Brand logo light
ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তি: কেন রাজনৈতিক দুঃস্বপ্নে পড়েছেন নেতানিয়াহু, বদলে যাচ্ছে কি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য?

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৬, ২০২৬ 0
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তি
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তি

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সম্পাদিত শান্তিচুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনাকে ঘিরে যখন আন্তর্জাতিক মহলে স্বস্তির বার্তা ছড়িয়েছে, তখনই রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে চাপে পড়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা শুধু একটি যুদ্ধের অবসান নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।

ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির বড় ভুল?

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিভিন্ন বিশ্লেষণে ইরান যুদ্ধকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম বড় কৌশলগত ভুল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের দাবি, যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রতিপক্ষদের ওপর ভবিষ্যৎ প্রভাব বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা দুর্বল হতে পারে।

যুদ্ধের সময় শত শত মানুষের প্রাণহানি, অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যে গুরুতর বিঘ্ন ঘটে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল, গ্যাস ও সারের সরবরাহ চাপে পড়ে।

এ অবস্থায় উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা জোটও প্রশ্নের মুখে পড়ে। কিছু আরব দেশের নীতিনির্ধারকেরা নীরবে নতুন আঞ্চলিক সমীকরণ খোঁজার চিন্তা করছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কী আছে শান্তিচুক্তিতে?

চুক্তির খসড়ায় দুই পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) রয়েছে বলে জানা গেছে, যেখানে ১৪টি দফা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

যদিও পুরো নথি প্রকাশ করা হয়নি, তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এতে রয়েছে—

  • হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া
  • যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি
  • কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল
  • ভবিষ্যৎ পারমাণবিক আলোচনা অব্যাহত রাখা
  • আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই সমঝোতাকে “চমৎকার শান্তি চুক্তি” এবং “উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক সমাধান” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এক্সে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি দ্রুত স্বাভাবিক চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে এবং ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেই নিশ্চয়তাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান যদি চুক্তির শর্ত মেনে চলে, তবে দেশটির জন্য বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

চুক্তির নেপথ্যে পাকিস্তানের ভূমিকা

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন যে, দুই দেশের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। তিনি জানান, এতে লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আলোচনায় সহযোগিতার জন্য তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরবকেও ধন্যবাদ জানান তিনি।

পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটি "সম্পূর্ণ" হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। একই সময়ে ইরানের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কেন চাপে নেতানিয়াহু?

বিবিসির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক লুসি উইলিয়ামসনের মতে, এই চুক্তি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক জীবনের তিনটি মৌলিক ভিত্তিকেই নড়বড়ে করে দিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজেকে ওয়াশিংটনের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী একজন আঞ্চলিক কৌশলবিদ হিসেবে উপস্থাপন করে এসেছেন। একই সঙ্গে ইরানকে ইসরাইলের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে তুলে ধরে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করেছেন।

কিন্তু নতুন চুক্তির ফলে সেই বয়ান বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

সমালোচকদের প্রশ্ন, যদি ইরান আগের চেয়ে আরও প্রভাবশালী অবস্থানে ফিরে আসে, তাহলে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা কৌশল কতটা সফল ছিল?

ইসরাইলে ক্ষোভ ও বিভক্তি

চুক্তির ঘোষণার পর ইসরাইলজুড়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।

জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির প্রকাশ্যে বলেন, "ট্রাম্পের চুক্তি মানতে আমরা বাধ্য নই।"

অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচও চুক্তির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এটি ইসরাইল ও পশ্চিমা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

লিকুদ পার্টির নেতারাও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইসরাইল নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা নেতানিয়াহুকে ব্যর্থতার জন্য দায়ী করছেন।

মধ্য-বামপন্থী নেতা ইয়ার গোলান বলেছেন, এই চুক্তি ইরানবিষয়ক নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের নীতির ব্যর্থতার প্রতিফলন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও অভিযোগ করেছেন যে বর্তমান সরকার দেশকে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও ক্ষয়িষ্ণু সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

ইরান কি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠল?

