Brand logo light

চীন

হরমুজ
হরমুজে গোপন সমঝোতার ইঙ্গিত, যুদ্ধের কিনারায় নতুন কূটনৈতিক হিসাব

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূরাজনীতিতে নতুন মোড়ের ইঙ্গিত মিলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়া কাঠামো হাতে এসেছে বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। খসড়াটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ—বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম কৌশলগত পথ হরমুজ প্রণালিতে আবারও যুদ্ধ-পূর্ব স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা। বুধবার (২৭ মে) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য এই সমঝোতার আওতায় এক মাসের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করবে তেহরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আশপাশে সামরিক উপস্থিতি কমাবে এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের পথে এগোবে। তবে খসড়া কাঠামোয় সামরিক জাহাজ চলাচল অন্তর্ভুক্ত নয়। এতে ওমানের সহযোগিতায় হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ইরান পালন করবে বলেও উল্লেখ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কার্যকর হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ধরনের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হতে পারে। ‘চূড়ান্ত যাচাই ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নয়’ ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বাস্তব যাচাই ও পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা ছাড়া তারা কোনো ধরনের চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে না। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হলে সেটিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যতামূলক প্রস্তাব হিসেবে অনুমোদনের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে পরিস্থিতিতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে; অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যায় এবং সরবরাহ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়। আলোচনায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলে একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। আইআরজিসির কড়া হুঁশিয়ারি কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বাহিনীটির নৌবাহিনীর উপরাজনৈতিক প্রধান মোহাম্মদ আকবরজাদেহ ইরানের দক্ষিণ উপকূলকে “আগ্রাসনকারীদের কবরস্থান” বানানোর হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “শত্রুর দুর্বলতার কারণে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।” ইরানের দীর্ঘ দক্ষিণ উপকূলের দুই প্রান্তের স্থান—চাবাহার থেকে মাহশাহর পর্যন্ত—উল্লেখ করে আকবরজাদেহ বলেন, “এই পুরো অঞ্চল আগ্রাসনকারীদের জন্য কবরস্থানে পরিণত হবে।” বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে কূটনৈতিক সমঝোতার বার্তা, অন্যদিকে সামরিক হুঁশিয়ারি—এই দ্বৈত কৌশলের মাধ্যমে ইরান আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্ত রাখতে চাইছে। যুদ্ধবিরতিতে চীনের সক্রিয় কূটনীতি মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি রক্ষায় সক্রিয় অবস্থান নিয়েছে চীনও। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক উন্মুক্ত বিতর্কে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়াকে দেওয়া বক্তব্যে ওয়াং ই বলেন, “আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে এবং পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছাবে, যাতে দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরে আসে।” চীনের দাবি, তারা সংঘাত নিরসনে সংশ্লিষ্ট প্রধান পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রেখেছে। এর আগে মার্কিন বাহিনী দক্ষিণ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং মাইন পাতার চেষ্টা করা নৌকাগুলোর ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। ইরান এটিকে যুদ্ধবিরতির পরিপন্থী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। তেহরান ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে পাল্টা প্রতিশোধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। হরমুজ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের বড় একটি অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এই পথের যেকোনো অস্থিতিশীলতা সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা বাস্তব রূপ পায়, তাহলে তা শুধু উপসাগরীয় নিরাপত্তা নয়, বরং বৈশ্বিক তেলবাজার ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। তবে এখনো চুক্তিটি আনুষ্ঠানিক নয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই ভঙ্গুর শান্তি কতটা স্থায়ী হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৮, ২০২৬ 0
ইরান
ইরানকে ঘিরে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা: ট্রাম্পের হুমকি, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিভেদের অভিযোগ তেহরানের

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মধ্যপ্রাচ্যে আবারও নতুন করে উত্তেজনা ঘনীভূত হচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বে বিভেদ সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ভাষার হুমকি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক যোগাযোগ নতুন সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ইরানি প্রেসিডেন্টের দাবি, তেহরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক ও রাজনৈতিক চাপের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করা এবং ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়া। পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও “জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী” ইরানে হামলার মাধ্যমে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েছিল, যাতে দেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তার অভিযোগ, পশ্চিমা শক্তিগুলো দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস ও বিভাজন তৈরির কৌশল অনুসরণ করছে, যাতে আঞ্চলিক ঐক্য দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়। ‘পুনরায় হামলা হলে ভয়াবহ জবাব’ এদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবোলফজল শেকারচি মার্কিন প্রশাসনকে সরাসরি সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে তার প্রতিক্রিয়া হবে “নজিরবিহীন”। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন যদি আবারও ইরানে হামলার পথ বেছে নেয়, তবে মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ “আকস্মিক ও তীব্র আঘাতের” মুখে পড়বে। শেকারচির ভাষায়, ইরান একটি দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা ও সংঘাত মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছে। শান্তি আলোচনা অচলাবস্থায় ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে তেহরান যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত কোনও বড় ছাড় দিতে রাজি হয়নি। বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা শর্ত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরানকে মাত্র একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখার অনুমতি এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদের সামান্য অংশও ছাড় করতে রাজি হয়নি। একই সঙ্গে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য কোনও ধরনের ক্ষতিপূরণ নিয়েও ওয়াশিংটনের আগ্রহ নেই বলে দাবি তেহরানের। ইরানের দৃষ্টিতে এসব শর্ত “শান্তির প্রস্তাব” নয়; বরং কৌশলগত চাপ সৃষ্টির অংশ। মেহর নিউজ এজেন্সিও একই ধরনের অভিযোগ তুলে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এমন সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে, যা তারা সামরিকভাবে অর্জন করতে পারেনি। ইরানের পাল্টা প্রস্তাব কী ছিল তেহরানের প্রস্তাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছিল। বিশেষ করে, ইসরায়েলের লেবানন অভিযান বন্ধ, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানায় ইরান। এ ছাড়া বিদেশে অবরুদ্ধ ইরানি সম্পদ মুক্ত করার আহ্বানও ছিল ওই প্রস্তাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে ইরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ যুদ্ধের শুরু থেকেই কার্যত সীমিত অবস্থায় রয়েছে। ট্রাম্পের নতুন হুমকি এই উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানকে উদ্দেশ করে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “সময় ফুরিয়ে আসছে। তাদের খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, অন্যথায় আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।” একই পোস্টে বড় অক্ষরে তিনি লেখেন, “সময় অত্যন্ত মূল্যবান।” এর আগে ট্রাম্প নিজের একটি ছবি পোস্ট করে সেটির ক্যাপশনে লিখেছিলেন, “এটি ছিল ঝড়ের আগের শান্ত অবস্থা।” ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ফোনালাপের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ইরান। যুদ্ধবিরতির পর নতুন করে সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। চীনের উদ্বেগ নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার কয়েক দিন আগেই চীন সফর শেষ করেন ট্রাম্প। সফরকালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও শি সরাসরি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি, তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছে। বেইজিংয়ের ভাষ্য, এটি এমন একটি যুদ্ধ “যা কখনও শুরু হওয়া উচিত ছিল না এবং যার অব্যাহত থাকারও কোনও যৌক্তিকতা নেই।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬ 0
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি
মুজতবা খামেনিকে ঘিরে রহস্য, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় বদলাচ্ছে বৈশ্বিক কূটনীতি

মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, গুরুতর আহত অবস্থায় জনসমক্ষে না এলেও ইরানের কৌশলগত সিদ্ধান্তে এখনো প্রভাব রাখছেন মুজতবা খামেনি। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে উদ্বেগ বাড়ছে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের মধ্যে।                                                                                                                                               ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানের প্রভাবশালী নেতা মুজতবা খামেনিকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকলেও তিনি এখনো ইরানের যুদ্ধ ও কূটনৈতিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। শনিবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব কাঠামো আগের তুলনায় আরও জটিল ও অস্বচ্ছ হয়ে উঠেছে। তবে দেশটির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় মুজতবা খামেনির প্রভাব এখনো গুরুত্বপূর্ণ বলে ধারণা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান অবশ্য এসব দাবি পুরোপুরি নাকচ করেছে। তেহরানের কর্মকর্তারা বলছেন, তিনি সুস্থ আছেন এবং তার আঘাত দ্রুত সেরে উঠছে। জনসমক্ষে অনুপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন যুদ্ধ শুরুর দিকে ভয়াবহ হামলায় ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। ওই হামলায় মুজতবা খামেনিও গুরুতর আহত হন বলে দাবি মার্কিন গোয়েন্দাদের। এরপর থেকেই তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তার অবস্থান বা শারীরিক অবস্থা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। কারণ তিনি কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবহার করছেন না। বরং সীমিত পরিসরে দূত বা সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রাখছেন। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ এসব তথ্যের বড় অংশ অস্বীকার করেছে। সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানান, তিনি মুজতবা খামেনির সঙ্গে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেছেন। যুদ্ধের পর এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রথম প্রকাশ্য বৈঠক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন আলোচনা এদিকে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাবের বিষয়ে দ্রুত জবাব আসতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আজ রাতেই জবাব আসতে পারে। আমরা একটি চিঠির অপেক্ষায় আছি।” তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে কী রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। এর আগে ইরানের দুটি ট্যাংকার জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। ওয়াশিংটনের দাবি, নৌ-অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করায় ওই ট্যাংারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানকে ঘিরে বড় সামরিক সংঘাত শুরু হয়। প্রায় ৪০ দিন ধরে চলা ওই সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ে। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। যদিও যুদ্ধবিরতির নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেটির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন। ইউরোপে বাড়ছে উদ্বেগ বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংকট শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক কূটনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলছে। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার চাপ পড়েছে ইউরোপের অর্থনীতিতে। একই সময়ে জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা কমানোর ঘোষণা এবং ইউরোপে সামরিক উপস্থিতি হ্রাসের ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এতে ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প অভিযোগ করে আসছেন, ইউরোপীয় মিত্ররা নিজেদের নিরাপত্তা ব্যয়ের যথেষ্ট অংশ বহন করছে না। মিত্রদের মধ্যে আস্থার সংকট হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইরান ইস্যুতে ইউরোপের কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাশিত সহায়তা দেয়নি। অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে সক্রিয় হচ্ছে। যৌথ অস্ত্র উৎপাদন, আঞ্চলিক সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপ পুরোপুরি আত্মনির্ভর হতে এখনো সময় লাগবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি তাদের নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ায় নতুন হিসাব মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া অনেকের কাছে যথেষ্ট কঠোর মনে হয়নি। কিছু মিত্র দেশ আশঙ্কা করছে, ইরানের সঙ্গে এমন কোনো সমঝোতা হলে যা তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, তাহলে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো এশীয় মিত্ররাও পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি ও জোটভিত্তিক কূটনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন তাদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, তাইওয়ান ইস্যুতে ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাত তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে। সুযোগ নিচ্ছে চীন ও রাশিয়া আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছে চীন ও রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে পশ্চিমা বিশ্বের মনোযোগ বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এই সুযোগে বেইজিং ও মস্কো নিজেদের প্রভাব আরও শক্ত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে চীন নিজেকে আরও নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক অংশীদার হিসেবে তুলে ধরতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১০, ২০২৬ 0
রংপুরে এসে প্রেমিকাকে বিয়ে করলেন চীনা যুবক
সামাজিক মাধ্যমে পরিচয়: চীন থেকে প্রেমের টানে রংপুরে, দেড় মাসেই বিয়ে

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রংপুরের মিঠাপুকুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা এক প্রেমের সম্পর্ক দেড় মাসের মধ্যেই বিয়েতে রূপ নিয়েছে। সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে এসে এক বাঙালি তরুণীকে বিয়ে করেছেন এক চীনা যুবক—যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের হামিদপুর এলাকার বাসিন্দা আনিকা আক্তারের সঙ্গে প্রায় দেড় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হয় চীনা নাগরিক মা লিয়াংহুইয়ের। অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। এই সম্পর্কের সূত্র ধরেই গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বাংলাদেশে আসেন মা লিয়াংহুই। এরপর তিনি আনিকার গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করেন। পরদিন শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে তাদের বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় কৌতূহল ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়। স্থানীয়রা ভিনদেশি ওই যুবককে একনজর দেখতে আনিকার বাড়িতে ভিড় করেন। আনিকা আক্তার স্থানীয় বাসিন্দা তৌহিদুল ইসলামের মেয়ে। বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, একজন বিদেশি নাগরিক ওই এলাকায় অবস্থান করছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার কথা জানিয়েছেন। বর্তমানে মা লিয়াংহুই তার স্ত্রীর বাড়িতেই অবস্থান করছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালি ঘিরে দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে বৈশ্বিক ভূরাজনীতি : ইরান উত্তপ্ত, চীনের পাশে রাশিয়া—বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে বৈশ্বিক ভূরাজনীতি। যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন নৌ অবরোধ, ইরানের তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং চীন–রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ অবস্থান—সব মিলিয়ে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।  অবরোধের নেপথ্য ও সামরিক বাস্তবতা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের প্রধান বন্দরগুলো কার্যত অবরুদ্ধ। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ১৫টি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, একটি সুপার ক্যারিয়ার, ১১টি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং ১০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি—ইতোমধ্যে অন্তত ছয়টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজকে পথ পরিবর্তনে বাধ্য করা হয়েছে। যদিও কিছু সূত্র বলছে একটি জাহাজ অবরোধ এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বলছে সেটিও এখন প্রণালির ভেতরে আটকে আছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ কেবল ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি নয়; বরং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোরে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা। কেন হরমুজ এত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০% এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২৫% এই প্রণালি দিয়ে যায়। ফলে এখানে সামান্য বিঘ্নও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—সংকট দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়বে পরিবহন, খাদ্যপণ্য ও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে।  চীন-রাশিয়া ফ্যাক্টর চীন, যা ইরানি তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা, এই অবরোধে সরাসরি চাপে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অনুযায়ী, বেইজিং আর ইরান থেকে তেল আমদানি করতে পারবে না। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বেইজিং সফরে ঘোষণা দিয়েছেন—রাশিয়া চীনের জ্বালানি ঘাটতি পূরণে প্রস্তুত এবং দুই দেশের সম্পর্ক অটুট থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল কূটনৈতিক বার্তা নয়; বরং চীনা জ্বালানি বাজারে রাশিয়ার প্রভাব বাড়ানোর কৌশল, যা যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে আংশিকভাবে নিষ্ক্রিয় করতে পারে।  ইরানের পাল্টা অবস্থান ইরান এই অবরোধকে সরাসরি ‘আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। দেশটির দাবি, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে; কেবল শত্রুপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজের চলাচল সীমিত করা হয়েছে। ইরানের তথ্যমতে, গত ৪০ দিনে তাদের ৩৯টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছে এবং ২০ জন নাবিক নিহত হয়েছেন—যা তারা ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।  