ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরাসরি সামরিকভাবে জড়িত ছিল বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। পত্রিকাটির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের শুরু থেকেই আবুধাবি কেবল কূটনৈতিক বা গোয়েন্দা সহায়তা দেয়নি; বরং ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক বিমান হামলায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। শুক্রবার (৩০ মে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পাশাপাশি ইউএই কার্যত এই সামরিক অভিযানের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে। এমনকি গত এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও আমিরাতের সামরিক তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কোন কোন স্থাপনায় হামলার দাবি? প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সরবরাহ করা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হামলাগুলো সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়েছিল। লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও জ্বালানি অবকাঠামোকে। এর মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালির কিশমি ও আবু মুসা দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, লাভান দ্বীপের তেল শোধনাগার এবং আসালুয়েহ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স। বিশেষ করে আসালুয়েহ কমপ্লেক্সে কথিত যৌথ হামলাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ঘটনার পর ওয়াশিংটন ইসরাইলকে ইরানের জ্বালানি খাতে হামলা সীমিত রাখার আহ্বান জানাতে বাধ্য হয়। প্রকাশ্য অবস্থান ও গোপন বাস্তবতা? সংঘাত শুরুর আগে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিল যে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তারা নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আবুধাবি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সরাসরি অভিযানে অংশ নেয়। এই অভিযোগ সত্য হলে তা উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামো এবং আঞ্চলিক কূটনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। ইরানের পাল্টা হামলা ও আঞ্চলিক ঝুঁকি প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইউএইর ভূমিকার প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন শহর, বিমানবন্দর এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। সংবাদমাধ্যমটির দাবি অনুযায়ী, পুরো সংঘাতের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ২ হাজার ৮০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখোমুখি হয়। যদিও এসব সংখ্যার বিষয়ে স্বাধীন আন্তর্জাতিক সূত্রের যাচাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সৌদি-আমিরাত সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন? প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউএইর এই ভূমিকা উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যকার নীতিগত বিভাজনও সামনে নিয়ে এসেছে। গত এপ্রিলের শুরুতে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গোপনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলে দাবি করা হয়েছে। রিয়াদের আশঙ্কা ছিল, আমিরাতের সামরিক পদক্ষেপের কারণে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা পুরো অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি নেতৃত্ব ওয়াশিংটনকে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোতে এবং আবুধাবির ওপর চাপ প্রয়োগ করতে অনুরোধ জানায়। একই সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত সামরিক অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন ইউএইর প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ। অর্থনীতিতে যুদ্ধের প্রভাব ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সংঘাতের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতিও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়া, পর্যটন খাতে রাজস্ব হ্রাস এবং আবাসন বাজারে স্থবিরতার কারণে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক খাতগুলো ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বাধ্যতামূলক ছুটি এবং জনবল ছাঁটাইয়ের পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া এপ্রিলের শেষ নাগাদ দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য হারিয়ে যায় এবং প্রায় ১৮ হাজার ৪০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিবেদন? মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কিন্তু ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশগ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বরং উপসাগরীয় জোটরাজনীতি, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য কৌশল নিয়েও নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এই দাবিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং স্বাধীন যাচাই এখনো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। ইরানের নতুন সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ‘পারসিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথোরিটি’র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। একই সময়ে ওমানকে প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির পরও হরমুজকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত সংঘাত থামেনি; বরং তা এখন অর্থনীতি, সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ ও কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। নতুন নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য কী? যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের ‘পারসিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথোরিটি’ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায় করছে এবং কার্যত আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের ওপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের এই উদ্যোগ “বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্য থেকে অর্থ আদায়ের একটি মরিয়া প্রচেষ্টা”, যা দেশটির গভীর অর্থনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত বহন করে। ওয়াশিংটনের দাবি, যারা এই ফি পরিশোধ করবে