ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ইরানের কথিত প্রতিশোধমূলক হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সৌদি আরব ও কুয়েত। দুই দেশই হামলাগুলোকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথের জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে। রোববার (১২ জুলাই) সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের সাম্প্রতিক হামলা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সনদ এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের নীতির পরিপন্থী। সৌদি আরবের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সর্বশেষ হামলায় দেশটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা না হলেও গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় একটি সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কুয়েতের উদ্বেগ কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথক এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের এসব হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের পদক্ষেপ চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং সংকট নিরসনের পথকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কুয়েত জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের আলোকে নিজেদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার দেশটির রয়েছে। ইরানের পাল্টা হামলার দাবি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান, কাতার ও ওমানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত দাবি করেছে, তারা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্ন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। সৌদি আরব ও কুয়েতের প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায়, উপসাগরীয় দেশগুলো শুধু নিজেদের নিরাপত্তা নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন।
জেনেভা: বৈদেশিক সহায়তায় ব্যাপক কাটছাঁটের ফলে বিশ্বজুড়ে অন্তত ১০ লাখ নারী ও কিশোরী জরুরি মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। একই সময়ে প্রয়োজন বাড়লেও নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলো অর্থসংকটে টিকে থাকার লড়াই করছে। জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেন শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে। প্রতিবেদনটি বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে নারী ও কিশোরীদের জন্য পরিচালিত জরুরি সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আশ্রয় এবং সহিংসতা প্রতিরোধ কর্মসূচিতে। এতে বিশ্বের বহু সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে মানবিক সহায়তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে। সহায়তা কমল কেন? গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈদেশিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেন। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাতা দেশও আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার বাজেট সংকুচিত করেছে। ইউএন উইমেন বলছে, এই অর্থসংকোচনের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, দারিদ্র্য ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার নারী ও কিশোরীরা। 'প্রত্যাহার করা প্রতিটি ডলার মানে একজন নারীর কাছ থেকে সহায়তা কেড়ে নেওয়া' ইউএন উইমেনের মানবিক কার্যক্রম বিভাগের প্রধান সোফিয়া কালতোর্প বলেন, "বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা নারী সংগঠনগুলো বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটের সামনের সারিতে কাজ করছে। নারী সংগঠনগুলোর জন্য প্রত্যাহার করা প্রতিটি ডলার মানে সংঘাতজনিত যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তি, বাস্তুচ্যুত মা, স্কুলছুট হতে বাধ্য হওয়া কিশোরী এবং টিকে থাকার লড়াই করা জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে এক ডলার করে সহায়তা প্রত্যাহার করা।" সংঘাত বাড়ছে, অথচ কমছে সহায়তা ইউএন উইমেনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বজুড়ে সশস্ত্র সংঘাত এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ১২ কোটি নারী ও কিশোরীর মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা প্রয়োজন। কিন্তু প্রয়োজন বাড়লেও সহায়তার উৎস সংকুচিত হওয়ায় মাঠপর্যায়ের সংগঠনগুলো কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে। যা বলছে জরিপ সংকটকবলিত ৫২টি দেশের নারী নেতৃত্বাধীন ও নারীর অধিকারভিত্তিক ৮৫৫টি সংগঠনের ওপর পরিচালিত জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র— ৮৪ শতাংশ সংগঠন জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেবার চাহিদা বেড়েছে। প্রতি ১০টির মধ্যে প্রায় ৯টি সংগঠন বর্তমান চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। প্রতি ৫টির মধ্যে ২টি সংগঠন আগামী এক বছরের মধ্যে আংশিক বা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে। ৬৫ শতাংশ নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনে কর্মীরা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই কাজ করছেন। প্রায় অর্ধেক সংগঠন জানিয়েছে, কর্মীদের মানসিক ও শারীরিক অবসাদ দ্রুত বাড়ছে। যৌন সহিংসতা বাড়ছে, ভেঙে পড়ছে সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সংঘাতজনিত যৌন সহিংসতার ঘটনা দ্বিগুণ হয়েছে। অথচ একই সময়ে ভুক্তভোগীদের জন্য গড়ে ওঠা সহায়তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো অর্থসংকটে ভেঙে পড়ছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৮৬ শতাংশ সংগঠন জানিয়েছে, তারা যেসব এলাকায় কাজ করছে সেখানে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বেড়েছে। ইউএন উইমেনের মতে, এর বাস্তব প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ। একজন নির্যাতিত নারী আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে সেটি বন্ধ দেখতে পারেন। একজন গর্ভবতী নারীকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটতে হতে পারে। আবার কোনো মা তাঁর সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তাও নাও পেতে পারেন। সংকট শুধু অর্থের নয়, অধিকারেরও ইউএন উইমেন বলছে, এই সংকট শুধু মানবিক সহায়তার সীমাবদ্ধতা নয়; এটি বিশ্বজুড়ে নারী ও কিশোরীদের অধিকার রক্ষার সংগ্রামকেও দুর্বল করে দিচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী— প্রতি ৫টি সংগঠনের একটি ইতোমধ্যে নারীর নেতৃত্ব ও লিঙ্গসমতা বিষয়ক কার্যক্রম স্থগিত করেছে। অর্ধেকের বেশি সংগঠন স্থানীয় নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করছে। সংস্থাটির ভাষ্য, নারী সংগঠনগুলোর বিলুপ্তি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং এমন এক সময়ে এটি ঘটছে, যখন বিশ্বজুড়ে নারী ও কিশোরীদের অধিকারের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া আরও জোরালো হয়ে উঠছে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে কারা? প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত করছে, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে সেইসব নারী ও কিশোরীর ওপর, যারা যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, দারিদ্র্য, খাদ্যসংকট ও যৌন সহিংসতার মতো বহুমাত্রিক সংকটের মধ্যে বসবাস করছেন। অর্থায়ন কমে যাওয়ার ফলে স্থানীয় নারী সংগঠনগুলোর সক্ষমতা দুর্বল হলে শুধু জরুরি সহায়তাই নয়, দীর্ঘমেয়াদে নারীর ক্ষমতায়ন, নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং নেতৃত্ব বিকাশের উদ্যোগও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজ ও খুতবা শেষ হওয়ার পর জেরুজালেম এবং ফিলিস্তিনের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ মোহাম্মদ হুসেইনকে ইসরায়েলি বাহিনী আটক করেছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াফা । সংবাদ সংস্থাটির প্রতিবেদনে স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, শুক্রবার জুমার খুতবা প্রদান এবং নামাজের ইমামতি শেষ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে ইসরায়েলি সেনাসদস্যরা তাকে হেফাজতে নেয়। আটকের কারণ এখনো স্পষ্ট নয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ মোহাম্মদ হুসেইনকে কী কারণে আটক করা হয়েছে বা তাকে কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রাথমিকভাবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি। এ কারণে আটকের কারণ এবং তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ক্ষোভ ও উত্তেজনার খবর ওয়াফা -এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই ঘটনার পর আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনাটির বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে আটকের কারণ, আইনি ভিত্তি এবং পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্যের জন্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ ইউনিফাইড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন প্লাস (ইউডিআইএসই+) প্রতিবেদনে দেশটির স্কুল শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা উঠে এসেছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সারাদেশে মোট ৪ হাজার ৭৯১টি স্কুল বন্ধ হয়েছে। অর্থাৎ, গড় হিসেবে প্রতিদিন বন্ধ হয়েছে প্রায় ১৩টি স্কুল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্ধ হওয়া স্কুলের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি রয়েছে মধ্যপ্রদেশে। রাজ্যটিতে এক বছরে ২ হাজার ৪২৬টি স্কুল বন্ধ হয়েছে, যা জাতীয় মোটের সবচেয়ে বড় অংশ। এক বছরে কমেছে দেশের মোট স্কুলের সংখ্যা ইউডিআইএসই+ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভারতে মোট স্কুলের সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ ৭১ হাজার ৪৭৩টি। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৬৬ হাজার ৬৮২টিতে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে দেশের মোট স্কুলের সংখ্যা কমেছে ৪ হাজার ৭৯১টি। কোন কোন রাজ্যে সবচেয়ে বেশি স্কুল বন্ধ হয়েছে মধ্যপ্রদেশের পর সবচেয়ে বেশি স্কুল বন্ধ হয়েছে তেলেঙ্গানায়। বিভিন্ন রাজ্যের চিত্র হলো— মধ্যপ্রদেশ: ২,৪২৬টি তেলেঙ্গানা: ১,৩৯২টি পশ্চিমবঙ্গ: ৫৬৮টি অন্ধ্রপ্রদেশ: ৪৭৪টি তামিলনাড়ু: ৩৬৯টি কর্ণাটক: ২৮১টি হিমাচল প্রদেশ: ২৬৬টি এই পরিসংখ্যান দেখায়, কয়েকটি রাজ্যে স্কুল বন্ধের হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। শিক্ষার্থী কমলেও বেড়েছে স্কুল প্রতিবেদনে আরেকটি উল্লেখযোগ্য প্রবণতা দেখা গেছে। কয়েকটি রাজ্যে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা কমলেও স্কুলের সংখ্যা উল্টো বেড়েছে। এই সময়ে— বিহারে নতুন যুক্ত হয়েছে ৯৪৬টি স্কুল ছত্তিশগড়ে ২৩৪টি দিল্লিতে ৮৭টি অর্থাৎ, শিক্ষার্থী সংখ্যা কমলেও অবকাঠামো সম্প্রসারণের ধারা কিছু রাজ্যে অব্যাহত রয়েছে। ভর্তির সংখ্যায় সবচেয়ে বড় পতন বিহারে নতুন স্কুল যুক্ত হলেও শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে তিনটি রাজ্যেই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী— বিহারে আগের বছরের তুলনায় ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৩৭ জন কম শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। ছত্তিশগড়ে ভর্তি কমেছে ৪৯ হাজার ৪৫৯ জন। দিল্লিতে কমেছে ৪৫ হাজার ২৫০ জন। বিহারেই শিক্ষার্থী ভর্তির পতন সবচেয়ে বেশি। যে প্রশ্নগুলো সামনে আসছে ইউডিআইএসই+ প্রতিবেদনের এই পরিসংখ্যান ভারতের স্কুল শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে, এক বছরে হাজার হাজার স্কুল বন্ধ হওয়ার পেছনে কী কারণ কাজ করেছে, কেন মধ্যপ্রদেশে বন্ধের সংখ্যা অন্য সব রাজ্যের তুলনায় অনেক বেশি, এবং কোথাও শিক্ষার্থী কমলেও নতুন স্কুল কেন যুক্ত হচ্ছে—এসব বিষয় নিয়ে আরও বিশদ নীতিগত বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান স্কুলের সংখ্যা ও শিক্ষার্থী ভর্তির পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরলেও, এসব পরিবর্তনের পেছনের কারণ এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে পৃথক বিশ্লেষণই সামগ্রিক চিত্র স্পষ্ট করতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত এবং সমন্বিত করতে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’ চালু করেছে সৌদি আরব। এই উদ্যোগের আওতায় নির্দিষ্ট ট্রাভেল প্যাকেজের অংশ হিসেবে পর্যটকরা একই প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা, যাওয়া-আসার ফ্লাইট, হোটেল বুকিং এবং অন্যান্য ভ্রমণসংশ্লিষ্ট সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কয়েকটি দেশের অনুমোদিত ট্রাভেল ও ট্যুরিজম সেবা প্রদানকারীদের মাধ্যমে এই পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের জন্য সৌদি আরব ভ্রমণকে আরও নির্বিঘ্ন করা এবং দেশটিতে তাদের অবস্থানের সময় বাড়াতে উৎসাহ দেওয়া। এক প্ল্যাটফর্মে ভিসা থেকে হোটেল নতুন ব্যবস্থার আওতায় ভ্রমণকারীরা একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকেই ইলেকট্রনিক ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন, রাউন্ড-ট্রিপ ফ্লাইট বুকিং এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত হোটেলে থাকার ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে পারবেন। এছাড়া, প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্রমণ পরিকল্পনার সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিশেষ কার্যক্রম এবং পর্যটন আকর্ষণও যুক্ত করা যাবে। ফলে আলাদা করে ভিসা আবেদন, বিমান টিকিট সংগ্রহ কিংবা আবাসনের জন্য পৃথক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে না। কারা এই সুবিধা দিতে পারবে? তবে এই সুবিধা সব ট্রাভেল এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত নয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেবল সেইসব অনুমোদিত ট্রাভেল ও ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠান এই সেবা দিতে পারবে, যাদের নিজস্ব ডিজিটাল বুকিং প্ল্যাটফর্ম, উন্নত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সার্বক্ষণিক গ্রাহকসেবা পরিচালনার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার ভ্রমণসেবার মান নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রাহকদের জন্য নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করতে চায়। ‘ভিশন ২০৩০’-এর পর্যটন কৌশলের অংশ নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’ উদ্যোগটি সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির আওতায় পর্যটন খাত সম্প্রসারণের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশটির পর্যটন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বীমা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব পর্যটন খাতে প্রবেশাধিকার সহজ করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ট্যুরিস্ট ই-ভিসা, অন-অ্যারাইভাল ভিসা এবং স্টপওভার ট্রানজিট ভিসা চালু করা। পর্যটক বৃদ্ধির পেছনে সহজ ভিসা নীতি সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সহজতর ভিসা নীতির ফলে দেশটিতে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে সৌদি আরব সফর করেছেন ২ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি আন্তর্জাতিক দর্শনার্থী। পর্যটন মন্ত্রীর বক্তব্য সৌদি আরবের পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল-খতিব এসপিএকে বলেন, "সৌদি আরবের পর্যটনের গল্প সবসময়ই উচ্চাকাঙ্ক্ষা, উন্মুক্ততা এবং ধারাবাহিক অগ্রগতির। প্যাকেজ ভিসার মাধ্যমে আমরা সেই যাত্রার পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করছি। এটি আমাদের পর্যটন খাতের অংশীদারদের আরও সক্ষম করবে, দর্শনার্থীদের ভ্রমণ সহজ করবে এবং সৌদি আরব সফরের অভিজ্ঞতাকে আরও স্মার্ট ও নির্বিঘ্ন করে তুলবে।" কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ? নতুন প্যাকেজ ভিসা শুধু একটি নতুন ভিসা সুবিধা নয়; এটি সৌদি আরবের পর্যটন ব্যবস্থাকে ডিজিটাল ও সমন্বিত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। একটি প্ল্যাটফর্মে ভিসা, পরিবহন, আবাসন এবং পর্যটন কার্যক্রম যুক্ত হওয়ায় ভ্রমণ পরিকল্পনার জটিলতা কমবে। একই সঙ্গে পর্যটকদের দীর্ঘ সময় অবস্থান, অতিরিক্ত ব্যয় এবং বিভিন্ন পর্যটন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও বাড়বে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব প্রযুক্তিনির্ভর ও সহজ প্রবেশব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেকে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা-সংকট এবার আরও স্পষ্টভাবে পানি কূটনীতির কেন্দ্রে এসে দাঁড়িয়েছে। ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি কার্যত স্থগিত রাখার ভারতের সিদ্ধান্তকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনী পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পরিস্থিতি তৈরি হলে ভারতকে মোকাবিলায় যুদ্ধ করতেও প্রস্তুত রয়েছে পাকিস্তান। বিশ্লেষকদের মতে, পানি ইস্যু এখন শুধু সম্পদ ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন নয়; এটি দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন মাত্রা হয়ে উঠছে। সেনাবাহিনীর বার্তা: পানি নিরাপত্তা রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার মঙ্গলবার (৬ জুলাই) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ২৭৬তম কোর কমান্ডারস সম্মেলনে সিন্ধু পানি চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের প্রাপ্য পানি নিশ্চিত করতে সরকারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেনাবাহিনীর এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, ইসলামাবাদ পানি ইস্যুকে জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। উত্তেজনার সূত্র কোথায় বর্তমান সংকটের পটভূমিতে রয়েছে গত বছর পেহেলগামে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলা, যেখানে ২৬ জন নিহত হন। ওই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত একাধিক কূটনৈতিক ও নীতিগত পদক্ষেপ নেয়। তারই ধারাবাহিকতায় নয়াদিল্লি ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে পানি কূটনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিলাওয়াল ভুট্টোর যুদ্ধের ইঙ্গিত এক জনসভায় পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি অভিযোগ করেন, ভারত সিন্ধু নদীর পানিকে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। তিনি বলেন, "সিন্ধু পানি চুক্তির বিষয়ে পাকিস্তান কোনো ধরনের আপস করবে না এবং প্রয়োজন হলে যুদ্ধের পথেও যেতে প্রস্তুত থাকবে।" তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যেও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। ভারতের অবস্থান অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত সপ্তাহে বলেন, "সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ দূর না হওয়া পর্যন্ত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতই থাকবে।" তিনি আরও দাবি করেন, পাকিস্তানকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে সন্ত্রাসে সমর্থন বন্ধের পদক্ষেপ নিতে হবে। ভারতের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তারা পানি চুক্তির বিষয়টিকে নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত করছে। সিন্ধু পানি চুক্তি কী বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি অনুযায়ী— রাভি, বিয়াস ও শতদ্রু নদীর পানি ব্যবহারের অধিকার ভারতের। সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদীর পানি ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানের। এই চুক্তিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্যতম সফল আন্তঃসীমান্ত পানি বণ্টন চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কেন উদ্বিগ্ন পাকিস্তান পাকিস্তানের কৃষি উৎপাদনের বড় অংশ সিন্ধু অববাহিকার নদীগুলোর ওপর নির্ভরশীল। দেশটির সেচ ব্যবস্থা, খাদ্য উৎপাদন এবং গ্রামীণ অর্থনীতির একটি বড় অংশ এই নদী ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে চুক্তি স্থগিত হওয়ার পর পাকিস্তানের পানি নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পানি কি নতুন ভূরাজনৈতিক অস্ত্র? দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী বিশ্লেষকদের মতে, পানি এখন কেবল পরিবেশ বা উন্নয়ন ইস্যু নয়; এটি ক্রমেই ভূরাজনৈতিক কৌশলের অংশ হয়ে উঠছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ, সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অভিযোগ এবং রাজনৈতিক অবিশ্বাসের সঙ্গে পানি কূটনীতি যুক্ত হওয়ায় সংকট আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আলোচনার পথ সংকুচিত হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় দেশের অবস্থান কঠোর থাকায় কূটনৈতিক সমাধান কত দ্রুত সম্ভব হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও নিম্নমুখী। ওপেক প্লাসের উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ বৃদ্ধির প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামে। সোমবার (৬ জুলাই) দিনের লেনদেনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৪ সেন্ট বা ০.