ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা জেলার রেজিস্ট্রেশন প্রশাসনে জমির শ্রেণি পরিবর্তন, দলিল সম্পাদনে অনিয়ম এবং ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। জেলা রেজিস্ট্রারসহ গুলশান ও মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার মুন্সি মোখলেছুর রহমান, মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদের এবং গুলশান সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল্লাহ আল মামুন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত ৩ মে গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১০.৬৬ কাঠা জমির একটি সাব-কবলা দলিল সম্পাদন করা হয় (দলিল নম্বর ৩৪৫৯)। অভিযোগকারীদের দাবি, বাস্তবে জমিটি বসতভিটা হলেও দলিলে সেটিকে ‘নাল জমি’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাদের মতে, এভাবে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি ও দলিল প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দলিল সম্পাদনে চাপের অভিযোগ অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জমির দাতা পক্ষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দলিল সম্পাদনে বাধ্য করা হয়েছে এবং সরকারি রাজস্বের একটি অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা মনে করেন, এ ধরনের অনিয়মের ফলে রাষ্ট্রের রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি বাড়তে পারে। জেলা রেজিস্ট্রারের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, ঢাকা জেলার অন্তত ২১টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চললেও জেলা রেজিস্ট্রার মুন্সি মোখলেছুর রহমান কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি। কিছু ক্ষেত্রে তিনি অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অডিট ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অফিস থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। মোহাম্মদপুর অফিসে জালিয়াতি ধামাচাপার অভিযোগ মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি দলিল জালিয়াতি ও অনিয়মের বিষয়গুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই অফিসের নকল নবিশ আওলাদ হোসেন দীর্ঘ সময় ধরে বালাম বইয়ে তথ্য সংরক্ষণ করেননি এবং নিয়মনীতি উপেক্ষা করে এজলাসে ওঠার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া অভিযোগকারীরা বলেন, মোহাম্মদপুর অফিসে সরকারি বিধিবিধানের বাইরে স্ক্যানার মেশিন স্থাপন করা হয়েছে এবং দলিলের কাগজ স্ক্যান করে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তাদের দাবি, রেকর্ড রুমে এ ধরনের স্ক্যানার বসানোর কোনো নিয়ম নেই। গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের অভিযোগ গুলশান সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে দলিল সম্পাদনের সময় অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ ও রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, কিছু সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে এবং দ্রুত সেবা দেওয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। সূত্রের বরাতে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এসব দালাল চক্রকে প্রশ্রয় দেওয়ার ফলে প্রশাসনিক দুর্বলতা তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আশুলিয়া অফিসের পূর্ববর্তী অভিযোগ ২০২৪ সালের একটি পৃথক অভিযোগে আশুলিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কিছু কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণ ও দলিল প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে বলা হয়েছিল, সেখানে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম পরিচালনা করছিল। ঘুষের অর্থ আদায়ের অভিযোগ অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ঢাকা জেলার ২১টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে অডিট ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের নামে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয়। সেখানে মাশোহারা, অডিটের নামে অর্থ গ্রহণ এবং বদলি বাণিজ্যের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। দুদকের অভিযানের প্রেক্ষাপট রেজিস্ট্রেশন অফিসে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দেশের ৩৫টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অভিযান চালায়। ওই অভিযানে দলিল রেজিস্ট্রি, নকল উত্তোলনসহ বিভিন্ন সেবায় অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠে আসে। পর্যবেক্ষকদের মতে, একই ধরনের অভিযোগ বারবার সামনে আসায় রেজিস্ট্রেশন প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সেবার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রশাসনের ভেতরের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মাত্র আট দিনের ব্যবধানে আবারও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে খুলনা মহানগরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিম্নাঞ্চল। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও তারও বেশি পানি জমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, পথচারী এবং রিকশা-ইজিবাইকচালকেরা। একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি শুধু নাগরিক দুর্ভোগই বাড়াচ্ছে না, বরং ৮২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। বৃষ্টির পরিসংখ্যান কী বলছে? খুলনা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৭৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আরও ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এর আগে ১ জুলাই মাত্র ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে প্রশ্ন উঠছে—শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে খাল খনন, ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কারের পরও কেন মাঝারি বৃষ্টিতেই নগরজীবন অচল হয়ে পড়ছে? নাগরিকদের অভিযোগ: পানি নামতে এখন লাগে এক সপ্তাহ নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কবীর বটতলা এলাকার বাসিন্দা আলমগীর শেখ জানান, এখন প্রায় প্রতিটি বৃষ্টিতেই তাদের বাড়ির নিচতলা পানিতে ডুবে যায়। তার ভাষ্য, আগে একদিনের মধ্যে পানি নেমে গেলেও এখন একবার পানি জমলে সাত থেকে আট দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় এক বছর আগে এলাকার সড়ক ও পাশের ড্রেন প্রায় তিন ফুট উঁচু করে নির্মাণ করা হলেও বাড়িঘর থেকে ড্রেনে পানি যাওয়ার কোনো কার্যকর সংযোগ রাখা হয়নি। ফলে পানি বের হওয়ার পথই বন্ধ হয়ে গেছে। সংকুচিত খাল কি সংকটের মূল কারণ? বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুলের মতে, সমস্যার বড় একটি কারণ পরিকল্পনাহীন ড্রেনেজ উন্নয়ন। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে তালতলা খালসহ অন্তত ১৩টি প্রাকৃতিক খালের প্রস্থ ৬০ থেকে ১০০ ফুট থেকে কমিয়ে মাত্র ১২ থেকে ১৩ ফুটের কংক্রিটের ড্রেনে রূপান্তর করা হয়েছে। তার মতে, এতে শুধু পানি ধারণক্ষমতাই কমেনি, বরং স্বাভাবিক পানি প্রবাহও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। শুধু ড্রেন নয়, আরও কয়েকটি কারণ খুলনার নাগরিক নেতা অ্যাডভোকেট শামীমা সুলতানা শিলুর মতে, খাল সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি নদী ও খাল ভরাট, জলাধার দখল এবং জোয়ারের সময় রূপসা নদীর পানি শহরে প্রবেশ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। অর্থাৎ, জলাবদ্ধতার কারণ কেবল বৃষ্টিপাত নয়; নগর পরিকল্পনা, জলাধার ব্যবস্থাপনা এবং নদী-ড্রেন সংযোগের সমস্যাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সিটি করপোরেশন কী বলছে? খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান কনজারভেন্সি কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, ঢাকনাযুক্ত ড্রেন পরিষ্কারের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি সিটি করপোরেশনের নেই। তার মতে, ভারী স্ল্যাব খুলে শ্রমিকদের হাতে ড্রেন পরিষ্কার করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ। টানা বৃষ্টির কারণে সেই কাজও ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, নগরীর পানি স্বাভাবিকভাবে রূপসা নদীতে নামতে পারছে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ, অকার্যকর পাম্প হাউস, স্লুইস গেটের সীমিত সক্ষমতা এবং অনেক এলাকায় ড্রেনের তলদেশ উঁচু হয়ে যাওয়ায় সড়কের তুলনায় বাড়িঘর নিচু হয়ে পড়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি বসতবাড়িতে ঢুকে যাচ্ছে। তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত তিন মাস ধরে পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, ড্রেন পরিষ্কার এবং অকার্যকর অবকাঠামো সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যে প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি খুলনার নাগরিকদের মূল প্রশ্ন একটাই—শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও যদি মাঝারি বৃষ্টিতেই শহর বারবার পানির নিচে চলে যায়, তবে প্রকল্পের প্রকৃত সুফল কোথায়? বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ ও নাগরিকদের অভিজ্ঞতা বলছে, শুধু ড্রেন নির্মাণ নয়; প্রাকৃতিক খাল সংরক্ষণ, নদীর সঙ্গে কার্যকর সংযোগ, জলাধার রক্ষা এবং সমন্বিত নগর পরিকল্পনা ছাড়া জলাবদ্ধতার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। বর্তমান পরিস্থিতি তাই কেবল একটি মৌসুমি দুর্ভোগের গল্প নয়; এটি নগর পরিকল্পনা, অবকাঠামোর কার্যকারিতা এবং সরকারি বিনিয়োগের ফলাফল নিয়ে নতুন করে জবাবদিহির প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত হওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা প্রায় অভিন্ন ভাষায় বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, বরং তার বিরুদ্ধে চলমান ও নিষ্পন্ন মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা কেবল তার ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক, ভ্রমণসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা এবং সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়া। কী বলেছেন শেখ হাসিনা? রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, তিনি চলতি বছরের ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে ফিরে তিনি এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। তিনি বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে, এমনকি প্রাণনাশের আশঙ্কাও রয়েছে। তবুও তিনি আদালতের মুখোমুখি হতে চান। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের পর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতারা বলেছেন, তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা বিচারাধীন বা যেসব মামলায় আদালতের সিদ্ধান্ত এসেছে, সেগুলোর আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ হওয়া উচিত। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গণমাধ্যমে বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই ২০২৪ সালের আন্দোলন-সংক্রান্ত অভিযোগসহ বিভিন্ন মামলার বিচার চলছে এবং আদালতই তার অপরাধ ও শাস্তি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দেবেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের মতে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও কৌশল নিয়ে দলটির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তার দাবি, অনেক কর্মীর মধ্যে নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, যদি রয়টার্সে প্রকাশিত সাক্ষাৎকার সঠিক হয়ে থাকে এবং শেখ হাসিনা দেশে ফেরেন, তাহলে তাকে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্দিবিনিময় চুক্তির বিষয়টিও উল্লেখ করেন। অন্যদিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা কখন, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরবেন—এটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগই নির্ধারক হবে। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষারও বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। আইনি বাস্তবতা কী? বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ— তার ভ্রমণ নথি বা পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা। বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ট্রাভেল ডকুমেন্ট। বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া। আদালতে বিচারাধীন বা নিষ্পন্ন মামলাগুলোর আইনগত অবস্থান। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ পররাষ্ট্র ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি একটি রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক বিষয়ও। তাদের মতে, তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চাইলেও প্রয়োজন হবে বৈধ ভ্রমণ নথি, সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমোদন এবং বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সমন্বয়। এ কারণেই অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, দেশে ফেরার ঘোষণা বাস্তবে কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে দুই দেশের সরকারি সিদ্ধান্ত এবং আইনি প্রক্রিয়ার ওপর। রাজনৈতিক বার্তা নাকি বাস্তব প্রস্তুতি? রয়টার্সে দেওয়া সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে দুটি ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। একটি পক্ষ মনে করছে, এটি আদালতের মুখোমুখি হওয়ার রাজনৈতিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত। অন্য একটি অংশের ধারণা, এটি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাচাই, সমর্থকদের সক্রিয় রাখা কিংবা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করার একটি কৌশলগত বার্তাও হতে পারে। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা যতই বাড়ুক না কেন, বাস্তবে বিষয়টি নির্ভর করবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর— বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান; ভারত সরকারের কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত; প্রযোজ্য আইন ও আদালতের নির্দেশনা; এবং উভয় দেশের পারস্পরিক আইনি সহযোগিতা। ফলে রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—দেশে ফেরা আদৌ সম্ভব হবে কি না, আর হলে সেটি কোন আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। সেই উত্তরই আগামী সময়ের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার পাঁচলিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১ জন নারীকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য হিসেবে কাজ করার অভিযোগ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় পাঁচলিয়া বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নারী পুলিশের সহায়তায় তাদের আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ১১ জনই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ধর্মমণ্ডল গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ যা বলছে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা পুলিশের কাছে দাবি করেছেন যে তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় স্বল্প সময়ের জন্য ভাড়া বাসা নিয়ে অবস্থান করতেন। এরপর দল গঠন করে ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন বলে পুলিশ দাবি করছে। তবে এসব তথ্য এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে। মামলা ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওসি আসলাম আলী বলেন, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে আটক ১১ জনকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে যেসব প্রশ্ন সামনে আসছে ঘটনাটি ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পেতে পারে— অভিযুক্তরা কতদিন ধরে সিরাজগঞ্জে অবস্থান করছিলেন। দেশের কোন কোন জেলায় একই কৌশলে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের সঙ্গে আরও কোনো ব্যক্তি বা নেটওয়ার্ক যুক্ত আছে কি না। পূর্বে দায়ের হওয়া কোনো ছিনতাই মামলার সঙ্গে এই চক্রের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না। এসব বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বরিশাল অফিস : একের পর এক ভিন্নধর্মী দক্ষতায় বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম তুলে ধরছেন বরিশালের তরুণী নুসরাত জাহান নিপা। এবার কাগজ দিয়ে সবচেয়ে কম সময়ে স্নো-ফ্লেক (তুষারকণা) তৈরি করে তৃতীয়বারের মতো গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে তিনবার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লেখানোর বিরল কৃতিত্ব অর্জন করলেন নিপা। বরিশাল নগরীর কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা নুসরাত জাহান নিপা সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতা করছেন। পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন ও আত্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে চলেছেন। সবশেষ রেকর্ডটি তিনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গড়েন। যদিও সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতি ও সনদ হাতে পেয়েছেন। এই বিভাগে এর আগে চীনের প্রতিযোগীর দখলে থাকা ২৩ দশমিক ১৬ সেকেন্ডের রেকর্ড ভেঙে নিপা মাত্র ২১ দশমিক ৮৪ সেকেন্ডে কাগজের স্নো-ফ্লেক তৈরি করে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন। নিপা জানান, কাগজ নির্দিষ্ট কৌশলে ভাঁজ ও কেটে তুষারকণার আকৃতি তৈরি করার এই চ্যালেঞ্জিং কাজটি সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিয়েছেন। তার ভাষায়, কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে কঠিন লক্ষ্যও অর্জন করা সম্ভব। তিনি বলেন, খেলাধুলা ও বিভিন্ন দক্ষতাভিত্তিক প্রতিযোগিতার প্রতি ছোটবেলা থেকেই তার আগ্রহ ছিল। তবে বরিশালে মেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় ঘরে বসেই অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। দেশের পাশাপাশি নিজের শহর বরিশালকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করানোর লক্ষ্য থেকেই এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বলে জানান তিনি। নিপার বিশ্বরেকর্ড যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালে। করোনা মহামারির সময় তিনি এক হাতে মাত্র এক মিনিটে ৭১টি কয়েন দিয়ে টাওয়ার তৈরি করে ইতালির সিলভিও সাব্বার গড়া আগের রেকর্ড ভেঙে প্রথমবার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লেখান। এরপর ২০২৪ সালে চপস্টিক ব্যবহার করে এক মিনিটে ২৭টি ভাতের দানা মুখে তুলে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বরেকর্ড গড়েন। আর এবার কাগজের স্নো-ফ্লেক তৈরিতে নতুন রেকর্ড গড়ে তিনি তৃতীয়বারের মতো এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করলেন। নিপার এই অর্জন ব্যক্তিগত সাফল্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও ধারাবাহিক প্রস্তুতি, আত্মবিশ্বাস এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করা সম্ভব—নিপার সাফল্য সেই বার্তাই নতুন করে সামনে আনছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : টানা ভারি বর্ষণের এক রাতেই কক্সবাজারে পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে আটজন রোহিঙ্গা শরণার্থী, একজন স্থানীয় বাসিন্দা এবং পেকুয়ায় মারা যাওয়া এক শিশুও রয়েছেন। সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে, যেখানে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একাধিক পাহাড়ধসে একই পরিবারের সাতজনসহ মোট আটজন প্রাণ হারিয়েছেন। ঘটনার পর প্রশাসন এটিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ঝুঁকি ও অবৈধ পাহাড় কাটার পরিণতি হিসেবে দেখছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ের পাদদেশে অনিয়ন্ত্রিত বসতি, অপরিকল্পিত