ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের সৃষ্ট বর্জ্যে স্থানীয়দের ৩০০ একর জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হয়েছে। এসব জমি ময়লা-আবর্জনা সহ নানা বর্জ্যে এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এছাড়াও মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গাদের অবাধ যাতায়াত, ক্যাম্পে মাদক ব্যবসা সহ নানা অপরাধে স্থানীয়দের সাথে রোহিঙ্গাদের বড় ধরণের বিরোধের আশংকা করছেন। সোমবার (১১ মে) দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে ‘কক্সবাজারে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা, স্থানীয় সরকার ও জনগনের অংশগ্রহন জরুরী’ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বক্তারা। কক্সবাজার সিএসও-এনজিও ফোরাম আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের স্বার্থ, কর্মসংস্থান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। রোহিঙ্গা কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের অনুমোদন নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে স্থানীয় জনগণের মতামত ছাড়া কোনো উন্নয়ন বা মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা না করার দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী রেজাউল করিম, সিসিএনএফের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম ও উখিয়ার কুতুপালংয়ের ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিনসহ আরো অনেকে। তাদের অভিযোগ, বর্তমানে তহবিল ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন প্রকল্পে স্থানীয় অংশগ্রহণ কম থাকায় বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থায় তহবিল ব্যবহারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পৃক্ততা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়। এছাড়া বিভিন্ন এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বলা হয়, জেলার বাইরে থেকে নিয়োগের প্রবণতা কমিয়ে স্থানীয় দক্ষ জনশক্তিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় গঠিত আরসিটি কাঠামোতে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করারও দাবি জানায় সিসিএনএফ। তাদের মতে, স্থানীয় জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। এ কারণে একটি কার্যকর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়েছে, যা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম তদারকি করবে এবং স্থানীয় জনগণকে বাস্তব তথ্য জানাবে। সিসিএনএফ আরও উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে স্থানীয় এনজিও, জনপ্রতিনিধি ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। স্থানীয় জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করার আহ্বান জানানো হয়। সংগঠনটি দাবি করে, রোহিঙ্গা সংকটের কারণে কক্সবাজারের হোস্ট কমিউনিটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই হোস্ট কমিউনিটির জন্য বরাদ্দকৃত ২৫ শতাংশ সহায়তার সঠিক ব্যবহার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। কোন খাতে কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে এবং কারা সুবিধা পাচ্ছে সেসব তথ্য প্রকাশ করারও দাবি জানানো হয়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : আন্দামান সাগর-এ মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলারডুবির ঘটনায় বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাসহ অন্তত ২৬৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশ কিশোর ও তরুণ। কী ঘটেছিল তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ এপ্রিল কক্সবাজার উপকূল থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রলারটি উত্তাল সাগর ও অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে ডুবে যায়। প্রায় ৩৬ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর ৯ জনকে একটি বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ উদ্ধার করে। পরে তাদের সেন্ট মার্টিনে কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মামলা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন। বাকি তিনজন রোহিঙ্গা নাগরিক, যাদের কাছ থেকে ট্রলারডুবির বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের পরিচয় নিখোঁজদের বেশিরভাগই উখিয়ার বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রিত রোহিঙ্গা। তবে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ জন বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে: টেকনাফ: ৪০ জন উখিয়া: ৬ জন রামু: ৪ জন পেকুয়া: ৭ জন বাঁশখালী (চট্টগ্রাম): ৫ জন স্থানীয় সূত্র জানায়, সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ এলাকা থেকেই ৩০ জনের বেশি যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারগুলোর অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা নিখোঁজদের পরিবারগুলো চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই থানায়, জনপ্রতিনিধিদের কাছে এবং বিভিন্ন দপ্তরে ছুটছেন স্বজনদের খোঁজে। পেকুয়ার রাজাখালীর বাসিন্দা সুমি আক্তার বলেন, তার স্বামী দালালের প্রলোভনে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়েছেন। “তিনি বলেছিলেন পৌঁছে ফোন দেবেন। এরপর আর কোনো খবর পাইনি,” বলেন তিনি। পাচারচক্রের ফাঁদ স্থানীয়দের মতে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে টেকনাফ উপকূল থেকে অন্তত তিনটি ট্রলার মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। এর মধ্যে একটি ডুবে গেলেও অন্য দুটি থাইল্যান্ডে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবপাচারকারীরা মূলত দরিদ্র, বেকার ও ঋণগ্রস্ত তরুণদের লক্ষ্য করে। বিনা খরচে বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের বিপজ্জনক সমুদ্রপথে পাঠানো হয়। মানবপাচার প্রতিরোধে কাজ করা একটি বেসরকারি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক পারভেজ সিদ্দিকী বলেন, “বেকারত্ব ও দারিদ্র্যই মানবপাচারের মূল চালিকাশক্তি। কঠোর আইন প্রয়োগ ও সচেতনতা ছাড়া এ নেটওয়ার্ক ভাঙা কঠিন।” উদ্ধার অভিযান ও অনিশ্চয়তা কোস্টগার্ড জানিয়েছে, এখনও নিখোঁজদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এমনকি ডুবে যাওয়া ট্রলারটির ধ্বংসাবশেষও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় কিছু মানুষ পানির ড্রাম ও কাঠের টুকরো ধরে ভেসে ছিলেন—যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : একদিকে উত্তাল সমুদ্রের গর্জন, অন্যদিকে ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্ক—এই দুইয়ের মাঝখানে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ। দীর্ঘ ৩৫ বছরেও একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় ক্রমাগত ভাঙনের মুখে পড়ে দ্বীপটি ছোট হয়ে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, এক সময় প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কুতুবদিয়া এখন সঙ্কুচিত হয়ে প্রায় ৩০ বর্গকিলোমিটারে নেমে এসেছে। তাদের আশঙ্কা—দ্রুত ‘সুপার ডাইক’ নির্মাণ না হলে অদূর ভবিষ্যতে দ্বীপটি মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে। জোয়ারে ভাঙছে বাঁধ, ডুবছে ফসলি জমি সরেজমিনে দেখা গেছে, জোয়ারের চাপে আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের তাবলেরচর, কাহারপাড়া এবং বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকার অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে শত শত একর ফসলি জমি ও লবণের মাঠ লোনাপানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হাসেম বলেন, “নোনাপানি ঢুকে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। আগে নিজের জমিতে কাজ করতাম, এখন অন্যের জমিতে মজুরি করতে হচ্ছে।” বাস্তুচ্যুতি ও জীবিকার সংকট বসতবাড়ি হারিয়ে অনেক পরিবার ইতোমধ্যে এলাকা ছেড়ে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, প্রতি বছরই এই বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা বাড়ছে। কৈয়ারবিল এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে যায়। তিন দশকেও তা আর সংস্কার হয়নি। বর্ষা এলেই দুশ্চিন্তা বাড়ে। আশ্রয়কেন্দ্রও পর্যাপ্ত নেই—আমরা কি সাগরে ভেসে যাব?” ঝুঁকিতে দক্ষিণ ধুরং দক্ষিণ ধুরং ইউনিয়ন বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আজাদ। তিনি বলেন, “বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতি বছর জোয়ারের পানিতে ঘরবাড়ি, লবণের মাঠ ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত সিসি ব্লক বা ‘সুপার ডাইক’ নির্মাণ জরুরি।” একই দাবি জানিয়েছেন কুতুবদিয়া সমিতির সহসভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক হুমায়ুন সিকদার। তার ভাষায়, “১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর ভয়াবহ ক্ষতি হলেও এখনো টেকসই বাঁধ হয়নি। সুপার ডাইক নির্মাণের পাশাপাশি যাতায়াতের সুবিধার জন্য সেতু বা ফেরি চালুর প্রয়োজন।” পরিকল্পনা আছে, বাস্তবায়ন নেই পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, কুতুবদিয়া অংশে ৬৩ কিলোমিটার সুপার ডাইক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিশাল বাজেটের কারণে প্রকল্পটি এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। কক্সবাজার পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “কয়েকটি এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা মৌসুমের আগেই ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কক্সবাজার শহরের এন্ডারসন রোডের একটি আবাসিক হোটেল থেকে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হোটেল নিশীতা’র ৪০৮ নম্বর কক্ষের দরজা ভেঙে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তির নাম অর্জুন দাশ (৬০)। তিনি ফেনীর শ্রীধাম চন্দ্র দাশের ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ও হোটেল সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল অর্জুন দাশ এক অজ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে হোটেলটির ওই কক্ষটি তিন দিনের জন্য ভাড়া নেন। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও কক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় হোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। এরপর বুধবার বিকেলে কক্ষের সামনে গিয়ে কর্মীরা ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় পরে দরজা ভেঙে প্রবেশ করা হয়। ভেতরে অর্জুন দাশকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময় কক্ষে পড়ে থাকার কারণে মরদেহটি অর্ধগলিত হয়ে যায় বলে জানায় পুলিশ। উদ্ধারকালে মরদেহটি নগ্ন অবস্থায় ছিল এবং পাশে একটি গামছা পাওয়া গেছে। পরে মরদেহের সুরতহাল শেষে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ সময় ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে কিছু সময় উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হয়। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমিউদ্দিন বলেন, নিহতের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে ময়নাতদন্ত করা হবে।
সাজ্জদুল ইসলাম,পেকুয়া : এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলাকালে কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, গৃহিণী ও ব্যবসায়ীরা। গত ২১ এপ্রিল থেকে পরীক্ষা শুরু হলেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় পড়ালেখায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। দিনে মাত্র ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে, তাও আবার দীর্ঘ সময় নয়, বারবার লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়রা জানান, রাত ১টার আগে অনেক সময় বিদ্যুতের দেখা মেলে না। মাঝেমধ্যে এলেও আধাঘন্টার বেশি স্থায়ী হয় না। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এসএসসি পরীক্ষার্থী সুবর্ণা শাওরিন বলেন, পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর থেকে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছি না। রাতে পড়তে বসলে বিদ্যুৎ চলে যায়। গরমে ঘুমানোও যায় না, পড়ালেখাও সম্ভব হয় না। মাঝেমধ্যে উঠানে পাটি বিছিয়ে মোবাইলের আলো দিয়ে পড়তে হয়। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতি খুব খারাপ হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ও আব্দু শুক্কর বলেন, বিদ্যুতের অভাবে দোকানে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে গেছে। ফ্যান চলে না, কাস্টমার বসতে চায় না। ফ্রিজে রাখা পানীয় ও অন্যান্য পণ্য নষ্ট হওয়ার উপক্রম। অভিভাবক ও সচেতন মহল বলছেন, পরীক্ষা চলাকালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত লোডশেডিং কমানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে পল্লীবিদ্যুত জোনাল অফিস পেকুয়ার এজিএম ফিরোজ কবীর এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সাজ্জাদুল ইসলাম: কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা-এর একটি গ্রামে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে, যা স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের পানির সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। উপজেলার সদর এলাকার সিকদারপাড়া গ্রামে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটির আওতায় প্রায় ৫০০টি পরিবার সরাসরি নিরাপদ পানির সুবিধা পাবে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পেকুয়া ছাড়াও পাশের চকরিয়া উপজেলা-এর বিভিন্ন ইউনিয়নে একই ধরনের পানি সরবরাহ প্রকল্প ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে। পাশাপাশি পেকুয়ার মগনামা, রাজাখালী, বারবাকিয়া ও টইটং ইউনিয়নেও আরও কয়েকটি প্রকল্পের কাজ চলছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করাই এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এর ফলে পানিবাহিত রোগ কমে আসবে এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে বলে তারা আশা করছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সরকার উপকূলীয় এলাকার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্প আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভোগার পর এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরে আসবে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রপথে পালানোর চেষ্টায় ২০২৫ সাল রোহিঙ্গাদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ইউএনএইচসিআর বা জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রকাশিত সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ওই বছরে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে বিপজ্জনক