ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাকে জামিনে মুক্ত করার প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে শুরু হয়েছে সমান্তরাল আইনি লড়াই। একদিকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল প্রত্যর্পণের পক্ষে আদালতে নথিপত্র জমা দিয়েছে, অন্যদিকে বেনজীরের আইনজীবীরা তার মুক্তির আবেদন নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
দুবাই ও বাংলাদেশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ের আল আওয়ার কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ, ইন্টারপোলের নোটিশ এবং প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত নথি যাচাই-বাছাই করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুবাই কোর্ট অব আপিলে বেনজীর আহমেদের পক্ষে জামিন আবেদন দাখিল করা হয়। একই দিনে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া প্রতিনিধি দলও আদালতে পৃথক আবেদন জমা দেয়, যেখানে তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের পক্ষে যুক্তি ও নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে।
আদালত উভয় পক্ষের আবেদন গ্রহণ করলেও তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। বরং অভিযোগ, ইন্টারপোল নোটিশ, দুদকের মামলার নথি এবং দুবাইয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য সময় নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, এই প্রক্রিয়ায় অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।
বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ইন্টারপোলের মাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগ, তার দুবাইয়ে অবস্থানের কারণ এবং জামিনের পক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাসহ সব নথি দুবাইয়ের পাবলিক প্রসিকিউটরের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
যদিও আদালত আবেদন গ্রহণ করেছে, তবে জামিন বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।
বেনজীরের আইনজীবীদের দাবি, আগামী সাত দিনের মধ্যে তাকে জামিনে মুক্ত করার লক্ষ্যে আইনি প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অন্তত পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে দুবাই পৌঁছেছে।
দলটিতে রয়েছেন—
মঙ্গলবার তারা আদালতে দুদকের মামলা, ইন্টারপোল নোটিশ এবং বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগের নথি জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি দুবাইয়ের বিচারিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনি সমন্বয়ও করছেন।
দুবাইয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক দায়িত্বে অতীতে কর্মরত ছিলেন—এমন একজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে প্রথমে দুবাই পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়। সাধারণত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এরপর প্রসিকিউশন কয়েকটি বিষয় যাচাই করে—
প্রাথমিক যাচাইয়ের পর মামলাটি পাঠানো হয় দুবাই কোর্ট অব আপিলে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ২০০৬ সালের ৩৯ নম্বর ফেডারেল আইন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত মামলার প্রাথমিক শুনানির এখতিয়ার এই আদালতের।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারপোল-সংক্রান্ত প্রত্যর্পণ মামলায় সাধারণত অভিযুক্তের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়।
এছাড়া আদালত চাইতে পারে—
এসব শর্ত পূরণ হলেও আদালত জামিন দেবেন কি না, তা নির্ভর করে মামলার প্রকৃতি ও বিচারকের মূল্যায়নের ওপর।
দুবাইয়ের আইন অনুযায়ী, আদালত যদি প্রত্যর্পণের পক্ষে রায়ও দেন, তবুও সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তকে সংশ্লিষ্ট দেশের কাছে হস্তান্তর করা হয় না।
প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলো হলো—
কোর্ট অব আপিলের রায়;
প্রয়োজন হলে কোর্ট অব ক্যাসেশনে আপিল;
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিচার মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট নির্বাহী কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক অনুমোদন;
চূড়ান্ত প্রত্যর্পণ কার্যকর।
ফলে আদালতের সিদ্ধান্তের পরও পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও সময় লাগতে পারে।
পুলিশের একজন অতিরিক্ত আইজিপি পর্যায়ের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকার যেমন বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে, তেমনি তার পক্ষে জামিনের উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।
তার ভাষায়, “আগামী ১০ দিনের মধ্যে দুবাই আদালতের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে।”
তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আইজিপি, এনসিবি বা পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (অ্যাডমিন) একেএম আওলাদ হোসেনও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বেনজীর আহমেদের মামলায় তিনটি সম্ভাব্য পথ খোলা রয়েছে—
প্রথমত, আদালত জামিন মঞ্জুর করতে পারেন, তবে তার ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
দ্বিতীয়ত, আদালত প্রত্যর্পণযোগ্য অপরাধ হিসেবে অভিযোগগুলো গ্রহণ করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন।
তৃতীয়ত, আইনি আপিল ও প্রশাসনিক অনুমোদনের জটিলতায় পুরো প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে।
