শীর্ষনিউজ: ড. নাসিমুল গনি। প্রশাসন ক্যাডারের ’৮২ ব্যাচের এই কর্মকর্তা এক সময় স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারের পিএস (একান্ত সচিব) পদে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় তাঁর হাত দিয়েই জাতীয় সংসদে কর্মচারী নিয়োগ নিয়ে বড় ধরনের এক কেলেঙ্কারি কাণ্ড ঘটে। নাসিমুল গনির সেই দুর্নীতি-অনিয়মের বোঝা এখনও বইতে হচ্ছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়কে। ৫ আগস্ট, ২০২৪-এর পরে ভাগ্য খুলে যায় নাসিমুল গনির। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রথমে সিনিয়র সচিব পদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে নিয়োগ পান। স্বরাষ্ট্র সচিব পদ শূন্য হওয়ার পর এখানে আসেন। এরপরে এখন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। স্বরাষ্ট্র সচিব পদে থাকাকালে দুদকে একাধিক অভিযোগ আসে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগপত্রে তার নিজের, ছেলে এবং পিএস’র নানা অনিয়মের তথ্য তুলে ধরা হয়। এরমধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে, নরসিংদীর সাবেক এসপি, বর্তমানে যিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) পদে আছেন মো. আব্দুল হান্নান, বেপরোয়া ঘুষ লেনদেনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও তাকে অবিশ্বাস্যভাবে ছাড় দিয়েছেন সচিব নাসিমুল গনি। এসপি আব্দুল হান্নানের ঘুষ লেনদেনের ওই ঘটনাটি ছিল ব্যাপক আলোচিত। আব্দুল হান্নান আওয়ামী লীগ আমলের শেষ দিকে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলেকে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন এসপি পদে আকর্ষণীয় পদায়নের জন্য। পরবর্তীতে এই টাকা তুলতে গিয়েও অনেক কেলেঙ্কারি কাণ্ড ঘটান তিনি। আব্দুল হান্নানের ফোন রেকর্ডসহ গণমাধ্যমে এ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। পুরো পুলিশ বিভাগের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয় এতে। আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিভাগীয় মামলার তদন্তে ঘুষ লেনদেনসহ সবগুলো ঘটনা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না কেন, এই মর্মে ১০ দিনের সময় দিয়ে নোটিশও ইস্যু করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির স্বাক্ষরেই চাকরিচ্যুতির নোটিশ ইস্যু করা হয়। কিন্তু এরপরেই দৃশ্যপট ক্রমান্বয়ে পাল্টাতে থাকে। তিন মাস পরে চাকরিচ্যুতির গুরুদণ্ডের পরিবর্তে লঘুদণ্ড ‘তিরস্কার’ করা হয় তাকে। একে বিচারের নামে ‘প্রহসন’ এবং ‘কৌতুক’ বলেই আখ্যায়িত করছেন সংশ্লিষ্টরা। কথা উঠেছে, এসপি (বর্তমানে বরিশাল পুলিশের ডিসি) আব্দুল হান্নানের কাছ থেকে কত টাকা নিয়ে সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি তাকে এত বড় ‘ছাড়’ দিয়েছেন? আব্দুল হান্নানের শুধু ঘুষ প্রদান বা এ সংক্রান্ত অনিয়মই নয়, নরসিংদীর এসপি পদে থাকাকালে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তাদের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ আদায়ের প্রমাণসহ তথ্যও প্রকাশ হয়েছে একই সময়ে। যদিও এ বিষয়ে তদন্ত হয়নি অথবা তদন্ত কমিটি এড়িয়ে গেছে। নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, তদন্ত করলে এসব ঘটনাও হাতেনাতে প্রমাণিত হতো। অত্যন্ত আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, এতগুলো গুরুতর অপরাধের পরও অপরাধী মো. আব্দুল হান্নানের কিছুই হয়নি। চাকরিচ্যুতি বা কারাগারে যাওয়া তো নয়ই- সাসপেন্ড, ওএসডি বা সংযুক্তিতে থাকতে হয়নি এক দিনের জন্যও। অপরাধ প্রকাশ হওয়ার পর বরং তাকে নরসিংদী গোয়েন্দা পুলিশের এসপি থেকে সরাসরি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়েছে। যদিও এটি একেবারেই অবিশ্বাস্য, কিন্তু এই অবিশ্বাস্য কাজগুলো সবই হয়েছে তখনকার স্বরাষ্ট্র সচিব, বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির হাত দিয়েই। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এ ধরনের গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে চাকরিচ্যুতি থেকে ছাড় পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং নজিরও নেই। শুধু চাকরিচ্যুতিই নয়, দেশের প্রচলতি আইনে তার বিরুদ্ধে একাধিক ঘটনার দুর্নীতির মামলা এবং তাতে সাজা হওয়াটা নিশ্চিত ছিল। তাতে আব্দুল হান্নানকে এখন কারাগারেই থাকতে হতো। কিন্তু, এ সবকিছু থেকে আব্দুল হান্নানকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন নাসিমুল গনি। এক্ষেত্রে ‘ডিল’টা আকারে কত ছিল, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ, পুলিশের নৈতিক অধঃপতন এবং সারাদেশে আইন-শঙ্খলার অবনতির পেছনে নাসিমুল গনিদের এসব অপকর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন, অপরাধ বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে পুলিশ বিভাগের ডিআইজি মিজানুর রহমান ওরফে মিজানের ইস্যুটা কারো অজানা নয়। আওয়ামী লীগ আমলের আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত চলাকালে ডিআইজি মিজান দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে দুই দফায় ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেন। ডিআইজি মিজান নিজেই গণমাধ্যমের সামনে এই ঘুষ প্রদানের বিষয়টি ফাঁস করেন। ঘুষ লেনদেনের অডিও রেকর্ডও ডিআইজি মিজান স্বেচ্ছায় সরবরাহ করেন। এবং তিনি ওই ঘুষ প্রদানে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন। দুদক পরিচালক এনামুল বাছির ব্ল্যাকমেইলিং করে বার বার তাঁর কাছ থেকে টাকা আদায় করছিলেন। অবশেষে মিজান অন্য কোনো উপায় না পেয়ে ঘুষের কথা ফাঁস করেন বলে জানান। তবে ‘বাধ্য হয়ে’ ঘুষ প্রদান এবং নিজে এরজন্য ‘দায়ী নন’ দাবি করলেও ঘুষের দায় থেকে ডিআইজি মিজানুর রহমান মোটেই ছাড় পাননি। ঘুষ প্রদানের দায়ে তাকে সঙ্গে সঙ্গেই সাময়িক বরখাস্ত এবং পরবর্তীতে চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপরে গ্রেফতার এবং দুদকের মামলায় তাঁর তিন বছরের কারাদণ্ডও হয়। অথচ, মো. আব্দুল হান্নানের অপরাধ একটি নয়- আকর্ষণীয় পদায়নের জন্য ঘুষ প্রদান, ঘুষের টাকা তুলতে গিয়ে অধঃস্তন কর্মকর্তার ওপর অন্যায়ভাব চাপ সৃষ্টি, অধঃস্তন কর্মকর্তাদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন চালিয়ে তাদের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ আদায় প্রভৃতি অনেকগুলো গুরুতর বিষয় থাকা সত্ত্বেও তাকে সব অপরাধ থেকে অবৈধভাবে বাঁচিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাকে ‘রহস্যজনক’ এবং ‘নজিরবিহীন’ বলছেন সংশ্লিষ্টরা। এসপি পদে পদায়নের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলেকে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ আওয়ামী লীগ আমলে ২০২৩ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে সাফি মুদ্দাসির খান জ্যোতিকে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দেন মো. আব্দুল হান্নান। এসপি পদে পদায়নের জন্য এই ঘুষ দেওয়া হয়। তবে জ্যোতিকে সরাসরি নয়, জনৈক রবিউল মুন্সীর মাধ্যমে এই টাকা ঘুষ দিয়েছেন তিনি। এই টাকা রবিউল মুন্সীর কাছ থেকে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান হয়ে জ্যোতির কাছে গেছে। পেশায় রবিউল মুন্সী একজন প্রকাশনা ব্যবসায়ী হলেও আদতে তিনি পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানের টাকা কালেকশনের দালালদের একজন ছিলেন। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের কারণে পদায়নটি আর হয়নি। তবে আওয়ামী লীগ আমলে বঞ্চিত দাবি করে আব্দুল হান্নান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নরসিংদীর এসপি পদে পদায়ন বাগিয়ে নেন। আর এখানে বসেই শুরু করেন ব্যাপকহারে দুর্নীতি-অপকর্ম, চাঁদাবাজি, এমনকি মাদক ব্যবসায়েও জড়িত হওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ আমলে এসপি পদে পদায়নের জন্য দালাল রবিউল মুন্সীর মাধ্যমে যে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন তা তোলার দায়িত্ব দেন অধীনস্ত নরসিংদীর ডিবি ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক এস এম কামরুজ্জামানকে। বস-এর নির্দেশে কামরুজ্জামান বাধ্য হন ঘুষের টাকা তোলার কাজে লেগে যেতে। ৫ লাখ টাকা তিনি রবিউল মুন্সীর কাছ থেকে আদায় করে দেনও। বাকি ৪৫ লাখ টাকার জন্য এস এম কামরুজ্জামানের ওপর চাপ দিতে থাকেন এসপি আব্দুল হান্নান। এরই ধারাবাহিকতায় ৯ নভেম্বর, ২০২৪ অধীনস্ত কামরুজ্জামানকে নিয়ে ঢাকায় আসেন এসপি আব্দুল হান্নান। রবিউল মুন্সী মনিপুরী পাড়ায় ১৪৭/১ পুরাতন বিমানবন্দর সড়কে গোল্ডেন টাচ পাবলিকেশন্সের মালিক। অবশিষ্ট ৪৫ লাখ টাকা উদ্ধারের জন্য এখানে আসেন তারা। এসপি আব্দুল হান্নানের উপস্থিতিতেই পুলিশ পরিদর্শক এসএম কামরুজ্জামান স্বহস্তে একটি লিখিত ডকুমেন্ট তৈরি করেন। এরপর ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক রবিউল মুন্সীর স্বাক্ষর নেন। ওই ডকুমেন্টে এসপি আব্দুল হান্নানও গ্রহণকারী হিসাবে স্বাক্ষর দেন। পরবর্তীতে গণমাধ্যমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের সময় আব্দুল হান্নান বদলিসংক্রান্ত বিষয়ে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন এবং টাকা উদ্ধারে অধীনস্ত পুলিশ সদস্যকে ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেন। যা পরবর্তীতে তদন্তে সাক্ষ্য-প্রমাণে এবং ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়। অধঃস্তন কর্মকর্তার কাছ থেকে চাপ দিয়ে নিয়মিত ঘুষ গ্রহণ, যা তদন্তই হয়নি ‘ঘুষখেকো’ আব্দুল হান্নানের নানা অপকর্মের অবিশ্বাস্য সব তথ্য সিনেমার কল্পকাহিনিকেও হার মানাবে। অধীনস্থ পুলিশ সদস্য ছাড়াও তিনি মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অনেক ক্ষমতার অপব্যবহারকারী প্রভাবশালীকে শেল্টার দিয়েছেন নরসিংদীতে থাকাকালে। এ ছাড়া নিয়মিত মোটা অঙ্কের কারবার ঠিকঠাক রাখতে একটি নিজস্ব বলয়ও গড়ে তুলেন। গত বছরের এপ্রিলে এ নিয়ে দৈনিক যুগান্তরসহ জাতীয় গণমাধ্যমসমূহে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। অধীনস্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে ঘুষ আদায়ের বেশকিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরা হয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে। তাতে দেখা যায়, ১০ মার্চ, ২০২৫ ডিবি ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামানের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েছেন এসপি আব্দুল হান্নান। সেখানে সৈয়দুর রহমান নামে জনৈক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে দুই লাখ টাকা পাঠাতে বলা হয়। ওই ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব (ব্র্যাক ব্যাংক, বরিশাল ব্রাঞ্চ, হিসাব নম্বর ০৫০১১০২৫২৯১৪৮০০১) উল্লেখ করে লেখা হয়, ‘টু লাখ টুমোরো।’ এর আগেও এসপি আব্দুল হান্নান কামরুজ্জামানের মুঠোফোনে দফায় দফায় ব্যাংক হিসাব পাঠিয়ে এভাবে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ রাত ৯টা ৯ মিনিটে মো. নাহিদুজ্জমান নামে একজনের কাছে টাকা পাঠাতে ডিবি ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামানকে ক্ষুদে বার্তা পাঠান। সেখানে ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং (৭০১৭০১৯৬৬৩৫৩৬) নম্বর উল্লেখ করে টাকা পাঠানোর সাংকেতিক শব্দ ‘টু লাখ টুমোরো’ লেখা হয়। এরপর কামরুজ্জামান এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ওই হিসাবে ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে ২ লাখ টাকা পাঠান। ৫ জানুয়ারি, ২০২৫ মো. শাহজাহান আলীর নাম লিখে ইসলামী ব্যাংক ঝিনাইদহ ব্রাঞ্চের হিসাব নম্বর (২০৫০১৭৫০২০২২৪৯১০০) পাঠান। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিয়ে ৪২ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন এসপি। ৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক নরসিংদী শাখা থেকে এসপির পাঠানো ওই হিসাবে ৪২ হাজার টাকা পাঠান ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামান। এর আগে ২৬ নভেম্বর, ২০২৪ শেফালি খাতুনের নাম লিখে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, অগ্রণী ব্যাংক শাখায় ৫০ হাজার টাকা পাঠাতে মেসেজ পাঠান। কামরুজ্জামান ২৬ নভেম্বর, ২০২৪ শেফালির অ্যাকাউন্টে (০২০০০০৭৬৪৭৯৬১) ৫০ হাজার টাকা পাঠান। এছাড়া নুরুজ্জামান নামে আরেকজনের ইসলামী ব্যাংকের আরেকটি হিসাবে ২৬ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে ৩০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। এমনকি বিকাশ নম্বরে ১৫ হাজার টাকাও নিয়েছেন এই এসপি। এভাবে টাকা পাঠাতে এসপি তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেছেন। এ বিষয়ে ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেছেন, “এসপি স্যার প্রায় সময় আমাকে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে টাকা পাঠাতে বলতেন। দিনের পর দিন হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে এই টাকা পাঠাতে আমাকে বাধ্য করতেন। ব্যক্তিগত নম্বর থেকে (০১৭১৬০৫৫১০০) মেসেজ পাঠিয়ে আবার এসপি বলতেন, ‘আমি একটি এসএমএস করেছি দেখেন, এ নম্বরে দুই লাখ টাকা পাঠান।’ এভাবে অসংখ্যবার টাকা পাঠানোর কারণে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। কয়েকদিন আগে বিরক্ত হয়ে তার টাকা পাঠানোর নির্দেশনার বিষয়ে আমি বলেছি, ‘স্যার এ মুহূর্তে আমার কাছে কোনো টাকা নেই। আর কোনো টাকা পাঠাতে পারব না। এভাবে টর্চার করলে আইজি স্যারকে লিখিত অভিযোগ দিতে বাধ্য হব।’ এ কথা বলার পর তিনি ফোন রেখে দেন এবং আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে যান।” গাঁজা বিক্রিতে জড়িত থাকার অভিযোগ নরসিংদীর আদালতের মালখানায় না পাঠিয়ে আটক ৯৬ কেজি গাঁজা বিক্রির ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনা হয়েছিল। ওই ঘটনায় পুলিশের দুই পরিদর্শক এবং এক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। এর পেছনে ছিলেন পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান। কেননা তাকে মাসোহারা দিয়েই মাদক পাচার করেছে চোরাচালানকারীরা। কিন্তু অন্য টিমের হাতে আটকা পড়ে এই চালান। জানা যায়, ৫ ফেব্রুয়ারি নরসিংদীর শিবপুরের সৃষ্টিগড় থেকে ৬ বস্তা গাঁজা উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। প্রতি বস্তায় ১৬ কেজি করে মোট ৯৬ কেজি গাঁজা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে আনা হয়। সেখান থেকে কাগজে কলমে এসব গাঁজা আদালতে পাঠানো হয়েছে দেখানো হলেও তা মালখানায় নেওয়া হয়নি। দুই দিন পর কাগজে কলমে গত ১১ মার্চ এ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করার প্রমাণপত্র তৈরি করা হয়। কিন্তু এই ঘটনার পর উল্টো এমএম কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। তাকে ডিবি থেকে সরিয়ে ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। ঘটনার পরপর কামরুজ্জামান গণমাধ্যমে বলেন, ‘ডিবির ওসিসহ সব ওসি যা কিছু করেন সব এসপির নির্দেশেই করেন।’ তিনজনের টিম করে টাকা কামানো গত বছরের এপ্রিলে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এসআই ও এএসআইদের পোস্টিং করিয়ে টাকা নিয়েছেন এসপি আব্দুল হান্নান। পদপ্রত্যাশীদের জোগাড় করেন সদর থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক। পতিত সরকারের আমলে ডিবিতে কর্মরত এসআই মোস্তাক ও এএসআই হারেছ মিয়াকে সদর থানায় পোস্টিং করে আনা হয়। একই সঙ্গে এসপির এলাকায় বাড়ি পুলিশ সদস্য রবিউলকেও আনা হয় সেখানে। এই তিনজনের সঙ্গে এসপি হান্নানের অত্যন্ত সু-সম্পর্ক। তারাই মূলত জেলা দাপিয়ে বেড়ান। এদের দিয়ে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করে টাকা কামান এসপি হান্নান। আওয়ামী লীগপন্থি ও বিতর্কিত ব্যবসায়ীদের তালিকা করে তাদের কাছে পাঠানো হয় ওই তিনজন। এরপর তালিকাভুক্ত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের পর তা পৌঁছে দেওয়া হয় এসপি হান্নানের কাছে। এমনকি এসপি আব্দুল হান্নান প্রায় সময়ই রেঞ্জ ডিআইজি অফিসের কথা বলে বিভিন্ন থানা থেকে দুই লাখ টাকা করে নিয়েছেন। এছাড়া ডিবিতে মাইক্রোবাস রিকুইজিশনের কথা বলে বিল ভাউচার করে প্রতি মাসে দুই থেকে তিন লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন। অথচ ডিবিতে এ প্রক্রিয়ায় কোনো গাড়িই ব্যবহার হয় না। বিভাগীয় মামলায় ‘গুরুতর’ অপরাধ প্রমাণিত, চাকরিচ্যুতির নোটিশের পর শাস্তি শুধুমাত্র ‘তিস্কার’ জেলায় এসপি হিসাবে পদায়নের জন্য অনৈতিকভাবে ৫০ লাখ টাকা প্রদান ও পরে সেই টাকা আদায়ে ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর প্রমাণ পেয়েছে এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি। বিধি অনুযায়ী আব্দুল হান্নানকে শাস্তিযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাকে কেন চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে না জানতে চেয়ে নোটিশ ইস্যু করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তখনকার সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। ২৫ আগস্ট, ২০২৫ এসপি আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে অভিযোগনামায় স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। ওইদিনই তাকে নরসিংদী থেকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসাবে বদলি করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গুরুতর এমন অভিযোগ গঠনের পর বরিশালে নতুন পদায়নকে তখন ‘নজিরবিহীন’ উল্লেখ করেন পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তাদের অনেকেই। তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর অধীনে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স বিভাগীয় মামলা করে। মামলা নং-১৭/ ২০২৫। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত ওই অভিযোগনামায় বলা হয়, “আব্দুল হান্নান নরসিংদী জেলায় যোগদানের আগে ২০২৩ সালে পুলিশ সুপার হিসাবে জেলায় পদায়ন পেতে রবিউল মুন্সী নামে একজনকে ৫০ লাখ টাকা দেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে রবিউল মুন্সী এসপি হিসাবে পদায়নের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে আব্দুল হান্নান নরসিংদী জেলায় এসপি হিসাবে যোগদানের পর রবিউল মুন্সীর কাছ থেকে উক্ত টাকা উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৯ নভেম্বর এসপির অধীনস্ত ডিবি ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) এসএম কামরুজ্জামান কর্তৃপক্ষের অনুমতি/ছুটি ছাড়াই ঢাকায় আসেন। তিনি রাজধানীর বিজয় সরণিসংলগ্ন মনিপুরী পাড়ায় রবিউল মুন্সীর অফিসে গিয়ে নগদ ৫ লাখ টাকা আদায় করেন। অবশিষ্ট ৪৫ লাখ টাকা উদ্ধারের জন্য পুলিশ পরিদর্শক এসএম কামরুজ্জামান স্বহস্তে একটি লিখিত ডকুমেন্ট তৈরি করেন। এরপর ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক রবিউল মুন্সীর স্বাক্ষর নেন। ওই ডকুমেন্টে এসপি আব্দুল হান্নানও গ্রহণকারী হিসাবে স্বাক্ষর দেন।” স্বরাষ্ট্র সচিবের অভিযোগনামায় এ বিষয়ে আরও বলা হয়, “৫ এপ্রিল দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সাংবাদিক নেসারুল হক খোকনের সঙ্গে মোবাইলে কথোপকথনের সময় আব্দুল হান্নান বদলিসংক্রান্ত বিষয়ে ৫০ লাখ টাকা লেনদেন এবং টাকা উদ্ধারে অধীনস্ত পুলিশ সদস্যকে ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেন। যা সাক্ষ্য-প্রমাণে এবং ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়। পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুগান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এছাড়া সরকারি বিধিবহির্ভূতভাবে অধস্তন পুলিশ সদস্যকে অবৈধ পন্থায় ব্যক্তিগত কাজে নিয়োজিত করেন এসপি। এসব বিষয় অপেশাদার ও অকর্মকর্তাসুলভ কর্মকাণ্ড, কর্তব্য কাজে অবহেলা, বিভাগীয় নিয়মশৃঙ্খলা পরিপন্থি তথা অসদাচরণ এবং দুর্নীতি পরায়ণতার শামিল। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এসপি আব্দুল হান্নানকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর ৩(খ) এবং ৩ (ঘ) অনুযায়ী যথাক্রমে অসদাচরণ (মিসকন্ডাক্ট) এবং দুর্নীতি পরায়ণতার (করাপশন) অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। একই বিধিমালার ৪(৩) এর উপ-বিধি(ঘ) অনুসারে কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে না তার লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে আব্দুল হান্নানকে। কৈফিয়তনামা পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।” অভিযোগ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির পর পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান লিখিত জবাব দাখিল করেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন। ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ অনুষ্ঠিত শুনানিতে উভয়পক্ষের বক্তব্য, নথিপত্র ও অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। কিন্তু এত গুরুতর অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও আব্দুল হান্নানকে চাকরিচ্যুতির পরিবর্তে শুধুমাত্র ‘তিরস্কার’ করা হয়। ২৩ নভেম্বর, ২০২৫ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তখনকার সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির স্বাক্ষরে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নে অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে নেওয়া একটি খাল পুনর্খনন প্রকল্পে শ্রমিক তালিকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পের শ্রমিক তালিকায় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সদস্য (মেম্বার), স্কুলশিক্ষক, প্রবাসী, চাকরিজীবী এবং সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও তালিকায় ২৯৭ জন শ্রমিকের নাম রয়েছে, বাস্তবে মাঠে কাজ করতে দেখা গেছে হাতে গোনা কয়েকজনকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বাস্তবায়নাধীন এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। কিন্তু শ্রমিক নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এদিকে গাবতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মজিদুল ইসলাম অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর শ্রমিক তালিকা সংশোধন করা হয়েছে এবং বিষয়টি আরও যাচাই করা হচ্ছে। যে প্রকল্পকে ঘিরে অভিযোগ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের বাস্তবায়নে "অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)"-এর আওতায় সোনারায় ইউনিয়নের খুপি হাড়িভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে আটবাড়িয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প পর্যন্ত খাল পুনর্খননের কাজ হাতে নেওয়া হয়। গত ৫ মে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন। সরকারি নথি অনুযায়ী, এই প্রকল্পে ২৯৭ জন শ্রমিকের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। মাঠে যা দেখা গেছে সম্প্রতি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে দেখা যায়, খাল খননের মূল কাজ পরিচালিত হচ্ছে খননকারী যন্ত্র দিয়ে। অন্যদিকে মাত্র কয়েকজন শ্রমিককে কোদাল দিয়ে খালের পাড় বাঁধার কাজ করতে দেখা যায়। স্থানীয় শ্রমিকদের ভাষ্য, উদ্বোধনের দিন প্রায় ১৫০ জন উপস্থিত থাকলেও পরদিন থেকেই শ্রমিকের সংখ্যা দ্রুত কমে যায়। তাদের দাবি, তালিকায় ২৯৭ জনের নাম থাকলেও নিয়মিত কাজ করেছেন মাত্র ৫০ থেকে ৬০ জন। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত দরিদ্র শ্রমিকদের পরিবর্তে প্রভাবশালী ও অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করায় কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য প্রশ্নের মুখে পড়েছে। শ্রমিক তালিকায় যাদের নাম পাওয়া গেছে তদন্তে পাওয়া শ্রমিক তালিকায় দেখা যায়— জামিরবাড়িয়া গ্রামের মামুনের নাম রয়েছে, যদিও তিনি বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। তালিকায় দেওয়া মোবাইল নম্বরটি তার ছোট ভাই সুমনের। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হজরত আকন্দের নাম তালিকায় রয়েছে। হজরত আকন্দের ছেলে রুহুল আমিন আকন্দ এবং স্কুলশিক্ষক রবিউল ইসলাম আকন্দের নামও শ্রমিক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কবির হোসেন নামে একজন, যিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, তার নামও তালিকায় রয়েছে। সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাজা মন্ডলের নামও শ্রমিক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। "আমি নিজেই তালিকায় ভিআইপি শ্রমিক" শ্রমিক তালিকায় নাম থাকা স্কুলশিক্ষক রবিউল ইসলাম বলেন, "এই খাল খনন প্রকল্পে দুজন ভিআইপি শ্রমিক রয়েছেন। এর মধ্যে আমি একজন।" তার এই মন্তব্য প্রকল্পে শ্রমিক নির্বাচন নিয়ে ওঠা প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে। চেয়ারম্যানের ব্যাখ্যা সোনারায় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাজা মন্ডল দাবি করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে শ্রমিক তালিকা জমা দেওয়ার চাপ ছিল। তার ভাষ্য, শ্রমিকের ঘাটতি থাকায় পরিষদের হিসাব সহকারী ভুলবশত তার নিজের নাম, কয়েকজন সদস্য, প্রবাসী ও একজন স্কুলশিক্ষকের নাম তালিকায় যুক্ত করেছিলেন। তিনি বলেন, পরে তালিকা সংশোধন করা হয়েছে এবং তার নাম বাদ দিয়ে ছোট ভাই রাজু মণ্ডলের নাম যুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। প্রশাসন কী বলছে গাবতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মজিদুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যান, মেম্বার, তাদের স্বজন, প্রবাসী ও স্কুলশিক্ষকের নাম শ্রমিক তালিকায় থাকার অভিযোগ সত্য। তার ভাষ্য, এটি পুরোনো তালিকা। অভিযোগ ওঠার পর তা সংশোধন করা হয়েছে। গত ২০ জুন পুনরায় কাজ শুরু হলেও অর্থবছর শেষ হওয়ায় বর্তমানে প্রকল্পের কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। পরে আবার কাজ শুরু হবে। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, এ ধরনের অনিয়ম হওয়ার কথা নয়। এখনও বিল পরিশোধ করা হয়নি এবং শ্রমিক তালিকাও তার হাতে পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, অভিযোগ তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশ্নের মুখে কর্মসূচির লক্ষ্য অতিদরিদ্র মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিচালিত ইজিপিপি কর্মসূচিতে যদি প্রকৃত শ্রমিকদের পরিবর্তে জনপ্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, শিক্ষক কিংবা বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়, তাহলে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়। এখন স্থানীয়দের নজর প্রশাসনের তদন্তের দিকে। কারণ, তদন্তের ফলই নির্ধারণ করবে অভিযোগ কেবল তালিকা তৈরির ভুল ছিল, নাকি সরকারি কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে আরও বড় ধরনের অনিয়মের অংশ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীনকে পদায়নের আদেশ বাতিলের দাবিতে স্বাস্থ্য ভবন ঘেরাও, বিক্ষোভ এবং পরিচালকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন জুলাই আন্দোলনের পক্ষের চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও স্বাস্থ্য বিভাগের একাংশের কর্মচারীরা।বিক্ষোভকারীরা ঘোষণা দেন, বিতর্কিত বলে দাবি করা এই পদায়নের আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। পদায়ন ঘিরে কী অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীন শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের উপপরিচালক থাকাকালে তৎকালীন পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগসাজশে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। তাদের আরও দাবি, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনার পর ২ আগস্ট স্বাচিপের ব্যানারে আয়োজিত তথাকথিত ‘শান্তি সমাবেশ’-এর অন্যতম আয়োজক ছিলেন তিনি। পাশাপাশি স্বাচিপের ব্যানারে অনুষ্ঠিত একাধিক কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারীদের দাবি বিক্ষোভকারীদের ভাষ্য, জুলাই আন্দোলনের সময়কার ভূমিকার কারণে শেবাচিম হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলামের পাশাপাশি ডা. এস এম মনিরুজ্জামানকেও দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। তাদের দাবি, সেই ব্যক্তিকেই পুনরায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের সিদ্ধান্তে জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংগঠন, বিএনপি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভে যা ঘটেছে ৭ আগস্ট ২০২৬ বরিশাল স্বাস্থ্য ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন জুলাই আন্দোলনের কর্মী ও ছাত্রনেতা প্রিন্স। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডা. ফয়সাল আহমেদ, ডা. ঈস্তিয়াক রিফাত, ডা. রাকিবুল ইসলাম মনি এবং জুলাইযোদ্ধা ও কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা স্বাস্থ্য ভবনে প্রবেশ করে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কক্ষ অবরুদ্ধ করেন এবং কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন।পরে তারা ঘোষণা দেন, পদায়নের আদেশ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীন কিংবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মাত্র ১৭ দিনের মাথায় দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযোগ তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর রবিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) তাকে দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করার আদেশ দেয়। একই সঙ্গে একজন উপপুলিশ কমিশনারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কীভাবে শুরু হয় অভিযোগের প্রক্রিয়া? পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পক্ষপাত, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আধা সরকারি (ডিও) চিঠি পাঠান। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-২ শাখার উপসচিব নাসরীন সুলতানা পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে পাঠানো এক চিঠিতে অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। ওই চিঠিতে প্রতিমন্ত্রীর ডিও পত্রকে তথ্যসূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়। চিঠিটি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশে পৌঁছানোর পরই ওসি মুহাম্মদ শরীফকে সদরঘাট থানা থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে কী অভিযোগ? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় মুহাম্মদ শরীফের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে— দুর্নীতি চাঁদাবাজি অবৈধ আর্থিক লেনদেন জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিল চিঠিতে এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি। সিএমপির বক্তব্য চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর সদরঘাট থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি জানান, অভিযোগ তদন্তে একজন উপপুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কী বলছেন ওসি মুহাম্মদ শরীফ? অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রত্যাহার হওয়া ওসি মুহাম্মদ শরীফ। তিনি বলেন, "আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। কর্ণফুলী থানায় দায়িত্ব পালনকালে এক আওয়ামী লীগ নেতার মেয়ের বিয়েতে গিয়েছিলাম। সেই অনুষ্ঠানের ছবি ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে আমাকে হেনস্তা করা হয়েছে। সম্ভবত এ কারণেই আমাকে বদলি করা হয়েছে।" যোগদানের মাত্র ১৭ দিন গত ১৮ জুন মুহাম্মদ শরীফকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডিং শাখা থেকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর তিনি সিটিএসবির নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শকের পদ থেকে এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডিং শাখায় বদলি হন। এছাড়া তিনি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) থেকে কর্ণফুলী থানার ওসি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তদন্তে যেসব প্রশ্ন সামনে ঘটনাটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে— অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত তথ্য-উপাত্ত কতটা শক্তিশালী? রাজনৈতিক অভিযোগ ও প্রশাসনিক তদন্ত—দুইয়ের সীমারেখা কোথায়? তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোর সত্যতা কতটা প্রতিষ্ঠিত হবে? অভিযোগ প্রমাণিত হলে কী ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর এখন নির্ভর করছে চলমান তদন্তের ওপর।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে খুলনাকেন্দ্রিক একটি প্রভাবশালী টেন্ডার সিন্ডিকেট পরিচালনা, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদার নির্বাচন এবং জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন নথি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলে অনুসন্ধানে এমন অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অমিত কুমার বিশ্বাসের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। খুলনায় দীর্ঘদিনের প্রভাব অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২৮তম বিসিএসের মাধ্যমে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর অমিত কুমার বিশ্বাসের প্রথম কর্মস্থল ছিল খুলনা। কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য সময় তিনি সহকারী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এবং পরে নির্বাহী প্রকৌশলী (গণপূর্ত বিভাগ-১) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি দীর্ঘ সময় খুলনায় দায়িত্বে থেকে বিভাগ-১, বিভাগ-২ এবং বাগেরহাট গণপূর্ত বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও একসঙ্গে পালন করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব তথ্য সরকারি দপ্তরের বদলি ও দায়িত্ব সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করলেই যাচাই করা সম্ভব। টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিশেষ বরাদ্দের একাধিক প্রকল্পে ওপেন টেন্ডার মেথড (OTM) ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া দিঘলিয়া উপজেলা মডেল মসজিদ, টিটিসি নির্মাণ এবং খুলনা মেডিকেল কলেজের নতুন ভবন নির্মাণসহ একাধিক প্রকল্পে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব প্রকল্পে কমিশনভিত্তিক আর্থিক লেনদেনেরও অভিযোগ রয়েছে। গোপালগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালেও অনিয়মের অভিযোগ খুলনার বাইরে গোপালগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগে দায়িত্ব পালনকালেও বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে অমিত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২০ সালে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে গৃহীত কয়েকটি নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়া হয়। পটুয়াখালীতে বদলির পরও একই অভিযোগ ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর অমিত কুমার বিশ্বাসকে পটুয়াখালী গণপূর্ত বিভাগে বদলি করা হয়। সেখানে গিয়েও প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশনার বাইরে গিয়ে লিমিটেড টেন্ডার মেথড (LTM)-এর পরিবর্তে ওপেন টেন্ডার মেথড (OTM) ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে যেসব টেন্ডারের আইডি উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: 1082830,1078462,1078463,1072870,1072103,1072880,1072852,1071872,1070585,1066538,1067779,1067780,1070581 এসব টেন্ডারের মূল্যায়ন প্রতিবেদন, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত এবং অনুমোদন নথি পর্যালোচনা করলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন অনুসন্ধানে অমিত কুমার বিশ্বাসের নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ থাকার অভিযোগও উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তার সম্পদের মধ্যে রয়েছে— খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় একটি ছয়তলা ভবন। ডুমুরিয়ায় প্রায় ২০ বিঘা আয়তনের মাছের ঘের। ঢাকার উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরে দুটি ফ্ল্যাট। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সি-ব্লকে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। গাজীপুরে রিসোর্ট নির্মাণের জন্য প্রায় ১০ একর জমি। বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আমানত থাকার অভিযোগ। এছাড়া অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, ভারতে সম্পদ এবং অর্থপাচারেরও অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের দাবি গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদার, যারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন, তারা অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, টেন্ডার প্রক্রিয়া, সম্পদের উৎস, ব্যাংক লেনদেন এবং সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের নথিপত্র পর্যালোচনা করলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হবে। বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাসের বক্তব্য জানার জন্য তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খানকে ঘিরে ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, কমিশন গ্রহণ এবং ঠিকাদারি ব্যবসায় অংশীদার হওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, আনুষ্ঠানিক পদমর্যাদার বাইরে গিয়ে তাঁর প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে প্রধান প্রকৌশলীর সমপর্যায়ের, এমনকি তারও বেশি। ক্ষমতার উত্থান সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বদরুল আলম খান তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই রাজনৈতিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন এবং বড় প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার করেন। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে নতুন ক্ষমতার বলয়ে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে আবার নিজেকে অন্য রাজনৈতিক বলয়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। বদলি ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ সার্কেলগুলোতে দায়িত্ব পালনকালে বদরুল আলম খান বদলি ও পদায়নে অনানুষ্ঠানিক প্রভাব বিস্তার করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের অনুকূলে প্রভাবিত করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কয়েকটি প্রকল্পে কমিশনের বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেওয়ার একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। ঠিকাদারি ব্যবসায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, "আসিফ" নামের এক ঠিকাদারের সঙ্গে বদরুল আলম খানের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন নির্বাহী প্রকৌশলীকে ফোন করে ওই ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের কয়েকটি থানা ভবন নির্মাণ এবং অন্যান্য সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পেও এই প্রভাব খাটানো হয়েছে। মিরপুর আবাসিক প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মিরপুর পাইকপাড়া আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আরবরিকালচার কাজ সংশ্লিষ্ট বিভাগে না দিয়ে অন্য বিভাগের মাধ্যমে টেন্ডার করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তখন প্রকল্পটির প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বদরুল আলম খান। অতীত কর্মস্থল নিয়েও অভিযোগ ভোলা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালেও তাঁর বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, অনিয়ম এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। ময়মনসিংহে কর্মরত অবস্থায় ভবনের নকশা অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগে তাঁকে ওএসডি করা হয়েছিল বলেও কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে। যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, বদরুল আলম খানের নির্দেশ অমান্য করলে বদলি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার আশঙ্কা থাকে। ফলে অনেক কর্মকর্তা অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাঁর নির্দেশ অনুসরণ করেন বলে অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইত্তেহাদনিউজ,অনলাইন : টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার তালুকদার সিরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জান সেলুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও প্রায় ২৩ বছর ধরে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিজ বাসা থেকেই বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের ইতিহাস ও নিয়োগ স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত হয় তালুকদার সিরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার সময় প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান সেলিমুজ্জান সেলু। ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে যান না বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি নিয়মিত বেতন গ্রহণ করতেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দীর্ঘদিন ধরে পালন করছেন তার বড় ভাই শাহ আলম তালুকদার। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভূমিকা সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, সেলিমুজ্জান সেলু ২০০৩ সালে উপজেলা বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। পরে ২০০৯ সালে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৪ সালের পর থেকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন এবং ছয় মাসের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের কথা থাকলেও তা হয়নি। পরে কমিটির মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং নির্বাচন ছাড়াই তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি একসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, তালুকদার সিরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আচরণবিধি নিয়ে প্রশ্ন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রণীত খসড়া আচরণবিধিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, রাজনৈতিক পদ গ্রহণ কিংবা রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রধান শিক্ষক সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিলে তা অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারেন। এ অবস্থায় একজন সক্রিয় রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সেলিমুজ্জান সেলুর দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। শিক্ষকদের অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, বিশেষ অনুষ্ঠান বা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ছাড়া সেলিমুজ্জান সেলুকে বিদ্যালয়ে খুব কমই দেখা যায়। তাদের একজন বলেন, “বিশেষ প্রোগ্রাম ছাড়া তিনি বিদ্যালয়ে আসেন না। অধিকাংশ দাপ্তরিক কাজ বাসা থেকেই পরিচালনা করেন।” প্রশাসনের বক্তব্য ভূঞাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন, “সেলিমুজ্জান সেলু বিগত সরকার এবং বর্তমান সরকার—উভয় সময়েই প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঈদের ছুটির পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্প্রতি খুলেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একাডেমিক সুপারভাইজারকে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিএনপির অবস্থান ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, “কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান যদি রাজনৈতিক দলের নেতাও হন, তবু তাকে নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা করলে তার দায় দল নেবে না।” শিক্ষক সমিতির বক্তব্য মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির জেলা শাখার একাংশের সভাপতি আব্দুল কাদের বলেন, “ভূঞাপুরের অ্যাডহক কমিটি গঠনের বিষয়ে আমাদের কাছ থেকে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।” অন্যদিকে জেলা শাখার আরেক অংশের সভাপতি শামিম আল মামুন জুয়েল বলেন, “প্রথমে ছয় মাসের জন্য অ্যাডহক কমিটি করা হয়েছিল। পরে মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে নির্বাচন কেন অনুষ্ঠিত হয়নি, সেটি প্রশ্নসাপেক্ষ।” অভিযোগ অস্বীকার অভিযোগের বিষয়ে সেলিমুজ্জান সেলু বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।” মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির কমিটি সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ করে কথা বলার অনুরোধ জানান।
ইত্তেহাদনিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালী পৌর ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. শাহজাহান শিকদারের দৃশ্যমান সম্পদ, জমি ক্রয় এবং কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেলে অংশীদারিত্বের অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি চাকরির বেতন-ভাতার আয়ের তুলনায় তার সম্পদের পরিমাণ ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহজাহান শিকদার। অভিজাত বাড়ি নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, পটুয়াখালী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ ৬ষ্ঠ লেনে প্রায় সাত শতাংশ জমির ওপর ‘জাহান মঞ্জিল’ নামে তিনতলা একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন শাহজাহান শিকদার। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আধুনিক নকশা, উন্নতমানের নির্মাণসামগ্রী এবং ব্যয়বহুল অবকাঠামো ব্যবহার করে নির্মিত বাড়িটির পেছনে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের প্রশ্ন, একজন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার সরকারি আয়ে এমন ব্যয়বহুল আবাসন নির্মাণ কতটা সম্ভব। জমি ও বিনিয়োগ নিয়ে অভিযোগ স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, দৃশ্যমান বাড়ির বাইরে শাহজাহান শিকদার ও তার স্বজনদের নামে বিভিন্ন স্থানে জমি ক্রয় করা হয়েছে। এছাড়া পর্যটন নগরী কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেলে তার আর্থিক অংশীদারিত্ব রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে প্রাপ্ত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একই এলাকায় দীর্ঘদিন কর্মরত থাকার প্রশ্ন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাহজাহান শিকদার নিজেও পটুয়াখালী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে নিজ এলাকার মধ্যেই দায়িত্ব পালন করায় স্বার্থের সংঘাত এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের প্রশ্ন উঠছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের অবস্থানের কারণে তিনি স্থানীয়ভাবে একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় তৈরি করেছেন। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, প্রভাবশালী মহলের সমর্থন পাওয়ার কারণেই তিনি বছরের পর বছর একই এলাকায় দায়িত্ব পালন করে আসছেন। যদিও এই দাবিগুলোর স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। সম্পদের উৎস যাচাইয়ের দাবি স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, শাহজাহান শিকদারের চাকরি জীবনের আয়, ব্যাংক হিসাব, আয়কর নথি এবং দৃশ্যমান সম্পদের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, সম্পদ বিবরণী, কর নথি এবং ব্যাংক লেনদেন পর্যালোচনা করা হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তারা। যা বলছেন শাহজাহান শিকদার অভিযোগের বিষয়ে মো. শাহজাহান শিকদার বলেন, “আমার সঙ্গে পটুয়াখালীর সব সাংবাদিকের ভালো সম্পর্ক আছে। আমার যোগ্যতা আছে বলেই আমাকে পৌরসভার মধ্যে রাখা হয়েছে। আমি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি করিনি। আমার নামে কোনো বদনাম নেই।” প্রশাসনের বক্তব্য পটুয়াখালী সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তাফসীরুল হক মুন বলেন, “আমি এখানে এসেছি মাত্র নয় মাস হলো। তার সম্পর্কে আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এসপিএম প্রকল্প: সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের প্রতিশ্রুতি ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর চালু হয় কক্সবাজারের মহেশখালীতে স্থাপিত সিঙ্গেল পয়েন্ট মোরিং (এসপিএম) প্রকল্প। এটি গভীর সমুদ্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি ট্যাংক ফার্মে জ্বালানি তেল পরিবহনের ব্যবস্থা। সরকারি দাবি অনুযায়ী— আগের ১২–১৪ দিনের পরিবর্তে ৪৮ ঘণ্টায় তেল খালাস সম্ভব বছরে ৮০০–১০০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮,৩৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়। তবে প্রকল্পটি চালুর পরপরই এটি পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহার না হওয়া এবং অপারেশনাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ব্যয় বৃদ্ধি ও ঠিকাদারি নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কিছু নথি ও সূত্রের দাবি অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত ব্যয় ও পরবর্তী চূড়ান্ত ব্যয়ের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে— প্রকল্পের ব্যয় কয়েক ধাপে বৃদ্ধি পায় অতিরিক্ত যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে খরচ বাড়ানো হয় প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই চূড়ান্ত চুক্তি দেওয়া হয় একজন জ্বালানি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা যাচাই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন এগিয়ে যায়। ইআরএল-২ প্রকল্প: থমকে থাকা রিফাইনারি সম্প্রসারণ দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)-এর দ্বিতীয় ইউনিট (ইআরএল-২) নির্মাণ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে— জ্বালানি আমদানির চাপ কমবে পরিশোধিত তেলের খরচ কমতে পারে রিফাইনারি সক্ষমতা বাড়বে তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পটি একাধিকবার প্রক্রিয়াগত জটিলতা, দরপত্র ও অংশীদার নির্বাচন সংক্রান্ত বিতর্কের কারণে বাস্তবায়িত হয়নি। কিছু সূত্র দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কোম্পানির অংশগ্রহণ নিয়ে মতবিরোধ এবং উচ্চ ব্যয়ের প্রস্তাব প্রকল্পটিকে ধীর করে দেয়। দুর্নীতি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কিছু রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রভাব প্রকল্প সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে। তবে এসব অভিযোগের কোনোটি স্বাধীনভাবে প্রমাণিত নয়। একজন জ্বালানি খাত বিশ্লেষক বলেন, প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতা না থাকলে এমন বিতর্ক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা এসপিএম প্রকল্প বর্তমানে আংশিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে বলে জানা যায় ইআরএল-২ প্রকল্প এখনো চূড়ান্ত বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি কিছু অংশে যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো অচল অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে এসপিএম ও ইআরএল-২ প্রকল্প বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এগুলোর ব্যয়, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব প্রকল্পের পূর্ণ কার্যকারিতা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন ও গভীর পর্যালোচনা প্রয়োজন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ারকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে নিজ অবস্থান বদল, বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিশেষ সুবিধা প্রদান, সবুজ পাসপোর্ট ইস্যু এবং ই-পাসপোর্ট প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অনিয়ম—সব মিলিয়ে প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে তাকে নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সরকারের পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও পরিবর্তন করেছেন এই কর্মকর্তা। কখনও আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ, কখনও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থক, আবার বর্তমানে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ার। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার দিনের মাথায় তিনি টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। সেখানে তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে পাসপোর্ট অধিদপ্তর পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রশাসনের ভেতরে তখন তাকে আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তা হিসেবেই দেখা হতো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন অবস্থান তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দ্রুত অবস্থান বদলের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করেন বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর। তাদের ভাষ্য, প্রশাসনে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে নতুন ক্ষমতার বলয়ে প্রবেশের কৌশল হিসেবে তিনি এ যোগাযোগ জোরদার করেন। পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর আবারও রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপির বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে নিজেকে বিএনপিপন্থী জেনারেল হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন তিনি। জামায়াত ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও সূত্রগুলো জানায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াত সমর্থিত ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আবদুল বাতেনকে নিজের কার্যালয়ে নিয়ে আসেন ডিজি নূরুল আনোয়ার। ওই বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও পরে রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি আবার বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের বহাল রাখার অভিযোগ ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রশাসনিক রদবদলের পরও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তা বহাল রয়েছেন। অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ডিজি নূরুল আনোয়ারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও প্রভাবের কারণেই এসব কর্মকর্তা এখনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল আছেন। তাদের দাবি, প্রশাসনের অন্যান্য দপ্তরে পরিবর্তন এলেও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে সেই পরিবর্তনের প্রভাব দৃশ্যমান হয়নি। সবুজ পাসপোর্ট বিতর্ক জুলাই বিপ্লবের পর বেশ কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনায় ডিজি নূরুল আনোয়ারের নাম উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর বাসায় গিয়ে পাসপোর্টের জন্য আঙুলের ছাপ ও ছবি সংগ্রহ করেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ডিজির নির্দেশে। একইভাবে সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে বিশেষ সুবিধায় সবুজ পাসপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম এবং ঢাকার সাবেক এক পুলিশ কমিশনারকেও বিশেষ সুবিধায় সবুজ পাসপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিতর্কিত কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাসহ আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী বহু ব্যক্তিকে কূটনৈতিক সুবিধাসংবলিত পাসপোর্ট প্রদান করে বিদেশ যেতে সহায়তা করা হয়েছে। ই-পাসপোর্ট প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে ই-পাসপোর্ট প্রকল্পকে ঘিরে। সূত্র বলছে, শুরুতে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প হিসেবে নেওয়া ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের ব্যয় পরে বাড়িয়ে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি, সরঞ্জাম ক্রয়ে অতিরিক্ত ব্যয় এবং বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপে অস্বচ্ছতার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই অনিয়মের সঙ্গে বর্তমান ডিজির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং পুরো প্রকল্পে একটি প্রভাবশালী চক্র কাজ করেছে। যোগাযোগের চেষ্টা এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল কেটে দেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলার লালমোহন উপজেলায় সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে চাল ও গমের ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) বিতরণে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অবনী মোহন দাসের বিরুদ্ধে। অভিযোগের সমর্থনে টাকার লেনদেনসংক্রান্ত একাধিক গোপন ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় থেকে চাল বা গম বরাদ্দের ছাড়পত্র নিয়ে ডিলার বা কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দপ্রাপ্তরা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে ডিও নিতে গেলে প্রতি টনে ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা পর্যন্ত ‘সমঝোতা ফি’ দাবি করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অর্থ পরিশোধের পরই দ্রুত ডিও ইস্যু করা হতো এবং বরাদ্দকৃত চাল-গম উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হতো। গোপন ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ৯ টন চালের ডিও প্রদানের জন্য ৪ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণ করা হচ্ছে। টাকা গ্রহণের পরপরই ডিও লেটার প্রস্তুত ও ইস্যু করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। ফুটেজে এ সংক্রান্ত কথোপকথনের অংশও রয়েছে বলে জানা গেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, সমঝোতার অর্থ পেলে একাধিক কিস্তির ডিও একসঙ্গে প্রস্তুত করে দেওয়া হতো, যা সরকারি বিধিমালার পরিপন্থী বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। অভিযোগ প্রসঙ্গে খাদ্য নিয়ন্ত্রক অবনী মোহন দাসের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওরা খুশি হয়ে যা দেয়, তা আমি রাখি। আমি কাউকে জোর করি না।” তবে পরবর্তীতে কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি সমঝোতার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন বা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :বাংলাদেশের সরকারি প্রকৌশল ও নির্মাণ খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এর লাইসেন্স শাখাকে কেন্দ্র করে ঘুষ, অনিয়ম এবং প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গঠনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের লাইসেন্স শাখাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ । বিশেষ করে ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে একটি সুসংগঠিত প্রভাবশালী চক্র কাজ করছে—এমন অভিযোগও রয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর লাইসেন্স শাখা যেন ঘুষ বাণিজ্যের নতুন সাম্রাজ্য। নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিলা ইসলাম (ওএন্ডএম) সহ বিশাল এক সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে লাইসেন্স শাখায়। অধিদপ্তরের বিধি-বিধান কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে টাকার বিনিময়ে চলছে নতুন ঠিকাদার লাইসেন্স প্রদান। লাইসেন্স শাখাকে ঘিরে অভিযোগ অনুসন্ধানে পাওয়া দাবি অনুযায়ী, লাইসেন্স শাখায় নতুন ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রদান থেকে শুরু করে নবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, লাইসেন্সভেদে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত “অবৈধ অর্থ” দাবি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই অর্থ একটি নির্দিষ্ট চক্রের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করা হয়। কথিত চক্র ও দায়িত্ব বণ্টন অভিযোগ অনুযায়ী, লাইসেন্স শাখার ভেতরে একটি অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক কাজ করছে, যেখানে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্পৃক্ততার কথা বলা হচ্ছে। সূত্রের দাবি অনুযায়ী যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন— নির্বাহী প্রকৌশলী (ওএন্ডএম) সাকিলা ইসলাম শিপন মিয়া (অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক) মো. আল-আমিন (অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক) মো. অহিদুল ইসলাম (উচ্চমান সহকারী) মো. আমিনুল ইসলাম (সুপার) এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত হলেও একজন সাবেক অফিস সহায়ক মো. হান্নান দীর্ঘদিন ধরে “আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থাপনায়” যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। নিয়োগ ও লাইসেন্স প্রদানে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ অনুসন্ধানী সূত্রগুলোর দাবি, নিয়ম অনুযায়ী যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদনের মাধ্যমে লাইসেন্স প্রদান হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে — নির্ধারিত সময়ের পরও আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে কিছু ক্ষেত্রে মানি রিসিট টেম্পারিংয়ের অভিযোগ উঠেছে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্যাডে স্বাক্ষর ছাড়াই লাইসেন্স ইস্যু হয়েছে মাঠ পর্যায়ের নির্বাহী প্রকৌশলীদের সুপারিশ ছাড়াই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ঈদ-পূর্ব সময়ে লাইসেন্স প্রদান নিয়ে প্রশ্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ঈদের ছুটির আগের সময়েই (১৫৬১ ও ১৫৬২ স্মারকের অধীনে) একাধিক ঠিকাদারি লাইসেন্স দ্রুততার সাথে প্রদান করা হয়, যা নিয়ে অভ্যন্তরীণ মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হয়নি। অর্থ বণ্টন ও “সিন্ডিকেট” অভিযোগ সূত্রের দাবি অনুযায়ী, লাইসেন্স প্রদান থেকে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছায় এবং বাকি অংশ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আরও অভিযোগ রয়েছে — পোস্টিং বাণিজ্য হয়ে থাকে ঘুষের বিনিময়ে পদায়ন পাওয়া যায় একাধিক কর্মচারী অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। গুরুতর অভিযোগ ও ব্যক্তিগত চরিত্র কিছু সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে যে, একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্ক ও প্রশাসনিক অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনিক নীরবতা ও প্রশ্ন একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পরও দৃশ্যমান কোনো কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি। ফলে পুরো লাইসেন্স শাখার কার্যক্রম নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের লাইসেন্স শাখা নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগ একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক ও নীতিগত সংকটের ইঙ্গিত দেয়। তবে একইসাথে এটি জরুরি — নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা নথি যাচাই ও অডিট করা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করা
মামুনুর রশীদ নোমানী : দেশের সাংবাদিকতা উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ১৯৭৬ সালের ১৮ই আগস্ট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত Press Institute of Bangladesh (পিআইবি) । দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণার কাজ করে আসছে। বর্তমান পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ–কে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটিতে বাজেট ব্যবস্থাপনা, ব্যয়ের নথি ও স্বচ্ছতার ব্যাপারে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে সাংবাদিক সমাজ, বিভিন্ন গণমাধ্যম সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী দুর্নীতি, প্রশাসনিক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছেন; তাদের দাবী—এই বিষয়গুলো স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।এতে করে পিআইবি–র ভাবমূর্তি, গণমাধ্যম উন্নয়নে এর ভূমিকা এবং সাংবাদিক সমাজের আস্থা, এই সব কিছুই ঝুঁকিতে পড়ে। অভিযোগ: ভুয়া সেমিনার ও ভাউচার প্রদর্শন সম্প্রতি একটি অনলাইন ও জাতীয় পত্রিকার রিপোর্ট উল্লেখ করেছে যে, পিআইবি থেকে প্রায় ২.৪ মিলিয়ন টাকার (২৩,৯৭,৫০০ টাকা) সেমিনার অ্যালাউন্স–এর নামে খরচ দেখানো হয়েছে, যেখানে ফাইনাল উপস্থিতি বা বাস্তব ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে এবং অনেক নাম করা সাংবাদিকরা বলছেন যে তারা সেখানে উপস্থিতই ছিলেন না বা স্বাক্ষরও তাদের নয়। রিপোর্ট অনুসারে: ভুয়া সেমিনার বা কর্মসূচির খরচ হিসেবে চারটি ভাউচার দেখানো হয়, যার প্রতিটির খরচের পরিমাণ মিলিয়ে মোট টাকা একই রকম খাতের হিসাবে ধরা হয়। • অধিকাংশ নাম থাকা সাংবাদিকদের অভিযোগ—তাদের নাম বা স্বাক্ষর এমন কোনো ইভেন্টে তারা আসলে উপস্থিত ছিলেন না বা স্বাক্ষর করেছেনই না। • এমনকি কিছু নামের ব্যক্তি বর্তমানে দেশেই নেই বা অন্য স্থানে ছিলেন বলে দাবি করেন। • উপস্থিতি ও ব্যয়ের প্রত্যয়নযোগ্য ছবি, ভিডিও বা ফটো রিপোর্টে দেখা যায়নি। • পিআইবি–র দুটি বড় হলেও সেগুলিতে দুই শতাধিক মানুষ একসঙ্গে বসে প্রশিক্ষণ করার মতো জায়গা নেই বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। চারটি অনুষ্ঠানে প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয়: পিআইবির নথি অনুযায়ী ব্যয়ের হিসাব ছিল— 1️⃣ সংগীতসন্ধ্যা তারিখ: ১৮–১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ স্থান: পিআইবি অডিটরিয়াম ব্যয়: ৫,৭৩,০০০ টাকা 2️⃣ জুলাই অভ্যুত্থানের চলচ্চিত্র, আলোকচিত্র, গ্রাফিতি ও ভিডিও প্রদর্শনী তারিখ: ১৮–১৯ ফেব্রুয়ারি ব্যয়: ৪,৬৭,৫০০ টাকা 3️⃣ সেমিনার: ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান : সংহতি ও প্রত্যাশা’ তারিখ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্যয়: ৬,৯১,৫০০ টাকা 4️⃣ সেমিনার: ‘গণ-অভ্যুত্থানের দিশা ও দর্শন’ তারিখ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ব্যয়: ৬,৬৫,৫০০ টাকা সব মিলিয়ে ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টাকা। এই তথ্যগুলোর ভিত্তিতে সাংবাদিক সমাজের একটি অংশ বলছে, “এভাবে ব্যয়ের হিসাব দেখানো হলে সরকারী অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত থাকে না।” সাংবাদিকদের স্বাক্ষর ও নাম ব্যবহার: অভিযোগ ও প্রেক্ষাপট রিপোর্ট অনুসারে সেখানে অন্তর্ভুক্ত নামগুলো • অনেকেই বলেছেন তারা কোনো পিআইবি সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন না। • তাদের স্বাক্ষর জাল বা অচেনা স্বাক্ষর হতে পারে। • পিআইবি–র আর্কাইভ বা ভিডিও ফুটেজে সেসব ইভেন্টের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় নি—যেমন নামগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছিল। • একাংশ বলছেন, “এই টাকাটা নাকি ব্যয় দেখানো হয়েছে কিন্তু *আইনগতভাবে তা ব্যয় হয়নি।” সাংবাদিক নেতারা এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বলেন— “যদি সরকারি ব্যয়ের হিসাব ও স্বাক্ষরের তথ্য খতিয়ে না দেখানো হয়, নিম্নমানের নথির উপর ভিত্তি করে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে—তবে তা সন্দেহজনক।” প্রতিষ্ঠানটির ক্ষমতা ও স্থাপত্যগত বাস্তবতা পিআইবির নিজের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম, অডিটরিয়াম ও সেমিনার রুমগুলোর ধারণ ক্ষমতা দেখানো হয়; যেখানে একটি ২৩৮ আসনের অডিটরিয়াম, ৬০ আসনের সেমিনার রুম ও আরও ছোট সেন্টার আছে। যদিও এই ধারণক্ষমতা স্বীকারযোগ্য, দুইশো মানুষের একটি একদিনের প্রশিক্ষণ বা সেমিনার আয়োজনের জন্য বাস্তবসম্মত নয়—অনেক পেশাজীবী মনে করছেন দেখা উচিত যে সেই বিনিয়োগ কি বাস্তবে হয়েছে কি না। মহাপরিচালকের বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া: অভিযোগ উঠে আসার পর পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ অভিযোগগুলো সম্পর্কে বলেছেন, “প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কিছু বিদ্রোহী গ্রুপ ভুয়া বিল তৈরি করেছে এবং আমি তা অনুমোদন করি নি; কোন টাকা ওই বিষয়ে ব্যয় হয়নি।” তারা বলেন তিনি প্রতিদিন অনেক ফাইল সই করেন, এবং পরে খানি ভুয়া/ভুল ফাইল সনাক্ত করেন। বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে বলে মনে করেন তিনি। এই ধরনের প্রতিক্রিয়া সাংবাদিক সমাজের সব পক্ষেই সমালোচিত হচ্ছে, কারণ সত্য উদঘাটন ছাড়া সবকিছু অনুমান বা প্রত্যাশার উপরে স্থাপন করা কঠিন। সাংবাদিক সমাজ ও সংগঠনের দাবি : সাংবাদিকদের একটি অংশ মনে করছে, পিআইবি–র মতো একটি প্রতিষ্ঠান যদি ব্যয়ের অডিট, উপস্থিতির ডকুমেন্টস, ভিডিও বা ফটোগ্রাফিক প্রমাণাদি প্রকাশ করে না—তবে জন আস্থা তৈরি হয় না। তাদের দাবি: • দূরদর্শী তদন্ত কমিটি গঠন হতে হবে। • অডিট রিপোর্ট ও পেমেন্ট ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা উচিত। • অনিয়ম ও অসাধু আচরণের ক্ষেত্রে যথাযথ বিধান অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বিশ্লেষণ: স্বচ্ছতার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকেও নাগরিকদের কাছে দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক হতে হয়। পিআইবি–র মতো সাংবাদিকতা উন্নয়নের মুখ্য সংস্থায় অভিযোগ উঠলে— ১. দেখার বিষয়: * ব্যয়ের প্রমাণ—ভাউচার, ফটো, ভিডিও, উপস্থিতি যুক্ত নথি; ২. আদর্শ হয়: * অডিট রিপোর্ট খুলে দেওয়া যায় কি না; ৩. কি ঘটেছে: * অনেক নামের ব্যক্তির তো দাবি—সে অনুষ্ঠানেই উপস্থিত ছিলেন