ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : টানা ভারী বর্ষণ, উজানের ঢল এবং পাহাড়ধসের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মধ্যে রাঙামাটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা বাড়তে থাকায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকে সব ধরনের পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্ত কেবল একটি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের প্রশাসনিক ঘোষণা নয়; বরং দেশের পাহাড়ি অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান জলবায়ুজনিত দুর্যোগের বাস্তব চিত্রও তুলে ধরছে। পাহাড়ধসের আশঙ্কা কেন এত বেড়েছে? জেলা প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস এবং রাঙামাটিতে কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের উচ্চঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে— সাজেক ভ্যালির সব পর্যটনকেন্দ্র সব ঝর্ণা পাহাড়ি ট্রেইল দুর্গম এলাকা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পর্যটন স্পট প্রশাসন জানিয়েছে, পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা, ট্যুর অপারেটরসহ কারও প্রবেশ আপাতত অনুমোদিত নয়। শুধু সাজেক নয়, দেশের ১৭ জেলা বন্যার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টি এবং ভারতের উজানের ঢলের কারণে দেশের অন্তত ১৭ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী চার দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে— চট্টগ্রাম সিলেট ময়মনসিংহ রংপুর বিভাগে একই সঙ্গে ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গেও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। কোন কোন নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁতে পারে? বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে— উত্তর-পূর্বাঞ্চল সুরমা কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল দ্রুত পানি বাড়ছে— গোমতী মুহুরী ফেনী সিলোনিয়া হালদা সাঙ্গু মাতামুহুরী এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে— বান্দরবান কক্সবাজার ফেনী চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি নোয়াখালী লক্ষ্মীপুর উত্তরাঞ্চল আগামী ২৪–৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী ও লালমনিরহাটে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বান্দরবানে ৩০ হাজার পরিবার পাহাড়ধসের উচ্চঝুঁকিতে বর্তমানে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বান্দরবানে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী— সাত উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১২০টি আশ্রয়কেন্দ্র। মোতায়েন রয়েছে আটটি মেডিক্যাল টিম। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলছে মাইকিং। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় থানচি, রুমা, লামা ও আলীকদমে বন্যার আশঙ্কাও বাড়ছে। রুমার কেওক্রাডং এলাকায় ৫০ জনের বেশি পর্যটক আটকা পড়লেও থানচি ও রেমাক্রি থেকে পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত জেলার সব পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। কক্সবাজারে বাড়ছে প্রাণহানি, প্লাবিত ৩৩ ইউনিয়ন টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের নয়টি উপজেলার অন্তত ৩৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়েছে শত শত পরিবার। দুই দিনে পাহাড়ধসে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। প্রশাসনের তথ্যমতে— এক হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। টেকনাফ–সেন্ট মার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ। টানা পাঁচ দিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সেন্ট মার্টিনে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কুতুবদিয়ায় একটি সেতু ভেঙে স্থানীয় যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। রোহিঙ্গা শিবিরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর তথ্য অনুযায়ী— নিহত ১০ জন আহত ১০ জন ক্ষতিগ্রস্ত ১৫,৮১৩ জন বাস্তুচ্যুত ৩,১৮২ জন এ ছাড়া রেকর্ড করা হয়েছে— ৫২টি পাহাড়ধস ১৪টি বন্যা ৮৩টি ঝড়সংক্রান্ত ঘটনা মানবিক সংস্থাগুলো জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রামে রেকর্ড বৃষ্টি, বিমান ও রেল চলাচলে বিঘ্ন গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৩০.