Brand logo light

বরিশাল সংবাদ

গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমান ওরফে নিজাম।
বাকেরগঞ্জে ১৬ মামলার আসামি আন্তঃজেলা ডাকাত নিজাম গ্রেপ্তার

বরিশাল অফিস :    বরিশালের বাকেরগঞ্জে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য এবং একাধিক মামলার আসামি মিজানুর রহমান ওরফে নিজামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার রানীরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমান (৪০) উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের পশ্চিম চরামদ্দি গ্রামের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে। পুলিশের দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে বরিশাল, মাদারীপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা ও ভোলা জেলায় ডাকাতি এবং ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে অন্তত ১৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম সোহেল রানা জানান, মিজানুর রহমান একজন পেশাদার ডাকাত এবং দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।তিনি বলেন, “তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর মধ্যে কয়েকটিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। অভিযান চালিয়ে অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বরিশাল আদালতে পাঠানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ
বরিশালে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে কোটি টাকার ক্ষতি, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চক্র সক্রিয়

বরিশাল : বরিশাল নগরীর বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র ও জনবহুল এলাকায় বছরের পর বছর ধরে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে এসব সংযোগ দিয়ে মাসে লাখো টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে, আর এতে সরকারের গুনতে হচ্ছে কোটি টাকার লোকসান। সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর ত্রিশ গোডাউন, বেলসপার্ক, হাতেম আলী চৌমাথা, বিবির পুকুরপাড়, মুক্তিযোদ্ধা পার্কসহ অন্তত ডজনখানেক স্থানে কয়েক শতাধিক ভাসমান দোকানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ত্রিশ গোডাউন এলাকায় দুই শতাধিক দোকানের বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ করছেন সিনহা ও বাপ্পি। একইভাবে হাতেম আলী চৌমাথা এলাকায় শতাধিক দোকানে অবৈধ সংযোগের অভিযোগ রয়েছে।এসব ফুটপাতের দোকানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছেন ইমন ও সাদ্দাম । বেলসপার্ক এই স্থানটির নিয়ন্ত্রক সালেক ও কুট্টি।   বিবির পুকুরপাড়ের দোকানের অবৈধ বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ করছেন রাসেল নামের এক ব্যক্তি।  দীর্ঘদিন ধরে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিটি ভাসমান দোকান থেকে মাসে দুই থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। এই অর্থের একটি অংশ বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছেও যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, বৈধভাবে একটি বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে যেখানে নানা কাগজপত্র লাগে, সেখানে কোনো স্থাপনা ছাড়াই কিভাবে মিটার দেওয়া হচ্ছে—তা বড় প্রশ্ন। অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি খুঁটি থেকে অবৈধভাবে সংযোগ নেওয়া হচ্ছে। আরেকজন বাসিন্দার ভাষ্য, আগে একদল রাজনৈতিক কর্মীরা এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করলেও এখন অন্য একটি দলের কর্মীরা সেটি দখল করেছে। ফলে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এই অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, মাঝেমধ্যে লোক দেখানো অভিযান চালানো হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে ব্যর্থ হয়েছে। এ বিষয়ে ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) এক কর্মকর্তা বলেন, অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এসবের সঙ্গে জড়িতদের অনেকেই স্থায়ী কর্মচারী নন, বরং চুক্তিভিত্তিক কাজের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে, কিভাবে হোল্ডিং নম্বর ছাড়া মিটার দেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তা। বরিশাল সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি বিদ্যুৎ বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে তারাও অভিযান চালাবে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা কবে নেওয়া হবে, আর কবে বন্ধ হবে এই অবৈধ বিদ্যুৎ বাণিজ্য?

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
নদী দখল - অপসোনিনের কবলে সুগন্ধা ও কীর্তনখোলার মোহনা -ইত্তেহাদ
ভয়াবহ নদী দখল : অপসোনিনের কবলে সুগন্ধা ও কীর্তনখোলা