ইসরাইলি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যুদ্ধের পর ইরানের ক্ষমতার কাঠামো আরও কঠোরপন্থী নেতৃত্বের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে।

একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব বজায় রেখে তেহরান নতুন কৌশলগত সুবিধাও অর্জন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইসরাইলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের (আইএনএসএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি ইসরাইলকে তেহরানবিষয়ক কৌশল পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনে দিয়েছে।

তার মতে, ভবিষ্যতে আরও বাস্তববাদী ও সংযত নীতি গ্রহণ ছাড়া বিকল্প খুব বেশি নেই।

মধ্যপ্রাচ্যের নতুন বাস্তবতা

যুদ্ধ শেষ হলেও সংকট শেষ হয়নি। গাজা, লেবানন, সিরিয়া এবং ইরানকে ঘিরে নিরাপত্তা প্রশ্ন এখনো বহাল রয়েছে।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।

এই বাস্তবতায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন হলো—নেতানিয়াহু কি নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন, নাকি এই চুক্তিই তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের মোড় ঘুরিয়ে দেবে?

আগামী নির্বাচন সেই প্রশ্নেরই উত্তর দেবে।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

View more
পশ্চিম তীরে জমি দখল
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সমন্বিত অভিযান: ১৪ ফিলিস্তিনি আটক, ছয় মাসে ১১ হাজারের বেশি হামলার দাবি

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : অধিকৃত পশ্চিম তীরে শুক্রবার (৩১ জুলাই) একযোগে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে অন্তত ১৪ জন ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। একই দিনে নাবলুস, হেবরন, বেথলেহেম, রামাল্লাহ ও তুলকারমসহ একাধিক এলাকায় অভিযান এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো জানিয়েছে। ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই ফিলিস্তিনের ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশন দাবি করেছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীরা (সেটলার) ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার ৭৪টি হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলার মধ্যে সামরিক অভিযান, গ্রেফতার, জমি দখল, বসতি সম্প্রসারণ, নতুন চেকপয়েন্ট স্থাপন এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নাবলুসে নতুন উত্তেজনা স্থানীয় সূত্র জানায়, নাবলুসের দক্ষিণ-পশ্চিমে তেল গ্রামের আইন আল-মাজরাব এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের নিরাপত্তায় বিপুলসংখ্যক বসতি স্থাপনকারী প্রবেশ করেন। এর আগে বিভিন্ন বসতি স্থাপনকারী সংগঠন তেল গ্রামে গণমিছিলের ডাক দেয়। এর একদিন আগে ইসরায়েলি বাহিনী গ্রামের চারটি ফিলিস্তিনি বাড়ি অস্থায়ী সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। শুক্রবার সেনাবাহিনীর সহায়তায় বসতি স্থাপনকারীরা পাশের আল-জুনেইদ ও সুররা গ্রামে মিছিল করলে স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট জানায়, সংঘর্ষে একজন যুবক গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া চার শিশুসহ আরও ১০ জন টিয়ার গ্যাসে আক্রান্ত হন। আগের হামলার