পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর বাউফলে তরমুজবোঝাই ট্রলার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চাঁদাবাজির মামলায় মো. অলিউল্লাহ (৪৩) ওরফে অলি নামের এক উপখাদ্য পরিদর্শককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (রাত ১০টা) বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত অলিউল্লাহ মির্জাগঞ্জ খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে উপখাদ্য পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। তিনি বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা। মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার কয়েকজন কৃষক দীর্ঘদিন ধরে বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরাঞ্চলে জমি বর্গা নিয়ে তরমুজ চাষ করে আসছিলেন। চলতি মৌসুমে তারা চর দিয়ারাকচুয়া এলাকায় তরমুজ চাষ করেন। তবে ফসল ফলানোর পর থেকেই ওই জমির মালিকানা দাবি করে অলিউল্লাহ কৃষকদের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করতে থাকেন। গত ১৬ মার্চ বেলা ১১টার দিকে প্রায় ৯ হাজার তরমুজ কেটে দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে তুলে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কৃষকরা। এ সময় অলিউল্লাহর নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে পুনরায় চাঁদা দাবি করে। কৃষকরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের কাছ থেকে তরমুজবোঝাই দুটি ট্রলার ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি ট্রলার ফেরত দেওয়া হলেও অন্যটি আর ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক আরব আলী বাদী হয়ে বাউফল থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অলিউল্লাহকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানান, ‘অলিউল্লাহর অত্যাচারে তরমুজ চাষিরা অতিষ্ঠ ছিলেন। তাকে গ্রেফতার করায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’
ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম পর্যটন জেলা পটুয়াখালী-এর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ফিরে এসেছে চাঞ্চল্য। বিশেষ করে দেশের একমাত্র সমুদ্রসৈকত, যেখানে একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়—কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত—এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখর। পর্যটকদের ঢল ও আবাসন সংকট ঈদের আগের সপ্তাহ থেকেই কুয়াকাটামুখী পর্যটকদের চাপ বাড়তে শুরু করে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের দিন থেকে পরবর্তী ৪–৫ দিন পর্যন্ত প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এখানে ভিড় করছেন। কুয়াকাটার প্রায় সব আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউস শতভাগ বুকড হয়ে গেছে। অনেক পর্যটককে বিকল্প হিসেবে অস্থায়ী আবাসন বা আশেপাশের এলাকায় থাকতে হচ্ছে। হোটেল মালিক সমিতির নেতারা জানান, এবারের ঈদে পর্যটকের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এতে পর্যটন খাত ঘুরে দাঁড়ানোর আশাবাদ তৈরি হয়েছে। বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ কুয়াকাটার অন্যান্য কেন্দ্র যেমন— লেবুর চর গঙ্গামতি সংরক্ষিত বন ফাতরার বন এসব স্থানেও পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। লেবুর চরে সাগরের মাঝে নৌকা ভ্রমণ, গঙ্গামতিতে বনভ্রমণ এবং ফাতরার বনে বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ পর্যটকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে। স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পর্যটকদের আগমনে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে স্থানীয় অর্থনীতি। সৈকতসংলগ্ন খাবারের দোকান, সী-ফুড রেস্টুরেন্ট, ভ্যানচালক, মোটরসাইকেল চালক, ফটোগ্রাফার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “ঈদের এই সময়টুকুই আমাদের সারা বছরের বড় আয়ের সুযোগ। পর্যটক বেশি হলে আমাদের আয়ও বাড়ে।” নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি ব্যবস্থা। কুয়াকাটা সৈকতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ, নৌ-পুলিশদের সমন্বয়ে কাজ চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লাল পতাকা টানানো হয়েছে এবং মাইকিং করে সতর্কতা জারি রাখা হচ্ছে। এছাড়া যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও জোরদার করা হয়েছে। ঈদের ছুটিতে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পর্যটকদের অভিজ্ঞতা রাজধানী ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক জানান, “পরিবার নিয়ে ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় এসে খুব ভালো লাগছে। ভিড় একটু বেশি হলেও পরিবেশটা দারুণ উপভোগ করছি।” আরেক পর্যটক বলেন, “সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত একসঙ্গে দেখার অভিজ্ঞতা সত্যিই অসাধারণ।” চ্যালেঞ্জও রয়েছে তবে পর্যটকদের অতিরিক্ত চাপের কারণে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। আবাসন সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া, যানজট এবং পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়ার অভিযোগ রয়েছে। অনেক পর্যটক সৈকতে ময়লা ফেলে পরিবেশ দূষণ করছেন বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সম্ভাবনার দিক সবমিলিয়ে ঈদের ছুটিতে পটুয়াখালী ও কুয়াকাটা অঞ্চলের পর্যটন খাতে নতুন করে গতি সঞ্চার হয়েছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এ অঞ্চল আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা রক্ষা এবং পর্যটকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে কুয়াকাটা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। বাড়বে পর্যটকদের সংখ্যা পর্যটকদের সংখ্যা আরো বাড়বে বলে ধারণা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। বরগুনা