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: বরিশালের গুরুত্বপূর্ণ নদীপথ সুগন্ধা ও কীর্তনখোলার মোহনায় অবৈধ দখল ও দূষণের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠী “অপসোনিন”নদীর তীর ও মোহনার বিস্তীর্ণ অংশ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, বর্জ্য ফেলা,জমি দখল,পরিবেশ ধ্বংস এবং জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে,যার ফলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।মোহনা এখন আর শুধু প্রাকৃতিক জলপথ নয়—এটি পরিণত হয়েছে দখল, দূষণ ও অপসোনিনের আধিপত্যের এক জটিল সংঘাতে।   দখলের বিস্তার ও কৌশল: স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে ধীরে ধীরে নদীর তীর ঘেঁষে মাটি ভরাট, স্থায়ী বিশাল কংক্রিট দেয়াল  নির্মাণ  ভরাট করে স্থাপনের মাধ্যমে দখল প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। শুরুতে ছোট পরিসরে কাজ হলেও বর্তমানে তা বড় শিল্পকারখানার সম্প্রসারণে রূপ নিয়েছে।সুগন্ধা ও কীর্তনখোলার  মোহনায় বিশাল এই স্থাপনা যেন বাংলাদেশের লাগামহীন নদী দখলের এক ভয়াবহ নিদর্শন। একজন জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আগে এই জায়গায় আমরা জাল ফেলতাম। এখন সেখানে বাঁধ দেওয়া হয়েছে, ফলে নদী এখন ভুমিতে পরিনত করেছে অপসোনিন।” স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথমে কারখানাটি ছোট্ট একটি জায়গায় গড়ে ওঠে। কিন্তু প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে নদীতে বালু ফেলে ধীরে ধীরে তারা জায়গা বাড়াতে থাকে। রাতের আঁধারেও সেই কাজ চলত।ফলে নদীপথে নাব্যতা সংকট সৃষ্টি করছে, নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ ব্যাহত করছে এবং পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।   ১. নদীর বুক চিরে ‘শিল্প সাম্রাজ্য’ স্থানীয় সূত্র ও মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ঝালকাঠির দপদপিয়া ও তিমিরকাঠী সংলগ্ন এলাকায় সুগন্ধা ও  বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর ভেতরে ৫০ একরের বেশি এলাকা ভরাট করে শিল্প স্থাপনা সম্প্রসারণের অভিযোগ রয়েছে। নদীতে কংক্রিট ব্লক ফেলে ধীরে ধীরে চর সৃষ্টি করে সেই চর পরে কোম্পানির জমির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ সংকুচিত হয়েছে।   ২. ‘সিকিস্তি জমি’দখলের অভিযোগ নদীভাঙনে বিলীন হওয়া জমি পরে জেগে উঠলে তা পূর্ব মালিকদের পাওয়ার কথা থাকলেও— অভিযোগ আছে, সেই জমি দখল করে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে. শতাধিক পরিবার তাদের জমি ফিরে পায়নি।দখল ঠেকাতে গেলে হামলা-হুমকির অভিযোগও রয়েছে  এটি শুধু নদী দখল নয়—ভূমি অধিকার সংকটেও রূপ নিয়েছে।   ৩. পরিকল্পিত ভরাট  ও  তীর দখল পরিবেশকর্মীদের মতে— নদীর ভেতরে বালু ভরাট করা হয়েছে। তীর ঘেঁষে গাইড ওয়াল ও শিল্প অবকাঠামো তৈরি হয়েছে।নদীর অংশ নিজেদের সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করছে ।ফলে নদীর প্রাকৃতিক সীমানা প্রায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ৪. দূষণের ভয়াবহ চিত্র সুগন্ধা ও কীর্তনখোলা নদী এখন বহুমুখী দূষণের শিকার— প্রধান দূষণের উৎস: অপসোনিন কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য, ময়লা,প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য সরাসরি  নদীতে পড়ছে, যা পানিকে বিষাক্ত করে তুলছে।ফলে পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।মাছ ও জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে ও নদীর নাব্যতা কমে যাচ্ছে। ৫. সুগন্ধা নদীর সংকট: ভাঙন ও চাপ শুধু কীর্তনখোলা নয়, পাশের সুগন্ধা নদীতেও সংকট বাড়ছে । অপসোনিন দুটি নদীরই  অংশ দখল করে নিয়েছে। যার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে নদীগুলোর প্রাকৃতিক প্রবাহ ও পরিবেশ ব্যবস্থায়। প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। তীব্র ভাঙনে গ্রাম, রাস্তা,  প্রতিষ্ঠান বিলীন,নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হুমকির মুখে । মোহনা অঞ্চলে কৃত্রিম বাধা ও দখল দপদপিয়া ও তিমিরকাঠি মৌজার অংশ  এই ভাঙনকে আরও ত্বরান্বিত করছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারনা । এছাড়া দপদপিয়া -নলছিটি সড়কটি এখন ভাঙনের মুখে।   ৬. প্রশাসনিক দুর্বলতা ও প্রভাবশালী চক্র অনুসন্ধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে দখল শুধু ঘটছে না, বরং দীর্ঘদিন ধরে তা টিকে আছে। কারণগুলো: প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীর প্রভাব।আইনের দুর্বল প্রয়োগ।উচ্ছেদ অভিযানের ধারাবাহিকতার অভাব। যদিও প্রশাসন জানিয়েছে, নদী দখল ও দূষণ রোধে পরিকল্পনা রয়েছে। ৭. দখলদার অপসোনিন, বিস্তৃত নেটওয়ার্ক কীর্তনখোলা ও সুগন্ধা নদী দখলে অপসোসিনের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে।এ দুটি নদী দখলের প্রতিযোগীতায় অপসোনিন এগিয়ে।নদীতে ব্লক ফেলে নদী দখল করেছে এ অঞ্চলে একমাত্র অপসোনিন। সাবেক এমপি ও আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতা আমির হোসেন আমুর প্রভাবকে তারা কাজে লাগিয়ে নদী দখল করেছে বলে স্থানীয়রা জানান। অর্থাৎ, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়-একটি সংগঠিত দখল প্রক্রিয়া। ৮. সামাজিক: ও অর্থনীতির উপর প্রভাব অর্থনৈতিক: জেলেদের আয় কমে গেছে,নৌ চলাচলে বাধা ও  নদীভিত্তিক ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত। সামাজিক: ভূমিহীনতা বৃদ্ধি-স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা।নদীর অংশও দখলের আওতায় চলে গেছে। ৯. বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা পরিবেশবিদদের মতে— নদীকে “জীবন্ত সত্তা” হিসেবে আইনি স্বীকৃতি থাকলেও বাস্তবে তা রক্ষা হচ্ছে না দ্রুত দখলমুক্ত না করলে নদী হারানোর ঝুঁকি রয়েছে ।     