তারাও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের মতে এই অর্থ শেষ পর্যন্ত ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে। মার্কিন প্রশাসন আরও দাবি করেছে, নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে তারা ইতোমধ্যে ইরানকে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্ভাব্য রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত করেছে। হরমুজে ইরানের নতুন নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গত ২০ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক পোস্টে ‘পারসিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথোরিটি’ হরমুজ প্রণালির একটি “নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক অঞ্চল” ঘোষণা করে। সেখানে প্রকাশিত মানচিত্রে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যবর্তী জলসীমায় বিশেষ নিয়ন্ত্রণ রেখা দেখানো হয়। ইরানের দাবি, এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, ইরান “নেভিগেশনাল সার্ভিস” বাবদ ফি নিচ্ছে, এটিকে টোল হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আশঙ্কা, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান কার্যত আন্তর্জাতিক জলপথের ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথে যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে প্রভাবিত করে। যুদ্ধবিরতির আড়ালে অব্যাহত সামরিক উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে নতুন হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে বড় আকারের সংঘাত শুরু হয়। জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। যুদ্ধের সময় তেহরানে বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি। পরে তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তিনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি। তবে বৃহস্পতিবার ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক লিখিত বার্তায় তিনি জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কয়েক সপ্তাহের ভয়াবহ হামলার পরও ইরান “শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে” এবং দেশের পুনর্গঠনের জন্য রাজনৈতিক বিভাজন এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি আইন প্রণয়ন ও নজরদারি আরও জোরদারের আহ্বান জানান এবং পার্লামেন্টকে দেশের অগ্রযাত্রার “সম্মুখ সমরের পরিখা” হিসেবে বর্ণনা করেন। ওমানকে ট্রাম্পের সরাসরি হুমকি এই উত্তেজনার মধ্যেই নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে ওমানকে নিয়ে। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে যৌথভাবে ফি আদায়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান। মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কেউ এটি নিয়ন্ত্রণ করবে না।” এরপর ওমানকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, “ওমানকে ভদ্র আচরণ করতে হবে। না হলে আমাদের তাদের উড়িয়ে দিতে হবে।” ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু ওমানকে লক্ষ্য করে নয়; বরং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতি একটি কৌশলগত বার্তা। কূটনীতি কেন স্থবির? যুদ্ধবিরতির পর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পর্দার আড়ালে পরোক্ষ আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমঝোতা হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে আলোচনা দীর্ঘায়িত করছে এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত সময়ক্ষেপণের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার সম্ভাব্য ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা করে বলেছেন, এতে সামরিক অভিযানের অর্জন “বৃথা” যেতে পারে। বৈশ্বিক অর্থনীতির সামনে নতুন ঝুঁকি ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তেল সরবরাহ ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ইরান হরমুজে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে অথবা যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ বাড়ায়, তাহলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন ধাক্কা সৃষ্টি করতে পারে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে সামরিক সংঘাত, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল—সবকিছুই একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ খাতকে একসময় জ্বালানি সংকট মোকাবিলার সম্ভাবনাময় বিকল্প হিসেবে দেখা হলেও, অভিযোগ উঠেছে যে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নীতিগত দুর্বলতার কারণে এই খাত তার গতি হারিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ খাত কাঙ্ক্ষিতভাবে বিকশিত হতে পারেনি। আইন ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন বিশ্লেষকদের অভিযোগ, ২০১০ সালের ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন’ এই খাতে স্বচ্ছতার ঘাটতি তৈরি করেছে। এই আইনের আওতায় প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার ছাড়াই প্রকল্প অনুমোদনের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে, পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া এবং বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনার মতো অভিযোগ সামনে আসে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এসব ক্ষেত্রে অসম চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে বলে দাবি করা হয়। ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যেখানে প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় ব্যয় হওয়া উচিত প্রায় ৮ কোটি টাকা, সেখানে কিছু প্রকল্পে এই ব্যয় দাঁড়িয়েছে গড়ে ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সংস্থাটি দাবি করে, মাত্র ছয়টি প্রকল্পেই প্রায় ২ হাজার ৯২৬ কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে। এছাড়া জমি অধিগ্রহণে জালিয়াতির মাধ্যমে আরও প্রায় ২৪৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। কৃষিজমিকে অকৃষি দেখানো এবং ভুয়া মৌজা দর ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সিন্ডিকেট ও প্রভাবের অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের মতে, এই খাতে উচ্চপদস্থ আমলা ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করেছে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পের ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ (এলওআই) পেতে রাজনৈতিক সুপারিশ প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সরকারি নিয়মে ১৮ মাসে প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা থাকলেও, এলওআই পেতেই লেগে যেত দুই থেকে তিন বছর। এই দীর্ঘসূত্রতা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করেছে। সময়ের সঙ্গে প্রকল্প ব্যয় বাড়লেও অনুমোদন প্রক্রিয়া একই গতিতে চলেনি। অদক্ষ প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ অভিযোগ রয়েছে, দক্ষ প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে প্রভাবের মাধ্যমে অদক্ষ প্রতিষ্ঠানও প্রকল্প পেয়েছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাত সংশ্লিষ্ট একজন উদ্যোক্তা বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে কাজ পাওয়ার পেছনে যোগ্যতার চেয়ে প্রভাব বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।” আঞ্চলিক তুলনায় পিছিয়ে বাংলাদেশ জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির খরচ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। ভারতে যেখানে প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুতের দাম প্রায় ৩ সেন্ট, পাকিস্তানে ০.৩২ সেন্ট এবং চীনে ০.৪৫ সেন্ট, সেখানে বাংলাদেশে এই খরচ ছিল ১২ সেন্টেরও বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যবধান নীতিগত দুর্বলতা ও অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়। নীতিমালার অসংগতি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায়ও অসংগতি ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন নীতিমালায় ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— একটিতে ২০২৩ সালে ২০% অন্যটিতে ২০৩০ সালে ১০% আবার কোথাও ২০২৫ সালে ৪০% লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এই অসামঞ্জস্য বিনিয়োগকারীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ভবিষ্যৎ ভাবনা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান জ্বালানি সংকট নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে। তারা মনে করেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে সৌরবিদ্যুৎ খাত গড়ে তোলা গেলে বাংলাদেশ জ্বালানি নিরাপত্তায় অনেকটাই এগিয়ে থাকতে পারত।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে জ্বালানি ও বাণিজ্য প্রবাহে নতুন কৌশলগত বাস্তবতা তৈরি করছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য অস্থিরতা বাড়তে থাকায় সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প স্থল ও পাইপলাইনভিত্তিক বাণিজ্য করিডোর গড়ে তোলার উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরাকের বহুল আলোচিত ২৪ বিলিয়ন ডলারের ‘ডেভেলপমেন্ট রোড’ প্রকল্পকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক উদ্যোগগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরাকের ডেভেলপমেন্ট রোড: নতুন ভূরাজনৈতিক করিডোর মধ্যপ্রাচ্য কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের বিশ্লেষক মুহানাদ সেলুম বলছেন, পরিকল্পনাটি ইরাকের গ্র্যান্ড ফাও বন্দর থেকে শুরু হয়ে তুরস্ক হয়ে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি পরিবহন করিডোর তৈরির দিকে এগোচ্ছে। তার মতে, “যুদ্ধকালীন বাস্তবতায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা।” এই করিডোর বাস্তবায়িত হলে বসরা অঞ্চলের মাধ্যমে কনটেইনার পরিবহন বৃদ্ধি পাবে এবং ইরান-নিয়ন্ত্রিত জলপথ এড়িয়ে বাণিজ্য প্রবাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে ইরাকের ওপর তেহরানের ভূরাজনৈতিক প্রভাবও হ্রাস পেতে পারে। উপসাগরজুড়ে বিকল্প অবকাঠামোর বিস্তার ইরাকের বাইরে পুরো অঞ্চলে জ্বালানি ও বাণিজ্য পরিবহনের বিকল্প পথ তৈরি করতে একাধিক বড় প্রকল্প এগোচ্ছে। সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পেট্রোলাইন বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল পরিবহন সক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং এর সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এডিসিওপি পাইপলাইনও পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহৃত হচ্ছে এবং দ্বিতীয় একটি লাইন চালুর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তুরস্কের জাঙ্গেজুর ও তথাকথিত মিডল করিডোর প্রকল্পও ইরানকে পাশ কাটিয়ে ককেশাস অঞ্চলের মাধ্যমে ইউরোপমুখী নতুন বাণিজ্য পথ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রকল্প পুরোপুরি কার্যকর হতে আরও চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। হরমুজ: এখনো গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু একমাত্র নয় বিশ্লেষক সেলুমের মতে, হরমুজ প্রণালি এখনো বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটিকে আর একমাত্র নির্ভরযোগ্য পথ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তার ভাষায়, চলমান সংঘাত ও আঞ্চলিক ঝুঁকির কারণে “এই পরিবর্তন স্থায়ী হতে পারে” এবং জ্বালানি রুটের বৈচিত্র্য আরও বাড়বে। ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি ও কূটনৈতিক উত্তেজনা এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তার মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে কঠোর বার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরান সতর্ক করে বলেছে, তাদের তেল অবকাঠামো বা স্থাপনায় হামলা হলে, সেই হামলাকে সমর্থনকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসমাইল সাকাব ইসফাহানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে বলেন, কোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব “সমপরিমাণ নয়, বরং চারগুণ” আকারে দেওয়া হবে। তার ভাষায়, “যদি আমাদের একটি তেল শোধনাগারে হামলা হয়, আমরা চারটি শোধনাগারে হামলা চালাব।