ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার এসবির ডিআইজি মো: ইকবাল হোসেনকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, বরিশালের পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মো: আশিক সাঈদকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহকে বরিশালের পুলিশ কমিশনার, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো: মোস্তাফিজুর রহমানকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হককে শিল্পাঞ্চল পুলিশের ডিআইজি ও রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহানকে ঢাকার এপিবিএন’র ডিআইজি করা হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ রদবদলের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপসচিব তৌছিফ আহমেদ। এদিকে, তিনজন পুলিশ কর্মকর্তার পদে রদবদল করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়- সিআইডির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লাকে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজীকে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার ও ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো: নজরুল ইসলামকে সিআইডির পুলিশ সুপার করা হয়েছে।
বিতর্কিত কর্মকর্তাদের প্রত্যাবর্তন: প্রশ্নের মুখে পুলিশ সংস্কারের অঙ্গীকার ২০২৩ সালের ২৬ আগস্ট দেশের প্রায় সব শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে একটি খবর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে—বদলির আদেশ পাওয়ার পর তিনি থানার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), টেলিভিশন, আইপিএস ও সোফা সেট খুলে বাসায় নিয়ে গেছেন। ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তীব্র সমালোচনার মুখে তাকে ভূঞাপুর থানা থেকে সরিয়ে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছিল। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই ফরিদুল ইসলাম এখন রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বনানী থানার ওসি। ফরিদুল ইসলাম দাবি করেন, সে সময় সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি “অতিরঞ্জিতভাবে” উপস্থাপন করা হয়েছিল। তার ভাষ্য, তিনি নিজেও প্রশাসনিকভাবে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে শুধু একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি দমন কিংবা ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে সমালোচিত বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে আবারও গুরুত্বপূর্ণ থানা ও প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে পুলিশের ভেতর থেকেই। ‘শাস্তিমূলক বদলি’ থেকে আবার রাজধানীতে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যেসব কর্মকর্তাকে ঢাকা বা গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট থেকে সরিয়ে দূরবর্তী স্টেশনে পাঠানো হয়েছিল, তাদের অনেকেই আবার রাজধানীতে ফিরছেন। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উচ্চপর্যায়কে “ম্যানেজ” করেই এসব পদায়ন হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের ভেতরে এখনো প্রভাবশালী একটি বলয় সক্রিয় রয়েছে, যারা আগের সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের পুনর্বাসনে ভূমিকা রাখছে। এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের শেষদিকে পুলিশ ভয়াবহ ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে। গণ-অভ্যুত্থানের পর সেই আস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা হয়েছিল। এখন আবার বিতর্কিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলে সেই প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” হত্যা মামলার আসামি, তবু এসপি পদে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) পদে মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানের পদায়ন। ৫ মে তাকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছিলেন। স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের দমন, হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ বহুদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে ছিল। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে শিবগঞ্জ যুবদল নেতা মিজান হত্যাকাণ্ডের মামলাটি বিশেষভাবে আলোচিত। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন মিজান। নিহতের বাবা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হত্যা মামলা দায়ের করলে মাহবুব আলম খানকে আসামি করা হয়। আরেকটি হত্যা মামলাতেও তার নাম রয়েছে। তবে মাহবুব আলম খান সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হলে তিনি দায়মুক্ত হবেন। ডিএমপিতে ফিরছেন পুরোনো মুখ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পালন করা নুরুল মুত্তাকিনও আবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরেছেন। আওয়ামী আমলে তিনি ডেমরা, ভাটারা, তুরাগ ও লালবাগ থানার ওসি ছিলেন। পরবর্তীতে ডিএমপির সহকারী কমিশনার (এসি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তাকে এপিবিএনে পাঠানো হলেও মার্চ মাসে আবার ডিএমপিতে ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমানে তিনি মোহাম্মদপুর জোনে এসি (প্যাট্রোল) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে গুলশান থানার বর্তমান ওসি দাউদ খানও দীর্ঘদিন ডিবিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ডিএমপির বহু কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে পাঠানো হলেও তিনি রাজধানীতেই থেকে যান। পরে পর্যায়ক্রমে খিলগাঁও, ক্যান্টনমেন্ট হয়ে গুলশান থানার ওসি হন। ‘বঞ্চিত’ কর্মকর্তাদের ক্ষোভ পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে এ নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ। কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, আওয়ামী আমলে তাদের “ব্ল্যাকলিস্টেড” রাখা হয়েছিল। ছাত্রদল বা বিএনপিপন্থি পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তারা পদোন্নতি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন থেকে বঞ্চিত হন। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারা বৈষম্য দূর হওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে আগের সরকারের সুবিধাভোগীরাই আবারও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাচ্ছেন। এক কর্মকর্তা বলেন, “যারা বিগত সময়ে নির্যাতন-নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারাই এখন পুনর্বাসিত হচ্ছেন। অথচ বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।” সমালোচনার মুখে একাধিক পদায়ন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরও কয়েকটি পদায়ন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মাহাবুব রহমান, যিনি আওয়ামী সরকারের শেষদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার ওসি ছিলেন, তাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার ওসি করা হয়েছে। আমির হোসেন সেরনিয়াবাতকে মাদারীপুরের শিবচর থানার ওসি করা হলেও ব্যাপক সমালোচনার মুখে চার দিনের মাথায় প্রত্যাহার করা হয়। ভোলা ছাত্রদল নেতা নুরে আলম হত্যা মামলার আসামি আরমান হোসেনকে কক্সবাজারের রামু থানার ওসি করার আলোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শেষ পর্যন্ত সেই পদায়ন কার্যকর হয়নি। চট্টগ্রামে নূর হোসেন মামুন ও আতিকুর রহমানের মতো কর্মকর্তারাও গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া সাভার, আশুলিয়া, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ রেঞ্জের কয়েকটি থানার ওসি পদায়ন নিয়েও পুলিশের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছে। ভাবমূর্তি বনাম প্রশাসনিক বাস্তবতা বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর পুলিশ বাহিনীর প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠন ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষাপটে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পুনর্বহাল বা গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন জনমনে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তাদের মতে, প্রশাসনিক দক্ষতা, পেশাগত যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে পদায়ন নিশ্চিত না হলে পুলিশ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ বলেন, তিনি সম্প্রতি প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং বিষয়গুলো পর্যালোচনা করার পর মন্তব্য করবেন। তবে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—পুলিশ বাহিনীর ভেতরে কি সত্যিই পরিবর্তন এসেছে, নাকি পুরোনো প্রভাববলয় নতুন বাস্তবতায় আবারও নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে?
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীতে জননিরাপত্তা জোরদার এবং কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও ছিনতাই প্রতিরোধে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় আরও ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাং ও ছিনতাই দমনে ৭০০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা জোরদারে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বসিলায় নতুন একটি পুলিশ ফাঁড়ি চালু করা হয়েছে এবং আরও একটি ফাঁড়ি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ৫০টি থানায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি), সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) এবং পেট্রোল ইন্সপেক্টর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাতে মাঠপর্যায়ে নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও কার্যকর করা যায়। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, বর্তমানে ঢাকায় মোট ১ হাজার ৯১০টি সিসি ক্যামেরা কার্যকর রয়েছে। এর মধ্যে ডিএমপির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ৭১০টি এবং বিভিন্ন সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে ১ হাজার ২০০টি ক্যামেরা। তিনি বলেন, নতুন করে আরও ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ টিম পাঠানোও সহজ হচ্ছে। ডিএমপি জানিয়েছে, জাতীয় দিবস, বড় অনুষ্ঠান ও উৎসবকে ঘিরেও অস্থায়ী সিসি ক্যামেরা বসিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্লক রেইড, নিয়মিত টহল এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে কিশোর গ্যাং-সংক্রান্ত অপরাধ দমনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে সিসি ক্যামেরা প্রযুক্তি রাজধানীর যানজট ব্যবস্থাপনাতেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে দাবি করেছে ডিএমপি।
রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে সাবেক চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার আব্দুল জলিল মন্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ধানমন্ডিতে তার নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবির প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। ডিবি সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনার মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের এই কর্মকর্তা ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি একই বাহিনীতে অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, কর্মজীবনের এক পর্যায়ে তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।
রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টার মার্কেটে ‘নবীন’ ব্র্যান্ডের একটি পাঞ্জাবির দোকান বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কে ক্লোজড করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনায় তদন্তে কমিটি গঠন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বুধবার (২৫ মার্চ) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারে একটি দোকানে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির তদন্তে ডিএমপি একটি কমিটি গঠন করেছে। গত শুক্রবার (২০ মার্চ) ওই মার্কেটের একটি পাঞ্জাবির দোকানে বিশেষ মূল্যছাড়ে বিক্রির অফারকে কেন্দ্র করে মার্কেট কমিটি ও সংশ্লিষ্ট শোরুমের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। ঘটনার প্রেক্ষিতে কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততা ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এরই মধ্যে হাতিরঝিল থানার ওসিকে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে এবং এক সহকারী উপ-পরিদর্শককে (এএসআই) রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন ডিএমপির এই কর্মকর্তা। এর আগে, ঈদুল ফিতরের আগের দিন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রির কারণে আশপাশের কিছু ব্যবসায়ী ‘নবীন ফ্যাশন’-এর দোকান বন্ধ করে দেয়। তারা এই মূল্যছাড়কে ‘রিলিফ বিতরণ’-এর সঙ্গে তুলনা করে আপত্তি জানায়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তখন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং দ্রুতই জনমনে প্রশ্ন ওঠে—বাজারে প্রতিযোগিতামূলক বিক্রি কি অপরাধ?