ফলে সাবেক এই পুলিশ প্রধানের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে দুবাইয়ের আদালত, ইন্টারপোল নোটিশের আইনি বৈধতা এবং বাংলাদেশ সরকারের উপস্থাপিত নথিপত্রের ওপর।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
বরিশাল অফিস : পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) নতুন উপ-উপাচার্য (প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম। গত ২৭ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে 'পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১'-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলামকে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চার বছরের জন্য নিয়োগ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, তার নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ—যেটি আগে হবে, সেই সময় পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদ-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। শিক্ষা ও গবেষণায় দীর্ঘ পথচলা বগুড়ার সন্তান অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগ থেকে ২০০২ সালে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক (সম্মান) এবং ২০০৩ সালে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৭ সালে তিনি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে অধ্যাপক হন। বর্তমানে তিনি ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলনবিল অঞ্চলের মাটির শ্রেণিবিভাগ নিয়ে গবেষণা সম্পন্ন করে পিএইচডি (ডক্টরেট) ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গবেষণা সাময়িকীতে তার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি চলনবিলের মাটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি গবেষণাগ্রন্থও রচনা করেছেন। সংগঠন ও পেশাজীবী কার্যক্রম অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম ছাত্রজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পেশাজীবী সংগঠনে তিনি ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (ইউট্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পবিপ্রবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জিয়া পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার রাজনৈতিক ভূমিকা, আন্দোলনে সম্পৃক্ততা, নির্যাতনের অভিযোগ এবং চাকরিচ্যুত হওয়ার বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য হিসেবে বিভিন্ন সময়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিষয়ে এই প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য অতিরিক্ত তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। দায়িত্ব নিয়ে যা বললেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম বলেন, "আলহামদুলিল্লাহ। এটি আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের এবং একই সঙ্গে বড় দায়িত্বের বিষয়। আমার ওপর অর্পিত এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনের মানোন্নয়নে সকলের সহযোগিতা নিয়ে নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করতে চাই।"
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ পুলিশের ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্রের সক্রিয়তার অভিযোগে রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এক কর্মকর্তাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে ১৭ লাখ টাকার চুক্তি, জাল প্রবেশপত্র তৈরি, প্রক্সি পরীক্ষার্থী ব্যবহার এবং আর্থিক লেনদেনের ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ উদ্ধার হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) রংপুর জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। কারা গ্রেফতার হয়েছেন গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. বাদশা মাসউদ আলম কথিত প্রতারক চক্রের সদস্য নুরুল ইসলাম পরীক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম আশরাফুলের হয়ে প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা তাজমিলুর রহমান যেভাবে ধরা পড়ে জালিয়াতির চেষ্টা পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকেলে রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজে এএসআই নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল নজরদারিতে ছিল। পরীক্ষাকেন্দ্রের মূল ফটকে ফেস ডিটেকশন পয়েন্টে আশরাফুল ইসলামের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে আটক করে যাচাই করা হয়। পরে কেন্দ্রের একাডেমিক ভবনে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি স্বীকার করেন, তার কাছে থাকা প্রবেশপত্রটি জাল। এই স্বীকারোক্তির পরই তার হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা তাজমিলুর রহমানকে আটক করা হয়। ১৭ লাখ টাকার চুক্তির অভিযোগ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল ইসলাম পুলিশকে জানান, তার বাবার সঙ্গে রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. বাদশা মাসউদ আলম এবং নুরুল ইসলামের মাধ্যমে ১৭ লাখ টাকার বিনিময়ে পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার চুক্তি হয়েছিল। চুক্তির অংশ হিসেবে দিনাজপুর শাখা থেকে ঢাকা ব্যাংকের একটি হিসাবে আড়াই লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, টাকা জমা দেওয়ার পর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আশরাফুলের কাছে একটি জাল প্রবেশপত্র পাঠানো হয়। তদন্তে আরও জানা যায়, সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ার বাধ্যতামূলক শারীরিক পরীক্ষায় তিনি কখনও অংশ নেননি। এরপরও জাল প্রবেশপত্র ব্যবহার