ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজ ও খুতবা শেষ হওয়ার পর জেরুজালেম এবং ফিলিস্তিনের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ মোহাম্মদ হুসেইনকে ইসরায়েলি বাহিনী আটক করেছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াফা । সংবাদ সংস্থাটির প্রতিবেদনে স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, শুক্রবার জুমার খুতবা প্রদান এবং নামাজের ইমামতি শেষ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে ইসরায়েলি সেনাসদস্যরা তাকে হেফাজতে নেয়। আটকের কারণ এখনো স্পষ্ট নয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ মোহাম্মদ হুসেইনকে কী কারণে আটক করা হয়েছে বা তাকে কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রাথমিকভাবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি। এ কারণে আটকের কারণ এবং তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ক্ষোভ ও উত্তেজনার খবর ওয়াফা -এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই ঘটনার পর আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনাটির বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে আটকের কারণ, আইনি ভিত্তি এবং পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্যের জন্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন পক্ষ দাবি করছে। সামরিক হামলা, পাল্টা হামলা, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বিরোধ এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থার কারণে পুরো অঞ্চল আবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান হোসেইন কেরমানপুরের দাবি অনুযায়ী, ৮ ও ৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির পাঁচটি প্রদেশে অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন। খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা বিষয়ক ডেপুটি গভর্নর ওয়ালিউল্লাহ হায়াতির ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে অন্তত তিনজন ওই প্রদেশের বাসিন্দা। সংঘাতের সূচনা কোথায়? ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে আইআরজিসির অভিযানকে কেন্দ্র করেই নতুন করে উত্তেজনা বাড়ে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপদ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম ইরানের বিপুলসংখ্যক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, নৌঘাঁটি এবং লজিস্টিক অবকাঠামো। এর জবাবে ইরান কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে তেহরান দাবি করেছে। কূটনীতির পথ কি বন্ধ? পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা শেষ হয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ সীমিত। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করেনি এবং কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে। 'প্ল্যান সি' নাকি পুরোনো কৌশল? যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও প্রশ্ন উঠছে—প্রশাসনের বিকল্প কৌশল কী? ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক বক্তব্যে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একই সময়ে নতুন নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ বৃদ্ধির আলোচনা আবার সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে ওয়াশিংটন আবারও অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক শক্তিনির্ভর নীতিতে ফিরে যাচ্ছে। রিচার্ড হাসের মূল্যায়ন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক রিচার্ড এন. হাস মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি কৌশলগত অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যত সামরিক চাপ বাড়াবে, ইরানও পারস্য উপসাগরের জ্বালানি ও নৌপরিবহন অবকাঠামোর ওপর তত বেশি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নতুন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। হরমুজ প্রণালি কেন গুরুত্বপূর্ণ? বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি। সাম্প্রতিক বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে এই জলপথ নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন। ইরানের ব্যাখ্যায় নিরাপদ চলাচলের দায়িত্ব তাদের হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের মতে আন্তর্জাতিক নৌপথে কোনো একক রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতা স্মারকের ভাষাগত অস্পষ্টতা দুই পক্ষের ভিন্ন ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি করেছে। ইরানের নতুন হুঁশিয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ বাকের জোলঘাদর সতর্ক করে বলেছেন, জাতীয় অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা হলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক উত্তেজনা কমার পরিবর্তে আরও বিস্তৃত সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকেরা। তবে উভয় পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনীতির দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি। ফলে সামরিক প্রতিরোধ ও রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যে ভারসাম্য কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটিই আগামী কয়েক দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত এবং সমন্বিত করতে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’ চালু করেছে সৌদি আরব। এই উদ্যোগের আওতায় নির্দিষ্ট ট্রাভেল প্যাকেজের অংশ হিসেবে পর্যটকরা একই প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা, যাওয়া-আসার ফ্লাইট, হোটেল বুকিং এবং অন্যান্য ভ্রমণসংশ্লিষ্ট সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কয়েকটি দেশের অনুমোদিত ট্রাভেল ও ট্যুরিজম সেবা প্রদানকারীদের মাধ্যমে এই পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের জন্য সৌদি আরব ভ্রমণকে আরও নির্বিঘ্ন করা এবং দেশটিতে তাদের অবস্থানের সময় বাড়াতে উৎসাহ দেওয়া। এক প্ল্যাটফর্মে ভিসা থেকে হোটেল নতুন ব্যবস্থার আওতায় ভ্রমণকারীরা একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকেই ইলেকট্রনিক ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন, রাউন্ড-ট্রিপ ফ্লাইট বুকিং এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত হোটেলে থাকার ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে পারবেন। এছাড়া, প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্রমণ পরিকল্পনার সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিশেষ কার্যক্রম এবং পর্যটন আকর্ষণও যুক্ত করা যাবে। ফলে আলাদা করে ভিসা আবেদন, বিমান টিকিট সংগ্রহ কিংবা আবাসনের জন্য পৃথক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে না। কারা এই সুবিধা দিতে পারবে? তবে এই সুবিধা সব ট্রাভেল এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত নয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেবল সেইসব অনুমোদিত ট্রাভেল ও ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠান এই সেবা দিতে পারবে, যাদের নিজস্ব ডিজিটাল বুকিং প্ল্যাটফর্ম, উন্নত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সার্বক্ষণিক গ্রাহকসেবা পরিচালনার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার ভ্রমণসেবার মান নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রাহকদের জন্য নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করতে চায়। ‘ভিশন ২০৩০’-এর পর্যটন কৌশলের অংশ নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’ উদ্যোগটি সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির আওতায় পর্যটন খাত সম্প্রসারণের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশটির পর্যটন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বীমা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব পর্যটন খাতে প্রবেশাধিকার সহজ করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ট্যুরিস্ট ই-ভিসা, অন-অ্যারাইভাল ভিসা এবং স্টপওভার ট্রানজিট ভিসা চালু করা। পর্যটক বৃদ্ধির পেছনে সহজ ভিসা নীতি সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সহজতর ভিসা নীতির ফলে দেশটিতে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে সৌদি আরব সফর করেছেন ২ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি আন্তর্জাতিক দর্শনার্থী। পর্যটন মন্ত্রীর বক্তব্য সৌদি আরবের পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল-খতিব এসপিএকে বলেন, "সৌদি আরবের পর্যটনের গল্প সবসময়ই উচ্চাকাঙ্ক্ষা, উন্মুক্ততা এবং ধারাবাহিক অগ্রগতির। প্যাকেজ ভিসার মাধ্যমে আমরা সেই যাত্রার পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করছি। এটি আমাদের পর্যটন খাতের অংশীদারদের আরও সক্ষম করবে, দর্শনার্থীদের ভ্রমণ সহজ করবে এবং সৌদি আরব সফরের অভিজ্ঞতাকে আরও স্মার্ট ও নির্বিঘ্ন করে তুলবে।" কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ? নতুন প্যাকেজ ভিসা শুধু একটি নতুন ভিসা সুবিধা নয়; এটি সৌদি আরবের পর্যটন ব্যবস্থাকে ডিজিটাল ও সমন্বিত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। একটি প্ল্যাটফর্মে ভিসা, পরিবহন, আবাসন এবং পর্যটন কার্যক্রম যুক্ত হওয়ায় ভ্রমণ পরিকল্পনার জটিলতা কমবে। একই সঙ্গে পর্যটকদের দীর্ঘ সময় অবস্থান, অতিরিক্ত ব্যয় এবং বিভিন্ন পর্যটন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও বাড়বে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব প্রযুক্তিনির্ভর ও সহজ প্রবেশব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেকে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : আবু মুসা দ্বীপ এবং ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক স্থানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, সিরিক শহরের তাহরুই গ্রামের কাছেও তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এদিকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পর হুমকির পর ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা শুরু করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের স্বাধীনতায় হুমকি দেওয়ার ইরানের সক্ষমতা আরও হ্রাস করার” উদ্দেশ্যে তারা অতিরিক্ত অভিযান শুরু করেছে। সেন্টকমের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর সাম্প্রতিক আগ্রাসনের জন্য ইরানকে “জবাবদিহি” করানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি স্থানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। বিস্ফোরণের খবর পাওয়া স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে সিরিক, বুশেহর, কোনারাক ও চাবাহার। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, বন্দর আব্বাসে আটটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। চাবাহারে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবরও পাওয়া গেছে। তবে এসব ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। হরমুজ প্রণালী ও কৌশলগত গুরুত্ব হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই এলাকায় সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বাণিজ্যিক নৌচলাচলে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। সেন্টকমের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ দাবির তাৎক্ষণিক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি। আইআরজিসির হুঁশিয়ারি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বার্তায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, অঞ্চলজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণ মোকাবিলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। ট্রাম্পের মন্তব্য ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) “শেষ” হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেন। ওই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের খবর সামনে আসে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তবে বর্তমান বিস্ফোরণগুলোর প্রকৃতি, লক্ষ্যবস্তু ও দায়ী পক্ষ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনও সীমিত। আঞ্চলিক উদ্বেগ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি সামরিক অবস্থান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিবৃতির ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় নতুন তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কানি বলেছেন, শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির ইরাকে অনুষ্ঠিত জানাজা ইরান ও ইরাকের জনগণের পারস্পরিক সংহতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দুই জাতির ঐক্যবদ্ধ অবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রকাশিত এক বার্তায় কানি বলেন, নাজাফ ও কারবালায় অনুষ্ঠিতব্য এই জানাজা শুধু দুই দেশের জনগণের ঐক্যই গভীর করবে না, বরং প্রতিরোধ আন্দোলনের শহীদ নেতাদের ন্যায়বিচারের দাবিকেও আরও জোরালো করবে। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ইরাকি সরকারের উদ্যোগ এবং দেশটির জনগণের ব্যাপক প্রস্তুতি ইরান ও ইরাকের গভীর আধ্যাত্মিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন। কানি আরও উল্লেখ করেন, আয়াতুল্লাহ খামেনির সমর্থন এবং ইরাকের ধর্মীয় নেতৃত্বের ভূমিকা দেশটিতে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ২০২০ সালে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত আইআরজিসির সাবেক কুদস ফোর্স প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি এবং ইরাকের জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর উপপ্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দিসের প্রসঙ্গ টেনে কানি বলেন, তারা দুই দেশের জন্যই আত্মত্যাগের অভিন্ন প্রতীক। তিনি দাবি করেন, খামেনির শেষকৃত্যও সোলাইমানি ও আল-মুহান্দিসের জানাজার মতোই যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী প্রতিরোধকে আরও শক্তিশালী করবে। এদিকে, কারবালার গভর্নর ও প্রদেশের উচ্চ নিরাপত্তা কমিটির প্রধান নাসিফ জাসিম আল-খাত্তাবি জানিয়েছেন, জানাজা উপলক্ষে নিরাপত্তা ও লজিস্টিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইরাকি গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, অনুষ্ঠানটি দেশটির সরকার ও জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে ফেডারেল সামরিক বাহিনী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা সংস্থার সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার থেকে শোকাহত মানুষ ও বিভিন্ন প্রতিনিধি দল কারবালায় আসতে শুরু করবে। নিরাপত্তা, পরিবহন ও জনসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। জানাজা তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান গভর্নর। প্রথম ধাপে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা, দ্বিতীয় ধাপে বুধবার নাজাফে জানাজার শোভাযাত্রা এবং শেষ ধাপে একই দিন বিকেলে কারবালায় চূড়ান্ত কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে ইরাকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের আশা করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে বুধবার কারবালা প্রদেশে সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ মিডিয়া কমিটির মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাদ মান জানান, নাজাফে শোভাযাত্রার পথ আল-সাদরাইন ওভারপাস থেকে ইমাম আলীর মাজার পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার এবং কারবালায় প্রায় ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। অংশগ্রহণকারীদের জন্য নাজাফে ৩৫১টি, কারবালায় ৪০০টির বেশি সেবাকেন্দ্র এবং শোভাযাত্রার পথে ১৫০টি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : হামাসের লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান মুহাম্মদ দারবিশের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ইরানের রাজধানী তেহরান সফর করেছে। সফরের উদ্দেশ্য ছিল ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া। সফরকালে হামাস প্রতিনিধিদল ইরানকে যুদ্ধক্ষেত্র ও আলোচনার টেবিলে ‘বড় ধরনের জয়’ অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানায়। সংগঠনটি এই অর্জনকে গোটা ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ বা প্রতিরোধ অক্ষ এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর বিজয় বলে উল্লেখ করেছে। খামেনির প্রতি শোক ও অবস্থানের প্রশংসা হামাসের প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের শাহাদাতের ঘটনায় ইরানের নেতা, সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায়। একই সঙ্গে মুহাম্মদ দারবিশ বলেন, ফিলিস্তিনের মুক্তিসংগ্রামের প্রতি সমর্থন এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের বৈধ প্রতিরোধের পক্ষে খামেনির নীতিগত ও সাহসী অবস্থান হামাসের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি তুলে ধরে হামাস সফরের সময় হামাস প্রতিনিধিদল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে তারা গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ‘চরম অমানবিক পরিস্থিতি’ এবং পশ্চিম তীরে ইসরাইলের চলমান অভিযানের বিষয়ে নিজেদের উদ্বেগ তুলে ধরে। হামাসের দাবি, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যার মুখে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা ‘বিপর্যয়কর’। প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ইসরাইলের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানায়। ইরানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে ধন্যবাদ জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং আল-কুদস (জেরুজালেম)কে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতি ইরানের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। এ অবস্থানকে তেহরানের নীতিগত অবস্থান হিসেবেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। প্রেক্ষাপট হামাস ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। তেহরান নিজেকে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর অন্যতম সমর্থক হিসেবে তুলে ধরে। অন্যদিকে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র এবং কয়েকটি পশ্চিমা দেশ হামাসকে সশস্ত্র সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে এবং ইরানের আঞ্চলিক ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে। এই প্রেক্ষাপটে তেহরানে হামাস প্রতিনিধিদলের সফর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই দুই পক্ষের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের আরেকটি প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নাতনি, ১৪ মাস বয়সী জাহরা মোহাম্মদী গোলপায়েগানির বাবা শেখ মোহাম্মদ জাভাদ গোলপায়েগানির একটি আবেগঘন ছবি প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। জানাজায় নিহত শিশুকন্যার কফিনের পাশে শোকাহত বাবার সেই মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় তেহরানের গ্র্যান্ড মোসল্লায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তার জামাতা মেসবাহ-উল-হোদা বাকেরি, বড় মেয়ে সাইয়্যেদাহ বোশরা হোসেইনি খামেনি, পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ আদেল এবং ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদী গোলপায়েগানির জানাজা একসঙ্গে সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে ইরনা প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, নিহত শিশু জাহরার কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে শোকাহত অবস্থায় আছেন তার বাবা শেখ মোহাম্মদ জাভাদ গোলপায়েগানি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, শেখ মোহাম্মদ জাভাদ গোলপায়েগানি শিয়া আলেম এবং শহীদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বড় মেয়ে সাইয়্যেদাহ বোশরা হোসেইনি খামেনির স্বামী। তিনি ১৪ মাস বয়সী জাহরার বাবা এবং প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আবুল কাসেম মোহাম্মদী গোলপায়েগানির ছেলে। এদিকে, প্রথম জানাজার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভি প্রথমবারের মতো খামেনির জামাতা ড. মেসবাহ-উল-হোদা বাকেরির একটি ছবিও প্রকাশ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ওই ছবিতে তাকে শ্বশুর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায়। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ড. মেসবাহ-উল-হোদা বাকেরি ছিলেন খামেনির দ্বিতীয় মেয়ে হোদা সাদাত খামেনির স্বামী এবং কূটনীতিক আলী বাকেরি কানির ভাই। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় খামেনি পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তিনিও নিহত হন। এ ছাড়া জানাজায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির তিন ছেলে—মোস্তফা খামেনি, মাসুদ খামেনি ও মেসাম হোসেইনি খামেনিকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা ও খামেনির দ্বিতীয় ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : চার মাসেরও বেশি সময় আগে বিমান হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়কে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন প্রস্তুতি নিয়েছে তেহরান। সরকার বলছে, এটি কেবল একটি রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নয়; বরং জাতীয় ঐক্য, রাজনৈতিক প্রতিরোধ এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উপস্থিতির এক বিরল প্রদর্শন। তবে এই আয়োজন ঘিরে একাধিক প্রশ্নও সামনে এসেছে। কেন চার মাস পর দাফন? কেন এত দীর্ঘ সময় ধরে মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়েছে? কেন ইরান ও ইরাকজুড়ে ছয় দিনের অনুষ্ঠান? আর এই বিশাল আয়োজনের মধ্য দিয়ে কী বার্তা দিতে চাইছে তেহরান? ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় আয়োজন, পাঁচ শহরে শেষ বিদায় সরকারি সূচি অনুযায়ী, আগামী শনিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে খামেনির মরদেহ। পরবর্তী কয়েক দিনে রাজধানীতে বৃহৎ শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ নেওয়া হবে পবিত্র শহর কুমে। সেখান থেকে মরদেহ যাবে ইরাকের নাজাফ ও কারবালায়—শিয়া মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র দুটিতে। রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা শেষে মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে এনে ৯ জুলাই জন্মভূমি মাশহাদে দাফন করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ পুরো অনুষ্ঠান ইরান ও ইরাকের মোট পাঁচটি শহরজুড়ে ছয় দিন ধরে চলবে। দুই কোটির সমাগম— বাস্তবতা নাকি রাজনৈতিক বার্তা? ইরানের প্রশাসনের ধারণা, পুরো কর্মসূচিতে দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। যদি এই সংখ্যা বাস্তবে অর্জিত হয়, তাহলে এটি হবে ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠান। এই সম্ভাব্য জনসমাগম সামাল দিতে: সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। বাসিজ মিলিশিয়া মোতায়েন করা হয়েছে। তেহরানের বহু এলাকায় যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি অফিস কয়েকদিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি শহরের আকাশসীমায় সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ৩০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি ইরান বলছে, বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। তালিকায় রয়েছে— রাশিয়া চীন পাকিস্তান ভারত জর্জিয়া কিউবা এছাড়া প্রায় ৯০টি দেশের ধর্মীয় নেতাদের উপস্থিতির কথাও জানিয়েছে তেহরান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিজেই পার্লামেন্টে ভাষণ দিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বাংলাদেশ থেকেও জাতীয় সংসদের স্পিকার সরকারি সফরে তেহরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। ৬০০ বিদেশি সাংবাদিক, প্রামাণ্যচিত্র ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি ইরানের সংস্কৃতি ও ইসলামি দিকনির্দেশনা বিষয়ক মন্ত্রী আব্বাস সালেহি জানিয়েছেন, প্রায় ৬০০ বিদেশি সাংবাদিক অনুষ্ঠান কাভার করবেন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশেষ সম্প্রচার থাকবে। পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করা হচ্ছে। আলোকচিত্র প্রদর্শনী আয়োজন করা হচ্ছে। সাংস্কৃতিক কর্মসূচিও থাকবে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আয়োজন শুধু শোক প্রকাশ নয়; বরং ইরানের সামাজিক সংহতি ও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার প্রদর্শন। কেন চার মাস পর দাফন? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখানেই। ইসলামে সাধারণত দ্রুত দাফনের ওপর জোর দেওয়া হয়। তাহলে চার মাস পর কেন? বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ রয়েছে— ১. নিরাপত্তা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বড় জনসমাগম আয়োজন সম্ভব ছিল না। ২. যুদ্ধ পরিস্থিতি যুদ্ধ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়। ৩. রাজনৈতিক বার্তা বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ প্রস্তুতির মাধ্যমে ইরান আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদের ঐক্য ও প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছে। মরদেহ কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে? এ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষক ড. মোহাম্মদ ওমরের মতে, ইসলামী শরিয়ায় রাসায়নিকভাবে মরদেহ সংরক্ষণ নিরুৎসাহিত। তবে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে শীতলীকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে মরদেহ দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায়। তার মতে, ফরেনসিক মর্গে দীর্ঘ সময় মরদেহ রাখা অস্বাভাবিক নয়। খামেনির ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা যায়। তবে তিনি আরও বলেন, যদি হামলায় মরদেহ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে জনসমক্ষে সম্পূর্ণ মরদেহ প্রদর্শনের সম্ভাবনা সীমিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কঠোর সতর্কবার্তা শেষ বিদায়ের আগে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। খাতাম আল-আনবিয়া সদর দফতরের কমান্ডার আলি আবদোল্লাহি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছেন। এই অবস্থায় পুরো অনুষ্ঠান ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহল। শক্তির প্রদর্শন নাকি রাষ্ট্রীয় শোক? বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়োজনের তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য থাকতে পারে— প্রথমত, অভ্যন্তরীণভাবে জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেওয়া। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিকভাবে দেখানো যে নেতৃত্ব হারালেও রাষ্ট্রের কাঠামো অটুট রয়েছে। তৃতীয়ত, প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক ও প্রতীকী বার্তা দেওয়া যে ইরান এখনও বড় জনসমর্থন সংগঠিত করতে সক্ষম। যা জানা গেছে এক নজরে ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় ইরান ও ইরাকের পাঁচ শহরে অনুষ্ঠান সম্ভাব্য উপস্থিতি ১.৫–২ কোটি মানুষ ৩০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি প্রায় ৯০ দেশের ধর্মীয় নেতার অংশগ্রহণের দাবি ৬০০ বিদেশি সাংবাদিক সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ৯ জুলাই মাশহাদে দাফনের পরিকল্পনা বিশ্লেষণ খামেনির শেষ বিদায় শুধু একটি রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নয়—এটি ইরানের জন্য একটি রাজনৈতিক মঞ্চও। শোক, ধর্ম, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা—সবকিছু মিলিয়ে এই আয়োজন মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী ঘটনা হয়ে উঠতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নিজেদের মধ্যে একটি যোগাযোগ চ্যানেল খোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কাতারে সংলাপ শেষ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরকারি প্রতিনিধিরা। বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা ইরনাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। এই চ্যানেল খোলার মূল উদ্দেশ্য হবে আগামী ৬০ দিন ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির কোনো ধারা বা শর্ত লঙ্ঘন হলে উভয়পক্ষ যেন তাৎক্ষণিকভাবে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যে দিয়েই শেষ হয়েছে কাতার সংলাপ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এবং তারপর টানা ৪০ দিন ধরে সংঘাত শেষে গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র এবং এ কারণেই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ইসলামী বিশ্বের রাজনৈতিক ও কৌশলগত ঐক্য জোরদারের লক্ষ্যে শক্তিশালী মুসলিম দেশগুলোর একটি কার্যকর জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এমন এক সময় এই আহ্বান এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সংকট, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয় গড়ে তোলা জরুরি। তার মতে, ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই মুসলিম দেশগুলোকে অভিন্ন স্বার্থ রক্ষা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে। পাকিস্তানকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখছে তেহরান বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের সরকার, জনগণ এবং সামরিক নেতৃত্বের ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিশেষ করে আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইসলামাবাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে তেহরান-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও গভীর করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে এই সফর। পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক চাপের মুখেও ইরানের সরকার, জনগণ এবং সশস্ত্র বাহিনী ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। তার দাবি, এই ঐক্যই প্রতিপক্ষের কৌশলগত লক্ষ্য ব্যর্থ করেছে। ‘প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনো আলোচনা নয়’ ইসলামাবাদে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতা করা হবে না। তার ভাষ্য, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। “যদি ইরান প্রতিরক্ষার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি না করত, তাহলে দেশটি গাজা উপত্যকার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারত,” বলেন তিনি। পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করার দাবি জানিয়ে আসছে। তিনি পশ্চিমা বিশ্বের মানবাধিকার অবস্থানেরও সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন, তাদের ঘোষিত নীতি ও বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৈপরীত্য রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ করিডোর: কেন গুরুত্বপূর্ণ? অন্যদিকে, বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ওমান। ওমানের ম্যারিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার জানিয়েছে, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)-এর সহযোগিতায় একটি অস্থায়ী ট্রানজিট করিডোর বা নিরাপদ নৌপথ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ এবং টোলমুক্ত ও নিরাপদ নৌপরিবহন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে ঘোষণায় ইরানের ভূমিকা বা অবস্থান সম্পর্কে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের নতুন বাস্তবতা? বিশ্লেষকদের মতে, মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের আহ্বান, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে আপসহীন অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা উদ্যোগ—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এই অঞ্চলের যেকোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। এমন প্রেক্ষাপটে ইরানের বার্তা স্পষ্ট—তেহরান একদিকে মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য চাইছে, অন্যদিকে নিজের সামরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসতে রাজি নয়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর কোনো ধরনের ট্রানজিট টোল আরোপ করা হবে না বলে জানিয়েছে ইরান। তবে একইসঙ্গে দেশটি স্পষ্ট করেছে, প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে নির্দিষ্ট কিছু সেবার বিনিময়ে ‘সার্ভিস ফি’ পরিশোধ করতে হতে পারে। ইরানের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক আইন, সমুদ্রপথ ব্যবস্থাপনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ, টোল ও সার্ভিস ফির মধ্যে পার্থক্য থাকলেও বাস্তবে এর আইনগত বৈধতা কতটুকু—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ। ট্রাম্পের ঘোষণার পর নতুন আলোচনা বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে রোববার (১৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ঘোষণার পর। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি সমঝোতার ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হয়েছে এবং এটি স্থায়ীভাবে ‘টোলমুক্ত’ থাকবে। তবে ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের মাত্র একদিন পরই ইরান জানিয়ে দেয়, প্রণালিটি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে কিছু ধরনের চার্জ বা ফি নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—বাস্তবে হরমুজ প্রণালি কি সত্যিই ‘টোলমুক্ত’ থাকছে, নাকি নতুন নামে আর্থিক দায় বহাল রাখা হচ্ছে? কী বলছে ইরান? ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, “আমরা কোনো ট্রানজিট টোল আরোপের পরিকল্পনা করছি না; তবে যেসব সেবা প্রদান করা হবে, তার বিনিময়ে ফি নেওয়া হবে।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সেবাগুলোর মধ্যে থাকতে পারে— পরিবেশ সুরক্ষা কার্যক্রম; নৌচলাচল নিরাপত্তা সহায়তা; সামুদ্রিক ব্যবস্থাপনা; জরুরি প্রতিক্রিয়া ও নজরদারি সেবা। তবে এসব সেবার আওতা, ফি নির্ধারণের পদ্ধতি কিংবা কোন ধরনের জাহাজকে অর্থ পরিশোধ করতে হবে—সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি তেহরান। কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি? হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে কৌশলগত সামুদ্রিক করিডরগুলোর একটি। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো থেকে রপ্তানি হওয়া বিপুল পরিমাণ জ্বালানি এই পথ দিয়ে বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ অতিক্রম করে পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালিটিতে যেকোনো ধরনের বিধিনিষেধ, অতিরিক্ত চার্জ বা নিরাপত্তা সংকট সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, পরিবহন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। টোল ও সার্ভিস ফির পার্থক্য কোথায়? আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনে সাধারণভাবে ‘ট্রানজিট প্যাসেজ’ ব্যবস্থার আওতায় গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর সরাসরি টোল আরোপ বিতর্কিত হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে কোনো রাষ্ট্র যদি নৌ-নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা বা বিশেষ সেবা প্রদান করে, তাহলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ বা প্রশাসনিক ফি আদায়ের সুযোগ থাকতে পারে। এখানেই মূল বিতর্ক। সমালোচকদের প্রশ্ন হলো—যদি ফি বাধ্যতামূলক হয় এবং জাহাজ চলাচলের শর্ত হিসেবে আরোপ করা হয়, তাহলে সেটি কার্যত টোলের বিকল্প রূপে পরিণত হবে কি না। অন্যদিকে ইরানের অবস্থান হলো, এটি প্রণালি ব্যবহারের জন্য নয়; বরং প্রদত্ত সেবার বিনিময়ে নেওয়া অর্থ। সামনে কী হতে পারে? বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে ‘টোল’ শব্দটি এড়িয়ে ‘সার্ভিস ফি’ ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান একদিকে আন্তর্জাতিক আইনের সীমারেখা মেনে চলার বার্তা দিতে চাইছে, অন্যদিকে প্রণালির ব্যবস্থাপনায় নিজেদের ভূমিকা ও প্রভাবও বজায় রাখতে চায়। তবে এই নীতির বাস্তব প্রয়োগ, চার্জের ধরন এবং আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর প্রতিক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করবে নতুন এই ব্যবস্থাকে বৈশ্বিক সম্প্রদায় কতটা গ্রহণযোগ্য বলে মনে করে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা শুধু আঞ্চলিক ভূরাজনীতির নয়; বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন এবং বাণিজ্যিক নৌপরিবহনের ভবিষ্যতের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দীর্ঘ কয়েক দশকের বৈরিতা, পারমাণবিক উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি সমঝোতার খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার দাবি সামনে এলেও এখনো পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও তেহরানের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ যৌথ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ইউরোপের চার দেশের অবস্থান যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে বাস্তব ও ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেলে তেহরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। দেশগুলো বলেছে, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই তারা যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রাখবে। এই অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সম্ভাব্য চুক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার আওতায় সেটিকে সীমাবদ্ধ রাখা। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও হরমুজ প্রণালির প্রশ্ন কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে যে, সম্ভাব্য চুক্তি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কমার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারী ও জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক বার্তা পাঠিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, কিন্তু আনুষ্ঠানিক নথি কোথায়? যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন যে ইরানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, যিনি নিজেকে আলোচনার মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলোর একজন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, হোয়াইট হাউস কিংবা ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে চুক্তির প্রকৃত কাঠামো, বাস্তবায়ন পদ্ধতি কিংবা আইনি বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। জেনেভায় স্বাক্ষরের সম্ভাবনা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়েছেন, সম্ভাব্য স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর উভয় পক্ষের মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে নির্ধারিত তারিখে স্বাক্ষর সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে কূটনৈতিকভাবে ‘চলমান আলোচনা’ হিসেবেই দেখছেন অনেক পর্যবেক্ষক। বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া জাতিসংঘ মহাসচিব এই সমঝোতাকে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বিশেষভাবে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার অগ্রগতি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ফরাসি প্রেসিডেন্ট দ্রুত চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়টিকেও আঞ্চলিক