আইএমও বিতর্ক: নতুন কূটনৈতিক সংঘাত হরমুজ প্রণালিতে ‘নিরাপদ সামুদ্রিক করিডর’ তৈরির প্রস্তাব ঘিরে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছেআন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাতে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের উত্থাপিত এই প্রস্তাব কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। আইএমও লিগ্যাল কমিটির বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধি পুরিয়া কলিভান্দ বলেন, প্রস্তাবটি “আইনগতভাবে ভিত্তিহীন” এবং “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজে কোনো করিডর প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইরানের সম্মতি অপরিহার্য—কারণ এটি অঞ্চলের প্রধান উপকূলীয় রাষ্ট্র।  যুক্তরাষ্ট্র বনাম আঞ্চলিক বাস্তবতা ইরানের অভিযোগ—যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথভাবে এই অঞ্চলে উত্তেজনা তৈরি করেছে, এবং কিছু উপসাগরীয় দেশ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে এই আগ্রাসনে সহায়তা করছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে এটি একটি প্রতিরোধমূলক কৌশল—যার লক্ষ্য ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা কমানো এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব বজায় রাখা।   বর্তমান পরিস্থিতি একাধিক সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করছে: * সামরিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে * চীন–রাশিয়া জোট আরও শক্তিশালী হতে পারে * অথবা কূটনৈতিক সমঝোতার নতুন পথ তৈরি হতে পারে তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—হরমুজ প্রণালির এই সংকট কেবল আঞ্চলিক নয়; এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং শক্তির ভারসাম্য পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। আগামী দিনগুলোতে বেইজিং, মস্কো এবং তেহরানের সিদ্ধান্ত—এবং ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ—নির্ধারণ করবে বিশ্ব কোন পথে এগোবে: সংঘাতের দিকে, নাকি সমঝোতার দিকে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
বাণিজ্যের আড়ালে ইরানে ‘যুদ্ধের জ্বালানি’ পাঠাচ্ছে চীন
ইরানে চীনের রাসায়নিক সরবরাহ: ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়ানোর আশঙ্কা

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে চীন থেকে ইরানে রাসায়নিক বহনকারী একাধিক জাহাজ পৌঁছানোর খবর নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু বাণিজ্যিক লেনদেন নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত ভূরাজনৈতিক পদক্ষেপ হতে পারে। ব্রিটিশ গণমাধ্যমের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে অন্তত চারটি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ দেশটির বিভিন্ন বন্দরে নোঙর করেছে। আরও একটি জাহাজ উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। এসব জাহাজ চীনের ঝুহাইয়ের গাওলান বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এসব জাহাজে বহন করা হয়েছে সোডিয়াম পারক্লোরেট—যা কঠিন জ্বালানিভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাদের মতে, এই পরিমাণ কাঁচামাল দিয়ে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা সম্ভব। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের মধ্যেই ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই ধরনের আমদানি সেই প্রচেষ্টারই ইঙ্গিত বহন করে। অন্যদিকে, মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এখনও অক্ষত রয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হলেও দেশটি পুরোপুরি উৎপাদনক্ষমতা হারায়নি এবং বিকল্প বা বিচ্ছিন্ন ব্যবস্থায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এসব জাহাজ রাষ্ট্রায়ত্ত শিপিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। নজরদারি এড়াতে তারা স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এআইএস) বন্ধ রাখা, ভুয়া গন্তব্য দেখানো এবং জাহাজের নাম পরিবর্তনের মতো কৌশল ব্যবহার করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সরবরাহের সময়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, চলমান সংঘাতে ইরান ব্যাপক হারে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করায় তাদের মজুদ দ্রুত কমে আসছে। একই সঙ্গে অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। নতুন কাঁচামাল সরবরাহ দেশটির আক্রমণাত্মক সক্ষমতা আরও কিছুদিন ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েকটি জাহাজের সক্ষমতা বিবেচনায় ইরান প্রায় ৭৮৫টি অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির মতো কাঁচামাল সংগ্রহ করেছে। এতে দেশটি অন্তত আরও এক মাস প্রতিদিন ১০ থেকে ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। চীনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও বেইজিং সরাসরি সামরিক সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্যিক পণ্যের আড়ালে কৌশলগতভাবে এই ধরনের সরবরাহ অব্যাহত রাখা হচ্ছে। তবে এই কৌশল ঝুঁকিমুক্ত নয়। উপসাগরীয় অঞ্চলে চীনের বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিনিয়োগ রয়েছে, যা চলমান সংঘাতের কারণে হুমকির মুখে পড়তে পারে। ফলে বেইজিংকে এখন সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রেখে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশল পরিচালনা করতে হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
ইরানি তেল
বাজারে আসছে ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল,জ্বালানিতে বড় স্বস্তি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন জাহাজে বিপুল পরিমাণ ইরানি অপরিশোধিত তেল মজুদ রয়েছে, যা যেকোনো সময় বাজারে প্রবেশ করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক তেলের বাজারে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এর মধ্যে বিপুল পরিমাণ ইরানি অপরিশোধিত তেল (ক্রুড) সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় মজুদ রয়েছে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় এবার বাজারে আসতে যাচ্ছে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন জাহাজে থাকা প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল। শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছেন বিশ্ব জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকরা। তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের সিনিয়র ম্যানেজার ইমানুয়েল বেলোস্ট্রিনো বলেন, ‘বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে চীনের জলসীমা পর্যন্ত বিভিন্ন জাহাজে প্রায় ১৭ কোটি (১৭০ মিলিয়ন) ব্যারেল ইরানি তেল মজুদ রয়েছে।’ অন্যদিকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি এসপেক্ট গত ১৯ মার্চের এক মূল্যায়নে জানায়, সমুদ্রে থাকা ইরানি তেলের পরিমাণ ১৩০ থেকে ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল, যা মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান উৎপাদন ঘাটতির তুলনায় ১৪ দিনেরও কম সরবরাহের সমান। এশিয়া অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৬০ শতাংশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলের শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিতে এবং জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের তেল শোধনাগারগুলো। ফলে জ্বালানি রপ্তানিও হ্রাস পাচ্ছে। এ অঞ্চলের যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে। তেল কিনতে যাচ্ছে যেসব দেশ ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পর থেকে চীন ছিল ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা। গত বছর চীনের স্বাধীন শোধনাগারগুলো প্রতিদিন গড়ে ১৩ দশমিক ৮ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল কিনেছে। চীন ছাড়াও আগে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, গ্রিস, তাইওয়ান ও তুরস্ক ছিল ইরানি তেলের প্রধান আমদানিকারক। কেপলার জানায়, চীন গত বছর দৈনিক প্রায় ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল ইরানি তেল আমদানি করেছে। যা নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেক দেশ এই তেল এড়িয়ে চলার সুযোগে সম্ভব হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর ভারত রুশ তেল সংগ্রহ করেছিল। অন্যান্য বড় এশীয় আমদানিকারকদের তুলনায় ভারতের তেলের মজুদ কম হওয়ায় দেশটি ইরানি তেল কেনার পদক্ষেপ নিচ্ছে। ভারতের শোধনাগারের তিনটি সূত্র বলছে, তারা ইরানি তেল কিনতে আগ্রহী। এ বিষয়ে বর্তমানে সরকারের নির্দেশনা ও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পেমেন্ট শর্তাবলির মতো বিষয়গুলোর স্বচ্ছতার অপেক্ষায় রয়েছে তারা। আমদানিতে যে জটিলতা তবে ইরানি তেল কেনার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তেল ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে অন্যতম হলো—কিভাবে অর্থ প্রদান করা হবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা এবং সমুদ্রে থাকা তেলের একটি বড় অংশ পুরোনো ‘শ্যাডো ফ্লিট’ জাহাজে বহন করা হচ্ছে। এ ছাড়া কিছু পূর্ববর্তী ক্রেতা ইরানি তেল কম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিল বলে দুটি শোধনাগার সূত্র জানিয়েছে। তবে ২০১৮ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর থেকে ইরানি তেলের বড় একটি অংশ তৃতীয় পক্ষের ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
মাইক্রোসফটের কার্যালয়ে হামলা-দোহায় ফের বিস্ফোরণ
ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মাইক্রোসফট অফিসে আঘাতের দাবি; স্পেন-যুক্তরাজ্যের ভিন্ন অবস্থান, ইরানের পাশে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রতিশোধমূলক অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার (২ মার্চ) ইসরাইলে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও শিল্প স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এ হামলা পরিচালিত হয়েছে। বীরশেবায় সামরিক কমপ্লেক্সে হামলার দাবি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ১১ তম ঢেউ ইসরাইলের বীরশেবা শহরকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, বীরশেবায় অবস্থিত ইসরাইলি সেনাবাহিনীর একটি যোগাযোগ ও শিল্প কমপ্লেক্সে আঘাত হানা হয়েছে। পরে প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখানো ভবনটিকে লক্ষ্যবস্তু বলে দাবি করা হয়। ওই কমপ্লেক্সে কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট -এর অফিসও আছে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এ বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে হামলার দাবি ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, তেল আবিবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এবং বিমানবাহিনীর কমান্ডারের সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। হামলার সময় নেতানিয়াহু কোথায় ছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইসরাইলি প্রশাসনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নেতানিয়াহু বেইত শেমেশ সফর বাতিল করেন। স্পেনের ঘাঁটি ব্যবহারে ‘না’ ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা যৌথ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি Spain। দেশটির রোটা ও মোরন ঘাঁটি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান হামলায় ব্যবহার করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ  যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ‘একতরফা সামরিক পদক্ষেপ’-এর সমালোচনা করে একে ‘অন্যায় ও বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের অভিযান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস জানান, স্পেনের ঘাঁটিগুলো কেবল দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও জাতিসংঘ সনদের কাঠামোর মধ্যেই ব্যবহৃত হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রবেলসও  একই অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। ইরানের পাশে থাকার ঘোষণা চীনের মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় জোরালো সমর্থন জানিয়েছে চীন । দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই  ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে ফোন করে বেইজিংয়ের অবস্থান পরিষ্কার করেন। চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যুদ্ধ বন্ধে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার কথা বলেছে। যুক্তরাজ্য সরাসরি হামলায় অংশ নেবে না ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় সরাসরি অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার । তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্য সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছে না। একই ধরনের অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে ফ্রান্স ও জার্মানিও প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান-ইসরাইল পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশসমূহ এবং চীনের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এদিকে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সামরিক উত্তেজনা যেন পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ না নেয়—সেই আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে।   কাতারের দোহায় ফের বিস্ফোরণ   কাতারের রাজধানী দোহায় নতুন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার ফলে এ বিস্ফোরণ হতে পারে। সোমবার (২ মার্চ) রাতে নতুন করে এ বিস্ফোরণ হয়। এর আগে এদিন কাতারের শিল্পনগরী রাস লাফানের একাধিক জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানে ইরানের ড্রোন। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে, কাতারের বিমানবাহিনী দেশটির দিকে আসা দুটি ইরানি জেট গুলি করে নামিয়েছে এবং কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনও প্রতিহত করেছে বলে দাবি করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩, ২০২৬ 0
আমীন আল রশীদ
খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ ইরান কীভাবে নেবে?