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উদ্দেশে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ট্রাম্পের মন্তব্য ও অর্থনৈতিক চাপের ইঙ্গিত এই উত্তেজনার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যও প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের অর্থনীতি চাপের মধ্যে রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির কারণে দেশটির জ্বালানি সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। ট্রাম্প আরও বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে ইরানের তেল পরিবহন ব্যবস্থা কয়েক দিনের মধ্যেই অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে। তার এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের রাজনৈতিক মহল থেকে পাল্টা বক্তব্য আসে, যেখানে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলার সক্ষমতার কথা তুলে ধরা হয়। রাজনৈতিক বার্তা ও বাজারের চাপ ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এক্স-এ এক পোস্টে জ্বালানি সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য নিয়ে একটি প্রতীকী সমীকরণ তুলে ধরেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, হরমুজ, বাব এল-মান্দেব ও বিভিন্ন পাইপলাইনকে কাজে লাগিয়ে ইরান বিশ্ববাজারে চাপ তৈরি করতে সক্ষম। তিনি সতর্ক করে বলেন, আসন্ন গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে জ্বালানি চাহিদা বাড়বে এবং তখন হরমুজে অস্থিরতা দেখা দিলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এর রাজনৈতিক প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনেও পড়তে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পরিবর্তনশীল মধ্যপ্রাচ্য হরমুজ সংকট ঘিরে এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে বিকল্প বাণিজ্য ও জ্বালানি করিডোর গড়ে ওঠার চেষ্টা, অন্যদিকে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা—দুই প্রবণতা একসঙ্গে এগোচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক বছর এই অঞ্চল শুধু জ্বালানি নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য মানচিত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তনের সাক্ষী হতে পারে।
আব্দুর রহমান: বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত বাড়ছে—শিল্প, পরিবহন, বিদ্যুৎ—সব ক্ষেত্রেই জ্বালানির চাহিদা বেড়েই চলেছে। কিন্তু এই চাহিদার বড় অংশই পূরণ হচ্ছে আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের মাধ্যমে। বৈশ্বিক বাজারে দামের অস্থিরতা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং পরিবেশগত ঝুঁকি—সব মিলিয়ে এই নির্ভরতা এখন বড় এক কৌশলগত প্রশ্নের মুখে ফেলেছে দেশকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনীতি, পরিবেশ রক্ষা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে বিকল্প জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়া ছাড়া আর কোনো বাস্তবসম্মত পথ নেই। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য কয়েকটি উৎস বিশেষভাবে সম্ভাবনাময় হয়ে উঠছে। সূর্যের আলোয় শক্তির সম্ভাবনা বাংলাদেশে বছরের অধিকাংশ সময়ই সূর্যালোক পাওয়া যায়—এই প্রাকৃতিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সৌর শক্তি হতে পারে জ্বালানি রূপান্তরের প্রধান ভরকেন্দ্র। গ্রামাঞ্চলে ঘরের ছাদে ছোট সোলার সিস্টেম, শহরে রুফটপ সোলার, এমনকি বড় আকারের সোলার ফার্ম—সবই এখন আলোচনায়। সেচের জন্য সৌরচালিত পাম্পও কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। এ ক্ষেত্রেইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড এর নেতৃত্বে বাস্তবায়িত সোলার হোম সিস্টেম কর্মসূচি বিশ্বে অন্যতম বৃহৎ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—এই সাফল্যকে কীভাবে শিল্প ও নগর পর্যায়ে বড় আকারে সম্প্রসারণ করা যাবে? উপকূলে বাতাসের শক্তি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল—বিশেষ করে কক্সবাজার, কুয়াকাটা এবং চট্টগ্রাম—বায়ু শক্তির জন্য সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এখানে গড় বাতাসের গতি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় উইন্ড টারবাইন বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। তবে এখনো বড় পরিসরে এই খাতের উন্নয়ন সীমিত। গবেষকরা বলছেন, সঠিক ডেটা সংগ্রহ ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে পারলে বায়ু শক্তি দেশের জ্বালানি মিশ্রণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে। গ্রামে গ্রামে বায়োগ্যাস গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি উৎস হলো বায়োগ্যাস। গবাদিপশুর গোবর, কৃষি বর্জ্য ও জৈব বর্জ্য থেকে উৎপন্ন এই গ্যাস রান্নার কাজে যেমন ব্যবহারযোগ্য, তেমনি ছোট পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও কাজে লাগানো যায়। এটি শুধু জ্বালানির বিকল্প নয়—বরং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কৃষির জন্য জৈব সার উৎপাদনের ক্ষেত্রেও কার্যকর সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে। কৃষিভিত্তিক শক্তি: বায়োমাস ধানের তুষ, খড়, আখের বর্জ্য বা কাঠের অবশিষ্টাংশ—যা একসময় অপচয় হতো—সেগুলোই এখন শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো কৃষিনির্ভর দেশে বায়োমাস শক্তি বাস্তবায়ন তুলনামূলক সহজ। তবে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জলবিদ্যুৎ বাংলাদেশে বড় নদী থাকলেও উচ্চতার তারতম্য কম হওয়ায় বড় আকারের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সীমিত। বর্তমানে Kaptai Dam থেকেই মূল জলবিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ি অঞ্চলে ছোট আকারের মিনি ও মাইক্রো হাইড্রো প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ এখনো কাজে লাগানো হয়নি পুরোপুরি। শহরের বর্জ্য থেকেই জ্বালানি প্রতিদিন ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে বিপুল পরিমাণ কঠিন বর্জ্য তৈরি হয়। এই বর্জ্যকে সমস্যা না দেখে সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করার ধারণা থেকেই ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি’ প্রযুক্তির বিকাশ। ল্যান্ডফিল গ্যাস বা কঠিন বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন—এই খাতটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে এটি নগর ব্যবস্থাপনার একটি বড় সমাধান হতে পারে। ভবিষ্যতের দিকচিহ্ন: সবুজ হাইড্রোজেন বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য শক্তির পরবর্তী ধাপ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে সবুজ হাইড্রোজেন। নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে পানি থেকে হাইড্রোজেন উৎপাদন করা যায়, যা পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। বাংলাদেশে