শান্তির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, চূড়ান্ত স্বাক্ষরের আগে যেকোনো উসকানিমূলক বক্তব্য বা সম্ভাব্য নাশকতা পুরো প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের বার্তা অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বলেছেন, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা প্রয়োজন। তারা একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ দূর করতে হবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আশা প্রকাশ করেছেন যে, সম্ভাব্য চুক্তি হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ ও অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করবে এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিরোধ সমাধানে সহায়ক হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রচার বনাম বাস্তবতা ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং কয়েকটি দেশীয় সংবাদমাধ্যম চুক্তিটিকে ‘ইরানের বিজয়’ হিসেবে উপস্থাপন করছে। তাদের দাবি, দীর্ঘ কূটনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় আসতে বাধ্য হয়েছে। তবে এসব প্রতিবেদনে কোনো স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র, আনুষ্ঠানিক যৌথ বিবৃতি বা আন্তর্জাতিকভাবে যাচাইকৃত নথি প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া ইরান সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা এখনো সরাসরি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেননি। কী বলছেন বিশ্লেষকরা? আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—দাবি ও বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করা। তাদের মতে, সম্ভাব্য চুক্তি কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর, চুক্তির শর্ত প্রকাশ এবং বাস্তবায়ন কাঠামো নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা অধিক যুক্তিযুক্ত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য এই সমঝোতা নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ঘটনা। তবে এখনো পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের বড় অংশই রাজনৈতিক বক্তব্য, কূটনৈতিক ইঙ্গিত এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবির ওপর নির্ভরশীল। ফলে প্রকৃতপক্ষে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে কি না, নাকি আলোচনা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে—সেই প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর পাওয়া যাবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, চুক্তির লিখিত নথি এবং আন্তর্জাতিক যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে লেবানন, ইরান ও ইসরায়েলকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ। একদিকে দক্ষিণ লেবাননে প্রাণঘাতী ইসরাইলি হামলা, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল ইস্যুতে ইরানের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন নিষেধাজ্ঞা—সব মিলিয়ে অঞ্চলটি আবারও সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। দক্ষিণ লেবাননে প্রাণহানি লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নাবাতিয়েহ গভর্নরেটের জেফতা শহরে ভোররাতে চালানো ইসরাইলি হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন সিরীয় শিশু ও একজন নারী রয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত আটজন। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে আহতদের চিকিৎসা চলছে। হামলার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ লেবাননে ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা সীমান্তজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে, যা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইইউর নজিরবিহীন পদক্ষেপ এদিকে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে শান্তি আলোচনা ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির জটিল চক্রে আটকে আছে এবং হরমুজে ইরানি ড্রোন কার্যক্রম সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইইউ জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সম্পদ জব্দ এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নৌ শাখার মুখপাত্র মোহাম্মদ আকবরজাদেহ এবং ইরানের তেল রপ্তানি খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি হামিদ হোসেইনির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ইইউর নতুন ‘নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা’ নীতির প্রথম বাস্তব প্রয়োগ, যা ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত বহন করছে। যুদ্ধ নয়, আলোচনার পথও খোলা রাখতে চায় তেহরান সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকবে। তার ভাষায়, “কূটনীতি এবং প্রতিরক্ষা জাতীয় শক্তির দুটি ডানা। আমরা যুদ্ধক্ষেত্র কিংবা আলোচনার টেবিল—কোনোটিই ত্যাগ করিনি।” তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কোনো ধরনের চাপ বা হুমকির মুখে তেহরান পিছু হটবে না। যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করছে ইরান সংঘাতের নতুন পর্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি দায়ী করছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেন, ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপকে ওয়াশিংটনের নীতি থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব সমন্বয় ও সহযোগিতা ছাড়া ইসরাইল এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই বলে আসছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার পথ খুঁজছে। বৈরুতে আরও বড় হামলার প্রস্তাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের সাম্প্রতিক বক্তব্য। নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি নাকি প্রস্তাব দিয়েছেন, ইরান থেকে ছোড়া প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়েহ এলাকায় ২০ থেকে ৩০টি ভবনে হামলা চালানো উচিত। দাহিয়েহকে হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্মোট্রিচের মতে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর পরিবর্তে লেবাননে হিজবুল্লাহর সক্ষমতা দুর্বল করা কৌশলগতভাবে বেশি কার্যকর হবে। তবে মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, এমন নীতি বাস্তবায়িত হলে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়বে এবং পুরো অঞ্চল আরও গভীর সংকটে নিমজ্জিত হতে পারে। বড় প্রশ্ন: যুদ্ধ নাকি কূটনীতি? বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে প্রতিটি সামরিক পদক্ষেপ নতুন পাল্টা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিচ্ছে। লেবাননে হামলা, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ইসরাইলের অভ্যন্তরে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের আহ্বান—সবকিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে উত্তেজনা কেবল দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে কূটনৈতিক উদ্যোগ কার্যকর না হলে মধ্যপ্রাচ্য আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের দিকে এগিয়ে যেতে পারে, যার প্রভাব জ্বালানি বাজার থেকে শুরু করে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও পড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির অনুসন্ধানী ইউনিট ‘বিবিসি ভেরিফাই’-এর এক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অন্তত ২০টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে লেবানন ও ইসরাইলকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ শান্তি আলোচনা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। স্যাটেলাইট ছবি, ভিডিও ফুটেজ এবং উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে বিবিসি ভেরিফাইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ইরাক, জর্ডান, বাহরাইন ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। কোথায় কী ধরনের ক্ষতি? বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল রুওয়াইস ও আল সাদাদ বিমানঘাঁটি এবং জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে মার্কিন নজরদারি বিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার বিমানের অবস্থানস্থলেও ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি ও ক্যাম্প আরিফজান এলাকায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ শনাক্ত করা হয়েছে। কয়েকটি স্থানে জ্বালানি সংরক্ষণ বাঙ্কার, হ্যাঙ্গার এবং আবাসিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের দাবি। তবে এসব দাবির বিপরীতে হোয়াইট হাউস দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের সামরিক সক্ষমতাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মার্কিন বাহিনীর কার্যক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি। কূটনৈতিক যোগাযোগে বিরতি সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও নতুন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, ইসরাইলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান এবং লেবাননের পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ শান্তি আলোচনা স্থগিত করেছে তেহরান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যে যোগাযোগ চলছিল, তা আপাতত বন্ধ রাখা হবে। ইরানের অভিযোগ, গাজা ও লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় আলোচনার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। তেহরানের অবস্থান হলো—লেবাননে হামলা বন্ধ হওয়া যেকোনো আঞ্চলিক সমঝোতার মৌলিক শর্ত। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় খসড়া চুক্তি ও বার্তা বিনিময় কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে। তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ইরানের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ডেলিভারির ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারের বেশি পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯২ ডলারের ওপরে ওঠে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে নতুন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। কুয়েতে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি উত্তেজনার মধ্যেই কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তাদের দাবি, দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস অঞ্চলে মার্কিন হামলার জবাবে স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামলায় চার মার্কিন সেনা এবং তিনজন বেসামরিক ঠিকাদার আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে প্রতিহত করেছে এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী সিরিক দ্বীপে মার্কিন হামলার জবাবেও পাল্টা আঘাত হানার দাবি করেছিল তেহরান। লেবাননকে ঘিরে নতুন উত্তেজনা ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য লেবাননে কার্যকর যুদ্ধবিরতি অপরিহার্য। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, সংঘাত বন্ধ না হলে কূটনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইসরাইলবিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলনে হিজবুল্লাহকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে তেহরান। অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৈরুতের উপকণ্ঠে নতুন করে বিমান হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে ইসরাইলি বাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বোফোর্ট দুর্গ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করে। নেতানিয়াহু বলেছেন, হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে সামরিক অভিযান আরও সম্প্রসারণ করা হবে। আঞ্চলিক সংঘাত কি আরও বিস্তৃত হচ্ছে? সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আর কেবল গাজা বা লেবাননে সীমাবদ্ধ নেই। সামরিক হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর আঘাত, কূটনৈতিক আলোচনা স্থগিত হওয়া এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা—সব মিলিয়ে অঞ্চলটি আরও বিস্তৃত সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে হিজবুল্লাহকে ঘিরে ইরানের অবস্থান এবং ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের সরাসরি মুখোমুখি অবস্থানে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইরাকের উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বিমান ও স্থল—দুই ধরনের সমন্বিত হামলা নিয়ে পরিচালিত এই অভিযানকে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রোববার (৩১ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসির স্থল বাহিনী অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে অভিযানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু, হামলার স্থান কিংবা কোন কোন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে—সেসব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ পর্যন্ত অভিযান থেকে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, সে সম্পর্কেও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ফলে অভিযানের প্রকৃত ব্যাপ্তি এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি এখনও স্পষ্ট নয়। সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের পার্বত্য সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ইরান-বিরোধী সশস্ত্র ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর উপস্থিতি রয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, এসব গোষ্ঠী সীমান্তবর্তী এলাকাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে ইরানের ভেতরে নিরাপত্তা অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা দেশটির জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্তঘেঁষা এলাকায় সংঘর্ষ, অনুপ্রবেশ এবং সশস্ত্র তৎপরতা বৃদ্ধির অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই অভিযান? আইআরজিসির সর্বশেষ এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পরিচালিত সশস্ত্র কার্যক্রম তার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, এই অভিযান শুধু সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা দুর্বল করার প্রচেষ্টা নয়; একই সঙ্গে এটি একটি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে। এর মাধ্যমে তেহরান দেখাতে চাইছে যে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে যেকোনো নিরাপত্তা ঝুঁকির বিরুদ্ধে তারা প্রয়োজন হলে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। আঞ্চলিক প্রভাবের প্রশ্ন অভিযানটি ইরান-ইরাক সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। যদিও অভিযানের বিস্তারিত তথ্য এখনও সীমিত, তবু এটি স্পষ্ট যে সীমান্তবর্তী কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ও সশস্ত্র তৎপরতা নিয়ে তেহরানের উদ্বেগ আগের মতোই বহাল রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, অভিযানের পরবর্তী ধাপ, সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া এবং ইরাকের অবস্থান—এসব বিষয় আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরাসরি সামরিকভাবে জড়িত ছিল বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। পত্রিকাটির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের শুরু থেকেই আবুধাবি কেবল কূটনৈতিক বা গোয়েন্দা সহায়তা দেয়নি; বরং ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক বিমান হামলায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। শুক্রবার (৩০ মে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পাশাপাশি ইউএই কার্যত এই সামরিক অভিযানের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে। এমনকি গত এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও আমিরাতের সামরিক তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কোন কোন স্থাপনায় হামলার দাবি? প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সরবরাহ করা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হামলাগুলো সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়েছিল। লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও জ্বালানি অবকাঠামোকে। এর মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালির কিশমি ও আবু মুসা দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, লাভান দ্বীপের তেল শোধনাগার এবং আসালুয়েহ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স। বিশেষ করে আসালুয়েহ কমপ্লেক্সে কথিত যৌথ হামলাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ঘটনার পর ওয়াশিংটন ইসরাইলকে ইরানের জ্বালানি খাতে হামলা সীমিত রাখার আহ্বান জানাতে বাধ্য হয়। প্রকাশ্য অবস্থান ও গোপন বাস্তবতা? সংঘাত শুরুর আগে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিল যে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তারা নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আবুধাবি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সরাসরি অভিযানে অংশ নেয়। এই অভিযোগ সত্য হলে তা উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামো এবং আঞ্চলিক কূটনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। ইরানের পাল্টা হামলা ও আঞ্চলিক ঝুঁকি প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইউএইর ভূমিকার প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন শহর, বিমানবন্দর এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। সংবাদমাধ্যমটির দাবি অনুযায়ী, পুরো সংঘাতের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ২ হাজার ৮০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখোমুখি হয়। যদিও এসব সংখ্যার বিষয়ে স্বাধীন আন্তর্জাতিক সূত্রের যাচাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সৌদি-আমিরাত সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন? প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউএইর এই ভূমিকা উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যকার নীতিগত বিভাজনও সামনে নিয়ে এসেছে। গত এপ্রিলের শুরুতে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গোপনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলে দাবি করা হয়েছে। রিয়াদের আশঙ্কা ছিল, আমিরাতের সামরিক পদক্ষেপের কারণে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা পুরো অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি নেতৃত্ব ওয়াশিংটনকে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোতে এবং আবুধাবির ওপর চাপ প্রয়োগ করতে অনুরোধ জানায়। একই সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত সামরিক অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন ইউএইর প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ। অর্থনীতিতে যুদ্ধের প্রভাব ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সংঘাতের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতিও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়া, পর্যটন খাতে রাজস্ব হ্রাস এবং আবাসন বাজারে স্থবিরতার কারণে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক খাতগুলো ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বাধ্যতামূলক ছুটি এবং জনবল ছাঁটাইয়ের পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া এপ্রিলের শেষ নাগাদ দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য হারিয়ে যায় এবং প্রায় ১৮ হাজার ৪০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিবেদন? মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কিন্তু ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশগ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বরং উপসাগরীয় জোটরাজনীতি, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য কৌশল নিয়েও নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এই দাবিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং স্বাধীন যাচাই এখনো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে দ্রুত বদলে যাচ্ছে শক্তির ভারসাম্য। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কৌশলগত মিত্র সৌদি আরব স্পষ্ট করে দিয়েছে—স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না রিয়াদ। ফিলিস্তিন প্রশ্নে সৌদি আরব তাদের পুরোনো অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেনি। বরং চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতা, ইরান ইস্যু এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমে যাওয়ার বাস্তবতায় রিয়াদ এখন আরও সতর্ক ও কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্পের আহ্বান, সৌদির ‘না’ সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা প্রশমিত হয়ে একটি বৃহৎ সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হলে মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি মুসলিম দেশ আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিতে পারে। তবে সেই বক্তব্যের পরপরই সৌদি আরবের অবস্থান নতুন করে আলোচনায় আসে। কারণ, ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘদিনের অন্যতম কূটনৈতিক লক্ষ্য ছিল সৌদি আরবকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে আনা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বরে এক বৈঠকে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। জবাবে সৌদি যুবরাজ স্পষ্ট ভাষায় জানান, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য অগ্রগতি ছাড়া রিয়াদ কোনো চুক্তিতে যাবে না। সৌদি যুবরাজ ওই আলোচনাকে “গঠনমূলক” বলে উল্লেখ করলেও তিনি পরিষ্কার করেন, দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের রূপরেখা ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রশ্নই আসে না। পাকিস্তানের কড়া অবস্থান সৌদি আরবের পাশাপাশি পাকিস্তানও ট্রাম্পের উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সামা টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, মুসলিম-প্রধান দেশগুলোকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যুক্ত করার মার্কিন প্রচেষ্টা পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমান্ত অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইসলামাবাদ কখনোই ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না। পাকিস্তান স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। এমনকি পাকিস্তানি পাসপোর্ট ব্যবহার করে ইসরায়েল ভ্রমণও আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। ইরান যুদ্ধ বদলে দিয়েছে হিসাব আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাত ও তার অর্থনৈতিক-নিরাপত্তাগত প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে নতুন বাস্তবতায় ঠেলে দিয়েছে। যুদ্ধের ধাক্কায় উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো বুঝতে পেরেছে, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে প্রস্তুত নয়। বরং সংকটকালে ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকার ইসরায়েলকেই রক্ষা করা। লন্ডনের কিংস কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিয়েগ বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল বিনিয়োগ করলেও ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় ওয়াশিংটনের আচরণ তাদের হতবাক করেছে। তার ভাষায়, “আমরা সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের শেষ সময় দেখছি। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের ওপর উপসাগরীয় দেশগুলোর আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।” নতুন শান্তি উদ্যোগে মুসলিম বিশ্বের ঐক্য তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও নতুন সমঝোতার রূপরেখা তৈরিতে পাকিস্তান ও কাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। গত সপ্তাহে পাকিস্তান, সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান ও বাহরাইনের নেতারা ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার আহ্বান জানান। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো—মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো প্রথমবারের মতো সমন্বিতভাবে ইসরায়েলের কঠোর অবস্থানের বাইরে গিয়ে একটি আঞ্চলিক শান্তি কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছে। টাইমস অব ইসরায়েল–এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়, “ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার হিসেবে ইরান যুদ্ধ শুরু করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাইডলাইনে বসে যুদ্ধের সমাপ্তি দেখছে।” আব্রাহাম অ্যাকর্ডস এখন চাপের মুখে ২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইনসহ কয়েকটি আরব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে। এই উদ্যোগই ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ নামে পরিচিত। তবে বর্তমান বাস্তবতায় নতুন কোনো মুসলিম রাষ্ট্রের এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে পড়ছে। সূত্র বলছে, সম্প্রতি ট্রাম্প যখন আরও দেশকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান, তখন অংশগ্রহণকারী নেতাদের অনেকেই নীরব থাকেন। বিশ্লেষকদের মতে, গাজা সংকট, ইরান যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা অনিশ্চয়তার কারণে এখন আরব বিশ্বে ফিলিস্তিন প্রশ্নকে পাশ কাটিয়ে কোনো কূটনৈতিক সমীকরণ দাঁড় করানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ‘মুসলিম ন্যাটো’ বনাম নতুন জোট রাজনীতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনের আলোচনা ইতোমধ্যে কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। সৌদি আরব ও পাকিস্তানকে কেন্দ্র করে একটি নতুন নিরাপত্তা বলয় তৈরির আলোচনা চলছে, যেখানে তুরস্ক, কাতার ও মিসরকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ একে “মুসলিম ন্যাটো” হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে গড়ে উঠছে আরেকটি কৌশলগত জোট, যা ‘I2U2’ নামে পরিচিত। লন্ডনের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ সহযোগী ফেলো এইচ এ হেলিয়ার মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন বুঝতে পারছে—তেহরানে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা পুরো অঞ্চলকে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তার মতে, “উপসাগরীয় দেশগুলো এখন এমন এক বাস্তবতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে সবচেয়ে প্রয়োজনের সময় যুক্তরাষ্ট্র হয়তো তাদের পাশে নাও থাকতে পারে।” বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রশ্ন নয়; বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক শক্তিগুলো নিজেদের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। তবে একটি বিষয় এখনো অপরিবর্তিত—ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের অবস্থান। আর এই অবস্থানই আগামী দিনের মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক ঘিরে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে আলোচনার টেবিলে শান্তির ইঙ্গিত মিললেও, একইসঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি জোরদার করছে তেহরান। ফলে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে তৈরি হয়েছে দ্বৈত বাস্তবতা—একদিকে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা, অন্যদিকে আরও ভয়াবহ সংঘাতের হুঁশিয়ারি। ইরানের সংবাদমাধ্যম ‘তাসনিম নিউজ’ জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তবে আলোচনা ভেস্তে গেলে সম্ভাব্য সামরিক পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুত রয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা আগেই বলেছিলেন, “ট্রিগারে হাত রেখেই” তারা আলোচনায় বসেছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও “জায়নবাদী শাসন” ইসরাইলের অতীত ভূমিকা এবং বর্তমান সামরিক অবস্থান বিবেচনায় রেখে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রয়েছে। তাসনিমকে দেওয়া এক সামরিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও “ভুল হিসাব” করে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসন বা “অপরাধমূলক পদক্ষেপ” নেয়, তাহলে তারা “ইরানের তৃতীয় ধাপের মোকাবিলা”র মুখে পড়বে। সূত্রটি দাবি করেছে, এই নতুন সামরিক কৌশল আগের দুই দফা সংঘাত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হবে। লক্ষ্য নির্বাচন, সামরিক পদ্ধতি, প্রযুক্তি এবং ব্যবহৃত সরঞ্জাম—সব ক্ষেত্রেই ভিন্ন মাত্রার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের। যুদ্ধবিরতির খসড়ায় কী থাকছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ জানিয়েছে, আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য চুক্তিতে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর অতিরিক্ত কোনো টোল আরোপ করা হবে না। এছাড়া ওই অঞ্চলে স্থাপন করা নৌ-মাইন সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও ইরান নিতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইঙ্গিত আলোচনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কিছু বন্দর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া এবং দেশটির তেল খাতে আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ও বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা ইরানের বৈদেশিক তহবিল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ কমানোর বিনিময়ে ইরানের কাছ থেকে কৌশলগত ছাড় আদায়ের চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন সমীকরণ সমঝোতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উঠে এসেছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা না করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। একইসঙ্গে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রস্তাবনায় ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। যদিও তেহরান অতীতে বারবার দাবি করেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের বার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে ওয়াশিংটন। একই ধরনের ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগরেহিও দুই দেশের অবস্থান আগের তুলনায় “অনেক কাছাকাছি” এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত কার হাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো চুক্তি সর্বোচ্চ নেতাআলী খামেনি-এর অনুমতি ছাড়া চূড়ান্ত হবে না। তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “দেশে কোনো সিদ্ধান্ত সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোর বাইরে এবং সর্বোচ্চ নেতার অনুমতি ছাড়া নেওয়া হবে না।” তিনি আরও বলেন, সমাজে বিভাজন তৈরি করে এমন যেকোনো বক্তব্য কার্যত “শত্রুর অবস্থানকে শক্তিশালী করে।” বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য ইরানের ক্ষমতা কাঠামোয় সর্বোচ্চ নেতার চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। যুদ্ধ থামলেও উত্তেজনা কি থামবে? সম্ভাব্য সমঝোতা কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা সাময়িকভাবে কমতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি খুলে গেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি ইরানের ধারাবাহিক সামরিক হুঁশিয়ারি স্পষ্ট করছে, অবিশ্বাস এখনো পুরোপুরি কাটেনি। চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পুরো সময়জুড়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকতে পারে। যদিও দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা কার্যকর হলে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের ভাষায়, এই আলোচনা কেবল যুদ্ধ থামানোর প্রচেষ্টা নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণেরও একটি বড় পরীক্ষা।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান ব্রডকাস্টিং(আইআরআইবি)। সোমবার নিজেদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরআইবি দাবি করে, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবটি ছিল মূলত “ট্রাম্পের লোভের কাছে ইরানের নতি স্বীকার” করানোর প্রচেষ্টা। প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানের পক্ষ থেকে পাঠানো পাল্টা জবাবে “ইরানি জাতির মৌলিক অধিকার” রক্ষার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আইআরআইবি আরও জানায়, ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণহরমুজ প্রণালী–এর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তেহরান দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা ইরানি অর্থ ও সম্পদ মুক্ত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও উভয় পক্ষের অবস্থান এখনো স্পষ্টভাবে বিপরীতমুখী রয়ে গেছে।
ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় দুর্গম মরুভূমিতে ইসরায়েলের একটি গোপন সামরিক ঘাঁটির অস্তিত্বের দাবি সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal–এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বিমান হামলা ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার সহায়ক কেন্দ্র হিসেবে এই ঘাঁটি ব্যবহার করা হতো। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ মাসের শুরুতে এক ইরাকি মেষপালক মরুভূমির নির্জন এলাকায় অস্বাভাবিক হেলিকপ্টার চলাচল এবং সন্দেহজনক সামরিক তৎপরতা লক্ষ্য করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইরাকি বাহিনী সেখানে তল্লাশি অভিযান চালায়। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই এলাকায় অবস্থানরত ইসরায়েলি কমান্ডোদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত একজন ইরাকি সেনা নিহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সময় বাগদাদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে জাতিসংঘে অভিযোগ জানায়। তবে নতুন এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার নেপথ্যে ছিল ইসরায়েলের বিশেষ সামরিক অভিযান। সূত্রগুলোর বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মরুভূমির ওই ঘাঁটিটি মূলত একটি “লজিস্টিক হাব” হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেখানে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দলও মোতায়েন ছিল। বিশেষ করে ইরানের ভেতরে অভিযানের সময় কোনো ইসরায়েলি পাইলট বিপদে পড়লে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য এই ঘাঁটির ব্যবহার করা হতো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ জ্ঞাতসারেই এই স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরাক ও ইসরায়েল—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ইরাকের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা প্রতিবেদনের সত্যতা অস্বীকার করেছেন। তবে মেষপালকের দেওয়া তথ্য, পরবর্তী সামরিক অভিযান এবং বিমান হামলার ঘটনাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধের ইঙ্গিত মিলছে। এখন চূড়ান্ত সমঝোতার দর–কষাকষিতে রয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ইরানের ইউরেনিয়াম। সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান তার সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করবে। তার বিনিময়ে ইরানের জব্দ করা দুই হাজার কোটি ডলার ফেরত দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এমন চুক্তিই হচ্ছে বলে দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও আলোচনার বিষয়ে অবগত আরও দুটি সূত্র জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের দর-কষাকষিতে পৌঁছেছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এবং যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করা বিপুল অঙ্কের অর্থ ফেরত দেওয়া। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করতে পারে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার ফেরত দিতে পারে—যদিও বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার অগ্রগতি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতে এপ্রিলের শুরু থেকে একটি অনানুষ্ঠানিক বিরতি চলছে। এরপর থেকে বিভিন্ন টানাপোড়েন সত্ত্বেও চলতি সপ্তাহে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চূড়ান্ত আলোচনার জন্য খুব শিগগিরই দ্বিতীয় দফার বৈঠক হতে পারে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই বৈঠক পাকিস্তানের ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্ক মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে। ইউরেনিয়াম নিয়ে মূল বিরোধ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত। বিশেষ করে প্রায় ২০০০ কেজি ইউরেনিয়াম, যার মধ্যে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪৫০ কেজি রয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় ওয়াশিংটন। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল ইরান তার সব পারমাণবিক উপাদান যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিক। তবে ইরান এতে সম্মত নয়। বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে এখন আলোচনা চলছে—উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়ামের একটি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো এবং বাকি অংশ আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে ইরানের ভেতরেই কম সমৃদ্ধ করা। অর্থ ফেরত ও শর্ত নিয়ে টানাপোড়েন আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করা ইরানের অর্থ ফেরত দেওয়া। শুরুতে খাদ্য ও ওষুধ কেনার জন্য ৬০০ কোটি ডলার ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হলেও ইরান দাবি করে ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। বর্তমানে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের একটি মধ্যবর্তী অঙ্ক নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, “কোনো অর্থ লেনদেন হবে না”—যা আলোচনার অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। সমঝোতার খসড়া ও সময়সীমা খসড়া সমঝোতা স্মারকে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ২০ বছরের স্থগিতাদেশ চাইলে ইরান ৫ বছরের প্রস্তাব দেয়। এখন এই ব্যবধান কমানোর চেষ্টা চলছে। সম্ভাব্য চুক্তি হলে ৩০ দিনের একটি পর্যবেক্ষণকাল শুরু হবে। এই সময়ে পারমাণবিক কার্যক্রম, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অর্থ ফেরত এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। হুমকি, সতর্কবার্তা ও কূটনৈতিক চাপ চুক্তি না হলে আবার সামরিক অভিযান শুরুর হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, “সমঝোতা না হলে বোমাবর্ষণ আরও তীব্র হবে।” অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরানি এমপি ইব্রাহিম রেজাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ করে যা অর্জন করতে পারেনি, আলোচনার মাধ্যমেও তা পাবে না। এছাড়া পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও গণমাধ্যমের চাপ ব্যবহার করে ইরানের ভেতরে বিভক্তি তৈরির চেষ্টা করছে। বৈশ্বিক বাজারে প্রতিক্রিয়া সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিতে আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০, ডাও ও নাসডাক সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তেলের বাজারে অস্থিরতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি এবং স্থায়ী শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।