Brand logo light

প্রশাসনিক সংকট

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট
ব্রি-তে নজিরবিহীন অস্থিরতা: এক দিনের ব্যবধানে ডিজি নিয়োগ বাতিল, থমকে গেছে গবেষণা কার্যক্রম

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের বিভিন্ন হাওর অঞ্চলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতির মধ্যেই দেশের শীর্ষ ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-তে দেখা দিয়েছে চরম প্রশাসনিক ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা। নেতৃত্ব সংকট, দলাদলি এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা ও দাপ্তরিক কার্যক্রম। গত রোববার সরকার ব্রির মহাপরিচালক (ডিজি) পদে ড. আমিনুল ইসলামকে রুটিন দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রায় এক মাস ডিজিশূন্য থাকার পর এই নিয়োগকে ঘিরে ক্যাম্পাসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। গাজীপুরের ব্রি ক্যাম্পাসে একাংশের বিজ্ঞানীরা তাকে স্বাগত জানালেও অন্য একটি অংশ তীব্র বিরোধিতা করে মূল ফটক, গবেষণাগার ও বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেয়। ফলে দুই দিন ধরে পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে। পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার পুলিশি নিরাপত্তায় অফিস করেন নতুন ডিজি ড. আমিনুল ইসলাম। তবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক দিনের মাথায় মঙ্গলবার তার নিয়োগ বাতিল করে কৃষি মন্ত্রণালয়। নতুন প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা) আফসারী খান নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি ব্রির মহাপরিচালকের শূন্য পদের বিপরীতে আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। ব্রি-র ইতিহাসে ৫৫ বছরে এই প্রথমবার বিজ্ঞানী নয়, প্রশাসনিক ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা কার্যত প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আসলেন বলে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করছেন। প্রতিষ্ঠানটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বর্তমানে ব্রির অধীনে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্প চলমান। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত হয়ে পড়ে। নতুন ডিজি নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই তার নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিরোধ তৈরি হয় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী জানান, ডিজি পদে নিয়োগের জন্য অন্তত ১০ জন কর্মকর্তা সক্রিয়ভাবে তদবির করেছিলেন। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নিয়োগ হওয়ায় একটি অংশ অসন্তুষ্ট হয়ে আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, আন্দোলনের অন্যতম মুখ ব্রি বিজ্ঞানী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. হাবিবুর রহমান মুকুল পরে সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের ধান গবেষণা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে বাধা ও অভ্যন্তরীণ সংকট

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের অন্যতম মানবিক সহায়তাদানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি—যার কাজ দুর্যোগ, স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি সহায়তা প্রদান—সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুর্নীতি, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থার অভিযোগে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। একাধিক সূত্র, নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণে এমন একটি চিত্র উঠে এসেছে যেখানে দীর্ঘদিনের অনিয়মের প্রভাব এখনো প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছে।  দুর্নীতির অভিযোগ: অতীত থেকে বর্তমান অভিযোগ রয়েছে, পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা বোর্ডের কিছু সদস্য এবং অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ আর্থিক অনিয়ম, টেন্ডার কারসাজি এবং নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এতে দেশি-বিদেশি অনুদানের অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ২০২৫ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পরিচালিত এক অভিযানে এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানানো হয়। সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা ভবন নির্মাণ, নিয়োগ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করেন। দুদকের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়: * ভবন নির্মাণ চুক্তিতে ডেভেলপারদের অস্বাভাবিকভাবে বেশি অংশীদারিত্ব দেওয়া হয়েছিল * নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ছিল * প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করা হয়েছে * অনুদানের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়নি  তদন্ত ও বাধা পরবর্তীতে বিস্তারিত তদন্তের জন্য দুদক একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চায়। সে সময়কার চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম তদন্তে সহযোগিতা করেন বলে জানা যায়। তবে অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হয়। একাধিক সূত্র দাবি করে, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী তদন্তকে থামিয়ে দিতে চাপ সৃষ্টি করে। যদিও এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়নি।  অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও ‘মব’ অভিযোগ প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু কর্মকর্তা ও বহিরাগতদের সম্পৃক্ততায় একাধিকবার চেয়ারম্যানের দপ্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এমন একটি ঘটনার তারিখ হিসেবে ৮ অক্টোবর উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। এই ঘটনাগুলোকে কেউ কেউ “মব চাপ” হিসেবে বর্ণনা করলেও, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ছাড়া এই অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই সীমিত। ব্যক্তি ও নেটওয়ার্ক: অভিযোগের কেন্দ্রে কারা? কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি দুর্নীতির অভিযোগও উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী: * টেন্ডার, বদলি ও নিয়োগে প্রভাব খাটানো * প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ * বেনামে ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা এছাড়া রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া সব ক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি।  প্রশাসনিক অচলাবস্থা তদন্ত, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নতুন কাঠামো চূড়ান্ত না হওয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি তৈরি হয়েছে।  প্রভাব: সেবার মানে প্রশ্ন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা এবং মানবিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে দীর্ঘমেয়াদি অনিয়ম ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সংস্থাটি তার প্রত্যাশিত সেবা দিতে পারছে কি না—সে প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।   দুদকের তদন্ত, অভ্যন্তরীণ অভিযোগ এবং প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি একটি সংকটময় সময় পার করছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্বচ্ছ তদন্ত, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর নেতৃত্ব ছাড়া এই অবস্থা থেকে উত্তরণ কঠিন হবে। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও স্বাধীন তদন্তের ফলাফলই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে—এই অভিযোগগুলোর কতটা সত্য, আর কতটা অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বের প্রতিফলন।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
সেগুফতা মেহনাজ
নলছিটিতে ইউএনও’র দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে অচলাবস্থা: প্রশাসনিক আদেশ অমান্যের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্ব হস্তান্তর ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক অচলাবস্থা। বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের আদেশ বাস্তবায়ন হয়নি। সাত দিন পেরিয়ে গেলেও দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি। এদিকে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের অফিস আদেশও উপেক্ষিত। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, বরিশাল এর ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের ০৫.১০.০০০০.০০০.০০১.০৫.০০০২.২৬.১১৪ নং স্মারক ও ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয় ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের জারি করা ০৫.১০,৪২০০,০০০.০০৬.০৫.০০০৪.২৫.১২৮ নম্বর স্মারকে এক অফিস আদেশে নলছিটি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ইউএনও’র দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঝালকাঠি সদর উপজেলার ইউএনও এবং নলছিটির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সেগুফতা মেহনাজকে নির্দেশ দেওয়া হয় নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিতে। এই আদেশটি জারি করা হয় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের ১৯ এপ্রিলের নির্দেশনা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নীতিমালার আলোকে।   সমস্যা কোথায়? নির্দেশনা পরিষ্কার থাকার পরও ৭ দিন পার হয়ে গেছে, কিন্তু দায়িত্ব হস্তান্তর হয়নি। ফলে: প্রশাসনিক কাজকর্মে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে, জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় কমিশনারের আদেশ কার্যত উপেক্ষিত হচ্ছে।   এটা কেন গুরুত্বপূর্ণ? ইউএনও (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) একটি উপজেলার প্রশাসনের প্রধান। দায়িত্ব হস্তান্তর না হলে: উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হতে পারে, সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়, আইন-শৃঙ্খলা ও দৈনন্দিন প্রশাসনেও প্রভাব পড়ে।  কী হতে পারে? অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব, ঊর্ধ্বতন নির্দেশনা বাস্তবায়নে অনীহা ।   আদেশ বাস্তবায়নে বিলম্ব তবে অভিযোগ উঠেছে, নির্দেশনা পাওয়ার পরও সেগুফতা মেহনাজ দায়িত্ব হস্তান্তরে অনীহা দেখাচ্ছেন। ফলে ২৫ এপ্রিল পর্যন্তও আদেশ কার্যকর হয়নি। এ অবস্থায় প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবা কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে, যা নিয়ে বাড়ছে জনদুর্ভোগ। একাধিক সূত্র বলছে, দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়ায় প্রশাসনের ভেতরে “চেইন অব কমান্ড” নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—আদেশ জারির পরও তা বাস্তবায়ন না হওয়া প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য কতটা স্বাভাবিক? মাঠপর্যায়ে প্রভাব নলছিটির বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী ইউএনও না থাকায় তারা নিয়মিত সেবা পাচ্ছেন না। পৌর এলাকার বাসিন্দা আসলাম বলেন, জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে তিনি ইউএনওকে খুঁজে পাননি। “অফিসে গিয়ে শুনি ইউএনও জেলায় আছেন, কবে আসবেন কেউ বলতে পারে না,” বলেন তিনি। তালতলা গ্রামের বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম জানান, জন্মনিবন্ধনের কাজ করতে গিয়ে তিনিও একই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। “ইউএনও না থাকায় কাজ এগোয় না,” বলেন তিনি। একজন সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “স্থায়ী ইউএনও না থাকলে বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।” দীর্ঘদিন ধরে পদ শূন্য নলছিটি উপজেলায় গত কয়েক মাস ধরে ইউএনও পদে স্থায়ী নিয়োগ নেই। এর আগে কয়েকজন কর্মকর্তা স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ ইউএনও প্রশিক্ষণে চলে যাওয়ার পর থেকে পদটি কার্যত শূন্য রয়েছে এবং অতিরিক্ত দায়িত্বের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের অবস্থান ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে আপাতত অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থায়ী ইউএনও নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রশ্ন ও উদ্বেগ তবে মূল প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কেন দায়িত্ব হস্তান্তর বিলম্বিত হচ্ছে? প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি শুধু স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকারিতা নয়, বরং সরকারি নির্দেশনার বাস্তবায়ন ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। নলছিটির মতো একটি উপজেলায় যেখানে ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে, সেখানে প্রশাসনিক নেতৃত্বে অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হলে জনসেবা আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তর ও স্থায়ী ইউএনও নিয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
সরকার
ক্ষমতার দুই মাস: প্রত্যাশা, বিতর্ক ও ‘অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেট’—বিএনপি সরকারের ভেতরের গল্প

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে দলটি, যা রাজনৈতিকভাবে এক ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে দেখা হয়েছিল। নির্বাচনে এই বিজয় ছিল কেবল একটি ক্ষমতার পালাবদল নয়—বরং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর জনগণের আস্থার প্রতিফলন।  দলটির নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল উচ্চাভিলাষী—জবাবদিহিমূলক শাসন, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি। কিন্তু ক্ষমতার মাত্র দুই মাসের মাথায় প্রশ্ন উঠছে—সরকার কি সেই প্রত্যাশা পূরণের পথে এগোচ্ছে, নাকি অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও পরিকল্পিত স্যাবোটাজে আটকে পড়ছে?  বিরোধী রাজনীতি: পরিকল্পিত চাপ ও ‘আনপপুলারাইজেশন’ কৌশল সরকার গঠনের পর থেকেই রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিরোধী জোটগুলো। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ইতোমধ্যে রাজপথে কর্মসূচি শুরু করেছে। তাদের দাবির তালিকায় রয়েছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ নানা সমসাময়িক ইস্যু। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল স্বাভাবিক বিরোধী রাজনীতি নয়—বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ। লক্ষ্য: সরকারকে ধাপে ধাপে অজনপ্রিয় করা। এই কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন। পরিকল্পনা অনুযায়ী— * বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল উসকে দেওয়া * বিদ্রোহী প্রার্থীদের সক্রিয় করা * নির্বাচনী সংঘাতকে রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপান্তর করা * এবং শেষ পর্যন্ত সরকারবিরোধী বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলা সরকারের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ শেষ হলেই এই চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৬০ দিনের সাফল্য: অর্জন আছে, কিন্তু প্রচার নেই দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে সরকার ৬০টি পদক্ষেপ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এসব উদ্যোগ জনমনে তেমন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারেনি। যদিও বাস্তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ছিল। যেমন— * গার্মেন্টস খাতে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সময়মতো প্রদান * সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ * কৃষি সহায়তা উদ্যোগ বিশেষ করে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি কৃষি খাতে আধুনিকীকরণ ও সরাসরি সহায়তা প্রদানের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ([Reuters][3]) তবুও সমস্যা হলো—এই সাফল্যগুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে জনমনে ইতিবাচক ইমেজ তৈরি হয়নি। অন্যদিকে, ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন বা কৃষক কার্ডের মতো বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের আগে পর্যাপ্ত সমীক্ষা না হওয়ায় সন্দেহ ও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।  বিতর্কের শুরু প্রথম দিন থেকেই সরকারের যাত্রা শুরু থেকেই একাধিক অস্বাভাবিক ঘটনার মধ্য দিয়ে গেছে।  শপথ অনুষ্ঠান: ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। * তীব্র গরম * পানির অভাব * অতিথিদের দুর্ভোগ এই ঘটনা সরকারের প্রথম ইমপ্রেশনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। মন্ত্রিসভা গঠন: অভিজ্ঞতার ঘাটতি ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভার মধ্যে ৪১ জনই নতুন মুখ—যাদের অনেককেই দলীয় নেতাকর্মীরাও চেনেন না। একই সঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এক ব্যক্তির হাতে দেওয়ার ফলে প্রশাসনে অচলাবস্থা তৈরি হয়। যদিও নির্বাচনের আগে মন্ত্রণালয় একীভূত করে দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল, বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। ([The Business Standard][4])  প্রশাসনের ভেতরের ‘সিন্ডিকেট’: নিয়ন্ত্রণ কার হাতে? সরকারের সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো—একটি শক্তিশালী ‘সিন্ডিকেট’ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।  বিতর্কিত নিয়োগ * প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের নিয়োগ * অতীতে বিএনপি-বিরোধী ভূমিকা থাকা ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো * গোয়েন্দা রিপোর্ট উপেক্ষা করে পদায়ন এসব ঘটনায় প্রশাসনের ভেতরে অসন্তোষ বাড়ছে।  সচিব পদে অস্বচ্ছতা ২৫ মার্চ একসঙ্গে একাধিক সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়, যার অধিকাংশই বিতর্কিত। কিছু নিয়োগ ইতোমধ্যে বাতিলও হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে পদায়ন নিয়ে ‘টাকা লেনদেন’ ও মাফিয়া সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে, যা প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। আর্থিক খাত: সংস্কার না পুনর্বাসন? সরকারের আর্থিক নীতিতেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ব্যাংকিং সংকট অর্থমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন, ব্যাংক ও বেসরকারি খাতে বড় ধরনের মূলধন ঘাটতি রয়েছে, যা অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে বাধা।   ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন-২০২৬’ এই আইন নিয়ে সমালোচনার মূল কারণ— * ঋণখেলাপীদের পুনর্বাসনের সুযোগ * বিচারহীনতার সংস্কৃতি জোরদার হওয়ার আশঙ্কা সমালোচকদের মতে, এটি আর্থিক খাতে সংস্কারের বদলে পুরনো সমস্যাকে নতুনভাবে বৈধতা দিতে পারে।  নীতিনির্ধারণে বিশৃঙ্খলা: পরিকল্পনা বনাম বাস্তবতা বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল— * জবাবদিহিমূলক সরকার * প্রশাসনিক সংস্কার * দুর্নীতি দমন বাস্তবে তার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির ফারাক স্পষ্ট। বিশেষ করে— * বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া * প্রশাসনিক নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব * রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার অভিযোগ এসব কারণে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জনমনের প্রতিক্রিয়া: ভালোবাসা থেকে অভিমান সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও বিএনপির প্রতি একটি আবেগী সমর্থন রয়েছে। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হলো— * দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেই অসন্তোষ বেশি * সমালোচনা থাকলেও তা প্রকাশ্যে আসছে না * সরকারের পক্ষে ‘কাউন্টার ন্যারেটিভ’ দুর্বল এই অবস্থাকে অনেক বিশ্লেষক ‘অভিমানের পর্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। কারণ ইতিহাস বলে— ভালোবাসা থেকে যেমন সমর্থন জন্মায়, তেমনি হতাশা থেকে ক্ষোভও তৈরি হতে পারে।  ‘অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র’ তত্ত্ব: বাস্তবতা নাকি রাজনৈতিক ব্যাখ্যা? সরকারের ভেতর থেকেই ষড়যন্ত্র চলছে—এমন অভিযোগ এখন আলোচনার কেন্দ্রে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী— * গুরুত্বপূর্ণ পদে ‘গুপ্ত’ লোকজন বসানো হয়েছে * তারা পরিকল্পিতভাবে ভুল সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে * প্রশাসনিক স্যাবোটাজের মাধ্যমে সরকারকে ব্যর্থ করা হচ্ছে ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বলা হচ্ছে, উপমহাদেশে বহুবার অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রই বড় রাজনৈতিক পতনের কারণ হয়েছে। তবে এই অভিযোগের বড় সমস্যা হলো— এটি প্রমাণ করা কঠিন, এবং অনেক সময় এটি রাজনৈতিক দায় এড়ানোর কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।   বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি সরকারের সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট:  ১. প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা সিন্ডিকেট ভেঙে কার্যকর প্রশাসন গড়ে তোলা জরুরি।  ২. জনআস্থা পুনর্গঠন শুধু প্রকল্প নয়—স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ৩. রাজনৈতিক মোকাবিলা বিরোধী চাপ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল একসঙ্গে সামাল দিতে হবে। সংকটের মধ্যেই নির্ধারিত হবে ভবিষ্যৎ বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে। কিন্তু মাত্র দুই মাসেই স্পষ্ট হয়ে গেছে—ক্ষমতা অর্জনের চেয়ে তা ধরে রাখা অনেক কঠিন। সাফল্য আছে, কিন্তু তা দৃশ্যমান নয়। নীতি আছে, কিন্তু বাস্তবায়ন দুর্বল। সমর্থন আছে, কিন্তু তা ক্ষয় হতে শুরু করেছে। সবচেয়ে বড় কথা—সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন বিরোধীদল নয়, বরং নিজের ভেতরের কাঠামোগত দুর্বলতা। এই মুহূর্তে প্রশ্ন একটাই: সরকার কি নিজস্ব ভেতরের সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে, নাকি সেই সংকটই তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে?    

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
বিতর্কিত কর্মকর্তা
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘অদৃশ্য সিন্ডিকেট’: রাজনৈতিক পালাবদলের পরও বহাল বিতর্কিত কর্মকর্তারা

এবি সিদ্দীক ভূইঁয়া : রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো একটি অতি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে বিতর্কিত একাধিক কর্মকর্তা বহাল থাকায় প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ ও প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে—সাবেক শাসনামলে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এখনও মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিনিয়র সচিবের দপ্তরকে ঘিরে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। এই নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তারা প্রশাসনিক তথ্য নিয়ন্ত্রণ, তদবির বাণিজ্য, এবং প্রভাব খাটিয়ে আর্থিক সুবিধা অর্জনের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগের কেন্দ্রে যারা সংশ্লিষ্ট সূত্রে উঠে এসেছে কয়েকজন কর্মকর্তার নাম, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে: ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রশাসনিক কর্মকর্তা বি এম সাইফুল ইসলাম প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইয়াসিন ফিরদৌস প্রশাসনিক কর্মকর্তা আল কামার অভিযোগ রয়েছে, এদের অনেকেই ছাত্ররাজনীতি সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে চাকরিতে প্রবেশ করেন এবং পরবর্তীতে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সুপারিশে সচিবালয়ে পদায়ন পান। সাবেক সচিবদের সঙ্গে যোগসূত্র অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে অতীতে দায়িত্ব পালনকারী একাধিক সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে নানা অভিযোগে তদন্তাধীন বা কারাবন্দী। অভিযোগ অনুযায়ী, এই কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে প্রশাসনের অভ্যন্তরে একটি শক্তিশালী প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন। তথ্য নিয়ন্ত্রণ ও ভয়ভীতি মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, এই সিন্ডিকেট শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রমেই নয়, তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণেও সক্রিয়। অভিযোগ রয়েছে— গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কর্মচারীদের বিভিন্ন গ্রুপে বার্তা দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ‘ম্যানেজ’ করে অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া চালু রয়েছে একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অনেকেই ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শুধুমাত্র এই সিন্ডিকেটের প্রভাবের কারণে।” দুবাই মিশন নিয়ে প্রশ্ন সম্প্রতি জারি হওয়া একটি সরকারি আদেশে (GO) কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাজে পাঠানো হয়েছে। এই তালিকায় থাকা কয়েকজনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অভিযোগ উঠেছে— এক যুগ্ম সচিবের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এই মিশনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন নিয়োগ ও সুযোগপ্রাপ্তি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন রয়েছে এছাড়া, সিন্ডিকেট সংশ্লিষ্ট অভিযোগের কারণে একজন সিনিয়র ব্যক্তিগত কর্মকর্তার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও প্রভাব কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অতীতে রাজনৈতিক নেতাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রশাসনিক সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ছায়া সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অতীতের কিছু কর্মকাণ্ডের কারণে কয়েকজন কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাকা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, “এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রশাসনিক তথ্য ফাঁস হওয়ার বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে।” অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও হতাশা মন্ত্রণালয়ের ভেতরে কর্মরত অনেক কর্মকর্তা এই পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও যদি বিতর্কিত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকেন, তবে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। ইতোমধ্যে মন্ত্রী ও সিনিয়র সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। প্রশ্নের মুখে প্রশাসন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন— ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও কীভাবে এই কর্মকর্তারা এখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো সংবেদনশীল স্থানে বহাল রয়েছেন? বিশ্লেষকদের মতে, “এই ধরনের প্রভাবশালী সিন্ডিকেট যদি দ্রুত ভেঙে দেওয়া না হয়, তবে তা শুধু প্রশাসনের ভাবমূর্তিই নয়, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।” স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ডা. মানবেন্দ্র সরকার
ক্ষমতার ছায়ায় টিকে থাকা তত্ত্বাবধায়ক: হেমায়েত উদ্দিন ডায়াবেটিক হাসপাতালে অনিয়ম, প্রভাব ও ভয়ের সংস্কৃতি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল নগরীর একসময়ের আস্থার প্রতীক হেমায়েত উদ্দিন ডায়াবেটিক হাসপাতাল এখন যেন ধীরে ধীরে হারাচ্ছে তার বিশ্বাসযোগ্যতা। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডা.মানবেন্দ্র সরকার—যিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক এবং প্রশাসনিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বরিশাল নগরীর হেমায়েত উদ্দিন ডায়াবেটিক হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন হাসপাতালের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডা. মানবেন্দ্র সরকার। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সূত্র এবং একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্ধারিত বয়সসীমা অতিক্রম করার পরও তিনি এখনো দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মকর্তাদের অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর নির্ধারণ করা হলেও ডা. মানবেন্দ্র সরকারের বর্তমান বয়স ৭৪ বছর বলে জানা যায়। বয়সসীমা পেরিয়েও দায়িত্বে বহাল হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বরের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের অবসর গ্রহণের বয়সসীমা ৬২ বছর এবং কর্মচারীদের জন্য তা ৬৫ বছর নির্ধারণ করা হয়। অথচ বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডা. মানবেন্দ্র সরকারের বয়স ৭৪ বছর—যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে অন্তত ৯ বছর বেশি। নিয়ম অনুযায়ী বহু আগেই তার দায়িত্ব ছাড়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সুপারিশের মাধ্যমে তিনি তার চাকরির মেয়াদ বাড়িয়ে নিয়েছেন। এমনকি ২০২৩ সালের ২০ নভেম্বর তিনি নিজেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও অল্প সময়ের মধ্যেই পুনরায় একই পদে বহাল হন। রাজনৈতিক ভারসাম্যের কৌশল ডা. মানবেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো—তিনি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সময়োপযোগী সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেন। আওয়ামী লীগ আমলে স্বাচিপ নেতা হিসেবে পরিচিত থাকলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি বিএনপির নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।উল্লেখ্য যে ‘এই হাসপাতালে তার চাকরি হয়েছিলো আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর সুপারিশে। ২০২৩ সালে ২০ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব থেকে নিজেই অব্যহতি নিয়েছিলেন। এর কিছুদিন পর খোকন সেরনিবায়াত ও এমপি শাহজাহান ওমরের সুপারিশ নিয়ে আবার স্ব-পদে বহাল হন। বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ারেরও সুপারিশ আনেন তার চাকরি টিকিয়ে রাখার জন্য। অভিযোগ রয়েছে মানবেন্দ্র তত্ত্বাবধায়ক হওয়ার কারনে হিন্দু সম্প্রদায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিশেষ সুবিধা পেয়ে আসছেন। ডা: মানবেন্দ্র সরকারের খামখেয়ালীপনার সর্বশেষ শিকার হয়েছেন হাসপাতালের অফিস সহায়ক আনিসুর রহমান। এর আগেও তার কথা মতো না চলায় বেশ কয়েকজনকে তিনি বিনা নোটিশে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। ৫ আগষ্টের পর ভোলপাল্টে তিনি এখন বিএনপি নেতা। হাসপাতালের একাধিক সূত্র জানায়, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বাসায় নিয়মিত যাতায়াতের মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থানকে “অপরিহার্য” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন। এর ফলে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েছে। অভিযোগ: দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়ম হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের কিছু সদস্য ও কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে গত কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অথচ কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের সময় নিয়মিতভাবে “টাকা নেই” বলে জানানো হয়। এই বৈপরীত্য কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়িয়েছে। অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র দাবি করেছে, বিভিন্ন ক্রয়-বিক্রয়, নিয়োগ এবং সেবামূলক খাতে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ লুটপাট হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের কোনো স্বচ্ছ তদন্ত এখনো দৃশ্যমান নয়। ভয় ও দমন-পীড়নের সংস্কৃতি হাসপাতালের ভেতরে ভয়ের একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন চিকিৎসক ও কর্মচারী। তারা জানান, তত্ত্বাবধায়কের নির্দেশ অমান্য করলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা থাকে। সম্প্রতি আনিসুর রহমান নামের এক অফিস সহায়ককে কোনো লিখিত অভিযোগ ছাড়াই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সহকর্মীদের ভাষ্যমতে, ব্যক্তিগত অসন্তোষ থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগেও একই ধরনের ঘটনায় কয়েকজন কর্মচারীকে বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ রয়েছে। বৈষম্যের অভিযোগ কিছু কর্মচারীর দাবি, নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের সদস্যরা প্রশাসনিক সুবিধা বেশি পাচ্ছেন। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত হয়নি, তবুও এটি প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে আরও তীব্র করেছে। ক্ষোভে ফুঁসছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্রমাগত অনিয়ম, বেতন সংকট এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার কারণে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত তত্ত্বাবধায়ক অপসারণের দাবি জানিয়েছেন এবং একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশ্ন রয়ে যায় একজন ব্যক্তি কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম ভেঙে, রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেন—এই প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। হেমায়েত উদ্দিন ডায়াবেটিক হাসপাতালের মতো একটি জনস্বাস্থ্যকেন্দ্র যদি অনিয়ম ও প্রভাবের বলয়ে আটকে পড়ে, তবে এর প্রভাব পড়ে সরাসরি সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবার ওপর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখাতে। কর্তৃপক্ষের নীরবতা এ বিষয়ে হাসপাতাল প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগের দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ মিয়া
এলজিইডিতে আব্দুর রশীদের নিয়োগ বিতর্ক: সমালোচনার মুখে বাতিলের সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রধান প্রকৌশলী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অবশেষে ব্যাপক সমালোচনার মুখে এই নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। গত ২৪ মার্চ ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ মিয়াকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি এর আগে অবসরে গিয়েছিলেন এবং দায়িত্বে থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল।  দুর্নীতির অভিযোগ ও তদন্ত মো. আব্দুর রশীদের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর তদন্ত চলমান রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন সময় সরকারি পদে থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। দুদকের নথিতে উল্লেখ আছে, এসব সম্পদের একটি বড় অংশ তিনি আত্মীয়স্বজনের নামে গোপনে অর্জন করেছেন। সরকারের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন এই নিয়োগের পরপরই প্রশাসন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এতে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে থাকা তারেক রহমান নির্বাচনের আগে ও পরে দুর্নীতি দমনের কঠোর অঙ্গীকার করেছিলেন। ফলে এমন নিয়োগ সরকারের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।  মন্ত্রীও ছিলেন অজ্ঞাত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানতেন না বলে জানা গেছে। নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর বিভিন্ন মহল থেকে জানতে চাইলে তিনি বিব্রত হন এবং বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ‘সিন্ডিকেট’ অভিযোগ নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে, একটি প্রভাবশালী প্রশাসনিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদী এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে।  নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের নিয়োগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।  দ্রুত ইউ-টার্ন সমালোচনার মুখে মো. আব্দুর রশীদ মিয়া দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। ইতোমধ্যে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে নিয়োগটি টিকছে না। সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে, নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হবে। রোববারের মধ্যেই তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার হতে পারে বলে জানা গেছে।  রাজনৈতিক প্রভাব এই ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিলেও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0