এখনো এই খাত প্রাথমিক পর্যায়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি কৌশলগত বিনিয়োগের একটি ক্ষেত্র হতে পারে। বাস্তবতা বনাম সম্ভাবনা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বিকল্প জ্বালানি হলো সৌর শক্তি, বায়োগ্যাস, বায়োমাস, বায়ু শক্তি এবং বর্জ্য থেকে জ্বালানি। তবে বড় প্রশ্ন হলো—নীতিগত ধারাবাহিকতা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ—এই চারটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি ছাড়া কি এই সম্ভাবনাগুলো বাস্তবে রূপ পাবে? বাংলাদেশ যদি এই খাতগুলোকে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে পারে, তাহলে শুধু আমদানিকৃত তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোই নয়—বরং একটি টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং নিরাপদ জ্বালানি ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন এক মোড়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন, যা এই সংঘাতের গতিপথ বদলে দিতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ কমাতে ইরানি তেলের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তও আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন যুদ্ধ থামার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে ইরানের নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলছে। যুদ্ধ গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত: কৌশলগত পরিবর্তন? শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তাই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বৃহৎ সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনার বিষয়টি এখন বিবেচনায় রয়েছে। এই বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। কারণ, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতের পর এটিই প্রথমবারের মতো এত স্পষ্টভাবে সম্ভাব্য সমাপ্তির ইঙ্গিত দেওয়া হলো। তবে ট্রাম্প একইসঙ্গে জানিয়েছেন, তিনি যুদ্ধবিরতির পক্ষে নন। তার ভাষায়, “যখন প্রতিপক্ষকে কার্যত ধ্বংস করা হচ্ছে, তখন যুদ্ধবিরতির প্রয়োজন নেই।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষ করতে চাইলেও তা কোনো কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে নয়, বরং সামরিক সাফল্যের ভিত্তিতে করতে আগ্রহী। পেন্টাগনের পূর্বাভাস বনাম বাস্তবতা হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, এই সামরিক অভিযান সম্পন্ন করতে ৪৬ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে পূর্বাভাস ছিল। কিন্তু বর্তমানে মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই দাবি কতটা বাস্তবসম্মত—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। কারণ, ইরান এখনও পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ স্পষ্ট নয়। ইরানের পাল্টা আঘাত: যুদ্ধ থামার বদলে বিস্তারের ঝুঁকি যখন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তখন ইরান বিপরীত পথে হাঁটছে বলে মনে হচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনায়: সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে ২০টিরও বেশি ড্রোন হামলা চালানো হয়, যা প্রতিহত করা হয়েছে ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে কুয়েতের একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলায় আগুন লাগে কাতারের গ্যাস স্থাপনাও হামলার শিকার হয় এছাড়া জেরুজালেমের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর আশেপাশে হামলার ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে সংঘাত কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। হরমুজ প্রণালী: বৈশ্বিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু বর্তমান সংকটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান কার্যত এই প্রণালীতে চাপ সৃষ্টি করায়: তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই প্রণালী দীর্ঘ সময় অচল থাকে, তাহলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। তেলের বাজারে অস্থিরতা: মূল্যবৃদ্ধির ঢেউ সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারের বেশি হয়েছে। এর প্রভাব: পরিবহন খরচ বৃদ্ধি উৎপাদন ব্যয় বাড়া বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির চাপ ওয়াল স্ট্রিটসহ বিভিন্ন শেয়ারবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ বিনিয়োগে ঝুঁকছেন। নিষেধাজ্ঞা শিথিল: বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত? এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে—ইরানি তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের আওতায়: ২০ মার্চের আগে জাহাজে লোড করা তেল ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাজারে সরবরাহ ও বিক্রি করা যাবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের মতে, এতে প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে আসবে, যা স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ সংকট কমাতে সাহায্য করবে। এই পদক্ষেপকে অনেকেই বাস্তববাদী হিসেবে দেখছেন। কারণ, যুদ্ধ চলমান থাকলেও বৈশ্বিক জ্বালানি স্থিতিশীল রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত অগ্রাধিকার। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকা বর্তমান সংঘাতে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নয়, বরং একাধিক আঞ্চলিক শক্তি জড়িয়ে পড়েছে: সৌদি আরব নিজেদের তেল স্থাপনা রক্ষায় সক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। ইসরাইল ইরানের হামলার জবাবে পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে এবং লেবাননে অভিযান পরিচালনা করছে। তুরস্ক সিরিয়ায় ইসরাইলি হামলার সমালোচনা করেছে, যা নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয়। সিরিয়া এখনও সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি, তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ইরানের অভ্যন্তরীণ বার্তা: ‘আমরা জিতেছি’ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দাবি করেছেন, তারা শত্রুপক্ষকে বড় ধরনের আঘাত হেনেছেন। তার বক্তব্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে: জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর সামরিক সাফল্যের দাবি প্রতিপক্ষের বিভ্রান্তির কথা উল্লেখ এই ধরনের বক্তব্য সাধারণত অভ্যন্তরীণ সমর্থন ধরে রাখার কৌশল হিসেবে দেখা হয়। কূটনৈতিক শূন্যতা: আলোচনার পথ বন্ধ? ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। তবে তিনি দাবি করেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতির কারণে কার্যকর আলোচনার সুযোগ নেই। এই পরিস্থিতি কূটনৈতিক সমাধানের পথকে জটিল করে তুলছে। বিশ্লেষকদের মতে: সরাসরি সংলাপের অভাব সংঘাত দীর্ঘায়িত করতে পারে মধ্যস্থতাকারী দেশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে জাতিসংঘ বা ইউরোপীয় শক্তিগুলোর উদ্যোগ প্রয়োজন মার্কিন সামরিক উপস্থিতি: কমছে না, বাড়ছে? যদিও ট্রাম্প সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনার কথা বলেছেন, অন্যদিকে অতিরিক্ত ২,২০০–২,৫০০ মেরিন সেনা পাঠানোর খবর প্রকাশ পেয়েছে। এতে দুটি সম্ভাবনা তৈরি হয়: কৌশলগত চাপ বজায় রাখা প্রয়োজনে দ্রুত আক্রমণের প্রস্তুতি এই দ্বৈত অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলকে আরও জটিল করে তুলেছে। ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি: তিনটি সম্ভাব্য পথ বর্তমান পরিস্থিতি থেকে ভবিষ্যতে তিনটি সম্ভাব্য পথ দেখা যাচ্ছে: ১. সীমিত যুদ্ধ ও ধীরে ধীরে সমাপ্তি যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে অভিযান গুটিয়ে নেবে, তবে সরাসরি যুদ্ধ এড়াবে। ২. আঞ্চলিক যুদ্ধের বিস্তার ইরান, ইসরাইল, সৌদি আরবসহ একাধিক দেশ সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। ৩. কূটনৈতিক সমাধান আন্তর্জাতিক চাপের মুখে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান আসতে পারে। বৈশ্বিক প্রভাব: শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নয় এই সংঘাতের প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়ছে: জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা খাদ্য ও পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি বিনিয়োগ পরিবেশে অনিশ্চয়তা ভূরাজনৈতিক জোটে পরিবর্তন বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। অনিশ্চয়তার মধ্যে অপেক্ষা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি একদিকে যেমন যুদ্ধের সমাপ্তির সম্ভাবনা তৈরি করছে, অন্যদিকে নতুন সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। ট্রাম্পের বক্তব্য পরিস্থিতিকে শান্ত করার ইঙ্গিত দিলেও বাস্তবতা এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত। ইরানের ধারাবাহিক হামলা, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সক্রিয়তা এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা—সব মিলিয়ে এটি একটি বহুমাত্রিক সংকটে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে—এই সংঘাত কি ধীরে ধীরে থামবে, নাকি আরও বড় আকার ধারণ করবে?
সৌদি আরবের দুটি তেল পরিশোধনাগারে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সউদ। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রিয়াদে বিশ্বের অন্যান্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান। এ সময় তিনি জানান তাদের দুটি তেল পরিশোধনাগারে হামলা চালিয়েছে ইরান। তিনি ইরানের এই হামলাকে ‘ভুল হিসাব’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, ইরানকে নিজেদের হিসাব করতে হবে। কারণ এসব হামলায় তাদের কোনো উপকারই হবে না। ইরানে হামলা চালানোর হুমকি সৌদি আরবের ইরান গত কয়েকদিন ধরে সৌদি আরবে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যে বুধবার দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তেহরান। এমন পরিস্থিতিতে ইরানে সামরিক হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সউদ বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাতে রিয়াদে সাংবাদিকদের বলেছেন, “ইরান তাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে আলোচনাকে বিশ্বাস করে না। এর বদলে তারা প্রতিবেশীদের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছে। কিন্তু এসব চাপ কাজে দেবে না।” “সৌদি আরব চাপের কাছে হার মানবে না। এমনকি এসব চাপ হিতে বিপরীরতও হতে পারে… রাজনৈতিকভাবে, আমি বিশ্বাস করি নৈতিকভাবে এবং নিশ্চিতভাবে আমরা যেটি আগেও বলেছি, সামরিকভাবে। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার আমাদের আছে।” এদিকে রাজধানী রিয়াদে একাধিক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখান থেকে বের হয়েই তিনি এমন হুমকি দিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালীতে নৌমাইন বসানো শুরু করেছে। এই দুটি ঘটনা একত্রে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলাগুলো তাদের সামরিক অভিযানের অংশ, যার নাম “অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪”। হাইফার তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলার দাবি ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন সামরিক হামলায় ইসরায়েলের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল— হাইফা শহরের তেল ও গ্যাস শোধনাগার জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক তেলআবিবের কাছাকাছি একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র ইরানি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী এটি তাদের সামরিক অভিযানের ৩৩তম ধাপ। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কেন গুরুত্বপূর্ণ হাইফার জ্বালানি অবকাঠামো হাইফা ইসরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জ্বালানি কেন্দ্র। এই অঞ্চলে রয়েছে— দেশের প্রধান তেল শোধনাগার পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প গুরুত্বপূর্ণ বন্দর অবকাঠামো বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এসব স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে তা ইসরায়েলের জ্বালানি সরবরাহ ও শিল্প উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। তেলআবিবের কাছে স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র ধ্বংসের দাবি ইরান দাবি করেছে, তেলআবিবের কাছে একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রও তাদের হামলায় ধ্বংস হয়েছে। এই ধরনের কেন্দ্র সাধারণত ব্যবহৃত হয়— সামরিক যোগাযোগ স্যাটেলাইট ডেটা ট্রান্সমিশন গোয়েন্দা নজরদারি যদি সত্যিই এই স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তবে তা ইসরায়েলের সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে। পাল্টা হামলার যুক্তি ইরানের সামরিক বাহিনী বলছে, তাদের তেল ডিপোতে ইসরায়েলের হামলার জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে— “ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই প্রতিরোধমূলক অভিযান পরিচালিত হয়েছে।” সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে আরেকটি ঘটনা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক মিসাইলের বিরুদ্ধে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়েছে। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত প্রায় ৩টা ১৫ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে। এক বিবৃতিতে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে— দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করছে নাগরিক ও বিদেশি বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে সম্ভাব্য সব হুমকির বিরুদ্ধে প্রস্তুত রয়েছে দেশটি হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর অভিযোগ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে আরেকটি খবর। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ইরান ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালীতে নৌমাইন বসানো শুরু করেছে। সংবাদমাধ্যমের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী— গত কয়েক দিনে কয়েক ডজন মাইন বসানো হয়েছে ইরানের মাইন স্থাপনকারী জাহাজের মাত্র ২০ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে চাইলে হাজার হাজার মাইন বসানোর সক্ষমতা রয়েছে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ। এই সংকীর্ণ জলপথ— পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে বিশ্বের তেল পরিবহনের প্রধান রুট বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়। প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেলবাহী ট্যাংকার এই প্রণালী অতিক্রম করে। যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যায়? বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই পথ বন্ধ হয়ে যায় তাহলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। সম্ভাব্য প্রভাব— ১. তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে ২. বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে ৩. শিপিং খরচ ও বীমা বেড়ে যেতে পারে ৪. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় বাধা তৈরি হতে পারে ইরানের নৌ কৌশল ইরানের নৌবাহিনী ও ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড যৌথভাবে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের কৌশলের মধ্যে রয়েছে— নৌমাইন ব্যবহার দ্রুতগতির আক্রমণ নৌকা উপকূলভিত্তিক অ্যান্টি-শিপ মিসাইল বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন বোট এই কৌশলকে সামরিক বিশ্লেষকেরা বলেন “অ্যাসিমেট্রিক নেভাল ওয়ারফেয়ার”। যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের উদ্বেগ গালফ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষ করে— বাহরাইনে মার্কিন নৌবহরের ঘাঁটি কাতারে বড় বিমানঘাঁটি সৌদি আরব ও আমিরাতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এই কারণে হরমুজ প্রণালীতে কোনো সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িয়ে পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বৈরিতা রয়েছে। মূল কারণগুলো হলো— আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র রাষ্ট্রগুলোর দ্বন্দ্ব এই দ্বন্দ্ব সরাসরি যুদ্ধের রূপ না নিলেও প্রায়ই প্রক্সি সংঘাত হিসেবে দেখা যায়। সংঘাতের সাম্প্রতিক টাইমলাইন ধাপ ১ ইরানের তেল ডিপোতে হামলার অভিযোগ ধাপ ২ ইরানের সামরিক প্রতিশোধের ঘোষণা ধাপ ৩ ইসরায়েলের জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার দাবি ধাপ ৪ আমিরাত লক্ষ্য করে মিসাইল ছোড়ার অভিযোগ ধাপ ৫ হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর খবর তেলের বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইতিমধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন— সংঘাত বাড়লে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে গালফ অঞ্চলের শিপিং রুট ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু করেছে। বিশেষ করে— ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্র গালফ সহযোগিতা পরিষদ তারা উত্তেজনা কমাতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সামনে কী হতে পারে বিশ্লেষকদের মতে তিনটি সম্ভাবনা রয়েছে— ১. সীমিত সামরিক সংঘাত চলতে পারে ২. আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে পারে ৩. বড় আকারের আঞ্চলিক সংঘাত শুরু হতে পারে ইরান ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। হাইফার জ্বালানি স্থাপনায় হামলার দাবি, আমিরাত লক্ষ্য করে মিসাইল ছোড়া এবং হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর অভিযোগ— এই তিনটি ঘটনা একত্রে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে এটি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্যও বড় সংকট তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশে হঠাৎ করে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন, রেশনিং করে তেল সরবরাহ এবং অতিরিক্ত তেল মজুতের অভিযোগ—সব মিলিয়ে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় গাড়িচালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ তেল না পেয়ে গণপরিবহনে অফিসে যাওয়া শুরু করেছেন। এই পরিস্থিতির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে বাংলাদেশে শিগগিরই জ্বালানি তেলের বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি কি সত্যিই এতটা সংকটপূর্ণ? সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বলছে, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। তবে বিপিসির সর্বশেষ মজুত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—বিভিন্ন জ্বালানি তেলের সরবরাহ সক্ষমতা ১৩ দিন থেকে ৭১ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এতে প্রশ্ন উঠেছে—এই মজুত কতটা নিরাপদ? পেট্রোল পাম্পে লম্বা লাইন: আতঙ্ক না বাস্তবতা ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরে গত কয়েকদিন ধরে পেট্রোল পাম্পে অস্বাভাবিক ভিড় দেখা যাচ্ছে। অনেক পাম্পে তেল রেশনিং করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। পাম্প