রেশ গত সপ্তাহেও তেল গ্রাম বড় ধরনের সহিংসতার মুখোমুখি হয়। ফিলিস্তিনি সূত্রের দাবি, ইসরায়েলি বাহিনী ও সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় চার ফিলিস্তিনি নিহত হন। এ সময় বহু মানুষ আহত হন এবং বাড়িঘর, যানবাহন ও কৃষিজমিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের কার্যক্রম এবং সামরিক অভিযানের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে। কোথায় কতজন আটক স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী— হেবরনের ইয়াত্তা এলাকা থেকে দুইজনকে আটক করা হয়। বেথলেহেম থেকে আটক করা হয় দুইজনকে। রামাল্লাহর উত্তরের আতারা সামরিক চেকপয়েন্ট থেকে একজনকে আটক করা হয়। তুলকারমের পূর্বাঞ্চলের আনাবতা এলাকা থেকে আরও একজনকে আটক করা হয়। এছাড়া রামাল্লাহ ও আল-বিরেহ এলাকায় অভিযান চলাকালে ফিলিস্তিন মেডিকেল কমপ্লেক্সের আশপাশে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ছয় মাসে ১১ হাজারের বেশি হামলার দাবি ফিলিস্তিনের ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ১১ হাজার ৭৪টি হামলা হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে— সামরিক অভিযান ব্যাপক গ্রেফতার জমি দখল নতুন বসতি সম্প্রসারণ অতিরিক্ত সামরিক চেকপয়েন্ট স্থাপন বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এই পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক উদ্বেগ চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘ সতর্ক করে জানিয়েছে, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ভূমি দখলের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীন মাত্রায় পৌঁছেছে। এর আগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারত্বকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি বলে মত দিয়েছিল। তবে ইসরায়েল আদালতের ওই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে আসছে। বন্দির সংখ্যা বাড়ছে ফিলিস্তিনি প্রিজনার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে প্রায় ২৪ হাজার ৬০০ ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের মধ্যে রয়েছে— ১ হাজার ৯০০ শিশু ৭৮৫ নারী সংস্থাটির দাবি, বর্তমানে ইসরায়েলের কারাগারে প্রায় ৯ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে— ৯৪ জন নারী ৩৫০ জনের বেশি শিশু ৩ হাজার ২৪৪ জন প্রশাসনিক আটক, যাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে ১ হাজার ৩২০ জনকে 'অবৈধ যোদ্ধা' হিসেবে আটক রাখা হয়েছে বাড়ছে মানবাধিকার উদ্বেগ ফিলিস্তিনি বন্দি অধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, পশ্চিম তীরে চলমান গ্রেফতার অভিযান, সামরিক তৎপরতা এবং বসতি স্থাপনকারীদের হামলা মিলিয়ে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত শাস্তির নীতি আরও জোরদার হচ্ছে। অন্যদিকে ইসরায়েল বরাবরই বলে আসছে, পশ্চিম তীরে তাদের সামরিক অভিযান নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সশস্ত্র হামলা প্রতিরোধের অংশ। পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আবারও এই অঞ্চলকে নতুন অস্থিরতার মুখে দাঁড় করিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, চলমান অভিযান, বসতি সম্প্রসারণ এবং গ্রেফতারের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ১, ২০২৬ 0