আমীন আল রশীদ:  ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যার মতো অবিশ্বাস্য ঘটনা কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে? এর আগে আরও একাধিকবার ইরান-ইসরায়েল তথা ইরান অ্যামেরিকা সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুর নানা শঙ্কা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত যুদ্ধটা পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে গড়ায়নি বা রাশিয়া ও চীনের মতো পরাক্রমশালী দেশগুলো এই যুদ্ধে জড়ায়নি। কিন্তু খামেনিকে হত্যা পুরো দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে কি না; যে খামেনিকে ইরানের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখে; একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করে—তাকে হত্যার মধ্য দিয়ে ইসরায়েল ও অ্যামেরিকা সত্যিই ইরানের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিলো কি না—সেটি এখন বড় প্রশ্ন। আর সত্যিই যদি এই যুদ্ধে ইরানের পক্ষে রাশিয়া, চীন ও তুর্কিয়ে সমর্থন জানিয়ে তারাও যুদ্ধ ঘোষণা করে, তাহলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঠেকানো হয়তো সত্যিই কঠিন হবে। গত বছরের ১০ মে দ্য গার্ডিয়ানের একটি বিশ্লেষণে নজর দেয়া যাক। Are we heading for another world war – or has it already started শিরোনামে গার্ডিয়ানের কূটনৈতিক সম্পাদক প্যাট্রিক উইন্টুরের ওই বিশ্লেষণে বলা হয়: বিশ্ব যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির ৮০তম বার্ষিকী পালন করলো, তখন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা যেন আরও ঘণীভূত হচ্ছে। যুক্তরাজ্য সরকারের কৌশলগত প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ফিওনা হিলের বরাতে বলা হয়, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে, আমরা কেবল তা স্বীকার করছি না। বিজ্ঞাপন সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মিলিব্যান্ড চ্যাথাম হাউসকে উদ্ধৃত করে ওই বিশ্লেষণে বলা হয়, বিশ্ব সব সময়ই পরিবর্তিত হচ্ছে—এ কথা আমরা শুনে থাকি। কিন্তু এবার সত্যিকারের ভূরাজনৈতিক রূপান্তর ঘটছে। ১৯৮৯-৯০ সালের মতোই তাৎপর্যপূর্ণ, যখন শীতল যুদ্ধ থেকে একমেরু বিশ্বে রূপান্তর হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসন এই পরিবর্তনের লক্ষণ এবং কারণ। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের ভাষায়: সবাই স্বস্তির জায়গা থেকে ছিটকে পড়েছে। রাজনৈতিক অরণ্যে যে শব্দ শোনা যাচ্ছে, তা বিকল্প খোঁজার মরিয়া প্রচেষ্টা। মানুষ নিজেদের অবস্থান ও সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করছে। এটি এক বিশাল ধাক্কা।ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ গাজাকে ছয় মাসের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার কথা বলেছেন। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব প্রয়োগের ঘোষণাও দিয়েছেন। শনিবার ভোরে পূর্বঘোষণা ছাড়াই ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। নিশানা হয় একটি বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়সহ একটি বালিকা বিদ্যালয়ও। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী প্রাণ হারান।রবিবার তেহরান জানায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও। এই হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরান। প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৩ জুন ইরানের ওপর ইসরায়েলের আকস্মিক বিমান হামলার ঘটনায়ও এই প্রশ্নটি সামনে এসেছিল যে, এই যুদ্ধ কি আদৌ বিশ্বযুদ্ধের দিকে যেতে পারে? ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলা এবং তার পাল্টা জবাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ—এই দুইয়ের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়, তার পরিণতি আসলে কী হবে? তখন অবশ্য যুদ্ধটা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং বিশশ্বযুদ্ধের মতো আরেকটি ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়নি এই গ্রহবাসীকে। কিন্ত এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। এবার ইসরায়েল ও তার প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ইরানিদের কলিজায় আঘাত করেছে। তারা এমন একজন মানুষকে হত্যা করেছে, যিনি ইরানের কেন্দ্রবিন্দু। খামেনি ইরানিদের কাছে একটি অনুভূতির নাম। সেই অনুভূতিতে চরম আঘাতের জবাব ইরান কীভাবে দেবে এবং সেই জবাবে তার মিত্ররা তার পাশে থাকবে কি না বা থাকলেও তার ধরন কী হবে—এরকম নানা যদি কিন্তুর ওপর নির্ভর করছে বিশ্ব আরেকটি বিভীষিকাময় বিশ্বযুদ্ধের দিকে যাবে কি না এবং শেষ পর্যন্ত কোনো একটি দেশ পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে কি না। খামেনি নিহত হওয়ায় ইরানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘মানবতার সবচেয়ে নিষ্ঠুর সন্ত্রাসী ও জল্লাদদের হাতে তার শহীদ হওয়া এই মহান নেতার বৈধতার প্রমাণ এবং তার আন্তরিক সেবার প্রতি জনগণের স্বীকৃতির নিদর্শন।’ আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘ইরানি জাতির প্রতিশোধের হাত তাদের ছাড়বে না।’ শেষ পর্যন্ত আলোচনা ও সমঝোতার পথ এড়িয়ে যদি উভয়পক্ষই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যেও আরেকটি ইউক্রেইন তৈরি হবে এবং যুদ্ধটা হবে দীর্ঘস্থায়ী—যার ফল ভোগ করতে হবে তেলসমৃদ্ধ ধনী আরব রাষ্ট্রগুলোকেও—যেসব দেশে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি তথা এশিয়ান মানুষ জীবিকা অর্জনের জন্য কাজ করেন। এই যুদ্ধ তখন বাংলাদেশের মতো দুর্বল অর্থনীতির দেশের ওপর সরাসরি আঘাত হানবে—যা মোকাবিলা করার শক্তি ও সামর্থ্য হয়তো বাংলাদেশের নেই তবে ইরান প্রতিশোধ নিলে ‘আরও কঠোর’ হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, ইরান যদি প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এমন হামলা করবে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। রবিবার নিজের ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান এই মাত্র বলেছে, তারা আজ খুব জোরালোভাবে আঘাত হানবে, এমনভাবে যা আগে কখনো হয়নি। তাদের এটি করা উচিত না। কারণ যদি তারা করে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে এমন শক্তি প্রয়োগ করবো যা আগে কখনো দেখা যায়নি।’ মনে রাখতে হবে, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। শুধু ইউক্রেন যুদ্ধের ফলেই বিশ্বব্যাপী গম তথা আটাজাতীয় খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। এসব পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এবার ইরানের আক্রমণের পরপরই তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের মধ্যে অবস্থিত একটা চ্যানেল বা খাল। এর প্রবেশ এবং প্রস্থানপথ প্রায় ৫০ কিলোমিটার প্রশস্ত। মধ্যবর্তী স্থানে এর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ প্রায় ৪০ কিলোমিটার প্রশস্ত। তবে এই প্রণালির কেন্দ্রীয় অংশ বড় জাহাজের চলাচল করার জন্য যথেষ্ট গভীর। বিশ্ব তেল রপ্তানির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালী। উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর রপ্তানির বড় অংশ এই প্রণালী দিয়ে সম্পন্ন হয়। সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশ এখান দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তেল পাঠায়। সরু এ সামুদ্রিক পথটি ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরকে যুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) অনুমান, ২০২৩ সালের প্রথমার্ধে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল এই প্রণালি দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রতি বছর সমুদ্রপথে পরিবহন করা প্রায় ৬০ হাজার কোটি ডলার মূল্যের জ্বালানি বাণিজ্যের সমতুল্য এটি। সুতরাং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হলে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে দেরি হতে পারে এবং এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে তেলের দামের ওপর।এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য যেসব দেশ উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরানের কাছে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা অনেকটা পারমাণবিক অস্ত্র রাখার মতোই। একে প্রতিরোধ ক্ষমতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। খামেনির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ইরান হয়তো সেই প্রতিরোধ ক্ষমতারই প্রয়োগ করলো। সেইসাথে এবার আক্রান্ত হওয়ার পরপরই ইরান পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সকল মিত্ররাষ্ট্রে হামলা চালিয়েছে। এই হামলাগুলো ব্যাপক বিধ্বংসী না হলেও এগুলো মধ্যে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে যে, আক্রান্ত হলে জবাব দেয়ার মুরদ ইরানের আছে। এইসব হামলার আরেকটি ইঙ্গিত হলো, পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলা। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে তেলসমৃদ্ধ আরব দেশগুলোর শাসকরা এরকম পরিস্থিতিতে একযোগে ইরানের ওপর হামলা চালাবে নাকি নিজেদের জনগণ ও সম্পদ রক্ষায় যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা করবে, সেটি বড় প্রশ্ন। তাছাড়া ইরানের ওপর ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং মার্কিন মিত্র আরব দেশগুলো একযোগে হামলা চালালে তখন ইরানকে রক্ষার নৈতিক দায়িত্ব এসে বর্তাবে রাশিয়া, চীন ও তুর্কিয়ের ওপর। তখন বিশ্বযুদ্ধ ঠেকানো কঠিন হবে। তবে শেষ পর্যন্ত সেদিকে হয়তো যুদ্ধটা যাবে না। কেননা, এবার বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে পরমাণ অস্ত্রের ব্যবহার ঠেকানো মুশকিল হবে। এর ভয়াবহতা বিশ্ববাসী জানে। অতএব এরকমএকটি আত্মঘাতি যুদ্ধে পরাক্রমশালী দেশগুলো জড়াবে কি না, সেটি বড় প্রশ্ন। তার চেয়ে বড় প্রশ্ন যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘ কী করছে? তেহরানে অ্যাস্ট্রেলিয়ার সাবেক কূটনৈতিক প্যাট্রিক গিবন্স মনে করেন, আগামী এক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ অনেক কিছু স্পষ্ট করে দেবে। খামেনির চারপাশে থাকা কট্টরপন্থীরা প্রতিশোধের রাজনীতি চালিয়ে যেতে পারেন এবং ইসরায়েল, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করতে পারেন। আবার তারা বাস্তবতা মেনে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতেও পারেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আসলে ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলতে চান। এর সঙ্গে ইরানে গণতন্ত্র তথা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রক্রিয়ার দাবিও রয়েছে। ইরান সরকার নিজেই সম্প্রতি বড় ধরনের বিক্ষোভ মোকাবিলা করেছে। সরকারের পতন হয়ে যাওয়া সময়ের ব্যাপার অনেকে এমনটাও বলছিলেন। সব মিলিয়ে একদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং স্বয়ং খামেনির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হলো, সেটি ইরানকে সমঝোতার দিকে নিয়ে যাবে নাকি আরও বেশি প্রতিশোধপরাণ করবে, সেটি নির্ভর করবে ইরান তার মিত্রদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছে—তারওপর। তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনা ও সমঝোতার পথ এড়িয়ে যদি উভয়পক্ষই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যেও আরেকটি ইউক্রেইন তৈরি হবে এবং যুদ্ধটা হবে দীর্ঘস্থায়ী—যার ফল ভোগ করতে হবে তেলসমৃদ্ধ ধনী আরব রাষ্ট্রগুলোকেও—যেসব দেশে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি তথা এশিয়ান মানুষ জীবিকা অর্জনের জন্য কাজ করেন। এই যুদ্ধ তখন বাংলাদেশের মতো দুর্বল অর্থনীতির দেশের ওপর সরাসরি আঘাত হানবে—যা মোকাবিলা করার শক্তি ও সামর্থ্য হয়তো বাংলাদেশের নেই। আমীন আল রশীদ: সাংবাদিক ও লেখক।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১, ২০২৬ 0