পরিবেশগত ক্ষতি: বিশেষজ্ঞদের মতে, মোহনা অঞ্চল নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পলি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বাধা সৃষ্টি হলে— নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হতে পারে, মাছের প্রজনন ব্যাহত হয়, নৌ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়। পরিবেশকর্মীরা জানান, শিল্পবর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলার ফলে পানির রং ও গন্ধ পরিবর্তিত হয়েছে। অনেক এলাকায় তেলজাতীয় পদার্থ ভাসতে দেখা গেছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, দখলের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলেও কার্যকর পদক্ষেপ খুব একটা দেখা যায়নি। নদী রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবও প্রকট। একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “নদী দখল ঠেকাতে আইনি কাঠামো আছে, কিন্তু প্রয়োগে দুর্বলতা রয়েছে। প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কারণে অনেক সময় অভিযান থেমে যায়।”   আমুর প্রভাবে ১৮ একর জমি দখলের : আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ক্ষমতার দাপটে জাল জালিয়াতির মাধ্যে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অপসোনিন ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেড কোম্পানি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা মিসকেস সাজিয়ে আমির হোসেন আমুর ক্ষমতার প্রভাবে ১৮ একর ১৫ শতাংশ জমি আত্মসাত করেছেন।এমন অভিযোগ তুলে আমির হোসেন আমু ও অপসোনিন ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেডের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে ভূক্তভোগিরা। ভূক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বোরহান উদ্দিন মিলন। তিনি বলেন, ফ্যাসিষ্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার দোসর সাবেক খাদ্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু অপসোনিন ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেডের অংশীদার। এছাড়া রাকিব খান ও রউফ খান পরস্পর মামাতো-ফুফাতো ভাই। তাঁরা আওয়ামী লীগের আমলে আমির হোসেন আমুর ক্ষমতার অপব্যবহার করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া মিস কেস ২৩০/৬৫-৬৬ নম্বর বন্দোবস্তের মাধ্যমে তাদের ৭ পরিবারের প্রায় ১৮ একর ১৫ শতাংশ ভূমি আত্মাসাত করে নেয়। মিলন আরও বলেন, নলছিটি এসিল্যান্ড অফিসের ১২ নম্বর রেজিস্টার বইতে মিস কেস ২৩০/৬৫-৬৬ এর কোন অস্তিত্ব নেই। বরং ওই রেজিস্টারে তিনটি বন্দোবস্ত কেস দায়ের রয়েছে। কিন্তু নলছিটি জেএল নম্বর ১২৭ পশ্চিম চর দপদপিয়ার জমি অপসোনিন কোম্পানির মালিক রাকিব খানের নামে ৪৩১৯/১৯ দলিল এবং ৩৮২৮/২০০০ নম্বর দলিল বরিশাল সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে রেজিস্ট্রি হয়, যা ১৯৬৬ সালে আইনে সম্পূর্ণ অবৈধ। যত দলিল অপসোনিন কোম্পানিকে দেয়া হয়েছে। এর মূল মালিকানা স্বত্ব ২৩০/৬৫-৬৬ মিস বন্দোবস্ত কেসটি দলিলে উল্লেখ্য নাই। এসকল দলিলে জাগুয়া ইউনিয়ন জেএল ১২৭ নম্বর উল্লেখ্য করেছে, কিন্তু প্রকৃত পক্ষে জাগুয়া ইউনিয়ন জেএল নম্বর ৫৪। সকল দলিল জাল জালিয়াতি মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাছাড়া এই রাকিব খান ও রউফ খান কীর্তনখোলা নদীর স্রোত গতি পরিবর্তন করে, নদী ভরাট ও দখল করে পরিবেশের ভারসম্যের ব্যাঘাত ঘঠিয়ে শিল্প কারখানা গড়ে তুলেছেন। শত শত অসহায় গরীব মানুষের জমি এবং সরকারের খাস জমি অবৈধভাবে জবর দখল করেছে। এর সব কিছুর নেপথ্যে আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, এ নিয়ে ঝালকাঠি আদালতে মামলা করেছেন ভূক্তভোগীরা। মামলায় ২৩ বছর তারা কোর্টে হাজির না হয়ে, কোর্ট অবমাননা করেছেন। তারা অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের মাধ্যমে আইন কানুন আদালতকে তোয়াক্কা না করায়, তাদের বিরুদ্ধে আদালত জি আর মামলা নং ৩১/২৫ এবং সি আর ১৪৭/২৫ নং মামলায় গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করে। আমির হোসেন আমুর অবৈধ ক্ষমতার দাপটে বহু অসহায় গরীব মানুষের ভূমি জবর দখল করে নিয়েছে। জাল-জালিয়াতির মূল হোতা অপসোনিন ফার্মার অসাধু কর্মকর্তা মো. পারভেজ আহমেদ, রফিক আহম্মেদ, জসিম উদ্দিন, ফিরোজ আহমেদ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- ভূক্তভোগী জালাল আহমেদ খান, জাহাঙ্গীর খান, সিরাজুল ইসলাম গাজী, সাইফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সাইফুল। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, 'হাইকোর্ট নদীগুলোকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করেছেন। এর মানে স্থানীয় প্রশাসনের এখতিয়ার রয়েছে অবিলম্বে দখলদারদের উচ্ছেদ করার।'তিনি বলেন, 'আমি বুঝতে পারছি না কেন তারা এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।   অপসোনিনের বক্তব্য : অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান “অপসোনিন”-এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে, তারা কোনো অবৈধ দখলে জড়িত নয়। তাদের দাবি, সব স্থাপনা বৈধ অনুমোদনের ভিত্তিতেই নির্মিত এবং পরিবেশগত মানদণ্ড মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তব পরিস্থিতি সেই দাবির সঙ্গে মিলছে না।   করণীয় ও সুপারিশ: বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের কথা বলেছেন— নদীর সীমানা নির্ধারণ করে দখলমুক্ত করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দ্রুত অভিযান, শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি, স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা। সুগন্ধা ও কীর্তনখোলার মোহনা শুধু নদীপথ নয়, বরং এ অঞ্চলের অর্থনীতি, জীবিকা ও পরিবেশের প্রাণকেন্দ্র। দখল ও দূষণের এই চক্র অব্যাহত থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই নদীগুলোকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। সুগন্ধা ও কীর্তনখোলার মোহনায় যা ঘটছে তা শুধু একটি নদী দখলের ঘটনা নয়— এটি পরিবেশ, অর্থনীতি, ভূমি অধিকার ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার সম্মিলিত সংকট। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে— নদীর নাব্যতা হারাবে,জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে,হাজারো মানুষের জীবিকা বিপন্ন হবে, নদী রক্ষার লড়াই এখন সময়ের দাবি।    