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সর্বনিম্ন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নৌ অবরোধের ঘোষণা ট্রাম্পের—বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন সংকট?

১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ বন্ধ করল ভারত

দমদম বিমানবন্দরে ১৩৬ বছরের পুরোনো গৌরীপুর জামে মসজিদ বন্ধ করল ভারত

হরমুজে ফি প্রস্তাবের আড়ালে বৈশ্বিক নৌ-বাণিজ্যের নতুন সমীকরণ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আবারও সংঘাতের মুখে: হামলা, হরমুজ সংকট ও কূটনীতির ভবিষ্যৎ বিশ্লেষণ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন পক্ষ দাবি করছে। সামরিক হামলা, পাল্টা হামলা, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বিরোধ এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থার কারণে পুরো অঞ্চল আবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান হোসেইন কেরমানপুরের দাবি অনুযায়ী, ৮ ও ৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির পাঁচটি প্রদেশে অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন। খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা বিষয়ক ডেপুটি গভর্নর ওয়ালিউল্লাহ হায়াতির ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে অন্তত তিনজন ওই প্রদেশের বাসিন্দা। সংঘাতের সূচনা কোথায়? ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে আইআরজিসির অভিযানকে কেন্দ্র করেই নতুন করে উত্তেজনা বাড়ে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপদ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম ইরানের বিপুলসংখ্যক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, নৌঘাঁটি এবং লজিস্টিক অবকাঠামো। এর জবাবে ইরান কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে তেহরান দাবি করেছে। কূটনীতির পথ কি বন্ধ? পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা শেষ হয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ সীমিত। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করেনি এবং কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে। 'প্ল্যান সি' নাকি পুরোনো কৌশল? যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও প্রশ্ন উঠছে—প্রশাসনের বিকল্প কৌশল কী? ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক বক্তব্যে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একই সময়ে নতুন নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ বৃদ্ধির আলোচনা আবার সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে ওয়াশিংটন আবারও অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক শক্তিনির্ভর নীতিতে ফিরে যাচ্ছে। রিচার্ড হাসের মূল্যায়ন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক রিচার্ড এন. হাস মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি কৌশলগত অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যত সামরিক চাপ বাড়াবে, ইরানও পারস্য উপসাগরের জ্বালানি ও নৌপরিবহন অবকাঠামোর ওপর তত বেশি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নতুন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। হরমুজ প্রণালি কেন গুরুত্বপূর্ণ? বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি। সাম্প্রতিক বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে এই জলপথ নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন। ইরানের ব্যাখ্যায় নিরাপদ চলাচলের দায়িত্ব তাদের হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের মতে আন্তর্জাতিক নৌপথে কোনো একক রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতা স্মারকের ভাষাগত অস্পষ্টতা দুই পক্ষের ভিন্ন ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি করেছে। ইরানের নতুন হুঁশিয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ বাকের জোলঘাদর সতর্ক করে বলেছেন, জাতীয় অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা হলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে।   বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক উত্তেজনা কমার পরিবর্তে আরও বিস্তৃত সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকেরা। তবে উভয় পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনীতির দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি। ফলে সামরিক প্রতিরোধ ও রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যে ভারসাম্য কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটিই আগামী কয়েক দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১১, ২০২৬ 0
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে বিস্ফোরণ, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা নতুন পর্যায়ে

কারবালায় খামেনির জানাজা ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি

কারবালায় খামেনির জানাজা : ইরানের রাজনৈতিক বার্তা, যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান আরও জোরদারের দাবি

খামেনির শেষযাত্রা

খামেনির শেষ বিদায়: আকাশসীমা বন্ধ ,৫০ হাজার মানুষ নিলেন জরুরি চিকিৎসাসেবা

তেহরানে খামেনির জানাজা সম্পন্ন
ইরানের প্রতিরোধের স্থপতি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা সম্পন্ন

