Brand logo light

পাহাড়ধস

বন্যায় পাহাড়ধস ও পানি
চট্টগ্রামে বন্যায় ৬ লাখের বেশি মানুষ এখনও পানিবন্দি, ক্ষতিগ্রস্ত ১৪ হাজারের বেশি ঘর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  চট্টগ্রামে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি পুরোপুরি কাটেনি। প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১৬টি উপজেলার ১৭৬টি ইউনিয়নে এখনও ৬ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি। বন্যায় এ পর্যন্ত ১৪ হাজার ২৮১টি বসতঘর, ২১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ১৪৫টি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভাগীয় প্রশাসনের তথ্য বলছে, চট্টগ্রাম বিভাগে এই বন্যায় ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৬১৪ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যা, পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে; এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন। পানি কমলেও দুর্ভোগ কাটেনি শনিবার দিনভর বন্যার পানি কিছুটা কমলেও রাত থেকে নতুন করে বৃষ্টিপাতের কারণে রোববার আবারও পানি বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানির নিচে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই দুই উপজেলাতেই প্রায় ৫ লাখ মানুষ এখনও পানিবন্দি। বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন,   “বাঁশখালীর প্রায় সব এলাকা এখনও পানির নিচে। নৌকা ছাড়া অধিকাংশ স্থানে যাতায়াত করা যাচ্ছে না। শনিবার পানি কিছুটা কমলেও রাত থেকে বৃষ্টিতে আবার পানি বেড়েছে। কাঁচা ঘর ধসে পড়েছে, অসংখ্য বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” ত্রাণ সহায়তায় ঘাটতির অভিযোগ বন্যাদুর্গত মানুষ অভিযোগ করেছেন, পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৫৫৭ টন চাল এবং ৩০ লাখ ৪০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় এখনও ৫৬৫ টন চাল, ৮৮ লাখ টাকা নগদ সহায়তা এবং ৪ হাজার ৩৫০ বান্ডিল ঢেউটিনের চাহিদা রয়েছে। অর্থাৎ সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে, যা দুর্গত মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়াচ্ছে। সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর সংকট সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া, বাজালিয়া, এওচিয়া, ছদাহা, সোনাকানিয়া, ঢেমশা, খাগরিয়া, চরতী ও আমিলাইষ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানিতে তলিয়ে রয়েছে। অনেক সড়ক ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং তীব্র স্রোতের কারণে অনেক এলাকায় নৌকা ছাড়া যাতায়াত সম্ভব হচ্ছে না। সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন,   “সাতকানিয়ায় পানি নামতে শুরু করেছে এবং পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। তবে ডলু নদীসংলগ্ন নিচু এলাকা এখনও পানিতে তলিয়ে রয়েছে। ফলে অনেক পরিবার এখনো বাড়ি ফিরতে পারেনি।”   ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ক্ষতির ধরন সংখ্যা পানিবন্দি মানুষ ৬ লাখের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘর ১৪,২৮১টি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২১২টি ক্ষতিগ্রস্ত সেতু ১৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্র ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষ ২২,৬০০ জন   বিভাগজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা জেলা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ চট্টগ্রাম ৬,৬২,০০০ কক্সবাজার ১,৫৮,০২৭ খাগড়াছড়ি ৩৪,৪১৭ বান্দরবান ৮,৩৫০ রাঙামাটি ৩,৮২০ মোট ৮,৬৬,৬১৪   জেলাভিত্তিক মৃত্যুর হিসাব জেলা মৃত্যু কক্সবাজার ২৮ জন চট্টগ্রাম ১৩ জন বান্দরবান ৬ জন রাঙামাটি ৩ জন মোট ৫০ জন   সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, সন্দ্বীপ, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, বাঁশখালী, কর্ণফুলী, মীরসরাই, সীতাকুণ্ড, ফটিকছড়ি, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, সাতকানিয়া ও পটিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ৫৮০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২১ হাজার ৯০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। ত্রাণ কার্যক্রম ও প্রশাসনের বক্তব্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।    সামনে পুনর্বাসনের চ্যালেঞ্জ বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো বসতঘর পুনর্নির্মাণ, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, খাদ্য সহায়তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধার। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানচিত্রায়ন এবং দ্রুত ত্রাণ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।   এই প্রতিবেদনটি প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ভাষা ও কাঠামোকে পাঠকবান্ধব, পেশাদার ও বিবিসি বাংলা স্টাইলের অনুসন্ধানধর্মী উপস্থাপনা অনুসরণ করে সাজানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১৩, ২০২৬ 0
