Brand logo light

ঈদ

ডিজিটাল সালামি
ঈদ সালামিতে বদলের হাওয়া: নগদ থেকে ডিজিটাল

ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, মিলনমেলা এবং ছোটদের জন্য অধীর অপেক্ষার একটি মুহূর্ত—সালামি পাওয়া। বহুদিন ধরে আমাদের সমাজে ঈদের দিন ছোটরা বড়দের সালাম করে ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে অর্থ বা উপহার পেয়ে থাকে, যা পরিচিত ‘ঈদ সালামি’ বা ‘ঈদিয়া’ নামে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঐতিহ্যবাহী রীতিতেও এসেছে পরিবর্তন। প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে নগদ টাকার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ‘ডিজিটাল সালামি’ দেওয়ার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে।  প্রযুক্তির প্রভাবে বদলে যাচ্ছে সালামি বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। অনেকেই এখন ফেসবুক স্ট্যাটাস, মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সালামি চান। অন্যদিকে বড়রাও বিকাশ, রকেট, নগদ বা উপায়-এর মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে মুহূর্তেই সালামি পাঠিয়ে দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রযুক্তির বিস্তার দূরত্ব কমিয়ে দিয়েছে। আগে প্রবাসে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে সালামি পাওয়া কঠিন ছিল, এখন তা কয়েক সেকেন্ডের বিষয়।  মহামারির পর ডিজিটাল লেনদেনের উত্থান বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের যাত্রা শুরু হয় ২০১০-১১ সালের দিকে। তবে ২০১৫ সালের পর এর ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকে। বিশেষ করে ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময় ডিজিটাল লেনদেন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। সেই সময় থেকেই পারিবারিক আর্থিক লেনদেনেও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের প্রবণতা তৈরি হয়—যার প্রভাব এখন ঈদের সালামিতেও স্পষ্ট। এক শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলেন, “ডিজিটাল সালামি সহজ এবং নিরাপদ। তবে নতুন টাকার যে অনুভূতি ছিল, সেটা এখন আর পাওয়া যায় না।”  নতুন টাকার সংকট, বাড়ছে বিকল্প ঈদ এলেই নতুন নোটের চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু এবার বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন নোট বাজারে ছাড়েনি, ফলে সংকট তৈরি হয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান: ১০ টাকার নতুন নোটের বান্ডিলে অতিরিক্ত প্রায় ৪৫০ টাকা ২০ টাকার বান্ডিলে অতিরিক্ত প্রায় ৬৫০ টাকা ১০০ টাকার বান্ডিলে অতিরিক্ত ৭০০–৮০০ টাকা পর্যন্ত বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নোট ছাপাতে উচ্চ ব্যয় এবং ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হওয়ার নীতিই এর পেছনে কাজ করছে।  সালামি আদায়ে নতুন কৌশল ঈদে সালামি পাওয়ার জন্য তরুণদের মধ্যে নানা কৌশল দেখা যায়। আত্মীয়দের বাড়িতে গিয়ে সালাম ঈদের নামাজ শেষে বড়দের সঙ্গে দেখা দলবদ্ধভাবে সালামি সংগ্রহ অফিস সংস্কৃতিতেও রয়েছে আলাদা রীতি—ছুটির আগে কনিষ্ঠরা অগ্রজদের কাছ থেকে সালামি নেন।  নতুন ট্রেন্ড: ‘সালামি তোড়া’ ঐতিহ্যবাহী সালামির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন ট্রেন্ড—টাকার নোট দিয়ে তৈরি ফুলের তোড়া। অনলাইন উদ্যোক্তারা বলছেন: মেকিং চার্জ: ৩০০ টাকা থেকে ৫,০০০ টাকা নোটের পরিমাণ ও ডিজাইনের উপর নির্ভর করে খরচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এই ট্রেন্ড দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছে এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।  