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার নামাজ রাজধানী তেহরানে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) ইরানের বার্তা সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে। ইরানের অন্যতম শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি নিহত খামেনি এবং তার পরিবারের চার সদস্যের জানাজা নামাজে ইমামতি করেন।মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার তিন ছেলে মাসুদ, মেয়সাম এবং মোস্তফা এই জানাজার নামাজে অংশ নেন।তবে খামেনির ছেলে ও তার উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি জানাজায় উপস্থিত ছিলেন না। ইসরায়েল তাকে হত্যা করার হুমকি দেওয়ায়, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তিনি এই জানাজার নামাজে অংশ নেননি। জানাজায় উপস্থিত বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মহসেনি এজেঈ। এছাড়া ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান আহমদ ওয়াহিদি এবং আইআরজিসির কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কায়ানিও এই জানাজার নামাজে অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা ছিল, সর্বোচ্চ মাত্রার চাপ, নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এবং সামরিক ঝুঁকি একসময় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে নতিস্বীকারে বাধ্য করবে। তবে এই ধারণা ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার রাজনৈতিক দর্শন ও মানসিকতাকে পুরোপুরি ধারণ করতে পারেনি। তার কাছে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ছিল না কোনও রাজনৈতিক বিকল্প; বরং তা ছিল তার আদর্শিক পরিচয় থেকে বিচ্যুতি। খামেনির দৃষ্টিতে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং একটি চলমান সংগ্রাম। তার কাছে ‘প্রতিরোধ’ ছিল সাময়িক কৌশল নয়, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শাহবিরোধী আন্দোলন, কারাবাস এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় এই রাজনৈতিক সত্তার বিকাশ ঘটে। তার সাহিত্যপ্রীতিও এই দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। রুশ লেখক মিখাইল শলোখভের অ্যান্ড কোয়ায়েট ফ্লোস দ্য ডন উপন্যাসের নায়ক গ্রিগরি মেলেখভ যেমন যুদ্ধ ও বিপ্লবের ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও ব্যক্তিগত সম্মান ও সহনশীলতা ধরে রাখেন, খামেনিও সেই দর্শনের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত মনে করতেন। প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকাকে তিনি আত্মবিশ্বস্ততার প্রকাশ হিসেবে দেখতেন। ১৯৮৮ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধের অবসানে জাতিসংঘের প্রস্তাব গ্রহণকে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ‘বিষপান’-এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। ১৯৮৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর খামেনির সামনে খোমেনির মতো ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের উত্তরাধিকার ছিল। পরবর্তী তিন দশকে তিনি নিজস্ব একটি আপসহীন রাজনৈতিক ভাবমূর্তি গড়ে তোলেন। সেই প্রেক্ষাপটে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ তার দীর্ঘদিনের আদর্শিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করত। ফলে ‘বিষপান’ এড়িয়ে চলা শুধু যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান নয়, বরং নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার অক্ষুণ্ন রাখারও অংশ ছিল। পশ্চিমা বিশ্বের একটি ধারণা ছিল, সামরিক হুমকি খামেনিকে নমনীয় করে তুলবে। কিন্তু এই ধারণা কার্যকর হয় তখনই, যখন টিকে থাকাই একজন নেতার প্রধান লক্ষ্য হয়। খামেনির রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ‘শাহাদাত’ বা আত্মত্যাগ ছিল নৈতিক বিজয়ের প্রতীক। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু হলে তিনি ‘শহীদ’-এ পরিণত হন। খামেনির কাছে পারমাণবিক কর্মসূচি শুধু দরকষাকষির হাতিয়ার বা অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার প্রশ্ন ছিল না; এটি ছিল একটি বিপ্লবী রাষ্ট্রের মর্যাদার প্রতীক। তার বক্তব্যে পশ্চিমা চাপকে কেবল নীতিগত মতপার্থক্য নয়, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে বৈরিতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার কাছে অর্থনৈতিক সংকটের চেয়েও জাতীয় অপমান ছিল বড় হুমকি। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি তিনি গ্রহণ করেছিলেন, কারণ সেখানে ‘বীরত্বপূর্ণ নমনীয়তা’ প্রদর্শনের সুযোগ ছিল এবং সেটিকে তিনি আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখেননি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর খামেনির বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয় যে, যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরযোগ্য নয় এবং একবার ছাড় দিলে তারা আরও নতুন দাবি উত্থাপন করবে। নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং সামরিক হামলা দেশটিকে হয়তো দুর্বলতার দিকেও নিয়ে গেছে। তবে এসব চাপ ইরানকে খামেনির আদর্শে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। ওয়াশিংটন যদি মনে করে,  চাপের মুখে ইরান নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করবে, তাহলে তা খামেনির রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক অবস্থান সম্পর্কে ভুল মূল্যায়ন হবে। বিশ্ব এমন একজন নেতাকে হারিয়েছে, যার কাছে চাপের মুখে আপস করা ছিল অস্তিত্বের পরাজয়ের সমার্থক। আর যিনি পরাজয়ের চেয়ে মৃত্যু বা ব্যক্তিগত ঝুঁকি গ্রহণকেই বেশি গ্রহণযোগ্য বলে মনে করতেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৬, ২০২৬ 0

খামেনির জানাজা কেন ইরানি শাসনব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ | জনসমর্থন ও নিরাপত্তার কঠিন পরীক্ষা

খামেনি

ইরানে খামেনির শেষ বিদায়: ২ কোটি মানুষের সমাগম, ৩০ দেশের প্রতিনিধি, নিরাপত্তার নজিরবিহীন প্রস্তুতি

গুজরাটে ৩ মসজিদ ও কয়েকটি মাজার গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

গুজরাটে ৩ মসজিদ ও কয়েকটি মাজার গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0