যাত্রাকালে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন। সংস্থাটি জানায়, ২০২৫ সালে ছয় হাজার ৫০০-র বেশি রোহিঙ্গা এই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রা করেন। তাদের মধ্যে প্রতি সাতজনের একজনের মৃত্যু হয়েছে বা তারা নিখোঁজ হয়েছেন—যা বিশ্বব্যাপী শরণার্থী ও অভিবাসীদের সমুদ্রপথে চলাচলের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুহার হিসেবে বিবেচিত। ২০২৬ সালেও এই বিপজ্জনক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দুই হাজার ৮০০-র বেশি রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশ থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকা উত্তাল সাগরে ডুবে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে প্রায় ২৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। পরবর্তীতে ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে নয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। কেন ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিচ্ছেন রোহিঙ্গারা? মানবপাচার, শোষণ এবং সমুদ্রে মৃত্যুর উচ্চ ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও হাজারো রোহিঙ্গা এই পথ বেছে নিচ্ছেন। বেশিরভাগ নৌযাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশের কক্সবাজার বা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে, যার গন্তব্য ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়া। বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে: মিয়ানমারে চলমান সংঘাত ও নিপীড়ন নাগরিকত্বের অনিশ্চয়তা নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অভাব অন্যদিকে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। তহবিল সংকটের কারণে মানবিক সহায়তা কমে যাওয়া, নিরাপত্তাহীনতা এবং শিক্ষা ও জীবিকার সীমিত সুযোগ অনেককেই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রায় বাধ্য করছে। নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের আকাঙ্ক্ষা জাতিসংঘ বলছে, রোহিঙ্গাদের বড় একটি অংশ এখনো নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়। তবে মিয়ানমারে চলমান পরিস্থিতি তাদের সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে—ফলে সমুদ্রপথে অনিশ্চিত যাত্রাই হয়ে উঠছে অনেকের একমাত্র বিকল্প।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দালালদের খপ্পরে পড়ে অবৈধ উপায়ে সাগরপথে ট্রলারযোগে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে আন্দামান সাগরে ২৭৩ জন নারী-পুরুষকে বহনকারী একটি ট্রলার ডুবে গেছে। ডুবে যাওয়া ট্রলারে থাকা যাত্রীরা সকলেই কক্সবাজার, টেকনাফ, উখিয়া ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। এদের মধ্যে ৯ জন জীবিত উদ্ধার করা হলেও অপর ২৬৪ জনের খোঁজ মিলছে না। ধারণা করা হচ্ছে, ডুবে যাওয়া ট্রলারের অধিকাংশেরই সলিল সমাধি হয়েছে। টেকনাফ থানা পুলিশ ও কোস্ট গার্ড বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনায় ৬ জন দালালকে আসামি করে টেকনাফ থানায় মামলা করেছে কোস্ট গার্ড। উদ্ধার হওয়া ৯ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজদের স্বজনদের মধ্যে চলছে শোকের মাতম। স্বজনরা জানিয়েছেন, প্রিয়জনদের কোনো খোঁজ না পেয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা তথ্য দেখে তারা প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন। তাদের মতে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের স্বজনরা সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পর এই ভয়াবহ ঘটনার পর থেকে পরিবারগুলো ভেঙে পড়েছে। তাদের স্বজনরা বেঁচে আছেন নাকি সাগরের ঢেউয়ে হারিয়ে গেছেন- তাও তারা জানেন না। মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবিতে উদ্ধার হওয়া ৯ জন হলেন- কক্সবাজার শহরতলীর শান্তি পাড়ার মো. হামিদ ও মো. সায়াদ আলম, মো. আকবর, টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকার সোহান উদ্দিন এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের মো. হৃদয়, উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের রফিকুল ইসলাম, রাহেলা বেগম ও মো. ইমরান এবং টেকনাফ বড়বিল এলাকার মো. তোফায়েল আহমেদ। টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যংয়ের নিখোঁজ এনায়েতুর রহমানের বাবা মোহাম্মদ কালু বলেন, আমার ছেলে বাড়ির পাশের একটি ইটভাটায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করত। তার আয়ে আমাদের সংসার ভালোভাবেই চলছিল। কিন্তু গত ২ এপ্রিল থেকে সে নিখোঁজ হয়। তিনি জানান, খোঁজখবর নিয়ে জানতে পেরেছেন- দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে তার ছেলে টেকনাফ হয়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। একপর্যায়ে খবর আসে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে আন্দামান সাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাদের বহনকারী ট্রলারটি ডুবে যায়। মোহাম্মদ কালু বলেন, ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে কোনোভাবে ৯ জন উদ্ধার হয়ে ফিরে এলে তাদের কাছ থেকেই জানতে পারি, আমার ছেলে এনায়েতসহ আরও নারী-পুরুষ ট্রলারডুবির ঘটনায় সাগরে তলিয়ে গেছে। জিয়াউর রহমান নামের একজন জানান, সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় তার দুই ছেলে মোহাম্মদ জুনায়েদ ও মোহাম্মদ তারেক ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছে। তারা বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে তিনি জানেন না। সূত্র বলছে, চার-পাঁচ দিন আগে ২৭৩ জন যাত্রী নিয়ে আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। এতে ৯ জন কোনোভাবে উদ্ধার হয়ে জীবিত ফিরতে পারলেও বাকি ২৬৪ জনের এখনো কোনো খোঁজ মিলছে না। আন্দামান সাগরে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবির ঘটনায় বেঁচে ফেরা রোহিঙ্গা রাহেলা বেগম বলেন, আমার এক খালাতো ভাই আমাকে মালয়েশিয়ায় বিয়ে দেওয়ার কথা বলে সাগরপথে নিয়ে যাচ্ছিল। পথে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি আন্দামান সাগরে ডুবে যায়। তিনি বলেন, আমরা ৯ জন সাগরে ভাসমান অবস্থায় ছিলাম। পরে একটি ট্রলারের সহায়তায় উদ্ধার হয়েছি। তবে বাকি নারী-পুরুষ কতজন উদ্ধার হয়েছে, তা তিনি জানেন না। তিনি নিজের চোখে দেখেছেন ১০-২০ জন নারীসহ অনেকেই সাগরে ডুবে গেছে। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ৯ জনকে কোস্ট গার্ড থানায় আসে। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভিকটিমদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম থেকে ইন্দোনেশিয়াগামী বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমটি মেঘনা প্রাইড গত ৯ এপ্রিল দুপুরে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে গভীর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ৯ বাংলাদেশিকে (৮ পুরুষ ও ১ নারী) ভাসতে দেখে উদ্ধার করে। পরে মধ্যরাতে উদ্ধারকৃতদের কোস্ট গার্ডের টহল জাহাজ মনসুর আলীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। কোস্ট গার্ড তাদের টেকনাফ থানায় নিয়ে আসে।
কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপের আকাশে অজ্ঞাত ড্রোন উড়তে দেখা যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে দ্বীপের জেটি সংলগ্ন পূর্ব আকাশে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে লাল-সবুজ রঙের দুটি ড্রোন উড়তে দেখা যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঘটনাটি জানাজানি হলে আশপাশের মানুষজন জড়ো হন এবং পরে বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, তিনি নিজেও ড্রোন দুটি দেখতে পেয়েছেন এবং ধারণা করছেন সেগুলো মিয়ানমারের দিক থেকে আসতে পারে। তার মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নজরদারির অংশ হিসেবেও ড্রোনগুলো ব্যবহৃত হতে পারে। দ্বীপের বাসিন্দা মোহাম্মদ আজিম জানান, রাতে আকাশে ড্রোন উড়তে দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, এগুলো সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় অস্থিরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, এ ধরনের ড্রোন কার্যক্রম দেশের আকাশসীমা ও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং সীমান্তে নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন দ্বীপের বাসিন্দারা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বন অধিদপ্তরের ‘সুফল (টেকসই বন ও জীবিকা)’ প্রকল্পে প্রায় ১.৫ কোটি টাকা বাগান সৃজন না করে আত্মসাৎ করার অভিযোগে তৈরি হয়েছে তীব্র অস্থিরতা। অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের এক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি তহবিল আত্মসাত ও ঘুষ প্রদান করে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করার — অথচ এক বছরেও কোনো কার্যকর তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরকারি হিসাব ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের কুমিরা রেঞ্জে ৭০ ও ১০ হেক্টর জমিতে বাগান সৃজনের কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। নির্ধারিত মান পূরণে ব্যর্থতার বিষয়টি বন বিভাগীয় পর্যায়ে “ওপেন সিক্রেট” হলেও এখন পর্যন্ত সংঘবদ্ধ অভিযোগের কোনো প্রভাবশালী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।