ইতিহাসে ঈদের শিকড় ঈদের দিনে উপহার দেওয়ার প্রথা নতুন নয়। ইতিহাসবিদদের মতে, ‘ঈদিয়া’ প্রথার সূচনা মিসরের ফাতেমীয় আমলে (দশম শতক)। সে সময় শাসকরা: সাধারণ মানুষকে অর্থ ও কাপড় দিতেন শিশুদের উপহার দেওয়া হতো ধীরে ধীরে এটি মুসলিম সমাজে সাংস্কৃতিক রীতিতে পরিণত হয়। ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি আলেমদের মতে, ঈদ সালামি ইসলামে বাধ্যতামূলক নয়, তবে বৈধ। একজন আলেমের ভাষায়: এটি ইবাদত নয়, সামাজিক প্রথা উপহার আদান-প্রদান ভালোবাসা বাড়ায় ছোটদের আনন্দ দেওয়া একটি প্রশংসনীয় কাজ  ঐতিহ্য ও প্রযুক্তির সহাবস্থান বিশ্লেষকদের মতে, সময়ের সঙ্গে রীতির পরিবর্তন স্বাভাবিক। প্রযুক্তি জীবনকে সহজ করেছে, ফলে ঐতিহ্যের প্রকাশভঙ্গিও বদলাচ্ছে। এক সময় নতুন টাকার গন্ধ ছিল সালামির আকর্ষণ। এখন সেই জায়গায় এসেছে ডিজিটাল লেনদেন—তবে মূল চেতনা একই: 👉 ভালোবাসা ভাগাভাগি 👉 সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করা   সময়ের সঙ্গে সালামির ধরন বদলাচ্ছে—নগদ থেকে ডিজিটাল, খাম থেকে মোবাইল অ্যাপ, এমনকি টাকার তোড়া পর্যন্ত। তবে ঈদের আসল সৌন্দর্য এখনও এক জায়গায় অটুট— প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
পরীমণি
পরীমণির ঈদ স্মৃতি: আবেগ, পরিবার আর ভালোবাসার গল্প

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম আলোচিত নাম পরীমণি আবারও আলোচনায়। তবে এবার কোনো সিনেমা বা বিতর্ক নয়, বরং একেবারে ব্যক্তিগত অনুভূতির জায়গা থেকে করা একটি সামাজিকমাধ্যম পোস্ট ঘিরেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তুলে ধরেছেন চাঁদ রাতের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে ঈদের সকালের আবেগঘন মুহূর্ত। পোস্টটি প্রকাশের পরপরই তা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিকমাধ্যমে, সৃষ্টি করে ব্যাপক আলোচনার। চাঁদ রাত: প্রস্তুতি আর প্রতীক্ষা পরীমণির পোস্টে চাঁদ রাত যেন শুধুই একটি ধর্মীয় বা সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এক গভীর আবেগের প্রতীক। তিনি লিখেছেন—ঈদের আগের রাত মানেই ব্যস্ততা, প্রস্তুতি, আনন্দ আর এক ধরনের অদৃশ্য উত্তেজনা। নতুন পোশাক গুছিয়ে রাখা, ঘর পরিষ্কার করা, প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো—সবকিছু মিলিয়ে চাঁদ রাত যেন উৎসবের প্রথম ধাপ। তার বর্ণনায় ফুটে উঠেছে একেবারে ঘরোয়া পরিবেশ—যেখানে তারকা পরিচয়ের বাইরে একজন সাধারণ মানুষের অনুভূতিই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। ঈদের সকাল: আনন্দের নতুন রূপ ঈদের সকাল নিয়ে পরীমণির অভিজ্ঞতা আরও বেশি জীবন্ত। সকালের ব্যস্ততা, নামাজের প্রস্তুতি, অতিথি আপ্যায়ন—সবকিছু মিলিয়ে দিনটি তার কাছে এখন এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এখন ঈদ মানেই শুধু নিজের আনন্দ নয়, বরং অন্যদের খুশি রাখার দায়িত্বও। তার ভাষায়, “ঈদের দিনে বাসায় মেহমান আসে, তাদের আপ্যায়ন করার চেষ্টা করি। আবার কাছের মানুষদের বাসায়ও যাই।” এই অংশটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে, কারণ এতে একজন তারকার ব্যক্তিগত জীবনের বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে।  শৈশবের ঈদ: আনন্দ আর অপূর্ণতার মিশেল পরীমণির পোস্টের সবচেয়ে আবেগঘন অংশটি ছিল তার শৈশবের স্মৃতি নিয়ে। তিনি স্মরণ করেছেন— ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারানোর কষ্ট নানা-নানু ও মামাদের স্নেহে বেড়ে ওঠা ঈদের দিনে সেলামি পাওয়ার আনন্দ বন্ধুদের সঙ্গে দিনভর ঘোরাঘুরি তবে এই আনন্দের মাঝেও একটি শূন্যতা সবসময় অনুভব করতেন তিনি। তার কথায়, “বাবা-মা না থাকার কষ্ট সবসময় অনুভব করতাম।” এই স্বীকারোক্তি সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক সহানুভূতি তৈরি করেছে। বর্তমান জীবন: দর্শকের ভালোবাসাই শক্তি বর্তমান সময়ের ঈদ তার কাছে অনেকটাই বদলে গেছে। তিনি বলেন, এখন দর্শকদের ভালোবাসাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। বিশেষ করে ঈদে যদি তার কোনো সিনেমা মুক্তি পায়, তাহলে আনন্দ আরও বেড়ে যায়। এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট—তার পেশাগত জীবন এবং ব্যক্তিগত অনুভূতি একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।  সামাজিকমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া: ‘রিয়েল লাইফ ঈদের গল্প’ পরীমণির পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিকমাধ্যমে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনার ঝড়। অনেক ব্যবহারকারী তার এই লেখাকে “রিয়েল লাইফ ঈদের গল্প” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। কিছু সাধারণ প্রতিক্রিয়া: “এটা আমাদের সবার গল্প” “তারকারাও যে এত সাধারণভাবে ভাবেন, সেটা ভালো লাগলো” “ঈদের আসল অনুভূতি এখানে পাওয়া যায়” এই প্রতিক্রিয়াগুলো থেকে বোঝা যায়, তার পোস্টটি শুধু বিনোদন নয়—মানুষের আবেগের সঙ্গেও গভীরভাবে সংযুক্ত হয়েছে।  বিশ্লেষণ: কেন ভাইরাল হলো এই পোস্ট? ১. ব্যক্তিগত সত্যতা পরীমণি তার পোস্টে কোনো কৃত্রিমতা রাখেননি। বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং আবেগ সরাসরি প্রকাশ করেছেন। ২. সার্বজনীন অনুভূতি ঈদ সবার জন্যই বিশেষ। তাই তার অভিজ্ঞতা সহজেই মানুষের সঙ্গে মিলে গেছে। ৩. তারকা পরিচয়ের বাইরে মানবিক দিক একজন গ্ল্যামারাস অভিনেত্রীর পরিবর্তে একজন সাধারণ মানুষের গল্প উঠে এসেছে। ৪. নস্টালজিয়া ফ্যাক্টর শৈশবের স্মৃতি সবসময়ই মানুষের মনে দাগ কাটে।  বিনোদন জগতে এর প্রভাব বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে তারকারা এখন শুধুমাত্র সিনেমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিকমাধ্যমের মাধ্যমে তারা সরাসরি দর্শকদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। পরীমণির এই পোস্ট সেই প্রবণতার একটি শক্ত উদাহরণ, যেখানে— ব্যক্তিগত জীবন পেশাগত পরিচয় সামাজিক যোগাযোগ সবকিছু একসঙ্গে কাজ করছে।   পরীমণির এই পোস্ট শুধুমাত্র একটি ফেসবুক আপডেট নয়, বরং এটি এক ধরনের সামাজিক প্রতিচ্ছবি।এখানে যেমন রয়েছে একজন তারকার ব্যক্তিগত জীবন, তেমনি রয়েছে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার সংযোগ।ঈদ, পরিবার, ভালোবাসা এবং শৈশবের স্মৃতি—সব মিলিয়ে এই পোস্টটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য আবেগঘন দলিল।আর সেই কারণেই এটি এখন শুধু ভাইরাল নয়, বরং অনেকের কাছে হয়ে উঠেছে নিজের জীবনের প্রতিফলন।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
মোমেনশাহী এতিমখানা
বাবা নেই, মা রেখে গেছেন মোমেনশাহী এতিমখানায়

বিশেষ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহ শহরের ব্যস্ততার মাঝেই নীরবে দাঁড়িয়ে আছে একটি ভবন—মোমেনশাহী এতিমখানা। বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ একটি আবাসিক স্থাপনা মনে হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে অসংখ্য অপ্রকাশিত গল্প, যন্ত্রণার স্তর, আর কিছু ক্ষণিকের হাসির ঝলক। ঈদ—যে উৎসব ঘিরে দেশের অধিকাংশ শিশু নতুন জামা, পরিবারের সঙ্গে আনন্দ আর উপহারের অপেক্ষায় থাকে—সেই একই ঈদ এখানে অন্য এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায় শিশুদের। এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ছয় বছর বয়সী জান্নাত, দশ বছরের শ্রাবন্তীসহ ৪৫ জন কন্যাশিশুর জীবনসংগ্রাম, বঞ্চনা এবং তাদের ছোট ছোট আনন্দের গল্প। “ঈদ এলে খুব মনে পড়ে মা-বাবার কথা” ছোট্ট জান্নাত কথা বলছিল ধীর কণ্ঠে, কিন্তু তার প্রতিটি শব্দ যেন ভারী হয়ে উঠছিল। চার বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছে সে। দুই বছর আগে মা দ্বিতীয় বিয়ে করে ঢাকায় চলে যান। এরপর থেকে মা আর ফিরে আসেননি। জান্নাত বলছিল— “এখন কেউ আমার খোঁজ নেয় না। ঈদ এলে খুব বেশি মনে পড়ে মা-বাবার কথা। কিন্তু কী করবো...” তার কথার মাঝেই থেমে যাওয়া, চোখের কোণে জল জমে ওঠা—এসব দৃশ্য যেন অভ্যস্ত হয়ে গেছে এই এতিমখানার দেয়ালগুলো। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতার দীর্ঘ ছায়া বাংলাদেশে এতিম বা ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের সংখ্যা নিয়ে নির্ভুল পরিসংখ্যান না থাকলেও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার তথ্য বলছে—লক্ষাধিক শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বড় হচ্ছে। এই বিচ্ছিন্নতার কারণগুলো নানা রকম: পিতামাতার মৃত্যু দারিদ্র্য পুনর্বিবাহ কর্মসংস্থানের জন্য দূরে চলে যাওয়া সামাজিক নিরাপত্তার অভাব জান্নাতের গল্পে যেমন দেখা যায়—বাবার মৃত্যু এবং মায়ের পুনর্বিবাহ তাকে ঠেলে দিয়েছে এতিমখানার জীবনে। “ঈদ মানেই মা আসবে”—শ্রাবন্তীর অপেক্ষা জান্নাতের গল্পের বিপরীতে কিছুটা আলাদা বাস্তবতা শ্রাবন্তীর। তার বাবা পাঁচ বছর আগে মারা গেছেন। মা বেঁচে আছেন, কিন্তু জীবিকার তাগিদে ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করেন। বছরে একবার—ঈদের সময়—মেয়ে দেখতে আসেন। শ্রাবন্তী বলছিল— “সারা বছর তো মাকে কাছে পাই না। ঈদ আসলেই আমার কাছে আসে। তখন খুব ভালো লাগে।” তার জন্য ঈদ মানে শুধু উৎসব নয়—মায়ের সান্নিধ্য পাওয়ার একমাত্র সুযোগ। একই ছাদের নিচে ভিন্ন ভিন্ন গল্প মোমেনশাহী এতিমখানার প্রতিটি শিশুর গল্প আলাদা হলেও তাদের যন্ত্রণার মূল সুর এক: কেউ বাবাকে হারিয়েছে কেউ মাকে হারিয়েছে কেউ দুজনকেই হারিয়েছে আবার কেউ বেঁচে থাকা বাবা-মার কাছ থেকেও বিচ্ছিন্ন এই বৈচিত্র্যের মধ্যেও একটি সাধারণ বিষয়—নিরাপত্তা ও ভালোবাসার ঘাটতি। ঈদের আনন্দ: সীমাবদ্ধতার মধ্যেও চেষ্টা ঈদ উপলক্ষে এতিমখানায় কিছুটা উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। এই বছর: প্রত্যেক শিশুকে দুটি করে নতুন জামা দেওয়া হয়েছে স্বেচ্ছাসেবীরা এসে মেহেদি পরিয়েছেন বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়েছে ঈদের দিনের মেন্যুতে ছিল: সকালের নাশতায় সেমাই, নুডলস ও চিপস দুপুরে গরুর মাংস, মুরগির রোস্ট, পোলাও ও দই রাতে ভাত, মুরগির মাংস ও ডাল এই আয়োজনগুলো শিশুদের জন্য আনন্দের হলেও, তা পরিবারিক ঈদের অভাব পূরণ করতে পারে না। স্বেচ্ছাসেবীদের ভূমিকা: ক্ষণিকের হাসি স্কাউট গ্রুপের সদস্যরা এসে শিশুদের হাতে মেহেদি পরিয়ে দিয়েছেন। এই ধরনের উদ্যোগ: শিশুদের মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তি দেয় সামাজিক সংযোগ তৈরি করে উৎসবের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে স্বেচ্ছাসেবী নাফিসা আক্তার বলছিলেন— “আমরা চাই তারা যেন অন্তত ঈদের দিনটা আনন্দে কাটাতে পারে।” অর্থায়নের সংকট: টিকে থাকার লড়াই এতিমখানার ইনচার্জ মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, সরকারি সহায়তা প্রায় নেই বললেই চলে। মূল সমস্যা: নিয়মিত অর্থায়নের অভাব খাদ্য ও চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ শিক্ষার খরচ অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এতিমখানাটি মূলত চলে: সমাজের বিত্তবানদের অনুদানে স্থানীয় সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য: অদৃশ্য সংকট বিশেষজ্ঞদের মতে, এতিম শিশুদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু আর্থিক নয়—মানসিক। সম্ভাব্য প্রভাব: নিরাপত্তাহীনতা আত্মবিশ্বাসের অভাব আবেগগত বিচ্ছিন্নতা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ জান্নাতের মতো শিশুরা খুব অল্প বয়সেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। শিক্ষা: ভবিষ্যতের একমাত্র ভরসা এই এতিমখানার শিশুরা পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে—এটি তাদের জন্য বড় একটি সম্ভাবনা। শিক্ষা তাদের জন্য: দারিদ্র্য থেকে বের হওয়ার