ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : টানা ভারী বর্ষণ, উজানের ঢল এবং পাহাড়ধসের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মধ্যে রাঙামাটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা বাড়তে থাকায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকে সব ধরনের পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্ত কেবল একটি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের প্রশাসনিক ঘোষণা নয়; বরং দেশের পাহাড়ি অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান জলবায়ুজনিত দুর্যোগের বাস্তব চিত্রও তুলে ধরছে। পাহাড়ধসের আশঙ্কা কেন এত বেড়েছে? জেলা প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস এবং রাঙামাটিতে কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের উচ্চঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে— সাজেক ভ্যালির সব পর্যটনকেন্দ্র সব ঝর্ণা পাহাড়ি ট্রেইল দুর্গম এলাকা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পর্যটন স্পট প্রশাসন জানিয়েছে, পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা, ট্যুর অপারেটরসহ কারও প্রবেশ আপাতত অনুমোদিত নয়। শুধু সাজেক নয়, দেশের ১৭ জেলা বন্যার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টি এবং ভারতের উজানের ঢলের কারণে দেশের অন্তত ১৭ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী চার দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে— চট্টগ্রাম সিলেট ময়মনসিংহ রংপুর বিভাগে একই সঙ্গে ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গেও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। কোন কোন নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁতে পারে? বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে— উত্তর-পূর্বাঞ্চল সুরমা কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল দ্রুত পানি বাড়ছে— গোমতী মুহুরী ফেনী সিলোনিয়া হালদা সাঙ্গু মাতামুহুরী এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে— বান্দরবান কক্সবাজার ফেনী চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি নোয়াখালী লক্ষ্মীপুর উত্তরাঞ্চল আগামী ২৪–৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী ও লালমনিরহাটে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বান্দরবানে ৩০ হাজার পরিবার পাহাড়ধসের উচ্চঝুঁকিতে বর্তমানে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বান্দরবানে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী— সাত উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১২০টি আশ্রয়কেন্দ্র। মোতায়েন রয়েছে আটটি মেডিক্যাল টিম। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলছে মাইকিং। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় থানচি, রুমা, লামা ও আলীকদমে বন্যার আশঙ্কাও বাড়ছে। রুমার কেওক্রাডং এলাকায় ৫০ জনের বেশি পর্যটক আটকা পড়লেও থানচি ও রেমাক্রি থেকে পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত জেলার সব পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। কক্সবাজারে বাড়ছে প্রাণহানি, প্লাবিত ৩৩ ইউনিয়ন টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের নয়টি উপজেলার অন্তত ৩৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়েছে শত শত পরিবার। দুই দিনে পাহাড়ধসে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। প্রশাসনের তথ্যমতে— এক হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। টেকনাফ–সেন্ট মার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ। টানা পাঁচ দিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সেন্ট মার্টিনে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কুতুবদিয়ায় একটি সেতু ভেঙে স্থানীয় যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। রোহিঙ্গা শিবিরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর তথ্য অনুযায়ী— নিহত ১০ জন আহত ১০ জন ক্ষতিগ্রস্ত ১৫,৮১৩ জন বাস্তুচ্যুত ৩,১৮২ জন এ ছাড়া রেকর্ড করা হয়েছে— ৫২টি পাহাড়ধস ১৪টি বন্যা ৮৩টি ঝড়সংক্রান্ত ঘটনা মানবিক সংস্থাগুলো জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রামে রেকর্ড বৃষ্টি, বিমান ও রেল চলাচলে বিঘ্ন গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৩০.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর ফলে— নগরের বহু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। তীব্র জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। রেললাইন ডুবে যাওয়ায় কক্সবাজারগামী ট্যুরিস্ট এক্সপ্রেস কয়েক ঘণ্টা আটকা পড়ে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ঢাকায় ডাইভার্ট করা হয়। একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চট্টগ্রামে নামতে না পেরে ঢাকায় ফিরে যায়। বর্তমানে বিমানবন্দরে ঘণ্টায় ৮০–৯০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছে। রাঙামাটিতেও প্রাণহানি রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে পাহাড়ধসে উপড়ে পড়া গাছের নিচে চাপা পড়ে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। কাপ্তাইয়ে পাহাড়ধস ও গাছ পড়ে সাময়িকভাবে চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হলেও প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর কী বলছে? আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি লঘুচাপের প্রভাবে আগামী ৭২ ঘণ্টায়— চট্টগ্রাম ঢাকা রাজশাহী খুলনা বরিশাল সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। জলবায়ুজনিত দুর্যোগ কি নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠছে? সাজেক বন্ধের সিদ্ধান্ত বিচ্ছিন্ন কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়। একই সময়ে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার এবং চট্টগ্রামে একযোগে পাহাড়ধস, বন্যা, সড়ক বিচ্ছিন্নতা, পর্যটন স্থগিত, নদীর পানি বৃদ্ধি এবং প্রাণহানির ঘটনা একটি বড় জলবায়ুগত সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, পাহাড় কাটা, বন উজাড় এবং অপরিকল্পিত বসতি বিস্তারের কারণে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি আরও বাড়ছে। ফলে কেবল জরুরি উদ্ধার নয়, দীর্ঘমেয়াদি ভূমি ব্যবস্থাপনা, পাহাড় সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় একটি ভাড়া বাসা থেকে আসমা আক্তার নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নিহত আসমা আক্তার পূর্ব বালিগাও জামে মসজিদের ইমাম মুহসিন উদ্দিনের স্ত্রী। ঘটনার পর থেকে তাদের একমাত্র শিশু কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে ইমাম মুহসিন উদ্দিনের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। সোমবার (৬ জুলাই) রাত প্রায় ৮টার দিকে উপজেলার পূর্ব বালিগাও এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে টঙ্গিবাড়ী থানা পুলিশ। কীভাবে সামনে আসে ঘটনাটি? স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ইমাম মুহসিন উদ্দিন বাড়ির মালিককে ফোন করে জানান, তার স্ত্রী ঘরের ভেতরে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে পারেন। বাড়ির মালিক বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতরে আসমা আক্তারকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে আসমা আক্তারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি তদন্তকারী সংস্থা। স্থানীয়দের তথ্য কী বলছে? স্থানীয় বাসিন্দা কুরবান আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, মুহসিন উদ্দিনের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে নয়। তিনি প্রায় দুই বছর ধরে পূর্ব বালিগাও জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পূর্ব বালিগাও গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম খানের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ঘটনার সময় বাড়ির মালিক ঢাকায় অবস্থান করছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পুলিশের বক্তব্য টঙ্গিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহম্মেদ বলেন, ভাড়া বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তার ভাষ্য, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ওসি আরও জানান, ঘটনার পর নিহতের স্বামী তাদের শিশু কন্যাকে নিয়ে চলে যাওয়ায় এখন পর্যন্ত তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে তার বক্তব্যও এখনো নেওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে যেসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীদের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে— আসমা আক্তারের মৃত্যু আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে? ইমাম মুহসিন উদ্দিন কেন বাড়ির মালিককে ফোন করে স্ত্রীর মৃত্যুর কথা জানান? ফোন করার পর তিনি কোথায় গেছেন এবং কেন শিশু কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন? ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে কী তথ্য উঠে আসে? ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ তদন্তে কী নতুন তথ্য যোগ করে? এসব প্রশ্নের উত্তর মিললেই ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে। এখন পর্যন্ত যা নিশ্চিত আসমা আক্তারের মরদেহ টঙ্গিবাড়ীর একটি ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী মুহসিন উদ্দিন শিশু কন্যাসহ নিখোঁজ রয়েছেন। এখনো তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলমান এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কী ঘটেছিল? ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে সিজান (২৫) নামে এক যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় অনিক নামে আরেক তরুণ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনিবার (৪ জুলাই) রাতে পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। নিহত সিজান পশ্চিম মাসদাইর এলাকার বাসিন্দা ইউনুছ ওরফে ইন্নু মিয়ার ছেলে। স্থানীয়দের বক্তব্য: সামাজিক উদ্যোগ নাকি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া? স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সম্প্রতি এলাকার একটি মসজিদের ইমাম কাউছারের উদ্যোগে ৩০ থেকে ৪০ সদস্যের একটি সামাজিক সংগঠন গড়ে ওঠে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংগঠনটি এলাকায় অপরাধ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কাজ করে। তাদের দাবি, সেই কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই সিজানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থলে ঠিক কী ঘটেছিল, কারা মারধরে অংশ নিয়েছিল এবং কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিবারের অভিযোগ নিহতের বাবা ইন্নু মিয়া অভিযোগ করেন, মসজিদের ইমাম কাউছারের নেতৃত্বে একদল কিশোর ও যুবক তার ছেলেকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। তার অভিযোগ অনুযায়ী, পরে মাসদাইর মোড়ে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে সিজানকে বেঁধে পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তার ডান পা ভেঙে যায় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। ইন্নু মিয়ার দাবি, পরে ইমাম কাউছার সিজানের হাতের বাঁধন খুলে দিয়ে তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে বলেন। দ্রুত খানপুর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ইমাম কাউছারের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে মসজিদের ইমাম কাউছার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার ভাষ্য, "সিজানের বিরুদ্ধে ছিনতাইসহ একাধিক অভিযোগ ছিল। তাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়, বরং খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে বোঝানোর উদ্দেশ্যে বাসা থেকে আনা হয়েছিল। তবে সেখানে উপস্থিত কিছু উত্তেজিত ব্যক্তি তাকে মারধর করেন।" তিনি আরও দাবি করেন, যারা মারধরে অংশ নিয়েছেন তারা তার সংগঠনের সদস্য নন। পুলিশের তদন্ত ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনো বাকি ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— সিজানকে কোন আইনি ক্ষমতায় বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল? কথিত সামাজিক সংগঠনের সদস্যদের ভূমিকা কী ছিল? মারধরে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা কারা? ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যরা কেন হামলা ঠেকাতে পারেননি? আহত অনিক কীভাবে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হলেন? ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কী উঠে আসে? এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আরও পরিষ্কার হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-মেয়েসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাতে ফেনী-বিলোনিয়া আঞ্চলিক সড়কের ফুলগাজী উপজেলা পরিষদসংলগ্ন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, প্রত্যক্ষদর্শী এবং নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফেনী শহর থেকে যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ফুলগাজীর দিকে যাচ্ছিল। পথে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে চালকসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাঁদের ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোহাম্মদ কাউছার (৩২) ও ওয়াহিদা আক্তার (২০)-কে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর তিনজনকে সংকটাপন্ন অবস্থায় ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলে পথেই মারা যান ওয়াহিদা আক্তারের মা জাকিয়া আক্তার (৪০)। নিহতরা কারা? নিহত মোহাম্মদ কাউছার ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর দৌলতপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। নিহত ওয়াহিদা আক্তার ছাগলনাইয়া উপজেলার পশ্চিম পাঠাননগরের কাজীবাড়ি এলাকার ইতালি প্রবাসী কাজী হায়াতের স্ত্রী। অপর নিহত জাকিয়া আক্তার ফুলগাজী উপজেলার বাসিন্দা এবং সোহেল মজুমদারের স্ত্রী। 'অসুস্থ আত্মীয়কে দেখে ফেরার পথেই মৃত্যু' জাকিয়া আক্তারের ভগ্নিপতি মিজানুর রহমান জানান, সকালে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে অসুস্থ এক আত্মীয়কে দেখতে পাশের দৌলতপুর গ্রামে গিয়েছিলেন জাকিয়া আক্তার। সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ঘটনাস্থলেই কার্যত পরিবারের সবকিছু বদলে যায়। তিনি বলেন, "একসঙ্গে মা ও মেয়ের মৃত্যু আমাদের পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।" হাসপাতালের বক্তব্য ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম কিবরিয়া বলেন, দুর্ঘটনার পর পাঁচজন আহতকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান। বাকি তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পথেই আরও একজনের মৃত্যু হয়। পুলিশের অবস্থান ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশা ও পিকআপ জব্দ করা হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে। দুর্ঘটনা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো সামনে আসছে এই দুর্ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— পিকআপ ও অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ কী? কোনো যানবাহন অতিরিক্ত গতিতে চলছিল কি না। সংশ্লিষ্ট সড়কে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না। চালকদের লাইসেন্স, ফিটনেস ও যানবাহনের কারিগরি অবস্থা তদন্তে উঠে আসে কি না। তদন্ত শেষে এসব প্রশ্নের উত্তর মিললে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইউটিউবভিত্তিক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মানবজমিন সম্পাদক দাবি করেন, গণভবন ছাড়ার তাড়াহুড়োয় আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়নি পদত্যাগপত্র; সেটি শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ব্যাগেই থেকে যায়। ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছাড়ার প্রাক্কালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন পৃষ্ঠার একটি পদত্যাগপত্র লিখেছিলেন এবং দেশ ছাড়ার সময় সেটি নিজের সঙ্গে নিয়ে যান—এমন দাবি করেছেন প্রবীণ সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী। রোববার (৩১ মে) ইউটিউবভিত্তিক সংবাদ প্ল্যাটফর্ম ‘দ্য পোস্ট’-এ প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। তবে এই দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমানে তা একটি প্রত্যক্ষদর্শী-ভিত্তিক দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। কী দাবি করা হয়েছে? মতিউর রহমান চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা দেশত্যাগের আগে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি তিন পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত পদত্যাগপত্র প্রস্তুত করেন। সেই চিঠিতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, রাষ্ট্র পরিচালনায় নেওয়া পদক্ষেপ এবং উদ্ভূত রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, চিঠিটি আনুষ্ঠানিকভাবে টাইপ করার দায়িত্ব বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) এক কর্মকর্তার ওপর দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু গণভবনের বাইরে দ্রুত অবনতিশীল পরিস্থিতির কারণে সেটি আর চূড়ান্ত রূপ পায়নি। শেষ মুহূর্তে কী ঘটেছিল? সাক্ষাৎকারে তুলে ধরা বিবরণ অনুযায়ী, ৫ আগস্ট দুপুরের দিকে গণভবনের চারপাশে বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী অবস্থান নিতে শুরু করলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। সে সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনা কর্মকর্তারা ওয়াকিটকির মাধ্যমে বারবার সতর্কবার্তা পাঠাচ্ছিলেন বলে দাবি করেন মতিউর রহমান চৌধুরী। তার ভাষ্যমতে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা শেখ হাসিনাকে দ্রুত গণভবন ত্যাগের পরামর্শ দেন এবং জানান যে সেখানে অবস্থানের জন্য আর সময় নেই। এই তাড়াহুড়োর মধ্যেই শেখ হাসিনা তাঁর ব্যক্তিগত ভ্যানিটি ব্যাগ একটি চেয়ারের ওপর ফেলে বেরিয়ে যান বলে তিনি দাবি করেন। পরে গাড়িতে ওঠার আগে ব্যাগটির কথা মনে পড়লে একজন ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে সেটি এনে দেওয়ার নির্দেশ দেন। মতিউর রহমান চৌধুরীর দাবি, ওই ব্যাগের ভেতরেই সংরক্ষিত ছিল তিন পৃষ্ঠার সেই পদত্যাগপত্র। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই দাবি? বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে শেখ হাসিনার ক্ষমতা ত্যাগের প্রক্রিয়া অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয়। বিশেষ করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছিলেন কি না, করলে কখন এবং কীভাবে করেছিলেন—এ প্রশ্ন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। যদি এমন কোনো পদত্যাগপত্র বাস্তবেই থেকে থাকে, তবে সেটি ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, সাংবিধানিক বিতর্ক এবং ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো নথির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেনি। যা জানা জরুরি এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য মূলত মতিউর রহমান চৌধুরীর সাক্ষাৎকারে দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলোর স্বাধীন ও প্রামাণ্য যাচাই এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য কিংবা আনুষ্ঠানিক তদন্তের তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।
অনলাইন নিউজের উত্থান ও জনপ্রিয়তার পেছনের কারণগুলো - দ্রুততা, প্রযুক্তি ও পাঠক অংশগ্রহণে নতুন যুগের সংবাদমাধ্যম। বর্তমান সময়ে অনলাইন নিউজ প্ল্যাটফর্মগুলো দ্রুতগতিতে মানুষের প্রধান তথ্যসূত্রে পরিণত হচ্ছে। প্রথাগত সংবাদমাধ্যমের তুলনায় অনলাইন মাধ্যমের দ্রুততা, সহজলভ্যতা এবং বহুমাত্রিক কনটেন্ট উপস্থাপনার কারণে এর জনপ্রিয়তা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নব্বইয়ের দশকে বিশ্বব্যাপী অনলাইন সংবাদপত্রের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে বাংলাদেশসহ প্রায় সব দেশেই সংবাদমাধ্যমগুলোর ডিজিটাল সংস্করণ ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদপত্রগুলোও এই পরিবর্তনের বাইরে নয়। প্রায় সব প্রধান সংবাদমাধ্যমই এখন অনলাইন সংস্করণে সক্রিয়, যেখানে পাঠকরা মুহূর্তের মধ্যে সর্বশেষ খবর জানতে পারছেন। তাৎক্ষণিক আপডেট ও সহজলভ্যতা অনলাইন সংবাদপত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দ্রুত তথ্য সরবরাহের সক্ষমতা। ব্রেকিং নিউজ, ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি আপডেট এবং লাইভ রিপোর্টিংয়ের কারণে প্রিন্ট মিডিয়ার তুলনায় অনলাইন মাধ্যম অনেক বেশি গতিশীল। ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে যেকোনো স্থান থেকে, যেকোনো সময় সংবাদ পড়া সম্ভব হচ্ছে। অধিকাংশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিনামূল্যে কনটেন্ট সরবরাহ করে, যা পাঠকদের জন্য এটিকে আরও সহজলভ্য করে তুলেছে। প্রযুক্তি ও এআইয়ের প্রভাব বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক কনটেন্ট ডেলিভারি অনলাইন নিউজকে আরও উন্নত করেছে। ব্যবহারকারীর আগ্রহ ও আচরণ বিশ্লেষণ করে সংবাদ উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা পাঠকের জন্য কনটেন্টকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলছে। আস্থা ও স্বচ্ছতার চ্যালেঞ্জ অনলাইন সংবাদমাধ্যম দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নির্ভুলতা ও বস্তুনিষ্ঠতার চ্যালেঞ্জ। তথ্যের উৎসের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অনেক সময় গুজব বা ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এ কারণে সংবাদ যাচাই, মনিটরিং এবং স্বচ্ছ সম্পাদকীয় প্রক্রিয়া এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মাল্টিমিডিয়া ও ইন্টারঅ্যাকটিভ কনটেন্ট অনলাইন সংবাদপত্র এখন শুধু লেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভিডিও, অডিও, লাইভ স্ট্রিমিং এবং ইনফোগ্রাফিক্সের মাধ্যমে সংবাদ উপস্থাপন পাঠকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এছাড়া পাঠকরা এখন সরাসরি মন্তব্য, ভোটিং এবং মতামত প্রদানের সুযোগ পাচ্ছেন, যা সংবাদমাধ্যম ও পাঠকের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা ফেসবুক, এক্স (টুইটার), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্ম অনলাইন সংবাদ প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব মাধ্যমে সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বৃহৎ পাঠকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে যায়। নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশে অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোর নিবন্ধন ও নীতিমালা নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। উদ্দেশ্য হলো সংবাদ পরিবেশনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা। সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রযুক্তির অগ্রগতি, দ্রুত তথ্যপ্রবাহ, সহজলভ্যতা এবং পাঠকের সক্রিয় অংশগ্রহণ—এই সব মিলিয়ে অনলাইন নিউজ আজ আধুনিক সংবাদ জগতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই মাধ্যম আরও বিস্তৃত ও প্রভাবশালী হয়ে উঠছে।