ঢাকা: রাজধানীর ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমাউল হক-কে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে ডিএমপি’র ডেভেলপমেন্ট বিভাগে বদলি করা হয়েছে। জানা গেছে, ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে ৩৩ লাখ টাকার অস্বাভাবিক অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে, যা অনলাইন জুয়ার লেনদেন বলে অভিযোগ ছিল। বুধবার (১৮ মার্চ) ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার-এর সই করা এক অফিস আদেশে ইমাউল হক-কে বদলির আদেশ দেওয়া হয়, তবে কারণ উল্লেখ করা হয়নি আদেশে। এর আগে ২০ ফেব্রুয়ারি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের একটি পোস্ট করেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ডিএমপির ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হকের ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে (01712254***) অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য মিলেছে। ২০২৫ এর ২০ ডিসেম্বর থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লেনদেন হওয়া এসব টাকার বেশির ভাগই আবার অনলাইন জুয়ায় ব্যয় হয়েছে। ওসির বিকাশ ও নগদ নম্বরে আসা এই অর্থের পরিমাণ ৩২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা, যা সাতটি বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে তার কাছে বিভিন্ন সময়ে পাঠানো হয়। তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ভাটারা থানার পেছনে অবস্থিত একটি বিকাশ/নগদের দোকান থেকে (রহিমের দোকান) গত দুই মাসে ওসির মোবাইল নম্বরে এসেছে ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। কনস্টেবল আমজাদের মোবাইল নম্বর থেকে এসেছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা। কনস্টেবল সাদ্দামের মোবাইল নম্বর থেকে এসেছে ৬ লাখ ৯১ হাজার ৬২৯ টাকা। এছাড়া গত দুই মাসে নাসিমের (বাড়িওয়ালা) নম্বর থেকে এসেছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০ টাকা। মদিনা এজেন্ট হাউজ থেকে এসেছে ২ লাখ ১৪ হাজার টাকা। এর বাইরে খালেক নামের এক ব্যক্তি ওসির বিকাশ/নগদে পাঠিয়েছেন ২ লাখ ৯০ হাজার ৮৫০ টাকা। লন্ড্রি পিকআপ অ্যান্ড ড্রপ নামে রেজিস্ট্রেশন করা একটি নম্বর থেকে ওসির ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে এসেছে ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯১০ টাকা। আর মিজানুর নামের আরেক ব্যক্তির নম্বর থেকে এসেছে ৫ লাখ ৪৯ হাজার ১২০ টাকা। পাশাপাশি ওসির ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও বিপুল অর্থ লেনদেনের তথ্য মিলেছে। ওসি তার মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পাওয়া এসব টাকা এপিআই (এপিআই) সিস্টেমের মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন জুয়ায়ও খরচ করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে ওই সময় ওসি ইমাউল জানান, অনলাইন জুয়ার বিষয় কোনো ধারণা নেই ও তার মোবাইল হ্যাক করে একটি গোষ্ঠী এই কাজ করেছে বলে দাবি করেন তিনি। অভিযোগ অস্বীকার করে ইমাউল হক আরও বলেন, এ ঘটনায় তিনি ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
রাজধানীর হাজারীবাগে প্রেমের সম্পর্ক প্রত্যাখ্যান করায় ৯ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে একই স্কুলের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত স্কুলছাত্রীর নাম শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি (১৪)। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত সিয়াম ওরফে ইমন (১৯)। তারা দু’জনই রায়ের বাজার হাইস্কুল-এর শিক্ষার্থী ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে কাঁঠাল বাগান এলাকা থেকে সিয়ামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি, ঘটনার সময় পরিহিত রক্তমাখা গেঞ্জি-প্যান্ট এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম এ তথ্য জানান। ঘটনাপ্রবাহ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে হাজারীবাগ থানাধীন চরকঘাটা এলাকায় পাকা রাস্তায় ধারালো ছুরি দিয়ে বিন্তিকে গুরুতর আঘাত করে সিয়াম। স্থানীয়রা রক্তাক্ত ও অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় সিকদার মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ১০টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. বিল্লাল হোসেনের অভিযোগের ভিত্তিতে হাজারীবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রেমের সম্পর্কের জেরে হত্যাকাণ্ড ডিসি মাসুদ আলম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, বিন্তি ও সিয়াম একই স্কুলে পড়ার সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্প্রতি বিন্তি ওই সম্পর্ক চালিয়ে যেতে অপারগতা প্রকাশ করলে ক্ষুব্ধ হয়ে সিয়াম এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানায় পুলিশ। সিসিটিভিতে ধরা পড়ে হামলার চিত্র ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক তরুণের সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছিল বিন্তি। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, রক্তমাখা ছুরি হাত দিয়ে মুছছে সেই তরুণ। একইসঙ্গে শোনা যায় এক কিশোরীর চিৎকার। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় জীবন বাঁচাতে পাশের বাসার এক নারীর গায়ে ঢলে পড়ে বিন্তি। হামলাকারীর নাম উল্লেখ করেই সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। ওই নারী গণমাধ্যমকে জানান, তিনি বিন্তিকে জড়িয়ে ধরলে সে বলে— সিয়াম ছুরি দিয়ে আঘাত করেছে। পরিবারের আহাজারি নিহত বিন্তির বাবা বেলাল হোসেন শরীয়তপুরের সখিপুর থানার কাছিকাটা এলাকার বাসিন্দা। পরিবার নিয়ে তিনি হাজারীবাগ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি জানান, গলির ভেতর পেছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মেয়েকে আঘাত করে পালিয়ে যায় সিয়াম। পরে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়, সেখানেই মৃত্যু হয়। বিন্তির মা নাদিয়া বলেন, রাত ৮টার দিকে বিন্তি ও তার ভাই নাবিল একসঙ্গে বাসার বাইরে যায়। কিছুক্ষণ পর হৈচৈ শুনে নিচে নেমে দেখেন মেয়েকে ঘিরে অনেক মানুষ। স্থানীয়দের কাছেই রক্তাক্ত অবস্থায় বিন্তি হামলাকারীর নাম জানায়। তিনি অভিযোগ করেন, তিন-চার বছর ধরে সিয়াম মোবাইল ফোনে তার মেয়েকে বিরক্ত করছিল। একবার তিনি নিজেই তাকে ফোনে বকাবকি করেন। “আজকে আমার মেয়েকে কুপিয়ে মেরে ফেলেছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই,”— কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন তিনি।
পারিবারিক কারণে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অব্যাহতিপত্রে সই করে তিনি তা পুলিশ সদরদফতরে পাঠান। বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিজেই নিশ্চিত করেছেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, “পারিবারিক কারণেই অব্যাহতির আবেদন করেছি। সরকার এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।” ডিএমপির ৩৮তম পুলিশ কমিশনার হিসেবে ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী। একই দিন তাকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠন ও শৃঙ্খলা জোরদারের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। চাকরির নিয়মিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে তিনি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শেখ মো. সাজ্জাত আলী বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতার কারণে তাকে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এদিকে, তার অব্যাহতির আবেদনের পর ডিএমপির শীর্ষ পদে কে আসছেন—তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ঢাকা, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি): রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-এ মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন বাংলানিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার তোফায়েল আহমেদ, আকাশ (এনপিবি নিউজ) এবং কাওসার আহমেদ রিপন (আজকের পত্রিকা)। গুরুতর আহত তোফায়েল আহমেদ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। লাইভ সম্প্রচারের সময় হামলার অভিযোগ জানা যায়, সোমবার রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানের দৃশ্য জনসমক্ষে তুলে ধরতে সাংবাদিকরা ফেসবুক লাইভে সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন। এ সময় একদল পুলিশ সদস্য তাদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ‘আজকের পত্রিকা’র মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার কাওসার আহমেদ রিপন জানান, নিজেদের পরিচয় বারবার দেওয়ার পরও পুলিশ কোনো তোয়াক্কা না করে বেধড়ক লাঠিচার্জ শুরু করে। তোফায়েল আহমেদকে মারধর করা হলে তাকে উদ্ধার করতে গেলে অন্য সাংবাদিকদেরও পেটানো হয়। গুরুতর আহত তোফায়েল, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের আশঙ্কা সহকর্মীরা জানান, মাথা ও পিঠে আঘাতের ফলে তোফায়েলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। রক্তক্ষরণ ও তীব্র ব্যথা শুরু হলে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে তার শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি রয়েছে। বাংলানিউজের নিন্দা ও বিচার দাবি বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম-এর ক্রাইম বিট প্রধান সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট আবাদুজ্জামান শিমুল বলেন, এর আগেও রমনা পার্ক এলাকায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান দায়িত্বশীলভাবে লাইভ সম্প্রচার করা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ দমন কার্যক্রম ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে প্রতিষ্ঠানটি বরাবরই সচেষ্ট। তিনি অভিযোগ করেন, একই ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তোফায়েলের ওপর বেপরোয়া হামলা চালানো হয়, যার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান তিনি। ডিএমপির আশ্বাস এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-এর রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, “ভিডিও ফুটেজ যেহেতু রয়েছে, তা পর্যালোচনা করে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জনগুরুত্বপূর্ণ অভিযানের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার এই ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা—এখন সেটিই দেখার বিষয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।