ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরান যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টা আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা ও হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। এর পরপরই মি. ভ্যান্স ও উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তারা নিজের দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন। এটি ছিল একটি সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলন যেখানে অল্প কয়েকজন সাংবাদিকই প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া মি. ভ্যান্সের মূল বক্তব্য নিচে দেওয়া হলো: ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার শান্তি আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ বন্ধে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। ভ্যান্স বলেন, "আমরা ইরানিদের সাথে বেশ কিছু গঠনমূলক আলোচনা করেছি, এটা সুসংবাদ। তবে দুঃসংবাদ হলো যে, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আমি মনে করি এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি খারাপ খবর।" তিনি আরও বলেন, "আমরা এমন কোনো পরিস্থিতিতে পৌঁছাতে পারিনি যেখানে ইরানিরা আমাদের শর্তগুলো মেনে নেবে।" পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মি. ভ্যান্স। তিনি বলেন, আলোচনার ক্ষেত্রে 'যে ঘাটতি-ই' থাকুক না কেন, 'তা পাকিস্তানিদের কারণে হয়নি, তারা অসাধারণ কাজ করেছেন'। ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে মি. ভ্যান্স জবাব দেন যে, ইরানকে বর্তমান এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের "মূল লক্ষ্য"। তিনি আরও জানান যে, মি. ট্রাম্প এ আলোচনার সাথে যুক্ত ছিলেন এবং আলোচনার সময় তিনি প্রেসিডেন্টের সাথে অন্তত 'আধা ডজন' থেকে 'ডজনখানেক'বার কথা বলেছেন। বক্তব্য শেষ করার আগে মি. ভ্যান্স যোগ করেন, "আমরা এখান থেকে একটি অত্যন্ত সহজ প্রস্তাব নিয়ে যাচ্ছি - একটি সমঝোতার পথ যা আমাদের চূড়ান্ত এবং সেরা অফার। এখন দেখা যাক ইরানিরা এটি গ্রহণ করে কি-না।" যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা দুই পক্ষের জন্য 'অপরিহার্য': পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তি আলোচনা শেষ হওয়ার পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে তিনি উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। ইসহাক দার বিবৃতিতে বলেছেন, "(যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান) পক্ষগুলোর জন্য যুদ্ধবিরতির প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা অপরিহার্য।" এক্স-এ প্রকাশিত ওই পোস্টে বলা হয়েছে, "আমরা আশা করি যে, উভয় পক্ষ ওই সমগ্র অঞ্চল এবং এর বাইরেও টেকসই শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবে।" পোস্টটির শেষে পাকিস্তান জানিয়েছে, "সামনের দিনগুলোতে" তারা দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ সহজতর করতে ভূমিকা পালন করে যাবে। ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়া নিয়ে ইরানের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, শান্তি আলোচনায় সব বিষয়ে তাদের মতানৈক্য হয়নি, অনেকগুলো বিষয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একমতও হয়েছিলেন।। 'ইরান নিউজ নেটওয়ার্ক'কে দেয়া সাক্ষাৎকারে মি. বাঘাই বলেছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মোট ২৪ থেকে ২৫টি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। "কিছু ক্ষেত্রে আমরা মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাথে সমঝোতায় পৌঁছেছিলাম, তবে দুই বা তিনটি ক্ষেত্রে মতপার্থক্য ছিল এবং সেখানে আমরা কোনো সমেঝাতায় পৌঁছাতে সক্ষম হইনি।" তবে, ঠিক কোন বিষয়গুলোতে মতানৈক্য হয়েছিল, সেটি স্পষ্ট করে বলেননি তিনি। তিনি কেবল বলেছেন, হরমুজ প্রণালি এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির মতো নতুন বিষয়গুলো যুক্ত হওয়ায় আলোচনা আরও জটিল হয়ে পড়ে। এদিকে, এর আগে আরেক সাক্ষাৎকারে ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যে দ্রুতই একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে, তা কখনোই প্রত্যাশিত ছিল না। ইরানের রাষ্ট্রীয় স্টুডেন্ট নিউজ নেটওয়ার্ককে তিনি বলেন: "শুরু থেকেই আমাদের এটা আশা করা উচিৎ ছিল না যে আমরা একটিমাত্র বৈঠকেই কোন চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব। আমার মনে হয় না কারোই এমন কোনো প্রত্যাশা ছিল।" তিনি বলেছেন, ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা 'চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের' পর এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার দুইদিনের মধ্যেই একটি শান্তি আলোচনা হয়েছে, যা 'অবিশ্বাস, সন্দেহ ও সংশয়ে ভরা' এক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে, শান্তি আলোচনা বা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেল কী-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "কূটনীতি কখনও শেষ হয় না"। মি. বাঘাই এর আগে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত 'অতিরিক্ত দাবি' করা থেকে বিরত থাকা। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দুই বা তিনটি ক্ষেত্রে মতপার্থক্য ছিল: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়া নিয়ে ইরানের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, শান্তি আলোচনায় সব বিষয়ে তাদের মতানৈক্য হয়নি, অনেকগুলো বিষয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একমতও হয়েছিলেন।। 'ইরান নিউজ নেটওয়ার্ক'কে দেয়া সাক্ষাৎকারে মি. বাঘাই বলেছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মোট ২৪ থেকে ২৫টি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। "কিছু ক্ষেত্রে আমরা মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাথে সমঝোতায় পৌঁছেছিলাম, তবে দুই বা তিনটি ক্ষেত্রে মতপার্থক্য ছিল এবং সেখানে আমরা কোনো সমেঝাতায় পৌঁছাতে সক্ষম হইনি।" তবে, ঠিক কোন বিষয়গুলোতে মতানৈক্য হয়েছিল, সেটি স্পষ্ট করে বলেননি তিনি। তিনি কেবল বলেছেন, হরমুজ প্রণালি এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির মতো নতুন বিষয়গুলো যুক্ত হওয়ায় আলোচনা আরও জটিল হয়ে পড়ে। এদিকে, এর আগে আরেক সাক্ষাৎকারে ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যে দ্রুতই একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে, তা কখনোই প্রত্যাশিত ছিল না। ইরানের রাষ্ট্রীয় স্টুডেন্ট নিউজ নেটওয়ার্ককে তিনি বলেন: "শুরু থেকেই আমাদের এটা আশা করা উচিৎ ছিল না যে আমরা একটিমাত্র বৈঠকেই কোন চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব। আমার মনে হয় না কারোই এমন কোনো প্রত্যাশা ছিল।" তিনি বলেছেন, ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা 'চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের' পর এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার দুইদিনের মধ্যেই একটি শান্তি আলোচনা হয়েছে, যা 'অবিশ্বাস, সন্দেহ ও সংশয়ে ভরা' এক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে, শান্তি আলোচনা বা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেল কী-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "কূটনীতি কখনও শেষ হয় না"। মি. বাঘাই এর আগে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত 'অতিরিক্ত দাবি' করা থেকে বিরত থাকা। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র্রের সাথে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর সকালেই ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওয়ানা হন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যঅন্স এবং কর্মকর্তারা। ইসলামাবাদে আলোচনা ব্যর্থ - এখন কী হবে? যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান উভয় পক্ষই এ আলোচনায় অংশ নিয়েছিল যুদ্ধে তারা জয়ী হয়েছে - এমন দাবি নিয়ে, তাই এত অল্প সময়ে কোনো একটি চুক্তিতে পৌঁছানো স্বাভাবিক বিচারেই কঠিন ছিল। আর এখন মনে হচ্ছে এটি আসলে অসম্ভবই ছিল। দেখা যাচ্ছে ব্যর্থতার জন্য উভয় পক্ষই পরস্পরকে দায়ী করে ফিরে যাচ্ছে। গত বুধবার যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তা শুরু হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্টের 'অ্যাপোক্যালিপটিক' বা ধ্বংসাত্মক হুমকির মধ্য দিয়ে, যেখানে তিনি ইরানি সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এখন তাহলে কী হবে? যুদ্ধবিরতি কি বহাল থাকবে? বিবিসি সংবাদদাতা জো ইনউড বলছেন, ইরানের ওপর নতুন করে হামলা শুরু হবে কী-না, তা নিয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে হামলার সম্ভাবনা যে নিশ্চিতভাবেই বেড়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। হরমুজ প্রণালি, যে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ যা ইরান আংশিকভাবে কিন্তু কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল, তা আলোচনার মাধ্যমে পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি আপাতত আলোচনার টেবিলের বাইরে রয়ে গেছে। কিন্তু, পারস্য উপসাগরে কয়েকদিন আগে মোতায়েন করা দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো অন্য কোনো পথের কথা ভাবছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না - এমন বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যর্থ হওয়াটাই ছিল আলোচনা সফল হওয়ার পথে প্রধান বাধা। ইরান সবসময়ই দাবি করে এসেছে যে তারা মারণাস্ত্র উৎপাদন করতে চায় না, কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে দুটি যুদ্ধের অভিজ্ঞতা হওয়ায় তাদের দেশে পারমাণবিক অস্ত্রের সমর্থকদের এখন পারমাণবিক শক্তি অর্জনে আরও উৎসাহিত করবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এ সরাসরি আলোচনা ছিল ঐতিহাসিক, কিন্তু এটি হয়তো কূটনীতির একটি ব্যর্থতা হিসেবেই ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ইসলামাবাদ ছেড়েছেন ইরানের কর্মকর্তারা কিছুক্ষণ আগে ইরানি কর্মকর্তারাও ইসলামাবাদ থেকে তেহরানের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন। ইরানের আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানি প্রতিনিধি দলটি ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলটি জেডি ভ্যান্সের ইসলামাবাদ ত্যাগের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সাথে বৈঠক করে। যুদ্ধবিরতি মেনে চলা এবং শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর আহ্বান অস্ট্রেলিয়ার অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে এবং শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিবিসি অ্যারাবিকের খবর বলছে, মিজ ওং বলেছেন, "যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদ আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়া শেষ হওয়াটা হতাশাজনক।" তিনি বলেন যে, "বর্তমান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা।" মিজ ওং সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে মানবিক ক্ষয়ক্ষতি বাড়বে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় ট্রাম্পের সামনে কঠিন পরিস্থিতি - বিশ্লেষণ মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভেঙ্গে যাওয়াকে সুসংবাদ এবং দুঃসংবাদ উভয়ই বলেছেন। বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লিজ ডুসেটের বলছেন, এই আলোচনা সেশন কতক্ষণ ধরে চলেছে, সেটি তাৎপর্যপূর্ণ এবং আশ্চর্যজনক। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে যে কোনো চুক্তি হয়নি, এটা আশ্চর্যজনক নয়। তিনি বিশ্লেষণ করছেন যে, আমেরিকানরা এই ধারণা নিয়ে পাকিস্তানে এসেছিল যে যুদ্ধে ইরান এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে তাদের সাথে দ্রুত আপোষ করা সম্ভব হবে। জেডি ভ্যান্স বললেন, "তারা (ইরান) আমাদের শর্তগুলো মেনে নিতে রাজি হয়নি।" লিজ ডুসেট মনে করেন, ইরানেরও নিজস্ব সীমা রয়েছে, অর্থাৎ যেসব বিষয়ে তারা ছাড় দিতে পারবে না বা দেবে না। তারা শক্তিশালী অবস্থানে আছে - এমন বিশ্বাস নিয়ে দেশটি ইসলামাবাদে আলোচনায় এসেছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সামরিক সক্ষমতার ব্যাপক ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও, দেশটি এখনও যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম এবং ইচ্ছুক। বিশেষ করে কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণের কারণে ইরানের হাতে এখনও যথেষ্ট দর কষাকষির সুযোগ রয়েছে। এক দশক আগে তেহরান ও ওয়াশিংটন শেষবার যখন একটি পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছেছিল, তখন তাতে ১৮ মাস ধরে নানা অগ্রগতি ও অচলাবস্থার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। লিজ ডুসেটের মতে, ট্রাম্প এখন এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হবেন – হয় পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারেন তিনি, অথবা আলোচনায় ফিরে এসে নতুন করে পরিস্থিতিকে মূল্যায়ন করা। যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রতিনিধিদলের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে: ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও তেহরানের প্রতিনিধিদলের প্রধান মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বলেছেন, এখন যুক্তরাষ্ট্রকেই ঠিক করতে হবে তারা ইরানের আস্থা অর্জন করতে চায় কী-না। এক্স (সাবেক টুইটার) এ দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, আলোচনার আগে তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে ইরানের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা রয়েছে। কিন্তু আগের দুই যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কারণে প্রতিপক্ষের ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই। তিনি বলেন, “ইরানের প্রতিনিধিদল কিছু দুরদর্শী পদক্ষেপ উপস্থাপন করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই দফার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রতিনিধিদলের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে”। তিনি আরও বলেন, “আমরা এক মুহূর্তের জন্যও থামব না, এই ৪০ দিনের যুদ্ধে যা অর্জন করেছি, তা ধরে রাখতে ও শক্ত করতে আমরা কাজ চালিয়ে যাব”। তিনি বলেন, এই আলোচনা আয়োজন কঠিন ছিল। যে কারণে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি ইরানকে ধন্যবাদও জানান। হরমুজ প্রণালি পার হতে হলে টোল দিতে হবে, ইরানি ডেপুটি স্পিকারের ঘোষণা পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধি দলের সাথে কয়েক ঘণ্টার বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স হরমুজ প্রণালির বিষয়টি উল্লেখ করেননি। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় এই বিষয়টিও ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি চলছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা। ইরান পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবায়ি দেশটির মেহর নিউজ এজেন্সিকে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি তেহরানের জন্য একটি রেডলাইন। তিনি বলেন, এই প্রণালি পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে এবং সেখান দিয়ে চলাচলের জন্য ইরানি মুদ্রায় টোল প্রদান করতে হবে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালের এক পোস্টে বলেন, হরমুজ প্রণালি শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড শনিবার জানিয়েছে, দুটি নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং সমুদ্রের মাইন অপসারণে কাজ করছে। তবে, সেন্ট্রাল কমান্ডের এই দাবি অস্বীকার করেছে ইরান। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, কোনো সামরিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় ব্রডকাস্টার আইআরআইবি’র বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে এএফপি।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।