থেকে আসা সায়মা-শাকিল দম্পত্তি বলেছেন, পরিবারের সঙ্গে কুয়াকাটায় চলে এসেছি। বৃষ্টির মধ্যে সমুদ্রে সাঁতার কেটেছি। তখন সমুদ্রে ছোট ছোট ঢেউ ছিলো। দারুণ এক অনুভূতি হয়েছে। কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেছি। বেশ ভালোই লেগেছে।” বরিশাল থেকে আসা হোসেন সিকদার বলেন, “আমরা বন্ধুরা মিলে কুয়াকাটায় এসেছি। বৃষ্টির কারণে কিছুটা মন খারাপ ছিল। তবে, বন্ধুরা মিলে বৃষ্টির মধ্যেই সমুদ্রে সাঁতার কেটেছি। আমরা আজ যে আনন্দ পেয়েছি, তা কোনোদিনই ভুলব না।” কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেছেন, “বৃষ্টির কারণে সকালে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও বিকেল থেকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। সৈকত-সংলগ্ন অধিকাংশ হোটেল-মোটেলের ৮০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। আগামীকাল থেকে পর্যটকের সংখ্যা আরো বাড়বে এবং আমরা শতভাগ সিট বকিংয়ের আশা করছি।” ট্যুরিস্ট পুলিশের কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেছেন, “সকালে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও দুপুর থেকে পর্যটক বাড়তে শুরু করেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিভিন্ন ট্যুরিস্ট স্পটে বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি থানা পুলিশ, নৌ পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা মাঠে তৎপর আছেন।”
পটুয়াখালীতে ১১০ দিনেই পুরো পবিত্র কুরআন মুখস্থ করে সবার দৃষ্টি কেড়েছে ১২ বছর বয়সী শিশু দ্বীন ইসলাম। সে সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নের মধ্য ধরান্দী এলাকার জামিয়া রহিমীয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী। অল্প সময়ে কুরআন হিফজের এই বিরল কৃতিত্বে আনন্দিত তার পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী এবং এলাকাবাসী। দ্বীন ইসলাম অত্যন্ত মেধাবী, মনোযোগী ও পরিশ্রমী একজন ছাত্র। মাত্র ১১০ দিনের মধ্যেই সে পুরো কুরআন হিফজ করতে সক্ষম হয়েছে। অন্য শিশুরা যখন খেলাধুলা করত, তখন সে কুরআন শরীফ নিয়ে পড়াশোনায় মন দিত। অনেক সময় সে একদিনে ১০ পৃষ্ঠা এমনকি এক পারা পর্যন্ত সবক দিয়েছে। দ্বীন ইসলাম পটুয়াখালী সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নের মধ্য ধরান্দী এলাকার একটি সাধারণ পরিবারের সন্তান। তার বাবার নাম ইয়াকুব শিকদার। স্থানীয়রা জানান, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সন্তানকে সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় সংকল্প ছিল ইয়াকুব শিকদারের। সেই স্বপ্নেরই উজ্জ্বল প্রতিফলন দেখা গেছে দ্বীন ইসলামের এই অর্জনে। অল্প বয়সেই তার এই সাফল্য এখন এলাকার অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
রাঙ্গাবালী, পটুয়াখালী – পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অধীনে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অনুমোদিত প্রায় ৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকার প্রকল্পে বাস্তবে মানহীন কাজের চিত্র দেখা গেছে। রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সামুদাফৎ সড়ক হয়ে বটতলা পর্যন্ত ৬.২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নাজমুল শাহাদাৎ ট্রেডার্স। প্রকল্পের সিডিউল অনুযায়ী সড়কের প্রস্থ ১০ ফুট এবং কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব ১ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও অনেক স্থানে তা কম দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার তিন থেকে চার দিন পরও সড়কের ভেতরের অংশ শক্ত হয়নি। সুজন ডাক্তার জানান, “নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করে কাজ করা হচ্ছে। যথাযথ বিটুমিন ব্যবহার না করে কেবল ইট ঢেকে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে।” অন্য একজন বাসিন্দা জব্বার খন্দকার বলেন, “পুরো সড়কজুড়েই অনিয়ম চলছে। ব্যবহৃত ইট নিম্নমানের, যা হাতে চাপ দিলেই গুঁড়া হয়ে যাচ্ছে। ঢালাইয়ের পুরুত্বও মাত্র দুই ‘সুতা’; সামান্য টান দিলেই উঠে যাচ্ছে।” অটোরিকশা চালক কামাল মাদবর আরও জানান, “অনেক স্থানে আধা ইঞ্চিরও কম ঢালাই, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের উপরিভাগ উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।” উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, “উক্ত সড়কের কাজ স্টিমেট অনুযায়ী করা হচ্ছে। প্রতিবেদন প্রকাশে সমস্যা সমাধান হয় না, স্থায়ী সমাধানই গুরুত্বপূর্ণ।” তবে মাঠপর্যায়ে প্রাথমিক স্টিমেটের সঙ্গে বাস্তব পরিমাপের অমিল পাওয়া গেছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সাহিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “স্টিমেট অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। কিছু স্থানে কার্পেটিংয়ের পুরুত্বে গড়মিল আছে, সেটি আমি ঠিক করে দেব।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঞা বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়দের মতে, ৬ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করেন। তাদের দাবী, তদারকি কর্মকর্তাদের সক্রিয় নজরদারি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলতার অভাবের কারণে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দ্রুত প্রকল্প তদারকি করে মানসম্মত সড়ক নির্মাণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
