ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, অতীতে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী যুগে রাষ্ট্র গণমাধ্যমের দিকে চোখ রাঙিয়ে কথা বলত। তবে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। আমরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত সমস্যা সমাধানে প্রকৃত ‘সহযোগী অংশীদার’ হিসেবে কাজ করতে চাই। তিনি বলেন, ‘১৬ জুন সংবাদপত্রের কালো দিবস। গণমাধ্যমের সংকট এবং সাংবাদিকতা পেশার কালো পরিবেশ এখন একাকার হয়ে গেছে। তাই কেবল ৫০ বছর আগের সমস্যার আলাপের মধ্যে নিজেদের আটকে না রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল মাধ্যমের নতুন চেহারা ও চ্যালেঞ্জ অনুধাবন করে তার উদ্ভাবনী সমাধান বের করতে হবে।’ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ডিইউজের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। ইতিহাসের প্রেক্ষাপট টেনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি সংবিধানে চতুর্থ সংশোধনী অন্তর্ভুক্তের মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল চেতনাকে হত্যা করে একদলীয় শাসন কায়েম করা হয়েছিল। সেদিনের স্বৈরাচারী শাসকরা বুঝতে পেরেছিল, জনগণের কণ্ঠস্বর ও ক্ষোভ রোধ করতে গণমাধ্যমকে গলা টিপে হত্যা করতে হবে; নতুবা তারা রক্ষা পাবে না। সে কারণে ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন তারা সংবাদপত্রের কণ্ঠস্বরকে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা করেছিল। তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের ভাইরাসের জীবনী আমাদের ভালো করে পাঠ করা দরকার। আমাদের মনের অজান্তে লুকিয়ে থাকা স্বৈরাচারী মানসিকতার বিরুদ্ধে তা ‘অ্যান্টিভাইরাস’ হিসেবে কাজ করবে।’ তথ্যপ্রযুক্তির বর্তমান চরিত্র তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ৫০ বছর আগে কেবল ছাপার অক্ষরের গণমাধ্যম ছিল। কিন্তু এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ঘরে বসেই প্রতিনিয়ত সত্য কিংবা বিকৃত তথ্য উৎপাদন করা যাচ্ছে। পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান প্রযুক্তির অপব্যবহারের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তিগত সংকটের নতুন চেহারা আমাদের অনুধাবন ও সমাধান করতে হবে। এর বাইরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ‘সিটিজেন জার্নালিজম’ বা নাগরিক সাংবাদিকতার বাস্তবতাকে অস্বীকারের সুযোগ নেই, বরং একে কাঠামোবদ্ধ করতে হবে। এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নতুন আইন প্রণয়ন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মন্ত্রী বলেন, সরকার যতই স্বাধীনতা দিক না কেন, মিডিয়া মালিকরা যদি স্বাধীনতা ও সঠিক বেতন-ভাতা না দেয় এবং মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ না রাখে, তবে সাংবাদিকরা স্বাধীন হতে পারবে না। রাষ্ট্রকে অবশ্যই সাংবাদিকদের পেশাগত আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যে গণমাধ্যম নিজেকে ‘শিল্প প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে দাবি করবে, তাকে অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরিচালিত হতে হবে। একই সঙ্গে কর্মচারীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তবে মুনাফাভিত্তিক শিল্পের বাইরে যেসব গণমাধ্যম কেবল জনকল্যাণে নিয়োজিত থাকবে, তাদের রাষ্ট্র বিশেষ প্রণোদনা বা ইনসেনটিভ এবং সহযোগিতা দেবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই এডিটরস কাউন্সিল ও টেলিভিশন অ্যাসোসিয়েশনসহ সব অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে। খুব শিগগিরই কোয়াসি-জুডিশিয়াল (আধা-বিচারিক) ক্ষমতাসহ একটি শক্তিশালী ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠন করা হবে, যা ফ্যাসিবাদ-উত্তর বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হবে। প্রধান অতিথি ও বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য সরকারে একটি উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ‘নীতি নির্ধারণী ফোরাম’ রাখা দরকার, যা তথ্য মন্ত্রণালয়কে নিয়মিত গাইড করবে। তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম যদি সঠিক নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রকে সবসময় প্রশ্নের মুখোমুখি রাখতে পারে, তবে রাষ্ট্র ও সরকার কোনো ভুল করতে পারবে না, দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাবে।’ আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও বাংলা ভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক এবং প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মারুফ কামাল খান সোহেল। এছাড়াও বক্তব্য দেন, বিএফইউজে’র সহ সভাপতি খায়রুল বাশার, এ কে এম মহসিন, সহকারী মহাসচিব ড. সাদিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক শাহজাহান সাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদসহ দেশের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে সবচেয়ে বেশি ইমেজ ক্ষুণ্ন হয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের। এ সময়ে এ মন্ত্রণালয়ে তেমন কোনো কাজ হয়নি। সচিব মাহবুবা ফারজানা তথ্য মন্ত্রণালয়কে তেমন কোনো কিছুই দিতে পারেননি।সচিব মাহবুবা ফারজানার সময় কেটেছে উপদেষ্টাদের প্রটোকল দিয়ে ও নিজেকে পরিপাটি রেখে। সচিব মাহবুবা ফারজানার পরিচিতি ছিল ‘প্রটোকল অফিসার’ হিসেবে।তার দ্বারা কিছু টাউট-বাটপারের ব্যক্তিগত উপকার হলেও গণমাধ্যমের কোনো উপকার হয়নি। এমনকি প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের মর্যাদাও রক্ষা করতে পারেনি। স্বাধীনতার পর থেকে ২০২১ সালের ১৪ মার্চ পর্যন্ত এ মন্ত্রণালয়ের নাম ছিল তথ্য মন্ত্রণালয়। আওয়ামী সরকারের সময়ে ড. হাসান মাহমুদ যখন মন্ত্রী তখন এর নাম পরিবর্তন করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় করা হয়। মন্ত্রণালয়টির ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বাংলাদেশের সব বিখ্যাত ব্যক্তিরা এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ডাকসাইটের আমলারা এ মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। যাদের নাম এখনো শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। এটি সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়। শুধু গণমাধ্যম নিয়ে এ মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়, দেশের স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ইমেজ তৈরির কাজটি করার দায়িত্বও অনেকখানি। গুরুত্বপূর্ণ এ মন্ত্রণালয়টির প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন শুরু হয় ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে, যখন মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রথম মন্ত্রী ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ। তার পর শেখ মুজিবুর রহমান, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী, শেখ আবদুল আজিজ, এম কোরবান আলী, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, হাবিবুল্লাহ খান, শামসুল হুদা চৌধুরী, তোফাজ্জল হোসেন খান, সৈয়দ নাজিমুদ্দিন হাশিম, এ আর ইউসুফ, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কাজী জাফর আহমেদ, বেগম খালেদা জিয়া, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, এম শামসুল ইসলাম, শেখ হাসিনা, ড. আবদুল মঈন খান, তরিকুল ইসলামসহ বিখ্যাত ও খ্যাতিমান রাজনৈতিক নেতারা। সাংবাদিকদের মধ্যে তথ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন তাহের উদ্দিন ঠাকুর, সিরাজুল হোসেন খান, আনোয়ার জাহিদ, সৈয়দ দিদার বখত, ড. মিজানুর রহমান শেলী। বিভিন্ন সময়ে এ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ড. আকবর আলী খান, শামসুল হুদা চৌধুরী, এ আর এস দোহা, মাহবুবুল আলম, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। এই মন্ত্রণালয়ের প্রথম সচিব ছিলেন এম হোসেন আলী। তার পর বাহাউদ্দিন চৌধুরী, খোরশেদ আলম সিএসপি, আনিসুজ্জামান খান সিএসপি, জহুরুল হক সিআইএস, এটিএম শামসুল হক সিএসপি, এবিএম গোলাম মোস্তফা সিএসপি, আনম ইউসূফ সিএসপি, মনজুর মোরশেদ সিএসপি, এজেডএম নাসিরুদ্দিন সিএসপি, কাজী মুহাম্মদ মনজুরে মওলা সিএসপি, নুরুদ্দিন আহমেদ, আলম মাসুদ সিএসপি, সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ সিএসপি, ড. মুহম্মদ মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার হায়দার আলী, হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, মরতুজা আহমেদসহ ডাকসাইটের ও অভিজ্ঞ, সিনিয়র আমলাদের তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হতো। আওয়ামী লীগ সরকার খাজা মিয়াকে সচিবের দায়িত্ব দিয়ে এ মন্ত্রণালয়ের ইমেজ অনেকটা ম্লান করেছে। তার পর থেকে মেধাবী, যোগ্য, দক্ষ কোনো আমলাকে এ মন্ত্রণালয়ে সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমান তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পদোন্নতি পেয়েছেন। ১৮ মাসে যোগ্যতা, দক্ষতা বা মেধার কোনো প্রমাণ তিনি রাখতে পারেননি বলে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জীবন বাজি রেখে রাজনীতি করছেন। মৃত্যুর দুয়ার থেকে তিনি ফিরে এসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তথ্য মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরে তিনি দলের অত্যন্ত ত্যাগী নেতা জহির উদ্দিন স্বপনকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি একজন সাবেক মেধাবী ছাত্রনেতা। অনেক ত্যাগ ও কাঠখড় পুড়িয়ে তিনি রাজনীতিতে