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা  দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন
সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

বরিশাল অফিস :  সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা'২৫ কৃষকের স্বার্থে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবীতে বরিশালে মানববন্ধন করেছে বরিশাল অঞ্চলের  বিএডিসি বীজ ও সার ডিলার এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। ১৬ মার্চ সোমবার বেলা ১১ টায় নগরীর অশ্বিনীকুমার টাউন হলের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে  প্রধানমন্ত্রীর নিকট  বরিশালের জেলা প্রশাসক ও সভাপতি, জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি, বরিশালের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মরকলিপিতে দ্রিত সময়ের মাধ্যমে  সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা'২৫ কৃষকের স্বার্থে  বাস্তবায়নের দাবী জানানো হয়। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষি। কৃষি ফসল উৎপাদনে সার অতিব গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। রাসায়নিক সার ব্যতিত কোন ফসল উৎপাদন সম্ভব নয়। কৃষকের দোরগোড়ায় ন্যায্য মূল্যে সার পৌঁছে দেয়ার লক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক সার বিষয়ক জাতীয় সমন্বয় ও পরামর্শ কমিটির অনুমোদনক্রমে "সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা ২০২৫ প্রণয়ন করা হয় যা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখার স্বারক নং, ১২,০০,০০০০,০৩১,৪০.০০১.২৫-৮২ তারিখ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫ । ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী  কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত প্রজ্ঞাপন নং-১২,০০,০০০০,০৩১,৪০,০০১,২৫-৮ মোতাবেক সকল জেলা প্রশাসককে তার নিজ জেলায় শুন্য ডিলার ইউনিট সমূহে অবিলম্বে সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা ২০২৫" অনুযায়ী সারাদেশে ডিলার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ জারী করেন। যাতে করে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষিকার্ড সহায়ক। বিধায়  প্রধানমন্ত্রীর নিকট কৃষি ও কৃষকের স্বার্থে "সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা/২০২৫" দ্রুত বাস্তবায়ন পূর্বক কৃষি কার্ড বিতরণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
বরিশাল নগরীতে মরহুম শেখ কবিরুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া

