Brand logo light

বিশ্ব রাজনীতি

হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালি ঘিরে দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে বৈশ্বিক ভূরাজনীতি : ইরান উত্তপ্ত, চীনের পাশে রাশিয়া—বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে বৈশ্বিক ভূরাজনীতি। যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন নৌ অবরোধ, ইরানের তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং চীন–রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ অবস্থান—সব মিলিয়ে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।  অবরোধের নেপথ্য ও সামরিক বাস্তবতা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের প্রধান বন্দরগুলো কার্যত অবরুদ্ধ। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ১৫টি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, একটি সুপার ক্যারিয়ার, ১১টি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং ১০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি—ইতোমধ্যে অন্তত ছয়টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজকে পথ পরিবর্তনে বাধ্য করা হয়েছে। যদিও কিছু সূত্র বলছে একটি জাহাজ অবরোধ এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বলছে সেটিও এখন প্রণালির ভেতরে আটকে আছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ কেবল ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি নয়; বরং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোরে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা। কেন হরমুজ এত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০% এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২৫% এই প্রণালি দিয়ে যায়। ফলে এখানে সামান্য বিঘ্নও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—সংকট দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়বে পরিবহন, খাদ্যপণ্য ও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে।  চীন-রাশিয়া ফ্যাক্টর চীন, যা ইরানি তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা, এই অবরোধে সরাসরি চাপে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অনুযায়ী, বেইজিং আর ইরান থেকে তেল আমদানি করতে পারবে না। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বেইজিং সফরে ঘোষণা দিয়েছেন—রাশিয়া চীনের জ্বালানি ঘাটতি পূরণে প্রস্তুত এবং দুই দেশের সম্পর্ক অটুট থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল কূটনৈতিক বার্তা নয়; বরং চীনা জ্বালানি বাজারে রাশিয়ার প্রভাব বাড়ানোর কৌশল, যা যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে আংশিকভাবে নিষ্ক্রিয় করতে পারে।  ইরানের পাল্টা অবস্থান ইরান এই অবরোধকে সরাসরি ‘আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। দেশটির দাবি, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে; কেবল শত্রুপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজের চলাচল সীমিত করা হয়েছে। ইরানের তথ্যমতে, গত ৪০ দিনে তাদের ৩৯টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছে এবং ২০ জন নাবিক নিহত হয়েছেন—যা তারা ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।  আইএমও বিতর্ক: নতুন কূটনৈতিক সংঘাত হরমুজ প্রণালিতে ‘নিরাপদ সামুদ্রিক করিডর’ তৈরির প্রস্তাব ঘিরে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছেআন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাতে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের উত্থাপিত এই প্রস্তাব কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। আইএমও লিগ্যাল কমিটির বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধি পুরিয়া কলিভান্দ বলেন, প্রস্তাবটি “আইনগতভাবে ভিত্তিহীন” এবং “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজে কোনো করিডর প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইরানের সম্মতি অপরিহার্য—কারণ এটি অঞ্চলের প্রধান উপকূলীয় রাষ্ট্র।  যুক্তরাষ্ট্র বনাম আঞ্চলিক বাস্তবতা ইরানের অভিযোগ—যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথভাবে এই অঞ্চলে উত্তেজনা তৈরি করেছে, এবং কিছু উপসাগরীয় দেশ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে এই আগ্রাসনে সহায়তা করছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে এটি একটি প্রতিরোধমূলক কৌশল—যার লক্ষ্য ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা কমানো এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব বজায় রাখা।   বর্তমান পরিস্থিতি একাধিক সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করছে: * সামরিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে * চীন–রাশিয়া জোট আরও শক্তিশালী হতে পারে * অথবা কূটনৈতিক সমঝোতার নতুন পথ তৈরি হতে পারে তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—হরমুজ প্রণালির এই সংকট কেবল আঞ্চলিক নয়; এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং শক্তির ভারসাম্য পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। আগামী দিনগুলোতে বেইজিং, মস্কো এবং তেহরানের সিদ্ধান্ত—এবং ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ—নির্ধারণ করবে বিশ্ব কোন পথে এগোবে: সংঘাতের দিকে, নাকি সমঝোতার দিকে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
টাইমের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তালিকায় তারেক রহমান | বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন অবস্থান

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বখ্যাত সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন প্রকাশিত বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তালিকায় স্থান পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) টাইমের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তাকে ‘লিডার’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন নির্বাসনে থাকার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার প্রত্যাবর্তন এবং সাম্প্রতিক সক্রিয়তা তাকে এই তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে। তিনি দীর্ঘ সময় যুক্তরাজ্যের লন্ডন-এ অবস্থান করলেও দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আবারও প্রভাবশালী ভূমিকায় ফিরে আসেন। টাইমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর ক্ষমতাচ্যুতির পর দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান বিরোধীদলীয় রাজনীতির কর্মী থেকে সম্ভাব্য জাতীয় নেতা হিসেবে উঠে আসেন। প্রায় ১৭ বছর দেশের বাইরে থাকার পর তিনি আরও সংগঠিতভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেন এবং একটি বড় নির্বাচনী সাফল্যের মাধ্যমে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেন। প্রতিবেদনে তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়েও আলোচনা করা হয়। সেখানে বলা হয়, তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর পথ অনুসরণ করছেন। খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া তার ব্যক্তিগত  ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। জানুয়ারিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের চাপের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী ভারত-র সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের বিষয়টিও উঠে আসে। তবে প্রতিবেদনে তার অতীতের কিছু আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও সেগুলো আদালতে খারিজ হয়েছে বলে দাবি করা হয়। সবশেষে টাইম উল্লেখ করে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নির্বাসনের পর তারেক রহমান এখন দ্রুত রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। ম্যাগাজিনকে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিভাজন দূর করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা প্রয়োজন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ইরান যুদ্ধে দরিদ্র
ইরান যুদ্ধে ত্রিমুখী সংকট : জ্বালানি, খাদ্য, অর্থনীতি,বিশ্বজুড়ে ৩ কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ৩ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়তে পারে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে উন্নয়নশীল দেশগুলো।  যুদ্ধের ছায়ায় দারিদ্র্যের ঢেউ: বৈশ্বিক সংকটের গভীরে অনুসন্ধান মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধবিমানের গর্জন থেমে গেলেও তার প্রতিধ্বনি এখন শোনা যাচ্ছে আফ্রিকার শুষ্ক গ্রাম, এশিয়ার উপকূলীয় শহর এবং ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর ভাঙা অর্থনীতিতে। একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তার মধ্যেই জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) সতর্ক করেছে—ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত বিশ্বজুড়ে ৩ কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষকে চরম দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে।  ত্রিমুখী সংকট: জ্বালানি, খাদ্য, অর্থনীতি ইউএনডিপির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ বাস্তবতা—বিশ্ব এখন একযোগে তিনটি সংকটের মুখোমুখি: জ্বালানি ঘাটতি, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। এই ত্রিমুখী চাপ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য হয়ে উঠেছে এক নিঃশব্দ বিপর্যয়। যুদ্ধের পরবর্তী ছয় সপ্তাহে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এর মূল কারণ হরমুজ প্রণালি-তে সরবরাহ ব্যাহত হওয়া। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ দিয়ে    উন্নয়নের চাকা উল্টো দিকে ইউএনডিপির প্রধান এবং বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডি ক্রু সতর্ক করে বলেছেন, “যুদ্ধ থেমে গেলেও এর অর্থনৈতিক অভিঘাত থেকে যায়। সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো—যারা দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছিল, তারাই আবার এতে ফিরে যাচ্ছে।” এই বক্তব্য শুধু আবেগ নয়—পরিসংখ্যানও তা সমর্থন করে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে, যদি জ্বালানি উৎপাদনে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটে, তাহলে ৩ কোটি ২৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারে। এখানে দারিদ্র্যের মানদণ্ড ধরা হয়েছে দৈনিক ৮.৩০ ডলারের কম আয়। ### 🍞 খাদ্য নিরাপত্তা: আসন্ন সংকট জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং সার সরবরাহে ঘাটতির কারণে খাদ্য উৎপাদন হুমকির মুখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু মূল্যবৃদ্ধি নয়—বরং একটি পূর্ণাঙ্গ খাদ্য নিরাপত্তা সংকটের পূর্বাভাস। বিশেষ করে যেসব দেশ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল—এমন ৩৭টি দেশের অর্ধেকের বেশি দারিদ্র্য বৃদ্ধি ঘটবে। এই তালিকায় রয়েছে আফ্রিকা, এশিয়া, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলো।  সমাধান কোথায়? ইউএনডিপি একটি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে ৬০০ কোটি ডলারের নগদ সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে, যা সরাসরি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর হাতে পৌঁছাবে। এই ক্যাশ ট্রান্সফার দারিদ্র্য প্রতিরোধে কার্যকর হলেও সংস্থাটি সতর্ক করেছে—অযাচিত ভর্তুকি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয় এবং তা ধনী শ্রেণিকেও অপ্রয়োজনীয় সুবিধা দেয়।    বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া: কমছে সহায়তা এই সংকটের মাঝেই ধনী দেশগুলো তাদের বৈদেশিক সাহায্য কমিয়ে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের মতো দেশগুলো ঋণের চাপ ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৫ সালে উন্নয়ন সহায়তা প্রায় এক-চতুর্থাংশ কমে গেছে—যা সংকটকে আরও গভীর করছে।    স্থায়ী ক্ষতের আশঙ্কা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছে—এই সংঘাতের অর্থনৈতিক ক্ষতি সাময়িক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। ডি ক্রুর ভাষায়, “উন্নয়নে বিনিয়োগ হলো সংঘাত প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। দারিদ্র্য কমানো মানে বিশ্বকে স্থিতিশীল করা।”  যুদ্ধের আসল মূল্য যুদ্ধের ময়দানে গোলা-বারুদের হিসাব রাখা সহজ, কিন্তু এর অর্থনৈতিক অভিঘাত মাপা অনেক কঠিন। ইরানকে কেন্দ্র করে এই সংঘাত আবারও দেখিয়ে দিল—আধুনিক বিশ্বে যুদ্ধ শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি ছড়িয়ে পড়ে খাদ্যের থালায়, জ্বালানির দামে এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। যুদ্ধ থামলেও, এর ক্ষত বহুদিন রয়ে যাবে—বিশেষ করে সেইসব মানুষের জীবনে, যারা সবচেয়ে কম দায়ী, অথচ সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী।      

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ইরান যুদ্ধ
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি,ইসরায়েলের ব্যয় ১১.৫ বিলিয়ন ডলার

 ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বড় ধরনের ড্রোন ক্ষতির তথ্য সামনে এসেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংঘাতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নজরদারি ও আক্রমণাত্মক ড্রোন ধ্বংস বা হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, সংঘর্ষ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী মোট **২৪টি এমকিউ-৯ রিপার  ড্রোন** হারিয়েছে। এর মধ্যে মাসের শুরুতে ক্ষতির সংখ্যা ছিল ১টি, অর্থাৎ ১ থেকে ৯ এপ্রিলের মধ্যেই অতিরিক্ত আরও **৮টি ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে** বলে উল্লেখ করা হয়। এসব ড্রোন ধ্বংসে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ **৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি** হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়, এসব হামলার কেন্দ্রবিন্দু ছিল মূলত ইরানের শিরাজ এবং কিশ দ্বীপের আশপাশের অঞ্চল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম CBS News-এর বরাতে এই তথ্য সামনে আসে বলে দাবি করা হয়েছে।   উচ্চমূল্যের নজরদারি ড্রোন হারানোর অভিযোগ একই সময়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সম্পদ হারানোর আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ব্যবহৃত **MQ-4C Triton** নামের একটি উচ্চমূল্যের নজরদারি ড্রোন নিখোঁজ বা ধ্বংস হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় **২৫০ মিলিয়ন ডলার**। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি ইরানি বাহিনী ভূপাতিত করেছে বলে সন্দেহ করা হলেও বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ নিশ্চিত নয়।    উদ্ধার অভিযানেও ক্ষতির দাবি আরও দাবি করা হয়েছে যে, ভূপাতিত একটি **F-15E Strike Eagle** যুদ্ধবিমানের দুই পাইলটকে উদ্ধারের সময় অতিরিক্ত দুইটি MQ-9 ড্রোনও হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনাও সংঘাতের ঝুঁকি ও অপারেশনাল জটিলতা বাড়িয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মন্তব্যে উঠে আসে।  আঞ্চলিক ড্রোন সংঘর্ষে অন্যান্য পক্ষ একই সংঘাতে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, মিত্র দেশগুলোর ড্রোনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন ড্রোন—যার মধ্যে ইসরায়েলের হারমিস সিরিজ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উইন লং ড্রোন—ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছে।    ক্ষেপণাস্ত্র সংকট ও কৌশলগত চাপের ইঙ্গিত বিশেষজ্ঞদের বরাতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এই উচ্চ হারে ড্রোন ক্ষতির পেছনে একটি কৌশলগত কারণ থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় তারা তুলনামূলকভাবে কম খরচের ও স্বল্পপাল্লার অস্ত্র ব্যবহারে বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এর ফলে ব্যয়বহুল ড্রোনগুলোকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ক্ষতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়।   ইসরায়েলের যুদ্ধ ব্যয়: বিলিয়ন ডলারের চাপ অন্যদিকে, একই সময়পর্বে **ইসরায়েল রাষ্ট্রের** যুদ্ধ-সংক্রান্ত ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় **১১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার**। এই ব্যয় দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে এবং এর পূর্ণাঙ্গ প্রভাব এখনও পুরোপুরি নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।   প্রতিরক্ষা খাতে সবচেয়ে বড় ব্যয় সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মোট ব্যয়ের বড় অংশ গেছে প্রতিরক্ষা খাতে। প্রায় **২২ বিলিয়ন শেকেল** ব্যয় হয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও অন্যান্য নিরাপত্তা খাতে। এই ব্যয় ইতিমধ্যেই ২০২৬ সালের বাজেট কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।   ক্ষতিপূরণ ও সামাজিক ব্যয় বৃদ্ধি প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ, ব্যবসায়িক ক্ষতি এবং কর্মীদের বেতনহীন ছুটির জন্য প্রায় **১২ বিলিয়ন শেকেল** বরাদ্দ ধরা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতাল পরিচালনা, জরুরি সেবা এবং সামাজিক খাতে অতিরিক্ত প্রায় **১ বিলিয়ন শেকেল** ব্যয় হচ্ছে।  অর্থনৈতিক অবস্থান নিয়ে সরকারের বক্তব্য ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী দাবি করেছেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে দেশটির অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অর্থনৈতিক চাপ দীর্ঘমেয়াদে আরও বাড়তে পারে—এমন ইঙ্গিতও বিশ্লেষণগুলোতে উঠে এসেছে।  সামগ্রিক চিত্র সব মিলিয়ে, ড্রোন যুদ্ধ, আঞ্চলিক সামরিক সংঘাত এবং বিপুল প্রতিরক্ষা ব্যয় মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একদিকে প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধক্ষেত্রে উচ্চমূল্যের ড্রোন ক্ষয়ক্ষতি, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় বাজেটে ক্রমবর্ধমান সামরিক ব্যয়—দুই দিক থেকেই সংঘাতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব গভীর হচ্ছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার আলোচনা ব্যর্থ: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ভেস্তে, বাড়ছে সংঘাতের শঙ্কা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরান যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টা আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা ও হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। এর পরপরই মি. ভ্যান্স ও উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তারা নিজের দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন। এটি ছিল একটি সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলন যেখানে অল্প কয়েকজন সাংবাদিকই প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া মি. ভ্যান্সের মূল বক্তব্য নিচে দেওয়া হলো: ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার শান্তি আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ বন্ধে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। ভ্যান্স বলেন, "আমরা ইরানিদের সাথে বেশ কিছু গঠনমূলক আলোচনা করেছি, এটা সুসংবাদ। তবে দুঃসংবাদ হলো যে, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আমি মনে করি এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি খারাপ খবর।" তিনি আরও বলেন, "আমরা এমন কোনো পরিস্থিতিতে পৌঁছাতে পারিনি যেখানে ইরানিরা আমাদের শর্তগুলো মেনে নেবে।" পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মি. ভ্যান্স। তিনি বলেন, আলোচনার ক্ষেত্রে 'যে ঘাটতি-ই' থাকুক না কেন, 'তা পাকিস্তানিদের কারণে হয়নি, তারা অসাধারণ কাজ করেছেন'। ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে মি. ভ্যান্স জবাব দেন যে, ইরানকে বর্তমান এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের "মূল লক্ষ্য"। তিনি আরও জানান যে, মি. ট্রাম্প এ আলোচনার সাথে যুক্ত ছিলেন এবং আলোচনার সময় তিনি প্রেসিডেন্টের সাথে অন্তত 'আধা ডজন' থেকে 'ডজনখানেক'বার কথা বলেছেন। বক্তব্য শেষ করার আগে মি. ভ্যান্স যোগ করেন, "আমরা এখান থেকে একটি অত্যন্ত সহজ প্রস্তাব নিয়ে যাচ্ছি - একটি সমঝোতার পথ যা আমাদের চূড়ান্ত এবং সেরা অফার। এখন দেখা যাক ইরানিরা এটি গ্রহণ করে কি-না।"   যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা দুই পক্ষের জন্য 'অপরিহার্য':  পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তি আলোচনা শেষ হওয়ার পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে তিনি উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। ইসহাক দার বিবৃতিতে বলেছেন, "(যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান) পক্ষগুলোর জন্য যুদ্ধবিরতির প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা অপরিহার্য।" এক্স-এ প্রকাশিত ওই পোস্টে বলা হয়েছে, "আমরা আশা করি যে, উভয় পক্ষ ওই সমগ্র অঞ্চল এবং এর বাইরেও টেকসই শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবে।" পোস্টটির শেষে পাকিস্তান জানিয়েছে, "সামনের দিনগুলোতে" তারা দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ সহজতর করতে ভূমিকা পালন করে যাবে। ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়া নিয়ে ইরানের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, শান্তি আলোচনায় সব বিষয়ে তাদের মতানৈক্য হয়নি, অনেকগুলো বিষয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একমতও হয়েছিলেন।। 'ইরান নিউজ নেটওয়ার্ক'কে দেয়া সাক্ষাৎকারে মি. বাঘাই বলেছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মোট ২৪ থেকে ২৫টি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। "কিছু ক্ষেত্রে আমরা মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাথে সমঝোতায় পৌঁছেছিলাম, তবে দুই বা তিনটি ক্ষেত্রে মতপার্থক্য ছিল এবং সেখানে আমরা কোনো সমেঝাতায় পৌঁছাতে সক্ষম হইনি।" তবে, ঠিক কোন বিষয়গুলোতে মতানৈক্য হয়েছিল, সেটি স্পষ্ট করে বলেননি তিনি। তিনি কেবল বলেছেন, হরমুজ প্রণালি এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির মতো নতুন বিষয়গুলো যুক্ত হওয়ায় আলোচনা আরও জটিল হয়ে পড়ে। এদিকে, এর আগে আরেক সাক্ষাৎকারে ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যে দ্রুতই একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে, তা কখনোই প্রত্যাশিত ছিল না। ইরানের রাষ্ট্রীয় স্টুডেন্ট নিউজ নেটওয়ার্ককে তিনি বলেন: "শুরু থেকেই আমাদের এটা আশা করা উচিৎ ছিল না যে আমরা একটিমাত্র বৈঠকেই কোন চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব। আমার মনে হয় না কারোই এমন কোনো প্রত্যাশা ছিল।" তিনি বলেছেন, ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা 'চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের' পর এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার দুইদিনের মধ্যেই একটি শান্তি আলোচনা হয়েছে, যা 'অবিশ্বাস, সন্দেহ ও সংশয়ে ভরা' এক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে, শান্তি আলোচনা বা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেল কী-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "কূটনীতি কখনও শেষ হয় না"। মি. বাঘাই এর আগে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত 'অতিরিক্ত দাবি' করা থেকে বিরত থাকা। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দুই বা তিনটি ক্ষেত্রে মতপার্থক্য ছিল: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়া নিয়ে ইরানের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, শান্তি আলোচনায় সব বিষয়ে তাদের মতানৈক্য হয়নি, অনেকগুলো বিষয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একমতও হয়েছিলেন।। 'ইরান নিউজ নেটওয়ার্ক'কে দেয়া সাক্ষাৎকারে মি. বাঘাই বলেছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মোট ২৪ থেকে ২৫টি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। "কিছু ক্ষেত্রে আমরা মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাথে সমঝোতায় পৌঁছেছিলাম, তবে দুই বা তিনটি ক্ষেত্রে মতপার্থক্য ছিল এবং সেখানে আমরা কোনো সমেঝাতায় পৌঁছাতে সক্ষম হইনি।" তবে, ঠিক কোন বিষয়গুলোতে মতানৈক্য হয়েছিল, সেটি স্পষ্ট করে বলেননি তিনি। তিনি কেবল বলেছেন, হরমুজ প্রণালি এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির মতো নতুন বিষয়গুলো যুক্ত হওয়ায় আলোচনা আরও জটিল হয়ে পড়ে। এদিকে, এর আগে আরেক সাক্ষাৎকারে ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যে দ্রুতই একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে, তা কখনোই প্রত্যাশিত ছিল না। ইরানের রাষ্ট্রীয় স্টুডেন্ট নিউজ নেটওয়ার্ককে তিনি বলেন: "শুরু থেকেই আমাদের এটা আশা করা উচিৎ ছিল না যে আমরা একটিমাত্র বৈঠকেই কোন চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব। আমার মনে হয় না কারোই এমন কোনো প্রত্যাশা ছিল।" তিনি বলেছেন, ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা 'চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের' পর এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার দুইদিনের মধ্যেই একটি শান্তি আলোচনা হয়েছে, যা 'অবিশ্বাস, সন্দেহ ও সংশয়ে ভরা' এক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে, শান্তি আলোচনা বা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেল কী-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "কূটনীতি কখনও শেষ হয় না"। মি. বাঘাই এর আগে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত 'অতিরিক্ত দাবি' করা থেকে বিরত থাকা। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র্রের সাথে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর সকালেই ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওয়ানা হন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যঅন্স এবং কর্মকর্তারা। ইসলামাবাদে আলোচনা ব্যর্থ - এখন কী হবে? যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান উভয় পক্ষই এ আলোচনায় অংশ নিয়েছিল যুদ্ধে তারা জয়ী হয়েছে - এমন দাবি নিয়ে, তাই এত অল্প সময়ে কোনো একটি চুক্তিতে পৌঁছানো স্বাভাবিক বিচারেই কঠিন ছিল। আর এখন মনে হচ্ছে এটি আসলে অসম্ভবই ছিল। দেখা যাচ্ছে ব্যর্থতার জন্য উভয় পক্ষই পরস্পরকে দায়ী করে ফিরে যাচ্ছে। গত বুধবার যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তা শুরু হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্টের 'অ্যাপোক্যালিপটিক' বা ধ্বংসাত্মক হুমকির মধ্য দিয়ে, যেখানে তিনি ইরানি সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এখন তাহলে কী হবে? যুদ্ধবিরতি কি বহাল থাকবে? বিবিসি সংবাদদাতা জো ইনউড বলছেন, ইরানের ওপর নতুন করে হামলা শুরু হবে কী-না, তা নিয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে হামলার সম্ভাবনা যে নিশ্চিতভাবেই বেড়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। হরমুজ প্রণালি, যে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ যা ইরান আংশিকভাবে কিন্তু কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল, তা আলোচনার মাধ্যমে পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি আপাতত আলোচনার টেবিলের বাইরে রয়ে গেছে। কিন্তু, পারস্য উপসাগরে কয়েকদিন আগে মোতায়েন করা দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো অন্য কোনো পথের কথা ভাবছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না - এমন বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যর্থ হওয়াটাই ছিল আলোচনা সফল হওয়ার পথে প্রধান বাধা। ইরান সবসময়ই দাবি করে এসেছে যে তারা মারণাস্ত্র উৎপাদন করতে চায় না, কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে দুটি যুদ্ধের অভিজ্ঞতা হওয়ায় তাদের দেশে পারমাণবিক অস্ত্রের সমর্থকদের এখন পারমাণবিক শক্তি অর্জনে আরও উৎসাহিত করবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এ সরাসরি আলোচনা ছিল ঐতিহাসিক, কিন্তু এটি হয়তো কূটনীতির একটি ব্যর্থতা হিসেবেই ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ইসলামাবাদ ছেড়েছেন ইরানের কর্মকর্তারা কিছুক্ষণ আগে ইরানি কর্মকর্তারাও ইসলামাবাদ থেকে তেহরানের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন। ইরানের আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানি প্রতিনিধি দলটি ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলটি জেডি ভ্যান্সের ইসলামাবাদ ত্যাগের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সাথে বৈঠক করে। যুদ্ধবিরতি মেনে চলা এবং শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর আহ্বান অস্ট্রেলিয়ার অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে এবং শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিবিসি অ্যারাবিকের খবর বলছে, মিজ ওং বলেছেন, "যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদ আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়া শেষ হওয়াটা হতাশাজনক।" তিনি বলেন যে, "বর্তমান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা।" মিজ ওং সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে মানবিক ক্ষয়ক্ষতি বাড়বে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।   আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় ট্রাম্পের সামনে কঠিন পরিস্থিতি - বিশ্লেষণ মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভেঙ্গে যাওয়াকে সুসংবাদ এবং দুঃসংবাদ উভয়ই বলেছেন। বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লিজ ডুসেটের বলছেন, এই আলোচনা সেশন কতক্ষণ ধরে চলেছে, সেটি তাৎপর্যপূর্ণ এবং আশ্চর্যজনক। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে যে কোনো চুক্তি হয়নি, এটা আশ্চর্যজনক নয়। তিনি বিশ্লেষণ করছেন যে, আমেরিকানরা এই ধারণা নিয়ে পাকিস্তানে এসেছিল যে যুদ্ধে ইরান এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে তাদের সাথে দ্রুত আপোষ করা সম্ভব হবে। জেডি ভ্যান্স বললেন, "তারা (ইরান) আমাদের শর্তগুলো মেনে নিতে রাজি হয়নি।" লিজ ডুসেট মনে করেন, ইরানেরও নিজস্ব সীমা রয়েছে, অর্থাৎ যেসব বিষয়ে তারা ছাড় দিতে পারবে না বা দেবে না। তারা শক্তিশালী অবস্থানে আছে - এমন বিশ্বাস নিয়ে দেশটি ইসলামাবাদে আলোচনায় এসেছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সামরিক সক্ষমতার ব্যাপক ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও, দেশটি এখনও যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম এবং ইচ্ছুক। বিশেষ করে কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণের কারণে ইরানের হাতে এখনও যথেষ্ট দর কষাকষির সুযোগ রয়েছে। এক দশক আগে তেহরান ও ওয়াশিংটন শেষবার যখন একটি পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছেছিল, তখন তাতে ১৮ মাস ধরে নানা অগ্রগতি ও অচলাবস্থার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। লিজ ডুসেটের মতে, ট্রাম্প এখন এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হবেন – হয় পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারেন তিনি, অথবা আলোচনায় ফিরে এসে নতুন করে পরিস্থিতিকে মূল্যায়ন করা। যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রতিনিধিদলের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে: ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও তেহরানের প্রতিনিধিদলের প্রধান মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বলেছেন, এখন যুক্তরাষ্ট্রকেই ঠিক করতে হবে তারা ইরানের আস্থা অর্জন করতে চায় কী-না। এক্স (সাবেক টুইটার) এ দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, আলোচনার আগে তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে ইরানের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা রয়েছে। কিন্তু আগের দুই যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কারণে প্রতিপক্ষের ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই। তিনি বলেন, “ইরানের প্রতিনিধিদল কিছু দুরদর্শী পদক্ষেপ উপস্থাপন করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই দফার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রতিনিধিদলের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে”। তিনি আরও বলেন, “আমরা এক মুহূর্তের জন্যও থামব না, এই ৪০ দিনের যুদ্ধে যা অর্জন করেছি, তা ধরে রাখতে ও শক্ত করতে আমরা কাজ চালিয়ে যাব”। তিনি বলেন, এই আলোচনা আয়োজন কঠিন ছিল। যে কারণে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি ইরানকে ধন্যবাদও জানান।   হরমুজ প্রণালি পার হতে হলে টোল দিতে হবে, ইরানি ডেপুটি স্পিকারের ঘোষণা পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধি দলের সাথে কয়েক ঘণ্টার বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স হরমুজ প্রণালির বিষয়টি উল্লেখ করেননি। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় এই বিষয়টিও ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি চলছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা। ইরান পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবায়ি দেশটির মেহর নিউজ এজেন্সিকে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি তেহরানের জন্য একটি রেডলাইন। তিনি বলেন, এই প্রণালি পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে এবং সেখান দিয়ে চলাচলের জন্য ইরানি মুদ্রায় টোল প্রদান করতে হবে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালের এক পোস্টে বলেন, হরমুজ প্রণালি শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড শনিবার জানিয়েছে, দুটি নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং সমুদ্রের মাইন অপসারণে কাজ করছে। তবে, সেন্ট্রাল কমান্ডের এই দাবি অস্বীকার করেছে ইরান। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, কোনো সামরিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় ব্রডকাস্টার আইআরআইবি’র বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে এএফপি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ইসরায়েলি জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলা
হরমুজ থেকে হোয়াইট হাউস—এক বিস্তৃত সংঘাতের অদৃশ্য রেখাচিত্র

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূরাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিয়েছে হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ—হরমুজ প্রণালি—এ ইসরায়েল-সংযুক্ত একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। এই ঘটনার পরই আঞ্চলিক উত্তেজনা দ্রুত বহুগুণে বেড়ে গেছে, যার প্রভাব এখন শুধু সমুদ্রেই সীমাবদ্ধ নেই—পৌঁছে গেছে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার কেন্দ্রেও। হরমুজে হামলা: কৌশলগত বার্তা না সরাসরি যুদ্ধঘোষণা? ইরানের দাবি অনুযায়ী, “জায়নবাদী শাসনের সঙ্গে যুক্ত” একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিপিং ডাটাবেজ অনুযায়ী, “MSC Ishika” নামের জাহাজটি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী হলেও এর মালিকানা ইসরায়েলি স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। এই হামলার গুরুত্ব তিনটি কারণে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য: অবস্থানগত ঝুঁকি: হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবাহিত হয়। এখানে যেকোনো সামরিক ঘটনা বৈশ্বিক বাজারে ধাক্কা দিতে পারে। টার্গেট নির্বাচন: সরাসরি ইসরায়েলি মালিকানাধীন সম্পদকে আঘাত করা মানে প্রক্সি যুদ্ধ থেকে সরাসরি সংঘাতে যাওয়ার ইঙ্গিত। ড্রোন প্রযুক্তি: কম খরচে উচ্চ কার্যকারিতা—ইরানের ড্রোন কৌশল এখন একটি বড় সামরিক সমীকরণ। আকাশে সংঘর্ষ: তথ্যযুদ্ধ নাকি বাস্তব ক্ষয়ক্ষতি? ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা মার্কিন একাধিক যুদ্ধযানে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে F-15 Eagle, A-10 Thunderbolt II, এবং UH-60 Black Hawk। তবে এই দাবিগুলোর স্বতন্ত্র যাচাই এখনো হয়নি। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন: এটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হতে পারে অথবা আংশিক সত্যকে অতিরঞ্জিত করে প্রচার করা হচ্ছে একইসঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিমান দুর্ঘটনার ঘটনাও এই বর্ণনার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে ওয়াশিংটনে অস্থিরতা: সামরিক বনাম বেসামরিক ক্ষমতা এই সংঘাতের সবচেয়ে নাটকীয় দিকটি ঘটছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বৃহৎ স্থল অভিযানের নির্দেশ দিলেও, একাধিক জ্যেষ্ঠ জেনারেল তা মানতে অস্বীকৃতি জানান। এর পরিণতিতে: জয়েন্ট চিফস অব স্টাফসহ ১২ জন শীর্ষ কর্মকর্তা বরখাস্ত হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব মার্কিন ইতিহাসে বিরল সাংবিধানিক সংকট  মূল প্রশ্ন: এই অস্বীকৃতি কি— আইন রক্ষার চেষ্টা? (অবৈধ আদেশ মানতে অস্বীকৃতি) নাকি বেসামরিক নিয়ন্ত্রণের প্রতি অবাধ্যতা?  সামরিক ক্ষয়ক্ষতি: বাস্তবতা বনাম বর্ণনা বিভিন্ন ঘটনায় মার্কিন সামরিক ক্ষয়ক্ষতির যে চিত্র উঠে এসেছে: একাধিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত (যেমন KC-135 Stratotanker) কুয়েত ও সৌদি আরবের ঘাঁটিতে হামলা E-3 Sentry ধ্বংসের দাবি F-35 Lightning II ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা তবে এগুলোর অনেকগুলোরই স্বাধীন যাচাই সীমিত—যা তথ্যযুদ্ধের জটিলতা বাড়াচ্ছে। বৃহত্তর প্রেক্ষাপট: বিশ্ব কি নতুন যুদ্ধে প্রবেশ করছে? এই সংকটের প্রভাব বহুমাত্রিক: ১. জ্বালানি বাজার হরমুজে অস্থিরতা মানেই তেলের দাম অস্থির হওয়া ২. আঞ্চলিক জোট ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ব্লক আরও দৃঢ় হচ্ছে ৩. সামরিক নীতির পরিবর্তন ড্রোন, সাইবার ও অসম যুদ্ধ কৌশল প্রধান হয়ে উঠছে ৪. যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সামরিক নেতৃত্বে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা সংঘাতের দিক কোনদিকে? বর্তমান পরিস্থিতি তিনটি সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করছে: নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা – সীমিত হামলা ও পাল্টা হামলা পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ – বহু দেশ জড়িয়ে পড়বে কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ – আন্তর্জাতিক চাপের ফলে উত্তেজনা হ্রাস তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই সংকট এখন আর শুধু ইরান-ইসরায়েল বা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ধীরে ধীরে একটি গ্লোবাল নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
ইরানে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ
ইরানে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ও মানবিক বিপর্যয়

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :    মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন শুধু যুদ্ধবিমানের শব্দ নয়—ভেসে বেড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক আইনের অস্তিত্ব সংকটের প্রশ্নও। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত নতুন করে বিশ্বকে দাঁড় করিয়েছে এক কঠিন বাস্তবতার সামনে: রাষ্ট্রগুলো কি আর আন্তর্জাতিক আইন মানতে বাধ্য বোধ করছে? বিশ্বজুড়ে শতাধিক আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞের স্বাক্ষরিত এক খোলা চিঠি সেই প্রশ্নটিকেই সামনে নিয়ে এসেছে। চিঠিটি প্রকাশিত হয়েছে নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ ল-এর একটি অনলাইন জার্নালে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের জন্য বিপজ্জনক নজির হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। শক্তি প্রয়োগ: আইনের সীমা কোথায়? আন্তর্জাতিক আইনের মূল কাঠামো নির্ধারিত হয়েছে জাতিসংঘ -এর সনদের মাধ্যমে। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা আছে—আত্মরক্ষা বা নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া কোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে পারে না। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের দাবি, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ সেই সীমা অতিক্রম করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে। এখানেই প্রশ্ন ওঠে: এটি কি প্রতিরক্ষা, নাকি আক্রমণ? ‘No Quarter’: যুদ্ধনীতির লঙ্ঘন? মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের  “no quarter” মন্তব্য—অর্থাৎ শত্রুকে কোনো দয়া না দেখানোর আহ্বান—আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সরাসরি পরিপন্থী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি -এর যুদ্ধনীতি অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারী বা আহত যোদ্ধাকে হত্যা করা যুদ্ধাপরাধ। এই নীতির ভিত্তি হলো—যুদ্ধেও মানবতা রক্ষা করতে হবে। মিনাব: একটি স্কুল, একটি ভুল, নাকি যুদ্ধাপরাধ? ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা এই সংঘাতের সবচেয়ে অন্ধকার দিক তুলে ধরে। হামলায় নিহত হয় অন্তত ১৬৮ জন, যার মধ্যে ১১০ জনই শিশু। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পাশের একটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে গিয়ে পুরোনো গোয়েন্দা তথ্যের কারণে ভুলবশত স্কুলটিতে আঘাত হানা হয়। যদি এটি অবহেলার ফল হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আলোকে এটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে—বিশেষ করে যখন বেসামরিক অবকাঠামোকে সুরক্ষার বাধ্যবাধকতা স্পষ্ট। সংখ্যার আড়ালে মানবিক বিপর্যয় এই যুদ্ধ শুধু কৌশলগত নয়—এটি এক গভীর মানবিক সংকট। ইরানে নিহত: ১,৬০৬ জন (২৪৪ শিশু) লেবাননে নিহত: ১,৩৪৫ জন ইসরায়েলে নিহত: ১৯ জন উপসাগরীয় অঞ্চলে নিহত: অন্তত ২৪ জন এই সংখ্যাগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়—প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি গল্প, একটি হারিয়ে যাওয়া ভবিষ্যৎ। জাতিসংঘের মানবিক প্রধান টম ফ্লেচার এই পরিস্থিতিকে “বেপরোয়া” বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, “কোনো এক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক আইনকে যেন পাশ কাটানো হয়েছে।” যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: নিরাপত্তা নাকি কৌশল? হোয়াইট হাউস এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, এই পদক্ষেপগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে মদদ ও নিজ জনগণের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ পুনরায় তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের যুক্তি—যদি আইন লঙ্ঘন করেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়, তবে সেই নিরাপত্তা কতটা টেকসই? আইনের ভবিষ্যৎ: ভেঙে পড়ছে কি বৈশ্বিক কাঠামো? এই সংঘাত শুধু একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ নয়; এটি আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়েও একটি পরীক্ষা। বিশেষজ্ঞদের মধ্যে হ্যারল্ড হংজু কোহ, ওনা এ. হ্যাথাওয়ে এবং জনাথন ট্রেসি-এর মতো ব্যক্তিত্বরা সতর্ক করেছেন—এ ধরনের নজির যদি চলতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো আইনের তোয়াক্কা না করেই সামরিক পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত হবে। শেষ প্রশ্ন যুদ্ধের ময়দানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হতে পারে অস্ত্রের শক্তিতে। কিন্তু ইতিহাস বিচার করে—কোন পক্ষ আইন ও মানবতার পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। এই সংঘাত সেই বিচারের আরেকটি অধ্যায় হয়ে থাকবে। এখন প্রশ্ন একটাই: আন্তর্জাতিক আইন কি শুধু কাগজে থাকবে, নাকি বাস্তবেও তার প্রয়োগ নিশ্চিত হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার হুমকি ইরানের
ইরান যুদ্ধ: ইরানে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য থেকে পিছু হটছে ইসরায়েল, উপসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা,উপসাগরীয় দেশগুলোয় ইরানি হামলার নিন্দা, নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পাস

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন সরকারকে সামরিক শক্তির মাধ্যমে উৎখাত করার লক্ষ্য থেকে ধীরে ধীরে সরে আসছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ব্যাপক বোমা হামলা সত্ত্বেও ইরানের অভ্যন্তরে প্রত্যাশিত গণ-অভ্যুত্থানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পরও ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ অপরিবর্তিত রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের আশা পূরণ হয়নি সংঘাতের শুরুতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, সামরিক চাপ ইরানের জনগণকে তাদের ভাগ্য নিজের হাতে নেওয়ার সুযোগ করে দেবে। তবে সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে তার অবস্থান অনেকটাই নরম হয়েছে। তিনি এখন বলছেন, ইসরায়েলের ভূমিকা কেবল ইরানি জনগণকে “সহায়তা করা”, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য পরিবর্তন আসলে বাস্তবতার প্রতিফলন—যেখানে সামরিক হামলার পরও ইরানে কোনো গণবিদ্রোহ দেখা যায়নি। নতুন নেতৃত্বেও টিকে আছে শাসনব্যবস্থা যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার নিহত হওয়ার পরও দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়েনি। বরং নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনি -এর নেতৃত্বে ক্ষমতার কেন্দ্র দ্রুত পুনর্গঠিত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। যুদ্ধ দ্রুত শেষের ইঙ্গিত ট্রাম্পের মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trumpও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সংঘাত দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ওয়াশিংটন এখনো যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। উপসাগরীয় ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলার “৩৮তম ধাপ” শুরু করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে— কুয়েতের আদিরি হেলিকপ্টার ঘাঁটিতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে আহত শতাধিক মানুষকে আল জাবের ও আল মুবারাক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে কুয়েতের দুটি নৌঘাঁটি ও মার্কিন সেনাদের আবাসন লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে বাহরাইনের মিনা সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে আইআরজিসি বলেছে, শত্রুর “পূর্ণ পরাজয়” না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে। জাতিসংঘে ইরানবিরোধী প্রস্তাব এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। ১৫ সদস্যের মধ্যে ১৩টি দেশ প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয়। তবে Russia ও China ভোটদান থেকে বিরত থাকে। প্রস্তাবে ইরানকে