করে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন। ডিজিটাল আলামতে মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আশরাফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকা থেকে মো. বাদশা মাসউদ আলমকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশ জানায়, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে প্রতারণা, অর্থ লেনদেন এবং জাল প্রবেশপত্র তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া জব্দ করা হয়েছে— জাল প্রবেশপত্র অর্থ লেনদেনের স্ক্রিনশট একাধিক মোবাইল ফোন অন্যান্য ডিজিটাল আলামত কীভাবে কাজ করত চক্রটি পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে বাদশা মাসউদ আলম স্বীকার করেন যে নুরুল ইসলামসহ আরও দুই থেকে তিনজন এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। তদন্তকারীদের মতে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পুলিশের ক্যাডেট এএসআই পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা— জাল প্রবেশপত্র তৈরি করত, প্রক্সি পরীক্ষার্থীর ব্যবস্থা করত, বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করত, এমনকি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফোন দিয়ে প্রভাব খাটানোরও চেষ্টা করত। ঢাকায় অভিযান বাদশা মাসউদ আলমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহানগর কোতোয়ালি থানার সহযোগিতায় ঢাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের আরেক সদস্য নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে চারজনকেই কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয়। পুলিশের বক্তব্য রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, "পুলিশের যেকোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম, জালিয়াতি বা দালাল চক্রের কোনো স্থান নেই। চাকরি দেওয়ার নামে যারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।" অন্যদিকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের জানান, গ্রেফতার হওয়া চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক অন্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে যেসব প্রশ্ন সামনে এসেছে ঘটনাটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে— জাল প্রবেশপত্র তৈরির প্রযুক্তিগত উৎস কোথায়? নিয়োগ পরীক্ষার আগেই কীভাবে প্রার্থীর কাছে ভুয়া প্রবেশপত্র পৌঁছায়? ১৭ লাখ টাকার চুক্তিতে আর কারা জড়িত? সরকারি কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা চক্র কতদিন ধরে সক্রিয়? উদ্ধার হওয়া মোবাইল ও ডিজিটাল তথ্য থেকে আরও কতজনের সম্পৃক্ততা বেরিয়ে আসতে পারে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বরিশাল অফিস : বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাঁর এই মন্তব্য সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সরকারের অবস্থানকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে আনে। মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অনুষ্ঠিত এ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী মহড়াস্থল ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। জঙ্গলের ভেতরে অবস্থানরত সদস্যদের কাছে গিয়ে তিনি তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করেন। সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে তাঁদের প্রতি বিশেষ মর্যাদা তৈরি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আস্থা ও মর্যাদা ধরে রাখতে পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখা প্রয়োজন। সেনা পরিবারের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি এক সেনা পরিবারে বড় হয়েছেন এবং সেনাসদস্যদের কাছে এলে তাঁর শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে যায়। ব্যক্তিগত এই অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি সেনাবাহিনীর প্রতি নিজের আবেগ ও শ্রদ্ধার কথাও তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আরও সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে। সেনাবাহিনীর সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং সুনাম বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ও প্রযুক্তি পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী বিস্তীর্ণ জঙ্গল এলাকায় সেনাসদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা তাঁকে মহড়ার বিভিন্ন দিক এবং কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন। মহড়ায় ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রমও প্রধানমন্ত্রী প্রত্যক্ষ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁকে শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে এর সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেন। সেনাসদস্যদের সঙ্গে সময় একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের সঙ্গে মাটিতে বসে কিছু সময় কাটান। তিনি তাঁদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন। মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা খাবারও তিনি গ্রহণ করেন। সেনাসদস্যদের পরিবেশিত খাবারের মধ্যে ছিল সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ এবং ডিমের তরকারি। উপস্থিতি ও তাৎপর্য এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এই পরিদর্শনকে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাদের ভূমিকার প্রতি সরকারের গুরুত্ব প্রদানের একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে।