মাত্র ১৭ দিনের মাথায় দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযোগ তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর রবিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) তাকে দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করার আদেশ দেয়। একই সঙ্গে একজন উপপুলিশ কমিশনারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কীভাবে শুরু হয় অভিযোগের প্রক্রিয়া? পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পক্ষপাত, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আধা সরকারি (ডিও) চিঠি পাঠান। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-২ শাখার উপসচিব নাসরীন সুলতানা পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে পাঠানো এক চিঠিতে অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। ওই চিঠিতে প্রতিমন্ত্রীর ডিও পত্রকে তথ্যসূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়। চিঠিটি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশে পৌঁছানোর পরই ওসি মুহাম্মদ শরীফকে সদরঘাট থানা থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে কী অভিযোগ? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় মুহাম্মদ শরীফের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে— দুর্নীতি চাঁদাবাজি অবৈধ আর্থিক লেনদেন জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিল চিঠিতে এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি। সিএমপির বক্তব্য চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর সদরঘাট থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি জানান, অভিযোগ তদন্তে একজন উপপুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কী বলছেন ওসি মুহাম্মদ শরীফ? অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রত্যাহার হওয়া ওসি মুহাম্মদ শরীফ। তিনি বলেন, "আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। কর্ণফুলী থানায় দায়িত্ব পালনকালে এক আওয়ামী লীগ নেতার মেয়ের বিয়েতে গিয়েছিলাম। সেই অনুষ্ঠানের ছবি ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে আমাকে হেনস্তা করা হয়েছে। সম্ভবত এ কারণেই আমাকে বদলি করা হয়েছে।" যোগদানের মাত্র ১৭ দিন গত ১৮ জুন মুহাম্মদ শরীফকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডিং শাখা থেকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর তিনি সিটিএসবির নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শকের পদ থেকে এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডিং শাখায় বদলি হন। এছাড়া তিনি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) থেকে কর্ণফুলী থানার ওসি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তদন্তে যেসব প্রশ্ন সামনে ঘটনাটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে— অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত তথ্য-উপাত্ত কতটা শক্তিশালী? রাজনৈতিক অভিযোগ ও প্রশাসনিক তদন্ত—দুইয়ের সীমারেখা কোথায়? তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোর সত্যতা কতটা প্রতিষ্ঠিত হবে? অভিযোগ প্রমাণিত হলে কী ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর এখন নির্ভর করছে চলমান তদন্তের ওপর।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় একটি ভাড়া বাসা থেকে আসমা আক্তার নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নিহত আসমা আক্তার পূর্ব বালিগাও জামে মসজিদের ইমাম মুহসিন উদ্দিনের স্ত্রী। ঘটনার পর থেকে তাদের একমাত্র শিশু কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে ইমাম মুহসিন উদ্দিনের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। সোমবার (৬ জুলাই) রাত প্রায় ৮টার দিকে উপজেলার পূর্ব বালিগাও এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে টঙ্গিবাড়ী থানা পুলিশ। কীভাবে সামনে আসে ঘটনাটি? স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ইমাম মুহসিন উদ্দিন বাড়ির মালিককে ফোন করে জানান, তার স্ত্রী ঘরের ভেতরে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে পারেন। বাড়ির মালিক বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতরে আসমা আক্তারকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে আসমা আক্তারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি তদন্তকারী সংস্থা। স্থানীয়দের তথ্য কী বলছে? স্থানীয় বাসিন্দা কুরবান আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, মুহসিন উদ্দিনের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে নয়। তিনি প্রায় দুই বছর ধরে পূর্ব বালিগাও জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পূর্ব বালিগাও গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম খানের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ঘটনার সময় বাড়ির মালিক ঢাকায় অবস্থান করছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পুলিশের বক্তব্য টঙ্গিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহম্মেদ বলেন, ভাড়া বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তার ভাষ্য, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ওসি আরও জানান, ঘটনার পর নিহতের স্বামী তাদের শিশু কন্যাকে নিয়ে চলে যাওয়ায় এখন পর্যন্ত তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে তার বক্তব্যও এখনো নেওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে যেসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীদের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে— আসমা আক্তারের মৃত্যু আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে? ইমাম মুহসিন উদ্দিন কেন বাড়ির মালিককে ফোন করে স্ত্রীর মৃত্যুর কথা জানান? ফোন করার পর তিনি কোথায় গেছেন এবং কেন শিশু কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন? ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে কী তথ্য উঠে আসে? ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ তদন্তে কী নতুন তথ্য যোগ করে? এসব প্রশ্নের উত্তর মিললেই ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে। এখন পর্যন্ত যা নিশ্চিত আসমা আক্তারের মরদেহ টঙ্গিবাড়ীর একটি ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী মুহসিন উদ্দিন শিশু কন্যাসহ নিখোঁজ রয়েছেন। এখনো তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলমান এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশে ককটেল বা বিস্ফোরক জাতীয় বস্তু বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—বিস্ফোরণের ঠিক আগে কেন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল? ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন জানিয়েছেন, ঘটনাটির সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিস্ফোরণের কারণ, পরিকল্পনা এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনাটি সোমবার (৬ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ড ঈদগাহ মাঠে ঘটে। তখন এনসিপির সমাবেশ চলছিল। কী ঘটেছিল? দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন। সেই সময় সমাবেশস্থলে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে তারা কেউ আহত হননি। বিস্ফোরণে চারজন আহত হন। আহতরা হলেন— মো. শাহীন খন্দকার (৩০) মো. জসিম (২৬) মো. শাহাদাত হোসেন (৪০) অপর একজন, যার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তাদের সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের বক্তব্য এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হাসান জানান, আহত চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজনের পায়ে গুরুতর আঘাত ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর বাকি তিনজনকে জরুরি বিভাগ থেকে অস্ত্রোপচারের জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, আহতরা বিস্ফোরণের কথা জানিয়েছেন। এক্স-রে এবং অন্যান্য পরীক্ষার পর আঘাতের প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিস্ফোরণের আগে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটনার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, বিস্ফোরণের ঠিক আগে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার বিষয়টিকে তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, "কোনো কিছুই আমরা সন্দেহের বাইরে রাখছি না। কেন ঠিক ওই মুহূর্তে বিদ্যুৎ চলে গেল, এরপরই বিস্ফোরণ ঘটল—বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।" তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে, যাতে ওই সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ যাচাই করা যায়। তবে পুলিশ এখনো বলেনি যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং বিস্ফোরণের মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশের বক্তব্য পুলিশ সুপার জানান, পদযাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকেই পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। পাকিজা মোড় থেকে সমাবেশস্থল পর্যন্ত নেতাদের নিরাপত্তা দিয়ে আনা হয়। ঘটনার পরও মঞ্চে থাকা শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তার সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তারা সাভার থানায় যান। তদন্তে কী কী খতিয়ে দেখা হচ্ছে? পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে— বিস্ফোরণে ব্যবহৃত বস্তুটির ধরন। হামলাকারীদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য। ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা। বিস্ফোরণের আগে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য। হামলাটি পরিকল্পিত ছিল কি না। এ ঘটনায় ঢাকা জেলার দুই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মামলা বিস্ফোরণের ঘটনায় এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্যসচিব সালামত উল্লাহ রনি, জুলাই যোদ্ধা মো. ইউনুস আলী এবং আজহারুল ইসলাম তামিম অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ বলছে, তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনসিপির প্রতিক্রিয়া এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিন বলেন, বিস্ফোরণে দলের চার কর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনার পর দলীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ মিছিল করেন। পরে আহতদের দেখতে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। পুলিশও এখন পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। এখন পর্যন্ত যা নিশ্চিত এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা গেছে— সমাবেশ চলাকালে একটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। চারজন আহত হয়েছেন। শীর্ষ নেতারা অক্ষত রয়েছেন। বিস্ফোরণের আগে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়েছিল। পুলিশ বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখছে। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন এবং মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণের উদ্দেশ্য, হামলাকারীদের পরিচয় কিংবা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সঙ্গে ঘটনার সম্পর্ক সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এখন নজর তদন্তের ফলাফলের দিকে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কী ঘটেছিল? ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে সিজান (২৫) নামে এক যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় অনিক নামে আরেক তরুণ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনিবার (৪ জুলাই) রাতে পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। নিহত সিজান পশ্চিম মাসদাইর এলাকার বাসিন্দা ইউনুছ ওরফে ইন্নু মিয়ার ছেলে। স্থানীয়দের বক্তব্য: সামাজিক উদ্যোগ নাকি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া? স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সম্প্রতি এলাকার একটি মসজিদের ইমাম কাউছারের উদ্যোগে ৩০ থেকে ৪০ সদস্যের একটি সামাজিক সংগঠন গড়ে ওঠে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংগঠনটি এলাকায় অপরাধ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কাজ করে। তাদের দাবি, সেই কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই সিজানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থলে ঠিক কী ঘটেছিল, কারা মারধরে অংশ নিয়েছিল এবং কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিবারের অভিযোগ নিহতের বাবা ইন্নু মিয়া অভিযোগ করেন, মসজিদের ইমাম কাউছারের নেতৃত্বে একদল কিশোর ও যুবক তার ছেলেকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। তার অভিযোগ অনুযায়ী, পরে মাসদাইর মোড়ে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে সিজানকে বেঁধে পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তার ডান পা ভেঙে যায় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। ইন্নু মিয়ার দাবি, পরে ইমাম কাউছার সিজানের হাতের বাঁধন খুলে দিয়ে তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে বলেন। দ্রুত খানপুর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ইমাম কাউছারের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে মসজিদের ইমাম কাউছার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার ভাষ্য, "সিজানের বিরুদ্ধে ছিনতাইসহ একাধিক অভিযোগ ছিল। তাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়, বরং খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে বোঝানোর উদ্দেশ্যে বাসা থেকে আনা হয়েছিল। তবে সেখানে উপস্থিত কিছু উত্তেজিত ব্যক্তি তাকে মারধর করেন।" তিনি আরও দাবি করেন, যারা মারধরে অংশ নিয়েছেন তারা তার সংগঠনের সদস্য নন। পুলিশের তদন্ত ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনো বাকি ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— সিজানকে কোন আইনি ক্ষমতায় বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল? কথিত সামাজিক সংগঠনের সদস্যদের ভূমিকা কী ছিল? মারধরে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা কারা? ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যরা কেন হামলা ঠেকাতে পারেননি? আহত অনিক কীভাবে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হলেন? ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কী উঠে আসে? এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আরও পরিষ্কার হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীকে প্রতারণা এবং পরে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মাগুরা সদর উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রিফাতুল ইসলাম রায়হানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মাগুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে রিফাতুল ইসলাম রায়হানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। অভিযোগ কী? মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ওই নারী ও রিফাতুল ইসলাম রায়হানের পরিচয় হয়। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একপর্যায়ে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান রায়হান। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি অন্যদিকে, রিফাতুল ইসলাম রায়হানের পরিবারের দাবি, মামলাটি পরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা অভিযোগের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তদন্তের বর্তমান অবস্থা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট আলামত এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তদন্ত শেষ হয়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বিচারাধীন বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ব্যক্তির পরিচয় আঙুলের ছাপের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন, যিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের নিউমার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. শওকত আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে নিউমার্কেটের বটতলা এলাকায় শহীদ শাহ নেওয়াজ হল সংলগ্ন সড়কে মোটরসাইকেলে করে আসা হামলাকারীরা এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি সড়কে পড়ে গেলে হামলাকারীদের একজন কাছে গিয়ে পুনরায় গুলি চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় হামলাকারীদের ধাওয়া দিলে তারা ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জড়িত আছে কি না, কিংবা টিটনের আত্মীয় ও আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমন জড়িত থাকতে পারেন কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় একাধিক তদন্ত দল কাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টিটন ছিলেন ইমনের শ্যালক। একসময় ঢাকার ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও জিগাতলা এলাকায় টিটনের প্রভাব ছিল এবং তিনি ইমনের অপরাধ চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে কাজ করতেন। তবে কারাগারে থাকা অবস্থায় ইমন ও টিটনের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। সময়ের সঙ্গে টিটনের প্রভাব কমে যায় এবং এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন ইমনের অনুসারীরা। পরবর্তীতে কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও নিজ এলাকায় টিটনের প্রবেশে বাধা দেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, দীর্ঘদিনের এই দ্বন্দ্বের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে। যদিও বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। নিহত টিটনের বাসা ছিল ঢাকার রায়েরবাজারের সুলতানগঞ্জ এলাকায়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির নলছিটিতে দুর্বৃত্তদের হামলায় ইকবাল হোসেন (৪৫) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার খাগড়াখানা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়। নিহত ইকবাল হোসেন উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের খাগড়াখানা গ্রামের বাসিন্দা এবং আজহার আলী হাওলাদারের ছেলে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইকবাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় জীবনযাপন করছিলেন। ঘটনার রাতে কে বা কারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে রেখে যায়। এ বিষয়ে নলছিটি থানার ওসি (তদন্ত) আশরাফ আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বরিশাল অফিস : বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. রিয়াজ মাহমুদ খান মিল্টন অভিযোগ করেছেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে পরিকল্পিতভাবে অপহরণের একটি ‘বানোয়াট গল্প’ তৈরি করে সংবাদমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত আসন্ন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে—এমনটাই দাবি মিল্টনের। তার অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন একই সংগঠনের আরেক নেতা তারিক সুলাইমান, যার সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অভিযোগের কাঠামো: ‘অপহরণ’ থেকে ‘সংবাদ’ মিল্টনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি শুরু হয় একটি মামলাকে ঘিরে, যেখানে তার ছেলেকে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে থানায় তদ্বির করেছিলেন তারিক সুলাইমান। গত ৬ এপ্রিল তারিকের ছেলে সুনানের সঙ্গে তার সরাসরি দেখা হয়। মিল্টনের বক্তব্য অনুযায়ী, সুনান বলে কাকা আপনার ছেলে জড়িত নয়। তবে যা হয়েছে সে বিষয়ে আমার বাবাই ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।। এরপর সুনান চলে যায়। কিন্তু এই কথোপকথনের কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে সুনানের মা এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তাও পৌঁছান। সবাই সুনানের অবস্থান জানতে চাইলে মিল্টন একই উত্তর দেন—সুনান ওই দিকেই চলে গেছে। মিল্টনের দাবি, পুলিশের উপস্থিতিতেই সুনানের মা ফোন করে নিশ্চিত হন যে, সুনান নিজ বাসায় ফিরে গেছে এবং সে অপহৃত হয়নি। পুলিশের বক্তব্য: অভিযোগ এসেছিল, কিন্তু অপহরণ নয় ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে যাওয়া কাউনিয়া থানার এএসআই কামরুল আহসান বলেন, থানায় একটি অপহরণের অভিযোগ আসার পর তারা সেখানে যান। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে সুনানের মায়ের কাছ থেকেই জানতে পারেন, তার ছেলে বাসায় ফিরে গেছে এবং কোনো অপহরণের ঘটনা ঘটেনি। পরবর্তীতে ওসিকেও একই তথ্য জানানো হয় এবং পুলিশ সেখান থেকে চলে আসে। দুই দিন পর ‘অপহরণ’ সংবাদ! ঘটনার দুই দিন পর কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, মিল্টন নাকি সুনানকে অপহরণ করেছেন এবং পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছে। এই সংবাদকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেছেন মিল্টন। তার প্রশ্ন—যে ঘটনায় ঘটনাস্থলেই অপহরণ অস্বীকার করা হয়েছে, সেটি কীভাবে পরবর্তীতে ‘অপহরণ’ হিসেবে সংবাদে আসে? ‘১০ মিনিটে সাজানো নাটক?’ মিল্টনের দাবি, পুরো ঘটনাটি ঘটেছে সর্বোচ্চ ১০ মিনিটের মধ্যে—তার সঙ্গে সুনানের কথা বলা, সুনানের চলে যাওয়া, পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি এবং পুলিশের আগমন—সবই খুব দ্রুত ঘটে। তার ভাষায়, “এটা যদি পূর্ব পরিকল্পিত না হয়, তাহলে এত কম সময়ের মধ্যে এত কিছু কীভাবে সম্ভব?” তিনি আরও জানান, সুনানের সঙ্গে তার কথোপকথনের ভিডিও তার মোবাইলে সংরক্ষিত রয়েছে, যা পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে। রিয়াজ খান মিল্টন বলেন,তারিক সুলাইমানের সাথে আমার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দ্বন্দ্ব রয়েছে। আমাকে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করতে সে এই ঘৃন্য পথ বেছে নিয়েছে। অথচ তার ছেলে সুনানের বিরূদ্ধেই অপহরণের অভিযোগে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। দ্বন্দ্ব, তথ্যযুদ্ধ এবং মিডিয়ার ভূমিকা ঘটনাটি কেবল ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং রাজনৈতিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই কতটা তীব্র হতে পারে, তারও ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে—যাচাই ছাড়া সংবেদনশীল অভিযোগ কীভাবে সংবাদে প্রকাশ পেল? একদিকে মিল্টনের বিরুদ্ধে ‘সাজানো নাটক’ অভিযোগ, অন্যদিকে প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের তৎপরতা—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি রাখে। সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য, প্রমাণ এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক নথি যাচাই ছাড়া এই বিতর্কের চূড়ান্ত সত্য উদঘাটন কঠিন—তবে এটুকু নিশ্চিত, বরিশালের এই ঘটনাটি এখন শুধুই একটি অভিযোগ নয়, বরং রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নও তুলে দিয়েছে।
সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের নারায়ণতলা খাসপাড়া গ্রামের আঙ্গুর মিয়া এবং তার ছোট ভাই আব্দুর রজ্জাকের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে আব্দুর রজ্জাক তার ভাই আঙ্গুর মিয়ার দুটি মোরগের পা লাঠি দিয়ে ভেঙে দেয়। শুধু মোরগ দুটি নয়, আঙ্গুর মিয়া আরও জানান যে, তার ভাই ১৮টি মুরগির বাচ্চাও পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ আঙ্গুর মিয়া রোববার (১ মার্চ) বিকেলে মোরগ দুটি নিয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। তার দাবি, তিনি সুষ্ঠু বিচার চাইছেন এবং আশা করছেন যে, পুলিশের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন সেখ বলেন, ঘটনাটি তদন্তের জন্য একজন এসআই নিয়োগ করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনা সুনামগঞ্জবাসীর মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে এমন সহিংসতা নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চাকধ বাজার এলাকায় বিএনপির একটি ক্লাবে হাতবোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাতে নড়িয়া উপজেলার চাকধ বাজারে অবস্থিত ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ’ নামক স্থানীয় বিএনপি ক্লাবের সামনে মোটরসাইকেলে করে আসা দুই দুর্বৃত্ত হঠাৎ ক্লাব লক্ষ্য করে কয়েকটি হাতবোমা নিক্ষেপ করে। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গেই তারা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এলাকাজুড়ে মুহূর্তের মধ্যে চরম ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে নড়িয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরণের আলামত সংগ্রহ করে এবং একটি অবিস্ফোরিত হাতবোমা উদ্ধার করে। ভুমখাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল পেদা বলেন, “এটি একটি ন্যক্কারজনক ও পরিকল্পিত হামলা। যারা এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।” নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি অবিস্ফোরিত হাতবোমা উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।” ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।