বরিশাল অফিস : বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ'র অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ভাস্কর সাহাকে ঘিরে অর্থ পাচার, অবৈধ সম্পদ গঠন এবং সম্ভাব্য দেশত্যাগের পরিকল্পনা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তার একটি মেডিকেল ভিসার আবেদনকে কেন্দ্র করে নতুন করে এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি এখন নজরে এসেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর।ফলে তিনি রয়েছেন এখন গোয়েন্দা নজরদারীতে। অভিযোগের প্রেক্ষাপট বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, ডা. সাহার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছেন। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, বাংলাদেশ থেকে অনানুষ্ঠানিক চ্যানেল—বিশেষ করে হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে তিনি জড়িত । বাংলাদেশে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে অর্থ স্থানান্তর গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। গোয়েন্দা নজরদারি সংবাদ প্রকাশের পর দেশের একটি শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি নজরদারিতে নিয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ডা. সাহার আর্থিক লেনদেন, সম্পদ গঠন এবং বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের সম্ভাব্য পথগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, একটি শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা ইতোমধ্যে বিষয়টি নজরদারিতে নিয়েছে এবং ডা. সাহার আর্থিক লেনদেন ও সম্পদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। ঐ গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান,ডা. ভাস্কর সাহার ব্যাপারে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরে খোজখবর নেয়া শুরু করা হয়েছে।তিনি বলেন,অর্থ পাচার,হুন্ডির ব্যাপারে ইতিমধ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।আসা করি পুরো প্রক্রিয়ার তদন্ত করতে আরো সময় লাগবে। মেডিকেল ভিসা নিয়ে প্রশ্ন ডা. সাহার সাম্প্রতিক মেডিকেল ভিসা আবেদন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করছেন, এটি দেশত্যাগের সম্ভাব্য প্রস্তুতির অংশ হতে পারে। প্রতিক্রিয়া ও অবস্থান এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে ডা. ভাস্কর সাহার সরাসরি প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকরা তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা হবে। সচেতন মহল ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতি নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এই মুহূর্তে কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করা জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে—ভিসা আবেদন ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য পর্যবেক্ষণ, তার আর্থিক লেনদেনের উৎস অনুসন্ধান, ব্যাংক হিসাবের তথ্য যাচাই, দেশে ও বিদেশে সম্পদের প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ এবং প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে, যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে তা আইনের আওতায় আনা জরুরি। ডা. ভাস্কর সাহাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন । বিষয়টি নিয়ে জনমনে আগ্রহ বাড়লেও, তদন্তের অগ্রগতি পরিস্থিতিকে আরও পরিষ্কার করতে পারে।
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও প্রায় ২০০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা দায়েরের সময় নিহতের আরও দুই ভাই থানায় উপস্থিত ছিলেন। মামলার এজাহারে উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা কাঠমিস্ত্রি রাজীব দফাদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া এজাহারভুক্ত চারজনসহ মোট ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, “এজাহারভুক্ত চারজনসহ অজ্ঞাত আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” ঘটনার পর থেকে ফিলিপনগর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে গত শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় ‘কালান্দার বাবা শ্রী শামীম জাহাঙ্গীর দরবার শরীফে’ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীদের অভিযোগ ছিল, ওই আস্তানায় ইসলাম ধর্ম বিকৃতি করা হচ্ছিল। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ একটি দল দরবারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এ সময় হামলাকারীদের আঘাতে গুরুতর আহত হন পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীর। পরে তিনি মারা যান। রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আস্তানার পাশের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে পীর আবদুর রহমান ওরফে ‘শামীম বাবা’কে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটনার কয়েকদিন পার হলেও এখনো কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি, এমনকি কোনো মামলা পর্যন্ত দায়ের হয়নি—যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে। রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে জানাজা শেষে তাকে উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্তে নৃশংসতার চিত্র হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, নিহতের মুখমণ্ডলে ১৫ থেকে ১৮টি কোপের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া মাথা, ঘাড় ও পিঠে গভীর জখম ছিল। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই মৃত্যুর প্রধান কারণ। ঘটনার সূত্রপাত: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, একটি ৩৬ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই উত্তেজনা তৈরি হয়। শুক্রবার রাত থেকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ভিডিওটি শেয়ার হতে থাকে এবং শনিবার সকাল নাগাদ তা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, অন্তত সাতটি আইডি থেকে ভিডিওটি প্রচার করা হয়—যার মধ্যে কিছু পেজ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এর একটি ‘সত্যের সন্ধানে ফিলিপনগর’ নামে পেজ বলে জানা গেছে। হামলা: পূর্বপরিকল্পিত নাকি আকস্মিক উত্তেজনা? শনিবার দুপুরের দিকে শতাধিক লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে দরবারে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলাকারীরা স্লোগান দিতে দিতে দরবারে ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এরপর শামীমকে তার কক্ষ থেকে টেনে বের করে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “সকালে স্থানীয় এক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তিনি সম্ভাব্য বৈঠকের কথা বললেও দরবারে কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান। কিন্তু পরে ঘটনাপ্রবাহ দেখে মনে হয়েছে, হামলাটি সংগঠিত ছিল।” এই বক্তব্য থেকে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—স্থানীয় পর্যায়ে কোনো পরিকল্পনার তথ্য কি আগে থেকেই ছিল, যা যথাযথভাবে গুরুত্ব পায়নি? পুলিশের অবস্থান: শনাক্ত হলেও গ্রেফতার নয় দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলায় জড়িত ১৫ থেকে ১৮ জনকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ভিডিও প্রচারকারী কয়েকটি আইডির অ্যাডমিনের পরিচয়ও পাওয়া গেছে। তবে এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, “ভিডিও দেখে জড়িতদের শনাক্ত করতে একাধিক টিম কাজ করছে। নিশ্চিত হয়ে আইনের আওতায় আনা হবে।” মামলা হয়নি কেন? নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। পরিবারের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি নিরাপদ নয়। নিহতের বড় ভাই বলেন, “পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা মামলা করবো।” আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকেও মামলা দায়েরের সুযোগ রয়েছে, যা এখনো হয়নি। নিরাপত্তা জোরদার, তবে আতঙ্ক কাটেনি ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি ‘নিয়ন্ত্রণে’ বলা হলেও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক রয়ে গেছে। এমনকি পাশের গ্রামের লালনশিল্পী বাউল শফি মণ্ডলের বাড়িতেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। পটভূমি: বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও পূর্বের গ্রেফতার আবদুর রহমান ওরফে শামীম নিজেকে ‘সংস্কারপন্থি ইমাম’ হিসেবে পরিচয় দিতেন। ২০১৮ সালে নিজের দরবার প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২১ সালে একটি শিশুর দাফনকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও তাকে আলোচনায় আনে। ওই বছরই ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। প্রশ্নগুলো রয়ে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওটি কতটা সত্য ছিল? স্থানীয় পর্যায়ে কোনো পরিকল্পিত উসকানি ছিল কি? পুলিশ আগাম তথ্য পেয়েও কেন হামলা ঠেকাতে পারেনি? শনাক্ত হওয়ার পরও অভিযুক্তরা গ্রেফতার হচ্ছে না কেন? কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের এই ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়; এটি সামাজিক উত্তেজনা, গুজবের প্রভাব এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তের অগ্রগতি ও দায়ীদের বিচারের মধ্য দিয়েই এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ভারতের বিহারের আরারিয়া জেলার ফরবিসগঞ্জে পার্কিং নিয়ে সামান্য এক বিবাদকে কেন্দ্র করে ঘটে গেল চরম নৃশংসতা। বিবাদের জেরে এক পিকআপ ভ্যান চালককে কুপিয়ে শিরশ্ছেদ করার অভিযোগ উঠল এক হকারের বিরুদ্ধে। এর কিছুক্ষণ পরই উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে ধরে গণপিটুনি দিলে তারও মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবারের এই জোড়া খুনের ঘটনায় গোটা এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত চালকের নাম আলি হুসেন। তিনি যোগবনীর বাসিন্দা। ফরবিসগঞ্জ শহরে গাড়ি পার্কিং করা নিয়ে স্থানীয় এক রাস্তার ধারের বিক্রেতা রবি চৌহানের সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সামান্য বচসা দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়। রাগের মাথায় রবি চৌহান একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আলিকে আক্রমণ করেন এবং সবার সামনে তাঁর শিরশ্ছেদ করেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, "ঘটনার পর রবি বিচ্ছিন্ন মাথাটি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। মানুষ আতঙ্কে দিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল, অনেকেই এগিয়ে না এসে ভিডিও করতে ব্যস্ত ছিল।" এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের আত্মীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা অভিযুক্ত রবি চৌহানকে তাঁর বাড়ির কাছ থেকে খুঁজে বের করেন। উত্তেজিত জনতা রবিকে টেনে-হিঁচড়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে এবং লাঠি ও রড দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করে। পুলিশের উপস্থিতিতেই উন্মত্ত জনতার মারে মৃত্যু হয় অভিযুক্ত রবির। জোড়া খুনের ঘটনায় ফরবিসগঞ্জ জুড়ে দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি হয়। উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি করে এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে। মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য আসা একটি অ্যাম্বুল্যান্স ভাঙচুর করা হয়। এমনকি ফরবিসগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালেও হামলা চালায় উত্তেজিত জনতা, যার ফলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রাণভয়ে পালিয়ে যান। আতঙ্কে শহরের সমস্ত দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরারিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) জিতেন্দ্র কুমার বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স।পুলিশ সুপার বলেন, "আমরা দুটি ঘটনারই তদন্ত শুরু করেছি। যারা এই হত্যাকাণ্ড এবং ভাঙচুরের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় নিয়মিত টহল দেওয়া হচ্ছে।" বর্তমানে ফরবিসগঞ্জের পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও পুলিশি নজরদারিতে তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। এই ঘটনায় সাম্প্রদায়িক বা গোষ্ঠী সংঘর্ষের আশঙ্কা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাত তখন প্রায় সাড়ে ১১টা। দিনের শেষ ফ্লাইটও ছেড়ে গেছে। ঠিক সেই সময় হঠাৎ করে ধোঁয়া দেখা যায় সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর ইমিগ্রেশন সার্ভার রুম থেকে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি রূপ নেয় অগ্নিকাণ্ডে—যা বড় ধরনের বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারত, যদি ঘটনাটি ঘটত ব্যস্ত সময়ে। সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সার্ভার রুমে আগুন লেগেছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ উদ্দিন আহমদ। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে আগুন লাগার খবর পেয়ে দুটি ইউনিট পাঠানোর তথ্য দেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিদর্শক যিশু তালুকদার। কীভাবে শুরু হলো আগুন? বিমানবন্দর সূত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগুনের সূত্রপাত হয় এরাইভাল ইমিগ্রেশন বিভাগের সার্ভার রুমে, যা কাস্টমস ভবনের উপরের তলায় অবস্থিত। হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত সাড়ে ১২টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও সার্ভার রুমজুড়ে ঘন ধোঁয়া রয়ে যায়, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতার ইঙ্গিত দেয়। কোনো ফ্লাইটের ব্যাঘাত হয়নি বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিক আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনও ধোঁয়া রয়েছে। রোববারের মত সব ফ্লাইট শেষ হওয়ার পরই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফলে ফ্লাইটের কোনো ব্যাঘাত হয়নি। এয়ারপোর্ট থানার ওসি সহিদুর রহমান বলেন, রাত সাড়ে ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন কাজ করছেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা যিশু তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে পারেননি। সিলেট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার কুতুব উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এরাইভাল ইমিগ্রেশনের (কাস্টমসের উপরের তলা) সার্ভার রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার সাইফুল ইসলাম জানান, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন সার্ভার রুমে আগুনের সূত্রপাত হয়।খবর পেয়ে মহানগর পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।ফায়ার সার্ভিসের দুটি টিম অগ্নি নির্বাপনে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে বেশ কয়েকটি এসি পুড়ে যায় ও প্রচুর ধোঁয়া সৃষ্টি হয়। ঝুঁকির মাত্রা কতটা ছিল? সার্ভার রুম সাধারণ কোনো কক্ষ নয়—এখানে সংরক্ষিত থাকে বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ডাটা, ইমিগ্রেশন সিস্টেম, যাত্রী তথ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ডিজিটাল অবকাঠামো। এই ধরনের স্থানে আগুন লাগা মানে শুধু অবকাঠামোগত ক্ষতি নয়, বরং পুরো অপারেশনাল সিস্টেম ভেঙে পড়ার আশঙ্কা। যদিও বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, “সব ফ্লাইট শেষ হওয়ার পরই আগুন লাগে, তাই কোনো ফ্লাইটে ব্যাঘাত ঘটেনি,”—তবুও প্রশ্ন থেকেই যায়: যদি এই ঘটনা পিক আওয়ারে ঘটত? ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে— আগুনে কয়েকটি এসি পুড়ে গেছে সার্ভার রুমে ব্যাপক ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছে সংবেদনশীল যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির ধারণা করা হচ্ছে, যদিও তদন্ত ছাড়া চূড়ান্ত পরিমাণ নির্ধারণ সম্ভব নয়। তদন্তে কী উঠে আসতে পারে? ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা এখনো আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে— বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট সার্ভার বা কুলিং সিস্টেমের ত্রুটি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এখন মূল প্রশ্ন হচ্ছে: সার্ভার রুমে কি যথাযথ ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা ছিল? আগুন প্রতিরোধে অটোমেটেড সিস্টেম (যেমন গ্যাস-ভিত্তিক ফায়ার সাপ্রেশন) সক্রিয় ছিল কি? নিয়মিত নিরাপত্তা অডিট করা হচ্ছিল কি না? নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ফাঁকফোকর? বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরের সার্ভার রুমে সাধারণত উন্নত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিং থাকা বাধ্যতামূলক। এই ঘটনায় যদি দেখা যায় যে এসব ব্যবস্থায় ঘাটতি ছিল, তাহলে তা বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত দেবে। সামনে কী? বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রপাতি ও সার্ভার রুমের অবস্থা যাচাই করা হচ্ছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনাটি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই অগ্নিকাণ্ডে তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও এটি স্পষ্ট করেছে—দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে। সময়মতো আগুন লাগা (ফ্লাইট শেষে) বড় বিপর্যয় ঠেকিয়েছে, কিন্তু এটি একই সঙ্গে একটি সতর্কবার্তাও—নিরাপত্তা ব্যবস্থার যেকোনো দুর্বলতা ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
ঝালকাঠি: ঝালকাঠির সুতালড়ি এলাকায় ফেসবুক লাইভে পিতা ও দুই ছেলের বিষপান- ফেসবুক লাইভে পিতা বিষপান করে দুই পুত্রকেও বিষ পান করিয়েছে। লাইভে সে তার বন্ধুর সাগরকে মেনশন করে বলে “সাগর তুই তোর নিজের স্বার্থের জন্য সব করতে পারলি। নিজে প্রতিষ্ঠিত হলি। আমাদের তুই কোন খোঁজ রাখনি। দুঃখে কষ্টে আমি চলে গেলাম। শান্তির পৃথিবীতে তুই একাই থাক, শান্তি করে দিলাম। আমরা সবাই চলে গেলাম।” ঝালকাঠির শহরের সুতালড়ি এলাকায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাকিব নিজ ঘরেই এঘটনা ঘটিয়েছে। প্রতিবেশীরা তাঁদের উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নেয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদেরকে বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে প্রেরণ করে। এসময় রাকিবের স্ত্রী ঘরে ছিলেন না। রোগী বহনকারী রাকিবের প্রতিবেশী ও সম্পর্কে চাচা জুয়েল জানান, আমরা সন্ধ্যায় (মাগরিবের পূর্ব মুহুর্তে) রাকিবের ঘরের মধ্যে চিৎকারের শব্দ পেয়ে দৌড়ে গিয়ে দেখি রাকিব, তার পুত্র নিবীড় ও আবির তিনজনেই ছটফট করতেছে। বিষ’র গন্ধ পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে অন্যান্য প্রতিবেশীদের সহায়তায় ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি। বর্তমানে ওরা তিনজনেই চিকিৎসাধীন আছে। তিনি আরো বলেন, ফেসবুক লাইভে রাকিব যে সাগরের নাম উল্লেখ করেছে সে নামে ওর ঘণিষ্ঠ এমন কাউকে চিনি না। সাগর নামের কোন ব্যক্তিকে রাকিবের সাথে চলাফেরা করতেও দেখিনি। নলছিটি থানার ওসি আরিফুল আলম বলেন, আমরা বিষয়টি শুনেছি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গাজার কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ঈদের দিন সন্তানকে কাঁধে নিয়ে মিষ্টি কিনতে বের হওয়া এক তরুণকে আটক করার পর তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে তার ২১ মাস বয়সী শিশুকে পরে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে—যার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নিখোঁজ ওই তরুণের নাম ওসামা আবু নাসের (২৫)। তার শিশুপুত্র জাওয়াদ আবু নাসারকে গত ১৯ মার্চ গাজার কেন্দ্রীয় এলাকা থেকে বাবার সঙ্গে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পরিবার। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজের বাড়ি, জীবিকা ও নিরাপত্তা হারিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন ওসামা। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তিনি সকাল ১০টার দিকে শিশুকে নিয়ে মিষ্টি কিনতে বের হন। ওসামার বাবা মুহাম্মদ হুসনি আবু নাসার জানান, প্রতিবেশীরা ফোন করে তাকে জানান, তার ছেলে শিশুকে কাঁধে নিয়ে পূর্ব দিকে যাচ্ছে—যেখানে একটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা রয়েছে। গাজার মাঘাজি শরণার্থী শিবিরের কাছে ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত একটি সামরিক সীমারেখা রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য নিষিদ্ধ এলাকা হিসেবে বিবেচিত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই এলাকায় পৌঁছানোর পর ইসরাইলি বাহিনী সরাসরি গুলি না চালিয়ে তার আশেপাশে গুলি ছোড়ে। এতে বিভ্রান্ত হলেও ওসামা থামেননি। পরে একটি কোয়াডকপ্টার ড্রোন তার কাছে এসে ভেসে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এরপর তাকে শিশুকে নামিয়ে রেখে সৈন্যদের দিকে এগিয়ে যেতে এবং কাপড় খুলে ফেলতে বলা হয়। ওসামার বাবা বলেন, “সে শুধু অন্তর্বাস পরে ছিল এবং শান্ত ছিল, কোনো আক্রমণাত্মক আচরণ করেনি।” ওসামা আটক হওয়ার পর তার বাবা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিতে থাকেন এবং আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে নিজের যোগাযোগ নম্বর দিয়ে আসেন। প্রায় ১০ ঘণ্টা পর আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয়, তার নাতিকে তারা পেয়েছে। পরে মাঘাজি বাজার এলাকায় আইসিআরসি কর্মকর্তারা শিশুটিকে পরিবারের হাতে তুলে দেন। শিশুটিকে কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় ফেরত দেওয়া হয়। কম্বল খুলে তার প্যান্টে রক্তের দাগ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। আইসিআরসি জানায়, তারা শিশুটিকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। তবে শিশুটির শারীরিক বা মানসিক অবস্থা নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করেনি। পরিবারের দাবি, বাড়িতে আনার পর শিশুটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। হাঁটুর চারপাশে পোড়া দাগ এবং ধারালো বস্তু দিয়ে করা গভীর ক্ষত ছিল। শিশুটি সারারাত ব্যথা ও আতঙ্কে কেঁদেছে এবং ঘুমাতে পারেনি। পরদিন হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, এসব আঘাত গোলাবারুদের কারণে নয়—বরং নির্যাতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চিকিৎসা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটির হাঁটু ফুলে গেছে এবং সেখানে সিগারেটের দাগের মতো ক্ষত রয়েছে। তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং হামাসের প্রচারণার অংশ। এদিকে, আটক হওয়ার পর থেকে ওসামা আবু নাসারের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