বরিশাল নগরীতে মরহুম শেখ কবিরুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৫ মার্চ) নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদমারী মাদ্রাসা সড়কের একটি মসজিদে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মরহুমের সন্তান শেখ শামীম এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন। তিনি বরিশাল বিভাগীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি, মোহনা টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান ও সিনিয়র রিপোর্টার এবং দৈনিক সকালের বার্তার প্রতিষ্ঠাতা প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দোয়া মাহফিলে নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, গণমাধ্যমকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় মরহুম শেখ কবিরুল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
গণপূর্তের প্রকৌশলী বাশার
গণপূর্তের প্রকৌশলী আবুল বাশারের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

গণপূর্ত অধিদপ্তরের সেগুনবাগিচা ই/এম বিভাগ-২ এর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আবুল বাশার-এর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে শত কোটি টাকা অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে তিনি বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার সেগুনবাগিচা গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-২ এ উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন সুধা সদন এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর -এর বৈদ্যুতিক দায়িত্বেও নিয়োজিত ছিলেন। সূত্র মতে, যেখানে বড় প্রকল্প সেখানে উপস্থিত ছিলেন এই প্রকৌশলী। গণপূর্তের হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ নিয়ে তিনি নিজের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারদের কাছ থেকে অগ্রিম কমিশন না পেলে তিনি কোনো ফাইলে সই করতেন না। পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং কাজ না করেই ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবুল বাশার বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. আলী হোসেন হাওলাদারের ছেলে। ২০১৫ সাল থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি ধানমন্ডি ৩২ -এর বৈদ্যুতিক দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি নিজ এলাকায় অন্যের জমি দখল এবং অবৈধভাবে ইটভাটা নির্মাণ করেছেন। এ ঘটনায় কবাই ইউনিয়নের কুদ্দুস মিয়া বাদী হয়ে গত ১২ মার্চ বরিশাল স্পেশাল জজ আদালতে আবুল বাশারসহ চারজনকে বিবাদী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে জি.আর ২৯৬/২৪ (বাকেরগঞ্জ) মামলার ৩ নম্বর আসামি এবং জি.আর ২৬/২৩ (বাকেরগঞ্জ) মামলার ২ নম্বর আসামি হিসেবে নাম রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার বাবার নামে বাকেরগঞ্জের হালুয়া গ্রামে অবৈধভাবে একটি ইটভাটা চালু করেন, যা বর্তমানে এ. এইচ ব্রিকস নামে পরিচিত। এছাড়াও ঢাকায় তার নামে ৫ তলা ভবন, বিভিন্ন প্লট, নিউ মার্কেটে সোনার দোকানসহ নানা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা প্রসঙ্গে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি স্থানীয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ -এর রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন মিছিল-মিটিং ও জনসভায় আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এলাকায় গিয়ে তিনি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হাফিজ মল্লিক-এর পক্ষে কাজ করেছেন এবং ভোটে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্টের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল -এর বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল বাশার সাংবাদিকদের বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক। চাকরি জীবনে যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, তখন সেই সরকারের নির্দেশনা মেনেই আমি দায়িত্ব পালন করেছি।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন
বরিশালে আদালত ভাঙচুরের অভিযোগে আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন আটক, বিচার কার্যক্রম বন্ধ

বরিশাল : বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে আদালত কক্ষে ভাঙচুরের অভিযোগে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে আটক করা হয়। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ–এর পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে আদালতের এজলাসে ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই আদালতের বিচারকরা বিচার কার্যক্রম স্থগিত করেন। পুরো আদালত চত্বর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। অন্যদিকে সভাপতিকে আটকের প্রতিবাদে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করেন আইনজীবীরা। বরিশাল জজ কোর্টের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট হাফিজ আহমেদ বাবলু বলেন, সকালেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী আদালতে প্রবেশ করে। এ সময় বিচারক আদালত বর্জন করেন। পরে আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে আটক করা হয়। এর প্রতিবাদে আইনজীবীরা আদালত বর্জন ও মিছিল করেন।   জামিন ইস্যু ঘিরে উত্তেজনা এর আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ–এর সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি তালুকদার মো. ইউনুস–কে জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মহানগর আদালত বর্জন করেন আইনজীবীরা। তারা সংশ্লিষ্ট বিচারকের অপসারণ ও তালুকদার ইউনুসের জামিন বাতিলের দাবি জানান। তালুকদার ইউনুস গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। তার জামিনের পরপরই একাংশ আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।   সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু আইনজীবী মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রবেশ করে হট্টগোল করেন এবং বিচার কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। এ সময় আদালত কক্ষে থাকা চেয়ার-টেবিল উল্টে ফেলা ও চিৎকার-চেঁচামেচির ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আইনজীবীদের কর্মসূচি ও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
বরিশালে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধের দাবি
বরিশাল নগরীতে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে ওয়েবসাইট ও হটলাইন চালুর জোরালো দাবি

বরিশাল নগরীতে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ওয়েবসাইট ও হটলাইন চালু করার জোরালো দাবি উঠেছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও অপরাধীদের দমনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। প্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের দাবি ভুক্তভোগীদের মতে, অনেক সময় সরাসরি অভিযোগ জানাতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হয়রানির ভয়ে পিছিয়ে আসেন। ফলশ্রুতিতে, অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। যদি একটি ডেডিকেটেড ওয়েবসাইট বা ২৪ ঘণ্টা চালু থাকা হটলাইন নম্বর থাকে, তবে পরিচয় গোপন রেখেও দ্রুত অভিযোগ জানানো সম্ভব হবে। তাছাড়া, ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করলে চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করা প্রশাসনের জন্য অনেক সহজ হবে। এর ফলে বরিশালের ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। নাগরিকদের নিরাপত্তা ও প্রত্যাশা বরিশাল নগরীর বাসিন্দারা মনে করেন, সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়তে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি জনগণের অংশগ্রহণের পথ সহজ করতে হবে। অন্যদিকে, হটলাইন চালু হলে দ্রুত পুলিশি সহায়তা পাওয়ার পথ সুগম হবে। প্রশাসন যদি দ্রুত এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে, তবে বরিশালে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব চিরতরে বন্ধ করা সম্ভব।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা
বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা
বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন: মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে কারা?

