Brand logo light

বাংলাদেশ রাজনীতি

সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে ভোলা-২ আসনের এমপি হাফিজ ইব্রাহিম

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ নেতার পক্ষে চিফ হুইপ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে সংসদে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন পায়। সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির মূল দায়িত্ব হলো সরকারের বিভিন্ন আর্থিক হিসাব, ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা পর্যালোচনা করা। এই কমিটি সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সংশ্লিষ্ট হিসাব-নিকাশ পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হাফিজ ইব্রাহিম এই সংসদীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় ভোলা-২ আসনের আওতাধীন দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১১, ২০২৬ 0
নাহিদ ইসলাম
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবি নাহিদ ইসলামের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানী ঢাকার কাকরাইলে এক অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালতের রায় কার্যকর করতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা উচিত। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের সরকারের কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আগামী ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কী বলেছেন নাহিদ ইসলাম? শুক্রবার (১০ জুলাই) আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। সেখানে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালতের রায় ইতোমধ্যে হয়েছে এবং এখন সেটি কার্যকর করার পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তার ভাষায়, শেখ হাসিনাকে "যথাযথ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর" করা উচিত এবং এ জন্য সরকারের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া দরকার। রয়টার্সের সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গ অনুষ্ঠানে বক্তব্যের সময় নাহিদ ইসলাম রয়টার্সে প্রকাশিত শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গও টানেন। তার দাবি, সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা বলেছেন। এই প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনিও চান শেখ হাসিনা দেশে ফিরুন, তবে তার বিরুদ্ধে আদালতের রায় কার্যকর করার উদ্দেশ্যে।   'সিদ্ধান্ত দিল্লির ওপর নির্ভর করবে' শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, এটি কেবল শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। তার দাবি, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা, বিচার প্রক্রিয়া কিংবা রায় বাস্তবায়নের মতো বিষয়গুলো মূলত ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করবে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে তিনি বর্তমানে কার্যকর রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখেন না।   সরকারের ভূমিকায় কী বললেন? সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা কীভাবে দেশে ফিরবেন, তিনি আত্মসমর্পণ করবেন কি না কিংবা তাকে কীভাবে দেশে আনা হবে—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। তার মতে, বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং সরকারের পক্ষ থেকেই পুরো প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হবে।   'যেকোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত' নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীরা রাজনৈতিকভাবে যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতি রক্ষার প্রশ্নে তারা সক্রিয় থাকবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার কোনো প্রচেষ্টা হলে এবং সরকার সেটিকে প্রশ্রয় দিলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে সরকারই।   আওয়ামী লীগের বিচার নিয়েও মন্তব্য নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার আওয়ামী লীগকে দলগতভাবে বিচারের আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, সেটিই "সঠিক পথ" হবে।   যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ন্যাশনাল এসএমই ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়িক খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং বক্তব্য রাখেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১১, ২০২৬ 0
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা মানতে গণমাধ্যমের প্রতি সরকারের আহ্বান

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য, ভাষণ, সাক্ষাৎকার বা যেকোনো ধরনের বিবৃতি প্রচারের ক্ষেত্রে আদালতের নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে মেনে চলতে দেশের গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে সরকার। শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত এক সরকারি তথ্যবিবরণীতে দেশের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদেরও আদালতের নির্দেশনা অনুসরণের অনুরোধ জানানো হয়। সরকারের বক্তব্য কী? তথ্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুসারে আদালতের সাজাপ্রাপ্ত কোনো পলাতক অপরাধীর বক্তব্য, সাক্ষাৎকার, অডিও কিংবা ভিডিও ভাষণ গণমাধ্যমে প্রচারের ক্ষেত্রে স্পষ্ট আইনগত বিধিনিষেধ রয়েছে। কী প্রচার না করার অনুরোধ? সরকার বলেছে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং আদালতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের স্বার্থে শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য—তা সরাসরি (লাইভ) কিংবা ধারণকৃত (রেকর্ডেড)—কোনো মাধ্যমে প্রচার বা প্রকাশ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। এই আহ্বানের আওতায় রয়েছে— টেলিভিশন বেতার সংবাদপত্র অনলাইন নিউজ পোর্টাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম সরকারের প্রত্যাশা তথ্যবিবরণীতে সরকার আশা প্রকাশ করেছে, দেশের সকল গণমাধ্যম, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং সাধারণ নাগরিক প্রচলিত আইন ও আদালতের নির্দেশনার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন এবং এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।   সরকারি তথ্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বরের আদেশের পর শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। সর্বশেষ তথ্যবিবরণীর মাধ্যমে সরকার সেই নির্দেশনা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে তা অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১১, ২০২৬ 0
শেখ হাসিনা
আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে শেখ হাসিনাকে: দেশে ফেরার ঘোষণায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া, আইনি বাস্তবতা নাকি কৌশলগত বার্তা?

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত হওয়ার পর  রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা প্রায় অভিন্ন ভাষায় বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, বরং তার বিরুদ্ধে চলমান ও নিষ্পন্ন মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা কেবল তার ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক, ভ্রমণসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা এবং সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়া। কী বলেছেন শেখ হাসিনা? রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানান, তিনি চলতি বছরের ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে ফিরে তিনি এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। তিনি বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে, এমনকি প্রাণনাশের আশঙ্কাও রয়েছে। তবুও তিনি আদালতের মুখোমুখি হতে চান। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের পর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতারা বলেছেন, তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা বিচারাধীন বা যেসব মামলায় আদালতের সিদ্ধান্ত এসেছে, সেগুলোর আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ হওয়া উচিত। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গণমাধ্যমে বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই ২০২৪ সালের আন্দোলন-সংক্রান্ত অভিযোগসহ বিভিন্ন মামলার বিচার চলছে এবং আদালতই তার অপরাধ ও শাস্তি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দেবেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের মতে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও কৌশল নিয়ে দলটির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তার দাবি, অনেক কর্মীর মধ্যে নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, যদি রয়টার্সে প্রকাশিত সাক্ষাৎকার সঠিক হয়ে থাকে এবং শেখ হাসিনা দেশে ফেরেন, তাহলে তাকে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্দিবিনিময় চুক্তির বিষয়টিও উল্লেখ করেন। অন্যদিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা কখন, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরবেন—এটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগই নির্ধারক হবে। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষারও বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। আইনি বাস্তবতা কী? বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ— তার ভ্রমণ নথি বা পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা। বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ট্রাভেল ডকুমেন্ট। বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া। আদালতে বিচারাধীন বা নিষ্পন্ন মামলাগুলোর আইনগত অবস্থান।   কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ পররাষ্ট্র ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি একটি রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক বিষয়ও। তাদের মতে, তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চাইলেও প্রয়োজন হবে বৈধ ভ্রমণ নথি, সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমোদন এবং বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সমন্বয়। এ কারণেই অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, দেশে ফেরার ঘোষণা বাস্তবে কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে দুই দেশের সরকারি সিদ্ধান্ত এবং আইনি প্রক্রিয়ার ওপর। রাজনৈতিক বার্তা নাকি বাস্তব প্রস্তুতি? রয়টার্সে দেওয়া সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে দুটি ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। একটি পক্ষ মনে করছে, এটি আদালতের মুখোমুখি হওয়ার রাজনৈতিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত। অন্য একটি অংশের ধারণা, এটি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাচাই, সমর্থকদের সক্রিয় রাখা কিংবা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করার একটি কৌশলগত বার্তাও হতে পারে।     শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা যতই বাড়ুক না কেন, বাস্তবে বিষয়টি নির্ভর করবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর— বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান; ভারত সরকারের কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত; প্রযোজ্য আইন ও আদালতের নির্দেশনা; এবং উভয় দেশের পারস্পরিক আইনি সহযোগিতা। ফলে রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—দেশে ফেরা আদৌ সম্ভব হবে কি না, আর হলে সেটি কোন আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। সেই উত্তরই আগামী সময়ের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১১, ২০২৬ 0
দিনাজপুরে অপহরণ ও মুক্তিপণ চেষ্টার মামলায় যুবশক্তি নেতা আরিফ মুনসহ ৫ জন গ্রেফতার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দিনাজপুরে এক ব্যক্তিকে অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গসংগঠন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফ মুনসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার পেছনে জমি সংক্রান্ত আর্থিক বিরোধ ছিল বলে দাবি করেছেন জেলার কয়েকজন এনসিপি নেতা। ফলে ঘটনাটি এখন ফৌজদারি অভিযোগ এবং পাল্টা দাবির দুই ভিন্ন বয়ানের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে গ্রেফতার পাঁচজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ নূরনবী। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া আরিফ মুন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। তার সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছেন— হাসিন ইসরাক মিম (২২) আজমীর হোসেন ওরফে প্রেম (২২) সাজিদুল মিনহাজ (২৯) মো. হৃদয় (২২) মামলায় কী অভিযোগ? মামলার এজাহার অনুযায়ী, দিনাজপুর সদর উপজেলার খোশালপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদের ছেলে মো. মামুন অভিযোগ করেন, শনিবার (৫ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে তার বাবা সদর উপজেলার পাঁচমাইল এলাকায় দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় নাম উল্লেখিত আসামিদের সঙ্গে আরও ১০ থেকে ১২ জন সেখানে প্রবেশ করে আব্দুস সামাদকে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তার মুক্তির জন্য ১২ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। কীভাবে উদ্ধার করা হয়? পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগ পাওয়ার একদিন পর সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে দিনাজপুর শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠ এলাকা থেকে আব্দুস সামাদকে উদ্ধার করা হয়। একই সময় আরিফ মুনসহ তিনজনকে আটক করা হয়। পরে আটক ব্যক্তিদের থানায় নেওয়ার সময় এনসিপির কিছু নেতাকর্মী তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে পুলিশের দাবি। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পরে ওই ঘটনায় আরও দুইজনকে আটক করা হয়। রাতে ভুক্তভোগীর ছেলে কোতোয়ালি থানায় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার মামলা দায়ের করলে আটক পাঁচজনকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এনসিপি নেতাদের দাবি কী? ঘটনার বিষয়ে জেলার কয়েকজন এনসিপি নেতার সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন একটি দাবি উঠে এসেছে। তাদের দাবি, আব্দুস সামাদ জমি কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত। কিছুদিন আগে আজমীর হোসেন প্রেমের এক আত্মীয় মজিবর রহমানের কাছ থেকে একটি জমির মালিকানা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে জমির মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। বরং জমির দখলসংক্রান্ত বিরোধে মজিবর রহমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এনসিপির নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আর্থিক বিরোধের জেরেই রোববার রাতে আব্দুস সামাদকে ডেকে এনে টাকা ফেরতের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। তাদের দাবি, সোমবার বিকেলে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই আব্দুস সামাদের ছেলে অপহরণের অভিযোগ নিয়ে পুলিশের কাছে যান।   পুলিশের বক্তব্য দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মাদ নূরনবী বলেন, ভুক্তভোগীর ছেলে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আটক পাঁচজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে। তদন্তের সামনে যেসব প্রশ্ন ঘটনাটিকে ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে— এটি কি পরিকল্পিত অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা ছিল? নাকি জমি লেনদেন ও আর্থিক বিরোধ থেকেই সংঘাতের সূত্রপাত? ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণের অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে? উদ্ধার অভিযানের সময় ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী বা ডিজিটাল প্রমাণ কী বলছে? পুলিশের হাতে থাকা আলামত ও সাক্ষ্য আদালতে অভিযোগকে কতটা সমর্থন করতে পারে? এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে পুলিশি তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৮, ২০২৬ 0
সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন জারির নয় দিন পরও কর্মস্থলে যোগ দেননি সিলেটের নতুন ডিসি মু. রেজা হাসান
সিলেটের নতুন ডিসি মু. রেজা হাসান ৯ দিনেও যোগ দেননি কেন? প্রশাসনের নীরবতা, রাজনৈতিক আলোচনা ও নেপথ্যের প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগের সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির নয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও দায়িত্ব গ্রহণ করেননি মু. রেজা হাসান। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে বিভিন্ন আলোচনা, যদিও এসব দাবির সরকারি কোনো নিশ্চিতকরণ নেই। প্রশ্ন উঠছে—একজন জেলা প্রশাসককে নিয়োগের পরও কেন তিনি কর্মস্থলে যোগ দিচ্ছেন না? এটি কি কেবল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণ? প্রশাসনের অবস্থান: ‘আমরা কিছু জানি না’ সোমবার বিকেলে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা বলেন, "এটি (ডিসির যোগদান করা কিংবা না করা) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলতে পারবে। এ বিষয়ে কিছু জানা নেই আমার।" তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, জেলা প্রশাসনের বর্তমান দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছেও নতুন ডিসির যোগদানে বিলম্বের কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি কী? সরকারদলীয় সিলেটের একটি স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র দাবি করেছে, মু. রেজা হাসানকে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় একজন মন্ত্রীর পছন্দ হয়নি। ওই সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় সিলেটের জন্য নতুন করে আরেকটি নিয়োগ প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। তবে এই দাবির পক্ষে সরকার বা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বদলির ধারাবাহিকতা গত ২১ জুন সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। তবে ওই প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি এবং একই সঙ্গে নতুন জেলা প্রশাসকের নামও ঘোষণা করা হয়নি। পরবর্তীতে ২৮ জুন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনরত মু. রেজা হাসানকে সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের পর তিনি কুমিল্লার দায়িত্ব ছেড়ে দিলেও এখনও সিলেটে যোগ দেননি। ফলে বর্তমানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিংকি সাহা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মাজারের দানব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্কের সঙ্গে কি কোনো সম্পর্ক? প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলের একাধিক সূত্রের দাবি, সারওয়ার আলমের বদলির আগে সিলেটে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা। গত ১২ জুন দুই মাজার পরিদর্শনের সময় সারওয়ার আলম দান ও ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগের ঘোষণা দেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন— পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করা হয়; নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়; দীর্ঘদিন ব্যবহৃত ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগও সিলগালা করা হয়। এই পদক্ষেপের পর জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একটি অংশ প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানায়। অন্যদিকে অনেকেই মাজারের প্রচলিত ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ হিসেবে বিষয়টি দেখেন এবং সমালোচনা করেন। বদলি কি ছিল ‘রুটিন’? মাজারের দানব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের কয়েক দিনের মধ্যেই সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। এই সময় সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকেই মন্তব্য করেন, দানবাক্সের ব্যবস্থাপনায় হাত দেওয়ার কারণেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের একাধিক মন্ত্রী প্রকাশ্যে বলেছেন, জেলা প্রশাসকের বদলি ছিল ‘রুটিন ওয়ার্ক’ এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো বিশেষ কারণ যুক্ত নয়। সরকারি এই ব্যাখ্যার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নানা ব্যাখ্যা ও গুঞ্জন চলমান থাকলেও সেগুলোর কোনোটি এখন পর্যন্ত সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়নি। এখনও উত্তরহীন কয়েকটি প্রশ্ন বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা— নিয়োগের নয় দিন পরও কেন সিলেটে যোগ দেননি মু. রেজা হাসান? তিনি কি ব্যক্তিগত বা প্রশাসনিক কোনো কারণে যোগদান স্থগিত রেখেছেন? রাজনৈতিক আপত্তির যে আলোচনা চলছে, তার বাস্তব ভিত্তি কতটা? জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কি নতুন কোনো সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে? সিলেটে কি আবারও নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে? যা নিশ্চিত এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে জানা তথ্য হলো— সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মু. রেজা হাসানকে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। তিনি কুমিল্লার দায়িত্ব ছেড়েছেন। কিন্তু এখনও সিলেটে দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। ফলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা না দেওয়া পর্যন্ত নতুন জেলা প্রশাসকের যোগদানে বিলম্বের প্রকৃত কারণ নিয়ে তৈরি হওয়া আলোচনা ও জল্পনার অবসান হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৭, ২০২৬ 0
আহতদের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে
সাভারে এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণ: বিদ্যুৎ বিভ্রাট কি পরিকল্পনার অংশ? তদন্তে পুলিশের নজর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশে ককটেল বা বিস্ফোরক জাতীয় বস্তু বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—বিস্ফোরণের ঠিক আগে কেন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল? ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন জানিয়েছেন, ঘটনাটির সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিস্ফোরণের কারণ, পরিকল্পনা এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনাটি সোমবার (৬ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ড ঈদগাহ মাঠে ঘটে। তখন এনসিপির সমাবেশ চলছিল। কী ঘটেছিল? দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন। সেই সময় সমাবেশস্থলে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে তারা কেউ আহত হননি। বিস্ফোরণে চারজন আহত হন। আহতরা হলেন— মো. শাহীন খন্দকার (৩০) মো. জসিম (২৬) মো. শাহাদাত হোসেন (৪০) অপর একজন, যার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তাদের সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের বক্তব্য এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হাসান জানান, আহত চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজনের পায়ে গুরুতর আঘাত ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর বাকি তিনজনকে জরুরি বিভাগ থেকে অস্ত্রোপচারের জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, আহতরা বিস্ফোরণের কথা জানিয়েছেন। এক্স-রে এবং অন্যান্য পরীক্ষার পর আঘাতের প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিস্ফোরণের আগে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটনার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, বিস্ফোরণের ঠিক আগে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার বিষয়টিকে তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, "কোনো কিছুই আমরা সন্দেহের বাইরে রাখছি না। কেন ঠিক ওই মুহূর্তে বিদ্যুৎ চলে গেল, এরপরই বিস্ফোরণ ঘটল—বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।" তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে, যাতে ওই সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ যাচাই করা যায়। তবে পুলিশ এখনো বলেনি যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং বিস্ফোরণের মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশের বক্তব্য পুলিশ সুপার জানান, পদযাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকেই পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। পাকিজা মোড় থেকে সমাবেশস্থল পর্যন্ত নেতাদের নিরাপত্তা দিয়ে আনা হয়। ঘটনার পরও মঞ্চে থাকা শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তার সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তারা সাভার থানায় যান। তদন্তে কী কী খতিয়ে দেখা হচ্ছে? পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে— বিস্ফোরণে ব্যবহৃত বস্তুটির ধরন। হামলাকারীদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য। ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা। বিস্ফোরণের আগে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য। হামলাটি পরিকল্পিত ছিল কি না। এ ঘটনায় ঢাকা জেলার দুই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মামলা বিস্ফোরণের ঘটনায় এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্যসচিব সালামত উল্লাহ রনি, জুলাই যোদ্ধা মো. ইউনুস আলী এবং আজহারুল ইসলাম তামিম অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ বলছে, তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনসিপির প্রতিক্রিয়া এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিন বলেন, বিস্ফোরণে দলের চার কর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনার পর দলীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ মিছিল করেন। পরে আহতদের দেখতে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। পুলিশও এখন পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। এখন পর্যন্ত যা নিশ্চিত এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা গেছে— সমাবেশ চলাকালে একটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। চারজন আহত হয়েছেন। শীর্ষ নেতারা অক্ষত রয়েছেন। বিস্ফোরণের আগে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়েছিল। পুলিশ বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখছে। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন এবং মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণের উদ্দেশ্য, হামলাকারীদের পরিচয় কিংবা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সঙ্গে ঘটনার সম্পর্ক সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এখন নজর তদন্তের ফলাফলের দিকে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৭, ২০২৬ 0
মেহের আফরোজ শাওন ও চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিসহ ছয় জনের নামে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় অভিযোগ
জুলাই আন্দোলন নিয়ে কটাক্ষ ও অবমাননার অভিযোগে শাওন–মাহিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় ‘জুলাই আন্দোলন’ নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য ও কটাক্ষের অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রকাশ্য বক্তব্যে তারা আন্দোলন ও এর স্মৃতিচিহ্নকে অবমাননা করেছেন। রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য এস এম সুইট এই অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন—অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি, শান্তা ফারজানা, সাংবাদিক আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম ও মোমিন মেহেদী। অভিযোগে কী বলা হয়েছে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘জুলাই আন্দোলন’ চলাকালে ১৪০০ জন নিহত এবং ৩০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন—যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। অভিযোগ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকজন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন বক্তব্যে এই আন্দোলনকে নিয়ে কটাক্ষ করেছেন এবং অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, শান্তা ফারজানা নামের একজন ব্যক্তি ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ’ করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। অভিনেত্রী শাওনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে আন্দোলনকে ‘সাজানো ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ এবং অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে সাংবাদিক আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম ও মোমিন মেহেদীর বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে কটাক্ষের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর বক্তব্য এস এম সুইট বলেন, “সম্প্রতি জুলাই বিপ্লবের বিরুদ্ধে কটূক্তি এবং স্মৃতিস্তম্ভ অবমাননার মতো ঘটনা ঘটেছে। যারা এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে এবং তাদের পক্ষে বয়ান তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি।” পুলিশের অবস্থান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা জানান, ছয়জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৬, ২০২৬ 0
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম
আওয়ামী লীগ কি বিদ্যমান আইনেই নিষিদ্ধ হতে পারে? ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির বক্তব্যে নতুন আলোচনা

ঢাকা: আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রণীত বিদ্যমান আইন ব্যবহার করেই রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম। রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধান কৌঁসুলি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা প্রায় ১৫ বছরে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করেছে এবং দল হিসেবে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিটি আইনের আওতায় তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নিষ্পত্তি হবে বলে তিনি জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জানান, শাপলা চত্বরের ঘটনাসহ একাধিক নির্দিষ্ট মামলায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। বিদ্যমান আইন নিয়েই কেন আলোচনা? প্রধান কৌঁসুলির বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রণীত আইনই দলটির বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। এর ফলে নতুন আইন প্রণয়ন ছাড়াই বিদ্যমান আইনি কাঠামোর আওতায় রাজনৈতিক দল হিসেবে কোনো সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নটি আবারও আলোচনায় এসেছে। তবে কোন নির্দিষ্ট আইনের কোন ধারা প্রয়োগ করা হবে, সে বিষয়ে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সরকারের অবস্থান এর এক দিন আগে, শনিবার (৪ জুলাই) জুলাই জাতীয় সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনাকারী আওয়ামী লীগ ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর রাজনীতি করতে পারবে না। মন্ত্রী দাবি করেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পতন ইতোমধ্যেই ঘটেছে এবং দলটি রাজনৈতিকভাবে আর পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাবে না। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা, প্রমাণ এবং বিচারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। এ কারণে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান এবং দলটির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি ব্যবস্থা এখন তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। মূল বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির দাবি, বিদ্যমান আইনেই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাজনৈতিক দল হিসেবে তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনি প্রক্রিয়ায় দলটিকে নিষিদ্ধ করার সুযোগ রয়েছে বলে বক্তব্য। শাপলা চত্বরসহ একাধিক মামলায় শেখ হাসিনার বিচারিক কার্যক্রমের প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৬, ২০২৬ 0
তুরাগে নিখোঁজের পর উদ্ধার নিহত সুমন
তুরাগে মিছিল, গ্রেপ্তার, নিখোঁজ ও মরদেহ উদ্ধার: ২২ জুন আশুলিয়ায় আসলে কী ঘটেছিল? অনুসন্ধানে যা জানা গেল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ২২ জুন আশুলিয়ার তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি মিছিল, সাতজন নেতাকর্মীর গ্রেপ্তার, নদীতে ধাওয়া খেয়ে কয়েকজনের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ এবং পরবর্তী চার দিনে তুরাগ থেকে একাধিক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা, প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ঘিরে নানা ধরনের দাবি, গুজব ও সন্দেহ ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত ঘটনার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শী, মিছিলে অংশ নেওয়া এক আওয়ামী লীগ কর্মী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আইনজীবী, নিহতদের পরিবার এবং পুলিশের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়—ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্নের এখনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। কী ঘটেছিল ২২ জুন? মিছিলে অংশ নেওয়া পরিচয় গোপন রাখা এক আওয়ামী লীগ কর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, দলের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ জন নেতাকর্মী তুরাগের বেড়িবাঁধ এলাকায় কর্মসূচি শেষ করে ট্রলারে করে নিরাপদে এলাকা ত্যাগের পরিকল্পনা করেন। তার দাবি, সড়কপথে পুলিশি নজরদারি ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলার আশঙ্কা থাকায় তারা নদীপথ বেছে নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, প্রথমে কয়েকটি ঘাটে ভিড়তে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত আশুলিয়া ঘাটে ট্রলার ভেড়ানো হয়। তার অভিযোগ, ট্রলার ঘাটে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ নদীতে ঝাঁপ দেন, কেউ বিভিন্ন দিকে ছুটে যান এবং সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দাবি, প্রাথমিকভাবে সাতজন নিখোঁজ হন। পরে তাদের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। বাকি চারজন জীবিত আছেন বলে তারা তথ্য পেয়েছেন। আইনজীবীর বক্তব্যে কী উঠে এসেছে? গ্রেপ্তার হওয়া সাতজনের আইনজীবী আরিফ সরকার পাভেল জানান, রিমান্ড শুনানির সময় তার মক্কেলরা অভিযোগ করেন যে, মিছিলের তথ্য আগে থেকেই ফাঁস হয়ে যায়। তাদের দাবি অনুযায়ী, আশুলিয়া ঘাটে পৌঁছানোর পর পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী কয়েকজন ব্যক্তি ধাওয়া দিলে ট্রলারে থাকা অনেকে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। আসামিদের আরও অভিযোগ, নদীতে ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেলও নিক্ষেপ করা হয়েছিল। আশুলিয়া এলাকার পরিচয় গোপন রাখা এক প্রত্যক্ষদর্শীও বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, সেদিন ঘাট এলাকায় কিছু মানুষের দিকে ইট-পাটকেল ছোড়ার ঘটনা তিনি দেখেছেন। তবে আতঙ্কে দ্রুত স্থান ত্যাগ করায় পরবর্তী পরিস্থিতি তিনি দেখেননি। বিএনপির স্থানীয় নেতারা কী বলছেন? আশুলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর দাবি করেন, ঘটনাস্থলে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন না। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নূরু সরকারও। তার দাবি, এ ধরনের ঘটনায় দলের কোনো কর্মী জড়িত থাকার তথ্য তিনি পাননি। পুলিশের বক্তব্য আশুলিয়া থানা পুলিশ সাতজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নদীতে ধাওয়া খেয়ে কেউ নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাশেদুদ জামানের ভাষ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযানে গিয়ে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে আশুলিয়া ট্রলার ঘাট থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অন্যরা পালিয়ে যায়। কেউ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন—এমন কোনো তথ্য পুলিশের কাছে নেই। তিনি আরও বলেন, পরে তুরাগ নদ থেকে যেসব মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, তাদের সঙ্গে ওই অভিযানের কোনো সম্পর্ক নেই। যদিও মামলার এজাহারে ২২ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি ৪০ থেকে ৪৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর নতুন প্রশ্ন ২২ জুনের পরবর্তী চার দিনে তুরাগ নদ থেকে অন্তত তিনটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগ কর্মীর দাবি, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে আরিফ ও সুমন ২২ জুনের মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন এবং সেদিন থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। তবে পুলিশ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সুমনের পরিবারের বক্তব্য নিহত সুমনের পরিবারের পক্ষ থেকে তার খালু জুয়েল বাবু জানান, পরিবার আগে জানত না সুমন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২২ জুন নিখোঁজ হওয়ার খবর তারা মিছিলের অন্য অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকেই জানতে পারেন। পরে আশুলিয়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকা থেকে সুমনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পুলিশ তাদের জানায়। পরিবারের দাবি, মরদেহে কয়েকটি লালচে দাগ ছিল, যা আঘাতের চিহ্ন হতে পারে বলে তাদের সন্দেহ হয়েছিল। এছাড়া মরদেহ উদ্ধারের সময় চোখও ছিল না। তবে পরিবার শেষ পর্যন্ত অপমৃত্যুর মামলা করে। জুয়েল বাবুর ভাষ্য, পুলিশ জানতে চেয়েছিল কার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় অপমৃত্যুর মামলাই করা হয়। তিনি বলেন, সুমন মিছিলে গিয়েছিলেন—এটি সত্য। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কাউকে দায়ী করা হচ্ছে না। তাদের ধারণা, তিনি পানিতে ডুবে মারা গেছেন। মোবাইল ফোন নিয়ে নতুন তথ্য সুমনের মরদেহ উদ্ধারের সময় তার পকেট থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগ কর্মীর দাবি, এর মধ্যে তিনটি ফোন অন্য কর্মীদের ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিলের ভিডিও ধারণ কিংবা ভিডিও সংগ্রহের জন্য ফোনগুলো সুমনের কাছে দেওয়া হয়েছিল।   যে প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও মেলেনি ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনও অনুত্তরিত রয়ে গেছে— নদীতে ঝাঁপ দিয়ে কেউ নিখোঁজ হয়েছিল কি না; উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর সঙ্গে ২২ জুনের ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না; ঘটনাস্থলে পুলিশের বাইরে অন্য কোনো পক্ষ উপস্থিত ছিল কি না; ইট-পাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ সত্য কি না; মৃত্যুগুলো নিছক দুর্ঘটনা, নাকি অন্য কোনো ঘটনার ফল। মানবাধিকারকর্মীর মত মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটনের মতে, ঘটনাটি ঘিরে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং একাধিক মরদেহ উদ্ধারের কারণে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তার ভাষায়, কয়েকটি সম্ভাবনাই তদন্তের আওতায় আনা উচিত। তার মতে, নদীতে ধাওয়া খেয়ে ডুবে মৃত্যু যেমন সম্ভব, তেমনি পানিতে হামলা, আটক করে নির্যাতন কিংবা পরে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, "কোনটি সত্য, তা কেবল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হতে পারে।" এখনও যেসব বিষয়ে মতভেদ এই ঘটনায় চারটি বড় বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য একেবারেই ভিন্ন— আওয়ামী লীগ কর্মীদের দাবি, ধাওয়া খেয়ে কয়েকজন নদীতে ঝাঁপ দেন; পুলিশ তা অস্বীকার করছে। পরিবার ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া অন্তত দুজন মিছিলে ছিলেন; পুলিশ তা মানছে না। ইট-পাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ উঠলেও বিএনপির স্থানীয় নেতারা সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে পৃথক ঘটনা বলছে; অন্যদিকে মানবাধিকারকর্মীরা পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন। এ কারণে ২২ জুন আশুলিয়ার তুরাগ নদে আসলে কী ঘটেছিল—সে প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য ও চূড়ান্ত উত্তর এখনও সামনে আসেনি। ঘটনাটি ঘিরে বিরোধপূর্ণ বক্তব্য ও উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর প্রেক্ষাপটে একটি স্বাধীন, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৪, ২০২৬ 0
এইচআরএসএস
জুনে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৯ নিহত, আহত ৩৪৬; মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ:এইচআরএসএস

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চলতি বছরের জুন মাসে বাংলাদেশজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, দলীয় কোন্দল, মব সহিংসতা, সাংবাদিক নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, নারী-শিশু নির্যাতন এবং সীমান্ত সহিংসতাসহ মানবাধিকার পরিস্থিতির বিভিন্ন সূচকে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রকাশিত সংগঠনটির মাসিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন মাসে সারা দেশে ৫৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ৩৪৬ জন আহত হয়েছেন। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ছিল পাঁচজন এবং আহত ছিলেন ২৮৯ জন। ফলে এক মাসের ব্যবধানে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কোথায় সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষ? এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজনৈতিক সহিংসতার সবচেয়ে বড় অংশই ঘটেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃদলীয় সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে। জুন মাসে— বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ২১টি ঘটনায় ৩ জন নিহত এবং অন্তত ১৪৬ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে ৮টি সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ১৪টি সংঘর্ষে ২ জন নিহত এবং ১১৫ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে ৫টি সংঘর্ষে ১৮ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি ও অন্যান্য দলের মধ্যে ৫টি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৯ জন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক সংঘর্ষের আরও ৫টি ঘটনায় ২ জন নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছেন। নিহত ৯ জনের মধ্যে বিএনপির চারজন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুজন, ছাত্রশিবিরের একজন, ইউপিডিএফের একজন এবং একটি চরমপন্থী সংগঠনের একজন সদস্য রয়েছেন। সহিংসতার পেছনে কী কারণ? প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ রাজনৈতিক সংঘর্ষের পেছনে ছিল— আধিপত্য বিস্তার রাজনৈতিক বিরোধ দলীয় ও অন্তর্কোন্দল চাঁদাবাজি এছাড়া দুষ্কৃতকারীদের মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর অন্তত ১২টি হামলার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন— আওয়ামী লীগের ৩ জন (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বিএনপির ৫ জন চরমপন্থী দলের ১ সদস্য একই সময়ে অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। অন্যদিকে, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক সহিংসতা ও দখলকে কেন্দ্র করে ১৫টি ঘটনায় অন্তত ৪৫টি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক মামলা ও গ্রেফতার জুন মাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ২২টির বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায়— ৬২৭ জনকে নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে। আরও প্রায় ১,২৬২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক ও অন্যান্য ঘটনায় মোট ২৫৭টি ঘটনায় অন্তত ৪,৭৭৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে— আওয়ামী লীগের অন্তত ১,৫৫৯ জন বিএনপির ৩৫ জন জামায়াতের ২ জন গ্রেফতার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মব সহিংসতার ঊর্ধ্বগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাকবিতণ্ডা, আধিপত্য বিস্তার এবং ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ৬৩টি মব সহিংসতার ঘটনায় ৩১ জন নিহত এবং ৬৯ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে— ২৯টি ঘটনায় ৬৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হামলা ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন। সাংবাদিকদের ওপর হামলা এইচআরএসএস বলছে, জুন মাসে ৩৯টি ঘটনায় ৪৭ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে— ২৮ জন আহত ৫ জন লাঞ্ছিত ৯ জন হুমকির মুখে ৫ জন আটক এছাড়া ৭টি মামলায় ১২ জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রতিবেদন অনুযায়ী— ৬টি সভা-সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার অভিযোগ রয়েছে। এতে ১৭ জন আহত ও ৩৬ জন আটক হয়েছেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশকে কেন্দ্র করে— ১১টি ঘটনায় ১১ জন আটক হয়েছেন। ৭টি মামলা হয়েছে। অন্তত ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান ও বিএনপির নেতাদের সমালোচনা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং অন্যান্য অভিযোগের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। একই সময়ে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫-এর আওতায় পৃথক চারটি মামলায় ৯ জনকে অভিযুক্ত এবং ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বিচারবহির্ভূত মৃত্যু ও কারাগারে প্রাণহানি এইচআরএসএসের তথ্য অনুযায়ী— আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, হেফাজত ও নির্যাতনে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ জন কথিত বন্দুকযুদ্ধে এবং ১ জন ডিবি হেফাজতে নির্যাতনে নিহত হয়েছেন। গ্রেফতার এড়াতে গিয়ে ধাওয়া খেয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া জুন মাসে কারাগারে ৭ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। সংখ্যালঘু ও সীমান্ত পরিস্থিতি প্রতিবেদন বলছে— সংখ্যালঘুদের ওপর ১২টি হামলায় ৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া— ১২টি মন্দির ১১টি প্রতিমা ৭টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও হামলার শিকার হয়েছে। একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে— ৫টি ঘটনায় ২ জন নিহত ২ জন আহত ৪ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া বিএসএফ একজনকে আটক করেছে এবং সাতজনকে পুশইনের পাশাপাশি চার শতাধিক মানুষকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে পৃথক তিন ঘটনায় এক রোহিঙ্গাসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। শ্রমিক, নারী ও শিশুর চিত্র প্রতিবেদন অনুযায়ী— শ্রমিক ৫৫টি ঘটনায় ১১ শ্রমিক নিহত ১৮৪ জন আহত কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় আরও ৩৯ শ্রমিক নিহত নারী জুন মাসে ৩৫২ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে— ১০৬ জন ধর্ষণের শিকার ৭৫ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে ১৯ জন গণধর্ষণের শিকার ধর্ষণের পর ২ কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়েছে ৯৪ জন যৌন নিপীড়নের শিকার যৌতুক-সংক্রান্ত ঘটনায়— ৪ জন নিহত ৪ জন আহত ২ জন আত্মহত্যা করেছেন। পারিবারিক সহিংসতায়— ৫৭ জন নিহত ৪৮ জন আহত ৩৬ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন। শিশু জুন মাসে ২৯১ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে— ৫৪ জন নিহত ২৩৭ জন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এইচআরএসএস কী বলছে? সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, জুন মাসে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি একটি সংবেদনশীল ও পরিবর্তনশীল পর্যায় অতিক্রম করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, সাংবাদিক নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, নারী-শিশু নির্যাতন, সীমান্ত সহিংসতা এবং শ্রমিক নির্যাতনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশকে কেন্দ্র করে গ্রেফতার, মামলা ও হয়রানির ঘটনা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারের আরও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা এবং নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। বিশ্লেষণ জুন মাসের এই পরিসংখ্যানগুলো ইঙ্গিত করছে যে রাজনৈতিক সহিংসতা কেবল দলগুলোর পারস্পরিক সংঘর্ষেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, স্থানীয় আধিপত্য, চাঁদাবাজি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে তা জটিলভাবে জড়িয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিক নিরাপত্তা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সীমান্ত পরিস্থিতির মতো বিভিন্ন মানবাধিকার সূচকে সমান্তরাল উদ্বেগের উপস্থিতি দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার বাস্তবতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। উল্লেখ্য: এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত সব পরিসংখ্যান ও দাবি হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর প্রকাশিত জুন মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদনের তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
সরকারি বরাদ্দের ১০ মসজিদের আটটি গেছে জামায়াত এমপি ড. মু. মিজানুর রহমানের নিজ উপজেলায়
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে ১০ মসজিদের বরাদ্দের ৮টি গোমস্তাপুরে: বৈষম্যের অভিযোগ, ভুলের ইঙ্গিত জামায়াত নেতাদের

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: সরকারের সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২-এর আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনের ১০টি মসজিদে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া ১০টি মসজিদের মধ্যে আটটিই সংসদ সদস্য ড. মু. মিজানুর রহমানের নিজ উপজেলা গোমস্তাপুরে হওয়ায় স্থানীয়দের একাংশ বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন। বরাদ্দ তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাকি দুটি মসজিদের মধ্যে একটি নাচোল এবং অন্যটি ভোলাহাট উপজেলায়। নাচোলে বরাদ্দ পাওয়া মসজিদটি আবার পৌর জামায়াতের আমির মুনিরুল ইসলামের নিজ গ্রামের বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, একই সংসদীয় এলাকার তিনটি উপজেলার মধ্যে বরাদ্দ বণ্টনে কী নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে এবং কেন একটি উপজেলায় মোট বরাদ্দের ৮০ শতাংশ চলে গেছে। বরাদ্দের চিত্র খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২-এর আওতায় নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলার ১০টি মসজিদের জন্য মোট ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে রয়েছে মোট ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা। এর মধ্যে গোমস্তাপুর উপজেলায় রয়েছে আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা, যা পুরো আসনের প্রায় অর্ধেক প্রশাসনিক ইউনিট। তবে বরাদ্দের তালিকায় দেখা যায়— গোমস্তাপুর উপজেলায় আটটি মসজিদ রহনপুর পৌরসভার পুরাতন প্রসাদপুর দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ রহনপুর রেলস্টেশন বাজার শাহী জামে মসজিদ নুনগোলা জামে মসজিদ সন্তোষপুর জামে মসজিদ দাঁড়াবাজ গাবতলা জামে মসজিদ দিঘা বাজার জামে মসজিদ পলাশডাঙ্গা জামে মসজিদ কাশিয়াবাড়ি পূর্বপাড়া জামে মসজিদ নাচোল উপজেলায় একটি মুরাদপুর পশ্চিমপাড়া পুরাতন জামে মসজিদ ভোলাহাট উপজেলায় একটি মধ্য খড়কপুর জামে মসজিদ 'সমতার ভিত্তিতে হলে চিত্র ভিন্ন হতো' স্থানীয় বাসিন্দা ওবায়দুল্লাহর দাবি, প্রশাসনিক ইউনিটের অনুপাতে বরাদ্দ দেওয়া হলে নাচোল ও ভোলাহাটে তিনটি করে এবং গোমস্তাপুরে চারটি মসজিদ বরাদ্দ পাওয়ার কথা ছিল। তিনি বলেন, "সমতার ভিত্তিতে বরাদ্দ হলে দুটি পৌরসভার জন্য দুটি এবং প্রতি দুটি ইউনিয়নের জন্য একটি করে মসজিদ বরাদ্দ দেওয়া যেত। সেই হিসাবে নাচোল তিনটি, ভোলাহাট তিনটি এবং গোমস্তাপুর চারটি মসজিদ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে গোমস্তাপুর পেয়েছে আটটি।" রাজনৈতিক মহলেও প্রশ্ন নাচোল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মাজিদুল ইসলাম বলেন, "নাচোলে যে মসজিদে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেটি জামায়াতের পৌর আমিরের এলাকায়। এটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।" ভোলাহাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইয়াজদানি জর্জের ভাষ্য, "উপজেলাভিত্তিক আনুপাতিক বরাদ্দ হওয়া উচিত ছিল। বর্তমান বণ্টন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।" জামায়াত নেতাদের বক্তব্য: 'ভুল হয়েছে' সমালোচনার মুখে স্থানীয় জামায়াত নেতারাও বরাদ্দ বণ্টনে ভারসাম্যের ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন। নাচোল উপজেলা জামায়াতের আমির ইয়াকুব আলী বলেন, "আগের বরাদ্দগুলো সমতার ভিত্তিতে হয়েছিল। এবার একটু ভুল হয়েছে। সংসদ সদস্যের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। পরবর্তী বরাদ্দে সমন্বয় করা হবে।" সংসদ সদস্য যা বলছেন সংসদ সদস্য ড. মু. মিজানুর রহমান বলেন, শুরুতে বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তার ভাষ্য, "তাৎক্ষণিকভাবে একটি তালিকা চাওয়া হয়েছিল। আমার ফাইলে যেসব আবেদন ছিল, সেখান থেকেই তালিকা অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে দেখি গোমস্তাপুর উপজেলায় সংখ্যাটা বেশি হয়ে গেছে। পরবর্তী বরাদ্দে উপজেলাভিত্তিক সমতা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে।" যে প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে এই বরাদ্দকে ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— মসজিদ নির্বাচন ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে কী নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে? আবেদনকারীর সংখ্যা, প্রয়োজন নাকি রাজনৈতিক বিবেচনা—কোনটি প্রাধান্য পেয়েছে? একই সংসদীয় এলাকার তিন উপজেলার মধ্যে বরাদ্দ বণ্টনে ভারসাম্য নিশ্চিত করার কোনো প্রশাসনিক যাচাই ছিল কি? ভবিষ্যতে এ ধরনের সরকারি বরাদ্দে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? সরকারি অর্থে ধর্মীয় অবকাঠামো উন্নয়নের বরাদ্দে এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই এখন স্থানীয়দের প্রধান প্রত্যাশা।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ২, ২০২৬ 0
একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াতের জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত: সংসদে মির্জা ফখরুল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে ঘিরে অতীতের রাজনৈতিক অবস্থান আবারও জাতীয় সংসদে আলোচনায় এসেছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। তাঁর মতে, দলটি অতীতের অবস্থান স্পষ্ট না করায় রাজনৈতিক বিতর্ক এখনো বহাল রয়েছে। রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। কী বলেছেন মির্জা ফখরুল? সংসদে বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াত কখনো জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। তিনি বলেন, "একাত্তর সালের ভূমিকার জন্য আপনারা একবারও ক্ষমা প্রার্থনা করলেন না। জাতির সামনে আপনাদের ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত ছিল। এটা করলে আজকে সমস্যাগুলো হয় না।" তিনি আরও বলেন, জামায়াতের সাবেক নেতা গোলাম আজম একসময় বলেছিলেন, "একাত্তরে আমরা ভুল করি নাই।" এই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দলটির প্রতি আহ্বান জানান, বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে নিজেদের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট করতে। মির্জা ফখরুলের ভাষায়, "এখনো সময় আছে ভেবে-চিন্তে দেখতে পারেন। বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনাদের অবস্থান পরিষ্কার করেন। অতীতের অবস্থান স্পষ্ট করলে দলটির রাজনীতি আরও গ্রহণযোগ্য হবে।" সংসদে আর কী আলোচনা হয়? জামায়াতের নেতাদের উদ্দেশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পারস্পরিক উত্তেজনা সৃষ্টি বা একে অপরকে উপেক্ষা করার সময় নয়। বরং অতীতের বিতর্কিত অধ্যায় নিয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, "আমাদের বন্ধুরা বিভিন্নভাবে আমাদের ইগনোর করার চেষ্টা করছেন। আমাদের বিভিন্নভাবে ক্ষুব্ধ করার চেষ্টা করছেন। আমি মনে করি এ সময়টা সঠিক নয়। নিজেদের দিকেও আপনাদের ফিরে তাকানো দরকার।" বক্তৃতার সময় বিরোধী দলের সদস্যদের মন্তব্যের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীও বলেন, তিনি আজ পর্যন্ত জামায়াতের কাছ থেকে ১৯৭১ সালের ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট স্বীকারোক্তি শোনেননি। তাঁর মতে, বিষয়টি স্বীকার করলে দলটির রাজনীতি পরিচালনা সহজ হবে। এনসিপিকে নিয়েও মন্তব্য জামায়াতের জোটসঙ্গী এনসিপির প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তাদের সামনে সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যে দলের সঙ্গে তারা রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, সেই দল বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করেনি—এমন অভিযোগ তুলে তিনি এনসিপিকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও পরিষ্কার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "তারা ভালো করবে, আমরা চাই তারা ভালো করুক। কিন্তু বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্নে যারা বিতর্কিত অবস্থানে ছিল, সেই স্টিগমা নিয়ে যেন তাদের রাজনীতি না এগোয়।"   মির্জা ফখরুলের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার ইতিহাস এবং ১৯৭১ সালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিশেষ করে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমীকরণ, জোট রাজনীতি এবং নতুন দলগুলোর অবস্থান নিয়ে বিতর্কের মধ্যে তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৯, ২০২৬ 0
জামালপুর-১ আসনের সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ গুলশান থেকে গ্রেফতার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জামালপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) নূর মোহাম্মদকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার (২৭ জুন) রাতে পরিচালিত একটি অভিযানে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, "নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে জামালপুরে একটি মামলা রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" ডিবির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মামলার প্রকৃতি বা অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া অভিযানের সময় তার সঙ্গে অন্য কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও কোনো তথ্য জানানো হয়নি। আদালতের নিষেধাজ্ঞার পর গ্রেফতার এর আগে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধানের প্রেক্ষাপটে নূর মোহাম্মদ, তার স্ত্রী রওশন আরা বেগম এবং ভাতিজা সাইফুল ইসলামের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ঢাকার একটি আদালত। আদালতের ওই আদেশে তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তদন্তের পরবর্তী ধাপ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেফতারের পর নূর মোহাম্মদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপর তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার অগ্রগতি এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্তাধীন বিষয় হওয়ায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো আদালতের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৮, ২০২৬ 0
আ.লীগের সাবেক এমপি ডা. প্রাণ
ভারতে প্রকাশ্যে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, ত্রিপুরার মেডিকেল কলেজে ক্লাস নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দীর্ঘদিন জনসমক্ষে দেখা যায়নি কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তকে। তার বিরুদ্ধে দেশে একাধিক মামলা দায়ের হওয়ার পর তিনি কোথায় অবস্থান করছেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, চিকিৎসক সমাজ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। অবশেষে সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে ভারতের ত্রিপুরার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে তার পাঠদান করার তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। বাংলাদেশ সংবাদের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) কলেজটির এক স্টাফ নার্স বাংলাদেশ সংবাদকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। তবে তিনি ঠিক কবে থেকে কলেজটিতে যুক্ত হয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।   ভিডিওতে মিলল অবস্থানের প্রমাণ সম্প্রতি শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, আধুনিক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সামনে বক্তৃতা দিচ্ছেন অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। তার পেছনের ডিজিটাল ডিসপ্লেতে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন স্লাইড প্রদর্শিত হচ্ছিল। ভিডিওর বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তিনি নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিষয়ে একটি একাডেমিক ক্লাস পরিচালনা করছিলেন। ভিডিওটি প্রকাশের পরই তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার কার্যত অবসান ঘটে।   দীর্ঘ চিকিৎসা জীবনের পর রাজনীতিতে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত দেশের একজন সুপরিচিত নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।   সরকার পতনের পর আত্মগোপন গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের মতো ডা. প্রাণ গোপাল দত্তও জনসমক্ষে আর দেখা দেননি। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হওয়ার পর তিনি দেশ ছেড়েছেন কি না, কোথায় অবস্থান করছেন কিংবা চিকিৎসা বা শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন কি না—এসব প্রশ্নের কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য এতদিন পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক ভিডিও এবং কলেজ-সংশ্লিষ্ট এক কর্মীর বক্তব্যের পর অন্তত এটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তিনি বর্তমানে ভারতের ত্রিপুরায় অবস্থান করছেন এবং একটি মেডিকেল কলেজে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে তিনি কোন ধরনের ভিসায় ভারতে অবস্থান করছেন, কলেজটির সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক নিয়োগের ধরন কী এবং বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বর্তমান আইনি অবস্থা—এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ সংবাদ এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত কিংবা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৮, ২০২৬ 0
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। ফাইল ছবি
কুমিল্লায় মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা: বাদীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক, উঠছে নতুন প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক, বিদ্বেষমূলক ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২০ জুন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নামে এক ব্যক্তি মামলাটি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯ জুন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ইউটিউব চ্যানেলে সংসদ সদস্যকে নিয়ে কটূক্তি, বিদ্রূপ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, একটি ইউটিউব ভিডিওতে সংসদ সদস্যের দাড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করা হয়। পাশাপাশি একটি ফেসবুক পোস্টে তার ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ এবং ‘ইসলামবিদ্বেষী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। বাদীর দাবি, এসব প্রচারণার মাধ্যমে সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। মামলার চেয়ে বড় আলোচনায় বাদীর পরিচয় তবে মামলা দায়েরের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে অভিযোগের বিষয়বস্তু নয়, বরং মামলার বাদীর রাজনৈতিক পরিচয়। জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নিজেকে কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দিলেও স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের একাধিক নেতা সেই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বলেন, খোকন তালুকদার যুবদলের দায়িত্বশীল কোনো নেতা নন। তার দাবি, খোকন অতীতে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবেই পরিচিত। একই বক্তব্য দিয়েছেন কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সদস্যসচিব রোমান হাসান। তার ভাষ্য, খোকন তালুকদার যুবদলের কোনো পর্যায়ের নেতা নন এবং পূর্বে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা? মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। কুমিল্লা মহানগর ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি এম এম বিলাল হোসাইন বলেন, তাদের মতে মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে এবং বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলাগুলো প্রায়ই রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে যখন অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন, তখন মামলার পেছনের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বাদীর পাল্টা বক্তব্য তবে নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার। তার বক্তব্য, সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে বলেই তিনি মামলা করেছেন। যুবদলের পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি যে কমিটির সদস্য বলে দাবি করছেন, সেটি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর ঘোষিত কমিটি; এটি কেন্দ্রীয় যুবদলের অনুমোদিত কমিটি নয়। এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বৈধতা ও সাংগঠনিক স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পুলিশের অবস্থান কী? মামলা গ্রহণের বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, আইনের দৃষ্টিতে যে কোনো ব্যক্তি অভিযোগ নিয়ে আদালত বা থানার দ্বারস্থ হতে পারেন। অভিযোগ যাচাই-বাছাই করেই মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তে যেসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনাকে ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— অভিযুক্ত বক্তব্যগুলো প্রকৃতপক্ষে কে বা কারা প্রচার করেছিলেন? মামলায় মুফতি ফয়জুল করীমের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ কী? বাদীর রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার বাস্তবতা কী? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মতামত, রাজনৈতিক সমালোচনা ও মানহানির সীমারেখা কোথায়? মামলা দায়েরের পেছনে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনো প্রভাব রয়েছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে। তবে আপাতত কুমিল্লার এই মামলা শুধু একটি মানহানির অভিযোগ নয়; বরং এটি স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ, সাংগঠনিক বৈধতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন এক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৫, ২০২৬ 0
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘নীরব সিন্ডিকেট’? আবুল কাশেমকে ঘিরে দুর্নীতি, পাসপোর্ট জালিয়াতি ও প্রভাব খাটানোর গুরুতর অভিযোগ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল কাশেমকে ঘিরে আবারও সামনে এসেছে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিদেশে কর্মরত অবস্থায় সংঘটিত অনিয়মের একাধিক গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে একাধিক দপ্তরকে অবহিত করা হলেও কার্যকর তদন্ত বা দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রাপ্ত নথি, অভিযোগপত্র এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ে দায়িত্ব পালনকালে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, রাজস্ব ফাঁকি, ভুয়া পরিচয়ে পাসপোর্ট ইস্যু এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে তিনি নিজেকে বিএনপিপন্থি হিসেবে পরিচয় দিয়ে অতীতের অভিযোগ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযোগের কেন্দ্রে রিয়াদ দূতাবাস রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসে দায়িত্ব পালনকালে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকরণে রাজস্ব ফাঁকি এবং অবৈধ অর্থ লেনদেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, দূতাবাসের স্থানীয় কর্মীদের আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুলসংখ্যক পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকরণ করা হতো। বিনিময়ে আদায় করা হতো নগদ অর্থ, যার একটি অংশ কথিত সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্যে ভাগাভাগি করা হতো। অভিযোগকারী সূত্র দাবি করেছে, ২০১৯ সালের মে, জুন ও জুলাই—এই তিন মাসেই শত শত পাসপোর্টে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগপত্রে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ‘ভুয়া আইডি’ ব্যবহার করে পাসপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ অভিযোগের আরও বিস্ফোরক অংশে বলা হয়েছে, ২০১৭-১৮ সালে দূতাবাসের ভেতরে অস্তিত্বহীন কর্মচারীর নামে ভুয়া আইডি খুলে তা ব্যবহার করে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ‘সাইফুর’ নামে একটি আইডির মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং সফটওয়্যার লগ বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি সহজেই যাচাই করা সম্ভব। তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্ত চেয়ে একাধিক সরকারি চিঠি, কিন্তু ব্যবস্থা কোথায়? নথিপত্র অনুযায়ী, আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও মতামত চেয়ে ২০২০ সাল থেকে ২০২২ সালের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখা থেকে একাধিক চিঠি দেওয়া হয়। সুরক্ষা সেবা বিভাগ, প্রশাসন-১ শাখা এবং মিশন শাখা পৃথকভাবে রিয়াদ দূতাবাসকে অভিযোগ যাচাই করে প্রতিবেদন পাঠানোর অনুরোধ জানায়। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, একাধিক স্মারক জারি হলেও অভিযোগের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং তদন্ত প্রতিবেদনও যথাসময়ে জমা পড়েনি। এ পরিস্থিতি প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বিদেশে পোস্টিং নিয়ে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ আবুল কাশেমের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সোহাগ হোসেনের বিরুদ্ধেও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে বিদেশে পোস্টিং নিশ্চিত করার চেষ্টা, বদলি বাণিজ্য এবং প্রশাসনে তদবিরের সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের নাম জড়িয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন প্রকাশের আগে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আবুল কাশেম ও সোহাগ হোসেনের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ নিজ এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আবুল কাশেম ও তার পরিবারের প্রভাব বৃদ্ধি পায় এবং ওই সময়েই তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হন। তাদের অভিযোগ, দেশে-বিদেশে তার নামে ও বেনামে সম্পদ রয়েছে। তবে এসব সম্পদের পরিমাণ বা মালিকানার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। কী বলছেন দুর্নীতি বিরোধী বিশ্লেষকরা? দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে বসে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ বা অবৈধ সুবিধা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। তার ভাষায়, “দুর্নীতি ছোট বা বড় হয় না। দুর্নীতি মানেই দুর্নীতি। প্রতিটি অভিযোগের গভীর অনুসন্ধান হওয়া প্রয়োজন।” অন্যদিকে দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশ্নের মুখে জবাবদিহি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ওঠা অভিযোগ, তদন্তের জন্য বারবার সরকারি চিঠি দেওয়া, কিন্তু দৃশ্যমান কোনো নিষ্পত্তি না হওয়া—এসব বিষয় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধান
কুমিল্লায় ছাত্রশিবির নেতা জিসান মিয়া কারাগারে: ধর্ষণ, গর্ভপাত ও ‘অপহরণ নাটক’ নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চার দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলার পাশাপাশি ‘অপহরণ’ ও ‘অসুস্থতা’ ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন, যা এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এ কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে জিসানকে হাজির করা হয়। বিচারক তৈয়ব উদ্দিন আহমেদ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত প্রাঙ্গণে তার মাথায় হেলমেট এবং শরীরে পুলিশি নিরাপত্তা ভেস্ট দেখা যায়। আদেশের পরপরই তাকে দ্রুত প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের প্রতিবেদন কী বলছে? জিসানকে চার দিন ধরে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেডিক্যাল বোর্ড তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাকে সুস্থ বলে মত দিয়েছে। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, চিকিৎসকদের মূল্যায়নে জিসানের শারীরিক অবস্থায় এমন কোনো জটিলতা পাওয়া যায়নি, যা হাসপাতালে রাখার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে। সেই ভিত্তিতেই তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এই পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গ্রেপ্তারের পর থেকে জিসান নিজেকে অসুস্থ দাবি করে হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন এবং সে কারণে তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছিল পুলিশ। ‘অপহরণ’ না ‘আত্মগোপন’? ঘটনার আরেকটি বিতর্কিত দিক হলো জিসানের কথিত নিখোঁজ হওয়া। ১১ জুন রাতে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরদিন বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি ওঠে, তিনি অপহরণের শিকার হয়েছেন। তবে পুলিশ বলছে, তদন্তে তারা অপহরণের কোনো প্রমাণ পায়নি। বরং জিসান স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে তাদের দাবি। পুলিশের ভাষ্যমতে, এক বিধবা নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক, পরবর্তীতে ওই নারীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়া এবং বিয়ের চাপ থেকে বাঁচতেই তিনি নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজান। পরে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে পরিবারের দাবি ছিল, তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং তিনি অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। এই দুই বিপরীতমুখী বক্তব্যের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা কী, সেটি এখনো তদন্তের বিষয়। ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক ২৫ বছর বয়সী বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্পর্কের একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হন। এরপর তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং ওষুধ সেবনের মাধ্যমে ভ্রূণ নষ্ট করা হয়। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিয়ে এড়াতেই জিসান আত্মগোপনে যান বলে দাবি পুলিশের। শুক্রবার রাতে উদ্ধার হওয়ার পর ওই নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জিসানসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। আদালতে আইনজীবীদের অভিযোগ জিসানের আইনজীবী মনির হোসেন দাবি করেছেন, আদালতে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কারা হাসপাতালে রাখার আবেদন করা হয়েছিল। তার অভিযোগ, ওকালতনামা সংগ্রহের জন্য তারা পুলিশ হেফাজতে থাকা জিসানের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও সুযোগ দেওয়া হয়নি। এছাড়া আদালতের আদেশের পর পুলিশ দ্রুত তাকে প্রিজন ভ্যানে তুলে নেয়। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্তের সামনে যেসব প্রশ্ন ঘটনার বিভিন্ন দিক সামনে আসার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন আলোচনায় রয়েছে— জিসান সত্যিই অপহরণের শিকার হয়েছিলেন, নাকি আত্মগোপনে ছিলেন? চিকিৎসাধীন থাকার প্রয়োজন ছিল কি না, সে বিষয়ে হাসপাতালের পর্যবেক্ষণ ও তার দাবির মধ্যে এত পার্থক্য কেন? ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে? বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও সম্পর্কের প্রকৃত প্রকৃতি কী ছিল? মামলার অন্য আসামিদের ভূমিকা কী? এখন কী হবে? মামলার তিন আসামি—সেকান্দর আলী, গোলাম রাব্বী ও সজীব হাসান—ইতোমধ্যে কারাগারে রয়েছেন। জিসানকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর ফলে এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপ, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য জিজ্ঞাসাবাদের ওপর গুরুত্ব বাড়বে। একদিকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ, অন্যদিকে অপহরণ ও আত্মগোপনের পরস্পরবিরোধী বর্ণনা—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন শুধু একটি ফৌজদারি মামলা নয়; বরং এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত, চিকিৎসা মূল্যায়ন এবং রাজনৈতিকভাবে পরিচিত একজন নেতাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বহুমাত্রিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৭, ২০২৬ 0
মীর শাহে আলম
দেশের সব উপজেলায় এমপিদের জন্য পরিদর্শন কক্ষ নির্মাণে বরাদ্দ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে সংসদ সদস্য (এমপি) ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য একটি করে পরিদর্শন কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের সব উপজেলা পরিষদের অনুকূলে ছয় লাখ টাকা করে বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান। সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক সমন্বয় বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও এর পেছনে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতার প্রশ্নও সামনে এসেছে। কী বলছে সরকার? গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সারের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জানান, দেশের সব উপজেলায় সংসদ সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য একটি করে পরিদর্শন কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কক্ষ কেবল সংসদ সদস্যদের জন্য নয়; বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও দাপ্তরিক কাজে এগুলো ব্যবহার করতে পারবেন। স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতোমধ্যে প্রতিটি উপজেলা পরিষদের জন্য ছয় লাখ টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছে। কেন উঠেছিল এই দাবি? উপজেলা পর্যায়ে সংসদ সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মপরিসর তৈরির বিষয়টি প্রথম আলোচনায় আসে চলতি বছরের ৩১ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে। সেদিন এনসিপির সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান নির্বাচনী এলাকায় এমপিদের জন্য বসার জায়গা নিশ্চিত করার দাবি উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে ২১ এপ্রিল স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংসদে জানান, উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের জন্য বসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই দিনে এনসিপির আরেক সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ট্যাক্সমুক্ত গাড়ির সুবিধার পরিবর্তে উপজেলা পর্যায়ে কার্যকর অফিস স্থাপনের দাবি জানান। সাম্প্রতিক এই উদ্যোগকে অনেকেই ওই ধারাবাহিক দাবির বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছেন। প্রশাসনিক সুবিধা নাকি ক্ষমতার নতুন কেন্দ্র? বাংলাদেশের উপজেলা পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এলাকায় নিয়মিত উপস্থিতি এবং সরকারি কার্যক্রম তদারকির জন্য নির্দিষ্ট কর্মপরিসর থাকা কার্যকর হতে পারে। তবে প্রশ্ন উঠছে, উপজেলা পরিষদের নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে এমপিদের জন্য আলাদা অবকাঠামো তৈরি হলে স্থানীয় সরকারের ক্ষমতার ভারসাম্যে কোনো প্রভাব পড়বে কি না। অতীতে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রশাসন এবং সংসদ সদস্যদের ভূমিকা ও কর্তৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন সময় বিতর্ক দেখা গেছে। ফলে নতুন এই কক্ষগুলো কেবল দাপ্তরিক ব্যবহারে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হবে—সেই প্রশ্নও আলোচনায় এসেছে। কত টাকা ব্যয় হবে? বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৪৯৫টি উপজেলা রয়েছে। সে হিসাবে প্রতিটি উপজেলায় ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ দিলে মোট ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ২৯ কোটি ৭০ লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। যদিও সরকার এখন পর্যন্ত প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ ব্যয়, নকশা কিংবা বাস্তবায়ন সময়সূচি প্রকাশ করেনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে নতুন বার্তা? স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইতোমধ্যে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে উপজেলা পর্যায়ে সংসদ সদস্যদের জন্য নতুন অবকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশাসনিক উপস্থিতি জোরদার করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের যোগাযোগ আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার লক্ষ্যও এর পেছনে থাকতে পারে। তবে এই উদ্যোগ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কতটা শক্তিশালী করবে, নাকি নতুন ধরনের প্রভাব বলয়ের জন্ম দেবে—সেই মূল্যায়ন নির্ভর করবে এর বাস্তব প্রয়োগের ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৭, ২০২৬ 0
রাশেদ খান
নির্বাচনের আগে ‘ত্যাগের রাজনীতি’, পরে সুবিধা চাওয়ার অভিযোগ: জামায়াত-এনসিপিকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নির্বাচনের আগে সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ না করার যে রাজনৈতিক অবস্থানের কথা বলা হয়েছিল, ক্ষমতার কাঠামোর কাছাকাছি পৌঁছানোর পর সেই অবস্থান কতটা অপরিবর্তিত থাকে—এ প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। মঙ্গলবার (৯ জুন) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কে লক্ষ্য করে দাবি করেন, নির্বাচনের আগে তারা সরকারি বাড়ি-গাড়ি ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ না করার কথা বললেও সংসদে প্রবেশের পর গাড়ি ও অফিসের দাবি তুলেছে। রাশেদ খান, যিনি একসময় গণ অধিকার পরিষদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে বিএনপিতে যোগ দেন, লিখেছেন যে শুরুতে জামায়াত ও এনসিপির নেতারা ক্ষমতায় গেলে সরকারি বাড়ি-গাড়ির সুবিধা নেবেন না বলে প্রচার করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে সংসদে যাওয়ার পর তাদের অবস্থানে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। মারদিয়া মমতাজকে ঘিরেও প্রশ্ন ফেসবুক পোস্টে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মারদিয়া মমতাজের সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। তার দাবি, মারদিয়া মমতাজ বলেছেন আত্মীয়ের বাসায় থেকে সংসদে যাতায়াত করা কষ্টসাধ্য হওয়ায় সরকারি আবাসনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাশেদ খান প্রশ্ন করেন, যদি তিনি অতীতে শিক্ষকতা এবং নিয়মিত টেলিভিশন টকশোতে অংশগ্রহণ করতে পারেন, তাহলে একই পরিস্থিতিতে সংসদীয় দায়িত্ব পালনে অতিরিক্ত সুবিধার প্রয়োজন কেন দেখা দিল। পুরোনো টকশো অভিজ্ঞতার উল্লেখ পোস্টে রাশেদ খান একটি টেলিভিশন টকশোতে মারদিয়া মমতাজের সঙ্গে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অনুষ্ঠানে মারদিয়া মমতাজ শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পরিচয়ে উপস্থিত ছিলেন। তবে আলোচনার সময় তার বক্তব্যে জামায়াতপন্থী অবস্থান স্পষ্ট ছিল বলে রাশেদ খানের দাবি। তিনি আরও বলেন, আলোচনার এক পর্যায়ে মারদিয়া মমতাজ নিজেকে জামায়াতের কোনো পদধারী বা আনুষ্ঠানিক কর্মী নয়, বরং সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। আদর্শ বনাম বাস্তবতার প্রশ্ন রাশেদ খানের পোস্টের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশটি ছিল রাজনৈতিক আদর্শ ও বাস্তব রাজনীতির মধ্যে ব্যবধান নিয়ে তার মন্তব্য। তিনি ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, এমন এক রাজনৈতিক দর্শনের কথা বলা হচ্ছে যেখানে নির্বাচনের আগে গাড়ি, বাড়ি ও অফিসের প্রয়োজন হয় না, কিন্তু নির্বাচনের পর সেই প্রয়োজনীয়তাই সামনে চলে আসে। তার এই বক্তব্য মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও ক্ষমতার কাছাকাছি যাওয়ার পর বাস্তব অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক তাৎপর্য বিশ্লেষকরা বলছেন, সংসদীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের প্রশ্নটি কেবল প্রশাসনিক নয়; এটি রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গেও জড়িত। কোনো দল বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যদি নির্বাচনের আগে কঠোর নৈতিক অবস্থান গ্রহণ করে, তবে পরবর্তীতে সেই অবস্থান থেকে বিচ্যুতির অভিযোগ তাদের রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে রাশেদ খানের অভিযোগের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি বা মারদিয়া মমতাজের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৯, ২০২৬ 0
নোয়াখালী সদরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে আ.লীগের হামলা ছাত্রদলের ওপর, মোটরসাইকেলে আগুন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। সংঘর্ষে নোয়াখালী শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয়সহ ছাত্রদল ও যুবদলের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লুকিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট এলাকায় ছাত্রলীগের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেলের নেতৃত্বে একই এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে ছাত্রদল। সমাবেশ চলাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা খবর পান যে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে কালাদরাপ ইউনিয়নে একটি মিছিল করেছেন। পরে কর্মসূচি শেষ করে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ফেরার পথে তারা কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমকে তার বাড়ির পাশের একটি দোকানে দেখতে পান। এ সময় মিছিলকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বাগবিতণ্ডা হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে মসজিদের মাইকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার খবর প্রচার হলে আওয়ামী লীগ ও চেয়ারম্যানের সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শ্রমিকদল নেতা হৃদয়সহ অন্তত ছয়জন আহত হন। স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, রাত পৌনে ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে শাহাদাত হোসেন সেলিমের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেন। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেল অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিলের জন্য জড়ো হয়েছিল। খবর পেয়ে ওয়ার্ড ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পরে বাঁধেরহাটের কর্মসূচি শেষ করে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতাকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। হামলায় ছাত্রদলের ছয়জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে, সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং একটি অফিসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা অবস্থান করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় নজরদারি অব্যাহত রেখেছেন। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৭, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0