ইরানে মার্কিন ইসরাইলি যৌথ আগ্রাসনের ২৭তম দিন চলছে। একইসঙ্গে ইরান তার সামর্থ্যানুযায়ৗ পাল্টা হামলা করে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আজকের এই দিনে ইসরাইলে বিভিন্নস্থানে জাহাজ ও জ্বালানি ট্যাংক লক্ষ করে হামলা চালিয়ে ইরান। খবর আলজাজিরার। ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ইসরাইলের বিভিন্ন সামরিক জাহাজ এবং হাইফা বন্দরে থাকা যুদ্ধবিমানের জ্বালানি ট্যাংক লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম যুলফাকারি বলেন, ‘আমরা আল্লাহর রহমতে সব ধরনের আগ্রাসন ও অশুভ শক্তির উৎসকে শক্তভাবে লক্ষ্যবস্তু করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ তবে এ হামলার বিষয়ে ইসরাইলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ৮ জন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আপাতত উদ্ধার অভিযানে সাময়িক বিরতি দেওয়া হয়েছে। তবে নিখোঁজদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলে পুনরায় উদ্ধার অভিযান চালানো হবে। তিনি আরও বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে নিখোঁজদের তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি তথ্যকেন্দ্র চালু রয়েছে। কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ থাকলে স্বজনরা ইউএনও অফিস বা ফায়ার সার্ভিসে যোগাযোগ করলে উদ্ধার অভিযান পুনরায় শুরু করা হবে। এর আগে ঘটনাস্থলে উপস্থিত নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা মাইকিং করে নিখোঁজদের তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, বুধবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। বাসটি প্রায় ৬০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে বাসটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটিতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয়দের সহায়তায় ৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী থাকলেও হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক দুই নারীকে মৃত ঘোষণা করেন। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে বাসের ভেতর থেকেই ২২ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ১১ জন নারী এবং ৫ জন শিশু (৪ জন ছেলে ও ১ জন মেয়ে) রয়েছে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে। এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার করেছে ২৩ জন, স্থানীয়দের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া ২ জনকে হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং নৌবাহিনীর ডুবুরিরা উদ্ধার করেন আরও ১ জন। উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট ও ১০ জন ডুবুরি অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার কাজে অংশ নেন। বর্তমানে নিখোঁজদের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে আবারও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সৈয়দ সাইফুল ইসলাম: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সদ্য বিবাহিত দম্পতি কাজী সাইফ আহম্মেদ সৌম্য (৩০) ও ডা. ফাতেমাতুজ জোহরা অন্তী (২৭)। গত ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ নতুন জীবনের পথচলা শুরু করেছিলেন তারা। অসংখ্য স্বপ্ন আর আশা নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন তাদের ছোট্ট সংসার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই নির্মম দুর্ঘটনায় থেমে গেল তাদের জীবনযাত্রা। জানা গেছে, ঢাকার উত্তরায় বসবাস করতেন এই দম্পতি। ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীতে এসেছিলেন তারা। ২৬ মার্চ সৌম্যের এক বন্ধুর বিয়েতে যোগ দিতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। বিয়ে শেষে আবার গ্রামে ফেরার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু সেই ফেরা আর জীবিত অবস্থায় হয়নি—ফিরেছেন নিথর দেহ হয়ে। দুর্ঘটনার পর রাত প্রায় তিনটার দিকে ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হলে ভেসে ওঠে তাদের মরদেহ। ভোর চারটার দিকে লাশ বাড়িতে আনা হয়। দুপুরে গোসল শেষে রাজবাড়ী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় ভাবনিপুর কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় নবদম্পতিকে। নিহত অন্তী ছিলেন রাজবাড়ী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সজ্জনকান্দা এলাকার মৃত ডা. আবদুল আলীমের কন্যা এবং সৌম্য একই এলাকার কাজী মুকুলের ছেলে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং আজ দুপুর পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও পদ্মার তীরে স্বজনদের আহাজারি থামেনি—নিখোঁজদের খোঁজে চলছে নিরন্তর অপেক্ষা। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শুধু প্রাণহানিই নয়, অসংখ্য পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎও ডুবে গেছে পদ্মার জলে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গঠিত তদন্ত কমিটিতে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে-কে আহ্বায়ক এবং গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাসকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্), বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক এবং রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তদন্ত কমিটিকে ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এ সময় বাসটিতে প্রায় অর্ধশত যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা শাজাহান সিকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদী থেকে পুরুষ, নারী এবং দুই শিশুসহ মোট ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এর আগে দুর্ঘটনার পরপরই পানিতে ডুবে যাওয়া আরও তিনজনকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছে রাজবাড়ী জেলা পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার পর কয়েকজন যাত্রী প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া চেষ্টা চালান। তাদের মধ্যে দুই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন। ফায়ার সার্ভিস জানায়, তারা আগে ওই দুই নারীর মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে অবগত থাকলেও সরাসরি তাদের উদ্ধার করেনি। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনই তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার সময় বেশ কয়েকজন যাত্রী দ্রুত বাস থেকে বেরিয়ে এসে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। পরে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। এখনও নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
পদ্মা নদীতে বাস ডুবির মর্মান্তিক ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।ওই বাসটিতে ৫৬ জন যাত্রী ছিলেন । ৯০ ফুট গভীরে আটকে থাকা বাস, নিখোঁজ বহু যাত্রী এবং স্বজনদের আহাজারি—সব মিলিয়ে এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় নদী দুর্ঘটনা। সর্বশেষ আপডেট জানতে চোখ রাখুন। রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে ভয়াবহ দুর্ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। নদীর প্রায় ৯০ ফুট গভীরে বাসটির অবস্থান নিশ্চিত করেছে উদ্ধারকারী দল। এতে বহু যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন এবং অন্তত ৪০ জনের মরদেহ বাসের ভেতরে আটকে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাস অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে নদীতে তলিয়ে যায়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন বাসটির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত করে। কীভাবে দুর্ঘটনা প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বাসটি ফেরিতে ওঠার জন্য পন্টুনে অপেক্ষা করছিল। এ সময় একটি ফেরি পন্টুনে ধাক্কা দিলে সেটি প্রচণ্ডভাবে কেঁপে ওঠে। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সরাসরি নদীতে পড়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায়। উদ্ধার অভিযান দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ ও ডুবুরি দল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে পানির গভীরতা প্রায় ৯০ ফুট এবং প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার মো. বেলাল উদ্দিন জানান, আধুনিক সরঞ্জামের মাধ্যমে বাসটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ও অভিযানে যুক্ত হয়েছে। হতাহতদের তথ্য এখন পর্যন্ত দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা হলেন— রেহেনা বেগম (৬০) মর্জিনা বেগম (৫৫) তাদের মরদেহ গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় ডা. নুসরাত (২৯) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জীবিত উদ্ধার ও নিখোঁজ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসটিতে ৪৫ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর মাত্র ৫ থেকে ৭ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। বাকি যাত্রীরা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। স্বজনদের আহাজারি ঘটনাস্থলের আশপাশে নিখোঁজদের স্বজনদের ভিড় জমেছে। তাদের কান্না ও আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের পদক্ষেপ জেলা প্রশাসন জানিয়েছে— উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম চলবে দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে বর্তমানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের হামলায় ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবের একটি সড়কে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রকাশ্যে এসেছে ধ্বংসযজ্ঞের ছবিও। আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) আলজাজিরার লাইভ আপডেট থেকে এ তথ্য জানা গেছে। লাইভ সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানের সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরাইলের তেল আবিব এলাকার একটি অংশে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। একটি স্থানে দেখা যায়, জরুরি কর্মী ও পুলিশ ভাঙাচোরা ধ্বংসাবশেষে ভরা একটি ব্যস্ত রাস্তায় জড়ো হয়েছেন। সেখানে বেশ কয়েকটি গাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—একটি গাড়ি উল্টে পাশের দিকে পড়ে আছে এবং অন্য কয়েকটি গাড়ি মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-ইসরাইল সংঘাতে তেল আবিবসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে এবং কিছু স্থানে ভবন ও যানবাহনের ক্ষতি হয়েছে। আরও একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। বিমানটি মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েতে বিধ্বস্ত হয়েছে দাবি করে প্রমাণ হিসেবে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। অনলাইনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ফুটেজটিতে দেখা যাচ্ছে, একটি বিমান ধোঁয়া ও আগুন ছড়াতে ছড়াতে নিচের দিকে নামছে। পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে এসেছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। এর আগে গত রোববার (২২ মার্চ) একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করে ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, দক্ষিণে হরমুজ দ্বীপের কাছে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। প্রমাণ হিসেবে একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার এই দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই দাবিগুলোকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছে: ‘গুজব ছড়ানো হচ্ছে যে ইরানি শাসকগোষ্ঠী সম্প্রতি ইরানের আকাশে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে।’ আরও বলা হয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন মার্কিন বাহিনী ৮ হাজারেরও বেশিবার যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করেছে। ইরানের গুলিতে কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়নি।’ সেন্টকম আরও দাবি করেছে যে, যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা সমস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমান সচল রয়েছে এবং ইরানের গুলিতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই মার্কিন বিমান ব্যাপক তৎপর রয়েছে। এর আগে মার্চের শুরুর দিকে কুয়েতের আকাশে তিনটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, এটা ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ারের’ কারণে ঘটেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায় যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভুলবশত বিমানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। তবে ছয়জন ক্রু সদস্যই নিরাপদে ইজেক্ট করেন এবং স্থিতিশীল অবস্থায় সুস্থ হয়ে ওঠেন। কুয়েত এই ভুল স্বীকার করে এবং মার্কিন কর্মকর্তারা বৃহত্তর এই অভিযানে কুয়েতের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মূলত ইরান সংঘাতের তৃতীয় দিন ২ মার্চ কুয়েতের আল জাহরা বা অন্যান্য এলাকার কাছে এফ-১৫ বিমানগুলোকে বিধ্বস্ত হতে দেখা যায়। প্রকাশিত ফুটেজে বিমানের সর্পিল গতি এবং ইজেক্ট করার বর্ণনার সাথে মিলে যায় এবং তখন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হয়। কিছু বিশ্লেষক ও গণমাধ্যম মনে করছে যে, বর্তমান ভাইরাল ক্লিপটি হয়তো ইরানের নতুন কোনো বিমান ভূপাতিত করার প্রমাণ নয়, বরং এটি পূর্ববর্তী সেই ঘটনার নতুন কোনো দৃষ্টিকোণ বা পুনঃপ্রচারিত ভিডিও। ইরান একটি মার্কিন এফ-৩৫ স্টেলথ ফাইটার ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে, যেটি ইরানের আকাশসীমায় একটি অভিযানের সময় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পর একটি আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করে বলে দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া অন্তত তিনটি ইসরাইলি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। গত শনিবার (২১ মার্চ) ইরানের আইআরজিসি জানায়, তারা ইরানের মধ্যাঞ্চলের আকাশে একটি ইসরাইলি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এটি ইসরাইলের তৃতীয় এফ-১৬ যুদ্ধবিমান যা গত তিন সপ্তাহে ভূপাতিত করা হয়েছে।
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় ভয়াবহ ট্রেন ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ৩ জন শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে পদুয়ার বাজার এলাকার একটি রেলক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি ট্রেনের সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামগামী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর দ্রুতগতির ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়, ফলে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং আহতদের সেখানে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ট্রেনের যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, রেলগেটের সিগন্যালম্যানের অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, একাধিকবার জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হলেও যথাসময়ে সাড়া পাওয়া যায়নি, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মো. ইদ্রিস জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রেলক্রসিংয়ে যথাযথ সিগন্যাল না থাকায় বাসটি রেললাইনে উঠে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কুমিল্লা ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “রাত ৩টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধারে কাজ শুরু করা হয়।” কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অজয় ভৌমিক জানান, এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ১২ জনের মরদেহ আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকিদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। রবিবার সকালে রেলওয়ে ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।