পথ আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ সমাজে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার মাধ্যম তবে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে: মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা উচ্চশিক্ষার সুযোগ ক্যারিয়ার গাইডেন্স সমাজের ভূমিকা: সহানুভূতি থেকে দায়িত্বে এই শিশুদের জীবনে পরিবর্তন আনতে শুধু সহানুভূতি যথেষ্ট নয়—প্রয়োজন দায়িত্ববোধ। সমাজের বিভিন্ন স্তর ভূমিকা রাখতে পারে: ব্যক্তি: নিয়মিত অনুদান, সময় দেওয়া কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান: CSR কার্যক্রম সরকার: নীতিমালা ও অর্থায়ন এনজিও: দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কর্মসূচি নীতিগত প্রশ্ন: কোথায় রাষ্ট্র? বাংলাদেশে এতিম ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জন্য বিভিন্ন নীতি থাকলেও বাস্তবায়ন প্রায়ই দুর্বল। প্রশ্নগুলো থেকেই যায়: কেন নিয়মিত সরকারি সহায়তা নেই? কেন শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেই? কেন এতিমখানাগুলোকে টেকসই করা হচ্ছে না? ঈদ: আনন্দ না বেদনার স্মৃতি? সাধারণ মানুষের কাছে ঈদ আনন্দের প্রতীক হলেও, জান্নাতদের কাছে এটি অনেক সময় বেদনার স্মৃতি। কারণ: পরিবারহীনতা স্মৃতির ভার অন্যদের আনন্দ দেখে নিজের অভাব অনুভব তবুও তারা হাসে, খেলাধুলা করে, নতুন জামা পরে—কারণ সেটুকুই তাদের কাছে বড় প্রাপ্তি। ভবিষ্যতের প্রশ্ন এই শিশুদের ভবিষ্যৎ কী? যদি: পর্যাপ্ত সহায়তা না থাকে মানসিক সমর্থন না মেলে শিক্ষার ধারাবাহিকতা না থাকে তাহলে তারা আবার দারিদ্র্যের চক্রেই আটকে যেতে পারে। আশার আলো সব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কিছু ইতিবাচক দিক আছে: শিক্ষার সুযোগ সামাজিক উদ্যোগ স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণ এই উদ্যোগগুলো যদি আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে পরিবর্তন সম্ভব।  জান্নাতদের জন্য কী করতে পারি আমরা? জান্নাতের প্রশ্ন—“আমার খোঁজ নেয় কে?”—শুধু একটি শিশুর নয়, এটি সমাজের প্রতি একটি প্রশ্ন। আমরা কি পারি না— তাদের পাশে দাঁড়াতে? নিয়মিত সহায়তা নিশ্চিত করতে? তাদের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে? ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন জান্নাতদের চোখেও সেই আনন্দের প্রতিফলন দেখা যাবে—শুধু নতুন জামায় নয়, ভালোবাসায়, নিরাপত্তায় এবং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
বরিশালে ঈদের জামাত
বরিশালে বৃষ্টিভেজা ঈদের জামাত

বরিশাল: বৃষ্টিস্নাত ভোরে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে বরিশালে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৮টায় নগরীর কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জামাতে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, বিভাগীয় কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। সব ভেদাভেদ ভুলে মুসল্লিরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে মানবসেবায় আত্মনিয়োগের তৌফিক কামনা করা হয় আল্লাহর কাছে। নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তবে বৃষ্টিপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মুসল্লিদের কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। অনেক স্থানে ঈদগাহে জামাত আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তা বাতিল করে মসজিদে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। এদিকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গৌরনদী সরকারি কলেজ মসজিদে ঈদের জামাতে অংশ নিয়ে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বরিশাল নগরসহ জেলা ও বিভাগজুড়ে পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0