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
রাজিব আহসান
রাজনৈতিক নির্যাতন পেরিয়ে প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান

মাত্র ৪৭ বছরের জীবনে তারুণ্যের পুরো সময়টাই কেটেছে মামলা, জেলখানা, আদালতের বারান্দা আর লুকিয়ে-পালিয়ে। ১৭ বছরের শাসনামলে তার বিরুদ্ধে হয়েছে ১৩০টিরও বেশি মামলা। রিমান্ডে নিয়ে ১৭ বছরে ১২৩ দিন পুলিশি নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে গুম বা খুন হয়ে যাওয়ার আতঙ্ক ছিল নিত্যসঙ্গী। আজন্ম বিএনপির রাজনীতি করা সেই রাজিব আহসান এখন বিএনপি সরকারের প্রতিমন্ত্রী। দায়িত্ব পেয়েছেন সড়ক-সেতু-রেলপথ ও নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের। বরিশাল অঞ্চলের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ অবহেলার প্রেক্ষাপটে তার এ নিয়োগে আশাবাদী দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। শৈশব ও শিক্ষা জীবন বরিশালের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মেহেন্দীগঞ্জে জন্ম রাজিব আহসানের। বাবা মিজানুর রহমান ছিলেন স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। পাতারহাট জুবলী ও টিটিসি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। পরে জুবলী ইনস্টিটিউশন থেকে মাধ্যমিক এবং পাতারহাট আরসি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় আরসি কলেজ থেকেই। কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ক্যাম্পাসে ছিলেন তুখোড় ছাত্রনেতা—প্রথমে কবি জসীম উদদীন হলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, পরে সভাপতি নির্বাচিত হন। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের হেলাল-বাবু কমিটিতে সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে প্রচার ও সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২০১৫ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। সফলভাবে দায়িত্ব পালনের পর স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হন। বর্তমানে তিনি এ দায়িত্বে রয়েছেন। নির্যাতন, কারাবাস ও সংগ্রামের দিনগুলো রাজিব আহসান আওয়ামী শাসনামলে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত রাজনৈতিক নেতাদের অন্যতম হিসেবে পরিচিত। ১৭ বছরে প্রায় প্রতিদিনই তার বাসায় চলতো পুলিশের হানা। দুই বোন ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে ছোট্ট পরিবারটি ছিল আতঙ্কে। বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হয়ে প্রায় চার বছর কারাগারে ছিলেন তিনি। রিমান্ডে নিয়ে চালানো হয়েছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। তার ঘনিষ্ঠরা জানান, আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে কত রাত যে নদীর মধ্যে ভাসমান জেলে নৌকায় কাটাতে হয়েছে, তার হিসাব নেই। একবার পটুয়াখালীতে গ্রেফতারের পর তাকে গোপন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিকল্পনা ছিল হত্যার পর গুম করার। গণমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখাতে বাধ্য হয় পুলিশ। জাতীয় সংসদ সদস্য থেকে প্রতিমন্ত্রী সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান রাজিব আহসান। ৫৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পরবর্তীতে তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করে সড়ক-সেতু-রেলপথ ও নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। বরিশালের মানুষের প্রত্যাশা বরিশাল নাগরিক পরিষদের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, সড়ক ও নৌ-যোগাযোগে বরিশাল বিভাগ সব সরকারের আমলেই অবহেলিত। এ জেলা থেকে আগে কখনো সড়ক, সেতু বা নৌ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাননি কেউ। নতুন প্রতিমন্ত্রীর কাছে তাই অনেক প্রত্যাশা। বিশেষ করে— ঢাকা-কুয়াকাটা এক্সপ্রেস সড়ক কুয়াকাটা পর্যন্ত রেললাইন ভোলা-বরিশাল সেতু ঢাকা-কুয়াকাটা রেল সংযোগ এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। প্রতিমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া রাজিব আহসান বলেন, “প্রথমেই কৃতজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি। আমাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার যোগ্য মনে করেছেন। কতদূর কী পারব জানি না, তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে মানুষের ইচ্ছা পূরণের।” দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় দীর্ঘ নির্যাতন-সংগ্রামের পথ পেরিয়ে দায়িত্বের আসনে বসা রাজিব আহসানকে ঘিরে বরিশাল অঞ্চলে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। রাজনৈতিক জীবনের প্রায় পুরোটা সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে থাকা এই নেতার কাছে উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন প্রত্যাশা করছে দক্ষিণাঞ্চলের জনগণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
মোঃ খায়রুল আলম সুমন
বরিশালে সাংবাদিকদের ওপর ডিসির ক্ষোভ: নির্বাচনী কার্ড ইস্যুতে হয়রানির অভিযোগ