উলুছড়ি গ্রামের বাজার ও বেশকিছু বাড়ি বন্যার পানিতে ডুবে যায়
পাহাড়ি ঢল, বৃষ্টিপাত ও অব্যবস্থাপনার ত্রিমুখী চাপ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ধস শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং বহুদিনের অবকাঠামোগত দুর্বলতা, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে অতি ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে রবিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আট লাখ ৬৬ হাজার ৬১৪ জনে।   দুর্যোগের মাত্রা জেলা মৃত্যু কক্সবাজার ২৮ জন চট্টগ্রাম ১৩ জন রাঙামাটি ৩ জন বান্দরবান ৬ জন মোট ৫০ জন   সংখ্যায় ক্ষয়ক্ষতি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ৮,৬৬,৬১৪ জন খোলা আশ্রয়কেন্দ্র ১,৭২৭টি আশ্রয় নেওয়া মানুষ ৩৭,০৫৫ জন সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ৪১২ মিমি   কেন বন্যা এত প্রাণঘাতী হয়ে উঠল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই বিপর্যয়ের পেছনে কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করেছে। রেকর্ডভাঙা বৃষ্টিপাত ৪৩ বছরের রেকর্ড ভেঙে একদিনে সর্বোচ্চ ৪১২ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়। অল্প সময়ে এত বিপুল বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে সমতল এলাকার পানি দ্রুত বেড়ে যায়। উজানের পাহাড়ি ঢল ভারতের ত্রিপুরা ও সংলগ্ন পার্বত্য অঞ্চল এবং দেশের অভ্যন্তরীণ পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসা ঢল সাঙ্গু, ডলু ও শঙ্খ নদীর পানির চাপ বাড়িয়ে দেয়। এসব নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী দ্রুত প্লাবিত হয়। পাহাড়ধসের ঝুঁকি অতিভারী বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে অন্তত ৯৭টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড়ের পাদদেশে ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে গড়ে ওঠা অস্থায়ী ও অবৈধ বসতিগুলো মাটির নিচে চাপা পড়ায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যায়। নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল-নালা দখল এবং পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বৃষ্টির পানি দ্রুত সরতে পারেনি। ফলে অনেক এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা কৃত্রিম বন্যার রূপ নেয়। সতর্কতা উপেক্ষা ও সীমিত প্রয়োগ প্রশাসন মাইকিং ও অনুরোধের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বললেও অনেকে যাননি। তবে প্রশ্ন উঠেছে, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে মানুষকে সরিয়ে নিতে প্রশাসন কতটা কার্যকর ও আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছিল।   সাতকানিয়া ও বাঁশখালীতে মানবিক সংকট চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালীতে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র, এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পশ্চিম বাঁশখালীর কাথারিয়া, বড়ইতলী, গণ্ডামারা, ডোমরা, কদমরসূল, খানখানাবাদ ও বাহারছড়াসহ উপকূলীয় এলাকায় অধিকাংশ বাড়িঘর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র বা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। কিছু মানুষ বাড়ির উঁচু অংশ বা টিনের ছাদে অবস্থান করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পারায় অনেক পরিবার আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।   ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জেলা ভিত্তিক চিত্র জেলা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ চট্টগ্রাম ৬,৬২,০০০ জন কক্সবাজার ১,৫৮,০২৭ জন রাঙামাটি ৩,৮২০ জন খাগড়াছড়ি ৩৪,৪১৭ জন বান্দরবান ৮,৩৫০ জন মোট ৮,৬৬,৬১৪ জন   আশ্রয়কেন্দ্র ও বাস্তবতা পাঁচ জেলায় মোট ১,৭২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ৩৭,০৫৫ জন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তুলনায় আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক কম। জেলা আশ্রয়কেন্দ্র আশ্রিত মানুষ চট্টগ্রাম ৬৭০টি ২২,৬০০ জন কক্সবাজার ৬৪০টি ২,৯৭৪ জন রাঙামাটি ৪৭টি ৩,৮২০ জন খাগড়াছড়ি ১৫০টি ২,৯১৬ জন বান্দরবান ২২০টি ৪,৭৪৫ জন মোট ১,৭২৭টি ৩৭,০৫৫ জন   প্রশাসনের পদক্ষেপ ও প্রশ্ন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, দুর্গম এলাকায় স্পিডবোট ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে: ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনী উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে কাজ করছেন। চট্টগ্রাম মহানগরের ২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়কে পাঁচটি জোনে ভাগ করে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও পানি দ্রুত সরতে পারেনি এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল।   