টিকে আছেন। হামলা-মামলা মোকাবিলা করে তিনি আজ মন্ত্রী হয়েছেন। ইয়াসের খান চৌধুরী হলেন প্রতিমন্ত্রী। ইয়াসের খান চৌধুরী একজন তথ্যপ্রযুক্তি বিজ্ঞানী। দীর্ঘদিন বিবিসি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক লন্ডনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার আগে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কম্পিউটার টেকনোলজি কোম্পানি আইবিএম ও ভোডাফোনে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে কর্মরত ছিলেন। ক্লিন ইমেজের মানুষ। প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় উপদেষ্টা নিযুক্ত হয়েছেন ডা. জাহেদ উর রহমান। গণমাধ্যমে তিনি পরিচিত মুখ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে তার যোগাযোগ ভালো। তাদেরও চেয়ারের ওপরে অনার বোর্ডে বিখ্যাতদের নামও আছে, অখ্যাতদের নামও আছে। তারা যদি খ্যাতিমান ব্যক্তিদের কাতারে নিজেদের নাম রাখতে চান, তাহলে তথ্য মন্ত্রণালয়ের হারানো ইমেজ পুনরুদ্ধার করতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়কে আগের মর্যাদায় ফিরিয়ে নিতে হবে বলে মনে করেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর প্রতি প্রত্যাশা—তারা অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের হারানো আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, তথ্যপ্রবাহের স্বচ্ছতা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন—এই তিনটি ক্ষেত্রেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডস্থ তথ্য ভবনে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি)-এর মহাপরিচালকের কক্ষে শর্টফিল্ম প্রকল্পের অর্থ বণ্টনকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সরকারি ক্যামেরাম্যান সোহাগ মশিউরসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঘটনাস্থলে রক্তের দাগ দেখা গেলেও তা দ্রুত মুছে ফেলা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ঘটনার বিবরণ সোমবার সন্ধ্যার পর ডিএফপির মহাপরিচালকের কক্ষে বৈঠকের সময় হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কয়েকজন নেতা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক পর্যায়ে ক্যামেরাম্যান সোহাগ মশিউরের ওপর হামলা চালানো হয়। তাকে জোর করে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তার স্বজনরা এসে বাধা দেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে জুলাই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে ২০টি শর্টফিল্ম নির্মাণের জন্য প্রায় ২ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে— প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়ম ভেঙে অনানুষ্ঠানিকভাবে বাইরের ব্যক্তিদের দেওয়া হয় বিল ইস্যু করা হয় ডিএফপির ক্যামেরাম্যানদের নামে চেক তুলে সেই অর্থ অন্যদের কাছে হস্তান্তরের চাপ দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাজ সম্পন্ন না হলেও আগাম অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ৪টি শর্টফিল্ম জমা পড়েছে, যার মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অনিয়মের ধরণ: শর্টফিল্মের বিল ইস্যু করা হয় ডিএফপির ক্যামেরাম্যানদের নামে চেকও তাদের নামে প্রদান করা হয় পরে সেই অর্থ ব্যাংক থেকে তুলে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করা হয় কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই অগ্রিম ও পূর্ণ অর্থ আদায়ের চেষ্টা জানা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাজ সম্পূর্ণ না হলেও অর্থের বড় অংশ ইতোমধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে। ২০টি শর্টফিল্মের মধ্যে মাত্র ৪টি জমা পড়েছে, যা মানসম্মত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সংঘর্ষের সূত্রপাত সোহাগ মশিউরের দাবি, কাজ ও হার্ডড্রাইভ বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত তিনি বাকি অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উপস্থিত ব্যক্তিরা তার ওপর হামলা চালান। তিনি বলেন, “আমাকে ফোনে ডেকে এনে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। আমি অস্বীকৃতি জানালে মারধর শুরু হয়।” প্রশাসনের অবস্থান ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএফপির মহাপরিচালক খালেদা বেগম পুরো ঘটনার দায় সোহাগ মশিউরের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন। তবে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যায় তিনি স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি। আহতের বিষয়ে তিনি বলেন, “তার শারীরিক সমস্যা আছে,”—যা ভুক্তভোগীর বক্তব্যের সঙ্গে মিলছে না। গুরুতর প্রশ্ন এই ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— সরকারি অর্থ বণ্টনে অনিয়ম কেন ও কীভাবে হলো? প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়ম লঙ্ঘনের দায় কার? প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা কীভাবে এতে সম্পৃক্ত হলেন? তদন্তের দাবি বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি সংঘর্ষ নয়; বরং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অনিয়মের ইঙ্গিত। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।