অবিলম্বে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং জর্ডানের ওপর হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ে উদ্বেগ প্রস্তাবে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সমুদ্রপথ— Strait of Hormuz Bab el-Mandeb Strait এগুলোতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে তা বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রাশিয়া ও ইরানের আপত্তি জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত  বলেন, প্রস্তাবটি “অসম ভারসাম্যহীন”, কারণ এতে ইরানের ওপর হামলার বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে। অন্যদিকে জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি প্রস্তাবটিকে “পক্ষপাতদুষ্ট” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, এতে আগ্রাসনকারীদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তেহরানের একটি ব্যাংকে বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাংক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এদিকে বিভিন্ন দেশে হামলার খবর পাওয়া গেছে— দুবাই বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন ভূপাতিত সৌদি আরবের শায়বাহ তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে ড্রোন কাতারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা প্রতিহত ইরাকে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন স্থাপনায় ড্রোন হামলা লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৭০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী, শিশু ও স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছেন। যুদ্ধের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বিশ্লেষকদের মতে, সামরিকভাবে উল্লেখযোগ্য আঘাত হানলেও রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। অন্যদিকে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে— হুমকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ থামানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১২, ২০২৬ 0
মোদি-আম্বানি
জেফরি এপস্টাইন সংক্রান্ত কয়েক লাখ পৃষ্ঠার নতুন নথি ফাঁস,মোদি-আম্বানির মুখোশ উন্মোচন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইন সংক্রান্ত কয়েক লাখ পৃষ্ঠার নতুন নথি ফাঁস হওয়ার পর বিশ্ব রাজনীতিতে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত এই বিপুল নথিতে ভারত, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও স্লোভাকিয়ার মতো দেশগুলোর শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্বদের নাম আসায় রীতিমতো আন্তর্জাতিক শোরগোল পড়ে গেছে। বিশেষ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী অনিল আম্বানির মধ্যকার যোগসূত্র এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে এপস্টাইনের মধ্যস্থতা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রকাশিত নথিগুলো থেকে জানা যায়, ২০০৮ সালে যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও এপস্টাইনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন রিলায়েন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান অনিল আম্বানি। ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার দুই মাস পর অনিল আম্বানি এপস্টাইনকে আইমেসেজের মাধ্যমে জানান, ভারতের শীর্ষ নেতৃত্ব ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের মানুষ যেমন জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ ব্যাননের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে আগ্রহী। সেই বছরই মে মাসে মোদির সম্ভাব্য মার্কিন সফর এবং পরবর্তীতে ইসরায়েল সফরের বিষয়েও আম্বানি ও এপস্টাইনের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ফাঁস হওয়া ইমেইলে দেখা যায়, ২০১৭ সালের ৬ জুলাই নরেন্দ্র মোদির ইসরায়েল সফরের নেপথ্যে এপস্টাইনের পরামর্শ ও প্রভাব কাজ করেছিল। মোদির সেই সফরের পর এপস্টাইন অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তিকে ইমেইলে লিখেছিলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী তার পরামর্শ গ্রহণ করেছেন এবং ট্রাম্পের সুবিধার জন্য ইসরায়েলে গিয়েছেন। তিনি উল্লাসের সঙ্গে দাবি করেন, এই কৌশল পুরোপুরি সফল হয়েছে। এই সফরের পরই ভারত ইসরায়েলের অস্ত্রের বৃহত্তম ক্রেতা হিসেবে আবির্ভূত হয় এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। নথিতে আরও উঠে এসেছে, ২০১৯ সালের ভারতের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদি বিশাল ব্যবধানে জয়ী হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এপস্টাইন এবং ট্রাম্পের সাবেক কৌশলবিদ স্টিভ ব্যাননের মধ্যে কথোপকথন হয়। সেখানে এপস্টাইন জানান, অনিল আম্বানি তার সঙ্গে দেখা করতে আসছেন এবং মোদি সরকার ব্যাননের চীন-বিরোধী দর্শনের প্রতি আস্থাশীল। এমনকি মোদি ও ব্যাননের মধ্যে একটি বৈঠকের আয়োজনের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন এপস্টাইন। যদিও সেই বৈঠক শেষ পর্যন্ত হয়েছিল কি না, তার কোনো দাপ্তরিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই নথিতে মোদির মন্ত্রিসভার বর্তমান সদস্য হরদীপ সিং পুরীর নামও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। সাবেক এই কূটনীতিবিদের সঙ্গে ২০১৪ সাল থেকেই এপস্টাইনের ইমেইল চালাচালি ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। লিংকড-ইনের প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যানকে ভারতে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করার বিষয়ে পুরী ও এপস্টাইন নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। নথিপত্র অনুযায়ী, নিউইয়র্কে এপস্টাইনের বিলাসবহুল বাড়িতে কমপক্ষে তিনবার বৈঠক করেছিলেন হরদীপ সিং পুরী। অবশ্য এই খবর প্রকাশের পর পুরী ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এপস্টাইনের সঙ্গে তার সমস্ত আলাপচারিতা ছিল একান্তই ব্যবসায়িক ও পেশাদার পর্যায়ের। একজন দণ্ডিত যৌন অপরাধীর সঙ্গে বিশ্বনেতাদের এমন ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত আলোচনা নৈতিকভাবে বড় প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে মোদি সরকারের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ কিছু মোড় পরিবর্তনের পেছনে এপস্টাইনের মতো বিতর্কিত ব্যক্তির প্রভাবের ইঙ্গিত আসায় ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এখন পর্যন্ত ভারতীয় সরকারের পক্ষ থেকে এই নথির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে বিরোধী শিবির ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই তথ্যের গভীরতা নিয়ে নতুন করে বিচার-বিশ্লেষণ শুরু করেছেন। সূত্র: আল জাজিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0