বরিশালে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর যেন পাহাড়সম ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি)। পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে অতীতে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর এই চটে থাকা বলে জানা গেছে। বর্তমানে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় 'নির্বাচনী কার্ড' ইস্যু করাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। কার্ড ইস্যু নিয়ে চলছে টালবাহানা ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীদের দাবি, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরেও কার্ড দিতে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে। মূলত ডিসির ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণেই মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বরিশালের সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রভাব পেশাগত কাজে উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে এই জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়। সেই থেকে সাংবাদিকদের প্রতি তার বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে। ফলস্বরূপ, এখন সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার হরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিশেষে বলা যায়, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। একজন সাংবাদিক লিখেছেন, বৌ পেটানো নিউজ করার মাসুল দিচ্ছে বরিশালের সাংবাদিকরা। আরেক সাংবাদিক প্রশাসনের এই প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করে লিখেছেন, ডিসি তার ক্ষমতা দেখাইছে, এখন আমাদের বরিশালের সাংবাদিকদের উচিত সবাই এক হয়ে ক্ষমতা দেখানো। কার পাশা যাবে কার টেবিলে, খেলা যে চলছে কোন লেভেলের! ​নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য কার্ড একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি। কিন্তু কার্ড পেতে বিলম্ব হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, ​সঠিক কারণ ছাড়াই আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। ​জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। ​স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বরিশালের সংবাদকর্মী মহলে ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন ‘ব্যক্তিগত রোষ’ এবং ‘ক্ষমতার দাপট’ রুখতে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবছে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অবিলম্বে সাংবাদিকদের কার্ড প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও। কে এই ডিসি খাইরুল আলম সুমন যৌতুক সংক্রান্ত মামলায় কারাবাসের অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনের ভেতর ও বাইরে বিস্ময় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরিশালের ডিসি  খায়রুল আলম সুমন ২৯তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব জেলার আইনশৃঙ্খলা, ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভূমিসংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করা—যেখানে ব্যক্তিগত সুনাম ও নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, যাদের ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, এমন কর্মকর্তাকে ডিসি পদে বসানো ইমেজ ও আস্থার প্রশ্ন তৈরি করে। আদালত ও মামলার তথ্য সূত্র অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে ওই মামলায় খায়রুল আলম সুমন ও তার মা খোদেজা বেগমকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার এসআই শাহ আলম আদালতে তাদের হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দীর্ঘ সময় কারাবাসে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৫ জুন বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রাতে ঢাকার ওয়ারী এলাকায় খায়রুলের বাসায় তার মায়ের মাধ্যমে গরম খুন্তি দিয়ে ছেঁকা দেওয়া হয় এবং এ সময় খায়রুল আলম সুমন ভুক্তভোগীর হাত চেপে ধরেন। পরদিন ওয়ারী থানায় মামলা করা হয়। বিভাগীয় মামলা ও পদোন্নতি স্ত্রীর করা মামলার পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ দেওয়া হলে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এর ফলে নিয়মিত পদোন্নতি ব্যাহত হয় বলে জানা গেছে। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর উপসচিব পদে তার পদোন্নতির আদেশ জারি হলেও সেখানে ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ভূতাপেক্ষ (ব্যাকডেটেড) পদোন্নতি দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিজেকে পদোন্নতিতে বঞ্চিত দাবি করে তিনি ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিসির বক্তব্য খায়রুল আলম সুমনের ‘ব্যক্তিগত ডাটা শিটে’ (পিডিএস) বর্তমানে তাকে ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খায়রুল আলম সুমন বলেন, “এসব আমার ব্যক্তিগত তথ্য। আমার নামে বিভাগীয় মামলা  ছিল—সবই কর্তৃপক্ষ জানে এবং জেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি এসব নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।” প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মত জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলা প্রশাসক পদটি কেবল প্রশাসনিক নয়—এটি নৈতিক নেতৃত্বেরও প্রতীক। একজন ডিসির ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা ও ম্যাজিস্ট্রেসি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশ্ন ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাদের ভাষ্য, “ডিসির সুনামটাই সবচেয়ে জরুরি।” সূত্র জানায়, খায়রুল আলম সুমন প্রবেশনার হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাকরি শুরু করেন। সে সময়ের ডিসি মো. আবদুল মান্নানের মেয়েকে তিনি বিয়ে করেছিলেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম ডিসি কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নাঙ্গলকোট, নিকলি ও বাজিতপুরে এসিল্যান্ড এবং ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশালের ডিসি হিসেবে তার  নিয়োগ প্রশাসনে নৈতিকতা ও যোগ্যতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও অবস্থান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0