ড্রোন হামলা
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার তিন শহরে ড্রোন হামলা আফগানিস্তানের

দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের তিনটি শহরে আফগানিস্তান থেকে ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও পাকিস্তান সরকার দাবি করেছে, সব ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তাতার জানিয়েছেন, আফগানিস্তান থেকে ড্রোন উড়ে আসে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের অ্যাবোটাবাদ, সোয়াবি ও নোসেরা এলাকায়। তবে প্রতিরক্ষা বাহিনীর ড্রোন বিধ্বংসী ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় হয়ে সব ড্রোন ধ্বংস করে দেয়। পাল্টা দাবি আফগানিস্তানের এর আগে আফগান তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করে, তাদের বিমানবাহিনী পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি  সামরিক স্থাপনাসহ একাধিক স্থানে সফল হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ইসলামাবাদের ফয়জাবাদ, নোসেরার একটি সেনা ক্যাম্প, জামরুদের একটি সেনা ঘাঁটি এবং অ্যাবোটাবাদের একটি সামরিক কমপ্লেক্সে আঘাত হানা হয়েছে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের রাজধানী কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাব হিসেবেই এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছে। সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি সেনাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় আফগান বাহিনী। এরপর পাকিস্তান পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করে, যা শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। যদিও উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ বলে দাবি করছে, তবুও সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও সংকটময় করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে বারবার সংঘর্ষ এবং ড্রোন ও বিমান হামলার অভিযোগ দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। এদিকে, আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
পাকিস্তানের ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত: দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান চীন ও রাশিয়ার,মধ্যস্থতার প্রস্তাব ইরানের

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। সীমান্ত পেরিয়ে সহিংসতা বিস্তৃত হওয়ার প্রেক্ষাপটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশ দুটি। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ একাধিক বড় শহরে বিমান হামলা চালানোর পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, পরিস্থিতির অবনতিতে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। তিনি বলেন, “চীন সংঘাতের উত্তেজনা বৃদ্ধিতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছি। যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করে আরও রক্তপাত এড়ানো উচিত।” মাও নিং আরও জানান, চীন নিজস্ব কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার বিরোধ নিরসনে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং উত্তেজনা প্রশমনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত রয়েছে। এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে অবস্থিত চীনা দূতাবাসগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলেও জানান তিনি। রাশিয়ার অবস্থান রাশিয়ার বার্তা সংস্থা আরআইএয়ের খবরে বলা হয়, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে অবিলম্বে সীমান্তবর্তী হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে। মস্কো বলেছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় উভয় পক্ষের সংযম অত্যন্ত জরুরি। ইরানের মধ্যস্থতার প্রস্তাব প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সংঘাত নিরসনে সংলাপ আয়োজনের মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে “ভালো প্রতিবেশীর মতো সম্পর্ক বজায় রাখা এবং সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য সমাধান” করার আহ্বান জানান। এর আগেও সীমান্ত উত্তেজনা বৃদ্ধির সময় একই ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিল তেহরান। আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জাতিসংঘের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক। বার্তা সংস্থা বিবিসির খবরে বলা হয়, গুতেরেস উভয় দেশকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অন্যদিকে, ভলকার তুর্ক সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। সংঘাতের পটভূমি বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সীমান্তে পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে তালেবান বাহিনী হামলা চালায়। জবাবে তালেবানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা চালায়। এ পর্যন্ত উভয়পক্ষের অন্তত ১৮০ জন নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ না নেওয়া হলে এই সংঘাত আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকিতে রূপ নিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0