ঢাকা: দেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাতিল হওয়া ১৬৮ জন সাংবাদিকের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড পুনর্বহাল নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। আপিলের সুযোগ দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত গঠিত আপিল বোর্ড কোনো বৈঠকই করেনি, ফলে এসব সাংবাদিকের পেশাগত কার্যক্রম ঝুলে আছে অনিশ্চয়তায়। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন তথ্য অধিদফতর ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর ২০ জন, ৩ নভেম্বর ৩০ জন এবং ৭ নভেম্বর ১১৮ জনসহ মোট ১৬৮ জন সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সে সময়ের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা নিজামুল কবীরের সই করা পৃথক তিনটি আদেশে ‘প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন নীতিমালা ২০২২’-এর একাধিক ধারা উল্লেখ করা হয়। কার্ড বাতিল হওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে সম্পাদক, উপসম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক, টেলিভিশনের বার্তাপ্রধানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পেশাজীবীরা রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকলেও অধিকাংশের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই বলে জানা গেছে। এমনকি যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেসব মামলারও এখনো চার্জশিট দাখিল হয়নি। এদিকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার বাতিল হওয়া এসব কার্ড পুনর্বহালের সুযোগ দিয়ে আপিলের ব্যবস্থা করে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি ‘প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন আপিল কমিটি’ গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং সদস্য সচিব তথ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. ইয়াকুব আলী। এছাড়া কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ও সাংবাদিক নেতারাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিক আপিল করলেও এখনো পর্যন্ত কমিটির কোনো বৈঠক হয়নি। ফলে আপিল নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে আছে। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও আপিল কমিটির সদস্য শহীদুল ইসলাম জানান, আপিল বোর্ড থেকে অনুমোদন পাওয়া আবেদনগুলো সরাসরি তথ্য অধিদফতরে পাঠানো হলে নতুন কার্ড ইস্যু করা হবে। তবে এখনো কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। অন্যদিকে কমিটির সদস্য সচিব মো. ইয়াকুব আলীও স্বীকার করেছেন যে আপিল কমিটির বৈঠক এখনো হয়নি। তিনি বলেন, বৈঠকে যাচাই শেষে অনুমোদিত আবেদনগুলোর ভিত্তিতে দ্রুত কার্ড ইস্যু করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন নীতিমালা ২০২৫’-এ নতুন করে কিছু শিথিলতা আনা হয়েছে, যেখানে ফৌজদারি মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট না হওয়া পর্যন্ত কার্ড বাতিল না করার বিধান রাখা হয়েছে। এতে অনেক সাংবাদিক পুনরায় কার্ড পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন। তবে আগের বাতিলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অভিযোগ উল্লেখ না থাকায় প্রশ্নও উঠেছে। নীতিমালার ধারা উল্লেখ করা হলেও কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ— তা পরিষ্কার করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার আরও সুশৃঙ্খল করতে অ্যাক্রেডিটেশন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও নীতিমালা-ভিত্তিক করা হবে। একই সঙ্গে অপব্যবহার রোধে প্রকৃত সাংবাদিকদের তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে এবং একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ তৈরি করা হবে। তিনি আরও বলেন, কোনো সাংবাদিক অন্যায়ভাবে বাদ পড়লে নীতিমালা অনুযায়ী তাদের কার্ড পুনর্বহালের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের মতামত নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এ অবস্থায় ১৬৮ জন সাংবাদিকের পেশাগত ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আপিল বোর্ডের প্রথম বৈঠক ও সিদ্ধান্তের ওপর।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।