৪৭ শতাংশ কমে ৭১.৭৮ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ২০ সেন্ট বা ০.২৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬৮.৪৯ ডলারে দাঁড়ায়। উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ? রোববার ওপেক প্লাস ঘোষণা দেয়, আগস্ট মাস থেকে জোটভুক্ত দেশগুলো দৈনিক আরও ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন বাড়াবে। এর আগে জুন ও জুলাই মাসেও একই পরিমাণ উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছিল। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত নতুন কোনো চমক নয়; বরং এটি বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে জোটের কয়েকটি সদস্য দেশ এখনো নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে না। ফলে ঘোষিত উৎপাদন বৃদ্ধির পুরোটা বাস্তবে বাজারে যোগ হবে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণে রয়েছে। হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক হওয়ায় সরবরাহ বাড়ছে ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাতের সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে যে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে। সৌদি আরব, কুয়েত ও ইরাক থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহার করে তেল রপ্তানি আবার স্বাভাবিক ধারায় ফিরছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি সচল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। বাজারে মূল্য কমার পেছনে এটিকেও অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওপেকের উৎপাদনে কী বলছে জরিপ? রয়টার্সের এক জরিপে দেখা গেছে, জুন মাসে ওপেকভুক্ত দেশগুলোর মোট তেল উৎপাদন দৈনিক ৩৩ লাখ ব্যারেল বেড়ে ১ কোটি ৯৪৩ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। একই সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানিও মে মাসের তুলনায় দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি বেড়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির পরও রপ্তানির পরিমাণ যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম রয়েছে। রাশিয়ার রপ্তানিও বেড়েছে অন্যদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটি পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বাড়িয়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। জুলাই মাসেও একই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বর্তমান মূল্যপতনের পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। ওপেক প্লাসের উৎপাদন বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়া এবং রাশিয়ার রপ্তানি বাড়ার ফলে বৈশ্বিক সরবরাহের চাপ বেড়েছে। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি, তবু বাজার আপাতত সরবরাহ বৃদ্ধির সংকেতকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : হামাসের লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান মুহাম্মদ দারবিশের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ইরানের রাজধানী তেহরান সফর করেছে। সফরের উদ্দেশ্য ছিল ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া। সফরকালে হামাস প্রতিনিধিদল ইরানকে যুদ্ধক্ষেত্র ও আলোচনার টেবিলে ‘বড় ধরনের জয়’ অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানায়। সংগঠনটি এই অর্জনকে গোটা ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ বা প্রতিরোধ অক্ষ এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর বিজয় বলে উল্লেখ করেছে। খামেনির প্রতি শোক ও অবস্থানের প্রশংসা হামাসের প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের শাহাদাতের ঘটনায় ইরানের নেতা, সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায়। একই সঙ্গে মুহাম্মদ দারবিশ বলেন, ফিলিস্তিনের মুক্তিসংগ্রামের প্রতি সমর্থন এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের বৈধ প্রতিরোধের পক্ষে খামেনির নীতিগত ও সাহসী অবস্থান হামাসের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি তুলে ধরে হামাস সফরের সময় হামাস প্রতিনিধিদল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে তারা গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ‘চরম অমানবিক পরিস্থিতি’ এবং পশ্চিম তীরে ইসরাইলের চলমান অভিযানের বিষয়ে নিজেদের উদ্বেগ তুলে ধরে। হামাসের দাবি, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যার মুখে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা ‘বিপর্যয়কর’। প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ইসরাইলের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানায়। ইরানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে ধন্যবাদ জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং আল-কুদস (জেরুজালেম)কে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতি ইরানের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। এ অবস্থানকে তেহরানের নীতিগত অবস্থান হিসেবেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। প্রেক্ষাপট হামাস ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। তেহরান নিজেকে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর অন্যতম সমর্থক হিসেবে তুলে ধরে। অন্যদিকে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র এবং কয়েকটি পশ্চিমা দেশ হামাসকে সশস্ত্র সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে এবং ইরানের আঞ্চলিক ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে। এই প্রেক্ষাপটে তেহরানে হামাস প্রতিনিধিদলের সফর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই দুই পক্ষের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের আরেকটি প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নাতনি, ১৪ মাস বয়সী জাহরা মোহাম্মদী গোলপায়েগানির বাবা শেখ মোহাম্মদ জাভাদ গোলপায়েগানির একটি আবেগঘন ছবি প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। জানাজায় নিহত শিশুকন্যার কফিনের পাশে শোকাহত বাবার সেই মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় তেহরানের গ্র্যান্ড মোসল্লায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তার জামাতা মেসবাহ-উল-হোদা বাকেরি, বড় মেয়ে সাইয়্যেদাহ বোশরা হোসেইনি খামেনি, পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ আদেল এবং ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদী গোলপায়েগানির জানাজা একসঙ্গে সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে ইরনা প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, নিহত শিশু জাহরার কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে শোকাহত অবস্থায় আছেন তার বাবা শেখ মোহাম্মদ জাভাদ গোলপায়েগানি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, শেখ মোহাম্মদ জাভাদ গোলপায়েগানি শিয়া আলেম এবং শহীদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বড় মেয়ে সাইয়্যেদাহ বোশরা হোসেইনি খামেনির স্বামী। তিনি ১৪ মাস বয়সী জাহরার বাবা এবং প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আবুল কাসেম মোহাম্মদী গোলপায়েগানির ছেলে। এদিকে, প্রথম জানাজার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভি প্রথমবারের মতো খামেনির জামাতা ড. মেসবাহ-উল-হোদা বাকেরির একটি ছবিও প্রকাশ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ওই ছবিতে তাকে শ্বশুর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায়। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ড. মেসবাহ-উল-হোদা বাকেরি ছিলেন খামেনির দ্বিতীয় মেয়ে হোদা সাদাত খামেনির স্বামী এবং কূটনীতিক আলী বাকেরি কানির ভাই। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় খামেনি পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তিনিও নিহত হন। এ ছাড়া জানাজায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির তিন ছেলে—মোস্তফা খামেনি, মাসুদ খামেনি ও মেসাম হোসেইনি খামেনিকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা ও খামেনির দ্বিতীয় ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই ও এর পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় রাতভর ভারী বৃষ্টির পর বন্যা ও ব্যাপক জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি বিবেচনায় ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) রোববার (৫ জুলাই) শহরের জন্য রেড অ্যালার্ট বহাল রেখেছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক ঘণ্টায় অব্যাহত ভারী বর্ষণের পাশাপাশি শহর ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। যদিও রোববার সকালে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমেছে, তবুও কিছু এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা এখনও রয়ে গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার আহ্বান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপাল করপোরেশন (বিএমসি) নগরবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি যেকোনো জরুরি সহায়তার জন্য নাগরিকদের ১৯১৬ নম্বর হেল্পলাইনে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় কয়েকটি এলাকায় ৩০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মুম্বাইয়ের আবহাওয়া পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। শহরের একাধিক এলাকায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং কয়েকটি এলাকায় তা ৩০০ মিলিমিটারও অতিক্রম করেছে। বিএমসির তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩১০ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ভিক্রোলি ওয়েস্টের বিল্ডিং প্রপোজাল অফিসে। এছাড়া কোলাবা পাম্পিং স্টেশনে ৩০৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার এবং ভিক্রোলির ঠাকুর নগর মিউনিসিপাল স্কুলে ৩০১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। মালাবার হিল, আন্ধেরি, পাওয়াই, ভান্ডুপ, গোরেগাঁওয়ের আরে কলোনিসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ বহু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জোয়ারের সঙ্গে বাড়ছে নতুন উদ্বেগ আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে সমুদ্রের উচ্চ জোয়ার। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার বিকেল ৩টা ২২ মিনিটে ৪ দশমিক ১৯ মিটার উচ্চতার জোয়ার উপকূলে আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া সোমবার (৬ জুলাই) ভোর ৩টা ৪১ মিনিটে ৩ দশমিক ৫১ মিটার উচ্চতার আরও একটি জোয়ারের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভারী বর্ষণ ও উচ্চ জোয়ার একসঙ্গে ঘটলে উপকূলীয় ও নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হতে পারে। গণপরিবহন সচল, তবে ভোগান্তি অব্যাহত সকালের দিকে মেট্রো ও বেস্ট বাস পরিষেবা মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও লোকাল ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বিলম্বে চলাচল করছে। ফলে কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। ১২ ঘণ্টার বৃষ্টিতেই বিপর্যস্ত হয়েছিল মুম্বাই এর আগের দিন শনিবার (৪ জুলাই) মাত্র ১২ ঘণ্টার প্রবল বর্ষণেই মুম্বাই কার্যত অচল হয়ে পড়ে। প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিতে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়, বহু গাছ উপড়ে পড়ে, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিভিন্ন স্থানে সড়ক ধসের ঘটনা ঘটে। এতে সড়ক ও রেল যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। প্রতিবেশী জেলাগুলোতেও দুর্যোগের প্রভাব ভারী বর্ষণের প্রভাব শুধু মুম্বাইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। থানে, পালঘর, নভি মুম্বাই এবং পুনেতেও বন্যা ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পুনের কয়েকটি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং বন্যাকবলিত এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কেন উদ্বেগ বাড়ছে? মুম্বাইয়ের ভৌগোলিক অবস্থান, ঘনবসতি, সীমিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং মৌসুমি উচ্চ জোয়ার—এই চারটি উপাদান একসঙ্গে কাজ করলে শহরটি দ্রুত জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হয়। এবারও ভারী বর্ষণের সঙ্গে উচ্চ জোয়ারের পূর্বাভাস পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, আগামী কয়েক ঘণ্টা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। নতুন করে অতিভারী বৃষ্টিপাত হলে নগরীর নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কালেমাখচিত সাদা ও কালো পতাকা হাতে মোটরসাইকেল র্যালি, মিছিল ও সমাবেশ নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আয়োজকদের দাবি—এটি ইসলামের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ এবং মুসলমানদের পরিচয়ের প্রতীক। তবে ধর্মীয় গবেষক, নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যবেক্ষণে বিষয়টি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিদেশি দেশের পতাকা টাঙানোর প্রবণতার পাল্টা প্রতিক্রিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্য এবং নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর প্রচারণা—এই তিনটি বিষয় মিলেই কালেমাখচিত পতাকা প্রদর্শনের প্রবণতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মাদারীপুরে মোটরসাইকেল র্যালি গত শনিবার মাদারীপুর শহরের মডেল মসজিদ মোড়ে আসরের নামাজ শেষে প্রায় দেড় শতাধিক মুসল্লি জড়ো হন। তাদের অনেকের হাতে ছিল কালেমাখচিত কালো ও সাদা পতাকা। পরে মডেল মসজিদের সামনে থেকে মোটরসাইকেল র্যালি বের হয়। প্রতিটি মোটরসাইকেলে দুই থেকে তিনজন আরোহী ছিলেন। কয়েকজনের হাতে ছিল হ্যান্ডমাইক। স্লোগান দিতে দিতে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি পুনরায় মডেল মসজিদের সামনে ফিরে আসে। প্রায় এক ঘণ্টার র্যালির পর মাত্র দেড় মিনিটের সংক্ষিপ্ত সমাপনী বক্তব্য দিয়ে আয়োজকেরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। সমাপনী বক্তব্যে ফখরুদ্দিন রাজী নামে একজন বলেন, তারা যে পতাকা বহন করেছেন সেটিই "মুসলমানদের পতাকা"। র্যালিতে অংশ নেওয়া স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ফুটবলকে কেন্দ্র করে বিদেশি দেশের পতাকা টাঙানো হচ্ছে। তার ভাষ্য, মুসলমানদের কাছে ইসলামের পরিচয় তুলে ধরতেই তারা এই কর্মসূচির আয়োজন করেছেন। শুধু মাদারীপুর নয় একই ধরনের কালেমাখচিত সাদা ও কালো পতাকা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মিছিল, র্যালি এবং প্রকাশ্যে পতাকা টাঙানোর ঘটনা ঘটেছে। আয়োজকদের অনেকে এটিকে ইসলামের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করলেও সমালোচকদের প্রশ্ন—কেন ব্যবহৃত পতাকার রঙ, নকশা ও বিন্যাস বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন উগ্রবাদী সংগঠনের ব্যবহৃত পতাকার সঙ্গে মিল রাখছে? ইসলামে কি নির্দিষ্ট কোনো পতাকা আছে? ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও ইসলামী গবেষক মো. আনিসুজ্জামান সিকদারের মতে, ইসলামে নির্ধারিত কোনো ধর্মীয় পতাকার উল্লেখ নেই। তার ভাষ্য, রাসুল (সা.) যুদ্ধক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রঙের পতাকা ব্যবহার করেছিলেন। তবে ইসলামের জন্য স্থায়ী বা নির্দিষ্ট কোনো পতাকার কথা ইসলামী ঐতিহ্যে উল্লেখ নেই। তিনি বলেন, যদি ইসলামের নামে নির্ধারিত কোনো পতাকা থাকত, তাহলে মুসলিম বিশ্বে সেটিই সর্বজনীনভাবে ব্যবহৃত হতো। যাত্রাবাড়ী থেকে আলোচনার সূত্রপাত বাংলাদেশে কালেমাখচিত পতাকা নিয়ে আলোচনা তীব্র হয় জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে। ১৬ জুন মধ্যরাতে ঢাকার যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের বিভিন্ন অংশে একদল যুবক কালেমাখচিত পতাকা টাঙান। পরদিন সেগুলো সরিয়ে ফেলা হলে বিষয়টি নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করে। পতাকা সরানোকে "ইসলামের পতাকার অবমাননা" দাবি করে নতুন করে পতাকা টাঙানো হয় এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে "পতাকার মর্যাদা রক্ষার" নামে মিছিল শুরু হয়। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় স্থানীয় কিছু তরুণ এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ফেসবুক পেজে কালেমাখচিত পতাকা বিক্রি এবং টাঙানোর আহ্বানও ছড়িয়ে পড়ে। ফুটবল বিশ্বকাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনার পেছনে বড় একটি কারণ ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশজুড়ে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা টাঙানোর সংস্কৃতি। এ প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রামের কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি হারুন ইজহারের একটি বক্তব্য। ১৩ জুন প্রকাশিত ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, বিদেশি দেশের পতাকার পাশাপাশি কালেমার পতাকাও টাঙানো উচিত। ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানে কালেমাখচিত পতাকা প্রদর্শনের প্রবণতা দৃশ্যমান হতে শুরু করে। হারুন ইজহারের ব্যাখ্যা বিবিসি বাংলাকে দেওয়া বক্তব্যে হারুন ইজহার বলেন, তিনি এসব মিছিল বা পতাকা টাঙানোর আয়োজক নন। তার দাবি, ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিদেশি পতাকা ব্যবহারের সাংস্কৃতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই তিনি কালেমাখচিত পতাকার কথা বলেছিলেন। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি এত বড় আকার ধারণ করবে, তা তিনি কল্পনাও করেননি। তার ভাষায়, কোথাও সন্দেহজনক কিছু থাকলে প্রশাসন তদন্ত করুক এবং প্রয়োজনে তিনি সহযোগিতা করবেন। কেন উদ্বিগ্ন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা? মানবাধিকারকর্মী ও জঙ্গিবাদ বিশ্লেষক নুর খান লিটনের মতে, সাধারণ মুসলমানরা কালেমা লেখা থাকায় পতাকাটিকে ধর্মীয় মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিসরে একই ধরনের নকশা দীর্ঘদিন ধরে উগ্রবাদী সংগঠনের প্রতীক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রতীককে সাধারণীকরণের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বৃহত্তর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর হুমকির অভিযোগ কালেমাখচিত পতাকা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঢাকার একটি মাল্টিমিডিয়া প্রতিষ্ঠান 'ঢাকা স্ট্রিম' হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সম্পাদক গোলাম ইফতেখার মাহমুদের দাবি, প্রতিবেদন প্রকাশের পর একদিনেই শতাধিক ফোনকল আসে। পাশাপাশি ফেসবুকে হাজার হাজার মন্তব্যের মধ্যে অনেকগুলোতে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তিনি জানান, অফিসে হামলা ও আগুন দেওয়ার হুমকিও এসেছে। এ ঘটনায় কলাবাগান থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশের অবস্থান পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ.এইচ.এম. শাহাদাত হোসাইন বলেন, কোনো পতাকা বা প্রতীক যদি নিষিদ্ধ বা উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ বহন করে কিংবা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের বক্তব্য ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন সম্প্রতি বলেছেন, কালেমাখচিত পতাকা কিংবা অন্য ধর্মীয় প্রতীককে ঘিরে বিভ্রান্তি, অবমাননা বা রাজনৈতিক অপব্যবহার কাম্য নয়। তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং জাতীয় ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ ও সচেতন নাগরিকদের ধর্মীয় প্রতীক সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। অনুসন্ধানে যা উঠে এসেছে ইসলামে সর্বজনস্বীকৃত কোনো নির্ধারিত ধর্মীয় পতাকার উল্লেখ নেই। যাত্রাবাড়ীতে পতাকা টাঙানোর ঘটনার পর বিষয়টি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিদেশি পতাকার পাল্টা প্রতীক হিসেবে কালেমাখচিত পতাকা ব্যবহারের আহ্বান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবহৃত কিছু পতাকার নকশা আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী সংগঠনের ব্যবহৃত পতাকার সঙ্গে দৃশ্যগত মিল থাকায় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আয়োজকেরা ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে পতাকার ব্যবহার দাবি করলেও প্রশাসন বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, বিক্ষোভ কিংবা স্লোগান দেওয়া—এসব কোনওভাবেই একজন নাগরিককে নিজ এলাকা থেকে বহিষ্কার করার বৈধ কারণ হতে পারে না। এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে মহারাষ্ট্র পুলিশের জারি করা একটি এক্সটার্নমেন্ট অর্ডার (Externment Order) বাতিল করেছে বম্বে হাই কোর্ট। রায় দিতে গিয়ে বিচারপতি মাধব জামদার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "নাগরিকরা ভারত সরকারের দাস নয়। তারা প্রতিবাদ করতে পারে, আন্দোলন করতে পারে। শুধুমাত্র সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার জন্য কাউকে বহিষ্কার করা যায় না।" এই পর্যবেক্ষণ ইতোমধ্যেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, পুলিশি ক্ষমতার সীমা এবং সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নে নতুন করে জাতীয় বিতর্ক তৈরি করেছে। মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে কে? মামলার আবেদনকারী ছিলেন সোশ্যালিস্ট ডেমোক্রেটিক পার্টি অব ইন্ডিয়া (এসডিপিআই)-এর মহারাষ্ট্রের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আব্দুল ওয়াহিদ চৌধুরী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জনস্বার্থ ও রাজনৈতিক ইস্যুতে আন্দোলন করে আসছিলেন। তার আন্দোলনের বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল— সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (CAA) জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (NRC) জ্ঞানবাপী মসজিদ বাবরি মসজিদ ওয়াকফ বোর্ডে দুর্নীতি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বিভিন্ন বিক্ষোভে তিনি অংশ নেন এবং কর্মসূচিরও আয়োজন করেন। কীভাবে জারি হয় বহিষ্কারের নির্দেশ? ২০২৫ সালে মহারাষ্ট্র পুলিশ মহারাষ্ট্র পুলিশ অ্যাক্ট অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ১২ মাসের জন্য মুম্বই ও সংলগ্ন এলাকা থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ জারি করে। পুলিশের দাবি ছিল— তার কার্যকলাপ জনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি, মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন কোঙ্কন বিভাগের ডিভিশনাল কমিশনারও। কোন অভিযোগের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা? ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তার বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছিল। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো— এসব মামলার অধিকাংশই ছিল প্রতিবাদ কর্মসূচি, মিছিল বা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে। প্রধানত ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ১৮৮ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছিল, যা সরকারি আদেশ অমান্যের অভিযোগে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এসব মামলায় কোথাও— খুন, দাঙ্গা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ব্যবহার, সংঘবদ্ধ অপরাধ জাতীয় গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ছিল না। আদালতে কী প্রশ্ন তুললেন বিচারপতি? শুনানির সময় বিচারপতি মাধব জামদার একাধিক তীক্ষ্ণ প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, "এসব কী হচ্ছে? সমস্ত নাগরিককে কি ভারত সরকারের দাস বানানো হচ্ছে?" তিনি আরও প্রশ্ন করেন, "মানুষ প্রতিবাদ করতে পারবে না? আন্দোলন করতে পারবে না?" বিচারপতি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন— "বিজেপি সরকার মুর্দাবাদ" কিংবা "অমিত শাহ মুর্দাবাদ" ধরনের স্লোগান কীভাবে বহিষ্কারের আইনি ভিত্তি হতে পারে? তার মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কোনও অপরাধ নয়। প্রশ্নফাঁস আন্দোলনের উদাহরণও টানলেন বিচারপতি সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে হওয়া আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বিচারপতি বলেন— যদি নাগরিকরা কোনও সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী। তিনি পুলিশের উদ্দেশে বলেন, "পুলিশ কোনও মন্ত্রীর অধীনে কাজ করে না। তারা জনগণের কাছে জবাবদিহি।" আদালতের পর্যবেক্ষণ: মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘিত রায়ে আদালত জানায়— সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার কারণে একজন নাগরিককে এলাকা থেকে বহিষ্কার করা সংবিধানের ১৯ এবং ২১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন। বিচারপতি বলেন, এই মামলায় এক্সটার্নমেন্ট অর্ডার ছিল পুলিশের ক্ষমতার স্পষ্ট অপব্যবহার। কেন বাতিল হলো এক্সটার্নমেন্ট অর্ডার? আদালতের মতে— মহারাষ্ট্র পুলিশ অ্যাক্টের ৫৬ ধারা মূলত ব্যবহার করা হয়— গুরুতর অপরাধী, জননিরাপত্তার জন্য বাস্তব হুমকি, জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতির আশঙ্কা এসব ক্ষেত্রে। শুধু রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা স্লোগান দেওয়া ওই ধারার আওতায় পড়ে না। ফলে— ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (জোন-৬) এবং কোঙ্কন ডিভিশনের ডিভিশনাল কমিশনার—উভয়ের আদেশই বাতিল করে আদালত। এসডিপিআই কী বলেছে? রায়কে "সংবিধান ও গণতন্ত্রের ঐতিহাসিক বিজয়" বলে বর্ণনা করেছে এসডিপিআই। দলটির দাবি— এই রায় প্রমাণ করেছে যে— শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সাংবিধানিক অধিকার, সরকারের সমালোচনা অপরাধ নয়, রাষ্ট্রের ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে আদালত এখনও কার্যকর। প্রশান্ত ভূষণের প্রতিক্রিয়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লেখেন— "এ থেকে বোঝা যায় এখনও এমন বিচারপতি আছেন, যারা সরকারকে প্রশ্ন করার এবং নাগরিকের অধিকারের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস রাখেন।" এক্সটার্নমেন্ট অর্ডার কী? এক্সটার্নমেন্ট অর্ডার হলো একটি প্রতিরোধমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে— কোনও ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট জেলা বা শহর ছাড়তে বাধ্য করা যায়, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সেখানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যায়। সাধারণত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কমিশনার এ ধরনের আদেশ জারি করেন। আইনটির উদ্দেশ্য হলো— সংগঠিত অপরাধ বা জননিরাপত্তার গুরুতর ঝুঁকি প্রতিরোধ করা। তবে আদালত মনে করেছে, এই মামলায় সেই ক্ষমতা যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। বিচারপতি মাধব জামদার কে? পুণের বাসিন্দা বিচারপতি মাধব জামদার ২০২০ সালে বম্বে হাই কোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। আইনজীবী হওয়ার আগে তিনি একটি ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তার কর্মজীবনে তিনি— দেওয়ানি, ফৌজদারি, সাংবিধানিক আইন, পরিবেশ, জনস্বার্থ মামলা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইনজীবী ও বিচারক হিসেবে কাজ করেছেন। হাই কোর্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তাকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবেও নিয়োগ দিয়েছিল। কেন এই রায় গুরুত্বপূর্ণ? আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নীতি স্পষ্ট করেছে— সরকারের সমালোচনা অপরাধ নয়। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সাংবিধানিক অধিকার। পুলিশ প্রশাসনের ক্ষমতা সীমাহীন নয়। রাজনৈতিক মতপ্রকাশের কারণে নাগরিককে বহিষ্কার করা যায় না। এক্সটার্নমেন্ট আইনের অপব্যবহার আদালত মেনে নেবে না। এই রায় ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার জবাবদিহির প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নিজেদের মধ্যে একটি যোগাযোগ চ্যানেল খোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কাতারে সংলাপ শেষ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরকারি প্রতিনিধিরা। বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা ইরনাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। এই চ্যানেল খোলার মূল উদ্দেশ্য হবে আগামী ৬০ দিন ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির কোনো ধারা বা শর্ত লঙ্ঘন হলে উভয়পক্ষ যেন তাৎক্ষণিকভাবে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যে দিয়েই শেষ হয়েছে কাতার সংলাপ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এবং তারপর টানা ৪০ দিন ধরে সংঘাত শেষে গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র এবং এ কারণেই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দীর্ঘদিন জনসমক্ষে দেখা যায়নি কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তকে। তার বিরুদ্ধে দেশে একাধিক মামলা দায়ের হওয়ার পর তিনি কোথায় অবস্থান করছেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, চিকিৎসক সমাজ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। অবশেষে সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে ভারতের ত্রিপুরার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে তার পাঠদান করার তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। বাংলাদেশ সংবাদের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) কলেজটির এক স্টাফ নার্স বাংলাদেশ সংবাদকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। তবে তিনি ঠিক কবে থেকে কলেজটিতে যুক্ত হয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি। ভিডিওতে মিলল অবস্থানের প্রমাণ সম্প্রতি শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, আধুনিক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সামনে বক্তৃতা দিচ্ছেন অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। তার পেছনের ডিজিটাল ডিসপ্লেতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন স্লাইড প্রদর্শিত হচ্ছিল। ভিডিওর বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তিনি নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিষয়ে একটি একাডেমিক ক্লাস পরিচালনা করছিলেন। ভিডিওটি প্রকাশের পরই তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার কার্যত অবসান ঘটে। দীর্ঘ চিকিৎসা জীবনের পর রাজনীতিতে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত দেশের একজন সুপরিচিত নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সরকার পতনের পর আত্মগোপন গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের মতো ডা. প্রাণ গোপাল দত্তও জনসমক্ষে আর দেখা দেননি। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হওয়ার পর তিনি দেশ ছেড়েছেন কি না, কোথায় অবস্থান করছেন কিংবা চিকিৎসা বা শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন কি না—এসব প্রশ্নের কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য এতদিন পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক ভিডিও এবং কলেজ-সংশ্লিষ্ট এক কর্মীর বক্তব্যের পর অন্তত এটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তিনি বর্তমানে ভারতের ত্রিপুরায় অবস্থান করছেন এবং একটি মেডিকেল কলেজে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে তিনি কোন ধরনের ভিসায় ভারতে অবস্থান করছেন, কলেজটির সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক নিয়োগের ধরন কী এবং বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বর্তমান আইনি অবস্থা—এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ সংবাদ এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত কিংবা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতার পরিধি আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ অনুষ্ঠিত এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। সমঝোতা স্মারকগুলো স্বাক্ষরিত হয় চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি এবং চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি)-এর সঙ্গে। বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিগুলোতে স্বাক্ষর করেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। কী রয়েছে চারটি সমঝোতা স্মারকে? সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নতুন সমঝোতাগুলোর আওতায়— বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সংবাদ ও তথ্য বিনিময় জোরদার হবে। গণমাধ্যম খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হবে। গ্লোবাল সাউথ-ভুক্ত দেশগুলোর গণমাধ্যম নিয়ে যৌথ গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে। সম্প্রচার প্রযুক্তি, ডিজিটাল মিডিয়া, প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ে সহযোগিতা বাড়বে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগ দুই দেশের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। কেন এই সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ? বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবকাঠামো, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগের পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগ খাতেও বিস্তৃত হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় গণমাধ্যম সহযোগিতাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে এই চারটি সমঝোতা স্মারককে। বিশ্লেষকদের মতে, সংবাদ বিনিময়, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হলেও বাস্তবে এসব চুক্তির কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা এবং সম্পাদকীয় স্বাধীনতা বজায় রাখার ওপর। সফরের প্রেক্ষাপট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নিতে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গত ২৩ জুন ঢাকা থেকে চীনের উদ্দেশে রওনা হন। সফরের অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে একাধিক খাতে সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে গণমাধ্যম খাতের এই চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলো। গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব চুক্তির মাধ্যমে তথ্য বিনিময়, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর বাস্তব প্রভাব মূল্যায়ন করা যাবে চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের অগ্রগতির ভিত্তিতে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রীষ্মের তীব্রতা আরও বাড়তে যাচ্ছে। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম) জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে দেশের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা অতিক্রম করতে পারে। আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, প্রচণ্ড গরমের পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে জনজীবনে অস্বস্তি বাড়তে পারে। একই সময়ে দেশের পূর্বাঞ্চলীয় ও পার্বত্য এলাকাগুলোতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত এবং বজ্রঝড়ের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এনসিএমের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাস ধরে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। যদিও তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উঠতে পারে, তবে তা দীর্ঘ সময় স্থায়ী হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের পশ্চিমাঞ্চলগুলোতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। গরমের মধ্যেই বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের মধ্যেও চলতি সপ্তাহে কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত হতে পারে। স্থানীয়ভাবে ‘রাওয়ায়েহ’ নামে পরিচিত গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার প্রভাবে পরিচলন মেঘ তৈরি হয়ে বজ্রঝড় ও বৃষ্টির সৃষ্টি হয়। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ তাপমাত্রা, অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে এসব মেঘের উৎপত্তি ঘটে। এবারের সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত মূলত পূর্বাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকাকেই বেশি প্রভাবিত করতে পারে। বড় শহরগুলোতে পরিস্থিতি কেমন? রাজধানী আবুধাবি, বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাই এবং শারজাহসহ বড় শহরগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। তবে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং কিছু এলাকায় হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি দেখা যেতে পারে। আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, সপ্তাহের শেষ দিকে মেঘলা আবহাওয়া ও বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতের কারণে তাপমাত্রা সামান্য কমে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে আমিরাতজুড়ে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য বদলের পর প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। উত্তর প্রদেশে বহুল আলোচিত ‘বুলডোজার মডেল’-এর সঙ্গে তুলনা টেনে এবার পশ্চিমবঙ্গেও অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে সরকারি জমি দখলের অভিযোগে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক দলীয় কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। বুধবার (২৪ জুন) ব্যারাকপুর পৌরসভার ২০, ১৪, ২ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত কয়েকটি দলীয় কার্যালয়ে বুলডোজার চালানো হয়। প্রশাসনের দাবি, এসব স্থাপনা সরকারি জমি জবরদখল করে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে সেগুলো অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। উচ্ছেদ অভিযানে কঠোর নিরাপত্তা উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ঘটনাস্থলে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল দমকল বাহিনীকেও। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধার এবং অবৈধ দখলমুক্ত করার অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে অভিযানের সময় স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ অন্যদিকে উচ্ছেদ অভিযানের বৈধতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা। ব্যারাকপুর পৌরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও তৃণমূল নেতা রমেশ সাউ দাবি করেন, যে স্থাপনা ভাঙা হয়েছে সেটি সরকারি বা গণপূর্ত বিভাগের (পিডব্লিউডি) জমির ওপর নির্মিত ছিল না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জমিটি আগে সুধীর সাহা নামে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ছিল। সেখানে একটি সাইকেল মেরামতের দোকান পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে জমির মালিকের ছেলে সেটি বিক্রি করতে চাইলে তিনি জমিটি কিনে নেন। রমেশ সাউ অভিযোগ করেন, উচ্ছেদের বিষয়ে তাকে আগে থেকে অবহিত করা হয়নি। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান, বুলডোজার দিয়ে পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলবদলের প্রভাব এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, জমিটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হলেও প্রশাসন তা ভেঙে দিয়েছে। এ ঘটনায় তিনি আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন। জমির মালিকানা নিয়ে নতুন প্রশ্ন ঘটনার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে জমিটির প্রকৃত মালিকানা। প্রশাসন যেখানে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ তুলছে, সেখানে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব ব্যক্তিমালিকানার দাবি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, জমির রেকর্ড, দখল ও মালিকানা সংক্রান্ত সরকারি নথি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা? সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং নির্মাণ ভাঙার ঘটনা বেড়েছে। ব্যারাকপুরের এই অভিযান শুধু একটি স্থানীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নাকি বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তার অংশ—তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। তবে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট—অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের দাবি, এসব পদক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)-এর তিনটি ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় ৪৪০ কোটি রুপি জব্দ হওয়ার ঘটনায় দলটির অভ্যন্তরীণ সংকট নতুন মাত্রা পেয়েছে। অর্থের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধ এখন প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিয়েছে। পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, একটি বেসরকারি ব্যাংকে রক্ষিত তৃণমূলের তিনটি হিসাবের ওপর ‘ডেবিট ফ্রিজ’ আরোপ করা হয়েছে। ফলে এসব হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন বা অন্যত্র স্থানান্তর করা যাবে না। তবে নতুন অর্থ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকছে না। এই হিসাবগুলোতে মোট প্রায় ৪৪০ কোটি রুপি বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৭১ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে অর্থের উৎস ঘটনার সূত্রপাত হয় দলের বিদ্রোহী হিসেবে পরিচিত ১০ জন বিধায়কের অভিযোগের পর। তারা বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দাখিল করে হিসাবগুলোর আর্থিক লেনদেন এবং অর্থের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি জানান। অভিযোগে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—হিসাবগুলোতে জমা হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ বৈধ উৎস থেকে এসেছে, নাকি অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত হয়েছে। অভিযোগকারীরা সম্ভাব্য ঘুষ বা ‘কাটমানি’ আদায়, সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারি থেকে প্রাপ্ত অর্থ এসব হিসাবে জমা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য তথ্য ও পরিস্থিতিগত সূত্র থেকে এমন ধারণা পাওয়া গেছে যে প্রভাব খাটানো, অসাধু আর্থিক লেনদেন এবং সন্দেহজনক অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে অর্জিত কিছু অর্থ এসব হিসাবে স্থানান্তর করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি এবং তদন্তও এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। নির্বাচনী পরাজয়ের পর ক্ষমতার লড়াই সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর দলটির সাংগঠনিক ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন তীব্র হয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের নেতৃত্বাধীন একটি গোষ্ঠী এবং বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ আরেকটি গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংক হিসাব জব্দের ঘটনাটি কেবল আর্থিক তদন্তের বিষয় নয়; বরং দলীয় ক্ষমতার ভারসাম্য এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। অরূপ বিশ্বাসের চিঠি নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বর্তমান বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কয়েকদিন আগেই অরূপ বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়ে দলীয় হিসাবগুলো সুরক্ষিত রাখার এবং সব ধরনের লেনদেন স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। চিঠিতে তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের বিভিন্ন হিসাবে প্রায় ৫০০ কোটিরও বেশি টাকা রয়েছে। নেতৃত্বসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই অর্থ পরিচালনা না করার আহ্বানও জানান তিনি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, হিসাবগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দলের ভেতরে যে বিরোধ চলছে, তা কি এখন আইনগত ও ফৌজদারি তদন্তের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে? কোষাধ্যক্ষ নিয়ে বিরোধ তৃণমূলের জ্যেষ্ঠ নেতা কুণাল ঘোষ অরূপ বিশ্বাসের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তার দাবি, অরূপ বিশ্বাস বর্তমানে দলের কোষাধ্যক্ষ নন এবং দলীয় আর্থিক বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার এখতিয়ারও তার নেই। কুণাল ঘোষের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫ জুন অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সুবাশিস চক্রবর্তীকে নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনিই দলীয় আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এই বক্তব্য তৃণমূলের অভ্যন্তরে নেতৃত্ব ও আর্থিক কর্তৃত্ব নিয়ে বিদ্যমান বিভাজনের বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। রাজনৈতিক ও আইনি প্রভাব কী হতে পারে? বিশ্লেষকদের মতে, তদন্তে যদি অর্থের উৎস নিয়ে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তা শুধু তৃণমূলের জন্য নয়, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্যও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, অভিযোগগুলো যদি দলীয় ক্ষমতার দ্বন্দ্বের অংশ হিসেবে প্রমাণিত হয়, তাহলে তা তৃণমূলের সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা ও জনসমর্থনের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এখন নজর থাকবে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। কারণ, ৪৪০ কোটি রুপির এই হিসাবগুলোকে ঘিরে যে প্রশ্নগুলো উঠেছে, তার উত্তরই নির্ধারণ করতে পারে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও আর্থিক অবস্থান।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দক্ষিণ লেবাননে চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ভল্ফগ্যাং পুস্তাইয়ের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে কেবল সীমান্ত সংঘাত হিসেবে দেখলে ভুল হবে; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ। আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশ্লেষণধর্মী সাক্ষাৎকারে পুস্তাই বলেছেন, তেহরানের প্রধান লক্ষ্য এখন দক্ষিণ লেবাননের সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যে চাপ সৃষ্টি করা। তার মতে, ইরান এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থানের পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। কোথায় দেখছেন সুযোগ? পুস্তাইয়ের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ইরানের কৌশল শুধু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সম্পর্ককে ঘিরে নয়। বরং এটি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যকার সম্ভাব্য মতপার্থক্যকেও কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে। তার মতে, তেহরান বিশ্বাস করে যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে দুই মিত্র দেশের কৌশলগত অগ্রাধিকারের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হতে পারে। আর সেই ব্যবধানই ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিতে পারে। লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান থামানো কি সম্ভব? বিশ্লেষকের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান অবশ্যই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ দেখতে চায়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তিনি বলেন, তেহরান, বৈরুত, হিজবুল্লাহ, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র—সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই জানে যে এই লক্ষ্য অর্জন সহজ নয়। কারণ ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থে হামলার জবাবে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার নীতি দীর্ঘদিনের। ফলে সংঘাতের মাত্রা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থাকলেও ময়দানের বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল বলে মনে করছেন তিনি। ট্রাম্পের কূটনীতি বনাম ইসরায়েলের নিরাপত্তা হিসাব পুস্তাই মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েল