মালিকদের একটি অংশ বলছেন, গ্রাহকদের মধ্যে অতিরিক্ত তেল কিনে সংরক্ষণ করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একজন পাম্প ব্যবস্থাপক জানান, “সাধারণত একজন গ্রাহক যে পরিমাণ তেল নেন এখন তার চেয়ে বেশি নিচ্ছেন। অনেকেই ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করছেন।” এই প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্কজনিত কেনাকাটা বা panic buying শুরু হলে বাজারে সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও সংকট তৈরি হতে পারে। বিপিসির দাবি: সংকট নেই বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তাদের মতে, পরিস্থিতি মূলত গুজব ও আতঙ্কের কারণে জটিল হয়ে উঠছে। একজন জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তা জানান, “আগামী মাস পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। নতুন কার্গো ইতিমধ্যেই দেশে আসছে।” জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, সোমবার সকালে জ্বালানিবাহী একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। একই দিনে রাতে আরও একটি কার্গো আসার কথা রয়েছে। কতদিন চলবে জ্বালানি মজুত বিপিসির সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী দেশে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের মজুত নিম্নরূপ: ডিজেল দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জ্বালানি হলো ডিজেল। বর্তমানে ডিজেলের মজুত রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯২১ মেট্রিক টন এতে প্রায় ১৩ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি, পরিবহন ও শিল্প খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এই মজুত তুলনামূলকভাবে কম। অকটেন অকটেনের মজুত রয়েছে প্রায় ২৬ হাজার ২৫১ মেট্রিক টন এতে প্রায় ২৫ দিনের সরবরাহ দেওয়া সম্ভব। পেট্রোল পেট্রোলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার ৬০৯ মেট্রিক টন এতে প্রায় ১৭ দিনের চাহিদা পূরণ করা যাবে। ফার্নেস অয়েল বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের মজুত রয়েছে প্রায় ৬৭ হাজার ৫০৯ মেট্রিক টন এতে প্রায় ৪৫ দিন সরবরাহ চালানো সম্ভব। জেট ফুয়েল বিমান চলাচলের জন্য ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে ৬০ হাজার ৬৯৮ মেট্রিক টন এতে প্রায় ৪২ দিন সরবরাহ দেওয়া যাবে। কেরোসিন কেরোসিনের মজুত রয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ৭৩ মেট্রিক টন এতে প্রায় ৭১ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। মেরিন ফুয়েল মেরিন ফুয়েলের মজুত রয়েছে ৫ হাজার ৪ মেট্রিক টন এতে প্রায় ১৯ দিন সরবরাহ দেওয়া সম্ভব। আমদানি পরিস্থিতি কী জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মাসে মোট ১৪টি জ্বালানি কার্গো আসার কথা ছিল। এর মধ্যে বেশিরভাগ ইতিমধ্যেই দেশে পৌঁছেছে এবং কয়েকটি পথে রয়েছে। আগামী মাসে ১৫টি কার্গোর মধ্যে ১৩টি নিশ্চিত হয়েছে। বাকি দুটি কার্গো মে মাসে পাঠানো হবে বলে সরবরাহকারী দেশগুলো জানিয়েছে। এছাড়া বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকেও তেল আমদানি করা হতে পারে। হরমুজ প্রণালী সংকট কতটা প্রভাব ফেলতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন রুট নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বিশ্ব তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চীনা জাহাজগুলোর ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা না থাকায় বাংলাদেশের তেল পরিবহনে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা কম। অতিরিক্ত আমদানির পরিকল্পনা জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, আগামী মাস পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি চূড়ান্ত হয়েছে। এর বড় অংশ ইতিমধ্যেই দেশে আসতে শুরু করেছে। এছাড়া আরও প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। এই তেল ভারত, ব্রুনাইসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আতঙ্কের অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি খাতে সংকটের চেয়েও বড় সমস্যা হচ্ছে জনমনে তৈরি হওয়া আতঙ্ক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অর্থনীতিবিদ বলেন, “যখন মানুষ মনে করে কোনো পণ্য সংকট হতে পারে, তখন তারা বেশি করে কিনতে শুরু করে। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়।” এটিকে অর্থনীতিতে বলা হয় self-fulfilling crisis। অর্থাৎ সংকটের ভয়ই শেষ পর্যন্ত সংকট তৈরি করে। বাংলাদেশ কতটা ঝুঁকিতে বাংলাদেশ তার মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় পুরোটা বিদেশ থেকে আমদানি করে। বিশ্ববাজারে দাম বাড়া বা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা দ্রুত ঝুঁকিতে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই ঝুঁকি কমাতে কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি— ১. কৌশলগত জ্বালানি মজুত বাড়ানো ২. বিকল্প জ্বালানি উৎসে বিনিয়োগ ৩. নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের বিস্তার ৪. সরবরাহ উৎস বৈচিত্র্য করা সামনে কী হতে পারে বর্তমান তথ্য অনুযায়ী দেশে জ্বালানি সরবরাহে তাৎক্ষণিক সংকট নেই। তবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ: নিয়মিত আমদানি বাজারে আতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি হঠাৎ অবনতি না ঘটে এবং আমদানি পরিকল্পনা ঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে দেশে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে দীর্ঘ লাইনের পেছনে থাকা আতঙ্ক যদি কমানো না যায়, তাহলে সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মজুত বর্তমানে ১৩ থেকে ৭১ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ—যা পরিস্থিতি অনুযায়ী যথেষ্ট হলেও খুব বেশি নিরাপদ বলা যায় না। তাই বাস্তব সংকটের আগে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে জনমনে তৈরি হওয়া আতঙ্ক। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য এখন সবচেয়ে বড় কাজ হলো—স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ এবং বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা। কারণ জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে তথ্যের অভাবই অনেক সময় বাস্তব সংকটের চেয়েও বড় সমস্যা তৈরি করে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।