কলাপাড়া প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার সবজি ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিস (৪৫) হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১১টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উপজেলা কার্যালয় থেকে উপজেলা আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা প্রশাসন মাঠে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক মৌলভী মাহবুবুল আলম, সদস্য সচিব মাওলানা মনিরুল ইসলামসহ উপজেলা ও ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। সভায় বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশের জেরে একজন নিরীহ মানুষকে মারধর করে হত্যা করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। নিহত ইদ্রিসকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কর্মী দাবি করে উপজেলা আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “নিহত ইদ্রিস ঈদের সময় ছেলে-মেয়ে ও পরিবার নিয়ে বাড়িতে আসার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি বাড়িতে ফিরেছেন লাশ হয়ে। ভালো ও সৎ মানুষ জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত না হওয়ায় সমাজে গুম, খুন ও সহিংসতা বেড়েছে। বর্তমানে সাধারণ মানুষ জনপ্রতিনিধিদের হাতেই নিরাপদ নয়।” এদিকে ইদ্রিসের মৃত্যুর ঘটনায় নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে ইদ্রিস খান ফেসবুকে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গরু চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে পোস্ট ও মন্তব্য করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পাখিমারা বাজার থেকে তাকে স্থানীয় যুবদল কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রথমে পানির জগ ছুড়ে মারা হয় এবং পরে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। পরে সোমবার (২ মার্চ) রাত ১০টার দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। মঙ্গলবার সকালে নিহতের স্বজনরা মরদেহ কলাপাড়া থানায় নিয়ে আসেন। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে। পরে তার মরদেহ নিজ গ্রাম দক্ষিণ দৌলতপুরের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বজন আবু বকর খান বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় জহিরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে আরও ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫–৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
চাঁদার দাবিতে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে দোকানে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে ২২ হাজার টাকা নিয়ে গেছেন তারা। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দুপুরে কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের ‘তানিসা আচার ঘর’ নামের ওই দোকানের মালিক মনিরুল হাওলাদার মহিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে কুয়াকাটার হুইসেন পাড়া মহল্লার মাকসুদ আকন, শাহীন মুসল্লী, আবদুর রহিমসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ-ছয় জন এ ঘটনায় জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা কুয়াকাটা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দোকানের মালিক মনিরুল হাওলাদার বলেন, ‘চাঁদার দাবিতে লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে হঠাৎ দোকানে ঢুকে ভাঙচুর চালান স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় দোকানের কর্মচারী হাসানকে পেটানো হয়। একপর্যায়ে মাকসুদ আকন দোকানের ভেতরে ঢুকে গালাগাল করেন। পরে দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে ২২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। খবর পেয়ে মহিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে পালিয়ে যান তারা। এ বিষয়ে জানতে মাকসুদ আকনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিয়ে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘অভিযুক্তরা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী-সমর্থক। দলে তাদের কোনও পদ-পদবি নেই। ওই দোকানের মালিকানা নিয়ে বিরোধ আছে। তারপরও কারও দোকানে হামলা-ভাঙচুর করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি দেখবো। এ ছাড়া দলের নেতাদের জানানো হবে। কোনও অপরাধীকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’ মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পটুয়াখালী-২ আসন এলাকায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে সহকারী রিটার্নিং অফিসার আবু সালেহ বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল সংগ্রহ শেষে উপজেলা নতুন অডিটরিয়ামের ভোট কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ মনিটরিং সেল থেকে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। ভোটের ফলাফল পোস্টাল ভোট ছাড়া ড. মাসুদ মোট ৯৯ হাজার ৪৩৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. সহিদুল আলম তালুকদার পেয়েছেন ৭২ হাজার ১৯১ ভোট। এ ছাড়া— হাতপাখা প্রতীকের মালেক হোসেন পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৫৯ ভোট ঈগল প্রতীকের মো. রুহুল আমিন পেয়েছেন ৪০৫ ভোট ট্রাক প্রতীকের মো. হাবিবুর রহমান পেয়েছেন ৩৪৮ ভোট সর্বমোট ১ লাখ ৮৫ হাজার ১৯৩ ভোট গৃহীত হয়। ভোটার পরিসংখ্যান আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ২৮২ জন। এর মধ্যে— নারী ভোটার: ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৭৯ জন পুরুষ ভোটার: ১ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার: ২ জন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। ছোটখাট কিছু ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিজয়ীর প্রতিক্রিয়া ফলাফল ঘোষণার পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, এলাকায় প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি নয়—ন্যায় ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই হবে তার মূল লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, কেউ অন্যায় অপকর্ম করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ সময় তিনি ৬০ দিনের মধ্যে এলাকা মাদকমুক্ত এবং ৯০ দিনের মধ্যে বাউফলকে দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।