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর ফলে— নগরের বহু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। তীব্র জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। রেললাইন ডুবে যাওয়ায় কক্সবাজারগামী ট্যুরিস্ট এক্সপ্রেস কয়েক ঘণ্টা আটকা পড়ে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ঢাকায় ডাইভার্ট করা হয়। একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চট্টগ্রামে নামতে না পেরে ঢাকায় ফিরে যায়। বর্তমানে বিমানবন্দরে ঘণ্টায় ৮০–৯০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছে। রাঙামাটিতেও প্রাণহানি রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে পাহাড়ধসে উপড়ে পড়া গাছের নিচে চাপা পড়ে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। কাপ্তাইয়ে পাহাড়ধস ও গাছ পড়ে সাময়িকভাবে চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হলেও প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর কী বলছে? আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি লঘুচাপের প্রভাবে আগামী ৭২ ঘণ্টায়— চট্টগ্রাম ঢাকা রাজশাহী খুলনা বরিশাল সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। জলবায়ুজনিত দুর্যোগ কি নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠছে? সাজেক বন্ধের সিদ্ধান্ত বিচ্ছিন্ন কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়। একই সময়ে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার এবং চট্টগ্রামে একযোগে পাহাড়ধস, বন্যা, সড়ক বিচ্ছিন্নতা, পর্যটন স্থগিত, নদীর পানি বৃদ্ধি এবং প্রাণহানির ঘটনা একটি বড় জলবায়ুগত সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, পাহাড় কাটা, বন উজাড় এবং অপরিকল্পিত বসতি বিস্তারের কারণে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি আরও বাড়ছে। ফলে কেবল জরুরি উদ্ধার নয়, দীর্ঘমেয়াদি ভূমি ব্যবস্থাপনা, পাহাড় সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন দীপেন দেওয়ান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের প্রতি শান্তি, ধৈর্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও ভবিষ্যৎ পথচলা সম্পর্কেও স্পষ্ট বক্তব্য দেন। বুধবার (৪ জুন) রাত ৯টার দিকে দেওয়া ওই পোস্টে দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন। পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এ ঘটনায় আবেগ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে তিনি পরিস্থিতি শান্ত রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পাহাড়ি, বাঙালি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ধরনের উসকানি, বিভ্রান্তি বা সংঘাতের পথে না গিয়ে আইনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ অটুট রাখারও আহ্বান জানান তিনি। পার্বত্য অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বার্তা ফেসবুক পোস্টে দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সবার এবং এ অঞ্চলের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষার দায়িত্বও সবার। পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সব জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও ভ্রাতৃত্ব আরও সুদৃঢ় হোক—এ প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পদত্যাগের পরপরই সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতার প্রশ্নে এ ধরনের বার্তা দেওয়া পার্বত্য অঞ্চলের বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাৎপর্যপূর্ণ। বিএনপির প্রতি আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত পোস্টের একটি বড় অংশজুড়ে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীতের কথা তুলে ধরেন সাবেক এই মন্ত্রী। তিনি জানান, তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরিবার থেকেই তিনি দেশপ্রেম ও জনসেবার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। দীপেন দেওয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে তিনি দলের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও বিএনপির প্রতি তার আনুগত্য ও অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে বলে জানান। ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলার ইঙ্গিত ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কেও ইঙ্গিত দেন দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে সেই নেতৃত্বের অধীনেই কাজ করে যেতে চান। তার এই বক্তব্যকে অনেকেই পদত্যাগ-পরবর্তী রাজনৈতিক জল্পনার জবাব হিসেবে দেখছেন। যদিও পদত্যাগের কারণ বা এর পেছনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি পোস্টে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন,রাঙ্গামাটি : রাঙ্গামাটিতে সশস্ত্র হামলায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর এক নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার দুই বোন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুক্রবার সকাল আনুমানিক ছয়টার দিকে রাঙ্গামাটির কুতুকছড়ি এলাকার উপরপাড়ায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত ধর্মসিং চাকমা ইউপিডিএফের সহযোগী সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। তার বাবার নাম ধনঞ্জয় চাকমা। স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, একদল সশস্ত্র ব্যক্তি ধর্মসিং চাকমার বাসায় গিয়ে তাকে বাইরে ডাকে। এ সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। গুলির সময় এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে তার দুই বোন—ভাগ্যসোনা চাকমা ও কৃপাসোনা চাকমা—আহত হন। তাদের দুজনের হাত গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শওকত আকবর জানান, আহত দুই নারীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তারা বাড়ি ফিরে গেছেন। ঘটনার বিষয়ে রাঙ্গামাটি কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিমউদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে এবং বিস্তারিত পরে জানানো হবে। এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ইউপিডিএফের নেতাকর্মীরা রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাঙামাটির দুর্গম জুরাছড়ি উপজেলায় কাপ্তাই হ্রদের বুকে ঘটে যাওয়া একটি নৌকাডুবির ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ১১ জন যাত্রী অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন। স্থানীয় সময় বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত প্রায় ৮টার দিকে কারবারি পাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। সেনাবাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রিপুরা সম্প্রদায়ভুক্ত নারী, শিশু ও পুরুষ মিলিয়ে ১১ জন একটি ছোট নৌকায় করে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ডুবে যায়। দ্রুত সাড়া, সময়মতো উদ্ধার ঘটনার খবর দ্রুত পৌঁছে যায় নিকটবর্তী রাজমনিপাড়া আর্মি ক্যাম্পে। এরপর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। দুর্গম এলাকা এবং রাতের অন্ধকার সত্ত্বেও তারা দ্রুত সেখানে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। সেনাবাহিনীর সদস্যরা পানিতে ডুবে যাওয়া নৌকার সব যাত্রীকে একে একে উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসেন। দ্রুত এই অভিযান সম্পন্ন হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা কাটে। ঝুঁকিতে ছিলেন একজন গর্ভবতী নারী উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের মধ্যে একজন সন্তানসম্ভবা নারী অসুস্থ বোধ করলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় তাকে দ্রুত রাঙামাটি সদর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়, যাতে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়। অন্যদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যপরীক্ষা শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কাপ্তাই হ্রদে নিয়মিত যাতায়াতকারী ছোট নৌযানগুলোর নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং জরুরি প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্গম এলাকায় নৌযানই প্রধান যাতায়াত মাধ্যম হওয়ায় এ ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। ফলে নিয়মিত তদারকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জোরদার দাবি জানিয়েছেন তারা। কৃতজ্ঞতা ও স্বস্তি দ্রুত ও কার্যকর উদ্ধার অভিযানের জন্য ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সময়মতো এই পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দেয়, দুর্গম জলপথে চলাচলের ক্ষেত্রে সামান্য ত্রুটিও বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে—আর সেই ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াই হতে পারে জীবনরক্ষার একমাত্র ভরসা।