গত এক বছর ধরে এই অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি বন বিভাগে ‘ওপেন সিক্রেট’ হলেও এখনো কোনো কার্যকর তদন্ত হয়নি। বরং অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সাদেকুর রহমানকে শাস্তির পরিবর্তে ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি দিয়ে কক্সবাজারের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা বন বিভাগের ‘লোভনীয় পোস্টিং’ হিসেবে পরিচিত। অভিযোগের মূল পয়েন্ট • পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ইউনিটে ঘুষ দিয়ে প্রকল্পের সত্যতা লুকানোর চেষ্টা করা হয়েছে, অভিযোগ পাওয়া গেছে। • অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এক কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি পেয়ে কক্সবাজারের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জে বদলি হয়েছেন — বন বিভাগের মধ্যে এটিকে “লোভনীয় পোস্টিং” হিসেবেও দেখা হচ্ছে। • সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি ও পদোন্নতির মাধ্যমে এই ঘটনার অনুসন্ধান সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। প্রকল্প বাস্তবায়নে চরম অনিয়ম গত ২৬ নভেম্বর, উপবন সংরক্ষক উম্মে হাবিবা চট্টগ্রাম বিভাগের বন কর্মকর্তার কাছে চিঠি দেন, যাতে ৭ দিনের মধ্যে কুমিরা রেঞ্জে ব্যর্থতার দায়ে সংশ্লিষ্টদের তালিকা জমা দিতে বলা হয়। তবে সময়সীমা অতিক্রম করা সত্ত্বেও সেই তালিকা দপ্তরে পাঠানো হয়নি। এর আগের ২২ এপ্রিল পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ ছিল, • ১৭০ হেক্টর বাগানে জীবিত চারার হার ছিল মাত্র ৬০.২০%, • অন্য ১০ হেক্টরের বাগানে ছিল মাত্র ৫০.৪০%, যেখানে ন্যূনতম ৮০% জীবিত চারার হার থাকার কথা ছিল। অভিযুক্তরা এবং তাদের অবস্থান সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক ড. মোল্যা রেজাউল করিমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তিন কর্মকর্তা এই অর্থ আত্মসাতে জড়িত — সাদেকুর রহমান — কক্সবাজার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা এস.এম. কায়চার — উপবন সংরক্ষক (বর্তমানে চট্টগ্রাম বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক পরিচালক) জয়নাল আবেদীন — সহকারী বন সংরক্ষক (বর্তমানে হবিগঞ্জে কর্মরত) জিজ্ঞাসা করলে, সাদেকুর রহমান বলেন, “আমি এখানে নতুন দায়িত্বে আছি; এ বিষয়ে ডিএফও’র সঙ্গে কথা বলুন।” এস.এম. কায়চার ফোন রিসিভ করেননি। জয়নাল আবেদীন বলেন, “আমি অভিযুক্ত, তাই কিছু বলতে পারব না।” ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠা কর্মকর্তার মন্তব্য পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ইউনিটের উপবন সংরক্ষক উম্মে হাবিবার বিরুদ্ধেও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে, যদিও তিনি সেটা গণমাধ্যমে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। বন বিভাগে হতাশা ও দ্রুত তদন্তের দাবি এই দেড় কোটি টাকা আত্মসাত ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ নিয়ে বন বিভাগে ব্যাপক অস্থিরতা বিরাজ করছে। সরকারি হিসাব ও বন কর্মীদের অনেকে দাবি করেছেন — • দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক • দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক বাংলাদেশের সরকারি প্রকল্পে এমন ধরণের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জনমত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জোরদার হচ্ছে।
উন্নত জীবনের প্রলোভনে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ৫৫ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। এ সময় মানবপাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে টেকনাফের বাহারছড়ার কচ্ছপিয়া-সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কোস্টগার্ড সদর দপ্তারের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে নারী ও শিশুসহ বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি টেকনাফের বাহারছড়া সমুদ্র এলাকায় অবস্থান করছে এমন গোপন তথ্য পাই আমরা। পরে বৃহস্পতিবার রাতে কোস্টগার্ডের ৩টি দল সেখানে বিশেষ অভিযান শুরু করে। অভিযানে সাগরে একটি সন্দেহজনক ট্রলারকে থামার সংকেত দেয়া হলে তা অমান্য করে ট্রলারটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে কোস্টগার্ড সদস্যরা ধাওয়া করে টেকনাফের বাহারছড়ার কচ্ছপিয়া-সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় ট্রলারটি আটক করতে সক্ষম হন। তিনি আরও বলেন, পরে ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে নারী ও শিশুসহ ৫৫ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করার পাশাপাশি ৫ জন মানবপাচারকারীকে আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কয়েকটি সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র বিদেশে উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন, উচ্চ বেতনের চাকরি এবং অল্প খরচে বিদেশযাত্রার প্রলোভন দেখিয়েছিল। টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে যেতে সাগরপথে পাচারের পরিকল্পনা করছিল তারা। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি ও আটক মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া মানবপাচার রোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান কোস্টগার্ডের এই কর্মকর্তা।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।