পাহাড় কাটা এবং টানা বর্ষণের সম্মিলিত প্রভাবে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এক রাতে চার স্থানে পাহাড়ধস রোববার গভীর রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং কক্সবাজার শহরের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। একই সময় পেকুয়ায়ও পাহাড়ধসে প্রাণ হারায় এক শিশু। মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার সদরের দরিয়ানগর এলাকায় আরেকটি পাহাড়ধসে এক নারীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিশুসহ চারজন আহত হন। জামতলীর ট্র্যাজেডি: একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৬ ব্লকে। রাত দেড়টার দিকে পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ে মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর। মুহূর্তেই ঘরটি মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। উদ্ধার অভিযানে নিহত হন— কামাল হোসাইন (৪৪) তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) তাদের চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাস পরিবারের ১০ সদস্য ঘুমিয়ে থাকলেও অলৌকিকভাবে সাতজন জীবিত উদ্ধার হন। তবে তাদের সবাই আহত। উখিয়া ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তিনজনের মরদেহ এবং দুইজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আরও পাঁচ প্রাণহানি জামতলীর ঘটনার কিছুক্ষণ পর রাত ২টার দিকে কুতুপালং ৭ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড়ধসে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বালুখালী ১১ নম্বর ক্যাম্পের সি-১১ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসে একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হন। তারা হলেন— উম্মে হাবিবা (২৭) তানজিনা আক্তার (১৩) মোহাম্মদ রিহান (৫) হারুনুর রশিদ (৩) ক্যাম্পের বাইরে স্থানীয় বাসিন্দারও মৃত্যু রাত তিনটার দিকে কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে আলী আকবর নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের খলিফা মুরা আলিম্যার ঝিরি এলাকায় সোমবার দুপুরে পাহাড়ধসে সাত বছরের শিশু মো. মিনহাজ উদ্দিনের মৃত্যু হয়। প্রশাসনের হিসাব কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান জানান, পাহাড়ধসে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে। আতঙ্কের নাম বর্ষাকাল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসকারী আবদুস সালাম ও মাহ আলম বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেই তাদের জীবনে নেমে আসে স্থায়ী আতঙ্ক। তাদের ভাষ্য, অধিকাংশ ঘর পাহাড় কেটে তৈরি ঢালের ওপর বাঁশ, ত্রিপল ও অস্থায়ী উপকরণ দিয়ে নির্মিত। ভারি বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে গেলে সামান্য ধসও মুহূর্তের মধ্যে পুরো পরিবারকে চাপা দিতে পারে। ঝুঁকিতে প্রায় তিন লাখ মানুষ শুধু রোহিঙ্গা ক্যাম্প নয়, কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও রামুর পাহাড়ঘেরা এলাকাগুলোতেও প্রায় তিন লাখ মানুষ পাহাড়ের পাদদেশ বা ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় বসবাস করছেন। টানা বৃষ্টির কারণে এসব এলাকায় নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। অবৈধ পাহাড় কাটা নিয়ে প্রশাসনের কঠোর বক্তব্য শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় ও কিছু রোহিঙ্গার অবৈধ পাহাড় কাটার কারণে বহু এলাকা চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার দাবি, বারবার সতর্ক করার পরও একটি অসাধু চক্র পাহাড় কাটা অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, এই ঘটনা শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা নয়; অবৈধভাবে পাহাড় কেটে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ তৈরির কারণে এটি এক ধরনের মানবসৃষ্ট বিপর্যয়। এ কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের হস্তক্ষেপের সংঘর্ষ প্রতিবছর বর্ষা এলেই কক্সবাজারে পাহাড়ধসের ঝুঁকি সামনে আসে। কিন্তু একই ধরনের প্রাণহানি বারবার ঘটলেও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরানো, পাহাড় কাটা বন্ধ করা এবং নিরাপদ পুনর্বাসনের মতো দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এবারের ঘটনাও সেই বাস্তবতাকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। যেখানে টানা বৃষ্টি ছিল তাৎক্ষণিক কারণ, আর অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় কাটা, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি এবং দুর্বল প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছিল দীর্ঘদিনের নীরব বিপদের ভিত্তি। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এ ধরনের মৃত্যু কতটা অনিবার্য, আর কতটা প্রতিরোধযোগ্য।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীনকে পদায়নের আদেশ বাতিলের দাবিতে স্বাস্থ্য ভবন ঘেরাও, বিক্ষোভ এবং পরিচালকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন জুলাই আন্দোলনের পক্ষের চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও স্বাস্থ্য বিভাগের একাংশের কর্মচারীরা।বিক্ষোভকারীরা ঘোষণা দেন, বিতর্কিত বলে দাবি করা এই পদায়নের আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। পদায়ন ঘিরে কী অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীন শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের উপপরিচালক থাকাকালে তৎকালীন পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগসাজশে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। তাদের আরও দাবি, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনার পর ২ আগস্ট স্বাচিপের ব্যানারে আয়োজিত তথাকথিত ‘শান্তি সমাবেশ’-এর অন্যতম আয়োজক ছিলেন তিনি। পাশাপাশি স্বাচিপের ব্যানারে অনুষ্ঠিত একাধিক কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারীদের দাবি বিক্ষোভকারীদের ভাষ্য, জুলাই আন্দোলনের সময়কার ভূমিকার কারণে শেবাচিম হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলামের পাশাপাশি ডা. এস এম মনিরুজ্জামানকেও দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। তাদের দাবি, সেই ব্যক্তিকেই পুনরায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের সিদ্ধান্তে জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংগঠন, বিএনপি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভে যা ঘটেছে ৭ আগস্ট ২০২৬ বরিশাল স্বাস্থ্য ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন জুলাই আন্দোলনের কর্মী ও ছাত্রনেতা প্রিন্স। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডা. ফয়সাল আহমেদ, ডা. ঈস্তিয়াক রিফাত, ডা. রাকিবুল ইসলাম মনি এবং জুলাইযোদ্ধা ও কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা স্বাস্থ্য ভবনে প্রবেশ করে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কক্ষ অবরুদ্ধ করেন এবং কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন।পরে তারা ঘোষণা দেন, পদায়নের আদেশ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীন কিংবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ভোলা: ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় এক নারী ও এক পুরুষকে জনসম্মুখে জুতার মালা পরিয়ে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনাটি উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের আনন্দ বাজার এলাকায় ঘটেছে। হেনস্তার শিকার মাহে আলম মাঝি ও তাসনুর বেগম—দুজনই একই ইউনিয়নের বাসিন্দা। চাঁদা দাবির অভিযোগ থেকে ঘটনার সূত্রপাত মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দা মো. সজিব মাহে আলম মাঝির কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে মাহে আলম চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সজিব ও তাঁর সহযোগীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন বলে অভিযোগ। ভুক্তভোগীর দাবি, পরবর্তী সময়ে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করতে তাঁর বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অপবাদ ছড়ানো হয়। কী ঘটেছিল সেদিন অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার সকালে মাহে আলম মাঝি স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বাড়িতে যান। একই সময়ে সেখানে তাসনুর বেগমও উপস্থিত হন। এ সময় সজিবের নেতৃত্বে তাঁর ভাই রাকিবসহ কয়েকজন মাহে আলম ও তাসনুর বেগমকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে আনন্দ বাজার এলাকায় নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে তাঁদের বিরুদ্ধে অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ তুলে জনসম্মুখে গলায় জুতার মালা পরিয়ে অপমান করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনেই তাঁদের হেনস্তা করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলা ও পুলিশের পদক্ষেপ ঘটনার পর মঙ্গলবার মাহে আলম মাঝি থানায় মামলা দায়ের করেন। তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ, অভিযোগের সত্যতা এবং জড়িতদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : একদিকে টানা বর্ষণ, অন্যদিকে নরম হয়ে আসা পাহাড়ের মাটি। গভীর রাতে মুহূর্তের ব্যবধানে ধসে পড়া মাটির নিচে চাপা পড়ে নিভে গেল আটটি জীবন। কিন্তু সেই মৃত্যুর পরও বদলায়নি বাস্তবতা—কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে এখনও ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন লাখো মানুষ। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই পাহাড়ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতা, মাইকিং এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আশ্রয়ের সীমাবদ্ধতা, ঘনবসতি এবং বিকল্প জায়গার অভাবে বহু পরিবার এখনও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রয়ে গেছে। ফলে যেকোনও সময় আবারও ঘটতে পারে বড় ধরনের প্রাণহানি। পাহাড় কেটে তৈরি আশ্রয়, বর্ষায় বাড়ে বিপদ বিশ্বের সবচেয়ে বড় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করছেন ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের পর প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এসব মানুষের জন্য পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে ঘরবাড়ি, সড়ক ও বিভিন্ন অবকাঠামো। দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে বসতি গড়ে ওঠায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত হলেই এসব এলাকায় তৈরি হয় ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঝুঁকি। প্রতি বছরই ক্যাম্পগুলোতে পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সোমবার গভীর রাতে উখিয়ার ৭ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আটজন নিহত হন। ঘটনার পর ক্যাম্পজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে পাহাড়ঘেঁষা বসতিতে থাকা হাজারো পরিবারের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন আতঙ্ক। আট মৃত্যুর পরও ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে মানুষ স্থানীয় প্রশাসন এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয় জানিয়েছে, ভারী বর্ষণের সময় অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। ক্যাম্পের লার্নিং সেন্টারগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিছু পরিবার সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। তবে এখনও বিপুলসংখ্যক মানুষ পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশের ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে অবস্থান করছেন। এ কারণে নতুন করে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কাটছে না। ৭ নম্বর ক্যাম্প: পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা জনপদ উখিয়ার কুতুপালং টিভি টাওয়ারসংলগ্ন পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে ৭ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির। এখানে ১০ হাজারের বেশি পরিবারের প্রায় অর্ধলাখ রোহিঙ্গার বসবাস। ক্যাম্পটির বড় একটি অংশ পাহাড়ের ঢাল ও নিচু এলাকায় অবস্থিত। বর্ষা এলেই এসব এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয় চরম উদ্বেগ। সোমবার রাতের পাহাড়ধসে এই ক্যাম্পে মো. একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ৭ নম্বর ক্যাম্পের চেয়ারম্যান রোহিঙ্গা নেতা আবদুল মাবুদ বলেন, পুরো ক্যাম্পই পাহাড় কেটে তৈরি হওয়ায় টানা বৃষ্টির সময় প্রায় অর্ধলাখ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার কিছু পরিবারকে লার্নিং সেন্টারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাইকিং করে সবাইকে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। নয়টি ক্যাম্পে বড় ঝুঁকি খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধ্যে অন্তত নয়টি ক্যাম্প পাহাড়ধসের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশ এবং খাড়া ঢালজুড়ে তৈরি হওয়া অসংখ্য বসতিতে বসবাস করছেন এক লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। বর্ষার ভারী বৃষ্টি শুরু হওয়ায় এসব পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ক্যাম্প-১৫-এর বাসিন্দা মো. আক্তার বলেন, বর্ষা এলেই তাদের ভয় বেড়ে যায়। সোমবার রাতের পাহাড়ধসে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এমন ঘটনা ক্যাম্পবাসীর মধ্যে গভীর আতঙ্ক তৈরি করেছে। তিনি বলেন, এখনও টানা বৃষ্টি চলছে। কেউ জানেন না কখন কোথায় আবার পাহাড় ধসে পড়বে। প্রশাসনের সতর্কতা, কিন্তু সংকট রয়ে গেছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বড় অংশ পাহাড় কেটে তৈরি হওয়ায় ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়ে। তিনি বলেন, সোমবারের ঘটনায় নারী-শিশুসহ আটজনের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ক্যাম্পের লার্নিং সেন্টারগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো—ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও বিকল্প জায়গার অভাবে বহু মানুষ এখনও বিপজ্জনক ঢালেই বসবাস করছেন। আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও বাড়াচ্ছে উদ্বেগ কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তিনি জানান, আগামী দুই দিন কক্সবাজারে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। বারবার সতর্কতার পরও কেন থামছে না ঝুঁকি? রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস এখন শুধু একটি মৌসুমি দুর্যোগ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, পাহাড় কেটে বসতি তৈরি, সীমিত পুনর্বাসন সুযোগ এবং বর্ষার তীব্রতা—সব মিলিয়ে প্রতিবছর নতুন করে তৈরি হচ্ছে প্রাণহানির আশঙ্কা। প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—আর কত প্রাণহানির পর পাহাড়ের ঢালে বসবাসরত মানুষগুলোকে স্থায়ীভাবে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া সম্ভব হবে?
জামালপুর: জামালপুরের বকশীগঞ্জে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মামলার আরেক আসামি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মো. ইদ্রিছ আলীকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত সাতজনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— বকশীগঞ্জ উপজেলার নীলক্ষীয়া পশ্চিম পাড়ার জাফর মেম্বারের ছেলে মো. রাশেদুর রহমান ওরফে পাপ্পু (৩০), জানকি মহরবান গ্রামের শাহাজাদা ঠিকাদারের ছেলে মো. বিজু মিয়া (৩৬), জানকিপুর মহরবান গ্রামের মুকুল মিয়ার ছেলে মো. বাদশা মিয়া (৩৫), একই এলাকার জাফর মিয়ার ছেলে মো. আলী (৩৬), দিকপাড়ার বাসনকান্দা গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে মো. আসমত আলী (৩০), জানকিপুর চকপাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে মনিরুজ্জামান ওরফে জুয়েল মিয়া (৩৫) এবং জানকিপুর মহরবান গ্রামের আলতাব হোসেনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (৪০)। কী ঘটেছিল মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৫ মে রাতে ভুক্তভোগী গৃহবধূ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ঝগড়ারচর বাজার থেকে নীলক্ষীয়া বাজারে যাচ্ছিলেন। তিনি স্বামীর সঙ্গে বকশীগঞ্জ উপজেলার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তার স্বামী সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। পথে উপজেলার মাঞ্জালিয়া সেতু এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি অটোরিকশার গতিরোধ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ওই নারীকে জোর করে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে অন্য একটি ভ্যানগাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় একটি পরিত্যক্ত বাড়ির রান্নাঘরে নিয়ে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর স্বামী তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চারজনকে আসামি করা হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন এবং তাদের মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে, মামলার আরেক আসামি মো. ইদ্রিছ আলীকে খালাস দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-১-এর সরকারি কৌঁসুলি ফজলুল হক বলেন, "মামলায় ভুক্তভোগী গৃহবধূসহ সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। দীর্ঘ শুনানিতে অভিযোগটি প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে আদালত সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং একজনকে খালাস দেন।" মামলায় আসামিপক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন মো. মোকাম্মেল হক।
মাদারীপুর: মাদারীপুর সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর একাধিক মামলার আসামি পারভেজ ব্যাপারী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার মধ্যে পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে গেছেন। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। ঘটনার পর তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারে অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু নাঈম জানান, সোমবার সন্ধ্যার পর সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে পারভেজ ব্যাপারীকে আটক করা হয়। এ সময় তার ফেলে দেওয়া ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর অভিযানের ধারাবাহিকতায় পারভেজকে নিয়ে একটি স্থানে যাওয়ার সময় তার সহযোগীরা ঘটনাস্থলে একাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে পারভেজ পালিয়ে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, পারভেজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্র উদ্ধারের উদ্দেশ্যে পুলিশ তাকে একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পরপরই কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং ওই পরিস্থিতির মধ্যেই পারভেজ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু নাঈম বলেন, "পারভেজ একজন মাদক ব্যবসায়ী। তাকে আটকের পরই তার সহযোগীরা একাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই পরিস্থিতিতে সে পালিয়ে যায়। ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্য আহত হননি।" পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক পারভেজকে পুনরায় গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বোমা বিস্ফোরণে জড়িত সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তবে ঘটনায় কতজন হামলায় অংশ নিয়েছিল, কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে এবং পুলিশের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে কীভাবে আসামি পালাতে সক্ষম হন—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষককে যৌন হয়রানির মামলায় অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক জিয়াউল হককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পরানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক জিয়াউল হক দীর্ঘদিন ধরে একই বিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষককে আপত্তিকর প্রস্তাব দেওয়া, যৌন হয়রানি এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী শিক্ষক মান্দা থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে অভিযুক্ত শিক্ষক ওই নারী শিক্ষককে বিরক্ত করে আসছিলেন। বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে এলে একটি অভ্যন্তরীণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জিয়াউল হক নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরও একই ধরনের আচরণ অব্যাহত থাকে। মামলার বিবরণে আরও বলা হয়েছে, গত ১০ জুন নবম শ্রেণির একটি ক্লাসে যাওয়ার সময় বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের তৃতীয় তলার বারান্দায় শিক্ষার্থীদের সামনেই ওই নারী শিক্ষকের পথরোধ করেন জিয়াউল হক এবং তাকে হেনস্তা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষককে উদ্ধার করেন। এছাড়া মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে বিদ্যালয়ের সামনেও অভিযুক্ত শিক্ষক ওই নারী শিক্ষককে জুতা দিয়ে মারধরের চেষ্টা করেন। উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয় থেকে সরে যান বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল ওয়াহেদ বলেন, নারী শিক্ষকের দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক জিয়াউল হক আদালতে জামিন চাইলে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তদন্তে যেসব প্রশ্ন সামনে এসেছে ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় এক বছর ধরে হয়রানির অভিযোগ থাকলেও কেন তা প্রাথমিক পর্যায়েই কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি? বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে অভিযুক্তের ক্ষমা চাওয়ার পরও কেন পুনরায় একই ধরনের অভিযোগ ওঠে? শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে প্রশাসনিক তদারকি ও জবাবদিহি কতটা নিশ্চিত হচ্ছে? মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগ পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : একটি বিকট শব্দ, তারপর মাত্র এক থেকে দুই মিনিটের আগুন। সময় খুব কম হলেও এর প্রভাব পড়েছে পুরো বরগুনা সদর উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায়। গ্রিড সাবস্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৬৭ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। সোমবার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার ২ নম্বর গৌরীচন্না ইউনিয়নের খেজুরতলা এলাকায় অবস্থিত গ্রিড সাবস্টেশনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। যদিও আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে সাবস্টেশনের একাধিক ফিডার, বৈদ্যুতিক তার এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে পুরো পল্লী বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। একটি সাবস্টেশন, পুরো উপজেলার বিদ্যুৎ স্থানীয় সূত্র এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, এই গ্রিড সাবস্টেশন থেকেই বরগুনা সদর উপজেলার সম্পূর্ণ পল্লী বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। ফলে একটি ফিডারে বিস্ফোরণ এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাই ১০টি ইউনিয়নের হাজারো পরিবার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সেবাখাতকে বিদ্যুৎবিহীন করে ফেলে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কী ঘটেছিল? পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বরগুনা জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, ঘটনার সময় তারা অফিসেই ছিলেন। বিকট শব্দ শোনার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ১১ কেভি এসিআর (ACR) বিস্ফোরণের কারণে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পাশাপাশি কয়েকটি বৈদ্যুতিক তার এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশও আগুনে পুড়ে যায়, যা দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মেরামত চলছে, তবে বদলাতে হবে প্রধান যন্ত্রাংশ বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর মেরামত শুরু হয়েছে এবং প্রতিটি যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করা হচ্ছে। ডিজিএম মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, পুড়ে যাওয়া প্রধান যন্ত্রাংশটি পটুয়াখালী থেকে এনে প্রতিস্থাপন করতে হবে। এজন্য রাতের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে পরদিন সকালের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। কারিগরি ত্রুটি, নাকি আরও গভীর সমস্যা? প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎ বিভাগের ধারণা, অভ্যন্তরীণ কারিগরি ত্রুটির কারণেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, এটি এখনো প্রাথমিক মূল্যায়ন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিড সাবস্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় একটি যন্ত্রাংশের বিকল হওয়া যদি পুরো বিতরণ ব্যবস্থাকে অচল করে দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঝুঁকি এড়াতে অবকাঠামোর নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা (ব্যাকআপ) কতটা কার্যকর—সেই প্রশ্নও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তবে এই ঘটনার ক্ষেত্রে এমন কোনো নির্দিষ্ট ঘাটতির প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। এখন কী? বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তদন্ত শেষ হলে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যাবে। এদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন বরগুনা সদর উপজেলার প্রায় ৬৭ হাজার গ্রাহক।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় একটি ভাড়া বাসা থেকে আসমা আক্তার নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নিহত আসমা আক্তার পূর্ব বালিগাও জামে মসজিদের ইমাম মুহসিন উদ্দিনের স্ত্রী। ঘটনার পর থেকে তাদের একমাত্র শিশু কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে ইমাম মুহসিন উদ্দিনের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। সোমবার (৬ জুলাই) রাত প্রায় ৮টার দিকে উপজেলার পূর্ব বালিগাও এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে টঙ্গিবাড়ী থানা পুলিশ। কীভাবে সামনে আসে ঘটনাটি? স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ইমাম মুহসিন উদ্দিন বাড়ির মালিককে ফোন করে জানান, তার স্ত্রী ঘরের ভেতরে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে পারেন। বাড়ির মালিক বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতরে আসমা আক্তারকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে আসমা আক্তারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি তদন্তকারী সংস্থা। স্থানীয়দের তথ্য কী বলছে? স্থানীয় বাসিন্দা কুরবান আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, মুহসিন উদ্দিনের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে নয়। তিনি প্রায় দুই বছর ধরে পূর্ব বালিগাও জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পূর্ব বালিগাও গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম খানের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ঘটনার সময় বাড়ির মালিক ঢাকায় অবস্থান করছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পুলিশের বক্তব্য টঙ্গিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহম্মেদ বলেন, ভাড়া বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তার ভাষ্য, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ওসি আরও জানান, ঘটনার পর নিহতের স্বামী তাদের শিশু কন্যাকে নিয়ে চলে যাওয়ায় এখন পর্যন্ত তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে তার বক্তব্যও এখনো নেওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে যেসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীদের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে— আসমা আক্তারের মৃত্যু আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে? ইমাম মুহসিন উদ্দিন কেন বাড়ির মালিককে ফোন করে স্ত্রীর মৃত্যুর কথা জানান? ফোন করার পর তিনি কোথায় গেছেন এবং কেন শিশু কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন? ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে কী তথ্য উঠে আসে? ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ তদন্তে কী নতুন তথ্য যোগ করে? এসব প্রশ্নের উত্তর মিললেই ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে। এখন পর্যন্ত যা নিশ্চিত আসমা আক্তারের মরদেহ টঙ্গিবাড়ীর একটি ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী মুহসিন উদ্দিন শিশু কন্যাসহ নিখোঁজ রয়েছেন। এখনো তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলমান এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধা মাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার একমাত্র ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের গেন্দারপাড়া গ্রামের। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন রাশেদা বেগম (৬৫) এবং তার একমাত্র ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকির। যে বিরোধ থেকে ঘটনার সূত্রপাত স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ছয় বছর আগে রাশেদা বেগমের স্বামী মোজাম্মেল হক গুঠু তালুকদার মারা যান। এরপর তিনি স্বামীর বাড়িতেই একা বসবাস করছিলেন। অন্যদিকে, তাদের একমাত্র ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকির স্ত্রীকে নিয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মাস্টারপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন। রাশেদা বেগমের বাবার বাড়ি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বাঁশনিওগী গ্রামে। পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, তিনি বাবার সম্পত্তি থেকে ওয়ারিশ হিসেবে পাওয়া ৫৬ শতাংশ জমি প্রায় ৮ লাখ টাকায় ভাইদের কাছে বিক্রি করেন। পরে সেই অর্থ দিয়ে নিজের নামে অন্য জায়গায় জমি কেনেন। 'জমি লিখে দেওয়ার চাপ'—অভিযোগ কী রাশেদা বেগমের অভিযোগ, নতুন কেনা জমি ছেলের নামে লিখে দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এতে সম্মতি না দেওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, এ নিয়ে এর আগেও সরিষাবাড়ী থানায় অভিযোগ করেছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধের একপর্যায়ে জাকির গেন্দারপাড়ার বাড়িতে তালা লাগিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে মধুপুরে চলে যান। পরে রাশেদা বেগম বাড়িতে ফিরলে স্থানীয় বাসিন্দারা তালা ভেঙে তাকে ঘরে প্রবেশে সহায়তা করেন। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে। সালিশের পর কী ঘটেছে অভিযোগ অনুযায়ী, গত রোববার অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সালিশ বৈঠকেও ছেলের পক্ষ থেকে জমি নিজের নামে লিখে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। রাশেদা বেগম এতে রাজি না হলে তাকে মানসিক চাপ প্রয়োগ করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে তার ভাইয়েরা ঘটনাস্থলে এসে তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যান। ভাইরাল ভিডিওতে যা দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাতে পবিত্র কোরআন নিয়ে কান্নাজড়িত অবস্থায় স্বামীর বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন রাশেদা বেগম। পরে স্বজনরা তাকে একটি ইজিবাইকে তুলে নিয়ে যান। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তবে ভিডিওটির ধারণের সময় ও সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রাশেদা বেগম যা বলছেন রাশেদা বেগম বলেন, "আমার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় আমাকে স্বামীর বাড়িতে থাকতে দেয় না। আমি গেলে আত্মহত্যা করে আমাকে ফাঁসিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেয়। রোববার আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। পরে ভাইদের খবর দিলে তারা এসে আমাকে নিয়ে যায়।" অভিযুক্তের বক্তব্য মেলেনি অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রাশেদুল ইসলাম জাকিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। পুলিশের অবস্থান সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, "এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।" তদন্তে যেসব প্রশ্ন সামনে আসছে ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের আগের অভিযোগগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কীভাবে নিষ্পত্তি হয়েছিল? স্থানীয় সালিশগুলো কেন স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি? ভাইরাল ভিডিওতে উঠে আসা অভিযোগগুলোর বাস্তবতা তদন্তে কী তথ্য পাওয়া যায়? বৃদ্ধা নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেবে? লিখিত অভিযোগ না থাকলেও পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত করবে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর মিললেই পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কী ঘটেছিল? ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে সিজান (২৫) নামে এক যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় অনিক নামে আরেক তরুণ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনিবার (৪ জুলাই) রাতে পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। নিহত সিজান পশ্চিম মাসদাইর এলাকার বাসিন্দা ইউনুছ ওরফে ইন্নু মিয়ার ছেলে। স্থানীয়দের বক্তব্য: সামাজিক উদ্যোগ নাকি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া? স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সম্প্রতি এলাকার একটি মসজিদের ইমাম কাউছারের উদ্যোগে ৩০ থেকে ৪০ সদস্যের একটি সামাজিক সংগঠন গড়ে ওঠে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংগঠনটি এলাকায় অপরাধ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কাজ করে। তাদের দাবি, সেই কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই সিজানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থলে ঠিক কী ঘটেছিল, কারা মারধরে অংশ নিয়েছিল এবং কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিবারের অভিযোগ নিহতের বাবা ইন্নু মিয়া অভিযোগ করেন, মসজিদের ইমাম কাউছারের নেতৃত্বে একদল কিশোর ও যুবক তার ছেলেকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। তার অভিযোগ অনুযায়ী, পরে মাসদাইর মোড়ে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে সিজানকে বেঁধে পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তার ডান পা ভেঙে যায় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। ইন্নু মিয়ার দাবি, পরে ইমাম কাউছার সিজানের হাতের বাঁধন খুলে দিয়ে তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে বলেন। দ্রুত খানপুর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ইমাম কাউছারের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে মসজিদের ইমাম কাউছার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার ভাষ্য, "সিজানের বিরুদ্ধে ছিনতাইসহ একাধিক অভিযোগ ছিল। তাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়, বরং খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে বোঝানোর উদ্দেশ্যে বাসা থেকে আনা হয়েছিল। তবে সেখানে উপস্থিত কিছু উত্তেজিত ব্যক্তি তাকে মারধর করেন।" তিনি আরও দাবি করেন, যারা মারধরে অংশ নিয়েছেন তারা তার সংগঠনের সদস্য নন। পুলিশের তদন্ত ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনো বাকি ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— সিজানকে কোন আইনি ক্ষমতায় বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল? কথিত সামাজিক সংগঠনের সদস্যদের ভূমিকা কী ছিল? মারধরে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা কারা? ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যরা কেন হামলা ঠেকাতে পারেননি? আহত অনিক কীভাবে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হলেন? ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কী উঠে আসে? এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আরও পরিষ্কার হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পুলিশের ৩৩ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জনস্বার্থে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ১৪ জন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), ১৮ জন অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) এবং একজন পুলিশ সুপার (এসপি)। রোববার (৫ জুলাই) রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা-১ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের তালিকাভুক্ত কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো ৩৩ কর্মকর্তার মধ্যে ১৪ জন ডিআইজি, ১৮ জন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং একজন পুলিশ সুপার রয়েছেন। এদের মধ্যে দুইজন ডিআইজি বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের বড় কালীপুরা গ্রামের সরকারবাড়ি-সংলগ্ন খালের ওপর নির্মিত একটি সেতু নির্মাণের মাত্র দুই বছরের মাথায় দেবে যায়। এরপর বন্যার পানির প্রবল স্রোতে সেতুর নিচের মাটি সরে গিয়ে এর একাংশ ধসে পড়ে। প্রায় ছয় বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে সরকারের প্রায় ৩২ লাখ টাকার একটি অবকাঠামো প্রকল্প কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে এবং স্থানীয় কয়েক শ মানুষকে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বড় কালীপুরা-তনু সরকার কান্দী সড়কের বড় কালীপুরা গ্রাম-সংলগ্ন খালের ওপর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ছিল ৩২ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৬ টাকা। সরেজমিনে যা দেখা গেল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির এক প্রান্ত ওপরে উঠে গেছে এবং অপর প্রান্ত নিচের দিকে দেবে গেছে। বিভিন্ন স্থানে কংক্রিট খসে পড়েছে, বেরিয়ে এসেছে লোহার রড। নিরাপত্তাহীন অবস্থার কারণে সেতুটি দিয়ে মানুষের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি দীর্ঘদিন অচল থাকলেও স্থায়ী সমাধানের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। প্রতিদিনের দুর্ভোগ স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, "ছয় বছর আগে বন্যার সময় সেতুটি ভেঙে যায়। এরপর থেকে আমাদের অনেক পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা হলে এ ভোগান্তির অবসান হবে।" স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সেতুটি অচল হয়ে পড়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং দৈনন্দিন যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই বাড়তি সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বড় কালীপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আছমা আক্তার বলে, "সেতু না থাকায় সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। অনেক ঘুরে যেতে হয়। একটি সেতুর অভাবে পুরো এলাকার মানুষ পিছিয়ে পড়ছে।" স্থানীয়দের মতে, একটি মাত্র সেতুর অচলাবস্থা পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, "স্থানীয় জনগণের যাতায়াতের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সেতুটি নদী-সংলগ্ন এলাকায় হওয়ায় পুনর্নির্মাণের জন্য যথাযথ কারিগরি পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।" তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, নির্মাণের মাত্র দুই বছরের মধ্যে একটি সরকারি সেতু কীভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ল এবং দীর্ঘ ছয় বছরেও কেন কার্যকর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কালেমাখচিত সাদা ও কালো পতাকা হাতে মোটরসাইকেল র্যালি, মিছিল ও সমাবেশ নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আয়োজকদের দাবি—এটি ইসলামের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ এবং মুসলমানদের পরিচয়ের প্রতীক। তবে ধর্মীয় গবেষক, নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যবেক্ষণে বিষয়টি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিদেশি দেশের পতাকা টাঙানোর প্রবণতার পাল্টা প্রতিক্রিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্য এবং নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর প্রচারণা—এই তিনটি বিষয় মিলেই কালেমাখচিত পতাকা প্রদর্শনের প্রবণতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মাদারীপুরে মোটরসাইকেল র্যালি গত শনিবার মাদারীপুর শহরের মডেল মসজিদ মোড়ে আসরের নামাজ শেষে প্রায় দেড় শতাধিক মুসল্লি জড়ো হন। তাদের অনেকের হাতে ছিল কালেমাখচিত কালো ও সাদা পতাকা। পরে মডেল মসজিদের সামনে থেকে মোটরসাইকেল র্যালি বের হয়। প্রতিটি মোটরসাইকেলে দুই থেকে তিনজন আরোহী ছিলেন। কয়েকজনের হাতে ছিল হ্যান্ডমাইক। স্লোগান দিতে দিতে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি পুনরায় মডেল মসজিদের সামনে ফিরে আসে। প্রায় এক ঘণ্টার র্যালির পর মাত্র দেড় মিনিটের সংক্ষিপ্ত সমাপনী বক্তব্য দিয়ে আয়োজকেরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। সমাপনী বক্তব্যে ফখরুদ্দিন রাজী নামে একজন বলেন, তারা যে পতাকা বহন করেছেন সেটিই "মুসলমানদের পতাকা"। র্যালিতে অংশ নেওয়া স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ফুটবলকে কেন্দ্র করে বিদেশি দেশের পতাকা টাঙানো হচ্ছে। তার ভাষ্য, মুসলমানদের কাছে ইসলামের পরিচয় তুলে ধরতেই তারা এই কর্মসূচির আয়োজন করেছেন। শুধু মাদারীপুর নয় একই ধরনের কালেমাখচিত সাদা ও কালো পতাকা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মিছিল, র্যালি এবং প্রকাশ্যে পতাকা টাঙানোর ঘটনা ঘটেছে। আয়োজকদের অনেকে এটিকে ইসলামের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করলেও সমালোচকদের প্রশ্ন—কেন ব্যবহৃত পতাকার রঙ, নকশা ও বিন্যাস বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন উগ্রবাদী সংগঠনের ব্যবহৃত পতাকার সঙ্গে মিল রাখছে? ইসলামে কি নির্দিষ্ট কোনো পতাকা আছে? ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও ইসলামী গবেষক মো. আনিসুজ্জামান সিকদারের মতে, ইসলামে নির্ধারিত কোনো ধর্মীয় পতাকার উল্লেখ নেই। তার ভাষ্য, রাসুল (সা.) যুদ্ধক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রঙের পতাকা ব্যবহার করেছিলেন। তবে ইসলামের জন্য স্থায়ী বা নির্দিষ্ট কোনো পতাকার কথা ইসলামী ঐতিহ্যে উল্লেখ নেই। তিনি বলেন, যদি ইসলামের নামে নির্ধারিত কোনো পতাকা থাকত, তাহলে মুসলিম বিশ্বে সেটিই সর্বজনীনভাবে ব্যবহৃত হতো। যাত্রাবাড়ী থেকে আলোচনার সূত্রপাত বাংলাদেশে কালেমাখচিত পতাকা নিয়ে আলোচনা তীব্র হয় জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে। ১৬ জুন মধ্যরাতে ঢাকার যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের বিভিন্ন অংশে একদল যুবক কালেমাখচিত পতাকা টাঙান। পরদিন সেগুলো সরিয়ে ফেলা হলে বিষয়টি নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করে। পতাকা সরানোকে "ইসলামের পতাকার অবমাননা" দাবি করে নতুন করে পতাকা টাঙানো হয় এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে "পতাকার মর্যাদা রক্ষার" নামে মিছিল শুরু হয়। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় স্থানীয় কিছু তরুণ এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ফেসবুক পেজে কালেমাখচিত পতাকা বিক্রি এবং টাঙানোর আহ্বানও ছড়িয়ে পড়ে। ফুটবল বিশ্বকাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনার পেছনে বড় একটি কারণ ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশজুড়ে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা টাঙানোর সংস্কৃতি। এ প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রামের কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি হারুন ইজহারের একটি বক্তব্য। ১৩ জুন প্রকাশিত ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, বিদেশি দেশের পতাকার পাশাপাশি কালেমার পতাকাও টাঙানো উচিত। ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানে কালেমাখচিত পতাকা প্রদর্শনের প্রবণতা দৃশ্যমান হতে শুরু করে। হারুন ইজহারের ব্যাখ্যা বিবিসি বাংলাকে দেওয়া বক্তব্যে হারুন ইজহার বলেন, তিনি এসব মিছিল বা পতাকা টাঙানোর আয়োজক নন। তার দাবি, ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিদেশি পতাকা ব্যবহারের সাংস্কৃতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই তিনি কালেমাখচিত পতাকার কথা বলেছিলেন। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি এত বড় আকার ধারণ করবে, তা তিনি কল্পনাও করেননি। তার ভাষায়, কোথাও সন্দেহজনক কিছু থাকলে প্রশাসন তদন্ত করুক এবং প্রয়োজনে তিনি সহযোগিতা করবেন। কেন উদ্বিগ্ন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা? মানবাধিকারকর্মী ও জঙ্গিবাদ বিশ্লেষক নুর খান লিটনের মতে, সাধারণ মুসলমানরা কালেমা লেখা থাকায় পতাকাটিকে ধর্মীয় মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিসরে একই ধরনের নকশা দীর্ঘদিন ধরে উগ্রবাদী সংগঠনের প্রতীক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রতীককে সাধারণীকরণের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বৃহত্তর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর হুমকির অভিযোগ কালেমাখচিত পতাকা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঢাকার একটি মাল্টিমিডিয়া প্রতিষ্ঠান 'ঢাকা স্ট্রিম' হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সম্পাদক গোলাম ইফতেখার মাহমুদের দাবি, প্রতিবেদন প্রকাশের পর একদিনেই শতাধিক ফোনকল আসে। পাশাপাশি ফেসবুকে হাজার হাজার মন্তব্যের মধ্যে অনেকগুলোতে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তিনি জানান, অফিসে হামলা ও আগুন দেওয়ার হুমকিও এসেছে। এ ঘটনায় কলাবাগান থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশের অবস্থান পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ.এইচ.এম. শাহাদাত হোসাইন বলেন, কোনো পতাকা বা প্রতীক যদি নিষিদ্ধ বা উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ বহন করে কিংবা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের বক্তব্য ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন সম্প্রতি বলেছেন, কালেমাখচিত পতাকা কিংবা অন্য ধর্মীয় প্রতীককে ঘিরে বিভ্রান্তি, অবমাননা বা রাজনৈতিক অপব্যবহার কাম্য নয়। তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং জাতীয় ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ ও সচেতন নাগরিকদের ধর্মীয় প্রতীক সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। অনুসন্ধানে যা উঠে এসেছে ইসলামে সর্বজনস্বীকৃত কোনো নির্ধারিত ধর্মীয় পতাকার উল্লেখ নেই। যাত্রাবাড়ীতে পতাকা টাঙানোর ঘটনার পর বিষয়টি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিদেশি পতাকার পাল্টা প্রতীক হিসেবে কালেমাখচিত পতাকা ব্যবহারের আহ্বান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবহৃত কিছু পতাকার নকশা আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী সংগঠনের ব্যবহৃত পতাকার সঙ্গে দৃশ্যগত মিল থাকায় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আয়োজকেরা ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে পতাকার ব্যবহার দাবি করলেও প্রশাসন বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকার পরিবর্তন হয়, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিও বদলায়। কিন্তু পাসপোর্ট করতে দালালকে টাকা দেওয়া, জমির নামজারি দ্রুত করাতে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ, থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা তদন্ত এগিয়ে নিতে অনানুষ্ঠানিক লেনদেন—এসব যেন বাংলাদেশের নাগরিক জীবনের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তবতা। প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল হলেও কেন সেবা খাতের ঘুষ-দুর্নীতির ধরন বদলায় না? সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ প্রকাশের পর বিষয়টি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। জরিপ বলছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি সেবা খাতে আনুমানিক ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে। আগের জরিপের তুলনায় যা ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে অন্তত একটি সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার কোনো না কোনো ধরনের দুর্নীতির মুখোমুখি হয়েছে। ২০২৩ সালের জরিপে এ হার ছিল ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পর রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুর্নীতি কেন কমেনি। আবার অনেকে জানতে চাইছেন, বর্তমান সরকারের সময়ে পরিস্থিতির আদৌ কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না। তবে তথ্য বলছে, এই দুই প্রশ্নের উত্তর এক নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার এক বছরের চিত্র টিআইবির জরিপ মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার এক বছরের সেবা খাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে। জরিপ অনুযায়ী, শুধু ঘুষের মোট অঙ্কই বাড়েনি, বেড়েছে ঘুষ দিতে বাধ্য হওয়া পরিবারের সংখ্যাও। ২০২৩ সালে যেখানে ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার অন্তত একটি সেবা নিতে ঘুষ দেওয়ার কথা জানিয়েছিল, সর্বশেষ জরিপে তা বেড়ে হয়েছে ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ। সবচেয়ে দুর্নীতিপ্রবণ সেবার তালিকায় রয়েছে— পাসপোর্ট বিআরটিএ বিচার সংশ্লিষ্ট সেবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ভূমি অফিস পাসপোর্ট সেবা নিতে যাওয়া ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। বিআরটিএ সেবায় দুর্নীতির অভিজ্ঞতার হার ৭৯ দশমিক ৩ শতাংশ। "ঘুষ না দিলে সেবা পাওয়া কঠিন" জরিপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণগুলোর একটি হলো, ঘুষ দেওয়া পরিবারগুলোর ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ জানিয়েছে, ঘুষ না দিলে সেবা পাওয়া সম্ভব হতো না কিংবা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়তো। অর্থাৎ, বহু ক্ষেত্রে ঘুষ এখন বিচ্ছিন্ন অনিয়ম নয়; বরং নাগরিকের কাছে কার্যত সেবা পাওয়ার অলিখিত শর্তে পরিণত হয়েছে। পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ৯ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৫ হাজার ১২৪ টাকায় নেমে এলেও টিআইবি বলছে, এটিকে দুর্নীতি কমার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যাবে না। কারণ, ব্যক্তি প্রতি ঘুষের অঙ্ক কমলেও আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিবার ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছে। অর্থাৎ দুর্নীতির বিস্তার বেড়েছে। ডিজিটাল সেবা এখনও সীমিত জরিপে দেখা গেছে, ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপস্থিত হয়ে সরকারি সেবা নিয়েছেন। অন্যদিকে অনলাইনে সেবা নিয়েছেন মাত্র ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি যোগাযোগের এই উচ্চ হার দালাল চক্র, ফাইল আটকে রাখা, দ্রুত সেবা দেওয়ার নামে অর্থ আদায় এবং কর্মকর্তা-সেবাগ্রহীতার অনানুষ্ঠানিক লেনদেনের সুযোগ বহাল রেখেছে। বর্তমান সরকারের সময় পরিস্থিতি কি বদলেছে? এখানেই গুরুত্বপূর্ণ একটি পার্থক্য রয়েছে। বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয় ১৭ ফেব্রুয়ারি। অন্যদিকে টিআইবির প্রকাশিত জাতীয় জরিপটি মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা। ফলে পরিসংখ্যানগতভাবে এখনই বলা সম্ভব নয়, বর্তমান সরকারের সময়ে সেবা খাতের ঘুষ কমেছে, বেড়েছে নাকি একই অবস্থায় রয়েছে। তবে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে টিআইবি। সেখানে সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট সুবিধা বাতিল, প্রধানমন্ত্রীর ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিত করা, রাষ্ট্রীয় অর্থে ব্যক্তিগত বিদেশ সফর নিরুৎসাহিত করা এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি বলেছে, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সুশাসন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য এখনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দৃশ্যমান নয়। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, বিচারব্যবস্থা ও গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ স্থগিত বা পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত সংস্কারের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। দুদকের নেতৃত্বে দীর্ঘ শূন্যতা দুর্নীতি দমনে রাষ্ট্রের প্রধান প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কিন্তু বর্তমান সরকারের শুরুতেই প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের প্রশাসনিক সংকটে পড়ে। গত মার্চে চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার একযোগে পদত্যাগ করার পর প্রায় সাড়ে তিন মাস কমিশনের অনুসন্ধান, মামলা অনুমোদন, চার্জশিট, সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং গ্রেফতারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সরকার ইতোমধ্যে নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠন করেছে এবং আবেদনও আহ্বান করেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব না পাওয়া পর্যন্ত কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সংসদে রাজনৈতিক বিতর্ক টিআইবির প্রতিবেদন প্রকাশের পর জাতীয় সংসদেও বিষয়টি আলোচনায় আসে। সরকারি দলের সদস্যরা ১২ হাজার কোটি টাকার ঘুষের হিসাব তুলে ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন এবং উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেন। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্পে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের হিসাব নয়। বরং নাগরিকরা সরকারি সেবা নিতে গিয়ে যে ঘুষ দিয়েছেন, তার সামগ্রিক অর্থমূল্য। ফলে এই অর্থকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের ব্যক্তিগত দুর্নীতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে সেবা খাতের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় সংশ্লিষ্ট সরকারের ওপর বর্তায় বলে সরকারি বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়। তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দুর্নীতি একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং এর কোনো তামাদি নেই। অভিযোগ যে সময়েরই হোক, দুদক স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে পারে এবং করা উচিত। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা থাকবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষজ্ঞ কী বলছেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক মাসুদ কামালের মতে, সেবা খাতের দুর্নীতি বাংলাদেশে নতুন নয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তা তুলনামূলকভাবে বেড়েছিল। তার ভাষায়, মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের মধ্যে শাস্তির ভয় দুর্বল হয়ে পড়ায় ঘুষের প্রবণতাও বেড়েছে। তিনি বলেন, "দুর্নীতি বন্ধের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো দলীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের সমান প্রয়োগ। কেউ যদি বিশ্বাস করে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তার বিচার হবে না, তাহলে দুর্নীতি কখনও কমবে না।" আরও বলেন, "দুর্নীতিবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এই প্রবণতা চলতেই থাকবে। সরকার আওয়ামী লীগের হোক, অন্তর্বর্তী সরকারের হোক কিংবা বিএনপির—প্রশাসনের একই লোকজন যদি শাস্তির ভয় না পায়, তাহলে সেবা খাতের ঘুষও বন্ধ হবে না।" অনুসন্ধানের সারকথা টিআইবির জরিপ একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেবা খাতের দুর্নীতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে না। কারণ, ঘুষের সংস্কৃতি অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কাঠামো, জবাবদিহির দুর্বলতা, সীমিত ডিজিটাল সেবা, দালালনির্ভর প্রক্রিয়া এবং শাস্তিহীনতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। বর্তমান সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তাই রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; বরং এমন একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে পাসপোর্ট অফিস, ভূমি কার্যালয়, থানা, বিআরটিএ, আদালত কিংবা ব্যাংকে সাধারণ মানুষ বাস্তবে ঘুষ ছাড়াই সেবা পেতে পারেন। শেষ পর্যন্ত দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকারের সফলতা পরিমাপ হবে নাগরিকের অভিজ্ঞতায়—প্রতিশ্রুতিতে নয়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আবারও দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর থেকে সীমান্তঘেঁষা রাখাইনের বলিবাজার ও কুমিরখালী এলাকায় সংঘর্ষ চলাকালে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে। এতে বাংলাদেশের হোয়াইক্যং ও হ্নীলা সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে সীমান্তঘেঁষা এলাকার বাড়িঘর পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। ঘটনাটির পর সীমান্তের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর আগে বুধবার (১ জুলাই) দিন ও রাতে রাখাইনের মংডু শহরে বিমান থেকে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হোয়াইক্যংয়ের বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, দুপুরের দিকে রাখাইনের বলিবাজার ও কুমিরখালী এলাকা থেকে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তাঁর ভাষ্য, এ পর্যন্ত অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং প্রতিটি বিস্ফোরণেই সীমান্ত এলাকার বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। হোয়াইক্যং ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, প্রায় এক বছর আগে একই সীমান্ত এলাকায় আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার জান্তা বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়েছিল। সে সময় সীমান্ত এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন আতঙ্কে ছিলেন। নতুন করে বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের খবর স্থানীয়দের মধ্যে সেই উদ্বেগ আবারও ফিরিয়ে এনেছে। হ্নীলা মৌলভীবাজার এলাকার জেলে রহমত উল্লাহ জানান, সকালে নাফ নদীতে মাছ ধরতে গেলেও দুপুরের দিকে রাখাইন সীমান্ত থেকে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তিনি আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত তীরে ফিরে আসেন। এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, বিস্ফোরণের শব্দের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে এবং বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি কেন গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের টেকনাফ অংশ অতীতে একাধিকবার সংঘর্ষের অভিঘাতের মুখে পড়েছে। সীমান্তের ওপারে সংঘর্ষ শুরু হলে স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে এবং সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনাও সেই আশঙ্কাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং হতাহতের কোনো তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।