এমন অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করবে যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যায়, তাহলে ইসরায়েল প্রয়োজনীয় সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে দ্বিধা করবে না। অর্থাৎ কূটনৈতিক সমন্বয় বজায় রাখার চেষ্টা থাকলেও নিরাপত্তা প্রশ্নে তেল আবিবের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কৌশলগত সমীকরণ বিশ্লেষকের মূল্যায়নে, বর্তমান সংকটকে ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছে। কারণ সরাসরি সামরিক সংঘাতে না গিয়ে প্রতিপক্ষ জোটের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দূরত্ব সৃষ্টি করা তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর কৌশল হতে পারে। তার মতে, তেহরানের বর্তমান মনোযোগ মূলত ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সম্পর্কের ভেতরে সম্ভাব্য ফাটল তৈরি করার দিকে। আর দক্ষিণ লেবাননের চলমান পরিস্থিতি সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কেবল সীমান্ত সংঘাত বা সামরিক অভিযানের প্রশ্ন নয়; এটি বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে প্রভাব বিস্তার, জোট রাজনীতি এবং কৌশলগত ভারসাম্যের লড়াইও। ভল্ফগ্যাং পুস্তাইয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান এখন সরাসরি সংঘর্ষের চেয়ে প্রতিপক্ষের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে কাজে লাগানোর পথেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে শুধু নিরাপত্তা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : শিক্ষা, চাকরি ও জনজীবনে অংশগ্রহণের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের মুখে আফগানিস্তানের বহু নারী এখন ব্যবসাকেই টিকে থাকার প্রধান উপায় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। তালেবান সরকারের আরোপিত নানা সীমাবদ্ধতায় নারীদের জন্য পেশাগত সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হলেও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ থাকায় নতুন এক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে—যেখানে উদ্যোক্তা হওয়াই অনেক নারীর শেষ ভরসা। উপলব্ধ তথ্য বলছে, গত কয়েক বছরে আফগানিস্তানে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আফগানিস্তান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে ১০ হাজারের বেশি নারী ব্যবসায়িক লাইসেন্সধারী রয়েছেন। পাঁচ বছর আগের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় দশ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার নারী লাইসেন্স ছাড়াই বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছেন। বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ক্ষুদ্র ও কুটিরভিত্তিক ব্যবসাই বর্তমানে আফগান নারীদের সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। স্বপ্ন বদলে বেঁচে থাকার লড়াই যেসব নারী একসময় আইনজীবী, প্রকৌশলী বা শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, তাদের অনেকেই এখন কার্পেট বুনন, সাবান উৎপাদন, প্রসাধনী তৈরি কিংবা কারিগরি প্রশিক্ষণনির্ভর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর মেয়েদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিভিন্ন ক্ষেত্র সীমিত হয়ে পড়ে। ফলে অনেক নারী বাধ্য হয়ে বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে শুরু করেন। উত্তরাঞ্চলীয় শহর মাজার-ই-শরিফের ১৯ বছর বয়সী নাসিরা আজিজি সেই পরিবর্তনেরই একটি প্রতীকী উদাহরণ। শিক্ষাজীবন থেমে যাওয়ার পর তিনি কার্পেট উৎপাদন ব্যবসায় যুক্ত হন। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪৫০ জন কর্মী কাজ করছেন, যাদের অধিকাংশই নারী। নাসিরার গল্প শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের নয়; এটি এমন এক প্রজন্মের প্রতিচ্ছবি, যাদের শিক্ষা বন্ধ হলেও জীবনের সংগ্রাম থেমে থাকেনি। প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন থেকে সাবান কারখানা ২১ বছর বয়সী রোকিয়া রেজায়ির স্বপ্ন ছিল খনি প্রকৌশলী হওয়ার। কিন্তু পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ হারিয়ে যায়। পরবর্তীতে তিনি ‘ম্যাগনোলিয়া’ নামে একটি সাবান উৎপাদন উদ্যোগ গড়ে তোলেন। বর্তমানে এই ব্যবসার আয়েই তার পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। রোকিয়ার মতো অনেক নারীর জন্য উদ্যোক্তা হওয়া কোনো পছন্দের সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং সীমিত সুযোগের মধ্যে বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় কৌশল। ব্যবসা আছে, স্বাধীনতা নেই নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা বাড়লেও তাদের পথ মোটেও সহজ নয়। হেরাতের মৌচাষি ঘোঞ্চা কারিমি, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘বি কুইন’ নামে পরিচিত, প্রায় ৫০টি মৌচাক পরিচালনা করেন। তবে তার মতে, চলাচলে বিধিনিষেধ, পুরুষ ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে বাধা এবং প্রশাসনিক জটিলতা ব্যবসার সম্প্রসারণকে কঠিন করে তুলেছে। অনেক ক্ষেত্রেই নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক লেনদেন, বাজার ব্যবস্থাপনা বা সরকারি কাজকর্ম সম্পন্ন করতে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণকে সীমিত করে এবং তাদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ কমিয়ে দেয়। কর্মসংস্থানের সংকটের কঠিন চিত্র জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল পর্যন্ত আফগান নারীদের মাত্র ৭ শতাংশ কোনো না কোনো কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই পরিসংখ্যান দেশটির নারী শ্রমবাজারের সংকটকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ সীমিত হয়ে যাওয়ার কারণে ব্যবসা এখন কেবল আয়ের উৎস নয়; এটি নারীদের জন্য সামাজিক সংযোগ, আত্মমর্যাদা এবং ব্যক্তিগত পরিচয় ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সরকারি দাবি বনাম বাস্তবতার প্রশ্ন আফগান প্রশাসন দাবি করছে, নারীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানমুখী বিভিন্ন উদ্যোগ চালু রয়েছে। তবে নারী অধিকারকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব উদ্যোগের পরিধি সীমিত এবং বাস্তব প্রভাব প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। তাদের অভিযোগ, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম থাকলেও বাজারে প্রবেশ, আর্থিক সহায়তা, স্বাধীন চলাচল এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে নারীরা এখনও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন। শেষ আশ্রয় হিসেবে উদ্যোক্তা হওয়া হেরাত প্রদেশের নারী উদ্যোক্তা প্রতিনিধি বেহনাজ সালজুঘির ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে আফগান নারীদের জন্য ব্যবসাই ‘একমাত্র আশার জায়গা’। এই মন্তব্যের মধ্যে ফুটে ওঠে আফগান নারীদের বর্তমান বাস্তবতা—যেখানে শিক্ষা ও চাকরির বহু দরজা বন্ধ হয়ে গেছে, কিন্তু জীবন থেমে নেই। প্রতিকূল সামাজিক পরিবেশ, প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও হাজারো নারী নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। তাদের কাছে ব্যবসা শুধু জীবিকা নয়; এটি আত্মনির্ভরতা, মর্যাদা এবং ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা ধরে রাখার এক নীরব সংগ্রাম।
ইত্তেহাদনিউজ,অনলাইন : ইউরোপে উন্নত জীবনের আশায় বিপজ্জনক সমুদ্রপথে যাত্রা করতে গিয়ে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টাকালে ১ হাজার ৩০০-এর বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) আটলান্টিক মহাসাগর ও পশ্চিম ভূমধ্যসাগর হয়ে আফ্রিকা থেকে ইউরোপে অভিবাসনপ্রবাহ পর্যবেক্ষণকারী মানবাধিকার সংস্থা Caminando Fronteras এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মোট ১ হাজার ৩১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৪২ জন নারী এবং ১২৯ জন শিশু রয়েছে। একই সময়ে অন্তত ২৭টি নৌকা আরোহীসহ নিখোঁজ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিবাসন সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সম্প্রতি স্পেন সফরকালে কথা বলেছেন Pope Leo XIV। তিনি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দুর্দশাকে এমন একটি মানবিক সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ইউরোপমুখী অভিবাসন ঠেকাতে Mauritania-সহ পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সীমান্ত ও উপকূলীয় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ফলে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা নিরাপত্তা বাহিনীর নজর এড়াতে আরও দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তনের ফলে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে এবং দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টাকালে অন্তত ৩ হাজার ৯০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত বা নিখোঁজ হন। আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল থেকে স্পেনের অন্তর্ভুক্ত Canary Islands-এ পৌঁছানোর পথকে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক অভিবাসন রুট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ ও পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলের মধ্যকার সর্বনিম্ন দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। এ ছাড়া অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী Morocco থেকে স্পেনে প্রবেশের জন্য ভূমধ্যসাগরের একটি অপেক্ষাকৃত সংকীর্ণ অংশ ব্যবহার করেন, যার প্রস্থ প্রায় ২০ কিলোমিটার। কেউ কেউ সাঁতরে বা ছোট নৌকায় এই পথ অতিক্রমের চেষ্টা করেন, যা প্রায়ই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সীমিত থাকায় হাজারো মানুষ এখনও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপমুখী যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।