ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর নৌ অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রবিবার (১২ জুলাই) হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে মাত্র ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ। গত পাঁচ সপ্তাহে একদিনে এটিই সর্বনিম্ন সংখ্যা, যা নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কী দেখা যাচ্ছে শিপিং তথ্য বিশ্লেষণে? তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজগুলোর মধ্যে ছিল 'হিউম্যানিটি' নামের একটি সুপারট্যাংকার, যা প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল বহন করছিল। এছাড়া 'ক্যাপিটান আন্দ্রেয়াস' নামের একটি ট্যাংকারে প্রায় পাঁচ লাখ ব্যারেল কুয়েতি পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহন করা হচ্ছিল। একই সময়ে তেল বোঝাইয়ের উদ্দেশ্যে তিনটি খালি ট্যাংকার পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে। কেপলারের তথ্য আরও বলছে, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এড়াতে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় অধিকাংশ তেলবাহী জাহাজ তাদের স্বয়ংক্রিয় অবস্থান শনাক্তকারী এআইএস ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখছে। সপ্তাহান্তে কোনো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী জাহাজকে প্রণালিতে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি। এদিকে, আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (অ্যাডনক)-এর একটি ট্যাংকার ১০ থেকে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে ভারতের দাহেজ বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করেছে বলে কেপলারের তথ্য উল্লেখ করেছে। নতুন করে সামরিক উত্তেজনা এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, রোববার ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, নির্ভুল নির্দেশিত অস্ত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। অন্যদিকে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সোমবার দাবি করেছে, আগের রাতে হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজের নেভিগেশন ব্যবস্থা অকার্যকর করে সেগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। তবে জাহাজ দুটির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ট্রাম্পের নতুন নৌ অবরোধের ঘোষণা এই উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর নৌ অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তার ঘোষণায় বলা হয়েছে, এখন থেকে কোনো জাহাজ ইরানের বন্দরে প্রবেশ করতে বা সেখান থেকে বের হতে পারবে না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে চাইলে কার্গো বা পণ্যবাহী জাহাজগুলোর কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ২০ শতাংশ হারে ক্ষতিপূরণ বা নিরাপত্তা ফি আদায় করবে। তবে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন পদ্ধতি, আন্তর্জাতিক আইনগত ভিত্তি কিংবা কার্যকর করার কাঠামো সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। পরস্পরবিরোধী অবস্থান ট্রাম্প একদিকে দাবি করেছেন, "হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত আছে এবং উন্মুক্তই থাকবে।" অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, অনুমোদনহীন পথে একটি জাহাজ চলাচল এবং সেটিতে হামলার ঘটনার পর তারা প্রণালিটি বন্ধ ঘোষণা করেছে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র 'ইরানি অবরোধ' পুনর্বহাল করছে, যার আওতায় শুধুমাত্র ইরানের জাহাজ কিংবা তাদের ক্রেতাদের প্রবেশ ও প্রস্থান বন্ধ থাকবে। অন্য সব দেশ ন্যায্যভাবে প্রণালিটি ব্যবহার করতে পারবে। তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন থেকে "হরমুজ প্রণালির অভিভাবক" হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিনিময়ে পরিবহনকৃত সব পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ হারে ফি আদায় করবে। বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার বিনিময়ে সম্ভাব্য টোল বা ফি আদায়ের বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত তার আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে শুধু ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রপ্তানি, আন্তর্জাতিক শিপিং শিল্প এবং বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি? বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। ফলে এই পথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল, শিপিং ব্যয় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক সংঘাত, পাল্টাপাল্টি হামলা, নৌ অবরোধের ঘোষণা এবং জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ার ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আগামী কয়েক দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর রাখছে বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক শিপিং খাত।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : হরমুজ প্রণালিতে নৌ-নির্দেশনা সেবার বিপরীতে স্বেচ্ছাভিত্তিক ফি আরোপের প্রস্তাবকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতি, সামুদ্রিক আইন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় কয়েকটি দেশের আলোচনায় থাকা এই প্রস্তাব বাধ্যতামূলক টোল নয়, বরং নৌ-নিরাপত্তা ও সহায়ক সেবার জন্য অর্থ প্রদানের একটি সম্ভাব্য কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথের ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে কোনো পরিবর্তন আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। মূল তথ্যসংক্ষেপ হরমুজ প্রণালিতে নৌ-নির্দেশনা সেবার বিপরীতে স্বেচ্ছাভিত্তিক ফি আরোপের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। ব্রিটেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বাধ্যতামূলক টোল আরোপকে “বিপর্যয়কর” বলে মন্তব্য করেছেন। ওমান মালাক্কা প্রণালির সহযোগিতামূলক মডেলের আদলে একটি ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রস্তাব করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার প্রকাশ্য আশ্বাস চেয়েছে। আইএমওতে ইরানবিষয়ক একটি প্রস্তাবে রাশিয়া ও চীন সমর্থন দেয়নি। কী ধরনের ফি বিবেচনায় রয়েছে? ইউরোপীয় দেশগুলোর আলোচনায় থাকা প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের জন্য বাধ্যতামূলক টোল নয়, বরং নির্দিষ্ট নৌ-নির্দেশনা, নিরাপত্তা ও সহায়ক সেবার বিনিময়ে স্বেচ্ছাভিত্তিক ফি নেওয়ার ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে। এই ধারণাটি মালাক্কা প্রণালি ও ইংলিশ চ্যানেলের মতো আন্তর্জাতিক জলপথে প্রচলিত কিছু সেবা-ভিত্তিক অর্থপ্রদানের মডেলের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। তবে প্রস্তাবটি কার্যকর করতে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)-এর সমর্থন প্রয়োজন হবে বলে আলোচনায় উঠে এসেছে। ব্রিটেনের অবস্থান: টোল নয়, সেবা-ভিত্তিক ব্যবস্থা ব্রিটেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে বাধ্যতামূলক টোল আরোপ করা হলে তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য “বিপর্যয়কর” হবে। তার বক্তব্যে মূল উদ্বেগ ছিল, এমন পদক্ষেপ বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। তবে ব্রিটিশ সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী মনে করেন, নৌ-নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং দুর্ঘটনা মোকাবিলায় সহায়ক সেবার জন্য স্বেচ্ছাভিত্তিক অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান: নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে—এমন একটি প্রকাশ্য ঘোষণা দিতে। ওয়াশিংটনের দাবি, তেহরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে এ বিষয়ে সমঝোতা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত নীতিসহ গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ে দেশটির নেতৃত্ব ঐক্যবদ্ধ। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর ভেতরে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন মেনে চলা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ওমানের প্রস্তাব ও মালাক্কা মডেল হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমান মালাক্কা প্রণালির সহযোগিতামূলক মডেলের আদলে একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে। ব্রিটিশ আইন বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় প্রস্তুত এই পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে নৌ-নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং দুর্ঘটনা মোকাবিলার ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। ওমান জানিয়েছে, তারা এই পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করতে আইন বিশেষজ্ঞদের তেহরানে পাঠাতেও আগ্রহী। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির ওমান সফর এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের মন্তব্যও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিষয়টি আঞ্চলিক কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। আইএমওতে বিতর্ক: আন্তর্জাতিক আইন বনাম আঞ্চলিক দাবি লন্ডনে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) কাউন্সিল বৈঠকে ওমানের প্রতিনিধি খামিস বিন মোহাম্মদ আল শামাখি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ নৌ-চলাচলের অধিকার নিশ্চিত এবং সেখানে বাধ্যতামূলক ট্রানজিট ফি আরোপের সুযোগ নেই। তবে তিনি উল্লেখ করেন, নৌ-নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং দুর্ঘটনা মোকাবিলায় স্বেচ্ছাভিত্তিক নৌ-সহায়তা সেবা চালুর বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। এ বক্তব্যই বর্তমান আলোচনার কেন্দ্রীয় আইনি ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাশিয়া ও চীনের আপত্তি উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ ও ইউরোপীয় রাষ্ট্র আইএমওতে ইরানের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করলেও রাশিয়া ও চীন তা সমর্থন করেনি। রাশিয়ার মতে, প্রস্তাবটি সংকটের মূল কারণগুলো উপেক্ষা করেছে। চীনের ভাষ্য, এটি একপেশে এবং আইএমওর এখতিয়ারের বাইরে। এই অবস্থান দেখায় যে হরমুজ প্রণালির প্রশ্নটি কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বরং বৃহৎ শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক অবস্থানকেও প্রতিফলিত করছে। সমঝোতা স্মারক ও বর্তমান বাস্তবতা গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে ইরান ৬০ দিনের জন্য কোনো অতিরিক্ত চার্জ ছাড়া বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই প্রতিশ্রুতির অর্থ এই নয় যে ইরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে না। অন্যদিকে আইআরজিসি নৌবাহিনী বলেছে, সমঝোতা অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব তারা পালন করেছে এবং হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি বাহিনীর কোনো ভূমিকা থাকার সুযোগ নেই। কেন হরমুজ প্রণালি এত গুরুত্বপূর্ণ? হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। পারস্য উপসাগর থেকে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মে মাসের শুরু থেকে তাদের বাহিনী ৮০০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং প্রায় ৩৮ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমে সহায়তা করেছে। ফলে এই প্রণালির ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক কাঠামো নিয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য ব্যয় এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। মূল বিতর্ক কোথায়? কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, বর্তমান বিতর্ক মূলত দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করে: হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালু হওয়ার পর এর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কী হবে। দীর্ঘমেয়াদে প্রণালির প্রশাসনিক কাঠামো কেমন হবে এবং মালাক্কা প্রণালির মডেল ইরানের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে কি না। এছাড়া ইরানের অভ্যন্তরে আইআরজিসির বিভিন্ন অংশের অবস্থানও ভবিষ্যৎ সমঝোতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনিশ্চয়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বর্তমান আলোচনা শুধু একটি সম্ভাব্য ফি ব্যবস্থার প্রশ্ন নয়; এটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতির জটিল সমন্বয়ের প্রতিফলন। স্বেচ্ছাভিত্তিক নৌ-সহায়তা সেবা চালুর ধারণা আপাতদৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য সমাধান হিসেবে সামনে এলেও, এর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে আইএমওর অবস্থান, ইরান-ওমান সমঝোতা, এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট শক্তিগুলোর পারস্পরিক আস্থার ওপর।