রাঙামাটি: রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের জলে ভাসলো ‘ফুল বিজু’র ফুল। বাংলা বর্ষবিদায়কে কেন্দ্র করে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করছে। পাহাড়ে এ উৎসবটি ‘ফুল বিজু’ নামেই বেশি পরিচিত। রবিবার শহরের রাজবাড়ি, গর্জনতলী, কেরানীপাহাড়সহ বিভিন্ন পাড়া ও ঘাটে ঘাটে বর্ষবিদায়ের অংশ হিসেবে কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসানো হয়। সকাল থেকেই নানা বয়সী পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মানুষ ফুল হাতে ভিড় করেন হ্রদের তীরে। ২৯ চৈত্রের ভোরে ‘মা গঙ্গা’র উদ্দেশে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে রাঙামাটিতে মূল আয়োজনের সূচনা হয়। ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবকে ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো পাহাড়ি জনপদ। পাহাড়ি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বিজু, বিহু, বৈসুক, সাংগ্রাই ও চাংক্রানসহ নানা নামে বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায়ের অনুষ্ঠান পালন করে থাকেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় এই সামাজিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে শহর, নগর এবং পাহাড়ি পল্লিগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। উৎসবে অংশ নিতে নারীরা পরেন বাহারি রঙের পিনোন হাদি এবং পুরুষরা ধুতি, পাঞ্জাবি বা ফতুয়া পরে অংশ নেন ফুল ভাসানোর আয়োজনে। কাপ্তাই হ্রদের জলে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে তারা বিদায় জানান পুরনো বছরকে এবং বরণ করে নেন নতুন বছরকে।
ভোলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন ওরফে রিজু ছাত্রজীবনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিস্ববিদ্যালয়ে(কুয়েট) ছাত্র লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। তিনি আবু সুফিয়ান মাহাবুব লিমন কমিটির ছাত্রলীগ ক্যাডার ছিলেন। যথারীতি ছাত্রলীগ পুনর্বাসনের বিশেষ বিসিএস ৩২ তম বিসিএস এ ২০০ নম্বরের পরীক্ষা দিয়ে ক্যাডার কর্মকর্তা বনে যান। বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতা হিসেবে প্রথম পোস্টিং পান ঢাকা ডিভিশন ১ এ সহকারী প্রকৌশলী হিসাবে। শংকর মালোর স্টাফ অফিসার হিসাবে ক্যারিয়ার শুরু করে আওয়ামী চেতনা বিক্রি করে তর তর করে কেবল উপরে উঠেছেন। এরপর একে একে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসাবে মিরপুর গণপূর্ত উপবিভাগ ১ এ পাচ বছর এবং ঢাকা গণপূর্ত উপবিভাগ-৬ এ সাড়ে চার বছর দুহাতে অবৈধ অর্থ কামিয়েছেন। এরপরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে চলতি দ্বায়িত্ব পাবার পরে প্রথম পোষ্টিং পান গাজীপুরে। এই গাজীপুরে যেয়ে তিনি সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীরের সাথে সখ্যতস গড়ে তোলেন। জাহাঙ্গীরের আস্থা ভাজন লোকদের সাথে মিলে নিজের আপন ভাই সহ টেন্ডার বানিজ্য করে লূটপাটের সর্গরাজ্য বানিয়ে ফেলেন। সেই টাকা দিয়ে গাজীপুরে ভূমি দস্যু সিন্ডিকেটের সাথে যোগসাজসে রিসোর্ট কিনেছেন মর্মে জানা যায়। তিনি জাহাঙ্গীরগং অন্যের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী দখল করে বেনামে চালাচ্ছেন । ২০২৪ এর জুলাই গণুভ্যুত্থানে জাহাঙ্গীরের পৈশাচিক ভূমিকা কারো অজানা নয়। ছাত্র জনতা হত্যায় এই রিজু শুধু অর্থ ও জনবল দিয়ে সাহায্য করেনি বরং নিজে মাথায় লাল ফিতা বেধে মোটর সাইকেলে চড়ে উত্তরা এলাকায় সরাসরি ছাত্র-জনতার উপর গুলি চালিয়েছেন। তিনি জাহাঙ্গীরের সাথে প্রায়ই নারী বান্ধবী সহ ইন্টার কন্টিনেন্টালে লাঞ্চ করতেন। জুলাই গনুঅভ্যুত্থানের সময় তিনি জাহাঙ্গীর সহ উত্তরা ক্লাবে রাতের বেলা মদের পার্টিতে একাধিক বার গোপন বৈঠক করেছেন । ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পরও সব কিছু সামলে নিয়েছিলেন রিজু। কিন্তু বিধিবাম। ছাত্র জনতার উপর গুলি চালানো এই সাবেক ছাত্রলীগের গুন্ডাকে সরাতে আইইবির বিএনপি পন্থী নেতারা এবং ততকালীন সমন্বয়করা প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করলে ৩ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে প্রধান প্রকৌশলী ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৩.২৪-১৪১৩ স্মারকে ভোলায় বদলী করতে বাধ্য হন। কথিত আছে বিভিন্ন সময়ে ঢাকায় বিএনপির জন সভা পন্ড করতে জাহাঙ্গীর বাহিনী যে রংকরা বাশ দিয়ে বেধড়ক পিটাতেন তা সাপ্লাই দিতেন আশ্রাফ উদ্দিন রিজু। আশরাফ গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগ থেকে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছর জুনে বিশ কোটি টাকা লোপাট করেছেন। সাবেক মন্ত্রী মোকতাদির চৌধুরীকে চার কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগে পোষ্টিং বাগিয়ে নিয়েছিলেন নেয়ার পর টাকার নেশায় দুর্নীতি ও অনিয়মের হোলি খেলায় নেমে ছিলেন। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে প্রধান প্রকৌশলীর প্রজ্ঞাপন অমান্য করে এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিয়ে ২০% কমিশন নিয়ে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন। এখানেই আশরাফ অপকর্ম শেষ নয় তিনি তার আপন ভাই এর প্রতিষ্ঠান কে ছয় কোটি টাকার একটি কাজ পাইয়ে দেন যা পিপিআর ও পিপিএ পরিপন্থী কারন একজন TEC মেম্বার নিকট অত্মীয় টেন্ডার অংশ গ্রহন করার কোন সুযোগ নেই যা গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগের নথিপত্র ও ইজিপি পোর্টালে যাচাই করলে প্রমান পাওয়া যাবে। এই আশরাফ সাবেক মন্ত্রী মোকতাদির চৌধুরীর আস্থাভাজন হওয়ায় জুন মাসে তিন কোটি টাকার RFQ করে কাজ না করে কোটেশন আহবান করার পরদিন বিল পরিশোধ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কে ১০% লাভ দিয়ে পুরো টাকা হাতিয়ে নেন। আশরাফ অপকর্ম এখানেই থেমে থাকিনি উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও উপ-বিভাগীয় প্রকোশলীর দপ্তরের সাইন ও সিল মোহর ছাড়া ঠিকাদরী প্রতিষ্ঠান কে তিন কোটি টাকার বিল পরিশোধ করে ৩০% টাকা কমিশন নেন যা গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগের নথিপত্র যাচাই করলে প্রমান পাওয়া যাবে। আশরাফের বিরুদ্ধে উক্ত অভিযোগের বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরে তিন সদস্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে মোঃ আশিক আহমেদ শিবলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, প্রকিউরমেন্ট সেল, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা আরেক সদস্য হলেন মোঃ বদরুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সাভার গণপূর্ত সার্কেল, ঢাকা ও সদস্য সচিব করা হয়েছে হাফসার মৌরি, নির্বাহী প্রকৌশলী, প্রকিউরমেন্ট সেল, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। প্রতিবেদক তদন্ত কমিটির আহবায়ক মোঃ আশিক শিবলী সাদিক কে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি বলেন তদন্ত শেষ না হলে তদন্তের সার্থে কিছু বলা যাবে তবে এটুকু বলে যায় আশরাফ দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয় বেশ কিছু প্রমান পাওয়া গেছে খুব অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করবো প্রধন প্রকৌশলীর নিকট এটুকু বলতে পারি। এ বিষয় অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফ বলেন নতুন ভাবে যিনি গেছেন তিনিও (শারমিন আখতার) ফ্যাসিস্টের দোসর। কিছু সাংবাদিকদের বলেন তার বাড়ি গোপালগঞ্জ, আপনারা তার বিরুদ্ধে লিখছেন না কেন, তার অনেক বিতর্কিত কর্মকান্ড রয়েছে, সেগুলো লিখছেন না কেন? আশরাফ, গতবছর গ্রেফতার হওয়া টেন্ডার মাফিয়া নূসরাত হোসেনের ঘনিষ্ট। এই নূসরাতের বন্ধু প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার তাই তদন্ত প্রতিবেদন ধামাচাপা দিবেন তাতে সন্দেহ নেই। গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর আশীর্বাদপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা ১২ বছরের চাকুরি জীবনে কখনও ঢাকার বাহিরে একদিনের জন্যও চাকুরি করেন নি। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, এই নিয়ে খুব গর্বও করতেন তিনি সহকর্মীদের সাথে। ভোলায় বদলী হবার পর অঢেল টাকা ঢেলে নিজেকে বিএনপি পন্থী , কখনবা এনসিপি পন্থী প্রমান করতে চাচ্ছেন। বাড়ি পঞ্চগড় এই সুত্র ধরে বিএনপির একজন অত্যন্ত প্রভাব শালী নেতার পিএস কে ধরে ঢাকায় ঢোকার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। তাতে কাজ না হলে আবার অন্য ডালে পা দেন। এনসিপির এক নেতাকে নির্বাচনে ডোনেশন দিয়ে তদবীর করান। কিন্তু উপদেষ্টার কার্যালয় ম্যানেজ না হওয়ায় তিনি সে যাত্রায় সফল হননি। এখন রিজু ফন্দি এটেছেন রাঙ্গামাটিতে ১১৫০ কোটি টাকার প্রকল্প পাস হয়েছে , সেখানে গিয়ে টেণ্ডার বানিজ্য করবেন। খুনি হাসিনার কুকর্মের সহযোগী এই কর্মকর্তার যেখানে জেলে থাকার কথা সেখানে তাকে আরো দুহাতে টাকা কামানোর সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে তার আপা দিল্লী দাসি হাসিনাকে হুন্ডিকরে ভারতে টাকা পাঠানোর জন্য? আমরা অবিলম্বে তার গাজীপুর এ সঙ্গঘটিত দূর্নীতি অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদন এর আলোকে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা দেখতে চাই। আই ওয়াশ বদলী কোন শাস্তি নয়। চাকুরি বিধিমালা ও প্রজাতন্ত্রের প্রচলিত আইনে তিনি দূর্নীতি ও কৃত ফৌজদারী অপরধের শাস্তি পেয়েছেন কিনা তা আমরা দেখতে চাই। যদি দুষ্টের দমন না হয় তবে সৎ ও ভালো কর্মকর্তা গন হতাশ হয়ে পড়বে, সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে , তখন এই আওয়ামী দালালরাই ‘মব, মব’ বলে মুখে ফেনা তুলবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।