মূল প্রশ্নগুলো ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি বসতি থেকে মানুষকে সরাতে প্রশাসন কেন আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি? খাল-নালা দখল ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করতে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ কতটা কার্যকর ছিল? আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত থাকলেও কেন বিপুল সংখ্যক মানুষ সেখানে যাননি? দুর্গম এলাকায় দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ পৌঁছাতে ভবিষ্যতে কী ধরনের সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন?   এই বিপর্যয় দেখিয়েছে যে অতি ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল তাৎক্ষণিক কারণ হলেও, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, দুর্বল নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতা প্রাণহানিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে আগাম সতর্কতা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাধ্যতামূলক স্থানান্তর, প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের পথ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত সমন্বিত উদ্ধার ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১৩, ২০২৬ 0
কক্সবাজারে এক রাতে ১১ প্রাণহানি: পাহাড়ধস কি শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নাকি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার পরিণতি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : টানা ভারি বর্ষণের এক রাতেই কক্সবাজারে পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে আটজন রোহিঙ্গা শরণার্থী, একজন স্থানীয় বাসিন্দা এবং পেকুয়ায় মারা যাওয়া এক শিশুও রয়েছেন। সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে, যেখানে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একাধিক পাহাড়ধসে একই পরিবারের সাতজনসহ মোট আটজন প্রাণ হারিয়েছেন। ঘটনার পর প্রশাসন এটিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ঝুঁকি ও অবৈধ পাহাড় কাটার পরিণতি হিসেবে দেখছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ের পাদদেশে অনিয়ন্ত্রিত বসতি, অপরিকল্পিত পাহাড় কাটা এবং টানা বর্ষণের সম্মিলিত প্রভাবে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এক রাতে চার স্থানে পাহাড়ধস রোববার গভীর রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং কক্সবাজার শহরের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। একই সময় পেকুয়ায়ও পাহাড়ধসে প্রাণ হারায় এক শিশু। মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার সদরের দরিয়ানগর এলাকায় আরেকটি পাহাড়ধসে এক নারীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিশুসহ চারজন আহত হন। জামতলীর ট্র্যাজেডি: একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৬ ব্লকে। রাত দেড়টার দিকে পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ে মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর। মুহূর্তেই ঘরটি মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। উদ্ধার অভিযানে নিহত হন— কামাল হোসাইন (৪৪) তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) তাদের চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাস পরিবারের ১০ সদস্য ঘুমিয়ে থাকলেও অলৌকিকভাবে সাতজন জীবিত উদ্ধার হন। তবে তাদের সবাই আহত। উখিয়া ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তিনজনের মরদেহ এবং দুইজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আরও পাঁচ প্রাণহানি জামতলীর ঘটনার কিছুক্ষণ পর রাত ২টার দিকে কুতুপালং ৭ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড়ধসে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বালুখালী ১১ নম্বর ক্যাম্পের সি-১১ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসে একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হন। তারা হলেন— উম্মে হাবিবা (২৭) তানজিনা আক্তার (১৩) মোহাম্মদ রিহান (৫) হারুনুর রশিদ (৩) ক্যাম্পের বাইরে স্থানীয় বাসিন্দারও মৃত্যু রাত তিনটার দিকে কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে আলী আকবর নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের খলিফা মুরা আলিম্যার ঝিরি এলাকায় সোমবার দুপুরে পাহাড়ধসে সাত বছরের শিশু মো. মিনহাজ উদ্দিনের মৃত্যু হয়। প্রশাসনের হিসাব কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান জানান, পাহাড়ধসে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে। আতঙ্কের নাম বর্ষাকাল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসকারী আবদুস সালাম ও মাহ আলম বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেই তাদের জীবনে নেমে আসে স্থায়ী আতঙ্ক। তাদের ভাষ্য, অধিকাংশ ঘর পাহাড় কেটে তৈরি ঢালের ওপর বাঁশ, ত্রিপল ও অস্থায়ী উপকরণ দিয়ে নির্মিত। ভারি বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে গেলে সামান্য ধসও মুহূর্তের মধ্যে পুরো পরিবারকে চাপা দিতে পারে। ঝুঁকিতে প্রায় তিন লাখ মানুষ শুধু রোহিঙ্গা ক্যাম্প নয়, কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও রামুর পাহাড়ঘেরা এলাকাগুলোতেও প্রায় তিন লাখ মানুষ পাহাড়ের পাদদেশ বা ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় বসবাস করছেন। টানা বৃষ্টির কারণে এসব এলাকায় নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। অবৈধ পাহাড় কাটা নিয়ে প্রশাসনের কঠোর বক্তব্য শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় ও কিছু রোহিঙ্গার অবৈধ পাহাড় কাটার কারণে বহু এলাকা চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার দাবি, বারবার সতর্ক করার পরও একটি অসাধু চক্র পাহাড় কাটা অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, এই ঘটনা শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা নয়; অবৈধভাবে পাহাড় কেটে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ তৈরির কারণে এটি এক ধরনের মানবসৃষ্ট বিপর্যয়। এ কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের হস্তক্ষেপের সংঘর্ষ প্রতিবছর বর্ষা এলেই কক্সবাজারে পাহাড়ধসের ঝুঁকি সামনে আসে। কিন্তু একই ধরনের প্রাণহানি বারবার ঘটলেও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরানো, পাহাড় কাটা বন্ধ করা এবং নিরাপদ পুনর্বাসনের মতো দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এবারের ঘটনাও সেই বাস্তবতাকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। যেখানে টানা বৃষ্টি ছিল তাৎক্ষণিক কারণ, আর অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় কাটা, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি এবং দুর্বল প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছিল দীর্ঘদিনের নীরব বিপদের ভিত্তি। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এ ধরনের মৃত্যু কতটা অনিবার্য, আর কতটা প্রতিরোধযোগ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৮, ২০২৬ 0
সাজেকে সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা
টানা বৃষ্টি, পাহাড়ধস ও বন্যার ঝুঁকিতে সাজেক বন্ধ: চট্টগ্রাম-সিলেটসহ ১৭ জেলায় সতর্কতা, বিপর্যয়ের মুখে পাহাড়ি অঞ্চল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : টানা ভারী বর্ষণ, উজানের ঢল এবং পাহাড়ধসের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মধ্যে রাঙামাটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা বাড়তে থাকায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকে সব ধরনের পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্ত কেবল একটি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের প্রশাসনিক ঘোষণা নয়; বরং দেশের পাহাড়ি অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান জলবায়ুজনিত দুর্যোগের বাস্তব চিত্রও তুলে ধরছে। পাহাড়ধসের আশঙ্কা কেন এত বেড়েছে? জেলা প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস এবং রাঙামাটিতে কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের উচ্চঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে— সাজেক ভ্যালির সব পর্যটনকেন্দ্র সব ঝর্ণা পাহাড়ি ট্রেইল দুর্গম এলাকা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পর্যটন স্পট প্রশাসন জানিয়েছে, পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা, ট্যুর অপারেটরসহ কারও প্রবেশ আপাতত অনুমোদিত নয়। শুধু সাজেক নয়, দেশের ১৭ জেলা বন্যার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টি এবং ভারতের উজানের ঢলের কারণে দেশের অন্তত ১৭ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী চার দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে— চট্টগ্রাম সিলেট ময়মনসিংহ রংপুর বিভাগে একই সঙ্গে ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গেও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। কোন কোন নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁতে পারে? বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে— উত্তর-পূর্বাঞ্চল সুরমা কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল দ্রুত পানি বাড়ছে— গোমতী মুহুরী ফেনী সিলোনিয়া হালদা সাঙ্গু মাতামুহুরী এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে— বান্দরবান কক্সবাজার ফেনী চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি নোয়াখালী লক্ষ্মীপুর উত্তরাঞ্চল আগামী ২৪–৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী ও লালমনিরহাটে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বান্দরবানে ৩০ হাজার পরিবার পাহাড়ধসের উচ্চঝুঁকিতে বর্তমানে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বান্দরবানে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী— সাত উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১২০টি আশ্রয়কেন্দ্র। মোতায়েন রয়েছে আটটি মেডিক্যাল টিম। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলছে মাইকিং। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় থানচি, রুমা, লামা ও আলীকদমে বন্যার আশঙ্কাও বাড়ছে। রুমার কেওক্রাডং এলাকায় ৫০ জনের বেশি পর্যটক আটকা পড়লেও থানচি ও রেমাক্রি থেকে পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত জেলার সব পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। কক্সবাজারে বাড়ছে প্রাণহানি, প্লাবিত ৩৩ ইউনিয়ন টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের নয়টি উপজেলার অন্তত ৩৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়েছে শত শত পরিবার। দুই দিনে পাহাড়ধসে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। প্রশাসনের তথ্যমতে— এক হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। টেকনাফ–সেন্ট মার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ। টানা পাঁচ দিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সেন্ট মার্টিনে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কুতুবদিয়ায় একটি সেতু ভেঙে স্থানীয় যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। রোহিঙ্গা শিবিরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর তথ্য অনুযায়ী— নিহত ১০ জন আহত ১০ জন ক্ষতিগ্রস্ত ১৫,৮১৩ জন বাস্তুচ্যুত ৩,১৮২ জন এ ছাড়া রেকর্ড করা হয়েছে— ৫২টি পাহাড়ধস ১৪টি বন্যা ৮৩টি ঝড়সংক্রান্ত ঘটনা মানবিক সংস্থাগুলো জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রামে রেকর্ড বৃষ্টি, বিমান ও রেল চলাচলে বিঘ্ন গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৩০.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর ফলে— নগরের বহু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। তীব্র জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। রেললাইন ডুবে যাওয়ায় কক্সবাজারগামী ট্যুরিস্ট এক্সপ্রেস কয়েক ঘণ্টা আটকা পড়ে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ঢাকায় ডাইভার্ট করা হয়। একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চট্টগ্রামে নামতে না পেরে ঢাকায় ফিরে যায়। বর্তমানে বিমানবন্দরে ঘণ্টায় ৮০–৯০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছে। রাঙামাটিতেও প্রাণহানি রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে পাহাড়ধসে উপড়ে পড়া গাছের নিচে চাপা পড়ে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। কাপ্তাইয়ে পাহাড়ধস ও গাছ পড়ে সাময়িকভাবে চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হলেও প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর কী বলছে? আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি লঘুচাপের প্রভাবে আগামী ৭২ ঘণ্টায়— চট্টগ্রাম ঢাকা রাজশাহী খুলনা বরিশাল সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। জলবায়ুজনিত দুর্যোগ কি নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠছে? সাজেক বন্ধের সিদ্ধান্ত বিচ্ছিন্ন কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়। একই সময়ে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার এবং চট্টগ্রামে একযোগে পাহাড়ধস, বন্যা, সড়ক বিচ্ছিন্নতা, পর্যটন স্থগিত, নদীর পানি বৃদ্ধি এবং প্রাণহানির ঘটনা একটি বড় জলবায়ুগত সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, পাহাড় কাটা, বন উজাড় এবং অপরিকল্পিত বসতি বিস্তারের কারণে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি আরও বাড়ছে। ফলে কেবল জরুরি উদ্ধার নয়, দীর্ঘমেয়াদি ভূমি ব্যবস্থাপনা, পাহাড় সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৮, ২০২৬ 0
পাহাড়ের ঢালে অনিশ্চিত জীবন: উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আবারও প্রাণ গেল আটজনের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : একদিকে টানা বর্ষণ, অন্যদিকে নরম হয়ে আসা পাহাড়ের মাটি। গভীর রাতে মুহূর্তের ব্যবধানে ধসে পড়া মাটির নিচে চাপা পড়ে নিভে গেল আটটি জীবন। কিন্তু সেই মৃত্যুর পরও বদলায়নি বাস্তবতা—কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে এখনও ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন লাখো মানুষ। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই পাহাড়ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতা, মাইকিং এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আশ্রয়ের সীমাবদ্ধতা, ঘনবসতি এবং বিকল্প জায়গার অভাবে বহু পরিবার এখনও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রয়ে গেছে। ফলে যেকোনও সময় আবারও ঘটতে পারে বড় ধরনের প্রাণহানি। পাহাড় কেটে তৈরি আশ্রয়, বর্ষায় বাড়ে বিপদ বিশ্বের সবচেয়ে বড় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করছেন ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের পর প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এসব মানুষের জন্য পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে ঘরবাড়ি, সড়ক ও বিভিন্ন অবকাঠামো। দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে বসতি গড়ে ওঠায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত হলেই এসব এলাকায় তৈরি হয় ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঝুঁকি। প্রতি বছরই ক্যাম্পগুলোতে পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সোমবার গভীর রাতে উখিয়ার ৭ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আটজন নিহত হন। ঘটনার পর ক্যাম্পজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে পাহাড়ঘেঁষা বসতিতে থাকা হাজারো পরিবারের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন আতঙ্ক। আট মৃত্যুর পরও ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে মানুষ স্থানীয় প্রশাসন এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয় জানিয়েছে, ভারী বর্ষণের সময় অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। ক্যাম্পের লার্নিং সেন্টারগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিছু পরিবার সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। তবে এখনও বিপুলসংখ্যক মানুষ পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশের ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে অবস্থান করছেন। এ কারণে নতুন করে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কাটছে না। ৭ নম্বর ক্যাম্প: পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা জনপদ উখিয়ার কুতুপালং টিভি টাওয়ারসংলগ্ন পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে ৭ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির। এখানে ১০ হাজারের বেশি পরিবারের প্রায় অর্ধলাখ রোহিঙ্গার বসবাস। ক্যাম্পটির বড় একটি অংশ পাহাড়ের ঢাল ও নিচু এলাকায় অবস্থিত। বর্ষা এলেই এসব এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয় চরম উদ্বেগ। সোমবার রাতের পাহাড়ধসে এই ক্যাম্পে মো. একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ৭ নম্বর ক্যাম্পের চেয়ারম্যান রোহিঙ্গা নেতা আবদুল মাবুদ বলেন, পুরো ক্যাম্পই পাহাড় কেটে তৈরি হওয়ায় টানা বৃষ্টির সময় প্রায় অর্ধলাখ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার কিছু পরিবারকে লার্নিং সেন্টারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাইকিং করে সবাইকে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। নয়টি ক্যাম্পে বড় ঝুঁকি খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধ্যে অন্তত নয়টি ক্যাম্প পাহাড়ধসের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশ এবং খাড়া ঢালজুড়ে তৈরি হওয়া অসংখ্য বসতিতে বসবাস করছেন এক লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। বর্ষার ভারী বৃষ্টি শুরু হওয়ায় এসব পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ক্যাম্প-১৫-এর বাসিন্দা মো. আক্তার বলেন, বর্ষা এলেই তাদের ভয় বেড়ে যায়। সোমবার রাতের পাহাড়ধসে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এমন ঘটনা ক্যাম্পবাসীর মধ্যে গভীর আতঙ্ক তৈরি করেছে। তিনি বলেন, এখনও টানা বৃষ্টি চলছে। কেউ জানেন না কখন কোথায় আবার পাহাড় ধসে পড়বে। প্রশাসনের সতর্কতা, কিন্তু সংকট রয়ে গেছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বড় অংশ পাহাড় কেটে তৈরি হওয়ায় ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়ে। তিনি বলেন, সোমবারের ঘটনায় নারী-শিশুসহ আটজনের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ক্যাম্পের লার্নিং সেন্টারগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো—ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও বিকল্প জায়গার অভাবে বহু মানুষ এখনও বিপজ্জনক ঢালেই বসবাস করছেন। আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও বাড়াচ্ছে উদ্বেগ কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তিনি জানান, আগামী দুই দিন কক্সবাজারে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। বারবার সতর্কতার পরও কেন থামছে না ঝুঁকি? রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস এখন শুধু একটি মৌসুমি দুর্যোগ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, পাহাড় কেটে বসতি তৈরি, সীমিত পুনর্বাসন সুযোগ এবং বর্ষার তীব্রতা—সব মিলিয়ে প্রতিবছর নতুন করে তৈরি হচ্ছে প্রাণহানির আশঙ্কা। প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—আর কত প্রাণহানির পর পাহাড়ের ঢালে বসবাসরত মানুষগুলোকে স্থায়ীভাবে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া সম্ভব হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৭, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0