না। * কিছু শিক্ষকের নাম ভুল বা বাস্তবে সেই ইভেন্টে কেউ ছিলেনই না। এগুলো দুর্নীতি কিনা—তা যাচাইয়ের জন্য দাবি ও তথ্যের যথাযথ যাচাই জরুরি। পিআইবি–র উদ্দেশ্য দেশের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা বৃদ্ধি—অবশেষে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করা। তবে মহাপরিচালক পদে থাকা অবস্থায় যদি ভুল তথ্য, নাগরিকের স্বাক্ষর, ব্যয়ের অভিলেখ বা অন্যান্য পক্ষের দাবিকে উপেক্ষা করা হয়—তবে সেটি উদাসীনতা, ব্যয়ের অপব্যবহার, কিংবা স্বচ্ছতার অভাব—এমন প্রশ্ন তোলে। সাংবাদিক সমাজের একাংশ মনে করেন—এই দাবির যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত এবং সেই অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কোনো অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তা সহজভাবে ফেলে দেওয়া যায় না। পিআইবি–র শুদ্ধ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাজের স্বার্থে স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া আশা করা উচিত নয়। পিআইবিতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক, তদন্তের দাবি সাংবাদিক মহলের • প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ • নিয়োগ, প্রকল্প বা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন • কিছু কর্মকর্তার মধ্যে অসন্তোষের ব্যাপারে সাংবাদিক সমাজের দাবি: কিছু সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়, অর্থাৎ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। পিআইবি দেশের সাংবাদিকতা উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে ওঠা অভিযোগ বা প্রশ্নগুলো স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন—এমন মত প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই। ২০২৪ সালে পিআইবির মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান ফারুক ওয়াসিফ।তিনি যোগদানের পরেই জাতীয়তাবাদ আদর্শের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে বাধ্যতামুলক অবসর, অনত্র বদলীসহ বিভিন ভাে হয়রানী ষুরু করেন। ফারুক ওয়াসিফের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ: ১. সেমিনার ও প্রশিক্ষণ ব্যয়ের অনিয়মের অভিযোগ কিছু সূত্র দাবি করেছে যে, কয়েকটি সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুয়া বিল ও স্বাক্ষরের মাধ্যমে অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ ওঠে, যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ২. প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ পিআইবির কয়েকজন কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা নেই এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়া হচ্ছে—যা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ৩. সাংবাদিক মহলের উদ্বেগ সাংবাদিকদের কয়েকটি সংগঠন ও পেশাজীবী মহলের একটি অংশ দাবি করেছে—পিআইবির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন। ৪.একই দিনে ৪ কর্মশালা,কোটি টাকার ভুয়া বিল ৫.ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে চার লক্ষ সাতষট্টি হাজার পাঁচশ টাকা আত্মসাত ৬.ণ আন্দোলনের দিশা ও দর্শণ বিষয়ক সেমিনারের নামে ছয় লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার পাঁচশ টাকা আত্মসাত: ৭.জুলাই গণ অভ্যুত্থান: সংহতি ও প্রত্যাশা বিষয়ক সেমিনারের নামে ৬ লাখ ৯১ হাজার পাচঁশত টাকা আত্মসাত: ৮.amera & Crowd: Covering Revolution নামে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা দেখিয়ে ৫৫,০২৫ টাকা আত্মসাৎ: ৯.টেন্ডার ছাড়াই সংস্কার কাজ ১০.অডিট নির্দেশ অমান্য ও তহবিল স্থানান্তর ১১.পিআইবির ডরমিটরিতে মদপান ও অসামাজিক কাজ: ১২.নিয়োগ বানিজ্য: অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজন : নথি যাচাই • পিআইবির গত ১–২ বছরের সেমিনার বাজেট • প্রশিক্ষণ ব্যয়ের বিল • প্রকল্প অনুমোদন নথি • অডিট রিপোর্ট ফারুক ওয়াসিফের নিকট প্রশ্ন? • সেমিনার ব্যয়ের অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হয়েছে? • বাজেট অনুমোদনের প্রক্রিয়া কী? ,একই দিন ৪টি প্রোগ্রাম করা আদৌ সম্ভব? • পিআইবির প্রশাসনিক অভিযোগের বিষয়ে তথ্য মন্ত্রনালয়ে অবহিত করেছেন? মন্ত্রনালয় তদন্তে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা? • মন্ত্রণালয় বা অভ্যান্তরিন কোন অডিট করেছেন? • অভিযোগগুলো সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী? • কোনো তদন্ত হলে আপনি সহযোগিতা করবেন কি? সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়া : পিআইবির সাম্প্রতিক প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে গণমাধ্যমে যে অভিযোগগুলো উঠেছে তা গভীর উদ্বেগের বিষয়। দেশের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিআইবির কার্যক্রম স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হওয়া জরুরি। সাংবাদিক সমাজ মনে করে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমরা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কাছে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। পিআইবি–র উদ্দেশ্য দেশের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা বৃদ্ধি—অবশেষে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করা। তবে মহাপরিচালক পদে থাকা অবস্থায় যদি ভুল তথ্য, নাগরিকের স্বাক্ষর, ব্যয়ের অভিলেখ বা অন্যান্য পক্ষের দাবিকে উপেক্ষা করা হয়—তবে সেটি উদাসীনতা, ব্যয়ের অপব্যবহার, কিংবা স্বচ্ছতার অভাব—এমন প্রশ্ন তোলে। সাংবাদিক সমাজের একাংশ মনে করেন—এই দাবির যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত এবং সেই অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কোনো অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তা সহজভাবে ফেলে দেওয়া যায় না। পিআইবি–র শুদ্ধ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাজের স্বার্থে স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া আশা করা উচিত নয়। বাংলাদেশের সাংবাদিকতা উন্নয়নে Press Institute of Bangladesh( PIB) দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।তাই এই প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।সাংবাদিক সমাজের অনেকেই মনে করছেন—পিআইবির ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থেই অভিযোগগুলো দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত।তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হলে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আস্থা আরও শক্তিশালী হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। লেখক : সাংবাদিক, [email protected] তথ্য সুত্র : 1. BD Digest, লিংক- https://en.bddigest.com/pib-dg-faruq-wasifs-fraud-2-4-million-disappeared-through-fake-seminar-and-journalists-forged-signatures/?utm_source=chatgpt.com 2. দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, লিংক- https://www.bd-pratidin.com/national/2026/03/05/1224362 3. দৈনিক কালের কণ্ঠ, লিংক- https://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2026/03/05/1655859 4.দৈনিক কালের কণ্ঠ, লিংক- https://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2026/03/05/1655869 5.ইত্তেহাদ নিউজ : লিংক- https://etihad.news/pib-tarunyer-utsob-24-lakh-corruption-allegation-bangladesh 6.ইত্তেহাদ নিউজ : লিংক- https://etihad.news/pib-faruk-wasif-corruption-fake-bill-recruitment-scam 7.otnbangla লিংক- https://otnbangla.com.au/news/51830 8. somoynews.tv লিংক- https://www.somoynews.tv/news/2026-03-06/LJ2U9TzR 9. ঢাকা টাইমস লিংক- https://www.dhakatimes24.com/2026/03/05/402684 10. কালের কণ্ঠ লিংক- https://www.youtube.com/watch?v=dXwwe8EzTME 11.বাংলানিউজ লিংক- https://www.youtube.com/watch?v=449Y3K3uMP8 12.Somoy TV লিংক- https://www.youtube.com/watch?v=xCZRP0vVHq8 13. বরিশাল খবর লিংক- https://www.barisalkhabar24.com/onusondhaninews/%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%95-%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%95-%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B2%E0%A7%81%E0%A6%9F%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%9F,-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE-%E0%A6%86%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A7%8E 13. বরিশাল খবর লিংক- https://www.barisalkhabar24.com/onusondhaninews/%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%87-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A7%A8%E0%A7%AA-%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%96-%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B2:-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B2,-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A6%BE,-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0 14. বিডি২৪নিউজ লিংক- https://bd24news.com %e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%86%e0%a6%87%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%ad%e0%a7%81%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0/ 15.বিডি২৪নিউজ লিংক- https://bd24news.com/%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%86%e0%a6%87%e0%a6%ac%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a7%81%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%b8/ 16.moheshpurnews লিংক- https://moheshpurnews24.com/%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AD%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%99%E0%A7%8D/
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।