুদ্ধ থেকে ‘সম্মানজনক’ প্রস্থান খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তানে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে চলমান উত্তেজনা থেকে একটি ‘সম্মানজনক’ প্রস্থানের পথ খুঁজছে। তেহরানের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ-কে দেওয়া এক বক্তব্যে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ইরানের সামরিক অবস্থান এখন শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী। তার দাবি, “শত্রু যুদ্ধের এক চোরাবালিতে আটকা পড়েছে এবং সেখান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে।” এদিকে মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনার ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও পাকিস্তানে অবস্থান করছেন। তবে তেহরান স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সরাসরি কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের প্রস্তাব ও অবস্থান পাকিস্তানের মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পৌঁছে দেওয়া হবে। দুই সপ্তাহ আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছিল। নতুন করে শুরু হওয়া এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে কি না, তা এখন নজরে রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। তার ভাষায়, “যার সাথেই প্রয়োজন হোক, আমরা কথা বলতে রাজি।” তিনি আরও বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে আহ্বান এলে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সাড়া দেবে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে তাদের কৌশল তুলে ধরেছে। তাদের মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ন্ত্রণ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে এই অবস্থান আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0