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন পক্ষ দাবি করছে। সামরিক হামলা, পাল্টা হামলা, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বিরোধ এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থার কারণে পুরো অঞ্চল আবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান হোসেইন কেরমানপুরের দাবি অনুযায়ী, ৮ ও ৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির পাঁচটি প্রদেশে অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন। খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা বিষয়ক ডেপুটি গভর্নর ওয়ালিউল্লাহ হায়াতির ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে অন্তত তিনজন ওই প্রদেশের বাসিন্দা। সংঘাতের সূচনা কোথায়? ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে আইআরজিসির অভিযানকে কেন্দ্র করেই নতুন করে উত্তেজনা বাড়ে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপদ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম ইরানের বিপুলসংখ্যক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, নৌঘাঁটি এবং লজিস্টিক অবকাঠামো। এর জবাবে ইরান কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে তেহরান দাবি করেছে। কূটনীতির পথ কি বন্ধ? পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা শেষ হয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ সীমিত। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করেনি এবং কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে। 'প্ল্যান সি' নাকি পুরোনো কৌশল? যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও প্রশ্ন উঠছে—প্রশাসনের বিকল্প কৌশল কী? ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক বক্তব্যে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একই সময়ে নতুন নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ বৃদ্ধির আলোচনা আবার সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে ওয়াশিংটন আবারও অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক শক্তিনির্ভর নীতিতে ফিরে যাচ্ছে। রিচার্ড হাসের মূল্যায়ন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক রিচার্ড এন. হাস মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি কৌশলগত অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যত সামরিক চাপ বাড়াবে, ইরানও পারস্য উপসাগরের জ্বালানি ও নৌপরিবহন অবকাঠামোর ওপর তত বেশি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নতুন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। হরমুজ প্রণালি কেন গুরুত্বপূর্ণ? বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি। সাম্প্রতিক বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে এই জলপথ নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন। ইরানের ব্যাখ্যায় নিরাপদ চলাচলের দায়িত্ব তাদের হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের মতে আন্তর্জাতিক নৌপথে কোনো একক রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতা স্মারকের ভাষাগত অস্পষ্টতা দুই পক্ষের ভিন্ন ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি করেছে। ইরানের নতুন হুঁশিয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ বাকের জোলঘাদর সতর্ক করে বলেছেন, জাতীয় অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা হলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক উত্তেজনা কমার পরিবর্তে আরও বিস্তৃত সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকেরা। তবে উভয় পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনীতির দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি। ফলে সামরিক প্রতিরোধ ও রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যে ভারসাম্য কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটিই আগামী কয়েক দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : আবু মুসা দ্বীপ এবং ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক স্থানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, সিরিক শহরের তাহরুই গ্রামের কাছেও তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এদিকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পর হুমকির পর ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা শুরু করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের স্বাধীনতায় হুমকি দেওয়ার ইরানের সক্ষমতা আরও হ্রাস করার” উদ্দেশ্যে তারা অতিরিক্ত অভিযান শুরু করেছে। সেন্টকমের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর সাম্প্রতিক আগ্রাসনের জন্য ইরানকে “জবাবদিহি” করানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি স্থানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। বিস্ফোরণের খবর পাওয়া স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে সিরিক, বুশেহর, কোনারাক ও চাবাহার। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, বন্দর আব্বাসে আটটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। চাবাহারে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবরও পাওয়া গেছে। তবে এসব ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। হরমুজ প্রণালী ও কৌশলগত গুরুত্ব হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই এলাকায় সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বাণিজ্যিক নৌচলাচলে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। সেন্টকমের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ দাবির তাৎক্ষণিক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি। আইআরজিসির হুঁশিয়ারি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বার্তায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, অঞ্চলজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণ মোকাবিলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। ট্রাম্পের মন্তব্য ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) “শেষ” হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেন। ওই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের খবর সামনে আসে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তবে বর্তমান বিস্ফোরণগুলোর প্রকৃতি, লক্ষ্যবস্তু ও দায়ী পক্ষ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনও সীমিত। আঞ্চলিক উদ্বেগ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি সামরিক অবস্থান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিবৃতির ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় নতুন তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কানি বলেছেন, শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির ইরাকে অনুষ্ঠিত জানাজা ইরান ও ইরাকের জনগণের পারস্পরিক সংহতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দুই জাতির ঐক্যবদ্ধ অবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রকাশিত এক বার্তায় কানি বলেন, নাজাফ ও কারবালায় অনুষ্ঠিতব্য এই জানাজা শুধু দুই দেশের জনগণের ঐক্যই গভীর করবে না, বরং প্রতিরোধ আন্দোলনের শহীদ নেতাদের ন্যায়বিচারের দাবিকেও আরও জোরালো করবে। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ইরাকি সরকারের উদ্যোগ এবং দেশটির জনগণের ব্যাপক প্রস্তুতি ইরান ও ইরাকের গভীর আধ্যাত্মিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন। কানি আরও উল্লেখ করেন, আয়াতুল্লাহ খামেনির সমর্থন এবং ইরাকের ধর্মীয় নেতৃত্বের ভূমিকা দেশটিতে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ২০২০ সালে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত আইআরজিসির সাবেক কুদস ফোর্স প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি এবং ইরাকের জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর উপপ্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দিসের প্রসঙ্গ টেনে কানি বলেন, তারা দুই দেশের জন্যই আত্মত্যাগের অভিন্ন প্রতীক। তিনি দাবি করেন, খামেনির শেষকৃত্যও সোলাইমানি ও আল-মুহান্দিসের জানাজার মতোই যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী প্রতিরোধকে আরও শক্তিশালী করবে। এদিকে, কারবালার গভর্নর ও প্রদেশের উচ্চ নিরাপত্তা কমিটির প্রধান নাসিফ জাসিম আল-খাত্তাবি জানিয়েছেন, জানাজা উপলক্ষে নিরাপত্তা ও লজিস্টিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইরাকি গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, অনুষ্ঠানটি দেশটির সরকার ও জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে ফেডারেল সামরিক বাহিনী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা সংস্থার সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার থেকে শোকাহত মানুষ ও বিভিন্ন প্রতিনিধি দল কারবালায় আসতে শুরু করবে। নিরাপত্তা, পরিবহন ও জনসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। জানাজা তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান গভর্নর। প্রথম ধাপে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা, দ্বিতীয় ধাপে বুধবার নাজাফে জানাজার শোভাযাত্রা এবং শেষ ধাপে একই দিন বিকেলে কারবালায় চূড়ান্ত কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে ইরাকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের আশা করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে বুধবার কারবালা প্রদেশে সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ মিডিয়া কমিটির মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাদ মান জানান, নাজাফে শোভাযাত্রার পথ আল-সাদরাইন ওভারপাস থেকে ইমাম আলীর মাজার পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার এবং কারবালায় প্রায় ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। অংশগ্রহণকারীদের জন্য নাজাফে ৩৫১টি, কারবালায় ৪০০টির বেশি সেবাকেন্দ্র এবং শোভাযাত্রার পথে ১৫০টি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও নিম্নমুখী। ওপেক প্লাসের উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ বৃদ্ধির প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামে। সোমবার (৬ জুলাই) দিনের লেনদেনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৪ সেন্ট বা ০.৪৭ শতাংশ কমে ৭১.৭৮ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ২০ সেন্ট বা ০.২৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬৮.৪৯ ডলারে দাঁড়ায়। উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ? রোববার ওপেক প্লাস ঘোষণা দেয়, আগস্ট মাস থেকে জোটভুক্ত দেশগুলো দৈনিক আরও ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন বাড়াবে। এর আগে জুন ও জুলাই মাসেও একই পরিমাণ উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছিল। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত নতুন কোনো চমক নয়; বরং এটি বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে জোটের কয়েকটি সদস্য দেশ এখনো নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে না। ফলে ঘোষিত উৎপাদন বৃদ্ধির পুরোটা বাস্তবে বাজারে যোগ হবে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণে রয়েছে। হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক হওয়ায় সরবরাহ বাড়ছে ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাতের সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে যে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে। সৌদি আরব, কুয়েত ও ইরাক থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহার করে তেল রপ্তানি আবার স্বাভাবিক ধারায় ফিরছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি সচল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। বাজারে মূল্য কমার পেছনে এটিকেও অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওপেকের উৎপাদনে কী বলছে জরিপ? রয়টার্সের এক জরিপে দেখা গেছে, জুন মাসে ওপেকভুক্ত দেশগুলোর মোট তেল উৎপাদন দৈনিক ৩৩ লাখ ব্যারেল বেড়ে ১ কোটি ৯৪৩ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। একই সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানিও মে মাসের তুলনায় দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি বেড়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির পরও রপ্তানির পরিমাণ যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম রয়েছে। রাশিয়ার রপ্তানিও বেড়েছে অন্যদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটি পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বাড়িয়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। জুলাই মাসেও একই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বর্তমান মূল্যপতনের পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। ওপেক প্লাসের উৎপাদন বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়া এবং রাশিয়ার রপ্তানি বাড়ার ফলে বৈশ্বিক সরবরাহের চাপ বেড়েছে। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি, তবু বাজার আপাতত সরবরাহ বৃদ্ধির সংকেতকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠান উপলক্ষে সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানী তেহরানের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। নিরাপত্তা ও শোকানুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির শিক্ষার্থীদের বার্তা সংস্থা (ইসনা)। ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে জনসাধারণের শোকানুষ্ঠান চলাকালে তেহরানের মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল স্থগিত থাকবে। তবে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) থেকে মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। অন্যদিকে ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আরও কিছু সময় বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া আগামী ৯ জুলাই আলি খামেনির চূড়ান্ত দাফন অনুষ্ঠান উপলক্ষে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদ শহরের আকাশসীমাও পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে। ওই দিন শহীদ হাশেমিনেজাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। তবে ৭ ও ৮ জুলাই ইরানের অন্যান্য অঞ্চলে বিমান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। শুধু চূড়ান্ত দাফন অনুষ্ঠানের দিন মাশহাদগামী ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে না। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির তেহরানে অনুষ্ঠিত শেষযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষের মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার জনকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট আইএসএনএ সংবাদ সংস্থার বরাতে ইরানের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, মোট ৪৮ হাজার ৮০৪ জন বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে তিনজনের সফলভাবে হৃদ্যন্ত্র পুনরায় সচল (কার্ডিয়াক রিসাসিটেশন) করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১৮ হাজার মানুষকে বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, বিপুল জনসমাগম হলেও শেষযাত্রা চলাকালে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা কিংবা বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : হামাসের লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান মুহাম্মদ দারবিশের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ইরানের রাজধানী তেহরান সফর করেছে। সফরের উদ্দেশ্য ছিল ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া। সফরকালে হামাস প্রতিনিধিদল ইরানকে যুদ্ধক্ষেত্র ও আলোচনার টেবিলে ‘বড় ধরনের জয়’ অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানায়। সংগঠনটি এই অর্জনকে গোটা ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ বা প্রতিরোধ অক্ষ এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর বিজয় বলে উল্লেখ করেছে। খামেনির প্রতি শোক ও অবস্থানের প্রশংসা হামাসের প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের শাহাদাতের ঘটনায় ইরানের নেতা, সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায়। একই সঙ্গে মুহাম্মদ দারবিশ বলেন, ফিলিস্তিনের মুক্তিসংগ্রামের প্রতি সমর্থন এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের বৈধ প্রতিরোধের পক্ষে খামেনির নীতিগত ও সাহসী অবস্থান হামাসের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি তুলে ধরে হামাস সফরের সময় হামাস প্রতিনিধিদল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে তারা গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ‘চরম অমানবিক পরিস্থিতি’ এবং পশ্চিম তীরে ইসরাইলের চলমান অভিযানের বিষয়ে নিজেদের উদ্বেগ তুলে ধরে। হামাসের দাবি, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যার মুখে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা ‘বিপর্যয়কর’। প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ইসরাইলের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানায়। ইরানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে ধন্যবাদ জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং আল-কুদস (জেরুজালেম)কে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতি ইরানের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। এ অবস্থানকে তেহরানের নীতিগত অবস্থান হিসেবেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। প্রেক্ষাপট হামাস ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। তেহরান নিজেকে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর অন্যতম সমর্থক হিসেবে তুলে ধরে। অন্যদিকে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র এবং কয়েকটি পশ্চিমা দেশ হামাসকে সশস্ত্র সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে এবং ইরানের আঞ্চলিক ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে। এই প্রেক্ষাপটে তেহরানে হামাস প্রতিনিধিদলের সফর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই দুই পক্ষের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের আরেকটি প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নাতনি, ১৪ মাস বয়সী জাহরা মোহাম্মদী গোলপায়েগানির বাবা শেখ মোহাম্মদ জাভাদ গোলপায়েগানির একটি আবেগঘন ছবি প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। জানাজায় নিহত শিশুকন্যার কফিনের পাশে শোকাহত বাবার সেই মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় তেহরানের গ্র্যান্ড মোসল্লায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তার জামাতা মেসবাহ-উল-হোদা বাকেরি, বড় মেয়ে সাইয়্যেদাহ বোশরা হোসেইনি খামেনি, পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ আদেল এবং ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদী গোলপায়েগানির জানাজা একসঙ্গে সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে ইরনা প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, নিহত শিশু জাহরার কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে শোকাহত অবস্থায় আছেন তার বাবা শেখ মোহাম্মদ জাভাদ গোলপায়েগানি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, শেখ মোহাম্মদ জাভাদ গোলপায়েগানি শিয়া আলেম এবং শহীদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বড় মেয়ে সাইয়্যেদাহ বোশরা হোসেইনি খামেনির স্বামী। তিনি ১৪ মাস বয়সী জাহরার বাবা এবং প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আবুল কাসেম মোহাম্মদী গোলপায়েগানির ছেলে। এদিকে, প্রথম জানাজার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভি প্রথমবারের মতো খামেনির জামাতা ড. মেসবাহ-উল-হোদা বাকেরির একটি ছবিও প্রকাশ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ওই ছবিতে তাকে শ্বশুর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায়। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ড. মেসবাহ-উল-হোদা বাকেরি ছিলেন খামেনির দ্বিতীয় মেয়ে হোদা সাদাত খামেনির স্বামী এবং কূটনীতিক আলী বাকেরি কানির ভাই। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় খামেনি পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তিনিও নিহত হন। এ ছাড়া জানাজায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির তিন ছেলে—মোস্তফা খামেনি, মাসুদ খামেনি ও মেসাম হোসেইনি খামেনিকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা ও খামেনির দ্বিতীয় ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হওয়ার দীর্ঘ চার মাস পর অবশেষে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। শুক্রবার তেহরানে কড়া নিরাপত্তা ও গভীর শোকের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা অর্থনৈতিক সংকট ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির ভেতরে ধর্মীয় নেতৃত্বের ওপর সাধারণ মানুষের সমর্থন কিছুটা দুর্বল হলেও, এই শেষকৃত্যের মাধ্যমে ইরান বিশ্বকে তাদের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও শক্তি দেখাতে চাইছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের ওই হামলায় খামেনির সঙ্গে তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য মেয়ে, জামাতা, শিশু নাতনি ও পুত্রবধূও নিহত হয়েছিলেন। ১৯৮৯ সাল থেকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বে থাকা খামেনিকে আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তার নিজ শহর মাশহাদে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে। এর আগে তার মরদেহ কোমে এবং ইরাকের পবিত্র শিয়া ধর্মীয় কেন্দ্র নাজাফ ও কারবালায় নিয়ে যাওয়া হবে। শুক্রবার তেহরানের গ্র্যান্ড প্রেয়ার হলে খামেনি ও তার পরিবারের কফিনগুলো প্রদর্শনের জন্য রাখার পর দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন। অনুষ্ঠানে ইরানের প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্ট স্পিকার এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখা যায়। পাশে জেনারেলদের একটি দল কফিনকে স্যালুট জানিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদের মধ্যে রেভল্যুশনারি গার্ডসের নতুন প্রধান আহমদ ওয়াহিদিও ছিলেন, যিনি গুপ্তহত্যার আশঙ্কায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কখনও জনসমক্ষে আসেননি। চলতি বছরের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ এবং নতুন করে তৈরি হওয়া আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝে এই বিশাল শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানটিকে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছে ইরানি প্রশাসন। কফিনগুলো রাখা হয়েছিল একটি চমৎকার খিলানযুক্ত পটভূমির নিচে, সাদা রঙের একটি উঁচু বেদির ওপর। এর দুই পাশে জাতীয় পতাকা এবং কালো শোক পতাকা ওড়ানো হচ্ছিল, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তিকে একসঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছে। বাংলাদেশ-চীন আলোচনায় নজর রাখছে ভারতবাংলাদেশ-চীন আলোচনায় নজর রাখছে ভারত কফিনের ওপর রাখা হয়েছিল একটি কালো পাগড়ি, যা মহানবী (সা.)-এর বংশধর ধর্মগুরুদের প্রতীক। এর পাশাপাশি রাখা ছিল একটি ভাঁজ করা চারকোনা চাদর, যা ইরানে বিপ্লবী আদর্শ এবং ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। ইরানের তাত্ত্বিক শাসনব্যবস্থায় খামেনি কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই ছিলেন না, বরং নবম শতাব্দীতে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া শিয়া ইসলামের দ্বাদশ ইমামের প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত হতেন। ফলে শত্রুর হামলায় তার এই মৃত্যুকে শিয়া সম্প্রদায়ের চিরায়ত ‘শাহাদাত’ ও শোকের ঐতিহ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। খামেনির মৃত্যুর পর থেকেই শহরের রাস্তায় রাস্তায় ঝুলতে থাকা কালো পতাকাগুলো মূলত সপ্তম শতাব্দীতে শিয়া ইসলামের তৃতীয় ইমাম ইমাম হোসেনের শাহাদাতকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এই পুরো রাষ্ট্রীয় ও প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি বড় ধরনের প্রশ্ন ও গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তিনি এই অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকলেও, রাজনৈতিক মহলে তার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে। নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেহরানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহী বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে চরম উত্তেজনার কারণে এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি নিরাপত্তার স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে। বাবার মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনিই মূলত সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ওই বিমান হামলায় তিনিও আহত হয়েছিলেন বলে খবর মিলেছিল। এরপর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি এবং তার কার্যক্রম কেবল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত রেকর্ড করা বার্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ইসলামী রীতি অনুযায়ী সাধারণত মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাফন করার নিয়ম থাকলেও, যুদ্ধের কারণে দীর্ঘ সময় পর গত মাসের অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তির ওপর ভিত্তি করে এই সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ভারতের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করছেন বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা। এছাড়া কংগ্রেস নেতা সালমান খুরশিদ এবং জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির নেতৃত্বে একটি সর্বদলীয় প্রতিনিধি দলও প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে। খামেনির শেষ বিদায়ে তেহরানে কারা, আমন্ত্রণ পাননি যারা খামেনির শেষ বিদায়ে তেহরানে কারা, আমন্ত্রণ পাননি যারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা পাকিস্তানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির। তেহরানে আবেগঘন পরিবেশে পাকিস্তানের এই নেতাদের স্বাগত জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি এবং স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরানের পাশে থাকা রাশিয়া ও চীনের প্রতিনিধিরাও এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া আঞ্চলিক মিত্রতার প্রতীক হিসেবে হিজবুল্লাহর প্রয়াত নেতা হাসান নাসরুল্লাহর পরিবারের সদস্যরাও শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে এসেছেন। সোমবার তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে একটি বড় শোকমিছিলের পর মঙ্গলবার মরদেহ নেওয়া হবে ইরানের শিয়া ধর্মীয় ব্যবস্থার কেন্দ্র কোমে। বুধবার ইরাকের নাজাফ ও কারবালা হয়ে বৃহস্পতিবার মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজা মাজারের কাছে খামেনির দাফন সম্পন্ন হবে। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিদায়ী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শুক্রবার থেকেই তেহরানে সমবেত হতে শুরু করেছেন বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক উপমন্ত্রী এবং খামেনির শেষকৃত্য কমিটির প্রধান আলি আকবর পুরজামশিদিয়ান জানিয়েছেন, আজ তেহরানে বিদেশি নেতা, কর্মকর্তা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে এই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে। আগামী ৪ থেকে ৮ জুলাই ইরান ও ইরাকের বেশ কয়েকটি পবিত্র শিয়া নগরীতে খামেনির শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা চলবে। এরপর ৯ জুলাই তার নিজ শহর মাশহাদে চূড়ান্ত দাফন সম্পন্ন হবে। তেহরানের রাষ্ট্রীয় শোকসভার মূল কেন্দ্র আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি মোসাল্লা মসজিদে এই আন্তর্জাতিক বিদায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইতোমধ্যে বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদল এবং ৯০ জনেরও বেশি ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কারা তেহরানে খামেনির শেষকৃত্যে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার-প্রধানরা অংশ নিচ্ছেন। ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমিদি এবং প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ইরানের পাশাপাশি ইরাকেও শোক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। খামেনির মরদেহ একদিনের জন্য ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালায় নিয়ে যাওয়া হবে। এছাড়া জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখাইল কাভেলাশভিলি, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন ও আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান ইতোমধ্যে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। পাশিনিয়ান নিজেই একদিন আগে বলেছেন, ‘হ্যাঁ, আমি আগামীকাল যাবো এবং আগামীকালই ফিরে আসবো। অবশ্যই ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনা রয়েছে।’ তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান সংকটে প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও তেহরানে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে থাকছেন পাকিস্তানি সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। খামেনির জানাজা কেন ইরানি শাসনব্যবস্থার জন্য চ্যালেঞ্জখামেনির জানাজা কেন ইরানি শাসনব্যবস্থার জন্য চ্যালেঞ্জ রাশিয়ার পক্ষে এই অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ, যা ক্রেমলিন ও তার সচিবালয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। চীন তাদের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান (সংসদের ডেপুটি স্পিকার) হে উই-কে পাঠাচ্ছে। আজারবাইজানের পক্ষ থেকে মিলি মজলিসের (সংসদ) স্পিকার সাহিবা গাফারোভা, উপপ্রধানমন্ত্রী শাহিন মুস্তাফায়েভ এবং নাখচিভান স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্রের প্রধান জাব্বার মুসায়েভের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছে। এর পাশাপাশি কাতার, লেবানন, সিরিয়া, ভেনিজুয়েলা, বেলারুশ ও উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি হামাস, হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকের শিয়া গোষ্ঠীগুলোর প্রতিনিধিরা তেহরানে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আমন্ত্রণ পায়নি যারা ফক্স নিউজের বরাতে জানা গেছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানালেও নয়াদিল্লি সেখানে তুলনামূলক ‘নিচু স্তরের প্রতিনিধি দল’ পাঠাচ্ছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের এই প্রতিনিধিদলে থাকছেন পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা এবং বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইয়ি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানকে সমর্থন করা দেশগুলোকে এই শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি বলেন, খামেনির মৃত্যুর কারণ হওয়া হামলার নিন্দা না করায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সম্মান অর্জন করতে পারেননি। একই কারণে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক এই সমাবেশের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। ইরানি পুলিশ বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদর দফতরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আব্দুল্লাহি শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে কোনও ধরনের হামলা না চালাতে আমেরিকা ও ইসরায়েলকে সতর্ক করেছেন। অন্যথায় ‘ইরানি জাতির সন্তানদের কাছ থেকে কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে বলে তীব্র হুমকি দেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় (১৩১ দিন) পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে তার নিজস্ব কম্পাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সে তিনি নিহত হন। তার মৃত্যুর পর থেকে জুলাইয়ের শেষকৃত্যের আগ পর্যন্ত আইনি ও ধর্মীয় নির্দেশনাবলি মেনে মরদেহটি হিমাগারে ফরেনসিক মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। ইসলামী রীতি অনুযায়ী মরদেহ দ্রুত, আদর্শগতভাবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাফন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তা সত্ত্বেও বেশ কিছু মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার কারণে ইরানি কর্তৃপক্ষ এই আনুষ্ঠানিকতা পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়। প্রথমত, খামেনির মৃত্যুর পরপরই তেহরানসহ ইরানের অন্যান্য শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়। সক্রিয় বিমান হামলার এই হুমকির মুখে লাখ লাখ মানুষের সমাবেশ ঘটানো এবং বিদেশি অতিথিদের স্বাগত জানানো অসম্ভব ও অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিল। গত জুন মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পালন এবং সংঘাত থামানোর প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পরই কেবল বিশাল জনসমাগমের জন্য প্রয়োজনীয় স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয় কর্তৃপক্ষ। আরাঘচি ও গালিবাফকে হত্যার ছক কষেছিল ইসরায়েলআরাঘচি ও গালিবাফকে হত্যার ছক কষেছিল ইসরায়েল তাছাড়া চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার আশঙ্কার কারণে শীর্ষ নেতাদের জনসমক্ষে আসা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। উদাহরণস্বরূপ, ইসরায়েলের সক্রিয় নজরদারি এবং হত্যার হুমকির কারণে খামেনির ছেলে তথা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার বাবার শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান পুরোপুরি এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত একটি পরিবেশ তৈরি করতে ইরানি কর্তৃপক্ষকে ব্যাপক লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তারা যেকোনও মূল্যে ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি এবং ২০২০ সালে কাসেম সোলাইমানির শেষকৃত্যের মতো ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী হুড়োহুড়ির পুনরাবৃত্তি এড়াতে চেয়েছিল। ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক রাসায়নিক দিয়ে মরদেহ সংরক্ষণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হওয়ায়, সাবেক এই নেতার মরদেহ সংরক্ষণে কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর করেছে। বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে ফরেনসিক মর্গগুলোর ভেতরে হিমঘরে মরদেহটি হিমায়িত করে রাখা হয়েছিল। যদিও এটি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা, তবে শিয়া ফিকহ বা আইনশাস্ত্রে যুদ্ধাবস্থার মতো পরিস্থিতিতে দাফন বিলম্বিত করা এবং হিমায়িত সংরক্ষণাগারে মরদেহ সংরক্ষণের অনুমতি রয়েছে। ফলে সরকারের জন্য এই ধর্মীয় ছাড় বা ফতোয়া পাওয়া সহজ হয়েছিল। ফেব্রুয়ারির সেই বিমান হামলায় খামেনির সঙ্গে তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যও নিহত হন এবং তাদের মরদেহও খামেনির সঙ্গেই সংরক্ষণ করা হয়েছিল। অবশেষে শুক্রবার (৩ জুলাই) আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং তার আত্মীয়দের কফিন তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদ কমপ্লেক্সে এসে পৌঁছেছে। বর্তমানে বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে অনুষ্ঠানের জন্য মরদেহটি সেখানে রাখা হয়েছে। এরপর ইরান ও ইরাকের পাঁচটি শহরজুড়ে এক সপ্তাহব্যাপী বিশাল গণ-শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী শুক্রবার (৯ জুলাই) খামেনির নিজ শহর মাশহাদের অত্যন্ত সম্মানিত ও পবিত্র ইমাম রেজা মাজারে দাফনের মাধ্যমে এই শেষকৃত্যানুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে।যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কয়েক দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় ও দাফন অনুষ্ঠান শুরু হতে যাচ্ছে। খামেনির মৃত্যুর কয়েক মাস পর আয়োজিত এই শেষকৃত্যের সময় তার মরদেহ ইরান এবং প্রতিবেশী ইরাকের বিভিন্ন শহরে নিয়ে যাওয়া হবে। আরাঘচি ও গালিবাফকে হত্যার ছক কষেছিল ইসরায়েলআরাঘচি ও গালিবাফকে হত্যার ছক কষেছিল ইসরায়েল প্রায় চার দশক ধরে ইরানকে নেতৃত্ব দেওয়া খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন। তবে যুদ্ধ চলার কারণে এতদিন তার শেষ বিদায় স্থগিত ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই জানাজা ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার জন্য একটি বড় পরীক্ষা। বিশেষ করে খামেনির শাসনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী চলা বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর রক্তক্ষয়ী দমনপীড়নের ঠিক ছয় মাস পর এই আয়োজন করা হচ্ছে। ফলে এর মাধ্যমে খামেনির পক্ষে কতটা জনসমর্থন রয়েছে, তা যাচাইয়ের চেষ্টা করবে দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্ব। এই লক্ষ্যে সাধারণ জনগণ, সরকারি কর্মচারী এবং আধাসামরিক বাহিনীকে রাস্তায় নামাতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তেহরানে খামেনির মরদেহ, শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুতেহরানে খামেনির মরদেহ, শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি চলায় কর্তৃপক্ষ এখন এই অনুষ্ঠান আয়োজন ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের জনসমক্ষে আনার সাহস পাচ্ছে। কারণ যুদ্ধের সময় ইসরায়েল ইরানের একাধিক শীর্ষ নেতাকে হত্যা করেছে, যার অন্তত একটির ক্ষেত্রে জনসমক্ষে আসার সূত্র ধরে তাদের ট্র্যাক করা হয়েছিল। তবে খামেনির ছেলে এবং ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এই অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আসবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বাবার ওপর হওয়া ওই হামলায় তিনিও আহত হয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয় এবং বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। দিনব্যাপী শেষকৃত্যের কর্মসূচি শনিবার ইরানের রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির মরদেহ প্রদর্শনের মাধ্যমে এই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে, যা রবিবারও চলবে। সোমবার তেহরানের রাস্তায় শোকমিছিল শেষে মরদেহটি ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে শিয়াদের পবিত্র নগরী কোমে নিয়ে যাওয়া হবে এবং মঙ্গলবার সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। খামেনির কফিন হত্যাস্থলে নেওয়ার কারণ কীখামেনির কফিন হত্যাস্থলে নেওয়ার কারণ কী বুধবার খামেনির মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ইরাকের কারবালায়, যেখানে শিয়া মুসলমানদের প্রতিরোধের প্রতীক হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেনের মাজার রয়েছে। কাকতালীয়ভাবে, এই বুধবারেই খামেনির শাসনের বিরুদ্ধে হওয়া বিক্ষোভের বর্ষপূর্তি, যে আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছিলেন। দাফন হবে মাশহাদের পবিত্র মাজারে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরাক থেকে ফিরিয়ে আনার পর ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজা মাজারে খামেনিকে দাফন করা হবে। ইমাম রেজা ছিলেন শিয়া ইসলামের অষ্টম ইমাম। প্রতি বছর লাখ লাখ পুণ্যার্থী এই মাজার জিয়ারত করেন। ইরানি শিয়াদের মতে, যেকোনো দুঃখী বা পাপী ব্যক্তি এখানে এলে মুক্তি পান। এর আগে ২০২৪ সালে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিসহ অনেক প্রখ্যাত শিয়া ধর্মগুরুকে এই মাজারে দাফন করা হয়েছে। খামেনির শেষ বিদায়ের আগে জনসমক্ষে আইআরজিসির ভারপ্রাপ্ত প্রধানখামেনির শেষ বিদায়ের আগে জনসমক্ষে আইআরজিসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান হুড়োহুড়ি ও প্রাণহানির আশঙ্কা লাখ লাখ মানুষের সমাগম হলে অতীতে ইরানে একাধিকবার বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। ১৯৮৯ সালের ৬ জুন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির শেষকৃত্যে লাখ লাখ ইরানি রাস্তায় নেমে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে শোকাকুল জনতা কফিনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে খোমেনির সাদা কাপড়ে মোড়ানো মরদেহটি ভিড়ের মধ্যে পড়ে যায়। ওই বিশৃঙ্খলায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং প্রায় ১১ হাজার মানুষ আহত হন। একইভাবে ২০২০ সালে রেভল্যুশনারি গার্ডসের জেনারেল কাসেম সোলাইমানির দাফন অনুষ্ঠানে হুড়োহুড়িতে অন্তত ৫৬ জন নিহত এবং ২ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন। খামেনির শেষকৃত্যেও এমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। খামেনির কফিনে লাল পতাকা: কী এই প্রতীকী বার্তাখামেনির কফিনে লাল পতাকা: কী এই প্রতীকী বার্তা চুক্তি নিয়ে টানাপোড়েনের মাঝেই শেষকৃত্য গত জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির মাধ্যমে ইরান যুদ্ধের অবসান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির মতো জটিল বিষয়গুলো সমাধানের জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এই চুক্তির অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহে কাতারে কারিগরি আলোচনা শুরু হলেও তা গভীর মতভেদ এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক দিনের পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে মারাত্মকভাবে জটিল হয়ে পড়েছে।ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহবাহী কফিনকে পূর্বঘোষণা ছাড়াই সেই স্থানে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি নিহত হয়েছিলেন। শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানে খামেনির কফিন জনসমক্ষে আনার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি)। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে নিজ বাসভবন প্রাঙ্গণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হন। ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাটি হয়েছিল জোমহুরি স্ট্রিটে। পরে শোকাহত মানুষের জন্য ওই স্থানে ‘রাভাঘ কেশভারদোস্ত’ নামে একটি অস্থায়ী প্রার্থনা স্থান তৈরি করে ইরান। খামেনির কফিনে লাল পতাকা: মরদেহ মৃত্যুর স্থানে নিয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনও ধর্মীয় নিয়ম না থাকলেও, ইরানের এই পদক্ষেপটি শাহাদাত ও স্মরণের গভীর ধর্মীয় রীতিনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইরান মনে করে খামেনি দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন এবং তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে তার হত্যাকারী হিসেবে বিবেচনা করে। দেশটিতে তাকে ‘শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে শিয়া মুসলিমদের কাছে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন দ্বাদশী শিয়া ইসলামে সর্বোচ্চ ধর্মীয় মর্যাদা ‘মারজা-ই তাকলিদ’। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে ৪ জুলাই। ৪ থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত তার কফিন তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। এরপর তার নিজ শহর মাশহাদে চূড়ান্ত জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে। শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, ইমাম রেজা মাজারে তাকে সমাহিত করা হবে। ১৯৮৯ সালের ১১ জুন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির শেষ বিদায়ে আনুমানিক ১ কোটি ২ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। এবার এর চেয়েও বেশি মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ৩৬ বছরেরও বেশি সময় দেশটির নেতৃত্ব দেওয়া এই নেতার শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের আশা, খামেনির শেষ বিদায়ে প্রায় ২ কোটি মানুষ অংশ নেবেন। তাহলে এটি হবে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান। খামেনির কফিন হত্যাস্থলে নেওয়ার কারণ কীখামেনির কফিন হত্যাস্থলে নেওয়ার কারণ কী শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা তার নিজ শহর মাশহাদে অবস্থিত ইমাম রেজা মাজারে দাফনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ওই হামলায় ইরানের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তাও নিহত হন।যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিনের ওপর দেশটির মাশহাদ শহরের ইমাম রেজা মাজারের লাল পতাকা রাখা হয়েছে। আগামী ৯ জুলাই ওই মাজারেই খামেনিকে দাফন করা হবে। এর আগে ইরানে তার শোক ও শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির মিডল ইস্ট অ্যান্ড ইসলামিক পলিটিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাদের হাশেমি আল জাজিরাকে জানান, এই লাল পতাকাটি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হুসাইন ইবনে আলীর আত্মত্যাগের প্রতীক। সপ্তম শতকে কারবালার যুদ্ধে তিনি নিহত হন এবং শিয়া ইসলামে তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : চার মাসেরও বেশি সময় আগে বিমান হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়কে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন প্রস্তুতি নিয়েছে তেহরান। সরকার বলছে, এটি কেবল একটি রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নয়; বরং জাতীয় ঐক্য, রাজনৈতিক প্রতিরোধ এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উপস্থিতির এক বিরল প্রদর্শন। তবে এই আয়োজন ঘিরে একাধিক প্রশ্নও সামনে এসেছে। কেন চার মাস পর দাফন? কেন এত দীর্ঘ সময় ধরে মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়েছে? কেন ইরান ও ইরাকজুড়ে ছয় দিনের অনুষ্ঠান? আর এই বিশাল আয়োজনের মধ্য দিয়ে কী বার্তা দিতে চাইছে তেহরান? ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় আয়োজন, পাঁচ শহরে শেষ বিদায় সরকারি সূচি অনুযায়ী, আগামী শনিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে খামেনির মরদেহ। পরবর্তী কয়েক দিনে রাজধানীতে বৃহৎ শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ নেওয়া হবে পবিত্র শহর কুমে। সেখান থেকে মরদেহ যাবে ইরাকের নাজাফ ও কারবালায়—শিয়া মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র দুটিতে। রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা শেষে মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে এনে ৯ জুলাই জন্মভূমি মাশহাদে দাফন করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ পুরো অনুষ্ঠান ইরান ও ইরাকের মোট পাঁচটি শহরজুড়ে ছয় দিন ধরে চলবে। দুই কোটির সমাগম— বাস্তবতা নাকি রাজনৈতিক বার্তা? ইরানের প্রশাসনের ধারণা, পুরো কর্মসূচিতে দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। যদি এই সংখ্যা বাস্তবে অর্জিত হয়, তাহলে এটি হবে ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠান। এই সম্ভাব্য জনসমাগম সামাল দিতে: সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। বাসিজ মিলিশিয়া মোতায়েন করা হয়েছে। তেহরানের বহু এলাকায় যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি অফিস কয়েকদিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি শহরের আকাশসীমায় সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ৩০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি ইরান বলছে, বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। তালিকায় রয়েছে— রাশিয়া চীন পাকিস্তান ভারত জর্জিয়া কিউবা এছাড়া প্রায় ৯০টি দেশের ধর্মীয় নেতাদের উপস্থিতির কথাও জানিয়েছে তেহরান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিজেই পার্লামেন্টে ভাষণ দিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বাংলাদেশ থেকেও জাতীয় সংসদের স্পিকার সরকারি সফরে তেহরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। ৬০০ বিদেশি সাংবাদিক, প্রামাণ্যচিত্র ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি ইরানের সংস্কৃতি ও ইসলামি দিকনির্দেশনা বিষয়ক মন্ত্রী আব্বাস সালেহি জানিয়েছেন, প্রায় ৬০০ বিদেশি সাংবাদিক অনুষ্ঠান কাভার করবেন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশেষ সম্প্রচার থাকবে। পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করা হচ্ছে। আলোকচিত্র প্রদর্শনী আয়োজন করা হচ্ছে। সাংস্কৃতিক কর্মসূচিও থাকবে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আয়োজন শুধু শোক প্রকাশ নয়; বরং ইরানের সামাজিক সংহতি ও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার প্রদর্শন। কেন চার মাস পর দাফন? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখানেই। ইসলামে সাধারণত দ্রুত দাফনের ওপর জোর দেওয়া হয়। তাহলে চার মাস পর কেন? বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ রয়েছে— ১. নিরাপত্তা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বড় জনসমাগম আয়োজন সম্ভব ছিল না। ২. যুদ্ধ পরিস্থিতি যুদ্ধ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়। ৩. রাজনৈতিক বার্তা বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ প্রস্তুতির মাধ্যমে ইরান আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদের ঐক্য ও প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছে। মরদেহ কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে? এ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষক ড. মোহাম্মদ ওমরের মতে, ইসলামী শরিয়ায় রাসায়নিকভাবে মরদেহ সংরক্ষণ নিরুৎসাহিত। তবে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে শীতলীকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে মরদেহ দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায়। তার মতে, ফরেনসিক মর্গে দীর্ঘ সময় মরদেহ রাখা অস্বাভাবিক নয়। খামেনির ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা যায়। তবে তিনি আরও বলেন, যদি হামলায় মরদেহ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে জনসমক্ষে সম্পূর্ণ মরদেহ প্রদর্শনের সম্ভাবনা সীমিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কঠোর সতর্কবার্তা শেষ বিদায়ের আগে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। খাতাম আল-আনবিয়া সদর দফতরের কমান্ডার আলি আবদোল্লাহি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছেন। এই অবস্থায় পুরো অনুষ্ঠান ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহল। শক্তির প্রদর্শন নাকি রাষ্ট্রীয় শোক? বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়োজনের তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য থাকতে পারে— প্রথমত, অভ্যন্তরীণভাবে জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেওয়া। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিকভাবে দেখানো যে নেতৃত্ব হারালেও রাষ্ট্রের কাঠামো অটুট রয়েছে। তৃতীয়ত, প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক ও প্রতীকী বার্তা দেওয়া যে ইরান এখনও বড় জনসমর্থন সংগঠিত করতে সক্ষম। যা জানা গেছে এক নজরে ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় ইরান ও ইরাকের পাঁচ শহরে অনুষ্ঠান সম্ভাব্য উপস্থিতি ১.৫–২ কোটি মানুষ ৩০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি প্রায় ৯০ দেশের ধর্মীয় নেতার অংশগ্রহণের দাবি ৬০০ বিদেশি সাংবাদিক সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ৯ জুলাই মাশহাদে দাফনের পরিকল্পনা বিশ্লেষণ খামেনির শেষ বিদায় শুধু একটি রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নয়—এটি ইরানের জন্য একটি রাজনৈতিক মঞ্চও। শোক, ধর্ম, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা—সবকিছু মিলিয়ে এই আয়োজন মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী ঘটনা হয়ে উঠতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নিজেদের মধ্যে একটি যোগাযোগ চ্যানেল খোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কাতারে সংলাপ শেষ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরকারি প্রতিনিধিরা। বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা ইরনাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। এই চ্যানেল খোলার মূল উদ্দেশ্য হবে আগামী ৬০ দিন ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির কোনো ধারা বা শর্ত লঙ্ঘন হলে উভয়পক্ষ যেন তাৎক্ষণিকভাবে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যে দিয়েই শেষ হয়েছে কাতার সংলাপ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এবং তারপর টানা ৪০ দিন ধরে সংঘাত শেষে গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র এবং এ কারণেই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ইসলামী বিশ্বের রাজনৈতিক ও কৌশলগত ঐক্য জোরদারের লক্ষ্যে শক্তিশালী মুসলিম দেশগুলোর একটি কার্যকর জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এমন এক সময় এই আহ্বান এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সংকট, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয় গড়ে তোলা জরুরি। তার মতে, ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই মুসলিম দেশগুলোকে অভিন্ন স্বার্থ রক্ষা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে। পাকিস্তানকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখছে তেহরান বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের সরকার, জনগণ এবং সামরিক নেতৃত্বের ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিশেষ করে আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইসলামাবাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে তেহরান-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও গভীর করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে এই সফর। পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক চাপের মুখেও ইরানের সরকার, জনগণ এবং সশস্ত্র বাহিনী ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। তার দাবি, এই ঐক্যই প্রতিপক্ষের কৌশলগত লক্ষ্য ব্যর্থ করেছে। ‘প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনো আলোচনা নয়’ ইসলামাবাদে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতা করা হবে না। তার ভাষ্য, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। “যদি ইরান প্রতিরক্ষার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি না করত, তাহলে দেশটি গাজা উপত্যকার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারত,” বলেন তিনি। পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করার দাবি জানিয়ে আসছে। তিনি পশ্চিমা বিশ্বের মানবাধিকার অবস্থানেরও সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন, তাদের ঘোষিত নীতি ও বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৈপরীত্য রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ করিডোর: কেন গুরুত্বপূর্ণ? অন্যদিকে, বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ওমান। ওমানের ম্যারিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার জানিয়েছে, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)-এর সহযোগিতায় একটি অস্থায়ী ট্রানজিট করিডোর বা নিরাপদ নৌপথ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ এবং টোলমুক্ত ও নিরাপদ নৌপরিবহন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে ঘোষণায় ইরানের ভূমিকা বা অবস্থান সম্পর্কে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের নতুন বাস্তবতা? বিশ্লেষকদের মতে, মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের আহ্বান, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে আপসহীন অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা উদ্যোগ—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এই অঞ্চলের যেকোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে ইরানের বার্তা স্পষ্ট—তেহরান একদিকে মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য চাইছে, অন্যদিকে নিজের সামরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসতে রাজি নয়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দক্ষিণ লেবাননে চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ভল্ফগ্যাং পুস্তাইয়ের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে কেবল সীমান্ত সংঘাত হিসেবে দেখলে ভুল হবে; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ। আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশ্লেষণধর্মী সাক্ষাৎকারে পুস্তাই বলেছেন, তেহরানের প্রধান লক্ষ্য এখন দক্ষিণ লেবাননের সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যে চাপ সৃষ্টি করা। তার মতে, ইরান এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থানের পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। কোথায় দেখছেন সুযোগ? পুস্তাইয়ের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ইরানের কৌশল শুধু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সম্পর্ককে ঘিরে নয়। বরং এটি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যকার সম্ভাব্য মতপার্থক্যকেও কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে। তার মতে, তেহরান বিশ্বাস করে যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে দুই মিত্র দেশের কৌশলগত অগ্রাধিকারের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হতে পারে। আর সেই ব্যবধানই ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিতে পারে। লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান থামানো কি সম্ভব? বিশ্লেষকের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান অবশ্যই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ দেখতে চায়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তিনি বলেন, তেহরান, বৈরুত, হিজবুল্লাহ, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র—সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই জানে যে এই লক্ষ্য অর্জন সহজ নয়। কারণ ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থে হামলার জবাবে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার নীতি দীর্ঘদিনের। ফলে সংঘাতের মাত্রা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থাকলেও ময়দানের বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল বলে মনে করছেন তিনি। ট্রাম্পের কূটনীতি বনাম ইসরায়েলের নিরাপত্তা হিসাব পুস্তাই মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েল এমন অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করবে যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যায়, তাহলে ইসরায়েল প্রয়োজনীয় সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে দ্বিধা করবে না। অর্থাৎ কূটনৈতিক সমন্বয় বজায় রাখার চেষ্টা থাকলেও নিরাপত্তা প্রশ্নে তেল আবিবের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কৌশলগত সমীকরণ বিশ্লেষকের মূল্যায়নে, বর্তমান সংকটকে ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছে। কারণ সরাসরি সামরিক সংঘাতে না গিয়ে প্রতিপক্ষ জোটের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দূরত্ব সৃষ্টি করা তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর কৌশল হতে পারে। তার মতে, তেহরানের বর্তমান মনোযোগ মূলত ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সম্পর্কের ভেতরে সম্ভাব্য ফাটল তৈরি করার দিকে। আর দক্ষিণ লেবাননের চলমান পরিস্থিতি সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কেবল সীমান্ত সংঘাত বা সামরিক অভিযানের প্রশ্ন নয়; এটি বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে প্রভাব বিস্তার, জোট রাজনীতি এবং কৌশলগত ভারসাম্যের লড়াইও। ভল্ফগ্যাং পুস্তাইয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান এখন সরাসরি সংঘর্ষের চেয়ে প্রতিপক্ষের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে কাজে লাগানোর পথেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে শুধু নিরাপত্তা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর কোনো ধরনের ট্রানজিট টোল আরোপ করা হবে না বলে জানিয়েছে ইরান। তবে একইসঙ্গে দেশটি স্পষ্ট করেছে, প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে নির্দিষ্ট কিছু সেবার বিনিময়ে ‘সার্ভিস ফি’ পরিশোধ করতে হতে পারে। ইরানের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক আইন, সমুদ্রপথ ব্যবস্থাপনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ, টোল ও সার্ভিস ফির মধ্যে পার্থক্য থাকলেও বাস্তবে এর আইনগত বৈধতা কতটুকু—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ। ট্রাম্পের ঘোষণার পর নতুন আলোচনা বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে রোববার (১৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ঘোষণার পর। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি সমঝোতার ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হয়েছে এবং এটি স্থায়ীভাবে ‘টোলমুক্ত’ থাকবে। তবে ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের মাত্র একদিন পরই ইরান জানিয়ে দেয়, প্রণালিটি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে কিছু ধরনের চার্জ বা ফি নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—বাস্তবে হরমুজ প্রণালি কি সত্যিই ‘টোলমুক্ত’ থাকছে, নাকি নতুন নামে আর্থিক দায় বহাল রাখা হচ্ছে? কী বলছে ইরান? ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, “আমরা কোনো ট্রানজিট টোল আরোপের পরিকল্পনা করছি না; তবে যেসব সেবা প্রদান করা হবে, তার বিনিময়ে ফি নেওয়া হবে।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সেবাগুলোর মধ্যে থাকতে পারে— পরিবেশ সুরক্ষা কার্যক্রম; নৌচলাচল নিরাপত্তা সহায়তা; সামুদ্রিক ব্যবস্থাপনা; জরুরি প্রতিক্রিয়া ও নজরদারি সেবা। তবে এসব সেবার আওতা, ফি নির্ধারণের পদ্ধতি কিংবা কোন ধরনের জাহাজকে অর্থ পরিশোধ করতে হবে—সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি তেহরান। কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি? হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে কৌশলগত সামুদ্রিক করিডরগুলোর একটি। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো থেকে রপ্তানি হওয়া বিপুল পরিমাণ জ্বালানি এই পথ দিয়ে বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ অতিক্রম করে পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালিটিতে যেকোনো ধরনের বিধিনিষেধ, অতিরিক্ত চার্জ বা নিরাপত্তা সংকট সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, পরিবহন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। টোল ও সার্ভিস ফির পার্থক্য কোথায়? আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনে সাধারণভাবে ‘ট্রানজিট প্যাসেজ’ ব্যবস্থার আওতায় গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর সরাসরি টোল আরোপ বিতর্কিত হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে কোনো রাষ্ট্র যদি নৌ-নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা বা বিশেষ সেবা প্রদান করে, তাহলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ বা প্রশাসনিক ফি আদায়ের সুযোগ থাকতে পারে। এখানেই মূল বিতর্ক। সমালোচকদের প্রশ্ন হলো—যদি ফি বাধ্যতামূলক হয় এবং জাহাজ চলাচলের শর্ত হিসেবে আরোপ করা হয়, তাহলে সেটি কার্যত টোলের বিকল্প রূপে পরিণত হবে কি না। অন্যদিকে ইরানের অবস্থান হলো, এটি প্রণালি ব্যবহারের জন্য নয়; বরং প্রদত্ত সেবার বিনিময়ে নেওয়া অর্থ। সামনে কী হতে পারে? বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে ‘টোল’ শব্দটি এড়িয়ে ‘সার্ভিস ফি’ ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান একদিকে আন্তর্জাতিক আইনের সীমারেখা মেনে চলার বার্তা দিতে চাইছে, অন্যদিকে প্রণালির ব্যবস্থাপনায় নিজেদের ভূমিকা ও প্রভাবও বজায় রাখতে চায়। তবে এই নীতির বাস্তব প্রয়োগ, চার্জের ধরন এবং আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর প্রতিক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করবে নতুন এই ব্যবস্থাকে বৈশ্বিক সম্প্রদায় কতটা গ্রহণযোগ্য বলে মনে করে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা শুধু আঞ্চলিক ভূরাজনীতির নয়; বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন এবং বাণিজ্যিক নৌপরিবহনের ভবিষ্যতের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দীর্ঘ কয়েক দশকের বৈরিতা, পারমাণবিক উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি সমঝোতার খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার দাবি সামনে এলেও এখনো পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও তেহরানের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ যৌথ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ইউরোপের চার দেশের অবস্থান যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে বাস্তব ও ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেলে তেহরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। দেশগুলো বলেছে, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই তারা যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রাখবে। এই অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সম্ভাব্য চুক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার আওতায় সেটিকে সীমাবদ্ধ রাখা। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও হরমুজ প্রণালির প্রশ্ন কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে যে, সম্ভাব্য চুক্তি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কমার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারী ও জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক বার্তা পাঠিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, কিন্তু আনুষ্ঠানিক নথি কোথায়? যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন যে ইরানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, যিনি নিজেকে আলোচনার মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলোর একজন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, হোয়াইট হাউস কিংবা ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে চুক্তির প্রকৃত কাঠামো, বাস্তবায়ন পদ্ধতি কিংবা আইনি বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। জেনেভায় স্বাক্ষরের সম্ভাবনা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়েছেন, সম্ভাব্য স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর উভয় পক্ষের মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে নির্ধারিত তারিখে স্বাক্ষর সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে কূটনৈতিকভাবে ‘চলমান আলোচনা’ হিসেবেই দেখছেন অনেক পর্যবেক্ষক। বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া জাতিসংঘ মহাসচিব এই সমঝোতাকে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বিশেষভাবে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার অগ্রগতি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ফরাসি প্রেসিডেন্ট দ্রুত চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়টিকেও আঞ্চলিক শান্তির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, চূড়ান্ত স্বাক্ষরের আগে যেকোনো উসকানিমূলক বক্তব্য বা সম্ভাব্য নাশকতা পুরো প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের বার্তা অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বলেছেন, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা প্রয়োজন। তারা একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ দূর করতে হবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আশা প্রকাশ করেছেন যে, সম্ভাব্য চুক্তি হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ ও অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করবে এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিরোধ সমাধানে সহায়ক হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রচার বনাম বাস্তবতা ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং কয়েকটি দেশীয় সংবাদমাধ্যম চুক্তিটিকে ‘ইরানের বিজয়’ হিসেবে উপস্থাপন করছে। তাদের দাবি, দীর্ঘ কূটনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় আসতে বাধ্য হয়েছে। তবে এসব প্রতিবেদনে কোনো স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র, আনুষ্ঠানিক যৌথ বিবৃতি বা আন্তর্জাতিকভাবে যাচাইকৃত নথি প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া ইরান সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা এখনো সরাসরি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেননি। কী বলছেন বিশ্লেষকরা? আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—দাবি ও বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করা। তাদের মতে, সম্ভাব্য চুক্তি কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর, চুক্তির শর্ত প্রকাশ এবং বাস্তবায়ন কাঠামো নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা অধিক যুক্তিযুক্ত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য এই সমঝোতা নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ঘটনা। তবে এখনো পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের বড় অংশই রাজনৈতিক বক্তব্য, কূটনৈতিক ইঙ্গিত এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবির ওপর নির্ভরশীল। ফলে প্রকৃতপক্ষে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে কি না, নাকি আলোচনা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে—সেই প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর পাওয়া যাবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, চুক্তির লিখিত নথি এবং আন্তর্জাতিক যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতগুলোতে বিস্ফোরক অস্ত্রের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘বিস্ফোরক অস্ত্র পর্যবেক্ষণ’-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালে বিস্ফোরক অস্ত্রের হামলায় নিহত বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে ৫৬ শতাংশের মৃত্যুর জন্য ইসরাইল দায়ী। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে এমন বিস্ফোরক হামলার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৫২ শতাংশ বেড়েছে। এসব ঘটনার প্রায় ৯০ শতাংশই ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নথিভুক্ত হয়েছে। বেসামরিক জনগণই সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সংস্থাটির বিশ্লেষণে দেখা যায়, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিস্ফোরক অস্ত্র ব্যবহারের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নারী, শিশু ও বয়স্করা। বেসামরিক হতাহতের হার গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থার গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাপক সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বিস্ফোরক অস্ত্রের ব্যবহার একটি বিপজ্জনক প্রবণতায় পরিণত হচ্ছে। তার ভাষায়, বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর ধারাবাহিক ক্ষয়ক্ষতি চলতে থাকলে এটি বৈশ্বিক সংঘাতের একটি ‘স্বাভাবিক বাস্তবতা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে। প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানবিক আইন কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। যুদ্ধের অভিঘাত পৌঁছেছে ইউরোপের অর্থনীতিতেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। যুক্তরাজ্যের সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ওএনএস)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে দেশটির অর্থনীতি ০.১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এর আগে মার্চ মাসে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ০.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল। অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে, যা নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করেছে। ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস বলেন, সংঘাত শুরুর আগে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ছিল এবং মূল্যস্ফীতি কমছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব যুক্তরাজ্যের ওপরও পড়বে বলে তিনি স্বীকার করেন। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ ভোক্তা উভয়ই চাপে পড়েছেন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার অস্থিরতা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথকে আরও কঠিন করে তুলছে। স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র এদিকে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলমান সংঘাতের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের অন্তত ৫০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর সদরদফতর, বিমানঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র এবং নৌবাহিনীর বিভিন্ন অবকাঠামো। বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা একাধিক সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হামলায় ইরানের যুদ্ধবিমান, নৌযান এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে ১৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধবিরতি, কিন্তু উত্তেজনা বহাল সাম্প্রতিক সময়ে একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ইসরাইল ও ইরানও একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়। যদিও এক মাসের বেশি সময় ধরে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও আঞ্চলিক উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে ইরানকে পরাজিত করেছে। তবে বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণ বলছে, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরও ইরান কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির টানেল প্রবেশপথ পুনর্নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ যুদ্ধের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্যাটেলাইট তথ্যের সীমিত প্রাপ্যতা। বিশ্লেষকদের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর অঞ্চলটির স্যাটেলাইট চিত্রের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্চ মাসে পেন্টাগন স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্ল্যানেটকে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ এলাকার নতুন ছবি প্রকাশ সীমিত করার অনুরোধ জানায়। প্ল্যানেটের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল যাতে স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করে কোনো প্রতিপক্ষ শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র বা ন্যাটো অংশীদারদের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে না পারে। সামনে কী অপেক্ষা করছে? সামরিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকট এখনো শেষ হয়নি। বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি, ইরানের সামরিক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা—সব মিলিয়ে এই সংঘাতের প্রভাব আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার ওপর।
ইত্তেহাদনিউজ,অনলাইন : মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন এক অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ধারণা ছিল, সামরিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে দুর্বল করে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নিজেদের অনুকূলে আনা সম্ভব হবে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাস্তবতা তাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে দ্রুত পরাজিত করা সম্ভব হয়নি। বরং পরিস্থিতি এখন এমন এক দীর্ঘমেয়াদি ও ক্ষয়িষ্ণু সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে, যা যেকোনো সময় বৃহত্তর যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। ইরানের সক্ষমতা নিয়ে নতুন হিসাব সাম্প্রতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, প্রণালির কাছে একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি। এই ঘটনাকে অনেক পর্যবেক্ষক ওয়াশিংটনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও দীর্ঘমেয়াদি চাপের মধ্যেও ইরান এখনও আঞ্চলিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। ইরানের দৃষ্টিতে, এই সংঘাতে টিকে থাকাই এক ধরনের বিজয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত নৌপথের ওপর প্রভাব বজায় রাখা তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ট্রাম্পের সামনে কঠিন সমীকরণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। একদিকে তাকে শক্ত অবস্থান প্রদর্শন করতে হচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত না করে কূটনৈতিক পথও খোলা রাখতে হচ্ছে। মার্কিন রাজনৈতিক মহলে যুদ্ধ নিয়ে সমর্থন আগের তুলনায় কমেছে বলেও বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। ফলে ট্রাম্প এমন একটি সমাধান খুঁজছেন, যা অভ্যন্তরীণভাবে ‘বিজয়’ হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার পথও তৈরি করবে। তবে ইতিহাসের বহু সংঘাতের মতো এখানেও একটি বাস্তবতা সামনে এসেছে—যুদ্ধ শুরু করা যতটা সহজ, স্পষ্ট বিজয়ের মাধ্যমে তা শেষ করা ততটাই কঠিন। নেতানিয়াহুর কৌশল নিয়ে প্রশ্ন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে ইসরাইলের প্রধান কৌশলগত প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করে আসছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে সামরিক শক্তির মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বারবার বলেছেন। তবে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সেই কৌশলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইসরাইলি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে দেওয়ার যে লক্ষ্য ছিল, তা এখন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কোথায় ভুল হয়েছিল? ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের নীতিনির্ধারকদের একটি বড় অংশ ধারণা করেছিলেন যে, দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক সংকট এবং আঞ্চলিক মিত্রদের দুর্বল হয়ে পড়ার কারণে ইরান অভ্যন্তরীণভাবে ভেঙে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। বরং কয়েক দশক ধরে বহিরাগত চাপ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা, শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামো এবং আদর্শিক ভিত্তির কারণে দেশটি এখনও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সহনশীলতা ও অভিযোজন ক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছিল। কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণ এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের কেশম দ্বীপে নতুন করে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় দুপুরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজগান প্রদেশ এবং পারস্য উপসাগর উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনা মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলীয় কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে উভয় পক্ষই হামলা বন্ধের ঘোষণা দেয়। তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড সতর্ক করে জানিয়েছে, নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার জবাব আরও কঠোর হবে। আঞ্চলিক কূটনীতির তৎপরতা মার্কিন হামলার পর সৌদি আরব ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথকভাবে টেলিফোনে কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে তেহরান। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সামনে কী? বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি বড় কূটনৈতিক সমঝোতা ছাড়া সংকট দ্রুত নিরসনের সম্ভাবনা সীমিত। হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য নতুন নিরাপত্তা সংকটের মুখে পড়তে পারে। ফলে যুদ্ধ ও কূটনীতির মধ্যকার টানাপোড়েন এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্র, ইরান বা ইসরাইলের নয়; এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে লেবানন, ইরান ও ইসরায়েলকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ। একদিকে দক্ষিণ লেবাননে প্রাণঘাতী ইসরাইলি হামলা, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল ইস্যুতে ইরানের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন নিষেধাজ্ঞা—সব মিলিয়ে অঞ্চলটি আবারও সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। দক্ষিণ লেবাননে প্রাণহানি লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নাবাতিয়েহ গভর্নরেটের জেফতা শহরে ভোররাতে চালানো ইসরাইলি হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন সিরীয় শিশু ও একজন নারী রয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত আটজন। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে আহতদের চিকিৎসা চলছে। হামলার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ লেবাননে ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা সীমান্তজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে, যা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইইউর নজিরবিহীন পদক্ষেপ এদিকে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে শান্তি আলোচনা ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির জটিল চক্রে আটকে আছে এবং হরমুজে ইরানি ড্রোন কার্যক্রম সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইইউ জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সম্পদ জব্দ এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নৌ শাখার মুখপাত্র মোহাম্মদ আকবরজাদেহ এবং ইরানের তেল রপ্তানি খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি হামিদ হোসেইনির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ইইউর নতুন ‘নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা’ নীতির প্রথম বাস্তব প্রয়োগ, যা ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত বহন করছে। যুদ্ধ নয়, আলোচনার পথও খোলা রাখতে চায় তেহরান সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকবে। তার ভাষায়, “কূটনীতি এবং প্রতিরক্ষা জাতীয় শক্তির দুটি ডানা। আমরা যুদ্ধক্ষেত্র কিংবা আলোচনার টেবিল—কোনোটিই ত্যাগ করিনি।” তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কোনো ধরনের চাপ বা হুমকির মুখে তেহরান পিছু হটবে না। যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করছে ইরান সংঘাতের নতুন পর্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি দায়ী করছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেন, ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপকে ওয়াশিংটনের নীতি থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব সমন্বয় ও সহযোগিতা ছাড়া ইসরাইল এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই বলে আসছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার পথ খুঁজছে। বৈরুতে আরও বড় হামলার প্রস্তাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের সাম্প্রতিক বক্তব্য। নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি নাকি প্রস্তাব দিয়েছেন, ইরান থেকে ছোড়া প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়েহ এলাকায় ২০ থেকে ৩০টি ভবনে হামলা চালানো উচিত। দাহিয়েহকে হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্মোট্রিচের মতে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর পরিবর্তে লেবাননে হিজবুল্লাহর সক্ষমতা দুর্বল করা কৌশলগতভাবে বেশি কার্যকর হবে। তবে মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, এমন নীতি বাস্তবায়িত হলে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়বে এবং পুরো অঞ্চল আরও গভীর সংকটে নিমজ্জিত হতে পারে। বড় প্রশ্ন: যুদ্ধ নাকি কূটনীতি? বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে প্রতিটি সামরিক পদক্ষেপ নতুন পাল্টা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিচ্ছে। লেবাননে হামলা, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ইসরাইলের অভ্যন্তরে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের আহ্বান—সবকিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে উত্তেজনা কেবল দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে কূটনৈতিক উদ্যোগ কার্যকর না হলে মধ্যপ্রাচ্য আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের দিকে এগিয়ে যেতে পারে, যার প্রভাব জ্বালানি বাজার থেকে শুরু করে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও পড়তে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইরান নিজেকে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করার একেবারে দ্বারপ্রান্তে রয়েছে এবং দেশটি একটি পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটানোর হুমকি দিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র সাবেক বিশ্লেষক ল্যারি জনসন। জাজিং ফ্রিডম পডকাস্টে বিচারক অ্যান্ড্রু নেপোলিটানোর সঙ্গে আলোচনায় ল্যারি জনসন দাবি করেন, পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে ‘রেড অ্যালার্ট’ বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। এই দাবির মাধ্যমে ২৯ মে ইসহাক দার ও মার্কো রুবিওর বৈঠক নতুন করে আলোচনায় আসে। যদিও বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার কথা বলা হয়েছিল, তবে আলোচনার প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অবশ্য পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবিটি সরাসরি ও স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে কোনও গোপন প্রতিবেদন শেয়ার করার খবরকে ‘অনুমাননির্ভর ও মিথ্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছে ইসলামাবাদ। তবে ল্যারি জনসনের দাবি অনুযায়ী, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই পরমাণু অগ্রগতির বিষয়টি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে অবহিত করেছেন। একই ধরনের দাবি করেছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক পেপে এসকোবারও। তিনি দাবি করেন, ইরান অভ্যন্তরীণ পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণের মাধ্যমে তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে। একদিকে ওমান উপসাগরে অবস্থানরত একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছে ইরান, অন্যদিকে নতুন করে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে লেবানন ও ইসরায়েল। পরস্পর-সংযুক্ত এই দুই ঘটনাকে বিশ্লেষকরা বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটের অংশ হিসেবে দেখছেন। ইরানের অভিযোগ, ওমান উপসাগরে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন কর্মকাণ্ডের সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের দাবি কী? বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৩ জুন) ইরানের নৌবাহিনী দাবি করে যে তারা ওমান উপসাগরে অবস্থানরত একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারকে লক্ষ্য করে পদক্ষেপ নিয়েছে। ইরানি নৌবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন, মার্কিন আগ্রাসী আচরণ এবং ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে পরিচালিত কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছিল। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর জাহাজটিকে শনাক্ত করা হয় এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ইরান আরও দাবি করেছে, তারা ওই জাহাজকে একটি “শত্রুতামূলক তৎপরতার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র” হিসেবে বিবেচনা করে পদক্ষেপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ইরানের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের উপস্থাপিত তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ নিরাপদ রয়েছে এবং নির্ধারিত কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো, অঞ্চলে তাদের নৌ-উপস্থিতি আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক চলাচল নিশ্চিত করার অংশ। কেন গুরুত্বপূর্ণ ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি? বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত সামুদ্রিক করিডর হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি তেল ও গ্যাস এই নৌপথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে এই অঞ্চলে সামান্য সামরিক উত্তেজনাও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক অবস্থানগত সংঘাতের ঝুঁকি নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। একই সময়ে যুদ্ধবিরতিতে লেবানন ও ইসরায়েল অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি সংঘাতপূর্ণ ফ্রন্টে আপাতত উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, লেবানন ও ইসরায়েল নতুন করে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখার বিষয়ে দুই পক্ষ নীতিগত সমঝোতায় পৌঁছেছে। এ চুক্তির আওতায় দক্ষিণ লিতানি নদী অঞ্চল থেকে হিজবুল্লাহ সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব গ্রহণ করবে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী। সংঘাতের পেছনের প্রেক্ষাপট গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। পরবর্তী সময়ে মার্চ মাসে দক্ষিণ লেবাননে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। এর জবাবে হিজবুল্লাহও পাল্টা হামলা চালায়। সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয়ে সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে এক হাজারেরও বেশি লেবাননি নিহত হয়েছেন। এছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বহু মানুষ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অবকাঠামো। আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য কী বার্তা? মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি একটি দ্বৈত বাস্তবতা তুলে ধরছে। একদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমুদ্রপথে উত্তেজনা বাড়ছে, অন্যদিকে লেবানন-ইসরায়েল ফ্রন্টে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে সীমান্ত এলাকায় সহিংসতা কমতে পারে। তবে একই সময়ে ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বৃহত্তর অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা পুরোপুরি কাটবে না। মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও কূটনৈতিক সমীকরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং লেবাননকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ আগামী সপ্তাহগুলোতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।